Home Blog Page 527

হিজবুত তাহরীর মিডিয়া সমন্বয়কারী গ্রেফতার

নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরীরের গণমাধ্যমবিষয়ক সমন্বয়কারী ইমতিয়াজ সেলিমকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ডিএমপি মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার তালেবুর রহমান।

তিনি জানান, গ্রেফতার সেলিমের বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। এছাড়া পল্লবী ও খিলগাঁও থানায়ও আরো দু’টি মামলা রয়েছে। এর বাইরে তার বিরুদ্ধে আরো তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তালেবুর রহমান বলেন, গ্রেফতার সেলিমকে আদালতে পাঠানো হবে।

দীর্ঘদিন ধরে গোপনে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসা সংগঠনটি ফের আলোচনায় আসে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর।

সরকার পতনের আন্দোলনেও তারা অংশ নিয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন সংগঠনটির মিডিয়া সমন্বয়ক ইমতিয়াজ সেলিম।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ইসরাইলের জন্য ‘ন্যূনতম শাস্তি’ বললেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

ইসরাইলের উপর সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে স্বাগত জানিয়েছেন ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি আরো বলেন, এই হামলা ইরানের ন্যায্য অধিকার। আর এটি ইসরাইলের জন্য ন্যূনতম শাস্তি।

লেবাননের হিজবুল্লাহ প্রধান সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাত উপলক্ষে এবং ইসরাইলে ফিলিস্তিনিদের আল-আকসা তুফান অভিযানের প্রথম বার্ষিকীকে সামনে রেখে আজ তেহরানে ইমাম খোমেনী রহ. মুসাল্লায় জুমার নামাজের ইমামতি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, ইরান তার দায়িত্ব পালনে বিলম্ব বা তাড়াহুড়ো করবে না। একইসাথে তিনি মুসলমানদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

আয়াতুল্লাহ খোমেনি বলেন, বিভক্তি সৃষ্টি করা শত্রুদের নীতি। কুরআন অনুসারে, মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ হলে তারা শত্রুদের পরাস্ত করতে পারে। সেজন্য ইরানি জাতির শত্রু ইরাকি জাতির শত্রু। লেবাননের জাতিরও একই শত্রু। একই শত্রু মিশরীয় জাতির। মোটকথা আমাদের সকলের শত্রু একই।

আল-আকসা তুফান অভিযানের কথা উল্লেখ করে ইরানের এই সর্বোচ্চ নেতা বলেন, এই অভিযান একটি আইনি ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ এবং ফিলিস্তিনিরা সঠিক ছিল।

হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে স্মরণ করে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, হাসান নাসরুল্লাহ আমার ভাই। তিনি আমার প্রিয় এবং আমার গর্ব। ইসলামী বিশ্বের প্রিয় মুখ তিনি। এই অঞ্চলের জাতিগুলোর মাঝে তিনি দারুণ বাগ্মী ভাষী। তিনি ছিলেন লেবাননের উজ্জ্বল রত্ন।

খোমেনি বলেন, ‘আমি তেহরানে জুমার নামাজে সাইয়্যেদ হাসান নাসরাল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা এবং সবাইকে কিছু বিষয় জানানো প্রয়োজন মনে করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রিয় ভাইয়ের শাহাদাতে আমরা সবাই খুবই শোকাহত। এটি লেবাননের জন্য অনেক বড় ক্ষতি। আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তবে আমাদের শোকের অর্থ হতাশা, যন্ত্রণা নয়। বরং এটি প্রাণবন্ত, শিক্ষণীয়, প্রেরণাদায়ক এবং আশাব্যঞ্জক।

আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, যদিও নাসরাল্লাহর দেহ এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। তবে তার প্রকৃত ব্যক্তিত্ব, তার আত্মা, তার পথ এবং তার অভিব্যক্তিপূর্ণ কণ্ঠ এখনো আমাদের মধ্যে রয়ে গেছে। চিরকাল আমাদের সাথে থাকবে।

তিনি আরো বলেন, হাসান নারুল্লাহ ছিলেন অত্যাচারী এবং শিকারী দানবদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের উচ্চ পতাকা। তিনি একজন বাগ্মী কণ্ঠ এবং নিপীড়িতদের সাহসী রক্ষক। তিনি ছিলেন যোদ্ধা ও অধিকারপ্রার্থীদের উৎসাহ ও বীরত্বের উৎস। তার জনপ্রিয়তা ও প্রভাব লেবানন, ইরান ও আরব দেশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এখন তার শাহাদাত এই প্রভাবকে আরো বাড়িয়ে দেবে।

তিনি বলেন, এই খুতবাটির শ্রোতা সমগ্র ইসলামী বিশ্ব। তবে এটি বিশেষভাবে লেবানন ও ফিলিস্তিনের প্রিয় জাতিকে সম্বোধন করা হয়েছে।

এ সময় এই অঞ্চলে যুদ্ধ, নিরাপত্তাহীনতা এবং পশ্চাদপদতার প্রধান কারণ হিসেবে জায়নবাদী শাসনের অস্তিত্বকে চিহ্নিত করেছেন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদের দরজা স্থানীয় সকাল সাড়ে ৫টা থেকে খুলে দেয়া হয়। কারণ মরহুম হিজবুল্লাহ নেতা সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ এবং আইআরজিসি জেনারেল আব্বাস নীলফোরোশানের স্মরণ অনুষ্ঠান সাড়ে ১০টায় তেহরানে শুরু হয়।

সূত্র : মেহের নিউজ এজেন্সি

আমরা দল-ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন মানব না : জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা দল ও ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন মানব না। রাজনীতিতে কোনো ব্রাহ্মণ নীতি চলবে না।’

তিনি শুক্রবার (৪ অক্টোবর) সকালে ছাত্রআন্দোলনে নিহত শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘দেশের স্বার্থে আমাদের কোনো বিভাজন নেই। যত বিভাজন তা আমরা পায়ের নিচে ফেলে দিয়েছি। আর জাতিকে ভাগ করার সুযোগ দেব না। জাতিকে তারাই ভাগ করে যারা দেশের দুশমন। দলের ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে আর ভাগ করার সুযোগ দেয়া হবে না। এক্ষেত্রে আমরা আপসহীন।’

জাতির সাথে সেবক হয়ে গাদ্দারি করলে কি পরিণতি হয় তা থেকে শিক্ষা নিতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতির সাথে গাদ্দারি করলে, তাদের সেবক হয়ে মালিক বনে গেলে কি পরিণতি হয় তা থেকে আমি, আমরা এবং জাতিকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, আর কোনো স্বৈরাচার সরকার আসবে না, যারা ক্ষমতায় থাকাবস্থায় জনগণকে তাদের টাকায় কেনা বুলেট ছোড়ার দুঃসাহস করবে। এমন কোনো নতুন সন্ত্রাসী সরকার দেখতে চাই না।’

কোনো দুর্বৃত্তকে আদালতের চেয়ারে আর দেখতে চাই না এমন মন্তব্য করে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা বিচারের আমানত রক্ষা করতে পারবে তাদের বিচারক হিসেবে চাই। যারা মুখের দিকে তাকিয়ে কোনো বিচার করবে না। নীতি, নৈতিকতা ও সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করে রায় দেবেন। বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকতে হবে, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হতে হবে সঠিক।’

অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের স্বীকৃতি দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমরা দলীয় ভিত্তিতে শহীদদের বিভক্তি চাই না। তারা আমাদের মর্যাদার পাত্র। পাঠ্যপুস্তক কারিকুলামে আগামী দিনের নাগরিকরা যেন জানে তাদের মুগ্ধ, সাঈদ, রিয়ারা ছিল।’

এসময় তিনি প্রত্যেক শহীদ পরিবারের সদস্যদের একজনকে সরকারি চাকরি দেয়ার দাবি জানান।

মতবিনিময় সভার শুরুতে জামায়াতের আমির শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন।

মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মুহা. জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির খায়রুল হাসান, সহকারী সেক্রেটারি হোসেন আলী, মজলিসের শূরা সদস্য আফজাল হোসেন, প্রচার সম্পাদক সালাউদ্দিন আইয়ুবী প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে বিতর্কিত ৩০৭ ভোট বাতিল

 নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে সদস্যপদ নবায়ন এবং নতুন সদস্য পদ গ্রহনের শেষ সময় গত ৩০ জুন ছিল। এই সময়ের মধ্যে যারা সদস্য হয়েছেন তারাই আগামী ২৭ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। আনুষ্ঠানিকভাবে সোসাইটির মোট ভোটার সংখ্যা ১৮,৬০০ প্রকাশের পর ২৮২ জন ভোটার নিয়ে আপত্তি তোলেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারি সেলিম-আলী পরিষদ। ১৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন আরও ৩০৭ ভোটার সংযোজন দেখিয়ে নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করে। এতে তীব্র আপত্তি তোলেন আতাউর রহমান সেলিম ও মোহাম্মদ আলী। তারা লিখিতভাবে বাংলাদেশ সোসাইটি ও নির্বাচন কমিশনের কাছে এই ৩০৭ ভোট তালিকা থেকে বাদ দেবার দাবি জানান। এ প্রেক্ষিতে সোসাইটির কার্যকরি কমিটি ও ট্রাস্টি বোর্ড ২৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার যৌথ সভায় মিলিত হয়। সেখানে আলোচনার পর যৌথ কমিটি ৩০৭ ভোট বাতিলের ঘোষণা দেয়। নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশের ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, এটি হবে সোসাইটির তৃতীয় সংশোধিত ভোটার তালিকা।
এ ব্যাপারে সোসাটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলী বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনী ইতিহাসে একটি কলংকজনক অধ্যায় রচিত হলো। এর আগে ২টি ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এখন তৃতীয়টি প্রকাশিত হবে। গত ৩০ জুন ভোটার হবার শেষ সীমা পার হয়। এরপর ২৮২ ভোট যোগ করে বর্তমান কার্যকরি কমিটি। এর প্রতিবাদে ২৮ আগষ্ট নির্বাচন কমিশন ও কার্যকরি কমিটিকে চিঠি দেই। তার জবাব পাইনি। ১৮ সেপ্টেম্বর ৩০৭ জন নতুন ভোটার দেখিয়ে দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর প্রতিবাদ করে আমরা আবার চিঠি লিখি। এর প্রেক্ষিতেই গত বৃহস্পতিবার যৌথ কমিটি এই ৩০৭ ভোট বাতিল করে। তবে ২৮২ ভোটের বাপারে তারা কোন জবাব দেন নি।
মোহাম্মদ আলী বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠূ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সবার সহযোগিতা দাবি করছি। নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সোসাইটির ভাবমূর্তি রক্ষা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ রব মিয়া বলেন, আপত্তিকৃত ৩০৭ ভোট বাতিল করেছে যৌথ কমিটি। যাদের ভোট বাতিল করা হয়েছে তারা চাঁদা ফেরত দাবি করলে ফেরত দেয়া হবে। নইলে তা সংঠনের তহবিলে জমা থাকবে। আর ২৮২ ভোটের বিষয়টি যৌথ কমিটি সার্বিক বিবেচনায় বাতিল করেন নি। তবে এ কথা র্নিদ্বিধিায় বলতে পারি, তারা সোসাইটির জেনুইন সদস্য ও বাংলাদেশি কমিউনিটিরই মানুষ। তারা প্রকাশিত প্রথম লিস্ট থেকেই ভোটার হিসেবে গণ্য হয়েছেন। সবারই মনে রাখতে হবে এই সংগঠনটি আমাদের। এ সংগঠন নিয়ে বাংলাদেশী কমিিউনিটি গর্বিত। আসুন সবাই মিলে একটি সুন্দর ও দৃষ্টান্তমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান করি। নির্বাচিত নতুন নেতৃত্বের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে সহযোগিতা করুন। যৌথ কমিটির সভায় সভাপতি মোহাম্মদ রব মিয়া, সিনিয়র সহ সভাপতি মহিউদ্দীন দেওয়ান ও সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সহ অধিকাংশ সদস্য উপস্তিত ছিলেন। ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যদের মধ্যে উপস্তিত ছিলেন আব্দুল আজিজ, আখতার হোসেন, আজিমুর রহমান বোরহান, আব্দুল হাসিম হাসনু, মফিজুল ইসলাম, শাহজাহান সিরাজী, খোকন মোশাররফ, কামাল পাশা বাবুল, ওয়াসী চৌধুরী ও জহির মোল্লা।

প্রয়োজনে জামায়াতের সাথে এক হয়ে কাজ করব : চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, প্রয়োজন হলে জামায়াতের সাথে এক হয়ে কাজ করব।

বুধবার (২ অক্টোবর) বিকেলে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলীতে নিহত দৈনিক নয়া দিগন্তের সিলেট ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক আবু তাহের মো: তুরাবের পরিবারের সাথে সিলেটের যতরপরুরে সাক্ষাতকালে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে তার পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং নিহতদের রূহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেন। একইসাথে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান তিনি।

সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, মানবতার স্বার্থে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সবসময় কাজ করবে। নির্বাচনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু সময় নেবে, এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। প্রয়োজন হলে জামায়াতের সাথে এক হয়ে কাজ করব। শেখ হাসিনার প্রেতাত্মারা এখনো রয়ে গেছে। মানুষ এখনো মুক্তি পায়নি। আমরা চাই জুলুম-নির্যাতন থেকে মানুষ মুক্তি পাক।

উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই নগরীর কোর্ট পয়েন্টে (বর্তমান শহীদ সাংবাদিক তুরাব চত্বরে) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলীতে নিহত হন দৈনিক নয়া দিগন্তের সিলেট ব্যুরো প্রধান ও দৈনিক জালালাবাদের স্টাফ রিপোর্টার এ টি এম তুরাব।

ইরানি পরমাণু স্থাপনায় ইসরাইলি হামলার বিরোধী যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর ইসরাইলি হামলাকে সমর্থন করবে না যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বুধবার বিষয়টি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন বলে মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাইডেন এ ধরনের পদক্ষেপকে সমর্থন করার কোনো সম্ভাবনার ওপর সরাসরি ‘না’ বলে দিয়েছেন।

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ইসরাইলের ওপর সাম্প্রতিক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দেয়ার অধিকার ইসরাইলের আছে। তবে তিনি আনুপাতিকভাবে তা করার তাগিদ দেন। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান একই অবস্থান প্রতিধ্বনিত করে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে ইরানকে অবশ্যই তাদের পদক্ষেপের ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।

তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাদের সাথে এই লক্ষ্য অর্জনে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ‘জঘন্য আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেন।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, তার দেশে বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইরানের শাসকরা ‘বড় ভুল’ করেছে এবং তারা ‘এর জন্য মূল্য দেবে’।

ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার রাতের পর ইরান ইসরাইলের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় ২০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর বেশিভাগই ইসরাইলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের সহায়তায় ইসরাইলের বাহিনী ভূপাতিত করেছে। ইসরাইল ও ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সিগুলোর মধ্যে বছরব্যাপী চলা সংঘাতের মধ্যে এ হামলা চালানো হলো।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ‘আমার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইসরাইলের প্রতিরক্ষায় সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিয়েছে। আমরা এখনো এর প্রভাব মূল্যায়ন করছি, তবে এখন আমরা যা জানি তার ভিত্তিতে মনে হচ্ছে আক্রমণটি সফল হয়নি এবং তা অকার্যকর ছিল।’
সূত্র : আরব নিউজ, ভিওএ এবং অন্যান্য

আপিল করে জামিন চাইবেন মাহমুদুর রহমান

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টা ষড়যন্ত্রের মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সাজার বিরুদ্ধে আপিল করবেন। আজ বৃহস্পতিবার তার পক্ষে আপিল করে জামিন চাওয়া হবে বলে জানান তার আইনজীবী ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আল আমিন।

তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমানকে দেয়া সাজার বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আমরা আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আপিল করব। সেই সাথে তার জামিন চেয়ে আবেদন করব। আপিল আবেদন গৃহীত হওয়া সাপেক্ষে আমরা আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর এ মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই দিন মামলাটিতে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

ওই দিন আত্মসমর্পণের আগে মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আজকে আত্মসমর্পণ করেছি। এ লড়াই অব্যাহত থাকবে। এ মামলা পুরোটাই সাজানো ও সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা। তৎকালীন সরকার ফ্যাসিবাদ ব্যবস্থা চালু রাখতে আমার বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেছে।

আদালতে মাহমুদুর রহমানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আল আমিন ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ। আদালতে শুনানিতে আইনজীবীরা বলেন, ২০১৫ সালে এই মামলার জন্ম হয়। এটা একটা পাতানো মামলা। এখানে মাহমুদুর রহমান ও শফিক রেহমানকে অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে। তারা বলেন, গত ১৬ বছর একটি সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল। ওই সরকারের প্রতি জনগণের কোনো সমর্থন ছিল না। জোর করে তারা ক্ষমতায় ছিল। মাহমুদুর রহমান দৃঢ়ভাবে ওই সরকারের সমালোচনা করতেন। সেই কারণে মামলার মুখমুখি হতে হয়েছে। বহুবার কারাগারে যেতে হয়েছে। তাকে হত্যার মুখোমখি হতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, একটা পর্যায়ে তাকে জোর করে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

গত বছরের ১৭ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রের মামলায় সাংবাদিক শফিক রেহমানসহ পাঁচজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য চারজন হলেন- আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সহসভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন, তার ছেলে রিজভী আহাম্মেদ ওরফে সিজার এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ভূঁইয়া। সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফজলুর রহমান ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট পল্টন থানায় এ মামলা দায়ের করেন। এ দিকে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে তুরস্ক থেকে দেশে ফিরেছেন মাহমুদুর রহমান।

চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের হোচট

চ্যাম্পিয়নস লিগে হোচট খেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের চমকে দিয়েছে ফরাসি ক্লাব লিলে। হারিয়ে দিয়েছে লস ব্লাঙ্কোজদের। তাতে প্রায় ১৮ মাস পর ইউরোপীয় এই প্রতিযোগিতায় হারের মুখ দেখল রিয়াল মাদ্রিদ।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে বুধবার রাতে লিলের মুখোমুখি হয় রিয়াল মাদ্রিদ। যেকোনো প্রতিযোগিতায় যা দল দু’টির প্রথম দেখা। প্রথম দেখাতেই প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ শিরোপাজয়ীদের হারিয়ে দিয়েছে লিলে। তাদের জয় ১-০ গোলে।

দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রিয়ালকে যেন মাটিতে নামাল লিল। থামল চ্যাম্পিয়নদের সব প্রতিযোগিতা মিলে টানা ৩৬ ম্যাচের অপরাজেয় যাত্রা। আর ২০২৩ সালের মে মাসের পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হারের তেতো স্বাদ পেল রিয়াল।

চোট কাটিয়ে ফেরা কিলিয়ান এমবাপ্পে, বাভ ভিনিসিউস, রদ্রিগো, এন্দ্রিকরাও পারেননি দলকে পথ দেখাতে। বিবর্ণ পারফরম্যান্সে লিলের মাঠে হতাশাই বাড়িয়েছেন তারা। শেষের কয়েক মিনিট ছাড়া রিয়ালে পারফরম্যান্স ছিল সাদামাটা।

উল্টা লিলের আক্রমণে চাপে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। সেই চাপ থেকেই কিনা গোল আদায় করে নেয় স্বাগতিকেরা। প্রথমার্ধেই আসে ম্যাচে একমাত্র গোল। যা ব্যবধান করে দেয় জয়-পরাজয়ে।

বিরতির ঠিক আগে বক্সে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার হাতে বল লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কানাডার ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিডের নিখুঁত স্পট কিকে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে এমবাপ্পে। শেষ দিকে অবশ্য রিয়াল মাদ্রিদ বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করে, তবে ফল আসেনি।

বৈরুতের কাছে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা ইসরাইলের

ইসরাইলি বাহিনী বুধবার বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলীতে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে গ্রুপটি বলেছে, সীমান্তের কাছে লেবাননের বেশ কয়েকটি শহরে ইসরাইলি সেনাসদস্যদের সাথে তাদের সংঘর্ষ হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বুধবার গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে ইসরাইলি সেনা বিমান ও স্থল হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ৫১ জন নিহত ও ৮২ জন আহত হয়েছে।

জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ বুধবার এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে আলোচনা করার জন্য বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিয়েছে। আলোচ্যসূচির মধ্যে এক দিন আগে ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মঙ্গলবার গুতেরেসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা উল্লেখ না করে সহিংসতা বৃদ্ধি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফ্রান্স ও জার্মানির নেতারা বুধবার পৃথক বিবৃতিতে ইরানের হামলার নিন্দা জানান। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস বলেন, ইরান ‘পুরো অঞ্চলে আগুন লাগিয়ে দেয়ার ঝুঁকি নিচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ‘জঘন্য আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেন।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, তার দেশে বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইরানের শাসকরা ‘বড় ভুল’ করেছে এবং তারা ‘এর জন্য মূল্য দেবে’।

ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার রাতের পর ইরান ইসরাইলের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় ২০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর বেশিভাগই ইসরাইলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের সহায়তায় ইসরাইলের বাহিনী ভূপাতিত করেছে। ইসরাইল ও ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সিগুলোর মধ্যে বছরব্যাপী চলা সংঘাতের মধ্যে এ হামলা চালানো হলো।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ‘আমার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইসরাইলের প্রতিরক্ষায় সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিয়েছে। আমরা এখনো এর প্রভাব মূল্যায়ন করছি, তবে এখন আমরা যা জানি তার ভিত্তিতে মনে হচ্ছে আক্রমণটি সফল হয়নি এবং তা অকার্যকর ছিল।’
সূত্র : ভিওএ

জাতিসঙ্ঘে ইউনূসের সফল কূটনীতিতে চিন্তায় ভারত!

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের জাতিসঙ্ঘে দুর্দান্ত কূটনৈতিক সাফল্যে চিন্তায় পড়ে গেছে ভারত। সাধারণ সম্মেলনে নিজে বক্তৃতা দেয়ার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সাথে বৈঠক করেছেন ইউনূস। এর মাধ্যমে ধারণা করা হচ্ছে যে শেখ হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশের সরকারি নেতৃত্বের প্রতি পশ্চিমি দুনিয়া এবং আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন এবং সহযোগিতা থাকবে ভবিষ্যতে। আর এই সহায়তার কৌশলগত, বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক ভূমিকা রয়েছে। ফলে ভারত আশঙ্কা করছে, ভারতের প্রতি দ্বিপক্ষীয় নির্ভরতার জায়গা সঙ্কুচিত করাই এই মুহূর্তে ইউনূস সরকারের লক্ষ্য কি না, সেই প্রশ্নও উঠে আসছে দিল্লির কূটনৈতিক মহলে। কলকাতাভিত্তিক আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনের শুরুতে ভারতের পররাষ্ট্র দফতরের ক্ষোভের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশের মাটিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নিপীড়ন রুখতে নতুন অন্তর্বর্তিকালীন সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে ক্ষোভ বাড়ছে সাউথ ব্লকে। সে কারণে মুহাম্মদ ইউনূস চাইলেও জাতিসঙ্ঘ সাধারণ সম্মেলনে তার সাথে বৈঠক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এড়িয়ে গিয়েছিলেন বলে সূত্রের খবর। তবে মোদির সাথে বৈঠক না হলেও আমেরিকার সিলমোহর নিয়ে সফলভাবেই আন্তর্জাতিক দৌত্য সারলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস। যা দিল্লির আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

এতে বলা হয়, সাধারণ সম্মেলনে নিজে বক্তৃতা দেয়ার পাশাপাশি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সাথে বৈঠক করেছেন ইউনূস। পাশাপাশি, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট, বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান এবং এডিবি-র শীর্ষকর্তার সাথেও আলাদা করে আলোচনা হয়েছে তার। এই সব আলোচনার মূল সূর একটাই। শেখ হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশের সরকারি নেতৃত্বের প্রতি পশ্চিমি দুনিয়া এবং আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন এবং সহযোগিতা থাকবে ভবিষ্যতে। যে সহায়তার কৌশলগত, বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক ভূমিকা রয়েছে। এক কথায়, ভারতের প্রতি দ্বিপক্ষীয় নির্ভরতার জায়গা সঙ্কুচিত করাই এই মুহূর্তে ইউনূস সরকারের লক্ষ্য কি না, সেই প্রশ্নও উঠে আসছে কূটনৈতিক মহলে।

আনন্দবাজার জানায়, ভারতের পররাষ্ট্র দফতরের চিন্তা বাড়িয়ে নিউ ইয়র্কে ইউনূসের দৌত্য তালিকা প্রসারিত হয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সাথেও। সূত্রের খবর, সার্ক-কে জাগিয়ে তোলা ও বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে পুনরুজ্জীবিত করা নিয়ে কথা হয় ইউনূস-শরিফের। ভারত-সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহলের বক্তব্য, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ১০০ দিনে কাজকর্মের খতিয়ানে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ না রাখলেও এই মুহূর্তে ঢাকার সাথে সম্পর্কের কৌশল রচনাই মোদি সরকারকে অগ্রাধিকারের মধ্যে রাখতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সাথে ঘনিষ্ঠতার বার্তা থেকে স্পষ্ট, বাংলাদেশ এখন তার নীতির কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামীকে আরো বেশি করে রাখতে চাইছে। যা স্বস্তির নয় নয়াদিল্লির কাছে। আপাতত দু’টি বিষয় স্পষ্ট। এক, এই অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক বৈধতা পেয়ে গেছে সে দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মধ্যে। দুই, ঢাকার সাথে ইসলামাবাদের সম্পর্ক আগামী দিনে এগোলে তা নিয়ন্ত্রণ করার মতো কূটনৈতিক অস্ত্র এখন ভারতের হাতে নেই। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, জাতিসঙ্ঘে বাংলায় বক্তৃতা দিয়েছেন ইউনূস। এই বার্তাই তিনি দিতে চেয়েছেন, ক্ষমতার বদল হলেও তাকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা ঠিক নয়। বাংলাদেশের জাতিসত্তার স্বকীয়তাতেই তিনি বিশ্বাসী।