নিউইয়র্কের মন্থর উইকেটে প্রতিটি রান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এমন ম্যাচেই আম্পায়ারের ‘ভুল সিদ্ধান্তে’ বাংলাদেশ হারাল ৪ রান। পরে ম্যাচে বাংলাদেশের হারের ব্যবধানও ছিল সেই ৪ রানেরই। এ বিষয়ে এবার ক্ষোভ ঝাড়লেন ক্রিকেটার তামিম ইকবাল
ঘটনাটা ঘটেছিল বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ১৭তম ওভারে। পেসার ওটনিল বার্টম্যানের বল মাহমুদউল্লাহর পায়ে লেগে চলে যায় বাউন্ডারির বাইরে। বার্টম্যানের আবেদনে সাড়া দিয়ে আম্পায়ার মাহমুদউল্লাহকে এলবিডবøু দেন। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ রিভিউ নেন। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল ছিল স্টাম্পের বাইরে। আম্পায়ার সিদ্ধান্ত পাল্টিয়ে মাহমুদউল্লাহকে নটআউট ঘোষণা করেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী, আম্পায়ার আউট দেওয়ার পর বল ডেড হয়ে যাওয়ায় লেগ বাই হিসেবে ৪ রান পায়নি বাংলাদেশ। অথচ সেই চার রান স্কোরবোর্ডে যোগ হলে বদলে যেতে পারত ম্যাচের ফলও।
এটা নিয়ে ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগোযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। কেউ আম্পায়ারকে দুষছেন, কেউ আবার দায় দেখছেন আইসিসির। ম্যাচের পর ইএসপিএনক্রিকইনফোর এক আলোচনাতেও গুরুত্ব পেয়েছে বিষয়টি। যেখানে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার, বাংলাদেশের তামিম ইকবাল ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রিকেটার মরনে মরকেল বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেছেন। তারা প্রত্যেকেই মনে করেন, আইসিসির উচিত এই নিয়ম বদলানো। তামিম বলেছেন, এই ৪ রান পেলে বাংলাদেশের ভাগ্য বদলে যেতে পারত।
আলাপের শুরুতে মাঞ্জরেকার বলেছেন, ‘এটা নিয়ে সমর্থকেরা অনেক কথা বলছেন। আমরাও এটা নিয়ে আলাপ করতে পারি। আম্পায়ার কি সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন না? আম্পায়ার চাইলে বলটা বাউন্ডারি লাইন অতিক্রম করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন এবং তারপর তার আঙুল তুলতে পারেন বা বলতে পারেন যে আউট হয়নি। এরপর সেটা আপনি রেকর্ড করলেন এবং রিভিউর পর যা হওয়ার তা হবে।’
মাঞ্জরেকারের সঙ্গে একমত তামিম। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আপনার কাছে যখন সময় আছে, আপনি কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করে দেখতে পারেন, বল কোথায় গেল। সেটা কি বাউন্ডারি হলো, নাকি হলো না! এরপর আপনি আপনার সিদ্ধান্ত জানান। যদি ব্যাটসম্যান আউট না হয়, আর বল যদি তার থাইপ্যাডে বা অন্য কোথাও লেগে বাউন্ডারির বাইরে চলে যায়, তবে সে ক্ষেত্রে রান দেওয়া উচিত। যদি সে আউট না হয় আর কি। এটা আমি কঠিনভাবে বিশ্বাস করি।’
এই ৪ রান বাংলাদেশের ভাগ্য বদলে দিতে পারত উল্লেখ করে তামিম আরও বলেছেন, ‘এই ৪ রান বাংলাদেশের ভাগ্য বদলে দিতে পারত। এটা হতে পারত। আমি হয়তো সমর্থকদের মতো কথা বলছি। কিন্তু আপনি যদি ভাবেন, এই ৪ রান বাংলাদেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ধারাভাষ্যকক্ষেও সবাইকে এটা নিয়ে কথা বলতে শুনেছি। এটা এমন কিছু, যেখানে আইসিসি গুরুত্বের সঙ্গে মনোযোগ দিতে পারে। কারণ, এটা এমন কিছু নয় যে তাদের বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে।’
তামিমের সঙ্গে একমত দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার মরকেলও, ‘আমি একমত। কোনো সন্দেহ নেই। এটা বদলানো জরুরি। আশা করি, বিশ্বকাপের পর তেমন কিছু হবে।’
৪ রান না পাওয়ায় যার ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন তামিম
মেসি ফেরার ম্যাচে ডি মারিয়ার গোলে আর্জেন্টিনার জয়
কোপা আমেরিকা সামনে রেখে প্রস্তুতি সারছে আর্জেন্টিনা। তারই ধারাবাহিকতায় ইকুয়েডরের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে আলবিসেলেস্তেরা। সেই ম্যাচ দিয়ে ফের দলে ফিরেছেন লিওনেল মেসি। যদিও এ ম্যাচে তিনি কোনো গোল করতে পারেননি। তবে তাতে দলের জয় আটকে থাকেনি। ডি মারিয়ার গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা।
এদিন অবশ্য প্রথমার্ধে মাঠে দেখা যায়নি মেসিকে। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৬ মিনিটে মাঠে নামেন মেসি। এরপর যদিও কোনো গোল হয়নি। তবে কোপার আগে মেসির এই ফেরা আর্জেন্টিনার জন্য স্বস্তির। দলের জয়সূচক গোলটি করেন অভিজ্ঞ উইঙ্গার আনহেল ডি মারিয়া। ম্যাচের ৪০ মিনিটে করা তাঁর গোলটিই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
এদিন ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণ চালিয়েছে ডি মারিয়া এবং হুলিয়ান আলভারেজরা। যদিও সেই আক্রমণ বেশ দক্ষতার সঙ্গেই প্রতিহত করছিল ইকুয়েডরের রক্ষণ। তবে খুব বেশি সময় আটকে রাখা যায়নি আর্জেন্টিনাকে। ম্যাচের ৪০ মিনিটে ঠিকই গোল আদায় করে নিয়েছে দলটি। বিরতিতে গেছে স্বস্তি নিয়েই। দ্বিতীয়ার্ধেও বেশ কিছু সুযোগ তৈরি হয়েছিল গোলের। যদিও ইকুয়েডর রক্ষণে জমাট বেধে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গোল হজম করা থেকে বিরত থেকেছে। তাতে করেই জয়ের ব্যবধানটা বাড়েনি আর্জেন্টিনার।
কোপা আমেরিকার মূল মিশনে নামার আগে আর্জেন্টিনার পরের ম্যাচ আগামী ১৫ জুন গুয়েতেমালার বিপক্ষে। এরপর ২১ জুন কানাডার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে কোপা অভিযান শুরু করবে আর্জেন্টিনা। ২৬ জুন চিলির বিপক্ষে এবং ৩০ জুন পেরুর বিপক্ষে গ্রæপ পর্বের বাকি ম্যাচ দুটি খেলবে কোপার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
পাকিস্তানকে হারিয়ে বুমরাহ বন্দনায় রোহিত
বিশ্বকাপের হাই ভোল্টেজ ম্যাচে ভারতকে মাত্র ১১৯ রানেই আটকে দেয় পাকিস্তান। লক্ষ্যটা অতি মামুলি। সেই লক্ষ্যে কতক্ষণ লড়াই করতে পারে ভারতীয় বোলাররা; সেটাই ছিল দেখার। অথচ, কেবল লড়াই করেনি ভারতীয় বোলাররা ম্যাচটাই নিজেদের করে নিয়েছে তারা। এমন জয়ে তাই প্রশংসা পাচ্ছে ভারতীয় বোলাররা। যার মধ্যে বিশেষভাবে নাম এসেছে জাসপ্রিত বুমরাহর। কেননা, তার ৪ ওভারের স্পেলেই যে ম্যাচটা হাতছাড়া হয়ে গেছে পাকিস্তানের। এমন জয়ের পর তাই রোহিতের কণ্ঠেও শোনা গিয়েছে বুমরাহ বন্দনা।
ম্যাচে ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ১৪ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন বুমরাহ। মোহাম্মদ রিজওয়ান ও বাবর আজমের গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেটই তুলেছেন বুমরাহ। পাকিস্তানের শেষ স্বীকৃত ব্যাটার ইফতেখার আহমেদকেও গুঁড়িয়ে দিয়েছেন তিনিই। আর ওখানেই শেষ হয়ে যায় ভারতের জয়ের স্বপ্ন। এমন অল্প পুঁজি নিয়েও জয় পাওয়ায় বেশ খুশিই রোহিত। জয়ের কৃতিত্বটা বোলারদের দিতে ভুলেননি তিনি। আলাদা করে প্রশংসা করেছেন বুমরাহরও।
ম্যাচ নিয়ে রোহিত বলেন, ‘আমরা যথেষ্ট ভালো ব্যাটিং করিনি। আমরা ১৫-২০ রানে পিছিয়ে পড়েছিলাম। তবে বোলারদের জানিয়েছিলাম এই পিচে প্রতিটি রান কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমার মনে হয়েছে বোলাররা আমাদের জন্য কাজটি করতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত সেটি তারা করেছেও।’
এক পাশ থেকে উইকেট পড়লেও রিজওয়ান দলকে জয়ের পথেই রাখছিলেন। একটা সময় ৩৬ বলে ৪০ রান প্রয়োজন ছিল পাকিস্তানের। তখনও উইকেটে রিজওয়ান। এরপর বুমরাহ এসে দারুণ সুইংয়ে রিজওয়ানের স্টাম্প ভাঙেন। এরপরই ম্যাচটা হাতছাড়া হয়ে যায় পাকিস্তানের। স্বাভাবিকভাবেই কৃতিত্বটা তাই বুমরাহর। যার প্রশংসা করেছেন অধিনায়ক রোহিতও।
বুমরাহকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘বলতে গেলে আমাদের সবার কথা বলতে হবে। কেননা, এই সামান্য অবদানগুলি একটি বিশাল পার্থক্য তৈরি করে। যার হাতে বল ছিল সেই দলের জন্য অবদান রাখতে চেয়েছে। বুমরাহ আরও শক্তিশালী হচ্ছে। আমরা তাকে বছরের পর বছর ধরে দেখেছি সে কী করতে পারে, আমি তার সম্পর্কে খুব বেশি কথা বলতে চাচ্ছি না। আমরা চাই সে টুর্নামেন্টের শেষ অবধি একইরকম মানসিকতায় থাকুক। সে দারুণ প্রতিভা, আমরা এটা জানি, কিন্তু অন্য ছেলেদেরকেও হ্যাটস অফ।’
সরকার দেশ, মানুষ ও প্রকৃতিকে রক্ষা করতে চায়
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দেশ, দেশের জনগণ ও প্রকৃতিকে রক্ষা করাই তার সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে পরিবেশ রক্ষায় বাসাবাড়ি, চারপাশ ও অফিসের ফাঁকা জায়গায় গাছের চারা রোপণের আহŸান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দেশ, দেশের জনগণ এবং প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখা।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিশ^ পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৪’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৪’ এর ও উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, আমাদের সুন্দর জীবন ও সুস্বাস্থ্যের জন্য সুন্দর পরিবেশ দরকার। কাজেই সেদিকে সবাই সচেতন হোন সেটাই আমি চাই। তিনি বলেন, আমার লক্ষ্যই হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দেশ, দেশের মানুষ এবং প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখা।
সরকার প্রধান এই সময় দেশবাসীর প্রতি বৃক্ষরোপণের আহŸান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, যারা এখানে উপস্থিত আছেন এবং এর বাইরেও সবাইকে অনুরোধ করব প্রত্যেকে যেখানেই পারেন অন্তত তিনটি করে গাছ লাগান। একটি ফলজ, একটি বনজ এবং একটি ওষুধি গাছ। ফলের গাছ লাগালে ফল খেতে পারবেন, আর বনজ গাছ লাগালে সেটা বড় হলে বিক্রি করে টাকা পাবেন। ভালো টাকা পাওয়া যায় এখন। আর ওষুধি গাছ সেটা ওষুধ তৈরি বা বিভিন্ন কাজে লাগে। তিনি বলেন, সকলে যদি গাছ লাগায়, শুধু আমাদের বাড়ি ঘর না, কর্মস্থল, অফিস আদালত স্কুল কলেজ মসজিদ মাদরাসার প্রাঙ্গণে যেখানেই খালি জায়গা আছে, সেখানে গাছ লাগান। আপনারা যদি গাছ লাগান এত গরমে গাছের নিচে গিয়ে বসলে বেশ ঠাণ্ডাএবং আরামদায়ক ছায়া পাবেন।
ছাদ বাগান করাসহ গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নিজের হাতে গাছ লাগানোর তৃপ্তিটাই আলাদা। তার সংগঠন থেকে সেই ’৮৪-৮৫ সাল থেকেই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকার প্রধান বলেন, বৃক্ষরোপণ, বন স¤প্রসারণ ও বন সংরক্ষণের বিষয়টি অতীতে উপেক্ষিত থাকায় অতীতে দেশে বৃক্ষ আচ্ছাদনের পরিমাণ যেখানে ছিল ১৭ ভাগ এখন তা ২৫ ভাগের কাছাকাছিতে উন্নীত হয়েছে। বিভিন্ন নার্সারিতে ১১ কোটি ২১ লাখ চারা বিক্রয়-বিতরণ, ২ লাখ ১৭ হাজার ৪০২ হেক্টরে ব্লক বাগান তৈরি, ৩০ হাজার ২৫২ কিমি. সরু বাগান সৃজনের কাজ ইতোমধ্যে তার সরকার করে যাচ্ছে। তা ছাড়া শুধু বনেই বনায়ন নয়, যখনই তার সরকার রাস্তাঘাট তৈরি করছে বা স্থাপনা নির্মাণ করছে সেখানে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশ থাকে যে কী পরিমাণ বৃক্ষ রোপণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা যখন আমরা নিই সেখানে অবশ্যই আমাদের পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি এবং যদি কোথাও আমাদের জায়গার জন্য গাছ কাটা পড়ে তাহলে যে পরিমাণ গাছ কাটা হবে তার তিনগুণ গাছ লাগানোর শর্তটি আমরা জুড়ে দেই। তিনি বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের স্লোগান হোক ‘সুস্থ পরিবেশ স্মার্ট বাংলাদেশ’।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন’ (২০২৩-২৪), ‘জাতীয় পরিবেশ পদক’ (২০২৩), ‘বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার’ ২০২২-২৩) এবং উপকারভোগীদের মাঝে ‘সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশ’-এর চেক প্রদান করেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি আপন খেয়ালে চলে। এবারের ঘূর্ণিঝড় রিমেলের মতো এত দীর্ঘস্থায়ী ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ¡াস অতীতে আর কখনো দেখি নাই। তিনবার জলোচ্ছ¡াসের ধাক্কা দিয়েছে এবং দীর্ঘসময় অবস্থান করছিল। এক দিকে পূর্ণিমা আর এক দিকে জোয়ারের সংমিশ্রণে এটি ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমাদের মানুষদের আমরা বাঁচানোর জন্য ৮ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনতে সক্ষম হয়েছি।
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার গৃহহীনদের মধ্যে বিনামূল্যে ঘর বিতরণের অংশ হিসেবে উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগ সহনশীল ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। যেগুলো ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এমনকী ভাষানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য যে ঘর করে দিয়েছে সেগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অ্যাডাপটেশন অ্যান্ড মিটিগেশন প্লান’ করে এবং কারো মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড করে নিজেদের মতো করে তার সরকার মানুষকে রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। যেটা আজকে বিশ্বের অনেক দেশ অনুসরণ করছে। তিনি অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করারও পরামর্শ দেন।
সরকার প্রধান বলেন, আমরা চাই এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে আমাদের দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষা করতে এবং সাথে সাথে বৃক্ষায়ন এবং আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। তা ছাড়া বিশাল সমুদ্র অঞ্চল অর্জন করায় তার সরকার উপকূলীয় এলাকাগুলোর উন্নয়নেও ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমাদের ন্যাচারাল ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন প্রকৃতির বিরুদ্ধে ঢালের কাজ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা প্রকৃতিগত ভাবেই আমাদের ঝড়, ঝঞ্ঝা এবং জলোচ্ছ¡াস থেকে রক্ষা করে।
শেখ হাসিনা বলেন, কাজেই সুন্দরবনকে আরো সুরক্ষিত করা দরকার।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট পেশ আজ
পৌনে পাঁচ লাখ কোটি টাকার বেশি কর আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেট আজ জাতীয় সংসদে পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তার প্রথম বাজেটেই সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়বে। এদিকে টানা মূল্যস্ফীতির কারণে প্রকৃত আয় কমছে মানুষের। এর মধ্যে নতুন করে করের বোঝা যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়াবে। নতুন বাজেটে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখা হচ্ছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। এটি করতে গিয়ে প্রবৃদ্ধির পথ সংকুচিত করা হয়েছে। ফলে উচ্চ প্রবৃদ্ধির স্বপ্ন দেখছেন না তিনি। তাই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশের ঘরে রাখা হচ্ছে। তবে চলতি বছরের মতো আগামী বাজেটেও থাকছে আইএমএফ’র শর্তের প্রতিফলন। চাপে থাকা সামষ্টিক অর্থনীতি ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জের পরও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে ব্যয়ের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এটি চলতি সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি।
সূত্রমতে, আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি ছাড়াও ‘সবার জন্য খাদ্য’, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি অর্জন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অগ্রাধিকারের তালিকায় প্রতিটি গ্রামকে আধুনিকায়নকরণ, ডিজিটাল স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ফাস্ট ট্র্যাক অবকাঠামো প্রকল্প গুরুত্ব দেওয়া, জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় পদক্ষেপ গ্রহণ। মূল্যস্ফীতিকে সহনীয় মাত্রায় রাখতে আগামী বাজেটে এর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। যদিও সর্বশেষ তথ্যমতে, মূল্যস্ফীতির হার ১০ শতাংশের কাছাকাছি চলে গেছে।
আজ বেলা তিনটায় জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার আগে দিনের প্রথমার্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে তার অনুমোদন নেওয়া হবে। এটি হবে বর্তমান সরকারের টানা চতুর্থ মেয়াদের প্রথম বাজেট। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ২১তম বাজেট।
বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের ঝুঁকি এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির নিুগতি বিরাজ করছে। ফলে নানামুখী চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রথম বাজেট দিতে হচ্ছে অর্থমন্ত্রীকে। ডলার সংকট এখনো কাটেনি। রিজার্ভ অনেক নিচে নেমে এসেছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। উন্নত বিশ্বে মূল্যস্ফীতি কমলেও দেশে উলটো চরিত্র বিরাজ করছে। মূল্যস্ফীতি ১০ অঙ্কের ঘর ছুঁইছুঁই। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার লাগামহীন। তবে খাদ্য উৎপাদন কিছুটা ভালো হবে-এমন আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থমন্ত্রী হিসাবে অর্থনীতিকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনা, নিত্যপণ্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং জীবনযাত্রার মান সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনাকে অগ্রাধিকার দেবেন। মূল্যস্ফীতির কশাঘাত থেকে রক্ষায় কিছু নতুন দরিদ্র মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার ঘোষণা দেবেন। প্রথম বাজেটে নতুন কিছু কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে দিকনির্দেশনা থাকবে। এছাড়া প্রতিফলন ঘটানো হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনি ইশতেহারের। পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার ব্যাপারে ঘোষণা থাকতে পারে। নতুন বাজেটে তিনটি বিষয় প্রত্যাশা রেখে অর্থনীতিবিদ এমকে মুজেরী বলেন, মূল্যস্ফীতিসহ সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় রাজস্বনীতির সঙ্গে মুদ্রানীতি সমন্বয় করতে হবে। মূল্যস্ফীতির কারণে অনেক মানুষ দরিদ্র হয়ে গেছে, বাজেটে এই শ্রেণির মানুষকে সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ থাকতে হবে। আর ভিশন ২০৩১ লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে হারে প্রবৃদ্ধি হওয়ার কথা সেভাবে হচ্ছে না, সেটি নজর দিতে হবে। আসন্ন বাজেটে বিদেশি ঋণ, সুদ ও ভর্তুকি মতো ব্যয় মেটাতে রাজস্ব খাতের চাপ কাটছে না এমনিতে। ব্যয় আরও বৃদ্ধির কারণে চাপ আগামী অর্থবছরে অব্যাহত থাকছে। মোট বাজেটের ২০ শতাংশই চলে যাবে সুদ পরিশোধে। টাকার অঙ্কে এক লাখ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ৯৩ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণের সুদে ব্যয় হবে ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী অর্থবছরে বড় ধরনের করজালের আওতা বাড়ানো হচ্ছে। করজাল স¤প্রসারণ করে রাজস্ব আদায় বাড়াতে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী বেশ কিছু প্রস্তাব দিতে পারেন। সে ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরে শুল্ক বাড়তে পারে মুঠোফোনের রিচার্জের ওপর। এতে ফোনে কথার খরচ বাড়বে। এছাড়া মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যবহৃত পণ্য পানিশোধন যন্ত্র, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি সামগ্রীর ওপর শুল্ককর বাড়তে পারে। ব্যাংকে গচ্ছিত টাকার ওপর আবগারি শুল্কও বাড়বে।
এছাড়া প্রায় অর্ধশত পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ পর্যায়ে ভ্যাট হার এবং সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে। এ তালিকায় আছে-মোবাইল ফোন, আমসত্ত¡, ফলের জুস, কোমল পানীয়, কার্বোনেটেড বেভারেজ, এনার্জি ড্রিংকস, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বাল্ব ইত্যাদি। এতে ভোক্তা পর্যায়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও নিত্যব্যবহার্য পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এছাড়া অর্ধশত মূলধনি যন্ত্র ও যন্ত্রাংশের রেয়াতি সুবিধা (শূন্য শুল্কে আমদানি) প্রত্যাহার করা হচ্ছে। কালোটাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে। নগদ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ কর দিয়ে বিনাপ্রশ্নে যে কেউ এই সুযোগ নিতে পারবেন। একইভাবে জমি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট কিনেও নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে টাকা সাদা করা যাবে।
এদিকে সিগারেট উৎপাদন পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক ও মূল্য স্তর বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে। দেশে উৎপাদিত কাজুবাদাম চাষকে সুরক্ষার আওতায় আনতে আমদানিকৃত কাজুবাদামের শুল্ক ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ, এসি উৎপাদনে ব্যবহৃত ক¤েপ্রসার ও সব ধরনের উপকরণের শুল্ক বৃদ্ধি, পানির ফিল্টার আমদানিতে শুল্ক ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হতে পারে। সিএনজি-এলপিজিতে কনভার্সনের ব্যবহৃত কিট, সিলিন্ডার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ৩ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে। পাশাপাশি বাসাবাড়ি বা শিল্পে জেনারেটর সংযোজন ও উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণ বা যন্ত্রাংশ আমদানিতে এক শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও দেশে উৎপাদনের স্বার্থে বেশকিছু পণ্যে শুল্ক কমানোর ঘোষণা আসতে পারে। এর মধ্যে ২৮২টি পণ্যের ন্যূনতম মূল্য প্রত্যাহার-হ্রাস, সম্পূরক শুল্ক (এসডি) ও সংরক্ষণমূলক শুল্ক (আরডি) কমানো হতে পারে। এর মধ্যে প্যাকেটজাত গুঁড়োদুধ আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার, চকোলেট আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক ৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ, ল্যাপটপ আমদানিতে ভ্যাট ৩১ শতাংশের পরিবর্তে ২০.৫০ শতাংশ করা হবে।
পাশাপাশি রড, বার ও এঙ্গেল তৈরির কাঁচামাল ম্যাঙ্গানিজ আমদানিতে শুল্ক ১০ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ, দেশে তৈরি মোটরসাইকেলের সিকেডি ইঞ্জিনের পার্টস আমদানির শুল্ক কমানো হচ্ছে। কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত ফিল্টার ও সার্কিট আমদানির শুল্ক ১০ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হচ্ছে। এ কারণে ডায়ালাইসিস খরচ কমতে পারে।
যদিও শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে এক শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এ কারণে দেশে ব্যবহার্য অনেক পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
সাধারণত বিয়ে, বিবাহবার্ষিকী, জন্মদিন, গায়েহলুদ, সুন্নতে খাতনাসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সভা, সেমিনার, পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করতে কমিউনিটি সেন্টার ও মিলনায়তন ভাড়া করা হয়। এখন থেকে বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমার রসিদ ছাড়া মিলনায়তন ভাড়া করা যাবে না। বর্তমানে ৪৩ ধরনের সেবা পেতে রিটার্ন জমার কপি লাগে। এই তালিকায় মিলনায়তন ভাড়া, হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নিবন্ধন ও নবায়নে রিটার্ন জমার এই বাধ্যবাধকতা যুক্ত হতে পারে। আগামী অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে না। এখনকার মতো বার্ষিক করমুক্ত সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকাই থাকছে। তবে করহার পুনর্বিন্যাস হচ্ছে। এখন ৫, ১০, ১৫, ২০ ও ২৫ শতাংশ করহারের সঙ্গে ৩০ শতাংশের আরেকটি স্তর আসছে। বছরে আয় সাড়ে ৩৮ লাখ টাকার বেশি হলে করদাতাকে বাকি অর্থের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।
সংসদ সদস্যদের আমদানি করা গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসতে পারে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন প্রতিষ্ঠানের করহার আড়াই শতাংশ কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে। শর্ত হলো ৫ লাখ টাকার একক লেনদেন এবং বার্ষিক লেনদেন ৩৬ লাখ টাকার বেশি হলে তা ব্যাংকের মাধ্যমে হতে হবে। তবে সমবায় সমিতির করহার ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হতে পারে। ব্যবসায়ীরা কিছু পণ্য আমদানিতে শুল্ক সুবিধা পান। সেই সুবিধা সীমিত করা হচ্ছে। খাদ্যপণ্য, কৃষি উপকরণ, ওষুধসহ অত্যাবশ্যকীয় ও জীবন রক্ষাকারী পণ্যসহ ৩২৯টি পণ্য আমদানি করতে আমদানিকারককে কোনো আমদানি শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক দিতে হয় না। আগামী বাজেটে ওই তালিকার অন্তত ১০-১৫ শতাংশ পণ্যের ওপর ১ শতাংশ হারে আমদানি শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। সেই হিসাবে অর্ধশতাধিক পণ্যের ওপর এই শুল্ক বসতে পারে। প্রাথমিক তালিকায় আছে গম, ভুট্টা, শর্ষের বীজ, তুলার বীজ, বিভিন্ন শাকসবজির বীজ, বিটুমিন, কয়লা, জিপসাম, ভিটামিন, পেনিসিলিন, ইনসুলিন, বিভিন্ন ধরনের দরকারি রাসায়নিক, প্লাস্টিক কয়েল, পেপার বোর্ড, বিভিন্ন স্টিলজাতীয় পণ্য, শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ইত্যাদি।
এছাড়া বর্তমানে ২৭টি তথ্যপ্রযুক্তি সেবা খাতে বিনিয়োগ করলে কর অবকাশ সুবিধা পাওয়া যায়। আগামী বাজেটে এই কর অবকাশ সুবিধাপ্রাপ্ত খাতের সংখ্যা ১৯-এ নামিয়ে আনা হচ্ছে।
এছাড়া হাইটেক পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্পকারখানার মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে ১ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসতে পারে। এই দুটি অঞ্চলের শিল্পমালিকরা আর শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ পাবেন না। এক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসতে পারে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা হয়। সেই মুনাফার ওপর এখন ১০ শতাংশ উৎসে কর কেটে রাখা হয়। এটি বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হতে পারে।
আয়-ব্যয় ও ঘাটতি : মোট ব্যয়ের আকার ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ৫ লাখ ৬ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা, মূলধনি ব্যয় ৩৭ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা, ঋণ ও অগ্রিম ৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা, অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ৯৩ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
আগামী অর্থবছরে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে অনুদান আছে ৪ হাজার ৪শ কোটি টাকা। এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর ৪ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে শুধু এনবিআর নিয়ন্ত্রণ কর ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা এবং এনবিআরবহির্ভূত কর ১৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কর ছাড়া প্রাপ্তি ৪৬ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি (অনুদানসহ) রাখা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। আর অনুদান ছাড়া ঘাটতির অঙ্ক হচ্ছে ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে বিদেশ থেকে ঋণ নিট ৯০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ঋণ ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে আসবে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা। মূল্যস্ফীতির কশাঘাত মোকাবিলায় ২০ লাখ ২৬ হাজার দরিদ্র মানুষকে নতুন করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ভাতার আওতায় আসবেন ১০ লাখ ২৬ হাজার জন। এরা সবাই অতিদরিদ্র। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মুখে ওএমএসসহ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে যুক্ত করা হবে বাকি ১০ লাখ। পাশাপাশি দেশের সব প্রতিবন্ধীকে ভাতার আওতায় আনা হবে।
লোকসভা ভোটে কতজন মুসলিম প্রার্থী জিতলেন
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে এবার মোট ৭৮ জন মুসলিম প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেছিলেন। তাদের মধ্যে ১৫ জন ভোটে জয়ী হয়েছেন। জয়ী মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে ভারতের জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানও রয়েছেন।
বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বহরমপুর আসনে হারিয়েছেন কংগ্রসের রাজ্য সভাপতি ছয়বারের সংসদ সদস্য অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে। জয়ের ব্যবধান ৮৫ হাজার ভোট।
মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে আরও যারা জিতেছেন তাদের মধ্যে আছেন কংগ্রেস প্রার্থী ইমরান মাসুদ। তিনি উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর আসনে ৬৪ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পান।
সমাজবাদী পার্টির তরুণ নেতা ২৯ বছর বয়সি ইকরা চৌধুরী উত্তর প্রদেশের কাইরানা আসনে বিজেপি নেতা প্রদীপ কুমারকে ৬৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারান।
একই রাজ্যের আরেক আসন গাজিপুরে জিতেছেন সমাজবাদী পার্টির মুসলিম প্রার্থী আফজাল আনসারি।
এআইএমআইএম সভাপতি আসাদুদ্দিন ওয়াইসি হায়দরাবাদে নিজের আসনটি ধরে রেখেছেন। তিনি বিজেপির মাধবী লতা কম্পেলাকে হারান।
লাদাখে স্বতন্ত্র মুসলিম প্রার্থী মোহাম্মদ হানাফি এবং জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লা আসনে আরেক স্বতন্ত্র মুসলিম প্রার্থী আবদুল রশিদ শেখ ৪ লাখ ৭০ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন।
উত্তর প্রদেশে সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী মহিবুল্লাহ রামপুর আসনে ৪ লাখ ৮১ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। সাম্ভাল আসনে জেতেন জিয়াউর রেহমান।
ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রার্থী মিয়া আলতাফ আহমদ জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ-রাজৌরি আসনে জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিকে হারিয়ে দেন। শ্রীনগরে এনসি প্রার্থী আগা সৈয়দ রুহুল্লাহ মেহদি জয়ী হয়েছেন।
দেড় মাস ধরে সাত দফায় ভোট গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। চূড়ান্ত ফলাফলে বিজেপি ২৪০ ও কংগ্রেস ৯৯টি আসনে জয়ী হয়। এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৭২ আসন পেতে বিজেপির আরও ৩২টি আসনের প্রয়োজন ছিল। তবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ২৯৩ আসন পেয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট পেয়েছে ২৩৩ আসন।
মেক্সিকোতে নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নারী মেয়র হত্যা
মেক্সিকোর পশ্চিমাঞ্চলীয় মিচোয়াকান প্রদেশের কোটিজা শহরের মেয়র ইয়োলান্দা সানচেজ ফিগুয়েরাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মেক্সিকান কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বুধবার সিএনএন জানিয়েছে, গত শনিবার দেশটিতে প্রথমবারের মতো কোনো নারী প্রেসিডেন্ট বিজয়ী হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
মিচোয়াকান রাজ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনার দিন একটি জিম থেকে বাসায় ফিরছিলেন ফিগুয়েরা। এ সময় তার সঙ্গে একজন দেহরক্ষীও ছিলেন। রাস্তায় একটি সাদা ভ্যানে চড়ে আসা কয়েক ব্যক্তি তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করেন। এ ঘটনায় পরে ফিগুয়েরা ও তার দেহরক্ষী দুজনই হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মেক্সিকোর জাপোপান শহরে একবার অপহৃত হয়েছিলেন ফিগুয়েরা। যদিও তিন দিন পর তাকে ছেড়ে দিয়েছিল অপহরণকারীরা। এ ঘটনায় পরে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
মিচোয়াকানের প্রাদেশিক সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ফিগুয়েরা ও তার দেহরক্ষীকে হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে। প্রদেশের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের খুঁজে বের করতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে একটি যৌথ নিরাপত্তা অভিযান চালু করা হয়েছে।
ফিগুয়েরাকে হত্যার কয়েক ঘণ্টা আগেই মেক্সিকোতে প্রথমবারের মতো একজন নারী হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ক্লাউদিয়া শিনবাউম। নারী নির্যাতন ও পুরুষতান্ত্রিক মেক্সিকান সমাজে ক্লাউদিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়াকে একটি বিশেষ অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মেক্সিকোতে নজিরবিহীন সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। মেক্সিকোর ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তাক্ত নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবারের নির্বাচনকে। ভোটকে প্রভাবিত করার জন্য দেশটির সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো নির্বাচনি প্রচারণার সময় কয়েক ডজন রজনীতিবিদকে হত্যা করেছে।
আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন শুরু করবেন ক্লাউদিয়া। বিদায় নেবেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ। তারা দুজনই মোরেনা দলের এবং মিত্র হিসেবে পরিচিত। লোপেজের সামাজিক কল্যাণমূলক নানা কর্মসূচি অনেক মেক্সিকানকে দারিদ্র্য থেকে বের করে এনেছে। এর ফলে মোরেনা দলের জনপ্রিয়তা আরও অনেক বেড়েছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে এই জনপ্রিয়তার প্রতিফলন দেখা গেছে।
নতুন প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শিনবাউম দেশের মধ্যে গ্যাং নেতৃত্বাধীন সহিংসতা এবং গুমের মহামারিকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। মেক্সিকোতে হত্যার হার বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং এ দেশটি নারীদের জন্য একটি বিপজ্জনক স্থান হিসেবে রয়ে গেছে। পরিসংখ্যান বলছে, দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ জন নারী হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। পাশাপাশি বর্তমানে মেক্সিকোতে ১ লাখের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তারা কোথায় আছেন, কেমন আছেন কেউ জানে না।
নরেন্দ্র মোদিকে শেখ হাসিনার ফোন
টানা তৃতীয়বার বিজেপির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) বিজয়ী হওয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশের জনগণ, সরকার, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার সন্ধ্যায় দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন।
ফোনালাপে শেখ হাসিনা বলেন, আপনার (নরেন্দ্র মোদি) শক্তিশালী নেতৃত্বের কারণে এনডিএর এই বিজয় সম্ভব হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন, এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে ভারত ও তার জনগণ বিশ্ব অঙ্গনে আরও এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যেকার সৌহার্দ্যপূর্ণ, বন্ধুত্বপূর্ণ ও সুপ্রতিবেশি সুলভ সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এর আগে নরেন্দ্র মোদিকে এক চিঠি পাঠিয়ে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মোদির উদ্দেশে শেখ হাসিনা লেখেন, ১৮তম লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) জয়ে বাংলাদেশের জনগণ এবং আমার পক্ষ থেকে আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন।
ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের ফলাফল বলছে, এবারের নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে জয়ী হয়েছে ২৪০টি আসনে। তাতে অবশ্য সরকার গঠনে সমস্যা হবে না দলটির।
কারণ, বিজেপির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সভুক্ত (এনডিএ) দলগুলো সম্মিলিতভাবে জয়ী হয়েছে মোট ৫৩টি আসনে। ফলে দল এবং জোটের মোট ২৯৩ জন এমপি নিয়ে অনায়াসেই সরকার গঠন করতে পারবে বিজেপি।
নব্বই-এর গণ আন্দোলনের সাহসী ছাত্রনেতা শফি আহমেদ আর নেই
জন্মভূমি ডেস্কঃ নব্বই-এর গণ আন্দোলনের অন্যতম সাহসী ছাত্রনেতা শফি আহমেদ পৃথিবীর মায়া ছেড়ে অনন্তে পাড়ি দিয়ে়ছেন ৩ জুন বিকেল সাড়ে চারটায়।নব্বই-এর গণ আন্দোলনের অন্যতম সাহসী ছাত্রনেতা শফি আহমেদ পৃথিবীর মায়া ছেড়ে অনন্তেপাড়ি দিয়েছেন ৩ জুন । শফী আহমেদ মারা গেছেন আওয়ামী লীগার হিসেবে। কিন্তু দেশজুড়ে তার পরিচিতি আসলে জাসদ ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় ‘ছাত্রলীগ’ নামে একাধিক সংগঠন ছিল। আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগের পাশাপাশি জাসদ সমর্থিত ছাত্রলীগও বেশ জনপ্রিয় ছিল। তাই আলাদা করতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নামের আদ্যাক্ষর দিয়ে ব্র্যাকেটবন্দী করা হতো। যেমন ছাত্রলীগ (সু-র) মানে সুলতান-রহমান বা ছাত্রলীগ (হা-অ) মানে হাবিব-অসীম আওয়ামী লীগ সমর্থিত। আবার ছাত্রলীগ (শি-মু) মানে শিরিন-মুশতাক, ছাত্রলীগ (না-শ) মানে নাজমুল-শফী; ছিল জাসদ সমর্থিত। এরশাদ আমলে একবার দুই ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন মিলে ডাকসুতে প্যানেল জয় পেয়েছিল। ভিপি হয়েছিলেন আওয়ামী ছাত্রলীগের সুলতান মনসুর, জিএস জাসদ ছাত্রলীগের মুশতাক আহমেদ, এজিএস ছাত্র ইউনিয়নের নাসিরউদ দোজা। তখন মাঠ ছিল উত্তাল, আন্দোলনমুখর। এটা মানতেই হবে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মূল নেতৃত্বটা ছিল ছাত্রদের হাতে। ৮৩এর মধ্য ফ্রেুয়ারি থেকে শুরু করে ৯০এর ডিসেম্বর পর্যন্ত নানা ধাপে ছাত্ররাই সামনে থেকে লড়াই করেছে। ৯০এর ১০ অক্টোবর শহীদ জিহাদের লাশ সামনে রেখে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তায় এরশাদের পতন নিশ্চিত হয়েছিল।

এই সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের অন্যতম কারিগর ছিলেন শফী আহমেদ। ছোটখাটো গড়নের হলেও মিছিলে, মিটিঙে, স্লোগানে, লড়াইয়ে শফী আহমেদ সবসময় সামনের কাতারেই থাকতেন। তবে শফী আহমেদের আসল কৃতিত্ব ছিল কৌশল প্রণয়নে। ছাত্রঐক্যের বৈঠকে আন্দোলনের কৌশল ও কর্মসূচি নির্ধারণ, দ্রত সির্দ্ধান্ত নিতে দারুণ পারঙ্গম ছিলেন তিনি। আন্দোলন নস্যাৎ করতে স্বৈরাচারের দোসরদের নানা কৌশলও নস্যাৎ হয়ে যেতো শফী আহমেদের পাল্টা চালে।ছাত্র রাজনীতির উজ্জ্বল অধ্যায় শেষে জাতীয় রাজনীতিতে পা রাখেন শফী আহমেদ। জাসদ হয়ে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। তবে আওয়ামী লীগ থেকে কিছু পাননি তিনি। ছাত্রলীগের কমিটিতে তার সভাপতি নাজমুল হক প্রধান জাসদে থেকেই এমপি হয়েছেন। কিন্তু শফী আহমেদ আওয়ামী লীগে এসে মনোনয়নই পাননি। একেবারে পাননি বললে ভুল হবে। ২০০৭ সালের নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে সেবার নির্বাচনই হয়নি। এরপর ৪টি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ টানা জয় পেয়েছে, কিন্তু শফী আহমেদের কপালে আর মনোনয়ন জোটেনি। মনোনয়ন না পেলেও রাজনীতি ছাড়েননি তিনি, ছাড়েননি এলাকার জনগণকেও। নেত্রকোণার হাওরের মানুষ তাকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতো। মনোনয়ন না পেয়ে শফী আহমেদ যতটা বঞ্চিত হয়েছেন, তার মত তীক্ষ্ণ মেধার একজন মানুষকে কাজে লাগাতে না পারায় আওয়ামী লীগের ক্ষতিও কম নয়। অবশ্য আওয়ামী লীগে এখন স্মার্ট হাইব্রিড নেতাদের দাপটে শফী আহমেদের মত মাটি-মানুষের নেতা বড্ড বেমানান। শফী আহমেদ থাকা না থাকায় কিচ্ছু যায় আসে না। শফী আহমেদের বুক ভরা অভিমান ছিল; কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে, অসাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। বুক ভরা অভিমান নিয়েই দুপুরে ঘুমের মধ্যে মাত্র ৬৩ বছর বয়সে চির ঘুমের দেশে চলে গেলেন শফী আহমেদ।
এদিকে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জন্মভূমির সম্পাদক রতন তালুকদার সাহসী ছাত্রনেতা শফি আহমেদ-এর আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে মামুন’স টিউটোরিয়ালের বর্ণিল অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে একঝাঁক মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়ে মামুন’স টিউটোরিয়ালের ২০২৪ সালের অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মামুন’স টিউটোরিয়েল থেকে প্রাইভেট শিক্ষা নিয়ে বিশেষায়িত স্কুল ও কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের পদক ও সনদ দিয়ে সম্মাননা জানিয়েছে মামুন’স টিউটোরিয়াল।
২ জুন রোববার ব্রঙ্কসের গোল্ডেন প্যালেস মিলনায়তনে আয়োজিত বর্ণিল এ অনুষ্ঠানে শুর“তেই সবাইকে স্বাগত জানান মামুন’স টিউটোরিয়েলের কর্ণধার শেখ আল মামুন এবং ডাঃ নাহিদ খান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপ¯ি’ত ছিলেন ডা. অগাস্টিন ওগারেলো। বিশেষ অতিথি ছিলেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র অফিসের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মীর বাশার, সিপিএ জাকির চৌধুরী, ব্রঙ্কস কমিউনিটি বোর্ড -৯ এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এন মজুমদার, ডিটেকটিভ মাসুদুর রহমান, শাহ খালেদ আলী প্রমুখ।
উপ¯’াপিকা দিমা নেফারতিতি’র পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুর“তেই কোরআন ও গীতা থেকে পাঠ করা হয়। বাজানো হয় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত। শেখ আল মামুন তাঁর বক্তৃতায় বলেছেন, দেশ থেকে প্রথম আসা অভিবাসীরা সন্তানদের সাফল্যের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেন এ জন্যই সন্তানদের সাফল্য অর্জন সহজ হয়। পাশাপাশি মেধাবী এসব শিশু কিশোরদের অনেকেই বাংলাদেশ থেকে এসে ইংরেজি ভালো করে না জানা সত্তে¡ও দ্র“তই তারা নিজ মেধায় এগিয়ে গিয়েছে। এসব সাফল্যের পেছনে সফল শিক্ষার্থীদের বাবা মা বিরাট ভূমিকা পালন করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফার্মাস্টি মিঃ জি, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট শাখাওয়াত আলী, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী, বাংলা পত্রিকা সম্পাদক এবং টাইম টিভির সিইও আবু তাহের, সুবর্না কামাল, অনিকা তাকমি, মিঃ স্কট, শুভ জ্যোতি রয়, অভীক বড়ুয়া, মুশফিকা মিশি, নাজমুল ইসলাম, ইহান বিন মামুন, লাবিবা চৌধুরী, ফারিয়া আলম, মাসুদ রহমান, জামাল মাহমুদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা মামুন’স টিউটোরিয়েলে তাদের শিক্ষা অর্জনের ব্যক্তগত অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে ‘বাঙ্গালী’ পত্রিকার সম্পাদক কৌশিক আহমেদ, ইউএসএ নিউজ অনলাইনের সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, আবু সাইদসহ মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবার নয়ে অনুষ্ঠানে উপ¯ি’ত ছিলেন।
অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মা বাবার চাপে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার নয় নিজে যা হতে চাও তাই হও। সাফল্যের কোন শেষ নেই। যে জীবন সাফল্য দিয়ে শুর“ হয়, তাও থমকে যাতে পারে। আবার থমকে যাওয়া জীবন সাফল্যের মোড় নেবে যদি প্রচেষ্টা চলমান থাকে।
পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী আফজাল। নজর“লের কবিতা আবৃত্তি করেন ডাঃ নাহিদ খান।


