Home Blog Page 556

থামলেন মাহমুদউল্লাহ, শেষ হলো পঞ্চরত্নের যুগ

০

শেষটা মনে রাখার মতো হলো বটে, তবে এমন করে মনে রাখতে চাননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। চেয়েছিলেন টেস্টের মতো মাথা উঁচু করে বিদায় নিতে, মনে রাখার মতো কিছু উপহার দিতে। তবে হলো না তার কিছুই। নেই কোনো প্রাপ্তি, আছে কেবল আক্ষেপ-হাহাকার।

গতকাল কেমন এক ইতিহাসের অংশ হয়ে গেল বাংলাদেশ, যা কখনোই চায় না কেউ। মাহমুদউল্লাহর বিদায়ী ম্যাচের আবহ ভুলিয়ে ভারত আগে ব্যাট করে তুলল ৬ উইকেটে ২৯৭ রান, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

রান প্রসবা হায়দ্রাবাদে রান হবে জানাই ছিল। সেভাবেই প্রস্তুত ছিল দর্শক-সমর্থকেরা। তবে রানের এমন স্রোতে যে ভেসে যাবে বাংলাদেশ, তা হয়তো ভাবেনি কেউ। কেউ না ভাবলেও ঘটেছে তেমনই। সাঞ্জু স্যামসন ও সূর্য কুমার মিলে ‘মাহমুদউল্লাহর’ উপলক্ষটা করে দিলেন ভীষণ পীড়াদায়ক।

বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি টি-টোয়েন্টি খেলা সাবেক এই অধিনায়কের জন্য ভারতের বিপক্ষে এই ম্যাচটা জিততে চেয়েছিল দল। মাহমুদউল্লাহ নিজেও চেয়েছিলেন দলকে একটা জয় উপহার দিয়ে যেতে।

বিদায় বেলায় অবশ্য মাহমুদউল্লাহর জ্বলে উঠা নতুন কিছু নয়। ২০২১ সালে হারারেতে অপরাজিত ১৫০ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই সাদা পোষাকের ক্রিকেট ছেড়ে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। আজও তেমন কিছু হয়তো চেয়েছিলেন তিনি।

তবে এদিন আর তার ইচ্ছে পূরণ হয়নি। মাহমুদউল্লাহর প্রাপ্তি বলতে এই ম্যাচে একটা উইকেট। বল হাতে ভারতীয় অধিনায়ক সূর্য কুমারকে ফেরান তিনি৷ যদিও নিজের দুই ওভারে দিয়েছেন ২৬ রান৷ ব্যাট হাতে যেতে পারেননি দুই অংকের ঘরে, থেমেছেন ৯ বলে ৮ রানে।

শেষ ম্যাচে না পারলেও মাহমুদউল্লাহ ক্যারিয়ার জুড়ে এমন কিছু করেছেন, যা তাকে মনে রাখতে বাধ্য করবে। বিশেষ করে নিদাহাস ট্রফির সেই ছক্কাটা হয়ে থাকবে ট্রেড মার্ক।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মাহমুদউল্লাহর অভিষেক হয় ২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর। গতকাল শেষবার যখন মাঠে নামেন, তার মাঝে পেরিয়ে গেছে ১৭ বছর ৪১ দিন। সময়ের হিসাবে যা টি-টোয়েন্টিতে কোনো ক্রিকেটারের তৃতীয় দীর্ঘতম ক্যারিয়ার।

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটা দখলে রেখেই টি-টোয়েন্টি ছাড়ছেন মাহমুদউল্লাহ। সব দেশ মিলিয়ে যা তৃতীয় সেরা। সংখ্যায় ১৪১। উপরে কেবল রোহিত শর্মা (১৫৯) ও পল স্টার্লিং (১৪৭)।

এই সময়ে ২৩.৫০ গড়ে মাহমুদউল্লাহ রান করেন ২৪৪৪। যা দেশের জার্সিতে কোনো ক্রিকেটারের দ্বিতীয় সেরা রান। এই সময়ে তার স্ট্রাইকরেট ছিল ১১৭.৩৪। ইনিংস সর্বোচ্চ করেন ৬৪* রান। সব মিলিয়ে ফিফটি সংখ্যা ৮টি।

বল হাতেও পরিসংখ্যান মন্দ নয়। আছে ৭.১৬ ইকোনমিতে ৪১ উইকেট। ১০ রানে ৩ উইকেট ইনিংস সেরা।

তাছাড়া দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডও তার দখলে। ৭৭টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচসেরার দৌড়ে দেশের হয়ে দুইয়ে মাহমুদউল্লাহ। পাঁচবার জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। ১২ বার ম্যাচসেরা হয়ে শীর্ষে সাকিব।

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ৪৯টি জয়ের অংশ ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। যা দেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ক্যারিয়ারে মোট ২৬ বার অপরাজিত ছিলেন রিয়াদ। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।

অধিনায়ক হিসেবেও রেকর্ড করেছেন মাহমুদউল্লাহ। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৩ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ৩৯ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করে দুইয়ে সাকিব আল হাসান। তবে ম্যাচ জয়ে দুজনেই সমানে সমান। তাদের নেতৃত্বে ১৬টি করে ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ।

মাহমুদউল্লাহর এই থেমে যাওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটা যুগ। পঞ্চরত্নের শেষ ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জার্সি তুলে রাখলেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় বাংলাদেশ নারী দল

০

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের চতুর্থ ও শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ।

এই হারে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলো টাইগ্রেসরা। ৪ ম্যাচে একটি জয় ও দুটি হারে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থস্থানে আছে বাংলাদেশ।

টুর্নামেন্টে একমাত্র জয়টি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পেয়েছিল বাংলাদেশ। স্কটিশদের ১৬ রানে হারিয়ে ১০ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে জয়ের দেখা পেয়েছিলো নিগার সুলতানার দল।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় বলেই ওপেনার দিলারা আকতারকে (০) হারায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় উইকেটে সাবধানে খেলে ৪৫ বলে ৩৬ রানের জুটি গড়েন আরেক ওপেনার সাথী রানী ও সোবহানা মোস্তারি। একটি করে চার-ছক্কায় ৩০ বলে ১৯ রান করেন সাথী।

এরপর তৃতীয় উইকেট জুটি থেকেও দ্রুত রান পায়নি বাংলাদেশ। ৫৬ বলে ৪৫ রান যোগ করেন সোবহানা ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা। চারটি বাউন্ডারিতে ৪৩ বলে ৩৮ রানে আউট হন সোবাহানা।

ইনিংসের শেষ দিকে দ্রুত রান তুলেছেন নিগার। তারপরও ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১০৬ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ।
দুটি চারে ৩৮ বলে অপরাজিত ৩২ রান করেন নিগার। দক্ষিণ আফ্রিকার মারিজান কাপ-অ্যানেরি ডারকসেন ও ননকুলুলেকো ম্লাবা একটি করে উইকেট নেন।

১০৭ রানের টার্গেটে ১৬ বল বাকি রেখেই স্পর্শ করে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলের পক্ষে তাজমিন ব্রিটস ৪২, অ্যানেকে বোশচে ২৫ ও ক্লো ট্রাইয়ন অপরাজিত ১৪ রান করেন। বাংলাদেশের লেগ স্পিনার ফাহিমা খাতুন ১৮ রানে দুটি ও পেসার রিতু মনি ২২ রানে ১ উইকেট নেন।

সূত্র : বাসস

রোনালদোর তিনে পর্তুগালের তিন

০

প্রায় চল্লিশ ছুঁই ছুঁই বয়সেও অপ্রতিরোধ্য রোনালদো। এখনো ছুটছেন তিনি, তার সাথে ছুটছে তার দলও। নেশন্স লিগে টানা তিন ম্যাচে গোলের দেখা পেয়েছেন রোনালদো, আর তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে পর্তুগাল।

শনিবার উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে পোল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জিতেছে রবার্তো মার্টিনেজের শিষ্যরা। তাতে তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ লিগের ১ নম্বর গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে পর্তুগাল।

এদিন বের্নার্দো সিলভা সফরকারীদের এগিয়ে নেয়ার পর ব্যবধান বাড়ান রোনালদো। পিওতর জেলেনস্কির গোলে স্বাগতিকরা নাটকীয়তার সম্ভাবনা জাগলেও, শেষ দিকে তাদের আত্মঘাতী গোলে তা আর হয়নি।

প্রথম দুই ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া ও স্কটল্যান্ডকে হারানোর পর শনিবার পর্তুগালের সামনে পড়ে পোল্যান্ড। যেখানে দুই দলেত ছাপিয়ে লড়াইটা ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও রবার্ট লেভানডফস্কির। যেখানে শেষ হাসি রোনালদোরই।

১০ম মিনিটেই জালের দেখা পেতে পারতেন রোনালদো। কিন্তু সেসময় তার শট ফিরে আসে পোস্টের উপরের বারে লেগে। এর মাঝে ২৬ মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন সিলভা। ব্রুনো ফার্নান্দেজের অ্যাসিস্ট থেকে বুলেটগতির শটে গোল করেন তিনি।

৩৭তম মিনিটে দলকে ফের উল্লাসে ভাসান রোনালদো। গোলটির পেছনে বড় কৃতিত্ব আছে রাফায়েল লেয়াওয়ের। মাঝমাঠ থেকে দারুণ দক্ষতায় বল বের করে আনেন তিনি। যা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জালে জড়াতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি সিআর সেভেনকে।

২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরের পর পোল্যান্ডের বিপক্ষে এটি তার প্রথম গোল। সময়ের হিসেবে ১৭ বছর পর। তবে জাতীয় দলের জার্সিতে ২১৫ ম্যাচে এটা রোনালদোর ১৩৩তম গোল। ক্লাব ফুটবলসহ সংখ্যাটা ৯০৬।

প্রথমার্ধ শেষ হয় পর্তুগালের ২-০ তে এগিয়ে থেকে। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪তম মিনিটে ব্যবধান আরো বাড়ানোর পরিষ্কার সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। তবে তিনি শট না নিয়ে ব্রুনোকে বল বাড়ালে সুযোগ হাতছাড়া হয়।

এর মাঝে পোল্যান্ড ৭৮ মিনিটে একটি গোল শোধ করে। গোলটি করেন ইন্টার মিলান মিডফিল্ডার পিওতর জেলিনস্কি। তাতে ম্যাচে ফেরাএ আশা দেখতে থাকে পোল্যান্ড। তবে ৮৮তম মিনিটে তাদের সব আশা শেষ হয়ে যায় নিজেদেরই ভুলে।

গোলমুখে প্রতিপক্ষের পায়ে বল যাওয়া আটকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই ঠেলে দেন ডিফেন্ডার ইয়ান বেদনারেক। তাতে শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে জয় পায় পর্তুগিজরা।

ইসরাইলের চাপ সত্ত্বেও জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষীরা লেবাননে থাকবে

জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী বলেছে, ইসরাইলের পক্ষ থেকে তাদের অবস্থান ত্যাগ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা সত্ত্বেও শান্তিরক্ষীরা লেবাননে থাকবে।

লেবাননে জাতিসঙ্ঘ অন্তর্বর্তী বাহিনী বা ইউনিফিলের মুখপাত্র আন্দ্রেয়া টেনেন্টি শনিবার বলেছেন, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী শান্তিরক্ষীদের ‘ব্লু লাইন বরাবর অবস্থান থেকে পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত’ সরে যেতে বলেছে। তবে সেখানে থাকার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছিল।’

ব্লু লাইন হলো লেবানন এবং অধিকৃত অঞ্চলের মধ্যে সীমানা রেখার জন্য ব্যবহৃত শব্দ।

টেনেন্টি বলেন, ‘ইসরাইলের আক্রমণ দক্ষিণ লেবাননে তাদের অবস্থানের অনেক ক্ষতি করেছে। কাজ করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে কারণ ঘাঁটির ভেতরেও অনেক ক্ষতি হয়েছে।’

টেনেন্টি সতর্ক করে বলেন, লেবাননে ইসরাইলের আগ্রাসন খুব শিগগিরি একটি আঞ্চলিক সংঘর্ষে পরিণত হতে পারে যার প্রভাব হবে বিপর্যয়কর।’

আলাদা এক বিবৃতিতে ইউনিফিল বলেছে, শুক্রবার গভীর রাতে বন্দুকের গুলিতে একজন শান্তিরক্ষী আহত হওয়ার পাশাপাশি নাকোরায় তাদের সদর দফতর আবার আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
বিবৃতিতে জানোন হয়েছে, গুলিবিদ্ধ ওই শান্তিরক্ষীর অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
সূত্র : প্রেস টিভি

৭ অক্টোবর হামলা : হিজবুল্লাহ-ইরানকে সাথে চেয়েছিল হামাস

চলমান যুদ্ধ শুরু হয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার মধ্য দিয়ে। যুদ্ধটি আরো আগেই শুরু হওয়ার ছিল। কিন্তু হামাস নেতারা এর পক্ষে ইরান ও হিজবুল্লাহর সহযোগিতা চাচ্ছিল। তাদের সাথে বোঝাপাড়া প্রলম্বিত হওয়ায় হামলাটা দেরিতে হয়েছে।

শনিবার (১২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক নানা সংবাদমাধ্যম এ জাতীয় তথ্য দিয়েছে বলে দাবি করেছে টাইমস অব ইসরাইল।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, হামাস হামলাটি ৯/১১ ধরনে করতে চেয়েছিল। সেজন্য আরো দুই বছর আগ থেকে দলটি নিজেদের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের পর্যায়ে একাধিক বৈঠক করেছে। ওসব বৈঠকে হামলার রসদ নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। এছাড়া হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার এবং ইরানি কর্মকর্তাদের সাথেও নানা চিঠির আদান-প্রদান হয়েছিল।

শনিবার দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রকাশিত একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত মোট বিস্তৃত ১০টি সভার কার্যবিবরণী বিশদ বিবরণ দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে খান ইউনিসের হামাস নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে একটি কম্পিউটারে বিষয়টি আবিষ্কৃত হয়েছিল।

টাইমস বলেছে, এই কম্পিউটার থেকে উদ্ধার করা তথ্যের মাধ্যমে নথিগুলোর সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর পৃথক এক অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনেও এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র : টাইমস অব ইসরাইল

নিরাপত্তা পাবেন সাকিব : ক্রীড়া উপদেষ্টা

০

সাকিব আল হাসানকে ঘরের মাঠে শেষ টেস্ট খেলতে দিতে নমনীয় হয়েছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। দেশের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়কে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে সম্মত হয়েছে তারা। জানিয়েছে, তার দেশে ফেরা বা খেলার ব্যাপারে কোনো বাধা নেই।

কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি ফারুক আহমেদ জানান, দেশ থেকেই সাকিবের বিদায় নেয়ার জোর সম্ভাবনা আছে।

আজ রোববার মিরপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টা নিশ্চিত করলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া।

সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরা ও অন্যান্য বেশ কিছু বিষয় নিয়ে রোববার বিসিবি কার্যালয়ে বোর্ড কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সাথে আলোচনায় বসেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। এরপর সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন তিনি।

আসিফ বলেন, ‘দেশে আসা কিংবা বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা তো থাকার কথা না। আর আইনের বিষয়টা আইন মন্ত্রণালয় ব্যাখ্যা করতে পারবে। আমি বিশেষজ্ঞও না, কিংবা আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও না।’

এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সাথে কোনো কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা হয়েছে। আসিফ নজরুল (আইন উপদেষ্টা) স্যার বলেছেন, সংশ্লিষ্টতা না পেলে প্রাথমিক তদন্তেই যে মামলা হয়েছে, ওখান থেকে নাম বাদ পড়ে যাবে।’

ক্রিকেটার হলেও সাকিব পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যও ছিলেন। একইসাথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তার নীরব অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয় অনেকেই। যদিও শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে এ নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেন সাকিব।

তবুও সাকিবের দেশে ফেরার খবরে কয়েক দিন ধরেই মিরপুরে প্রতিবাদ হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা কথা বলছে সমালোচকরা। এমন পরিস্থিতিতে তার নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব হবে কিনা প্রশ্নও ছিল আসিফ মাহমুদের কাছে। উত্তরে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের জায়গা থেকে প্রত্যেক নাগরিকেরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এবং ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেটা আমরা নিশ্চিত করব এবং আমি মনে করি যে আবেগের জায়গাটা অবশ্যই আছে।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু বড় একটা আন্দোলন হয়েছে এবং সাকিবের আগের ফ্যাসিবাদী সরকারের সাথে জড়িত ছিলেন। যেটা উনি ক্লিয়ারেন্স দিয়েছেন উনার পোস্টে। তারপরও কিছু ইমোশন রয়ে গেছে। যৌক্তিক কিংবা অযৌক্তিক ওই প্রশ্নে যাব না। সেটা অন্য বিতর্ক।’

তিনি যোগ করেন, ‘তবে এক্ষেত্রে আমার আহ্বান থাকবে কারো নিরাপত্তা যেন হুমকির মুখে না ফেলি। যদি আইনগত কোনো বিষয় থাকে, আইন তো আইনের গতিতে চলবে। এ বিষয়ে তো আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’

তবে শুধু সাকিব নয়, সমর্থকদের এমন আন্দোলন দেশের ক্রিকেটেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন আসিফ। বলেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। সামনে যেহেতু দক্ষিণ আফ্রিকা আসবে, আমাদের পরিবেশটাও ভালো রাখতে হবে। না হলে বাইরের দেশগুলো বাংলাদেশে আসতে নিরাপত্তার অভাব অনুভব করবে।’

এদিকে হঠাৎ বিসিবিতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। সকাল থেকে স্টেডিয়াম এলাকায় উপস্থিত স্বশস্ত্র বাহিনী। মহড়া দিয়েছেন স্বশস্ত্রবাহিনীর যৌথ টিম।

ভারতে ১১ চালানে রফতানি হলো ৫৩৩ টন ইলিশ

বাংলাদেশ সরকারের দুই হাজার ৪২০ টন ইলিশ পাঠানোর ঘোষণার বিপরীতে বন্দর দিয়ে ১১ চালানে ভারতে সর্বমোট ৫৩৩ টন ইলিশ রফতানি হয়েছে।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শনিবার (১২ অক্টোবর) রাত ১০টা পর্যন্ত ১১ ট্রাকে ৩৬ টন ইলিশ ভারতে রফতানি হয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল দিয়ে গত বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে শনিবার (১২ অক্টোবর) রাত ১০টা পর্যন্ত ১১ চালানে পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার কেজি অর্থাৎ ৫৩৩ টন ইলিশ ভারতে রফতানি হয়েছে।

২০টি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ১৬৮টি ট্রাকে করে পেট্রাপোল বন্দরে ভারতে এই ইলিশের চালান পাঠানো হয়েছে বলে বন্দর সূত্রে জানা যায়।

আরো জানা যায়, প্রতিকেজি ইলিশের রফতানি মূল্য ১০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় এক হাজার ১৮০। যেখানে মোট ডলার আসে ৫৩ লাখ ২০ হাজার, যা বাংলাদেশী প্রায় ৬৩ কোটি টাকা।

শনিবার (১২ অক্টোবর) বেনাপোল মাছ বাজারে এক কেজির নিচে ইলিশ বিক্রি হয়েছে এক হাজার দুই শ’ থেকে এক হাজার তিন শ’ টাকায়। কেজির ওপরে বিক্রি হয়েছে এক হাজার আট শ’ থেকে দুই হাজার টাকায়। একই আকারের ইলিশ ছয় শ’ থেকে আট শ’ টাকা কমে ভারতে রফতানি হয়েছে।

এ নিয়ে জানতে চাইলে বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা আসওয়াদুল কম দামে ইলিশ রফতানির পরিপত্রটি কয়েক বছর আগের বলে দাবি করেন।

বেনাপোল চেকপোস্ট কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, ১২ অক্টোবরের মধ্যে ইলিশ রফতানি শেষ করতে হবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছিল। সেই অনুযায়ী শেষ দিনে শনিবার (১২ অক্টোবর) রাত ১০টা পর্যন্ত ১১টি ট্রাকে ৩৬ টন ইলিশ ভারতে রফতানি হয়েছে। এ নিয়ে মোট ১১ চালানে ভারতে পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার কেজি অর্থাৎ ৫৩৩ টন ইলিশ রফতানি হয়েছে।

সূত্র : ইউএনবি

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী আজ। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গা উৎসব।

বিজয়া দশমীতে সারাদেশে স্থানীয় আয়োজন ও সুবিধামতো সময়ে বিজয়ার শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হবে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, বিসর্জনের উদ্দেশ্যে ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গন থেকে কেন্দ্রীয় বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে বিকাল ৪টায়।

এর আগে ঢাকার ২৫২টি পূজামণ্ডপের অধিকাংশ এসে জমা হবে পলাশী মোড়ে। সেখান থেকে সম্মিলিতভাবে শুরু হবে বিজয়ার শোভাযাত্রা।

এরপর সদরঘাটের ওয়াইজঘাটের বুড়িগঙ্গা নদীতে একে একে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হবে। মণ্ডপে-মণ্ডপে এখন বাজছে বিদায়ের ঘণ্টা। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সন্ধ্যার আগেই প্রতিমা বিসর্জনের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

গত বুধবার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হয়েছে দোলায়।

হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতি শরতে কৈলাস ছেড়ে কন্যারূপে মর্ত্যলোকে আসেন দেবী দুর্গা। তার এই ‘আগমন ও প্রস্থানের’ মধ্যে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত পাঁচ দিন চলে দুর্গোৎসব।

সূত্র : বিবিসি

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম

চট্টগ্রামে অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধ, ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন।

শনিবার (১২ অক্টোবর) হাটহাজারীতে উপজেলার সিটি করপোরেশনের পাহাড়তলী ওয়ার্ড, ফতেয়াবাদ পল্লী সংগঠন সমিতি, হাটহাজারী পৌরসভার ফটিকা পূজামণ্ডপ ও মির্জাপুর সোমবাড়ী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব সাদিউর রহিম জাদিদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম মশিউজ্জামান, পৌর প্রশাসক সহকারী কমিশনার ভূমি মেহেরাজ শারবীন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি, মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অ.দা.) নিয়াজ মোর্শেদ।

পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মাস্টার অশোক কুমার নাথ, যুগ্ম আহ্বায়ক সাংবাদিক বাবলু দাশসহ পূজা কমিটির বিভিন্ন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান এবং শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা সম্পন্ন করতে পূজা কমিটির নেতাদের দিক নির্দেশনা দেন।

টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ধবলধোলাই বাংলাদেশ

০

জয়ের জন্য ইতিহাস গড়তে হতো বাংলাদেশকে। ভাঙতে হতো টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার পুরনো সব রেকর্ড। তবে তার ধারে কাছেও যেতে পারল না টাইগাররা। হেরেছে ১৩৩ রানের বড় ব্যবধানে।

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে আজ ভারতের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। যেখানে টসে জিতে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২৯৭ রান করে স্বাগতিকরা। জবাবে ৭ উইকেটে ১৭০ রান পর্যন্ত করতে পারে বাংলাদেশ। যা সিরিজে টাইগার্দের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।

অবশ্য যেখানে নিজেদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ২১৫, সেখানে ২৯৮ রানের লক্ষ্য! কঠিনই বটে। তাছাড়া ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে কোনো দলের সেরা সংগ্রহ যেখানে ২৪৫, দ্বিতীয় ইনিংসে যা কমে দাঁড়ায় ২২৫ রানে। ফলে বাংলাদেশকে করতে হতো অবিশ্বাস্য কিছুই।

হায়দরাবাদে ইতিহাস গড়েই থামে ভারত। ভেঙে দেয় আগের সব রেকর্ড। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তুলে স্কোরবোর্ডে, ভারতের ইতিহাসে যা সবার সেরা। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মাঝেও সর্বোচ্চ।

এদিন টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে অভিষেক শর্মা আর সাঞ্জু স্যামসন মিলে ২ ওভারে যোগ করেন ২৩ রান। তৃতীয় ওভার বল করতে এসে প্রথম বলেই অভিষেককে (৪) ফেরান তানজিম। এরপরের গল্পটা কেবল ভারতের। পাওয়ার প্লেতে আসে ৮২ রান।

সপ্তম ওভারে মাত্র ২২ বলে ফিফটি পূরণ করেন সাঞ্জু স্যামসন। এরপর যেন আরো বেশি ক্ষুধার্ত হয়ে উঠেন তিনি। সূর্য কুমারের সাথে মাত্র ৪৩ বলে শতরানের জুটি গড়েন তিনি। তাতে মাত্র ১০ ওভারেই ভারত পেরিয়ে যায় দেড় শ’ রানের গণ্ডি।

খানিক বাদেই প্রথম আন্তর্জাতিক শতকের স্বাদ পেয়ে যান সাঞ্জু। মাত্র ৪০ বলে স্পর্শ করেন তিন অংকের ঘর। যা ভারতের হয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ষষ্ঠ দ্রুততম শতক। শেষ পর্যন্ত থানে ১১ চার ৮ ছক্কায় ১১১ রানে।

১৩.৪ ওভারে সূর্যর সাথে গড়ে তুলা ৭০ বলে ১৭৩ রানের জুটি ভেঙে ফেরেন সাঞ্জু। মোস্তাফিজ থামান তাকে। পরের ওভারেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ পান তার শেষ টি-টোয়েন্টি উইকেটের দেখা। ফেরান ৩৫ বলে ৭৫ রান করা সূর্য কুমারকে।

এরপর রান উৎসবে যোগ দেন রিয়ান পরাগ ও হার্দিক পাণ্ডিয়া। তাদের মাত্র ২৬ বলে ৭০ রানের জুটিতে ভর করে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেদের সর্বোচ্চ রানে পৌঁছায় ভারত।

পরাগ ১৩ বলে ৩৪ রানে ও হার্দিক থামেন ১৮ বলে ৪৭ করে। অন্যদিকে বল হাতে তানজিম সাকিব ৩ উইকেট পেলেও রান দেন ৬৬। যা বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান ব্যায়ের রেকর্ড।

অন্যদিকে মাত্র ২ ওভারে ৪৬ রান দেন রিশাদ। তাসকিন ৫১, মোস্তাফিজ ৫২ ও শেখ মেহেদী দেন ৪৫ রান।

ভারতের ইতিহাস গড়া পুঁজি তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত শুরুর প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। তবে হয় তার উল্টো, প্রথম বলেই উইকেট হারায় টাইগাররা। এই ম্যাচেও ব্যর্থতার ধারা ধরে রাখেন পারভেজ ইমন, ফেরেন গোল্ডেন ডাক মেরে।

তবে লিটন দাস ও তানজিদ তামিম মিলে পরের ১৮ বলে যোগ করেন ৩৫ রান। তামিম ফেরেন ১২ বলে ১৫ করে। ইনিংস বড় করতে পারেননি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ১১ বলে ১৪ রানে শেষ হয় তার ইনিংস। ৫.২ ওভারে ৫৯ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

তবে লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় মিল খানিকটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। হৃদয় দেখেশুনে খেললেও লিটন দাস ছিলেন আগ্রাসী। তবে ২৫ বলে ৪২ রানেই থামতে হয় তার। ১১.৪ ওভারে ভাঙে তাদের ৩৮ বলে ৫৩ রানের জুটি।

শেষবারের মতো টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা মাহমুদউল্লাহ পারেননি প্রত্যাশা পূরণ করতে৷ দুই অংকের ঘরেও যেতে পারেননি, মায়াঙ্ক যাদবের বলে ফেরেন ৯ বলে মাত্র ৮ রানে। বিদায় বেলাটা খুব একটা সুখকর হলো না অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারের।

তবে প্রথম দুই ম্যাচে খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও হায়দরাবাদে রান পেয়েছেন হৃদয়। ৩৫ বলে তুলে নেন ফিফটি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৪২ বলে ৬৩ রানে। তাতে বাংলাদেশ শেষ ৯ টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবার পেরিয়েছে দেড় শ’ রানের গণ্ডি।

রবি বিষ্ণুই ৩ ও মায়াঙ্ক যাদব নেন জোড়া উইকেট।

ফলে ভারত সফরে জয়ের মুখ আর দেখল না বাংলাদেশ। প্রথমে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই হবার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ঘটলো একই ঘটনা। সেই সাথে বিদায়ী ম্যাচে জয় উপহার দেয়া হলো না মাহমুদউল্লাহকে।