সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে নেওয়া হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) সঙ্গে যোগাযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি বিøঙ্কেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
জর্ডানে সিরিয়া নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, তুরস্ক ও পশ্চিমা কূটনীতিকদের সঙ্গে সংলাপে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অ্যান্থনি বিøঙ্কেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা এইচটিএস এবং অন্যান্য গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।’ তবে তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কীভাবে হলো, তা সুনির্দিষ্ট করেননি তিনি।
সিরিয়ায় ক্ষমতা দখলকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বিøঙ্কেন এমন সময় জানালেন, যখন প্রায় ১২ বছর পর দামেস্কে দূতাবাস চালু করেছে তুরস্ক।
সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তুরস্ক। দেশটি সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে এবং সেখানে স্বাধীনতাপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অর্থায়ন করে। পাশাপাশি এইচটিএসের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখে। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি বাশার আল-আসাদকে উৎখাতের অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিল।
আসাদকে হটানো বিপ্লবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে যুক্তরাষ্ট্র
‘মার্কিন সাংবাদিককে’ ১০ বছরের কারাদণ্ড দিল ইরান
ইরানি-আমেরিকান এক সাংবাদিককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ইরান। তার নাম রেজা ওয়ালিজাদেহ। মার্কিন সরকারকে সহযোগিতা করার দায়ে তাকে এই দণ্ড ইরানের এক আদালত।
শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের একটি আদালত ইরানি-আমেরিকান সাংবাদিক রেজা ওয়ালিজাদেহকে শত্রু দেশ তথা মার্কিন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য দোষী সাব্যস্ত করার পর ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে বলে তার আইনজীবী নিশ্চিত করেছেন।
ওয়ালিজাদেহের আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন আগাসি বার্তা সংস্থা এপি নিউজকে বলেন, তেহরানের বিপ্লবী আদালত এক সপ্তাহ আগে এই রায় দিয়েছে এবং পরবর্তী ২০ দিনের মধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, রায় ঘোষণার পর থেকে তিনি ওয়ালিজাদেহের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না।
সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন আগাসি বলেন, রেডিও ফারদাতে কাজ করার অপরাধে ওয়ালিজাদেহের ১০ বছরের কারাদণ্ড, তেহরান প্রদেশ এবং প্রতিবেশী প্রদেশে বসবাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা, দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং রাজনৈতিক দলগুলোতে দুই বছরের জন্য সদস্যপদ স্থগিতের মতো শাস্তি হয়েছে।
রেজা ওয়ালিজাদেহ মার্কিন-সরকারের-অর্থায়নকৃত ভয়েস অব আমেরিকার ফার্সি ভাষা পরিষেবার সাবেক একজন সাংবাদিক। এছাড়াও তিনি রেডিও ফারদাতে কাজ করেছেন। রেডিও ফ্রি ইউরোপ/রেডিও লিবার্টির অধীনস্ত এই আউটলেটটি ইউএস এজেন্সি ফর গেøাবাল মিডিয়ার তত্ত¡াবধান পরিচালিত হয়।
গত আগস্টে ওয়ালিজাদেহ দৃশ্যত দুটি বার্তা পোস্ট করেন, যা থেকে বোঝা যায় যে তিনি ইরানে ফিরে এসেছেন, যদিও রেডিও ফারদাকে ইরানের সরকার শত্রু চর হিসেবে দেখে থাকে। বার্তাটিতে আংশিকভাবে লেখা ছিল, আমি ২০২৪ সালের ৬ মার্চ তেহরানে পৌঁছেছি। এর আগে, (বিপ্লবী গার্ডের) গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে আমার আলোচনা অসমাপ্ত ছিল। অবশেষে আমি ১৩ বছর পর কোনো নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়াই আমার দেশে ফিরে এসেছি, এমনকি মৌখিক নিশ্চয়তাও নেই।
আগাসি জানান, আসার পর প্রথম ছয় মাস তিনি মুক্ত ছিলেন এবং পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
অমিতাভের নাতিকে জড়িয়ে ধরলেন রেখা
মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত বলিউড কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ কাপুরের শতবর্ষ উদযাপনে গিয়েছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রেখা। অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চনের নাতি অগস্ত্য নন্দাকে জড়িয়ে ধরেন অভিনেত্রী রেখা। এরপরই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।
বিগ বি অমিতাভ বচ্চন ও রেখার সম্পর্ক একসময় বলিউডে আলোড়ন তুলেছিল। বিয়ের পরও অমিতাভের সঙ্গে রেখার প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। যে কারণে অনুষ্ঠানে অগস্ত্য নন্দাকে জড়িয়ে ধরার সেই মুহূর্তের ভিডিও ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে। নেটিজেনরাও নানা রকম মন্তব্য করেছেন। যাদের অধিকাংশেরই প্রশ্নÑ তাহলে কি এখনো অমিতাভকে ভুলতে পারেননি রেখা?
ঐতিহাসিক এ অনুষ্ঠানে রেখাকে রাজ কাপুরের একটি পোস্টারের দিকে আবেগভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা গেছে। পোস্টারটি দেখে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এ সময় অভিনেত্রীর চোখে জলে ভিজে ওঠে।
পিভিআর ইনক্স ও ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই ফেস্টিভ্যালে রাজ কাপুরের জনপ্রিয় সিনেমাগুলো প্রদর্শিত হয়েছে, যার মধ্যে আওয়ারা, শ্রী ৪২০ এবং মেরা নাম জোকার উল্লেখযোগ্য। তিন দিনের এ আয়োজন ভারতের ৪০টি শহরের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যেখানে বলিউডের বড় বড় তারকারাও অংশ নিচ্ছেন।
কুম্ভমেলায় কেউ পদপিষ্ট হলে কি ঈশ্বরের দায়: রামগোপাল
কুম্ভমেলাতেও উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। সেখানে কেউ পদপিষ্ট হয়ে কারও মৃত্যু হলে কি ঈশ্বরকে গ্রেফতার করা হবে? এমন প্রশ্ন তুললেন বলিউড পরিচালক রামগোপাল ভার্মা। এক রাত কারাবাস করে শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে বাড়ি ফেরেন দক্ষিণী সুপারস্টার আল্লু অর্জুন। সেই গ্রেফতার ঘটনা নিয়ে এ প্রতিক্রিয়া জানান রামগোপাল। আল্লুকে সমর্থন করে তিনি কয়েকটি প্রশ্ন তোলেন।
রামগোপালের প্রশ্ন কুম্ভমেলা বা ব্রাহ্মোৎসবে যদি কেউ পদপিষ্ট হন, তাহলে কি ঈশ্বরকে গ্রেফতার করা হবে? দ্বিতীয়ত রাজনৈতিক জমায়েতে পদপিষ্ট হয়ে কারও মৃত্যু হলে রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করা হবে তো? চলচ্চিত্র সংক্রান্ত কোনো অনুষ্ঠানে কেউ পদপিষ্ট হলে কি নায়ক-নায়িকা দুজনকেই গ্রেফতার করা হবে? পুলিশ ও আয়োজক ছাড়া আর কে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে!
এর আগে গত শুক্রবার অভিনেতা আল্লু অর্জুনের গ্রেফতার নিয়ে কথা বলেছিলেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতও। তার দাবি, কেউ-ই এ ঘটনার দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না। মান্ডির লোকসভার সংসদ সদস্য বলেছেন, খুব দুঃখজনক ঘটনা। আমি নিজে আল্লু অর্জুনের বড় সমর্থক। কিন্তু এটিও বলবÑ কিছু ক্ষেত্রে আপনার দৃষ্টান্ত তৈরি করা উচিত। তিনি জামিন পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু উচ্চ স্তরের মানুষ বলেই কোনো ফল ভোগ করতে হবে নাÑ এমন যেন না হয়। মানুষের জীবনের কিন্তু দাম দেওয়া যায় না।
গতকাল শনিবার আল্লু বাড়ি ফিরতেই তার সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছে গিয়েছিলেন রানা দগ্গুবতী, নাগা চৈতন্যরা।
উল্লেখ্য, গত ৪ ডিসেম্বর হায়দরাবাদের সন্ধ্যা প্রেক্ষাগৃহে ছিল ‘পুষ্পা ২: দ্য রুল’-এর বিশেষ প্রদর্শন। আল্লু অর্জুন উপস্থিত থাকায় উপচে পড়েছিল ভিড়। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় এক নারীর। ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হয় আল্লুর বিরুদ্ধে এবং গ্রেফতার করা হয় দক্ষিণী অভিনেতাকে। যদিও অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়েছে তাকে।
শুটিং সেটে স্বামী থাকলে কাজ করব না: বিদ্যা
বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালান একটা সময় কাজ ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। অভিনেত্রীর কাজের সময় সিদ্ধার্থ থাকবে না সেটে, তা না হলে সেই কাজ ছেড়ে দেবেন বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। পরে নির্মাতাদের তরফে অভিনেত্রীকে আশ্বস্ত করা হয় যে, শুটিং সেটে সিদ্ধার্থ থাকবেন না।
আনন্দবাজার প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত জীবন ক্যামেরার আড়ালে রাখতেই বেশি পছন্দ করেন অভিনেত্রী বিদ্যা বালান। প্রযোজক সিদ্ধার্থ রায় কাপুরের সঙ্গে দাম্পত্যের এক যুগ কাটিয়ে ফেলেছেন তিনি। বেশ কয়েক বছর প্রেমপর্বের পর ২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সাতপাকে বাঁধা পড়েন দুজনে। পেশাগত দিক থেকে একই ক্ষেত্রে বিচরণ করলেও স্বামীর সঙ্গে কাজ করতে নারাজ অভিনেত্রী। একসময় প্রকাশ্যে এমনই জানিয়েছিলেন বিদ্যা। কিন্তু কেন? এর উত্তরে যে কথা বললেন অভিনেত্রী।
বিদ্যা বালান বলেন, পেশাগত ও ব্যক্তিগত দিক সবসময় পৃথক রাখা উচিত। সম্পর্কে যেমন পেশার প্রভাব পড়া উচিত নয়, ঠিক তেমনই ব্যক্তিগত সমীকরণের জেরে পেশা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মুশকিল। আরও একটি ব্যাখ্যা রয়েছে অভিনেত্রীর। অন্য পরিচালক বা প্রযোজকদের সঙ্গে পেশাদারের মতো করেই মত আদানপ্রদান করতে পারেন বিদ্যা। সে ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অসুবিধা হলে সরাসরি বলতে পারেন। কিন্তু সিদ্ধার্থের সঙ্গে সেই সহজ কথোপকথন হবে না বলেই জানান অভিনেত্রী। সেখানে পেশাদারিত্ব ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত সমীকরণ প্রকট হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থেকেই যায়। বিশেষত পারিশ্রমিক নিয়ে মধ্যস্থতা করতে পারবেন না নিজের স্বামীর সঙ্গে। বিদ্যা বলেন, সিদ্ধার্থের সঙ্গে যেহেতু আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আমার মনে হবে ওর সঙ্গে লড়াই করতে পারি, যা বলছি তা নিয়ে জোর করতে পারব।
এ অভিনেত্রী বলেন, তার ও সিদ্ধার্থের মধ্যে প্রায়ই তর্কবিতর্ক হয়। পেশার কারণে নিজেদের মধ্যে বাড়তি দ্ব›দ্ব তৈরি করতে চান না তিনি। তিনি বলেন, এমনও হয়েছেÑ বাড়িতে অশান্তি এড়াতে কিছু চিত্রনাট্য ছেড়েও দিতে হয়েছে তাদের। ব্যক্তিগত সম্পর্ক তার কাছে মূল্যবান। তাই সচেতনভাবেই স্বামীর সঙ্গে কাজ করা এড়িয়ে যান অভিনেত্রী।
বিদ্যা বালান বলেন, অতীতে ‘ঘনচক্কর’ ছবিতে সিদ্ধার্থের সঙ্গে কাজ করতে হয়েছিল, যে অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর ছিল না। সেই সময় কাজ ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন বলেও জানান অভিনেত্রী। পরে নির্মাতাদের তরফে অভিনেত্রীকে আশ্বস্ত করা হয় যে, বিদ্যার কাজের সময় সিদ্ধার্থ থাকবেন না সেটে।
বদভ্যাস পরিবর্তনে প্রশাসনের কিছু করার থাকে না: কঙ্গনা
সংগীতশিল্পী দিলজিৎ দোসাঞ্জের গানে মদ ও মাদকের ব্যবহার নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে উত্তাল গোটা ভারত। তেলেঙ্গানা ও গুজরাটে এ নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন গায়ক। গানের কথা বদলে অনুষ্ঠান করতে হয়েছে তাকে। এবার গানের কথায় মদ, মাদক বা হিংসার উল্লেখ থাকলে কী করা উচিত, তার উদহারণ দিলেন বিজেপির মান্ডির সংসদ সদস্য ও বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত।
পাঞ্জাবি রকস্টার দিলজিতের গানের ভক্ত ছড়িয়ে আছে বিশ্বজুড়ে। গত কয়েক মাসে তিনি ভারতের বিভিন্ন শহরে গানের অনুষ্ঠান করে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু তেলেঙ্গানা আর গুজরাটে তাকে বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছে। সেই গান খানিক উচ্চকিত বটে। গানের কথায় অনেক সময়ই আবেগের ছোঁয়া ধরা পড়ে। বিশেষত দুটি গান নিয়েই বিতর্কÑ ‘পাঁচ তারা’ আর ‘লেমোনেড’। এই দুটি গানের কথায় মদ ও মদের ঠেকের উল্লেখ রয়েছে। ওই দুটি গানের কথা বদলে গাইতে হয়েছে তাকে। যদিও এর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন দিলজিৎ।
মঞ্চে উঠেই তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন তিনি নিজে মদপান করেন না। এমনকি গানের মাধ্যমে তিনি মদপানবিরোধী প্রচার চালাতেও প্রস্তুত; কিন্তু তার আগে প্রশাসনকে উদ্যোগী হয়ে সব মদের দোকান বন্ধ করে দিতে হবে।
এবার দিলজিতের পাশেই যেন দাঁড়ালেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। এ মান্ডির সংসদ সদস্য বলেন, শৈল্পিক অভিব্যক্তি কারও ধার ধারে না। হিমাচল লোকসংগীতেও এমন অনেক বিষয় রয়েছে। শিল্পের ক্ষেত্রে আবেগটাই বড় বিষয়। কিন্তু যখন মানুষ সেটিকে বদভ্যাসে পরিণত করে ফেলেন, তখন আর প্রশাসনেরও কিছু করার থাকে না। দায়িত্বটা সাধারণ নাগরিকেরও।
স্মার্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশকে দাপট দেখাতে চায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কতটা আগ্রাসী ওয়েস্ট ইন্ডিজ; সেটা কম বেশি সকলেরই জানা। ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলাটায় টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্র্যান্ড। যে কারণে গোটা বিশ্বেই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দলটি। সেই দলটির বিপক্ষেই এবার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টিতে লড়বে বাংলাদেশ। আগামীকাল থেকে শুরু হবে যেই সিরিজ।
তবে ভয়ডরহীন ক্রিকেটে যেমন দাপুটে জয় পাওয়া যায়, তেমনি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার শঙ্কাও থাকে। যেটা ইতোপূর্বে বহুবার ঘটেছে। তাছাড়া সেন্ট ভিনসেন্টের কিংস্টন আর্নেস ভ্যালে গ্রাউন্ডে হতে যাওয়া এই সিরিজের আগে এই মাঠের অতীত পরিসংখ্যান নিয়েও ভাবতে হবে স্বাগতিকদের।
এই মাঠের অতীত পরিসংখ্যান বলছে- এখানে কখনোই খুব বেশি আগ্রাসী ক্রিকেট খেলার সুযোগ নেই। এই মাঠে এখন পর্যন্ত দলীয় সর্বোচ্চ ১৫৯ রান হয়েছে। আর সেই রানটা বাংলাদেশেরই। সবশেষ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাংলাদেশ যা করে। আর এই মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ পুঁজি ১৫২। যে কারণে এই মাঠে ভয়ডরহীন ক্রিকেটের চেয়ে বরং স্মার্ট ক্রিকেটেই বেশি জোর ক্যারিবীয় অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েলের।
প্রথম ম্যাচের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, ‘মূল ব্যাপার হলো ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলা। যখন আমরা ভয়ডরহীন থাকব, কিছুটা স্মার্টনেসও মেশাতে হবে আমাদের। গত ১৫ মাস বা এই সময়ে আমরা বড় পদক্ষেপ নিয়েছি। সেই ধারা আমরা ধরে রাখতে চাই।’
পাওয়েল আরও বলেন, ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ (বছরটি ভালোভাবে শেষ করা)ৃ। টি-টোয়ন্টি ক্রিকেটে এই বছরটি আমাদের জন্য ছিল মিশ্র। কিছু সিরিজ আমরা জিতেছি, কিছু হেরেছি। এই বাংলাদেশ সিরিজ আমাদেরকে সুযোগ করে দিচ্ছে বছরটি ভালোভাবে শেষ করার।’
বাংলাদেশকে দাপট দেখাতে চায় জানিয়ে পাওয়েল বলেন, ‘কোনো দল যখনই ঘরের মাঠে খেলে, সবসময়ই দাপট দেখাতে চায়। আমরা সেই চেষ্টাই করে যাব। আমাদের জন্য ব্যাপারটি হলো ভালো ক্রিকেট খেলা এবং লম্বা সময় ধরে ভালো খেলে যাওয়া।’
এই মাঠে লো স্কোরিং ম্যাচ হলেও এবার ভিন্ন কিছু হবে বলে আশা করছেন পাওয়েল। তার মতে, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি থেকে উইকেট এবার পুরোপুরি ভিন্ন মনে হচ্ছে। আশা করি, কালকেও উইকেট ভালো থাকবে এবং উইকেট ভালো থাকা মানে ভালো ক্রিকেট খেলার সুযোগ। আশা করি, সেন্ট ভিনসেন্টের মানুষ মাঠে এসে আমাদেরকে সমর্থন করবেন সিরিজজুড়েই।’
লিটনের কণ্ঠে টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে সমতা টানতে পারলেও ওয়ানডেতে বাজেভাবে হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। স্বাগতিকদের বিপক্ষে মেহেদী হাসান মিরাজের দল হেরেছে ৩-০ ব্যবধানে। এমন হারের পর আগামীকাল তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। যেখানে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেবেন লিটন দাস।
ওয়ানডেতে হতশ্রী পারফরম্যান্স করলেও দলকে নেতৃত্ব দিতে মুখিয়ে লিটন। হতাশা ভুলে টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক। ম্যাচের আগের দিন বিসিবির প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় সেই প্রত্যয়ের কথায় জানিয়েছেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি সিরিজের সবকটি ম্যাচই হবে সেন্ট ভিনসেন্টে। যেখানে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫৪ রানে অপরাজিত ছিলেন লিটন। যদিও শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে খেলার কঠিন সেই সমীকরণ মেলাতে পারেননি তিনি।
ধীর গতির সেই উইকেটকে এবার কেমন দেখছেন লিটন। যা নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘বিশ্বকাপে যে উইকেট ছিলো আর এখন যে উইকেট আছে তারমধ্যে একটু তফাৎ আছে। গতকাল যখন অনুশীলন করেছি মনে হয়েছে উইকেটটা একইরকম না। তারা হয়তো ভিন্নভাবে বানিয়েছে।’
ম্যাচের আগেরদিন বৃষ্টির কারণে ক্রিকেটাররা মাঠেই নামতে পারেননি। তবে অধিনায়ক লিটনের আশা ক্রিকেটাররা যেহেতু খেলার মধ্যে রয়েছেন কাজেই খুব একটা সমস্যা দেখছেন না তিনি। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজটা যে কঠিন হবে সেটা মানছেন তিনি।
লিটন বলেন, ‘সাধারণত টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো আমাদের জন্য কঠিনই হয়। যেহেতু এটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের হোম গ্রাউন্ডে খেলা হবে, একটু কঠিনই হবে। চেষ্টা করব এখান থেকে কীভাবে বের হয়ে আসা যায় এবং ভালো একটা সিরিজ খেলার জন্য।’
আগামীকাল সেন্ট ভিনসেন্টের কিংস্টন আর্নেস ভ্যালে গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি শুরু হবে ভোর ৬টায়। এরপর ১৮ ও ২০ ডিসেম্বর সিরিজের শেষ দুই ম্যাচ। সেই ম্যাচ দুটিও হবে একই ভেন্যুতে একই সময়ে।
পাকিস্তানের ‘টাওয়ার অব ক্রিকেট’ এর অবসর
আনপ্রেডিক্টেবল শব্দটা পাকিস্তান ক্রিকেটের সঙ্গে জুড়ে আছে লম্বা সময় ধরেই। মাঠের ক্রিকেটে যেমন এর মিল পাওয়া যায় তেমনি মাঠের বাইরেও এমনটি দেখা যায় হরহামেশায়। কে কখন বোর্ড প্রধান হচ্ছে, কোচ, নির্বাচক, অধিনায়ক, কিংবা অবসর বলছে বা ভাঙছে তা আগে থেকেই অনুমান করা কঠিন।
এবার পাকিস্তানে লেগেছে অবসর বলার হিড়িক। গত ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে তৃতীয় ক্রিকেটারের অবসরের ঘটনা ঘটেছে পাকিস্তানে। মোহাম্মদ ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ আমিরের পর এবার অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ‘টাওয়ার অব ক্রিকেট’ খ্যাত দেশটির সবচেয়ে লম্বা ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইরফান।
শুক্রবার বিকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দ্বিতীয়বারের মতো অবসরের ঘোষণা দেন পাকিস্তানের স্পিন অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিম। গতকাল শনিবার সকালে ইমাদের পথ অনুসরণ করেছেন তারকা ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ আমির। তিনিও জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দ্বিতীয়বারের মতো। আর আজ অবসর ঘোষণা দিলেন ৪২ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার ইরফান। তিনি অবশ্য এবারই প্রথমবার অবসরের ঘোষণা দিলেন।
পেস বোলার হিসেবে নিজের উচ্চতার কারণে আলাদাভাবে পরিচিতি পেয়েছিলেন ইরফান। ৭ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার এই বোলারই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা খেলোয়াড়। যে কারণে তাকে ‘টাওয়ার অব ক্রিকেট’ নামেও ডাকা হতো। সেই তিনি ক্যারিয়ারে শেষবার খেলেছিলেন ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
নিজের অবসর বার্তায় দীর্ঘদেহী এই পেসার লিখেছেন, ‘আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আমার সতীর্থ ও কোচদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমার প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, উৎসাহিত করেছেন এবং অবিস্মরণীয় স্মৃতি তৈরি করেছেন, সে জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। যে খেলাটি আমাকে সবকিছু দিয়েছে, আমি তাকে সমর্থন করে যাব এবং উদযাপন করব।’
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৮৬ ম্যাচ খেলেছেন ইরফান। উইকেট নিয়েছেন ১০৯টি।
শ্রীলংকাকে উড়িয়ে নবম বাংলাদেশ
ওমানের মাস্কাটে অনুষ্ঠিত স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শনিবার শ্রীলংকাকে ৮-০ গোলে হারিয়ে নারী হকি জুনিয়র এশিয়া কাপে বাংলাদেশ নারী হকি দল নবম স্থান অর্জন করেছে।
মেয়েদের জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে টানা চার ম্যাচে হারার পর বাংলাদেশ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায়। রিয়া আরলিনের হ্যাটট্রিকসহ চার গোলের সুবাদে শ্রীলংকাকে ৮-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে নবম হয়েছে বাংলাদেশ।
একচেটিয়া খেলায় লংকানরা উড়ে যায়। রিয়া আরলিনের চার গোল ছাড়াও ফাতেমাতুজ্জোহরা, অর্পিতা পাল, নাদিরা ইমা ও সোনিয়া খাতুন একটি করে গোল করেন। এই জয়ে নবম হয়ে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ।
এর আগে, হকি জুনিয়র এশিয়া কাপ অভিযানে গ্রুপ এ ম্যাচে শক্তিশালী চীনের কাছে বাংলাদেশ হারে ১৯-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে। এরপর দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে ভারতের কাছে ১৩-১ গোলে হারে বাংলাদেশ। এরপর থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলে হারের পর মালয়েশিয়ার কাছে হারে ৬-১ ব্যবধানে।


