Home Blog Page 523

ভারতে ১১ চালানে রফতানি হলো ৫৩৩ টন ইলিশ

বাংলাদেশ সরকারের দুই হাজার ৪২০ টন ইলিশ পাঠানোর ঘোষণার বিপরীতে বন্দর দিয়ে ১১ চালানে ভারতে সর্বমোট ৫৩৩ টন ইলিশ রফতানি হয়েছে।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শনিবার (১২ অক্টোবর) রাত ১০টা পর্যন্ত ১১ ট্রাকে ৩৬ টন ইলিশ ভারতে রফতানি হয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল দিয়ে গত বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে শনিবার (১২ অক্টোবর) রাত ১০টা পর্যন্ত ১১ চালানে পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার কেজি অর্থাৎ ৫৩৩ টন ইলিশ ভারতে রফতানি হয়েছে।

২০টি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ১৬৮টি ট্রাকে করে পেট্রাপোল বন্দরে ভারতে এই ইলিশের চালান পাঠানো হয়েছে বলে বন্দর সূত্রে জানা যায়।

আরো জানা যায়, প্রতিকেজি ইলিশের রফতানি মূল্য ১০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় এক হাজার ১৮০। যেখানে মোট ডলার আসে ৫৩ লাখ ২০ হাজার, যা বাংলাদেশী প্রায় ৬৩ কোটি টাকা।

শনিবার (১২ অক্টোবর) বেনাপোল মাছ বাজারে এক কেজির নিচে ইলিশ বিক্রি হয়েছে এক হাজার দুই শ’ থেকে এক হাজার তিন শ’ টাকায়। কেজির ওপরে বিক্রি হয়েছে এক হাজার আট শ’ থেকে দুই হাজার টাকায়। একই আকারের ইলিশ ছয় শ’ থেকে আট শ’ টাকা কমে ভারতে রফতানি হয়েছে।

এ নিয়ে জানতে চাইলে বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা আসওয়াদুল কম দামে ইলিশ রফতানির পরিপত্রটি কয়েক বছর আগের বলে দাবি করেন।

বেনাপোল চেকপোস্ট কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, ১২ অক্টোবরের মধ্যে ইলিশ রফতানি শেষ করতে হবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছিল। সেই অনুযায়ী শেষ দিনে শনিবার (১২ অক্টোবর) রাত ১০টা পর্যন্ত ১১টি ট্রাকে ৩৬ টন ইলিশ ভারতে রফতানি হয়েছে। এ নিয়ে মোট ১১ চালানে ভারতে পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার কেজি অর্থাৎ ৫৩৩ টন ইলিশ রফতানি হয়েছে।

সূত্র : ইউএনবি

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী আজ। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গা উৎসব।

বিজয়া দশমীতে সারাদেশে স্থানীয় আয়োজন ও সুবিধামতো সময়ে বিজয়ার শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হবে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, বিসর্জনের উদ্দেশ্যে ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গন থেকে কেন্দ্রীয় বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে বিকাল ৪টায়।

এর আগে ঢাকার ২৫২টি পূজামণ্ডপের অধিকাংশ এসে জমা হবে পলাশী মোড়ে। সেখান থেকে সম্মিলিতভাবে শুরু হবে বিজয়ার শোভাযাত্রা।

এরপর সদরঘাটের ওয়াইজঘাটের বুড়িগঙ্গা নদীতে একে একে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হবে। মণ্ডপে-মণ্ডপে এখন বাজছে বিদায়ের ঘণ্টা। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সন্ধ্যার আগেই প্রতিমা বিসর্জনের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

গত বুধবার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হয়েছে দোলায়।

হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতি শরতে কৈলাস ছেড়ে কন্যারূপে মর্ত্যলোকে আসেন দেবী দুর্গা। তার এই ‘আগমন ও প্রস্থানের’ মধ্যে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত পাঁচ দিন চলে দুর্গোৎসব।

সূত্র : বিবিসি

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম

চট্টগ্রামে অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধ, ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন।

শনিবার (১২ অক্টোবর) হাটহাজারীতে উপজেলার সিটি করপোরেশনের পাহাড়তলী ওয়ার্ড, ফতেয়াবাদ পল্লী সংগঠন সমিতি, হাটহাজারী পৌরসভার ফটিকা পূজামণ্ডপ ও মির্জাপুর সোমবাড়ী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব সাদিউর রহিম জাদিদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম মশিউজ্জামান, পৌর প্রশাসক সহকারী কমিশনার ভূমি মেহেরাজ শারবীন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি, মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অ.দা.) নিয়াজ মোর্শেদ।

পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মাস্টার অশোক কুমার নাথ, যুগ্ম আহ্বায়ক সাংবাদিক বাবলু দাশসহ পূজা কমিটির বিভিন্ন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান এবং শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা সম্পন্ন করতে পূজা কমিটির নেতাদের দিক নির্দেশনা দেন।

টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ধবলধোলাই বাংলাদেশ

জয়ের জন্য ইতিহাস গড়তে হতো বাংলাদেশকে। ভাঙতে হতো টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার পুরনো সব রেকর্ড। তবে তার ধারে কাছেও যেতে পারল না টাইগাররা। হেরেছে ১৩৩ রানের বড় ব্যবধানে।

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে আজ ভারতের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। যেখানে টসে জিতে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২৯৭ রান করে স্বাগতিকরা। জবাবে ৭ উইকেটে ১৭০ রান পর্যন্ত করতে পারে বাংলাদেশ। যা সিরিজে টাইগার্দের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।

অবশ্য যেখানে নিজেদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ২১৫, সেখানে ২৯৮ রানের লক্ষ্য! কঠিনই বটে। তাছাড়া ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে কোনো দলের সেরা সংগ্রহ যেখানে ২৪৫, দ্বিতীয় ইনিংসে যা কমে দাঁড়ায় ২২৫ রানে। ফলে বাংলাদেশকে করতে হতো অবিশ্বাস্য কিছুই।

হায়দরাবাদে ইতিহাস গড়েই থামে ভারত। ভেঙে দেয় আগের সব রেকর্ড। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তুলে স্কোরবোর্ডে, ভারতের ইতিহাসে যা সবার সেরা। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মাঝেও সর্বোচ্চ।

এদিন টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে অভিষেক শর্মা আর সাঞ্জু স্যামসন মিলে ২ ওভারে যোগ করেন ২৩ রান। তৃতীয় ওভার বল করতে এসে প্রথম বলেই অভিষেককে (৪) ফেরান তানজিম। এরপরের গল্পটা কেবল ভারতের। পাওয়ার প্লেতে আসে ৮২ রান।

সপ্তম ওভারে মাত্র ২২ বলে ফিফটি পূরণ করেন সাঞ্জু স্যামসন। এরপর যেন আরো বেশি ক্ষুধার্ত হয়ে উঠেন তিনি। সূর্য কুমারের সাথে মাত্র ৪৩ বলে শতরানের জুটি গড়েন তিনি। তাতে মাত্র ১০ ওভারেই ভারত পেরিয়ে যায় দেড় শ’ রানের গণ্ডি।

খানিক বাদেই প্রথম আন্তর্জাতিক শতকের স্বাদ পেয়ে যান সাঞ্জু। মাত্র ৪০ বলে স্পর্শ করেন তিন অংকের ঘর। যা ভারতের হয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ষষ্ঠ দ্রুততম শতক। শেষ পর্যন্ত থানে ১১ চার ৮ ছক্কায় ১১১ রানে।

১৩.৪ ওভারে সূর্যর সাথে গড়ে তুলা ৭০ বলে ১৭৩ রানের জুটি ভেঙে ফেরেন সাঞ্জু। মোস্তাফিজ থামান তাকে। পরের ওভারেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ পান তার শেষ টি-টোয়েন্টি উইকেটের দেখা। ফেরান ৩৫ বলে ৭৫ রান করা সূর্য কুমারকে।

এরপর রান উৎসবে যোগ দেন রিয়ান পরাগ ও হার্দিক পাণ্ডিয়া। তাদের মাত্র ২৬ বলে ৭০ রানের জুটিতে ভর করে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেদের সর্বোচ্চ রানে পৌঁছায় ভারত।

পরাগ ১৩ বলে ৩৪ রানে ও হার্দিক থামেন ১৮ বলে ৪৭ করে। অন্যদিকে বল হাতে তানজিম সাকিব ৩ উইকেট পেলেও রান দেন ৬৬। যা বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান ব্যায়ের রেকর্ড।

অন্যদিকে মাত্র ২ ওভারে ৪৬ রান দেন রিশাদ। তাসকিন ৫১, মোস্তাফিজ ৫২ ও শেখ মেহেদী দেন ৪৫ রান।

ভারতের ইতিহাস গড়া পুঁজি তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত শুরুর প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। তবে হয় তার উল্টো, প্রথম বলেই উইকেট হারায় টাইগাররা। এই ম্যাচেও ব্যর্থতার ধারা ধরে রাখেন পারভেজ ইমন, ফেরেন গোল্ডেন ডাক মেরে।

তবে লিটন দাস ও তানজিদ তামিম মিলে পরের ১৮ বলে যোগ করেন ৩৫ রান। তামিম ফেরেন ১২ বলে ১৫ করে। ইনিংস বড় করতে পারেননি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ১১ বলে ১৪ রানে শেষ হয় তার ইনিংস। ৫.২ ওভারে ৫৯ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

তবে লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় মিল খানিকটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। হৃদয় দেখেশুনে খেললেও লিটন দাস ছিলেন আগ্রাসী। তবে ২৫ বলে ৪২ রানেই থামতে হয় তার। ১১.৪ ওভারে ভাঙে তাদের ৩৮ বলে ৫৩ রানের জুটি।

শেষবারের মতো টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা মাহমুদউল্লাহ পারেননি প্রত্যাশা পূরণ করতে৷ দুই অংকের ঘরেও যেতে পারেননি, মায়াঙ্ক যাদবের বলে ফেরেন ৯ বলে মাত্র ৮ রানে। বিদায় বেলাটা খুব একটা সুখকর হলো না অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারের।

তবে প্রথম দুই ম্যাচে খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও হায়দরাবাদে রান পেয়েছেন হৃদয়। ৩৫ বলে তুলে নেন ফিফটি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৪২ বলে ৬৩ রানে। তাতে বাংলাদেশ শেষ ৯ টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবার পেরিয়েছে দেড় শ’ রানের গণ্ডি।

রবি বিষ্ণুই ৩ ও মায়াঙ্ক যাদব নেন জোড়া উইকেট।

ফলে ভারত সফরে জয়ের মুখ আর দেখল না বাংলাদেশ। প্রথমে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই হবার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ঘটলো একই ঘটনা। সেই সাথে বিদায়ী ম্যাচে জয় উপহার দেয়া হলো না মাহমুদউল্লাহকে।

এবারের দুর্গাপূজায় প্রায় দ্বিগুণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

এবারের দুর্গাপূজায় প্রায় দ্বিগুণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, এর আগে দুর্গাপূজায় ২ থেকে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হতো। এবারের পূজায় সরকার ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘এবার পূজায় নিরাপত্তা অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি। প্রশাসনও আন্তরিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে। পূজামণ্ডপের আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশসহ বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত করা হয়েছে।

শনিবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের সন্তোষপাড়া দুর্গামন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে জেলার শ্রীনগর উপজেলায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এসময় তার সাথে আরো ছিলেন- ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এ কে এম আওলাদ হোসেন, জেলা প্রশাসক ফাতেমা তুল জান্নাত, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ, ওসি খন্দকার হাফিজুর রহমান, জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট বিউটি আক্তার, সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ধীরন, জামায়াতে ইসলামী সিরাজদিখান উপজেলার সভাপতি মাওলানা কবির হোসেন, ইছাপুরা ইউপি চেয়ারম্যান মো: সুমন মিয়া, সিরাজদিখান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক জ্ঞানদীপ ঘোষ, সিরাজদিখান প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-মাসুদ ও সিরাজদিখান রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো: নাছির উদ্দিনসহ আরো অনেকে।

সূত্র : ইউএনবি

কালেমাখচিত কালো পতাকা মিছিলের নেপথ্যে কারা

রাজধানীসহ সারা দেশে সম্প্রতি কালেমাখচিত কালো পতাকা নিয়ে মিছিলগুলো সঙ্ঘবদ্ধ করছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ। পুলিশ এবং গোয়েন্দাদের তদন্তে এমনই তথ্য বেরিয়ে আসছে। এই পতাকা মিছিলের ছবি ও ভিডিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে দিয়ে তারা বাংলাদেশে মৌলবাদীদের উত্থান হিসেবে দেখাতে চায়। স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কিছু না বুঝেই আওয়ামী লীগের দেশবিরোধী এই পরিকল্পনার ফাঁদে পা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলকে তারা বোঝাতে চাচ্ছে বাংলাদেশে তারা ক্ষমতায় না থাকলে এখানে জঙ্গি উত্থান ঘটবে এবং সেই উত্থান ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় এই কালো পতাকা নিয়ে মিছিলের ঘটনা ইতোমধ্যে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় তুলেছে। স্কুল-কলেজ ও বেসরকারি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা রাস্তায় এসব মিছিল করছে।

মিছিল থেকে ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধ, ইসলামের নবী মুহাম্মদ সা:কে কটূক্তির প্রতিবাদ কিংবা ইসলামী খেলাফত কায়েমেরও দাবি তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশে ইসলামী খেলাফত কায়েম করতেই তারা এই পতাকা নিয়ে মিছিল করছে বলে দাবি করছে। কেউ কেউ বলছেন, এর পেছনে নিষিদ্ধঘোষিত হিজবুত তাহরীরের সংশ্লিষ্টতা থাকলেও মূল পরিকল্পনাকারী হচ্ছে আওয়ামী লীগ। ব্যাপক গণহত্যার দায়ে এই দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এমনকি আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিও উঠেছে। বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্লাসে ঢুকলে ওই ক্লাস বর্জন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

পুলিশ ও গোয়েন্দারা বলছেন, এতকিছুর পরেও বসে নেই আওয়ামী লীগ। তার ছাত্র সংগঠনকে দিয়ে এখন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্ঘবদ্ধ করছে দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ করার জন্য। এ জন্য তারা বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বেসরকারি শিক্ষার্থীদের মাঠে নামিয়েছে কালো পতাকা হাতে দিয়ে! রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার একটি কলেজের শিক্ষার্থীরা গত সোমবার এরূপ একটি মিছিল নিয়ে রাস্তায় নামে। সবুজবাগ বৌদ্ধমন্দির এলাকায় ওই মিছিলকারীদের একজনের সাথে কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থী জানান, তারা নবীর প্রেমে এবং ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রতিবাদ জানাতে মাঠে নেমেছেন। কিন্তু ওই মিছিলে কালো পতাকা কারা সরবরাহ করছে তা জানেন না ওই শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, কালো পতাকা তারা বানাননি। কারা দিয়েছে তাও জানেন না। মিছিল শুরুর পরে কয়েকজনের হাতে ওই পতাকা দেখা যায়। কিন্তু মিছিলকারীরা অতকিছু চিন্তা করেননি। তারা কালেমাখচিত পতাকা দেখেছেন, ভেবেছেন ভালোকিছু!

গত ৬ অক্টোবর রোববার বিকেলে ঢাকার অফিসার্স ক্লাবের সামনের রাস্তাসহ কয়েকটি এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক শ’ শিক্ষার্থী এমন পতাকা হাতে মিছিল করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যারা কালো পতাকা নিয়ে মিছিল করছে তারা নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন হিজবুত তাহরিরের সদস্য। রাজধানীতে কালো পতাকা নিয়ে মিছিলে যাদের অংশ নিতে দেখা গেছে তাদের বেশির ভাগই ঢাকার নামিদামি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। আর কিশোরগঞ্জের মিছিলে কারা কথিত আইএসের পতাকা ব্যবহার করেছে সে বিষয় নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। আইএসের পতাকা হাতে প্রকাশ্যে মিছিল ও তৎপরতার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কিশোরগঞ্জের এসপি গতকাল বলেন, এটি বুঝে করেছে, না বুঝে করেছে, এর পেছনে কারো ইন্ধন আছে কি না তা নিয়ে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, দেশের ভাবমর্যাদা নষ্ট করার ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না-সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক এ বিষয়ে বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সূত্র ধরে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র সংস্কারের যে কাজ শুরু হয়েছে সেটিতে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে একটি মহল। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ওই চক্রান্তকারী মহলের কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের হাতে আইএস পতাকা প্রদর্শন করছে, বিভিন্ন বিতর্কিত স্লোগান দেয়াচ্ছে। বাস্তবতা হলো- যে শিক্ষার্থীদের দিয়ে এই কাজগুলো করানো হচ্ছে, এত অল্প বয়সে তাদের বোঝার কথা নয়; তারা কী মারাত্মকভাবে রাষ্ট্রীয় নীতির বিপক্ষে গিয়ে কাজগুলো করছে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।

ফিলিস্তিনসহ কয়েকটি দেশে ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে সম্প্রতি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম থেকে একটি মিছিল বের করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ওই মিছিল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কালো পতাকা নিয়ে মিছিল করতে দেখা গেছে। জাতীয় সংসদ ভবনের সামনেও এমন একটি মিছিল দেখা যায়। ওই মিছিল বের করে সেখানকার একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। ‘সচেতন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা, সেন্ট জোসেফ হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুল’ ব্যানার নিয়ে এই মিছিলটিতে বিভিন্ন সেøাগান, প্ল্যাকার্ড ও কালেমাখচিত পতাকা ছিল। তাদের হাতে বাংলাদেশের পতাকা, ফিলিস্তিনের পতাকা এবং কালেমা লেখা পতাকাও ছিল। তারা যে ব্যানার নিয়ে মিছিল করছিল সেখানে লেখা ছিল ইসলামের নবীকে ভারতীয় পুরোহিত কর্তৃক কটূক্তি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের জবাবে তাদের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল। সেই মিছিলে তাদের সেøাগান দিতে শোনা যায়, ‘মুক্তির এক পথ, খিলাফত-খিলাফত’, ‘তুমি কে আমি কে, মুসলমান-মুসলমান’। একই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি এলাকায় একই রকম একটি মিছিল দেখা যায়। যেই মিছিলে শিক্ষার্থীদের হাতে আইএসের পতকার আদলে কালো ও সাদা পতাকা দেখা যায়। ঢাকার নটর ডেম কলেজ, ঢাকা কলেজ, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থীদের রাজধানীতে আলাদা আলাদা মিছিল করতে দেখা যায়। যেখানে তাদের কারো কারো হাতে অভিন্ন কালো পতাকা দেখা যায়।

গোয়েন্দাদের একটি সূত্র জানায়, এই মিছিলগুলো অর্গানাইজ করছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের কিছু কর্মী ওই মিছিলে মিশে গিয়ে কালোপতাকা প্রদর্শন করছে। এটা তাদের দীর্ঘ পরিকল্পনার একটি অংশ। এই ছবি ও ভিডিও ধারণ করে আন্তর্জাতিক মহলে তারা প্রমাণ করতে চাচ্ছে- আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরপরই বাংলাদেশে জঙ্গি উত্থান ঘটেছে। যাতে আন্তর্জাতিকভাবে বর্তমান সরকার চাপের মধ্যে পড়ে। এ ব্যাপারে আইজিপির মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি কোনো জবাব দেননি।

সব নাগরিকের ৩৬৫ দিনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের সব নাগরিককে ৩৬৫ দিন নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব আমাদের। এটি অক্ষুণ থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ঢাকেশ্বরী মন্দির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সাড়ে ১৭ কোটি লোক ৩৬৫ দিনই নিরাপদে থাকবে। বাংলাদেশের সব নাগরিকের ৩৬৫ দিনের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব আমাদের এবং আমরা নিরলসভাবে সে প্রচেষ্টায় নিয়োজিত আছি।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজার দশমী অর্থাৎ আগামী রোববার ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। এর পরও চলমান নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রাখা হবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের অন্তর্বর্তী সরকার এবার পূজার জন্য সবচেয়ে বেশি চার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর আগে প্রতি বছর দুর্গাপূজায় ২-৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হতো।
উপদেষ্টা বলেন, চলমান দুর্গাপূজায় সারা দেশে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এবার দুর্গাপূজা নির্বিঘেœ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পুলিশ, র‌্যাব ও আনসারের পর্যাপ্ত সদস্যদের পাশাপাশি সীমান্তে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় সংখ্যক সশস্ত্রবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েন করা হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, মাঝে মধ্যে দু-একটা ঘটনা ঘটে। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। বাংলাদেশ পূজা কমিটির মহাসচিব আমাকে জানিয়েছেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটতে পারে, এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরো বলেন, পূজার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আট দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এই নির্দেশনাগুলো দেয়া হয়েছে, সবাই ভালোভাবে পূজা পালন করবেন। কোথাও কোনো ঘটনা ঘটলে যেন সাথে সাথে খবর পাওয়া যায় এ জন্য জাতীয় টেলিকমিউনিকেশন সেন্টারকে (এমটিএমসি) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। উপদেষ্টা পরে রাজধানীর ফার্মগেটে সনাতন সমাজকল্যাণ সঙ্ঘ আয়োজিত খামারবাড়ি কৃষিবিদ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

তাঁতিবাজারে মণ্ডপে আহতদের দেখতে গেলেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা

তাঁতিবাজারে পূজা মণ্ডপে আহতদের দেখতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে গিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ. এফ. হাসান আরিফ। একই সময়ে তিনি ১৭ নম্বর তাঁতিবাজার পূজা কমিটি থেকে আয়োজিত মণ্ডপটিও পরিদর্শন করেন।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) রাতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে তাঁতিবাজারের পূজামণ্ডপটি তাৎক্ষণিক-ভাবে দেখতে যান স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা। এ সময় তিনি মণ্ডপে অবস্থানরত বিভিন্ন দর্শনার্থী এবং পূজারিদের সাথে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময়-কালে হাসান আরিফ বলেন, আজ সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অষ্টমী উদযাপন করেছেন৷ শনিবার আরও বেশি উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী উদযাপন করবেন। শারদীয় দুর্গোৎসবের বাকি দিনগুলো নির্বিঘ্নে উদযাপিত করুন। পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে পূজামণ্ডপগুলোতে অধিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়াও পূজা মণ্ডপগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কাজেই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। নির্ভয়ে উৎসব পালন করুন। তাঁতিবাজারে পূজামণ্ডপটি পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আহতদের দেখতে মিটফোর্ড হাসপাতালে যান৷ তখন তিনি আহত এবং তাদের পরিবার-পরিজনসহ কর্তব্যরত ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেন৷ আহতদের চিকিৎসায় যাতে কোনো প্রকার অবহেলা করা না হয় সেজন্য কর্তব্যরত চিকিৎসকদের নির্দেশনা দেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পূজা চলাকালে ৩ থেকে ৪ জন দুর্বৃত্ত মন্দিরে আচমকা পেট্রোল বোমা সদৃশ বস্তু ছুঁড়ে মারে৷ তবে তা বিস্ফোরিত হয়নি। দুর্বৃত্তদের ধরার চেষ্টা করার সময় ঝন্টু (৪৫), সাগর (৩৮), মো. খোকন (৩৫) এবং বৃত্ত (২৬) নামে ৪ জন আহত হন। আহতদের স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তারেক রহমান এই আন্দোলনের একমাত্র মাস্টারমাইন্ড : দুদু

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের একমাত্র মাস্টারমাইন্ড হচ্ছেন তারেক রহমান। কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য যা করা দরকার সবই করেছেন তিনি। এটা যদি কাউকে ব্যাখ্যা করে বোঝাতে হয়, তাহলে একটু অসুবিধা আছে। বিগত ১৬ বছর ধরে শেখ হাসিনা বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। আর তারেক রহমান বিচক্ষণতার সঙ্গে বিএনপিকে রক্ষা করেছে— মন্তব্য করেন শামসুজ্জামান দুদু।

শনিবার (১২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলন আয়োজিত প্রতীকী প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেছেন। অবিলম্বে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

দুদু বলেন, এক মাসে কিছু হয় না। একটা সন্তান জন্ম দিতেও নয় মাস লাগে। এক মাসে যদি কোনো সন্তান আনতে হয় সেটা হয় মৃত। ১৬টি বছর এদেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে। ১৬টি বছর এদেশের ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক গুম ও নিখোঁজ হয়েছে। ১৬টি বছর জেল খেটেছে। এক মাসের আন্দোলনের কথা সব বিবেচনায় যদি এনে থাকেন সেটা ঠিক হয়নি। এজন্য যত তাড়াতাড়ি নির্বাচন করা সম্ভব হবে তত তাড়াতাড়ি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। যত তাড়াতাড়ি নির্বাচন করা সম্ভব হবে, তত তাড়াতাড়ি নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনায় তার উপযুক্ততা প্রমাণ করতে পারবে। এটাই আমাদের মাথায় রাখতে হবে। সেদিকেই আমি সরকারকে আহ্বান করি। কারণ, এই সরকার আমাদের সরকার। এই সরকার ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। সেজন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

নির্বাচন যত পিছিয়ে যাবে সংকট তত তীব্র হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমরা বর্তমান সরকারের কাছে খুব বেশি কিছু প্রত্যাশা করি না। ছোট্ট একটি প্রত্যাশা আছে। দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। ড. মুহাম্মদ ইউনুস জ্ঞান গরিমা এবং কর্মের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একজন ব্যক্তি। তিনি নির্বাচন কবে হবে এই কথাটা যতদিন জাতিকে জানাতে না পারবেন ততদিন নানান বিতর্ক তৈরি হবে। এই বিতর্ক সৃষ্টিতে সরকারের ভূমিকা থাক এটা আমরা প্রত্যাশা এবং পছন্দ করি না।

তিনি বলেন, বাজারে আগুন লেগে গেছে। দ্রব্যমূল্য এতটাই বেড়েছে যে মানুষ অস্বস্তিতে পড়েছে। নতুন সরকার আসার পরে এই অবস্থা হবে সেটা কেউ প্রত্যাশা করে নাই। তারা প্রত্যাশা করেছিল, জিনিসপত্রের দাম কমবে। সংস্কার সরকার করবে সে সংস্কার পরবর্তী সরকার সংসদে এসে অনুমোদন করবে। দুদু বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মিলেমিশে চলাটাই এ সরকারের সাফল্যের একটি কারণ হতে পারে। দূরত্ব বাড়লে দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, স্বাধীনতার জন্য বিপদ হতে পারে। সরকার অনতিবিলম্বে কতদিনের মধ্যে নির্বাচন প্রত্যাশা করে এটি যত তাড়াতাড়ি তারা বলবে।

প্রতীকী সমাবেশে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক এম জাহাঙ্গীর আলম সভাপতিত্ব করেন এবং সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মোফাজ্জেল হোসেন হৃদয় সঞ্চালনা করেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপাসন উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক জেড খান মো. রিয়াজউদদীন নসু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রিন্সিপাল শাহ মুহাম্মদ নেছারুল হক।

পূজার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিন-রাত কাজ করছি : ফারুক-ই-আজম

সনাতনী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিন-রাত কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধ, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক।

শুক্রবার চট্টগ্রামের পটিয়ার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এসে পৌরসদরের সুচক্রদণ্ডী মিলন মন্দিরে পূজার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক বলেন, এ দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই আমরা একে অন্যের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণ করি। এখানে আমাদের মধ্যে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতুবন্ধন রয়েছে তা অন্য কোন দেশে নেই। সনাতনী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সবাই দিন-রাত কাজ করছি। দেশের সকল পূজামণ্ডপে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে কাজ করছে।’

এ সময় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘এ দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে ধারা রয়েছে, তা ধরে রাখতে হবে।’

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন দুর্গাপূজা দেখতে এলাকার বিভিন্ন মণ্ডপে যেতাম। বর্তমানে পূজাকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে আপনাদের পাশে প্রতিদিন আছি, সবসময় আছি, প্রতি ঘণ্টায় আছি, প্রতি মিনিটে আছি ও প্রতি সেকেন্ডে আছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘কোনো গুজবে কান দেবেন না। আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করবেন।’

পরে উপদেষ্টা পটিয়া পৌরসদরের রামকৃষ্ণ মিশন ও কালি বাড়ি মন্দির পরিদর্শন করেন, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে কুশল বিনিময় ও পূজার সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আলাউদ্দীন ভূঞা জনি, থানার ওসি আবু জায়েদ মো: নাজমুন নুর, কেন্দ্রীয় পূজা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শ্যামল কুমার পালিত, জেলা পূজা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ পালিত, জেলা পূজা কমিটির সদস্য ও পটিয়া উপজেলা পূজা মনিটরিং কমিটির সমন্বয়ক পুলক কান্তি চৌধুরী, আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সঞ্জয় দে, যুগ্ম আহ্বায়ক দেবাশীষ ধর বাপন, জুয়েল চৌধুরী, মান্না দেব, সাজু কুমার দেব, সদস্য সচিব রাসেল চৌধুরী, সোমা চৌধুরী, সীমা গোস্বামী, শোভন রায়, সঞ্জয় রক্ষিত, জয় দে প্রমুখ।
সূত্র : বাসস