Home Blog Page 551

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর পর স্বৈরাচার সরকারের পতনের প্রতিষ্ঠিত বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হলো নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে রোববার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির কিউ গার্ডেনের আগ্রা প্যালেসে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রবাসী বাংলাদেশী সাংবাদিক, ক্লাব সদস্য আর কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো শুভেচ্ছা বিনিময়, ক্লাবের নতুন সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ, সংক্ষিপ্ত বক্তব্য, সঙ্গীত আর নৈশভোজ। খবর ইউএনএ’র।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মু. ফখরুল ইসলাম মাসুম। এরপর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পর বিশ্বে নিহত সকল সাংবাদিকদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজক কমিটির আহŸায়ক ডা. ওয়াজেদ এ খান। পরবর্তীতে ক্লাবের নতুন উপদেষ্টামন্ডলী ও নতুন সদস্যদেরকে পরিচয় করিয়ে দেন ক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম। তাদের ফুল দিয়ে বরণ করেন সাবেক সভাপতি আবু তাহের ও ডা. ওয়াজেদ এ খান, সিনিয়র সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন, ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম মজুমদারসহ কার্যকরী কমিটির সদস্যবৃন্দ।

NYB Press Club Anniversary 13 Oct 2024 Pic 01 edited

এরপর ক্লাবের উপদেষ্টা, কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্য থেকে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা মনজুর আহমদ, মাঈনুদ্দীন নাসের, মাহমুদ খান তাসের ও এবিএম সালেউদ্দিন, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক সভাপতি আবু তাহের, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক সহ সভাপতি রিমন ইসলাম, ক্লাব সদস্য ড. কনক সারোয়ার, ইমরান আনসারী, ফরিদ আলম ও শেখ খোরাশান এবং নতুন সদস্যদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন ইলিয়াস হোসেন।
এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্য থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আবু জাফর মাহমুদ, বাংলাদেশ সোসাইটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জামাল আহমেদ জনি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মূলধারার রাজনীতিক গিয়াস আহমেদ, কুইন্স ডেমোক্র্যাট পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লীডার এট লার্জ এটর্নী মঈন চৌধুরী, অ্যাসাল-এর ন্যাশনাল সভাপতি মাফ মিসবাহ উদ্দিন, ‘বøাক ডায়মন্ড’ খ্যাত জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী বেবী নাজনীন, যমুনা টিভি’র বিশেষ প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ তুহিন, বিশিষ্ট রাজনীতিক এএসএম রহমতউল্লাহ ভূইয়া, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতাকারী ‘রুহুল-জাহিদ’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী রুহুল আমীন ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী জাহিদ মিন্টু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন সরকার ও কার্যকরী পরিষদ সদস্য রওশন হক।

NYB Press Club Anniversary 13 Oct 2024 Pic 04 edited

স্বাগত বক্তব্যে ডা. ওয়াজেদ এ খান ক্লাব প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূরধা, ঢাকাস্থ জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মরহুম ফাজলে রশীদকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে ক্লাব প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সংক্ষেপে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেল, বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশন চ্যানেলের নিউইয়র্ক প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে কর্মরত পোশাজীবি সাংবাদিকদের প্রাণের সংগঠন। সাংবাদিকতার গুণগত মানোন্নয়ন, সাংবাদিকদের মাঝে পারষ্পারিক সৌহার্দ্য সম্প্রীতি বৃদ্ধি ও স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটির সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০০৮ সালে ক্লাবটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, প্রেসক্লাব সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকতার জগতে হয়তো কোন পরিবর্তণ আনতে পারবে না। কিন্তু সমাজ ও সভ্যতায় পরিবর্তনের কারিগরের ভূমিকা পালনকারী সাংবাদিকদের কাতারে শামিল হয়ে সংগঠনটি এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, সকল সাংবাদিকের আদর্শ ও উদ্দেশ্য এক এবং অভিন্ন। সাংবাদিকেদের মাঝে প্রতিযোগিতা থাকবে। তবে তা হবে সুস্থ, সুন্দর এবং সৃজনশীল। এটাই হোক নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূলমন্ত্র।’
প্রসঙ্গত ডা. ওয়াজেদ এ খান বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্বর্তী সরকার প্রধান, শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার জয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস একসময় নিউইয়র্ক সফরকালীন সময়ে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠানেও যোগ দিয়েছিলেন। আমরা তাঁকে নিয়ে গর্ব করতে পারি। তিনি বলেন, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব সকল দল ও মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। পেশাদার সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ক্লাবের সকল সদস্য ঐক্যবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে কোন কোন বক্তা আতœসমালোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ায় প্রবাস থেকে ভ‚মিকা রাখার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহবান জানান। বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরাও রাজনীতির উর্দ্বে নন, কিন্তু ‘দলকানা সাংবাদিকতা’ দেশ-জাতি আর রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর নয়। তাই দেশ ও প্রবাসের সাংবাদিকদের রাজনীতিমুক্ত থাকাই শ্রেয়।
অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, সাপ্তাহিক নিউইয়র্ক সময় সম্পাদক জাকারিয়া মাসুদ জিকো, সাপ্তাহিক রানা’র সম্পাদক জয়নাল আবেদীন ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য সাঈদ তারেক, জয়বাংলা টিভি’র আদিত্য শাহীন, সাপ্তাহিক সাদা-কালো’র নির্বাহী সম্পাদক আবুল কাশেম, সাংবাদিক সৌরভ ইমাম, বাংলাদেশী-আমেরিকান এডভোকেসী গ্রæপ (বাগ)-এর সভাপতি জয়নাল আবেদীন ছাড়াও আজিজুল হক, আব্দুল হামিদ সোহেল, আব্দুস সাত্তার, আমিন খান মেহেদী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রকি আলিয়ান, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট দেলোয়ার হোসেন শিপন, দেওয়ান কাউসার, মনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও প্রেসক্লাবের সদস্যরা সপরিবারে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে এককভাবে মনোমুদ্ধকর সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী মারিয়া মরিয়ম।
উল্লেখ্য, ক্লাবের নতুন সদস্যরা হলেন: ইলিয়াস হোসাইন (ইটিভি), ইকবাল মাহমুদ (টাইম টিভি), মুশফিকুর রহমান অন্তু (জেটিভি), মোহাম্মদ ফারুক হোসাইন (টাইম টিভি), হুমায়ুন কবীর (টাইম টিভি), ফাহমিদা আলম লিনা (আইবি টিভি), আবু সায়েম (সাপ্তাহিক আজকাল) এবং অপূর্ব বাবু (আইটিবি টিভি)।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ রশীদ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ইলিয়াস খসরু, অফিস ও প্রচার সম্পাদক মাহাথীর খান ফারুকী, কার্যকরী সদস্য এস এম জাহিদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।

প্রথমবার দেবীবরণ করে যা বললেন স্বস্তিকা

০

এবারের পূজা নিয়ে কোনো উত্তেজনা ছিল না। পূজাটা যেন নিমেষেই কেটে গেল। এভাবেই যেন এবারের পূজাটা হওয়ার ছিল বলে জানিয়েছেন টালিউড অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্ত।
পূজার কাজ নিয়ে মেতে ছিলেন তিনি। কখনো পূজা পরিক্রমা, কখনো আবার কোনো ব্র্যান্ডের হয়ে প্রচার। অবশেষে দশমীতে নিজের জন্য পূজামণ্ডপে গেলেন এ অভিনেত্রী। জীবনে প্রথমবার দেবীবরণ করলেন স্বস্তিকা দত্ত। সে কথা জানালেন আনন্দবাজারের এক সাক্ষাৎকারেÑআমি এখনো দেবীবরণ করার ঘোর থেকে বেরোতে পারিনি। কিন্তু এবার দেবীবরণ করার সিদ্ধান্ত কেন?এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বস্তিকা বলেন, এ বছর মায়ের থেকে একটু বেশি শক্তি দরকার। একটু বেশি আশীর্বাদ ও ভালোবাসা দরকার। তিনি বলেন, যত বড় হচ্ছি, নিজের ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধও বাড়ছে। সে জন্যই মায়ের হাতটা মাথার ওপর দরকার। হঠাৎই ঠিক করলাম মাকে বরণ করব। কোনো পরিকল্পনা ছিল না। পরিকল্পনা করে আমি যা-ই করি, সেগুলো ভেস্তে যায়। তবে এ বরনের অনুভূতি অসাধারণ। গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল।
নিয়মানুযায়ী দেবীকে বরণ করেন সধবা নারীরা। তবে গত কয়েক বছরে সেই ছক ভেঙেছেন বহু নারীই। স্বস্তিকাও সেই পথেই হাঁটলেন। অভিনেত্রী বলেন, প্রথমে একটু অদ্ভুত লাগছিলÑ সব বিবাহিত নারীর মধ্যে আমি একা। কিন্তু তেমন কোনো অস্বস্তি নেই। ইচ্ছে ছিল বরণ করার। করেছি। তিনি বলেন, নিয়ম বিরুদ্ধ অনেকেই বলতে পারেন। তবে নিয়ম মেনে কে কী করছেন, সেটি সবাই দেখতে পাচ্ছেন।
স্বস্তিকা দত্ত বলেন, ঈশ্বরের কাছে পৌঁছাতে মানুষের তৈরি করা নিয়ম ভাঙতে আর কী! বিবাহিত হলেই শুধু বরণ করতে পারিÑ এটা আমি বিশ্বাস করি না।
স্বস্তিকার বলেন, নারী স্বাধীনতার প্রতীক সিঁদুর খেলা। এর জন্য বিবাহিত বা সধবা নারী হতেই হবে এর কোনো মানে নেই। তিনি বলেন, মা দুর্গা তো যুদ্ধ করেছিলেন। নারীশক্তির জয়কে সিঁদুর খেলার মাধ্যমে আমরা উদযাপন করি। এই লাল রঙটাকে আমরা খুব পবিত্র হিসাবে মানি। আসলে এই বাঁধা গতের ধারণাগুলো বাদ দেওয়া প্রয়োজন। আমি যেটা ঠিক মনে হয় সেটাই করি। আর নাম থাকলে বদনামও হবে।
দেবী দুর্গার পূজা করলেও নিজের জন্য তেমন কিছু চাইতে পারেননি বলে জানান স্বস্তিকা দত্ত। প্রতিমার সামনে গিয়ে অপলক দৃষ্টিতে কেবল তাকিয়ে ছিলেন তিনি। অভিনেত্রীর বলেন, আমি নিজের জন্য কিছু চাইতে পারি না সঙ্গে সঙ্গে। হয়তো চাওয়ার অনেক কিছুই আছে। কিন্তু সেই সময়ে স্তব্ধ হয়ে যাই।

সাইফ-কারিনার প্রেমের কথা শুনে চোখ কপালে কারিশমার

০

বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খান ও অভিনেত্রী কারিনা কাপুর দম্পতিকে নিয়ে আলোচনা চলছেই।তাদের অসম প্রেম বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব আলোচনায় সব সময়ই হচ্ছে।
স¤প্রতি কপিল শর্মা শোতে প্রশ্ন করা হয়Ñ সাইফের সঙ্গে কারিনা কাপুরের সম্পর্কে জড়ানোর খবর কি জানতেন বড় বোন কারিশমা কাপুর? এমন প্রশ্নের মুখে পড়েন অভিনেত্রী। সেখানে কারিশমা বলেন, সাইফ আলি খানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের কথা মুঠোফোনে কারিনার কাছ থেকে জানতে পারেন তিনি।
সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কারিশমা কাপুর বলেন, মুঠোফোনে কারিনা আমাকে কিছু বলতে চায়। তার আগে আমাকে কোথাও বসতে বলে। তখন আমি সেই সময় মার্কেটে ছিলাম। কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম না, কেন আমাকে বসতে হবে? তিনি বলেন, যাই হোক ওই সময়ে লন্ডনে আমি মার্কেটে কেনাকাটা করছিলাম। তারপর একটি সোফা খুঁজে নিয়ে বসে পড়ি!
এ অভিনেত্রী বলেন, কারিনার কথা শুনে চোখ কপালে উঠে যায় আমার। কারিশমা বলেন, কারিনা বলছিলÑবিষয়টি হলো, আমি সাইফের প্রেমে পড়েছি। আমরা একসঙ্গে আছি। আমরা ডেট করছি।
এ কথা শুনেই আমি হতবাক। শক্ত করে সোফা ধরেছিলাম। কারণ সাইফ আমার বন্ধু এবং আমার সহ-অভিনেতা ছিল, তাই না?
এদিকে কারিনা প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর পরপরই লিভইন করার প্রস্তাব দেন সাইফ আলি খান। কিন্তু কারিনা সাফ জানিয়ে দেনÑ এ ব্যাপারে তার মায়ের (ববিতা কাপুর) কাছে অনুমতি নিতে হবে। ব্যস! কোনো ভণিতা না করে সোজা কারিনার মায়ের কাছে ছুটে যান সাইফ আলি খান এবং সম্পর্কের কথা সুন্দরভাবে কারিনার মাকে বলেন। শুধু তাই নয়, কারিনার সঙ্গে একসঙ্গে থাকার অনুমতিও চেয়েছিলেন বলে জানান কারিনা কাপুর।।
এ বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে কারিনা কাপুর বলেছিলেন, ‘সাইফ মাকে বলেছিলÑ আমরা বাকি জীবনটা একসঙ্গে কাটাতে চাই। মা সব শুনে কোনো দ্বিরুক্তি করেননি; বরং রাজি হয়ে যান।’
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে বিয়ে করেন বলিউড অভিনেতা নবাব সাইফ আলি খান ও অভিনেত্রী কারিনা কাপুর। তাদের রয়েছে দুই সন্তানÑ প্রথম সন্তান তৈমুর আলি খান ২০১৬ সালে জন্ম নেয়। দ্বিতীয় সন্তান জাহাঙ্গীর (জেহ) ২০২১ সালের ২১ ফ্রেব্রæয়ারি জন্ম নেয়।
এর আগে নবাব সাইফ আলি খান বলি অভিনেত্রী অমৃতা সিংকে বিয়ে করেছিলেন। সে ঘরেও তাদের দুই সন্তান রয়েছে। ছেলে ইব্রাহিম আলি খান ও মেয়ে সারা আলি খান। তবে তাদের বিবাহবিচ্ছেদের দীর্ঘদিন পর কারিনা কাপুরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান অভিনেতা সাইফ আলি খান। ২০০৭ সালে ‘টশান’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় একে অন্যের প্রেমে পড়েন এ জুটি। এর পর দীর্ঘ পাঁচ বছর লিভইন সম্পর্কে ছিলেন সাইফ-কারিনা। পরে ১২ সালে বিয়ে করেন তারা।

প্রথমবারের মতো বিপিএলের ড্রাফটে শাকিব খান

শুরু হয়েছে বিপিএলের একাদশ আসরের প্লেয়ার্স ড্রাফট। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে শুরু হয়েছে এই ড্রাফটের কার্যক্রম। এর আগেই দেশি ও বিদেশি খেলোয়াড়দের মূল্যতালিকা এবং ক্যাটাগরি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো বিপিএলের ড্রাফটে অংশগ্রহণ করেছেন ঢাকা ক্যাপিটালসের কর্ণধার নায়ক শাকিব খান।
ড্রাফটের লড়াই জমিয়ে তুলতে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের পাশাপাশি উপস্থিত আছেন দলের অধিনায়ক বা আইকন ক্রিকেটাররা। তবে এবার নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে বিসিবি। এবারে ড্রাফট মাতাতে এসেছেন দেশসেরা ঢালিউড অভিনেতা শাকিব খান। তার সঙ্গে রয়েছেন আরেক জনপ্রিয় চিত্রনায়ক মামনুন হাসান ইমন।
এবারের আসরে ঢাকার ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা কিনেছে শাকিব খানের প্রতিষ্ঠান রিমার্ক হারল্যান। এরই মধ্যে দলটির নাম ঘোষণা করেছেন তারা। এবারের বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালস নামে অংশ নিচ্ছে দলটি।
এ ছাড়া ড্রাফটে উপস্থিত হয়েছেন বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবাল খান, খুলনার আফিফ হোসেন ধ্রুব, রংপুরের নুরুল হাসান সোহান।
এবারের আসরে ড্রাফটের আগেই একজন ক্রিকেটারকে সরাসরি চুক্তি এবং দুজনকে রিটেইন করার সুযোগ পেয়েছেন পুরোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিরা। আর সরাসরি চুক্তিতে তিনজন ক্রিকেটারকে দলে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে নতুন তিন ফ্র্যাঞ্চাইজি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের পছন্দের ক্রিকেটারদের সরাসরি চুক্তিতে দলে ভিড়িয়েছে। আর বাকি ক্রিকেটারদের ড্রাফট থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
ছয় ক্যাটাগরিতে ১৮৮ জন স্থানীয় ক্রিকেটারের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। দেশি ক্রিকেটারদের জন্য ‘এ’ শ্রেণির সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্লেয়ার্স ড্রাফটে ৪৪০ জন বিদেশি ক্রিকেটারের নাম উঠেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ডলার বা বর্তমান মুদ্রামান অনুযায়ী সাড়ে ৮৩ লাখ টাকা মূল্যের ‘এ’ ক্যাটাগরিতে আছেন ২০ ক্রিকেটার। এ ছাড়া আরও চারটি ক্যাটাগরিতেও আছে বিদেশি ক্রিকেটারদের নাম।
এবার ক্যাটাগরি ‘এ’-তে থাকা ক্রিকেটারদের মূল্য কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা এর আগে ছিল ৮০ লাখ টাকা। এভাবে প্রতি ক্যাটাগরিতে ক্রিকেটারদের দাম ১০ লাখ টাকা করে কমানো হয়েছে। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে আছেনÑ সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, লিটন দাস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, শরিফুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, মুশফিকুর রহিম, মুস্তাফিজুর রহমান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয় এবং তাসকিন আহমেদ।
‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৩৮ জন, ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ৬৬ জন, ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে ১৩৫ জন ও ‘ই’ ক্যাটাগরিতে ১৮১ জন বিদেশি ক্রিকেটার রয়েছেন। গেল বারের আসর থেকে নতুন করে ৩টি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে। এ ছাড়া থাকছে না কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, নতুন যোগ দিচ্ছে দুর্বার রাজশাহী।
উল্লেখ্য, সাতটি দল বিপিএল ২০২৫ একাদশ আসরে অংশগ্রহণ করছে। ঢাকা ক্যাপিটাল, দুর্বার রাজশাহী, ফরচুন বরিশাল, সিলেট স্ট্রাইকার্স, খুলনা টাইগার্স, রংপুর রাইডার্স ও চট্টগ্রাম কিংস।
পুরোনোদের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ঢাকা ক্যাপিটালস, চিটাগং কিংস ও দুর্বার রাজশাহী।

ট্রাম্পের সমাবেশ থেকে অস্ত্রধারী গ্রেফতার

ক্যালিফোর্নিয়ার কোচেল্লায় রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসভা থেকে শনিবার অস্ত্রধারী এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ওই ব্যক্তির কাছ থেকে একটি শটগান, একটি গুলিভর্তি হ্যান্ডগান, গোলাবারুদ ও একাধিক জাল পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে মার্কিন বার্তাসংস্থা এসোসিয়েট প্রেস (এপি)।
সিক্রেট সার্ভিস বলেছে, যে তারা গ্রেফতারের বিষয়ে সচেতন ছিল এবং শনিবার ঘটে যাওয়া ঘটনার সময় ট্রাম্প বা সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা কেউই কোনো বিপদে পড়েনি।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তবে ওইদিনই পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার মুচলেকায় সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করা হয়। ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি তার আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।
রোববার এক সংবাদ সমেলনে রিভারসাইড কাউন্টি শেরিফ চ্যাড বিয়ানকো বলেছেন, ‘সন্দেহভাজন (৪৯) ব্যক্তি লাস ভেগাসের বাসিন্দা। লোকটি একটি অনিবন্ধিত কালো এসইউভি চালাচ্ছিলেন। তাকে জনসভার বাইরের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে থামানো হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘পরে নিজেকে সাংবাদিক বলে পরিচয় দেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু তার অসংলগ্ন কথাবার্তা ও গাড়ির অভ্যন্তরের অগোছালো অবস্থা দেখে তল্লাশি শুরু করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। তখনই অস্ত্র-গোলাবারুদ, একাধিক জাল পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স খুঁজে পান তারা’।
এর আগে পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্পের নির্বাচনি সমাবেশে গুলিবর্ষণের মাধ্যমে প্রথমবার তাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে। যদিও গুলি সেসময় ট্রাম্পের কানে লাগে। এরপরে ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের ওপর দ্বিতীয়বার হামলার চেষ্টা করা হয়। যদিও এবার ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া বা আহত করার ঘটনা ঘটেনি। তবে জনসভাস্থল থেকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হওয়া ওই সন্দেহভাজনের কার্যকলাপকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না’।
শেরিফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনি যদি এখনই আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, তাহলে বলবÑ আমাদের ডেপুটিরা সম্ভবত (ট্রাম্পকে) তৃতীয়বারের মতো হত্যার চেষ্টাকে প্রতিরোধ করেছে’।
এদিকে গ্রেফতারের বিষয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস নিউজ এজেন্সির মন্তব্যের অনুরোধে ট্রাম্পের প্রচারণা শিবির তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।


শান্তিরক্ষীদের ওপর ইসরাইলের হামলা ‘যুদ্ধাপরাধ’: জাতিসংঘ

লেবাননে শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এটি যুদ্ধাপরাধ হতে পারে বলে ইসরাইলকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘ। রোববার (১৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এ মন্তব্য করেছেন।
সা¤প্রতিক সময়ে লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের ওপর তিন দফা হামলা করেছে ইসরাইল। এতে দেশটির শান্তিরক্ষা মিশনে অবদান রাখা ৪০টি দেশ ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানায়।
কিন্তু ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, অবিলম্বে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী যেনো লেবানন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তার মতে, শান্তিরক্ষীদের মানবঢাল হিসেবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে হিজবুল্লাহ। এ জন্য ইসরাইলের সমালোচনা করা উচিত নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
এমন আবহে জাতিসংঘ এবং ইসরাইল মুখোমুখি অবস্থানে। বিবৃতিতে জাতিসংঘ মুখপাত্র বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী এবং এর প্রাঙ্গণকে কখনই লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়।’
বিবৃতিতে স্টিফেন ডুজারিক আরও বলেন, ‘লেবাননে নিয়োজিত শান্তিরক্ষীরা তাদের সব অবস্থানে রয়েছে এবং জাতিসংঘের পতাকা এখনও উড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘মহাসচিব পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে ইউএনআইএফআইএলের কর্মী এবং এর স্থাপনাগুলোকে কখনোই লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়। শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এই আইনের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনও অন্তর্ভুক্ত। এগুলো যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।’
দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরাইল সা¤প্রতিক দিনগুলোতে অন্তত পাঁচ শান্তিরক্ষী আহত হয়েছে।
এদিকে ইসরাইলের আক্রমণ সত্তে¡ও ইউএনআইএফআইএল তাদের অবস্থান ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাদের মুখপাত্র আন্দ্রেয়া তেনেনতি শনিবার এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এ অঞ্চলে জাতিসংঘের পতাকা সমুন্নত রাখা এবং নিরাপত্তা পরিষদে রিপোর্ট করার জন্য এখানে থাকা গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রায় সাড়ে ৯ হাজার সদস্য নিয়ে গঠিত ইউএনআইএফআইএল মিশন ১৯৭৮ সালে তৈরি হয়।

‘ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না ইরাক’

ইরাকের প্রেসিডেন্ট আব্দুল লতিফ জামাল রশিদ বলেছেন, তার দেশ ইরানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলার জন্য ‘লঞ্চ প্যাড’ হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। সা¤প্রতিক সময়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে তেহরানে আক্রমণের ছক কষছে ইসরাইল। এ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অজানা আশঙ্কা বিরাজ করছে।
রোববার বাগদাদে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রতিক্রিয়ার এই মন্তব্য করেন ইরাকি প্রেসিডেন্ট। তেহরানকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ইরাক তার ভূখণ্ড কাউকে ব্যবহার করার সুযোগ দেবে না।
সোমবার (১৪ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে মেহর নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরাকি প্রেসিডেন্ট লেবাননে এবং গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
গাজা এবং লেবানন যুদ্ধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে একে অপরকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে ইরান ও ইসরাইল। গত ১ অক্টোবর হিজবল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহর মৃত্যুর বদলা নিতে ইসরাইলে প্রায় ২০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। কোনও প্রক্সি নয়, সরাসরি ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে ইরানে।
প্রতিশোধ হিসেবে ইরানকে যোগ্য জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে মধ্যপ্রাচ্যে সিরিজ বৈঠকে নেমেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন সেনাঘাঁটি রয়েছে। ইসরাইলকে সমর্থন দিতে সেখানে রীতিমতো শক্তি বাড়াচ্ছে বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের আশঙ্কা, এই অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতি উত্তেজনা আরো বাড়াবে।
এছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান বলেছে, যদি কোনো দেশ ইরানে হামলার জন্য তার আকাশব্যবস্থা উন্মুক্ত করে দেয়, তাহলে ওই দেশকে হামলা করা ‘নায্য পদক্ষেপ’ হিসেবে ধরে নিবে তেহরান। অর্থ্যাৎ, ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ইসরাইলকে কোনো রকম সাহায্য করলে তার ফল ভুগতে হবে।
ইতোমধ্যে আরব দেশগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের তেল খনিতে হামলা না করতে। দেশগুলো জানিয়েছে, তাদের মাটি কিংবা সেনাঘাঁটি ব্যবহার করে যেন তেহরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা থেকে বিরত থাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। যদি এমনটা হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী ব্যবস্থা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

গত ১ অক্টোবর ইসরাইলের অভ্যন্তরে প্রায় ২০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে ইরান। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা গেলেও, বেশকিছু ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে ইসরাইলের নেভাটিম সামরিক বিমান ঘাঁটিতে। এতে তেল আবিবের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দাবি করে ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলকে একের পর এক সামরিক সহায়তা এবং অর্থ যোগান দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার ইসরাইলকে রক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী ব্যবস্থা ও সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এক বিবৃতিতে এটি নিশ্চিত করেছে পেন্টাগন।
পেন্টাগনের প্রেসসচিব প্যাট রাইডার এক বিবৃতিতে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের নির্দেশ অনুযায়ী টার্মিনাল হাই–অ্যাল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ব্যাটারি মোতায়েন ও সামরিক সদস্যদের ইসরাইলে পাঠানো হচ্ছে।
ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী ব্যবস্থা অনেক পর্যায়ের রয়েছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে আটকাতে এবং ধ্বংস করার জন্য ডিজাইন করা এটি বিশেষ অস্ত্র। তবে টার্মিনাল হাই–অ্যাল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) সবচেয়ে আধুনিক এবং শক্তিশালী বলে ভাবা হয়। আর সেটিই ইসরাইলকে সরবরাহকে করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এমনিতেই ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম সিস্টেম’ গোটা বিশ্বের মধ্যে আধুনিক ব্যবস্থা। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সরবরাহ করা এই প্রযুক্তি তেল আবিবকে আরো বেশি সুরক্ষা দিবে।

ভারতে পূজামণ্ডপে ৪ জন গুলিবিদ্ধ

০

দুর্গাপূজার শেষ দিনে ভারতের বিহারে পূজামণ্ডপের সামনে গুলি চালানো হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন চারজন। রোববার বিহারের ভোজপুর জেলার সদর শহর আরার নওয়াদা থানার অন্তর্গত মওলাবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত খবর অনুসারে, ভোর ৫টার দিকে মোটরসাইকেলে করে দুর্গাপূজার মণ্ডপের কাছে আসে দুই হামলাকারী। এলাকার চার যুবককে লক্ষ্য করে গুলি করে তারা। হামলাকারীদের পরিচয় ইতোমধ্যেই জানা গেছে বলে দাবি পুলিশ প্রশাসনের।
ভোজপুরের পুলিশ সুপার রাজ জানিয়েছেন, ‘এদিন সকালবেলা আমাদের কাছে এই ঘটনার খবর আসে। আমরা জানতে পারি, আরা এলাকার নওয়াদা থানার অন্তর্গত মওলাবাগে একটি দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছিল। রোববার ভোরে সেই পূজামণ্ডপের কাছেই একটি গুলির ঘটনা ঘটে। তাতে চারজন আহত হন। তাদের মধ্যে দু’জন সংশ্লিষ্ট পূজা কমিটির সদস্য।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তের পর জানা গেছে, এই পূজা কমিটির সদস্যদের মধ্যে পুরনো একটি ঝামেলা চলছিল। তার জেরেই এদিন এই হামলা চালানো হয়। যারা গুলি চালিয়েছে, ইতোমধ্যেই তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

প্রতিমা বিসর্জন ও শোভাযাত্রায় শেষ দুর্গাপূজা, পুণ্যার্থীদের ঢল

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। গতকাল শঙ্খনাদ-উলুধ্বনি, ঢাকের বাদ্যি এবং সধবাদের সিঁদুর খেলার আচারে দেবী দুর্গাকে অশ্রুভেজা ভালোবাসায় বিদায় দিয়েছেন তার ভক্তরা। এবারের দুর্গোৎসবে তিথির কারণে নবমীর দিনই বিহিত পূজা এবং ‘দর্পণ বিসর্জন’ হলেও, গতকাল দশমীর দিন সিঁদুর খেলা, দুর্গাকে মিষ্টি মুখ করানো এবং প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
গতকাল ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বেলা ১১টা থেকে দুর্গার কপালে এবং অন্যের গালে-কপালে সিঁদুর মাখানোর আনুষ্ঠানিকতায় মেতে ওঠেন ভক্তরা। বিজয়া দশমীতে পূজা উদ্যাপনের প্রধান আচারের অংশ হিসেবে এদিন নারীরা সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। শহরের মণ্ডপ ও মন্দিরে দুর্গার পায়ে সিঁদুর নিবেদন করেন, যা ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলার অংশ। এই আচারটি দেবী দুর্গার শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। তারপর হিন্দু নারীরা একে অপরের গায়ে সিঁদুর মাখিয়ে জীবনে সমৃদ্ধি কামনা করেন। এ সময় নাচে-গানে আনন্দময়ীর বন্দনা করেন তারা। দুর্গার নামে জয়োধ্বনিও তোলেন। দেবীকে বিদায় জানাতে রাজধানীতে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে জড়ো হন হাজারো ভক্ত। শহরের বিভিন্ন মন্দির ও পাড়া থেকে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে। এ ছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন দীঘিতেও প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। প্রতিমা বিসর্জনের সময় অনেক ভক্ত অশ্রুসিক্ত থাকেন। আবার অনেকেই ক্ষণটিকে সুন্দর করে কাটাতে নেচে-গেয়ে উদ্যাপন করেন। বিসর্জনের আয়োজন দুর্গাপূজার স্থায়ী সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য তুলে ধরে।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতি শরতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বর্গলোক কৈলাস ছেড়ে মর্ত্যে আসেন দেবী দুর্গা। নির্দিষ্ট তিথি পর্যন্ত বাবার বাড়িতে কাটিয়ে আবার ফিরে যান দেবালয়ের কৈলাসে স্বামীর বাড়িতে। দেবীর অবস্থানকালে এই পাঁচ দিন পৃথিবীতে ভক্তরা দেবীর বন্দনা করেন। হিন্দু শাস্ত্রমতে এবার দেবী দুর্গা মর্ত্যে এসেছিলেন পালকিতে চড়ে। আর ঘোড়ায় চড়ে কৈলাসে ফিরলেন।

05 9 edited

সিঁদুর হলো সধবা নারীর প্রতীক। সধবা নারীরা সিঁদুর দিয়ে সংসারের জন্য কল্যাণের প্রার্থনা করেন। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের উপদেষ্টা পুরোহিত প্রণব চক্রবর্তী বলেন, আমরা কর্মের প্রয়োজনে নানা জায়গায় ছড়িয়ে থাকি। মায়ের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে সংসারের সকলে একত্রিত হয়েছি। মায়ের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরাও আবার ছড়িয়ে যাবো। এই বিদায় মুহূর্তে আমরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করি এবং সকলের যেন কল্যাণ হয় তার জন্যই এ সিঁদুর খেলি। বিশেষ করে সধবা নারীরা সংসারের কল্যাণের জন্য এই সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। এটি আমাদের পারস্পরিক ঐক্য, সোহার্দ্য বজায় রাখার বার্তা দেয়।
মহালয়ার মধ্যদিয়ে ২রা অক্টোবর এবারের দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছিল। ওইদিন থেকেই দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হয়। এরপর গত বুধবার ষষ্ঠী থেকে পাঁচ দিনের যে দুর্গোৎসব শুরু হয়েছিল, এদিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে তা শেষ হলো। মাঝে বৃহস্পতিবার নবপত্রিকায় প্রবেশ ও স্থাপনে হয় মহাসপ্তমী। পরদিন শুক্রবার সকালে কুমারী পূজার পাশাপাশি মহাঅষ্টমীর বিহিত পূজা এবং সন্ধিপূজা হয়। শনিবার নবমী এবং দশমীর বিহিত পূজার পাশাপাশি শাস্ত্রীয় মতে ‘দর্পণ বিসর্জন’ করা হয়।
হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের দেবী দুর্গাকে বিদায় দিয়ে এই উৎসবের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও একটি বছর। শাস্ত্রীয়ভাবে দুর্গাপূজা শনিবারই শেষ। তবে প্রতিমা বিসর্জন, সিঁদুর খেলাসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় গতকাল। এবার দেশের ৩১ হাজার ৪৬১টি মন্দির ও মণ্ডপে পূজা হয়েছে। আর ঢাকা মহানগরে এবার পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৫২টি।