Home Blog Page 550

নিউইয়র্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৪তম জন্মদিন উদযাপন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ১০৪তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে। কুইন্সের লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়টে আনন্দঘন পরিবেশে এই উদযাপন হয় গত ১ জুলাই। ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলামনাইদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন।
অনুষ্ঠান শুরু হয় সমবেত কণ্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর সবাই মিলে গেয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যানথেম। পুরো অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা ও পরিচালনায় ছিলেন বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ ও ইমাম মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে আয়োজনকে রাঙিয়ে তোলেন গোলাম মোস্তফা।

WhatsApp Image 2024 07 02 at 16.20.15 b68aed63 edited

অনুষ্ঠানের সিংহভাগজুড়ে ছিল স্মৃতিচারণ। ক্যাম্পাস জীবনের কথা বলতে গিয়ে অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেনÑফরিদা চৌধুরী, মনজুর চৌধুরী, সিলভিয়া সাবেরিন, মোসা. ওয়াহিদা শামসুন, মো. আবদুল কাইয়ুম, সজল রোশান, লুবানা রশিদ এবং মো. গোলাম মোস্তফা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রঙিন দিনগুলো নিয়ে আরও কথা বলেছেনÑকাজী জহিরুল ইসলাম, সুখন গোমেজ, মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, এম আরেফিন টুলু, রুবি আরেফিন, ড. মোহাম্মদ মুজিবুল হক, নাজিয়া আহমেদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান, ইকবাল মোরশেদ, উমামা সিদ্দিকা এবং রওশন আরা বেগম।
ফরিদা চৌধুরী স্মৃতিচারণ করে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে আমি গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছি ১৯৮১ সালে। ওই সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল অসাধারণ সম্পর্ক। আমরা একটা পারিবারিক আবহে কাটিয়েছি ক্যাম্পাস জীবন। এটি আমাদেরকে ভালো মানুষ হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
মোসা. ওয়াহিদা শামসুন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু বাংলাদেশকেই আলোকিত করেননি, প্রবাসের মাটিতেও দেশকে উজ্জ্বল করে চলেছেন। এই প্রতিষ্ঠান হলো আমাদের অনুভূতি আর ভালোবাসার জায়গা। তাই বিদেশের মাটিতে বসে প্রাণের প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে পারাটা ভীষণ আনন্দদায়ক।

WhatsApp Image 2024 07 02 at 16.20.14 140549f1

সিলভিয়া সাবেরিন বলেন, যখন থেকে এই অনুষ্ঠানের খবর পেয়েছি, তখন থেকেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় ছিলাম। আমার মনের আঙিনায় এখনও ভাসছে সেই টিএসসি, কলাভবন, নীলক্ষেত, মলচত্বর, কার্জন হল, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি আর রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের প্রতিটি স্মৃতি।
মনজুর চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমি খুবই দুষ্টু ছিলাম। এমন কোনো ডিপার্টমেন্ট ছিল না, যেখানে আমার কোনো বন্ধুবান্ধব ছিল না। সিনিয়র-জুনিয়র সবাই আমাকে খুব আদর করতো। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই জীবনটা আমি খুবই মিস করি। প্রত্যাশা করি, আমাদের প্রাণের এই প্রতিষ্ঠান আরও এগিয়ে যাবে।
মো. আবদুল কাইয়ুম বলেন, আমি আসলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স করিনি। অ্যাকাউন্টিংয়ের ইভিনিং কোর্সে এমবিএ করেছি। তাই আপনাদের মতো আমার হলের কোনো স্মৃতি নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতি আমার আবেগ রয়েছে। রেগুলার স্টুডেন্ট না হলেও দেশসেরা এই প্রতিষ্ঠানে পড়তে পেরে আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের বুকের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে সত্য, সুন্দর ও উজ্জ্বল আগামীর স্বপ্নÑএমন মন্তব্য করে সজল রোশান বলেন, জীবনের অনিবার্য ডাকে আমরা হয়তো ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে এসেছি, তবে আমরা জানি, বিশ্ববিদ্যালয় কখনো প্রাক্তন হয় না।
লুবানা রশিদ বলেন, আমি পড়েছি ফিলোসফি ডিপার্টমেন্টে, এটাচড ছিলাম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে। দারুণ সময় কেটেছে পুরো ক্যাম্পাস জীবন। আমি প্রচুর এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। সিনিয়রদের কাছ থেকে প্রচুর সহযোগিতা পেয়েছি। শিক্ষকরাও আমাদেরকে দারুণভাবে আগলে রেখেছেন।
সুখন গোমেজ বলেন, আমি আজ আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ছি। কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের ভীষণ আবেগের এক জায়গা। আমি আরেকটু বেশি আবেগে আপ্লুত হই এ কারণে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ছাত্র আন্দোলন শামসুনন্নাহার হল থেকে তৈরি হওয়া শিক্ষার্থী নির্যাতনবিরোধী আন্দোলনে জড়িত ছিলাম।

WhatsApp Image 2024 07 02 at 17.14.28 9699b943

জাতিসংঘের কর্মকর্তা কবি কাজী জহিরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অসংখ্য মেধাবী এবং সফল মানুষের জন্ম দিয়েছে। তবে ইদানীং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। সেই প্রশ্ন যে সম্পূর্ণ অমূলক, তাও নয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।
রওশন আরা বেগম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমরা যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা বসবাস করছি, আমাদের মাঝে কীভাবে আরও সুন্দর ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়, সেটা চিন্তা করতে হবে। শুধু বছরান্তে নয়, আমরা এভাবে মিলিত হতে চাই কিছুদিন পরপর।
ড. মোহাম্মদ মুজিবুল হক বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েটদের মাঝে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে সমর্থ হবো।
মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা ভালোবাসি। আর সেজন্যই আমরা চাই, এই বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাক। কিন্তু পড়াশোনার বিশ্বমান কতটুকু ধরে রাখতে পারছে প্রতিষ্ঠানটি, সেটা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এম আরেফিন টুলু বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার পর আমার অনেক বন্ধুকে গায়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা সিল লাগানোর জন্য কী চেষ্টাটাই না করতে দেখেছি। সেই জিনিসটা ভাবলে মনে হয়, আমরা ঢাবি শিক্ষার্থীরা আসলেই সৌভাগ্যবান।
রুবি আরেফিন বলেন, শতবর্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। আমরা আশাকরি, এই বিশ্ববিদ্যালয় আরও হাজার বছর সগৌরবে টিকে থাকবে। আমরা যেমন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পেরে গর্ব অনুভব করি, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোয় আলোকিত হবে।
নাজিয়া আহমেদ চৌধুরী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় বাংলাদেশের বাতিঘর। এই দেশটির স্বাধীনতা থেকে শুরু করে যা কিছু ভালো, তার সঙ্গে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। আন্তর্জাতিক অঙ্গণেও বিভিন্নভাবে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে আসছে এই প্রতিষ্ঠান।

WhatsApp Image 2024 07 02 at 16.20.12 764639e2 edited

ইকবাল মোরশেদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্র পরিচালনায় যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন, তেমনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করে আসছেন। এই ইতিবাচক কর্মকাণ্ড যদি সমষ্টিগতভাবে করা যায় তাহলে সেটা হয়ে উঠবে অনেক বেশি কার্যকর ও ফলপ্রসূ।
উমামা সিদ্দিকা বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে তার সাবেক শিক্ষার্থীরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। বিশ্বের প্রথিতযশা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই কর্মকাণ্ডের দিকে নজর রাখলেই তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। নিউইয়র্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্যোশাল ও চ্যারিটি এক্টিভিটি করলেও একই ছাতার নিচে না থাকায় সেগুলো খুব একটা ফলপ্রসূ হচ্ছে না।
গত কয়েক বছর ধরেই ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলামনাইদের উদ্যোগে নিউইয়র্কে এই আয়োজন হয়ে আসছে। প্রতিটি আয়োজনেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। এ বছর সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সজল রোশানকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
প্রিয় প্রতিষ্ঠানের জন্মদিন উদযাপনের অন্যতম অংশ ছিল কেক কাটা। এরপর নির্মল আড্ডা আর গল্প-গুজবে মেতে ওঠেন সবাই। ফটোসেশন পর্বে চলে দলবেঁধে ছবি তোলা।

জুম খোকনের কমিটি বাণিজ্যে ধ্বংসের পথে বহির্বিশ্ব বিএনপি

ইমা এলিস, নিউইয়র্ক: বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন ওরফে জুম খোকনের অনৈতিক কর্মকান্ড ও কমিটি বাণিজ্যে ধ্বংসের পথে বহির্বিশ্ব বিএনপির রাজনীতি। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আরপিও আইন অমান্য করে বিভিন্ন দেশে দলীয় গঠনতন্ত্র বহির্ভুত অবৈধভাবে বিএনপির কমিটি গঠন এবং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ‘টেবিলের নিচে’ কমিটি বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই জুম খোকন। একই সঙ্গে ফুলে উঠছেন যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রবাসে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের বিএনপি নেতাকর্মীরাও। কোভিড-১৯ এর সময়কালে যে জুম মিটিং চালু করা হয়েছিল তিনি এখনও তা অব্যাহত রেখেছেন বলে বহির্বিশ্বের বিএনপির নেতাকর্মীরা তার নাম দিয়েছেন জুম খোকন।
দেশে এবং বিদেশে বিএনপির কর্মপন্থা সক্রিয় করার লক্ষ্যে লন্ডন প্রবাসী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছোটখাটো সকল কমিটিকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বিভিন্ন সময়ে কয়েকজন আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি কমিটি গঠনের জন্য। তাঁরা সশরীরে চেষ্টা করে অল্পতেই হার মেনে যান অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের কমিটিগুলো ঢেলে সাজাতে ব্যর্থ হন। এদের মধ্যে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন, মাহিদুর রহমান, ব্যারিস্টার আবু সায়েম উল্লেখযোগ্য। এভাবে কমিটি বিহীন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সময় কেটেছে অনেকগুলি বছর।

zoom meeting

রাজনৈতিক কাজ করতে হলে সুশৃঙ্খল কমিটির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেন যে কোন ভাবে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি দেয়া হলে সবাই তা মেনে নেবেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন অখ্যাত এক বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন খোকন ওরফে জুম খোকন। তিনি তখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বুঝিয়ে নানা কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি কমিটি গঠনের দায়িত্বভার বাগিয়ে নেন।
তিনি প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে আস্তে আস্তে নিজের পছন্দের কিছু অপরিপক্ক তরুণ নেতাদের দিয়ে কয়েকটি স্টেটের আহŸায়ক কমিটি গঠন করেন। যেহেতু দীর্ঘদিন কমিটি না থাকার কারণে মানুষের মনে আশার সঞ্চার শুরু হয় অন্তত কিছু একটাতো হচ্ছে! তাই ভুলভ্রান্তিতে ভরা সেই আহŸায়ক কমিটিগুলি নিয়ে কেও কোন মুখ খোলেনি, মেনে নিয়েছিলেন। যেহেতু আপাত দৃষ্টিতে তিনি বেশ কয়েকটি আহবায়ক কমিটি গঠনে সফল হয়েছেন সেহেতু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার উপর আস্থা রেখে আরো কিছু দায়িত্ব অর্পণ করেন। এভাবেই দুরন্ত হয়ে ওঠেন জুম খোকন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে আনোয়ার হোসেন খোকন ওরফে জুম খোকন একে একে শুরু করেন তার আসল ধান্ধা। প্রথমে বাগিয়ে নেন আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের পদ, এরপর শুরু করেন বিভিন্ন দেশের কমিটি গঠনের পদ বাণিজ্য। এখন তিনি আন্তর্জাতিক সম্পাদকের বাইরে নিজেকে উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য সহ সকল দেশের সংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত বলে নিজের নামের সাথে টাইটেল জুড়ে রাখেন। এতে করে যে সুবিধাটা হয় সেটা হলো প্রবাসের কমিটি বাণিজ্যের রমরমা ব্যবসাটা পাকাপোক্ত করা সম্ভব হয়। সাধারণ নেতাকর্মীরা টাইটেল দেখে মনে করেন তারেক রহমানের পরেই আনোয়ার খোকনের ক্ষমতা তাই কোন শব্দটুকু করতেও সাহস করেন না। এটাকে পুঁজি করে চলছে জুম খোকনের রমরমা ব্যবসা।
তিনি শুধুমাত্র প্রবাসী বিএনপি কমিটি বাণিজ্যের সাথে জড়িত নন, তিনি ইতিমধ্যে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চোখে ধুলা দিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। দেশের বাড়ী ‘কুমিল্লা’ ইমেজ কাজে লাগিয়ে লন্ডন প্রবাসী বিভক্ত সিলেট নেতৃত্বকে আলাদা করে চেয়ারম্যানের কাছে নতুন নতুন ফর্মুলা উপস্থাপন করেন। বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জুম খোকনের বিচক্ষণতা ও মিষ্টি মিষ্টি ধর্মীয় কথায় মুগ্ধ হয়ে একের পর এক পদোন্নতি দিয়ে চলেছেন। এত ক্ষমতার পরেও স¤প্রতি বিদেশ বিষয়ক সম্পর্কোন্নয়ন কমিটিতে জুম খোকনকে সদস্য পদ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে জুম খোকনের অহংকার এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে প্রবাসী বিএনপি কমিটি গঠনের জুম মিটিংয়ে নিজেকে বিএনপির প্রধান বলে দাবি করেন। ইনিয়ে বিনিয়ে এটাই তিনি বুঝাতে চাইছেন যে বিএনপি মানেই আনোয়ার হোসেন খোকন।
লন্ডন সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান আনোয়ার হোসেন খোকনকে এখনই যদি কন্ট্রোল করা না হয় তাহলে ঠিক যেভাবে হাওয়া ভবনের দোহাই দিয়ে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী গিয়াস উদ্দিন মামুন দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুলেছিলেন ঠিক তেমনি জুম খোকন ও তার নিজস্ব দুর্নীতি জগৎ তৈরী করে নিবেন এবং এতে ক্ষতিগ্রস্থ হবে বিএনপি, ধ্বংস হবে দলের সকল অর্জিত সুনাম।
আমাদের ধারাবাহিক অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে আনোয়ার হোসেন খোকন ওরফে জুম খোকন বিএনপির নেতা খুঁজে কমিটি গঠন করেন না তিনি বরং তার ব্যক্তি চামচা খুঁজে পদপদবী বন্টন করেন। তার তেলবাজি না করলে কিংবা চামচামি না করলে তাকে বিএনপির সকল পদ পদবি থেকে বঞ্চিত করেন। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোন মূল্য তার কাছে নাই. চামচামি আছেতো পদবি আছে চামচামি নাইতো পদ পদবি নাই। সহজ সরল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এখনও জুম খোকনের চালাকি বুঝে উঠতে পারছেন না হয়ত যেদিন বুঝতে পারবেন ততদিনে জুম খোকন অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে যাবে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে মিশে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আরেকবার কোমর ভাঙার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হবে। তাই সময় থাকতে জুম খোকনের লাগাম টেনে ধরা উচিত বলে প্রবাসী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসীরা ধারণা করছেন।

দেশের ৫ বিভাগ এখন সম্পূর্ণভাবে ভূমিহীন-গৃহহীন মুক্ত: প্রধানমন্ত্রী

দেশের ৫ বিভাগ এখন সম্পূর্ণভাবে ভূমিহীন-গৃহহীন মুক্ত হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে আট লাখ ৬৭ হাজার ৯৭৭টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এতে উপকারভোগী মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩ লাখ ৩৯ হাজারেরও বেশি। এ পর্যন্ত ৫৮টি জেলা এবং ৪৬৪টি উপজেলা সম্পূর্ণভাবে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত হয়েছে। ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহী এ ৫টি বিভাগ এখন সম্পূর্ণভাবে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত। অর্থাৎ এসব জেলা, উপজেলা ও বিভাগে কোনো ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষ নেই।
তিনি বলেন, ব্যারাক হাউজের মাধ্যমে আমরা ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৯ লাখ ৫৯ হাজার ৮৪৮টি পরিবারকে পুনর্বাসন করেছি। ব্যারাক হাউজ ছাড়াও আমরা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৫৩টি পরিবারকে নিজ জমিতে বিনামূল্যে গৃহনির্মাণ করে দিই। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫টি পরিবারের কাছে স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে ২ শতাংশ জমির মালিকানাসহ সেমিপাকা একক ঘর হস্তান্তর করেছি।
সংসদ নেতা শেখ হাসিনা জানান, মুজিববর্ষে উপকারভোগী মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। ভূমিহীন-গৃহহীন-ছিন্নমূল মানুষকে জমির মালিকানাসহ ঘর করে দেওয়ার লক্ষ্যে সারা দেশে ৬ হাজার ৯৪৫ একর খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য তিন হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের এসএম আতাউল হকের প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, ২০০৮-০৯ অর্থবছরের ১৩ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা থেকে ৯.১২ গুণ বাড়িয়ে সদ্য বিদায়ী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এক লাখ ২৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। ১১৯টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এ সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আলী আজমের প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য সমতার ভিত্তিতে সুবিচার নিশ্চিত করা এবং বিচার ব্যবস্থায় দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধন করে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর। বর্তমান সরকার বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি লাঘবে সঠিক বিচারের নিশ্চয়তা প্রদান করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ২০০৯ সাল থেকে অধস্তন আদালতে এক হাজার ৪২৯ জন বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান সংসদ নেতা।

নতুন মাইলফলকে সর্বজনীন পেনশন: সাড়ে ১০ মাসে জমা ১০০ কোটি

বহুল প্রতীক্ষিত সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে (স্কিম) সাড়ে লাখ মানুষ নিবন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছেন।
স্কিম চালু হওয়ার সাড়ে ১০ মাসে এই মাইলফলক স্পর্শ হয়েছে। যার মাধ্যমে সরকারি ফান্ডে জমা পড়েছে ১০০ কোটি টাকা।
বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে, সাড়ে নয় মাসে বিভিন্ন স্কিমে যুক্ত হওয়ার সংখ্যা লাখ স্পর্শ করে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিমে প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতায় বর্তমানে মোট নিবন্ধনকারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখ এবং মোট জমার পরিমাণ ১০০ কোটি টাকার বেশি। ইতোমধ্যে জমাকৃত অর্থের মধ্যে ৯২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রবাস স্কিম, প্রগতি স্কিম, সুরক্ষা স্কিম ও সমতা স্কিমÑ এই চার স্কিম নিয়ে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। চালুর প্রথম দিন থেকেই সাড়া মিলতে শুরু করে, ক্রমাগত যা ঊর্ধ্বমুখী।
পেনশন বিধিমালা বলছে, সর্বজনীন পেনশন প্রথায় যার যত টাকা জমা, মেয়াদ শেষে তার তত বেশি পেনশন। অন্যদিকে, স্বল্প আয়ের মানুষদেরও বিমুখ করবে না এ উদ্যোগ। যারা মাসিক ৫০০ টাকা জমাবেন, তাদের জন্য শুরু থেকেই থাকবে সরকারের আরও ৫০০ টাকার ভর্তুকি। সবমিলিয়ে, সবার জন্যই থাকছে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে বাড়তি কয়েক গুন মুনাফা।
আর পেনশনের জন্য নির্ধারিত চাঁদা বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করে কর রেয়াত পাওয়ার যোগ্য হবেন। এছাড়া মাসিক পেনশনবাবদ প্রাপ্ত অর্থ আয়কর মুক্ত হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অন্যদিকে, চলতি বছরির জুলাই বা তার পরবর্তী সময়ে স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা এবং তাদের অধীন অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যোগদান করবেন, তাদের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিমে প্রবেশ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তারা সবাই ‘প্রত্যয়’ স্কিমের অন্তর্ভুক্ত হবেন। গত ২০ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন ইস্যু করেছে।
২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে সর্বজনীন পেনশন পদ্ধতি প্রবর্তনের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালুর লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ কর্তৃক ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩’ পাস করা হয়। বহুল প্রতীক্ষিত সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি (স্কিম) ওই বছরের ১৭ আগস্ট সকালে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে।
বুধবার (৩ জুলাই) সকালে গণভবনে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ট্রান্সফরমেশন বিষয়ক উপস্থাপনা অবলোকনের পর দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব কে এম শাখাওয়াত মুন ব্রিফিংয়ে জানান, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ট্রান্সফরমেশন বিষয়ক উপস্থাপন অবলোকন করে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেন সরকারপ্রধান।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা পরবর্তী স্বাস্থ্য খাতকে এ গিয়ে নিতে বঙ্গবন্ধুর যুগান্তকারী পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, জাতির পিতা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
গত দেড় দশকে বাংলাদেশে প্রতিটি খাতের মতো স্বাস্থ্য খাতেও যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে তা উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে বর্তমান সরকারের অর্জন ধরে রেখে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে আরো সতর্ক থাকার আহŸান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুই কেনার জন্য নয়, হাসপাতাল ও রোগীর চাহিদা অনুযায়ী যন্ত্রপাতি কিনতে হবে এবং যন্ত্রপাতির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন, প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আ ফ ম রুহুল হক, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, মুখ্য সচিব মো: তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য সচিব মো: জাহাঙ্গীর আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এম নাঈমুল ইসলাম খান।

যুক্তরাজ্যে নির্বাচনে লড়ছেন ৯ বাংলাদেশি নারী

৪ জুলাই যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে এবার প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৯ নারী। তাদের মধ্যে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির কেউ নেই, সবাই বিরোধী দলের। এর মধ্যে প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে আছেন ৬ জন। বাকিদের মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেট, ওয়ার্কার্স পার্টির থেকে দুজন ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন।
তাদের মধ্যে এখন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের সদস্য ৪ জন। তারা হলেন রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক, রুপা হক ও আফসানা বেগম। তাদের সঙ্গে লেবার পার্টির পক্ষে এবার প্রার্থী হয়েছেন রুমী চৌধুরী ও রুফিয়া আশরাফ।
বাকিদের মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটের (লিব-ডেম) প্রার্থী রুবিনা খান, ওয়ার্কার্স পার্টির হালিমা খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নুর জাহান বেগম ভোটের লড়াইয়ে আছেন।
জনমত জরিপ অনুযায়ী, এ নির্বাচনে বিরোধী দল লেবার পার্টির জয়ী হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে। ইতোমধ্যে সব জনমত জরিপে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি থেকে ২০ পয়েন্ট এগিয়ে আছে বিরোধী দল। লেবার পার্টি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই নারীদের মধ্যে কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।
বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ছয় মাস আগে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। ৪ জুলাই একযোগে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে ভোট হবে।
রুশনারা আলী
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারা আলী। লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসের বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনে ২০১০ সাল থেকে তিনি টানা চারবার এমপি নির্বাচিত হন। ২০১০ থেকে আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক ছায়ামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন রুশনারা। ২০১৩ সালের অক্টোবরে তিনি ছায়া শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন।
সিলেটে জন্ম নেওয়া রুশনারা আলীর পরিবার তার সাত বছর বয়সে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। তিনি অক্সফোর্ডের সেন্ট জনস কলেজ থেকে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
রুপা হক
লেবার পার্টির মনোনয়নে ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন রুপা আশা হক। এরপর টানা তিনবার তিনি পশ্চিম লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
২০১৬ সালের অক্টোবরে লেবার পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান রুপা হক। তাকে সর্বদলীয় সংসদীয় মিউজিক গ্রæপের ভাইস চেয়ার এবং ক্রসরেলের সর্বদলীয় সংসদীয় পদে নিযুক্ত করা হয়েছিল।
পাবনা শহরের মকছেদপুরে রূপার দাদার বাড়ি, আর নানার বাড়ি শহরের কুঠিপাড়ায়। দাদা মনছের আলী ও নানা মুসা বিশ্বাস মারা গেছেন বেশ আগেই। আছেন তার মামা-চাচারা। রুপার বাবা ফজলুল হক পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সপরিবারে ভারতের কলকাতা হয়ে লন্ডন চলে যান। ১৯৭২ সালে লন্ডনে জন্ম নেওয়া রুপা বেশ কয়েকবার পাবনায় এসেছেন।
প্রয়াত ফজলুল হক ও দুলালী বিশ্বাসের তিন মেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় রুপা হক। পুরো নাম রুপা আশা হক। অন্য দুই বোন নতুন হক ও কনি হক। বিবিসির বøু পিটার শো উপস্থাপনার কল্যাণে ছোট বোন কনির নাম ব্রিটিশদের কাছে খুবই পরিচিত।
টিউলিপ সিদ্দিক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক। তিনি ২০১৫ সালে লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে লেবার পার্টির হয়ে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন।
টানা তিনবারের এমপি টিউলিপ ২০১৬ সাল থেকে ছায়া শিক্ষামন্ত্রী, সর্বদলীয় পার্লামেন্টারি গ্রæপের ভাইস চেয়ার, নারী ও সমতা নির্বাচন কমিটির সদস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন।
আফসানা বেগম
পূর্ব লন্ডনের পপলার অ্যান্ড লাইমহাউস আসন থেকে লেবার পার্টির মনোনয়নে ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন আফসানা বেগম।
ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে এবং গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে ভোট দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন এমপি আফসানা বেগম।
লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় আফসানার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। বাংলাদেশে তাদের আদি বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে। তার বাবা মনির উদ্দিন টাওয়ার হ্যামলেটসের সিভিক মেয়র ছিলেন। তিনি ছিলেন জগন্নাথপুর পৌরসভার লুদুরপুর এলাকার বাসিন্দা।
আফসানা লেবার পার্টির লন্ডন রিজিয়ন শাখার সদস্য। দলটির টাওয়ার হ্যামলেটস শাখার সহসভাপতিরও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তিনি টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের আবাসন বিভাগে কর্মরত।
রুমী চৌধুরী
এবার পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার পার্টির মনোনয়ন নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রার্থী হয়েছেন রুমী চৌধুরী। ২০২৩ সালে লুটন কাউন্সিল থেকে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
রুমী চৌধুরীর প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি এখন নড়বড়ে অবস্থায় থাকায় জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী রুমী চৌধুরী।
রুফিয়া আশরাফ
নর্থাম্পটন টাউন কাউন্সিলের মেয়র ও কাউন্সিলর রুফিয়া আশরাফ প্রথম লেবার পার্টির মনোনয়নে সাউথ নর্থাম্পটন আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। আসনটি দীর্ঘদিন ধরে কনজারভেটিভ পার্টির দখলে।
অনেকেই বলছেন, ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় দেশব্যাপী লেবার পার্টির জনজোয়ার দেখা দিয়েছে। এবার সাউথ নর্থাম্পটন আসনটি উদ্ধারে লেবার পার্টি বদ্ধপরিকর।
রুবিনা খান
রুবিনা খান বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড স্টেপনি আসন থেকে লিব-ডেম দলের হয়ে লড়ছেন। তিনি টাওয়ার হেমলেটসে ১২ বছরের কাউন্সিলর এবং আবাসন বিষয়ক কেবিনেট সদস্য ছিলেন।
রুবিনা ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ও গার্ডিয়ানে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। এ ছাড়া পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউজ লর্ডসে কাউন্সিলর ও বিশেষ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
রুবিনা খানের বাবা কেন্টের চাথাম ডকইয়ার্ডে মেশিন অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। তিনি বিয়ে করতে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। সিলেটেই রুবিনার জন্ম হয়। তিন বছর বয়সে সপরিবারে ইংল্যান্ডে চলে যান তিনি। কেন্টের রচেস্টারে তিনি বড় হয়েছেন। তিনি লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলে থাকেন।
হালিমা খান
হালিমা খান স্টার্টফোর্ড অ্যান্ড বো আসন থেকে ওয়ার্কার্স পার্টি জিবির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। তিনি লেবার পার্টির গভর্ন্যান্স অ্যান্ড লিগ্যাল ইউনিটের তদন্তকারী ছিলেন।
রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি শিক্ষকতা করতেন। পরে শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে নিউহ্যাম এবং টাওয়ার হ্যামলেটসের মানুষের জন্য কাজ শুরু করেন তিনি।
হালিমা খান মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের বিশিষ্ট সমাজ হিতৈষী ব্যক্তি মরহুম আব্দুল হামিদ খানের নাতিন, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মো. জালাল আহমদ খানের বড় মেয়ে। তিনি রাজনগরের ৬ নম্বর টেংরা ইউনিয়নের টানা ৩ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ টিপু খানের ভাতিজি।
নুরজাহান বেগম
নুরজাহান বেগম ইলফোর্ড সাউথ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। চার সন্তানের জননী এই নারী স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যাবিষয়ক কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর তিনি সমাজকর্মী হিসেবে কাজ করছেন।

ট্রাম্পের সাজা ঘোষণা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পেছাল

ঘুসের তথ্য ব্যবসায়িক নথিপত্রে গোপনের মামলায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাজা ঘোষণা বিলম্বিত করার আবেদন মঞ্জুর করেছেন নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের আদালত।
ট্রাম্পের আইনজীবী দলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিচারক জুয়ান মার্চান এ সিদ্ধান্ত দেন। তিনি বলেন, অন্তত আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাজা ঘোষণা স্থগিত থাকবে।
মামলায় গত ৩০ মে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করেন নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের আদালত। ৩৪টি অভিযোগের সবগুলোতে দোষী সাব্যস্ত হন ট্রাম্প। ১১ জুলাই ট্রাম্পের সাজা ঘোষণার তারিখ ধার্য করা হয়েছিল। এখন তা পিছিয়ে গেল।
সোমবার মার্কিন সুপ্রিমকোর্ট এক আদেশে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে যেসব কাজ করেন, তার জন্য তিনি দায়মুক্তি পাবেন।
সর্বোচ্চ আদালতের এ আদেশ উল্লেখ করে বিচারক জুয়ানকে একটি চিঠি লেখে ট্রাম্পের আইনজীবী দল। তারা সাজা ঘোষণার তারিখ পেছানোর আরজি জানায়। এ আরজি মঞ্জুর করেছেন বিচারক।
নিউইয়র্কের আদালতের দোষী সাব্যস্ত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারেরও দাবি জানান ট্রাম্পের আইনজীবীরা। তবে এ ক্ষেত্রে ট্রাম্পের আইনজীবীদের দেওয়া যুক্তি আমলে নেননি নিউইয়র্কের আদালত।
আগামী ৮ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। এ নির্বাচনে ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির হয়ে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করবেন।
নিউইয়র্কের মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০০৬ সালে পর্নো তারকা স্টর্মির সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এ বিষয়ে মুখ না খুলতে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে স্টর্মিকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার ঘুস দেন তার আইনজীবী মাইকেল কোহেন। তবে ট্রাম্পের ব্যবসায়িক নথিতে এ তথ্য গোপন করা হয়েছিল।

প্রথমবার নারী বিচারপতি পেল লাহোর হাইকোর্ট

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোরের হাইকোর্টের শীর্ষ বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন বিচারপতি আলিয়া নিলম। তার এই নিয়োগের মাধ্যমে এই প্রথম কোনো নারী শীর্ষ বিচারপতি পেলের লাহোর হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার পাকিস্তানের আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা জুডিশিয়ালি কমিশন অব পাকিস্তানের (জেসিপি) বৈঠকে লাহোর হাইকোর্টের শীর্ষ বিচারপতি হিসাবে আলিয়া নিলমকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রধান বিচারপতি কাজী ফায়েজ ইসা সেই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে আলিয়া নিলমের নাম প্রস্তাব করেছিলেন কাজী ফায়েজ ইসা নিজেই। তার চেয়ে যোগ্য অপর কোনো প্রার্থী না থাকায় প্রধান বিচারপতির এই প্রস্তাব মেনে নেন জেসিপির অন্য সদস্যরা।
বিচারপতি আলিয়া নীলমের জন্ম পাঞ্জাবে, ১৯৬৬ সালের ১২ নভেম্বর। ১৯৯৫ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাসের পরের বছর থেকে লাহোর হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে পেশাগত ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি।
২০০৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হন বিচারপতি আলিয়া। কয়েক বছর সেখানে কাটানোর পর জুনিয়র বিচারপতি হিসেবে ২০১৩ সালে ফের লাহোর হাইকোর্টে যোগ দেন।
লাহোর হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের তালিকায় আলিয়া নীলম তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। তার সামনে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন যথাক্রমে বিচারপতি মালিক শেহজাদ আহমেদ খান এবং বিচারপতি শহীদ বিলাল হাসান। দুজনই স¤প্রতি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। আলিয়ার আগে লাহোর হাইকোর্টের শীর্ষ বিচারপতি ছিলেন মালিক শেহজাদ আহমেদ খান।

নিউ ইয়র্কে ২৭ শিল্পী ও শিল্পী ও কলা-কুশলী পেলেন ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড

ইমা এলিস, নিউইয়র্ক: নিউ ইয়র্কে দেশ ও প্রবাসের শিল্পী ও কলা-কুশলীসহ ২৭ জনের ভাগ্যে জুটেছে এবারের ঢালিউড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস। স্থানীয় সময় রোববার (৩০ জুন) রাতে কুইন্সের জ্যামাইকার অ্যামাজুরা’র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ঢালিউড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস ২২তম আসরে নিউ ইয়র্কের শো টাইম মিউজিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর খান আলম শিল্পী ও কলা-কুশলীসহ ২৭ জনের ভাগ্যবানের নাম ঘোষনা করেন। বাংলাদেশি কণ্ঠশিল্পী অভিনেতা-অভিনেত্রী ছাড়াও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসের উদীয়মান শিল্পী, কলা-কুশলী ও ব্যবসায়ী পেয়েছেন বেশ কয়েকটি পুরুস্কার।

Dhallywood 01

বাবু জামান ও কণ্ঠশিল্পী জিনাত জাহান মুন্নির যৌথ সঞ্চালনায় এবারে নিউ ইয়র্ক তথা বহির্বিশ্বে সর্বাধিক জনপ্রিয় বিনোদমূলক অনুষ্ঠান ঢালিউড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস যারা পেয়েছেন তারা হলেন-সেরা গায়ক (পুরুষ) তাহসান, সেরা গায়িকা (মহিলা) আতিয়া আনিশা, শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতা নজরুল ইসলাম, সেরা টিভি অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী, ওটিটি ওয়েব সিরিজ-দ্য সাইলেন্সের তাসনিয়া ফারিন, ওটিটি ওয়েব ফিল্ম নিকোশের তানজিন তিশা, বিশেষ পুরস্কার দর্শনা বণিক,সেরা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী (জনপ্রিয়) মন্দিরা চক্রবর্তী, সেরা টিভি অভিনেতা  চঞ্চল চৌধুরী. বিশেষ পুরস্কার জায়েদ খান, লোকসঙ্গীত গায়িকা বিন্দু কণা, সুলতানা ইয়াসমিন লায়লা, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা শাকিব খান (প্রিয়তমা), শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী তমা মির্জা (সুরঙ্গ), সেরা পরিচালক রায়হান রাফি (সুরঙ্গ), সেরা পরিচালক হিমেল আশরাফ (প্রিয়তমা), সেরা সঙ্গীত পরিচালক ও গীতিকার কবির বকুল, প্রবাসের উদীয়মান কণ্ঠশিল্পী নিপা জামান, রানো নওয়াজ ও অনিক রাজ, ইয়ং স্টার ইউ টিউবার প্রিসিলা, সেরা নারী উদ্যোক্তা অনুভা শাহীন হোসেন, সেরা উদ্যোক্তা শাহ নেওয়াজ (সিইও, গোল্ডেন এজ হোম কেয়ার), উদ্যোক্তা রুহিন হোসেন (সিইও, রিভারটেল), উদ্যোক্তা নাসির সবুজ (সিইও, এসএনএস হোম লোন), আহমদ শরীফ (আজীবন সম্মাননা) ও তরিকুল ইসলাম মিতু (যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অভিনেতা)। অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে চলে নাচ, গান ও কৌতুক। সঙ্গীত পরিবেশন করেন পুরুস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীরা এবং নৃত্যাঞ্জলির শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন।

Dhallywood 03

শো টাইম মিউজিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর খান আলম জানান, একটানা ২২ বছর ধরে একটি অনুষ্ঠান পরিচালনা করা সহজ কাজ নয়। তবুও সকল চড়াই উতরাই পেরিয়ে আমরা তা করতে পেরেছি। শুধুমাত্র একটি বর্ষসেরা অনুষ্ঠানের আয়োজনের প্রস্তুতির জন্য একবছর ধরে টিম ওয়ার্ক করতে হয়। শো টাইম মিউজিকের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে ঢালিউডের ২২তম আসর আশানুরুপভাবে সাফল্য করতে সক্ষম হয়েছি। অনুষ্ঠানটি সাফল্য করতে যেভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিলো তা সার্থক হয়েছে। আগামীতেও বাংলা সংস্কৃতি ও বিনোদনপ্রেমীরা এভাবে ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদেরকে আরো উৎসাহিত করবেন। তিনি সকল পৃষ্ঠপোষক ও শিল্পী, কলা-কুশলীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

Dhallywood 02


এবারে নিউ ইয়র্কের ঢালিউড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসের পৃষ্ঠপোষকতায় যারা ছিলেন তারা হলেন-টাইটেল স্পন্সর গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ার এবং পাওয়ার্ড বাই রিবার্টেল। গ্রান্ড স্পন্সর নূরুল আমিন, আশা গ্রুপ, এসএনএস হোম লোন, সারা হোম কেয়ার, ইউর ড্রিম হোম কেয়ার, দুলাল বেহেদু, ইভেন্ট পার্টনার বাংলা ট্রাভেল, শাহ গ্রুপ, ফ্রেশ ফুড ইউএসএ, উৎসব গ্রুপ, খলিল বিরানি হাউজ, ইমিগ্রেন্ট এল্ডার হোম কেয়ার, এটর্নি মঈন চৌধুরী, নয়া ডিস্ট্রিবিউটর, সিলেট মটরস্, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, গ্লোবাল এম এস, বেঙ্গল হোম কেয়ার, ফ্রেশ বেকারি এন্ড সুইট, ট্রেনডি ইউএসএ, প্রিমিয়াম রেস্টুরেন্ট, ইত্যাদি গার্ডেন, নবান্ন রেস্টুরেন্ট, সানম্যান এক্সপ্রেস, মাছওয়ালা, শামসুল আলম সোহাগ, মানাস ক্লোজেট, ল অফিসার রুমা জান্নাতুল, ব্লু গ্রীন ইস্টুরেন্স, এস এস ব্রোকারেজ, কর্ণফুলি ট্যাক্স সার্ভিস, মোহাম্মদ এন্ড মজুমদার, কোর ভিশন ও চিশতি সিপিএ। 

নিউইয়র্কে বৃষ্টিতেও জমে উঠে শেরপুর জেলা সমিতির বনভোজন

ইমা এলিস, নিউইয়র্ক: রোববার (৩০ জুন) সকাল থেকেই ছুটোছুটি শুরু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে প্রবাসী শেরপুরবাসীদের। নিজ জেলার ঐতিহ্যবাহী বনভোজন বলে কথা। কেমন হবে আর কত মানুষ হবে এমন হিসাব মেলাতেই শনিবার রাত পার করেছেন বনভোজন উদযাপন কমিটি। কর্মীরা খুবই কর্মঠ। বনভোজনের সবই ঠিক ছিল কিন্তু পড়ন্ত বিকেলে এলো এক পশলা বৃষ্টি। কখনো থামে আবার বারে। এতে মন ভেঙ্গে যায় কর্মীদের। কিন্তু কেউই হাল ছাড়লেন না। বৃষ্টি থেকে শরীর বাঁচাতে সবাই ছুতে গেলেন ছোট্ট প্যাভিলয়নে। অনেকেই আশ্রয় নিলেন নিজ নিজ গাড়িতে। ৩০/৪০ মিনিট পর থেমে গেলো মুষলধারার বৃষ্টি। আবার হই হই করে সবাই ছুটে গেলো মাঠে। শুরু হলো বন্ধ খেলাধুলা। সে কী আনন্দ।

sherpur picnic 07

রোববার (৩০ জুন) নিউ ইয়র্কস্থ প্রবাসী শেরপুর জেলা সমিতি আয়োজিত বনভোজনে শতশত প্রবাসী শেরপুরবাসীসহ তাদের শুভাকাংখী ও বিভিন্ন জেলার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরাও অংশ নেন। দুপুর ১২টার দিকে বেলুন উড়িয়ে বনভোজনের উদ্বোধন ঘোষনা করেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও শেরপুরের কৃতিসন্তান সাংবাদিক মো: আবুল কাশেম।
নিউ ইয়র্কের অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌর্দয়ের সজ্জিত এফডিআর স্টেট পার্কে দিনব্যাপী উক্ত বনভোজনে ছিল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনু্ষ্ঠান ও র‌্যাফেল ড্র। বৈরি আবহাওয়ার ফলে আশানুরুপ মানুষ উপস্থিতি না হলেও আনন্দের কোন ঘাটতি দেখা যায়নি বনভোজনে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি নিউ ইয়র্কের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বেঙ্গল হোম কেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম জামিল বলেন, শেরপুরবাসীর আমন্ত্রণ পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। আপানাদের আনন্দঘন মূহূর্তে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। বৈরি আবহাওয়ায় আপনাদের মত আমিও মর্মাহত কারণ সবাইকে সাথে নিয়েই আনন্দ ভাগাভাগি করার যে বাসনা নিয়ে এসেছিলাম তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হলো না। আগামী বছর নিশ্চয় সেটা পুষিয়ে নেবো।
তিনি বলেন, যেহেতু আমরা হোম কেয়ারের ব্যবসায় সম্পৃক্ত সেহেতু সবার আমন্ত্রণেই ছুটে যেতে হয়। আপনাদের ঘরে বয়স্ক ব্যক্তি থাকলে তাদের যত্ন সেবার দায়িত্ব আমরা নেবো। প্রয়োজন হলে সরাসরি যোগাযোগ করবেন কোন তৃতীয় পক্ষ বা ভায়া নিয়ে কাজ করবেন না।

sherpur picnic 06

প্রধান উপদেষ্টা সাংবাদিক মো: আবুল কাশেম বলেন, বৈরি আবহাওয়ায় কারও হাত নেই। আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা থাকবে বনভোজনে আগত অতিথিদের সেবা ও  আপ্যায়নে যেন কোন ক্রটি না ঘটে। প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে এই একটি মাত্র দিনেই আমরা একত্রিত হয়ে থাকি, আনন্দ করে থাকি। আজকে আবহাওয়ার কারণে আনন্দ না হয় একটু কমই হলো, তাতে কি, বেঁচে থাকলে আগামী বছর আনন্দ হবে।
তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে শেরপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার তাগিদে আমরা শুধু বনভোজনেই করে থাকি তা নয়। দেশীয় সকল সংস্কৃতির সাথে আমরা সংযুক্ত থাকারও চেষ্টা করি। আর এ জন্য শেরপুর জেলার ইতিহাস প্রচার ও উন্নয়্নের জন্যও প্রবাসী শেরপুরবাসীকে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহবান জানান তিনি।
বাংলাদেশে বেড়াতে যাওয়ার সময় প্রবাসী শেরপুরবাসীদের কাছে শতকরা ৩০ শতাংশ মূল্যহ্রাসে বিমানের টিকেট বিক্রি করবেন বলে ডিজিটাল ট্রাভেলস (অ্যাস্টোরিয়া)প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নজরুল ইসলাম ঘোষনা দেন। তার এ ঘোষনায় সকলেই আনন্দিত হয়ে ওঠেন। দেশে যাবার আগে এসময় তার সাথে যোগাযোগ করারও অনুরোধ করেন তিনি।
বনভোজনে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রবাসী শেরপুর জেলা সমিতির সভাপতি নাহিদ রায়হান লিখন বলেন, দেশীয় শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য শেরপুরবাসীদেরকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। এর জন্য তিনি নিউ ইয়র্কের সকল শেরপুরবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্ববান জানান।

sherpur picnic 01

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রবাসী শেরপুর জেলা সমিতির সাধারন সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা মামুন রাশেদ, আহবায়ক প্রদোষ চক্রবর্তী, যুগ্ম আহবায়ক মোঃ মাসুদ পারভেজ মুক্তা, প্রধান সমন্বয়কারী মোঃ আক্তারুজ্জামান, সদস্য সচিব মোঃ ছামেদুল হক ঝন্টু, যুগ্ম সদস্য সচিব রেখা জামান চৌধুরী ডলি প্রমুখ।
বনভোজনে বিশেষ অতিথি ও নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ফাহাদ সোলায়মান, সাপ্তাহিক জন্মভুমির সম্পাদক রতন তালুকদার, সাপ্তাহিক প্রবাসের সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, উত্তর আমেরিকা প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক মঞ্জুরুল হক, সাপ্তাহিক খবরের সম্পাদক ফরিদ আলম, সাপ্তাহিক খবর ডটকমের সম্পাদক মশিউর রহমান মজুমদার, ক্রেডিট রিপেয়ার ও কোর মাল্টি সার্ভিসেসের নির্বাহী প্রধান মোহাম্মদ আবুল কাশেম, জাতিসংঘ মিশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন উক্ত বনভোজনে উপস্থিত ছিলেন।  
প্রবাসী শেরপুরবাসীর এবারের বনভোজনে র‍্যাফেল ড্র’র জন্য প্রথম পুরুস্কার নিউ ইয়র্ক-ঢাকা-নিউ ইয়র্ক বিমান টিকেট অনুদান প্রদান করেন বেঙ্গল হোম কেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম জামিল।