Home Blog Page 553

হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

মিনায় মুসল্লিদের জড়ো হওয়ার মধ্য দিয়ে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ৮ জিলহজ শুক্রবার সকাল থেকে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও বৃহস্পতিবার রাতেই হাজিরা মিনার তাঁবুতে পৌঁছে যান।
হজযাত্রীর সংখ্যা বিবেচনায় সৌদি মুয়াল্লিমরা আগের রাত থেকেই হজযাত্রীদের তাঁবুর শহর মিনায় নেওয়া শুরু করেন। হজযাত্রীরা বৃহস্পতিবার এশার পর থেকে মক্কার নিজ নিজ আবাসন থেকে ইহরাম বেঁধে মিনায় রওয়ানা হন।
মিনায় যাত্রার মধ্য দিয়ে হজ পালনের সূচনা হয়, যা শেষ হবে ১২ জিলহজ শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে। অন্যান্য দেশের হাজিদের সঙ্গে এবার বাংলাদেশের ৮২ হাজার ৭৭২ হাজিও রওয়ানা হন মিনার পথে। এ সময় গুঞ্জরিত হয় তালবিয়া-‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নালহামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়াল মূলক, লা শারিকা লাক।’
মিনায় পৌঁছে হজযাত্রীরা ফজর থেকে শুরু করে এশা অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন নিজ নিজ তাঁবুতে। তবে খায়েফ ও কুয়েতি মসজিদের কাছাকাছি তাঁবু থাকলে মসজিদে গিয়েও নামাজ আদায় করতে পারেন হজযাত্রীরা।
৯ জিলহজ (শনিবার) সূর্যোদয়ের পর হজযাত্রীদের আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা থাকলেও আজ রাতেই নিয়ে যাবেন মুয়াল্লিমের দায়িত্বশীলরা। সেখানে আগে পৌঁছে গেলে ফজর এবং জোহর-আসর আদায় করবেন আরাফাতের ময়দানে।
এখানে মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেবেন খতিব। চলতি বছর আরাফাতের ময়দানে হজের খুতবা দেবেন মসজিদুল হারামের জনপ্রিয় ইমাম ও খতিব শায়খ ড. মাহের বিন হামাদ বিন মুয়াক্বল আল মুয়াইকিলি। একইসঙ্গে মসজিদে নামিরাতে নামাজও পড়াবেন তিনি। তবে বাংলাদেশের হজযাত্রীদের তাঁবু বেশ খানিকটা দূরে থাকায় তাদের পক্ষে মসজিদে নামিরায় যাওয়া সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে নিজ নিজ তাঁবুতেই তারা নামাজ আদায় করে নেন।
মূলত ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের দিনকেই হজের দিন বলা হয়। এ দিনের নাম ইয়াইমুল আরাফা।
ইসলামের বিধান মোতাবেক, ১০ জিলহজ মিনায় প্রত্যাবর্তনের পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, আল্লাহর উদ্দেশে পশু কুরবানি, মাথা মুণ্ডন করা এবং তাওয়াফে জিয়ারত। এরপর ১১ ও ১২ জিলহজ অবস্থান করে প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা। সবশেষে কাবা শরিফকে বিদায়ি তাওয়াফের মধ্য দিয়ে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা।
চলতি বছর মক্কায় প্রবেশের তাসরিহ বা নুসুক কার্ড ছাড়া কাউকে পাওয়া গেলে ১০ হাজার সৌদি রিয়াল অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধান করা হয়েছে। ডিজিটাল এ নুসুক কার্ডে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীর প্রয়োজনীয় সব তথ্য থাকে। হজের জন্য মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা, মসজিদুল হারামে প্রবেশ করতে চাইলে এ কার্ড অবশ্যই দেখাতে হবে।
গতবারের মতো এবারও প্রচণ্ড গরমের ভোগান্তি সঙ্গী হচ্ছে হজযাত্রীদের। হজের সময় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও পৌঁছাতে পারে বলে হজযাত্রীদের সতর্ক করেছে মক্কার আবহাওয়া দপ্তর। বলা হয়েছে, এ বছর হজযাত্রীরা কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারেন। এর মধ্যে তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি অন্যতম। সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুহাম্মদ আল-আব্দুল্লাহিল বলেছেন, উচ্চ তাপমাত্রা হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

মোদির নতুন মন্ত্রিসভায় নেই কোন মুসলিম সদস্য

ভারতে এই প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে কোনো মুসলিম প্রতিনিধি ছাড়াই। রোববার দেশটির রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেন নরেন্দ্র মোদি। তার সঙ্গেই শপথ নেন আরও ৭১ জন মন্ত্রী। যে তালিকায় একাধিক রাজ্য, জাতির প্রতিনিধিরা থাকলেও দেশের ২০ কোটি মুসলিম জনসংখ্যার কারও ঠাঁই হয়নি।
২০২১ সালে মোদি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় মুসলিম সদস্য হিসেবে নাজমা হেপতুল্লাহ শপথ নেন এবং সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী হন। ২০১৯ সালে মোদির দ্বিতীয় মেয়াদে নকভি সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী হন। এবারের লোকসভা নির্বাচনে নির্বাচিত ২৪ জন মুসলিম সংসদ-সদস্যের মধ্যে ২১ জনই ইন্ডিয়া জোটের। বাকিদের মধ্যে দুজন আসাদুদ্দিন ওয়াইসির অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিনের এবং দুজন স্বতন্ত্র।
এর আগে, ২০০৪ ও ২০০৯ সালের মন্ত্রিপরিষদে যথাক্রমে চার এবং পাঁচজন মুসলিম সদস্য ছিলেন। এমনকি ১৯৯৯ সালের অটল বিহারি বাজপেয়ি সরকারের মন্ত্রিপরিষদেও দুজন মুসলিম ছিলেন। তারা হলেন- শাহনওয়াজ হুসেন ও ওমর আবদুল্লাহ। তার আগে, ১৯৯৮ সালে বাজপেয়ির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন নকভি।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও বিরোধী দলের নেতারা মনে করেন, দেশের রাজনীতিতে মুসলমানদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার এই প্রবণতা কিন্তু উদ্বেগজনক। যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ বিজেপি। তাদের দাবি, বিজেপি ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে ভোটের টিকিট দেয় না এবং তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা পটভূমি নির্বিশেষে আপামর জনসাধারণের স্বার্থে কাজ করে থাকেন। তবে কেন মোদির নতুন মন্ত্রিসভায় মুসলিম সদস্য নেই তার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছে বিবিসি।
মন্ত্রিপরিষদ কাঠামো: অষ্টাদশ লোকসভায় বিজেপির ঝুলিতে এসেছে ২৪০টি আসন। আর তাদের এনডিএ জোটের শরিকদের কাছে রয়েছে ২৯৩টি আসন।
গত রোববার প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৭২ জন মন্ত্রিসভার সদস্য শপথ নিয়েছেন। এর মধ্যে ৬১ জন সদস্য বিজেপির এবং ১১জন সদস্য এনডিএ-র শরিক দলের।
২০১৪ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সেই বছর মন্ত্রিসভায় ২৪ জন ক্যাবিনেট পদমর্যাদাসহ মোট ৪৬ জন সদস্য ছিলেন।
মোদির দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ২০১৯ সালে। সেই দফায় মন্ত্রীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৭।
এইবার ওই সংখ্যা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট ৭২ জন। তবে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পায়নি কোনও মুসলিম সদস্য। ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নরেন্দ্র মোদির তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর কিরেন রিজিজুকে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।
কিরেন রিজিজুর পাশাপাশি জর্জ কুরিয়েনকেও তার দপ্তরে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কেরালার বিজেপি নেতা জর্জ কুরিয়ান খ্রিস্টান।
২০১৪ সালে ড. নাজমা হেপতুল্লা কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। রাজ্যসভার এই সাবেক সংসদ সদস্য বর্তমানে মণিপুরের রাজ্যপাল।
২০১৯ সালে, প্রধানমন্ত্রী মোদি দলের রাজ্যসভার সাংসদ মুখতার আব্বাস নকভিকে সংখ্যালঘু বিষয়ক বিভাগের দায়িত্ব দিয়েছিলেন, যদিও তিনি ২০২২ সালে পদত্যাগ করেন। এরপর বিজেপির স্মৃতি ইরানিকে সংখ্যালঘু বিষয়ক দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।
কাজেই সেদিক থেকে দেখতে গেলে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই (২০২২ সাল থেকে) বিজেপি সরকারের মন্ত্রীপরিষদে কোনো মুসলিম মন্ত্রী ছিলেন না, সংসদের কোনো কক্ষেই কোনো মুসলিম সংসদ সদস্যও নেই।
তা ছাড়া তথ্য বলছে, গোটা দেশে বিভিন্ন বিধানসভায় বিজেপির এক হাজারের বেশি বিধায়ক থাকলেও মুসলিম বিধায়ক রয়েছেন মাত্র একজনই।
২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার ১৭.২২ কোটি মানুষ মুসলমান স¤প্রদায়ের এবং এই অঙ্কটা মোট জনসংখ্যার ১৪.২ শতাংশ।
অষ্টাদশ লোকসভা নির্বাচনে ২৪ জন মুসলিম সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন, যার মধ্যে ২১ জন বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার শরিক দলের।
রাজনৈতিক দলের বক্তব্য: ভারতীয় জনতা পার্টিতে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব হ্রাসের বিষয় নিয়ে সমালোচনায় মুখর হয়েছে বিরোধী দল এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
গত ৩ মে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর বলেন, ‘সা¤প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিমদের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। দেশে এই প্রথম লোকসভা ও রাজ্যসভায় একজনও মুসলিম সাংসদ নেই।’
‘মন্ত্রিসভাতেও কোনো মুসলিম মন্ত্রী নেই। বিজেপি যা করেছে সেটা ভুল।’
তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকারের আমলে দেশের জনসংখ্যার ভিন্ন ভিন্ন স্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে বিষয়টিকে নজরে রাখা হয়েছে তা হল প্রার্থীর ‘জেতার ক্ষমতা’ আছে কি না।
একইসঙ্গে বিজেপি এই অভিযোগও অস্বীকার করেছে যে তারা মুসলিমদের ভোটের টিকিট দিতে চায় না।
অমিত শাহ ২০২২ সালে এক ভাষণে এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে বলেছিলেন, তার দলে নির্বাচনি টিকিট দেওয়ার ভিত্তি হলো প্রার্থীর ভোটে জেতার ক্ষমতা। সেই সময় দেশের বিভিন্ন বিধানসভায়, বিশেষত উত্তরপ্রদেশে একজনও মুসলিম প্রার্থীকে টিকিট না দেওয়ার যে প্রশ্ন উঠেছিল, তার প্রেক্ষিতে তিনি তার দলের হয়ে কথা বলতে গিয়ে এই ব্যাখ্যা করেছিলেন।
উত্তরপ্রদেশে চার কোটি মুসলিম রয়েছে এবং তারা রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ১৯ শতাংশ।
বিষয়টা এমন নয় যে বিজেপি এর অতীতে কখনও মুসলিম প্রার্থীদের ভোটের টিকিট দেয়নি। কিন্তু গেরুয়া শিবিরে নির্বাচনি টিকিট পাওয়া মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা ক্রমশ কমতে কমতে শূন্যতে গিয়ে ঠেকেছে।
২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি সাতজন মুসলিম প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিল। ২০১৯ সালে ছয়জন মুসলিম প্রার্থীকে টিকিট দিয়েছিল বিজেপি।
তবে ২০১৪ ও ২০১৯ সালে বিজেপির একজন মুসলিম প্রার্থীও নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। এবারের লোকসভা ভোটে বিজেপি একজন মুসলিম প্রার্থীকেই টিকিট দিয়েছিল।
বিজেপির টিকিটে ভোটেব লড়ে লোকসভায় পৌঁছানো শেষ মুসলিম সাংসদ ছিলেন শাহনওয়াজ হুসেন। ২০০৯ সালে ভোটে জিতেছিলেন তিনি।
শাহনওয়াজ হুসেন মনে করেন হাতে গোনা কয়েকজন মুসলিম প্রার্থীকে ভোটে টিকিট দেওয়া হলেও যারা নির্বাচনে জিতেছেন তাদের নিশ্চিত করা উচিত যে সমস্ত স¤প্রদায়ের উন্নয়নের ক্ষেত্রে যেন কোনোভাবেই বৈষম্য মূলক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিজেপি মুখপাত্র ও রাজ্যসভার সাবেক সংসদ সদস্য জাফর ইসলাম বলেন, ‘কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো বিজেপিকে হারাতে এবং তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য মুসলিমদের ব্যবহার করছে।’
এই প্রসঙ্গে তার পালটা যুক্তি, ‘কোনো দল যদি কোনো মুসলিম প্রার্থীকে টিকিট দেয় এবং মুসলিমরা যদি তাকে ভোট না দেন, তাহলে কোনো দল তাদের টিকিট দেবে?’
ভারতের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে মুসলিম জনসংখ্যার নিরিখে সংসদে কিন্তু মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব ছিল না। নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেলেও সংসদে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব পাঁচ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে।
পরিসংখ্যান বলছে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থী ছিলেন ১১৫ জন, ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮।
অন্যান্য সংখ্যালঘু: শুধু মুসলমানরাই নয়, এনডিএ জোটের ২৯৩ জন সাংসদের মধ্যে একজনও শিখ বা খ্রিস্টান সাংসদ নেই, যারা এবার লোকসভা ভোটে জিতেছেন।
তবে মোদি সরকার তাদের মন্ত্রিসভায় একজন খ্রিস্টান মন্ত্রী এবং দুজন শিখ মন্ত্রীকে জায়গা দিয়েছে।
সাংসদ জর্জ কুরিয়েন নবনির্বাচিত মন্ত্রিপরিষদের খ্রিস্টান মন্ত্রী। হরদীপ সিং পুরী এবং রভনীত সিং বিট্টু শিখ স¤প্রদায়ের।
প্রসঙ্গত, রভনীত সিং বিট্টু কিন্তু বর্তমানে লোকসভা বা রাজ্যসভার সদস্য নন। এবার লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি বিট্টুকে টিকিট দিলেও তিনি ভোটে হেরে যান।
এবারের মন্ত্রিসভায় সমাজের অন্যান্য বঞ্চিত গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সামিল করা হয়েছে। ইংরেজি সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোদি সরকারের তৃতীয় দফায় মন্ত্রিসভায় ১০ জন দলিত, ২৭ জন অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি এবং পাঁচজন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সাংসদ রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত: জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পলিটিক্যাল স্টাডিজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক জোয়া হাসান বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় মুসলিম না থাকাটা আশ্চর্যের কিছু নয়।’
তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভা যখন জাতি ও স¤প্রদায়ের ব্যাপক প্রতিনিধিত্ব দাবি করে, তখন বিজেপির পক্ষ থেকে একজন মুসলিম মন্ত্রীকেও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে অনীহা তাদের (বিজেপির) কোনো একটি স¤প্রদায়কে ক্ষমতার বাইরে রাখার রাজনীতিকে প্রতিফলিত করে।’
তার মতে, ‘মুসলমানদের নামমাত্র প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা মুসলমানদের প্রান্তিককরণের বৃহত্তর প্যাটার্নকে ইঙ্গিত করে।’
জোয়া হাসান বলেন, ‘এটা কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বের নীতিকে দুর্বল করে তোলে যে নীতির আওতায় যার অধীনে সমস্ত স¤প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়ে থাকে তা তারা যাকেই ভোট দিয়ে থাকুন না কেন। সংসদ ও আইনসভায় প্রত্যেকটা স¤প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে কোনো স¤প্রদায়কে বাদ দেওয়াটা অগণতান্ত্রিক।’
জোয়া হাসান বলছেন, ‘এটা আগামী দিনে গণতন্ত্রকে দুর্বল করবে।’
বিজেপির ইস্তাহারে বেশ কিছু বিষয়ে নীতি পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যেমন অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড যা মুসলিম স¤প্রদায়ের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আমহার্স্ট কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভিজিটিং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর এবং দিল্লির সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের সিনিয়র ফেলো গিলেস ভার্নিয়ার্স বলছেন, ‘মুসলিমদের বাদ দেওয়ার ব্যাপারে বিজেপির মনোভাব বদলায়নি। এনডিএ শরিকদের মধ্যে মুসলিমদের অনুপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মুসলিমদের বাদ দেওয়াটা এখন দলের সর্বত্র একটা গ্রহণযোগ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অন্য একটি বিষয়েও উল্লেখ করেছেন তিনি।
গিলেস ভার্নিয়ার্স বলেন, ‘এমনকি কংগ্রেসও খুব বেশি মুসলিম প্রার্থী টিকিট দেয়নি। ২০১৪ সালে দলে মুসলমানদের প্রতিনিধিত্বও হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে জনজীবনে মুসলমানদের ভূমিকা হ্রাস করার প্রক্রিয়া আরও দ্রæততা পেয়েছে।’
‘ইন্ডিয়া জোটের তুলনামূলক সাফল্যও অন্তর্ভুক্তিমূলক রণকৌশলের একটা ঝুঁকির সৃষ্টি করে যেখানে হিন্দুদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং মুসলমানদের প্রান্তিক করা হয়।’
ইংরেজি সংবাদপত্র হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এনডিএ-র প্রায় ৩৩ শতাংশ সংসদ সদস্য অগ্রসর জাতির, ১৬ শতাংশ সংসদ সদস্য জাঠ ও মারাঠার মতো মধ্যম বর্ণের এবং প্রায় ২৬ শতাংশ সংসদ সদস্য অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এনডিএ সংসদ সদস্যদের প্রায় ১৩ শতাংশ তফসিলি জাতি থেকে এবং প্রায় ১১ শতাংশ তফসিলি উপজাতির অন্তর্গত।
তুলনামূলকভাবে, বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার প্রায় ১২-১২ শতাংশ সংসদ সদস্য অগ্রসর ও মধ্যম বর্ণের, প্রায় ৩০ শতাংশ অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি, প্রায় ১৭ শতাংশ তফসিলি জাতি থেকে এবং প্রায় ১০ শতাংশ তফসিলি উপজাতির অন্তর্ভুক্ত।

বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে যা বললেন ডাচ অধিনায়ক

এই ম্যাচ আগেও বাংলাদেশের সমান অবস্থানে ছিল নেদারল্যান্ডস। সুপার এইটের দৌড়ে দাঁড়িয়েছিল পাশাপাশি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই দৌড়ে ডাচদের পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ২৫ রানের জয় তুলেছে নাজমুল শান্তর দল। তাতে অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে স্কট এডওয়ার্ডসের দলের সুপার এইটে খেলা। কেননা, সেটি করতে এখন শ্রীলংকাকে হারাতে হবে তাদের। সঙ্গে তাকিয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশের হারের। সেই সঙ্গে মেলাতে হবে নেট রান রেটের জটিল অংক। এতকিছু পক্ষে আসা যা বেশ কঠিনই বলা যায়। ডাচ অধিনায়কও জানালেন সে কথায়। বুঝিয়ে দিলেন তাদের স্বপ্নটা শেষ এখানেই।
বাংলাদেশের সঙ্গে ঠিক কোথায় হেরে গেল ডাচরা। বা কোথায় এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। এমন প্রশ্নে ম্যাচ শেষে এডওয়ার্ডস জানান, ‘আমরা তিনটি বিভাগেই তাদের কাছে হেরে গেছি। কৃতিত্বটা বাংলাদেশের, তারা দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে। আমরা জয়ের যোগ্য ছিলাম না। তারা উইকেট হাতে রেখেছিল। কারণ তারা জানত বাতাসের বিপরীতে বাউন্ডারিতে বল করা কঠিন হবে। আমরা সেটাই করতে পারেনি।’
একটা সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়েই ছিল ডাচরা। মনে হচ্ছিল সহজ জয়ের পথেই রয়েছে তারা। ম্যাচে বাংলাদেশ যেখানে দলীয় শত রান পেতে লাগিয়েছে ১৪ ওভার। সেখানে সেটা ৪ বল আগেই ছুঁয়েছে ডাচরা। এরপরও শেষ পর্যন্ত ২৫ রানের বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে তাদের। আর এর দায়টা যে ব্যাটারদের সেটা জানিয়েছেন এডওয়ার্ডস। তবে তাদের ভালোই জানা ছিল ডেথ বোলিংয়ে ভয়ঙ্কর হবে বাংলাদেশ।

পিএনজিকে হারিয়ে সুপার এইটে আফগানিস্তান, নিউজিল্যান্ডের বিদায়

গ্রুপ ‘সি’ থেকে সবশেষ ম্যাচেই সুপার এইট নিশ্চিত করে ফেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার এই গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে সুপার এইট নিশ্চিত করে ফেলেছে আফগানিস্তানও। তাতে দুই ম্যাচ হাতে থাকলেও বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে নিউজিল্যান্ডের। সুপার এইট নিশ্চিতের ম্যাচে পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে ৭ উইকেটে বড় জয় পেয়েছে আফগানিস্তান।
সুপার এইটের সমীকরণটা নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েই সহজ করে ফেলেছিল আফগানরা। সেটা তৃতীয় ম্যাচেই এসে এবার সুপার এইটের টিকিট নিজেদের করে নিয়েছে রশিদ খানের দল। পিএনজিকে ৯৫ রানে আটকে দিয়ে আফগানরা ম্যাচে জয় তুলেছে হেসেখেলে।
যদিও এদিন শুরুতেই হোঁচট খেতে হয়েছে আফগানদের। দারুণ ছন্দে থাকা ইব্রাহিম জাদরান ৭ বল খেলেও শেষ পর্যন্ত ফিরেছেন কোনো রান না করেই। এরপর আরেক ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ ফিরে যান ১১ রান করে। তাতে খানিকটা ধাক্কা খায় আফগানরা ঠিকই। তবে দলকে টেনে তুলেছেন গুলবাদিন নাইব। তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন দু’দিন আগেই শীর্ষ অলরাউন্ডারের সুখবর পাওয়া মোহাম্মদ নবী। এই দু’জনের জুটিতেই সহজ জয় পায় আফগানরা। ম্যাচ জিতে ২৯ বল হাতে রেখে। নিশ্চিত করে সুপার এইট।
এর আগে, আফগান ব্যাটারদের কাজটা অবশ্য সহজ করে দিয়ে যান বোলাররই। টসে জিতে পিএনজিকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে নিজেদের বোলিং শক্তি দেখানোটার সিদ্ধান্ত নেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান। হতাশ করেননি তার বোলাররা। দলীয় ১২ রানে অধিনায়ক আসাদ ভালা ফিরেছেন রান আউটের শিকার হয়ে।
এরপর তো নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট পেয়েছে আফগানরা। ১২ রানে প্রথম উইকেট হারানো পিএনজি কোনো রান যোগ না করেই হারিয়েছে আরও দুই উইকেট। ফজলহক ফারুকী তোপে ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম দুই বলে নেই দুই উইকেট।
সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও কোনে লাভ হয়নি পিএনজির। টপ অর্ডাররা দায়িত্ব নিতে পারেনি। ৩০ রানে ৫ উইকেট নেই পিএনজির। শেষ দিকে উইকেটরক্ষক কিপলিন দরিগা ও এলেই নাও কিছুটা লড়াই করেছেন। আর তাতেই মান বেচেছে পিএনজির। আফগানদের বিপক্ষে পড়তে হয়নি লজ্জার মুখে। যদিও শেষ পর্যন্ত অলআউট হওয়া এড়াতে পারেনি পিএনজি। দরিগার ২৭ রানের সুবাদে পিএনজির ইনিংস থেমেছে ৯৫ রানে। আফগান বোলারদের মধ্যে ফজলহক ফারুকী শিকার করেছেন ৩ উইকেট। ২ উইকেট নিয়েছেন নাভীন-উল-হক।

শ্রীলংকাকে বিদায় করল বাংলাদেশ

সা¤প্রতিক সময়ে ক্রিকেটের এক অন্যতম দ্বৈরথে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ-শ্রীলংকা ম্যাচ। কখনো কখনো এই ম্যাচের উত্তেজনা ছাড়িয়ে যায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকেও। দুই দলের ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষা থেকে শুরু করে মাঠে একে অন্যকে এক চুল ছাড় না দেওয়ার মানসিকতা বেশ আলোড়ন ফেলে সমর্থকদের মধ্যে। সবশেষ ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে শ্রীলংকাকে বিদায় করেছিল বাংলাদেশ। সে সময় বেশ সারা ফেলেছিল টাইম আউট।
সেই লড়াইটা দেখা গেছে এই বিশ্বকাপেও। যেখানে গ্রæপপর্বে শ্রীলংকাকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। শ্বাসরুদ্ধকর সেই ম্যাচে ১ ওভার হাতে রেখে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। আর এবার তো ডাচদের হারিয়ে শ্রীলংকাকে বিশ্বকাপের গ্রæপপর্ব থেকেই বিদায়ই করে দিল বাংলাদেশ।
শ্রীলংকার বিদায় অবশ্য সবশেষ নেপালের বিপক্ষে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ার পরই হয়ে গিয়েছিল। এরপরও একটা আশা ছিল যদি কোনো কারণে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস ম্যাচটিও পরিত্যক্ত হয়। আর বাংলাদেশ তাদের শেষ ম্যাচটি নেপালের বিপক্ষে হেরে বসে। সেক্ষেত্রে শেষ ম্যাচে ডাচদের হারাতে পারলেই সুপার এইটে যাওয়ার সুযোগ পেত শ্রীলংকা। তবে তাদের কল্পনায় দেখা সেই সমীকরণটা বাস্তবে মেলেনি।
ম্যাচের আগে হঠাৎ বৃষ্টিতে যেই আশার স্বপ্ন বুনেছিল শ্রীলংকা তা মিলিয়ে যেতে খুব বেশি সময় লাগেনি। এরপর তো পুরো ম্যাচটাই মাঠে গড়িয়েছে। আর তাতে ২৫ রানে জিতে বাংলাদেশ এক পা দিয়ে রেখেছে সুপার এইটে। যা শেষ পর্যন্ত শ্রীলংকার বিদায় নিশ্চিত করেছে এই টুর্নামেন্ট থেকে। কেননা, ৩ ম্যাচ শেষে এখন পর্যন্ত মাত্র ১ পয়েন্ট তাদের দখলে। শেষ ম্যাচে জিতলেও তাদের পয়েন্ট হবে ৩। আর বাংলাদেশ এরইমধ্যে ৪ পয়েন্ট অর্জন করে ফেলেছে। আর দক্ষিণ আফ্রিকা তো সুপার এইটেই চলে গেছে। কাজেই বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস ম্যাচেই থেমে গেল সাবেক বিশ্বকাপ জয়ীদের বিশ্বকাপ যাত্রা।

যা নিয়ে এডওয়ার্ডস বলেন, ‘আমরা জানতাম ডেথে তাদের ভালো বোলার আছে। তাই মধ্যম ওভারগুলিকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে চেয়েছিলাম আমরা। তখন এঙ্গেলব্রেখটও উইকেটে ছিল। কিন্তু হঠাৎই দ্রæত উইকেট পড়ে গিয়েছিল। আরিয়ান গত কয়েক বছর ধরেই বেশ চমকপ্রদ ক্রিকেট খেলছে এবং কন্ডিশনকে ভালোভাবে ব্যবহার করেছে।’
সুপার এইটে খেলার স্বপ্ন এখনও দেখে কিনা ডাচরা এমন প্রশ্নে এডওয়ার্ডস বলেন, ‘এটা এখন আমাদের হাতের বাইরে চলে গেছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমরা ভাল খেলতে চাই। সেখান থেকে কীভাবে টুর্নামেন্ট সামনে আগায় সেটা দেখতে চাই।’

কেরালার বিশ্ববিদ্যালয়ে কনসার্টের অনুমতি মেলেনি সানি লিওনের

আগামী ৫ জুলাই তিরুবনন্তপুরমের ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন আলোচিত বলিউড নায়িকা সানি লিওন। এই সংবাদ ছড়িয়ে যাওয়ার পর সেই অনুষ্ঠানে সানি লিওনকে অনুমতি দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন কেরালা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহানান কুন্নুম্মল। যার কারণে আপাতত অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। খবর বলিউড বাবলের।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনই অনুষ্ঠানের তালিকায় সানি লিওনের শো রাখা যাবে না।
সূত্রের বরাতে জানা যায়, কলেজ ইউনিয়নও এর আগে উপাচার্যের কাছ থেকে অনুষ্ঠানের অনুমতি নিতে ব্যর্থ হয়েছিল।
গত বছর নভেম্বর মাসে কেরালার এর্নাকুলাম জেলায় ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে একটি কনসার্টে পদদলিত হয়ে ৬০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়। যার মধ্যে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিলে ৪ জনের মৃত্যু হয়।
কোচিনের এই ঘটনার পর থেকেই কেরালায় সরকারিভাবে বাইরে থেকে শিল্পী নিয়ে এসে ডিজে পার্টি, মিউজিক নাইট ইত্যাদি আয়োজন করা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে। সেবারে কোচিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে গান গাইতে এসেছিলেন নিকিতা গান্ধী।
সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, যাদের কাছে অনুষ্ঠানে প্রবেশের টিকিট ছিল তাদেরকেও ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে হঠাৎ করে বৃষ্টি চলে আসলে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় পরিস্থিতি। এসময় বাইরে অপেক্ষারত সবাই বাধা না মেলে অডিটোরিয়ামের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে আর তখনই পদপিষ্ট হয়ে মারা যান ৪ জন।
কুসাটের ইভেন্টে পদদলিতজনিত মৃত্যুর প্রতিক্রিয়া হিসাবে, রাজ্য সরকার ক্যাম্পাসে বহিরাগত ডিজে পার্টি এবং গাসেন অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করে।
উপচার্য ড. মোহানান কুন্নুম্মল জোর দিয়ে বলেন, এই নির্দেশ সত্তে¡ও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ইউনিয়ন যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই একটি নাচের অনুষ্ঠান আয়োজন করার চেষ্টা করেছিল। এ জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো কোনো অবস্থাতেই ইউনিয়নের নামে ক্যাম্পাসের বাইরে বা বাইরে অনুমতি দেওয়া হবে না।
স¤প্রতি সানি লিওনি একটি মালয়ালম ছবির জন্য শ্যুটিং শুরু করেছেন। নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে এই ছবির শ্যুটিং শুরুর শুভ মহরতের ছবিও শেয়ার করেছিলেন সানি লিওন। সেই ছবিতে দেখা যায় একটা অজানা জায়গায় অজানা নামের সেই মালয়ালম ছবির শুভ মহরতে পুজো করছেন সানি লিওনি। ‘কোটেশন গ্যাং’ নামের একটি ছবিতে সানি লিওন স¤প্রতি অভিনয় করছেন বলে জানা যায়।
বলিউডি চলচ্চিত্র দুনিয়ায় এর আগে ‘জিসম ২, জ্যাকপট, শুটআউট অ্যাট ওয়াডালা, রাগিণী এমএমএস ২ ইত্যাদি ছবিতে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে তাকে। স¤প্রতি গত বছর অনুরাগ কাশ্যপের পরিচালনায় ‘কেনেডি’ ছবিতে রাহুল ভট্ট এবং অভিলাষ থাপলিয়ালের বিপরীতে তাকে অভিনয় করতে দেখা যায়।

টালিউডের দুই নায়িকার ছবি একসঙ্গে মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশে

টালিউড নায়িকা কৌশানীর ‘ডার্ক ওয়ার্ল্ড’ ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে ঈদুল আজহায়। সেই সঙ্গে মুক্তি পাচ্ছে মিমি চক্রবর্তীর ‘তুফান’ ছবিটিও। টালিউডের দুই নায়িকার ছবি একসঙ্গে বাংলাদেশে মুক্তি পাচ্ছে। বাংলাদেশে শেষ কবে টালিউডের দুই নায়িকার ছবি একসঙ্গে ঈদে মুক্তি পেয়েছিল, তা এখন গবেষণায় বের করতে হবে!
ইতোমধ্যে রায়হান রাফী পরিচালিত ‘তুফান’ সিনেমাটি মুক্তি উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঢালিউড বাদশাহ শাকিব খান ও ভারতীয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী।
তুফান’ ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে শাকিব খানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মিমি চক্রবর্তী। তিনি বলেন, আমরা যখন ছবিটি শুট করছিলাম, সেই সময় অনেক গরম ছিল। শাকিব স্যুট পরেছিল। এ সময় গরমের মাঝে একবারও আমি ওর মুখ থেকে ‘উফ’ বলতে শুনিনি।
মিমি আরও বলেন, একজন ভালো কো-স্টারের সঙ্গে কাজ করতে আসলেই ভালো লাগে। কাজের ক্ষেত্রে শাকিবের ডেডিকেশন আছে বলেও আজকে সে আপনাদের সবার প্রিয়।
এদিকে সিনেমা মুক্তি নিয়ে যেভাবে গণজোয়ার চলছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছিলÑ এবার খালি মাঠে গোল দেবে রায়হান রাফীর ‘তুফান’। কিন্তু আদতে তা হচ্ছে না। একেবারেই খালি মাঠ পাচ্ছেন না রায়হান রাফী কিংবা শাকিব খান-মিমি চক্রবর্তী। ঈদে আরও মুক্তি পাচ্ছে রাশিদ পলাশের ‘ময়ূরাক্ষী’। এরপর মোহাম্মদ ইকবালের ‘রিভেঞ্জ’।
অনেকটা শেষবেলায় এসে এই বহরে যুক্ত হলো প্রশংসিত নির্মাতা মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘ডার্ক ওয়ার্ল্ড’। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা নিজেই।
মজার হচ্ছে, এটি টালিউডের নায়িকা মিমি চক্রবর্তীর ঢাকায় প্রথম ছবি ‘তুফান’। এবার ভাগ বসাচ্ছেন একই ইন্ডাস্ট্রির ‘ডার্ক ওয়ার্ল্ড’ নায়িকা কৌশানী মুখার্জি।
কলকাতা থেকে কৌশানী মুখার্জি বলেন, ‘মারমার কাটকাট একটা ছবি ‘ডার্ক ওয়ার্ল্ড’। বাংলাদেশের এই ছবিতে কাজ করে আমার বেশ ভালো লেগেছে। ছবিটি ঈদে আসছে শুনে খুশি হয়েছি। সবাইকে ছবিটি দেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’
‘ডার্ক ওয়ার্ল্ড’ ছবিতে নবাগত নায়ক হিসেবে আছেন মুন্না খান। তিনি এ ছবিটি প্রযোজনাও করেছেন। মুন্না খান বলেন, ‘এটি আমার প্রথম ছবি। প্রথম ছবিতেই নায়িকা হিসেবে পেয়েছি কলকাতার কৌশানী মুখার্জিকে। গুণী পরিচালক মানিক ভাইয়ের মতো মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি। আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। এর মধ্যেই ট্রেলার ও পোস্টার দর্শকরা লুফে নিয়েছে। আশা করছি ছবিটিও দর্শকরা সাদরে গ্রহণ করবে।’
‘ডার্ক ওয়ার্ল্ড’ ছবির পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক বলেন, ‘এই ছবির গল্পটাই আসলে নায়ক। আমি চেষ্টা করেছি, ভালো চলচ্চিত্র তৈরির। আশা করি, দর্শকরা সেটা পাবেন। ইতোমধ্যে আমরা সেন্সর ছাড়পত্র হাতে পেয়েছি। সিনেমাটি মুক্তির জন্য আমরা ঈদের সময়টাকে বেছে নিয়েছি।’
উল্লেখ্য, ক্রাইম থ্রিলার ঘরানার এই ছবির বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন দীপা খন্দকার, মিশা সওদাগর, বড়দা মিঠু, শিমুল খান, মারুফ আকিব, ডনসহ অনেকে।

ঢাকায় আসছেন নচিকেতা

ঢাকার শ্রোতাদের আবারও গান শোনাতে আসছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী। আগামী ২৬ জুলাই ‘আজব কারখানা’র আয়োজনে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে ‘নচিকেতা লাইভ ইন ঢাকা উইথ জয় শাহরিয়ার ভলিউম ২’।
আজব রেকর্ডস ও আজব কারখানার প্রতিষ্ঠাতা ও সংগীতশিল্পী জয় শাহরিয়ার বলেন, সংগীত জীবনের ৩০ বছর পূর্তিতে গত বছর নভেম্বরে ঢাকায় একক কনসার্ট করেছিলেন নচিকেতা। সেটার সাফল্য আমাদের এবারের আয়োজন করতে অনুপ্রাণিত করেছে।
তিনি আরও বলেন, গতবার জায়গা স্বল্পতার কারণে অনেকে যেতে পারেননি। অনেকে আবার দেখতে চেয়েছেন। তাই আবারও আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ২৬ জুলাই (শুক্রবার) কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হবে এটি। শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়।
গতবার ‘নচিকেতা লাইভ ইন ঢাকা’ শীর্ষক আয়োজনটি ভালোই সাড়া ফেলেছিল। ওই কনসার্টে নচিকেতার সঙ্গে গেয়েছিলেন জয় শাহরিয়ার। গানের মধ্য দিয়ে যুদ্ধ বন্ধের আহবান জানিয়েছিলেন বাংলা গানের কিংবদন্তি। এবারও নচিকেতা ঢাকাবাসীকে গান শোনাতে আসছেন। অনুষ্ঠানে তিন দশকের ক্যারিয়ার থেকে বেছে বেছে গান করবেন তিনি।
আজ থেকে টিকেট পাওয়া যাচ্ছে। পাওয়া যাবে ‘গেট সেট রক’-এর ওয়েবসাইটে। টিকেটের মূল্য- প্লাটিনাম ৫ হাজার টাকা, গোল্ড ৩ হাজার টাকা, সিলভার ২ হাজার টাকা। শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে ‘স্টুডেন্ট প্যাকেজ’। টিকেট মূল্য ১ হাজার টাকা।
স¤প্রতি পেশাদার সংগীত জীবনের ৩০ বছর পার করছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার। তার ক্যারিয়ারের এই মাইলফলক উদযাপনের অংশীদার ছিল আজব কারখানা। অনুষ্ঠিত হয়েছিল কনসার্ট ‘দ্য বাপ্পা মজুমদার শো উইথ জয় শাহরিয়ার’।
প্রসঙ্গত, নব্বইয়ের দশকে ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব নচিকেতার। তখন চিরায়িত বাংলা গানের সংজ্ঞাটাই যেন বদলে দিয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৩ সালের ১৪ আগস্ট প্রকাশ পায় তার প্রথম অ্যালবাম ‘এই বেশ ভালো আছি’। তার লেখা লিরিকে উঠে এসেছিল সাধারণ মানুষের মনের কথা। সহজ কথায় যেন ছড়াচ্ছিল জীবনের গভীর তাৎপর্য। কবীর সুমনের পরে যিনি পরিচিতি পেয়েছেন জীবনমুখী গানের শিল্পী হিসেবে।

৪০০ বছরের পুরোনো হরিজন সম্প্রদায় উৎখাতের বিপক্ষে জোড়ালো প্রতিবাদ সমাবেশ নিউইয়র্কে

গত ১৩ই জুন ২০২৪ বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় এস্টোরিয়া কুইন্সের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কন্সুলেট অফিসের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও কনসুল জেনারেল বরাবর একটি স্মারক লিপি প্রদান করা হয়। উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে ঢাকার বংশালে ৪০০ বছরের পুরোনো মিরনজিল্লা পল্লিতে হরিজন সম্প্রদায় উৎখাতের বিপক্ষে জোড়ালো প্রতিবাদ জানানো হয়। চারশত বছর যাবত বংশ পরম্পরায় বসবাসরত প্রায় পাঁচশতাধিক হরিজন পরিবারকে দুদিনের মধ্যে কলোনি ছাড়ার নোটিশ জারি করে কলোনির কিয়দংশ ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। ফলে সেখানকার ৮০টি পরিবারের ছিন্নমুল মানুষ পাশ্ববর্তি মন্দিরে, বিদ্যালয়ে ও কমিউনিটি সেন্টারে আশ্রয় নিয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে। গত সোমবার কলোনী উচ্ছেদের প্রথম দিনে আতঙ্কে হৃদরোগগ্রস্ত লক্ষী রানী নামের এক মহিলার মৃত্যু হয়। উচ্ছেদকৃত শাম্মীদাস কষ্টে আত্ম হত্যার প্রয়াস করে। নতুন করে আবার তাদের ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় কমিশনার সাহেব কলোনীর আশপাশে মস্তানদের মাধ্যমে এক ভীতিকর নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এই দুঃখজনক পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে সেখানকার শত শত হরিজন নাগরিক।

image1

এহেন পরিস্থিতিতে ইউনাইটেড হিন্দুস অব ইউএসএ একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। সভার প্রারম্ভে গীতা পাঠ করে ইসকনের ভক্ত শ্রী ভবতোষ মিত্র। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শ্রী রামদাস ঘরামী সঞ্চালনায় সভার সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শ্রী ভজন সরকার। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন সরকারের কতিপয় সংস্থা বাংলাদেশের হিন্দু দেশ ছাড়া করার চক্রান্তে লিপ্ত আছে। তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, সরকার যেন হরিজন সম্প্রদায়কে পুনবার্সিত না করে উচেছদ না করেন।

image0

উক্ত সভায় বক্তব্য দেন পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ডাঃ প্রভাত চন্দ্র দাস। তিনি তার বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিমাতা সুলভ আচরন পরিবার করে মাতৃ সুলভ আচরন করার অনুরোধ করেন। উপদেষ্ঠা বাবু নবেন্দু দত্ত উল্লেখ করেন যদি হরিজনদের উচ্ছেদ করা হয় তাহলে যেন তাদের উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়ে তারপর উচ্ছেদ করা হয়। সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী উত্তম কুমার সাহা তিনি তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে হরিজন সম্প্রদায়ের অনেক স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহন করে মৃত্যুবরণ করেন। তাই সরকারের উচিত তাদের একটা সুনিশ্চিত ব্যবস্থা করা। সংগঠনের মেম্বার সেক্রেটারী বাবু সুশীল সিনহা মহোদয় তিনি তার বক্তব্যে প্রধামমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শ্রী রামদাস ঘরামী বলেন, আপনি প্রধানমন্ত্রী আছেন, আপনি আজীবন প্রধানমন্ত্রী থাকেন আমাদের কোন আপত্তি নেই, কিন্তু মৌলবাদীদের খুশি করতে আমাদের ব্যবহার করবেন না। সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি শ্রী ভবতোষ মিত্র বলেন, বাংলাদেশে যদি বিহারী, রোহিঙ্গাদের জায়গা হয় তাহলে, ৪০০ বছর ধরে বসবাসকরী হরিজনদের কেন উচ্ছেদ করা হবে।
উক্ত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, পরেশ ধর, জয়দেব গায়েন, দীনেশ মজুমদার, দীপংকর সাহা, প্রসঞ্জিত বড়–য়া, কৃষান দাস ও প্রমুখ।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধির বাসভবন ক্রয়ে অনিয়ম হয়নি? তদন্ত হোক।

বাংলাদেশ কনস্যুলেট-এ অহরহ প্রবাসীদের হয়রানি, কূটনৈতিকদের অশোভন আচরণ চরমে, দায়িত্ব পালনে স্বৈরাচারী মনোভাব!
অনিন্দ্য ইসলাম : মাঝে মধ্যে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিউইর্য়কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের বিভিন্ন অনিয়ম ও হয়রানি খবর শিরোনাম হয়। প্রতিকার হয় না, সংশোধনের বালাই নেই। কূটনৈতিকরা অশোভন আচরণ করছে, দায়িত্ব পালনে অবহেলা করছে এমন গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যায়।
প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা দেশে প্রেরণ করে। জানা যায় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সই দেশে ব্যাংকগুলিতে বৈদেশিক মুদ্রার ভাÐারে প্রধান যোগানদার। সরকার ও কর্তৃপক্ষ প্রবাসীদের বিদেশে দেশের এ্যামবেসড বলে আখ্যায়িত করলেও কার্যত প্রবাসীরা কূটনৈতিক মিশন গুলিতে গিয়ে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি ও নাজেহালের শিকার হচ্ছে। প্রবাসীরা ন্যূনতম কাজটুকু করতে গিয়ে সম্মুখীন হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, নানান নিয়ম-আইন-কানুনের অজুহাতে হয়রানি, এমনকি স্ত্রী সন্তানের সামনে অপমানিত হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যায়।
নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সেবার মান সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঠেকেছে। কর্মকর্তাদের দাপটে গ্রাহক সেবায় প্রবাসীরা আতঙ্কিত। সূত্রমতে সম্প্রতি একজন প্রবাসী তার স্ত্রী-পুত্র-কন্যার সামনেই অপমানিত হয়েছেন। জানা যায় জনৈক কনস্যুলেট কর্মকর্তা একজন প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। বেচারা প্রবাসী পরিবারের সবার সামনেই বিব্রত বোধ করেন। এমনকি তিনি প্রতিবাদও করেন। শুরু হয় হট্টগোল। কনস্যুলেটে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা কাম্য নয় তবু দিনের পর দিন এসব চলছে।
কূটনৈতিক সিন্ডিকেটের দাপটে অসহায় প্রবাসীদের কোন অভিযোগে কাজ হয়নি। বরং প্রচন্ড দাপটের সাথে কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত সেবার নামে প্রবাসীদের হয়রানি করছে বলে খবর পাওয়া যায়।
কনস্যুলেটের প্রধান কনসাল জেনারেল সাহেব এসব খবর রাখেন কী? কনসাল জেনারেল এই কমিউনিটিতে ফিতা কেটে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে চষে বেড়ান। জন্মদিনে প্রবাসীদের বাসাবাড়ী থেকে পথমেলায় কনসাল জেনারেলের পদচারণা!
অন্য একটি সূত্র জানায়, কনস্যুলেটে অধিকাংশ কর্মকর্তা অলস সময় কাটান, কেউ কেউ নির্দিষ্ট অফিস সময়ের অনেক পরে হেলেদুলে অফিসে উপস্থিত হন। দুপুরে একটিপ ঘুমিয়েও নেয় তারা। এদিকে সেবা প্রত্যাশী প্রবাসীরা অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে ঝিমিয়ে যায়। এসব কি কনসাল জেনারেল বা ভাইস কনসাল জেনারেলের দৃষ্টিতে পড়ে না। রেমিটেন্স প্রেরণকারী প্রবাসীরা এমনভাবেই বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
জানা যায় নিউইয়র্ক সহ আমেরিকার অন্যান্য শহরে অবস্থিত কনস্যুলেটগুলি সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম উৎস। বিশেষ করে নিউইয়র্ক কনস্যুলেট আয়ে সর্বোচ্চ।
ওয়াকিবহাল সূত্রের দাবি, কনস্যুলেট মিশন ও দূতাবাস থেকে আয়ের ডলার ব্যাপকভাবে বেহিসেবী খরচ ও দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। কূটনৈতিক মিশনে প্রবাসীদের কাছ থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা আত্মসাৎ করছে কতিপয় ব্যক্তি বিশেষ। দায়িত্ব প্রাপ্তরা এসব অভিযোগ এড়িয়ে যেতে পারে না। এসব রিপোর্টের পুরোপুরি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে আরও জানা যায়, কনস্যুলেট, মিশন বা দূতাবাস সরকারি অর্থের ব্যাপক অপচয় করছে। কারণে অকারণে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অজুহাতে কমিউনিটির মুখচেনা কতিপয় ব্যক্তিদের দাওয়াত দিয়ে ভূরিভোজন সহ ব্যয়বহুল অনুষ্ঠান করছে। সরকারি খাতায় হিসেব হয়তো নয়ছয় করে দ্বিগুণ তিনগুণ করা হচ্ছে। এসব অনিয়ম খতিয়ে দেখতে হবে।
নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেলের কাছে প্রবাসীরা আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করে। কেবল কমিউনিটিতে ফিতা কেটে বেড়ানো শুধু কনসাল জেনারেলের কাজ হতে পারে না।
নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কমিউনিটি একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী নিয়ে। প্রবাসীদের সেবার মান উন্নত করা প্রয়োজন। সরকারকে এ বিষয়ে তদন্তে নামতে হবে।
জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ডা. এ কে আব্দুল মোমেন এর আমলে নিউইয়র্কে ম্যানহাটনে রাষ্ট্রদূতের বাসভবন ক্রয়ে অনিয়ম হয়নি? তদন্তহোক।
জন্মভূমি প্রতিবেদক : ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ডলারের হরিলুট এ সপ্তাহের আলোচিত খবর। ওয়াশিংটনের পুকুর চুরির তদন্ত হয়নি বরং ফাইল গায়েব!
নিউইয়র্কে জাতিসংঘে নিযুক্ত স্থায়ী প্রতিনিধির জন্য ম্যানহাটনের মিড টাউনে ক্রয় করা হয়েছে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। সূত্রমতে নয়ছয় হয়েছে ইচ্ছামত। রিয়েল স্টেট ব্রোকারের কমিশন, স্থায়ী মিশনের কর্মকর্তাদের লেনদেন ও কমিশন, ফ্ল্যাটের সৌন্দর্য্য বধনে মেরামত ও পুন;সংস্কারে বিপুল অর্থের দুর্নীতির মচ্ছব হয়েছে বলে জানা যায়। ফ্ল্যাট ক্রয়ের পর ব্রæকলিনের একটি বাংলাদেশী কন্সট্রাকশন-এর স্বত্বাধিকারীর সাথে রাষ্ট্রদূত ড.এ কে আব্দুল মোমেন-এর বিশেষ সম্পর্কের খবর মিলেছে।
উল্লেখ্য তখন জাতিসংঘের প্রতিনিধি স্থায়ী ছিলেন ডা. একে আব্দুল মোমেন। ওয়াশিংটনের দূতাবাসে মিলিয়ন ডলার চুরি ও ফাইল গয়েব সম্পর্কিত অভিযোগের সময়ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন ড.এ কে আব্দুল মোমেন। পরপর দুটি ঘটনার সাথে যোগসূত্র আছে। দুদক (দুর্নীতি দমন ব্যরো) যদি এই তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে ড.এ কে আব্দুল মোমেনকে তলব করে তবেই এই রহস্য উন্মোচন হবে।