Home Blog Page 514

ব্যারিকেড ভেঙে বঙ্গভবনে প্রবেশের চেষ্টা, গুলিবিদ্ধ ২

রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে বিকেল থেকে বঙ্গভবনের সামনে অবস্থানের পর রাতে ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করে আন্দোলনকারীরা। এ সময় পুলিশের গুলিতে এক শিক্ষার্থীসহ দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া একজন সাউন্ড গ্রেনেডে আহত হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধরা হলেন ফয়সাল আহম্মেদ বিশাল ও শফিকুল ইসলাম (৪৫)। সাউন্ড গ্রেনেডে আহত তরুণের নাম আরিফ (২০)। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল সূত্র গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গুলিবিদ্ধ ফয়সাল আহম্মেদ বিশাল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এবং আরিফ সিদ্ধেশ্বরী কলেজের শিক্ষার্থী।

এর আগে বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চ, রক্তিম জুলাই, ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার মঞ্চসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন বঙ্গভবনের রাস্তা আটকে সেখানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিল। তাদের রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরে সরকার তাদের সাথে বুধবার বৈঠক করার আশ্বাস দিয়েছে, এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়লে একটি পক্ষ সেখান থেকে সরে যায়। কিন্তু আন্দোলনকারীদের একটি অংশকে রাত পর্যন্ত বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।

এ সময় বঙ্গভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও সেনা সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেয়।

আন্দোলনকারীরা বঙ্গভবনের সামনের ব্যারিকেড ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে ধাওয়া দেয় পুলিশ ও সেনাবাহিনী। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে গণজমায়েত করে রাষ্ট্রপতিকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে পদচ্যুত করাসহ ৫ দফা দাবি জানানো হয়।

হিন্দুস্তান টাইমসের বর্ণনায় হাসিনার ‘আয়নাঘর’

শেখ হাসিনার আমলে বহুল আলোচিত ‌’আয়নাঘর’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছ ভারতের পত্রিকা হিন্দুস্তান টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার জমানা ২০০৯ সালে শুরু হয়েছিল। ওই সময় থেকেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়া হতো। শাসকের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই তুলে আনা হতো বলে খবর।

আয়নাঘর। এই শব্দটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে অনেক কথা। শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকেই এনিয়ে নানা কথা উঠতে শুরু করেছে। বলা হয়, শেখ হাসিনা মূলত তার সমালোচকদের এই আয়নাঘরে রেখে দিতেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর অনুসারে অনেককেই তুলে এনে গুম করে ফেলা হতো। তাদের লাশের সন্ধান মিলত না। অন্যদেরকে একটি গোপন মিলিটারি ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হতো। এটার নাম ছিল আয়নাঘর। মানে হাউজ অফ মিররস।

কাদের রাখা হতো এই আয়নাঘরে?
মূলত হাসিনার শাসনকালে যারা তার বিরুদ্ধে কথা বলতেন তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হতো। আইনজীবী থেকে পাহাড়ি নেতা, যারাই হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলতেন তাদেরকেই নিশানা করত তৎকালীন সরকার। এদিকে আচমকাই সেই প্রতিবাদীদের আর সন্ধান মিলত না। কার্যত উবে যেতেন তারা। তবে এবার সেই প্রতিবাদকারীদের আত্মীয়রা মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

বেলাল হোসেন। ২০১৩ সাল থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এবার তার ভাইঝি তাসনিম সিপ্রা জানিয়েছেন, আমরা যেটা চাইছি সেটা হলো একটা উত্তর। কী হয়েছিল সেটা জানতে চাইছি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে শিপ্রা জানিয়েছেন, এমন যেন মনে হচ্ছে কাকা কোনো দিন পৃথিবীতে ছিলেন না।

মাইকেল চাকমা। তিনি পাহাড়িদের অধিকারের দাবিতে লড়াই চালাতেন। গত অগস্ট মাসে একটি জঙ্গলে তাকে ছাড়া হয়েছিল। তার আগে চোখ বেঁধে তাকে হাঁটানো হয়। তিনি বলেছিলেন পাঁচ বছরে এই প্রথম আমি সূর্যের আলো দেখলাম। এমনকি তিনি বার বার পরীক্ষা করে দেখেন তিনি কি সূর্যের আলো দেখছেন নাকি সেটা অন্য কিছু।

এদিকে তার প্রশ্ন আমার দোষটা কি ছিল? আমি কী করেছি? আমার অপরাধটা কোথায়? আসলে সেই প্রশ্নের উত্তরটা মিলছে না কিছুতেই।

আবদুল্লাহ আমান আজমি নামে সেনাবাহিনীর এক সাবেক জেনারেল বলেছেন, আমি আকাশ, সূর্য, ঘাস, চাঁদ, গাছ কিছুই দেখিনি। গত অগস্ট মাসে তাকে মিলিটারি জেল থেকে ছাড়া হয়েছিল। আট বছর ধরে তাকে জেলের মধ্যে বন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছিল। তাকে অন্তত ৪১ হাজার বার চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল ওই সময়কালে।

হাসিনার পদত্যাগ ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি মিথ্যাচার করেছেন : আসিফ নজরুল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ইস্যুতে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন মিথ্যাচার করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

সোমবার (২১ অক্টোবর) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘তার এই পদে থাকার যোগ্যতা আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। উনি যদি তার বক্তব্যে অটল থাকেন তাহলে বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদে যাবে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি যে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র পাননি। এটা হচ্ছে মিথ্যাচার এবং উনার শপথ লঙ্ঘনের শামিল। কারণ উনি নিজেই ৫ আগস্ট রাত ১১টা ২০ মিনিটে পেছনে তিন বাহিনীর প্রধানকে নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী উনার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং উনি তা গ্রহণ করেছেন।’

‘হাসিনা আর রাজনীতি করার জন্য দেশে ফিরতে পারবেন না’

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘আর রাজনীতি করার জন্য দেশে ফিরতে পারবেন না’ বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা দেশে থাকা সমর্থকদের সরকারবিরোধী আন্দোলন করার জন্য উস্কানি দিচ্ছে। আমি তাদের বলতে চাই শেখ হাসিনা বাংলাদেশে রাজনীতি করার জন্য আর ফিরতে পারবেন না; শুধুমাত্র ফাঁসির কাষ্ঠে দাঁড়ানোর জন্যই ফিরবেন।’
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
নাহিদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যত পুলিশ মারা গিয়েছে এর দায় শেখ হাসিনার।
তিনি বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনাকে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহŸান জানিয়েছিলাম কিন্তু তিনি তা না করে দেশে রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন। ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত আন্দোলনকারী ছাত্র জনতার ওপর স্নাইপার দিয়ে গুলি চালানো হয়েছে।’
‘৫ আগস্ট শেখ হাসিনা তার সব নেতাকর্মী এবং পুলিশ বাহিনীকে মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়ে কাউকে না জানিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যান। শেখ হাসিনার এ সিদ্ধান্তের কারণে সেদিন অনেক পুলিশ সদস্য মারা যায়। এ আন্দোলনে যত পুলিশ মারা গিয়েছে এর দায় শেখ হাসিনার,’ বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আমি টাইম ম্যাগাজিনকে বলেছিলাম শেখ হাসিনা একজন সাইকোপ্যাথ ও রক্তচোষা, তাই প্রমাণিত হলো। আমরা প্রথমে নিয়মতান্ত্রিক ভাবেই একটা আন্দোলন করছিলাম। সর্বপ্রথম সরকারের পেটোয়া বাহিনী আমাদের ওপর আক্রমণ করে। আমরা বারবার আমাদের দাবি মেনে নেওয়ার কথা বলেছি, কিন্তু তারা আমাদের বন্দুকের সামনে দাঁড় করিয়েছে। আপনারা দেখেছেন কীভাবে আমাদের গুম করা হয়েছে এবং তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যারা এখনো পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উস্কানিতে জনজীবন দুর্বিষহ করার চেষ্টা করছেন তাদের সাবধান করে দিতে চাই।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘গণমাধ্যমের মধ্য থেকে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিতাড়িত করে জনগণের সামনে চিহ্নিত করতে হবে। কারণ আমরা ফ্যাসিবাদ মুক্ত গণমাধ্যম চাই। ফ্যাসিবাদ মুক্ত গণমাধ্যম ছাড়া নতুন বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব হবে না।’

মোদির রাশিয়া সফরের আগেই প্রশংসা পুতিনের

প্রশংসায় কখনো অস্বস্তি বাড়ে। আবার প্রশংসা কখনো বিশেষ অর্থবোধক হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে। ব্রিকস বৈঠক শুরু হওয়ার ঠিক আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দরাজ প্রশংসা করার পর এমনটাই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
এই মুহূর্তে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের ওঠাপড়ার দিকে শ্যেন দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র তথা পশ্চিম। এই তাকিয়ে থাকার মধ্যেও মিশ্র কূটনীতি রয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র নয়াদিল্লিকে প্রয়োজন রাশিয়ার সঙ্গে দরকষাকষির জন্য। অন্যদিকে ভারত, রাশিয়ার কাছ থেকে তাদের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অশোধিত তেল আমদানি করে চলায় রক্তচাপও বাড়ছে ওয়াশিংটনের।
এই আবহে পুতিনের মন্তব্য, ‘নরেন্দ্র মোদি আমাদের বন্ধু। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথা তিনি বারবার উত্থাপন করেছেন আমাদের আলোচনার সময়। তার বিবেচনার কথা জানিয়েছেন। আমরা তাকে ধন্যবাদ দিতে চাই।’ সেই সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট এ কথাও জানাতে ভোলেননি যে কবে এই যুদ্ধ শেষ হবে তার কোনও সময়সীমা দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। তার বক্তব্য, রাশিয়া চায় শান্তিপূর্ণ সমাধান, তবে দুর্ভাগ্যবশত ইউক্রেন তা চায় না। মোদির প্রশংসা করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে নিশানা করতেও ছাড়েননি পুতিন। তার কথায়, ‘নেটো আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবে আমরাই শেষ কথা বলব। আমরাই জিতব। ইউক্রেন যুদ্ধে আমরাই টিকে থাকব।’
রাশিয়ার কাজান শহরে আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ব্রিকস সম্মেলন। ব্রিকস-এর মর্ম ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ‘বন্ধু’ মোদীকে টেনে এনে পুতিন বলেছেন, ‘ব্রিকস গোষ্ঠীর লক্ষ্য পশ্চিমের শক্তির বিরোধিতা করা নয়। এই একই কথা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বলেছেন এবং তিনি ঠিকই বলেছেন। ব্রিকস পশ্চিম বিরোধী নয়, তবে অপশ্চিমী গোষ্ঠী। আগামী দিনে বিশ্বের বড় অংশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে ব্রিকস। এর কারণ, পশ্চিমের দেশগুলির তুলনায় এই গোষ্ঠীভূক্ত রাষ্ট্রগুলির বিপুল আয়তন এবং তাদের দ্রæততর আর্থিক বৃদ্ধি।’
এক মাসে আগেই ইউক্রেন সফর সেরে পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন মোদি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ভারতের ভূমিকার কথা উঠেছিল তখন। তারপরেই সমাজমাধ্যমে মোদি লিখেছেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে পুতিনের সঙ্গে কথা হয়েছে। সা¤প্রতিক ইউক্রেন সফরে গিয়ে আমার যা ধারণা হয়েছে, তাকে তা জানিয়েছি। দ্রæত, স্থায়ী এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের সমর্থন জানাতে ভারত প্রতিশ্রæতিবদ্ধ।’ শুধু তা-ই নয়, ভারত এবং রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোদি।
রাশিয়া সফরের মাস দেড়েক পর মোদি ইউক্রেনে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি বার্তা তিনি স্পষ্ট করেনÑ ভারত শান্তির পক্ষে। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত ভাবে এই যুদ্ধ থামাতে মোদি সাহায্য করবেন বলেও জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, যুদ্ধ চলাকালীন ভারত কোনো পক্ষ নেয়নি। তবে নয়াদিল্লি মোটেই নিরপেক্ষ ছিল না। ভারত বরাবর শান্তির পক্ষে ছিল এবং তা-ই থাকবে।
নয়াদিল্লি-মস্কো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বলিউড সব সময়েই বড় ভূমিকা নিয়েছে। রাজ কাপুর থেকে মিঠুন চক্রবর্তী হয়ে শাহরুখ খানÑ ভারতের অন্যতম সেরা কূটনৈতিক দূতের কাজ করেছেন। সিনেমার বিষয়ে ব্রিকসের দেশগুলিকে রাশিয়া কোনো সুযোগ সুবিধা দেবে কিনা, সেই প্রশ্নের জবাবে পুতিন আজ বলেছেন, ‘আমাদের আলাদা টিভি চ্যানেল রয়েছে শুধুমাত্র ভারতীয় ফিল্ম দেখানোর জন্য। যদি ভারতের ফিল্ম নির্মাতারা আগ্রহী হন, আমরা রাশিয়ায় তাদের সিনেমার প্রচারের বিশেষ সুবিধা করে দেব। এই নিয়ে কথা হতেই পারে।’

মণিপুরে দফায় দফায় গোলাগুলি, থানায় হামলা

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা যেন থামছেই না ভারতের ‘সেভেন সিসস্টার্স’ নামে পরিচিত অন্যতম মণিপুর রাজ্যে। কিছুদিন পরপরই জাতিগত দাঙ্গায় উত্তাল হয়ে উঠে রাজ্যটি। শনিবারও ঘটেছে একই ঘটনা। হঠাৎই ভোর ৫টায় শুরু হয় সংঘাত। দফায় দফায় চলে গোলাগুলি।
একপর্যায়ে জিরিবাম জেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে বোরোবেকরা থানায় চালানো হয় হামলা। এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সন্দেহভাজন কুকি বিদ্রোহীরাই এ হামলা চালিয়েছে।
পুলিশ জানায়, খুব সকালে গুলি চালাতে শুরু করে হামলাকারীরা। এছাড়া সেখানকার একটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং বোমা হামলাও চালানো হয়েছে।
এছাড়াও সূত্র থেকে জানা যায়, থানার দেওয়াল ও দরজায় বুলেটের ছিদ্র দেখা গেছে। একটানা গোলাগুলির শব্দও শোনা যাচ্ছিল। হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী জোর অভিযান শুরু করেছে।
অন্যদিকে মণিপুরের পুলিশপ্রধান রাজীব সিং বলেন, জিরিবাম জেলাসহ কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত গোলাগুলি চলছে। নিরাপত্তা বাহিনীর প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে জিরিবাম জেলায় মেইতে ও কুকি জনজাতির সংঘাতে পাঁচজন নিহত হয়েছিলেন। মাসখানেক বিরতির পরে নতুন করে আবারও অশান্ত হলো মণিপুরের জিরিবাম জেলা।
শনিবার ভোর থেকে মেইতে ও কুকিদের সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় গোলাগুলি চলছে। মণিপুর হাইকোর্ট মেইতেদের তফসিলি জনজাতির মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি রাজ্য সরকারকে বিবেচনা করার নির্দেশ দিলে তার প্রতিবাদে ২০২৩ সালের ৩ মে জনজাতি ছাত্র সংগঠন ‘অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব মণিপুর’ (এটিএসইউএম)-এর কর্মসূচি ঘিরে সেখানে অশান্তির সূত্রপাত হয়।
মণিপুরের আদি বাসিন্দা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মেইতেই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে খ্রিষ্টানপ্রধান জনজাতি কুকি, জো’সহ কয়েকটি স¤প্রদায়ের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। রাজ্যটিতে শান্তি ফেরাতে চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বিধায়কদের নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিল্লিতে বৈঠকের আয়োজন করেছে।

দিল্লিতে বিস্ফোরণ, বিজেপিকে দুষছেন মুখ্যমন্ত্রী আতিশি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) স্কুলের বাইরে রোববার সকালে একটি বিস্ফোরণে ঘটনা ঘটেছে। এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিস্ফোরণের ফলে স্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিস্ফোরণে জন্য বিজেপিকে দুষছেন দিল্লির আম আদমি পার্টির (আপ) মুখ্যমন্ত্রী আতিশি মারলেনা।
বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ, অগ্নিনির্বাপণ দলের সদস্যরা ঘটনা স্থলে পৌঁছান। ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল) প্রাথমিক তদন্তে বলেছে, বিস্ফোরক উপাদানের সঙ্গে তাজা বোমার (টাইম বোমার মতো অনেকটা) মিল রয়েছে। তবে বোমাটির ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো।
বিস্ফোরণের সঙ্গে আপাতত সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সম্পর্ক নেই বলে মনে হচ্ছে। তবে সূত্রগুলো বলছে, এফএসএলের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোববার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে দিল্লির রোহিণী জেলার প্রশান্ত বিহারে সিআরপিএফ স্কুলের বাইরে বিস্ফোরণ ঘটে। এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থলে দিল্লি পুলিশের সন্ত্রাস দমন ইউনিটের বিশেষ শাখা কাজ করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের কারণে আশপাশের দোকান ও রাখা গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাগ্যক্রমে এতে কেউ হতাহত হননি।
ঘটনাস্থলে অপরাধ দমন বিভাগের এফএসএল দল ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের পাশাপাশি জাতীয় তদন্তদলের (এনআইএ) সদস্যরাও কাজ করছেন। জাতীয় নিরাপত্তা গার্ডের (এনএসজি) সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন।
ভারতের সংবাদ সংস্থার (এএনআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিস্ফোরণের জন্য বিজেপিকে দায়ী করেছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আতিশি মারলেনা। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, দিল্লির আইনশৃঙ্খলা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় শাসক বিজেপির। কিন্তু বিজেপি তা না করে দিল্লির নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব পালনে প্রতিনিয়ত বাধা সৃষ্টি করছে। এই কারণে রোববার দিল্লির এই অবস্থা হয়েছে। দিল্লির আজকের অবস্থা মুম্বাইয়ের ১৯৯০-এর দশকের অপরাধজগতের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হবেন কমলা হ্যারিস!

এর আগে ৯টি মার্কিন নির্বাচনে সঠিক পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ইতিহাসবেত্তা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অ্যালান লিচম্যান। এবার তিনি পূর্বাভাস দিয়ে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হবেন ডেমোক্র্যাট কমলা হ্যারিস। তার পূর্বাভাস সঠিক হয় বলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির পূর্বাভাসের ‘নস্ট্রাডামাস’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তার ধারণা এবার নির্বাচনে কমলা হ্যারিসের জন্যে বড় বিস্ময় অপেক্ষা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন ইনকুইজিটরের খবরে বলা হচ্ছে, লিচম্যান ইউটিউবে সরাসরি এক অনুষ্ঠানকালে এমন দাবি করেছেন। ই-মেইলে দেয়া কিছু রাজ্যের ভোট ডেমোক্র্যাট পার্টির বিজয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। নিউজউইকের রিপোর্টে বলা হয়েছে, জবাবে লিচম্যান বলেছেন- আমি এটা বলতে পারি না যে- এর অর্থ ওইসব রাজ্য নীল হয়ে যাবে। তবে এটা নিশ্চিত একটি চিহ্ন যে, এসব রাজ্য নীল হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, ডেমোক্র্যাটদের রঙ নীল । তিনি ডেমোক্র্যাটদের জয় বোঝাতে নীল শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
লিচম্যান ২০১৬ সালে রিপাবলিকানদের অবমূল্যায়ন করেছিলেন। কিন্তু ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজনীতি ও নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এখন তিনি বলছেন, এবার ডেমোক্র্যাটদের ভোটের শক্তি কমে যাবে। সা¤প্রতিক জাতীয় পর্যায়ের জরিপে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে আছেন কমলা হ্যারিস। ফাইভ থার্টি এইটের তথ্যমতে, গত বুধবার সকালে দুই প্রার্থীর এই ব্যবধান ছিল মাত্র ২.৪ পয়েন্ট। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লিচম্যান উদাহরণ হিসেবে জর্জ স্যান্তোসের কংগ্রেসনাল আসনের বিশেষ নির্বাচনের কথা তুলে ধরেছেন। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী চূড়ান্ত ভোটে মাত্র ৭ পয়েন্টে জয়ী হয়েছেন। বিশেষ ওই নির্বাচনে স্যান্তোসের আসন পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট টম সুজি। এক সময় এই আসন তারই দখলে ছিল। লিচম্যান তার পূর্বাভাসে বলেন, যদিও জরিপে ১ বা ২ পয়েন্টে হেরফের হচ্ছে, তবু জরিপের চেয়ে তারা ১ বা ২ পয়েন্ট বেশি ভালো করবে। তারা পেনসিলভেনিয়াতে ভালোভাবে জিতবে। উল্লেখ্য, অ্যালান লিচম্যান আমেরিকান ইউনিভার্সিটির একজন সম্মানিত প্রফেসর।
তিনি ‘কিজ টু দ্য হোয়াইট হাউজ’ পূর্বাভাসবিষয়ক মডেল সৃষ্টির জন্য সুপরিচিত। এর মধ্য দিয়ে তিনি ১৯৮৪ সাল থেকে সঠিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সঠিক পূর্বাভাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, তার মডেলের অত্যাবশ্যকীয় ১৩টি সূচকের মধ্যে যদি ৬ বা তারও অধিক ক্ষমতাসীন দলের বিপক্ষে যায়, তাহলে নির্বাচনে তারা সুনিশ্চিতভাবে পরাজিত হয়। অন্য দিকে যদি ছয়টির কম সূচক তাদের বিপক্ষে যায় তাহলেই তাদের জয়ের খুব ভালো সম্ভাবনা থাকে। এসব সূচককে ইংরেজিতে ‘কিজ’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেছেন, এগুলো নির্ভুলভাবে কাজ করবে। এসব সূচক হচ্ছে রাজনৈতিক পূর্বাভাসে নর্দার্ন স্টারের মতো ধ্রুব।

সমালোচনা নিয়ে মুখ খুললেন নুসরাত ফারিয়া

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যেসব তারকা সমালোচনার মুখে পড়েছেন তাদের মধ্যে চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া একজন। মূলত পর্দায় শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করে হাসির পাত্র বনে গেছেন এই অভিনেত্রী।
বিষয়গুলো শুরু থেকেই দেখে আসছেন ফারিয়া। তবে কখনো মুখ খুলে কোনো মন্তব্য করেননি। আন্দোলন পরবর্তী সময়ে দেশের বাহিরেই সময় কাটিয়েছেন। এবার মুখ খুলে মনের ভাব প্রকাশ করলেন নুসরাত।
স¤প্রতি দেশে ফিরেছেন এই অভিনেত্রী। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ট্রল, সমালোচনা প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি।
ফারিয়া বলেন, ‘সমালোচনা হচ্ছে, সেসব চোখে তো পড়েছে, খারাপও লেগেছে। তবে কাকে কী বলবো! আমার ক্যারিয়ার ১২ বছরের। ক্যারিয়ার শুরুর পর থেকেই আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় দেখেছি। তারা যখন যে ধরনের কাজে ডেকেছে সাড়া দিয়েছি। আসলে আমি তো এখানে টাইম পাসের জন্য আসিনি। এটা রুটি-রুজির জায়গা। কাজের প্রস্তাব এলে করবো, এটাই তো নিয়ম। এখন কেউ যদি আমাকে আওয়ামী সমর্থক ভেবে দূরে ঠেলে দেন, কী করতে পারি?’
অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘আমরা শিল্পী, আমাদের কাজ মানুষকে বিনোদন দেওয়া। সেটাই করে গেছি। কখনো কারও অন্ধ সমর্থক ছিলাম না। যদি সেটা করতাম, মনে সামান্যতম সংকীর্ণতা থাকত, দেশেই আসতাম না। এখন যদি নতুন সরকার তাদের কাজে আমাকে ডাকে, অবশ্যই সাড়া দেব। ওই যে বললাম, শিল্পীদের কাজ দলাদলি করা নয়, নিজের অভিনয়শৈলী দিয়ে দর্শক মনে জায়গা করে নেওয়া।’
এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে কীভাবে দেখছেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতির মানুষ নই। বিচক্ষণতার সঙ্গে তাই বলতেও পারব না। দেশের ছাত্র-জনতা চেয়েছিল বলেই তো পরিবর্তনটা এসেছে। একজন নাগরিক হিসেবে চাইব, যেটা হয়েছে সেটা যেন মঙ্গলের জন্য হয়। আমার বিশ্বাস, মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর পাশাপাশি বিনোদনও যেন হারানো গৌরব ফিরে পায়, সেদিকে খেয়াল রাখবে বর্তমান সরকার।’
নুসরাত ফারিয়াকে সবশেষ দেখা গেছে ‘আবারও বিবাহ অভিযান’ সিনেমায়। টলিউডের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে এই ছবি। এছাড়াও সুড়ঙ্গ সিনেমায় আইটেম গানে নাচতে দেখা যায় এই অভিনেত্রীকে।

দুঃসময়ে ঐশ্বরিয়ার পরামর্শেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন অভিষেক

ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও অভিষেক বচ্চনের সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। গত কয়েক মাস ধরে এই জল্পনা চলছে বি-টাউনে। সংসারে বনিবনার অভাবেই নাকি তাদের মধ্যে দূরত্ব। তাই এক ছাদের তলায় আর তারা থাকেন না। ঐশ্বরিয়ার বেশির ভাগ সময় কাটে একমাত্র মেয়ে আরাধ্যা বচ্চনকে সঙ্গে নিয়ে। কিন্তু এক সময় ঐশ্বরিয়া ও অভিষেকের সম্পর্কের সমীকরণ এমন ছিল না। পরস্পর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতেন তারা।
নানা রকমের সমালোচনা মুখে পড়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিষেকের। সমাজমাধ্যমে ট্রোলডও হয়েছেন তিনি। এই সময় অভিষেককে সাহস জুগিয়েছেন স্ত্রী ঐশ্বরিয়া। সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন অভিষেক। স্ত্রীর পরামর্শ মেনেই তিনি সমালোচনাকে গুরুত্ব না দিয়ে জীবনে এগোতে পেরেছিলেন। ঐশ্বরিয়ার পরামর্শ ছিল, ‘দশ হাজার মানুষ তোমাকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেবেন। কিন্তু তার মধ্যেও একটি নেতিবাচক মন্তব্য তোমার ওপরে প্রভাব ফেলতে পারে।’ ঐশ্বর্যার এই কথা মনে ধরেছিল অভিষেকের। তখন থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, শুধু নিজের কাজে ও ইতিবাচক মন্তব্যকে গুরুত্ব দেবেন। গঠনমূলক সমালোচনা শুনবেন কিন্তু এই সবের জন্য মন খারাপ করবেন না।
ঐশ্বরিয়া আরও নানা পরামর্শ দিয়ে অভিষেককে সাহস জুগিয়েছিলেন। দুঃসময়ে স্ত্রীর দেওয়া আরও একটি পরামর্শ ছিলÑ ‘ব্যর্থতা তোমার সঙ্গে মানিয়ে নেবে। তোমাকে ব্যর্থতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে না।’ এর পর থেকেই নিজের ব্যর্থতার কথা ভুলে এগিয়ে যেতে শিখেছিলেন অভিষেক। অভিনেতা বলেছিলেন, ‘আমি সব সময় ব্যর্থতা থেতে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করি।’
দীর্ঘ ১৭ বছরের দাম্পত্য অভিষেক-ঐশ্বরিয়ার। ২০০৭ সালে গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন তারা। ২০১১ সালে আরাধ্যার জন্ম। কিন্তু গত কয়েক দিনে নাকি এসেছে দূরত্ব। এও শোনা যাচ্ছে, অভিনেত্রী নিমরত কৌরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাও দাম্পত্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ার অন্যতম কারণ।