Home Blog Page 522

সেমির রেসে টিকে থাকার ম্যাচে রাতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রæপপর্বে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। শারজায় ম্যাচটি মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়। সেমির রেসে টিকে থাকতে যেখানে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের।
এর আগে গ্রæপপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬ রানের জয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে বাংলাদেশ। এরপর সুযোগ তৈরি হয়েছিল শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে হারানোর। তবে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত সেটি সম্ভব হয়নি। ইংল্যান্ডকে ১১৮ রানে থামানোর পরও বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছে ২১ রানের ব্যবধানে। তাতে কঠিন হয়ে গেছে বাংলাদেশের সেমির রাস্তা।
সেই কঠিন রাস্তা সহজ হতে পারে আজ নিগার সুলতানা জ্যোতির দল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দিলে। কেননা, গ্রæপপর্বে এরপর শেষ ম্যাচে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামতে হবে বাংলাদেশকে। যেখানে মেলাতে হবে অনেক সমীকরণ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অবশ্য এখনও টি-টোয়েন্টিতে কোনো জয় নেই বাংলাদেশের। আগের তিনবারের দেখায় একবারও জয় পায়নি বাংলাদেশ। তিনবারই হেরেছে বড় ব্যবধানে। তবে এবার জ্যোতিরা চায় ভিন্ন গল্প লিখতে। সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে সেমির রাস্তা পরিষ্কার করতে।

সাকিব কেন রাজনীতিতে জড়ালেন, জানালেন আসল কারণ

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই মাস পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন। সেই সঙ্গে রাজনীতি আসার বিষয়টিও তিনি পরিষ্কার করেছেন। বুধবার রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে আন্দোলনে সরব উপস্থিত না থাকতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ না হতেই রাজনীতিতে প্রবেশ করাতে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হন তিনি। অনেকে প্রশ্ন তোলেন সাকিব কেন রাজনীতিতে যোগ দিলেন? তার উদ্দেশ্য কি? এ বিষয়টি নিয়ে এতদিন চুপ থাকলেও এবার রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আসল কারণ জানিয়েছেন সাকিব নিজেই।
রাজনীতিতে জড়ানোর ব্যাখ্যায় সাকিব বলেন, আমি খুবই স্বল্প সময়ের জন্য মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলাম। আমার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়াটা ছিল মূলত আমার জন্মস্থান অর্থাৎ আমার মাগুরার মানুষের উন্নয়নের জন্য সুযোগ পাওয়া। আপনারা জানেন যে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্দিষ্ট কোনো দায়িত্ব ছাড়া নিজের এলাকার উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখাটা একটু কঠিন। আর আমার এই এলাকার উন্নয়ন করতে চাওয়া আমাকে সংসদ সদস্য হতে আগ্রহী করে। যাই হোক দিনশেষে আমার পরিচয় আমি একজন বাংলাদেশের ক্রিকেটার। আমি যখন যেখানে যে অবস্থাতেই থেকেছি অন্তর থেকে ক্রিকেটকেই ধারণ করেছি।
তিনি আরও লিখেছেন- এই ক্রিকেটকে ধারণ করে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের সম্মান অর্জন করার পথে এগিয়ে নিয়ে গেছেন আপনারা। আপনাদের ভালোবাসা এবং সমর্থন আমাকে আজকের সাকিব আল হাসান বানিয়েছে। আমি যখন দেশের জন্য ক্রিকেটের মাঠে ব্যাট ধরেছি তখন আমার সাথে ব্যাট ধরেছেন আপনারা সবাই। গ্যালারি থেকে আপনাদের চিৎকার, আপনাদের সমর্থন আমাকে ভালো খেলার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। ক্রিকেট ম্যাচের দিন চায়ের দোকানে টেলিভিশনের সামনে উপচেপড়া ভিড় আমাকে শক্তি জুগিয়েছে। আমি জিতলে আপনারা সবাই জিতেছেন। আমি হেরে গেলে হেরে গেছেন আপনারা সবাই।
দেশের মাটিতে সাদা পোশাকে শেষ ম্যাচ খেলার আকুতি জানিয়ে সাকিব বলেন, আপনারা জানেন, খুব শীঘ্রই আমি আমার শেষ ম্যাচটি খেলতে যাচ্ছি। আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরু থেকে আজকের সাকিব আল হাসান হয়ে ওঠা পর্যন্ত এই পুরো জার্নিটাকে ড্রাইভ করেছেন আপনারা। ক্রিকেটের এই গোটা গল্পটা আপনাদের হাতেই লেখা! তাই আমার শেষ ম্যাচে, এই গল্পের শেষ অধ্যায়ে, আমি আপনাদের পাশে চাই। আমি আপনাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বিদায় নিতে চাই। বিদায় বেলায় সেই মানুষগুলোর হাতে হাত রাখতে চাই, যাদের হাতের তালি আমার ভালো খেলতে বাধ্য করেছে। বিদায় বেলায় সেই মানুষগুলোর চোখে চোখ রাখতে চাই, আমার ভালো খেলায় যাদের চোখ আনন্দে উচ্ছ¡সিত হয়েছে। আবার আমার খারাপ খেলায় যাদের চোখ ছলছল করেছে।
আমি আশা করি, শুধু আশা না বিশ্বাস করিÑএই বিদায় বেলায় আপনারা সবাই আমার সঙ্গে থাকবেন। সবাই সঙ্গে থেকে সেই গল্পের ইতি টানবেন, যে গল্পের নায়ক আমি নই, আপনারা!

রতন টাটার পরলোকগমন, বিরাট সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী হবেন কে?

ভারতের প্রখ্যাত শিল্পপতি রতন টাটা পরলোকগমন করেছেন। বয়সজনিত সমস্যা নিয়ে মুম্বইয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। বুধবার রাতে সেখানে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

রোববার রাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর মিলেছিল যে রতন টাটাকে মুম্বইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আরো দাবি করা হয়েছিল, আচমকা তার শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়েছে।

কিন্তু সোমবার সকালেই সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে শিল্পপতি নিজেই জানিয়েছিলেন, সব খবর ভুয়া। বরং বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যার কারণে নিয়মমাফিক চেক-আপের জন্যই হাসপাতালে গিয়েছিলেন তিনি। এর পর বুধবার রাতে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল।

১৯৩৭ সালে জন্ম। দীর্ঘ জীবনকালে শিল্পপতি হিসেবে একের পর এক নজির গড়েছেন। ঝুলিতে এসেছে পদ্মভূষণ এবং পদ্মবিভূষণ। তথ্য বলছে, তিনি রেখে গেলেন ৩৮০০ কোটি ভারতীয় টাকার (রুপি) সম্পত্তি। তার পরলোকগমনে এই বিরাট সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার কে হবেন? জল্পনা তা নিয়েও।

এই বিষয়ে বেশ কয়েকটি নাম উঠে আসছে –

অন্যতম নাম হলো নোয়েল টাটা। তিনি নেভাল টাটা এবং সিমোনের সন্তান।

এছাড়া তার তিন সন্তান মায়া, নেভিল এবং লেয়াকেও টাটার উত্তরাধিকারের তালিকায় রাখা হয়।

নেভিল ট্রেন্ট লিমিটেডের স্টার বাজার দেখভাল করেন। স্পেনের আইই বিজনেস স্কুল থেকে পড়েছেন লেহা। ইন্ডিয়ান হোটেল কোম্পানি এবং তাজ-এ তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

অন্যদিকে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অন্যতম বুদ্ধিমতী মনে করা হয় মায়াকে। টাটা অপার্চুনেটিস্ট ফান্ড এবং টাটা ডিজিটালেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাকে প্রটেকশন দিচ্ছে : প্রশ্ন রিজভীর

শেখ হাসিনার আমলে ছাত্রলীগ-যুবলীগ অপকর্ম করলেও কোনো মামলা নেয়নি থানা পুলিশ। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের সময়ে এসে এত অপকর্ম করেও সাবেকমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিন পেলেন। তাহলে এই সরকার কাকে প্রটেকশন দিচ্ছে- এমন প্রশ্ন রেখেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

আজ বৃহস্পতিবার খিলগাঁও এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রশ্ন রাখেন। সাবেকমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর বিচারের দাবিতে খুন ও গুমের শিকার পরিবারগুলো এই প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আপনি তো হাসিনার উত্তরসূরী, আপনিও তো তার মতো আপনার এলাকায় বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিলেন, বিরোধী দল রাখতে চান নাই।

তিনি বলেন, খিলগাঁও এলাকায় সাবের হোসেন চৌধুরীর আমলে ১১ জন নেতাকর্মীকে গুম-খুন করা হয়েছে। তরুণ টগবগে যুবক জনিকে ১৬টি গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমি কিভাবে জনির মা-বাবা আর স্ত্রীর চোখের পানি মুছব? এমন টিস্যু পেপার এখনো তৈরি হয়নি। যার সন্তান চলে গেছে, তার চোখের পানি মুছার টিস্যু পেপার এখনো আবিষ্কার হয়নি।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যা ও খুনি কারা ছিল- এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এই সাবের হোসেন চৌধুরীরাই শেখ হাসিনার সহযোগী ছিলেন। তিনি তো স্বৈরাচার শেখ হাসিনার মাধ্যমে লালিত পালিত। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে র‌্যাব গুলি করেছে এবং র‌্যাবের লোগো সম্বলিত হেলিকপ্টার দেখা গেছে। এখন র‌্যাব যা বলছে তা অসত্য।

রিজভী বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস হলেন বিপ্লব ও আন্দোলনের সরকার, জনগণ সমর্থন দিয়েছে। শেখ হাসিনার আমলে ছাত্রলীগ যুবলীগের অপকর্মের কোনো মামলা হয়নি। থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। কিন্তু ড. ইউনূস সরকারের সময়ে এসে এত অপকর্ম করলেও সাবের হোসেন চৌধুরী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিন পেলেন। তাহলে এই সরকার কাকে প্রটেকশন দিচ্ছে?

রিজভী বলেন, আমাদের ১৫ বছরের আন্দোলনের মূল ছিল আইনের শাসন ও স্বাধীন বিচার বিভাগ। অপকর্ম করলে পুলিশ মামলা নিবে সেটি আওয়ামী লীগ বা বিএনপি দেখে নয়। খিলগাঁও এলাকায় অসংখ্য নেতা-কর্মীকে খুন করা হয়েছে। এর জন্য কি সাবের হোসেন চৌধুরী দায়ী নন?

১৯৭৫ ও ২০২৪ আ’লীগের জন্য যে পরিস্থিতি নিয়ে এসেছে

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ভয়াবহ সঙ্কটে পড়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। বিশ্লেষকরা বলছেন ‘পতন ও সঙ্কটের ধরন ভিন্ন’ হলেও এবারের সঙ্কট দলটিকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের মতো ‘ছন্নছাড়া’ অবস্থায় ফেলে দিয়েছে।

গত জুলাই এবং আগস্টে আগাস্টে তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেয়ার পর দলটির অন্য নেতাদের অনেকেই আত্মগোপন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

অনেকে ভারতে কিংবা অন্য দেশে চলে গেছেন। এছাড়া অনেকে আটক হয়ে কারাগারে আছেন।

দলটির দুয়েকজন নেতার নামে বিচ্ছিন্নভাবে দুয়েকটি বিবৃতি গণমাধ্যমে এলেও দলের নেতৃত্ব কিংবা কার্যক্রম কোনোটাই এখন দৃশ্যমান নয়। এমনকি ঢাকায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ও আন্দোলনকারীদের হামলার তছনছ হয়ে গেছে।

৪৯ বছর আগে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগাস্টে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পরেও ভয়াবহ এক সঙ্কটকালের মুখোমুখি হতে হয়েছিল দেশের সবচেয়ে প্রাচীন এই রাজনৈতিক দলটিকে।

১৯৭৫ ও ২০২৪- উভয় ঘটনাই দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে ‘ছন্নছাড়া’ অবস্থায় ফেলে দিয়েছে বলে মনে করেন ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন মনে করেন, ‘দু’টি ঘটনাই দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দিয়েছে।’

রাজনৈতিক গবেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, দু’টি ঘটনাতেই সরকারের পতন হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘১৫ আগাস্ট ছিল রক্তাক্ত ও সহিংস। অনেক হত্যাকাণ্ড হয়েছে। কিন্তু এবার তা হয়নি। কিন্তু উভয় ঘটনার পরিণতিতেই কঠিন সঙ্কটে পড়েছে দলটি।’

১৯৭৫ এর ১৫ আগাস্টের পরের পরিস্থিতি
১৯৭৫ সালের ১৫ আগাস্টে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে যখন আক্রমণ হয়, তখন কোনো ধরনের প্রতিরোধ ছাড়াই পুরো বাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সপরিবারে তাকে হত্যা করে হত্যাকারীরা। শেখ মুজিবুর রহমানের দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় তখন বেঁচে গিয়েছিলেন।

এ ঘটনায় কার্যত তছনছ হয়ে পড়েছিল আওয়ামী লীগ। এর জের ধরে পরে তখন সারাদেশে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে দলটি।

তখন ওই বাড়ির নিচতলায় একটি কক্ষে কর্মরত ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী এ এফ এম মুহিতুল ইসলাম। মুহিতুল ইসলাম ২০১৬ সালে মারা যান। ১৯৯৬ সালে তিনি শেখ মুজিব হত্যা মামলার বাদি হয়েছিলেন।

২০১০ সালে এক সাক্ষাৎকারে মুহিতুল ইসলাম বলেন, ‘একজন রাষ্ট্রপতির বাড়িতে যে ধরনের নিরাপত্তা থাকা দরকার সেটি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে ছিল না। তাছাড়া রাষ্ট্রপতির বাড়িতে আক্রমণের পরেও কোনো তরফ থেকে কোনো ধরনের সহায়তা আসেনি।’

হত্যাকাণ্ডের পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটি অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত সেনাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তৎকালীন আওয়ামী লীগেরই একজন সিনিয়র নেতা এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্য খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন।

এরপর আওয়ামী লীগের যারা মোশতাক সরকারকে সমর্থন করেননি তারা অনেকে আত্মগোপনে যান। অনেক নেতা পরবর্তীতে আটক হয়ে দীর্ঘসময় ধরে কারাভোগ করেন। অনেকে ভারতে চলে যান।

পরবর্তী আব্দুল কাদের সিদ্দিকীসহ কেউ কেউ আবার প্রতিরোধ তৈরির চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

সে বছর ১৫ আগাস্টের আগে শেখ মুজিবুর রহমান কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা বাকশাল পদ্ধতি প্রবর্তন করেছিলেন।

পরে ১৯৭৬ সালে রাজনৈতিক দলগুলো নিবন্ধনের সুযোগ পেলে তখন আবার আওয়ামী লীগ নামেই দলটি নিবন্ধিত হয়ে রাজনীতি শুরু করেছিল।

মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, আওয়ামী লীগ নামে দলটি আবার ফিরে আসে ১৯৭৬ সালে।

তিনি বলেন, ‘তবে শেখ মুজিব ছাড়া দ্বিতীয় কোনো নেতা তৈরি না হওয়ায় তার হত্যাকাণ্ডের পর দলের মধ্যে দলাদলি শুরু হয়। এক পর্যায়ে দল কয়েক ভাগে ভাগ হলো।’

এরপর ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ (মালেক) ৩৯টি এবং আওয়ামী লীগ (মিজান) দু’টি আসন লাভ করে। আওয়ামী লীগের একটি অংশ আবার বাকশালকেও সক্রিয় করে।

এর আগেই দেওয়ান ফরিদ গাজী এবং আব্দুল মালেক উকিলের নেতৃত্বে দুটি অংশ হয়ে যায় আওয়ামী লীগের।

এর বাইরে দল থেকে বেরিয়ে আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ এবং এম এ জি ওসমানি আলাদা দল গঠন করেছিলেন।

মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শেখ মুজিব রক্ষীবাহিনী এবং অন্য বাহিনীর ওপর নির্ভর করে দেশ শাসন করেছিলেন। দলের সব ক্ষমতা নিজের হাতে নিয়েছিলেন। ফলে দল হয়েছিলো মুজিব নির্ভর। এ কারণে ১৫ আগাস্টের পর দলকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।’

তিনি বলেন, ১৫ আগাস্ট পরবর্তী সরকার পরবর্তীকালে এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল।

এরপর দল টেকানোর জন্য দলের বিবদমান নেতারাই ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি করে ঢাকায় নিয়ে এসেছিলেন।

এরপর থেকে এ পর্যন্ত শেখ হাসিনাই দলের সভাপতি পদে আছেন।

২০২৪ সালের আগাস্ট পরবর্তী পরিস্থিতি
ব্যাপক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ৫ আগাস্ট ক্ষমতা ছেড়ে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

এর পরপরই ঢাকায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর, ঢাকায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ কয়েকটি কার্যালয়ে ব্যাপক হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

দেশের বহু জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর, দোকানপাটেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

গোপালগঞ্জে শুধু আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা ‘শেখ হাসিনাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে’ দাবি করে গত ৫ আগাস্টের পরপর বেশ কয়েক দফায়, কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরপরই দলের নেতারা আত্মগোপনে চলে যান এবং দলটির কোনো স্তরের কোনো নেতাকেই আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। শেখ হাসিনাসহ দলের সব নেতার বিরুদ্ধেই বহু মামলা দায়ের হয়েছে।

এরপর গত দু’মাসে দলের নেতা ও সাবেক মন্ত্রী এমপিদের অনেককেই আটক করেছে পুলিশ যার মধ্যে আছেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, দীপু মনি, সালমান এফ রহমানসহ অনেকেই।

সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ এবং মাহবুব উল আলম হানিফসহ সহ-সিনিয়র নেতারা, যাদের আটকের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি তারা কে কোথায় আছেন নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তবে আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, ওবায়দুল কাদের এবং জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ নেতাদের বড় একটি অংশ ভারতে চলে গেছেন।

কেউ কেউ ভারত হয়ে অন্য দেশে গেছেন। যদিও নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

দলের কোনো নেতাকে প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও কয়েকটি বিবৃতি গণমাধ্যমে এসেছে জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং মাহবুব উল আলম হানিফের নামে।

এছাড়া দল এবং শেখ হাসিনার অবস্থান ব্যাখ্যা করে একাধিকবার ভিডিও বার্তা দিয়েছেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।

এমন অবস্থায় গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগে চরম নেতৃত্বশূন্যতা দেখা দিয়েছে।

এতে সাংগঠনিকভাবে দলটি রীতিমত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির তৃণমূলের নেতারা। তাদের অনেকেই এখন উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। গণমাধ্যমে কথা বলার সময় কেউ তাদের নামও প্রকাশ করতে চান না।

মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দু’মাস হয়ে গেছে সরকারের পতন হয়েছে। এখনো কিন্তু নেতা হিসেবে কেউ দাঁড়াতে পারছেন না। এখন শেখ হাসিনার ছেলে বিবৃতি দিচ্ছেন। কথা বলছেন। তার পরিবারের বাইরে দলের কোনো নেতাকে এখনো দেখা যাচ্ছে না।’

অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার আমলে যে পরিমাণ অন্যায় অত্যাচার হয়েছে তার প্রতিক্রিয়ায় এবারে দলটির অবস্থা আরো সঙ্কটাপন্ন বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু এবারে সরকারের পতনের পর তার সব চিহ্ন মুছে দেয়া হয়েছে। দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ছন্নছাড়া হয়ে গেছে।’

শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার পরপরই তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছিলেন, তার মার আর রাজনীতিতে ফিরবেন না।

এক সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, ‘আমার মনে হয় এখানেই শেষ। আমার পরিবার এবং আমি- আমাদের যথেষ্ট হয়েছে।’

তবে কিছুদিনের মধ্যেই অবশ্য তাকে ভিন্ন সুরে বলতে শোনা গেছে। আরেকটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই তিনি (শেখ হাসিনা) বাংলাদেশে ফিরবেন, যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবে।’

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন শোনা গেছে, শিগগিরই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

যদিও পরে এ বিষয়টি আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায় থেকে নিশ্চিত করেননি দায়িত্বশীল কেউ।
সূত্র : বিবিসি

মমতাজসহ ৯০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর-হরিরামপুর ও সদরের আংশিক) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে প্রধান আসামি করে সিংগাইরে ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং পুলিশ ও স্থানীয় গ্রামবাসীর সাথে সংঘর্ষে চারজন নিহতের ঘটনায় ৯০ জনের নামে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সাড়ে ১১বছর পর গোবিন্দল গ্রামের মরহুম ইউসুব আলীর ছেলে মো: সহিদুল ইসলাম (৫০) মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলাটি করেন।

মামলায় পুলিশসহ আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নেতাকর্মীদেরও আসামি করা হয়েছে।

গত ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সিংগাইর পৌর এলাকার গোবিন্দল নতুন বাজার বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণ পাশে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এমপি মমতাজ বেগম ছাড়া মামলায় অন্য আসামিরা হলেন সিংগাইর পৌরসভার সাবেক মেয়র মীর মো: শাহজাহান, উপজেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আ: মাজেদ খান, উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মো: সায়েদুল ইসলাম, উপজেলা আ: লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: শহিদুর রহমান শহিদ, পৌরসভার সদ্য সাবেক মেয়র আবু নঈম মো: বাশার, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আব্দুস সালাম খান, মো: সমেজ উদ্দিন, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: রমিজ উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রবিউল আলম উজ্জ্বল ও উপজেলা আ: লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আব্দুল বারেক খান।

এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মধ্যে আসামি করা হয়েছে মো: শওকত হোসেন বাদল, মো: রমজান আলী, মো: আবুল হোসেন মোল্লা, গাজী কামরুজ্জামান, দেওয়ান মো: রিপন ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম রাজুসহ গুরুত্বপূর্ণ পদধারী রয়েছে অনেকেই।

মামলার বিবরণে বাদি উল্লেখ করেন, বিগত ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে আমার ভাই মো: নাসির ও আমি গোবিন্দল নতুন বাজার বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণে ব্রিজের পশ্চিম পার্শ্বে আমার নিজের জমিতে কাজ করতে যাই। এ সময় বাসস্ট্যান্ডে আওয়ামী লীগ তার সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের বেশ কিছু নেতাকর্মী ও পুলিশ টহল দিচ্ছিল। এর কিছুক্ষণ পর একদল মুসুল্লি একটি মিছিল নিয়ে সিংগাইর উপজেলা সদরের দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ তাতে বাঁধা প্রদান করে। এতে ঘটনাস্থলে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে মিছিলকারীরা দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

এরই মধ্যে ওই স্থানে সরকারদলীয় কিছুসংখ্যক ব্যক্তি ও পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় কিছু লোক বিদেশী রিভলবার, চাইনিজ পিস্তল, দেশীয় রামদা, ছামুরাই, চাইনিজ কুড়াল, ছেন ও কিরিচসহ হাজির হয়। এরপর তারা পুলিশের ছত্রছায়ায় ওই সমস্ত অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গ্রামের নিরীহ লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে আমার ভাই মো: নাসির এবং একই এলাকার আলমগীর, নাজিমুদ্দিন মোল্লা ও শাহ আলম মারা যায়। এছাড়া মামুন, হেলেনা, লিংকন, আনোয়ার, রুবেল, ফারুক, আলমাছসহ ১০-১২ জন মুমূর্ষু অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন থাকে।

পরে এ ঘটনায় এজাহার করতে থানায় গেলে মামলা গ্রহণ না করে পুলিশ জানায়, ‘এই বিষয়ে মামলা হয়েছে। এতে বেশি বাড়াবাড়ি করলে এই মামলায় আসামি করে চালান দিয়ে দিব।’

মামলার বাদি আরো উল্লেখ করেন, রক্ষিত সুরতহাল ও পোস্ট মর্টেম রিপোর্টের কপি তলব করে এনে এই মামলায় ব্যবহার করা আবশ্যক। এছাড়া মামলাটি জুডিসিয়াল তদন্তসহ আসামিদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির দাবিও করেন তিনি।

মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা : শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কুষ্টিয়া আদালত চত্বরে আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় ছয় বছর পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে অজ্ঞাত আরো ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে মাহমুদুর রহমান কুষ্টিয়া মডেল থানায় এই মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর তিনি বলেন, আমার ওপর হামলার ঘটনায় ৪৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছি।

তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করে তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দিল্লি থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। আজকের মামলার উদ্দেশ্য হলো, ফ্যাসিস্টরা উপযুক্ত শাস্তি পেলে দেশে আর কোনো সরকার ফ্যাসিস্টবাদি আচরণ করতে সাহস পাবে না।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও‌সি) মাহফুজুর রহমান বলেন, কুষ্টিয়া আদালত চত্বরে আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ৪৬ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২২ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়ায় আদালত থেকে মানহানির মামলায় জামিন নিয়ে বের হওয়ার সময় মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা হয়। আদালত প্রাঙ্গণ ছাড়ার সময় লাঠি ও ইটের আঘাতে তিনি আহত হন। তাকে বহনকারী গাড়ির গ্লাসও ভেঙে ফেলা হয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মাহমুদুর রহমান ও তার সহযোগীরা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিক সম্পর্কে মানহানিকর বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার মামলাটি করেন। ওই মামলায় জামিন পেতে কুষ্টিয়া আদালতে গিয়েছিলেন তিনি।

জম্মু ও কাশ্মিরের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ওমর আবদুল্লাহ!

একটা সময় নির্বাচনে লড়তেও রাজি ছিলেন না তিনি। সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি একটি পূর্ণরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, কোনো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী হতে রাজি নন। ভোটের ফলপ্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে সেই ওমর আবদুল্লাহই শ্রীনগরের মসনদে বসতে চলেছেন।

ওমরের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া নিয়ে বহু প্রশ্ন ছিল। একে তো তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কিনা সেটা নিয়ে সংশয় ছিল। দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ওমর, নাকি ফারুক- কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, সেটা নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন ছিল। অনেকেই অশীতিপর ফারুখকে চাইছিলেন কাশ্মিরের মসনদে। ভোটের আগে সেই সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেননি ফারুক আব্দুল্লাহ নিজেও। কিন্তু ভোট শেষ হতেই তিনি জানিয়ে দিলেন, ছেলে ওমরই হবেন মুখ্যমন্ত্রী।

ভোটের ফলাফলের ইঙ্গিত স্পষ্ট হতেই ফারুক আব্দুল্লাহ জানিয়ে দিলেন, ‘মানুষ আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। উপত্যকার মানুষ বুঝিয়ে দিলেন তারা ৫ আগস্টের ওই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। ওমর আব্দুল্লাহই মুখ্যমন্ত্রী হবেন।’

ওমর আব্দুল্লাহ আবার সদর্পে ঘোষণা করে দিয়েছেন, ‘যারা কাশ্মিরে আমাদের শেষ করতে এসেছিল, তারা নিজেরাই নিশ্চিহ্ন।’

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাশ্মিরের নির্বাচনী ফলাফলের ট্রেন্ড বলছে, কংগ্রেস ন্যাশনাল কনফারেন্স জোট অনায়াসে ম্যাজিক ফিগার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অন্য কোনো দলের সমর্থন তাদের প্রয়োজন পড়বে না। বিজেপি যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হওয়ার স্বপ্ন দেখছিল সেটাও বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ন্যাশনাল কনফারেন্সই কাশ্মিরের একক বৃহত্তম দল হতে চলেছে। ন্যাশনাল কনফারেন্স এই মুহূর্তে এগিয়ে রয়েছে ৪২ আসনে। জোটসঙ্গী কংগ্রেস এগিয়ে ৬ আসনে। দুই সঙ্গী মিলিয়ে এগিয়ে ৪৮ আসনে।

৯০ আসনবিশিষ্ট জম্মু ও কাশ্মির বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ৪৬।

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

কাশ্মিরে বিজেপির সাথে জোটসঙ্গী হওয়ার খেসারত দিলো পিডিপি?

দশ বছরেই আমূল বদলে গেল ছবিটা! সালটা ছিল ২০১৪। জম্মু-কাশ্মিরের নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেল একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে চূড়ান্ত সফল হয়েছে উপত্যকার পিপল’স ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি)।

এরপর, পিডিপির সাথে এবং পিডিপির নেতৃত্বে জম্মু-কাশ্মিরে জোট বেঁধে সরকার গঠন করে কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সেই সরকারের মেয়াদ ছিল ২০১৮ সাল পর্যন্ত। এরপর, বর্তমানে, অর্থাৎ ২০২৪ সালে, ১০ বছর পর জম্মু-কাশ্মিরে আবারো বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।

হিসাব ও তথ্য বলছে, এবারের নির্বাচনে পিডিপির ফলাফল শোচনীয়। শুধু তাই নয়, পরিসংখ্যান অনুসারে, ১৯৯৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত, অর্থাৎ গত ২৫ বছরে জম্মু-কাশ্মিরের নির্বাচনে সবথেকে খারাপ ফল করেছে মেহবুবা মুফতির দল।

১৯৯৯ সালে পিডিপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মুফতি মুহাম্মদ সাঈদ। এর মাত্র তিন বছর পর, প্রথবারের জন্য জম্মু-কাশ্মিরে সরকার গঠন করে তারা। সহায়তা করে কংগ্রেস।

বর্তমানে সেই দলের অবস্থা যে চূড়ান্ত শোচনীয়, তার আভাস গত গ্রীষ্মেই পাওয়া গিয়েছিল। কারণ, এবারের লোকসভা নির্বাচনেও পিডিপি কোনো আসনে জয়লাভ করতে পারেনি। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো নির্বাচনী লড়াইয়ে মুখ থুবড়ে পড়ল তারা।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর দেখা যায়, পিডিপি মাত্র মাত্র দু’টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। যেখানে তাদের চির-প্রতিদ্বন্দ্বী ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) এগিয়ে ছিল মোট ৯০টির মধ্যে ৪২টি আসনে।

এখন পর্যন্ত যে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তাতে অনুমান করা হচ্ছে, ২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মিরের ‘স্পেশাল স্ট্যাটাস’ খারিজ হওয়ার পর যে প্রথম সরকার উপত্যকায় গঠিত হতে চলেছে, তা গঠন করতে চলেছে এনসি-কংগ্রেসের জোট।

কারণ, এখন পর্যন্ত এই জোট এগিয়ে রয়েছে ৫২টি আসনে। যেখানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি এগিয়ে রয়েছে মাত্র ২৭টি আসনে।

শুধু তাই নয়, এবারের নির্বাচনী ফলাফল বলছে, এতদিন যে বিজবেহারা কেন্দ্রকে পিডিপির শক্ত ঘাঁটি, বিশেষ করে মুফতি পরিবারের গড় বলে মনে করা হতো, এবার সেখানকার জনগণও মেহবুবার দলকে হতাশ করেছেন।

এবারের নির্বাচনে এই আসনে লড়াইয়ে নেমেছিলেন মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা মুফতি। কিন্তু তিনি হেরে যান। ইলতিজা ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, তিনি জনগণের এই রায় মাথা পেতে নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনে পিডিপি যে শুধুমাত্র একটি আসনও জয় করতে পারেনি, তাই নয়। তাদের ভোট হার ছিল মাত্র ৮.৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে, কাশ্মির উপত্যকার তিনটি আসনের মধ্যে এনসি জিতেছিল দু’টি আসনে। তাদের ভোট শেয়ার ছিল, ২২.২ শতাংশ। অনন্তনাগ-রাজৌরি লোকসভা আসনে মেহবুবা মুফতি নিজে পরাজিত হয়েছিলেন প্রায় ১ লাখ ৮১ হাজার ভোটের ব্যবধানে।

তথ্য বলছে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পিডিপির লড়াই আরো কঠিন করে দিয়েছিলেন জামায়াতে ইসালামীর মদদপুষ্ট স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। যে দক্ষিণ কাশ্মিরে এতদিন পর্যন্ত পিডিপির ভালো ভোট ব্যাংক ছিল, সেখানেই পিডিপিকে কড়া টক্কর দেন এই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

২০১৯ সালে জামায়াতে ইসলামীকে ভারতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সূত্রের দাবি, আগে এই সংগঠন আড়ালে থেকে পিডিপিকে সমর্থন করত।

রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, ২০১৬ সাল থেকেই পিডিপির ভোট ব্যাংকে ধস নামতে শুরু করে। সেই সময় জম্মু-কাশ্মিরে পিডিপি ও বিজেপির জোট সরকার ছিল। হিজবুল মুজাহিদীনের তরুণ নেতা বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর উপত্যকার বাসিন্দাদের একাংশ আন্দোলনে নামেন।

সেই আন্দোলন দমাতে সরকারের পক্ষ থেকে যে দমন-পীড়ন শুরু করা হয় বলে অভিযোগ, তাতে অসংখ্য সাধারণ মানুষের প্রাণ যায়। তার ফলে পিডিপি-বিজেপি জোটের জনভিত্তি ক্রমশ কমতে থাকে।

এরপর ২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মির তার স্পেশাল স্ট্যাটাস ও রাজ্যের স্বীকৃতি হারায়। সেই সময় মাসের পর মাস জম্মু-কাশ্মিরের স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। রাজনৈতিক নেতাদের বন্দী করা হয়।

এই পরিস্থিতির জন্য বিজেপির পাশাপাশি পিডিপিকেও দায়ী করেন বহু মানুষ। কারণ, ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই দুই দলের জোট সরকার জম্মু-কাশ্মিরের প্রশাসনিক ক্ষমতায় ছিল।

এবারের নির্বাচনে পিডিপির শোচনীয় পরাজয় গত ১০ বছরের ঘটনাক্রমের ফলশ্রুতি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

কেজরির জন্য হরিয়ানায় হার কংগ্রেসের!

ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে কংগ্রেসের আশায় পানি ঢেলে দিয়েছেন আম আদমি পার্টি (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। বিরোধী ঐক্যে ফাটল ধরিয়ে কার্যত নিশ্চিত করলেন ওই রাজ্যে টানা তিনবার বিজেপির ক্ষমতায় আসা। মঙ্গলবার ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এমনই কথা বলছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

৯০ আসনের হরিয়ানায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জাদুসংখ্যা ৪৬। ফল বলছে, এক দশক পরে আবার সেই লক্ষ্য ছুঁতে চলেছে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহের দল। ২০১৪ সালে ৪৭টি আসনে জিতে নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা ক্ষমতা দখল করলেও ২০১৯-এ বিজেপির আসন ৪০-এ নেমে গিয়েছিল। সরকার গড়তে আইএনএলডি-ছুট দুষ্মন্ত চৌটালার দল জননায়ক জনতা পার্টি (জেজেপি)-র উপর নির্ভর করতে হয়েছিল তাদের।

ভোট শতাংশের হিসেব বলছে, বহু আসনে নোটার (নান অব দ্য অ্যাবাভ ভোট) চেয়ে কম ভোট পেলেও কয়েকটি ক্ষেত্রে নিজের ‘নাক কেটে’ কংগ্রেসের ‘যাত্রাভঙ্গ’ করেছে আপ। তা ছাড়া, লোকসভা ভোটের পাঁচ মাসের মধ্যেই ‘ইন্ডিয়া’য় ফাটল ভোটারদের একাংশকে প্রভাবিত করেছে বলেও বিরোধীদের অনেকে মনে করছে। বিধানসভা ভোটে দু’দলের জোট হলে বিজেপির জয় সহজ হতো না বলেই তাদের ধারণা। এ ক্ষেত্রে অদূর ভবিষ্যতে কংগ্রেসের চেয়েও আপের উপর ‘চাপ’ বেশি। কারণ, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লির বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। সেখানে ২০১৩ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় রয়েছে আপ। এবারের লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের সাথে জোট করেও দিল্লির সাতটি আসনে বিজেপির জয় ঠেকাতে পারেননি কেজরি। আবগারি মামলায় গ্রেফতারির পরে ছয় মাস তিহাড় জেলে কাটিয়ে হরিয়ানায় প্রচারে নেমেছিলেন আপ প্রধান। কিন্তু দলের বিপর্যয় ঠেকাতে পারেননি। ঘটনাচক্রে, হরিয়ানার পড়শি রাজ্য পাঞ্জাবে সরকার চালাচ্ছে আপ। দুই রাজ্যের যৌথ রাজধানী চণ্ডীগড়ে কংগ্রেসের সমর্থনেই কেজরির দলের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

কী কী অঙ্কে বিজেপির জয়

টানা এক দশক ক্ষমতায় থাকার পরেও ‘প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া’ অতিক্রম করে হরিয়ানায় আবার নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। কৃষক আন্দোলনের আঁচ, বিনেশ ফোগাটের ‘বঞ্চনা’, বিজেপি নেতা ব্রিজভূষণ শরণ সিংহের বিরুদ্ধে হরিয়ানার কয়েকজন মহিলা কুস্তিগিরের তোলা যৌন নিগ্রহের অভিযোগ, চুক্তিভিত্তিক সেনাবাহিনীতে নিয়োগের ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্প ঘিরে ক্ষোভের ছায়া পড়েনি হরিয়ানার বিধানসভা ভোটের ফলে। এর পিছনে পদ্মশিবিরের নিপুণ ‘বুথ লেভেল ম্যানেজমেন্ট’-এর পাশাপাশি জাতপাতের অঙ্কেরও বড় ভূমিকা রয়েছে বলে ভোটপণ্ডিতদের একাংশ মনে করছেন। তাদের বিশ্লেষণ বলছে, উত্তর ও মধ্য হরিয়ানার জাঠ প্রভাবিত অঞ্চলে কংগ্রেস ভালো ফল করলেও দক্ষিণে অ-জাঠ অঞ্চলে বড় জয় পেয়েছে বিজেপি। ভাল ফল করেছে রাজ্যের পশ্চিম অংশেও।

পরিসংখ্যান বলছে, হরিয়ানায় জাঠ ভোট প্রায় ২৭ শতাংশ, দলিত (এসসি) ২১ শতাংশ, অন্যান্য অনগ্রসর (ওবিসি) প্রায় ৩৩ শতাংশ। জাঠ ভোট কংগ্রেস, আইএনএলডি, জেজেপির মধ্যে ভাগাভাগি হয়েছে। ‘উচ্চবর্ণ’ এবং ওবিসি ভোটের অধিকাংশই পেয়েছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সিংহ সাইনি ওবিসি জনগোষ্ঠীর হওয়ায় বিজেপি সুবিধা পেয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। কংগ্রেসের জাঠ নেতা ভূপেন্দ্র সিংহ হুডার সাথে মতবিরোধের কারণে দলিত নেত্রী কুমারী শৈলজা প্রচার পর্ব থেকে দূরে সরে থাকারও সুফল পেয়েছে তারা। এমনকি, ‘জাঠ প্রভাবিত’ বলে চিহ্নিত কয়েকটি আসনেও বিজেপির পক্ষে অ-জাঠ ভোটের একত্রীকরণ দেখা গিয়েছে এ বারের বিধানসভা ভোটে! তা ছাড়া, নুহ্র সাম্প্রতিক গোষ্ঠীহিংসাও বিজেপির পক্ষে মেরুকরণ ঘটিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

হারলেও ভোট বেড়েছে কংগ্রেসের

টানা তিনবার ভোটে হারলেও কংগ্রেসের ভোট এবং আসন দু’টিই বেড়েছে হরিয়ানায়। ২০০৪ থেকে টানা এক দশক ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেস ২০১৪-য় হরিয়ানার ভোট এবং আসনসংখ্যার হিসাবে তৃতীয় স্থানে নেমে গিয়েছিল। সাড়ে ২০ শতাংশ ভোট পেয়ে জিতেছিল মাত্র ১৫ আসনে। ২৪ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৯ আসনে জিতে দ্বিতীয় হয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমপ্রকাশ চৌটালার আইএনএলডি। ২০১৯ সালের বিধানসভা ভোটে ২৮ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে ৩১টি আসনে জিতে দ্বিতীয় হয়েছিল কংগ্রেস। এবার আসনসংখ্যায় বিজেপির তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও ভোট শতাংশের হিসাবে কংগ্রেস প্রায় তুল্যমূল্য। ওই রাজ্যে রাহুল গান্ধী-মল্লিকার্জুন খড়্গের দলের ঝুলিতে গিয়েছে প্রায় ৩৯.১ শতাংশ ভোট। বিজেপি প্রায় ৩৯.৯ শতাংশ। অর্থাৎ, দু’দলের ব্যবধান এক শতাংশেরও কম। অন্য দিকে আপ পৌনে ২ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে।

ঘটনাচক্রে, এবার হরিয়ানায় বিধানসভা ভোটের প্রচার পর্বে পালাবদলের ইঙ্গিত ছিল। অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষাতেও বিজেপির তুলনায় কংগ্রেসকে এগিয়ে রাখা হচ্ছিল। তাৎপর্যপূর্ণভাবে পাঁচ বছর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি হরিয়ানায় বিধানসভা ভোটে এক ডজনের বেশি জনসভা করলেও এবার মাত্র চারটি প্রচার কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। গত বছর তেলঙ্গানায় বিধানসভা ভোটের প্রচারেও এ ভাবেই কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন মোদি। দক্ষিণের ওই রাজ্যে কংগ্রেস বিপুল জয় পেয়েছিল। হরিয়ানায় তার পুনরাবৃত্তির আশা করেছিলেন রাহুল-খড়্গেরা। কিন্তু তা মিলল না।

হরিয়ানার ভোটে বাংলার ছায়া

এবারের হরিয়ানার ভোটের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা ভোটের ফলের তুলনা টানছেন অনেকেই। পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস এবং তৃণমূলের জোট হলে রাহুলের দলের এমপি সংখ্যা এক থেকে বেড়ে দুই হতো (কারণ, তৃণমূলের তরফে ভোটের আগেই কংগ্রেসকে ২০১৯-এ জেতা মালদহ দক্ষিণ এবং বহরমপুর ছাড়ার বার্তা দেয়া হয়েছিল)। অন্য দিকে, দুই দলের জোট হলে মালদহ উত্তর, রায়গঞ্জ, পুরুলিয়ার মতো লোকসভা আসনে জেতা কঠিন হতো বিজেপির। অবশ্য, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস-তৃণমূলের মতোই হরিয়ানায় কংগ্রেস-আপ সমীকরণও আদতে ‘ব্যাস্তানুপাতিক’। অর্থাৎ, আপের বাড়বৃদ্ধি হবে কংগ্রেসের ক্ষতিবৃদ্ধি হলে। আবার একই রকমভাবে কংগ্রেসের উন্নতি হবে আপের অবনতিতে।

গুরুত্বপূর্ণ জয় এবং পরাজয়

বিজেপি উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের বড় অংশই বিধানসভা ভোটে জিতেছন এবার। মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সিংহ সাইনি (লডওয়া), প্রভাবশালী মন্ত্রী অনিল ভিজ (অম্বালা ক্যান্টনমেন্ট), পরলোকগত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বংশীলালের নাতনি তথা প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ শ্রুতি চৌধরি (তোশাম), প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভজনলালের নাতি তথা প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা কুলদীপ বিশনইয়ের পুত্র ভব্য (আদমপুর), মডেল জেসিকা লালের খুনি মনু শর্মার মা শক্তিরানি (কালকা), কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাও ইন্দ্রজিৎ সিংহের কন্যা আরতি (অটেলি) রয়েছেন এই তালিকায়।

কংগ্রেসের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র সিংহ হুডা রোহতক জেলার গরহি সাম্পলা-কিলোই আসনে জিতেছেন। জিতেছেন কুস্তিগির বিনেশ ফোগাট (জুলানা)। পঞ্চকুলায় বিদায়ী বিধানসভার স্পিকার, বিজেপির জ্ঞানচাঁদ গুপ্তকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রমোহন (প্রয়াত ভজনলালের আর এক পুত্র)। প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এআইসিসির মুখপাত্র রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালার পুত্র আদিত্যও (কৈথল) রয়েছেন জয়ীদের তালিকায়। তবে বিজেপির প্রাক্তন মন্ত্রী ক্যাপ্টেন অভিমন্যু, কংগ্রেস প্রার্থী প্রাক্তন মন্ত্রী তথা হুডার আত্মীয় করণ দালালের মতো ‘হেভিওয়েট’রা রয়েছেন পরাজিতের তালিকায়।

কুরুক্ষেত্রের বিজেপি এমপি তথা জিন্দল শিল্পগোষ্ঠীর কর্ণধার নবীন জিন্দলের মা সাবিত্রী নির্দল হিসাবে দাঁড়িয়ে হারিয়ে দিয়েছেন বিজেপিকে। প্রয়াত প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী দেবীলালের দুই প্রপৌত্র অর্জুন সিংহ চৌটালা এবং আদিত্য দেবীলাল যথাক্রমে রানিয়া এবং ডাবওয়ালী আসনে আইএনএলডি প্রার্থী হিসাবে জিতেছেন। তবে তার অন্য দুই প্রপৌত্র, প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী দুষ্মন্ত (উচানা কালান) এবং দিগ্বিজয় (ডাবওয়ালি) হেরেছেন। তবে ‘পারিবারিক আসন’ এলানাবাদে হেরে গিয়েছেন দেবীলালের পৌত্র তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমপ্রকাশের পুত্র অভয় চৌটালা।

হরিয়ানায় বিজেপি উত্থান কোন পথে?

এক দশক আগেও হরিয়ানায় তৃতীয় বা চতুর্থ ‘শক্তি’ হিসেবেই বিবেচিত হতো বিজেপি। কখনও দেবীলাল-ওমপ্রকাশ চৌটালার আইএনএলডি, কখনো বংশীলালের হরিয়ানা বিকাশ পার্টির ছোট শরিক হয়ে কয়েকটি মন্ত্রীপদ পেলেও অটলবিহারী বাজপেয়ী-লালকৃষ্ণ আদভানিদের জমানায় কখনো উল্লেখ্যযোগ্য শক্তি হয়ে উঠতে পারেনি তারা। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদির উত্থানের পরেই পরিস্থিতি বদলে গিয়েছিল। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে রাজ্যের ১০টি লোকসভা আসনের মধ্যে আটটি আসনে লড়ে সাতটিতে জিতেছিল তারা। সে বছরের অক্টোবরের বিধানসভা ভোটে এক দশকের কংগ্রেস শাসনের ইতি টেনে প্রথম বার হরিয়ানায় ক্ষমতা দখল করেছিল পদ্মশিবির। ৩৩ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে ৯০ আসনের মধ্যে ৪৭টিতে জিতেছিল।

এর পর ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে ‘মোদি ঝড়ে’ ভর করে ১০টি আসনেই জিতেছিল বিজেপি। পেয়েছিল ৫৮ শতাংশ। কিন্তু সে বছরের অক্টোবরের বিধানসভা ভোটে ধাক্কা খায় তারা। ত্রিশঙ্কু বিধানসভায় জেতে ৪০টি আসনে। শতাংশের হিসেবে বিজেপি প্রায় সাড়ে ৩৬ শতাংশ, কংগ্রেস প্রায় ২৯ শতাংশ এবং জেজেপি সাড়ে ১৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। প্রাক্তন শাসকদল আইএনএলডির ভোট আড়াই শতাংশেরও নীচে নেমে গিয়েছিল ২০১৯-এর বিধানসভা ভোটে। এর পরে জেজেপির ১০ বিধায়কের সমর্থনে ফের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মনোহরলাল খট্টর।

কিন্তু চলতি বছরে লোকসভা ভোটের আগে সে জোট ভেঙে যায়। গত মার্চে খট্টরকে সরিয়ে নয়াব সিংহ সাইনিকে মুখ্যমন্ত্রী করে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। এবারের লোকসভা ভোটে কংগ্রেস এবং বিজেপি দু’দলই হরিয়ানায় পাঁচটি করে আসনে জিতেছিল। লোকসভায় আপ এবং কংগ্রেস আসন সমঝোতা করলেও এবার দু’দল আলাদা ভাবে লড়েছে। লোকসভা ভোটের হিসাবে বিজেপি ৪৬ শতাংশ এবং কংগ্রেস ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। অর্থাৎ, মাত্র দু’শতাংশের ফারাক ছিল দু’দলে। এবার আপের সাহায্য ছাড়াই সেই ব্যবধান আরো কমিয়ে আনল কংগ্রেস। তবে ঠেকাতে পারল না বিজেপির জয়ের হ্যাটট্রিক। যার নেপথ্যে ভূমিকা রইল কেজরির।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা