বলিউড মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন এবং কলকাতা শহরটির মধ্যে অদ্ভুত একটা সম্পর্ক রয়েছে। কেননা, এই শহরতলি থেকেই তার যাত্রাপথ শুরু হয়েছিল। কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় পদচারণা ছিল এই কিংবদন্তী অভিনেতার। এক সময় কলকাতায় ঝালমুড়ি খেয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন।
কলকাতা শহরের সঙ্গে তার সম্পর্কের আরও বড় একটা দিক হলো তিনি এখানকার জামাই। জয়া বচ্চনের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর থেকে তাকে বাঙালিদের একজন হিসেবে মনে করা হয়। শহরের খাবার থেকে পোশাক, সবকিছুতেই তার বেশ দখল। এসব নিয়েই অমিতাভকে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন আমির খান।
অমিতাভের জন্মদিন উপলক্ষ্যে কৌন বানেগা ক্রোড়পতি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন আমির খান। সেখানে অমিতাভের প্রতি প্রশ্ন রেখে আমির খান বলেন, আপনি কলকাতায় যখন থাকতেন, সন্ধ্যায় কাজের পরে কী করতেন?
ইন্ডাস্ট্রিতে অ্যাংরি ইয়াং ম্যান নামে পরিচিত অমিতাভের নারী ফ্যান ছিল অনেক। প্রশ্নটি শুনেই যেন অদ্ভুত আচরণ করতে শুরু করলেন তিনি। কেন? প্রশ্ন শুনেই তিনি বলেন… হ্যাঁ, হুম। কিন্তু তাকে উত্তর দিতে দেখা যায় নি। কিন্তু, এটুকু পরিষ্কার, তিনি মজার ছলেই সবটা করেছেন।
অমিতাভের অনেক বড় ভক্ত আমির, সেখানে এর প্রমাণ পর্যন্ত দিয়েছেন তিনি। কীভাবে?
অমিতাভকে তিনি প্রশ্ন করেন, আপনি আপনার বিয়ের তারিখ বলতে পারবেন? এ প্রশ্নে যথারীতি সঠিক জবাব দেন অমিতাভ। কিন্তু আমির থামার পাত্র নন। তিনি সোজা বলে বসেন, আমার কাছে প্রমাণ আছে, এই দেখুন আপনার বিয়ের কার্ড। এটুকু দেখেই যেন আঁতকে ওঠেন অমিতাভ। বেশ অবাক হয়ে যান তিনি। এরপর আমিরকে প্রশংসায় ভাসান।
আমির খানের প্রশ্নবানে নাজেহাল অমিতাভ
অজয় দেবগন আসল সিংহাম নন, কাজল
রোহিত শেঠির ‘কপ ইউনিভার্স’-এর সিনেমা ‘সিংহাম’ দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন বলিউড অভিনেতা অজয় দেবগন। ২০১১ সালে সিংহাম মুক্তির বছর তিনেক পর আসে ‘সিংহাম রিটার্নস’। দশ বছর বিরতি দিয়ে এবার পর্দায় আসছে সিংহাম সিরিজের তৃতীয় সিনেমা ‘সিংহাম অ্যাগেইন’। আগামী ১ নভেম্বর মুক্তি পাবে এই সিনেমা।
এদিকে আগামী ২৫ অক্টোবর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে অজয় দেবগনের স্ত্রী অভিনেত্রী কাজল অভিনীত সিনেমা ‘দো পাত্তি’। এই সিনেমায় পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজল। তাই স¤প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে কাজলকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, অজয় নাকি তিনি-আসল সিংহাম কে।
সহজাত রসবোধ মিশিয়ে কাজলের সোজাসাপ্টা জবাব, ‘আমি আগেও বলেছি, আবারও বলব-আমিই আসল সিংহাম। আর আমি (পুলিশ চরিত্রে অভিনয়ের আগে) অজয়ের কাছ থেকে কোনো টিপসও নেইনি।’
প্রসঙ্গত, কাজলের মুক্তিপ্রতীক্ষিত দো পাত্তি সিনেমা নির্মাণ করেছেন শশাঙ্ক চতুর্বেদী। এই সিনেমা দিয়ে প্রযোজক হিসেবে অভিষেক হচ্ছে অভিনেত্রী কৃতি স্যাননের। কাজলের সঙ্গে সিনেমাতে অভিনয়ও করেছেন কৃতি।
রেখার সিঁদুর পরার রহস্য ফাঁস করেন দীপালি ইসার
বলিউড অভিনেত্রী রেখা মানেই তার জীবন বিতর্কে ভরা। তাকে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। ৬৯ বছরে কখনো নাম জড়িয়েছে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে। আবার কখনো সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে তার প্রেম নিয়ে হয়েছে চর্চা। জুটেছে ‘ঘরভাঙানি’ তকমা। তার চরিত্র নিয়ে চলেছে কদর্য কাটাছেঁড়াও।
রেখা মানেই তার জীবন বিতর্কে ভরা। তাকে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। ৬৯ বছরে কখনো নাম জড়িয়েছে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে। আবার কখনো সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে তার প্রেম নিয়ে হয়েছে চর্চা। জুটেছে ‘ঘরভাঙানি’ তকমা। তার চরিত্র নিয়ে চলেছে কদর্য কাটাছেঁড়াও। মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকে সাংসারিক অনটনের তাগিদে শো-বিজে ডেবিউ করতে হয়েছিল তাকে। এ হেন রেখা বিয়েও করেন। দিল্লির ব্যবসায়ী মুকেশ আগরওয়াল ছিলেন তার স্বামী। বিয়ের কিছু মাসের মধ্যেই যদিও আত্মহত্যা করেন মুকেশ। স্বামী মারা যাওয়ার পরেও রেখা সিঁদুর পরতেন। আজও সিঁদুর পরতে দেখা যায় তাকে! তা নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। ঋষি কাপুর ও নিতু সিংয়ের বিয়েতেও একমাথা সিঁদুর পরে হাজির হয়েছিলেন রেখা। সেই ঘটনা তো রীতিমতো দখল করেছিল পেজ থ্রির হেডলাইন। কেন আজও সিঁদুর পরেন রেখা? সে উত্তর দিয়েছিলেন নিজেই।
রেখার আত্মজীবনী লিখেছিলেন ইয়াসির উসমা। জানিয়েছিলেন নিতু-ঋষির বিয়েতে রেখার সিঁদুর নিয়ে যখন জোর চর্চা তখন মুখ খুলেছিলেন রেখা নিজেই। জানিয়েছিলেন, এক শুট করছিলেন, যে শুটে সিঁদুর ও মঙ্গলসূত্র পরতে হয়েছিল তাঁকে। সেখান থেকেই বিয়েবাড়িতে আসেন। তাড়াহুড়োতে নাকি মেকআপ তুলতে ভুলে গিয়েছেন তিনি। যদিও এই কারণ কারও কাছে সেভাবে বিশ্বাসযোগ্য হয়নি।
অন্যদিকে এক সাক্ষাৎকারে রেখা বলেন, যে শহরে আমার জন্ম সেখানে সিঁদুর ফ্যাশনের অংশ। আমার মনে হয় সিঁদুর পরলে আমাকে দেখতে ভালো লাগে। তাই নিজের জন্যই সিঁদুর পরি আমি। সিঁদুর আমাকে বেশ মানায়। এ তো গেল রেখার বয়ান। রেখার সিঁদুর পরা নিয়ে আসল বোমাটা ফাটান অভিনেতা পুনিত ইসারের স্ত্রী দীপালি ইসার।
সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি একবার বলেছিলেন, রেখা নাকি সিঁদুর পরেন অমিতাভ বচ্চনের জন্য। তাদের প্রেম যে ছিল, এ খবর তো সকলেরই জানা। তবে তারা বিয়ে করেছিলেন কিনা এ নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও সঠিক কোনো প্রমাণ আজ পর্যন্ত মেলে না। সে যাই হোক, বিতর্কে ভরা জীবন নিয়ে জীবনের ৬৯টা বসন্ত পার করে ফেলেছেন রেখা। তাকে নিয়ে মানুষের মনে আগ্রহে কিন্তু এতটুকু ভাটা পড়েনি।
ভারতীয় গোয়েন্দা তৎপরতা, তদন্তে ৪ স্পর্শকাতর বিষয় পেল কানাডা পুলিশ
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, ভারতীয় এজেন্টরা কানাডায় হত্যার ঘটনা যে ঘটিয়েছে, তা এখন প্রমাণিত। তবে ভারত এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে। তদন্তে কানাডার পুলিশ ভারতীয় গোয়েন্দাদের চারটি স্পর্শকাতর বিষয় জানতে পেরেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
কানাডা এবং ভারত দুই দেশই নিজেদের দেশ থেকে অন্য দেশের ছয়জন করে কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে। অর্থাৎ, কানাডা ছয় ভারতীয় কূটনীতিককে দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে। ভারতও পাল্টা একই কাজ করেছে কানাডার কূটনীতিকদের সঙ্গে।
কানাডার অভিযোগ, এক বছর আগে দেশটির শিখ নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জর খুনের ঘটনায় যে ভারতীয় এজেন্টরা জড়িত ছিল, তা এখন স্পষ্ট। তদন্তে বিষয়টি উঠে এসেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভারতের এই কাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বস্তুত, প্রমাণ হাতে আসার পরেই ছয় ভারতীয় কূটনীতিককে দেশের ফেরানোর নির্দেশ দেয় কানাডার প্রশাসন।
খালিস্তান অর্থাৎ, আলাদা শিখ রাষ্ট্রের জন্য আন্দোলন করছিলেন হরদীপ। তিনি কানাডার নাগরিক ছিলেন। গত বছর ভ্যানকুভারে তিনি খুন হন। প্রাথমিক তদন্তের পর তখনই কানাডা জানিয়েছিল, এই ঘটনার পেছনে ভারতীয় এজেন্টদের হাত আছে। রয়্যাল মাউন্টেড পুলিশের হাতে তখন তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, ওই ঘটনায় এবং ওই ধরনের আরও বেশ কিছু ঘটনায় ভারতীয় এজেন্টদের জড়িত থাকার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, একই দিন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো বলেছেন, ‘সার্বভৌম কানাডার মাটিতে হামলার ঘটনায় কূটনীতিক এবং এজেন্টদের ব্যবহার করে ভারত মস্ত বড় ভুল করেছে।’
তার কথায়, ‘রয়্যাল মাউন্টেড পুলিশের তদন্তে স্পষ্ট ওই ঘটনায় ভারতীয় কূটনীতিক এবং এজেন্টরা যুক্ত ছিল।’
ট্রুডো জানিয়েছেন, কানাডার মাটিতে কানাডার নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া তার প্রথম এবং প্রাথমিক কর্তব্য। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা তার কাজ। অন্য কোনো দেশ তার দেশে এসে হত্যার ঘটনা ঘটাবে, তা তিনি কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
অপরদিকে মাউন্টেড পুলিশের তদন্ত থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। একাধিক সহিংসতার ঘটনায় ভারতীয় এজেন্টদের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে। খুনের ঘটনায় তাদের সরাসরি সংযোগ মিলেছে। কানাডায় বসবাসকারী দক্ষিণ এশীয়দের ওপর থ্রেট তৈরি করা হয়েছে। কানাডার গণতান্ত্রিক সার্বভৌম চরিত্রে আঘাত করা হয়েছে।
এমনকি তদন্ত চলাকালীনও ভারতীয় এজেন্টরা কানাডার মাটিতে সক্রিয় ছিল এবং একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কানাডার মন্তব্য ভিত্তিহীন। ভারত বার বার তাদের কাছে তথ্যপ্রমাণ চেয়েছে। কিন্তু কানাডা এখনো পর্যন্ত তা দিতে পারেনি। রাজনৈতিক কারণে কানাডা এই মন্তব্য করছে বলেও অভিযোগ করেছে ভারত।
কানাডার পদক্ষেপের পাল্টা জবাব দিতে ভারতও সেদেশ থেকে কানাডার ছয় কূটনীতিককে শনিবারের মধ্যে দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
জাতিসংঘ তার কর্মীদের রক্ষা করতে পারে না, এটি লজ্জার: এরদোগান
লেবাননে জাতিসংঘ তার কর্মীদের ইসরাইলের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারছে না, বিশ্ব স¤প্রদায়ের জন্য এটি উদ্বেগজনক। এমন মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। সোমবার বিশ্বসংস্থাকে তেল আবিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহŸান জানিয়েছে তিনি।
সোমবার (১৪) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এরদোগান বলেন, ‘জাতিসংঘের ভাবমূর্তি, যেটি এমনকি নিজের কর্মীদেরও রক্ষা করতে পারে না, তা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য লজ্জা ও উদ্বেগের কারণ।”
তিনি আরও বলেন, ‘আসলে আমরাও অবাক হয়েছি যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইসরাইলকে থামানোর জন্য অপেক্ষা করছে’।
এরদোগান বলেন, আগ্রাসী মনোভাবের কারণে এই অঞ্চল ‘ইসরাইলের আগুন জ্বলেছে।
তার ভাষ্য, লেবাননে ইসরাইলের সা¤প্রতিক আক্রমণ আবারও প্রমাণ করেছে আমাদের উদ্বেগ কতটা যৌক্তিক’। একইসঙ্গে ইসরাইলের উচ্চাকাক্সক্ষা সম্পর্কে তেল আবিবকে সতর্ক করেছেন এরদোগান।
লেবাননে জাতিসংঘের মতে, ইসরাইলি ট্যাঙ্ক রোববার শান্তিরক্ষী ঘাঁটিতে বিস্ফোরিত হয়। এটি শান্তিরক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে ইসরাইলি লঙ্ঘনের সর্বশেষ ঘটনা।
তুর্কি নেতা বলেন, ‘ইউএনআইএফআইএলকে আক্রমণ ও হুমকি দেওয়ার জন্য ইসরাইলি সরকারের বর্বরতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। যারা এখনো কিছু দেখছে না তাদের জন্য বোধোদয়ের বার্তা’।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদ লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের (ইউএনআইএফআইএল) বিরুদ্ধে ইসরাইলের ‘দস্যুতা’ কর্মকাণ্ডকে শুধুই দেখে যাচ্ছে। জাতিসংঘের তৎপরতাকে ‘নপুংসকতা’ বলে অভিহিত করেন এরদোগান।
ট্রাম্প-কমলা কাউকেই ভোট না দেওয়ার ঘোষণা আরব আমেরিকান কমিটির
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বাড়ছে উত্তেজনা। চলছে পাল্টাপাল্টি হুমকি আর হামলা। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্পÑ কাউকেই সমর্থন না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দ্য আরব আমেরিকান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (অ্যাপ্যাক)।
গাজা ও লেবানন যুদ্ধে ‘অন্ধ সমর্থনে’র কারণে গতকাল সোমবার তাঁদের ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দেয় ওই কমিটি।
আরব আমেরিকান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘উভয় প্রার্থী গাজা ও লেবানন যুদ্ধে গণহত্যাকে সমর্থন দিয়েছেন। আমরা ডেমোক্রেটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিস বা রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প কাউকেই ভোট দিতে পারি না। তাঁরা অন্ধভাবে ইসরায়েলের অপরাধী সরকারকে সমর্থন দিচ্ছেন।’
আগামী ৫ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এবারই প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন না দেওয়ার কথা জানাল গ্রপটি। এটি সাধারণত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীকে সমর্থন দেয়।
বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনী লড়াই চলছে। কেউই কারও থেকে পিছিয়ে নেই। আরব ও মুসলিম আমেরিকানরা ২০২০ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ব্যাপক সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন তাঁরা। এ ধারাবাহিকতায় এবার তাঁরা ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অতীতের বিভিন্ন মন্তব্য এবং ক্ষমতায় থাকাকালে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় ট্রাম্পের প্রতি মুসলমানদের সমর্থন নজিরবিহীনভাবে কমে গেছে। কমলা ও বাইডেনের মতো ট্রাম্পও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইসরায়েলকে সমর্থন দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকেরা বলেছেন, আরব ও মুসলিম আমেরিকানরা ভোট না দিলে কমলা হ্যারিসের জয়ের সম্ভাবনা ম্লান হয়ে যেতে পারে। এসব স¤প্রদায়ের যারা গাজা ও লেবানন যুদ্ধে স্বজন হারিয়েছেন, তাঁরা সমর্থকদের ট্রাম্প ও কমলাকে ভোট না দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন।
১৫ বছরে টাকার কুমির হয়েছেন শামীম ওসমান
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান আলোচিত-সমালোচিত মুখ। তার নির্বাচনি এলাকা ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জকে নববধূর মতো সাজানোর ঘোষণা দিলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি তেমন কোনো কাজই করেননি। তার সংসদীয় এলাকা বছরজুড়েই পানিতে ডুবে থাকে। রাস্তাঘাটের অবস্থাও ভালো নয়। এলাকার অধিকাংশ রাস্তা খানাখন্দে ভরা। সংসদীয় এলাকায় তেমন কোনো উন্নয়ন করতে না পারলেও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ফুলেফেঁপে টাকার কুমির বনেছেন শামীম ওসমান। নিজ ও নিজের পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা জমিয়েছেন। দেশ ও দেশের বাইরে রয়েছে তার বিশাল ব্যবসাবাণিজ্য। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলতেন- ‘দুই আর দুই’ মিলে অনেকে চার বললেও আমি দেখি ২২। কারণ আমি আগে থেকেই অনেক কিছু অনুমান করতে পারি। সেই বক্তব্য দেওয়া শামীম ওসমান আওয়ামী লীগের নিষ্ঠুর পতন হবে, সেটা তিনি বুঝতে পারেননি। সেই সঙ্গে তাকেও দেশ ছেড়ে পালাতে হবে সেটাও উপলব্ধি করতে পারেননি।
ডুবন্ত জনপদের নেতা : ফতুল্লা এলাকায় বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার সমস্যা দীর্ঘদিনের। ডিএনডি বাঁধের ভিতরে সেনাবাহিনীর তত্ত¡াবধানে মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে। এ কাজ শেষ হলে বাঁধের ভিতরে জলাবদ্ধতা কমে যাবে। দৃষ্টিনন্দন হবে ডিএনডি বাঁধের ভিতরের এলাকা। কিন্তু বাঁধের বাইরেও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয় তীব্র জলাবদ্ধতা। অনেক এলাকায় বছরজুড়েই থাকে কৃত্রিম বন্যা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর এ সমস্যা থাকলেও সেগুলো সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেননি শামীম ওসমান। তাই প্রভাবশালী শামীম ওসমানকে বলা হতো ডুবন্ত জনপদের নেতা। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের অন্যতম শিল্পাঞ্চল ফতুল্লার বিসিক। এখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কয়েক হাজার এবং শ্রমিকের সংখ্যা কয়েক লাখ। প্রতি বছর এ অঞ্চল থেকে সরকার কোটি টাকা রাজস্ব পায়। অথচ এ অঞ্চলে কর্মরত শ্রমিকদের দুর্ভোগের শেষ নেই। ডায়িংয়ের কেমিক্যাল মিশ্রিত বিষাক্ত পানি মাড়িয়েই কর্মক্ষেত্রে যেতে হয় কয়েক লাখ শ্রমিককে। এ ব্যাপারেও উদাসীন ছিলেন শামীম ওসমান। ২০২৪ সালে হলফনামায় শামীম ওসমান নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার মোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পাঁচটি। জ্বালানি তেল আমদানি পরিবহন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জেড এন করপোরেশন, জেড এন শিপিং লাইনস লিমিটেড, মাইশা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড, খান ব্রাদার্স ইনফোটেক ও উইসজম নিটিং মিলসকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিগত দিনে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে দুদকের দুটি মামলাসহ ১৭টি মামলা দায়ের হয়েছিল যার মধ্যে কয়েকটি মামলা হাই কোর্ট কর্তৃক স্থগিত রয়েছে ও বেশ কিছু মামলা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং কয়েকটিতে তিনি বেকসুর খালাস পেয়েছেন।
সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম : শামীম ওসমান প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, স্বৈরশাসকের চারণভূমি ছিল নারায়ণগঞ্জ। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনার সমর্থনেই শামীম ওসমান গডফাদার হয়েছিলেন। তার বিশাল বাহিনী ছিল যারা অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত থাকত। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ও তার অস্ত্রের মহড়া নারায়ণগঞ্জবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। তার কাছে নিজ দলের লোকজনও জিম্মি ছিল। আর এ বিষয়টি শেখ হাসিনাও জানতেন, কিন্তু শামীম ওসমানকে ব্যবহারের জন্য কেউ কিছু বলত না। বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর সীমাহীন নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়েছেন শামীম ওসমান। সব মিলিয়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল নারায়ণগঞ্জে। তিনি আরও বলেন, শামীম ওসমান এলাকায় কোনো উন্নয়ন কাজ করতে পারেননি। আমরা শুধু শুনেছি তিনি এ কাজ নিয়ে এসেছেন সেই কাজ নিয়ে এসেছেন। কিন্তু আমরা কোনো উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করছি না। যদি তিনি উন্নয়ন কাজ করতেন তাহলে বর্তমানে কোনো সমস্যা থাকত না। আমাদের ধারণা যে বরাদ্দ এনেছেন সেগুলো কাজ না করেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
শহিদ আবু সাঈদ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রথম শহিদ আবু সাঈদ ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি শহিদ হওয়ার ৯০ দিন পর নিবন্ধনের ফলাফল প্রকাশ হলো। ফলাফল পেয়ে তার বাবাসহ পরিবারের সবাই আবেগাপ্লুত। বিশেষ করে ছোট বোন সুমি খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়েন।
জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। ১৬ জুলাই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামের আবু সাঈদ। তার মৃত্যুতে দেশের ছাত্র-জনতা আওয়ামী সরকারের পতনের এক দফার দাবিতে রাজপথে নামেন। একপর্যায়ে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়। অপরদিকে অসচ্ছল পরিবারের সন্তান আবু সাঈদ চাকরির জন্য ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত পরীক্ষা-২০২৩ এ ইবতেদায়ি সাধারণ শিক্ষক হিসাবে অংশ নেন। তার রোল ছিল ২০১২৫৬২৯৭। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত লিখিত পরীক্ষার ফলাফলে আবু সাঈদ কৃতকার্য হয়েছেন। এ ফলাফল পেয়ে তার বৃদ্ধ বাবা-মা, পরিবারসহ পুরো গ্রামের মানুষ আফসোস করছেন। অসচ্ছল পরিবারের সর্বোচ্চ শিক্ষিত ছিলেন আবু সাঈদ। আর তাকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখত তার পরিবার। আন্দোলনে শহিদ হওয়ায় তার পরিবারের মনোবাসনা অধরাই রয়ে যাওয়ায় তারা বুক চাপড়াচ্ছেন।
আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন বলেন, ‘আমার ভাইটার খুব মেধা ছিল। ওর ওপর আব্বা খুব আশাবাদী ছিল। কিন্তু কোটা আন্দোলন আমাদের স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে। তবে আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হওয়ায় দেশবাসী নিষ্কৃতি পেয়েছে। আমরাও সেদিক দিয়ে খুশি।’
বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার অনেক কয়জন সন্তান। অর্থের অভাবে তাদেরকে লেখাপড়া করাতে পারিনি। কিন্তু আবু সাঈদের মধ্যে পড়ার খুব আগ্রহ ছিল। সে নিজেই টাকা রোজগার করে পড়াশোনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। তাকে নিয়ে আমার খুব আশা ছিল। কিন্তু সে আশা আমার শেষ। আমিও আর আগের মতো কাজ করতে পারি না।’
বেরোবির ভিসি অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, ‘আবু সাঈদ যে মেধাবী ছিল, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় তার মেধার স্বাক্ষর রেখেছে। কিন্তু আবু সাঈদ জীবদ্দশায় তা দেখতে পারল না। তার আত্মত্যাগের মূল্য আমরা তাকে দিতে পারব না। তবে তার জন্য দোয়া করছি।’
বিশ্বকাপ থেকে ভারতের বিদায়, সেমিতে নিউজিল্যান্ড
পাকিস্তানকে ৫৬ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৮ বছর পর সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড। ৫৪ রানে পাকিস্তানের পরাজয়ে কপাল পুড়ল ভারতেরও। তারাও পাকিস্তানের মতো বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল।
ভারতের সেমি-ফাইনালে যাওয়া নির্ভর করছিল পাকিস্তানের জয়ের ওপর। নিউজিল্যান্ড ও ভারতকে টপকে শেষ চারে উঠতে পাকিস্তানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলতে হতো ১১.৩ ওভারে।
টি-টোয়েন্টিতে টানা ১০ ম্যাচ হেরে এই টুর্নামেন্টে পা রেখেছিল নিউজিল্যান্ড। সেই তারাই এশিয়ার তিন দল ভারত, শ্রীলংকা ও পাকিস্তানকে হারিয়ে পৌঁছে গেল সেমিফাইনালে। গ্রপপর্বে তারা হারে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
গত তিনটি আসরে নিউজিল্যান্ড বিদায় নিয়েছিল গ্রæপপর্ব থেকে। প্রথম দুই আসরে রানার্সআপ হওয়া দলটি পরে দুইবার সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয় ২০১২ ও ২০১৬ সালে।
সোমবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ড আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে করে ১১০ রান। নিউজিল্যান্ডকে আরও কম রানে থামাতে পারত পাকিস্তান, কিন্তু তারা ৮টি ক্যাচ ফেলে দিয়েছে। টার্গেট তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ১১.৪ ওভারে ৫৬ রানেই অলআউট হয়।
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর। এর আগে ২০১৮ সালের আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৪৬ রান অলআউট হয়েছিল।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও কোনো দলের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন এটি। এখানেও সবার ওপরে বাংলাদেশ, ২০২২ সালে ক্রাইস্টচার্চে ৩২ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল তারা।
এই সংস্করণে পাকিস্তানের আগের সর্বনিম্ন ছিল ৬০, ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
বাবার মৃত্যুশোক নিয়ে মাঠে পাকিস্তান অধিনায়ক
বাবার মৃত্যুশোককে সঙ্গী করেই মাঠে নেমেছিলেন পাকিস্তানের নারী দলের অধিনায়ক ফাতিমা সানা। টুর্নামেন্টের মাঝপথেই বাবাকে হারিয়েছেন এই তারকা পেসার।
বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে দেশে ফিরে যান ফাতিমা সানা। যে কারণে পাকিস্তানের আগের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলতে পারেননি। গতকাল সোমবার সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার জন্য মাঠে ফিরেন সানা।
এদিন দলকে নেতৃত্বও দিলেন। মাঠে ভাইরাল হয় তার একটি ছবি। মাঠে ফিরেই প্রয়াত বাবার জন্য কেঁদে ফেললেন সানা। কান্নাভেজা চোখেই দেশের হয়ে কর্তব্য পালন করলেন।
পাকিস্তানের হার ছাপিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে ফাতিমা সানার এমন নিবেদন।
ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সময় ২২ বছর বয়সি পাকিস্তানের তারকা পেসারকে দেখা যায় আবেগী হয়ে পড়েছেন। নিজের বাবার মৃত্যুর শোক গোপন করতে পারলেন না তিনি। টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সে ছবি। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন সানা। দেশের প্রতি তার নিষ্ঠার প্রশংসা করেন নেটিজেনরা।
সেমিফাইনালে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে সোমবারের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জিততেই হতো পাকিস্তানকে। ১১১ রানের টার্গেট পার করতে হতো ১১.৩ ওভারে। তবে কিউই নারীদের কাছে সেই ম্যাচটাও হেরেই গেল পাকিস্তান। সেই সঙ্গে সেমিফাইনালের দৌড় থেকে পাকিস্তানের পাশাপাশি ছিটকে গেল ভারতও।


