Home Blog Page 552

২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট পাস

সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য সাত লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়েছে।

আজ রোববার স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে এ বাজেট কণ্ঠভোটে পাস হয়। কার্যকর হবে আগামী ১ জুলাই থেকে। এর আগে রাষ্ট্রপতির সম্মতিসাপেক্ষে নির্দিষ্টকরণ আইন গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে।

শনিবার বিকেলে সংসদে অর্থ বিল উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং পরে সেটি সংসদে পাস হয়।

অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গত ৬ জুন জাতীয় সংসদে ‘টেকসই উন্নয়নের পরিক্রমায় স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা’ স্লোগান সম্বলিত এ বাজেট পেশ করেন।

আজ বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোট ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করেন। এই মঞ্জুরি দাবিগুলো সংসদে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।

এসব মঞ্জুরি দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে বিরোধীদলের ছয়জন সংসদ সদস্য মোট ২৫১টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মধ্যে আইন ও বিচার বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় খাতে তিনটি মঞ্জুরি দাবিতে আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর স্বতন্ত্র ও বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করেন। পরে কণ্ঠভোটে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়।

ছাঁটাই প্রস্তাবে আলোচনা করেন জাতীয় পার্টির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, স্বতন্ত্র সদস্য হামিদুল হক খন্দকার, পংকজ নাথ, আবুল কালাম ও নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। এরপর সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২৪ পাসের মাধ্যমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করেন।

এর আগে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটের ওপর বক্তব্য রাখেন। বাজেটের ওপর প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও অর্থমন্ত্রীসহ ২৩৬ এমপি বক্তব্য রাখেন। গত ১১ জুন থেকে আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র এমপিরা।

বাজেটে ব্যক্তির সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ প্রস্তাব করা হলেও সংসদ তা গ্রহণ করেনি। এর পরিবর্তে সর্বোচ্চ কর বিদ্যমান ২৫ শতাংশই বহাল থাকছে। বাজেট প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী করহারের ধাপে কিছুটা পরিবর্তন এনে সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেছিলেন।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য সাত লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এ বাজেটে অনুদান ছাড়া ঘাটতি ধরা হয়েছে দুই লাখ ৫৬ হাজার টাকা। গত ৬ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল হাসান মাহমুদ আলীর এটা প্রথম বাজেট।

মূল্যস্ফীতি কমিয়ে বড় প্রবৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করে যে বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী অনুদান ছাড়া ঘাটতি ধরা হয় দুই লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। অনুদানসহ সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হয়েছে দুই লাখ ৫১ হাজার ছয় শ’ কোটি টাকা। এছাড়া চার হাজার চার শ’ কোটি টাকা অনুদান পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

এই ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ২৭ হাজার দুই শ’ কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হবে ৩৬ হাজার পাঁচ শ’ কোটি টাকা। এতে নিট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়াবে ৯০ হাজার সাত শ’ কোটি টাকা।

আর অভ্যন্তরীণ ঋণ নেয়া হবে এক লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেয়া হবে এক লাখ ৩৭ হাজার পাঁচ শ’ কোটি, যার ৭২ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ এবং ৬৪ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা স্বল্পমেয়াদি ঋণ। ব্যাংকবহির্ভূত ঋণ নেয়া হবে ২৩ হাজার চার শ’ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ১৫ হাজার চার শ’ কোটি টাকা।

বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার পাঁচ শ’ কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। আর বৈদেশিক ঋণের সুদ ২০ হাজার পাঁচ শ’ কোটি টাকা।

এবার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) লক্ষ্যমাত্রা চার লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরবহির্ভূত কর ধরা হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। আর কর ব্যতীত প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ছয় হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে আবর্তক ব্যয় চার লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা। আর দেশী-বিদেশী ঋণের সুদ পরিশোধ এক লাখ ১৩ হাজার পাঁচ শ’ কোটি টাকা। এবার মূলধন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা।

বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ৮১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্কিমে ব্যয় হবে পাঁচ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা। এডিপিবহির্ভূত বিশেষ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে সাত হাজার ৬২৭ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। আর কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি (এডিপিবহির্ভূত) ও স্থানান্তরে দুই হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

উগ্র আধিপত্যের বিরুদ্ধে নির্বাচনী ঝড় তুললেন কংগ্রেস মেম্বার এওসি, জামাল ও সেনেটর বার্নি সাণ্ডার্স

নিউইয়র্কের ব্রংকসে ডেমোক্রেট প্রাইমারি ইলেকশন সমাবেশে কালোটাকার বিরুদ্ধে গণমানুষের অবাধ সমর্থনের পক্ষে বয়ে গেছে নতুন এক ঝড়। কংগ্রেসম্যান জামাল বোম্যান এর পক্ষে ইলেকশন সমাবেশে এক ঝড়ো বক্তব্য রেখেছেন মার্কিন কংগ্রেসের তুমুল জনপ্রিয় নেতা আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থৗ প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ বার্নি সান্ডার্স। ওই সমাবেশে ১৪ দফা এজেণ্ডা নিয়ে উপস্থিত ছিলেন ডেমোক্রেট সংগঠন পিপল ইউনাইটেড ফর প্রোগ্রেস এর প্রেসিডেন্ট স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদ।

IMG 1647 1

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিবাসন প্রত্যাশী সকল অভিবাসীর স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দান, সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদেরকে যথাযথ কাজে লাগানো এবং প্যালেস্টাইন ইস্যুতে নিজেদের মতামত প্রকাশ করায় ইউনিভার্সিটি থেকে বহিস্কৃত ছাত্রছাত্রীদেরকে শাস্তির আদেশ প্রত্যাহার করা, কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা ও ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ দেয়াসহ ১৪ দফা এজেণ্ডা সামনে এনেছে পিপল আপ। নির্বাচনী সমাবেশ শেষে স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদ সৌজন্য বিনিময় করেন কংগ্রেস ওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ, জামাল বোম্যান ও মার্কিন কংগ্রেসের সিনিয়র সিনেটর বিশ্বখ্যাত সমাজতান্ত্রিক নেতা বার্নি সাণ্ডার্স এর সঙ্গে। পুরো আয়োজনটি ছিল ডেমোক্রেটদের অভূতপূর্ব এক মিলন উৎসব।

IMG 1633

অগ্রীম নির্বাচনের একদিন আগে ২২ জুন, শনিবার ব্রংকস এর নির্বাচনী সমাবেশে ছিল আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও এবং জামাল বোম্যানের পক্ষে ডেমোক্রেট সমর্থকদের উৎসবমুখর উপস্থিতি। তীব্র গরম ও রোদ্দুরের ভেতর পার্কের শীতল পরিবেশ ছাপিয়ে খোলা জায়গার সমাবেশ হয়ে ওঠে উত্তাপে পূর্ণ। সেখানে উত্তাপ ছড়ান উপস্থিত ডেমোক্রেট নেতা ও নির্বাচিত কর্মকর্তারা। টাকার চেয়ে জনগণের শক্তি কত শক্তিশালী হতে পারে, গণহত্যা ও যুদ্ধের বিপক্ষে শান্তির প্রত্যাশা কত গণমুখি হতে পারে, সাধারণ মানুষ কোথায় দাঁড়িয়ে তাদের সুখ ও শান্তি অন্বেষণ করছেন, সে বিষয়গুলোই উঠে আসে বক্তাদের বক্তব্য, শ্লোগানসহ নানা ভঙ্গিমার ভেতর দিয়ে।

IMG 6768 1 edited

আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ বলেন, ওয়ার্ল্ড স্ট্রীটকে ছুড়েঁ ফেলে দেয়ার জন্য কি আমরা প্রস্তুত ? কারণ আমরা রীতিমতো ক্লান্ত কর্পোরেট লবিষ্টদের দৌরাত্মে। চীন আমাদের কমিউনিটিকে কিনে ফেলছে এবং সর্বাধিক ঋণগ্রস্থ দেশে পরিণত হতে যাচ্ছি আমরা। আমরা জানি, কেন আমরা এখানে , আমরা জানি যুক্তরাষ্ট্র এখন কোথায় দাড়িঁয়ে । আমাদের এখানে বিশাল বর্হি:বিশ্বের  প্রভাব রয়েছে । চীন আমাদের প্রতিনিধিত্ব কেনার চেষ্টা করছে কারণ তারা আমাদের পছন্দসই ব্যক্তিকে পছন্দ করে না। কিন্তু আমরা জানি যে নিউ ইয়র্ক সিটির ১৬তম জেলা প্রতিনিধিত্ব করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি হলেন জামাল। জামাল বোম্যান।

এ ওসি বলেন, আমাদের ভাবনা ভিন্ন, এখানে কেউ আমাদের এগিয়ে যাবার পথে বাধাঁ হয়ে দাড়াতেঁ পারবে না। আমরা জানি রাজনীতিতে দখরদারিত্ব কি, হস্তক্ষেপ কি ! আমরা জানি কষ্ট কি ! কেন আমরা এতো পরিশ্রম আর একত্মতার পরও এগিয়ে যেতে বাধাঁ গ্রস্থ হচ্ছি । জামাল দক্ষিণ ব্রঙ্কসের একজন শিক্ষক ছিলেন । তিনি আক্রমনের শিকার হয়েছিলেন  বর্ণবাদ, রাজনৈতিক দুর্নীতি আর অর্থ জালিয়াতদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কারণে। জামাল ব্যোমান প্যালেস্টাইনদের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি প্রথম কংগ্রেস ম্যান যিনি গাঁজায় ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক বলেছেন। তিনি করপোরেট লবিষ্ট আর অসৎ অর্থকে ভয় পাননি, গ্রহণও করেনি। কোন ওয়ার্ল্ডস্ট্রীট নয়, কোন আবাসন খাত নয় , কোন এপিক নয় , এ কারণে তাকে বের করে দেবার পায়ঁতারা  চলছিল। কিন্তু সেগুলো কাজে আসে নি । কেননা তিনি জানেন তার  দায়িত্ব কি।  ব্রংকস এর মানুষের প্রতি তার দায়িত্বে তিনি শতভাগ অবিচল। জামালের বিরুদ্ধে এখন ২০ মিলিয়নের বেশি অর্থ খরচের চেষ্টা চলছে। যেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাইমারি ভোট নিবার্চনের পেছনে ব্যয় হতে যাওয়া সবোর্চ্চ কালো টাকা । এই ২০ মিলিয়ন ডলার কেবল এসেছে তাদের কাছ থেকে, যারা অনেক বেশি শক্তিশালী এবং তারা আমাদের জনগনের কথা ভাবে না। ওয়ার্ল্ড স্ট্রীট যারা পরিচালনা করে, যারা আবাসন খাত পরিচালনা করে। তারা আমাদের মৌলিক চাহিদার কথা ভাবে না।

IMG 1647

তিনি বলেন, এটি আমাদের শেষ লড়াই । আমাদের এখন যুদ্ধ সম্পদশালী বনাম সাধারণ মানুষের। এই নির্বাচনে আমাদের বার্তা দিতে হবে, কালো টাকা, বর্ণবাদ, চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ ও ক্ষতিকর মাদকের বিরুদ্ধে। আপনারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমৃদ্ধশালী করতে এগিয়ে আসুন।

মার্কিন কংগ্রেসম্যান জামাল বোম্যান তার দৃঢ় বক্তব্য ও উপস্থাপনায় মঞ্চে আলাদা এক আবহ ছড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি। এটি এখন সবার কাছে পরিস্কার আমরা কারা? আমাদের পরিচয় কি? আমরা যখন সবকিছু পিছনে ফেলে মিলেমিশে কাজ করবো তখন আমাদের কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না। আমরা এখন আমেরিকার ইতিহাসে এমন এক জায়গায় আছি যেখানে সকল ধরনের ভাল কাজ সমাজকে কেন্দ্র করে যা, তা আমরা সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। আমরা ন্যায়ের পক্ষে কাজ করছি , আবাসনের পক্ষে কাজ করছি , মানবাধিকারের অংশ হিসাবে আমরা দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য সেবা ,  আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছি। কোন অবৈধ অর্থ সংগ্রহে নয়, পেশী শক্তি প্রদর্শনে নয়। আমাদের কেউ থামিয়ে দিতে পারবে না। আমরা শিক্ষা খাতে সবোর্চ্চ ব্যয় করবো। আমরা কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিব না। আমরা কোনো দুর্নীতিবাজদের কাছে হার মানবো না ।  প্যালেস্টাইনের পক্ষে যে লড়াই শুরু হয়েছে, তা চালিয়ে যাবো। জনগণ ও ন্যায়ের পক্ষে আমাদের অবস্থান পরিস্কার।

IMG 6775

প্রখ্যাত গণতান্ত্রিক সমাজবাদি নেতা, মার্কিন কংগ্রেসের সিনিয়র সিনেটর বার্নি সান্ডার্স ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে জামাল বোম্যানকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাকে নিবার্চিত করার মাধ্যমে বার্তা দিতে হবে যে ইসলায়েল গাজাঁয় যা করছে তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। গাজাঁয় হাজার শিশু অপুষ্টিহীনতার সাথে লড়াই করছে , যুদ্ধ করছে , এবং ক্ষুধায় নিমজ্জিত হচ্ছে । অ্যামিরকান নাগরিকরা কখনো তা চায় না, ডেমোক্রাটরা তা চায় না। জামাল এটা অনুভব করে যে , গাজাঁয় ৭০ শতাংশ বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা ইসরায়েলের কোন অধিকার নেই। গাজাঁয় কোন খাবার নেই, হেলথ কেয়ার সিস্টেম নেই , কোন বিদ্যুৎ নেই । আমাদের প্রয়োজন টু স্টেট পলিসির বাস্তবায়ন। আমাদের এই নিবার্চন খুবই গুরুত্বপূর্ণ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। তিনি বলেন,  এই প্রাথমিক ইলেকশন ক্যাম্পেইনকে কেন্দ্র করে বহু পেশি শক্তি অর্থের খেলায় নিমজ্জিত হয়েছে এরই ভেতর। তাদের জানিয়ে দিতে হবে যে তারা চাইলেও আমেরিকার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে দেয়া হবে না। গণতন্ত্র এক শতাংশ বিলিনিওয়রদের  ভোট নয়। আপনাদের জানাতে চাই , এই সিলেকশন কেন জাতীয় ভাবে গুরুত্বপূর্ন । তারা যদি কোনা ভাবে জামালকে পরাজিত করতে সক্ষম হয় তাহলে প্রতিটি সদস্যের প্রতিনিধিত্ব দেখবে ড্র্যাগ কোম্পানিতে, যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস করে এমন সব কোম্পানিতে যারা জলবায়ুর ঝুকিঁ আরো বাড়িয়ে দেবে বড় বড় কোম্পানিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে, কার্বণ নি:সরনের মাধ্যমে।

নিউইয়র্কে বণার্ঢ্য আয়োজনে উদযাপিত আওয়ামী লীগের ৭৫ বছর জন্মজয়ন্তী

বণার্ঢ্য আয়োজনে নিউইয়র্কে উদযাপিত হলো আওয়ামী লীগের ৭৫ বছর জন্ম জয়ন্তী উৎসব। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ইতিহাসে এই প্রথম এতও জাকজমকপূর্ন আয়োজনে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র আয়োমীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান কতৃর্ক কমিটি পুর্নবিন্যাস ও পুর্নগঠনের পর প্রাণ ফিরে পেয়েছে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠনটি। তার বহিঃপ্রকাশ পায় রোববার ২৩ জুন জ্যাকসন হাইটসে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠার প্লাটিনাম জয়ন্তী অনুষ্ঠানে।

IMG 4531

ডাইভারসিটি প্লাজায় ট্রাকের ওপর স্থাপিত ডিজিটাল স্ক্রিনে ভেসে উঠছিল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সময়কালের নানা ইতিহাস । ইতিহাসের স্বাক্ষর মাওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান, শামসুল হক, মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্ক বাগীশ, তাজউদ্দীন আহমেদ ও শেখ হাসিনা সহ অনেক নেতানেত্রীর প্রতিচ্ছবি পর্দায় ভেসে উঠছিল। বেজে উঠছিল ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষন। ডাইভারসিটি প্লাজা ছিল আওয়ামী লীগ সর্মথিত নেতা কর্মিদের পদভারে মুখরিত। সবাই জন্ম উৎসবের ব্যাজ পড়ে ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে পথ শুভযাত্রায় শুভ শুভ জন্মদিন বলে শ্লোগান দিচ্ছিলেন। কেক কেটে নিজ হাতে নেতা কর্মিদের হাতে তুলে দিচ্ছিলেন সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী সাহানা রহমান। মনিকা রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে শিল্পীদের দেশাত্মবোধক গানগুলো সবার মন জয় করে। অনুষ্ঠানের শেষে নেতাকর্মি ও সাধারন মানুষের মাঝে বিরানী বিতরন করা হয়।

IMG 4527

অনুষ্ঠানের সভাপতি ড, সিদ্দিকুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নিউইয়র্কে ইতিহাস তৈরি করলো। প্রবাসে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে সংগঠনের জন্মদিন উদযাপন এটাই প্রথম। এ জন্য প্রবাসের নেতাকর্মিদের অসংখ্য ধন্যবাদ। অনেক বক্তা বলেন, ড. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে সংগঠন উজ্জীবিত ও এগিয়ে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে আসলে কিছু ঘুমন্ত নেতা নামধারী চক্রান্তকারি ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেন। এবার তা হতে দেব না। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করবে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ ও প্রচার সম্পাদক আব্দুল হামিদ। বক্তব্য রাখেন সহ সভাপতি ডা: মাসুদুল হাসান,সামছুউদ্দীন আজাদ,লুৎফর করীম,কাজী কযেস,যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দুরুদ মিয়া রলেন,তারিকুল হায়দার চৌধুরী,

IMG 4519

প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল হামিদ,নিউইয়র্ক মহানগর আওযামী লীগের সভাপতি রফিকুর রহমান,সাধারন সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী,শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দীন,প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক নাফিকুর রহমান তুরান,অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক সরিফ কামরুল হিরা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বন ওপরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আলীয় হোসেন গজনবী,উপদপ্তর সম্পাদক আব্দুল মালেক,যুক্তরাষ্ট্র আওযামী লীগের কার্ষকরি সদস্য সাহানারা রহমান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান চৌধুরী,বীর মুক্তিযোদ্ধো সিরাজ উদ্দীন সরকার,আবুল কাসেম,বুদরুজ্জামান পান্না,সাইফুল আলম,এবাদুল হক,শাহ আল শফি আনসারী,মো:হারুন অর রশীদ,ফুয়াদ হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লিটন, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেত্রী মমতাজ শাহনাজ,নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মাসুদ হোসেন সিরাজী,যুগ্নসাধারন সম্পাদক আশরাফ আলী খান লিটন,সাংগঠনিক সম্পাদক গনেশ কীর্তনিয়ী,যুবলীগ নেতা সেবুল মিয়া,যুবলীগ নেতা রহিমুজ্জামান সুমন,যুক্তরাষ্ট্রের স্বেচ্ছাসেবক নেতা গোলাম কিবরিয়া, ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদ হাসান যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ নেতা রায়হান মাহমুদ,প্রমুখ।

IMG 4525

আমিরাতের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহŸান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউএই’র বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে দেশটির রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলি আবদুল্লাহ খাসেফ আলহামউদির সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহŸান জানান। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মো. নাঈমুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
প্রধানমন্ত্রী ও ইউএই রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ থেকে কোনো অবৈধ অভিবাসীকে অনুমতি না দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, তার দেশ চাকরি নিশ্চিত হয়ে বাংলাদেশি জনশক্তিকে ভিসা দেবে।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমিরাতের কিছু মন্ত্রী খুব শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন এবং তারা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার নতুন উপায় খুঁজবেন। তিনি বলেন, আমাদের ইতোমধ্যেই বেশ বিস্তৃত এবং গভীর বন্ধন রয়েছে, তবে আমরা এটিকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগ্রহী।
আলহামউদি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২০,০০০ মানুষ সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাচ্ছেন। আমিরাতের দূতাবাস প্রতিদিন প্রায় ১০০০টি ভিসা দিচ্ছে, সরাসরি ৫০০ এবং ৫০০টি এজেন্টদের মাধ্যমে।
রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীকে তার দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, ইউএই’র প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম তাকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
ইউএই রাষ্ট্রদূত কনটেইনার টার্মিনালসহ বাংলাদেশে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, তার দেশের একটি কোম্পানি বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচলে অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম (এপিআইএস) সরবরাহ করতে চায়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, এ বিষয়টি এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশে এখন ভ্রমণের আগে এয়ারলাইন্স থেকে যাত্রীদের বিস্তারিত তথ্যের প্রয়োজন হয়। এটি অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন (এপিআই) নামে পরিচিত।

পবিত্র হজ শুরু আজ

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে আজ। হজ পালন করতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইতোমধ্যে সৌদি আরবের মিনায় পৌঁছে গেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর কেউ হেঁটে, কেউ বাহনে চড়ে সেখানে জড়ো হয়েছেন। ‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে আজ মুখরিত হবে তাঁবুর শহরখ্যাত মিনার প্রান্তর। সারা বিশ্বের প্রায় ২০ লাখ মানুষ এবার হজে অংশ নিচ্ছেন। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে হজে গেছেন ৮২ হাজার ৭৭২ জন। ৯ জিলহজ (১৫ জুন) আরাফাতের ময়দানে হজের মূলপর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে মিনা। হজের অংশ হিসাবে আজ ৮ জিলহজ মিনায় সারা দিন থাকবেন হাজিরা। ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। সন্ধ্যার পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওয়ানা করবেন। সেখানে রাত যাপন ও পাথর সংগ্রহ করবেন। ১০ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরে আসবেন। এরপর বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, কুরবানি ও মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে স্বাভাবিক পোশাকে মক্কায় কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন। তাওয়াফ, সাঈ শেষে মিনায় ফিরে গিয়ে ১১ ও ১২ জিলহজ অবস্থান এবং প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন। শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের সময় যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য সৌদি হজ কর্তৃপক্ষ প্রতিবারের মতো বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গতবারের মতো এবারও প্রচণ্ড গরমের ভোগান্তি সঙ্গী হচ্ছে হজযাত্রীদের। হজের সময় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও পৌঁছাতে পারে বলে হজযাত্রীদের সতর্ক করেছে মক্কার আবহাওয়া দপ্তর। বলা হয়েছে, এ বছর হজযাত্রীরা কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারেন। এর মধ্যে তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি অন্যতম। সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুহাম্মদ আল-আব্দুল্লাহিল বলেছেন, উচ্চ তাপমাত্রা হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
চলতি বছর মক্কায় প্রবেশের তাসরিহ বা নুসুক কার্ড ছাড়া কাউকে পাওয়া গেলে ১০ হাজার সৌদি রিয়াল অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধান করা হয়েছে।
ডিজিটাল এ নুসুক কার্ডে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীর প্রয়োজনীয় সব তথ্য থাকে। হজের জন্য মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা, মসজিদুল হারামে প্রবেশ করতে চাইলে এ কার্ড অবশ্যই দেখাতে হবে। সৌদি আরবে এবার হজ পালন করতে গিয়ে স্বাভাবিক কারণে এখন পর্যন্ত ১৫ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪ জন পুরুষ ও ১ জন নারী। মক্কায় মারা গেছেন ১১ জন এবং মদিনায় ৪ জন।

ঈদে ঘরমুখো মানুষের স্রোত, ট্রেন ও লঞ্চে স্বস্তি, সড়কে যানজট-দুর্ভোগ

সরকারি অফিস ছুটি হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ের বেশির ভাগ অফিসও ছুটি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আপনজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরমুখো মানুষের স্রোত। কেউ যাচ্ছেন সড়কপথে, কেউ ট্রেনে এবং কেউ বা যাচ্ছেন লঞ্চে। সরকারের নানা তৎপরতায় বড় ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই ট্রেনে বাড়ি ফিরছে মানুষ। লঞ্চযাত্রায়ও তেমন ভোগান্তি নেই। তবে সড়কপথে যানজটে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বাড়িফেরা মানুষ। পাশাপাশি বাসের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে যাত্রীদের অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কাটা যাত্রীরা বুধবার থেকে যাত্রা শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার ছিল ট্রেনযাত্রার দ্বিতীয় দিন। প্রথম দিন অধিকাংশ ট্রেন বিলম্বে চলাচল করলেও দ্বিতীয় দিন সময় অনুযায়ী চলাচল করেছে। বৃহস্পতিবার বিকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেছেন রেলপথমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিমসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার সরেজমিন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায় ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিন প্ল্যাটফর্ম ও স্টেশনে উপচে পড়া ভিড়। বিনা টিকিট রোধে স্টেশনে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিন স্তরবিশিষ্ট চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে বাঁশ দিয়ে বিশেষ লাইন। রেলওয়ে-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শতচেষ্টায়ও বিনা টিকিট রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। কাউন্টার থেকে আসনযুক্ত কোনো টিকিট বিক্রি হচ্ছে না। তবে বিভিন্ন কাউন্টার থেকে স্ট্যান্ডিং টিকিট কাটতে দেখা গেছে যাত্রীসাধারণকে। অনলাইনে টিকিট কাটতে ব্যর্থ হওয়ায় কিছু যাত্রী আসনবিহীন টিকিট কেটে ট্রেনে ভ্রমণ করছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মধ্যরাত পযর্ন্ত ৪৫টি আন্তঃনগর ট্রেন কমলাপুর থেকে ছেড়ে গেছে।
বিলম্বে চলা কিছু ট্রেনের মধ্যে রাজশাহী কমিউটার ট্রেন প্রায় ২ ঘণ্টা দেরিতে কমলাপুর থেকে ছেড়ে গেছে। এছাড়া চট্টলা এক্সপ্রেস ১টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ছেড়েছে ৩টা ১৫ মিনিটে। বনলতা এক্সপ্রেস, অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস, নকশিকাঁথা এক্সপ্রেস ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা দেরিতে চলাচল করে।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে রেলপথমন্ত্রী কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শন শেষে প্ল্যাটফরমে দাঁড়ানো সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনে ভ্রমণ করা যাত্রীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় রেলপথমন্ত্রী বলেন, আমরা সফলতার সঙ্গে বুধবার যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছি, যা সম্ভব হয়েছে রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তা বাহিনীদের সহযোগিতায়। আমরা চেষ্টা করছি সীমিত সামর্থ্যরে মধ্যেই যাত্রীদের বাড়ি পৌঁছে দিতে। এ সময় রেলপথ সচিব ড. হুমায়ুন কবীর, মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলীসহ রেলওয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার সরেজমিন রাজধানীর বহির্গমন মুখগুলো ঘুরে দেখা হয়। গাবতলী ও মহাখালী হয়ে উত্তরা রুটে তেমন কোনো দুর্ভোগ ছিল না। তবে গুলিস্তান, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী ও শ্যামপুর হয়ে যারা বাড়ি ফিরেছেন, তাদের অন্তহীন দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে সায়েদাবাদ বাসটার্মিনাল ও আশপাশের বাস কাউন্টার এবং ঢাকা-মাওয়া সড়কের যাত্রাবাড়ী মোড়ে বাস কাউন্টারগুলোয় যাত্রীর প্রচুর চাপ দেখা যায়। তবে বিকাল ৫টার পর থেকে সায়েদাবাদ বাসটার্মিনালে এবং এর আশপাশের বাস কাউন্টারগুলোয় যাত্রীদের তেমন একটা চাপ দেখা যায়নি। অফিস ছুটির পর যাত্রীদের চাপ বেড়ে যায়।
বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীতে মুষলধারে বৃষ্টি নামে। এতে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট থমকে যায় যাত্রীদের চলাচল। এরপর বৃষ্টিতে ভিজেই বাসটার্মিনাল ও কাউন্টারগুলোয় আসতে দেখা যায়। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর উপচে পড়া ভিড় হয়। কাউন্টারগুলোয় বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের বাসের অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়।
চাঁদপুর-কচুয়াগামী নিয়াজ সেমি তার বোন নিশিকে নিয়ে বিকাল পৌনে ৪টায় সায়েদাবাদ বাসটার্মিনালে যান। তিনি বলেন, আমার বিশ্ববিদ্যালয় ও বোনের স্কুল বন্ধ হয়েছে বুধবার। বিকাল ৫টার পর যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাবে। সেজন্য একটু তাড়াতাড়ি রওয়ানা হলাম।
আবুল কালাম স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বরিশাল যাচ্ছেন যাত্রাবাড়ী মোর বাস কাউন্টার থেকে। তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ২৫০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে টিকিট কেটেছি। তাকে বিআরটির কাছে অভিযোগ করার কথা বললে তিনি বলেন, এসব সবই বিআরটির লোকজন জানেন। আমি বললে হয়তো লোকদেখানো একটু তদারকি করবে আবার আমি চলে গেলে যেই সেই হবে। বলে সময় নষ্ট না করাই ভালো।
এদিকে পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ সড়কপথে বাড়ি ফিরছেন। আগে যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরিঘাটে অপেক্ষা করতে হতো, সেখানে এখন ৬ থেকে ৭ মিনিটেই পদ্মা সেতু দিয়ে গন্তব্যে যেতে পারছেন তারা। এতে তাদের মনে স্বস্তির ভাব দেখা যায়।
বরিশালগামী বাসের যাত্রী মনির হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার দ্রব্যমূল্যে আমাদের কষ্ট দিলেও পদ্মা সেতু করে বাড়িতে দ্রæত যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এজন্য সরকারের প্রতি আমি অত্যন্ত খুশি। কেননা আগে আমাদের চলাচলের একমাত্র পথ ছিল লঞ্চ। সেখানে নানা অব্যবস্থায় অনেক দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আশরাফ ইমাম বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে বাস ও যাত্রীর চাপ প্রচুর পরিমাণে বেড়ে যায়। সড়কের স্পেসের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায় যানবাহন। যে কারণে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করার পরও সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। তখন আমাদের মনে কষ্ট হয়। তারপরও আমরা হাল ছাড়িনি। ঈদে মানুষ যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে যেতে পারে, আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দীর্ঘ যানজটে নাকাল হতে হয়েছে যাত্রী ও বিভিন্ন পরিবহণচালকের। রাজধানীর শ্যামপুর, জুরাইন, পোস্তগোলা, গুলিস্তান, হানিফ ফ্লাইওভারসহ আশপাশের এলাকাজুড়ে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। প্রায় প্রতিটি সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ লাইনে থাকা যাত্রী ও চালকদের নাভিশ্বাস উঠেছে। গুলিস্তান হানিফ ফ্লাইওভার ও নিচের সড়ক থেকে শুরু হওয়া যানজটের দীর্ঘ লাইন পোস্তগোলা ব্রিজ পর্যন্ত এসেছে বলে মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
এদিকে দীর্ঘ এ যানজট নিরসনের জন্য ওয়ারী ট্রাফিক বিভাগ পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে। সড়কে নানা অনিয়মের জন্য নিয়ন্ত্রণহীন যানজটের কবলে পড়ে কর্মস্থলে যাওয়া মানুষ ও সাধারণ যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে। তবে এ বিরক্তিকর যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগ অক্লান্ত পরিশ্রম করছে।
সরেজমিন দেখা যায়, রাজধানীর মতিঝিল থেকে শুরু হয়ে গুলিস্তান থেকে যাত্রাবাড়ী সায়েদাবাদ এলাকার সড়কের দুপাশেই ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও শ্যামপুর থানাধীন জুরাইন রেলগেটসংলগ্ন মহাসড়কের দুই পাশে নারায়ণগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ থেকে আসা সিএনজি ও অন্যান্য পরিবহণ পার্কিং করে রাখায় যানজট আরও দীর্ঘ হয়েছে।
এদিকে প্রতিদিনের মতো সড়কের দুপাশের এলাকায় প্রাইভেট কার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। মূল সড়কে যানজট থাকায় অনেকে অলিগলির রাস্তার প্রাইভেট কার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে ঢুকে পড়েছেন বলে সেখানেও দেখা দিয়েছে যানবাহনের লম্বা লাইন।
যানজটে আটকে থাকা জুরাইন এলাকার বসিন্দা মো. নান্নু বলেন, জুরাইন থেকে রাইদা নামের যাত্রীবাহী বাসে উঠে দীর্ঘ যানজটের কারণে তিন থেকে চার ঘণ্টা সড়কে আটকে আছি। তবে সকাল থেকে প্রতিটি সড়কের অসহনীয় যানজট শুরু হয়েছে। এতে দূরদূরান্ত থেকে আসা অফিসগামী যাত্রীদের নাভিশ্বাস উঠেছে।
যানজটের বিষয় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দোলাইখালে মেইন সড়কে বসছে কুরবানির গরুর বাজার, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক যাত্রাবাড়ী থানাধীন শনিরআখড়া মেইন সড়কে গরুর হাট বসানোয় এ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দীর্ঘ যানজট দেখা দিয়েছে।
পোস্তগোলার যাত্রী শেখ ওমর ফারুক বলেন, ঢাকা শহরের সব রাস্তা কাটার কারণে বেশি যানজট লেগেই থাকে। যানজটের বিষয়ে শ্যামপুরের বাসিন্দা প্রাইভেট কার চালক মোখলেস বলেন, জুরাইনে সড়কের দুপাশে অবৈধ নানা স্থাপনা, অন্যদিকে নিষিদ্ধ জেলার সিএনজি পার্কিং করে রাখা-সবমিলিয়ে শ্যামপুরে সবসময় যানজট লেগেই থাকে।
এ বিষয়ে জুরাইনের ট্রাফিক পুলিশ টিআই মো. ইসমাইল বলেন, ঈদ সামনে রেখে সকাল থেকে সড়কের অন্যা দিনের তুলনায় গাড়ির চাপ বেশি হয়েছে। পাশাপাশি শ্যামপুরের দিকে সব ফিডার রোডের কাজ করার কারণে ভেতরের সড়কে গাড়ি চলাচল করতে না পারায় এলাকায় যানজট একটু বেশি।
এদিকে যানজটের কারণে অনেকেই সকাল থেকে কর্মস্থলে বের হয়েছেন বলে সড়কের ওপর চাপও বেড়েছে। এ বিষয়ে ডিসি ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগ আশরাফ ইমাম বলেন, কুরবানির গরু রাখতে না দেওয়া, যথাস্থানে গরু আনলোড করা এবং ভারী যানবাহনগুলোকে দিনে শহরে প্রবেশ না করতে দেওয়ার কারণে কুরবানির হাটের জন্য যানজট বৃদ্ধি পায়নি। তবে ঈদ উপলক্ষ্যে ঘরমুখী মানুষের যাত্রার কারণে এবং যানবাহনের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় যানজট হয়েছে।
এছাড়া সাপ্তাহিক শেষ কর্মদিবস হওয়ায় স্বাভাবিক নিয়মেই যানজট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া হানিফ ফ্লাইওভারে ধারণক্ষমতার বেশি গাড়ি চলাচল করায় এবং এর নিচের অনেকাংশ পিলার দ্বারা দখল থাকায় মাঝেমধ্যেই যানজট সৃষ্টি হয়ে থাকে। ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের কর্মকর্তারা মধ্যরাত পর্যন্ত যানজট নিয়ন্ত্রণে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডবিøউটিসি) যুগ্মপরিচালক আলমগীর কবির বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৪৭টি লঞ্চ ঢাকা নদীবন্দর থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিকাল ৫টার পর কিছু সময় লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে লঞ্চ চলাচল আবারও শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, সকাল থেকে ঢাকা নদীবন্দরে যাত্রীর পরিমাণ কম ছিল। তবে সন্ধ্যার দিকে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। সব ধরনের শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ন রেখে লঞ্চ চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে থেমে থেমে চলছে গাড়ি, বৃষ্টিতে ভোগান্তি : গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কোথাও যানজট ছিল না। তবে সন্ধ্যায় থেমে থেমে যানজট দেখা দেয়। এরই মধ্যে বৃষ্টি শুরু হলে দুর্ভোগে পড়েন ঘরমুখো মানুষ। পুলিশ বলছে, গাজীপুর ও আশপাশের অনেক এলাকার শিল্পকারখানা ছুটি হলে ঈদ উদযাপন করতে একযোগে বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন শ্রমিকরা। এতে সড়কে যানবাহনের বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদ থেকে ইউক্রেনকে ৫০ বিলিয়ন ডলার দেবে জি-৭

জব্দ করা রাশিয়ার সম্পদ থেকে ইউক্রেনকে ৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যবহার করতে দিতে সম্মত হয়েছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭। এটি দেওয়া হবে ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহায়তার জন্য।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন এটা রাশিয়াকে আরেকবার মনে করিয়ে দেয়া যে ‘আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি না’, তবে মস্কো এর পাল্টা হিসেবে ‘সর্বোচ্চ বেদনাদায়ক’ পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
এই অর্থ চলতি বছর শেষ হওয়ার আগে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম কিন্তু এটিকে দেখা হচ্ছে ইউক্রেনকে যুদ্ধ ও দেশটির অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা হিসেবে।
ইতালিতে জি-৭ সামিটে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং বাইডেন দশ বছর মেয়াদী একটি দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। চুক্তিটিকে কিয়েভ ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
এই চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সামরিক ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেবে কিন্তু এখানে ওয়াশিংটন সৈন্য পাঠিয়ে সহায়তা করবে এমন কোন প্রতিশ্রুতি নেই।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোতে রাশিয়ার প্রায় ৩২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফ্রিজ বা জব্দ করা আছে। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্ণ মাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এসব জব্দ করা হয়।
এসব সম্পদ থেকে বছরে প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার সুদ আসে।
জি-৭ এর পরিকল্পনা অনুযায়ী এই তিন বিলিয়ন ডলার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরিয়ে ইউক্রেনের ৫০ বিলিয়ন ডলারের ঋণের বার্ষিক সুদ হিসেবে পরিশোধ করা হবে।
ইতালির পুগলিয়াতে এবারের জি-৭ সামিট হচ্ছে। সেখানেই এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন এই ৫০ বিলিয়ন ডলার ইউক্রেনের জন্য ব্যবহার করা হবে এবং রাশিয়াকে আরেকবার বার্তা দেয়া হচ্ছে যে ‘আমরা পিছপা হচ্ছি না’।
তিনি বলেন পুতিন ‘আমাদের অপেক্ষা করিয়ে রাখতে পারবে না, তিনি আমাদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করতে পারবেন না এবং আমরা যুদ্ধে জয় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ইউক্রেনের পাশে আছি’।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আমেরিকা ও অন্য সহযোগী দেশগুলোকে তাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
নতুন নিরাপত্তা চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, এটা সত্যিকার অর্থেই ঐতিহাসিক দিন এবং আমাদের স্বাধীনতার পর (১৯৯১) এটাই ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী চুক্তি।
জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো হলো কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালি, জাপান, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে এসব দেশ ইউক্রেনকে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে।
চুক্তিটির প্রশংসা করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক একে ‘গেম চেঞ্জিং’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
মে মাসে ইউক্রেনকে ৬১ বিলিয়ন ডলারের যে সামরিক সহায়তার কথা বলেছিলো যুক্তরাষ্ট্র তার তুলনায় এই ৫০ বিলিয়ন ডলারকে বড় সহায়তা হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে কিয়েভে কেউ কেউ নগদ অর্থ সহায়তার জন্য চেষ্টা করছিলো। তারা চেয়েছিলো শুধু সুদ নয়, বরং জি-৭ দেশগুলোতে আটকে থাকা তিনশ বিলিয়ন ডলারের পুরোটাই ছাড়া দেওয়া হোক। কিন্তু ইউরোপিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেটি নাকচ করে দিয়েছে।
তবে যেহেতু এই অর্থ চলতি বছর শেষ হওয়ার আগে পৌঁছাবে না সে কারণে চলমান যুদ্ধে এর প্রভাব পড়বে সামান্যই।

হিজবুল্লাহর মুহুর্মুহু রকেট হামলায় কাঁপছে ইসরাইল

ইসরাইলে মুহুর্মুহু রকেট হামলা চালিয়েছে লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইসরাইলি হামলায় গোষ্ঠীটির সিনিয়র ফিল্ড কমান্ডার নিহতের প্রতিবাদে এ হামলা চালানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে ফের দেড় শতাধিক রকেট হামলা করেছে হিজবুল্লাহ। সিরিয়ার অধিকৃত গোলান মালভূমি ও আপার গ্যালিলিও এলাকায় এ হামলা করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের শহরে বিমান হামলার সাইরেন বেজেছে। বিকালের দিকে লেবানন থেকে প্রায় ৪০টি বেশি রকেট ছোড়া হয়েছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম কানের প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, লেবাননের সীমান্ত থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে সাফেদসহ বিভিন্ন শহরে অসংখ্য রকেট প্রতিহত করা হয়েছে।
ইসরাইলের জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের শার্পনেলের আঘাতে দুজন হয়েছেন। লেবানন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র খোলা মাঠে পড়েছে। এতে বেশ কয়েকটি এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে বুধবার ইসরাইলকে লক্ষ্য করে একই দিনে ১৭০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ। সকাল থেকে দফায় দফায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, গত ৮ মাস ধরে চলা এ যুদ্ধে এটি ইসরাইলকে লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর চালানো অন্যতম বড় রকেট হামলা।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, লেবানিজ গোষ্ঠীটির এবারের হামলায় লক্ষ্য করা হয়েছে তাইবেরিয়াসকে। চলমান যুদ্ধে এর আগে এই অঞ্চলে কোনো রকেট ছোড়েনি হিজবুল্লাহ। রকেট হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছে টাইমস অব ইসরাইল।
এর আগে বুধবার রাতে লেবাননে বিমান হামলা চালিয়ে দখলদার ইসরাইল হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ নেতাকে হত্যা করে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই হামলার প্রতিবাদেই একসঙ্গে এত রকেট ছোড়া হয়েছে।
হিজবুল্লাহর রকেট হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরাইল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। তারা জানিয়েছে, লেবানন থেকে অন্তত ৯০টি রকেট উত্তর ইসরাইল প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে কিছু রকেট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ধ্বংস করা হয়েছে। আর কিছু রকেট কয়েক জায়গায় আঘাত হেনেছে।

কাশ্মীর নিয়ে চীন-পাকিস্তানের বিবৃতি, যা বলল ভারত

জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে চীন ও পাকিস্তান। এ নিয়ে এবার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জম্মু ও কাশ্মীরকে যুক্ত করা ‘অযৌক্তিক উল্লেখ’ বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪ থেকে ৮ জুন চীন সফর করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এ সময় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এরপর দুই দেশের পক্ষে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়, দুই দেশের শীর্ষ নেতা চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর সিপেক নিয়ে আলোচনা করেন। এই করিডোর পাকিস্তান অধ্যুষিত কাশ্মীরে অবস্থিত। জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চীনকে বিস্তারিত জানিয়েছে পাকিস্তান। জবাবে চীন এই সংকট সমাধানের তাগিদ দেয়।
বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘৭ জুন ২০২৪-এ চিন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অযৌক্তিক উল্লেখ করেছে। আমরা স্পষ্টভাবে এই ধরনের উল্লেখ প্রত্যাখ্যান করি।’
তিনি বলেন, ‘এই ইস্যুতে আমাদের অবস্থান সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সুপরিচিত। জম্মু ও কাশ্মীরের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ও লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। সেখানে অন্য কোনো দেশের অবস্থান নেই।’
পাকিস্তানের চরম অর্থনৈতিক সংকটের জন্য আংশিকভাবে দায়ী করা হয় ‘চীনা ঋণের ফাঁদকে’। শ্রীলংকাও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইউক্রেন যুদ্ধে জিতবে না রাশিয়া: জার্মান চ্যান্সেলর

ইতালির পুগলিতে শুরু হয়েছে পশ্চিমা শক্তিশালী সাতটি দেশের রাজনৈতিক জোট জি-৭-এর ৫০ তম সম্মেলন। সম্মেলনের প্রথম দিন স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎজ বলেছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে রাশিয়া বিজয়ী হবে না।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে জি-৭ দেশগুলোর পরিকল্পনার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শোলৎজ। তিনি বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত দৃঢ় প্রতিশ্রুতি। এই প্রতিশ্রুতি ইউক্রেনের জনগণকে তাদের স্বাধীনতা এবং তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য এখন যা প্রয়োজন তা করার সাহস যোগায়।’
জার্মান চ্যান্সেলর আরও বলেন, ‘এটি রাশিয়ান প্রেসিডেন্টের কাছেও একটি স্পষ্ট বার্তা যে, ইউক্রেনকে সমর্থন করা কিছু দেশের আর্থিক সমস্যার সুযোগ নিয়ে একদিন এই যুদ্ধে জয়ী হওয়ার চিন্তা থেকে তাকে সরে আসতে হবে। তিনি জিতবেন না।’
একই দিনে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জানিয়েছেন, জি-৭ দেশগুলো ইউক্রেনকে তহবিল দেওয়ার জন্য ৫০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।
সম্মেলন কাভার করা বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদের মাধ্যমেই ইউক্রেনকে অর্থ প্রদান করা হবে। এ বিষয়ে সংবাদ সংস্থা এএফপিকে ইতালিয়ান প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করছি, আমরা বছরের শেষ নাগাদ ইউক্রেনকে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য রাজনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছেছি।’
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও চুক্তিটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জি-৭ দেশগুলো ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, ইউক্রেনকে অর্থায়নের জন্য রাশিয়ার আটকে থাকা সম্পদ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করা হবে।
এই অর্থ ইউক্রেনকে দ্রæত অস্ত্র প্রদান থেকে শুরু করে দেশটির শক্তি অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহায়তা করতে ব্যবহার করা হবে।