Home Blog Page 525

‘লেডি কিলার’ রণবীর যে ৯ নারীর প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছেন

অভিনেত্রী আলিয়া ভাটকে বিয়ে করে থিতু হয়েছেন বলিউডের হার্টথ্রব রণবীর কাপুর। ২০২২ সালে এই জুটি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সে বছরই তাদের ঘর আলো করে আসে কন্যাসন্তান রাহা কাপুর।
তবে আলিয়াকে বিয়ের আগে তরুণ রণবীরের জীবনে এসেছেন অনেক নারী। বলিউডের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নায়িকার সঙ্গে জড়িয়েছে তার নাম। স¤প্রতি ‘লেডি কিলার’ রণবীরের সেই প্রাক্তনদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের বহুল প্রচারিত সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।
সে প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, রণবীর কলেজ জীবনে প্রথম অবন্তিকা মালিকের প্রেমে পড়েছিলেন। তবে সেই সম্পর্ক বেশি দূর গড়ায়নি; অবন্তিকা বিয়ে করেছিলেন আমির খানের ভাগ্নে অভিনেতা ইমরান খানকে।
কারিশমা কাপুরের প্রাক্তন স্বামী সঞ্জয় কাপুরের প্রথম স্ত্রী ফ্যাশন ডিজাইনার নন্দিতা মাহতানির প্রেমেও হাবুডুবু খেয়েছেন রণবীর। তবে বয়সের পার্থক্যের জেরে সে সম্পর্ক টেকেনি।
‘আজব প্রেম কি গজব কাহানি’ সিনেমার শুটিং চলাকালে গুঞ্জন ছিল ক্যাটরিনার সঙ্গে রণবীরের প্রেমের। পারিবারিক মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নিয়েছিলেন ক্যাট; তবে এই সম্পর্ক ভাঙে ‘জগ্গা জাসুস’ সিনেমার শুটে। তাদের সৈকত-ভ্রমণের ছবি ফাঁস হওয়ার পর দীর্ঘদিন আলোচনা ছিল।
অভিষেক সিনেমা ‘সাওয়ারিয়া’র শুট চলাকালে সোনম কাপুর ও রণবীর কাপুরের প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই সম্পর্ক ভালোভাবে শেষ হয়নি; একটি শোতে হাজির হয়ে রণবীরের নামে অভিযোগের পাহাড় তুলে বিচ্ছেদের খবর শুনেয়েছিলেন নায়িকা।
দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে রণবীর কাপুরের প্রেম সবচেয়ে আলোচিত হয়। ‘বাচনা এ হাসিনো’ সিনেমার শুটে এই প্রেম শুরু হয়; নায়িকা নিজের ঘাড়ে ট্যাটুও এঁকেছিলেন রণবীরের নামে। তবুও সেই সম্পর্ক টেকেনি শেষ অবধি।
পাকিস্তানি অভিনেত্রী মাহিরা খানের সঙ্গেও প্রেমের গুঞ্জন ছিল রণবীর কাপুরের। দুজনকে দেখা গিয়েছিল নিউইয়র্কের রাস্তায়। যদিও এ প্রেম দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
নার্গিস ফাখরির সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন ছিল রণবীর কাপুরের। রণবীরের মা নীতু কাপুরের সঙ্গেও এই অভিনেত্রীর দারুণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। একসাথে অনেক বার আড্ডা দিতে দেখা গেলেও তারা কখনোই সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
২০১১ সালে অ্যাঞ্জেলা জনসন রণবীর কাপুরের সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর কথা গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। তাতে অসন্তোষ প্রকাশ করে এই সম্পর্কের ইতি টানেন রণবীর।

বিএডিবি’র ক্যানসার বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ডেলাওয়্যার ভ্যালী (বিএডিবি) আয়োজিত ক্যানসার সচেতনতা এবং ঝুঁকি হ্রাস সম্পর্কিত সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয় সময় রোববার (৬ অক্টোবর) ইসলামিক সেন্টার অফ ডেলাওয়ার কাউন্টিতে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বিএডিবি’র চলমান কমিউনিটি আউটরিচ উদ্যোগের অংশ হিসেবে জেফারসন হেলথের সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়।

WhatsApp Image 2024 10 07 at 10.45.40 AM edited

সেমিনারে ক্যানসার রোগ এবং এর প্রতিরোধ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন বিশেষজ্ঞ ড. এম. শীফাত এবং ডা. ইউ. ফাতিমা। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন রাজিয়া সুলতানা তানিয়া, মাজরেহা বিনতে জাহের।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ডেলাওয়্যার ভ্যালী (বিএডিবি) এর সভাপতি ফারহানা আফরোজ পাপিয়া জানান, বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটিতে সমাজ সচেতনামূলক বিভিন্ন সেমিনার আমরা চালিয়ে যাব, যা কমিউনিটির উপকারে আসবে। কমিউনিটির কাছে এটা আমাদের দায়বদ্ধতা।

WhatsApp Image 2024 10 07 at 10.41.05 AM1 edited 1

সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে কমিউনিটির স্বাস্থ্য ও কল্যাণে পার্থক্য গড়ে তোলা সম্ভব বলেও জানান সভাপতি ফারহানা আফরোজ পাপিয়া।

অনুষ্ঠানে উল্লেখজনক সংখ্যক দর্শক অংশ নেন। এসময় তারা এ ধরনের উদ্যেগ নেওয়ায় বিএডিবি’র ভূয়শি প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরো অনুষ্ঠান আয়োজনের আহবান জানান।

বিএডিবি’র প্রাক্তন সভাপতি ড. ইভা সক্কার আমন্ত্রিত বক্তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। অংশ নেওয়া সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষণা করেন কালচারাল সেক্রেটারি শাহিদা আফরোজ। অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহনকারীদের আপ্যায়ন করা হয়।

হঠাৎ ভয়ংকর বন্যা চার মৃত্যু

ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে এবং উপচে প্লাবিত হয়েছে শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার অন্তত ১৬ ইউনিয়ন। পানিবন্দি অবস্থায় দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় ১ লাখ মানুষ। পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পৌরশহর। ভারী বৃষ্টিতে নোয়াখালীতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। প্রতিনিধিদের খবরÑ
শেরপুর : টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরের সবকটি পাহাড়ি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাঁধ ভেঙে ও উপচে প্লাবিত হয়েছে
নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার অন্তত ১৬ ইউনিয়ন।
পানিবন্দি অবস্থায় দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় ১ লাখ মানুষ। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় শেরপুর-তিনআনী-নালিতাবাড়ী আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতীতে বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছেন ইদ্রিস আলী, খলিলুর রহমান ও বাঘবেড় বালুরচর গ্রামের ওমিজা বেগমসহ চারজন। একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতি বছর পাহাড়ি ঢল আসে আবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দ্রæত পানি চলে যায়। এমন বন্যা আর এ এলাকায় দেখা যায়নি বলে জানালেন এলাকাবাসী। শেরপুরের সবকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কোনো কোনো নদীর বাঁধ ভেঙে আশপাশের গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জেলা শহরসহ নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী উপজেলায় পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষ। শ্রীবরদীর বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে। শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, জেলার পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার ৬৫৯, পাহাড়ি নদী চেল্লাখালীর পানি ৫২৫ এবং ভোগাই নদীর দুটি পয়েন্টের পানি যথাক্রমে ১৭২ ও ৫৬ মিলিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া অন্য দুটি পাহাড়ি নদী মহারশি ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
দুই সহোদর ভাইয়ের লাশ মিলল ধানখেতে : শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বানের পানির স্রোতের তোড়ে নিখোঁজ হওয়া সহোদর দুই ভাইয়ের লাশ পাওয়া গেছে ধানখেতে। গতকাল বিকালে উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর কুতুবাকুড়া গ্রামের ফসলের মাঠ থেকে ওই দুই ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
নিহতরা হলেন হাতেম আলী (৩০) ও আলমগীর হোসেন (১৮)। তারা একই এলাকার অভয়পুর গ্রামের মৃত বাছির উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার নিজ বাড়ি থেকে চেলখালী নদীর পাহাড়ি ঢলের স্রোতের তোড়ে নিখোঁজ হন দুই সহোদর ভাই।
ভারী বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতীর অন্তত ১০ ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি। তলিয়ে গেছে শত শত একর জমির উঠতি আমন, সবজিবাগান, মাছের ঘের। এদিকে গতকাল দুপুরের পর ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। এতে নকলা উপজেলার বিস্তৃত অঞ্চল ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, গতকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে শেরপুরে ১৭৭ এবং নালিতাবাড়ীর দুটি পয়েন্টে যথাক্রমে ২৫৫ ও ২৬০ মিলিমিটার। জানা গেছে, কদিন ধরে ভারতের মেঘালয় ও আসামে বৃষ্টি অব্যাহত আছে। নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলাসংলগ্ন মেঘালয়ের তুরা জেলায় গতকাল সকাল পর্যন্ত ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই পানি শেরপুরের ভোগাই, চেল্লাখালী ও মহারশি নদী দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় আরেক দফা ঢলের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেত্রকোনা : টানা বর্ষণ আর ভারতের মেঘালয় থেকে আসা ঢলে বাড়ছে নেত্রকোনার সবকটি নদনদীর পানি। শুক্রবার রাত পর্যন্ত দ্রæতবেগে গুরুত্বপূর্ণ সোমেশ^রী ও কংস নদের পানি বাড়লেও গতকাল সকালে সোমেশ্বরীর পানি কমতে শুরু করেছে। যে কারণে নদীতীরের মানুষের ভয় কিছুটা কম।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংলাপে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নির্বাচনি রোডম্যাপের তাগিদ দিয়েছে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতার কথা জানিয়ে নেতারা বলেছেন, নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন স্থগিত করে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে অনতিবিলম্বে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কবে হবে সে বিষয়ে রোডম্যাপ চেয়েছেন তারা। এছাড়া প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের দোসরদের সরানো, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল, পদোন্নতিবঞ্চিত সরকারি কর্মকর্তাদের ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সব মিথ্যা-গায়েবি মামলা প্রত্যাহারসহ গুচ্ছ দাবি জানিয়েছে দলগুলো। শনিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতা এসব কথা বলেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তৃতীয় দফায় এ সংলাপে বসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দুপুর আড়াইটায় বিএনপির সঙ্গে শুরু হয় এ দিনের সংলাপ। রাতে গণঅধিকার পরিষদের আলোচনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় সংলাপ। এদিন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, গণতন্ত্র মঞ্চ, বাম গণতান্ত্রিক জোট, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ (দুই অংশ) ছাড়াও হেফাজতে ইসলামে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পৃথক পৃথক সংলাপ করেন প্রধান উপদেষ্টা। পরে নিজ নিজ দলের পক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দলগুলোর শীর্ষ নেতারা।
সংলাপ শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমরা নির্বাচন বিষয়ে কথা বলেছি। নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার বিষয়ে বলেছি। আমরা বলেছি, নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন স্থগিত করে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে অনতিবিলম্বে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কবে হবে সে বিষয়ে রোডম্যাপ দিতে বলেছি।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যেও দু-একজন আছেন, যারা অন্তর্বর্তী সরকার ও গণঅভ্যুত্থান-বিপ্লবের যে মূল স্পিরিট সেটাকে ব্যাহত করছেন, তাদের সরানোর কথা বলেছি। নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার মূল হোতা ও তত্ত¡াবধায়ক সরকার বাতিল করার মূল নায়ক বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ২০০৭ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী শাসনামলে করা সব মিথ্যা, গায়েবি, ভুয়া, সাজানো, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি। কিছু আমলা, পুলিশ কর্মকর্তা, সাবেক মন্ত্রী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন।
কীভাবে পালাচ্ছেন, কার সহযোগিতায় পালাচ্ছেন, সে বিষয়গুলো আমরা দেখার জন্য বলেছি।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দুটি রোডম্যাপ চেয়েছি। একটা রোডম্যাপ হবে সংস্কারের এবং আরেকটা হবে নির্বাচনের। সংস্কারটা সফল হলে নির্বাচনটা সফল হবে। এজন্য দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি।
এই সরকার একটা অর্ন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তারা দেশ শাসনের জন্য আসেননি। দেশ শাসনের সুস্থ পথ বিনির্মাণের জন্য এসেছেন। জাতি পরপর তিন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাদের কাজ হচ্ছে, জাতির সামনে একটা গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশন তৈরি করে দেওয়া। এজন্য কিছু মৌলিক বিষয়ে তাদের সংস্কার করতেই হবে। কী কী মৌলিক বিষয়ে তারা সংস্কার করবেন সে ব্যাপারে আমরা কথাবার্তা বলেছি।
গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সংস্কারের জন্য প্রয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতা আমরা করব। প্রশাসনের কিছু দুর্বলতা দেখছি, ব্যর্থতা দেখছি, সীমাবদ্ধতা দেখছি। সিভিল পুলিশসহ প্রশাসনে এমন কিছু দেখছি যা উদ্বেগ প্রকাশ করার মতো। এই বিষয়গুলো তাদের বলেছি।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, সংস্কার করে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও সম্পৃক্ত করার তাগিদ দিয়েছি। এখানে কীভাবে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, সংস্কার এবং একটা গণতান্ত্রিক নির্বাচন করা যায়, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত আলাপ-আলোচনা করা দরকার। এর জন্য একটা কাঠামো তৈরি করার প্রয়োজনীয়তার কথা তারা বলেছেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছি। পুরোনো সিন্ডিকেট আবার যে নতুন চেহারায় আবির্ভূত হয়েছে, সেটা নিয়ে আমরা উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছি। তারা (অন্তর্বর্তী সরকার) বলেছেন চারটা কাজকে অগ্রাধিকারের মধ্যে নিয়েছেন, তার মধ্যে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ অন্যতম।
আমরা দেখতে চাই মানুষ যেন এর সুফল পান। সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য যাতে বন্ধ হয়।
ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাইর পির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, তাদের সঙ্গে আমরা নির্বাচন সংস্কারের কথা বলেছি। আমরা চাই প্রতিনিধিত্ব হারে আনুপাতিক পদ্ধতিতে ভোট হবে। সবার ভোটের অধিকার থাকবে। সরকার হবে জাতীয় সরকার। তারা আমাদের এ প্রস্তাবকে ভালো ভাবে নিয়েছেন। তারা বলেছেন এই প্রস্তাব নিয়ে তারা আলোচনা করবেন। স্বৈরাচার যারা নাকি খুনি ফ্যাসিস্ট তারা যেন নির্বাচন করার সুযোগ না পান সেটা আমরা উপদেষ্টাদের বলেছি।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের শীর্ষ নেতা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, এই কমিশনগুলোর কার্যপরিধি এবং রোডম্যাপ সম্পর্কে জানা থাকলে দেশবাসী আশ্বস্ত হবে। কমিশনের প্রধানদের নিয়ে, বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার কমিশন প্রধান নিয়ে বিতর্ক এবং সন্দেহ অনভিপ্রেত। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে সংবিধান যতটুকু সংশোধন দরকার, ততটুকু সংশোধন করার উদ্যোগটাই যথার্থ হবে বলে আমরা মনে করি।
হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতা ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারে অনেক কমিশন গঠন হয়েছে। প্রতিটি কমিশন আলাদা আলাদা করে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করবে, আলোচনার মাধ্যমে তারা তাদের সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করবেন। সেই প্রস্তাব তৈরি হলে আবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবেন। তারপরেই সবার মতামত নিয়ে সংস্কার প্রস্তাবনা কাজ শুরু করবে।
তিনি বলেন, আমরা বলেছি যে শিক্ষা কমিশন বাতিল করা হয়েছে, এখন আরও একটি শিক্ষা কমিশন ৩০ সেপ্টেম্বর গঠন করা হয়েছে প্রাথমিক ও উপআনুষ্ঠানিক শিক্ষার বিষয়ে। সেক্ষেত্রে কিছু আপত্তির জায়গা রয়েছে। এই কমিশনে এমন ব্যক্তি রয়েছেন যারা বিগত রেজিম সরকারের হয়ে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, এখানে আমাদের প্রধান উপদেষ্টার বিপক্ষে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন এমন ব্যক্তিও রয়েছেন। আমরা এই বিষয়গুলো মাননীয় উপদেষ্টাকে আরও সতর্ক থাকার কথা বলেছি। পতিত স্বৈরাচারের দোসররা যাতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করতে না পারে সেটা বলেছি।
এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আমরা ৬ দফা পর্যবেক্ষণ ও ১১ দফা প্রস্তাব পেশ করেছি। এসব দফা ও প্রস্তাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-ফ্যাসিবাদের ভয়ংকর দুঃশাসন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ছাত্র-জনতার যে রক্তস্নাত গণ ঐক্য তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে সে ঐক্যে কিছুটা ক্ষত ও মৃদু ফাটল পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে দেশব্যাপী পাবলিক ইউনিভার্সিটি, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি, সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসাছাত্রদের মধ্যে আগের প্রেরণা ও দৃঢ় বন্ধন নেই।
রাজনৈতিক দলগুলোও নানা কারণে বাকযুদ্ধে লিপ্ত। সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয় না থাকার বিষয়টিও এক্ষেত্রে দৃশ্যমান। এসবের প্রভাব নাগরিকদের মন ও মননে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তা নিয়ে স্পষ্ট রূপকল্প এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ৬টি কমিশন করার কারণে জনমনে যে আগ্রহ ও উৎসাহ তৈরি হয়েছিল কমিশনের কার্যক্রম শুরু করতে দেরি হওয়ায় তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। শহিদ পরিবারের পুনর্বাসন, আহতদের সুচিকিৎসা এবং গণহত্যার নির্দেশ ও মদদদাতাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে সুসংবদ্ধ পদক্ষেপের অভাব লক্ষণীয়।
তিনি বলেন, অবিলম্বে গণতদন্ত কমিশন গঠন করে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত সব নৃশংসতার ঘটনা জাতির সামনে তুলে ধরার ব্যবস্থা করা। সিভিল প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা ও সিপাহিদের মধ্যে যাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের বিষয়ে একটি পৃথক কমিশন গঠন করা, যারা নিগ্রহ ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তাদের চাকরিতে ফিরিয়ে আনা বা সম্মানজনক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসর, গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগী ব্যক্তি, সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের বিচারের জন্য ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’র পাশাপাশি ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠন করা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দ্রæত বিচারক নিয়োগ দিয়ে তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম শুরু করা, বিলম্বের কারণে বহু আসামি পালিয়ে যাচ্ছে, বহু আলামত নষ্ট হচ্ছে। বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করার জন্য আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার করা একান্ত আবশ্যক।
পিলখানা ও শাপলা চত্বরের গণহত্যার জন্যও পৃথক বিচার কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। ফ্যাসিবাদী সরকার বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে দেশবিরোধী যেসব চুক্তি করেছে তা পর্যালোচনা করা দরকার। দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি করে যারা অবৈধ টাকার পাহাড় গড়েছে এবং বিদেশে টাকা পাচার করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে তাদের দ্রæত আইনের আওতায় আনতে হবে। দেশে ও বিদেশে তাদের সম্পদ জব্দ করার পদক্ষেপ নিতে

গণতন্ত্রকে রক্ষায় ট্রাম্পকে জেতাতে হবে: মাস্ক

আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমাবেশে যোগ দিয়েছেন টেসলার কর্নধার এবং আলোচিত মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। শনিবার পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের বাটলার শহরে এই জনসভায় অংশ নেন তিনি। গত জুলাইয়ে ট্রাম্পকে এখানেই হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।
শনিবার (৫ অক্টোবর) মার্কিন বার্তাসংস্থা এসোসিয়েট প্রেস এ খবর জানিয়েছে।
সমাবেশে মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধনের জন্য আহবান জানিয়েছেন মাস্ক। তার ভাষ্য, এবার ট্রাম্পকে ভোটে জেতাতে না পারলে; ভবিষ্যতে আর ভোট দেওয়ার পরিস্থিতি থাকবে না মার্কিন রাজনীতিতে।
সমাবেশে ট্রাম্পের সমর্থনে মাস্ক বলেন, ‘সংবিধান রক্ষা করতে অবশ্যই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জেতাতে হবে। আমেরিকায় গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে তাকে অবশ্যই জিততে হবে। এটা মাস্ট-উইন পরিস্থিতি। তাই দর্শকদের আসনে যারা বসে আছেন, যারা এই ভিডিওটা দেখছেন, যারা লাইভস্ট্রিমিং দেখছেন, তাদের কাছে আমার একটাই অনুরোধ’।
‘এই একটা অনুরোধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভোট দেওয়ার জন্য নাম নথিভুক্ত করুন। আপনারা যাদের চেনেন, তাদের সেটা জানান। আর যাদের চেনেন না, তাদের ধরে টেনে আনুন, যাতে তারাও ভোট দেওয়ার জন্য নাম নথিভুক্ত করেন। আর তারপর নিশ্চিত করুন যে তারা ভোট দিচ্ছেন। তারা যদি ভোট না দেন, তাহলে এটাই শেষ নির্বাচন হবে। এটাই আমার ভবিষ্যদ্বাণী।’
হোয়াইট হাউজের মসনদ নিশ্চিতে ইলন মাস্কের জনপ্রিয়তার ওপর ভর করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প। গত আগষ্টে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি ইলন মাস্ককে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের একজন উপদেষ্টা বা মন্ত্রিপরিষদের সদস্য করার প্রস্তাব দিতে চান যদি তিনি এ ধরনের দায়িত্ব পালনে ইচ্ছুক হন।
২০২১ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প হেরে যাওয়ার পর তার উগ্র সমর্থকেরা পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলা করেছিল। ওই ঘটনার পর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ট্রাম্পের এক্স (তৎকালীন টুইটার) অ্যাকাউন্ট। এরপর ইলন মাস্ক টুইটার কিনে নেওয়ার পর নাম রাখেন ‘এক্স’ এবং ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট ফিরিয়ে দেন।

পাকিস্তান সফরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করল ভারত

প্রায় ৯ বছর পর ২০২৪ সালের সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দিতেই পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর। এই সফরে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৫ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এস জয়শঙ্কর এ বিষয়ে কথা বলেন। খবর আল জাজিরার।
তিনি বলেন, দুই দিনের সম্মেলনে পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করার বিষয়ে ‘গণমাধ্যমের আগ্রহ’ থাকবে বলে আশা করছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এটি একটি বহুপাক্ষিক অনুষ্ঠান। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে সেখানে যাচ্ছি না আমি।
এস জয়শঙ্কর বলেন, ‘আমি সেখানে এসসিও-এর একজন সদস্য হিসেবে যাচ্ছি, তবে যেহেতু আমি ভদ্র এবং সভ্য একজন মানুষ, আমি সেই অনুযায়ী আচরণ করব।’
এর আগে শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, ওই সম্মেলনে যোগ দেবেন জয়শঙ্কর। তবে তিনি সম্মেলনের সাইডলাইনে কোনো পাকিস্তানি নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন কিনা, তা উল্লেখ করেনি মন্ত্রণালয়।
২০১৯ সালে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে এক মারাত্মক সশস্ত্র হামলার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক গভীর সংকটে রয়েছে।
আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর এসসিও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

ভারতে শুটিং রেঞ্জ ব্যবহারের অনুমতি চায় দিল্লির ইসরাইলি দূতাবাস

মধ্যপ্রাচ্য ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে দিল্লি পুলিশের কাছে ‘অস্বাভাবিক’ অনুরোধ করেছে ভারতে অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাস। নিরাপত্তা কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য পুলিশের শুটিং রেঞ্জ ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে তারা।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রথমবারের মত একটি দূতাবাস এই সুবিধা ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে। অনুরোধটি বর্তমানে পর্যালোচনাধীন।
শনিবার (৫ অক্টোবর) এক প্রতিবেদরে এ খবর দিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
২৩ সেপ্টেম্বর, ইসরাইলি দূতাবাস থেকে একটি চিঠি পায় দিল্লি পুলিশের নিরাপত্তা বিভাগ ।যাতে কর্মীদের প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে শুটিং রেঞ্জ ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়। উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার পরে, এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অনুরোধটি দিল্লি পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে।
সূত্রের মতে, শুটিং রেঞ্জ নিউ পুলিশ লাইনে অবস্থিত এবং দিল্লি পুলিশ একাডেমি এটি পরিচালনা করে। দূতাবাসের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো দিল্লি পুলিশের আওতাধীন। তাই ইসরাইলি দূতাবাসের অনুরোধের প্রাথমিক আবেদন সেখানে পর্যালোচনা করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, অনুরোধটি প্রত্যাখ্যান করার একটি দৃঢ় সম্ভাবনা রয়েছে।
‘এটি অবশ্যই প্রথমবার কোনো দূতাবাস আমাদের শুটিং রেঞ্জ ব্যবহার এবং প্রবেশাধিকার প্রদান করতে বলেছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি’।
উল্লেখ, দূতাবাসের চিঠিতে অনুরোধের কারণ বা প্রশিক্ষণে জড়িত নিরাপত্তা কর্মীদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
এ নিয়ে দিল্লি পুলিশের মুখপাত্র এবং পুলিশের বিশেষ কমিশনারের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে, ইসরাইলি দূতাবাসও তাদের অনুরোধের পিছনে কারণ ব্যাখ্যা করেনি। যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য প্রদান করেনি।
২০২১ সাল থেকে, নয়াদিল্লিতে ইসরাইলি দূতাবাসের কাছে দুটি কম-তীব্রতার বিস্ফোরণ ঘটে। ওই বছর ভারত এবং ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্কের ২৯তম বছরপূর্তির দিন ইসরাইলি দূতাবাস থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়েছিল।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর। এ দিন দূতাবাসের কাছে কম মাত্রার বোমা বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। উভয় ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। গত বছর ৭ অক্টোবর ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরাইলি দূতাবাসের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

ইসরাইলের জবাবে আমাদের প্রতিক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে: ইরান

তেল আবিবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দ্রতই ইরানে হামলা চালাতে ‘জবাব প্রস্তুত’ বলে জানিয়েছে ইসরাইল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরাইলের ইরানি হামলার প্রত্যুত্তরের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। এমন আবহে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইসরাইল যদি কোনো জবাব দিতে চায়, সেক্ষেত্রে তেহরানের প্রতিক্রিয়ার আরও শক্তিশালী হবে।
শনিবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন আরাগচি। খবর মেহর নিউজের।
দামেস্ক সফরে আরাগচি প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ও দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বাশার আল আসাদ সরকার মধ্যপ্রাচ্য ইরানের পুরোনো নির্ভরযোগ্য মিত্র। ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহও আসাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র। ইরানের কাছ থেকে অনেক বছর ধরেই আর্থিক ও সামরিকÑউভয় দিক থেকে জোরালো সমর্থন পেয়ে আসছে হিজবুল্লাহ।
মূলত সিরিয়া সফরে আরাগচি সিরিয়ার কর্মকর্তাদের সাথে চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে দামেস্কে যান।
ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে আরাগচি বলেন, ‘ইসরাইলের যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিক্রিয়া আরও শক্তিশালী এবং কঠোর হবে। তারা আমাদের ইচ্ছার পরীক্ষা করতে পারে’।
ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক আরো বলেন, ‘আমরা দামেস্কে প্রেসিডেন্ট আসাদের সাথে গঠনমূলক আলোচনা করেছি এবং ইসরাইলি আগ্রাসন মোকাবিলা চালিয়ে যেতে একমত হয়েছি’।
‘দামেস্ক এবং বৈরুতে আমার সফরের বার্তা হল ইরান যেকোন পরিস্থিতিতে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাশে থাকবে’।
গত মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) রাতে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে অন্তত ১৮০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ও ইসরাইলি বাহিনীর তৎপরতায় এগুলোর বেশির ভাগই আকাশে ধ্বংস হয়। কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।
এর আগে শুক্রবার বৈরুত সফরে যান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরান এবং হিজবুল্লাহর যখন পাল্টাপাল্টি হামলার বিরাজ করছে তখন মধ্যপ্রাচ্যে সিরিজ সফরে বেরিয়েছেন তিনি।

কলকাতার সেই উপস্থাপকের সঙ্গে চঞ্চলের ছবি, সমালোচনার ঝড়

অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘বিতর্কিত’ সংবাদ উপস্থাপক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষের একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ছবির জেরে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে চঞ্চল চৌধুরীকে।
স¤প্রতি ২০২২ সালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে চঞ্চলের সঙ্গে দুটি ছবি পোস্ট করেন ময়ূখ। সে ছবিতে পশ্চিমবঙ্গের এই বিতর্কিত উপস্থাপকের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে দেখা যায় বাংলাদেশের অভিনেতাকে।
এই ছবি নেটদুনিয়ায় নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনায় মুখর হয়েছেন নেটিজেনরা। মিল্লাত মেহেদী নামের একজন আলোচিত ছবিটি ফেসবুকে শেয়ার করে লিখেছেন, ‘কলকাতার সাম্বাদিক ময়ূখ, আর বাংলাদেশের চেতনা বিক্রেতা চাটুকার চঞ্চলৃকি দারুণ মানিয়েছে…!’
এইচ এম মাহাদী নামের একজনের মন্তব্য, ‘ময়ূখ তো আসলেই চঞ্চল।’
প্রসঙ্গত, ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল রিপাবলিক বাংলায় সিনিয়র এডিটর এবং হেড অফ ইনপুট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। স¤প্রতি বাংলাদেশ নিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ বিচিত্র অঙ্গভঙ্গি দিয়ে উপস্থাপনের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন।
এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। মোশাররফ করিম, আজমেরি হক বাঁধনের মতো শিল্পীরা ছাত্র-জনতার আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করলেও চঞ্চল একেবারেই নিশ্চুপ ছিলেন। নেটিজেনরা তখন থেকেই এই অভিনেতার সমালোচনায় মুখর। নতুন করে ময়ূখের সঙ্গে এই ছবি ছড়িয়ে পড়ায় ফের নেটিজেনদের রোষানলে পড়েছেন তিনি।

‘মনে হয় মরে যাই, বেঁচে থেকে কী লাভ’

কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ভারতে তোলপাড়।
সেই আন্দোলনে প্রথম থেকেই রাস্তায় নেমেছিলেন ভারতীয় বাংলা ছবির জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। দিনের পর দিন তিনি কাটিয়েছেন রাজপথে। শুধু তাই নয়, দুর্নীতির বিপক্ষে আওয়াজ তোলায় তাকে নিয়ে ক্রমাগত সমালোচনা হয়। অভিনেত্রীকে পুজোয় ছবি রিলিজের কারণেও সমালোচনা সহ্য করতে হয়।
স¤প্রতি তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি কি ইন্ডাস্ট্রিতে কারো সঙ্গে প্রেম করেছেন। অভিনেত্রীকে সোজা বলে দিলেন, ‘না, এক্কেবারেই না। এ জীবনে আমি কোনদিন এই ইন্ডাস্ট্রিতে একটাও প্রেম করিনি। আর করবও না।’
যদিও স্বস্তিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে নাম জড়িয়েছিল অভিনেতা জিৎ, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের।
তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার বন্ধু আছে? উত্তরে তিনি বলেন, এত বন্ধু রয়েছে যে আমি গুণে শেষ করতে পারব না। এরপরই তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে আমার কোনো বন্ধু নেই।’
আরজিকর আন্দোলনে তাকে নিয়ে ট্রোল করা প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি এত কষ্ট পাই। মনে হয় মরে যাই। বেঁচে থেকে কী লাভ, এটাই মনে হয়।’