Home Blog Page 524

জয় দিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু অস্ট্রেলিয়ার

গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের পর বোলারদের দারুণ নৈপুণ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় দিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করলো স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। বৃহস্পতিবার বৃষ্টিবিঘ্নিত সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়া ২৯ রানে হারিয়েছে পাকিস্তানকে।

বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে ব্রিজবেনে প্রায় তিন ঘণ্টা পর শুরু হয় অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের মধ্যকার প্রথম টি-টোয়েন্টি। ম্যাচে বেশ কিছু সময় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ৭ ওভারে নির্ধারিত হয় ম্যাচটি।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের শাহিন শাহ আফ্রিদির প্রথম ওভারে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৬ রান তুলেন অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ম্যাথু শর্ট ও জ্যাক ফ্রেজার ম্যাকগার্ক।

দ্বিতীয় ওভারে পাকিস্তানের পেসার নাসিম শাহর প্রথম বলে ৯ রানে আউট হন ম্যাকগাক। তিন নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে ওই ওভারে ৪টি বাউন্ডারি হাঁকান মারেন ম্যাক্সওয়েল। পরের ওভারে পেসার হারিস রউফের শিকার হয়ে ৯ রানে আউট হন শর্ট।

দুই ওপেনার ব্যর্থ হলেও দ্রুতগতিতে অস্ট্রেলিয়ার রানের চাকা ঘুরিয়েছেন ম্যাক্সওয়েল। হাফ-সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১৯ বলে ৪৩ রান করে পেসার আব্বাস আফ্রিদির বলে আউট হন ম্যাক্সওয়েল। এই ইনিংস খেলার পথে বিশ্বের ১৬তম ও তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১০ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করেন ম্যাক্সওয়েল।

ম্যাক্সওয়েলের বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়াকে ৭ ওভারে ৪ উইকেটে ৯৩ রানের সংগ্রহ এনে দেন মার্কাস স্টয়িনিস। ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ৭ বলে অপরাজিত ২১ রান করেন তিনি। ইনিংসের শেষ ওভারে নাসিমের বলে ২০ রান নেন স্টয়িনিস। আব্বাস ২ উইকেট নিয়েছেন।

৭ ওভারে ৯৪ রানের টার্গেটে অস্ট্রেলিয়ার তিন পেসার স্পেনসার জনসন, জার্ভিয়ার বার্টলেট ও ন্যাথান এলিসের তোপের মুখে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটাররা। তৃতীয় ওভারে ১৬ রানে ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান। নিজেদের টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ১৬ রানে দ্রুত ৫ উইকেট হারানোর লজ্জার রেকর্ড গড়লো পাকিস্তান।

দলীয় ২৪ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতনে পাকিস্তানের স্বীকৃত ছয় ব্যাটারের কেউই দুই অংকে পৌঁছাতে পারেননি। শাইবজাদা ফারহান ৮, অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান শূন্য, বাবর আজম ৩, উসমান খান ও অভিষিক্ত সালমান আঘা ৪ এবং ইরফান শূন্যতে থামেন।

লোয়ার-অর্ডারে হাসিবুল্লাহ খান ১২, আব্বাস ২০ ও আফ্রিদির ১১ রানে দ্রুত গুটিয়ে যাবার লজ্জা এড়ায় পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত ৭ ওভারে ৯ উইকেটে ৬৪ রান করে সফরকারীরা।

বার্টলেট-এলিস ৩টি করে এবং স্পিনার এডাম জাম্পা ২টি ও জনসন ১টি উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন ম্যাক্সওয়েল।

আগামী ১৬ নভেম্বর সিডনিতে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে দু’দল।
সূত্র : বাসস

সাফজয়ী সাবিনাদের পুরস্কার দিলো সাউথইস্ট ব্যাংক

এবার সাফজয়ী সাবিনাদের পুরস্কার দিলো বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সাউথইস্ট ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) প্রতিষ্ঠানটি তাদের কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানিয়ে এ সম্মাননা জানায়।

টানা দ্বিতীয়বার সাফ জেতায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে তিন লাখ টাকা করে এবং কোচদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে দেয়া হয়। আর্থিক পুরস্কার ছাড়াও সাফজয়ী দলের প্রত্যেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এর বিপরীতে দেশে-বিদেশে ব্যবহারযোগ্য একটি করে ভিসা ডেবিট কার্ড দেয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল এবং সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম এ হাশেম।

একই দিনে দুই দিপুর স্বর্ণ জয়

একই দিনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দিপু চন্দ্র রায় ও আনসারের মোহাম্মদ দিপু স্বর্ণ জয় করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে শেষ হওয়া জাতীয় কুস্তিতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, পুরুষ ও নারী দু’ বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ আনসার। তারা পুরুষ বিভাগে সাতটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ জয় করে। নারী বিভাগে তাদের অর্জন ছয়টি স্বর্ণ ও একটি রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ। পুরুষ বিভাগে বিজিবি দু’টি স্বর্ণ, রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ পেয়ে রানার্সআপ হয়েছে। নারী বিভাগে সেনাবাহিনী রানার্সআপ হয়ে পেয়েছে তিনটি স্বর্ণ ও চারটি ব্রোঞ্জ।

বিজিবিতে কর্মরত দিপুর বাড়ি দিনাজপুর এবং ব্যাটালিয়ান আনসারে কর্মরত মোহাম্মদ দিপুর বাড়ি কুমিল্লায়। দু’জনই বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড়। দু’জনই দু’মেয়ের বাবা।

মোহাম্মদ দিপু জানান, ‘আমি সেই ২০১২ সাল থেকেই টানা স্বর্ণ জিতে আসছি। শুধু গত বছর সেনাবাহিনীর প্রতিপক্ষের কাছে হারতে হয়েছিল। ২০১৪ সালে সেরা কুস্তিগির হয়েছিলাম।’

দিপু চন্দ্র জানান, ‘আমাদের খেলার পাশাপাশি সীমান্ত রক্ষার কাজ করতে হয় দেশের স্বার্থে। এরপরও আমাদের প্রতিষ্ঠান বিজিবির চেষ্টায় আমরা খেলে যাচ্ছি ও সাফল্য পাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যে খেলে পদক জিতেছি এটাইতো অনেক। আমাদের ফেডারেশনের তো নিজস্ব কোনো ভেন্যুই নেই। দক্ষিণ এশীয় গেমস-এ ভালো করতে হলে বিদেশী কোচ এবং দেশের বাইরে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।’

পুলিশ বাহিনীর নিজেদের প্রমাণ করার এখনই সময় : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, পুলিশ বাহিনীকে সেবা প্রদানের মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করার এখনই উপযুক্ত সময়। কারণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অরাজনৈতিক। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এ সরকারের আমলে সততা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এটিকে কাজে লাগিয়ে পুলিশ বাহিনীকে দেশ ও জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল পুলিশ লাইনসের গ্রাটিটিউড হলে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), কোস্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপি, কারা অধিদফতর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি-সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেজন্য বাহিনীর সদস্যদের চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে এবং নিজেদেরও এটি থেকে দূরে থাকতে হবে। তা না করতে পারলে বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ণ হবে এবং ৫ আগস্টের শহিদদের রক্ত বৃথা যাবে। তিনি এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, সাদা পোশাকে কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না। পরিচয় ছাড়া কাউকে আইনের আওতায় আনা যাবে না।

উপদেষ্টা বলেন, পুলিশের বিভিন্ন থানায় থাকা, খাওয়া ও শৌচাগারের অবস্থা ভালো নয়। তিনি পুলিশ সদস্যদের এসব সমস্যা-সমাধানে মনোনিবেশ করতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা প্রদানের জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে ২ মাসের জন্য ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, এটির মেয়াদ আরো বাড়ানো হবে এবং এতে বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

মতবিনিময় সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশকে জনবান্ধব বাহিনীকে পরিণত করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, অন্যান্য এলাকার চেয়ে বরিশালের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো।

মতবিনিময় সভায় ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক মো: ময়নুল ইসলাম, র‌্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো: রায়হান কাওছার, পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো: মঞ্জুর মোর্শেদ আলম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো: শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

খুলনায় আদালত চত্বরে সাবেক মন্ত্রী নারায়ণচন্দ্রকে ডিম নিক্ষেপ

খুলনায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী নারায়ণচন্দ্র চন্দকে আদালতের শুনানি শেষে কারাগারে নেয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ডিম নিক্ষেপ করেছেন। এ সময় ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যায়িত করে তার শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর শুনানি শেষে পুলিশ নারায়ণচন্দ্র চন্দকে কারাগারের উদ্দেশে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে ধর্ষণ ও অপহরণ মামলায় শুনানি শেষে বিচারক মো: রাকিবুল ইসলাম ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, ‘বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহম্মেদ। গত ২৭ জানুয়ারি রাতে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে ওই নারী খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। পর দিন হাসপাতালের ওসিসির (ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার) সামনে থেকে কয়েকজন ভুক্তভোগীকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। অভিযুক্তরা সাবেক ভূমিমন্ত্রী নারায়ণচন্দ্র চন্দের ঘনিষ্ঠ সহচর ও অনুসারী। তাদের বাঁচাতে তৎকালীন মন্ত্রী অবৈধ প্রভাব বিস্তার করায়-চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগে তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয়। এরপর তাকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে মিথ্যা বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়।

এ ঘটনায় ধর্ষণ ও অপহরণের শিকার ওই নারীর খালাতো ভাই পরিচয়দানকারী গোলাম রসুল গত ৯ অক্টোবর আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুাল-৩ ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগ করে। পরে আদালত ঘটনাটি তদন্ত করে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাকে মামলা রুজু করার নির্দেশ দিলে গত ১৭ অক্টোবর ডুমুরিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহম্মেদসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান নারায়ণচন্দ্র চন্দ ওই মামলার ২ নম্বর আসামি।

মামলার আইনজীবী বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মোমিনুল ইসলাম জানান, ‘আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় বাদি এত দিন বিচার পায়নি। বর্তমানে আইনের শাসন কায়েম হওয়ায় নির্যাতিত নারী সঠিক বিচার পাবে বলে আশা করছি।

খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য ইউকে পাঠানো হবে

বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে খুব শিগগিরই চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকদের পরামর্শে প্রথমে ইউকে’তে নেয়া হবে। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে যদি অন্য দেশে নেয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে’।

বৃহস্পতিবার বিকেলে লালমনিরহাটের শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত ‘শহিদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে’র দ্বিতীয় দিনের খেলায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ২০২১ সাল থেকে বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধায়নে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাকে দীর্ঘদিন অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। তিনি বর্তমানে বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেই চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে দেশের বাইরে পাঠানো হবে।

তিনি আরো বলেন, মনে রাখতে হবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ দেশের যুবকদের জন্য সর্বপ্রথম যুব ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলেন এবং দেশের যুবকদের সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুপথ দেখিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় যুবকদের আত্মবিশ্বাসী হয়ে দেশের অনিয়ম ও দুর্নীতি রুখে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) সাবেক উপ-মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, রংপুর জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সাইফুল, রংপুর মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু, রংপুর জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব আনিসুল হক লাকুসহ রংপুর বিভাগের ৮ জেলার নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ২৮ নভেম্বর ফাইনাল খেলার মধ্যে দিয়ে টুর্নামেন্টটি শেষ হবে।
সূত্র : বাসস

হাসিনাকে বিবৃতি থেকে বিরত রাখতে ভারতকে আহ্বান জানানো হয়েছে : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ভারতে বসে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধারবাহিকভাবে রাজনৈতিক বক্তব্য-বিবৃতিতে দেশটির কাছে একাধিকবার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে জানিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, তাকে বিরত রাখতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তৌফিক হাসান।

তিনি বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনার ও দেশটির সরকারকে জানানো হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে যাওয়ার পর যেসব রাজনৈতিক বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন তা ভালো চোখে দেখছে না বাংলাদেশ।

দুই দেশের ‘ঐতিহাসিক সম্পর্কের জন্য’ তাকে এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত রাখা জরুরি বলেও প্রতিবেশীদের জানানো হয়েছে, বলেন মি. হাসান।

আরেক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ভিসা ইস্যুতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর, তারা জানিয়েছেন জনবল সংকটের কারণে ভিসা প্রাপ্তির জটিলতা দূর করা এখনই সম্ভব হচ্ছে না।

গত ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। তারপর ১০০ দিন পার হয়ে গেছে।

সূত্র : বিবিসি

মৌলবাদ থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে : আসিফ নজরুল

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, উগ্রবাদের সুযোগ নিয়ে দেশী-বিদেশী কোনো শত্রু যেন বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এ দেশ, সমাজ ও মানুষের ভালো চাই; আমাদের ছাত্র, সন্তান ও নিজেদের ভালো চাই; দেশকে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করতে চাই; বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে চাই; তাহলে যেকোনো মূল্যে উগ্রবাদ ও মৌলবাদ থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ২০০৫ সালে জেএমবির বোমা হামলায় প্রাণ হারানো বিচারক সোহেল আহম্মেদ ও জগন্নাথ পাঁড়ের রুহের স্মরণে শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. আসিফ নজরুল এসব কথা বলেন।

আসিফ নজরুল বলেন, উগ্রবাদ খুবই ভয়ঙ্কর জিনিস। এটা মানুষকে কতটা যুক্তিহীন, অমানুষ ও নিষ্ঠুর করে তোলে তার বড় উদাহরণ এই ঘটনা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের চারপাশে বন্ধু ভাবাপন্ন কোনো দেশ নেই। তাদের সব সময় চেষ্টা থাকে বাংলাদেশকে হেয় করা। কোনো ঘটনাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো এবং এ নিয়ে ষড়যন্ত্র করা।

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো: আমিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোক সভায় আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো: হেলাল উদ্দিন, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব এম এ আউয়াল, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো: জাকির হোসেন, বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সাব্বির ফয়েজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে চাই : তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা সবাই এমন দেশ গড়তে চাই, যেখানে আর কখনো ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে না। আমরা সবাই একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ চাই, যেখানে জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা কেউ কেড়ে নেবে না। আমরা সবাই একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত বাংলাদেশ চাই, যেখানে গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে, নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার নিশ্চিত করবে জনগণের মালিকানা ও অংশীদারিত্ব।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল লেকশো’র এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি ঘোষিত ‘৩১-দফা’ নিয়ে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উপস্থাপনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, মিডিয়া সেলের সদস্য ফারজানা শারমিন পুতুল।

উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ডা. আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। অন্যদলের মধ্যে জাতীয় দলের চেয়ারম্যান এহসানুল হুদা, এনপিপির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপার সিনিয়র সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, জাগপার একাংশের সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক এনজিপির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর আমির হোসেন আমু প্রমুখ।

এছাড়া নরওয়ে রাষ্ট্রদূত ও পাকিস্তান হাইকমিশনারসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসঙ্ঘ, ভারত, চীন, রাশিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও সৌদি আরবসহ ৩৮ দেশের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

তারেক রহমান বলেন, আমরা নিশ্চিত করতে চাই, আগামীর বাংলাদেশে আর কোনো ব্যক্তি, এমনকি প্রধানমন্ত্রীও স্বেচ্ছাচারী হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারবে না। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে সরকারের প্রতিটি লেভেলে নিশ্চিত করা হবে কেউ জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে না, কেউ আইনের ঊর্ধে না। বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে, আমরা দল-মত নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে চাই।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ক্ষমতার পরিবর্তন মানে কেবল একটি দল থেকে অন্য দলের কাছে রাষ্ট্রের ক্ষমতা হস্তান্তর নয়। বরং ক্ষমতার পালাবদলে এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা হওয়া উচিত, যেখানে সমাজের পরিবর্তিত অবস্থা ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখা যায়।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য কেবল ক্ষমতায়ন নয়। বরং রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন এবং জনগণের অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশও এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আজকে আমরা যারা এখানে সমবেত হয়েছি, দেশে-বিদেশে আমরা যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে সবসময় ভাবি; আমাদের গড়ে তুলতে হবে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, উদার ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। আমাদের সবাইকে এক হয়ে এগিয়ে যেতে হবে বহু দূরে। এই অগ্রযাত্রার গতি হতে হবে দ্রুত তবে স্থির। লক্ষ্য হতে হবে সুনির্দিষ্ট।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ও মিডিয়া সেলের সদস্য ফারজানা শারমিন পুতুল।

আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর মাহবুব উল্লাহ, অধ্যাপক ডক্টর বোরহান উদ্দিন খান, অ্যাডভোকেট এলিনা খান, ইসমাইল জবিউল্লাহ, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, জামায়েতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, জাতীয় পার্টি বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, এনডিএম’র চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রমুখ।

দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

কপ-২৯ জলবায়ু সম্মেলন শেষে আজারবাইজান থেকে দেশে ফিরেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) রাত ৮টার কিছু আগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি পৌঁছান। বিকেল সাড়ে ৫টায় (স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৩টা) ঢাকার উদ্দেশে বাকু ছাড়েন তিনি।

এর আগে কপ-২৯ জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিতে গত ১১ নভেম্বর আজারবাইজান সফরে যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

পরে ১৩ নভেম্বর বাকুতে জাতিসঙ্ঘের জলবায়ু সম্মেলনে ভাষণ দেন তিনি। এ ছাড়া, গতকাল বুধবার জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সাথে এলডিসি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত জাতিসঙ্ঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (কপ-২৯) ২৯তম সম্মেলন ১১ থেকে শুরু হয়ে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

উন্নত দেশগুলোর প্রতি জলবায়ু আর্থিক প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে প্রযুক্তিগত সহায়তার আহ্বান জানান তিনি।