ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে শুক্রবার ভোরে ৯৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উদ্ধৃতি দিয়ে শুক্রবার কিয়েভ থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
ইউক্রেনের নেতা সামাজিকমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানান, প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আরেকটি রাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ ৯৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
তিনি পশ্চিমা বিমান প্রতিরক্ষা জোরদার ও মস্কোর উপর আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র : এএফপি
সুদানের পশ্চিমাঞ্চলের আবাসিক এলাকা ও শরণার্থী শিবিরে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) গোলাবর্ষণে অন্তত ৪৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন।
দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর (এসএএফ) ষষ্ঠ পদাতিক ডিভিশনের কমান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, বিদ্রোহী মিলিশিয়াদের ইচ্ছাকৃত গোলাবর্ষণের ফলে গতকাল (বৃহস্পতিবার) এল ফাশের শহরের আশপাশের এলাকা ও শরণার্থী শিবিরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গণহত্যা প্রত্যক্ষ করা হয়েছে। এতে শিশু ও নারীসহ ৪৫ জন নিহত এবং আরো ২৮ জনকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এল ফাশেরের দক্ষিণাঞ্চলের আবাসিক এলাকা, শহরের দক্ষিণে অবস্থিত জমজম শরণার্থী শিবির ও উত্তরের আবু শৌক শিবির লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করা হয়।
হামলার বিষয়ে আরএসএফের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি।
২০২৩ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে পশ্চিম সুদানের উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী এল ফাশেরে এসএএফ ও আরএসএফের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ চলছে। গত ১০ মে থেকে এই সঙ্ঘাত আরো তীব্র হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, সুদানের ভেতরে বা বাইরে প্রাণঘাতী এই সঙ্ঘাতে এ পর্যন্ত ২৭ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সূত্র : এএফপি
পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বহু মত ও পথের রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি একথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আজ পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমাদের পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা করতে হবে। হারিয়ে যাওয়া আইনের শাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং বহু মত ও পথের রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’
বাণীতে তারেক রহমান বলেন, ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে শাহাদৎ বরণকারী দেশের প্রথম শ্রেণীর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অম্লান স্মৃতির প্রতি আমি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করি।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস জাতির ইতিহাসে এক মর্মস্পর্শী ও শোকাবহ দিন। অমর বুদ্ধিজীবীরা দেশের ক্ষণজন্মা শ্রেষ্ঠ সন্তান, যারা একটি সমৃদ্ধ এবং মাথা উঁচু করা জাতি দেখতে চেয়েছিলেন। তারা ন্যায়বিচারভিত্তিক শোষণমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু হানাদার বাহিনীর দোসররা চূড়ান্ত বিজয়ের প্রাক্কালে স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতে পরিকল্পিত এ হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত করে।’
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই অগণতান্ত্রিক শক্তি তাদের মুখোশ খুলে ফেলে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর ন্যায় দেশের মানুষের সর্বজনীন গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো একের পর এক হরণ করতে থাকে। এক নদী রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া আমাদের রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব দিনে দিনে দুর্বল করে এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রত্যাশা ধূলিসাৎ করে। সেই দুঃশাসনের ঐতিহ্য ধারণ করে তাদের উত্তরসূরী আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা বিভেদ, অনৈক্য, সংকীর্ণতা, গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের দ্বারা ঐক্যবদ্ধ জাতি গড়া ও জাতীয় অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল এবং গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। সুতরাং আমাদের রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশ এবং দেশকে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার বদলে একদলীয় দুঃশাসনের বাতাবরণ তৈরি করে। সুতরাং আজ পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমাদের পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা করতে হবে। হারিয়ে যাওয়া আইনের শাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং বহু মত ও পথের রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে শহীদ বুদ্ধিজীবীরা আমাদের প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে যাবেন।’
‘আজকের এ শোকাবহ দিনে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই- আসুন শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা একসাথে কাজ করি,’ বলেন তিনি।
আমি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তারেক রহমান।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সাকিব আল হাসান। আছে বিশ্বের বিভিন্ন জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার অভিজ্ঞতা। বল হাতে বিশ্বের সেরা স্পিনারদের একজনকে ধরা হয় তাকে। ছিলেন র্যাঙ্কিংয়ের সেরা অবস্থানেও অনেকদিন।
অথচ ক্যারিয়ারের শেষ দিকে এসে কিনা তার বোলিং নিয়েই কিনা উঠে প্রশ্ন। প্রশ্ন তুলে ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটের কর্তৃপক্ষ। ফলে তাকে তার বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিতে বলা হয়।
চলতি মাসের শুরুতে বার্মিংহামের লাফবরো ইউনিভার্সিটির মেডিক্যাল বিভাগে তার বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা নেয়া হয়। পরীক্ষায় মোট চার ওভার বল করেন সাকিব, যেখানে ২৪টি ডেলিভারি বিশ্লেষণ করা হয়।
শেষ পর্যন্ত এলো সেই পরীক্ষার ফলাফল। পরীক্ষার পর বিশেষজ্ঞরা কোনো ত্রুটি পাননি। বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষায় ভালোভাবেই উতরে গেছেন সাকিব আল হাসান। বোলিং অ্যাকশনে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি তার।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে দীর্ঘ ১৩ বছর পর ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে ফেরেন সাকিব। সারের হয়ে সমারসেটের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন সাকিব।
তবে সেই ম্যাচেই তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন আম্পায়াররা। ফলে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে হলে তাকে বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে বলা হয়।
গত অক্টোবরে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। শিরোপা জয়ে ফিফা র্যাংকিংয়ে সাত ধাপ এগিয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরা বাংলার নারীরা।
শুক্রবার র্যাংকিংয়ের হালনাগাদ প্রকাশ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সেখানে সাত ধাপ এগিয়ে ১৩৯তম স্থান থেকে ১৩২তম স্থানে উঠেছে বাংলাদেশ। ২১ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বেড়েছে তাদের। বর্তমানে বাংলাদেশের পয়েন্ট ১০৯৭ দশমিক ৫৫।
সাফে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র নিয়ে আসর শুরু করেছিল বাংলাদেশের নারীরা। দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে ৩-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ পর্বের সেরা হয়ে সেমিফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ।
সেমিতে ভূটানকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালের টিকিট পায় বাংলাদেশ। ফাইনালের মঞ্চে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখে সাবিনা-ঋতুপর্নারা।
র্যাংকিংয়ে শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় ও তৃতীয়স্থানে আছে যথাক্রমে- স্পেন ও জার্মানি। সূত্র : বাসস
বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্কের ওপর যে ছায়া পড়েছে, দুই দেশের স্বার্থেই তা দূর করতে হবে।‘
শুক্রবার রাজধানীতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক ও চালক পুনঃপ্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর রাজনৈতিক অস্থিরতা যে ছায়া পড়েছিল, তা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই সাথে দুই দেশের মধ্যে একতাবদ্ধ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্য স্বীকার করে রিজওয়ানা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির সাথে এ ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমাদের দেশে সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রভাব আমরা অস্বীকার করতে পারি না।
শব্দ দূষণ ও পরিবেশগত উদ্যোগ অনুষ্ঠানে রিজওয়ানা বলেন, শিগগিরই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে। এটি শব্দদূষণ প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আইনগত ব্যবস্থা দৃঢ় করবে।
তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে এবং শিগগিরই আইনটি প্রকাশ করা হবে।‘
রাজনৈতিক সংস্কার রাজনৈতিক সংস্কারে অগ্রগতির অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে কয়েক দশকের স্থবিরতার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহি নেয়ার আহ্বান জানান রিজওয়ানা।
রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘যদি রাজনীতিবিদরাই সংস্কার করেন, তাহলে গত ৫৩ বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি কেন?’
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও সুশাসিত বাংলাদেশ গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ।
আগামীকাল ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ উপলক্ষ্যে শুক্রবার দেয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।
শহিদ বুদ্ধিজীবীসহ মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কময় দিন। মহান মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিনগুলোতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা পরাজয় নিশ্চিত জেনে বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করে।’
তিনি বলেন, বাঙালি জাতির বিজয়ের প্রাক্কালে স্বাধীনতাবিরোধীরা দেশের শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, আইনজীবী, শিল্পী, প্রকৌশলী, দার্শনিক ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদসহ দেশের মেধাবী সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা ও গুম করে। তাদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, মুনীর চৌধুরী, আনোয়ার পাশা, শহীদুল্লাহ কায়সার, গিয়াসউদ্দিন, ডা. ফজলে রাব্বি, আবদুল আলীম চৌধুরী, সিরাজউদ্দীন হোসেন, সেলিনা পারভীন, ড. জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতাসহ আরো অনেকে।
বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীরা এই পরিকল্পিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের জঘন্যতম প্রতিশোধ নেয়।
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির যেকোনো চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। সূত্র : বাসস
শেখ হাসিনার ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশটির কিছু গণমাধ্যম বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার কাল্পনিক সংবাদ অতিরঞ্জিত করে প্রচার করছে। এতে কেবল ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হলেও তা এ দেশের হিন্দুদের কোনো কাজে আসছে না। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদককে দেবরাজ ভট্টাচার্য নামে ঢাকার একজন ৪২ বছর বয়সী হিন্দু ব্যাংকার বলেন, ‘কিছু বিশেষ ভারতীয় মিডিয়া, যেভাবে বিজেপির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে ভয়ের পরিবেশ ছড়াচ্ছে তা আমাদের এখানে কোনো সাহায্য করছে না।’ তিনি ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কথা উল্লেখ করছিলেন। একটি স্বাধীন বাংলাদেশী তথ্য-পরীক্ষা সংস্থা রিউমর স্ক্যানারের তদন্ত অনুসারে, ১২ আগস্ট থেকে ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ পর্যন্ত ৫০টির মতো ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ সম্পর্কে কমপক্ষে ১৩টি মিথ্যা প্রতিবেদন প্রচার করেছে। দেবরাজ বলেন, তবুও, হাসিনার পতনের পর থেকে, হিন্দু সম্প্রদায়গুলোকে যে ভয় এবং নিরাপত্তাহীনতা গ্রাস করছে তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বেশির ভাগ গ্রামাঞ্চলে যারা হাসিনার শাসনামলে খুব বেশি আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি তারা এখন শক্তিতে আছে। দেবরাজ বলেন, এতে বাংলাদেশে হিন্দুরা বরং দ্বিগুণ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির (বুয়েট) ২৭ বছর বয়সী হিন্দু ছাত্র অভিরো শোম পিয়াস বলেন, আমাদের ধর্মীয় তীর্থস্থানগুলোর ৯০ শতাংশ ভারতে অবস্থিত এবং সেখানেই আমাদের সংযোগ রয়েছে। তবে, সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশী হিন্দুরা বর্তমান ভারত সরকার বা এর ‘হিন্দুত্ব’ চরমপন্থাকে সমর্থন করে না। তিনি বিজেপির হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ মতাদর্শকে উল্লেখ করে এ ধরনের মন্তব্য করেন। দোয়ারাবাজার মার্কেটের ২৯ বছর বয়সী একজন ফার্মেসি মালিক, যিনি তার পুরো নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভারতীয় মিডিয়া ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে এবং ঘটনাগুলোকে অতিরঞ্জিত করে, যার মধ্যে কিছু কখনও ঘটেইনি। এটি বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভারত-বিরোধী মনোভাব জাগিয়ে তোলে, যা আমাদের হিন্দুদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি করে। ৮৪ বছর বয়সী নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ভারতীয় মিডিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অতিরঞ্জিত খবর প্রচারের অভিযোগ তুলেছে। ইউনূসের প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম আলজাজিরাকে বলেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর কিছু হামলা হয়েছে। কিন্তু, ‘ভারতীয় মিডিয়ায় রিপোর্ট করা অনেক ঘটনা অতিরঞ্জিত এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তির একটি শিল্প পর্যায়ে প্রচারের অংশ। অন্তর্বর্তী সরকার ধর্মের স্বাধীনতা, মেলামেশার স্বাধীনতা এবং সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য সমাবেশের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিছু হিন্দু যুক্তি দেখান যে, শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশে সম্প্রদায়টির নিরাপদ থাকার ধারণাটিও ভুল। দেবরাজ স্মরণ করেন, দুই একর (প্রায় ০.৮ হেক্টর) পারিবারিক জমি হারিয়েছেন আওয়ামী লীগের একজন সাবেক সংসদ সদস্যের কর্মীদের হাতে, যিনি গত সেপ্টেম্বরে ‘চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির’ অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি বলেন, হাসিনার অধীনে হিন্দুরাও নিরাপদ ছিল না। আমাদের রাজনৈতিক ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ শাসনামলে অনেক হিন্দু যে নিরাপত্তা অনুভব করেছিলেন তা বাস্তবের চেয়ে বেশি মানসিক ছিল।’ ভারতের নয়াদিল্লির উপকণ্ঠে জিন্দাল স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের একজন অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞ শ্রীরাধা দত্ত আলজাজিরাকে ব্যাখ্যা করেছেন যে, হাসিনা প্রশাসনের অধীনে হিন্দুদের সুরক্ষার উপলব্ধি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নিহিত। যদিও আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ঘটেছে তবুও পার্টির ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান সাধারণত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোকে এক ধরনের নিরাপত্তার অনুভূতি দেয়। সংখ্যালঘু অধিকার গোষ্ঠী, বিএইচবিসিইউসি, এর আগে হাসিনা প্রশাসনের সময় ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ৪৫টি হত্যার রিপোর্ট করেছিল, যাদের বেশির ভাগই হিন্দু ছিল। বাংলাদেশের একটি খ্যাতনামা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান আইন ও সালিস কেন্দ্র, জানুয়ারি ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর কমপক্ষে ৩,৬৭৯টি হামলার রিপোর্ট করেছে, যার মধ্যে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং লক্ষ্যবস্তু সহিংসতা রয়েছে। এর অনেকগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। ২০২১ সালে, দুর্গাপূজার সময় এবং পরে বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের বাড়ি এবং মন্দিরে আক্রমণের পরে, অধিকার গোষ্ঠী অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছিল, ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই ধরনের বারবার আক্রমণ, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও উপাসনালয় ধ্বংস করা বছরের পর বছর দেখায় যে, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংখ্যালঘুদের রক্ষার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।’ বিএইচবিসিইউসির সভাপতি মণীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু আন্দোলন ভারত এবং শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ উভয়ের থেকে স্বতন্ত্র এবং স্বাধীন। এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়। একটি সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন এবং একটি সংখ্যালঘু কমিশন প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছি। নাথ আরও উল্লেখ করেন যে, হিন্দু ছাত্ররা প্রতিবাদ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল যা হাসিনার সরকারকে অপসারণের দিকে পরিচালিত করে। তারা অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি এবং দাবির প্রতিবাদে একত্র হয়েছিল যেগুলো হাসিনা অনেক দিন ধরে উপেক্ষা করেছেন। হাসিনা সরকারের সাবেক মন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এখন ভারতে নির্বাসিত, তবে তার দলের ট্র্যাক রেকর্ড রক্ষা করেছেন। তিনি আলজাজিরাকে বলেন, ‘আপনি যদি হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে আমাদের অধীনে যা ঘটেছিল তার সাথে তুলনা করেন, পার্থক্যটি স্পষ্ট। আমাদের শাসনামলে কিছু হামলা হয়েছে, আমরা তা অস্বীকার করতে পারি না। তবে ৫ আগস্টের পর যা ঘটছে তা নিছক বর্বরতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন, তারা [অন্তর্বর্তীকালীন সরকার] সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।’ বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল, মো: আসাদুজ্জামান, অক্টোবরে হাইকোর্টে শুনানির সময় পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, তিনি সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা অপসারণকে সমর্থন করবেন। তিনি বলেন, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা এমন একটি জাতির বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না যেখানে জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ মুসলিম। মণীন্দ্র কুমার নাথ সতর্ক করে বলেন, সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা অপসারণ করা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকারকে উল্লেখযোগ্যভাবে হুমকির মুখে ফেলবে। অতীতে সরকারগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে আমাদের সুরক্ষা এবং অধিকারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু একবার ক্ষমতায় এসে তারা তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। ভট্টাচার্য সেই উদ্বেগের প্রতিধ্বনি করে বলেন, সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বের করা হলে, এটি একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে যে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আর রাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য আসল চ্যালেঞ্জ অন্য কোনো দেশের ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা নয়, বরং হিন্দু সংখ্যালঘুরা যাতে আবার নিরাপদ বোধ করে সে দিকে নজর দেয়া উচিত।
নিউইয়র্ক: আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ২০২৫-২৬ সময়ের জন্য নতুন কমিটির প্রেসিডেন্ট হয়েছেন শওকত ওসমান রচি,সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মজুমদার। ৯ ডিসম্বর সোমবার জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি সেন্টারে প্রেসক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভায় কন্ঠভোটে তারা নির্বাচিত হয়েছেন। রচি বাংলা খবর ডট নিউজের সম্পাদক এবং মসিউর খবর সম্পাদক। এছাড়া ৯ সদস্যের নির্বাচিত কমিটির সদস্যদের মধ্যে আছেন, সহ-সভাপতি মন্জুরুল হক (সাপ্তাহিক প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক), যুগ্ন-সা: সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক (সাপ্তাহিক আজকাল), কোষাধ্যক্ষ মল্লিকা খাঁন মুনা (মাই টিভি), কার্যকারী সদস্য দর্পণ কবীর ( সম্পাদক, দেশকন্ঠ), মোহাম্মদ সাঈদ (সম্পাদক, সাপ্তাহিক প্রবাস), তোফাজ্জল লিটন( প্রতিনিধি, দৈনিক প্রথম আলো) ও শামীম আহমেদ (টিবিএন২৪)। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পেশাজিবী সাংবাদিকদের এ সংগঠন ‘আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’। প্রেসক্লাবের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাঈদ’র সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল হক। এই সাধারণ সভায় বিভিন্ন মিডিয়াতে কর্মরত ১৬ জনকে প্রেসক্লাবের নতুন সদস্য পদ প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত নতুন সদস্যদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। সভার শুরুতে ক্লাবের প্রয়াত সদস্য আব্দুল হাই স্বপনের আত্মরর মাগফেরাত কামনা, বেলাল আহমেদসহ অসুস্থ সদস্যদের জন্যে দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেছেন ক্লাবের সিনিয়র সদস্য সৈয়দ ওয়ালিউল আলম। সভায় সভাপতির শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন এবং কোষাধ্যক্ষের প্রতিবেদন পেশ করা হয়। সদস্যরা প্রতিবেদন দুটি অনুমোদন করেন।
এছাড়াও প্রেসক্লাবকে শক্তিশালী করার লক্ষে বক্তব্য রাখেন ,প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক দর্পণ কবীর, নতুন কমিটির সভাপতি শওকত ওসমান রচি, নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মশিউর রহমান মজুমদার, মল্লিকা খান মুনা , সৈয়দ ওয়ালীউল আলম , পাপিয়া বেগম,এনামুল হক এনাম, এসএম সারোয়ার হোসেন, পাপিয়া বেগম,শফিকুল ইসলাম সাবু , তাপস কুমার সাহা , সীমা সুস্মিতা, মোঃ আজিজুল হক, মোঃ আরিফুর রহমান, মোঃ মাহে আলম জেমস, এনাম চৌধুরী, দীপক কুমার আচার্য, খোরশেদ আলম রিংকু , উত্তম কুমার সাহা, শামীম আহমেদ, কামরুল হাসান প্রমুখ। সবশেষে বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ সাঈদ উপস্থিত সকল সদস্যদের ধন্যবাদ এবং নতুন কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে সাধারণ সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন।
আব্দুল হামিদ নিউইয়র্ক॥ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এর অঙ্গ সংগঠনের সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্স প্যালেসে বিজয় দিবস উদযাপনের আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ডঃ সিদ্দিকুর রহমান এবং সভা পরিচালনা করেন সাধারন সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি কানেক্টেড ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি নেতা নেত্রীদর সাথে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন, সবার খোঁজ খবর নেন এবং প্রবাসে আওয়ামিলীগের শক্তিমত্তার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন এই ডিসেম্বর মাসেই বাংলাদেশ বিজয় লাভ করেছিল। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু সহ জনগণ যে নির্যাতন হত্যা গুম সহ্য করেছিল তার ফলশ্রুতিতে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। পাকিস্তানি বাহিনী যখন ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরু করে তার পরেই ২৬ মার্চ জাতির জনক স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। স্বাধীনতার পরে জাতির জনক এই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার জন্য মাত্র ৩ বছর ৭ মাস সময় পান ।৩০ লক্ষ শহীদ এবং ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি তা বার বার লুন্ঠন করা হয়েছে। ১৯৭৫ সালে জাতির জনক ও তার পরিবারের সকল সদস্যকে সেদিন হত্যা করার মাধ্যমে এই স্বাধীনতাকে কলংকিত করে এবং অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে। সেই সময় যুদ্ধ অপরাধী সহ জাতির জনককে হত্যাকারীদের সরকারের বিভিন্ন পদে বসানো হয়। ৫ আগস্ট সেই একই ভাবে স্বাধীনতা বিরোধীরা ক্ষমতা দখল করে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিলো কিন্তুু তারা সেটা পারেনি। অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মাধ্যমে যে উন্নয়নশীল দেশে গড়েছিলাম আজ তা ধ্বংস প্রায়। যখন দারিদ্র্যের হার ছিলো ৪১ ভাগ সেখান থেকে আমি ১৮.৭ ভাগে নিয়ে আসি। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করি,একটা আধুনিক জাতি হিসাবে গড়ে তুলি। ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে অতিক্রমের সকল প্রস্তুতি আওয়ামিলীগ নিতে থাকে। আওয়ামিলীগ মানেই খাদ্য নিশ্চয়তা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা। আমাদের সময় সড়ক, নৌ, বিমান, টানেল, ৬ লেনের রাস্তা, একসাথে ১০০ সেতু উদ্বোধন, ডিজিটাল জনগোষ্ঠী তৈরি, আমার গ্রাম আমার শহর, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প গ্রহণ করি যা বাংলাদেশের জনগনকে আশার আলো দেখায়। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ৩০ টাকা নিম্নবর্গদের ১৫ টাকা কেজি চাল এবং ১ কোটি জনগণকে টিসিবির কার্ড করে দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন আওয়ামিলীগের সময়ই মাতাপিছু আয় ২৭৯৩ টাকা, ১৪৮ প্রকার সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কৃষক – মৎসজীবি- শ্রমিকদের খাদ্যের ব্যবস্থা, বছরের শুরুতে বিনামূল্যে বই বিতরণ, বৃত্তি ও প্রযুক্তি শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি বলেন প্রবাসীরা যেনো বিনিয়োগ করতে পারে সেজন্য ব্যাংকিং, বীমা, টেলিকম, বিমান,হেলিকপ্টার সার্ভিস উন্মুক্ত করা হয়।
২০২৪ সালের নির্বাচনে চক্রান্তকারীদের চক্রান্তের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু করে ইউনুস। কিন্তু তখন তারা এই নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। পরে গভীর চক্রান্তের মাধ্যমে জঙ্গি, সন্ত্রাসীরা পুলিশ, ছাত্র, আওয়ামিলীগ,সাধারন মানুষ হত্যা করে ক্ষমতা দখল করে। তারা ৪-৫ হাজার আওয়ামিলীগ কর্মী হত্যা করেছে। যে কোটা ২০১৮ সালে বাতিল করেছিলাম পরে আদালত যে রায় দেয় তাও আমরা স্থগিত করি, জুলাই আন্দোলনে বাধা দেয়নি, পুলিশকে নিষেধ করেছিলাম বাধা দিতে, আন্দোলন কারীদের গণভবনে ডাকাও হয়েছিলো কিন্তু তারা আসেনি ১ দফা ঘোষনা করেছে। আমি রক্তপাত চাইনি তাই ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছি। আবু সাইদ কে ওরাই হত্যা করেছে তার গুলি লাগে দুপুর ২:৩০ এ তখন তাকে হসপিটালে না নিয়ে রাত ৮ টায় নিয়েছিলো কেনো? মুগ্ধকে এত কাছ থেকে কারা গুলি করেছে? এই প্রশ্ন রাখেন তিনি। চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ নেতাদের ছাদ থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে, অনেককে খুন করা হয়েছে এসব কারা করেছে সবাই দেখেছে। তিনি বলেন জুডিশিয়াল ইনকুয়ারি কমিশনে যে জজ নিয়োগ দিয়েছে সে নিজেই দলীয় এবং অপরাধী ছিলো। ইউনুস নিজেই ক্লিনটনের সভাই স্বীকার করেছে তারা কিভাবে ডিজাইন করে ক্ষমতাচ্যুত করেছে আমাদের। তাদের একজন বলেছে পুলিশ না মারলে, মেট্রোস্টেশন না পোড়ালে বিপ্লব সার্থক হত না। তারা প্রশিক্ষিত ক্যাডার, সন্ত্রাসী, জেনেভা ক্যাম্পের লোক, সাদা শার্ট পরিয়ে স্কুল কলেজের ছাত্র বানিয়ে যা করেছে জনগন তা এখন বুঝতে পারছে। তারা গাজীপুর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশকে মেরে ঝুলিয়ে রেখেছিলো তবুও আমি গুলি চালাতে দেয়নি। তারা এখন কি করছে সেসবের বিচার না করে আওয়ামিলীগ ও তার সহযোগিদের বাড়িতে হামলা, আগুন, লুটপাট হত্যা করছে। ছেলেকে না পেয়ে মা – চাচীকে হত্যা করেছে, বগুড়ায় ৮ জনকে হত্যা করেছে। যৌথবাহিনি গোপালগঞ্জে জনগনকে পিটিয়েছে। তারা নির্যাতিতদের পাশে থাকছে না। এভাবে সন্ত্রাসীদের সাহায্য করার মাধ্যমে তারাও একদিন ১৯৭১ সালের পাকিস্তানী বাহিনীর মত জনগনের কাছে আত্মসমর্পণ করবে। ইউনুস বাহিনী শিক্ষক,সাংবাদিক, সচিব, পুলিশ, পিএসসি কর্মকর্তা, আইনজীবী সহ সকল ক্ষেত্রে জোর পূর্বক চাকুরীচ্যুত এবং ওএসডি করছে। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ করলে তাদের চাকরী দেবেনা, পড়াশোনা করতে দেবেনা.. এখন কি বৈষম্য হয়না? এখন বলুক ফ্যাসিস্ট কারা? ইউনুস ৬ হাজার কোটি টাকা ট্যাক্স ফাকি ছাড়াও ২৫ কোটি টাকা পাচার করেছে, লভ্যাংশের ৫% শ্রমিক কল্যানে জমা দেবার কথা তাও সে দেয়নি। তার বিরুদ্ধে শ্রমিক মামলা, ট্যাক্স ফাকি দেয়া সহ ৬ মাসের কারাদণ্ড ছিলো সেটাও সে মওকুফ করেছে। এমনকি ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত হল ২০-২৫ জন আহত হল.. যারা দোষি তাদের সবাইকে খালাস করে দিলো। বয়স্ক নেতাদের হাত কড়া পরিয়ে তাদের ওপর হামলা করা হয়, তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিতে দেয়না, সংখ্যা লঘুদের ওপর হামলা করে. এখানে আইনের শাসন কোথায়? শাহ আমানত দরগাহ, মন্দির, চট্টগ্রামে গীর্জা মঠে হামলা করা হয়, ১১ টি গীর্জা ভাঙ্গা হয়েছে তার বিচার কে করবে? আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সে বলেছিলো ২৬ লক্ষ ভারতীয় এখানে চাকরী করে সে এখন তাদের বাদ দেয় না কেন? প্রতিটি সেক্টরে গ্রাম থেকে শহরে ইউনুস বাহিনীর এজেন্ট আছে তাদের খুঁজে বের করতে হবে কারন এরাই সবার তথ্য নিয়ে আগুন সন্ত্রাস লুটপাট করছে। ধানমন্ডির যে বাড়ি থেকে ৬ দফা, স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হয়েছিলো, জাতির জনকের স্মৃতি সংরক্ষিত ছিলো, আমরা যাকে ট্রাস্ট বানিয়েছিলাম, নিজেদের সম্পদকে জনগনের সম্পদ বানিয়েছিলাম তারা সেটা আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। গণভবনে, সংসদ ভবনে,সেতু ভবনে, টিভি ভবনে লুটপাট করেছে। রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য যে তিনটি মূল বিষয় আছে আইন সভা, বিচার বিভাগ, এক্সিকিউটিভ তারা ফলো করেনা, সব তারা ধ্বংস করেছে। একটি গোছানো দেশকে তারা হাতে তুলে ধ্বংস করছে, সকলের পেটে লাথি মারছে। চুরি ডাকাতি সন্ত্রাস এখন বাংলাদশের অলিতে গলিতে বিরাজমান। কেউ শান্তিতে বাইরে যেতে পারেনা। তিনি বলেন আওয়ামিলীগকে বাদ দেয়া, শেষ করা বা নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব নয়। ইউনুস বাহিনীর বাবা আইয়ুব খান পারেনি আর এরা কিভাবে শেষ করবে। আমার নামে ২৫০ টা হত্যা মামলা দিয়েছে এর মধ্যে কিছুদিন পরে আবার ৩৫ জন জীবিত হয়ে ফিরে এসেছে।তারা গণভবনে আক্রমণ করেছিলো শেখ রেহেনা আর আমাকে হত্যা করবে বলে তারা তা পারেনি। আমার দেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের দেয়া ঘর, জমি তারা দখল করেছে, আগুন দিয়েছে। শান্তির রাষ্ট্রকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে এরা। পরিশেষে তিনি বলেন, আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় গেলে, যাদের চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে তাদের চাকরী ফেরত দেয়া হবে। তিনি নির্দেশ দেন ইউনুস বাহিনীর এজেন্ট রা সব জায়গাতে কি কি করছে তার তথ্য রাখতে হবে প্রয়োজনে রুখে দাড়াতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার সংকল্প আবার তিনি ব্যক্ত করেন।।