Home Blog Page 521

লক্ষ্য ভিন্ন হলে দু’দিন পরে ছিটকে পড়ে যাবেন : নেতাকর্মীদের তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নেতাকর্মীদের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ মানুষের সমর্থন, আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করা। যদি লক্ষ্য অন্যকিছু হয়ে থাকে, তবে দু’দিন পরে ছিটকে পড়ে যাবেন। জনগণের সমর্থন থেকে ছিটকে পড়বেন। তাদের আস্থা থেকে দূরে সরে যাবেন।

রোববার রাজধানী বড়ুয়া আলাউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ময়দানে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের দল থেকে ছিল ২৭ দফা, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দল থেকে মতামত নিয়ে আমরা ৩১ দফা দিয়েছি। দেশকে কিভাবে পুনর্গঠন করতে চায় বিএনপি তারই সংস্কার হিসেবে ৩১ দফা প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এই ৩১ দফা শুধু বিএনপির কর্মীদের জন্য নয়, রাজনৈতিক দলের জন্য নয়, এটি জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। তাদের জানাতে হবে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী কী করতে চায়। প্রতিটি জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। যদি কারো ৩১ দফার কোনো পয়েন্টের আপত্তি থাকে বা থাকতেই পারে, সেগুলো জানালে বিবেচনা করে আমরা কাজ করতে পারি।

তিনি বলেন, বিএনপির ওপর জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হবে দলের কর্মীদের। জনগণের সমর্থনকে যেকোনোভাবে অর্থাৎ ইতিবাচকভাবে বিএনপির পক্ষে রাখতে হবে। জনগণ যেভাবে বলবে সেভাবেই পরিচালিত হতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের জনগণের আস্থা ও সম্মান এবং সমর্থন ধরে রেখতে কাজ করতে হবে। জান-প্রাণ দিয়ে জনগণের আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা ধরে রাখতে হবে।

বাংলাদেশ নিয়ে অপপ্রচার বন্ধে ফেসবুকের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

বাংলাদেশ নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার ঠেকাতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ মেটার সহযোগিতা চেয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার মেটার মানবাধিকার নীতি বিষয়ক পরিচালক মিরান্ডা সিসন্স প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করলে এ আহ্বান জানান অধ্যাপক ইউনূস।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ব্যাপক হারে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চলছে এবং আমরা (বাংলাদেশ) এর ভুক্তভোগী।’

‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের অর্জনকে নস্যাৎ করতে কিছু দেশ থেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মেটা পরিচালক সিসন্স প্রধান উপদেষ্টাকে মেটা’র মানবাধিকার নীতি ব্যাখ্যা করে বলেন, তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কেউ যেন বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে সেজন্য তারা সতর্ক থাকেন।

এ সময় তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য প্রযুক্তিকে আরো সহজ করতে মেটা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘ফেসবুকের কারণে আপনাদের সম্ভাবনা প্রচুর। তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ফেসবুক ব্যবহার করা যেতে পারে। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার ফেসবুকের সাথে যুক্ত থাকবে।’

সূত্র : বিবিসি

জি এম কাদেরকে গ্রেফতারে আইনি নোটিশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সংঘটিত হত্যা মামলার আসামি জি এম কাদেরসহ ঘটনায় সম্পৃক্ত তার অনুসারীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এক আইনজীবী।

রোববার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশের আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার, মিরপুর জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) ও মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এ নোটিশ পাঠান ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী মো: সফিকুল ইসলাম সবুজ খান।

নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে তাদের গ্রেফতারে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে, অন্যথায় আইনগত সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

আইনি নোটিশে বলা হয়, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেলেও জাতীয় পার্টি সদস্যদের ও শেখ হাসিনার নামে অসংখ্য হত্যা মামলা হয়। তবে জাতীয় পার্টি কৌশল অবলম্বন করে গ্রেফতার এড়িয়ে যায়।

কিন্তু বিগত আমলগুলো দেখলে ও বিগত হাসিনা সরকারের শাসনামল দেখলে লক্ষ্য করা যায়, ২০১৪ সাল, ২০১৮ সাল ও সর্বশেষ ২০২৪ সালে স্বৈরাচারী সরকারের যতগুলো নির্বাচন হয়েছে সবগুলো নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কারণেই শেখ হাসিনা একদলীয় নির্বাচন করেছে। জাতীয় পার্টির ওপর ভর করে শেখ হাসিনা জনগণের দিনের ভোট রাতে দিয়েছে এবং ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছে।

শুধু তথাকথিত বিরোধী দল থাকার জন্য স্বৈরাচারের সুরের সাথে সুর মিলিয়ে অবাধ লুটপাট করেছে। তাই সব অপরাধের দায় তাদেরও নিতে হবে বলে এতে বলা হয়।

নোটিশে আরো বলা হয়, শেখ হাসিনাকে দিয়ে তারা ক্ষমতায় থাকার জন্য একতরফা নির্বাচন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও আওয়ামী লীগের এমপি, মন্ত্রীরা হত্যা মামলার আসামি হয়ে জেলে গেলেও জাতীয় পার্টি অনুতপ্ত না হয়ে উল্টো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং শেখ হাসিনাকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র করছে।

আইন সবার জন্য সমান হলেও জাতীয় পার্টির দুর্নীতিবাজ এমপি-মন্ত্রীদের তা এড়ানোর সুযোগ তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। ১৪ দলের নেতারা হত্যা মামলায় গ্রেফতার হলেও জিএম কাদেরসহ তার অনুসারীদের আইনের আওতায় নিয়ে না আসায় জুলাইয়ের ছাত্র-জনতা মর্মাহত।

জি এম কাদের মিরপুর মডেল থানার এজাহারনামীয় আসামি। অথচ তাকে এই মামলার আসামির চোখে দেখা হচ্ছে না। দ্রুত হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেফতার করে শহীদদের রুহের প্রতি সুবিচার করার অনুরোধ জানান তিনি।
সূত্র : বাসস

সিরিয়ার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইসরাইল

সিরিয়ার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে দামেস্কের সামরিক বিমানবন্দরগুলোতে হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। রোববার (৮ ডিসেম্বর) কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এছাড়া সিরিয়ার পতিত সরকারের অস্ত্র ডিপোতেও হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। তারা জানিয়েছে, বিদ্রোহীরা যেন ওই পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারে এবং ওসবের নিয়ন্ত্রণ না নিতে পারে, সেজন্য এই হামলা চালানো হয়।

এদিকে, সিরিয়াগামী একটি কাফেলায়ও তারা হামলা করেছে ইসরাইল। ধারণা করা হচ্ছে, সেটি হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের কাফেলা ছিল।

সূত্রটি আরো জানিয়েছে, ওই কাফেলায় অন্তত ১০০টি গাড়ি ছিল। যার মধ্যে কিছু সাঁজোয়া যানও ছিল।

সূত্র : আল জাজিরা

ভারতকে বিধ্বস্ত করে শিরোপা জয় বাংলাদেশের

০

সিংহাসন ধরে রাখলো খুদে বাঘেরা। হাতছাড়া করেনি এশিয়া কাপ শিরোপা। শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট নিজেদের শিরেই রেখে দিল তারা। ভারতকে হারিয়ে করেছে স্বপ্নপূরণ, আরো একবার লাল-সবুজের এই দেশ চ্যাম্পিয়ন।

রোববার শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশের যুবারা। দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার অনুর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপের শিরোপা জিতলো তারা। আজিজুলদের জয় ৫৯ রানে।

অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে আজ (রোববার) ভারতীয় যুবাদের মুখোমুখি হয় জুনিয়র টাইগাররা। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে অবশ্য খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। গুটিয়ে যায় ৪৯ দশমিক ১ ওভারে ১৯৮ রানে।

ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনের সামনে লক্ষ্যটাকে মামুলি মনে হচ্ছিল। সেই লক্ষ্যই অবশ্য একটা সময় পাহাড়সম হয়ে উঠে আসরের রেকর্ড চ্যাম্পিয়নদের সামনে। শেষ পর্যন্ত তারা গুটিয়ে যায় ৩৫ দশমিক ২ ওভারে ১৩৯ রানে।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ৪ রানে প্রথম উইকেট হারায় ভারত। মাত্র ১ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন আয়ুশ মাত্রে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা আরেক ওপেনার বৈভব সুরিয়াবংশিকে মাত্র ৯ রানেই থামান মারুফ মৃধা।

ভারত তৃতীয় উইকেট হারায় দলীয় ৪৪ রানে। আন্দ্রে সিদ্ধার্থ ফেরেন ২০ রান করে। চতুর্থ উইকেটে ২৯ রানের জুটি গড়েন কার্তিকেয়া ও মোহাম্মদ আরমান। ৪৩ বলে ২১ রান করে ইমনের শিকার হয়ে ফেরেন কার্তিকেয়া।

এরপর হঠাৎ করেই ব্যাটিং ধ্স হয় ভারতের। আর ভারতকে সেই বিপর্যয়ে পড়তে বাধ্য করেন ইমন। একই ওভারে নিখিল কুমারকেও (০) ফেরান তিনি। পরের ওভারে এসে হারভানশ পাঙ্গালিয়াকেও ফেরান এই পেসার।

মাত্র ৮ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট নিয়ে ভারতের ব্যাটিং লাইনের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন ইমন। ৮১ রানে ৬ উইকেট হারানো ভারত যখন ৯২ রানে পৌঁছায়, তখন আঘাত হানেন ফাহাদ। কিরান করমালেকে ফিরিয়ে সপ্তম উইকেট তুলে নেন তিনি।

তবে বাংলাদেশের গলার কাঁটা হয়ে ছিলেন তখনো মোহাম্মদ আমান। ভারতীয় অধিনায়ক চেষ্টা করেন বিপর্যয় সামলে এগিয়ে যেতে। ২৪ রান যোগ করেন হার্দিক রাজকে নিয়ে ৮ম উইকেটে।

তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক আজিজুল এসে থামান আমানকে। ৬৫ বলে ২৬ রান করা এই ব্যাটারের স্ট্যাম্প ভেঙে দেন তিনি। আমান ফিরলে খানিকটা চেষ্টা করেন হার্দিকও (২৪)। তবে তাকেও থামতে হয় আজিজুলের শিকার হয়ে।

এরপর চেতন শর্মাকে ফিরিয়ে জয় নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনি ও ইমন নেন তিনটি করে উইকেট। জোড়া উইকেট নেন আল ফাহাদ। তাতে আটবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত প্রথমবারের মতো পায় ফাইনালে হারের স্বাদ।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় যুবারা। ৬ দশমিক ১ ওভারে মাত্র ১৭ রানে হারায় ছন্দে থাকা কালাম সিদ্দিকীকে। ১৬ বলে মাত্র ১ রানে আউট হন তিনি। আরেক ওপেনার জাওয়াদ আবরারও ইনিংস বড় করতে পারেননি।

ইনিংস বড় হয়নি আসরের এখন পর্যন্ত সেরা ব্যাটার অধিনায়ক আজিজুল হাকিমের। জাওয়াদ ২০ ও আজিজুল ফেরেন ১৬ রানে। ১৯ ওভারে ৬৬ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ দল।

সেখান থেকে শিহাব জেমস ও রিজান হোসেন মিলে ধরেন দলের হাল। যুগলবন্দীতে যোগ করেন ৮০ বলে ৬২ রান। যখন মনে হচ্ছিলো হয়তো ভালো কিছু হতে যাচ্ছে, তখনই ভাঙে জুটি। শিহাব ফেরেন ৬৭ বলে ৪০ রানে।

দ্রুত দেবাশীষ সরকারকেও (১) হারায় দল। বড় ধাক্কা আসে ৩৮তম ওভারের শেষ বলে রিজান ফিরলে। ৬৫ বলে ৪৭ রান করেন তিনি। ৪১ ও ৪২তম ওভারে শেষ দুই বলে ফেরেন রাতুল (৪) ও ফাহাদ (১)। স্কোর ১৬৭/৮।

সেখান থেকে দুই শ’র কাছাকাছি পৌঁছায় ফয়সালের সৌজন্যে। একপ্রান্ত আগলে ৪৯ বলে ৩৯ রান করেন তিনি। ১৯ বলে ১১ রানে অপরাজিত থাকেন মারুফ। হার্দিক রাজ, চেতন শর্মা ও গোহ নেন জোড়া উইকেট।

এর আগে ২০২৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে স্বাগতিক আরব আমিরাতকে ১৯৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মত শিরোপা জিতেছিলো বাংলাদেশ।

তবে ২০১৯ সালের আসরে ফাইনালে উঠলেও ভারতের কাছে ৫ রানে হেরেছিলো বাংলাদেশ। এবার ২০১৯ সালে ফাইনালে হারের বদলা নেওয়ার পালা হাকিম-ইমনদের।

আসাদের পতনের নায়ক কে এই জোলানি

সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)। এইচটিএসের প্রধান আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি।

রোববার এইচটিএস এক বিবৃতিতে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের ঘোষণা দেয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জালিম শাসক বাশার আল-আসাদ দেশ থেকে পালিয়েছেন। সিরিয়া এখন মুক্ত। এর মধ্য দিয়ে এক অন্ধকার যুগের সমাপ্তি ঘটল। আর সূচনা হলো এক নতুন যুগের।

বাশার আল-আসাদের দেশ থেকে পালানো, তার টানা দুই যুগের সরকারের পতনের পরিপ্রেক্ষিতে এইচটিএসের প্রধান জোলানিকে নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ‘সবচেয়ে কার্যকর’ ভূমিকা পালন করেছে এইচটিএস ও এর প্রধান জোলানি।

এইচটিএসের ঘোষিত লক্ষ্যই ছিল বাশার আল-আসাদের স্বৈরাচারী শাসন থেকে সিরিয়াকে মুক্ত করা। এইচটিএস আজ এই লক্ষ্য অর্জনের ঘোষণা দিল।

রোববার বিদ্রোহীরা দামেস্কে প্রবেশ করার সাথে সাথে জোলানি রাজধানীতে সমস্ত সামরিক বাহিনীকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

জোলানি ১৯৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দামেস্কের একটি অভিজাত এলাকা মাজেহে বেড়ে ওঠেন। জোলানি একটি সচ্ছল পরিবার থেকে এসেছেন এবং ভাল ছাত্র ছিলেন।

তার আসল নাম আহমেদ আল-শারা। তিনি ২০২১ সালে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম পিবিএসকে বলেন যে তার গৃহীত নাম আল-জোলানি, গোলান (জোলান) হাইটসে তার পরিবারের শিকড়ের স্মারক। তিনি জানান, ১৯৬৭ সালে এই অঞ্চলটি ইসরাইল সংযুক্ত করে নেয়ার তার দাদাকে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়।

দামেস্কে থাকাকালে জোলানি ঠিক কী করতেন, তা জানা যায়নি। মিডলইস্ট আই নিউজ ওয়েবসাইট জানায়, ২০০১ সালের নাইন-ইলেভেনের পর জোলানি প্রথম জিহাদি চিন্তাধারার দিকে আকৃষ্ট হন। ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের পর তিনি যুদ্ধে অংশ নিতে সিরিয়া ত্যাগ করেন। তিনি আবু মুসাব আল-জারকাভির নেতৃত্বে ইরাকে আল-কায়েদায় যোগদান করেন ২০০৬ সালে জোলানি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হাতে গ্রেফতার হন। তাকে পাঁচ বছর আটক রাখা হয়।

গণতন্ত্রের দাবিতে ২০১১ সালে সিরিয়ায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ দমনে বাশার আল-আসাদ সহিংসতার পথ বেছে নেন। এর জেরে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।

জোলানি দেশে ফিরে আসেন এবং আল-কায়েদার সিরিয়ার শাখা আল-নুসরা ফ্রন্ট প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৩ সালে তিনি ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর আমির আবু বকর আল-বাগদাদির আনুগত্য অস্বীকার করে আল-কায়েদার আইমান আল-জাওয়াহিরির প্রতি আনুগত্যের শপথ নেন।

এক সময় জোলানির মধ্যে পরিবর্তন আসে। তিনি আল-কায়েদার মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোয় ‘বিশ্বব্যাপী খেলাফত’ প্রতিষ্ঠার প্রকল্প থেকে সরে আসেন। এমন কিছুর পরিবর্তে সিরিয়া সীমান্তের ভেতরে নিজের গোষ্ঠীর তৎপরতা সীমাবদ্ধ করেন জোলানি।

জোলানি ২০১৫ সালের মে মাসে বলেছিলেন যে আইএসের বিপরীতে তার পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর কোনো ইচ্ছা নেই। তিনি আরো ঘোষণা করেছিলেন যে আসাদ পরাজিত হলে সংখ্যালঘু আলাভিদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধমূলক আক্রমণ হবে না।

জোলানির এ পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। তারা মনে করেন, এর মধ্য দিয়ে জোলানির গোষ্ঠীটি বহুজাতিক বা আন্তদেশীয় গোষ্ঠীর বদলে একটি জাতীয় গোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভূত হয়।

২০১৬ সালের জুলাইয়ে বাশার সরকার আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ নেয়। তখন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ইদলিবের দিকে চলে যায়। সিরিয়ার এ অঞ্চল তখনো বিদ্রোহীদের দখলে। এবছর জোলানি প্রকাশ্যে আল-কায়েদার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি আল-নুসরা বিলুপ্ত করেন। গঠন করেন নতুন সংগঠন জাভাত ফাতেহ আল-শাম।

২০১৭ সালের শুরুর দিকে আলেপ্পো থেকে হাজার হাজার যোদ্ধা ইদলিবে পালিয়ে আসেন। এ সময়ে বিদ্রোহীদের ছোট ছোট অনেক গোষ্ঠী ও নিজের জাভাত ফাতেহ আল-শাম নিয়ে এইচটিএস গঠন করেন জোলানি।

তিনি এই সপ্তাহের শুরুর দিকে বলেছিলেন যে তার আক্রমণের উদ্দেশ্য হলো আসাদকে উৎখাত করা।

জোলানি এখন স্পটলাইটে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক মিডিয়াকে সাক্ষাৎকার বিবৃতি ও দিচ্ছেন। সারা বিশ্বের সিরীয়রা ভবিষ্যতে কী হতে পারে তার ইঙ্গিত পেতে তার বক্তব্য শোনার জন্য সারাক্ষণ মোবাইলফোনের দিকে তাকিয়ে আছেন।

সূত্র : বাসস

নির্বাচনের আগে বড় ধরনের সংস্কারের কথা পুনর্ব্যক্ত করলেন ড. ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল সংস্কার এবং তার সরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের আগে বড় ধরনের সংস্কার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রোববার (৮ ডিসেম্বর) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের উপদেষ্টা এবং ইউএনডিপির সাবেক প্রধান লর্ড মার্ক মালক-ব্রাউনের সাথে সাক্ষাৎকালে এ অঙ্গীকার পূনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এক ঘণ্টার এ বৈঠকে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান, উন্নয়নমূলক বিষয়াদি, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগ, ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক ব্যবসা ও ক্ষুদ্রঋণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার প্রক্রিয়ার সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। শেখ হাসিনার একনায়কতন্ত্রের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন করতে এ পর্যন্ত ১৫টি সংস্কার কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য এ সময় অধ্যাপক ইউনূসকে ধন্যবাদ জানান লর্ড মালক-ব্রাউন।

বাংলাদেশি জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারলে তিনি আনন্দিত হবেন বলে জানান।

লর্ড মালক-ব্রাউনের সমর্থনের জন্য ড. ইউনূস তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা মেটানো সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।

এ সময় উন্নয়নকর্মী মার্থা চেন, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : ইউএনবি

হাসিনাকে কখন ফেরত চাওয়া হবে জানালেন প্রেস সচিব

ভারতের সাথে প্রত্যার্পণ চুক্তি অনুযায়ী কিছু আইনি প্রক্রিয়ার পর শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

রোববার সন্ধ্যায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন।

শফিকুল আলম বলেন, ‘শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে আমাদের সরকারের অবস্থান খুব স্পষ্ট। আমরা তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের সম্মুখীন করতে চাই। যে গণহত্যা হলো, জুলাই-আগস্টে যে ১ হাজার ৫০০ মানুষকে হত্যা করা হলো, এর নির্দেশদাতা তিনি।’

তিনি বলেন, ‘এর আগে যত গুম হয়েছে, তিনি তো সরকার প্রধান ছিলেন। প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার করে পাচার হয়েছে, যা দেশের জনগণের টাকা। এটা চুরি করে বাইরে চলে গেছে। এসবের জন্য তাকে আইনের আওতায় আনা আমাদের প্রতিশ্রুতি।’

শফিকুল আলম আরো বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে, যেহেতু ভারতের সাথে আমাদের একটা প্রত্যার্পণ চুক্তি আছে, সেই চুক্তি অনুযায়ী কিছু আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রত্যার্পণের জন্য চাওয়া যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সেই প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করছি। এটা শেষ করে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে তার প্রত্যার্পণ চাইব।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, ‘ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে আমরা আশাবাদী। বাংলাদেশ ভারতের সাথে ‘ন্যায় ও মর্যাদার’ সম্পর্ক চায়।’

ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করব।’
সূত্র : বাসস

ওয়ানডে সিরিজ: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়ের মিশনে বাংলাদেশ

০

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়ের ধারাবাকিতা অব্যাহত রাখার লক্ষ্য নিয়ে আজ রোববার (৮ ডিসেম্বর) তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ চার ওয়ানডে সিরিজেই জয় পেয়েছে টাইগাররা।

সেন্ট কিটসের বাসেটেরের ওয়ার্নার পার্কে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে।

টেস্ট সিরিজ দিয়ে এাবরের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শুরু করে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্ট হারলেও, দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে টাইগাররা। ২০০৯ সালের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।

তবে পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওয়ানডে ফরম্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আধিপত্য বিস্তার করে খেলে বাংলাদেশ। সর্বশেষ চারটি দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজের সবগুলোতেই জিতেছে বাংলাদেশ। দু’টি ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে এবং দু’টি ঘরের মাঠে। এরমধ্যে শেষ দুই সিরিজে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। ২০২১ সালে ঘরের মাঠে এবং ২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিলো টাইগাররা।

সর্বশেষ ২০১৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করেছিলো ক্যারিবীয়রা। এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ জিততে না পারার বন্ধ্যাত্ব ঘোচানোর চ্যালেঞ্জ ওয়েস্ট ইন্ডিজের।

এখন পর্যন্ত ওয়ানডে ফরম্যাটে ৪৪ বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরমধ্যে ২১টি করে ম্যাচ জিতেছে দু’দল। বাকি দু’টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়।

এবার সিরিজের প্রথম ম্যাচটি দু’দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ ম্যাচ জিতলেই মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে যাবে বিজয়ী দল।

জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড ছাড়া টেস্ট দলগুলোর কারো বিপক্ষেই মুখোমুখি লড়াইয়ে জয়ের দিকে এগিয়ে নেই বাংলাদেশ।

আজ ম্যাচ জিততে পারলে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলুড়ে কোন দলের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের স্বাদ পাবে টাইগাররা।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজকে আগামী বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রস্তুতি মঞ্চ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে এটিই শেষ ওয়ানডে সিরিজ টাইগারদের। এই সিরিজ দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য নিজেদের সেরা দল খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে তারা।

বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ বলেন, ‘আমাদের সামনে একটি ওয়ানডে সিরিজ আছে। এটি এমন একটি ফরম্যাট, যেটাতে আমরা খেলতে পছন্দ করি। এই মুহূর্তে আমাদের ভালো পেস বোলার আছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গণে কিভাবে উন্নতি করা যায়, সেটি নিয়ে আমরা ভাবি। আমরাও ভুল করি, কিন্তু আমরা সেখান থেকেই শিক্ষা নেই।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে কুঁচকির ইনজুরিতে পড়েন নিয়মিত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে না পারায় বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিবেন মিরাজ। ইনজুরির কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে নেই অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম এবং মিডল অর্ডার ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়।

দলের প্রথম সারির কিছু খেলোয়াড়দের ছাড়াই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে টেস্ট সিরিজ সমতায় শেষ করায় উজ্জীবিত বাংলাদেশ। তাই পছন্দের ওয়ানডে ফরম্যাটে ভালো করতে আত্মবিশ্বাসী টাইগাররা।

বাংলাদেশ দল : মেহেদি হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), লিটন কুমার দাস (উইকেটরক্ষক), তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, পারভেজ হোসেন ইমন, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, জাকের আলী অনিক, আফিফ হোসেন ধ্রুব, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব ও নাহিদ রানা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল : শাই হোপ (অধিনায়ক), ব্রান্ডন কিং (সহ-অধিনায়ক), কেসি কার্টি, রোস্টন চেজ, জাস্টিন গ্রেভস, শিমরন হেটমায়ার, আমির জাঙ্গো, আলজারি জোসেফ, মার্কিনো মিন্ডলি, জেডিয়া ব্লেডস, এভিন লুইস, গুডাকেশ মোটি, শেরফানে রাদারফোর্ড, জেইডেন সিলেস ও রোমারিও শেফার্ড।

সূত্র : বাসস

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ঘেরাওয়ের ঘোষণা আরএসএসের

০

এবার দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘসহ (আরএসএস) দুই শতাধিক সংগঠন। আগামী ১০ ডিসেম্বর এই ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’–এর (এফওসি) বৈঠকে যোগ দিতে বিক্রম মিশ্রি ঢাকা যাচ্ছেন ৯ ডিসেম্বর। এর এক দিন পরই ১০ ডিসেম্বর ‘সিভিল সোসাইটি অব দিল্লি’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে বাংলাদেশ হাইকমিশন ঘেরাও করবে বলে জানানো হয়েছে।

দিল্লি নাগরিক সমাজের ব্যানারে বাংলাদেশ হাইকমিশন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি নেয়া হলেও উদ্যোগটা প্রধানত আরএসএসের। আরএসএসের দিল্লি শাখার গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনার সহপ্রধান রজনীশ জিন্দাল গতকাল শুক্রবার দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, নাগরিক সমাজের এই কর্মসূচি ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস হিসেবে পালিত হয়।

রজনীশ অভিযোগ তুলে বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুসহ সব সংখ্যালঘুর ওপর অত্যাচারের ঘটনায় সারা ভারত ক্ষুব্ধ। ওই কর্মসূচিতে দেশের ২০০টির বেশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনে তাঁরা এক স্মারকলিপি পেশ করবেন।

স্মারকলিপি দেবেন জাতিসঙ্ঘ, জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের কাছেও। প্রত্যেককে বলা হবে, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার বন্ধে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

এই কর্মসূচি ঘোষণা নিশ্চিতভাবেই ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের সফরের ওপর ছায়া ফেলবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র অনুযায়ী, বিক্রম মিশ্রির ঢাকা সফর ‘স্ট্রাকচার্ড’ হলেও ওই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক করে তোলার পাশাপাশি সংখ্যালঘু স্বার্থ ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কাজেই ভারত চাইবে না, এমন কিছু হোক, যা পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তোলে। নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়।