Home Blog Page 553

সাবেক মন্ত্রী রাজ্জাক ও ফারুক কারাগারে

সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এবং সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্ণেল (অব.) ফারুক খানের জামিন নামঞ্জুর করে আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো: আলী হায়দারের আদালত পৃথক দুই হত্যা মামলায় তাদের কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।

এদিন রিমান্ড শেষে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় রাজ্জাককে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আরিফ তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

এছাড়া বিএনপির কর্মী মকবুল হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে ফারুককে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক নাজমুল হাছান তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পরে তাদের আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে আদাবর ও নিউমার্কেট থানার পৃথক দুই হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

এর আগে, গত ১৪ অক্টোবর রাত পৌনে ৮টার দিকে রাজধানীর ইস্কাটন এলাকা থেকে আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এছাড়া ওই দিন দিবাগত রাত ১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে র‌্যাব-১ ফারুককে গ্রেফতার করে। পরদিন গত ১৫ অক্টোবর আদালত তাদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

হাসিনা ও কাদের সহ মন্ত্রী পরিষদের ৪৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গণহত্যার অভিযোগে করা মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তুজার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই পরোয়ানা জারি করেন।

এর আগে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। একইসাথে তাকে আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণহত্যার ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো: মহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনালের সূচনা বক্তব্যে বিডিআর বিদ্রোহে ৭৪ জনকে হত্যা, শাপলা চত্ত্বরে হেফাজতের সমাবেশে হত্যা, র‍্যাবের বিচার বহির্ভূত হত্যা, জুলাই-আগস্ট গণহত্যাসহ আওয়ামী শাসনামলে মানবতা বিরোধী অপরাধের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।

ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম শেখ হাসিনাসহ পলাতক অন্যদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেয়ার কথাও জানিয়েছেন।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জুলাই ও আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে তাকে ট্রাইবুনালে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কার্যক্রম শুরু করার পরই ট্রাইব্যুনাল এই পরোয়ানা জারি করেছেন।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তুজার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বিচারকাজ শুরু হয়। প্রথমদিনে শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা চায় ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এখন পর্যন্ত গুম, হত্যা, গণহত্যাসহ ৬০টির বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ, ১৪ দলের নেতা, সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

গত ১৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, এ সপ্তাহেই জুলাই গণহত্যায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হবে। শেখ হাসিনাসহ বিদেশে পলাতকদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেয়া হবে।

আমির খানের প্রশ্নবানে নাজেহাল অমিতাভ

০

বলিউড মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন এবং কলকাতা শহরটির মধ্যে অদ্ভুত একটা সম্পর্ক রয়েছে। কেননা, এই শহরতলি থেকেই তার যাত্রাপথ শুরু হয়েছিল। কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় পদচারণা ছিল এই কিংবদন্তী অভিনেতার। এক সময় কলকাতায় ঝালমুড়ি খেয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন।
কলকাতা শহরের সঙ্গে তার সম্পর্কের আরও বড় একটা দিক হলো তিনি এখানকার জামাই। জয়া বচ্চনের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর থেকে তাকে বাঙালিদের একজন হিসেবে মনে করা হয়। শহরের খাবার থেকে পোশাক, সবকিছুতেই তার বেশ দখল। এসব নিয়েই অমিতাভকে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন আমির খান।
অমিতাভের জন্মদিন উপলক্ষ্যে কৌন বানেগা ক্রোড়পতি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন আমির খান। সেখানে অমিতাভের প্রতি প্রশ্ন রেখে আমির খান বলেন, আপনি কলকাতায় যখন থাকতেন, সন্ধ্যায় কাজের পরে কী করতেন?
ইন্ডাস্ট্রিতে অ্যাংরি ইয়াং ম্যান নামে পরিচিত অমিতাভের নারী ফ্যান ছিল অনেক। প্রশ্নটি শুনেই যেন অদ্ভুত আচরণ করতে শুরু করলেন তিনি। কেন? প্রশ্ন শুনেই তিনি বলেন… হ্যাঁ, হুম। কিন্তু তাকে উত্তর দিতে দেখা যায় নি। কিন্তু, এটুকু পরিষ্কার, তিনি মজার ছলেই সবটা করেছেন।
অমিতাভের অনেক বড় ভক্ত আমির, সেখানে এর প্রমাণ পর্যন্ত দিয়েছেন তিনি। কীভাবে?
অমিতাভকে তিনি প্রশ্ন করেন, আপনি আপনার বিয়ের তারিখ বলতে পারবেন? এ প্রশ্নে যথারীতি সঠিক জবাব দেন অমিতাভ। কিন্তু আমির থামার পাত্র নন। তিনি সোজা বলে বসেন, আমার কাছে প্রমাণ আছে, এই দেখুন আপনার বিয়ের কার্ড। এটুকু দেখেই যেন আঁতকে ওঠেন অমিতাভ। বেশ অবাক হয়ে যান তিনি। এরপর আমিরকে প্রশংসায় ভাসান।

অজয় দেবগন আসল সিংহাম নন, কাজল

০

রোহিত শেঠির ‘কপ ইউনিভার্স’-এর সিনেমা ‘সিংহাম’ দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন বলিউড অভিনেতা অজয় দেবগন। ২০১১ সালে সিংহাম মুক্তির বছর তিনেক পর আসে ‘সিংহাম রিটার্নস’। দশ বছর বিরতি দিয়ে এবার পর্দায় আসছে সিংহাম সিরিজের তৃতীয় সিনেমা ‘সিংহাম অ্যাগেইন’। আগামী ১ নভেম্বর মুক্তি পাবে এই সিনেমা।
এদিকে আগামী ২৫ অক্টোবর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে অজয় দেবগনের স্ত্রী অভিনেত্রী কাজল অভিনীত সিনেমা ‘দো পাত্তি’। এই সিনেমায় পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজল। তাই স¤প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে কাজলকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, অজয় নাকি তিনি-আসল সিংহাম কে।
সহজাত রসবোধ মিশিয়ে কাজলের সোজাসাপ্টা জবাব, ‘আমি আগেও বলেছি, আবারও বলব-আমিই আসল সিংহাম। আর আমি (পুলিশ চরিত্রে অভিনয়ের আগে) অজয়ের কাছ থেকে কোনো টিপসও নেইনি।’
প্রসঙ্গত, কাজলের মুক্তিপ্রতীক্ষিত দো পাত্তি সিনেমা নির্মাণ করেছেন শশাঙ্ক চতুর্বেদী। এই সিনেমা দিয়ে প্রযোজক হিসেবে অভিষেক হচ্ছে অভিনেত্রী কৃতি স্যাননের। কাজলের সঙ্গে সিনেমাতে অভিনয়ও করেছেন কৃতি।

রেখার সিঁদুর পরার রহস্য ফাঁস করেন দীপালি ইসার

০

বলিউড অভিনেত্রী রেখা মানেই তার জীবন বিতর্কে ভরা। তাকে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। ৬৯ বছরে কখনো নাম জড়িয়েছে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে। আবার কখনো সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে তার প্রেম নিয়ে হয়েছে চর্চা। জুটেছে ‘ঘরভাঙানি’ তকমা। তার চরিত্র নিয়ে চলেছে কদর্য কাটাছেঁড়াও।
রেখা মানেই তার জীবন বিতর্কে ভরা। তাকে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। ৬৯ বছরে কখনো নাম জড়িয়েছে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে। আবার কখনো সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে তার প্রেম নিয়ে হয়েছে চর্চা। জুটেছে ‘ঘরভাঙানি’ তকমা। তার চরিত্র নিয়ে চলেছে কদর্য কাটাছেঁড়াও। মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকে সাংসারিক অনটনের তাগিদে শো-বিজে ডেবিউ করতে হয়েছিল তাকে। এ হেন রেখা বিয়েও করেন। দিল্লির ব্যবসায়ী মুকেশ আগরওয়াল ছিলেন তার স্বামী। বিয়ের কিছু মাসের মধ্যেই যদিও আত্মহত্যা করেন মুকেশ। স্বামী মারা যাওয়ার পরেও রেখা সিঁদুর পরতেন। আজও সিঁদুর পরতে দেখা যায় তাকে! তা নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। ঋষি কাপুর ও নিতু সিংয়ের বিয়েতেও একমাথা সিঁদুর পরে হাজির হয়েছিলেন রেখা। সেই ঘটনা তো রীতিমতো দখল করেছিল পেজ থ্রির হেডলাইন। কেন আজও সিঁদুর পরেন রেখা? সে উত্তর দিয়েছিলেন নিজেই।
রেখার আত্মজীবনী লিখেছিলেন ইয়াসির উসমা। জানিয়েছিলেন নিতু-ঋষির বিয়েতে রেখার সিঁদুর নিয়ে যখন জোর চর্চা তখন মুখ খুলেছিলেন রেখা নিজেই। জানিয়েছিলেন, এক শুট করছিলেন, যে শুটে সিঁদুর ও মঙ্গলসূত্র পরতে হয়েছিল তাঁকে। সেখান থেকেই বিয়েবাড়িতে আসেন। তাড়াহুড়োতে নাকি মেকআপ তুলতে ভুলে গিয়েছেন তিনি। যদিও এই কারণ কারও কাছে সেভাবে বিশ্বাসযোগ্য হয়নি।
অন্যদিকে এক সাক্ষাৎকারে রেখা বলেন, যে শহরে আমার জন্ম সেখানে সিঁদুর ফ্যাশনের অংশ। আমার মনে হয় সিঁদুর পরলে আমাকে দেখতে ভালো লাগে। তাই নিজের জন্যই সিঁদুর পরি আমি। সিঁদুর আমাকে বেশ মানায়। এ তো গেল রেখার বয়ান। রেখার সিঁদুর পরা নিয়ে আসল বোমাটা ফাটান অভিনেতা পুনিত ইসারের স্ত্রী দীপালি ইসার।
সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি একবার বলেছিলেন, রেখা নাকি সিঁদুর পরেন অমিতাভ বচ্চনের জন্য। তাদের প্রেম যে ছিল, এ খবর তো সকলেরই জানা। তবে তারা বিয়ে করেছিলেন কিনা এ নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও সঠিক কোনো প্রমাণ আজ পর্যন্ত মেলে না। সে যাই হোক, বিতর্কে ভরা জীবন নিয়ে জীবনের ৬৯টা বসন্ত পার করে ফেলেছেন রেখা। তাকে নিয়ে মানুষের মনে আগ্রহে কিন্তু এতটুকু ভাটা পড়েনি।

ভারতীয় গোয়েন্দা তৎপরতা, তদন্তে ৪ স্পর্শকাতর বিষয় পেল কানাডা পুলিশ

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, ভারতীয় এজেন্টরা কানাডায় হত্যার ঘটনা যে ঘটিয়েছে, তা এখন প্রমাণিত। তবে ভারত এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে। তদন্তে কানাডার পুলিশ ভারতীয় গোয়েন্দাদের চারটি স্পর্শকাতর বিষয় জানতে পেরেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
কানাডা এবং ভারত দুই দেশই নিজেদের দেশ থেকে অন্য দেশের ছয়জন করে কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে। অর্থাৎ, কানাডা ছয় ভারতীয় কূটনীতিককে দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে। ভারতও পাল্টা একই কাজ করেছে কানাডার কূটনীতিকদের সঙ্গে।
কানাডার অভিযোগ, এক বছর আগে দেশটির শিখ নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জর খুনের ঘটনায় যে ভারতীয় এজেন্টরা জড়িত ছিল, তা এখন স্পষ্ট। তদন্তে বিষয়টি উঠে এসেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভারতের এই কাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বস্তুত, প্রমাণ হাতে আসার পরেই ছয় ভারতীয় কূটনীতিককে দেশের ফেরানোর নির্দেশ দেয় কানাডার প্রশাসন।
খালিস্তান অর্থাৎ, আলাদা শিখ রাষ্ট্রের জন্য আন্দোলন করছিলেন হরদীপ। তিনি কানাডার নাগরিক ছিলেন। গত বছর ভ্যানকুভারে তিনি খুন হন। প্রাথমিক তদন্তের পর তখনই কানাডা জানিয়েছিল, এই ঘটনার পেছনে ভারতীয় এজেন্টদের হাত আছে। রয়্যাল মাউন্টেড পুলিশের হাতে তখন তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, ওই ঘটনায় এবং ওই ধরনের আরও বেশ কিছু ঘটনায় ভারতীয় এজেন্টদের জড়িত থাকার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, একই দিন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো বলেছেন, ‘সার্বভৌম কানাডার মাটিতে হামলার ঘটনায় কূটনীতিক এবং এজেন্টদের ব্যবহার করে ভারত মস্ত বড় ভুল করেছে।’
তার কথায়, ‘রয়্যাল মাউন্টেড পুলিশের তদন্তে স্পষ্ট ওই ঘটনায় ভারতীয় কূটনীতিক এবং এজেন্টরা যুক্ত ছিল।’
ট্রুডো জানিয়েছেন, কানাডার মাটিতে কানাডার নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া তার প্রথম এবং প্রাথমিক কর্তব্য। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা তার কাজ। অন্য কোনো দেশ তার দেশে এসে হত্যার ঘটনা ঘটাবে, তা তিনি কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
অপরদিকে মাউন্টেড পুলিশের তদন্ত থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। একাধিক সহিংসতার ঘটনায় ভারতীয় এজেন্টদের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে। খুনের ঘটনায় তাদের সরাসরি সংযোগ মিলেছে। কানাডায় বসবাসকারী দক্ষিণ এশীয়দের ওপর থ্রেট তৈরি করা হয়েছে। কানাডার গণতান্ত্রিক সার্বভৌম চরিত্রে আঘাত করা হয়েছে।
এমনকি তদন্ত চলাকালীনও ভারতীয় এজেন্টরা কানাডার মাটিতে সক্রিয় ছিল এবং একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কানাডার মন্তব্য ভিত্তিহীন। ভারত বার বার তাদের কাছে তথ্যপ্রমাণ চেয়েছে। কিন্তু কানাডা এখনো পর্যন্ত তা দিতে পারেনি। রাজনৈতিক কারণে কানাডা এই মন্তব্য করছে বলেও অভিযোগ করেছে ভারত।
কানাডার পদক্ষেপের পাল্টা জবাব দিতে ভারতও সেদেশ থেকে কানাডার ছয় কূটনীতিককে শনিবারের মধ্যে দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

জাতিসংঘ তার কর্মীদের রক্ষা করতে পারে না, এটি লজ্জার: এরদোগান

লেবাননে জাতিসংঘ তার কর্মীদের ইসরাইলের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারছে না, বিশ্ব স¤প্রদায়ের জন্য এটি উদ্বেগজনক। এমন মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। সোমবার বিশ্বসংস্থাকে তেল আবিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহŸান জানিয়েছে তিনি।
সোমবার (১৪) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এরদোগান বলেন, ‘জাতিসংঘের ভাবমূর্তি, যেটি এমনকি নিজের কর্মীদেরও রক্ষা করতে পারে না, তা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য লজ্জা ও উদ্বেগের কারণ।”
তিনি আরও বলেন, ‘আসলে আমরাও অবাক হয়েছি যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইসরাইলকে থামানোর জন্য অপেক্ষা করছে’।
এরদোগান বলেন, আগ্রাসী মনোভাবের কারণে এই অঞ্চল ‘ইসরাইলের আগুন জ্বলেছে।
তার ভাষ্য, লেবাননে ইসরাইলের সা¤প্রতিক আক্রমণ আবারও প্রমাণ করেছে আমাদের উদ্বেগ কতটা যৌক্তিক’। একইসঙ্গে ইসরাইলের উচ্চাকাক্সক্ষা সম্পর্কে তেল আবিবকে সতর্ক করেছেন এরদোগান।
লেবাননে জাতিসংঘের মতে, ইসরাইলি ট্যাঙ্ক রোববার শান্তিরক্ষী ঘাঁটিতে বিস্ফোরিত হয়। এটি শান্তিরক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে ইসরাইলি লঙ্ঘনের সর্বশেষ ঘটনা।
তুর্কি নেতা বলেন, ‘ইউএনআইএফআইএলকে আক্রমণ ও হুমকি দেওয়ার জন্য ইসরাইলি সরকারের বর্বরতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। যারা এখনো কিছু দেখছে না তাদের জন্য বোধোদয়ের বার্তা’।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদ লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের (ইউএনআইএফআইএল) বিরুদ্ধে ইসরাইলের ‘দস্যুতা’ কর্মকাণ্ডকে শুধুই দেখে যাচ্ছে। জাতিসংঘের তৎপরতাকে ‘নপুংসকতা’ বলে অভিহিত করেন এরদোগান।

ট্রাম্প-কমলা কাউকেই ভোট না দেওয়ার ঘোষণা আরব আমেরিকান কমিটির

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বাড়ছে উত্তেজনা। চলছে পাল্টাপাল্টি হুমকি আর হামলা। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্পÑ কাউকেই সমর্থন না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দ্য আরব আমেরিকান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (অ্যাপ্যাক)।
গাজা ও লেবানন যুদ্ধে ‘অন্ধ সমর্থনে’র কারণে গতকাল সোমবার তাঁদের ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দেয় ওই কমিটি।
আরব আমেরিকান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘উভয় প্রার্থী গাজা ও লেবানন যুদ্ধে গণহত্যাকে সমর্থন দিয়েছেন। আমরা ডেমোক্রেটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিস বা রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প কাউকেই ভোট দিতে পারি না। তাঁরা অন্ধভাবে ইসরায়েলের অপরাধী সরকারকে সমর্থন দিচ্ছেন।’
আগামী ৫ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এবারই প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন না দেওয়ার কথা জানাল গ্রপটি। এটি সাধারণত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীকে সমর্থন দেয়।
বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনী লড়াই চলছে। কেউই কারও থেকে পিছিয়ে নেই। আরব ও মুসলিম আমেরিকানরা ২০২০ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ব্যাপক সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন তাঁরা। এ ধারাবাহিকতায় এবার তাঁরা ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অতীতের বিভিন্ন মন্তব্য এবং ক্ষমতায় থাকাকালে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় ট্রাম্পের প্রতি মুসলমানদের সমর্থন নজিরবিহীনভাবে কমে গেছে। কমলা ও বাইডেনের মতো ট্রাম্পও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইসরায়েলকে সমর্থন দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকেরা বলেছেন, আরব ও মুসলিম আমেরিকানরা ভোট না দিলে কমলা হ্যারিসের জয়ের সম্ভাবনা ম্লান হয়ে যেতে পারে। এসব স¤প্রদায়ের যারা গাজা ও লেবানন যুদ্ধে স্বজন হারিয়েছেন, তাঁরা সমর্থকদের ট্রাম্প ও কমলাকে ভোট না দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

১৫ বছরে টাকার কুমির হয়েছেন শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান আলোচিত-সমালোচিত মুখ। তার নির্বাচনি এলাকা ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জকে নববধূর মতো সাজানোর ঘোষণা দিলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি তেমন কোনো কাজই করেননি। তার সংসদীয় এলাকা বছরজুড়েই পানিতে ডুবে থাকে। রাস্তাঘাটের অবস্থাও ভালো নয়। এলাকার অধিকাংশ রাস্তা খানাখন্দে ভরা। সংসদীয় এলাকায় তেমন কোনো উন্নয়ন করতে না পারলেও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ফুলেফেঁপে টাকার কুমির বনেছেন শামীম ওসমান। নিজ ও নিজের পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা জমিয়েছেন। দেশ ও দেশের বাইরে রয়েছে তার বিশাল ব্যবসাবাণিজ্য। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলতেন- ‘দুই আর দুই’ মিলে অনেকে চার বললেও আমি দেখি ২২। কারণ আমি আগে থেকেই অনেক কিছু অনুমান করতে পারি। সেই বক্তব্য দেওয়া শামীম ওসমান আওয়ামী লীগের নিষ্ঠুর পতন হবে, সেটা তিনি বুঝতে পারেননি। সেই সঙ্গে তাকেও দেশ ছেড়ে পালাতে হবে সেটাও উপলব্ধি করতে পারেননি।
ডুবন্ত জনপদের নেতা : ফতুল্লা এলাকায় বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার সমস্যা দীর্ঘদিনের। ডিএনডি বাঁধের ভিতরে সেনাবাহিনীর তত্ত¡াবধানে মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে। এ কাজ শেষ হলে বাঁধের ভিতরে জলাবদ্ধতা কমে যাবে। দৃষ্টিনন্দন হবে ডিএনডি বাঁধের ভিতরের এলাকা। কিন্তু বাঁধের বাইরেও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয় তীব্র জলাবদ্ধতা। অনেক এলাকায় বছরজুড়েই থাকে কৃত্রিম বন্যা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর এ সমস্যা থাকলেও সেগুলো সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেননি শামীম ওসমান। তাই প্রভাবশালী শামীম ওসমানকে বলা হতো ডুবন্ত জনপদের নেতা। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের অন্যতম শিল্পাঞ্চল ফতুল্লার বিসিক। এখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কয়েক হাজার এবং শ্রমিকের সংখ্যা কয়েক লাখ। প্রতি বছর এ অঞ্চল থেকে সরকার কোটি টাকা রাজস্ব পায়। অথচ এ অঞ্চলে কর্মরত শ্রমিকদের দুর্ভোগের শেষ নেই। ডায়িংয়ের কেমিক্যাল মিশ্রিত বিষাক্ত পানি মাড়িয়েই কর্মক্ষেত্রে যেতে হয় কয়েক লাখ শ্রমিককে। এ ব্যাপারেও উদাসীন ছিলেন শামীম ওসমান। ২০২৪ সালে হলফনামায় শামীম ওসমান নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার মোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পাঁচটি। জ্বালানি তেল আমদানি পরিবহন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জেড এন করপোরেশন, জেড এন শিপিং লাইনস লিমিটেড, মাইশা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড, খান ব্রাদার্স ইনফোটেক ও উইসজম নিটিং মিলসকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিগত দিনে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে দুদকের দুটি মামলাসহ ১৭টি মামলা দায়ের হয়েছিল যার মধ্যে কয়েকটি মামলা হাই কোর্ট কর্তৃক স্থগিত রয়েছে ও বেশ কিছু মামলা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং কয়েকটিতে তিনি বেকসুর খালাস পেয়েছেন।
সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম : শামীম ওসমান প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, স্বৈরশাসকের চারণভূমি ছিল নারায়ণগঞ্জ। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনার সমর্থনেই শামীম ওসমান গডফাদার হয়েছিলেন। তার বিশাল বাহিনী ছিল যারা অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত থাকত। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ও তার অস্ত্রের মহড়া নারায়ণগঞ্জবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। তার কাছে নিজ দলের লোকজনও জিম্মি ছিল। আর এ বিষয়টি শেখ হাসিনাও জানতেন, কিন্তু শামীম ওসমানকে ব্যবহারের জন্য কেউ কিছু বলত না। বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর সীমাহীন নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়েছেন শামীম ওসমান। সব মিলিয়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল নারায়ণগঞ্জে। তিনি আরও বলেন, শামীম ওসমান এলাকায় কোনো উন্নয়ন কাজ করতে পারেননি। আমরা শুধু শুনেছি তিনি এ কাজ নিয়ে এসেছেন সেই কাজ নিয়ে এসেছেন। কিন্তু আমরা কোনো উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করছি না। যদি তিনি উন্নয়ন কাজ করতেন তাহলে বর্তমানে কোনো সমস্যা থাকত না। আমাদের ধারণা যে বরাদ্দ এনেছেন সেগুলো কাজ না করেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন।