Home Blog Page 523

শিরোপা দিয়ে ক্রিকেটারদের পরিমাপ করতে নারাজ মাহমুদউল্লাহ

গেল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। শেষ টেনেছেন ১৭ বছরের লম্বা ক্যারিয়ারের। যেখানে প্রাপ্তি অনেক থাকলেও শূন্যতা নেহায়েত কম নয়। তবে কোনো আক্ষেপ নেই রিয়াদের। যদিও এই লম্বা সময়ে পাশে থাকায় কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সবাইকে।

গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মাহমুদউল্লাহ। জানান আগামী শনিবার ভারতের বিপক্ষে চলমান সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে এই ফরম্যাট থেকে সরে দাঁড়াবেন তিনি।

আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে অবসরের ঘোষণার পর আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আবেগঘন এক বার্তা দিয়েছেন টাইগার এই অলরাউন্ডার।

সেখানে তিনি লিখেছেন ‘আলহামদুলিল্লাহ! বাংলাদেশ দলের হয়ে আমার প্রতিটি মুহূর্ত ছিল অনেক সম্মান ও গৌরবের। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে, আমার সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের, সতীর্থদের এবং বিশেষ করে আমার পরিবারের সদস্যদের প্রতি।’

তবে দীর্ঘ ১৭ বছরের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার নিয়ে মোটেও আক্ষেপ নেই মাহমুদউল্লাহর। গতকাল সংবাদ সম্মেলনেই যা স্পষ্ট করেন তিনি। এত উত্থান-পতনের মধ্যে কোনো আক্ষেপ আছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে অপূর্ণতা বা অতৃপ্তি থাকলেও কোনো আক্ষেপ নেই বলে জানিয়েছেন।

মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, কোনো আক্ষেপ নেই। বাংলাদেশের হয়ে খেলার একটি মুহূর্তও আক্ষেপ করি না। এক ফোটাও আক্ষেপ নেই। বাংলাদেশের হয়ে এত বছর খেলেছি, ব্যক্তিগতভাবে যা আমার জন্য খুবই ভালো ছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি ২০০৭ সাল থেকে টি-টোয়েন্টি যতটুকু খেলেছি, জানি না কতটা পেরেছি, তবে আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি।’

প্রায় দেড় যুগের এই ক্যারিয়ারে ব্যক্তিগত অর্জনে কমতি না থাকলেও আছে ট্রফি জয়ের শূন্যতা। তা নিয়েও অবশ্য মাহমুদউল্লাহর তেমন অনুশোচনা নাই। ট্রফি জেতা দিয়ে ক্রিকেটারদের মূল্যায়ন করতে নারাজ তিনি।

মাহমুদউল্লাহ আরো বলেন, ‘ট্রফি নেই, এটা অবশ্যই খারাপ লাগার মতো। তবে আমি এ কথাটা মানতে রাজি নই যে আমাদের কোনো অর্জন নেই। যদি ট্রফি জেতাই মানদণ্ড হয়, তাহলে অনেককেই আমরা লিজেন্ড বলতাম না।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভালোর তো শেষ নেই। খেলা জিনিসটাই এমন। যত ভালো করেন, আরো ভালো সুযোগ থাকেই। তবে আমরা যে পরিমাণ ম্যাচ খেলি, ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক, পাশাপাশি যে উইকেটে খেলেছি বাংলাদেশ, সেদিক থেকে খারাপ বলবো না।’

উসকানির ফাঁদে তৃণমূল আ’লীগ

শীর্ষ নেতৃত্বের উসকানির ফাঁদে পড়ে বেপরোয়া আচরণ করছে তৃণমূল আওয়ামী লীগ। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও হামলা, সঙ্ঘাত-সংঘর্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছে দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের আশ্বাস দেয়া হচ্ছে- দুই মাস পেরিয়ে গেলেও দেশে এখনো স্থিতিশীলতা আসেনি, তারা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না- এ সরকার বেশিদিন টিকবে না। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য ইস্যুভিত্তিক এসব ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রচার-প্রচারণার জন্য তৃণমূলকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। এলাকাভিত্তিক দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাত ও সংঘর্ষ বাধিয়ে দেয়া ও সঙ্ঘাত জিইয়ে রাখার জন্যও ছক কষছে আওয়ামী লীগ। দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পালিয়ে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয় নেন খোদ আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরই সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সব পর্যায়ের নেতামন্ত্রী ও এমপিসহ আত্মগোপনে চলে যান। এরপর দলটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য- বিবৃতি পাওয়া না গেলেও আওয়ামী লীগ প্রধানের একাধিক অডিওবার্তা প্রকাশ পেয়েছে, যা নিয়ে দেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি গোপালগঞ্জ সদরের এক ছাত্রলীগ নেতার সাথে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার একটি অডিও বার্তা প্রকাশ পায়। ওই অডিওতে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সুদখোর ইউনূসের কথা শুনে লাফাচ্ছে জামাতে, ওরা কয়েক দিন আছে? সামনে আর একমাস টেকে কিনা দেখ। যারা বাড়াবাড়ি করছে তারা কোথায় যাবে বুঝে নিয়েন। আর এসব তালিকা করে রাখো, হিসাবটা যেন ভুল না হয়,… এবার গুণে গুণে কিন্তু হিসাব নেয়া হবে। ২০০৯ সালেও সরকারে এসে কাউকে কিছু বলি নাই।’ এর আগে এক অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি পাশেই আছি যাতে যেকোনো সময় চট করে দেশে ঢুকে যেতে পারি।’

সম্প্রতি এক অডিও বার্তার পরই কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সামিউল বাসীর সামি তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘কাউন্টডাউন শুরু।’ কৃষক লীগের ওই নেতা তার পোস্টে হ্যাস ট্যাগ দিয়ে স্টেপ ডাউন ইউনূস লিখেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ দফতর সম্পাদক আরিফুর রহমান রাসেল তার পোস্টে লিখেন, ‘অধৈর্য হচ্ছেন কেন? দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ওদেরকে কাঁধে তুলেছেন তো আছাড় দেবার জন্যই। সামিউল বাসীর সামি ও রাসেলের মতো অনেকেই ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এরকম সমালোচনা করছেন।’

আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, গত ৫ আগস্টের ঘটনার পর কেন্দ্রীয় ও শীর্ষ নেতৃত্বের আচরণে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মনোবল একেবারে ভেঙে পড়েছে। কেউ কেউ নিজেদের গা বাঁচাতে অন্য রাজনৈতিক দলে ভিড়ছেন। ওই সব নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙা এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ধরে রাখতে দলীয় প্রধান মাঝে মাঝে দুই-একটি অডিওবার্তা দিচ্ছেন। শীর্ষ নেতৃত্বে এসব অডিও বার্তায় তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। সূত্র আরো বলছে, এসব বার্তার মাধ্যমে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা দলটির সুবিধাভোগী সরকারি-বেসরকারি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উৎসাহিত হচ্ছেন এবং তারা মনে করছেন, আওয়ামী লীগ আবারো ক্ষমতায় আসবে। দলটির ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা আশায় বুক বাঁধছেন- দল আবারো ক্ষমতা ফিরে পাবে। এজন্য শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি গ্রামের গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে এবং বিভিন্ন সেক্টরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য কৌশলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তৃণমূল আওয়ামী লীগ সমর্থিত লোকজন ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রের নির্দেশনা মানতে গিয়ে বিপদেও পড়ছেন তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। হামলা, মামলার সম্মুখীন হচ্ছেন কেউ কেউ আবার এসব ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নেতাকর্মীরা গ্রেফতার হচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক ড. আবদুল লতিফ মাসুম নয়া দিগন্তকে বলেন, দীর্ঘদিন শাসন করা আওয়ামী লীগের বেশির ভাগই এখনো বিশ্বাস করছে- তারা আবার যেকোনো সময় ক্ষমতায় চলে আসবে। এজন্য তারা নানা উসকানিতে পা রাখছে। কিন্তু আসলে এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। শেখ হাসিনার দুঃশাসন এ দেশের মানুষ কখনোই ভুলবে না। তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা যে অডিও-ভিডিও বার্তা দিচ্ছেন তা পরিকল্পিত। নির্বাচন সামনে রেখে এর মাধ্যমে তারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার একটি উপায় বের করছে।

রাজনীতি বিশ্লেষক ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের অন্যতম শরিক ন্যাপের কেন্দ্রীয় নেতা মো: ইসমাইল হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিদেশে বসে শেখ হাসিনার সাথে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে মাঝে কিছু কথপোকথন প্রকাশ পাচ্ছে। এভাবে আসলে রাজনীতি হয় না। এই যে গোপালগঞ্জের ছাত্রলীগের এক নেতার সাথে যে অডিও বার্তা বের হয়েছে- এটা বৃহত্তর অর্থে কোনো প্রভাব পড়ে না, কারো কোনো কিছু যায় আসে না। তবে কিছু নেতাকর্মী হয়তো প্রভাবিত হতে পারে। প্রভাবিত হয়ে নেতাকর্মীরা যদি অন্তর্বর্তী সরকারের বিপক্ষে কিছু বলার বা লেখার চেষ্টা করেন কাজের কাজ কিছুই হবে না বরং তাদের বিপদে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যদি রাজনৈতিক কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান তাহলে কোনো স্টেটমেন্ট দিয়ে বলতে পারেন। এটা সবার জন্য ভালো।

সচিবালয়ে প্রবেশে কড়াকড়ি

তদবিরবাজদের আনাগোনা বন্ধ, কাজের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফেরাতে দর্শনার্থীদের সচিবালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে পতন হওয়া শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা বসতেন এখানে। দেশ ও দল পরিচালনা করতেন নির্ধারিত মন্ত্রণালয়ের কক্ষে বসেই। প্রতিদিন তাদের দফতরে আসতেন হাজারো দর্শনার্থী, যাদের বেশির ভাগই ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। বাদ যেতেন না ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতারাও। গাড়ি প্রবেশের স্টিকার না থাকলেও তাদের কারো কারো গাড়ির সামনে থাকত সরকারি স্টিকার। পাস ছাড়াই প্রবেশ করতেন সচিবালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা উপপুলিশ কমিশনারের (ডিসি) নির্দেশে। দর্শনার্থী আর গাড়ির চাপে নিরাপত্তা কর্মীদের হতো হিমশিম অবস্থা।

তবে সচিবালয়ে এখন নেই আগের সেই দৃশ্যপট। বদলে যাওয়া সচিবালয়ে ফিরেছে শৃঙ্খলা। নেই গাড়ির জট। নেই তদবিরবাজও।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টায় শুধু অস্থিরতা সৃষ্টিই নয়, টার্গেট ছিল সচিবালয়ের মতো সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ধস নামানো। নড়বড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রধান ফটক হয়ে পড়েছিল অরক্ষিত। কখনো শিক্ষার্থী, কখনো নার্স, কখনো গ্রাম পুলিশ আবার কখনো আনসার বাহিনীর সাথে আওয়ামী লীগের কর্মীরাও গেট ঠেলে ঢুকে পড়েছিল। তবে এই অবস্থা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সচিবালয়ের প্রশাসন অর্থাৎ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন সচিবালয়ে দেখা যায়, নেই দর্শনার্থীদের ভিড়, ছিল না গাড়ির উপচে পড়া জট। শৃঙ্খলায় কাজের পরিবেশ ফিরেছে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে। বিষয়টি নিয়ে সচিবালয়ে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, তদবিরবাজদের যন্ত্রণা থেকে মুক্ত আছেন বেশ কিছু দিন ধরে। এমন পরিবেশ সচিবালয়ের কাজের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

বদলে যাওয়া পরিবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব আশাফুর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, তদবিরবাজের প্রবেশ বন্ধ এবং সচিবালয়ে কাজের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থানে আছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে, সচিবালয়ে কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা তা আন্তরিকতার সাথে পালন করছেন। এ জন্যই বদলে গেছে সচিবালয়ের পরিবেশ। তিনি বলেন, এ জন্য কখনো কখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কথা শুনতে হচ্ছে, গালি খেতে হচ্ছে। তবে তারা হাল ছাড়তে নারাজ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ সূত্র জানায়, আগের মতো এখন আর যেকোনো কর্মকর্তা সচিবালয়ে প্রবেশে দর্শনার্থী পাস ইস্যু করতে পারেন না। আগে অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, উপসচিব পাস দিতে পারতেন। এখন সে নিয়ম আর নেই। দর্শনার্থী কমানোর পাশাপাশি তদবিরবাজের প্রবেশ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ।

জয়-পলকসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা

জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ফাঁসের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোরব) রাতে মামলা করা হয়ে বলে জানান কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)।

এনামুল হক নামের এক ব্যক্তি মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে জনগণের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বিক্রি করেন।

অভিযুক্তরা জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে, ডিজিকন গ্লোবাল সার্ভিসেস লিমিটেড নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে জনগণের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে ব্যবসার অনুমতি দেয়া হয়। যে তথ্য দেশী-বিদেশী প্রায় ১৮২টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে এই তথ্য বিক্রি করার তথ্য পাওয়া গেছে বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, তৃতীয়পক্ষের কাছে তথ্য পাচার হওয়ায় বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে অপরাধ করেছে আসামিরা।
সূত্র : বিবিসি

বাংলাদেশের আইটি খাত থেকে ট্রিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করা সম্ভব

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): পৃথিবী আইটি যুগে প্রবেশ করেছে। ইউরোপ-আমেরিকা সহ সকল দেশের দৃষ্টি এখন আইটি জগত। এই জগতে বাংলাদেশের আকাশ সহ সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের শিক্ষিত তরুণদেরকে প্রশিক্ষিত করা গেলে দেশের আইটি খাত থেকে ট্রিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করা সম্ভব বলে মনে করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। আগামী ২০৪৫ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী আইটি খাতে ২৮ মিলিয়ন কর্মীর প্রয়োজন হবে। সে ক্ষেত্রে আইটি খাতে বাংলাদেশের মেধাবী তরুণ-তরূনীদের সামনে ভালো করার সুযোগ রয়েছে। আর এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে বেসরকারী পর্যায়ের পাশাপাশি সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় সিটির জ্যামাইকায় আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
‘আইসিটি ইনোভেশন ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক ব্যতিক্রমী এই সেমিনারে বাংলাদেশের আইটি পরিস্থিতি এবং সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের অ্যালটেক্স ও স্পৃহা ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে। সহযোগিতায় ছিলো আইটি নেটওয়ার্ক সার্ভিস, এনআরবি বিজনেস নেটওয়ার্ক ও আইজে ক্রিয়েটিভ সলিউসন্স। খবর ইউএনএ’র।

IT Seminar at Jamaica 28 Sept 2024 Pic 07 edited

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের সাম্প্রতি ‘জুলাই বিপ্লব’ আন্দোলনে শহীদ সহ দেশের সকল শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনআরবি বিজনেস নেটওয়ার্ক-এর সিইও মোহাম্মদ আনিসুল কবীর জাসির। পরবর্তীতে ¯øাইড শোর মাধ্যমে বাংলাদেশের আইটি জগতের অবস্থান এবং সম্ভাবনার বিস্তারিত তুলে ধরেন আইটি নেটওয়ার্ক সার্ভিস-এর এ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান মিজান চৌধুরী এবং ওয়ানমেইন ফাইন্যান্সিয়াল-এর সিনিয়র আইটি বিজনেস এনালিন্স মোহাম্মদ শাফি চৌধুরী। এছাড়াও সেমিনারে বক্তব্য রাখেন স্পৃহা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক তাজিন শাদিদ ও হেড অব গ্রোথ হালিমা তাস-সাদিয়া। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নবপ্রতিষ্ঠিত ইসলামিক স্কুল এলমা একাডেমী’র প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

IT Seminar at Jamaica 28 Sept 2024 Pic 06

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আইটি সেক্টরে বাংলাদেশও এগিয়ে চলছে। তবে তা আশানুরূপ নয়। এই সেক্টেরে আরো আরোবিনিয়োগ দরকার এবং দেশের তরুণ-তরুণীদের সম্পৃক্ত করা দরকার। এজন্য প্রয়োজন সকল মহলের সার্বিক সহযেগিতা। বক্তারা বলেন, দিনে দিনে আইটি বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। আমেরিকার আইটি বাজারে একটি বড় অংশ ভারতীয় তরুণরা দখল করে রেখেছে। বাংলাদেশর তরুণরাও সেই বাজারে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে পারে। প্রসঙ্গত বক্তারা বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব’এর মধ্যদিয়ে দেশের তরুণরা প্রমান করেছে, তারা চাইলে অনেক কিছুই পারে এবং পারবে। এখন সময় শুধু তাদের সহযোগিতা করা।
সেমিনারে আইজে ক্রিয়েটিভ সলিউসন্স-এর সিইও সালমা জাহান, সিওও মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম সনি ছাড়াও বিভিন্ন আইটি প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত বাংলাদেশী ছাড়াও আইটি পেশায় আগ্রহী প্রবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।

IT Seminar at Jamaica 28 Sept 2024 Pic 05

উল্লেখ্য, স্পৃহা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ‘কোয়ালিটি এন্ড অ্যাফোর্ডেবল হেলথকেয়ার ফর অল’ শ্লোগান নিয়ে কাজ করছে। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের মাঝে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান হিসেবে জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ অধিবেশনে নোবেল লরিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস-এর যোগদান উপলক্ষ্যে প্রকাশিত ইংরেজী ম্যাগাজিন ‘দ্যা নিউইয়র্ক এডিটরিয়াল’-এর বিশেষ সংখ্যা তুলে দেয়া হয়।

এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটির বারবিকিউ পার্টি সম্পন্ন

জন্মভূমি ডেস্কঃ এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যাগে কুইন্স ব্রীজ পার্কে বারবিকিউ পার্টি অনুষ্ঠিত হয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর। সোসাইটির উক্ত অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক সদস্য তাদের পরিবারের সদস্যরা ও কমিউনিটির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত  ছিলেন। এর মধ্যে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি বদরুল হোসেন খান, বিয়ানীবাজার সমিতির উপদেষ্টা কিনু চৌধুরী, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট বশির খান, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে সিনিয়র সহ সভাপতি পদপ্রার্থী মহিউদ্দিন দেওয়ান, বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী।

image 1236502911 edited

এছাড়া আরোও উপস্থিত  ছিলেন এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি মো. সোহেল আহমদ, সহ সভাপতি কয়েছ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জাবেদ উদ্দিন, উপদেষ্টা এমাদ চৌধুরী, চৌধুরী সালেহ, আব্দুর রহমান, দেওয়ান সাহেদ চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ এমদাদ রহমান তরফদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হক চৌধুরী, সদস্য ফয়সল আহমেদ, মো. সোলেমান, নুরুল হক, মো. হোসেন আহমেদ, জহিরুল হক চৌধুরী। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাহনুর কুরাইশি, মনসুর আহমদ চৌধুরী, আব্দুল খালেক,  কামাল আহমেদ, আল-আমিন, সৈয়দ মুহিবুর রহমান, ডা. মাহবুবুর রহমান (মিশু), ডা. দিলরুবা চৌধুরী মিসবাহ আহমেদ, নুরুল হক, হাবিব আহমেদ, কামরান হোসেন পিন্টু, মোহাম্মদ কাদের, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জামাল আহমেদ, সুরুক মিয়া সিতারা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

IMG 58571

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ উদ্দিন জানান, আমরা অত্যন্ত সফলভাবে অনুষ্ঠানটিকরতে পেরেছি। বৃষ্টির দিনেও বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রানবন্ত করে তোলে। এর আগে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বারবিকিউ পার্টির অনুষ্ঠান বাতিল করা হলেও ৩০ সেপ্টেম্বর পুন:নির্ধারণ করা হয়। এরপরও  স্বল্প সময়ের নোটিশে প্রায় চার শতাধিক মানুষে সেখানে উপস্থিত হোন। খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি একে অপরের সাথে সৌহার্দ্য বিনিময় করেন। সেই সাথে আনন্দে মেতে উঠেন অতিথিরা।

ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধের দাবি মাহমুদুর রহমানের

ছাত্রলীগকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে নিষিদ্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আলটিমেটাম দিয়েছেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগও মানুষ হত্যায় জড়িত ছিল। এর আগেও গত ১৬ বছরে তারা অজস্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মানুষ হত্যা করেছে। এ জন্য তাদের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে নিষিদ্ধ করতে হবে। সরকার যদি সাত দিনের মধ্যে এ দাবি না মানে তাহলে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবো।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে আমার দেশ পরিবার আয়োজিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এ দাবি জানান। এ সময় তিনি বর্তমান সরকারের কাছে এ দাবিসহ মোট সাতটি দাবি জানান। অন্য দাবিগুলো হলো- ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, অর্থ উপদেষ্টা, শিল্প ও গণপূর্ত উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার রাজনৈতিক সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করতে হবে; যমুনা সেতুকে ‘শহীদ আবু সাঈদের’ নামে নামকরণ করতে হবে যাতে মানুষ সেখান দিয়ে পার হওয়ার সময় শতাব্দীর পর শতাব্দী আবু সাঈদের নাম দেখতে পায়; ২০০৯ সালের পর থেকে ভারতের সাথে যতগুলো চুক্তি হয়েছে তার প্রত্যেকটা ধারা উপধারা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে, জনগণকে জানাতে হবে ভারতের সাথে কী কী চুক্তি হয়েছে; এগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করতে হবে, যেখানে ভারতের ও ফ্যাসিবাদের দোসর থাকতে পারবে না; বঙ্গবন্ধু এভিনিউকে ‘শহীদ আবরারের’ নামে নামকরণ করতে হবে, কারণ শহীদ আবরার এই ফ্যাসিবাদ আন্দোলনের প্রথম শহীদ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে ফ্যাসিস্ট হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নমিনেশন অনতিবিলম্বে বাতিল করতে হবে। কারণ পুতুলকে নমিনেশন দেয়া হয়েছিল জালিয়াতির মাধ্যমে; আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে একটা বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবদুর রহিম এবং বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন পিন্টুর হত্যাকাণ্ডের বিষয় তদন্ত করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় মাহমুদুর রহমান বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আসার পর যে পাঁচ দিন আমি কারাগারে ছিলাম আমার জন্য যে পরিমাণ ভালোবাসা দেশের মানুষ এবং দেশের বাইরে থেকে মানুষ দেখিয়েছে তার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আমি এর যোগ্য নই। আমি তথাকথিত সুশীল নই, রাজনৈতিক ব্যক্তি নই। এ রকম কোনো আকাক্সক্ষাও আমার নাই। আমি এ দেশের আমজনতার বর্ষীয়ান একজন প্রতিনিধি মাত্র। তিনি বলেন, দেশের মানুষের স্মৃতি দুর্বল হয়ে গেছে। তারা এখনই হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে। তারা এখন অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে কথা বলছে। কিন্তু আমাদের হাসিনার দুর্নীতি-অপশাসন ভুলে গেলে হবে না। তার হত্যা-গুম-খুন, ফ্যাসিবাদী শাসনের কথা বারবার বলতে হবে। তিনি বলেন, আমার দেশে যে মাস্টার হেড ব্যবহার করেছি-‘আমার দেশ স্বাধীনতার কথা বলে’ এটি হাসিনা ও ভারতীয় আধিপাত্যবাদীদের জন্য একটি মেসেজ। যা তারা ঠিকই বুঝেছে।
মাহমুদুর রহমান বলেন, ২০১৩ সালে আমার দেশে ৮ কলামে লিড করা হয়েছিল ‘শাহবাগে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি; তারও চার বছর আগে ২০০৯ সালে লিখেছিলাম-‘ফ্যাসিবাদের দিকে সরকারের পদযাত্রা’। আর ওই সময় জাতীয় নির্বাচনের আগে লিখেছিলাম-‘নবরূপে বাকশাল’। এখান থেকে আমাদের সাংস্কৃতিক লড়াই শুরু হয়। সে সময় বিচার বিভাগ কতটা ফ্যাসিবাদী ছিল, কতটা দলীয়করণ করা হয়েছিল-তার প্রমাণ স্কাইপ কেলেঙ্কারি। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিক্সনের বিরুদ্ধে করা ‘ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারির’ অনুসন্ধানী রিপোর্ট পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছিল। একইভাবে স্কাইপ কেলেঙ্কারির রিপোর্ট দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অনুসন্ধানী রিপোর্ট হওয়ার পরও আমরা কোনো স্বীকৃতি পাইনি। বরং আমাকে পাঁচ বছর জেলে থাকতে হয়েছে। আর রিপোর্টার অলিউল্লাহ নোমানকে স^পরিবারে দেশ ছাড়তে হয়েছে। আমার দেশ বন্ধ হয়ে কয়েক শ সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেছেন। অন্য দিকে সেই কেলেঙ্কারির অন্যতম হোতা বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হয়েছেন। কিন্তু সাংবাদিকরা তার প্রতিবাদ করতে পারেননি। এসবির রিপোর্টে আমরা এখনো ক্রিমিনাল, আর নিজামুল হক নাসিম বিশিষ্ট ব্যক্তি। এই নিজামুল হক নাসিমকে গ্রেফতার করা উচিত। তার এখন জেলে থাকা উচিত।
তিনি বলেন, মহিউদ্দিন নামে যশোরের একজন পুলিশ কর্মকর্তা তার সরকারি চাকরির ব্যক্তিগত নথিতে নিজের কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে গিয়ে লিখেছেন, তিনি আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আটক করে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে চার্জশিট দিয়েছেন। এটার ক্রেডিট নিয়েছেন তিনি। এখন ওই পুলিশ কর্মকর্তা কোথায় আছেন জানি না। পুলিশে এখনো সংস্কার হয়নি। বাস্তবতা হলো এসব ক্ষেত্রে আমাদের এখনো লড়াই করতে হবে।
বাংলাদেশের অধিকাংশ মিডিয়া এখনো ভারতীয় ফ্যাসিবাদীরা দখল করে বসে আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের বেশির ভাগ মিডিয়ার মালিক ও সম্পাদক ভারতের এজেন্ট। ইকবাল সোবহান চৌধুরী আমার দেশ দখল করে নিতে চেয়েছিল। অথচ তিনি নাকি এখনো জাতীয় প্রেস ক্লাবে আসেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন, একজন সুশীল সম্পাদক মাহফুজ আনাম। তিনি ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার স্তুতি গেয়ে লেখালেখি করেন। অথচ শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান সরকারের সাথে সম্পাদকদের প্রথম যে বৈঠক হয়েছে সেখানে তাকে সবার আগে দেখা গেছে। তিনি একজন ফ্যাসিবাদের দোসর। তাকে এখন জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বলতে হবে। সবার আগে মিডিয়া ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আমার দেশ সম্পাদক বলেন, গণমাধ্যম হলো জাতির আয়না। অথচ এই মিডিয়ায় পরিকল্পিতভাবে ভারতীয় নরেন্দ্র মোদীর ন্যারেটিভ ইসলাম বিরোধী আবহ তৈরি করা হয়েছে। মুসলিমদের মৌলবাদী ও জঙ্গি বানানো হয়েছে। সেই মিডিয়াগুলো এখনো স্ব-মহিমায় টিকে আছে। আমার দেশ এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। ইফতেখারুজ্জামান, আপনার উদ্দেশ্য কী : মৌলবাদ শব্দ ব্যবহার না করতে সরকারকে সতর্ক করে মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকারের একটি সংস্কার কমিটির দায়িত্বে আছেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বললেন ‘দেশে মৌলবাদের উত্থান হচ্ছে’। সরকারে থেকে কোনো ব্যক্তিগত কথা বলা যায় না। তার বক্তব্য সরকারের বক্তব্য হয়ে যায়। তিনি এই মৌলবাদ কোথায় পেলেন। এই মৌলবাদের কার্ড ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেছে, এটি ব্যবহার করে আয়নাঘর হয়েছে, বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়েছে, হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। এখন ইফতেখারুজ্জামান আবার মৌলবাদের কার্ড ব্যবহার করছেন, আপনার উদ্দেশ্য কী। নতুন কায়দায় ভারতীয় আধিপত্যবাদ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করা এটি কি আপনার উদ্দেশ্য? আপনি সা¤প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কথা বলেন, আমরা আপনার সাথে আছি, মৌলবাদ শব্দ ব্যবহার করবেন না। তাই সরকারকে এ বিষয়ে আমি সতর্ক করে দিতে চাই। এ সময় তিনি অতি ইসলামিকদের সতর্ক করে বলেন, আপনাদের এ ধরনের অপতৎপরতার কারণে বহির্বিশ্বে ভুল বার্তা যাবে। দেশের ইমেজ নষ্ট হবে। দুর্গাপূজা, আস্তিক-নাস্তিক নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না। আপনাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভারতীয় আধিপত্যবাদীদের যে কৌশল তার অংশ হিসেবে কাজ করবে। এ ধরনের অতি ইসলামিকদের প্রতিহত করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দেবপ্রিয়কে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে : অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যকে ক্ষমা চাইতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এতই পাওয়ারফুল যে তাকে এক-এগারো সরকারের সময় বিদেশে চাকরি দিতে আইন পরিবর্তন করা হয়। আর বর্তমানে সরকারপ্রধান ইউনূসের সাথে আমেরিকায় সফরসঙ্গী হিসেবে অর্থ উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমেদ যাননি, গেছেন দেবপ্রিয়। তিনিই মনে হয় প্যারালাল অর্থ উপদেষ্টা। আর সালাহউদ্দিন আহমেদ নামে উপদেষ্টা। এই দেবপ্রিয় ২০০৫ সাল থেকে এক-এগারো সরকারের সময় দেশে ইন্ডিয়ান করিডোর দেয়ার জন্য বিদেশের টাকা নিয়ে প্রতিদিন ক্যাম্পেইন করতেন। সেসময় সেমিনারগুলোতে তার বক্তব্য এমন ছিল যে, করিডোর থেকে দেশ যে শুল্ক পাবে তা দিয়ে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হয়ে যাবে। তার কাছে আমরা জানতে চাই, গত ১৬ বছরে ট্রানজিট থেকে কত ডলার বাংলাদেশ আয় করেছে? আমরা জানি এ খাত থেকে সামান্যই আয় হয়েছে। দেবপ্রিয়কে এজন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এদের কে নিয়োগ দিচ্ছে এমন প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ড. ইউনূস বলেছেন, ছাত্ররা তাদের নিয়োগ দিয়েছে। এখন সেই ছাত্রদের বলতে চাই তারা এখন দেবপ্রিয়কে ট্রানজিট নিয়ে প্রশ্ন করুক।
দৈনিক আমার দেশ আবার প্রকাশ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অধিকাংশ উপদেষ্টা আমার দেশের প্রতি সহনশীল। কিন্তু কিছু সুশীল, প্রশাসনের ফ্যাসিবাদীরা বাধা দিতে পারে। এ রকম হলে তাদের বিরুদ্ধে আবার রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
এই সরকার আমাদের সরকার মন্তব্য করে মাহমুদুর রহমান বলেন, শহীদ আবু সাঈদের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত এই সরকার। তাদের ভুলত্রুটি হতে পারে, সেটা দেখিয়ে দিতে হবে। সরকারে ফ্যাসিবাদের কোনো দোসর থাকলে তাদের সরিয়ে দিতে হবে। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু সরকারের এমন কিছু করা উচিত হবে না যাতে আমাদের আস্থায় ফাটল ধরে।
তিনি আরো বলেন, যে দলই ক্ষমতায় আসুক, বিএনপি, জামায়াত যারাই আসুক দিল্লির পক্ষে যারা কথা বলবে তাদের সাথে আমাদের লড়াই চলবে। দিল্লীর ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। আমি যতদিন জীবিত আছি ততদিন আমার লড়াই চলবে। আমি সবাইকে কথা দিচ্ছি আপনাদের ভালোবাসার ঋণ পরিশোধ ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণের কাতারে থেকে জনগণের জন্য আমৃত্যু লড়াই করব।
মতবিনিময় সভায় আমার দেশের বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আবদুল্লাহ, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বাকের হোসাইন ও সরদার ফরিদ আহমেদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ ও ইলিয়াস খান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি মুরসালিন নোমানী, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব বাছির জামাল, অ্যাব নেতা ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজু, এমবিএ অ্যাসোসিয়েশনের সৈয়দ আলমগীর, এটিএন বাংলার নির্বাহী পরিচালক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ প্রমুখ।
এদিকে অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় প্রেসক্লাব, বিএফইউজে, ডিইউজে, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, ময়মনসিংহ সাংবাদিক ইউনিয়ন, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন-অ্যাবের কেন্দ্র, চট্টগ্রাম, ডিপিডিসি, তিতাস, বুয়েটসহ বিভিন্ন শাখা, এমবিএ অ্যাসোসিয়েশন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি, জাতীয় প্রেস ক্লাব কর্মচারী ইউনিয়ন প্রভৃতি সংগঠনের পক্ষ থেকে মাহমুদুর রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ ছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে তার হাতে সদস্য কার্ড তুলে দেয়া হয়।

দেশের ক্রান্তিলগ্নে সেনাবাহিনী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেঃ প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ‘সেনা সদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৪’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রথম পর্বের এই পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদবির যোগ্য কর্মকর্তারা পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন। আইএসপিআর জানিয়েছে, পদোন্নতি পর্ষদের বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা ছাত্র-জনতার বিপ্লবে সিক্ত নতুন বাংলাদেশে সবাইকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি গভীর শ্রদ্ধাভরে জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সবাইকে স্মরণ করেন। তিনি স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সশস্ত্র বাহিনী তথা সেনাবাহিনীর শহীদসহ বীর সেনানীদের, যাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। প্রধান উপদেষ্টা পদোন্নতির জন্য কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততার ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া সৎ, নীতিবান ও নেতৃত্বের অন্যান্য গুণাবলিসম্পন্ন কর্মকর্তারাই উচ্চতর পদোন্নতির দাবিদার বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাছাড়া রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে যেসব কর্মকর্তা সামরিক জীবনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যোগ্য নেতৃত্ব প্রদানে সফল হয়েছেন, সেই কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য নির্বাচন করার নির্দেশনা দেন। আইএসপিআর জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে সেনাবাহিনী দেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে দেশকে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা করেছে। ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আবারো দেশের মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী, চিফ অব জেনারেল স্টাফ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করায় প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সেনাপ্রধান। সেনা সদর নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সচিব উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান উপদেষ্টা সেনাবাহিনীর উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে মন্তব্য লেখেন।

দেব-দেবীর জন্য পরচুলা তৈরি করে মুসলমান প্রধান যে গ্রাম

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসব হলেও দেব-দেবীর কেশসজ্জার জন্য পরচুলা তৈরির করেন পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার কুলাই গ্রামের শেখপাড়ার মুসলমান বাসিন্দারা। বহু যুগ ধরে বংশপরম্পরায় তারা এই কাজ করছেন।
মুসলিম প্রধান এ গ্রামের বেশিরভাগ বাসিন্দাই পরচুলা তৈরির সঙ্গে যুক্ত।
দুর্গাপুজোর সময় তো ব্যস্ততা থাকেই, পাশাপাশি সারা বছর বিভিন্ন মন্দিরে বিগ্রহের জন্য চুল সরবরাহ করেন গ্রামের বাসিন্দারা। পাশাপাশি চামরও তৈরি করেন তারা।
তাদেরই একজন মালেকা বেগম। তার রোজনামচা বাঁধা, সকাল থেকেই একদিকে বাড়ির কাজ সামলানো আর অন্যদিকে স্বামী আর ছেলের সঙ্গে কাজে হাত লাগানো।
‘৩২ বছর হলো বিয়ে হয়ে এসেছি এই বাড়িতে। তখন থেকেই ঠাকুরের (দেব-দেবীর বিগ্রহের) জন্য চুল আর চামর বানানোর কাজ শুরু করেছি। আমার শ্বশুর, শাশুড়ি, স্বামীর সঙ্গে কাজ করতাম। এখন তো ছেলে, ছেলের বউও আমাদের সঙ্গে কাজ করে,’ বলেছিলেন মালেকা বেগম।
বারান্দার এক পাশে কাজ করে চলেছেন তার স্বামী এব্রাহিম মল্লিক। বললেন, ‘এই মরশুমে পরপর অনেক কাজের অর্ডার আসে। কিছুদিন আগেই জন্মাষ্টমীর জন্য গোপাল আর রাধারানির চুলের অর্ডার ছিল। তারপর পুজোর (দুর্গা পুজো) অর্ডার। এই ব্যস্ততা এখন চলবে।’
পাশের একটা ছোট ঘরে তার ছোট ছেলে মণিরুল মল্লিক এক মনে চামর তৈরির কাজ করে চলেছেন। মাঝে মাঝে এ কথোপকথনে যোগ দিচ্ছিলেন।
তিনি বলছিলেন, তাদের কাজ কীভাবে দিল্লি, মুম্বাই, রাজস্থানে যায়। তাদের কাজের সুনামের কথাও। বড় ছেলে বাজারে গিয়েছেন দুর্গাপূজার অর্ডারের কাজ দোকানে পৌঁছে দিতে।
গ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত রুস্তম আলি ছিলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী। কুলাইয়ে পরচুলা শিল্প যাদের হাত ধরে বিকশিত হয়েছে, প্রয়াত এই শিল্পী তাদের মধ্যে অন্যতম।
তার ছেলে শেখ মেহরাজ আলী জানিয়েছেন, প্রায় গোটা বছরই হিন্দু দেব-দেবীর জন্য কৃত্রিম কেশ তৈরির বায়না আসে।
‘এক একটা মরশুমে এক ধরনের অর্ডার আসে। দুর্গাপূজার আগে একটা মাস দেবীর পরচুলার কাজ হয়। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ছত্তিশগড়, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশে দেব-দেবীদের চুল যায়। তার আগে জন্মাষ্টমীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমাদের অর্ডার থাকে। কালীপূজায় পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বাইরে থেকে অর্ডার আসে,’ বলেছিলেন তিনি।
শেখ মেহরাজ আলী জানিয়েছেন, কুলাই গ্রামের শেখ পাড়ার বাসিন্দাদের সিংহভাগই পরচুলা তৈরি করেন।
মুসলিম প্রধান এই অঞ্চলে কাঁচা-পাকা মিলিয়ে প্রায় ৪০০-এর কাছাকাছি বাড়ি। গ্রামের কমপক্ষে ২৫০টা পরিবার সরাসরি এই কাজের সঙ্গে যুক্ত।
পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুরসহ একাধিক জেলাতে দেব-দেবীর পরচুলা তৈরি হয়।
‘কুলাই গ্রামে মুসলমান শিল্পীরা হিন্দু দেব-দেবীদের জন্য পরচুলা তৈরি করেন। এই স¤প্রীতি মানুষের মন ছুঁয়ে গিয়েছে। মুসলমান শিল্পীরা যেভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে এই কাজ করেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এটাই কুলাইকে অন্য জায়গাগুলোর চেয়ে আলাদা করে। রুস্তম আলী রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাওয়াও কুলাইকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে,’ বলেছেন হাওড়ার বাসিন্দা সৌম্য গাঙ্গুলি।
‘বংশ পরম্পরায় এটাই আমাদের পেশা’
একসময় মূলত যাত্রাপালা এবং নাটকের জন্য পরচুলা তৈরি করতেন গ্রামের বাসিন্দারা। তবে গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এদের অনেকেই শুধুমাত্র হিন্দু দেব-দেবীদের বিগ্রহের জন্য চুল তৈরি করেন। দেব-দেবীর বিগ্রহের কেশসজ্জা নিখুঁত করে তোলাই তাদের কাজ।
‘বাবা ঠাকুরের চুল তৈরি করতেন। তার কাছ থেকেই কাজ শিখেছি। উনি শিখিয়েছিলেন কীভাবে নিখুঁত করে সাজিয়ে তুলতে হয় গোপাল আর রাধারানির চুল। বিভিন্ন মাপের মূর্তির চুল তৈরি করতে হয়। তার ধরন আর সাজও আলাদা আলাদা,’ বলছিলেন এব্রাহিম শেখ।
‘আমি ৫০ বছর ধরে ঠাকুরের চুল বানাই। আমার ছেলেরাও একই কাজ করে। এটা বংশ পরম্পরায় চলে আসছে। এই গ্রামের ঘরে ঘরে লোকেরা একই কাজ করে, উঁকি দিলেই দেখতে পাবেন।’
হাওড়ার পাঁচলা থানার অন্তর্গত কুলাইয়ের শেখপাড়ার অধিকাংশ বাসিন্দারাই বেশ কয়েক প্রজন্ম ধরে এই কাজ করে এসেছেন।
তিন প্রজন্ম ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত মেজাফ্ফর শেখের পরিবার। তিনি বলেছিলেন, ‘এটা আমাদের খানদানি কাজ। আমার বাবা হামিদ শেখ, দাদা খোদাবক্ত দুজনেই পরচুলা বানাতেন। নামকরা শিল্পী ছিলেন তারা। এখন আমি বানাই। তবে, গত বাইশ-তেইশ বছর ধরে শুধু ঠাকুরের চুলই বানাই।’
‘আগে ঠাকুরের চুলের পাশাপাশি যাত্রাপালা আর নাটকের জন্যও পরচুলা তৈরি হতো। এখন তো যাত্রা তেমন হয় না। লকডাউনের পর থেকে নাটকের জন্য পরচুলার অর্ডারও আগের চেয়ে কম পাই। তাই পুরোটাই ঠাকুরের চুল তৈরির উপর নির্ভর করতে হয়।’
মথুরা, বৃন্দাবন, হরিদ্বার, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান এবং ওড়িশা থেকে সবচেয়ে বেশি রাধা আর কৃষ্ণের কেশসজ্জার কাজের বায়না আসে বলে তিনি জানিয়েছেন।
রুস্তম আলীর মেয়ে রমিশা বেগম বেশ গর্বের সুরেই বললেন, ‘এই পেশা আমাদের বংশ পরম্পরায় চলে আসছে। বাবা নাম করা শিল্পী ছিলেন। ওকে দেখেই গ্রামের বহু ছেলে এই কাজকেই পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছে। বাবার হাত ধরে অনেকে নিজের ব্যবসাও শুরু করেছে।’
রমিশা বেগমের ভাই এবং তাদের পরের প্রজন্ম এখন সেই পরম্পরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর এখন আমার ভাই আর তাদের ছেলেরা এই কাজ করছে। সারাটা বছরই কাজ থাকে তবে জন্মাষ্টমী আর পুজোর (দুর্গা পুজো) সময় সবচেয়ে বেশি কাজ আসে।’
বাড়ির বাইরে দাওয়ায় বসেছিলেন শেখ জাকির আলী।
তার কথায়, দুর্গাপূজার জন্য পরচুলার অর্ডার আসে মূলত জুলাই-আগস্ট মাস থেকে। মহালয়ার আগেই বেশিরভাগ অর্ডারের কাজ শেষ করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গের বাইরের অর্ডার হলে আরও একটু আগে কাজ শেষ করি আমরা।’
স¤প্রীতির বার্তা
মুসলিম প্রধান এই গ্রাম সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতির একটা বড় উদাহরণ।
মেজাফ্ফর শেখের কথায়, ‘আমরা দেবতা ভেবে কাজ করি। আমার কাছে যেমন আমার দেবতা, যার জন্য কাজ করছি তারও দেবতা। দেব-দেবীর মাথায় চড়ানো হবে যে চুল, সেই কাজ আমরা সম্মানের সঙ্গে করি। সাফসুতরো হয়ে তবে কাজে বসি।’
‘আমার বাপ-দাদার আমল থেকে হিন্দু-মুসলমানদের একসঙ্গে দেখে এসেছি। এখনও তাই-ই হচ্ছেৃমুসলমানরা দুর্গা ঠাকুরের চুল বানাচ্ছে, জরি দিয়ে শাড়ি বানাচ্ছে। আর সেটা তো আজ থেকে না, আমার বাবা-দাদার সময় থেকে হচ্ছে।’
তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা, ‘আমাদের মধ্যে ধর্ম নিয়ে বাছাবাছি নেই। জাতধর্ম নিয়ে রাজনীতিকরাই কাজ করে। আমরা করি না।’
‘প্রয়াত শিল্পী রুস্তম আলী সবসময় স¤প্রীতির বার্তা দিতেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন, এখানে হিন্দু-মুসলিম নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। তিনি এই পেশাকে সম্মান জানিয়েই পরচুলা তৈরি করেন। কুলাইয়ে এখন যে শিল্পীরা আছেন, তাঁরাও হিন্দু দেব-দেবীর প্রতি সম্মান জানিয়েই কাজ করেন,’ বলেছেন সৌম্য গাঙ্গুলি।
কীভাবে হয় এই কাজ?
সাধারণত পাট বা নাইলনের সুতো দিয়ে বিগ্রহের জন্য চুল তৈরি হয়। তবে কুলাই গ্রামে মূলত পরচুলা তৈরি হয় নাইলনের সুতো দিয়ে। প্রথমে সেগুলো ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নেওয়া হয়। এরপর গুছিয়ে নিয়ে বিনুনি করা হয়। তারপর চুল তৈরির চূড়ান্ত কাজ করা হয়।
পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। বিনুনি পাকানোর কাজ মূলত নারীরাই করেন। এটাই পরচুলা তৈরির ক্ষেত্রে আসল কাজ।
কাঁচা মাল হয় সাধ্য মতো শিল্পীরা নিজেরা কিনে আনেন, বা বাড়ি এসে জোগান দিয়ে যায় ব্যবসায়ীরা। অর্ডারের ক্ষেত্রেও তাই।
আগে ডাকযোগের মাধ্যমে পরচুলা, চামর পাঠানো হতো। এখন হোলসেলার বা পাইকারি বিক্রেতারা বাড়ি এসে নিয়ে যান অথবা শিল্পীদের সঙ্গে কর্মরত কারিগরদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেরাই পৌঁছে দেন।
নারীদের ভূমিকা
মেজাফ্ফর শেখ ব্যাখ্যা করেছেন, পরচুলা তৈরির কাজ, বিশেষত দেব-দেবীর কেশসজ্জার জন্য যে চুল তৈরি হয় সেখানে বাড়ির মেয়েরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
‘মেয়েরা ছাড়া এই কাজ হওয়া সম্ভব নয়। নাইলনের ওই চুল আঁচড়ানো, তারপর বিনুনি পাকানো নিখুঁত কাজ ওটা মেয়েরা ছাড়া হবেই না। চামর তৈরির জন্যও নাইলনের সুতো পাকানো খুব ধৈর্যের কাজ,’ বলছিলেন তিনি।
এরপর একটু থেমে জানালেন, তার স্ত্রীও কাজে হাত লাগাতেন। মাস তিনেক হলো স্ত্রীকে হারিয়েছেন। যে ঘরে বসে এই কথাগুলো বলছিলেন তিনি, সেখানে বসে তার স্ত্রীও কাজ করতেন।
‘তিন মাস আগে একদিন সকালে গোসল করে কাজে বসেছিল। রাধারানি আর গোপালের চুল তৈরি করছিল। কাজ করতে করতেই হঠাৎ লুটিয়ে পড়ল। কাছাকাছি হাসপাতালে নিয়ে গেলাম, কিন্তু সব শেষ।’
স্ত্রীর শেষ কাজগুলো, তার চশমা, একটা প্লাস্টিকের ঝুড়িতে সযতেœ গুছিয়ে রেখেছেন তিনি।
স্বজন হারানোর বেদনা তার নিত্য নৈমিত্তিক জীবনে ছাপ ফেলেছে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানালেন, ছেলে দর্জির কাজ করে। তাই তার একমাত্র আশা ভরসা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া নাতি।
স্কুল থেকে ফিরলে দাদুর পাশে বসে কাজ দেখে সে। ‘ছেলে তো এই কাজে এলো না। এখন একমাত্র ভরসা আমার এই নাতি। ওকে পাশে বসিয়ে দেখাই। নাতি যদি এই কাজে আসে তবেই আমাদের খানদানি কাজ এগোবে।’
কী বলছে নতুন প্রজন্ম
লকডাউনের প্রভাব এই শিল্পেও পড়েছে। মেজাফ্ফর শেখে বলেন, ‘লকডাউনের সময় অনেকদিন কাজ ছিল না। আমাদের আর পুঁজি কোথায়? খুব কষ্টে কাটিয়েছি। আরও একটা বিষয় হলো বাংলায় এই কাজের দাম পাই না। রাজ্যের বাইরে তবু দাম একটু ভালো।’
একই কথা জানিয়েছেন এব্রাহিম মল্লিক। তিনি বলেন, ‘ঠাকুরের চুল আর চামর বিভিন্ন সাইজের হয়। সাইজের উপর নির্ভর করে ৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা অব্দি চুলের মূল্য পাই। আর চামরের সাইজ এবং হ্যান্ডেলের উপর নির্ভর করেভ ৩৫ টাকা থেকে ২৫০ টাকা অব্দি দাম পাই।’
‘অসুবিধা হয় না তা বলব না, কিন্তু পেট চলে যায়। খোদার মেহেরবানিতে একটু বুঝে সুঝে চললে সংসার চালিয়ে দেওয়া যায়। লকডাউনে ব্যবসা খুব মার খেয়েছে। এখন তার চেয়ে পরিস্থিতি ভালো,’ তিনি বলেন।
বাসিন্দাদের কেউ কেউ আবার উদ্বিগ্ন নতুন প্রজন্ম এই শিল্পকে কী তাদের পেশা করবে?
রমিশা বেগমের ইচ্ছা, ইংরেজি মাধ্যমে পড়া নাতিও এই একই পেশা বেছে নিক। যাতে বংশ পরম্পরায় চলে আসা এই শিল্প থমকে না যায়।
এই এলাকার একটা ঘরে দুই প্রজন্মের দুই কারিগর চামর তৈরির কাজ করছিলেন। তাদের মধ্যে একজন বছর ষোলোর শেখ আজিম। তার কথায়, ‘আমি অভাবের জন্য লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছি। গত চার বছর চামর বানানোর কাজ করছি। আমার ভালোই লাগে এই কাজ করতে।’
কুড়ির কোঠায় থাকা মণিরুল মল্লিকও কিন্তু নিজের পেশাতেই খুশি। কাজের ফাঁকে মোবাইলে হিন্দি সিরিয়াল দেখতে ভালবাসেন তিনি।
‘বাবা-দাদা যে কাজ করে এসেছেন, আমিও সেই কাজই করতে চাই। আমার ইচ্ছে অন্য রাজ্যে আরও বেশি করে কাজ পৌঁছে দেওয়ার যাতে সবাই কুলাইয়ের কথা জানতে পারে,’ তিনি বলেছিলেন।

প্রথমবারের মতো ক্যাসিনোর লাইসেন্স দিল আরব আমিরাত

প্রথমবারের মতো একটি ক্যাসিনো প্রতিষ্ঠানকে জুয়ার ব্যবসা করার লাইসেন্স দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উইন রিসোর্টস পেয়েছে এ লাইসেন্স।
শুক্রবার উইন রিসোর্টসের পক্ষ থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্তির বিষয়টি জানানো হয়। ক্যাসিনো অপারেটররা দীর্ঘদিন ধরে আমিরাতে একটি রিসোর্ট নির্মাণের চেষ্টা করে যাচ্ছিল। এটি এখন বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে খালিজ টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুয়ার লাইসেন্সের অনুমতি দেওয়ার জন্য গত বছর প্রতিষ্ঠিত হয় ‘জেনারেল কমার্শিয়াল গেমিং রেগুলেটরি অথরিটি’। এই অথরিটিই প্রথমবারের মতো লাইসেন্স জারি করলো।
এতে আরো বলা হয়, ৬২ হেক্টর এলাকাজুড়ে আরব উপসাগরে বিস্তৃত এই বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পটি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হবে।
এছাড়া লাস ভেগাস ভিত্তিক ক্যাসিনো প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা রাস আল খাইমা অঞ্চলের উইন আল মারজান দ্বীপে একটি বিলাসবহুল অবকাশকেন্দ্র (রিসোর্ট) নির্মাণ করছে। সেখানেই প্রতিষ্ঠিত হবে আরব আমিরাতের প্রথম ক্যাসিনো।
স¤প্রতি বেশকিছু উদার আইনগত সংস্কার এনেছে আরব আমিরাত। ধারণা করা হচ্ছে এর ফলে বাণিজ্য, পর্যটন ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে ইউরোপ, এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে পর্যটক বাড়বে উপসাগরীয় দেশটিতে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এমজিএম রিসোর্টসও আবুধাবিতে তাদের একটি অবকাশকেন্দ্রে ক্যাসিনো লাইসেন্স দেওয়ার জন্য আবেদন করেছে।