Home Blog Page 547

নিউইয়র্কে ২য় বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে লালন ও লোক উৎসব

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ২য় বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে লালন ও লোক উৎসব। আগামী ২৬ অক্টোবর জ্যামাইকা মেরী লুইস একাডেমি হলে  ‘এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে, যেদিন হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জাতি, গোত্র নাহি রবে’—শ্লোগানে এই  উৎসবটি উদ্বোধন করবেন লোকসংগীতের  কিংবদন্তী শিল্পী নীনা হামিদ।

 গত ১৬ অক্টোবর লালন ফকিরের ১৩৪তম তিরোধান দিবসে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের ঘোষণা দেন লালন পরিষদ ইউএসএ-এর আহ্বায়ক মো. আব্দুল হামিদ।

আয়োজকরা জানান, বর্তমান বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মানবধর্মের অনুসারী, আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব লালন ফকিরের দর্শন-চিন্তা সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়াই উৎসবের লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে গান, নাচ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, চিত্রকলা, তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে ভিন্ন আঙ্গিকে লালনকে উপস্থাপন করা হবে।

উৎসবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় ও বিজ্ঞানী ড. নূরুন নবী, সংগীতশিল্পী তাজুল ইমাম, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক পৃষ্টপোষক সাপ্তাহিক আজকাল সম্পাদক ও গোল্ডেন হোম কেয়ারের কর্ণধার শাহনেওয়াজ ও উৎসবের প্রধান উপদেষ্টা নুরুল আমিন বাবু।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন প্রধান পৃষ্টপোষক শাহনেওয়াজ, আহ্বায়ক মো. আব্দুল হামিদ, কমরেড জাকির হোসেন,  সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব লুৎফুন নাহার লতা , সংগীতশিল্পী দিনাত জাহান মুন্নী, মেলাল শাহ, সমন্বয়ক গোপাল সান্যাল, স্বীকৃতি বড়ুয়া ও সঞ্চালনা করেন মিডিয়া সমন্বয়কারী পিনাকী তালুকদার।

স্বৈরাচারের সুবিধাভোগীরা মাথাচাড়া দিচ্ছে : তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচার সরকারের সুবিধাভোগীরা ঘরে-বাইরে, প্রশাসনে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা সরকারকে ব্যর্থ করে দিতে চায়। ষড়যন্ত্রের বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলতে না পারলে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের অর্জন বিপন্ন হবে। রাষ্ট্রকে জনগণের প্রত্যাশিত কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারের দোসরদের বসিয়ে রেখে কোনো উপকার মিলবে না। মাফিয়াচক্র বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে। তবে মানুষ বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। মাফিয়াচক্রের কবল থেকে বঞ্চিতরা অধিকার চায়। শহীদদের রক্তের দাগ এখনো শেষ হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যক্রম সম্পাদন করতে হবে। সরকারের কিছু সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।

শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তথা রজতজয়ন্তী উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এসময় জেডআরএফ’র ওভারসিজ কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ডা: জুবাইদা রহমানও ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন।

তারেক রহমান নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে বলেন, বর্তমানে দেশে কৃষক-শ্রমিক-দিনমজুর এবং স্বল্প আয়ের মানুষ দুর্বিষহ পরিস্থিতির মুখোমুখি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যে দিশেহারা। জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও মানুষের আয় সেভাবে বাড়েনি। সরকারকে বলবো- জিনিসপত্রের দাম কমাতে পদক্ষেপ নিন। সিন্ডিকেট ভেঙে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনুন। প্রয়োজনে উপদেষ্টা পরিষদের আকার বাড়ানো যেতে পারে।

তিনি রাষ্ট্রের সংস্কার নিয়ে বলেন, সংস্কার অনেক প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেটি ধারাবাহিক ও চলমান প্রক্রিয়া। কখনো সময়সাপেক্ষ। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। জনগণের সাথে সংস্কার কাজ করলে সেটি সহজ হয়।

তারেক রহমান আরো বলেন, ‘স্বৈরাচারের আমলে তাদের বিভিন্ন নেতাকর্মী দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি-জায়গা, দোকান ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান দখল করেছিল। তারা সেগুলো পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়েছে। সেগুলো পুনরুদ্ধারে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ। নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের যেমন দায়িত্ব তেমনই রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকদের দায়িত্ব রয়েছে। সেজন্য সবাইকে স্বেচ্ছাসেবীর মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। আসুন আমরা প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রত্যেকে আমরা প্রত্যেকের তরে এই মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যাই। আমি সবশেষে জুলাই-আগস্টে হতাহত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের আবার কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি।’

জেডআরএফ’র কার্যক্রম প্রসঙ্গে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য নাম। জেডআরএফ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। দীর্ঘদিন ধরে আপনারা বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করছেন এটি প্রশংসনীয়। সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। জেডআরএফ’র কার্যক্রমকে আমি সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। স্বৈরাচার সরকারের পতন আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সারাদেশে জেডআরএফ’র স্বেচ্ছাসেবীরা অভাবনীয় কাজ করেছে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, ‘আজকে স্বাধীন দেশে আমরা আছি। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লব হয়েছে। নতুন প্রজন্ম রাজনীতি বিমুখ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু জুলাই-আগস্টের বিপ্লবে ছাত্র-জনতা কিন্তু মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন। তারাই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে লড়েছেন। আজকে তারাই রাজনীতিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তবে তাদেরকে দায়িত্ব বোধ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বিচারের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা দেশকে ভালোবাসি।’

ড. মঈন খান বলেন, ‘বিএনপির হাল ধরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার আগে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর বেগম খালেদা জিয়া হাল ধরেছিলেন। তিনি নেতৃত্ব দিয়ে দলকে মানুষের কাছে নিয়ে যান। এই যে ত্যাগের ধারাবাহিকতা সেটি নতুন প্রজন্মকে মনে রাখা উচিৎ। জিয়াউর রহমান মাত্র চার বছরে দেশের যে পরিবর্তন এনেছিলেন পরবর্তী ৪০ বছরেও অন্যরা আনতে পারেনি। আজকে পরিবেশের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু জিয়াউর রহমানই তো প্রথম খাল খনন কর্মসূচি করেছিলেন। এটিই তো পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি। তিনি নতুন পরিচয় দিয়েছেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। যা একটি ফুলের বাগান। সেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকেরা রয়েছেন। তিনি মনে করতেন বাংলাদেশের সকল ক্ষমতার উৎস দেশের জনগণ। সুতরাং দেশপ্রেমিক সবারই উচিৎ শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা।’

ড. মঈন খান আরো বলেন, ‘বিএনপি লগি-বৈঠা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। বিএনপি জনগণের জন্য রাজনীতি করে। জেডআরএফ যার নামে হয়েছে তার কথা বলতে গেলে বলা শেষ হবে না। জেডআরএফ নিরলসভাবে দেশের গরিব-অসহায় মানুষকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই। আজকে জিয়াউর রহমানের কথা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। তিনি কালুরঘাট বেতারেকন্দ্রে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা ও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। জীবন বাজি রেখে সম্মুখসমরে যুদ্ধ করেছিলেন। যা দেশবাসীকে আরো বেশি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ উপাধি বীর উত্তম উপাধি লাভ করেন। তিনি উন্নয়ন-উৎপাদনের রাজনীতি শুরু করেন। কোটি কোটি মানুষের জীবন পদ্ধতি পরিবর্তন করে আধুনিক পর্যায়ে নিয়ে যান। জেডআরএফ শুধু ২৫ বছর নয়, দুইশত পঞ্চাশ বছর ধরে জিয়াউর রহমানের কর্মকাণ্ড তুলে ধরবে।

রজতজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক অধ্যাপক এম. শাহীদুজ্জামান, রাষ্ট্রদূত এস এম রাশেদ আহমেদসহ নিহত ও আহত পরিবারের কয়েকজন।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের মধ্যে অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, সাইফুল আলম নীরব, গোলাম সারওয়ার, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, ড. মো: আব্দুর রশিদ, অধ্যাপক লুৎফর রহমান, ডা: হারুন আল রশিদ, ডা: মো: আব্দুস সালাম, ডা: শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, ডা: শাহাদত হোসেন, ডা: মো: আনোয়ারুল হক, অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়াল সোহাগ, ড. আব্দুল করিম, ড. আবুল হাসনাত মো: শামীম, সাংবাদিক আব্দুল হাই শিকদার, কামাল উদ্দিন সবুজ, আমিরুল ইসলাম কাগজী, আতিকুর রহমান রুমন, প্রকৌশলী মাহবুব আলম ও প্রকৌশলী আইয়ুব হোসেন মুকুলসহ অনেক ডাক্তার, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অধ্যাপক ছবিরুল ইসলাম হাওলাদারের কুরআন তিলাওয়াতের পর অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রজতজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ডা: সৈয়দা তাজনিন ওয়ারিস সিমকী।

অনুষ্ঠানে গত জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ১০ জন নিহতের পরিবার এবং ১০ জন আহতকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। নিহতদের পরিচয় তুলে ধরেন ব্যারিস্টার মীর হেলাল, ডা: পারভেজ রেজা কাকন এবং ডা: সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম। আহতদের পরিচয় তুলে ধরেন ডা: সাজিদ ইমতিয়াজ উদ্দিন।

এরআগে সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নেতাকর্মীদের নিয়ে জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা: ফরহাদ হালিম ডোনার, রজতজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, জেডআরএফের শামীমুর রহমান শামীম, ডা: পারভেজ রেজা কাকন, ডা: সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, প্রকৌশলী মাহবুব আলম, ড. আবুল হাসনাত মো: শামীম, ডা: এ কে এম মাসুদ আখতার জীতু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষায় এই প্রতিষ্ঠাটি গড়ে তুলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্টও তিনি। জেডআরএফ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে স্বচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’ স্লোগান নিয়ে গরীব এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে আসছে।

খালেদা জিয়ার বাসা বালুর ট্রাক দিয়ে অবরোধ : সাবেক ওসি রিমান্ডে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে ২০১৩ সালে বালুর ট্রাক রাখার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গুলশান থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বর্তমানে রফিকুল ইসলাম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগে কর্মরত আছেন।

শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক রায়হানুল ইসলাম সৈকত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আফনান সুমী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে ২০১৩ সালে বালু ও ময়লার ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় গত ৪ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সদস্য মো: শরীফুল ইসলাম গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না করে ২০১৪ সালে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়। অন্যদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির পক্ষ থেকে ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর মার্চ ফর ডেমোক্রোসি কর্মসূচি দেয়া হয়। কর্মসূচিতে যেন খালেদা জিয়া যেতে না পারেন সেজন্য তার বাসার সামনে বালু ও ময়লার ট্রাক দিয়ে আটকে দেয়া হয়। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর নিষিদ্ধ পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করা হয়।

সূত্র : বাসস

গণমাধ্যমসহ আরও চার সংস্কার কমিশন গঠন

বিভিন্ন খাত সংস্কারে গণমাধ্যমসহ আরও ৪টি কমিশন গঠন করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম উপস্থিত ছিলেন।
কমিশনগুলোর প্রধান হিসাবে চারজনের নামও ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যবিষয়ক কমিশনের প্রধান জাতীয় অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ, গণমাধ্যম কমিশনের প্রধান কলামিস্ট কামাল আহমেদ, শ্রমিক অধিকার কমিশনে সুলতান উদ্দিন আহমেদ এবং নারীবিষয়ক কমিশনের প্রধান শিরীন পারভীন হক। ৭-১০ দিনের মধ্যে কমিশন চারটি পূর্ণাঙ্গ করা হবে। এ সময় জানানো হয়, জুলাই-আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে প্রত্যেক শহিদপরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য ৩০ লাখ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, কমিশনপ্রধানদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। ৭-১০ দিনের মধ্যে সদস্য নির্বাচন করে নতুন চারটি কমিশনের পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তবে ভুয়া খবর বা ভুল তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন খাত সংস্কারে ছয়টি কমিশন গঠন করে। এগুলো হলো-সংবিধান, বিচার বিভাগ, পুলিশ, জনপ্রশাসন, নির্বাচন ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মাহফুজ আলম বলেন, জুলাই-আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে প্রত্যেক শহিদ পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য ৩০ লাখ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে এ টাকা দেওয়া হবে। পরে যাচাই-বাছাই করে যদি আরও প্রয়োজন হয়, তাও দেওয়া হবে। তিনি জানান, জুলাই-আগস্টে যারা শহিদ হয়েছেন, শুধু তাদের পরিবারকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। যারা আহত হয়েছেন, তাদের পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আহতদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে আগামী সপ্তাহে একটি দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ নিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আহত কাউকে যদি উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। যদি আরও বেশি হয়, আমরা তা করব। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আবারও স্পষ্ট করা হচ্ছে, আহতদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে তাদের বিনা পয়সার চিকিৎসার জন্য বলে দেওয়া হয়েছে। তারপরও যারা পয়সা দিয়েছেন, সেটা ফেরত দিতে বলা হয়েছে।

২০২৫ সালের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন করা সম্ভব: আইন উপদেষ্টা

২০২৫ সালের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
বৃহস্পতিবার রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ড. আসিফ নজরুল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হবে বলে জানান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের বিষয়ে বন্দি বিনিময় চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই চুক্তি ভারত মানলে তাদের শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। এই চুক্তি সঠিকভাবে মানলে তারা শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য।
ঢালাও মামলার বিষয়ে ড. আসিফ নজরুল বলেন, বিগত সরকারের সহযোগিতায় হতো গায়েবি মামলা। এগুলো পুলিশ করত। মামলাগুলো তৎকালীন বিরোধীদলের লোকদের বিরুদ্ধে হতো। এখন হচ্ছে ঢালাও মামলা। যারা পূর্বে নির্যাতনের শিকার হয়েছিল তারাই এই মামলা করছে। এই মামলাগুলোতে যাতে নিরাপরাধ লোক শাস্তি না পান সে বিষয়ে কাজ করছে অন্তর্বর্তী সরকার।
ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধের বিষয়ে ড. নজরুল বলেন, বর্তমান সরকার আগ বাড়িয়ে কিছু করবে না। তবে তাদের নিষিদ্ধ করার দাবি বড় হয়ে উঠেছে। জনপ্রত্যাশা তৈরি হলে নিষিদ্ধ করা হবে। তারা অতীতে কি কাজ করেছে তা সব গণমাধ্যমে এসেছে। দেশবাসী দেখেছে।
নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য শিগগিরই সার্চ কমিটি গঠিত হবে বলে জানান তিনি।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট আমরা পুরোটাই বাতিল করার প্রক্রিয়ায় আছি। মানুষ এই নামগুলোই শুনতে পারে না।
সাকিব আল হাসানের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সাকিবের মতো জনপ্রিয় ক্রিকেটার বাংলাদেশে আর আসে নাই। কিন্তু যখন আন্দোলন চলে মানুষ মরছে সাকিব তখন পোস্ট দিলো সে কোথাও এনজয় করছে এমন।
তিনি বলেন, এয়ারপোর্টে গেলে প্রবাসীদের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করা হতো আগে। আমার স্বপ্ন ছিল তাদের ভিআইপি সুবিধা দেবো। আমি উদ্যোগ নিয়েছি তাদের জন্য আলাদা একটা লাউঞ্জ হবে। দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এটা হবে।

ভারতের উপর কানাডা নিষেধাজ্ঞা জারি করলে কোন দেশের বেশি ক্ষতি হবে

কানাডা ও ভারতের মধ্যে যে সঙ্কট দেখা গেছে তার শেষটা ঠিক কোথায়, তা অনুমান করা সহজ নয়। আগামী বছরের অক্টোবর মাসে কানাডায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। জাস্টিন ট্রুডো যদি আবারো নির্বাচনে জেতেন, তাহলে ভারত সম্পর্কে তার অবস্থান পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কমই রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি জানিয়েছিলেন, ভারতের সাথে ও দেশের বর্তমান সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কাছে বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে। তার মধ্যে একটা হলো, ভারতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা।

কানাডার গুরুত্বপূর্ণ শিখ নেতারাও ভারতের উপর প্রতিবন্ধকতা বা নিষেধাজ্ঞা জারি করার দাবি তুলছেন। এই তালিকায় থাকা নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জগমিত সিং, যার সমর্থন নিয়ে জাস্টিন ট্রুডোর সরকার প্রায় চার বছর ধরে চলেছিল।

সেপ্টেম্বর মাসে জাস্টিন ট্রুডোর সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেন জগমিত সিং। তবে ভারতের সাথে কানাডার উত্তেজনা বাড়ার পর আবারো জাস্টিন ট্রুডোর সাথে দেখা যাচ্ছে তাকে।

চলতি সপ্তাহের সোমবার একটা সাংবাদিক সম্মেলনে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সহযোগিতা না করার জন্য ভারত সরকারকে দায়ী করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো। ভারতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

এদিকে, খালিস্তানপন্থী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যা মামলায় কানাডার অবস্থান নিয়ে ভারতও ব্যাপক ক্ষুব্ধ। দিল্লিতে কানাডিয়ান মিশন থেকে ছয়জন কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে ভারত এবং কানাডা থেকে হাইকমিশনারসহ অন্যান্য কূটনীতিকদেরও প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে কানাডার পাল্টা দাবি, ছয়জন ভারতীয় কূটনীতিককে তাদের পক্ষ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দুই দেশের সম্পর্কে যে চরম অবনতি ঘটেছে এই বিষয়টা বেশ স্পষ্ট। এখন প্রশ্ন হলো এই আবহে কানাডা যদি ভারতের বিরুদ্ধে সত্যিই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে কে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে?

দুই দেশের সম্পর্ক কতটা গভীর
দুই দেশের বিষয়ে খোঁজখবর রাখেন এমন অনেকের মতে, ভারত এবং পাকিস্তানের সম্পর্কের চেয়েও ভারত-কানাডার সম্পর্ক এই মুহূর্তে বেশি খারাপ।

মার্কিন থিংক ট্যাংক ‘দ্য উইলসন সেন্টার’-এর দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যানও মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে কানাডার সাথে ভারতের সম্পর্ক ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কের চেয়েও খারাপ।

তবে ভারতের স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্স বিশেষজ্ঞ ব্রহ্মা চেলানি তেমনটা মনে করেন না।

বৃহস্পতিবার ইংরেজি নিউজ চ্যানেল ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র এক অনুষ্ঠানে চেলানিকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘আমি বিশ্বাস করি না যে ভারত ও কানাডার মধ্যে সম্পর্ক ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের চেয়ে খারাপ হয়েছে। কানাডা ও ভারতের সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ এখনো অনেকটাই গভীর। ভারত ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য ক্রমশ বাড়ছে। কানাডার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে কিন্তু এমন কিছুই নেই।’

‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউট’-এর সিনিয়র ফেলো তনভি মদন। কানাডার সাথে ভারতের সম্পর্ক যে ভারত-পাকিস্তানের সমীকরণের চাইতেও বেশি খারাপ, সেটা মানতে তিনিও নারাজ।

ব্রহ্মা চেলানির মন্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুনরায় পোস্ট করে তানভি মদন লিখেছেন, ‘সৌভাগ্যক্রমে কেউ একজন যৌক্তিকভাবে এই তত্ত্ব খারিজ করেছেন যে ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কের চেয়েও বেশি খারাপ হয়েছে ভারত-কানাডার সম্পর্ক। ১০ লাখ ভারতীয় পাকিস্তানে বসবাস করেন না। পাকিস্তানের পেনশন তহবিল ভারতে বিনিয়োগ করছে না এবং পাকিস্তান-ভারত বাণিজ্য গত এক দশকে ৬২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়নি।’

কানাডিয়ান পেনশন ফান্ডের ভারতে বিনিয়োগ
ভারত থেকে লাখ লাখ পড়ুয়া কানাডায় শিক্ষা লাভের জন্য যান। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসের নথি অনুসারে, ভারতের দুই লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী ওই দেশে পড়াশোনা করছেন। ১৮ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ কানাডার নাগরিক এবং ১০ লাখ ভারতীয় ওই দেশে বসবাস করেন।

প্রসঙ্গত, কানাডা সেই দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে, যেখানে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় বাস করেন। এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয়দের কাছে কানাডা একটা গুরুত্বপূর্ণ দেশ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মাঝে উত্তেজনা বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের ওপর।

অন্যদিকে, এটাও উল্লেখযোগ্য যে ভারতীয় পড়ুয়ারা সে দেশে শিক্ষাগ্রহণের জন্য যাওয়ার ফলে কানাডা আর্থিকভাবে উপকৃত হয়।

বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে কানাডা যদি ভারতের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে দুই দেশের মধ্যে যে গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, সেটা ধাক্কা খেতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

কানাডিয়ান পেনশন ফান্ডের কোটি কোটি ডলার ভারতে বিনিয়োগ করা হয়। কানাডিয়ান পেনশন প্ল্যান ইনভেস্টমেন্ট বোর্ড এবং সে দেশের অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এখনও পর্যন্ত ভারতে মোট সাত হাজার ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে।

ভারত উদীয়মান অর্থনীতির দেশ এবং এমনটা আশা করা হয় যে কানাডিয়ান পেনশন ফান্ডের ওই বিনিয়োগ এখনই বন্ধ হবে না।

অন্যদিকে, ভারতে কানাডার ৬০০টিরও বেশি সংস্থার উপস্থিতি রয়েছে। ১০০০-এরও বেশি কানাডিয়ান সংস্থা সক্রিয়ভাবে ভারতের সাথে ব্যবসা করছে।

কানাডায় ভারতীয় সংস্থাগুলো তথ্যপ্রযুক্তি, সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ইস্পাত, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ব্যাংকিং সেক্টরে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

ব্যবসায়িক সম্পর্কের নিরিখে কার পাল্লা ভারী
ভারত প্রধানত কানাডায় রত্ন, গয়না, মূল্যবান পাথর, ওষুধ, তৈরি পোশাক, জৈব রাসায়নিক এবং হালকা প্রকৌশল পণ্য রফতানি করে থাকে। আর কানাডা থেকে ডাল, নিউজপ্রিন্ট, কাঠের মণ্ড, অ্যাসবেস্টস, পটাশ, লোহার স্ক্র্যাপ, তামা, খনিজ এবং শিল্প রাসায়নিক আমদানি করা হয় ভারতে।

ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন অ্যান্ড ফ্যাসিলিটেশন এজেন্সি (ইনভেস্ট ইন্ডিয়া) অনুসারে, ভারতে বিদেশী বিনিয়োগকারী দেশগুলোর মধ্যে কানাডার স্থান রয়েছে ১৮ নম্বরে।

২০২০-২০২১ থেকে ২০২২-২০২৩ পর্যন্ত ভারতে কানাডার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৩৩১ কোটি ডলার। যদিও কানাডার এই বিনিয়োগ ভারতের মোট এফডিআইয়ের মাত্র অর্ধ শতাংশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারত সরকারের এক সূত্র বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, ‘কানাডার সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়ে এই মুহূর্তে আমরা উদ্বিগ্ন নই। কানাডার সাথে আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য খুব একটা বড় নয়। কানাডার পেনশন ফান্ডের যে অর্থ ভারতে বিনিয়োগ করা হয় তা রিটার্নের উপর ভিত্তি করে। ভারত ভালো রিটার্ন পাচ্ছে। তাই আমরা এটা নিয়েও চিন্তিত নই।’

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কানাডা ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৮৪০ কোটি ডলার। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় সামান্য বেশি।

কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী মেরি এনজি সোমবার বলেন, ‘আমি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্বস্ত করতে চাই যে আমাদের সরকার ভারতের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

প্রকৃত সমস্যা কি প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো
আগস্ট মাসে কানাডা ভারতে ২৭.৯০ কোটি ডলার অর্থমূল্যের রফতানি করেছিল এবং ভারত থেকে আমদানি করেছিল ৩২.৪ কোটি ডলারের। এই সংখ্যা গত বছরের অগাস্ট মাসের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি।

অজয় বিসারিয়া ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কানাডায় ভারতের হাইকমিশনার ছিলেন। ইংরেজি পত্রিকা হিন্দুস্তান টাইমসকে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না বাণিজ্য ও বিনিয়োগে এর কোনো প্রভাব পড়বে। ভারতের সমস্যা ট্রুডো, কানাডা নয়। দুই দেশই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে বাণিজ্য, ভিসা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকা উচিৎ নয়।’

২০২২ সালের মার্চ মাসে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়ে চুক্তি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। গত বছর পর্যন্ত এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নয় দফা আলোচনা হলেও এখন সমস্ত আলাপ-আলোচনা বন্ধ হয়ে গেছে।

তবে বিষয়টা শুধুমাত্র ব্যবসা নিয়েই নয়। গণতন্ত্রে নির্বাচনে জেতার জন্য বেশি ভোটের প্রয়োজন হয় এবং ভোট ব্যাংকের রাজনীতিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভাবাবেগের দিকেও খেয়াল রাখতে হয়।

২০২১ এর পরিসংখ্যান বলছে, কানাডার জনসংখ্যার ২.১ শতাংশ শিখ সম্প্রদায়ভুক্ত। ২০০১ সাল থেকে ২০২১ পর্যন্ত, গত ২০ বছরে কানাডায় শিখ জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই শিক্ষা, ক্যারিয়ার, চাকরির মতো কারণে পাঞ্জাব থেকে কানাডায় পাড়ি দিয়েছেন।

কানাডায় বসবাসরত শিখ জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি টরন্টো এবং ভ্যাঙ্কুভারে বাস করে। শিখ ভোটব্যাংককে মাথায় রেখে এই সমস্ত এলাকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের দাবি, প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো তার রাজনৈতিক এজেন্ডার কারণে কানাডায় খালিস্তান সমর্থকদের পক্ষে কথা বলছেন।

প্রসঙ্গত, জগমিত সিংয়ের দল নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থন নিয়েই চলছিল ট্রুডোর সরকার। সেপ্টেম্বর মাসে সেই সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। তবে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলেও সংসদে আস্থা প্রস্তাবে জয় লাভ করতে সক্ষম হন প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো।

২০২৫ সালের অক্টোবরে কানাডায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এবং জাস্টিন ট্রুডো চান কানাডায় বসবাসকারী শিখ সম্প্রদায় তাকে সমর্থন করুক। সূত্র : বিবিসি

ছুটি বাড়ল ঈদ-পূজার

আগামী বছর ঈদুল ফিতরে পাঁচ দিন, ঈদুল আজহায় ছয় দিন এবং দুর্গাপূজায় দুই দিন ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আগামী বছরের (২০২৫ সাল) জন্য সরকারি এ ছুটির তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১২ দিন সাধারণ ছুটি ও ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির সিদ্ধান্ত হয়।
জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে ১২ দিন সাধারণ ছুটি থাকবে। এর মধ্যে পাঁচ দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। এ ছাড়া বাংলা নববর্ষ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকবে। এর মধ্যে চার দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। তালিকা অনুযায়ী দুই ঈদে একদিন করে সাধারণ ছুটি থাকবে। ঈদের আগে পরে মিলিয়ে বাকি দিনগুলো নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হবে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকবে বিজয়া দশমীর দিন। তার আগে নবমীর দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। বর্তমানে ঈদের ছুটি তিন দিন ও দুর্গাপূজার ছুটি একদিন। তবে কোনো কোনো বছর নির্বাহী আদেশে ঈদের ছুটি বাড়ানো হয়েছিল। এই বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে বর্তমান সরকার নির্বাহী আদেশে ছুটি এক দিন বাড়িয়েছিল। এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব করে, যা গতকাল উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন পায়।

হামাস প্রধান ইয়াহয়িাকে হত্যা, বাইডনে বললনে ‘শুভ দিন’

চলমান উত্তজেনার মধ্যে এবার হামাস প্রধান ইয়াহয়িা সনিওয়ারকে হত্যা করছেে ইসরাইল। যার প্রশংসা করছেনে র্মাকনি প্রসেডিন্টে জো বাইডনে। বৃহস্পতবিার হামাস নতোর মৃত্যুর দনিকে ‘বশ্বিরে জন্য শুভ দনি’ হসিবেওে উল্লখ্যে করছেনে বাইডনে। সইে সঙ্গে জানয়িছে,ে ইয়াহয়িা নহিতরে ফলে গাজা যুদ্ধবরিতি ও জম্মিি চুক্তরি একটি মূল বাধা এখন সরে গছে।ে
এদকিে র্বতমান ভাইস প্রসেডিন্টে ও আসন্ন র্মাকনি নর্বিাচনে প্রসেডিন্টে র্প্রাথী কমলা হ্যারসি হামাস প্রধানরে মৃত্যু নয়িে বলছেনে, ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালরে হামলার মাস্টারমাইন্ডকে ইসরাইলরে এ হত্যা ‘অবশষেে গাজা যুদ্ধরে অবসান’ করার একটি সুযোগ তরৈি করে দয়িছে।ে
এ ব্যাপারে এক লখিতি ববিৃততিে প্রসেডিন্টে বাইডনে ইসরাইলকে সর্মথন জানয়িে বলনে, ‘এটি ইসরাইলরে জন্য, র্মাকনি যুক্তরাষ্ট্ররে জন্য এবং বশ্বিরে জন্য একটি ভাল দনি।’ সইে সঙ্গে বাইডনে জানান, তনিি খুব শীঘ্রই ইসরাইলরে প্রধানমন্ত্রী বনেঞ্জামনি নতোনয়িাহুকে একটি অভনিন্দন র্বাতা পাঠাবনে। এবং জম্মিদিরে মুক্তি ও এই যুদ্ধ একবোরে শষে করার জন্য উপযুক্ত পথ নয়িে আলোচনা করবনে।
বাইডনে আরও বলনে, ‘গাজায় হামাসকে ক্ষমতায় না রাখার সুযোগ তরৈি হয়ছে।ে একটি রাজনতৈকি মীমাংসার মাধ্যমে ইসরাইলি ও ফলিস্তিনিদিরে জন্য একটি ভাল ভবষ্যিৎ প্রদান করা যাব।ে কনেনা, ইয়াহয়িা সনিওয়ার এতদনি সইে সব লক্ষ্য র্অজনরে পথে এক অপ্রতরিোধ্য বাধা ছলি। সইে বাধা আর নইে। কন্তিু আমাদরে সামনে অনকে কাজ বাকি আছ।ে’
এদকিে ইয়াহয়িার মৃত্যুর পর ফলিস্তিনিে মৃত্যু বন্ধ করার আহŸান জানয়িছেনে কমলা হ্যারসি। তার মত,ে ‘এই মুর্হূতটি আমাদরে গাজার যুদ্ধ শষে করার সুযোগ দয়ে। এর অবসান হওয়া উচতি যাতে ইসরাইল নরিাপদ থাক,ে জম্মিদিরে মুক্তি দওেয়া হয়, গাজার র্দুভােগ শষে হয় এবং ফলিস্তিনিি জনগণ তাদরে র্মযাদা, নরিাপত্তা, স্বাধীনতা এবং আত্মনয়িন্ত্রণরে অধকিার উপলব্ধি করতে পার।ে’

তিন দেশে হামলায় ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র

সিরিয়ার উপকূলীয় শহর লাটাকিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। গতকাল সকালের দিকে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে সিরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। একই দিনে ইয়েমেনে অত্যাধুনিক বোমারু বিমান বি-৫২ থেকে হুতিদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় এক মাস ধরে লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাত চলছে; এর মাঝেই ইয়েমেনে এ হামলা চালাল মার্কিন সামরিক বাহিনী। লেবাননেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সিরিয়া, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অন্যতম মিত্রশক্তি হিসেবে পরিচিত। ১ অক্টোবর ইসরায়েলে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। এ ছাড়া প্রায় প্রতিদিন ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলি ভূখ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।
এদিকে দক্ষিণ লেবাননের লাবোউনে গ্রামে নিজেদের পতাকা উত্তোলন করেছে ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইসরায়েলের সেনারা। ভিডিওতে পতাকা উত্তোলনের সময় ইসরায়েলি সেনাদের উল্লাস করতে দেখা গেছে। ওই ফুটেজে এক সেনা হাত মুঠো করে উচ্ছ¡াস প্রকাশ এবং পতাকা উত্তোলন উদ্যাপন করেন। এর মাধ্যমে ইসরায়েলি সেনারা হয়তো প্রতীকীভাবে তাদের উপস্থিতি এবং শক্তির জানান দিতে চেয়েছে। খবরে বলা হয়, একটি স্মৃতিস্তম্ভে এ ঘটনা ঘটানো হয়, যেটি ২০০৬ সালে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধের সমাপ্তির স্মারক হিসেবে স্থাপন করা হয়েছিল। খবরে এও আশঙ্কা করা হয়, এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকা সীমান্ত এলাকার উত্তেজনা আরও বাড়াবে। এদিকে লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধারা জানায়, ইসরায়েল-অধিকৃত শেবা ফার্মের লেবানন-সিরিয়া সীমান্তবরাবর আল-সাদানায় ইসরায়েলি সেনাদের সমাবেশ লক্ষ্য করে এক দফা হামলা চালিয়েছে তারা।
ইরানের হুঁশিয়ারি : ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের প্রধান হোসেন সালামি আবারও ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসরায়েল যদি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় তবে দেশটিকে আবার জবাব দেওয়া হবে। গতকাল বিপ্লবী গার্ডসের জেনারেল আব্বাস নিলফোরুশানের জানাজায় অংশ নিয়ে হোসেন সালামি এ হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, ‘আপনারা (ইসরায়েল) যদি ভুল করে ফেলেন এবং এ অঞ্চলে বা ইরানে আমাদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালান, তবে আমরা আবারও যন্ত্রণাদায়ক হামলা চালাব।’ আরেক খবর অনুযায়ী, ইসরায়েলি নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, হিজবুল্লাহর নৌশক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে। তাদের হাতে ইসরায়েলে হামলা চালানো সম্ভব নেভাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, ইরানের সমর্থনে হিজবুল্লাহ একটি গোপন নৌ ইউনিট তৈরি করেছে। তবে আইডিএফ তাদের সক্ষমতার কিছু অংশ ধ্বংস করেছে। এর পরও তাদের অত্যাধুনিক সক্ষমতা রয়ে গেছে। তাদের কাছে উপকূলে অভিযান ও জাহাজে হামলা চালানোর মতো অস্ত্র রয়েছে। এ ছাড়া হিজবুল্লাহর উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, হুতিদের ব্যবহৃত নৌ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেখে পশ্চিমা অনেক গোয়েন্দা সংস্থা অবাক হয়েছে। এটির নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানার ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ক্ষমতা রয়েছে; যা ব্যাপক উচ্চতা থেকে তীক্ষè কোণে জাহাজের ওপর নেমে আসে। ফলে নেভাল আয়রন ডোম দিয়ে এর মোকাবিলা করা নতুন চ্যালেঞ্জ।

অর্জুনের সঙ্গে বিচ্ছেদের জল্পনায় মালাইকা

০

বলিউড অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা ও আরবাজ খানের ১৭ বছরের দাম্পত্য জীবন শেষ হওয়ার পর অর্জুন কাপুরের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক শুরু করেছিলেন অভিনেত্রী। তবে, স¤প্রতি শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবস্থা নাকি বেশ নাজুক। গুঞ্জন উঠেছে, অর্জুন-মালাইকার সম্পর্কে নাকি তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি ঘটেছে, যা তাদের সম্পর্কের ছন্দপতনের কারণ হতে পারে।
বাবার মৃত্যুর পর জীবনের নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি খোলামেলা কথা বলেছেন। কিন্তু অর্জুনের সঙ্গে বিচ্ছেদ সম্পর্কে কখনওই প্রকাশ্যে কিছু বলেননি মালাইকা। তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলার আগ্রহ দেখাননি অর্জুনও।
স¤প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি আমার জীবনে যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছি তা নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই। ওই সিদ্ধান্তগুলো আমার জীবনের রূপরেখা তৈরি করেছে। যা কিছু ঘটছে এবং যে ভাবে সবটা আমার চলার রাস্তায় এসেছে তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
মালাইকা ও অর্জুনের ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, সম্পর্ক ভাঙলেও, নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক বজায় রাখবেন এই তারকা জুটি। সেই সূত্রের কথায়, ‘তাদের মধ্যে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেটা স্থায়ী হল না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তাদের মধ্যে কোনো তিক্ততা তৈরি হয়েছে। তারা সব সময় পরস্পরকে শ্রদ্ধা করেছেন এবং সব সময় পাশে থেকেছেন। সম্পর্কে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার বিষয়টিকেই ওঁরা সব সময় অগ্রাধিকার দিয়েছেন।