নব্বইয়ের দশকে বলিউডের সর্বোচ্চ উপার্জনকারী অভিনেতাদের তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেলেন বলিউড বাদশা শাহরুখ খান। ১৯৯৫ সালে ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’ দিয়ে প্রথমবার কাঁপিয়েছিলেন বক্স অফিস। একই বছর মুক্তি পায় ‘কর্ণ অর্জুন’। পরপর শাহরুখের এই দু’টি ছবিই বক্স অফিসে দুর্দান্ত ব্যবসা করে।
তবে আজ থেকে প্রায় এক দশক আগে ২০১১ সালে অনুভব সিংহের পরিচালনায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘রাওয়ান’। ছবিটিতে ভিএফএক্স প্রযুক্তির উচ্চ মানের ব্যবহার দেখা যায়। এই সিনেমা তৈরি করতে খরচ হয়েছিল ১৩০ কোটি টাকা।
সিনেমাটিতে নায়িকা ছিলেন কারিনা কাপুর। এছাড়া ক্যামিয়ো চরিত্রে দেখা গিয়েছিল শাহরুখের ‘চর্চিত’ প্রেমিকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাসকে। তবুও বক্স অফিসে লাভের মুখ দেখেনি সেই ছবি।
অনেকে মনে করেন, ছবিটি ব্যবসা করতে পারেনি বলেই নাকি কারিনা আর শাহরুখের সঙ্গে কোনো ছবিতে অভিনয় করেননি।
এক দশক আগে ‘রাওয়ান’ ছবি তৈরিতে এত খরচ হলেও মুক্তির পর বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে সেই ছবি। শুধু তাই নয়, শাহরুখের ক্যারিয়ারের অন্যতম ব্যর্থ সিনেমা হিসেবে ধরা হয় এই ছবিটিকে।
বলিপাড়া সূত্রে খবর, ‘রাওয়ান’ ছবি মুক্তি পাওয়ার পর বক্স অফিসে ১১৪ কোটি টাকার ব্যবসা করে। সে হিসেবে খরচের ১৩০ কোটিও তুলতে পারেনি।
সিনেমাটি ব্যর্থ হওয়ার পর বলিপাড়ার একাংশ কটাক্ষ করে মন্তব্য করেছিলেন, ‘শাহরুখের প্রেমিকাও ছবিটিকে ফ্লপ হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি।’
তবে বলিপাড়ার অধিকাংশের দাবি, ‘রাওয়ান’ যদি ১৩ বছর আগে মুক্তি না পেয়ে এই সময় মুক্তি পেত, তাহলে ভালো ব্যবসা করত। ঠিক সময় মুক্তি পায়নি বলেই ছবিটির এই দুর্দশা।
এক পুরনো সাক্ষাৎকারে ছবির পরিচালক অনুভবকে ‘রাওয়ান’ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি শাহরুখকে হতাশ করেছি বলে মনে হয়। আমার কাছে সুযোগ ছিল, কিন্তু আমি ভালো ছবি বানাতে পারিনি।’’
শাহরুখের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ফ্লপ সিনেমা, ওঠেনি খরচের টাকাও
অভিনেতা নয়, এবার নেতার ছেলের সঙ্গে সাইফকন্যার প্রেম
২০১৮ সালে ‘কেদারনাথ’ন ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন নবাব সাইফ আলি খানের কন্যা সারা আলি খান। তার জনপ্রিয়তা যেমন বাড়ছে, একই সঙ্গে ঘটছে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চা। অভিনেত্রী ছোট থেকেই কার কার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন, তা নির্দ্বিধায় বাবার সামনে বসেই অকপটে তা বলতে পারেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনো রাখঢাক নেই সাইফকন্যার।
নিজের প্রথম ছবি মুক্তির আগেই জানিয়েছিলেনÑ অভিনেতা কার্তিক আরিয়ানকে তার পছন্দ। এর পর তার সঙ্গে ছবি করা থেকে শুরু করে প্রেমÑ সবটাই হয়েছে। যদিও শেষে গিয়ে টেকেনি তাদের সেই সম্পর্ক। এরপর শোনা যায়, আরেক প্রেমিক বীর পাহাড়িয়ার কাছেই নাকি ফিরে গেছেন সারা আলি খান। এবার নব্য নায়িকাকে নিয়ে শোনা যাচ্ছে নতুন চর্চা।
আনন্দবাজার সূত্রে জানা গেছে, এবার কোনো অভিনেতা নয়, নেতার ছেলের সঙ্গে নাকি প্রেম করছেন সাইফকন্যা সারা আলি। স¤প্রতি তার কেদারনাথ দর্শনের ছবি নাকি সেই প্রমাণই দিচ্ছে। শুরু হয়েছে নতুন চর্চা।
প্রতি বছরই কেদারনাথ দর্শন করতে যান অভিনেত্রী। কখনো ভাইয়ের সঙ্গে যান, আবার কখনো জাহ্নবী কাপুরের সঙ্গে যান। কিন্তু এবার সারার কেদারনাথ যাত্রার সঙ্গী ছিলেন সেই নেতার ছেলে বলে জানা গেছে।
কেদারনাথ দর্শনের একগুচ্ছ ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন সারা আলি খান। কিন্তু কার সঙ্গে গেছেন, তার আভাস তিনি দেননি। যদিও সামাজিকমাধ্যমে এখন অনেক কিছুই আড়াল করা কঠিন। তাতে একরকম ধরাই পড়ে গেলেন এ অভিনেত্রী।
সারাকে কেদারনাথে পূজা দিতে দেখা গেছে অর্জুন প্রতাপ বাজওয়ার সঙ্গে। আর তা নিয়েই সামাজিকমাধ্যমে নেটিজেনদের চর্চা শুরু হয়েছে সারা-অর্জুনের সম্পর্ক নিয়ে।
অর্জুন প্রতাপ সিং হচ্ছেন পাঞ্জাবের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ফতেহ জং সিং বাজওয়ার ছেলে। পাঞ্জাবে বিজেপির সহসভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। যদিও অর্জুন চলচ্চিত্র জগতের লোক। ভারতের অন্যতম নামি মডেলও। একাধিক ব্র্যান্ডের প্রচার দূত হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। বলিউড অভিনেত্রীদের সঙ্গেও তার ওঠবস।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনের লোকদের সঙ্গে সারার প্রেম এই প্রথম নয়। এর আগেও সারা রাজনৈতিক প্রভাবশালী পরিবারের এক ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। তবে অর্জুনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি অর্জুন-সারা দুজনেই।
‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর সুফল কই! চরম বৈষম্যের শিকার হিন্দুরা ?
রতন তালুকদারঃ বিপ্লবী জুলাই মাসের গোড়ার কথা, ছাত্রদের যৌথ মঞ্চ ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ চলাকালীন বারবার বলা হয়েছিল ‘বৈষম্যহীন’ বাংলাদেশের কথা। তারপর ছাত্রসমাজ আন্দোলনে বিজয়ী হয়। আন্দোলনের তীব্র চাপে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইস্তফা দিয়ে পালিয়ে যায়। ৫ আগস্ট হাসিনার পতনের পর থেকেই বৈষম্যের শিকার বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। প্রথমে শুরু হয়েছিল সরাসরি হিন্দুদের ওপর আক্রমণ। মাঝে পাহারা দিয়ে দুর্গাপূজাও হল! ধীরে বহে মেঘনা-র মত জল আরও ঘোলা হতে শুরু করে।
‘বৈষম্যহীন’ বাংলাদেশে ঘুরপথে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নেমে আসে নির্যাতন ও সহিংসতার ভয়াল দৃশ্যপট। দেশে দলবদ্ধভাবে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়, হেনস্তা তো আছেই! অভিযোগ রাজনৈতিক মদতপুষ্ট বিভিন্ন মৌলবাদী সংগঠন সামাজিকভাবে হিন্দুদের বয়কটের ডাক দেয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সরকারি পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা,পুজা-পার্বনে বাঁধা দেয়া। সম্প্রতি হিন্দু ধর্মাবলম্বী একাধিক শিক্ষক,অধ্যাপক চাপে পড়ে ইস্তাফা দিয়েছেন। ইস্তাফা না দিলে খুনের হুমকিও দেয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায় । সরাসরি বরখাস্ত তো এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।
পুলিশ বাহিনীতেও বেছে বেছে হিন্দু পুলিশকর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছে, রাজশাহীর পুলিশ অ্যাকাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ শেষে ২৫২ জন সাব ইনসপেক্টরকে শৃঙ্খলাভঙ্গের মামুলি অভিযোগে এনে বহিষ্কার করা হয়। এর মধ্যে ৯১ জন ছিল হিন্দু।
ক্রমাগত কোণঠাসায় বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের পিঠ আর দেয়াল থেকে দুরে নয়! চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দানে লক্ষ হিন্দুদের সমাবেশ সেই গল্পই বলে। ইসকন প্রভুদের দেশদ্রোহি বানানোর নাটক কাজে আসবে না। অন্তরবর্তীকালীন সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনুস আপনি বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় অসহায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের বাচাঁন। বৈষম্যহীন বাংলাদেশে ওরা বৈষম্যের শিকার হবে কেন ? ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না।’ বাংলাদেশি হিন্দুরা আর ভারতে পালিয়ে যাবে না। এই দেশ ওঁদের মাতৃভূমি।
রতন তালুকদারঃ সম্পাদক,সাপ্তাহিক জন্মভূমি। নিউইর্য়ক।
মাহমুদুর রহমান এর কান্ডজ্ঞানহীন বক্তব্যে বিস্মিত !!!
রতন তালুকদার,নিউইর্য়কঃ আমি উনাকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনি, তবে উনার বক্তব্য শুনে মনে হয়েছে উনি বর্তমানে ট্রমাটিক ডিসঅর্ডারে ভুগছেন, না হলে ভারতের হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ছুটির বিষয়ে মিথ্যাচার করতেন না। আপনি জানেন কি ভারতে মুসলিমদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ছুটি ৬দিন ? পক্ষান্তরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ছুটি ৮ দিন।
বিশ্বের প্রায় ১৭৫ টিরও বেশী দেশে ইস্কন জনপ্রিয় একটি সংগঠন। আমি নিউইয়র্ক থেকে আপনাকে চ্যালেন্জ করলাম পারলে আপনি ইস্কন বন্ধ করে দেখান? আপনাকে বলতে চাই সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দেয়া বন্ধ করুন। আপনার বক্তব্যের মাঝে সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসআই এর গন্ধ পাওয়া যায়, উস্কানীমুলক সাম্প্রদায়িক বক্তব্য কেবল সহিংসতার দিকে উসকে দেয়।
দেশের বৃহত্তম দল বিএনপিকে পাত্তা না দেওয়ার পরামর্শ ও ড. ইউনুসকে ক্ষমতা ছাড়তে বলার আপনি কে ? নাকি উপদেষ্টা পরিষদে নিয়োগ না পেয়ে আশাভঙ্গের বেদনায় ভুগছেন?
বাংলাদেশে নাগরিক হিসেবে আপনার যেমন অধিকার তেমনি একজন হিন্দুরও সমান অধিকার আছে। কারন ৭১-এ এই দেশ ৪৭ এর মতো দ্বিজাতিতত্বের ভিত্তিতে স্বাধীন হয়নি ।
আপনার ভারত এলার্জি থাকতেই পারে , যা নিতান্তই আপনার ব্যক্তিগত।
তবে কারনে অকারনে মিথ্যাচার করে ভারত বিরোধীতা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অন্তরায়।
তাই হে বন্ধু সাধু সাবধান…..!!!
রাষ্ট্রপতি অপসারণ ইস্যুতে অবস্থান পাল্টাবে না বিএনপি
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো: সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ ইস্যুতে অবস্থান পাল্টাবে না বিএনপি। এ ইস্যুতে ইতোমধ্যে সংবিধানের বাইরে না যাওয়ার যে অবস্থান জানিয়েছে দলটি, সেটিতেই তারা বহাল থাকবে।
রাষ্ট্রপতির অপসারণ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ও জাতীয় নাগরিক কমিটির ছাত্রনেতারা বিএনপির সাথে বৈঠকের দুই দিন পর গত সোমবার রাতে এ নিয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। জানা গেছে, বৈঠকে রাষ্ট্রপতির অপসারণ নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সেখানে সাংবিধানিক শূন্যতা বা রাজনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি হয়, এমন কোনো উদ্যোগ না নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
বিএনপির শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বলছেন, বিপ্লব বা গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও সাংবিধানিক পথেই অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। সুতরাং সেই সংবিধানকে উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যৌক্তিক হবে না। দলটি মনে করছে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সংবিধানকে বাতিল ঘোষণা করা হলে দেশে সাংবিধানিক সঙ্কট বা রাজনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি হবে। এমনটা হলে নির্বাচন আরো পিছিয়ে যেতে পারে, যা দেশকে গভীর সঙ্কটের দিকে নিয়ে যেতে পারে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। এরপর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিগত সরকারের আমলে দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টিতে রাষ্ট্রকাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কারে দশটি কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। সংস্কারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কয়েক দফা সংলাপও করে সরকার। এমন অবস্থায় শেখ হাসিনার পদত্যাগের দালিলিক প্রমাণ নেই বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ কয়েকটি সংগঠন তার পদত্যাগের দাবি তোলে।
গত ২২ অক্টোবর বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচিও পালন করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২২ অক্টোবর রাতে দলের সিনিয়র নেতাদের সাথে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে নেতারা অভিমত দেন, অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা ঠিক হবে না। এমনটা হলে দেশে সাংবিধানিক সঙ্কট সৃষ্টি হবে। দলীয় সিদ্ধান্তের আলোকে পরদিন ২৩ অক্টোবর বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল যমুনায় গিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সাথে বৈঠক করে। সেখানে দলীয় অবস্থান তুলে ধরে বিএনপি নেতারা বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির পদ নিয়ে এই মুহূর্তে দেশে সাংবিধানিক, রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি হোক- সেটা কাম্য নয় বিএনপির। বিএনপি চায় না, দেশে নতুন করে কোনো সাংবিধানিক সঙ্কট সৃষ্টি হোক।
প্রধান উপদেষ্টার সাথে বৈঠক নিয়ে ওই দিন বিকেলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির পদটা একটা সাংবিধানিক পদ বা একটা প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। এই পদে হঠাৎ করে পদত্যাগের মাধ্যমে শূন্যতা সৃষ্টি হলে রাষ্ট্রীয় সঙ্কট ও সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে। রাষ্ট্রীয় সঙ্কট সৃষ্টির মাধ্যমে যদি গণতন্ত্রে উত্তরণের পথটা বিলম্বিত, বাধাগ্রস্ত কিংবা কণ্টকাকীর্ণ হয় তা জাতির কাম্য নয়।’
এরপর ওই দিন (২৩ অক্টোবর) রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে রাষ্ট্রপতির অপসারণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করেন বিএনপি নেতারা। তারা বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর দেশের সংবিধান স্থগিত করা হয়নি। রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে এখন সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিএনপির এমন অবস্থানে রাষ্ট্রপতি অপসারণ ইস্যুতে ছাত্রনেতাদের দাবি থমকে যায়। এরপর এ ইস্যুতে ঐক্য সৃষ্টির চেষ্টায় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা। এর অংশ হিসেবে গত শনিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠক করেন ছাত্রনেতারা। সেখানে ছাত্রনেতাদের তরফ থেকে বিএনপিকে তাদের অবস্থান জানানো হয়, কেন তারা রাষ্ট্রপতির অপসারণ চান-সেটিও তুলে ধরেন। তবে বিএনপি তাদের চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। দলটি তখন জানায়, এ ইস্যুতে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবেন তারা।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় প্রধান এজেন্ডা ছিল রাষ্ট্রপতির অপসারণ ইস্যু। জানা গেছে, সভার শুরুতে রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে ছাত্রনেতাদের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সারমর্ম তুলে ধরা হয়। এরপর নেতারা তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন। তারা ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্রে নতুন করে কোনো ধরনের সঙ্কট বা জটিলতায় পড়ুক- এমন পরিস্থিতি সতর্কভাবে এড়িয়ে চলার অবস্থান প্রকাশ করেন। বিশেষ করে, রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ প্রশ্নে। সভায় কেউ কেউ বলেন, সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও প্রক্লেমেশন অব সেকেন্ড রিপাবলিক (দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রের ঘোষণাপত্র) ঘোষণাসহ কয়েকটি দাবি তোলা হয়েছে। এ জন্য যদি সংবিধান বাতিল করা হয়, তাহলে দেশে বড় ধরনের সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারে। তারা যুক্তি তুলে ধরে বলেন, সাংবিধানিক সঙ্কট এ জন্য সৃষ্টি হবে যে, রাষ্ট্রপতি কার কাছে পদত্যাগ করবেন সে ধরনের কোনো অপশন খোলা নেই। প্রধান বিচারপতিও বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন বলে সভায় একজন জানান।
স্থায়ী কমিটির সভায় বিএনপি নেতারা বলেন, রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে দশটি কমিশন গঠন করেছে। তারাই মতামত দিবেন কী ধরনের সংস্কার হতে পারে রাষ্ট্রের। তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া উচিত। বাইরে থেকে নানা ধরনের দাবি তুললে, কমিশন ঠিকমতো কাজটা করতে পারবে না।
জানা গেছে, সভায় এবার ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ জাঁকজমকভাবে পালন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই দিন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) মাজারে বড় ধরনের শোডাউন করবে দলটি। দেশব্যাপীও বৃহৎ আকারে দিবসটি পালিত হবে।
সভায় মতামত এসেছে, দ্রুততম সময়ে সরকারের উচিত নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা এবং দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের দিকে নজর দেয়া। বিএনপি আগামী দিনে তাদের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক সব ধরনের কর্মসূচিতে দ্রুত নির্বাচনের ব্যাপারে সোচ্চার হবে। এর মধ্য দিয়ে সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে দলটি। বৈঠকে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার ব্যাপক প্রচারণা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেয়া হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করা। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্যের দিকে নজর দেয়া। একইসাথে সাংবিধানিক কোনো শূন্যতা যাতে সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত।
জানা গেছে, বিএনপি জনসম্পৃক্ত নানা ইস্যুতে পর্যায়ক্রমে সোচ্চার হবে। এর মূল লক্ষ্য হবে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জনমতকে তাদের সাথে সম্পৃক্ত রাখা।
যুদ্ধ বন্ধ না হলে অস্ত্রবিরতিতে রাজি নয় হামাস
আলোচকরা একটি সংক্ষিপ্ত অস্ত্রবিরতি-পণবন্দী বিনিময় চুক্তির জন্য চাপ দেয়া অব্যাহত রাখলেও গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস জানিয়েছে, তারা যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ না করা হলে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থায় রাজি হবে না। মিসর, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার চার পণবন্দীর মুক্তির বিনিময়ে দু’দিনের অস্ত্রবিরতির ওপর চাপ দিচ্ছে। তারা বলছে, এর মাধ্যমে হামাসের হাতে থাকা ১০১ বন্দীর মুক্তির আলোচনা শুরু হতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে হামাসের সিনিয়র কর্মকর্তা সামি আবু জুহরি মঙ্গলবার বলেছেন, তারা গাজায় যুদ্ধের অবসান এবং উপত্যকা থেকে ইসরাইলি বাহিনীর পুরোপুরি প্রত্যাহারের যেকোনো চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী। আর এটা হামাসের সবসময়ের অবস্থান।
টেলিভিশনে প্রচার করা বক্তৃতায় আবু জুহরি বলেন, ‘গাজায় আমাদের জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবের যেকোনো চুক্তির ব্যাপারে আমরা আলোচনা করতে রাজি আছি।’
তিনি আরো বলেন, মধ্যস্ততাকারীদের কাছ থেকে পণবন্দী মুক্তি ও যুদ্ধবিরতির একটি নতুন প্রস্তাব তারা পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র আশা করেছিল যে এবার গ্রুপটি তাদের শর্তের ব্যাপারে নমনীয় হবে। বিশেষ করে পণবন্দী মুক্তির চুক্তি না হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সিনওয়ারকে দায়ী করে আসছিল। কিন্তু সিনওয়ারের মৃত্যুর পরও হামাস তার অবস্থানে অটল রয়েছে।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক উইলিয়াম বার্নস, ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোশাদের পরিচালক ডেভিড বারনিয়া এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-সানি দোহায় একটি চুক্তির ব্যাপারে আলোচনা করেন। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে একটি ছোট আকারের চুক্তি হলে তা দু’পক্ষের মধ্যে আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে।
মিসরের মিনি চুক্তিতে বলা হয়েছিল যে চার পণবন্দীর মুক্তির বিনিময়ে ৪৮ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধ বন্ধ থাকবে। এছাড়া ইসরাইলের কারাগারে থাকা কয়েকজন ফিলিস্তিনিকেও মুক্তি দেয়া হবে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক অ্যাক্সিয়সে বলা হয়েছে, এই মিনি চুক্তির পর মিসর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্র ২৮ দিনের আরেকটি চুক্তি করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ সময় আট পণবন্দীকে মুক্তি দেয়া হবে।
এছাড়া এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হিজবুল্লাহর সাথেও যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে হামাস ও হিজবুল্লাহর সাথে যুদ্ধবিরতি হবে পৃথকভাবে।
সূত্র : জেরুসালেম পোস্ট
মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হচ্ছে এবার!
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও বিতর্কমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা অভিমত প্রকাশ করেছেন। নির্বাচন হতে মাত্র এক সপ্তাহ বাকি থাকলেও এখন পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না, কে হতে পারেন পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ের মালা ছিনিয়ে আনতে জোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
ডেমক্র্যাটিক দলীয় প্রার্থী ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস হোয়াইট হাউসের কাছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভোটারদের সামনে তার কথিত ‘সমাপ্তি যুক্তি’ তুলে ধরছেন। আর রিপাবলিকান প্রার্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেনসিলভেনিয়ায় প্রচার অভিযান চালাচ্ছেন। পেনসিলভেনিয়া হচ্ছে সাতটি অঙ্গরাজ্যের একটি, যেগুলো প্রচণ্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং সামগ্রিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করতে পারে।
উভয় প্রার্থীই আগামী চার বছরের এই নতুন মেয়াদে দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার অনুপুযুক্ত বলে পরস্পরের অবমূল্যায়ন করছেন। কয়েক দশকের মধ্যে এই যে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হতে চলেছে, তাতে যেসব ভোটদাতা কাকে ভোট দেবেন বলে স্থির করেননি, তাদের কাছ থেকে উভয়ই ভোটের সুবিধা চাইছেন।
জরিপে দেখা যাচ্ছে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে হ্যারিস ও ট্রাম্প উভয়ই সমান সমান অবস্থানে রয়েছেন কিংবা খুব সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন অথবা পিছিয়ে আছেন। তবে এর সবটুকুই সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাব, এতে ভুল হতেও পারে। এই সাতটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের প্রত্যেকটিতেই কয়েক হাজার ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
যারা এখনো কাকে ভোট দেবেন, সে ব্যাপারে এখানো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি, কমলা ও ট্রাম্পের শেষ মুহূর্তের ভাষণ ওইসব ভোটারের একদিকে কিংবা অন্যদিকে ভোটদানে আগ্রহী করে তুলতে পারে। তবে এই নির্বাচনী প্রচার অভিযানে তারা তাদের প্রতিশ্রুতিশীল ভোটদাতাদের শিগগিরই ভোটদান করতে কিংবা নির্বাচনের দিনে ভোট দিতে বলছেন, যা কিনা ফলাফল নির্ধারণ করতে পারে।
ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকশান ল্যাব জানিয়েছে যে আগামী মঙ্গলবারের আগেই প্রায় চার কোটি ৯০ লাখ লোক ভোট কেন্দ্রে গিয়ে কিংবা ডাক মারফত আগাম ভোট দিয়েছেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে সাড়ে ১৫ কোটি লোক ভোট দেন।
পেনসিলভেনিয়ার অ্যালেনটাউনের দিকে যাবার আগে ট্রাম্প সমুদ্রপারে ফ্লোরিডায় মার-এ-লাগোতে বক্তব্য রাখেন। তিনি হ্যারিসকে ‘মারাত্মকভাবে অযোগ্য, সম্পূর্ণ ধ্বংসাত্মক’ বলে বর্ণনা করেন।
তবে ট্রাম্প সংবাদদাতাদের কাছ থেকে কোনো প্রশ্ন নেননি। এছাড়া তিনি গত রোববার নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে টনি হিঞ্চক্লিফের এই কৌতুকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি যেখানে বলা হয় যে যুক্তরাষ্ট্রের হিস্প্যানিক অঞ্চল পিউর্টো রিকো হচ্ছে , ‘আবর্জনার ভাসমান দ্বীপ।’
ট্রাম্পের নির্বাচনী অভিযান এই কৌতুক থেকে দূরে থাকছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে এবিসি নিউজকে বলেন, তিনি হিঞ্চক্লিফকে চেনেন না। তিনি বলেন, ‘কেউ তাকে সেখানে নিয়ে এসেছিল, আমি জানি না সে কে।’
ওই দ্বীপে বসবাসরত পিউর্টে রিকার লোকজন আমেরিকান। কিন্তু তারা যুক্তরাষ্ট্রের অঞ্চলে বাস করলেও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে বাস করেন না। অতএব তারা ভোট দিতে পারেন না। তবে ওই দ্বীপে বড় হয়ে ওঠা হাজার হাজার লোক এবং তাদের স্বজনরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে চলে এসেছেন। তারা যে অঙ্গরাজ্যে থাকুন না কেন, তারা ভোট দিতে পারেন।
কোনো কোনো তীব্র প্রতিযোগিতামূলক রাজ্যে হাজার হাজার পিউর্টে রিকানদের ভোট ফলাফল নির্ধারনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ । হ্যারিসের নির্বাচনী প্রচার অভিযান দ্রুতই ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে যেখানে তারা বলছেন, ল্যাটিনো ভোটারদের সাবেক প্রেসিডেন্ট যে ভাবে দেখেন তার চেয়ে অনেক ‘ভালো প্রাপ্য’ তাদের।
প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হতে উভয় প্রার্থীই দেখছেন, কেবল পেনসিলভেনিয়া রাজ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেখানেই ৩,০০০০০ পিউর্টো রিকান ভোটদাতা রয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচার অভিযানে হ্যারিস ও ট্রাম্প উভয়ই পরস্পরকে অপমান করেছেন।
কমলা হ্যারিসকে ট্রাম্প এমন একজন বলে উল্লেখ করেন যার ‘আইকিউ’ খুব কম। ট্রাম্প বলেন, বিশ্বের অন্যান্য নেতার কাছে তিনি ‘খেলনার পুতুল’ হয়ে থাকবেন। তিনি বলেন, ‘তারা তাকে সবটুকু ব্যবহার করবে।’
আবার ট্রাম্পের ২০১৭-২০২১ আমলের সাবেক শীর্ষ কিছু সহযোগী তাকে ফ্যাসিবাদী বলে বর্ণনা করেছেন, যিনি তার দ্বিতীয় মেয়াদে কর্তৃত্ববাদী হিসেব শাসন করার ইচ্ছা পোষণ করেন। হ্যারিস বলেন, এই বর্ণনার সাথে তিনি সহমত।
ট্রাম্পও পাল্টা হ্যারিসকে একইভাবে বর্ননা করেন।
কমলা হ্যারিস এলিপ্সে তার ভাষণের আগে পাঁচটি সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন, যেখানে তিনি ট্রাম্পকে আমেরিকান গণতন্ত্রের প্রতি হুমকি হিসেবে তুলে ধরবেন। স্থানীয় পুলিশ অনুমান করছে, সেখানে প্রায় ৫০,০০০ লোক উপস্থিত থাকবেন।
এলিপ্স হচ্ছে সেই স্থান যেখান থেকে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ট্রাম্প তার সমর্থকদের ক্যাপিটলে যেতে বলেছিলেন এবং কংগ্রেস যাতে ডেমক্র্যাট জো বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণা না করতে পারে সে জন্য যেকোনো মূল্যে লড়াই করতে বলেছিলেন।
আমেরিকার সরকারের মূল স্থানে তাদের ধ্বংসাত্মক কাজের জন্য ১৫০০-এরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়। ওই ঘটনায় ১৪০ জন আইন প্রয়োগকারী ব্যক্তি আহত হন এবং ক্যাপিটলে ২৯ লাখ ডলারের সম্পত্তির ক্ষতি হয়।
এক হাজারেরও বেশি দাঙ্গাকারীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এদের মধ্যে যারা গুরুতর অপরাধ করেছে, তাদেরকে কয়েক বছরের জন্য কারাদণ্ড দেয়া হয়।
ট্রাম্প বলছেন, নির্বাচনে জয়লাভ করলে তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিতে পারেন।
হ্যারিসের প্রচারাভিযান বলছে যে তিনি তার ভাষণে এ কথাই তুলে ধরবেন যে ট্রাম্প আমেরিকান জনগণের পরিবর্তে নিজের উপর এবং তার ‘শত্রুদের তালিকার’ উপরই বেশি নজর দিবেন। কিন্তু হ্যারিস ‘প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে তার অগ্রাধিকারের তালিকার দিকে নজর দিবেন, যাতে ব্য কমানো যায় এবং আমেরিকানদের জীবনযাপনে সাহায্য করা যায়।’
হ্যারিস প্রায়ই বলেছেন যে এখন সময় এসেছে ট্রাম্প যুগের ‘পাতা উল্টানোর।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বচানের ফলাফল সরাসরি জাতীয় ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না। বরঞ্চ ইলেক্টরাল কলেজ তা নির্ধারণ করে। ৫০টি অঙ্গরাজ্যে এই প্রতিযোগিতা হয়, ৫০টি অঙ্গ রাজ্যের মধ্যে ৪৮টি তাদের রাজ্যে বিজয়ীকে, হ্যারিস কিংবা ট্রাম্প, যিনিই হোন, সব ইলেক্টরাল ভোট প্রদান করে। নেব্রাস্কা ও মেইন রাজ্য দু’টি তাদের রাজ্যের ও কংগ্রেসানাল ডিস্ট্রিক্টের ভোট প্রদান করে।
প্রত্যেক রাজ্যের ইলেক্টরাল ভোট তাদের মোট জনসংখ্যার উপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। প্রেসিডেন্ট পদে জয় লাভ করতে হলে মোট ৫৩৮টি ইলেক্টরাল ভোটের মধ্যে ২৭০টি ইলেক্টরাল ভোটের প্রয়োজন পড়ে।
সূত্র : ভিওএ
বিসিবির গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড সভা আজ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গুরুত্বপূর্ণ সভা হবে আজ বুধবার। বেশ কয়েকটি বড়সড় বিষয় সামনে রেখে আলোচনায় বসবে ফারুক আহমেদের নেতৃত্বাধীন বোর্ড। মাঠ কিংবা মাঠের বাইরের নানা ইস্যুতে আসতে যাচ্ছে সাহসী সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশ জাতীয় দল এই মুহূর্তে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ খেলছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। চলছে অনুর্ধ্ব ১৯ দলের খেলাও। এর বাহিরের ক্রিকেটাররা আছেন বিসিএলে। সব মিলিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় চলছে দেশের ক্রিকেটে।
তবে ক্রিকেটের ব্যস্ততার মাঝে ব্যস্ততা বেড়েছে ক্রিকেট বোর্ডেও। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে সামনে রেখে বোর্ড সভা ডেকেছেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। যা তার অধীনে চতুর্থ বোর্ড সভা। আর এখানেই নির্ধারণ হতে পারে পাপন গংদের ভাগ্য।
নাজমুল হাসান পাপন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিদায়ী সভাপতি। দেশে ক্ষমতার পালাবদলের পর সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলেও এখনো রয়ে গেছেন পরিচালক হয়ে। তবে এবার তারও ইতি ঘটতে পারে আজ।
শুধু পাপন নয়, যেসব পরিচালকেরা সরকার পতনের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন ও আগের টানা তিনটি সভাতে অংশ নেননি, তাদের নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে বোর্ড। আইন অনুযায়ী টানা তিনটি সভায় কোনো পরিচালক অনুপস্থিত থাকলে তার পদ রহিত হয়ে যায়।
এবার সেই পথেই হয়তো হাঁটবেন ফারুক আহমেদ। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে হাতেগোনা কয়েকজন পরিচালক নিয়েই এখন চলছে বিসিবি। তবে এই স্থবির অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে চায় ক্রিকেট বোর্ড।
এর মাঝেই ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকেও বিষয়টা নিয়ে চিঠি পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এনএসসির পাঠানো চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে শূন্যপদ পূরণে বিসিবি কী পদক্ষেপ নিয়েছে। সেই সাথে এই নিয়মের আওতায় পড়া পরিচালকদের নামের তালিকাও চেয়েছে তারা।
তাছাড়া সাকিব আল হাসানের ভাগ্যও নির্ধারণ হতে পারে আজ। আসন্ন আফগানিস্তান সিরিজে তার খেলার সুযোগ নিয়ে কথা হবে। নিরাপত্তা শঙ্কায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে না খেলা এই অলরাউন্ডার আফগান সিরিজে থাকবেন কিনা তা নিয়ে আছে ধোঁয়াশা।
সেউ ধোঁয়াশা দূর করার পাশাপাশি পরিস্কার করা হবে নেতৃত্ব নিয়ে উঠা সাময়িক সমস্যাও। ব্যাট হাতে নিজের বাজে সময় আর দলের ব্যর্থতার দায় নিয়ে নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি দায়িত্ব ছেড়ে মন দিতে চান ব্যাটিংয়ে।
পরের প্রশ্ন, তাহলে তার জায়গায় অধিনায়ক হচ্ছেন কে? আজ বিসিবি’র বোর্ড সভাতে পাওয়া যাবে এই প্রশ্নের উত্তর। অভিজ্ঞরা তো ইতোমধ্যেই নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন, ফলে তরুণদের মধ্য থেকেই বেছে নিতে হবে নতুন নেতৃত্ব।
তবে সেটাও যে খুব একটা সহজ নয়, তাও স্পষ্ট অবস্থা বিবেচনায়। বিসিবি’র এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কাল আজ বোর্ড সভা, সেখানে অধিনায়ক নিয়ে আলোচনা হবে। চূড়ান্তও হতে পারে। খুবতো বেশি বিকল্প নেই দুই বা তিনটি নাম আছে। তাদের নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
উল্লেখ্য, আজ (বুধবার) দুপুর থেকে মিরপুরের বিসিবি’র কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবার কথা এই বোর্ড সভা। ইতোমধ্যে এই সভার আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে গেছে পরিচালকদের হাতে।
‘সেলিম-আলী’ পূর্ণ প্যানেলে জয়ী
নিউইয়র্ক (ইউএনএ): যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের ‘আমব্রেলা’ সংগঠন হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ সোসাইটির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে ‘সেলিম-আলী’ পূর্ণ প্যানেলে জয়ী হয়েছে। রোববার (২৭ অক্টোবর) এই নির্বাচনে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে কার্যকরী পরিষদের ১৯টি পদেই ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সেলিম আর সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন সোসাইটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী। উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়। খবর ইউএনএ’র।
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় অনুষ্ঠিত নিউইয়র্ক সিটির ৫টি ভোট কেন্দ্রে ৫৮টি মেশিনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যা ছিলো ১৮ হাজার ৬১৩ জন। কুইন্সের উডসাইড, জ্যামাইকা এবং ওজনপার্ক ছাড়াও ব্রুকলীন এবং ব্রঙ্কসের ভোট কেন্দ্রে ভোটাররা সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে বিরতিহীন। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ব্রকলীন কেন্দ্র ছাড়া অন্যান্য কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। ব্রকলীন কেন্দ্রে বেলা আড়াইটার দিকে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সালেহ আহমেদ মানিক নামের একজন আহত হলে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। মনিক জানান, কে বা কারা অতর্কিতে আমার উপর হামলা করে এবং শারীরিকভাবে আঘাত করে। তাদের মধ্যে ২/১জনকে আমি চিনতে পেরেছি। কিন্তু কেন আমার ওপর হামলা হলো তা বুঝতে পারিনি। হামলার পর আহত হলে অ্যাম্বুলেস যোগে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।
২০২৫-২০২৬ সালের জন্য এবারের নির্বাচনে সোসাইটির কার্যকরী পরিষদের ১৯টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দি ‘সেলিম-আলী’ ও ‘রুহুল-জাহিদ’ প্যানেলের ৩৭জন প্রার্থী ভোটে লড়েন। নির্বাচনে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক পদে রিজু মোহাম্মদ বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় পুন:নির্বাচিত হন। এবারই প্রথম ‘রুহুল-জাহিদ’ প্যানেলে থেকে তিনজন নারী প্রার্থী দাঁড়িয়েছিলেন।
ভোট গ্রহণ শেষে রোববার রাত ১১টার দিকে গুলশান ট্যারেস কেন্দ্র থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট জামাল আহমেদ জনি বেসরকারী ফলাফল ঘোষণা করেন। এসময় কমিশনের সদস্য এবং প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারগণ মঞ্চে ছিলেন। অপরদিকে প্রার্থীরা সহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী ফলাফল ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন। ফলাফল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনারগণ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, সোসাইটির ৭ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশনের প্রধান ছিলেন এডভোকেট জামাল আহমেদ জনি। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন- আব্দুল হাকিম মিয়া, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, আব্দুল মান্নান, মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান বাদল ও আহবাব চৌধুরী খোকন।
এদিকে নির্বাচনে বিজয় অর্জনের পর বিজয়ী ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের বিজয়ী প্রার্থী, কর্মী, সমর্থক আর শুভাকাঙ্খীরা উৎসবে মেতে উঠেন। এসময় তারা ঢাক-ঢোল বাজিয়ে আনন্দ-উল্লাস করেন।

‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন: সভাপতি- আতাউর রহমান সেলিম, সিনিয়র সহ সভাপতি- মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ সভাপতি- কামরুজজামান কামরুল, সাধারণ সম্পাদক- মোহাম্মদ আলী, সহকারী সাধারণ সম্পাদক- আবুল কালাম ভুইয়া, কোষাধ্যক্ষ- মফিজুল ইসলাম ভুইয়া রুমী, সাংগঠনিক সম্পাদক- ডিউক খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- অনিক রাজ, প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক- রিজু মোহাম্মদ (বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত), সমাজকল্যাণ সম্পাদক- জামিল আনসারী, সাহিত্য সম্পাদক- মোহাম্মদ এ আখতার বাবুল, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক- আশ্রাব আলী খান লিটন, স্কুল ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক- হাসান জিলানী এবং কার্যকরী সদস্য যথাক্রমে মোহাম্মদ সাদিক, আবুল কাশেম চৌধুরী, মনসুর আহমেদ, হারুন চেয়ারম্যান, জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও হাসান খান।
নির্বাচন ঘিরে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের প্রতিশ্রুতি ছিলো- কমিউনিটিকে ঐক্যবদ্ধ করে মূলধারায় শক্ত অবস্থান প্রতিষ্ঠা, নতুন প্রজন্মের সাথে সোসাইটির সেতু বন্ধন সুদৃঢ় করে গণমুখী, কল্যাণকর ও জবাবহিতামূলক সার্বজনীন সংগঠনে রূপান্তর করা।
কে কত ভোট পেলেন:
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত বেসরকারী ফলাফলে সভাপতি পদে আতাউর রহমান সেলিমের প্রাপ্ত ভোট ৫,২৮৯। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দি রুহুল আমীন সিদ্দিকীর প্রাপ্ত ভোট ৩,৮২০। ভোট ব্যবধানে ১,৪৬৯ ভোট বেশী পেয়ে আতাউর রহমান সেলিম জয়ী হয়েছেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী মোহাম্মদ আলীর প্রাপ্ত ভোট ৫,১৭৯। তার একমাত্র প্রতিদ্ব›িদ্ব জাহিদ মিন্টুর প্রাপ্ত ভোট ৩,৮৭২। ভোট ব্যবধানে ১,৩০৭ ভোট বেশী পেয়ে মোহাম্মদ আলী জয়ী হয়েছেন।
অপরদিকে সিনিয়র সহ সভাপতি পদে বিজয়ী মহিউদ্দিন দেওয়ানের প্রাপ্ত ভোট ৫,৪৯৪। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দি ফারুক চৌধুরীর প্রাপ্ত ভোট ৩,৪০৫।
সহ সভাপতি বিজয়ী মোহাম্মদ কামরুজ জামান-এর প্রাপ্ত ভোট ৫,৪৮০। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দি আমিনুল চৌধুরীর প্রাপ্ত ভোট ৩,৪০৯।
সহকারী সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী আবুল কালাম ভূইয়ার প্রাপ্ত ভোট ৫,০৮৫। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দি সারোয়ার খান বাবু’র প্রাপ্ত ভোট ৩,৮৬৪।
কোষাধ্যক্ষ পদে বিজয়ী মফিজুল ইসলাম ভূইয়া (রুমি)-এর প্রাপ্ত ভোট ৫,২৪২। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দি নওশাদ হোসাইনের প্রাপ্ত ভোট ৩,৬২৬।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বিজয়ী ডিউক খানের প্রাপ্ত ভোট ৫,২৩০। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দি সাদী মিন্টু’র প্রপ্ত ভোট ৩,৬৩৯।
সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে বিজয়ী অনিক রাজ-এর প্রাপ্ত ভোট ৫,০৬৯। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দি মনিকা রায় চৌধুরীর প্রাপ্ত ভোট ৩,৭২৭।
প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক পদে রিজু মোহাম্মদ বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন।
সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে বিজয় জামিল আনসারীর প্রপ্ত ভোট ৫,২০৭। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দি নাদির আইয়ুব চৌধুরীর প্রাপ্ত ভোট ৩,৫৮৮ ভোট।
সাহিত্য সম্পাদক পদে বিজয়ী মোহাম্মদ এ আখতার বাবুল-এর প্রাপ্ত ভোট ৪,৭৯৩। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দি রোমানা আহমেদের প্রাপ্ত ভোট ৪,০৫২।
ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক বিজয়ী আশ্রাফ আলী খান লিটনের প্রাপ্ত ভোট ৫,০৯১ ভোট। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দি আলমগীর হোসেনের প্রাপ্ত ভোট ৩,৬৮২।
স্কুল ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বিজয় হাসান জিলানীর প্রাপ্ত ভোট ৫,০৩৪। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দি শাহানাজ হোসেনের প্রাপ্ত ভোট ৩,৭৯৪।
এছাড়াও কার্যকরী সদস্য পদে বিজয়ীদের মধ্যে মোহাম্মদ সাদিক পাটোয়ারীর প্রাপ্ত ভোট ৫,১৫৮, হারুন চেয়ারম্যানের প্রাপ্ত ভোট ৫,২১৮, আবুল কাশেম চৌধুরীর প্রাপ্ত ভোট ৫,১৫৮, জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রাপ্ত ভোট ৫,২১৪, মনসুর আহমেদের প্রাপ্ত ভোট ৫১১৯ এবং হাসান খানের প্রাপ্ত ভোট ৫,০৩৩।
অপরদিকে কার্যকরী পরিষদের সদস্য পদে বিজয়ী ‘রুহুল-জাহিদ’ প্যানেলের প্রার্থীদের মধ্যে মোহাম্মদ রব মিয়ার প্রাপ্ত ভোট ৩,৮৪৭, মোহাম্মদ তাজু মিয়ার প্রাপ্ত ভোট ৩,৫৬০, এমডি এন ইসলামের প্রাপ্ত ভোট ৩,৬৩৫, একেএম রফিকুল ইসলাম ডালিমের প্রাপ্ত ভোট ৩,৭১৫ এবং সাইফুল ইসলামের প্রাপ্ত ভোট ৩,৫৫৪।
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ সোসাইটি, নিউইয়র্ক এর দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন
সালাহউদ্দিন আহমেদ: বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ সোসাইটি, নিউইয়র্ক এর দ্বি-বার্ষিক (২০২৫-২০২৬) নির্বাচন। রোববার (২৭ অক্টোবর) এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠত হয়। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটির এবারের নির্বাচনে ভোটার ছিলো সংখ্যা ছিলো ১৮ হাজার ৬১৩ জন। নিউইয়র্ক সিটির ৫টি ভোট কেন্দ্রে ৫৮টি মেশিনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ছোট-খাটো অভিযোগ ছাড়া শান্তিপূনর্ণ পরিবেশ আর দেশীয় স্টাইলে এই নর্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের দিন জ্যামাইকা কেন্দ্রে সকাল ৯টায় প্রথম ভোট দেন প্রবীণ প্রবাসী ছদরুণ নূর। অপরদিকে উডসাইড কেন্দ্রে রাত ৯টার পর শেষ ভোট দেন কুইন্স ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিষ্ট্রিক্ট লীডার এটর্নী মঈন চৌধুরী। খবর ইউএনএ’র।

আবেগ-আপ্লুত ‘সেলিম-আলী’: সোসাইটির নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার আগেই রাত ১০টার দিকে অনেকটা জানাজানি হয়ে যায় রোববারের নির্বাচনে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেল জয়ী হতে চলেছে। এসময় উডসাইড কেন্দ্রে শত শত প্রবাসী অপেক্ষায় চুড়ান্ত ফলাফর ঘোষণা শুনার অপেক্ষায়। একে একে কেন্দ্রের ভিতরে আসলেন সভাপতি পদপ্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম আর সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলী সহ অন্যান্য প্রার্থীরা। আসলে প্রতিদ্ব›িদ্ব সভাপতি পদপ্রার্থী রুহুল আমীন সিদ্দিকীও। ‘সেলিম-আলী’ তার সমর্থকদের সাথে হাত মেলানো, বিজয়ের শুভেচ্ছা বিনিময় আর কোলাকুলি সময় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। একসময় আতাউর রহমান সেলিমের চোখে খানিকটা জল দেখা যায়।
‘সেলিম-আলী’র আশা পূরণ: অবশেষে আশা পূরণ হলো ‘সেলিম-আলী’র। সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম সোসাইটির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছিলেন জালালাবাদ এসোসাসিয়েশন অব আমেরিকা আর বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকা’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের সাথে তিনি জড়িত। এবার সোসাইটির সভাপতি হতে তিনি নাকি বিগত দু’বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অপর দিকে সোসাইটির সাবেক নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী গত নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রতিদ্ব›িদ্বতা করে রুহুল আমীন সিদ্দিকীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। তাই এবারের নির্বাচন ছিলো তার জন্য ‘প্রেসটেজিয়াস ইলেকশন’। বিজয়ী মোহাম্মদ আলীও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত।

‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের বিজয়ের নেপথ্যে ছিলেন যারা: ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের বিজয়ের নেপথ্যে থেকে যারা কাজ করেছেন তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহŸায়ক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাপ্তাহিক আজকাল সম্পাদক লায়ন শাহ নেওয়াজ এবং সদস্য সচিব কাজী তোফায়েল ইসলাম সহ উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও এই প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আজমল হোসেন কুনু, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন খান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহীম হাওলাদার, সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আজহারুল হক মিলন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, সোসাইটির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম সমিতি ইউএসএ’র সাবেক সভাপতি কাজী আজম, সন্ধীপ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ফিরোজ আহমেদ, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার একাংশের সভাপতি বদরুল হোসেন খান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিম, সাবেক সভাপতি বদরুন নাহার খান মিতা, বিয়ানীবাজার সমিতির সাবেক সভাপতি মকবুল রহিম চনুই, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম অপু, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা ও সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার আহসান হাবব, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাঈম টুটুল প্রমুখ বলে সংশ্লিস্টরা জানান। এছাড়াও জ্যামাইকা, ওজনপার্ক, ব্রæকলীন এবং ব্রঙ্কস নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমও রয়েছে বলে জানান সংশ্লিস্টরা।
রুহুল আমীন সিদ্দিকীর প্রশংসা: নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার আগ থেকেই উডসাইড কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন ‘রুহুল-জাহিদ’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী এবং সোসাইটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকী। তিনি বসেছিলেন সামনের সারিতে। যখন চারিদিকে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের জয়জয়কারের আওয়াজ এবং নির্বাচনে ‘সেলিম-আলী’-ই জয়ী হতে চলেছেন- এমনটি টের পেয়ে রুহুল আমীন সিদ্দিকী দ্বিতীয় সারিতে গিয়ে বসেন। এরপর তিনি ফলাফল মেনে নিয়ে এক সাথে কাজ করারও অঙ্গীকার করেন। অপরদিকে আতাউর রহমান সেলিম ও মোহাম্মদ আলীর সাথে কোলাকুলি করেন। সেলিম-রুহুল একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কিছুক্ষণ সময় কাটালেন। যা উপস্থিত সকলের কাছে প্রশংসিত হয়। এছাড়াও ফলাফল ঘোষণার শেষ পর্যন্ত রুহুল আমীন সিদ্দিকী সহ তার প্যানেলের ২/৪জন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। যার জন্য রুহুল আমীন সিদ্দিকী আরো প্রশংসিত হন।

ইসি সদস্যদের বক্তব্যে বিরক্তি প্রকাশ: রাত ৯টায় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) এর প্রয়োজনীয় কর্ম শেষ করে ফলাফল প্রকাশ করতে দুই ঘটনা লেগে যায়। রাত ১১টার দিকে ফল ঘোষণা করা হয়। এর আগে নির্বাচন কমিশনের সদস্যার একে একে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এতে বিরক্তি প্রকাশ করেন উপস্থিত শত শত প্রবাসী বাংলাদেশীরা। পাশাপাশি ফল ঘোষণার সময় এক এক প্রার্থীর ফল ঘোষণার পর পরই বারংবার উপস্থিত প্রবাসীরা উল্লাস প্রকাশ করলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জামাল আহমেদ জনি নিজেও বিরক্ত হন এবং এক পর্যায়ে প্রয়োজনে ফল ঘোষণা স্থগিত করার ঘোষণা দিলে প্রবাসীরা শান্ত হন।
জ্যামাইকা কেন্দ্রে ঐক্যের ঘোষণা দিলেন ‘আলী-জাহিদ’: রোববার ভোট গ্রহণ চলকালে বেলা আড়াইটার দিকে জ্যাকাইকা কেন্দ্রে মুখোমুখি হন দুই প্যানেলের দুই সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলী ও জাহিদ মিন্টু। এসময় তারা একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় আর হ্যান্ডশেক করেন। তাদের দেখে মিডিয়া কর্মীরা তাদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে উভয়ে হার-জিত উপক্ষো করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং একে অপরকে আবারো জড়িয়ে ধরেন।
ব্রæকলীন কেন্দ্রে অপ্রীতকর ঘটনা: নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ব্রæকলীন কেন্দ্র ছাড়া অন্যান্য কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। ব্রæকলীন কেন্দ্রে বেলা আড়াইটার দিকে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সালেহ আহমেদ মানিক নামের একজন আহত হলে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। মনিক জানান, কে বা কারা অতর্কিতে আমার উপর হামলা করে এবং শারীরিকভাবে আঘাত করে। তাদের মধ্যে ২/১জনকে আমি চিনতে পেরেছি। কিন্তু কেন আমার ওপর হামলা হলো তা বুঝতে পারিনি। হামলার পর আহত হলে অ্যাম্বুলেস যোগে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।
‘গড ফাদার’ মুক্ত হোক সোসাইটি: সোসাইটির নির্বাচনী ফলাফল ঘোষনার পর পরই উডসাইড কেন্দ্রে কেউ কেউ বলে উঠেন ‘গড ফাদার’ মুক্ত হোক সোসাইটি। কেউ কেউ মন্তব্য করেন ‘সেলিম-আলী’ প্যানেল জয়ের মধ্য দিয়ে সোসাইটি ‘গড ফাদার’ মুক্ত হবে। তাহলে প্রশ্ন উঠে আসলেই কি সোসাইটি এতোদিন ‘গড ফাদার’ আবিষ্ট ছিলো। প্রশ্ন কে সেই ‘গড ফাদার’?
১৪৫ টি প্রেস আইডি: বাংলাদেশ সোসাইটির এবারের নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ‘প্রেস আইডি’ ইস্যূ করেতে হয়েছে নির্বাচন কমিশন-কে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জামাল আহমেদ জনি ফলাফল ঘোষণার আগে জানান নির্বাচন কভার করার জন্য এবার ১৪৫টি ‘প্রেস আইডি’ ইস্যু করেছেন। তার ভাষায় সংশ্লিস্ট মিডিয়া ও সাংবাদিকরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করায় তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কিন্তু ‘প্রেস মিডিয়া’র এই তালিকার কবথা শুনে সেখানে উপস্থিত পেশাদার সাংবাদিকদের মধ্যে কানাঘুষা শুনা যায় যে, এতো মিডিয়া আর এত্তো সাংবাদিক কোথায়? কারা তারা? ইত্যাদি ইত্যাদি নানা প্রশ্ন। বিব্রতবোধ করলাম আমি নিজেও।


