Home Blog Page 557

দিনমজুরের ছেলে থেকে শ্রলীঙ্কার প্রেসিডেন্ট

শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের পর প্রথম নির্বাচনের পর দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন জনতা বিমুক্তি পেরামুনার (জেভিপি) বৃহত্তর জোট ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ারের (এনপিপি) নেতা অনুরা কুমারা দিসানায়েক।

শনিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দিসানায়েক তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাজিথ প্রেমাদাসার বিরুদ্ধে প্রায় ৪২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। প্রেমাদাসা প্রদত্ত ভোটের মাত্র ২৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে মাত্র ১৬ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।

দিনমজুরের ছেলে দিসানায়েক এখন দেশটির প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। রোববার তাকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। আজ সোমবার তিনি শপথ গ্রহণ করবেন। এর মাধ্যমে নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কায়।

দ্বীপ দেশটির নতুন রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে আরো জেনে নিন।

প্রাথমিক জীবন ও ছাত্র রাজনীতি
দিসানায়েক দেশটির রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে অনুরাধাপুরা জেলার থাম্বুতেগামা গ্রামে একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা একজন দিনমজুর এবং তার মা একজন গৃহিণী হওয়া সত্ত্বেও, তারা তাদের ছেলেকে শিক্ষিত করতে পেরেছিলেন। দিসানায়েক যিনি কেলানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান ডিগ্রি নিয়ে স্নাতক হন।

ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতিতে দিসানায়েকের সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে ১৯৮৭ থেকে ৮৯ সালের মধ্যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জয়াবর্ধনে এবং আর প্রেমাদাসার ‘সাম্রাজ্যবাদী ও পুঁজিবাদী’ শাসনের বিরুদ্ধে জেভিপির সরকারবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহে যোগ দিতে পরিচালিত করেছিল।


মূলধারার রাজনীতি
র্কসবাদী নেতা ১৯৯৫ সালে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র সমিতির জাতীয় সংগঠক পদে উন্নীত হন এবং পরে জেভিপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে নিযুক্ত হন। ১৯৯৮ সালে তিনি জেভিপির পলিট ব্যুরোর সদস্য হন।

২০০০ সালে দিসানায়েক জাতীয়তাবাদী তালিকার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য হন। যদিও জেভিপি রাষ্ট্রপতি কুমারাতুঙ্গার প্রশাসনকে সমর্থন করেছিল, তার দল পরে ২০০২ সালে তামিল বিদ্রোহী গোষ্ঠী এলটিটিইর সাথে শান্তি আলোচনার বিরোধিতা করার জন্য সিংহলি জাতীয়তাবাদীদের সাথে জোটবদ্ধ হয়েছিল, কলম্বোতে সিংহলি অধ্যুষিত সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল।

২০০৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাহিন্দা রাজাপাকসের ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্সের (ইউপিএফএ) সাথে জোট গঠনের পর জেভিপি প্রাধান্য পায়। ফ্রন্ট এলটিটিইর সাথে যুদ্ধবিরতিবিরোধী অবস্থানে স্পষ্টভাবে প্রচার চালিয়েছিল।

বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদী
বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মধ্যে একটি নির্বাচনী প্রচারণায় ভাষণ দিতে গিয়ে দিসানায়েক তাদের আশ্বস্ত করেন যে সংবিধানের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে, যা বৌদ্ধধর্মকে সর্বাগ্রে স্থান দেয়ার নিশ্চয়তা দেয়, তার ‘ঐশী সুরক্ষা’ রয়েছে এবং এতে যেকোনো সংশোধনীর বিরুদ্ধে তাদের গ্যারান্টি দেয়া হয়েছে। জেভিপি নেতৃত্বাধীন জোট এনপিপিও আর্টিকেল ৯ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

দিসানায়েকে তামিল শ্রোতাদের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাকারীদের তকমা লাগানোর বিষয়েও সতর্ক করেছিলেন বলে জানা গেছে। ‘এই পরিবর্তনে অংশীদার হোন … যখন দক্ষিণাঞ্চল পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। আপনি যদি সেই পরিবর্তনের বিরোধিতা করতে দেখা যায়, তবে দক্ষিণের মানসিকতা কী বলে আপনি মনে করেন? আপনি কি এটি পছন্দ করবেন যদি জাফনাকে যারা এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে গিয়েছিল তাদের হিসেবে চিহ্নিত করা হয়? যারা এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছিল? উত্তরাঞ্চলকে এভাবে চিহ্নিত করা হলে আপনি কি তা পছন্দ করবেন?’

ভারতবিরোধী?
দিসানায়েকের জেভিপি ভারত থেকে আসা তামিল বংশোদ্ভূত এস্টেট শ্রমিকদের ‘ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের হাতিয়ার’ বলে নিন্দা করেছিল। দলটি বাণিজ্য সম্পর্কিত বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিরও (সিইপিএ) বিরোধিতা করেছে যা উভয় দেশের মধ্যে বৃহত্তর বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে উত্সাহিত করবে।

কাচাথিভু দ্বীপকে ভারতকে ফিরিয়ে দেয়ার যেকোনো প্রচেষ্টারও বিরোধিতা করেছেন নবনির্বাচিত শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেছেন ‘যেকোনো মূল্যে এটি সফল হতে দেওয়া যায় না।’ উল্লেখযোগ্যভাবে, নয়াদিল্লি এই বছরের শুরুতে দিসানায়েক এবং একটি জেভিপি প্রতিনিধিদলকে ‘সরকারি সফরে’ আমন্ত্রণ জানিয়ে জেভিপির সাথে যোগাযোগ করেছে।


তামিল জাতিগত সংখ্যালঘুদের প্রতি অবস্থান
দিসানায়েকের জেভিপি তামিলদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরোধিতা করেছে। তার দল ১৯৮৭ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর স্বাক্ষরিত ভারত-শ্রীলঙ্কা চুক্তির বিরোধিতা করেছিল। দলটি শ্রীলঙ্কার সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীরও বিরোধিতা করেছে যা দেশের তামিল-অধ্যুষিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভূমি রাজস্ব এবং পুলিশের উপর আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ দেয়ার জন্য প্রাদেশিক কাউন্সিল তৈরি করেছিল।

দিসানায়েকের ফেডারালিস্ট বিরোধী দলের ইশতেহারে বলা হয়েছে যে এটি ‘আপস ছাড়াই দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করবে।’ দলটি ১৯৮৭ সালের চুক্তি অনুসারে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলির একীকরণের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল, যার ফলে ২০০৭ সালে এই প্রদেশগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছিল।

কৃষি, ভূমি ও সেচমন্ত্রী হিসেবে, দিসানায়েক এলটিটিইর সাথে সুনামি-পরবর্তী সহায়তা বিতরণের সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং সরকার উত্তর-পূর্বের জন্য প্রচুর পরিমাণে সহায়তা আটকে রেখেছিল।

এলটিটিই এবং এর নেতা প্রভাকরণের বিরুদ্ধে নৃশংস সামরিক অভিযানের সময় সশস্ত্র বাহিনীকে সমর্থন করে সশস্ত্র বাহিনী জেভিপি সমর্থন করেছে। দিসানায়েক ধারাবাহিকভাবে এসএল সেনাবাহিনীর যুদ্ধাপরাধের আন্তর্জাতিক তদন্তের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছেন।


তামিল গার্ডিয়ান অনুসারে, দিসানায়েক এলটিটিই এবং শ্রীলঙ্কা সরকারের মধ্যে ২০০২ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘দ্বীপে একটি পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি’ হিসাবে অভিহিত করেছিলেন। মাহিন্দা রাজাপাকসের জোটের অংশ হিসাবে, জেভিপি শান্তি আলোচনার বিরোধিতা অব্যাহত রেখেছিল, যা ২০০৭ সালে একটি নৃশংস প্রচারণায় শেষ হয়েছিল।

কথিত যুদ্ধাপরাধের আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবির বিরুদ্ধে জেভিপি কলম্বোতে জাতিসঙ্ঘ কার্যালয় এবং অন্যান্য পশ্চিমা দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তামিল গার্ডিয়ান অনুসারে, দিসানায়েক গত মাসে দাবি করেছিলেন যে ‘এমনকি ভুক্তভোগীরাও কারো শাস্তি আশা করেন না।’

জেভিপি যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত সামরিক কর্মকর্তাদেরও আলিঙ্গন করেছে। জেনারেল অরুণা জয়াসেকারাকে তাদের প্রতিরক্ষানীতির খসড়া তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। ২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত হাইতিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অভিযানের নেতৃত্ব দেয়ার সময় শিশু যৌন পাচার চক্র চালানোর অভিযোগ ছিল এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।


আইএমএফের বেইলআউট নিয়ে মতবিরোধ
শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ৩০০ কোটি ডলারের বেইল-আউট প্যাকেজ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের পরবর্তী ট্রান্স মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। দিসানায়েকে বারবার বলেছেন যে তার দল চুক্তির শর্তাবলী পুনরায় আলোচনা করার চেষ্টা করবে, এমন কিছু যা বর্তমান সরকার এর বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে জানা গিয়েছে, তিনি জানিয়েছেন, সিংহলি, তামিল, মুসলিম- সমস্ত শ্রীলঙ্কাবাসীর জন্য নতুন শুরু। নবজাগরণ আসবে বলেও আশাবাদী তিনি।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

মান্নাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন বিএনপি মহাসচিব

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে দেখতে গেলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ রোববার রাতে তিনি হাসপাতালে যান এবং তার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের সাথেও কথা বলেন।

এই সময় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান রতন, বিএসএমএমইউ‘র উপ-রেজিস্টার আবু মোহাম্মদ আহসান ফিরোজ উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার গভীর রাতে বারিধারার বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হলে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। তাকে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

রাইসির হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত করেছিল ইসরাইল!

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম রাইসির নিহত হওয়ার ঘটনায় ইসরাইল জড়িত থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, হিজবুল্লাহর অপারেটরদের হাতে যেসব পেজার ছিল, ওসব কেনার ক্ষেত্রে ইরানেরও সম্পৃক্ততা ছিল। সেজন্য হতে পারে ওই ধরনের কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য রাইসির হেলিকপ্টারের কোনো ডিভাইসে ছিল। পরে তা বিস্ফোরিত হয়েই নিহত হয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট।

ইউরোপভিত্তিক ইরানি সাংবাদিক মোহাম্মদ আহওয়াজে এক এক্সবার্তায় লিখেছেন, ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি কমিটির সদস্য আহমেদ বখশায়েশ আরদেস্তানি বলেছেন, হিজবুল্লাহর ডিভাইস হ্যাক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হয়তো ইসরাইল জানতে পেরেছে যে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম রাইসির একটি পেজার ব্যবহার করেন। হতে পারে আজারবাইজান থেকে রাইসি যখন হেলিকপ্টারে দেশে ফিরছিলেন, তখন ইসরাইল তার পেজারে বিস্ফোরণ ঘটায়।

মঙ্গলবার এবং বুধবার লেবাননজুড়ে হিজবুল্লাহ অপারেটিভদের দ্বারা ব্যবহৃত পেজার এবং ওয়াকি-টকি বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত এবং হাজার হাজার আহত হয়েছে। একটি সমন্বিত হামলায় ইসরাইলকে ব্যাপকভাবে দায়ী করা হয়েছে আন্তঃসীমান্ত অগ্নিকাণ্ডের কয়েক মাস পর।

নিউইয়র্কের পথে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন অন্তর্ববর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টা ৫ মিনিটে কাতার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সফরসঙ্গীদের নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যান তিনি। নিরাপত্তা, গণমাধ্যমকর্মীসহ সব মিলিয়ে মোট ৫৭ জন প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন।

প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর ড. ইউনূসের এটাই প্রথম বিদেশ সফর। জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর বক্তৃতা করবেন।

জানা গেছে, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, নেপাল, ইউরোপীয় কমিশন প্রধান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে আলোচনার সম্ভাবনা নেই।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন তাদের ভূমিকা শক্তভাবে পালন করে জাতিসঙ্ঘ অধিবেশনে সে আহ্বান জানাবে বাংলাদেশ।

সফর শেষ করে প্রধান উপদেষ্টা নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার পথে রওনা হবেন ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে।

আবারো উত্তাল আশুলিয়া , বন্ধ ৫২ কারখানা

বেশ কয়েকদিন শান্ত থাকার পর ফের শ্রমিক বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে শিল্পাঞ্চলখ্যাত আশুলিয়ায়। বকেয়া বেতনের দাবি জানিয়ে আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাককারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের নরসিংহপুর এলাকায় জেনারেশন নেক্সট গার্মেন্টসের কয়েক হাজার শ্রমিক সড়ক অবরোধ করে।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানায়, ‘অনেক কারখানায় যখন টিফিন বিল, নাইট বিল, হাজিরা বোনাস বাড়ানোসহ নানা দাবি করে আন্দোলন করে আসছিল তখন আমাদের কোনো দাবি ছিল না। অন্য কারখানার শ্রমিকরা এসে আমাদের ফ্যাক্টরিতে ঝামেলা করার চেষ্টা করলেও আমরা কাজ করেছি। তারপরও আমাদের মালিক কেন এখন কারখানা বন্ধ করে রাখছে।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আরো জানায়, গত দুই মাস (গত মাসসহ চলতি মাসের) আমাদের বেতন পরিশোধ করা হয়নি। যার কারণে আমরা বাসা ভাড়া ও দোকানের বাকিও পরিশোধ করতে পারিনি। আমরা প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার শ্রমিক চরম অসহায় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে দিন পার করছি। আমরা গরীব বলেইতো কারখানায় কাজ করতে এসেছি।

এর আগে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাই আজ বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছি। এখন প্রশাসনের লোক এসে বলছে আমরা সড়ক ছেড়ে না দিলে তারা কঠোর হতে বাধ্য হবে। তাহলে আমরা এখন যাব কোথায়?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন করে শ্রমিক বিক্ষোভের জেরে আজ শিল্পাঞ্চলের ৫২টি কারখানা বন্ধ রয়েছে। যার মধ্যে ৪৩টি শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩(১) ধারায় অনির্দিষ্টকালের জন্য এবং বাকি নয়টিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘সকালে নরসিংহপুর এলাকায় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশের টিম পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন।

শিল্পপুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম বলেন, আজ শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় ৫২টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ১৩(১) ধারায় বন্ধ রয়েছে ৪৩টি পোশাক কারখানা। বাকিগুলো সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।

জয়ের ধারাই বার্সালোনা, উড়িয়ে দিয়েছে ভিয়ারিয়ালকে

লা লিগায় জয়ের ধারাই চলছেই বার্সালোনার। টানা ষষ্ঠ ম্যাচে জয় পেয়েছে কাতালানরা। রোববার ভিয়ারিয়ালের মাঠে ভিয়ারিয়ালকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। ধরে রেখেছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান।

লা লিগায় প্রথম পাঁচ ম্যাচে টানা জয় পেলেও গত সপ্তাহে চ্যাম্পিয়ন্স লিগেরম্যাচে মোনাকোর কাছে হেরে বসে বার্সেলোনা। তবে সেই হারের ধাক্কা বড় হতে দেয়নি লেভানডফস্কিরা। লা লিগায় ধরে রেখেছে জয়ের ধারা।

রোববার বার্সা সহজ জয় পেলেও ম্যাচটা ছিল ঘটনাবহুল। পেনাল্টি মিস করে হ্যাটট্রিকের সুযোগ নষ্ট করেছেন লেভানডফস্কি। ভিয়ারিয়ালের গোল বাতিল হয়েছে ভিএআরে। আর বার্সা গোলরক্ষক টের স্টেগান হাঁটুতে মারাত্মক চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন স্ট্রেচারে করে।

অবশ্য প্রথম সুযোগ পায় ভিয়ারিয়ালই, তবে নিকোলাস পেপে জালের দেখা পাননি। অষ্টম মিনিটে তাদের ইয়েরেমি পিনো বার্সার জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল মেলেনি। যদিও এরপর থেকে খেলা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় বার্সা।

ইয়ামাল বেশ কয়েকটি সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলেও ২০ মিনিটে ঠিকই এগিয়ে যায় বার্সা। পাবলো তোরের দারুণ থ্রুতে দলকে এগিয়ে নেন লেভানডফস্কি। আট মিনিট পর দ্বিতীয় গোলটিও পেতে পারতেন তিনি। তবে এবার তার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক।

যদিও ৩৫তম মিনিটে ঠিকই দ্বিতীয় গোল পেয়ে যান লেভানডফস্কি। ইয়ামালের ক্রসে এরিক গার্সিয়ার হেড গোলরক্ষক ঠেকানোর পর ফিরতি বলে ওভারহেড কিকে জালে পাঠান তিনি।

তবে এই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হবার আগেই ব্যবধান কমায় ভিয়ারিয়াল। পেপের পাসে ঠিকানা খুঁজে নেন পেরেস। ২-১ ব্যবধান ধরে রেখেই বিরতিতে যায় বার্সা। তবে এর আগেই কর্নার থেকে আসা বল নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন স্টেগান।

দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে সমতা ফিরিয়েই ফেলেছিল স্বাগতিকরা। তবে পেপে বার্সেলোনার জালে বল পাঠালেও তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। উল্টো ৫৮তম মিনিটে দুই গোলের লিড পুনরুদ্ধার করেন তোরে। পেদ্রির পাস থেকে গোল করেন তিনি।

ব্যবধান ৪-১ হতে পারতো ৬৪তম মিনিটেই। ইয়ামাল ভিয়ারেয়ালের বক্সে ফাউলের শিকার হলে ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টি দেন রেফারি। কিন্তু স্পট কিকে বল পোস্টে মারেন লেভানডফস্কি। ফলে সুযোগ হারায় বার্সা।

এদিকে অফসাইড ভাগ্য যেন এদিন পেয়ে বসেছিল ভিয়ারিয়ালকে। ৬৮তম মিনিটে ম্যাচে তৃতীয়বারের মতো বল জালে জড়িয়েও উল্লাস করতে পারেনি স্বাগতিকেরা। অন্যথায় ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারতো।

৭৪তম মিনিটে স্কোরলাইন ৪-১ করেন রাফিনিয়া। বক্সে পাউ ভিক্টরের পাস পেয়ে জোরাল শট নেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড, প্রতিপক্ষের একজনের পায়ে লেগে বল জালে জড়ায়। শেষ গোলটাও আসে তা পা থেকেই।

৮৩তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান তিনি। ম্যাচজুড়ে দারুণ খেলা ইয়ামাল চমৎকারভাবে উঁচু করে বল বাড়ান বক্সে, ছুটে গিয়ে বাঁ পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন রাফিনিয়া। জোড়া গোল পূরণ হয় তার।

এই জয়ে ৬ ম্যাচে শতভাগ সাফল্যে বার্সেলোনার পয়েন্ট হলো ১৮। সমান ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে শিরোপাধারী রিয়াল মাদ্রিদ। ১১ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে আছে ভিয়ারিয়াল।

স্বস্তির জয়ে মান বাঁচালো দক্ষিণ আফ্রিকা

প্রথম দুই ম্যাচ জয়ে ইতিহাস আগেই গড়েছিল আফগানিস্তান। রশিদ খানদের সামনে সুযোগ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথমবারের মতো ধবলধোলাই করার। তবে শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি, শেষ ওয়ানডেতে লজ্জা এড়িয়েছে প্রোটিয়ারা।

সিরিজ আগেই নিশ্চিত করা আফগানরা তৃতীয় ম্যাচে সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি। রোববার দক্ষিণ আফ্রিকা জয় পেয়েছে ৭ উইকেটে। আফগানদের দেয়া ১৭০ রানের লক্ষ্য ১৭ ওভার হাতে রেখেই পেরিয়েছে প্রোটিয়ারা।

শারজাহতে অবশ্য শেষ ম্যাচে আফগান একাদশে ছিলেন না আগের ম্যাচে ৫ উইকেট নেয়া রাশিদ খান। হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় শেষ ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। আর বিশ্রাম দেয়া হয় প্রথম ম্যাচের নায়ক ফজলে হক ফারুকিকে।

তবে আগের ম্যাচ যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই যেন ফের শুরু করেন রাহমানউল্লাহ গুরবাজ। ৯৪ বলে ৮৯ রানের দারুণ এক ইনিংস খেললেন তিনি। তবে তিনি ছাড়া দলের আর কেউ ব্যাট হাতে দাঁড়াতেই পারেননি। ব্যস্ত ছিলেন আসা যাওয়ায়।

গুরবাজের ইনিংস বাদে দলের হয়ে দ্বিতীয় সেরা রান আসে মোহাম্মদ গাজাফারের ব্যাটে। ১৫ বলে ৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। বাকিদের মাঝে কেবল দুই অংক (১০) ছুঁয়েছেন হাশমতুল্লাহ শাহিদি। জোড়া উইকেট নেন ফেলকাও, এনগিডি ও পিটার।

মামুকি লক্ষ্যতাড়ায়ও শুরুটা বেশ সাবধানী ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। গত দুই ম্যাচে ১০৬ এবং ১৩৪ রানে অলআউট হবার ধাক্কা সামলে নিতে সময় লেগেছে তাদের। তবে টেম্বা বাভুমা আর ডি জর্জির ওপেনিং জুটিতে গড়ে উঠে জয়ের ভিত, আসে ৪০ রান।

নবম ওভারের বাভুমাকে (২২) ফেরান গাজনফর। দ্বাদশ ওভারে জর্জি ফেরেন মোহাম্মদ নবির শিকার হয়ে। ৩১ বলে ২৬ রান আসে তার ব্যাটে। দলীয় ৮০ রানের মাথায় রেজা হেন্ড্রিকসও ফেরেন। থিতু হয়েও ১৮ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি।

তবে প্রোটিয়াদের কোনো বিপদেই পড়তে দেননি মার্করাম। ৬৭ বলে ৬৯ রানের ইনিংস খেলে দলকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরে। ট্রিস্টান স্টাবসের সাথে গড়েন অবিচ্ছিন্ন ৯০ রানের জুটি। ৪২ বলে ২৬ করে অপরাজিত থাকেন স্টাবস।

ফলে সিরিজ হাতছাড়া করলেও শেষ ম্যাচে স্বস্তির জয়ে মান বাঁচাল দক্ষিণ আফ্রিকা। এই সিরিজের আগে যাদের বিপক্ষে সব সংস্করণ মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচে কোনো হার ছিল না প্রোটিয়াদের, এবার সেই তাদের কাছেই কিনা ধবলধোলাই হতে চলেছিলো।

চেন্নাইয়ে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

প্রথম ইনিংসের পরই চেন্নাই টেস্টের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায় অনেকটাই। হার অবধারিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। তবুও ‘যদি-কিন্তু’র অপেক্ষায় ছিল সমর্থকরা। অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেটে যদি অবিশ্বাস্য কিছু ঘটে যায়!

অবশ্য জিততে হলে অবিশ্বাস্য কিছুই করতে হতো সাকিব-শান্তদের। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের পাঁচ শতাধিক রান তাড়া করে এখন পর্যন্ত জেতেনি কোনো দল। বাংলাদেশকে তাই নতুন ইতিহাস গড়তেই হতো।

তবে টাইগাররা পারেনি তেমন কিছু করতে। এম চিদারম্বর স্টেডিয়ামে ৫১৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় গুটিয়ে গেছে ২৩৪ রানেই। ২৮১ রানের বিশাল জয় পেয়েছে ভারত। একই সাথে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল স্বাগতিকেরা।

বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া টেস্টে টসে হেরে আগে ব্যাট করে প্রথম ইনিংসে ৩৭৬ রান করে ভারত। শতক হাঁকান রাবিন্দ্র জাদেযা ও রবিচন্দ্রন আশ্বিন। বাংলাদেশের হয়ে ৫ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। জবাবে মাত্র ১৪৯ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ, কেউ পায়নি ফিফটিও।

২২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত ৪ উইকেটে আরো ২৮৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। এবার জোড়া শতক হাঁকান ঋষভ পন্থ ও শুভমান গিল। তখন জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় তখন ৫১৫ রান।

ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ছিল কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজের, ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ফলে বাংলাদেশকে অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিতে হতো। চেন্নাইয়ের মাঠে যা অনেকটাই অসম্ভব।

পারবে না জেনেও অনেকটা চেষ্টা চালায় টাইগাররা। তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে তুলে ১৫৮ রান। জয়ের জন্য তখনো প্রয়োজন ৩৫৭ রান। তবে রোববার চতুর্থ দিনে মাত্র ৭৭ রান তুলেই শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।

চতুর্থ দিনের খেলার শুরুতে সাকিব আল হাসান ব্যাট করছিলেন ৫ রানে। তার সাথে চতুর্থ দিনে আরো ২১ রান যোগ করতেই শেষ হয় সাকিবের ইনিংস। ২৬ রান করে ফেরেন আশ্বিনের শিকার হয়ে। তার বিদায়েই দিনে প্রথম উইকেটের দেখা পায় ভারত।

লিটন দাসও ফিরেছেন এর পরপরই। থিতু হওয়ার আগেই জাদেযার শিকার হয়েছেন তিনি। ১০ বলে ১ রান এসেছে তার ব্যাটে। ৬ উইকেট হারিয়ে লেজ বেরিয়ে আসে বাংলাদেশের। তবে আগের দিন ফিফটি করা নাজমুল শান্ত একাই লড়াই অব্যাহত রাখেন।

২২২ রানের মাথায় অবশ্য আর পারেননি শান্ত। ১২৭ বলে ৮২ রান করে থামেন তিনি। জাদেযার শিকার হয়ে ফেরেন সাজঘরে। তার আগে মেহেদী মিরাজও ফেরেন মাত্র ৮ রানে। তিনি শিকার আশ্বিনের। বাকিদের কেউ আর দুই অঙ্কের যেতে পারেননি।

৮৮ রানে ৬ উইকেট নেন আশ্বিন। ৩ উইকেট নিয়েছেন জাদেযা।

আগামী মাসে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন ড. জাকির নায়েক

আগামী মাসে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন বিশ্বখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ড. জাকির নায়েক। তিনি সেখানে লাহোর, করাচি এবং ইসলামাবাদে লেকচার দেবেন।
শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ড. জাকির নায়েক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৫ অক্টোবর করাচি সফরের মধ্যে দিয়ে তার সফর শুরু করবেন এবং ২০ অক্টোবর ইসলামাবাদ সফরের মধ্য দিয়ে তার সফর শেষ করবেন। তার সঙ্গে সফরে থাকবেন তার ছেলে ড. ফারিক নায়েক, যিনি একজন ইসলামী চিন্তাবিদ এবং তিনিও এই সব শহরে লেকচার দেবেন।
ড. নায়েক আরও জানিয়েছেন, করাচির অনুষ্ঠানটি বাগে-ক্বাইদে অনুষ্ঠিত হবে, যা কায়েদে-আযম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সমাধির বিপরীতে অবস্থিত। ৫ অক্টোবর করাচিতে তার লেকচারের বিষয় হবে ‘আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য’ এবং পরদিন ড. ফারিক নায়েকের বক্তব্য থাকবে ‘ক্যা কুরআন কো সমঝ কার পড় না জারুরি হ্যায়? (কুরআন বুঝে পড়া কি জরুরি?)।
ড. নায়েক লাহোর ও ইসলামাবাদের জন্য তার পাবলিক লেকচারের সূচি জানিয়েছেনÑ করাচিতে ৫ ও ৬ অক্টোবর, লাহোরে ১২ ও ১৩ অক্টোবর এবং ইসলামাবাদে ১৯ ও ২০ অক্টোবর।
ড. জাকির নায়েকের পাকিস্তানে আগমনের খবর তার অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, অনেকেই সামাজিকমাধ্যমে তাদের আনন্দ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে ড. নায়েক মালয়েশিয়ায় বাস করছেন।
স¤প্রতি, ড. নায়েক একটি পাকিস্তানি ইউটিউবারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কেন তিনি পাকিস্তানের পরিবর্তে মালয়েশিয়ায় বসবাসের স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সাক্ষাৎকারটি দ্রæত জনপ্রিয়তা লাভ করে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ পায়।
সাক্ষাৎকারে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি কেন পাকিস্তানকে বেছে নেননি? জবাবে তিনি বলেছিলেন, আমার জন্য পাকিস্তানে যাওয়া সহজ হত। আমি আগে পাকিস্তান সফর করেছি এবং সেখানে আমার অনেক সমর্থক আছেন।
ইসলামী একটি নীতির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, শরিয়া আমাদেরকে কম ক্ষতি গ্রহণ করতে শিখায়, যাতে বড় ক্ষতি এড়ানো যায়। যদি আমি পাকিস্তানে চলে যেতাম, ভারত আমাকে আইএসআই এজেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করত এবং মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আমার প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করার চেষ্টা করত, যা ইসলাম প্রচারের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করত।

জাতিসংঘে ৫০ বছর পূর্তির মধ্যমণি অধ্যাপক ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানকালে ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে সাইড লাইনে এই দুই নেতার কুশলাদি বিনিময় হতে পারে। তবে জাতিসংঘ সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী (সেক্রেটারি অব স্টেট) অ্যান্টনি বিøংকেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। সদস্য হওয়ার ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ বিশেষ এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখবেন। জাতিসংঘে উপস্থিত সব সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ মিশন আশা করছে ৫০টি দেশের সরকারপ্রধান বা তাদের প্রতিনিধিরা এ ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন সেটা নিশ্চিত। জাতিসংঘে বাংলাদেশ আয়োজিত কোনো অনুষ্ঠানে এত বেশি সরকারপ্রধান বা তাদের প্রতিনিধি অতীতে যোগ দেননি। অনুষ্ঠানের মধ্যমণি থাকবেন নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
জাতিসংঘে অবস্থানকালে বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন ড. ইউনূস। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে যোগ দিতে ২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে নিউইয়র্ক আসছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি অধিবেশনে ২৭ সেপ্টেম্বর বক্তৃতা করবেন। প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসাবে আসছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ; সড়ক পরিবহণ ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসাবে ২০ জনের একটি প্রতিনিধিদল আসছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এতও অল্পসংখ্যক প্রতিনিধিদল নিয়ে কোনো সরকারপ্রধান জাতিসংঘে আসেননি।
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিয়ে সাইড লাইনে বিশ্বের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন ড. ইউনূস। এর মধ্যে রয়েছেন বাহরাইনের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী সালমান বিন হামাদ বিন ইসা আল খলিফা, নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক শফ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জু, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি বিøংকেন, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। এছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডিসহ জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি সংস্থার প্রধান ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। প্রধান উপদেষ্টা সফর শেষে ২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেবেন।