Home Blog Page 547

নিউইয়র্কে ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠান ১৭ নভেম্বর

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): আমেরিকায় বাংলাদেশী খাবার দেশী-বিদেশীদের পছন্দের খাবার হয়ে উঠেছে। এই খাবরের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে বিরিয়ানী সহ আরো অনেক খাবার। বাংলাদেশী খাবার ব্র্যান্ডিং করার পাশাপাশি দেশী-বিদেশী খাবার নিয়ে নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে আন্তর্জাতিকমানের ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড-২০২৪’ অনুষ্ঠান। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) দুপুরে জ্যামাইকায় হিলসাইড এভিনিউস্থ খলিল বিরিয়ানী হাউজ মিলনায়তনে আয়োজিত জনাকীর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, আগামী ১৭ নভেম্বর আয়োজিত হবে এই অনুষ্ঠান। খবর ইউএনএ’র।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৭ সাল থেকে শুরু করে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রবাসী বাংলাদেশী সহ বিদেশীদের খাবারের পছন্দের তালিকার শীর্ষে স্থান করে নিয়েছে খলিল বিরিয়ানী। খলিল বিরিয়ানি’র স্বত্বাধিকারী শেফ খলিলুর রহমান ইতিমধ্যে পেয়েছেন ব্রিটিশ কারী অ্যাওয়ার্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল লাইফ টাইম অ্যাওয়ার্ড। তার উদ্যোগ আর আগ্রহে-ই নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হচ্ছে ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড-২০২৪’ অনুষ্ঠান। আগামী ১৭ নভেম্বর নিউইয়র্কের কুইন্সের টেরেস অন দা পার্ক-এ আয়োজিত হবে এই অনুষ্ঠান।

American American Curry Award 2024 04 July 2024 Pic 02

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্যে কারী অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা শেফ খলিলুর রহমান ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড-২০২৪’ অনুষ্ঠান বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। বলা হয়, আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ডে ছয়টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেয়া হবে। পুরস্কারের সাথে থাকবে সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট। ক্যাটাগরি গুলো হলো- লাইফ টাইম এসিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, রেস্টুরেন্ট অফ দা ইয়ার, এক্সিকিউটিভ শেফ অফ দ্যা ইয়ার, শেফ অফ দা ইয়ার, ফুড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি অফ দা ইয়ার, হোম কুক অফ দ্যা ইয়ার। এই আয়োজনে জুড়ি বোর্ডে থাকবেন বিশ্বখ্যাত মাস্টার শেফ এবং কালিনারি বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের নানা সেক্টরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে শেফ খলিলুর রহমান ছাড়াও কারী অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের সহ প্রতিষ্ঠাতা এনামুল হক এনাম ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট এডভোকেট এন মজুমদার শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। পরে তারা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সংবাদ সম্মেলনটি পরিচালনা করেন আশরাফুল হাসান বুলবুল।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে খলিলুর রহমান জানান, ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড-২০২৪’ আয়োজনের সকল ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা থাকবে। এর ওয়েবসাইট ছাড়াও মিডিয়ার মাধ্যমে সময়ে সময়ে সকল তথ্য জানানো হবে। পৃষ্ঠপোষক আর স্পন্সরদের অর্থের পাশাপাশি নিজের প্রতিষ্ঠানের অর্থে এই অনুষ্ঠানের ব্যয় মেটানো হবে।
অপর এক প্রশ্নে উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড-২০২৪’ কোন গতানুগতিক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান হবে না এবং এখানে অর্থের বিনিময়ে কাউকে কোন অ্যাওয়ার্ড দেয়া হবে না। বিচারকদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক অ্যাওয়ার্ডের জন্য যোগ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকেই অ্যাওয়ার্ড দেয়া হবে।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে শেফ খলিলুর রহমান জানান, নিউইয়র্কের সকল আইন-কানুন মেনেই ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড-২০২৪’ আয়োজন করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শেফ খলিলুর রহমান বলেন, আমি পেশায় একজন শেফ। নিউইয়র্কের খলিল বিরিয়ানি হাউজের প্রতিষ্ঠাতা, চিফ শেফ এবং সিইও। খুব অল্প সময়ের মধ্যে খলিল বিরিয়ানি হাউজ নিউইয়র্ক তথা পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সুপরিচিত খাবারের ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেই নয়, স্থানীয় আমেরিকানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছেও আমাদের খাবারসমূহ সমান জনপ্রিয়। মানুষের পছন্দের তালিকার শীর্ষে ‘খলিল বিরিয়ানি’ তিনি বলেন, আমাদের যাত্রা কিন্ত খুব বেশিদিনের না। ২০১৭ সালে নিউইয়র্কে খলিল বিরিয়ানি হাউজ যাত্রা শুরু করে। আর অল্পসময়ের মধ্যেই আমাদের খাবার মানুষের পছন্দের তালিকার শীর্ষে স্থান করে নিয়েছে। সাম্প্রতিককালে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নামানুসারে ‘বাইডেন বিরিয়ানী’ নামে নতুন একটি ডিশ চালু করেছি। ব্যতিক্রমী এই ডিশটি আমেরিকায় বেশ আলোচিত হয়েছে এবং জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ভবিষ্যতে এরকম আরও কিছু ডিশ প্রচলনের ইচ্ছা আমাদের আছে।
তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড’ এবং ‘প্রেসিডেন্সিয়াল লাইফ টাইম অ্যাওয়ার্ড’ জনপ্রিয়তার পাশাপাশি গ্রাহক সেবায় অনন্য অবদানের জন্য খলিল বিরিয়ানি হাউজের সত্ত¡াধিকারি এবং প্রধান শেফ হিসেবে আমি অর্জন করেছি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্যতম সম্মানজনক পুরস্কার ‘প্রেসিডেন্সিয়াল লাইফ টাইম অ্যাওয়ার্ড’। পাশাপাশি ২০২২ সালে পেয়েছি কালিনারি শিল্পের অস্কার হিসেবে খ্যাত ‘ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড’। যা অত্যন্ত সম্মানজনক একটি পুরস্কার।
যেভাবে ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’-এর পরিকল্পনা হলো
‘ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়ার পর আমার মাথায় চিন্তা আসে যে, ‘ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড’-এর মতো করে ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’ করলে কেমন হয়? এই প্রেক্ষাপটে, আমি আর বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠাতা এনামুল হক এনাম ভাই মিলে ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’ নিয়ে কাজ শুরু করি। সিদ্ধান্ত নেই আমেরিকায় ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’ চালু করবো।
শেফ খলিরুর রহমান বলেন, ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’ আমাদের অনেকদিনের স্বপ্ন। অবশেষে যা বাস্তবায়ন হওয়ার পথে। আগামী ১৭ নভেম্বর ২০২৪ রোববার নিউইয়র্কের কুইন্সের ‘টেরেস অন দ্য পার্ক’-এ অনুষ্ঠিত হবে ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’-এর প্রথম আসর। ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’ এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আমি আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে চাই যে, আমাদের এই আয়োজন হবে অত্যন্ত জমকালো এবং আকর্ষণীয়।
‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’ সম্পর্কে তথ্য
‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’ আয়োজনগত দিক দিয়ে ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’ অনেকটা ‘ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড’ এর আদলেই হবে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্যও থাকবে। সবচেয়ে বড় পার্থক্য হচ্ছে আয়োজনের ব্যাপ্তির জায়গায়। ‘ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড’ মূলত যুক্তরাজ্য ভিত্তিক। শুধু ব্রিটেনের শেফরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন। কিন্ত ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’ শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হবে না। ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’ এর আয়োজন সব দেশের অংশগ্রহণকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের শেফরা এই আয়োজনে অংশ নিতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের শেফরা যেমন এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন, তেমনি অংশ নিতে পারবেন বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইতালি, ব্রিটেনসহ পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের সেফরা। এখানে ছয়টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হবে, এগুলো হলো: লাইফ টাইম এসিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, রেস্টুরেন্ট অফ দা ইয়ার, এক্সিকিউটিভ শেফ অফ দ্যা ইয়ার, শেফ অফ দা ইয়ার, ফুড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি অফ দা ইয়ার, হোম কুক অফ দ্যা ইয়ার। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে আগ্রহীদের ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড ২০২৪’ এর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এছাড়া এবারই এ ধরনের আসরে আমেরিকায় বসবাসরত যারা নিজের রানড়বাঘরে (হোম কুক) সৃজনশীল খাবার তৈরি করেন তাদের মধ্য থেকে সেরাদেরও এখানে পুরস্কৃত করা হবে।
জুরি বোর্ডে থাকবেন বিশ্বখ্যাত মাস্টার শেফ এবং কালিনারি বিশেষজ্ঞরা
এই আয়োজনের জুরি বোর্ডে থাকছেন, বিশ্বখ্যাত মাস্টার শেফ এবং কালিনারি বিশেষজ্ঞরা। সার্বিকভাবে ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’ হবে একটি আন্তর্জাতিক মানের মূলধারার আয়োজন। এই আয়োজনে সিনেটর থেকে শুধু করে যুক্তরাষ্ট্রের নানা সেক্টরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন।
আমরা বাংলাদেশের খাবার এবং সংস্কৃতিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে চাই

American American Curry Award 2024 04 July 2024 Khalil edited

শেফ খলিলুর রহমান বলেন, আসলে ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’ আয়োজনের পেছনে নিশ্চিতভাবে আমাদের একটি উদ্দেশ্য আছে। আমরা জানি, খাবার (ফুড) হচ্ছে এমন একটি পণ্য যা একটি দেশের সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত। খাবারকে বলা হয় ‘কালচারাল অ্যাম্বেসেডর’ অর্থাৎ সংস্কৃতির দূত। আর তাই ‘খাবারের সংস্কৃতি’র (কালচার) মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের খাবার এবং সংস্কৃতিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে চাই। একইসঙ্গে আমরা নিজেরাও বিশ্বের নানা প্রান্তের বৈচিত্র্যময় খাবারের সঙ্গে পরিচিত হতে চাই। ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’ হবে প্ল্যাটফর্মটি বিশ্বের বৈচিত্র্যময় খাবার ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন
তিনি বলেন, ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’ প্ল্যাটফর্মটি বিশ্বের বৈচিত্র্যময় খাবার ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটাবে। তবে প্রধান উদ্দেশ্য থাকছে, বাংলাদেশের খাবারকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা। বাংলাদেশের আকর্ষণীয় এবং মুখোরচক সব খাবার এবং খাবারের সংস্কৃতিকে আমরা বিশ্বজুড়ে পরিচিত করতে চাই।
কালিনারি পেশাকে আরও বেশি জনপ্রিয় করতে চাই
শেফ খলিল বলেন, পাশাপাশি কালিনারি পেশাকে আরও বেশি জনপ্রিয় এবং নতুন প্রজন্মকে এই পেশায় আগ্রহী করাও আমাদের এই আয়োজনের আরেকটি উদ্দেশ্য।
‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’ বিশ্ব কালিনারি শিল্পে সম্মানীয় অ্যাওয়ার্ড হবে
তিনি বলেন, আমাদের স্বপ্ন অনেক বড়। ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’ সেই স্বপড়ব যাত্রার প্রথম পদক্ষেপ। আমরা আশা করি ‘ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড’-এর মতো একদিন ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’ও বিশ্বের কালিনারি শিল্পের অন্যতম গ্রহণযোগ্য এবং সম্মানীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে। ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’ বিশ্ব কালিনারি শিল্পে একসময় সবচেয়ে সম্মানীয় অ্যাওয়ার্ড হবে বলে আমরা আশাবাদী। আমাদের এই যাত্রায় আপনাদের সবার সহযোগিতা এবং সমর্থন প্রত্যাশা করছি।

সম্মিলিত বরিশাল বিভাগবাসী ইউ.এস.এ ইনক্-এর বার্ষিক বনভোজন-২০২৪ইং অনুষ্ঠিত

গত ৬ জুলাই ২০২৪ইং শনিবার লং আইল্যান্ডের হেকশেয়ার স্টেট পার্ক-এর টেলর প্যাভিলিয়নে সম্মিলিত বরিশাল বিভাগবাসী ইউএসএ ইন্ক-এর বার্ষিক বনভোজন ২০২৪ ইং অত্যন্ত সুন্দর ও সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয় । সকাল ১০:০০ ঘটিকায় বনভোজন কমিটির কর্মকর্তারা, অতিথিগন সহ প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ তাদের নিজ নিজ গাড়ি নিয়ে বনভোজন স্থলে উপস্থিত হন। এর পর-পরই জ্যাকসন হাইটস্ এর ঢাকা গার্ডেন রেষ্টুরেন্টের তৈরী সু-স্বাদু ব্রেকফাষ্ট বনভোজনের অতিথিদের মাঝে বিতরন করা হয়। ব্রেকফাষ্টে পরাটা, হালুয়া, ভাজি, কলা, জুস, পানি, সোডা প্রদান করা হয়। ফয়েল ট্রেতে করে গরম গরম ব্রেকফাষ্ট সার্ভ করা হয়। বাচ্চাদের জন্য চিপস ও জুস প্রদান করা হয়।

6102cd09 27b0 4ccb 91e6 8c9a042f6248 edited

সকালের নাস্তা খুবই মুখরোচক ও সুস্বাদু ছিল । পর্যাপ্ত পরিমানে নাস্তা ছিল, সবাই ইচ্ছা মাফিক নিজ হাতে তুলে নিয়ে খেতে পেরেছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির বর্তমান সভাপতি-এম.এ. সালাম আকন্দ, সঞ্চালনায় ছিল বর্তমান সাধারন সম্পাদক-লস্কর মাইজুর রহমান জুয়েল।
বনভোজনের আহ্ববায়ক ছিলেন কাজী রবি-উজ-জামান (প্রচার সম্পাদক)-সম্মিলিত বরিশাল বিভাগবাসী ইউ.এস.এ ইনক্। যুগ্ন আহ্ববায়ক: আমিনুল হাওলাদার। প্রধান সমম্বয়কারী: জসিম চৌধুরী। সমন্বয়কারী: কামরুজ্জামান বাচ্চু। সদস্য সচিব: মোঃ হাসান মাহমুদ। যুগ্ন-সদস্য সচিব: প্রফেসর জসিম উদ্দিন, সেন্টজন ইউনিভারসিটি। সাংগঠনিক সম্পাদক: ফয়সাল আহমেদ। বনভোজনের সার্বিক তত্তাবধানে ছিলেন: ডা. আব্দুস সবুর ও মামুনুর রশিদ, সমিতির নীতি নির্ধারক। শুভেচ্ছা বক্তব্য ও বনভোজনের শুভ উদ্বোধনঃ প্রথমে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত বরিশাল বিভাগবাসী ইউএসএ ইনকের বর্তমান সভাপতি-এম.এ. সালাম আকন্দ।

5c2ccfbe eb77 46d0 9643 752636f5cd12 edited

তিনি তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বনভোজনের সকল অতিথিদের বনভোজনে অংশ গ্রহণের জন্য শুভেচ্ছা জানান এবং বনভোজনের সকল আনন্দ সবাই মিলে একত্রে উপভোগ করার আহবান জানান। শুভ-উদ্বোধনঃ বনভোজনের শুভ উদ্বোধন করেন বনভোজনের প্রধান অতিথি ডাঃ রুমানা সবুর এমডি এবং প্রফেসর ইন্টার্নাল মেডিসিন। তিনি বলেন, আমি প্রধান অতিথি হতে চাইনা, আমি আপনাদের মত একজন অতিথি এবং আপনাদের সাথে মিলে মিশে একত্রে বনভোজনের আনন্দ উপভোগ করতে চাই। তিনি সবাইকে সম্মিলিত বরিশাল বিভাগবাসীর বনভোজনে অংশ গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান। এর পর তিনি বেশ কয়েকজন সদস্যকে সমিতির মনোগ্রাম সম্বলিত এবং বনভোজন-২০২৪ লিখিত টি-শার্ট পরিয়ে বনভোজনের কার্য্যক্রম শুরু করেন। তার পরই শুরু হয় খেলাধুলার পর্ব। ক্রিয়া পরিচালনা করেন : কবি সুধাংশু কুমার মন্ডল, নাসির উদ্দিন, মোস্তাক চৌধুরী, ডা. রুমানা সবুর, মিসেস সভাপতি-কামরুন নাহার, শিরিন আক্তার, ফয়সাল আহমেদ, হাসান মাহমুদ, রুবেল, নূরে-ই-আলম মিলন, জালাল কমিশনার প্রমূখ।

বালকদের দৌড়: (৫-৭ বছর) : প্রথম হয়েছে: মোঃ ফাইয়াজ, ২য়: ইয়াদ, তৃতীয়: আজওয়াদ।
বালিকাদের দৌড় (৫-৭ বছর) : প্রথম: রুবাইয়া, ২য় : আরিশা, তৃতীয়: নূহা। বালকদের দৌড় (৮-১০ বছর) : প্রথম: রাইয়ান, দ্বিতীয়: আয়ান, তৃতীয়: তাওরাত। বালিকাদের দৌড় (৮-১০ বছর) প্রথম: আফিয়া, দ্বিতীয়: সাজানা, তৃতীয়: জোবায়ারা বালকের দৌড় (১১-১৪ বছর) প্রথম ইয়াসিন, দিত্বীয় মুহাইমিন, তৃতীয় আমিন। বালিকা দৌড় (১১-১৪ বছর) : প্রথম সুরভী, দিত্বীয় রাহি, তৃতীয় মিতিশা। পুরুষ: বল নিক্ষেপ (১৮ থেকে উর্দ্ধে): প্রথম সুধাংশু কুমার মন্ডল, দিত্বীয় সাইফুল ইসলাম, তৃতীয় হাসান মাহমুদ। নারীদের বালিশ খেলা (১৪ থেকে উর্দ্ধে): প্রথম ডালিয়া, দিত্বীয় মনিরা, তৃতীয় শিউলি। পুরুষ: ফুটবল খেলা (১৪ থেকে উর্দ্ধে): রেফারীঃ কবি সুধাংশু কুমার মন্ডল, ল্যাইসম্যান: মোস্তাক চৌধুরী ও কাজী রবিউজজামান। (ক) সাদা দল: শামীম, নাফশান, আনিস, মনির, আজমল, হাসান মাহমুদ, কামরুল হাসান, রুবেল, রাফি, হানিফ, ইয়াসিন। (খ) হলুদ দল: ফয়সাল, আমিনুল, কামাল, মোস্তফা, ফারুক, ইমরান, সাইফুল, রেজবী, কামরুজ্জামান বাচ্চু, হুমায়ুন, মহাসিন।

1920576d 75ae 4985 96c4 fbda41ba2e60 edited

আপ্যায়নে: ঝাল মুড়ি: এমএসটি নাহার লাকী– অত্যন্ত সুন্দর মুখরোচক ঝালমুড়ি বানিয়ে সকলের প্রসংসা কুড়িয়েছেন। চা-চক্র: ওহাব পাটোয়ারীর চা ছিল স্নাক পর্বের প্রিয় ও সু-স্বাদু তাকে সহযোগিতা করেছেন: লাকী আক্তার, মাইজুর রহমান লস্কর জুয়েল, রুবেল, জাফর তালুকদার, কামরুল হাসান, ফয়সাল, আমিনুল হাওলাদার। বিশেষ বক্তাঃ প্রধান অতিথীঃ ডা: রুমানা সবুর এমডি, সার্বিক সহযোগীতায়ঃ কামরুন নাহার, সবিতা দাস। উপস্থিত বক্তব্য রাখেন- ডাঃ আব্দুস সবুর সাবেক সভাপতি ও নীতি নির্ধারক কামরুজ্জামান বাচ্চু ভাইস প্রেসিডেন্ট আনিসুর রহমান- হাউজিং কর্মকর্তা।
মিসেস শীরিন আক্তার, কালেকটি একাডেমি মামুন উর রশিদ- নীতি নির্ধারক। প্রফেসর মোঃ জসীম উদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মাদ মহাসিন শফিকুল রহমান (সাবেক চেয়ারম্যান), বাকেরগঞ্জ মোস্তাক চৌধুরী (সাবেক চেয়ারম্যান) জাগুয়া, ইঞ্জিনিয়ার: আব্দুল খালেক। কার্যকরী কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- কামরুজ্জামান বাচ্চু, সহ-সভাপতি আব্দুর রব হাওলাদার, সহ-সভাপতি, ফয়সাল আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক, সাইফুল ইসলাম, প্রকাশনা সম্পাদক, সুধাংশু কুমার মন্ডল, সহ- সাহিত্য সম্পাদক, কাজী রবিউজ্জামান, প্রচার সম্পাদক প্রমুখ, আমিনুল হাওলাদার, জসীম উদ্দিন-উপদেষ্টা। সাউন্ড সিসটেমঃ মোঃ ফিরোজ আহমেদ। সংগীত শিল্পী সবিতা দাস, অরুনা সাহা, রুনা রয়, মধু রয়, রুমা আক্তার প্রমুখের মনমুগ্ধকর গানে দর্শকের বেশ আকৃষ্ট করেছে। র‌্যাফেল ড্র এর আকর্ষনীয় পুরস্কারের মধ্যে ছিল ১ম পুরস্কারঃ ডায়মন্ড নেকলেস, স্পন্সর করেছেন মিসেস শীরিন আক্তার-কালেকটিভ একাডেমি, ২য় পুরস্কারঃ ৫৫ এলইডি টিভি শাহ নওয়াজ, গোল্ডেন হোম কেয়ার, ৩য় পুরুষ্কারঃ ৪৩; এলইডি টিভি, নুরু বেপারী, অটো শপ – ৬০ স্টীট এন্ড ৩৭ এভিনিউ, ৪র্থ পুরুষ্কারঃ এয়ার ফ্রাইয়ার, ৫ম পুরুস্কারঃ টাওয়ার ফ্যান, সৌজন্যে: সম্মিলিত বরিশাল বিভাগবাসী ইউএসএ ইন্ক, ৬ষ্ঠ পুরস্কার: লাস্কো সুপার ফ্যান, সৌজন্যে: সৗজন্যে: সম্মিলিত বরিশাল বিভাগবাসী ইউএসএ ইন্ক, ৭ম পুরস্কার: টাওয়ার ফ্যান, সৌজন্যে: সৌজন্যে: সবিতা দাশ, ৮ম পুরস্কার: মাইক্রোওভেন, সৌজন্যে: রাব্বি- হিলসাইড এভিনিউ, ৯ম পুরস্কার: প্রেশার কুকার, মান্নান সুপারমার্কেট, হিলসাইড এভিনিউ, ১০ম পুরস্কার: মিনি রেফ্রিজেরেটর, সৌজন্যে: জসীম চৌধুরী, ১তম পুরুষ্কার: ডিনার সেট, সৌজন্যে: মান্নান সুপারমার্কেট, জ্যকসন হাইটস। র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠানে ডা: আব্দুর সবুর, মামুনুর রশীদ, সালাম আকন্দ, হাছান মাহমুদ, ফয়সাল আহমেদ, সবিতা দাশ, জুয়েল লস্কর, কাজী রবিউজ্জামান, কামরুজ্জামান বাচ্চু প্রমুখ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। সর্বশেষে সভাপতি এম এ সালাম আকন্দের সমাপনি বক্তব্যের মাধ্যমে বনভোজনের কার্যক্রমের পরিসমাপ্তি ঘটে।

যুক্তরাজ্যের নগরমন্ত্রী হয়েছেন বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক

হাকিকুল ইসলামঃ যুক্তরাজ্যের নগরমন্ত্রী হয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক।
বিবিসির প্রতিবেদন মতে, গত ৫ জুলাই বাকিংহাম প্যালেস থেকে ফিরেই মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ শুরু করেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। লেবার এমপি অ্যাঞ্জেলা রেনারকে উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। সে ধারাবাহিকতায় ব্রিটেনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট আসন থেকে নির্বাচিত এমপি টিউলিপকে নগরমন্ত্রী করা হলো।
যুক্তরাজ্যের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ১৪ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা কনজারভেটিভ পার্টিকে বিশাল ব্যবধানে হারায় টিউলিপের দল লেবার পার্টি। নির্বাচনে টানা চতুর্থবারের মতো জয় পান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক। লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট আসন থেকে লেবার পার্টির হয়ে লড়েছেন তিনি।
জয়ের পর টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, ‘সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই। আপনাদের দোয়ায় চতুর্থবারের মতো আমি নির্বাচিত হলাম। বাংলাদেশি কমিউনিটি সব সময় আমাকে সমর্থন করে। আমি তাদের প্রতি খুবই কৃতজ্ঞ যে, তারা এবারও আমাকে সমর্থন দিয়েছেন।’
মেয়ের জয়ে উচ্ছ¡সিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানাও। তিনি বলেন, আমার মেয়ে আবার এমপি নির্বাচিত হলো। মানুষের সেবায় সে নিষ্ঠার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করবে। শুধু নির্বাচনের সময় নয়, সারা বছরই সে এলাকায় কাজ করে। সবার কাছে দোয়া চাই, সে যেন তার কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে করতে পারে।
যুক্তরাজ্যে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক
অটিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের নগরমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আর্থিক তত্ত¡াবধায়কের দায়িত্বও পালন করবেন।
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কেউ দেশটির মন্ত্রীসভার সদস্য হলেন।
২০১৫ সালে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। সেবার থেকেই লেবার পার্টির এমপি হিসেবে আছেন টিউলিপ। গত পার্লামেন্টে দলটির ছায়ামন্ত্রীও ছিলেন তিনি। লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর পার্লামেন্টে প্রথম বক্তৃতার মাধ্যমে তিনি বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণ করেন।

নিশ্চিত-অনিশ্চিতের দোলায় বাইডেন

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।। সিনেট নেতা চাক স্যুমার এবং হাউস সংখ্যালঘু নেতা জেফরী হেকিম প্রেসিডেন্ট জোসেফ বাইডেন-র প্রতি তাঁদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে ডেমক্রেট সিনেট ও কংগ্রেস নেতারা বৈঠক করেছেন। নুতন করে কেউ বাইডেনকে সরে দাঁড়ানোর আহবান জানাননি। বাইডেন আপাতত: টিকে গেছেন, তবে দলে অসন্তোষ ও আতংক কমেনি। এক চিঠিতে বাইডেন ডেমক্রেট নেতাদের পরিষ্কার জানিয়েছেন যে, তিনি কোথাও যাচ্ছেন না, নির্বাচনে লড়বেন এবং ট্রাম্পকে হারাবেন। আগষ্টে দলীয় সম্মেলন, ইচ্ছে করে না সরে দাঁড়ালে বাইডেনকে সরানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সোমবার বাইডেন ‘ব্লাক ককাস’ নেতৃবৃন্দের সাথে এক ঝুম-কলে যোগ দেন, তাঁরা বাইডেনের প্রতি তাঁদের সমর্থন জানিয়েছেন। কমলা হ্যারিস প্রার্থী হলে তারা তাকেও সমর্থন দেবেন বলে জানান। ডেমক্রেটদের এক অভ্যন্তরীণ ‘বেনডিক্সন-আমান্দী’ জরিপে জানা যায়, কমলা হ্যারিস ও হিলারি ক্লিনটন প্রতিদ্ধন্ধিতায় নামলে তাঁরা ট্রাম্পকে হারাতে সক্ষম। জরিপে বলা হয়, মাত্র ২৯% ডেমক্রেট মনে করেন বাইডেন আগামী চার বছর রাষ্ট্র চালাতে সক্ষম, ৬১% তা মনে করেন না। ৩৩% বলেছে বাইডেন প্রার্থী থাকুন, ৫২% বলেছে তার সরে যাওয়া উচিত।
বাইডেন কি পারবেন টিকে থাকতে? তাঁর ভাগ্য নিয়ে ডেমক্রেটরা বিভক্ত। যারা তাকে সরে দাঁড়ানোর আহবান জানাচ্ছেন তারা বসে নেই? ল্যাটিনো ভোটাররা বাইডেনের পেছন থেকে সরে যাচ্ছেন, কমলা হ্যারিসের পেছনে থাকবেন তেমন সম্ভবনা কম। কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা ভোটাররা বাইডেনকে ভোট দিয়েছিলেন, তবে তাঁদের উৎসাহ কমলাকে নিয়ে। টাইম ম্যাগাজিন বলেছে, বাইডেনের পাল্টা ব্যবস্থা কাজ করছে না, অনেক দেরি হয়ে গেছে, সরে দাঁড়ানোর আহবান বাড়ছে। বাইডেন সপ্তাহান্তে পেনসিলভানিয়ায় দু’টি সমাবেশে বলেছেন, ‘আই এম আপ ফর দি জব’।
হোয়াইট হাউস বলেছে, একজন পার্কিনসন্স বিশেষজ্ঞ তিনবার প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বাইডেনের ‘ইগো’-র কারণে তিনি সরে দাঁড়াবেন না। সোমবার থেকে মিলওয়াকিতে রিপাবলিকান সম্মেলন, ট্রাম্প এ সপ্তাহে তাঁর রানিং-মেট ঘোষণা করবেন। এদিকে সাউথ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, আগামী ৪বছর নয়, তিনি ৪মাস হোয়াইট হাউসে বাইডেনকে নিয়ে চিন্তিত। তিনি বলেন, আমাদের মিত্ররা দেখছে বাইডেন দুর্বল, শত্রুরা দেখছে বাইডেন দুর্বল। সিবিএস-এ ‘ফেস দ্য নেশান’ অনুষ্ঠানে গ্রাহাম বলেন, একজন দুর্বল প্রেসিডেন্ট জাতির জন্যে বিপজ্জ্বনক।

আবারো কোটা আন্দোলনে রাজধানীতে তীব্র যানজট

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে চলছে আন্দোলন। সড়ক-মহাসড়ক ও মোড়ে মোড়ে শিক্ষার্থীরা পালন করছেন ‘বাংলা ব্লকেড’। অবরোধের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

কথা ছিল বেলা ৩টায় শুরু হবে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির। তবে কিছু কিছু জায়গায় সকাল থেকেই রাস্তায় অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল ও ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহাল করা।

আন্দোলনকারীদের একজন সংবাদিক দের বলেন, কোটা ব্যবস্থা অগণতান্ত্রিক, অসাম্যের এবং অন্যায্য। তাই এই ব্যবস্থা বাতিলের জন্য বাধ্য হয়েই রাস্তায় নেমে আসা হয়েছে।

গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে উত্তাল রাজপথ। ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে দাবি আদায়ে অনড় শিক্ষর্থীরা।

এতদিন বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন করলেও এবার সারা দেশে সড়ক, মহাসড়ক ও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্ট অবরোধ করে ‘বাংলা ব্লকেড’ পালনের ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা। উদ্দেশ্য সড়ক মহাসড়ক আচল করে দেবার। এতে রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজটের শঙ্কা প্রকাশ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এমনকি যানজট এড়াতে রাজধানীর ধানমন্ডি, শাহবাগ সড়কের বিকল্প ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে ছাত্রদের কর্মসূচি চলছে। তাই রমনা, মতিঝিল, শাহবাগ, ধানমন্ডিসহ বেশকিছু এলাকার রাস্তাঘাটে ট্রাফিক বেড়ে যেতে পারে এবং জ্যামের সৃষ্টি হতে পারে। তাই এসব এলাকায় চলাচলকারীদের হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা।

সকাল থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়ক অবরোধ করে ছাত্র সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা। ফলে দেখা দেয় তীব্র যানজট। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী-চালক।

এসময় ফারুক নামের একজন যাত্রী বলেন, আজকে গ্রামে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়েছিলাম। সাভার পার হওয়ার পর থেকেই জ্যামের মধ্যে পড়ি। বাধ্য হয়ে অনেকক্ষণ ধরে হাঁটছি। গরম আর তৃষ্ণায় নাজেহাল অবস্থা এখন।

মাথায় কাফনের কাপড় নিয়ে বৈষম্যমূলক কোটা প্রথা বাতিল করে মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতেও সৃষ্টি হয় জনদুর্ভোগের।

কোটা বাতিলের দাবি মেনে না নিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

যুক্তরাষ্ট্রে তিন দিনব্যাপী ‘(মুনা)’র’ সম্মেলন শুরু ৯ আগস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘ইসলাম শান্তি ও মানবতার জন্য ন্যায়বিচার’ এ শ্লোগানে প্রবাসে মুসলমানদের সবচেয়ে বৃহৎ মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকার (মুনা)’র বার্ষিক সম্মেলন শুরু হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ার কনভেনশন সেন্টারে আগামী ৯ আগস্ট শুরু হওয়া তিন দিনের ৭ম বার্ষিক এ সম্মেলন চলবে ১১ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত। এবারের সম্মেলনে ২০ সহস্রাধিক ধর্মপ্রাণ প্রবাসী মুসলমান অংশ গ্রহণ করবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
মুনা সম্মেলন উপলক্ষ্যে গত সোমবার (১ জুলাই) মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের মুনা সেন্টারে। মুনার নিউ ইয়র্ক নর্থ জোন সভাপতি মো: রাশেদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মুনার ন্যাশনাল কমিটির প্রেসিডেন্ট হারুন অর রশীদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুনার ন্যাশনাল কমিটির এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর ও সিপিএ আরমান চৌধুরী।
ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট হারুন অর রশীদ, ইমাম ও কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের সার্বিক সহযোগিতায় কামনা করে বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে বিগত বছরগুলোতে বিশাল আকারের মুনা কনভেনশন বাস্তবায়ন করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। তিন দিনব্যাপী ওই কনভেনশন বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ আমেরিকান মুসলিম কমিউনিটির মাঝে ব্যক্তি এবং সমাজ গঠনে প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আমরা মুনা ন্যাশনাল সংগঠনের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে এবং আপনাদের মাধ্যমে গোটা বাংলাদেশী কমিউনিটিকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
তিনি বলেন, মুনা আমেরিকার একটি দাওয়াতি ও সামাজিক সংগঠন। মানুষের ব্যক্তিগত নৈতিক ও সামাজিক মানোন্নয়নর জন্য সার্বিক প্রচেষ্টা চালানোর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠিত হয় মুনা। এই সংগঠনটি ১৯৯০ সালে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে কর্পোরেশন ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে মুনা আমেরিকার ৪৮টির বেশি অঙ্গরাজ্যে কর্মতৎপরতা পরিচালনা করছে।
হারুন অর রশীদ গাজার মুসলমানদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ৪০ হাজার মানুষের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। আমাদেরকে সকল ভেদাভেদ ভূলে ঐক্যবদ্ধ হওয়া সময়ের দাবি। আমাদেরকে জাগতে হবে। মুনা কোন রাজনীতিক সংগঠন নয়। আমরা মুসলমান এবং অমুসলমানদের কাছে কুরআনের দাওয়াত দিয়ে থাকি। আমাদের পাঁচ দফা কর্মসূচি শুধু মুসলিম তথা ইসলামে বিশ্বাসীদের জন্য নয়, এটা গোটা মানব গোষ্ঠীর উন্নতি ও অগ্রগতির লক্ষ্যে। মুনা শতকরা ১০০ ভাগ কুরআন ও সুন্নাহের অনুসরণ করে। মহাগ্রন্থ আল কুরআন ও রাসুল (সা:) প্রদর্শিত সুন্নাহর কল্যাণকর পতাকা প্রতিটি হৃদয়ে, প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে পৌঁছে যাক মুনা এই বিশ্বাস ধারণ করেই কনভেনশনে মূল প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করে থাকে। মুনার এই কাজে ইমাম ও কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আল কোরআন পথনির্দেশ করে গোটা মানব জাতিকে। কল্যাণকর ও নির্ভুল পথ পরিদর্শন করে পথভ্রান্ত দিকহারা মানবতাকে। ব্যক্তিজীবন থেকে রাষ্ট্রীয় জীবন, মানব দেহের অভ্যন্তরে লুকায়িত অন্তর বিন্দু থেকে সৃষ্টি লোকের বিশাল বিস্তৃত মানব সম্পর্কিত প্রতিটি স্তরে বিশ্ববাসীর কল্যাণে এক নির্ভুল গাইড হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে এই মহাগ্রন্থ আল কুরআন। মুনা গত বছর প্রায় ৭৫ হাজার কুরআন বিলি করেছে এবং এ কাজ অব্যহত রাখছে। আপনারা যে কেউ এ কাজে অংশগ্রহন করতে চাইলে আমরা আপনাদের সহযোগিতা করবো ইনশাআল্লাহ।
মুনার ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর আরমান চৌধুরী বলেন, আগামী ৯, ১০ ও ১১ আগষ্ট ২০২৪ ফিলাডেলফিয়ার অবস্থিত পেনসিলভেনিয়া কনভেনশন সেন্টারে মুনা কনভেনশন ২০২৪ এর অনুষ্ঠিত হবে। এই সেন্টারের ধারণ ক্ষমতা প্রায় এক লক্ষ লোকের। এই কনভেনশন মুসলিম জীবনে বিশেষ করে বাংলাদেশী-আমেরিকান পরিবার ও নতুন প্রজন্মের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে নেতৃবন্দ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মুনা মুসলমানদের প্রাত্যহিক সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকান্ড এবং জাতীয় নাগরিক জীবনে ভূমিকা পালনের নিমিত্তে সংগঠিত করতে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে করে এই সমস্ত ব্যক্তিবর্গ আল­াহ এবং তাঁর রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) অনুসরণের মাধ্যমে মানবতার সেবা করে যেতে পারে।
উল্লেখ্য আগামী ৯, ১০ ও ১১ আগষ্ট অনুষ্ঠেয় কনভেনশনের কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় এবং থিম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ইসলাম শান্তি ও মানবতার জন্য ন্যায়বিচার (ইসলাম পিচ এন্ড জাস্টিজ ফর হিউম্যানিটি)।
মুনা কনভেনশন বাস্তবায়নে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে বক্তব্য দেন সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডা: ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক জন্মভূমির সম্পাদক রতন তালুকদার, মসজিদ আবরারের ইমাম ও খতিব মাওলানা আবুল খায়ের, মসজিদ বায়তুল আতিক মসজিদের খতিব মাওলানা নজরুল হক, সানি সাইড মসজিদে ইব্রাহিমের ইমাম ও খতিব ইমাম ইউসুফ, উডসাইড বায়তুল জান্নাহ মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো: তোহফাজ উদ্দিন, মসজিদে ইব্রাহিমের সভাপতি পারভেজ রহমান, শিক্ষাবিদ ড. আবুল কাসেম, প্রফেসর সৈয়দ আহমেদ, এনওয়াইপিটির সিনিয়র কর্মকতা সামসুল হক, বিশিস্ট ব্যবসায়ী এমকে রহমান মাহমুদসহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মুনা নিউ ইয়র্ক নর্থ জোনের শিক্ষা সম্পাদক মমিনুল ইসলাম মজুমদার।

শিকাগোয় নর্থ আমেরিকা বেঙ্গলি সম্মেলনের হোটেলে আগুন আতঙ্কে, হইচই কাণ্ড!

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়স অঙ্গরাজ্যের শিকাগোয় ৪৪তম নর্থ আমেরিকা বেঙ্গলি সম্মেলন চলছে। সেখানে যোগ দিতে টালিপাড়ার রথী-মহারথীরা আমেরিকায় হাজির হয়েছেন। এর মাঝেই ঘটল অঘটন। ঘড়িতে তখন ভোর সাড়ে পাঁচটা। হঠাৎ হোটেলে বেজে উঠল ফায়ার অ্যালার্ম। কেউ তখন গভীর ঘুমে, কেউ রাতের পার্টি সেরে শুয়েছেন। এর মধ্যেই হইচই কাণ্ড! ফায়ার অ্যালার্ম শুনে রীতিমতো আতঙ্কিত সবাই!
শিকাগোর পাঁচতারকা হোটেলে রয়েছেন শ্রাবন্তী, সোহিনী, স্বস্তিকারা। সেখানে ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের আয়োজন করেছে ‘নর্থ আমেরিকা বেঙ্গলি কনফারেন্স’। সেই অনুষ্ঠানেই শামিল হয়েছেন টলি তারকারা। রাত পোশাকেই হোটেল রুম থেকে বেরিয়ে প্রাণভয়ে দৌড়াচ্ছেন সবাই। ফায়ার অ্যালার্ম বাজতেই নিয়ম মেনে সিঁড়ি বেয়ে এক্সিট। লিফট ব্যবহার করা যাবে না। নিমেষেই সবাইকে নিয়ে যাওয়া হয় নিরাপদ স্থানে। মিনিটের মধ্যেই হাজির দমকল। সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সংবাদমাধ্যমকে অরিন্দম শীল জানান, গরম পোশাক গায়ে না জড়িয়েই পাঁচতলা হোটেল রুম থেকে নিচে নামেন তিনি। শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় থেকে সোহিনী—প্রাণ বাঁচানোর দৌড় দেন সবাই।
সৌরসেনী মৈত্র, অম্বরীশ ভট্টাচার্য, অর্জুন চক্রবর্তী, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, তনুশ্রী চক্রবর্তী, সোহিনী সরকার, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, উজান গঙ্গোপাধ্যায়, সুদেষ্ণা রায়, অরিন্দম শীলের মতো ব্যক্তিত্বরা এই মুহূর্তে রয়েছেন শিকাগোয়।

ঋষি সুনাক সপরিবারে পাড়ি জমাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রিটেনের নির্বাচনে ভরাডুবির দায় স্বীকার করে কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাজ চার্লস।
নির্বাচনে দলের ভরাডুবি হলেও ঋষি সুনাক রিচমন্ড এবং নর্থালারটনের এমপি হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন। তবে তিনি এখন কী করবেন সে সিদ্ধান্ত এখনো ঋষি সুনাকের হাতে বলেই জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
সংবাদমাধ্যমটি এক প্রতিবেদনে জানায়, গুঞ্জন রয়েছে, নির্বাচনে হারের পর ঋষি সুনাক যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সুনাকের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড রয়েছে এমন সংবাদও এর আগে প্রকাশ্যে এসেছিল। তবে তিনি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড তিনি রাখেননি।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ঋষি সুনাক এবং তাঁর স্ত্রীর অক্ষতা মূর্তির প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। সুনাক দম্পতি তাঁদের দুই কন্যাকে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি প্রাইভেট স্কুলে ভর্তি করাতে চান। ইতিমধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কলেজে উচ্চপ্রযুক্তিসম্পন্ন একটি কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনে এই দম্পতি ৩০ লাখ ডলারের অনুদান দিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই এমবিএ সম্পন্ন করেন সুনাক। এখানেই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় অক্ষতা মূর্তির। দাম্পত্য জীবনের শুরুতে তাঁরা ক্যালিফোর্নিয়াতেই ছিলেন। সেখানে সুনাক হেজ ফান্ডে (বিনিয়োগ সংস্থা) কাজ করতেন।
দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়ার পরে রাজনীতি থেকে সরে সুনাক অনেকটা ব্যবসায়ী জীবনেই ফিরে যেতে পারেন বলে অনেকের ধারণা। ধারণা করা হচ্ছে, প্রযুক্তি আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোনো ব্যবসায় যুক্ত হতে পারেন তিনি। যদিও সুনাক জোর দিয়ে বলেছিলেন, রিচমন্ড এবং নর্থালারটনের আসনটি ধরে রাখতে পারলে তিনি আগামী পাঁচ বছর এমপি হিসেবেই থেকে যাবেন।
৬৫০ আসনবিশিষ্ট ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ৪১২টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে লেবার পার্টি। যেখানে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ৩২৬টি আসনের প্রয়োজন। ১৪ বছর পর এই দল সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। কনজারভেটিভ পার্টি গত সংসদের তুলনায় ২৪৪টি আসন হারিয়েছে এবং নতুন সংসদে তাদের আসনসংখ্যা ১২১।

পুলিশ প্রহরায় অনুষ্ঠিত হলো বাফেলো বিএনপির আলোচনা সভা!

চরম হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার মাঝে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাফেলো বিএনপির আলোচনা সভা। গত ৩রা জুলাই, ২০২৪ রোজ বুধবার বাফেলো শহরের “লাভ বার্ড” রেস্ট্রুরেন্টের বেইজমেন্টে অনুষ্ঠিত হয় বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা।  

সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিউনিটির শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব জনাব নাজমুল ভূঁইয়া। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট্ বিএনপির সভাপতি অলিউল্লাহ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, প্রধান বক্তা ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেস্ট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সাঈদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন নিউইয়র্ক থেকে আগত স্টেট বিএনপির জেষ্ঠ্য সহসভাপতি জসিম উদ্দিন, জেষ্ঠ্য সহ সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান আরিফ, সাংগঠনিক সম্পদক মোহাম্মদ রইস উদ্দিন এছাড়া স্থানীয় বাফেলো সিটি বিএনপির আহবায়ক প্রার্থী যথাক্রমে: নাজমুল আলম, হাবিবুর রহমান হাবিব এবং সিরাজুদ্দৌলা বাবুলকেও বিশেষ অতিথির মর্যাদায় সম্মানিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন যৌথভাবে তরিকুল ইসলাম প্রিন্স মৃধা, সোহেল হাওলাদার এবং ইমতিয়াজ বেলাল। 

সভা অনুষ্ঠানের প্রথমেই নিউইয়র্ক স্টেট্ বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল বাসার, নিউইয়র্ক স্টেট্ বিএনপির সদ্য সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মতিউর রহমান লিটু, ব্রুকলিন বিএনপির সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সহ অনেক সম্মানিত নেতৃবৃন্দকে অসম্মান করায় উপস্থিত দর্শকরা অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অবশেষে আয়োজকরা আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে ওঠে তবে পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে পুলিশের প্রহরা দেয়া ছিল। 

ঢাকা মহানগর তাঁতীদলের সাবেক সদস্য সচিব আব্দুর রহিম, নিউইয়র্ক সিটি বিএনপি নেতা আবু জাফর ফরাজী, বাফেলো সিটি হলে কর্মরত বাংলাদেশী বংশদ্ভুত জাভেদ মোস্তফা, বাফেলো বিএনপি নেতা মেজবাহ উদ্দিন, বাফেলো বিএনপি নেতা ও এবিসিএইচ সংগঠনের সভাপতি তানভীর আহাম্মেদ, বাফেলো বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন, শামীম মিয়া, জাহাঙ্গীর সোহেল সহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।

দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি নিয়ে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় থাকা ত্রিধা বিভক্ত বাফেলো সিটি বিএনপির নির্ধারিত একটি সভা হওয়ার কথা ছিল গত ৩রা জুলাই, ২০২৪ রোজ বুধবার সন্ধ্যা ৯ ঘটিকার সময়। এই সভাটি সফল করার লক্ষ্যে তিন গ্রূপের তিনজন তিনজন প্রতিনিধি নিয়ে মোট ৯জন প্রতিনিধির সমন্বয়ে কাজ চলছিল প্রায় মাস খানেক ধরে। কোন কাজেই ঐক্যমত্য না হওয়ায় নিউইয়র্ক স্টেট্ বিএনপির নেতৃবৃন্দের নির্দেশক্রমে সভাটি বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছিল বলে জানা যায়। 

এদিকে ৪ঠা জুলাই আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সবাই একটা লম্বা ছুটিতে থাকবেন তাই নিউইয়র্ক স্টেট্ বিএনপি ওয়েস্ট গঠনের দাবিতে আন্দোলনরত ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্কে বসবাসরত বিএনপি নেতাকর্মীরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য বায়তুল মামুর জামে মসজিদে একটি দোয়া মাহফিলের ঘোষণা দেন ঠিক যেদিন সিটি বিএনপির সভা বাতিল ঘোষণা করা হয়।

যেহেতু বাফেলো বিএনপির সভা বাতিল করা হয়েছে তাই নিউইয়র্ক স্টেট্ বিএনপি ওয়েস্ট গঠনের সমন্বয়কারী জনাব মতিউর রহমান লিটু তার ফেইজবুক পেইজে নেতাকর্মীদের নতুন এই কর্মসূচি জানিয়ে দিয়েছিলেন। তার দাওয়াত জানানোর কয়েক ঘন্টার মধ্যে হঠাৎ করে ত্রিধা বিভক্ত বাফেলো সিটি বিএনপির একটি পক্ষ বিতর্কিত একটি পোস্টারের মাধ্যমে ঠিক একই সময়ে তারা আরেকটি অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। যেই সভাটি মূলত পুলিশ প্রহরায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিতর্কিত এই সভা ঘোষণার দায়িত্বে থাকা বাফেলো সিটি বিএনপির নেতৃবৃন্দরা জানান যে, বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য একই সময়ে নতুন আরেকটি সভার আহবান করা হয়েছে সরাসরি হাই কমান্ডার নির্দেশে। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক স্টেট্ বিএনপির বর্তমান সভাপতি ওয়ালিউল্লাহ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যে সেদিনের সভাটি বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার এইচ খোকনের সরাসরি নির্দেশে ডাকা হয়েছে। বিতর্কিত সেই পোস্টারে নিউইয়র্ক স্টেট্ বিএনপির নেতৃবৃন্দদের প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি হিসাবে সম্মোধন করা হলেও সভাপতি নিয়ে ছিল বিতর্ক। এমন পরিস্থিতিতে অর্থাৎ নিউইয়র্ক স্টেট্ বিএনপি ওয়েস্টের ঘোষিত সময় এবং তারিখ ঠিক রেখে হাই কমান্ডের নির্দেশে নতুন সভা আহবানের কারণে কমিউনিটিতে ব্যাপক বিতর্কের শুরু হয়।

অবশেষে নিউইয়র্ক স্টেট্ বিএনপির নেতৃবৃন্দকে সম্মান জানিয়ে জনাব মতিউর রহমান লিটুর নেতৃত্বধীন নিউইয়র্ক স্টেট্ বিএনপি ওয়েস্ট গঠন সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে তাদের আহুত সভাটি বাতিল করে সকল নেতাকর্মীকে আনোয়ার এইচ খোকন আহুত সভায় যাওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন। বিতর্কিত এই সভার শুরুতে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা হলেও পুলিশের উপস্থিতির কারণে বড় কোন অঘটন ঘটেনি। 

সভায় স্থানীয় বাফেলো সিটি বিএনপির নেতৃবৃন্দরা- কিভাবে, কখন কেমন করে বাফেলো সিটি বিএনপি গঠিত হয়েছিল সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। দাপ্তরিক অনুমোদিত না হলেও বাফেলো সিটি বিএনপির আহবায়ক সিরাজুদ্দৌলা বাবুল বলেন আমরা নিজেদের উদ্যোগে বাফেলো বিএনপি চালিয়েছি, কোন অনুমোদন পাইনি এটা সত্য কিন্তু ওই সময়ে নিউইয়র্ক স্টেট্ বিএনপিরও কোন অনুমোদন ছিলোনা। স্টেজে থাকা নিউইয়র্ক স্টেট্ বিএনপির সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক সেই বিষয়ে কোন ব্যাখ্যা না দিয়ে চুপ ছিলেন। এদিকে অন্য আহবায়ক প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব তার ছাত্র জীবনের রাজনীতির কিছু ইতিহাস তুলে ধরেন এবং অন্যপ্রার্থী নাজমুল আলম তার যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির রাজনীতির কিছু স্মৃতি তুলে ধরে নির্ধারিত বাকি সময় অতিথিদেরকে ছেড়ে দেন। নৈশভোজের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে। 

যমুনায় তীব্র ভাঙন, বিলীন ৮ শতাধিক বাড়িঘর

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে জেলার অভ্যন্তরীণ ফুলজোড়, করতোয়া, ইছামতি, হুড়াসাগর ও চলনবিলসহ নদ-নদীর পানি বেড়েই চলছে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে যাচ্ছে চরাঞ্চলের ফসলি জমি। যমুনার তীব্র ভাঙনে জেলার তিনটি উপজেলার প্রায় ৮ শতাধিক বাড়ি-ঘর ও হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে যমুনা পাড়ের মানুষের।
দ্রæত পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়ন, কাজিপুরের খাসরাজবাড়ী ইউনিয়নের সানবান্ধা ঘাট হতে বিশুরিগাছা ঘাট ও শাহজাদপুরের জালালপুর ইউনিয়নের পাঁচিল, হাটপাঁচিল, জালালপুর ও সৈয়দপুর গ্রামে তীব্র ভাঙন চলছে। গতকাল সকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, চলতি মৌসুমে যমুনা নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব অঞ্চলে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার কাজিপুর, সদর ও শাহজাদপুরে হাজার হাজার ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
কাওয়াকোলা ইউনিয়নের ভাঙন কবলিত আফসার আলী, সাধু ব্যাপারী, ছোলায়মান আলীসহ অনেকে বলেন, প্রতিদিনই বাড়ছে পানি। বেড়েই চলেছে ভাঙন।
দিনরাত একাকার হয়ে গেছে আমাদের। প্রতিটি রাত নির্ঘুম কাটছে আমাদের। কেউ কেউ ওয়াবদা বাঁধে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। মানুষজন গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে।
পাউবো’র অফিস সূত্র জানায়, যমুনা নদীর ভাঙন রক্ষায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী, জালালপুর ও খুকনী ইউনিয়নের এনায়েতপুর থেকে পাঁচিল পর্যন্ত নদীতীরের সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৪৭ কোটি টাকা। ২০২১ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের জুনে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ সমাপ্ত হয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশ। নির্দিষ্ট সময়ে বাঁধ নির্মাণ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ভাঙনের মুখে থাকা সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড় কয়রা কমিউনিটি ক্লিনিকটি নিলামে বিক্রির জন্য সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস প্রকাশ্যে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এছাড়া দু’টি মুজিব কেল্লা, সাড়ে ৪ কিলোমিটার পাকা রাস্তা, বর্ণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের মুখে রয়েছে। গতকাল বিকালে শাহজাদপুরের পাঁচিল গ্রামের কোবাদ মাস্টারের দোতলা ভবন নদীগর্ভে ধসে পড়েছে। এছাড়া বহু ঘরবাড়িও নদীতে ভেঙে পড়েছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে এসব পরিবারের মানুষ এখন নিঃস্ব।
সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান (জিয়া মুন্সী) বলেন, নদীভাঙনে জেলার মানচিত্র থেকে মুছে যেতে চলেছে কাওয়াকোলা ইউনিয়ন। ভাঙন রোধে পাউবো কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কাওয়াকোলা ইউনিয়নের হাট বয়ড়া, দৌগাছী, বড়কয়রা, ছোট কয়রা, কৈগাড়ী দড়তা, চণ্ডল বয়ড়া, বেড়াবাড়ী গ্রামে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। অনেক গ্রাম ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীতে চলে গেছে।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙনের কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড়কয়রা কমিউনিটি ক্লিনিক নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এ কারণে কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে নিলাম বিক্রির কমিটি গঠন করে প্রকাশ্যে নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। অপরদিকে, শাহজাদপুরের জালালপুর ইউনিয়নের ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পাকড়তলা গ্রামের লাল মিয়া ও পাঁচিল গ্রামের আলাউদ্দিন, কালাম শেখ, আয়নাল হকসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, চলতি মৌসুমে নদীভাঙনে এলাকার অন্তত ৫ শতাধিক ঘর-বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। বহু মানুষ অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় আমরা এখন ভূমিহীন। পাউবো’র ঠিকাদাররা যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করতো, তাহলে আমাদের এই সর্বনাশ হতো না।
জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী সুলতান মাহমুদ জানান, নদী ভাঙনে খুকনী, কৈজুরী ও জালালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত কয়েক বছরে জালালপুর ইউনিয়নের পাঁচ থেকে ছয়টি গ্রাম নদীতে বিলীন হয়েছে। ইতিমধ্যে এসব অঞ্চলের শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সিরাজগঞ্জের গেজ রিডার হাসান মামুন জানান, গত ২৪ ঘন্টায় যমুনা নদী শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে পানি ৪২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, নদীর পূর্বপাড়ে চর জেগে উঠার কারণে প্রকল্প এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য নদীতে খনন কাজ চলছে। ভাঙন রোধে কাজ করা হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় ভাঙন রয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকা চিহ্নিত করে জিও ব্যাগভর্তি বালির বস্তা ফেলা হচ্ছে।