Home Blog Page 523

সরকারকে ব্যর্থ করতে সব ধরনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে : মোশাররফ হোসেন

অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ করতে সব ধরনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেছেন, আজ ছোটখাটো বিষয় নিয়েও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য যত রকমের ষড়যন্ত্র আছে, সবগুলো করা হচ্ছে।

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে ’৯০-এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতাদের উদ্যোগে ‘৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘পতিত স্বৈরাচার সরকার ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পালিয়ে গেছে। অবৈধভাবে একটি দেশে আশ্রয় নিয়েছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য তারা সেখান (ভারত) থেকে ষড়যন্ত্র করছে। দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে হবে। দেশকে রক্ষা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে আসছে। কিন্তু আজকে ভারত থেকে শুরু করে আমাদের কিছু হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু লোক কেন একটা সমস্যার সৃষ্টি করছে, কেন আমাদেরকে সারাবিশ্বে মানহানি করছে। এটার একটাই উদ্দেশ্য, সেটি হলো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।’

তিনি আরো বলেন, ‘আন্দোলনের ফসল আজকের সরকার। এটা অন্তর্বর্তী সরকার। এ সরকার নিরপেক্ষ সরকার। এই সরকারকে আমরা সমর্থন করি। এ সরকারকে একটা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে যেতে হবে।’

নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংস্কার করা উচিত, নির্বাচনের একটি রোডম্যাপ দেয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় এই নেতা।

আলোচনা সভায় সাবেক মন্ত্রী ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘আজকে সকল পাঠ্যপুস্তকে সকল আন্দোলনের পটভূমি সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। সকল নেতৃত্ব দেয়া ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘হাজার হাজার ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। এই রাষ্ট্রকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। আজকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে হবে।’

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপি চেয়াপারসনের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ।

এস্টোরিয়ায় ওয়েলফেয়ার সোসাইটি থ্যাংকস গিভিংস ডে’র উপহার ফ্রি হালাল চিকেন-সবজি বিতরণ 

নিউইয়র্কের এস্টোরিয়ায় থ্যাংকস গিভিংস ডে উপলক্ষ্যে উপহার হিসেবে সর্বসাধারণের মধ্যে ফ্রি হালাল চিকেন ও সবজি বিতরণ করা হয়েছে। এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইউএসএ ইনক এর উদ্যোগে এ্যানথ্যাম এর সহযোগিতায় মঙ্গলবার বিকেলে ৩৬ এভিনিউতে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারের মধ্যে এ উপহার তুলে দেওয়া হয়। উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনস্যাল জেনারেল নাজমুল হুদা, এস্টোরিয়াস্থ এপোলো ইন্সুরেন্স এন্ড ব্রোকারেজ এর প্রেসিডেন্ট শমশের আলী, টাইম টেলিভিশনের সিইও আবু তাহের, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট সৈয়দ জুয়েল, সম্ভাব্য পাবলিক এডভোকেট পদপ্রার্থী মার্টিন দোলেন, এ্যানথ্যাম এর কর্মকর্তা উইন্ডি ডোমিঙ্গাস, এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি সোহেল আহমদ, সহ সভাপতি কয়েছ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মো. জাবেদ উদ্দিন, উপদেষ্টা সালেহ চৌধুরী, সাহেদ চৌধুরী, সৈয়দ মামুন, কোষাধ্যক্ষ এমদাদ রহমান তরফদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হক চৌধুরী, সোসাইটির সদস্য পযছল আহমেদ,আবু সোলেমান, আনোয়ার হোসেন, মো. নূরুল হক, আব্দুর রশিদ, সাব্বির আহমদ, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট রিনা ,আল আমিন জিলা ,আবদিন, আজমল খান .আজিজুল হক স্বপন, মো. শরিফুর রহমান সহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

image 1236502911 edited

হালাল চিকেন বিতরণের পূর্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনস্যাল জেনারেল নাজমুল হুদা এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সামাজিক কর্মকান্ডের ভ‚ঁয়সী প্রসংশা করেন। তিনি বলেন, কমিউনিটির সেবায় এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে টাইম টেলিভিশনের সিইও আবু তাহের বলেন, এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নিউইয়র্কে কমিউনিটি সেবায় অনন্য ভ‚মিকা পালণ করে যাচ্ছে। তাদের কার্যক্রম ইতোমধ্যে বাংলাদেশী কমিউনিটির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার দৃষ্ঠি আকর্ষন করেছে। 
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাবেদ উদ্দিন আগামী বড়দিনে উপলক্ষে শিশুদের মধ্যে খেলনা বিতরণ কর্মসূচি পালণের ঘোষনা দেন। তিনি বলেন, নিউইয়র্কে কমিউনিটির মধ্যে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটি অতীতের মত ভাবস্যতেও সচেষ্ঠ থাকবে।

গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৬১তম স্মৃতি বার্ষিকী ৫ ডিসেম্বর

গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৬১তম স্মৃতি বার্ষিকী,বৃহস্পতিবার ,৫ ডিসেম্বর ২০২৪। গণতন্ত্রের মানসপুত্র’, উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ,ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষঠাতা ,মহান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক পিতা হিসাবে সুপরিচিত হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৬১তম স্মৃতি বার্ষিকী। তিনি ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর লেবাননের বৈরুতে একটি হোটেল কক্ষে নিঃসঙ্গ অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ঢাকার সুপ্রিমকোর্টের পাশে তিন নেতার মাজারে তার সমাধি রয়েছে।খবর বাপসনিউজ।

১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। তিনি কলকাতা হাইকোর্টের খ্যাতনামা বিচারক স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দীর কনিষ্ঠ সন্তান। শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি মুসলিম লীগ সরকারের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করেন। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতাই নন, তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কও। তার প্রচেষ্টায় ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণীত হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর বাঙালির যে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, তার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার ফল ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট এবং অবিস্মরণীয় বিজয়। গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকায় সুধীসমাজ তাকে ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ বলে আখ্যায়িত করে।

দিবসটি উপলক্ষে সাবেক রাষ্ট্রপতি এডভোকেট আব্দুল হামিদ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ছিলেন প্রতিভাবান রাজনীতিক, আইনজ্ঞ, বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভা ও গণপরিষদের সদস্য এবং অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রীসহ তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শ্রমজীবীসহ এতদঞ্চলের অবহেলিত মুসলিম সমপ্রদায়ের স্বার্থরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে নাবিক, রেলকর্মচারী, পাটকল ও সুতাকল কর্মচারী, রিকশাচালক, গাড়িচালকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মেহনতি মানুষের স্বার্থরক্ষায় বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলেন।

এডভোকেট আব্দুল হামিদ বাপসনিউজকে বলেন, সোহ্‌রাওয়ার্দী আমৃত্যু আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন। গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী গণতন্ত্রের বিকাশসহ এতদঞ্চলের জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যে অবদান রেখে গেছেন জাতি তা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তার জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনা ও জনগণের সার্বিক কল্যাণে উদ্বুদ্ধ করবে।

এদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। একজন প্রতিভাবান রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে তার দক্ষ পরিচালনায় গণমানুষের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আরও বিকশিত হয়। তার সুযোগ্য উত্তরসূরি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর দূরদর্শী নেতৃত্ব পাকিস্তান সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের দীর্ঘ ২৩ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর অর্জিত হয় আমাদের মহান স্বাধীনতা।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী উপমহাদেশের মেহনতি মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তিনি ছিলেন একজন উদার ও প্রাজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রীসহ তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি ছিলেন অসামপ্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তার ছিল অকৃত্রিম মমত্ববোধ।

তিনি বাপসনিউজকে বলেন, ‘১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের গণবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষকে সোচ্চার ও সংগঠিত করেছিলেন। গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে মরহুম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, তিনি গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তাঁর নেতৃত্বের অসাধারণ বলিষ্ঠতা, দৃঢ়তা ও গুণাবলি জাতিকে সঠিক পথের দিক-নির্দেশনা দিয়েছে। গণতন্ত্র, ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন। বিবৃতিতে তিনি গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় স্পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনসমূহের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উপমহাদেশে রাজনীতি ও গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র :
এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এদিন সকাল ৯টায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর মাজারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে । আমেরিকা-বাংলাদেশ এলায়েন্সের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক এমএ সালাম বাপসনিউজকে এক বিবৃতিতে মরহুম হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, তিনি গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তার নেতৃত্বের অসাধারণ বলিষ্ঠতা, দৃঢ়তা ও গুণাবলি জাতিকে সঠিক পথের দিক-নির্দেশনা দিয়েছে। গণতন্ত্র, ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন। বিবৃতিতে তিনি গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনসমূহসহ অন্যান্য সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।যুক্তরাষ্ট্রেও অনেক সংগঠন দিবসটি পালন করবে । যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে ৬১তম স্মৃতিবার্ষিকী পালন করবে ।
এ উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র সোহরাওয়ার্দি স্মৃতি পরিষদ, শিরি শিশু সাহিত্য কেন্দ্র , বঙ্গবন্ধু প্রচার কেন্দ্র ও সমাজ কল্যাণ পরিষদ , বনলতা শিল্পী ,সাহিত্যিক ও সাংবাদিক গোষ্ঠী এবং শেখ হাসিনা মন্চসহ বিভিন্ন সংগঠন বিশেষ আলোচনা সভা ও প্রার্থনার আয়োজন করেছে ।

নিউইয়র্কে হোমকেয়ার সেবা নিয়ে উদ্বিগ্ন হবার কারণ নেই : স্যার ডক্টর আবু জাফর মাহমুদ 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেয়ার পর নিউইয়র্কে কনজ্যুমার ডাইরেক্টেড পারসোনাল প্রোগ্রাম (সিডিপ্যাপ) এবং হোম কেয়ার সেবার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রথম হোম কেয়ার বাংলা সিডিপ্যাপ সার্ভিসেস ও অ্যালেগ্রা হোম কেয়ার এর প্রতিষ্ঠাতা স্যার ডক্টর আবু জাফর মাহমুদ । শুক্রবার পারসন্স ব্লুবার্ডে নিউইয়র্কে বাংলা সিডিপ্যাপ সার্ভিসেস ও আলেগ্রা হোম কেয়ার এর জ্যামাইকা হিলসাইড কাচারিঘর -এ এক প্রতিবেশি সমাবেশে একথা জানান তিনি। 

535805e0 4596 4cef a89c 29b908400856

 আবু জাফর মাহমুদ বলেন, ইদানিং বিভিন্ন পত্রিকা সংবাদ দিচ্ছে সিডিপ্যাপ ঝুকিঁতে পড়বে। এ ধরনের সংবাদের সত্যতা নেই । মিডিয়া যতটুকু শোনে সে অনুযায়ী সংবাদ দেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি । বলেন, গভর্নর ক্যাথি হোকুল একটি বিশেষ গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতার অংশ হিসেবে সাধারণ নিউইয়র্কবাসীকে হোম কেয়ার সেবা বঞ্চিত করার পায়তারাঁ করছে, এমনকি এথনিক কমিউনিটিকে লাইসেন্সের শেয়ারও দেয়া হয়নি । তিনি এথনিক কমিউনিটির সঙ্গে বৈষম্যমূলক এ আচরণের তীব্র সমালেচনা করে বলেন, এ সব কারণে অনেক আগে থেকে এটর্নীর মাধ্যমে আমাদের মামলা চলছে। ৬৭টি বৃহৎ আকারের হোম কেয়ারকে সঙ্গে নিয়ে আরো একটি মামলা করা হয়েছে। আবু জাফর মাহমুদ বলেন, নিউইয়র্কে সিডিপ্যাপ ঝুকিঁর মুখে রয়েছে এমন প্রচারণায় সেবাগ্রহীতাদের বিভ্রান্ত হওয়ার দরকার নেই। নিশ্চিন্ত মনে হোম কেয়ার সেবা নিতে পারবেন নিউইয়র্কবাসী। 

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পরবর্তীতে ইমিগ্রেশন ইস্যুতেও চিন্তিত হবার কোন কারণ নেই জানিয়ে স্যার ডক্টর আবু জাফর মাহমুদ আরোও বলেন, বাংলাদেশি অভিবাসীদের সর্তক হতে হবে । তবে কোন অপ-প্রচারে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। ভারতীয় ৪৩ হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এতে কোনো বাংলাদেশি নেই। 

 স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদ জ্যামাইকা হিলসাইড অফিসের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এটি আমাদের ‘কাচারি ঘর’। এখানে আপনারা যেকোনো অনুষ্ঠান করবেন। নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করবেন। এখানে বাণিজ্যের কোনো সম্পর্ক নেই। এখানে সপ্তাহে সাতদিন অবিরাম সেবা পাওয়ার ব্যবস্থা আছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবল রয়েছে। ঘরে ঘরে গিয়ে বাংলা সিডিপ্যাপ সার্ভিসেস ও অ্যালেগ্রা হোম কেয়ারের দায়িত্বশীলরা তাদের সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তারা আপনাদের খোঁজ রাখছে। সবসময় পাশে আছে। 

IMG 2739 1 edited

 প্রতিবেশী সমাবেশটি কার্যত পরিণত হয় বাংলাদেশীদের মিলন মেলায়। আট শতাধিক বাংলাদেশির উপস্থিতিতে শীতার্ত সন্ধ্যায় ছড়িয়ে পড়ে উষ্ণতা। জয় বাংলাদেশ মিডিয়া’র আদিত্য শাহীনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলা সিডিপ্যাপ ও অ্যালেগ্রা হোম কেয়ারের সেবা কার্যক্রম বিষয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এই আয়োজনে বক্তব্য রাখেন ডেমোক্রেটিক স্টেট কমিটির জেনি কাজী, বাংলাদেশ সোসাইটির নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, নিউইয়র্ক কাগজের সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ। আমন্ত্রিত প্রতিবেশীদের পক্ষ থেকেও কয়েকজন বক্তব্য রাখেন।

 জেনি কাজী তার বক্তব্যে বলেন, হিলসাইড এভিনিউতে দিনকে দিন বাংলাদেশি কমিউনিটির সংখ্যা বাড়ছে । এখানে ব্যবসা-বানিজ্য সম্প্রসারণ হচ্ছে চোখে পড়ার মতো । কমিউনিটির স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নে আবু জাফর মাহমুদের ‘কাচারিঘর’ নি:সন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে, যেমনটা রাখছে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসসহ অন্যান্য বাংলাদেশি কমিউনিটি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে। বলেন, সবে যুক্তরাষ্ট্রে নিবার্চন শেষ হলো আমরা নতুন প্রেসিডেন্ট পেয়েছি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে । এরই মধ্যে আমাদের কমিউনিটির ওপর আঘাত আসা শুরু করেছে । এ কারণে আমাদের আরো বেশি সুসংহতভাবে একত্রে কাজ করতে হবে। 

 সম্পাদক নাজমুল আহসান বলেন, আমাদের কমিউনিটিতে ব্যবসা করে অনেকে কোটিপতি হয়েছে, বাড়ি ঘর বানিয়েছে কিন্তু তাদের মধ্যে মানুষকে মনে রাখার যে চেষ্টা বা কমিউনিটির মানোন্নয়ে যে চেষ্টা সেটি খুব কম সফল মানুষের মধ্যে দেখা যায় । আবু জাফর মাহমুদ সেই মনে রাখার কাজটি নিরলসভাবে করে চলেছেন। কাচারিঘর নিউইয়র্কে একমাত্র তারই আবিস্কার । বলেন, এই হোম কেয়ারের জন্য বাংলাদেশি কমিউনিটি তাদের বাবা-মায়ের প্রতি সম্মান-শ্রদ্ধা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। বলেন, এক সময় আমরা বাবা-মা, শশুর শাশুড়ির জন্য ইমিগ্রেশনে আবেদন করতে ইচ্ছুক হতাম না অথচ বাংলাদেশিরা এখন মেডিকেড সেবার জন্য অস্থির , ট্রাম্পের আসার কারণে তারা যে চিন্তিত, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির এই চিন্তা দূর করার প্রথম উদ্যাগ নিয়েছেন আবু জাফর মাহমুদ । বলেন, হোম কেয়ারের জন্য অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির ঘরে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে । 

 সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আবু জাফর বাংলাদেশের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমেরিকায় আসার পরও জীবনযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। নিউইয়র্কে তিনি হোম কেয়ারের প্রবক্তা। এই ব্যবসা করে নিউইয়র্ক শহরে কমপক্ষে এক ডজন কোটিপতি হয়েছেন কিন্তু আবু জাফর মাহমুদ বরাবরাই বাংলাদেশিদের জন্য নিজের সবটা বিলিয়ে দিয়েছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খালাস পাওয়ায় নিউইয়র্কে দোয়া ও আনন্দ উৎসব

ডেস্ক, নিউইয়র্ক :ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ কর্তৃক দায়েরকৃত ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আদালতে নিরপেক্ষ বিচারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সকলে খালাস পাওয়ায় ১ ডিসেম্বর রবিবার রাতে নিউইয়র্কের জ‍্যাকসন হাইটসে নবান্ন রেস্টুরেন্টের পার্টি হলে বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কর্মীরা শোকরানা দোয়া ও মিষ্টিমুখ করে আনন্দ উৎসব করেন।

তাৎক্ষনিকভাবে আয়োজিত এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক আবু সাইদ আহমদ এবং সন্চালনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাইফুর খান হারুন। শোকরানা দোয়া পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা হাফেজ শাহবাজ আহমেদ।

Screenshot 1

উপস্হিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাকসুদ চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ আন্তর্জাতিক সম্পাদক খোরশেদ আলম, নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপি (উত্তর)-এর সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ চৌধুরী, নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপি( উত্তর)-এর সিনিয়র সহ সভাপতি কাজী আমিনুল ইসলাম স্বপন, নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আরিফুর রহমান , নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রইস উদ্দিন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন, এবাদ চৌধুরী, তরিকুল ইসলাম দিপু, জাহাঙ্গীর হাসাইন, যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আমানত হোসেন আমান, বিলাল আহমেদ চৌধুরী, শরীফুল খালিশদার, সোয়েব আহমেদ, আসাদ মুরাদ তালুকদার, রিপন মিয়া, রিয়াজ মাহমুদ, ইন্জিনিয়ার এম এ খালেক, এডভোকেট রেজওয়ানা রাজ্জাক সেতু, আব্দুস সামাদ টিটু, সিদ্দিক পাটোয়ারী, শাহাদত হোসেন রাজু, মনিরুল ইসলাম মনির, সেলিম আহমেদ, আব্দুর রব কাওসার, মাহবুবুল হক চৌধুরী, আলী মিলন, লাল মিয়া, রাহিমুল ইসলাম প্রিন্স, শাহবাজ আহমেদ, তোফায়েল আহমেদ, খালেদ আফসার (সোহাগ), আক্তার হোসেন বিপ্লব, রাহাত আহমেদ, বেলাল হোসেন, সুমন আহমেদ, শাহ স্বপন, আফসার আহমেদ, মোঃ শুভ্র প্রমুখ। প্রেস রিলিজ

নিউইয়র্কে চুরাশিয়ানদের আনন্দময় আয়োজন

বন্ধু হলো আত্মার চিরসঙ্গী। “মিলি আত্মার টানে”—এই হৃদয়ছোঁয়া স্লোগানে উজ্জীবিত হয়ে চুরাশিয়ানরা একত্রিত হয়েছিল নিউইয়র্কের কুইন্সে, যেখানে বন্ধুত্ব আর সম্প্রীতির বাঁধন আরও দৃঢ় হয়েছে। থ্যাংকসগিভিংকে উপলক্ষ করে এসএসসি ১৯৮৪ ব্যাচ, নিউইয়র্ক ‘চুরাশিয়ান ফ্যামিলি ফান-টাইম’-এর বর্ণাঢ্য আয়োজন করে।

নিউইয়র্কের কুইন্সে হিলসাইডের একটি পার্টি হলে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন চুরাশিয়ানদের জন্য এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। বিকেল থেকেই বন্ধু-স্বজনরা উৎসবের আমেজে সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন, যেখানে উষ্ণতা, হাসি-আনন্দ আর স্মৃতিচারণে ভরপুর ছিল প্রতিটি মুহূর্ত।

কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। কোরআন তিলাওয়াত করেন নাসিরুল হক, আর গীতা পাঠ করেন দিপ্তী সেন। এর পরপরই বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ও আমেরিকার ন্যাশনাল অ্যান্থেম পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে এ পর্যন্ত পরলোকগত সকল চুরাশিয়ানদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সাঈদ মাহবুবুর রহমান লিপু।

Pic 2 চুরাশিয়ান

এরপর সবার আন্তরিক অংশগ্রহণে নর্থ আমেরিকা চুরাশিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা শামস চৌধুরী রুশোর রচিত ‘চুরাশিয়ান থিম সং’ পরিবেশিত হয়, যা সকলকে একত্রিত হওয়ার অনুভূতিকে আরও গভীরভাবে স্পর্শ করে।

থ্যাংকসগিভিংকে রাঙিয়ে তুলতে একটি বিশাল আকারের টার্কি কাটা হয়। স্মৃতিচারণ, আবৃত্তি ও কৌতুক পরিবেশনের পর, জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী হাসান মাহমুদ ও ঝুলন সেনের প্রাণবন্ত গানে, উপস্থিত সবাই উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন। নাচ-গানের উল্লাসে মেতে ওঠা এই আনন্দঘন পরিবেশে পঞ্চাশোর্ধদেরও টগবগে তরুণ-তরুণী বলে মনে হচ্ছিল, যেন বয়স ছিল শুধু একটি সংখ্যা!

 শেখ ইয়াসমিনের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায়, এই আয়োজনে আরো সঙ্গীত পরিবেশন করেন দিপ্তী সেন ও রাব্বী সাঈদ, যা অনুষ্ঠানের পরিবেশকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তোলে। উপাদেয় ডিনারের পর, আগত সকলের হাতে থ্যাংকসগিভিং উপহার তুলে দেওয়া হয়।

১৫ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট জয় বাংলাদেশের

০

দীর্ঘ ১৫ বছরের অপেক্ষা ঘোচাল বাংলাদেশ। ২০০৯ সালের পর ফের ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট জিতল টাইগাররা। আর দেশ কিংবা বিদেশ, সব মিলিয়ে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে বাংলাদেশ টেস্ট জিতলো ছয় বছর পর।

মঙ্গলবার কিংস্টনের স্যাবাইনা পার্কে ম্যাচের চতুর্থ দিনেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। ১০১ রানে জিতেছে টাইগাররা। তাতে সিরিজে ফিরেছে ১-১ সমতা।

জয় অনেকটা অবধারিত হয়ে যায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের পরই। ইতিহাস গড়েই জিততে হতো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। জ্যামাইকায় সর্বোচ্চ রান তাড়া করতে হতো তাদের, করতে হতো ২৮৭ রান। কিংস্টনে এর আগে কখনো এত রান তাড়া করে জেতেনি কেউ।

পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজও। তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে যেন চোখে সর্ষেফুল দেখলেন গ্রিভস-জোসেফরা। ক্যারিয়ারে ১৫তম বার ৫ উইকেট নেন তাইজুল। সুবাদে স্বাগতিকেরা গুটিয়ে যায় ৫০ ওভারে মাত্র ১৮৫ রানে।

বাংলাদেশকে বড় পুঁজি এনে দিয়েছেন মূলত জাকের আলি। ৫ উইকেটে ১৯৩ রান নিয়ে দিন শুরুর পর দারুণ ফিনিশিং দিয়েছেন তিনি। শেষ দিকের কেউ সঙ্গ দিতে না পারলেও একাই সামলে নিয়েছেন সব, খেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।

জাকের আলির ব্যাটে আসে ১০৬ বলে ৯১ রান। শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হবার আগে ৮ চার আর ৫ ছক্কায় ইনিংস সাজান। শতক হাতছাড়ার আক্ষেপ নিয়ে ফিরলে ৫৯.৫ ওভারে ২৬৮ রানে থামে বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংস থেকে ১৮ রানের লিড থাকায় বাংলাদেশের পুঁজি দাঁড়ায় ২৮৬ রানে। আলজারি জোসেফ ও কেমার রোচ নেন ৩টি করে উইকেট। জোড়া উইকেট নেন শামার জোসেফ।

জবাব দিতে নেমে পাল্টা আক্রমণের পথ খুঁজলেও তা আর পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরু থেকেই তাদের চোখ রাঙান তাইজুল। প্রথম উইকেটটাও আসে তার হাত ধরেই, ফেরান মিকাইল লুইসকে (৮)। এরপর কেসি কার্থি ফেরেন ১৪ রানে, তাসকিনের বলে।

ব্রাথওয়েট ও কাভেম হজ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও সফল হননি, ৩৫ রানেই ভেঙেছে জুটি। ব্রাথওয়েটকে (৪৩) ফেরান তাইজুল। আথানেজও দ্রুত ফেরান তাইজুল। ১০৬ রানে ৪ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

থিতু হয়ে যাওয়া কাভেম হজকেও ফেরান তাইজুল। ৭৫ বলে ৫৫ করে আউট হোন এই ক্যারিবীয় ব্যাটার। এরপর আর কেউ বলার মতো স্কোর করতে পারেননি, পারেনি লড়াই করে। সর্বোচ্চ ২০ রান আসে জাস্টিন গ্রিভসের ব্যাটে।

১৪৩/৪ থেকে ১৮৫ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাইজুলের ৫ উইকেটের পাশাপাশি জোড়া উইকেট নিয়েছেন হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদ। অন্যটা নাহিদ রানার।

উল্লেখ্য, দু’ম্যাচ টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে শনিবার জ্যামাইকায় মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যেখানে টসে জিতে আগে ব্যাট করে প্রথম ইনিংসে ১৬৪ রান করে বাংলাদেশ।

তবে টাইগারদের এই পুঁজিই যথেষ্ট করে তুলেন নাহিদ রানা। ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেট নেয়ার পথে ক্যারিবীয়দের গুটিয়ে দেন ১৪৬ রানে। ১৮ রানের অবিশ্বাস্য লিড নেয় টাইগাররা৷

‘শেখ হাসিনা সরকার সবকিছু ধ্বংস করে গেছে’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকার সবকিছু ধ্বংস করে গেছে’ উল্লেখ করে বলেছেন, নির্বাচনের আগে আমাদের অর্থনীতি, শাসনব্যবস্থা, আমলাতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থায় সর্বাত্মক সংস্কার করতে হবে।

গত শনিবার (৩০ নভেম্বর) নিক্কেই এশিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। সোমবার (২ ডিসেম্বর) সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনী ব্যবস্থা, সংবিধান এবং বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য বেশ কয়েকটি কমিশন গঠন করেছে। জানুয়ারির মধ্যে ওই কমিশনগুলোর সুপারিশ হাতে পাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ সংস্কার বাস্তবায়ন করার কথা জানান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তবে এই সংস্কার বাস্তবায়নে সময় লাগবে বলে জানান তিনি। বলেন, “এই সংস্কার বাস্তবায়নে সময় লাগবে, কেননা ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে আমরা একদম শূন্য থেকে শুরু করেছি।”

নির্বাচন ঠিক কখন হবে সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনের সময় নির্ভর করছে সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপর। এর ফলাফলই সময় নির্ধারণ করে দেবে।’

সাধারণ নির্বাচনে ড. ইউনূস প্রার্থী হবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘না, আমি রাজনীতিবিদ নই। আমি সবসময়ই রাজনীতি থেকে দূরে থেকেছি।’ রাষ্ট্রের যেসব ব্যক্তি নীতি-নৈতিকতা সমুন্নত রাখেন, নিয়ম-কানুন মেনে চলেন এবং নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত রাখেন তাদের নির্বাচনে দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করেন ড. ইউনূস।

তিনি বলেন, ‘হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের শাসনকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, আর গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করে তা পুনর্গঠনের সুবিশাল কর্মযজ্ঞ আমাদের ঘাড়ে এসে পড়েছে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘হাসিনার শাসনামলে গণতন্ত্রের রীতি-নীতি একদম ধ্বংস হয়ে গেছে। টানা তিন মেয়াদে ভোটারবিহীন ভুয়া নির্বাচন মঞ্চস্থ করেছেন হাসিনা। আর তাতে তিনি নিজেকে এবং তার দলকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করেছেন। একজন ফ্যাসিবাদী শাসক হিসেবে এসব করেছেন হাসিনা।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “এ বছরের আগস্টে ছাত্রনেতৃত্বাধীন সরকারি চাকরিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে কয়েক শ’ শিক্ষার্থী নিহত হন। এরপরই শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন হাসিনার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। তিনি হেলিকপ্টারে চড়ে ভারতে পালিয়ে যান। অক্টোবরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা এবং তার বেশ কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।”

এই বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় হলে হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ভারতকে অবহিত করা হবে বলে জানান ড. ইউনূস। তিনি বলেন, ‘বিচার শেষে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় এলে আমরা ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসিনাকে হস্তান্তরের অনুরোধ জানাব। এক্ষেত্রে উভয় দেশের স্বাক্ষরিত একটি আন্তর্জাতিক আইনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত এ আইন মেনে কাজ করতে বাধ্য হবে।’

কূটনৈতিক ফ্রন্টে বাংলাদেশের ভারতের সাথে শক্তিশালী ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত। এক্ষেত্রে ড. ইউনূস দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জবনের প্রস্তাব করেছেন। ভারত ও পাকিস্তানের বৈরী সম্পর্কের ফলে সার্ক কার্যত নিষ্ক্রিয় রয়েছে। সার্কের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মতো নিজেদের মধ্যে চলাফেরার স্বাধীনতা, আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য উৎসাহিত করা। সার্কের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ভারতেকে পাকিস্তানের সাথে উত্তেজনা নিরসনের আহ্বান জানান ড. ইউনূস।

এদিকে হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ভারত। তাদের দাবি বাংলাদেশে হিন্দুদের ঘরবাড়ি, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে ‘হামলা’ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকাকে অবশ্যই হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে বলে জোর দিয়েছে দিল্লি। তবে ভারত সরকারের এসব ঢালাও বক্তব্য নাকচ করে দেন ড. ইউনূস।

তিনি বলেন, ‘সংখ্যালঘু ইস্যুতে যা বলা হচ্ছে, তার বেশিরভাগই প্রোপাগান্ডা।’ এগুলো সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বলা হচ্ছে না বলে পাল্টা অভিযোগ করেন ড. ইউনূস। তিনি ভারতীয় সাংবাদিকদের বাংলাদেশে এসে তদন্তসাপেক্ষে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা এসব অপ-তথ্যের বিরুদ্ধে ভারত সরকারকে ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য কাজ করছি।

অন্য আঞ্চলিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইউনূস চীনকে ‘আমাদের বন্ধু’ বলে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, সড়ক ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ থেকে শুরু করে সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত তারা আমাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ বেইজিংয়ের সাথে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংস্থা- আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগ দেয়ার বিষয়ে জোর দেন ড. ইউনূস। বাংলাদেশ আসিয়ানে যোগ দেয়াকে একটি প্রতিশ্রুতিশীল সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে চায়। কারণ বাংলাদেশ বিশেষ করে ২০২৬ সালে জাতিসঙ্ঘের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে, এরপর বাংলাদেশ আর অগ্রাধিকারভিত্তিক শুল্ক সুবিধা পাবে না।

মালয়েশিয়া আগামী জানুয়ারি থেকে আসিয়ানের সভাপতি হতে যাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ড. ইউনূস বলেন, তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে বাংলাদেশের সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বাংলাদেশকে আসিয়ানে স্বাগত জানাতে তার সদিচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছেন। তবে এক্ষেত্রে বেশ কিছু ধাপ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আসিয়ানে যেগ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রথম ধাপটি হবে আসিয়ানের সংজ্ঞা সংশোধনে একটি সর্বসম্মত রেজোল্যুশন নিশ্চিত করা। এর আগে আমরা আসিয়ানের একটি সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনের আশা করছি। আসিয়ানের সদস্য দেশগুলো বাংলাদেশের এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ড. ইউনূস।

মিয়ানমারের সামরিক জান্তার দমন-পীড়ন থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বিপুল সংখ্যক রাষ্ট্রবিহীন ও নাগরিকত্বের প্রাধিকার-বঞ্চিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই দায় (রোহিঙ্গা) বাংলাদেশ কতদিন বহন করবে? রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে আমাদের একটি সুস্পষ্ট গন্তব্য ও একটি অভিন্ন লক্ষ্য ঠিক করা দরকার।’

বাংলাদেশ মিয়ানমারে জাতিসঙ্ঘ-শাসিত একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এতে করে এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা তাদের দেশেই আশ্রয়-শিবিরে থাকতে পারবে। সেখানকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে তাদের অন্য কোনো দেশে স্থানাস্তর করার প্রয়োজন হবে না, তারা তাদের নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে যেতে পারবে বলে উল্লেখ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সূত্র : বাসস

পুলিশের ওপর হামলার মামলায় ১২ আসামির রিমান্ড মঞ্জুর

চট্টগ্রামে পুলিশের ওপর হামলা ও কাজে বাধাদানের মামলায় গ্রেফতার ১২ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ছয় দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত চিফ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন জয় নাথ, রুমিত দাস, নয়ন দাস, গগন দাস, সুমিত দাস, আমান দাস, বিশাল দাস, সনু মেথর, সুমন দাস, রাজেশ দাস, দুর্লভ দাস ও অজয় সূত্রধর চৌধুরী।

এর আগে গত সোমবার পুলিশের ওপর হামলার আরেক মামলায় আট আসামির সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) মফিজুর রহমান বলেন, পুলিশের ওপর হামলার দুই মামলায় ১২ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে কোতোয়ালি থানা পুলিশ সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত ছয় দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মফিজুর রহমান আরো বলেন, এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেফতার সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর হওয়াকে কেন্দ্র করে ২৬ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।

এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধাদান এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরো চারটি মামলা হয়। পাঁচ মামলায় গ্রেফতার হন ৩৯ জন। তাদের মধ্যে হত্যায় জড়িত অভিযোগে নয়জন গ্রেফতার রয়েছেন। গত সোমবার পুলিশের ওপর হামলা ও কাজে বাধাদানের মামলায় গ্রেফতার দুই আসামির জন্য ওকালতনামা দিলে আইনজীবীদের বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেন অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর সরকারি কৌঁসুলি নেজাম উদ্দিন।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের সংগ্রহ করা ৫২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানায়, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আইনজীবী সাইফুলকে কোপান ওম দাশ, চন্দন ও রণব। তাকে পেটাতে থাকেন অন্যরা। সেখানে আরো ২৫ থেকে ৩০ জন ছিলেন। তাদের বেশিভাগই পরিচ্ছন্নতাকর্মী।

জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া ও আমেরিকার বাকবিতণ্ডা

জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে আমেরিকা এবং রাশিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যে সিরিয়া প্রশ্নে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়া ইস্যুতে ডাকা জরুরি বৈঠকে এই বাকবিতণ্ডা হয়।

সম্প্রতি সিরিয়ার মুজাহিদ বাহিনী আবার বেশ কয়েকটি এলাকা দখলে নিতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকা তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েও নিয়েছে। এ নিয়ে সিরিয়ার অনুরোধে গতকাল জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক ডাকার প্রতি রাশিয়া, চীন এবং আলজেরিয়া সমর্থন দিয়েছিল।

বৈঠকে কয়েকটি স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্য এবং সিরিয়া ও ইরানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। বৈঠকের শুরুতেই সিরিয়াবিষয়ক জাতিসঙ্ঘের বিশেষ প্রতিনিধি গেইর অটো পেডারসন বলেন, মুজাহিদদের তৎপরতা সিরিয়ার সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তিনি জাতিসঙ্ঘে পাস হওয়া ২২৫৪ নম্বর প্রস্তাব অনুসারে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সিরিয়ায় রক্তপাত বন্ধের আহ্বান জানান।

বৈঠকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া সিরিয়ায় মুজাহিদদের পুনর্গঠন এবং মদদ দেয়ার জন্য সরাসরি আমেরিকা ও তার মিত্রদের দায়ী করেন। বৈঠকে চীনা রাষ্ট্রদূতও পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থানের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মুজাহিদদের হামলার কারণে সিরিয়ার স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বৈঠকের সভাপতি এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট উড সিরিয়া পরিস্থিতির জন্য আগের মতোই রাশিয়া, ইরান এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ প্রতিরোধ আন্দোলনকে দায়ী করেন। একইভাবে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সিরিয়া সঙ্কটের জন্য রাশিয়া ও ইরানকে অভিযুক্ত করেন।

নিরাপত্তা পরিষদের এ বৈঠকে আরব দেশগুলো সিরিয়ার জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য আহ্বান জানান।

সূত্র : পার্সটুডে