Home Blog Page 516

হাসনাত-সারজিসকে ট্রাকচাপায় হত্যার চেষ্টা

চট্টগ্রামের লোহাগড়া থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের গাড়িবহরের সাথে থাকা একটি প্রাইভেট কার।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্রগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি ইউনিয়নের হাজী রাস্তার মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জনা যায়, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফের গ্রামের বাড়ি চুনতি ফারেঙা থেকে কবর জিয়ারত শেষে শহরে ফিরছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম।

এ সময় তাদের সাথে আরো অনেকে আলাদা গাড়ি করে ফিরছিলেন। ওই বহরের একটি গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে গাড়িটির সামনের অংশ ভেঙে যায়। তবে এই ঘটনায় দুই সমন্বয়ক অক্ষত রয়েছেন।

লোহাগাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: কালাল উদ্দিন জানান, এই ঘটনায় একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। ট্রাকচালক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে। আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আইনজীবীর হত্যাকারী ‘বঙ্গবন্ধু সৈনিক’ শুভ কান্তি দাস কে?

‘যে ব্যক্তি রামের না, সে বক্তি কোনো কাজের না। জয় শ্রীরাম’ ফেসবুক আইডিতে ঢুকতেই ‘বায়ো’তে এই লেখা দেখে চোখ আটকে যায়। আবার নিকনেমে (ডাকনাম) লেখা ‘বঙ্গবন্ধু সৈনিক’। ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতারের পর লিখেছে, ‘হনুমানের লেজে আগুন দিতে নেই। জয় শ্রীরাম।’ সোশ্যাল মিডিয়ায় এভাবে উসকানি ও হুমকি দিয়ে আইনজীবী হত্যায় সশস্ত্র অংশ নেয়া কে এই শুভ কান্তি দাস?

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম আদালতে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে জবাই করে খুনে অংশ নেয়া শুভ কান্তি দাসের বাড়ি পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের আলামপুর পূর্ব পাড়া কালীবাড়ি এলাকায়। বর্তমানে তার পরিবার চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার বাদুরতলা বড় গ্যারেজের মোড়ে তালেব ভবনের ৪র্থ তলায় বাস করেন। বাবার নাম সাগর কান্তি দাস, পেশায় ব্যবসায়ী।

শুভ কান্তি দাস চট্টগ্রাম নগরের কাজেম আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০১৯ সালে এসএসসি ও সরকারি সিটি কলেজ থেকে ২০২১ সালে এইচএসসি পাস করেন। বর্তমানে চন্দনাইশের বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের ৩৬তম ব্যাচের ৪র্থ সেমিস্টারে (আইডি নাম্বার-২৩০৫৩৬০৩২) পড়ছে। বুধবার নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে বহিষ্কার করে। ডেপুটি রেজিস্ট্রার সালাউদ্দিন শাহরিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত শুভ কান্তি দাস কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত কি না জানতে চাইলে আইন বিভাগের সিআর (ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ) তারেকুল ইসলাম ফাহিম বলেন, শুভ ও তার ফ্যামিলি ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত বলে জানি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার অ্যাক্টিভিটিস দেখেও সেটা অনুমান করা যায়। সে নিয়মিত ক্লাসে না আসায় আমাদের সাথে তার সখ্য নেই। ফলে তার বিষয়ে বিস্তারিত জানি না।

এদিকে সরকারি কৌঁসুলি সাইফুল ইসলাম আলিফ খুনে জড়িত সাতজনকে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই আইনজীবীকে ১০-১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল আক্রমণ চালিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। তাদের মধ্যে সনাতন জাগরণ মঞ্চের নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারী, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী, ইসকন সমর্থক আইনজীবী ও ক্লার্কও রয়েছেন।
একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২৬ নভেম্বর বিকেলে সাইফুল ইসলাম আলিফসহ আরো ১০-১২ জন আইনজীবীকে ধাওয়া দেয় সশস্ত্র দলটি। এ সময় সাইফুল পা পিছলে পড়ে গেলে তাকে ধারালো অস্ত্রধারী ১০-১৫ জন যুবক রঙ্গম কমিউনিটি সেন্টারের সামনে প্রথমে পিটায়। এরপর মাথা থেঁতলে দেয়া হয়। পরে আরেক দল কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে হত্যার সাথে জড়িত সাতজনের পরিচয় বের করেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। এর মধ্যে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির এলএলবি পড়ুয়া ছাত্র শুভ কান্তি দাসকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া চট্টগ্রামের মেথরপট্টি এলাকার একজন, কোতোয়ালির হাজারীগলি এলাকার একজন, কোতোয়ালির জলসা মার্কেট এলাকার একজন এবং বন্দরের নিমতলা এলাকার একজনকে চিহ্নিত করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। তাদের প্রত্যেকর পরিচয় শনাক্ত করেছে গোয়েন্দা সংস্থাটি। তাদের আসামি করে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
এ ঘটনায় সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার কাজী মো: তারেক আজিজ বলেন, এখন পর্যন্ত ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যা ও সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

উল্লেখ্য, ইসকন সমর্থিত সন্ত্রাসীরা চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করলে হামলাকারীদের সাথে শ্রী শুভ কান্তি দাসের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

আইপিএলে দল পেলেন না কোনো বাংলাদেশী, নেপথ্যে রাজনীতি?

এবারের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ তথা আইপিএলে দল পেলেন না একজন বাংলাদেশীও। এবারের নিলামে মোট ১২ জন বাংলাদেশী নাম লিখিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো দল বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারের জন্য বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখায়নি। এর নেপথ্যে কি কোনো অক্রিকেটিয় কারণ রয়েছে? সেই নিয়েও শুরু হয়েছে গুঞ্জন। এ নিয়ে কলকাতাভিত্তিক সংবাদ প্রতিদিন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এমনিতে আইপিএলের সাথে বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের সম্পর্ক অম্লমধুর। যেমন মাশরাফি মুর্তাজা, মোহম্মদ আশরাফুলের কেরিয়ার এক ম্যাচেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। আবার মুস্তাফিজুর রহমান, সাকিব আল হাসানের মতো তারকারা যথেষ্ট সফল। তারা এর আগে আইপিএল জিতেছেন। তবে আইপিএলে একজন-দুজন করে হলেও বাংলাদেশী ক্রিকেটার সুযোগ পান। এবারের আইপিএলের নিলামে বাংলাদেশীদের মধ্যে ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান (বেস প্রাইস ২ কোটি), সাকিব আল হাসান (বেস প্রাইস ১ কোটি), তাসকিন আহমেদরা (বেস প্রাইস ১ কোটি)। এছাড়াও লিটন দাস, তৌহিদ হৃদয়, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান শাকিব, মেহেদি হাসান, হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানারা নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা করেছেন। প্রত্যেকেরই মূল্য ৭৫ লাখ রুপি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ দল পাননি। কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি বিন্দুমাত্র আগ্রহ না দেখানোয় একমাত্র মুস্তাফিজুর রহমান ছাড়া বাকি কারো নামও নিলাম পর্বে ওঠেনি।

সংবাদ প্রতিদিন জানায় যে সহজ ক্রিকেটীয় বুদ্ধি বলে, বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের দল না পাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আসলে এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ক্রিকেটে যারা প্রথম সারির তারকা, তাদের চেয়ে বেশি প্রতিভাধর ক্রিকেটার ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেন। তাছাড়া যে দুজন বাংলাদেশী ক্রিকেটার বরাবর আইপিএলে দল পেয়ে থাকেন সেই মুস্তাফিজুর এবং সাকিব আল হাসানও জীবনের সেরা সময় পেরিয়ে এসেছেন। এর বাইরে যে দু-একজনের নাম ভেসে আসছিল তারা হলেন নাহিদ রানা এবং রিশাদ হোসেন। এরাও দল পাননি। এদের দুজনের কারওরই আইপিএলের মতো মেগা টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। তাছাড়া আরো একটা কারণ আছে বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের না থাকার। বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের পুরো টুর্নামেন্টে পাওয়া যাবে কিনা, সেটা নিয়েও সংশয় রয়েছে। সুতরাং কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি আর ঝুঁকি নিতে চায়নি।

সংবাদ প্রতিদিন জানায়, তবে এর বাইরে একটা অক্রিকেটীয় কারণও থাকতে পারে। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে তারপর সে দেশে ভারত বিদ্বেষ মাথাচাড়া দিচ্ছে। সমানে এ দেশেও বাংলাদেশের প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশী ক্রিকেটার নিলে ফ্র্যাঞ্চাইজির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থাকত। তাছাড়া, কোনো ক্রিকেটারকে দলে না নেয়াটা ঘুরিয়ে বাংলাদেশকে প্রচ্ছন্ন বার্তাও হতে পারে। তবে সবটাই গুঞ্জন। আপাতত সাদা চোখে দেখে মনে হচ্ছে, ক্রিকেটীয় কারণটাই প্রাধান্য পেয়েছে।

রাশিয়া রাতে ‘রেকর্ড’ সংখ্যক ড্রোন হামলা চালিয়েছে : ইউক্রেন

রাশিয়া রাতে ইউক্রেনে ‘রেকর্ড’ সংখ্যক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি অঞ্চলে ভবন ও ‘গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার বিমান বাহিনীর উদ্ধিৃতি দিয়ে কিয়েভ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ কথা জানায়।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী ইরানের তৈরি ড্রোনের কথাও উল্লেখ করেছে। রাতের অভিযানে রাশিয়া রেকর্ড সংখ্যক ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

ইউক্রেন বিমান বাহিনী ড্রোনের সংখ্যা ১৮৮টি বলে উল্লেখ করেছে।
সূত্র : বাসস

মানুষ কেন তাদের ওপর বিক্ষুব্ধ, গণমাধ্যমের তা স্পষ্ট করা উচিত : নাহিদ ইসলাম

পত্রিকা অফিসে ভাঙচুর হলে সরকার সেটি আইনগতভাবে দেখবে, কিন্তু ‘এটি কেবল আইনি বিষয় না’ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। নানান কারণে মানুষের অনেক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কেন মানুষ তাদের ওপর বিক্ষুব্ধ, এটি স্পষ্ট করা সাংবাদিকদের ও ওই গণমাধ্যমের দায়িত্ব।’

মঙ্গলবার সচিবালয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতাদের সাথে এ কথা বলে তিনি।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতাদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

সম্প্রতি দ্যা ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর অফিসের সামনে হামলা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, গতকাল বলেছি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সে জায়গা থেকে সরকার ভূমিকা পালন করবে। পত্রিকা অফিসে ভাঙচুর হলে, সেটা অবশ্যই আমরা আইনগতভাবে দেখব।

তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে হামলা হলে আমরা মেনে নেব না, অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। পাশাপাশি জনগণ সভা-সমাবেশ করলে শান্তিপূর্ণভাবে করবে, সে আহ্বান জানিয়েছি। একইসাথে পুলিশ যাতে দায়িত্বশীল আচরণ করে, শান্তিপূর্ণভাবে জনগণকে সমাবেশ করতে দেয়, আমরা সেই নির্দেশনা দিয়েছি।’

গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যারা আন্দোলন করছে, তারাই ভালো বলতে পারবে। তাদের কাছে জিজ্ঞেস করেন। তারা কেন বিক্ষোভ করছে, এটা চিহ্নিত করা উচিত। এজন্য লাঠি পেটা করে সরিয়ে দেয়া উচিত নয়। তাদের সাথে কথা বললেই স্পষ্ট হয়ে যায়।’

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘একটা গুজব অনেক বড় ঘটনার জন্ম দিতে পারে। সেই জায়গায় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছি। এই সরকার কোনো দলীয় সরকার নয়, তাদের নিজস্ব কোনো প্রচার মাধ্যম নেই। ফলে আমরা গণমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল। আমাদের নিজস্ব কোনো কর্মী বাহিনী নেই বা গণমাধ্যম নেই, যারা বর্তমান সরকারের কার্যক্রম প্রচার করবে। সেজন্য আমরা গণমাধ্যমের কাছে সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।’

তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছিল, তা রাতারাতি বদল করে স্থিতিশীল জায়গায় নিয়ে আসা কঠিন। তবে আমরা মেট্রোপলিটন পুলিশকে গ্রামে ট্রান্সফার করেছি, মফস্বলের পুলিশ ঢাকায় আনা হয়েছে। তাদের একটু সময় লাগবে গুছিয়ে উঠতে। আর তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা আমাদের অনেক তথ্য নিয়ে সহায়তা করে সে জায়গা থেকে আমরা সহায়তা কামনা করছি এবং সরকারের পক্ষ থেকেও সব ধরনের সহায়তা করা হবে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘পরিস্থিতি তো পরিবর্তন হবে। আমরা পুলিশ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে চাচ্ছি। পুলিশ সংস্কার কমিশন আছে, তারা সুপারিশ করছে। সবাইকে বুঝতে হবে আমরা বিপ্লব পরবর্তী অবস্থার মধ্যে আছি।’

তিনি বলেন, ‘যেকোনো দেশে বিপ্লব পরবর্তী ও গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে জনগণের ভেতরে যে নানা ধরনের শক্তির অংশ থাকে, তাদের অনেক ভূমিকা রাখতে হয়। পুলিশ অবশ্যই কঠোর হবে। তবে নিপীড়কের ভূমিকায় যেন না যায় বা আমরা একটা পুলিশি রাষ্ট্র যেভাবে দেখেছি সেটা আমরা প্রত্যাশা করি না। আমরা উভয় সঙ্কটের মধ্যে আছি। আমরা আশা করছি সে জায়গা থেকে আমরা উত্তরণ ঘটাতে পারব। আমরা কখনোই চাই না পুলিশ জনগণের বিপক্ষে, ছাত্রদের বিপক্ষে দাঁড়াক, আন্দোলনে গুলি চালাক।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্র নিহতের বিষয়ে বিগত সরকারের দলীয় কর্মীরা ব্যাপকভাবে প্রচার করেছে। বিগত ফেসিস্ট সরকারের লুটপাট করা টাকা এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। দেশে ও দেশের বাইরে এই সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের গুজব ছাড়াচ্ছে।

সূত্র : ইউএনবি

চট্টগ্রামে ইসকন সমর্থক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ

বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে চট্টগ্রাম আদালত থেকে কারাগারে নেয়ার সময় ইসকন সমর্থকদের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় আশপাশের যানবাহন ও স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়। এতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় পর পরে তাকে কারাগারে নেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে বহিষ্কার করে ইসকন (আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সঙ্ঘ) বাংলাদেশ।

এর আগে মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম ষষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কাজী শরীফুল ইসলাম তার জামিন নামঞ্জুর করেন। তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

তবে জামিন নামঞ্জুরের পর তাকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হলেও কয়েকশ ইসকন সমর্থক ঘিরে রাখেন প্রিজন ভ্যানটি। তারা প্রিজন ভ্যান ঘিরে নানা ধরনের স্লোগানও দেন। প্রিজন ভ্যাট আটকে রাখা ইসকন সমর্থকদের সরাতে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে পরে তাকে কারাগারে নেয়া হয়।

তার আগে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) রেজাউল করিম মল্লিক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে সিএমপি কোতোয়ালি থানায় রাখা হয়। চট্টগ্রামে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা রয়েছে। সেই মামলায় তাকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে তোলা হয়।

সোমবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

গত ৩১ অক্টোবর বিএনপি নেতা ফিরোজ খান (পরে বহিষ্কৃত) চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

এ মামলায় চিন্ময় দাসসহ ১৯ জনকে আসামি করা হয়। মামলার আসামিরা হলেন পুণ্ডরীক ধাম মন্দিরের অধ্যক্ষ চন্দন কুমার ধর প্রকাশ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী, চট্টগ্রামের হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সমন্বয়ক অজয় দত্ত (৩৪), নগরীর প্রবর্তক ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলা রাজ দাশ ব্রহ্মচারী (৪৮), গোপাল দাশ টিপু (৩৮), ডা. কথক দাশ (৪০), প্রকৌশলী অমিত ধর (৩৮), রনি দাশ (৩৮), রাজীব দাশ (৩২), কৃষ্ণ কুমার দত্ত (৫২), জিকু চৌধুরী (৪০), নিউটন দে ববি (৩৮), তুষার চক্রবর্তী রাজীব (২৮), মিথুন দে (৩৫), রুপন ধর (৩৫), রিমন দত্ত (২৮), সুকান্ত দাশ (২৮), বিশ্বজিৎ গুপ্ত (৪২), রাজেশ চৌধুরী (২৮) এবং হৃদয় দাস (২৫)।

একই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পরই দু’জনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারা হলেন রাজেশ চৌধুরী ও হৃদয় দাশ।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার পর নগরের নিউমার্কেট মোড়ের জিরো পয়েন্টে স্তম্ভের ওপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা একটি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে, যা এখনো সেখানে রয়েছে।

গত ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে লালদীঘির মাঠে একটি মহাসমাবেশ হয়। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ ওই সমাবেশে যোগ দেন।

ওইদিন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ নয়জন আসামির ইন্ধনে বাকি আসামিরা নিউমার্কেট মোড়ের জিরো পয়েন্ট স্তম্ভ ও আশপাশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ওপর ধর্মীয় গোষ্ঠী ইসকনের গেরুয়া রঙের ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন করে সেখানে স্থাপন করে দেয়। এ নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সংখ্যালঘু জোট নামে দু’টি সংগঠন ‘বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের’ ব্যানারে কর্মসূচি পালন শুরু করে। নতুন এই জোটের মুখপাত্র করা হয় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে। কয়েক দিন এই জোট আট দফা দাবিতে রংপুরে সমাবেশ করেছে।

সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপের কারণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরো কয়েকজনকে গত জুলাই মাসে ইসকন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

চট্টগ্রামের হাজারি গলির ঘটনা প্রসঙ্গে গত ৯ নভেম্বর রাজধানীর স্বামীবাগ ইসকন আশ্রমে ‘ইসকন বাংলাদেশ’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী এ কথা জানান।

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ইসকনের যাবতীয় কার্যক্রম থেকে চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলারাজ গৌরদাস ও সদস্য স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাসকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

বহিষ্কৃতদের মাধ্যমে সংঘটিত কোনো কার্যক্রম ইসকন জড়িত নয় বলে উল্লেখ করে সেদিন তিনি বলেছিলেন, রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা সহিংসতার মতো বেআইনি কাজের সাথে ইসকনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

রাষ্ট্রদ্রোহের ঘটনায় যুক্ত থাকলে ছাড় দেয়া হবে না : আসিফ মাহমুদ

অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘রাষ্ট্রদ্রোহের মতো ঘটনায় যুক্ত থাকলে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।’

আজ মঙ্গলবার রংপুরে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার ওপর যদি কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ও আঘাত আসে এবং রাষ্ট্রের প্রতি অবমাননা হয়, রাষ্ট্রদ্রোহের মতো ঘটনা ঘটে, সেক্ষেত্রে সরকার অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নিবে।’

এরপর তিনি বলেন যে ‘একটি গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।’ তবে ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, কেউ যদি রাষ্ট্রদ্রোহের মতো ঘটনায় যুক্ত থাকে, সে যে-ই হোক, যত বড় নেতাই হোক, তাকে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।’

এক্ষেত্রে, ‘সম্প্রদায় বিবেচনায় নয়, রাষ্ট্রের বিবেচনায় আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে’ বলেও তিনি জানান।

কার গ্রেফতারের ঘটনায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে, সেটি সরাসরি বলেনি ক্রীড়া উপদেষ্টা। তবে সম্প্রতি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। তাকে গতকাল সোমবার ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার তাকে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক কাজী শরীফুল ইসলাম তার জামিন নাকচ করার আদেশ দেন।

এই ঘটনাকে ঘিরে গতকাল দেশজুড়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনেকে বিক্ষোভ করেছেনই। আজও তার অনুসারীরা আদালত চত্বরেই বিক্ষোভ করেছেন।

এদিকে জামিন নামঞ্জুরের আদেশের পর প্রিজন ভ্যান থেকেই চিন্ময় দাস হ্যান্ডমাইকে তার অনুসারীদের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার আহ্বান জানান।

সূত্র : বিবিসি

চিন্ময়ের মুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে ভারতের প্রতি অনুরোধ ইসকনের

বাংলাদেশ সনাতনী জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ও হাটহাজারী পুন্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী আটকের বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন)। 

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, গতকাল ইসকন তাদের অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেছে। ওই পোস্টে ইসকন বলেছে, ‘সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ইসকনের যুক্ত থাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং অত্যন্ত আপত্তিজনক।’ 

এক্স পোস্টে ইসকন আরো বলেছে, ‘ইসকন ভারত সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছে যেন তারা অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এই বিষয়টি স্পষ্ট করে যে আমরা একটি শান্তিপ্রিয় ভক্তি আন্দোলন।’

তারা ইসকন নেতা চৈতন্য কৃষ্ণ দাসকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছে। 

এরআগে, সোমবার বিকেলে ঢাকা থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আটক করা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে আটক করা হয়েছ

এদিকে আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে চট্টগ্রামের আদালতে তোলার পর জামিন নামঞ্জুর করেন চট্টগ্রাম আদালত।তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আট দফা দাবিতে বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশসহ নানান কর্মসূচি পালন করে আসছে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট।

রাষ্ট্রদ্রোহের ঘটনায় যুক্ত থাকলে ছাড় দেয়া হবে না : আসিফ মাহমুদ

অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘রাষ্ট্রদ্রোহের মতো ঘটনায় যুক্ত থাকলে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।’

আজ মঙ্গলবার রংপুরে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার ওপর যদি কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ও আঘাত আসে এবং রাষ্ট্রের প্রতি অবমাননা হয়, রাষ্ট্রদ্রোহের মতো ঘটনা ঘটে, সেক্ষেত্রে সরকার অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নিবে।’

এরপর তিনি বলেন যে ‘একটি গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।’ তবে ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, কেউ যদি রাষ্ট্রদ্রোহের মতো ঘটনায় যুক্ত থাকে, সে যে-ই হোক, যত বড় নেতাই হোক, তাকে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।’

এক্ষেত্রে, ‘সম্প্রদায় বিবেচনায় নয়, রাষ্ট্রের বিবেচনায় আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে’ বলেও তিনি জানান।

কার গ্রেফতারের ঘটনায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে, সেটি সরাসরি বলেনি ক্রীড়া উপদেষ্টা। তবে সম্প্রতি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। তাকে গতকাল সোমবার ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার তাকে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক কাজী শরীফুল ইসলাম তার জামিন নাকচ করার আদেশ দেন।

এই ঘটনাকে ঘিরে গতকাল দেশজুড়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনেকে বিক্ষোভ করেছেনই। আজও তার অনুসারীরা আদালত চত্বরেই বিক্ষোভ করেছেন।

এদিকে জামিন নামঞ্জুরের আদেশের পর প্রিজন ভ্যান থেকেই চিন্ময় দাস হ্যান্ডমাইকে তার অনুসারীদের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার আহ্বান জানান।

সূত্র : বিবিসি

এক দিন অন্তর খেলত ৫০০ বল! জমি বিক্রি করে দেওয়া বাবার ‘হাত ধরে’ আইপিএলে ১৩ বছরের কোটিপতি বৈভব

রোজ অনুশীলনের সুযোগ হত না। কারণ, বিহারের সমস্তিপুরের বাড়ি থেকে পটনার অ্যাকাডেমির দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। তাই বাবা ছেলেকে অ্যাকাডেমিতে নিয়ে আসতেন এক দিন অন্তর। ছেলেকে ক্রিকেটার তৈরি করার স্বপ্ন দেখা এবং তার জন্য জমি বিক্রি করে দেওয়া বাবা যে দিন নিয়ে আসতেন, সে দিন সেই ছেলে ৫০০ বল না খেলে নেট ছাড়ত না। ১৩ বছরের সেই বৈভব সূর্যবংশী সাধারণ ক্রিকেট অ্যাকাডেমি থেকে রাজস্থান রয়্যালসের নেটে এবং সেখান থেকে ছ’দিনের মধ্যে ঢুকে পড়ল আইপিএলে।

সোমবার আইপিএলের নিলামে রাজস্থান এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের মধ্যে লড়াই হল বৈভবকে নিয়ে। দুই দলই তাকে নেওয়ার জন্য ঝাঁপাল। যে কারণে ৩০ লক্ষ থেকে তার দাম পৌঁছে গেল ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকায়। শেষ পর্যন্ত রাজস্থানই নিল ১৩ বছর ২৪৩ দিনের বৈভবকে।

বৈভবের বাড়ি বিহারের সমস্তিপুরের তাজপুর বলে একটি এলাকায়। চার বছর বয়সে বাবার হাত ধরে ক্রিকেট শেখা শুরু তার। সাড়ে সাত বছর বয়সে বৈভবের বাবা সঞ্জীব তাকে নিয়ে যান পটনার এক ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে। সেখানেই কোচ সৌরভ কুমার প্রথম দেখেন বৈভবকে। অবাক হয়ে গিয়েছিলেন এত কম বয়সে তার ব্যাটিং দেখে। নেটে নামার জন্য ছটফট করত বৈভব। আর সেখানে তার বয়সি বোলারেরা প্রায় পাত্তাই পেত না। বড়দের সঙ্গে খেলানো হত বৈভবকে। আনন্দবাজার অনলাইনকে সৌরভ বললেন, “আমরা জানতাম নিলামে রাজস্থান ওর জন্য ঝাঁপাবে। প্রায় সব দলই বৈভবের খেলার ভিডিয়ো চেয়েছিল। দিল্লি আর রাজস্থান ট্রায়ালেও ডাকে। ১৯ নভেম্বর রাজস্থানের ট্রায়ালে গিয়েছিল বৈভব। পাঁচ দিনের মধ্যে ওরাই কিনে নিল ওকে।”

মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে বৈভব। বাবা কৃষক। একটি দোকানও আছে। জমি বিক্রি করে ছেলের ক্রিকেট শেখার খরচ জুগিয়েছেন সঞ্জীব। সমস্তিপুর থেকে ভোর চারটের সময় বেরোতে হয়। পটনা পৌঁছতে ৭.৩০ বেজে যায়। সেখানে কোচ মণীশ ওঝার কাছে প্রশিক্ষণ নেয় বৈভব। কাকভোরে খাবার বানিয়ে দেন বৈভবের মা। মণীশ বললেন, “সমস্তিপুরে বৈভবের বাড়ি থেকে পটনায় আমার অ্যাকাডেমির দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। প্রতি দিন অনুশীলন করতে আসা সম্ভব ছিল না। এক দিন অন্তর আসত ও। তবে যে দিন আসত অন্তত ৫০০ বল খেলত।”

নিজের সঙ্গে কিছু বোলার নিয়ে আসত বৈভব। বিভিন্ন শট খেলার অনুশীলন চলত সারা দিন ধরে। খেলার এবং শেখার ইচ্ছা এতই প্রবল ছিল যে, সময়ের হিসাব থাকত না। মণীশ বললেন, “আমার কাছে আসা ছেলেদের আমি সাধারণত ১০০-২০০ বল খেলাই। বৈভব খেলত ৫০০ বল। এই বয়সটা ক্রিকেটারদের শেখার সময়। ও এত খেলে বলেই দ্রুত শিখতে পারে। এক জন ক্রিকেটার যত বল খেলবে, তত শিখবে। তবে বেশি বল খেললেই সকলে যে শিখবে সেটা নয়। নেওয়ার ক্ষমতা এবং ইচ্ছেটাও প্রয়োজন। সেটা বৈভবের প্রবল।”

নিলামের আগেই আলোচনায় উঠে এসেছিল বিহারের কিশোর ব্যাটারের নাম। নিলামের তালিকায় কনিষ্ঠতম ক্রিকেটার হিসাবে ছিল বৈভবই। তার ন্যূনতম দাম ছিল ৩০ লাখ টাকা। নিলামের সঞ্চালিকা মল্লিকা সাগর বৈভবের নাম ঘোষণা করতেই আগ্রহ দেখান দিল্লি কর্তৃপক্ষ। তাঁদের সঙ্গে টাকার যুদ্ধে নামেন রাজস্থান রয়্যালস কর্তৃপক্ষ। রাজস্থানকে নিলামে নেতৃত্ব দেন কোচ রাহুল দ্রাবিড় নিজে। দিল্লির হাতে সে সময় ছিল ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ১৮ জন ক্রিকেটারকে নেওয়া ছিল তাদের। অন্য দিকে, রাজস্থানের হাতে ছিল ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তাদের কেনা হয়েছিল ১৬ জন ক্রিকেটার। তুলনায় বেশি টাকা হাতে থাকায় সম্ভবত ভবিষ্যতের লগ্নি হিসাবে এগিয়ে যান রাজস্থান কর্তৃপক্ষ। তাঁরা ১ কোটি ১০ লাখ টাকা দাম দিতে লড়াই থেকে সরে যেতে বাধ্য হয় দিল্লি। তাতেই নতুন ইতিহাস তৈরি হল আইপিএলে।