Home Blog Page 557

বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বাইডেন পুত্রের

ফৌজদারি অভিযোগে অভিযুক্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। স্থানীয় সময় সোমবার থেকে তার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনি ফৌজদারি অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত এক মামলায় ডেলাওয়্যারের একটি আদালতে হান্টারকে অভিযুক্ত করা হয়।
তার বিরুদ্ধে অস্ত্র কেনার সময় মাদক ব্যবহারের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেয়া ও ২০১৮ সালের অক্টোবরে অবৈধভাবে ১১ দিন নিজের কাছে অস্ত্র রাখাসহ তিনটি অভিযোগ আনা হয়।
হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে করফাঁকির মামলাও রয়েছে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর এই বিচার শুরু হচ্ছে। হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে মার্কিনিরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। আমেরিকার ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের সন্তান ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন।

২৯০ আসনে এগিয়ে মোদির এনডিএ, রাহুলের ইন্ডিয়া ২৩৭

ভারতের লোকসভার নির্বাচন শেষে মঙ্গলবার (৪ জুন) ভোট গণনা চলছে। প্রাথমিক গণনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) জোট ২৯০ আসনে এগিয়ে আছে। অপরদিকে রাহুলের ইন্ডিয়া ২৩৭ আসনে এগিয়ে।মঙ্গলবার (৪ জুন) কংগ্রেসের মুখপাত্র পাওয়ান খেরা গণমাধ্যমকে বলেছেন, এটা একেবারে শুরুর দিকের ফল। দিনের পরের অংশে আমরা আরও ভালো ফল দেখতে পাব।

দেখা গেছে, কংগ্রেস এককভাবে ৯৭ আসনে এগিয়ে আছে। ইন্ডিয়া জোট বুথফেরত জরিপের আভাস পার করতে সক্ষম হয়েছে।

বারাণসী লোকসভা কেন্দ্রে প্রাথমিক তথ্যে এগিয়ে আছেন নরেন্দ্র মোদি। অমেঠী কেন্দ্রে এগিয়ে বিজেপি প্রার্থী স্মৃতি ইরানি। অন্যদিকে গান্ধীনগরে এগিয়ে আছেন অমিত শাহ।

হামিরপুরে এগিয়ে বিজেপি প্রার্থী অনুরাগ ঠাকুর, কনৌজ কেন্দ্রে এগিয়ে আছেন অখিলেশ যাদব। তবে রায়বরেলী এবং ওয়েনাড় দুই কেন্দ্রেই এগিয়ে রয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার (১ জুন) বুথফেরত জরিপের বলা হয়, মাত্র ১৪১-১৬২টি আসন পেতে পারে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। যা ইতোমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে। এ ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দল ২১ আসনে এগিয়ে থেকে বিজয়ের আশা করছে।

এদিকে ভারতের নির্বাচন কমিশনের দাবি, প্রায় ১০০ কোটি নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক ৬৪ লোটি ২০ লাখ মানুষ ভোট দিয়েছেন।

দেশটিতে সরকার গঠনে লোকসভায় ৫৪৩ আসনের মধ্য ২৭২ আসনে বিজয়ী হতে হবে। দেশটিতে সাত দফার ভোটে প্রথমে পোস্টাল ব্যালট গণনা করেন কর্মকর্তারা। বর্তমানে একে একে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ভোট গণনা করা হচ্ছে। এদিকে বিজয় উদ্‌যাপনের প্রস্তুতিও শুরু করেছে বিজেপি। বিভিন্ন রাজ্যে জমকালো আয়োজনের অপেক্ষায় দলের নেতাকর্মীরা। গত আড়াই মাস ধরে মোট সাত দফায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশটির প্রধান উৎসব সাধারণ নির্বাচনে ভোট হয়েছে। এবারের নির্বাচনে নথিভুক্ত ভোটার ছিলেন প্রায় ৯৭ কোটি। এদের মধ্যে ৬৪ কোটি ২০ লাখের বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব

ইমা এলিস, নিউইয়র্ক: আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ জাতিসংঘের অনেক কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ অবদানের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বাংলাদেশ জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে যুক্তরাষ্ট্র সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি একথা বলেন।
আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ জাতিসংঘের অনেক কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে এবং সেই কারণেই আমরা বাংলাদেশকে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসাবে বিবেচনা করি।’ জাতিসংঘ মহাসচিব রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশের উদারতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, বিশেষ করে সে দেশের সেনাবাহিনী তরুণ রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক নিয়োগ করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে মহাসচিব জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে বাংলাদেশের অভিযোজন ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতার প্রশংসা করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান নিম্ন আয়ের দেশের কাতার থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহযোগিতা কামনা করলে গুতেরেস এই বিষয়ে বিশ্বসংস্থার পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন, ‘এই জন্য বাংলাদেশকে পুরস্কৃত করা উচিত, শাস্তিদান নয়’।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান ফিলিস্তিনের গাজায় সংঘাতসহ চলমান বিশ্বের কঠিন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় মহাসচিবকে তার নেতৃত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, রাফায় সংঘাত এড়াতে সেখানে জাতিসংঘ মহাসচিব যেভাবে নিজে উপস্থিত হয়েছিলেন, শান্তিপ্রিয় বিশ্ববাসী তার প্রশংসা করেছে।
এই সময় রোহিঙ্গা সঙ্কটের উপর বিশ্বের আলোকপাত বজায় রাখা, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার মর্যাদার সাথে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন এবং মিয়ানমারের রাখাইনে সংঘাতময় পরিস্থিতির উন্নতিকল্পে জাতিসংঘের জোরদার ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
জাতিসংঘ মহাসচিব গত দশকে বাংলাদেশের অসামান্য অগ্রগতির প্রশংসা করলে ড. হাছান মহাসচিব গুতেরেসকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টি ও দক্ষ নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ অনেক আগেই সামাজিক, অর্থনৈতিক, মানবিক সূচকসহ সকল সূচকে পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে এবং গত কয়েক বছরে অনেক সূচকে ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২১ সালে মাথাপিছু আয়েও ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান গত ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের দৃঢ় অংশীদারিত্ব এবং উন্নয়নে সহায়তার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশের জাতিসংঘে যোগদানের অর্ধশত বছরপূর্তিতে গুতেরেসকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা ও মিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সংকটে সিলেটের বন্যাদুর্গত মানুষ

বেলা ১২টা। নগরের বন্যাদুর্গত সুবহানীঘাট এলাকায় ঢুকতেই নাকে এলো দুর্গন্ধ। বিকট সে গন্ধ। এরইমধ্যে বসবাস করছে মানুষ। পানির রং কালচে হয়ে গেছে। সুয়ারেজ খালের সঙ্গে মিশে গেছে সড়কের পানি। এ কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এলাকায়। মুখ চেপে ওই এলাকায় চলাচল করছেন মানুষজন। আর বাসা-বাড়িতে যারা আছেন তারা খুব কষ্টে আছেন। স্থানীয় সুমন আহমদ জানিয়েছেন- এলাকার কয়েকশ’ বাসার নিচতলায় পানি ঢুকেছে।
বাসা ছেড়ে অনেকেই চলে গেছেন আত্মীয়স্বজনের বাড়ি। এখন যারা আছেন তারা পড়েছেন নানা সংকটে। স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। স্থানীয় ব্যবসায়ী কেরামত মিয়া জানান- চারদিন ধরে এলাকায় পানি। বন্যার পানির সঙ্গে শুধু সুয়ারেজ খালই নয়, ড্রেনের ময়লাও এসে যুক্ত হয়েছে। এ কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। নগরের উপশহরের ডি বøক। ওই এলাকায়ও অন্তত ৫ শতাধিক বহুতল ভবনের নিচতলায় পানি ঢুকেছে। অনেকের আসবাবপত্র ভিজে গেছে। একই এলাকার ই এবং এফ বøকেরও দৃশ্য একই। ওই এলাকার অন্তত ৩ শতাধিক বাসার নিচতলায় পানি ঢুকেছে। বেদনা বেগম নামের এক ভাড়াটে বাসিন্দা জানিয়েছেন- রাতে হঠাৎ করে পানি ঢুকে পড়ায় তার বাসার আসবাবপত্র ভিজে গেছে। সবকিছু রেখে পাশের বাসায় এসে ওঠেন। এখনো বাসা থেকে পানি না নামায় যেতে পারছেন না। আসবাবপত্র ভিজে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
চারদিনের মধ্যে শুধুমাত্র খিচুড়ি খেয়ে জীবন যাপন করছেন বলে জানান। জানান- গতকাল দুপুরের দিকে একবার বাসায় গিয়েছিলেন। বাসার ভেতরে পানি থাকায় তিনি কোনো মালামালই সরাতে পারছেন না। সাদাটিকর, কুশিঘাট এলাকায় এখনো পানি রয়েছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট চলছে। দূরবর্তী এলাকা থেকে পানি নিয়ে আসছেন কলোনির বাসিন্দারা। তারা জানান- সিলেট সিটি করপোরেশন থেকে একদিন পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দেয়া হয়েছিল। আর দেয়া হয়নি। এখন তারা দূরের টিউবওয়েল থেকে পানি নিয়ে আসতে হচ্ছে। সিলেটে বন্যায় আক্রান্ত প্রায় ৫ হাজার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে। এখনো দুটি আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছেন ৫ শতাধিক মানুষ। তাদের বাড়িঘর সুরমা নদীর তীরবর্তী এলাকায়। দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে সিটি করপোরেশন থেকে খিচুড়ি রান্না করে দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া জনপ্রতিনিধিরা তাদের দেখভাল করছেন। তবে; বাসা বাড়িতে যারা পানিবন্দি রয়েছে তাদের দিকে তাকাচ্ছেন না কেউ। এখন পর্যন্ত বেসরকারি ত্রাণও আসেনি। সিলেট নগর ছাড়াও জেলার জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও ওসমানীনগরে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস গতকাল বিকালে জানিয়েছেন- সিলেট নগরে সুরমার পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে; এখনো নগরের বহু এলাকায় পানি রয়েছে। জকিগঞ্জে অমলসীদ ও কানাইঘাটে সুরমার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তিনি জানান- পানি কমছে। বৃষ্টি না হলে আরও পানি কমবে। বিভিন্ন এলাকায় ডুবে যাওয়া বাঁধ ভেসে উঠেছে। পানি নামার পর বাঁধের ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয় করা হবে বলে জানান তিনি। এদিকে- জেলার বিভিন্ন উপজেলার বন্যা দুর্গত মানুষের মধ্যে খাদ্য সংকট চলছে। খোদ আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা মানুষজনও খাবার সংকটে রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কাছে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পানি না নামায় গতকাল সকাল পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা আড়াইশ’ মানুষ বাড়ি ফিরেছে। সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে- দুটি পৌরসভাসহ জেলার ৬৮ ইউনিয়নের ৭৬১টি গ্রামে বন্যার পানি ঢুকেছে। বন্যাকবলিত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার। জেলা প্রশাসন থেকে ৫৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রয়েছে। বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৮০৬ জন মানুষ বসবাস করছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের ৯টি ওয়ার্ড, সদর উপজেলা, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্ত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। এদিকে- বন্যাকবলিত এলাকায় রোগ ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষজন। তারা জানান- বর্তমানে ভাইরাস জ্বরে বেশি আক্রান্ত মানুষ। পানিবন্দি থাকার কারণে অনেকেই চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। তবে সিলেট জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মোজয় দত্ত জানিয়েছেন- সিলেট জেলায় ১৩১টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। নৌকাযোগে এসব মেডিকেল টিমের সদস্যরা বন্যার্তদের মধ্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি উপজেলায় চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি একজন সার্বিক বিষয় মনিটরিং করছেন একজন ডাক্তার।
তিনি জানান- বন্যার কারণে রোগীর সংখ্যা এখনো বাড়েনি। পানি নামলে হয়তো রোগী বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
নগরে উন্নতি: সিলেট নগরীর বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। গতকাল সুরমা নদীর পানি বিপদসীমা থেকে নিচে নেমেছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। দুপুর ১২টায় বিপদসীমার নিচ দিয়ে সিলেটে সুরমার পানি প্রবাহিত হচ্ছিলো। টানা বৃষ্টি না হলে পানি আরও কমবে বলে জানায় পাউবো। সিলেট নগরীর কয়েকটি ওয়ার্ডে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়ায় সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে বিভিন্নভাবে কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর জানান, বন্যায় আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বেশির ভাগ এলাকার। তাছাড়া বন্যার ঝুঁকিতে আছে এমন সকল ওয়ার্ডে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পানি বাড়লে তাদের ওই আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হবে। সুরমা তীরবর্তী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনগুলো রক্ষার জন্য বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। ২৫ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় কাউন্সিলর তাকবিরুল ইসলাম পিন্টু ও রায়হান আহমদের মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। তিনি জানান, নগরীর ১৫নং ওয়ার্ডের কিশোরী মোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী একটি ৫ তলা খালি ভবনে দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের রান্না করা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিসিকের স্বাস্থ্য শাখার একটি চিকিৎসক দল সেখানে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এই দুটি আশ্রয়কেন্দ্রসহ বন্যাকবলিত ওয়ার্ডগুলোতে শুকনা খাবার, চিঁড়া, মুড়ি, গুড়, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ওরস্যালাইন ও কিছু কিছু ওয়ার্ডে মোমবাতি সরবরাহ করা হয়েছে। গত শনিবার বিকাল থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে রান্না করা খিচুড়ি দেয়া হয়েছে।

বেনজীর কোথায় জানেন না, তাহলে রাষ্ট্র আছে? মির্জা ফখরুল

দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আপনি যদি এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কথা শুনেন, তাদের বডি ল্যাংগুয়েজ দেখেন- এরা যেন আমাদের প্রভু। ওই এক প্রভু আজকে কোথায় গেছে? এমনভাবে কথা বলতেন, পিস্তল দেখিয়ে বলতেন, এটা তোমাকে এমনি দেয়া হয় নাই, এটা ব্যবহার করার জন্য দেয়া হয়েছে। করেছেনও ব্যবহার, মানুষকে মেরেছেন, গুম করেছেন, এখন আপনি (বেনজীর আহমেদ) কোথায়? গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) উদ্যোগে “বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, কী ভয়াবহ চিন্তা করেন! পত্রিকা খুললে শুধু লুট আর লুট ছাড়া কিচ্ছুই পাবেন না। অদ্ভুত! কারা লুট করছে? যারা আমাদের সমাজে, রাষ্ট্রের বড় দায়িত্বে তারা, ইমাজিং। আর্মির সাবেক প্রধান, ইমাজিং, যারা আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রধান আইজি তাদেরটা বেরিয়ে আসছে। সংসদ সদস্য চোরাচালানীর সঙ্গে জড়িত টুকরা টুকরা হয়ে যায়। মাদক পাচারকারীও সংসদ সদস্য ছিল কক্সবাজারের টেকনাফে, এই কোন সমাজ বলেন আপনারা।
পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তার (বেনজীর) সম্পর্কে আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান বলেছেন, ‘আমি তার সম্পর্কে কিছুই জানি না’। তাহলে রাষ্ট্র কিছুই জানে না। তাহলে এটা রাষ্ট্র আছে এখন?
মির্জা ফখরুল বলেন, এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা। বাংলাদেশ ব্যাংক লুট হয়ে যায়।
সোনা হারিয়ে যায়, ডলার রিজার্ভ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিয়ে চলে যাচ্ছে, ওদিকে ইন্টারন্যাশনাল হ্যাকিং হচ্ছে মিলিয়ন অ্যান্ড মিলিয়ন ডলার নিয়ে চলে যাচ্ছে, কল্পনা করা যায়। শেয়ারবাজারে রথি-মহারথিরা লুটপাট করে শেষ করে দিচ্ছে, সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত সাহেব (আবুল মাল আবদুল মুহিত) বলেছেন, আমার কিছু করার নাই ওদের হাত অনেক লম্বা। বাংলাদেশে এখন অনেক বড় বড় মানুষ, এত বড় বড় যে, তাদের আশপাশে যাওয়া যায় না। কেউ সন্ন্যাসী, কেউ বিরাট ধর্মীয় আলেম।
তিনি আরও বলেন, পত্রিকায় আসছে চট্টগ্রামের একটি ব্যাংকের শাখা থেকে ১৪৯ ভরি সোনা লোপাটের ঘটনা। এখন থেকে ১৪৯ ভরি সোনা তো কিছুই না ভাই, ব্যাংক থেকে তো টনকে টন সোনা চলে যাচ্ছে, হাজার হাজার কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। কোনো দিকে কোনো চিন্তা নাই, জবাবদিহিতা নাই, চিন্তা নাই, কিচ্ছু নাই। একটাই চিন্তা ছিল, আমাকে ক্ষমতায় বসিয়ে রাখতে হবে, কেউ নাড়াতে পারবে না। তার জন্য আমি আমার চতুর্দিকে সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দিয়ে আমার সমস্ত রক্ষী তৈরি করেছি, একেকটা রক্ষী।
ফখরুল বলেন, আমি জামায়াতের রাজনীতি সমর্থন করি না। কিন্তু জামায়াতের যে কৌশল এবং তাদের যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া- সেটা অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত, বৈজ্ঞানিক। জামায়াতের রাজনীতি ঠিক কমিউনিস্ট পার্টির মতো অনেকটা। তাদের স্টাডি সেল আছে। তাদের যে ছাত্রশিবির, তাদের প্রত্যেকটা সেল আছে। তাদেরকে লেখাপড়া করতে হয়, বই পড়তে হয়। বই পড়ে তাদেরকে উত্তর দিতে হয়। তারা নিজেরা বই এবং পত্রিকা প্রকাশ করে। এগুলো যদি আপনার চর্চার মধ্যে না থাকে, আর জ্ঞানের চর্চা ও জ্ঞান ছাড়া আপনি কখনো সফলতা অর্জন করতে পারবেন না।
আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো জরুরি মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এরা সরকার নয়, এরা বর্গী, ডাকাত, লুটেরা। এদেরকে যদি আমরা প্রতিরোধ করতে না পারি, ঠেকাতে না পারি আমাদের দেশের অস্তিত্ব থাকবে না।
আয়োজক সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও শাহাদতবার্ষিকী উদ্যাপন কমিটির আহŸায়ক প্রকৌশলী মাহবুব আলমের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. নূরুল আমিন বেপারী, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব কাদের গনি চৌধুরী, সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম কাগজি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহŸায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল আহসান, অধ্যাপক সামসুল আলম সেলিম, ডা. আবু নাসের প্রমুখ।

বেনজীর আহমেদ বিদেশে থাকলেও বিচার চলবে: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদ বিদেশে থাকলেও বিচার চলবে, দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে দেশে ফিরতেই হবে। এক্ষেত্রে সরকার কোনো ছাড় দেবে না। তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে। তদন্ত, মামলা, গ্রেপ্তার সবকিছু একটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। সরকার এখানে দুদককে এড়িয়ে আগ বাড়িয়ে কেন ব্যবস্থা নেবে? সরকারের দুর্নীতিবিরোধী যেসব সংস্থা আছে, তাদের কোনো ব্যর্থতা থাকলে তারও বিচার হবে। গতকাল ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তিনি। এসময় তদন্ত চলা অবস্থায় বেনজীর যে দেশের বাইরে চলে গেলেন এটা কি অস্বাভাবিক না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- না, এখন তিনি না থাকলে কি বিচার হবে না। এখন তারেক রহমান বাইরে আছে বলে কি ট্যাক্সিফিকেশন মামলা হয়নি, রায় হয়নি? একসময় তাকে আসতে হবে। বেনজীর যদি মামলায় দুর্নীতিবাজ সাব্যস্ত হয়, দেশে তাকে আসতেই হবে। এখানে সরকার কোনো আপস করবে না।
ওবায়দুল কাদের বলেন, এ দেশে ’৭৫-পরবর্তী কোনো শাসক ও সরকার দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সৎ সাহস দেখাতে পারেনি। শেখ হাসিনার সরকার সেটা দেখিয়েছে। ব্যক্তি দুর্নীতি করতে পারে।
দুর্নীতি করার পর সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কী, সেটা দেখতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সরকার বেনজীরকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে তুলে দিয়েছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনি কি দেখেছেন কে তুলে দিয়েছে? ফখরুলের অভিযোগ, সে তো সবদিকে ব্যর্থতার দগদগে খত। সে ব্যর্থ নেতা। সে ১৫ বছর ধরে আন্দোলন করলো, নির্বাচনেও ব্যর্থ, আন্দোলনেও ব্যর্থ। নিজের দলের লোক সংসদে পাঠায় কিন্তু নিজে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে। সে কী বললো, না বললো সব বাস্তবতাবিবর্জিত। সরকার তুলে দিয়েছে, আমি মির্জা ফখরুলের কাছে জানতে চাই, সরকারের কারা তাকে তুলে দিয়েছে। কোন অথরিটি তাকে তুলে দিয়েছেন, বলুন? অন্ধকারে ঢিল ছুড়লে হবে না। এদিকে পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের দুর্নীতির খবর তার পদে থাকা অবস্থায় গণমাধ্যমে প্রকাশ না পাওয়ায় প্রশ্ন তোলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। বেনজীর র‌্যাবের ডিজি, আইজি ও আইজিপি থাকা অবস্থায়ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তাহলে সরকার এখন কেন সে দায় নেবে না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদেরের পাল্টা প্রশ্ন-আপনি কোন টিভিতে কাজ করেন? বেনজীর কখনো দুর্নীতি করেছে আপনি বলতে পেরেছেন? মিডিয়ায় কে বলেছে? সবশেষে বলেছে কালের কণ্ঠ। আপনারা কেউ বলেননি। একটা পত্রিকা বলেছে সেটা কালের কণ্ঠ। তারপর তো এটা নিয়ে যখন একটা অভিযোগ উঠেছে, আপনারা এটা নিয়ে যদি বলতে পারতেন যে- এই এই দুর্নীতি করছেন।
সেই সাহসটা তো দেখাতে পারেননি। তিনি বলেন, এখন সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন। আপনি কী করে বলেন সরকার জেনেও এটা গোপন করেছে? হাউ ইউ কনক্লুড দিস? আপনি পারেন না এটা। আমি বলেছি, সরকার এখানে কারও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ইম্পিউনিটি দিয়েছে কিনা, সেটা হলো বড় কথা। তিনি বলেন, এ দেশ থেকে টাকা পাচারের সংস্কৃতি ও অর্থনীতি শুরু হয়েছে বিএনপি’র আমল থেকে। তারা ক্ষমতায় আসলে বিএনপি নেতারা অবৈধভাবে টাকা উপার্জনের মহোৎসবে মেতে ওঠে। এটা দেশে ও বিদেশে প্রতিষ্ঠিত সত্য। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে বিএনপি’র দণ্ডিত পলাতক নেতা তারেক রহমান বিদেশে বিলাসী জীবনযাপন করছে। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে লিখিত বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, দুর্নীতি কোন দেশে হয় না, এই দাবি কেউ করতে পারে না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী, সরকারপ্রধান কোনো প্রকার দুর্নীতি করেন বা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন- এমন অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে কেউ দিতে পারেনি। শেখ হাসিনা আপাদমস্তক সৎ রাজনীতিক, এটা বিশ্বস্বীকৃত। তার জনপ্রিয়তার মূলে তিনি অত্যন্ত পরিশ্রম ও সৎ জীবনযাপন করেন। তিনি বলেন, বিএনপি’র প্রধান নেতাই দণ্ডিত। পলাতক তারেক রহমান চিহ্নিত অপরাধী। এমন লোক যে দলে নেতৃত্ব দেয়, সেই দল জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারে না। জনগণের বিশ্বাসও রাখতে পারে না। তারা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পরপর পাঁচবার তারা দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। দুর্নীতিবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতেই বিএনপি গঠনতন্ত্র থেকে হঠাৎ ৭ ধারা বাদ দিয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, চোরের রাজা মহারাজা হচ্ছে বিএনপি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।

দেশের উন্নয়নে যারা সহযোগিতা করবে তাদেরকে নিয়ে চলবো:প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কে কার সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত তা বিবেচনা না করে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে যে দেশগুলো বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে তাদের সঙ্গেই কাজ করবো। তিনি বলেন, আমার নিজের দেশের উন্নয়নটা আমার আগে দরকার। আমার দেশের উন্নয়নে যারা সহযোগিতা করবে আমি তাদেরকে নিয়ে চলবো। সেভাবেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’ সেক্ষেত্রে কে কার সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত সেটা দেখার দরকার নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। গতকাল তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ‘আমার চোখে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক এক মিনিটব্যাপী ভিডিও চিত্র তৈরি প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিতদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে একথা বলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী স্কুল থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারকারীদের মধ্যে সনদপত্র, ক্রেস্ট ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন।
শান্তির স্বপক্ষে তার বলিষ্ঠ অবস্থানের পুনরুল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সবসময় শান্তি চাই। আমরা যুদ্ধ চাই না। সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। আর সেই বন্ধুত্ব রেখেই আমি এগিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, কার দেশের সঙ্গে কার দেশের ঝগড়া সেটা আমার দেখার দরকার নেই।
আমার নিজের দেশের উন্নয়নটা আমার আগে দরকার। আমার দেশের উন্নয়নে যারা সহযোগিতা করবে আমি তাদেরকে নিয়ে চলবো। সেভাবেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, সামনে কিন্তু অনেক কাজ। আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়বো। আর তোমরাই হবে সেই স্মার্ট বাংলাদেশের মূল সৈনিক এবং তোমরাই এদেশকে গড়বে। কারণ তোমরা ইতিহাসটাকে যেভাবে তুলে ধরেছো তাতে সত্যিই আমি চোখের পানি রাখতে পারিনি। তিনি অংশগ্রহণকারীদের অনেক দোয়া ও অভিনন্দন জানিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আমি মনে করি আর এই বাংলাদেশকে কেউই পেছনে টানতে পারবে না। ১৫ই আগস্টের পর যেভাবে আমাদের ভিক্ষুক জাতিতে পরিণত করা হয়েছিল, আর যেন কেউ এটা করতে না পারে সেজন্য আমাদের সবসময় সজাগ থাকতে হবে। দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ এর পর ইতিহাস বিকৃতির যে প্রচেষ্টা হয়েছিল তার থেকে বাংলাদেশ আজকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে। সঠিক তথ্যটা সকলের সামনে চলে আসছে। তিনি খুদে শিক্ষার্থীদের জাতির পিতাকে নিয়ে ভিডিও চিত্র নির্মাণ প্রসঙ্গে আনন্দানুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, আজকের নতুন প্রজন্ম- তোমরাই একদিন এদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু সেটা করতে হলে একটা আদর্শ লাগে। ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। কিন্তু আগামী দিনের পথচলা আমাদের নিজেদেরই খুঁজে বের করে আমরা যেন সুন্দরভাবে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি সেভাবেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষা ছাড়া কখনো এটা সম্ভব নয়। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতিকে দারিদ্র্য মুক্ত করা যায় না। শিক্ষাই হচ্ছে সব থেকে বড় অর্জন। নিজের এবং ছোট বোন শেখ রেহানার সন্তানদের দেয়া উপদেশের কথা উল্লেখ করে জাতির পিতার কন্যা বলেন, তাদের জন্য তারা কোনো সম্পদ রেখে যেতে না পারলেও তাদের শিক্ষায় শিক্ষিত করে যাবেন, যে সম্পদ কোনো দিন কেউ তাদের কাছ থেকে চুরি করতে পারবে না বা কেড়ে নিতে পারবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন যুগ হচ্ছে প্রযুক্তির যুগ। জ্ঞান-বিজ্ঞানের যুগ। কাজেই ছেলে-মেয়েদের এটাই বলবো লেখাপড়া ও জ্ঞানার্জন ছাড়া নিজেদের যেমন তৈরি করতে পারবে না, দেশকেও তৈরি করতে পারবে না। ’৯৬ সালে প্রথমবার সরকার গঠনের পর কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দিয়ে মোবাইল ফোন ও তথ্য প্রযুক্তিকে জনগণের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার উদ্যোগের উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, সেখান থেকে আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। এখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। দ্বিতীয়টার জন্য প্রস্তুতি চলছে কেননা একটি স্যাটেলাইটের মেয়াদ থাকে ১৫ বছর। তিনি বলেন, যদিও আমি শুনি অনেকে বলে এই স্যাটেলাইটের কি দরকার ছিল! আমাদের বাংলাদেশের কিছু মানুষ রয়েছে যাদের সবকিছুতেই ‘কিছু ভালো লাগে না। এই কিছু ভালো লাগে না গ্রæপের আরও বক্তব্য হচ্ছে মেট্রোরেল, এটার কি দরকার ছিল? এক্সপ্রেসওয়ে করা শুধু শুধু পয়সা নষ্ট-এরকম লোকজন নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে সবসময় চললেও এসবের সুবিধাগুলো আবার ঠিকমতোই নিজেরা ভোগ করে। তিনি কোমলমতিদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের তৈরি হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটা যাতে নষ্ট না হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশ যে ক্ষুধামুক্ত এবং উন্নত সমৃদ্ধ হয়ে গড়ে উঠবে সেটা তোমাদেরই গড়ে তুলতে হবে। আমরা কারও কাছে হাত পেতে চলবো না। নিজেরা নিজেদের আত্মমর্যাদা বোধ নিয়ে চলবো। এটাই আমাদের মাথায় সবসময় রাখতে হবে।

যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে রাজি ইসরাইল

অবশেষে গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে রাজি হয়েছে ইসরাইল। গাজায় আট মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে শুক্রবার একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। প্রস্তাবে প্রথমে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এবং পরে ধীরে ধীরে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়।
শনিবার এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও সেই প্রস্তাবেই আবার সম্মতি দিয়েছে ইসরাইল। রোববার এমন খবরই নিশ্চিত করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সহযোগী ওফির ফালাক। তিনি বলেছেন, এই প্রস্তাব ত্রুটিপূর্ণ হলেও তাতে রাজি হয়েছেন নেতানিয়াহু। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সানডে টাইমসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সানডে টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুর প্রধান বৈদেশিক নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ওফির ফালাক জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে গাজার যুদ্ধ শেষ করতে জো বাইডেন যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা গ্রহণ করেছেন নেতানিয়াহু। তবে তিনি বলেছেন, এই প্রস্তাব ত্রুটিযুক্ত এবং এটি নিয়ে আরও কাজ করার সুযোগ আছে। ফালাক বলেছেন, ‘বাইডেন প্রস্তাবিত একটি পরিকল্পনার চুক্তিতে আমরা রাজি হয়েছি। এটি ভালো চুক্তি নয়। তবে আমরা জিম্মিদের মুক্তি চাই। তাদের সবাইকে মুক্ত করতে চাই। সেখানে আরও বিস্তারিত কাজ করার সুযোগ আছে।’ এ সময় তিনি চুক্তি বাস্তবায়নে শর্ত হিসেবে সব জিম্মির মুক্তি এবং হামাসের ধ্বংসেরও দাবি করেন। ওফির ফালাক বলেছেন, ‘আমাদের সব উদ্দেশ্য (হামাস নির্মূল হওয়া) পূরণ না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি হবে না।’
গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরাইল-হামাসের যুদ্ধের পর থেকেই ইসরাইলকে অস্ত্র সহায়তা করে আসছেন বাইডেন। তবে অবশেষে গাজায় যুদ্ধবিরতি বিষটি গুরুত্বসহকারে নেন মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট। সবশেষ শুক্রবার তিনি তিন ধাপের একটি পরিকল্পনার কথা জানান। যা তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকেও পাঠিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। বাইডেনের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে একটি ‘পরিপূর্ণ ও সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি, সেই সঙ্গে জনবহুল এলাকা থেকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের জিম্মি বিনিময়ের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রথম পর্যায়ের এই যুদ্ধবিরতি গাজায় প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়াসহ বিপর্যস্ত অঞ্চলগুলোতে আরও মানবিক সহযোগিতা পৌঁছানোর অনুমতি দেবে। এরপর যুদ্ধ শেষ করতে ইসরাইল-হামাস উভয় পক্ষ একটি উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেবে এবং দ্বিতীয় ধাপে বাদবাকি জিম্মিদের মুক্তি দেবে হামাস। সবশেষ অর্থাৎ তৃতীয় দফায়, ইসরাইলি বন্দিদের কোনো কিছু গাজায় থেকে গেলে তা ফেরানো এবং আন্তর্জাতিক সহায়তায় গাজা পুনর্র্নিমাণ করা হবে বলে জানানো হয়। এর আগেও, বাইডেন প্রায় একই ধরনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব উত্থাপন করলেও তা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
এদিকে, নেতানিয়াহু তার জোট সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে গিয়ে ব্যাপক চাপে পড়েছেন। তার সরকারের দুই উগ্র ডানপন্থি অংশীদার জানিয়েছেন হামাসকে ছাড় দেওয়া হলে তারা সরকার থেকে সরে দাঁড়াবেন। তবে তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সাবেক জেনারেল এবং মধ্যপন্থী রাজনীতিবিদ বেনি গান্তেজ বাইডেনের পরিকল্পনাটি বিবেচনা করতে চান। হামাস সাময়িকভাবে বাইডেনের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে। হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা ওসামা হামদান শনিবার আল-জাজিরাকে বলেছেন, ‘বাইডেনের বক্তব্যে ইতিবাচক ধারণা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে আমরা এটিকে বিস্তৃত চুক্তি কাঠামোর মাধ্যমে বাস্তবায়িত করতে চাই, যা আমাদের দাবি পূরণ করবে।’ স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ছাড়াও হামাস গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার, ফিলিস্তিনিদের অবাধ চলাচল এবং গাজা পুনর্গঠনে সহায়তা চায়।
রোববার রয়টার্স জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি ও উপত্যকায় থাকা বন্দিদের মুক্তির লক্ষ্যে বাইডেন যে পরিকল্পনা হাজির করেছেন, তা চূড়ান্ত করতে ইসরাইল ও হামাসকে তাকিদ দিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে গাজার জনগণ, জিম্মি ও তাদের পরিবারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন মধ্যস্থতাকারীরা। যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতার গত কয়েক মাস ধরেই যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এ নিয়ে দুই পক্ষকে কোনো চুক্তিতে আবদ্ধ করাতে পারেনি দেশগুলো।
রাফাহ ছেড়েছে ১০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি: আন্তর্জাতিক সব ধরনের চাপ উপেক্ষা করে রাফায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা রাফাহ ছাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে রাফাহ ছেড়েছে ১০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধের কথা জানিয়েছে জতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক শরণার্থী সংস্থা। রোববার আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের চলমান হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা কমপক্ষে ৩৬ হাজার ৩৭৯ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন আরও ৮২ হাজার ৪০৭ জন। অনেক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন।

গাজায় আগ্রাসন: ইসরাইলের বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নিলেন মুইজ্জু

গাজায় বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর অমানবিক হামলার প্রতিবাদে ইসরাইলিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে মালদ্বীপ। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ভারত মহাসাগরের ছোট্ট এই মুসলিমপ্রধান দেশে ইসরাইলের নাগরিকরা প্রবেশ করতে পারবেন না।
আল জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ান ছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যম এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে।
এতে বলা হয়েছে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেছেন, ইসরাইলি পাসপোর্টধারী যেকোনো নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু। তবে এখনও নতুন এই আইন কার্যকরের নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া ফিলিস্তিনের পাশে মালদ্বীপবাসী নামে একটি জাতীয় তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরুর ঘোষণাও দিয়েছেন মুইজ্জু।
দৃষ্টিনন্দন সমুদ্রসৈকত ও বিলাসবহুল রিসোর্টের টানে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ পর্যটক মালদ্বীপ ভ্রমণে যান। গত বছর ১১ হাজার ইসরাইলি মালদ্বীপ ভ্রমণ করেছেন, যা দেশটির মোট পর্যটকের শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ।
গত অক্টোবরে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ ঘিরে ইসরাইলের বিরুদ্ধে মালদ্বীপের জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। এ ছাড়া দেশে ইসরাইলিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুকে চাপ দিয়ে আসছিল বিরোধী দল ও জোট সরকারের মিত্ররা।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ অক্টোবর গাজায় নৃশংস শুরু করে ইসরাইল। আট মাস ধরে যুদ্ধ চললেও এখনো এই যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। এরই মধ্যে ইসরাইলি হামলায় গাজায় ৩৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮০ হাজারের বেশি।
হতাহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এ ছাড়াও গাজার কয়েক লাখ লোক উদ্বাস্তু হয়েছে। তারপরও হামলা থামায়নি দখলদার ইসরাইল। এমনকি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের আহŸানকেও তোয়াক্কা করছে না নেতানিয়াহুর সরকার।

04 3

ইসরাইলিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে মালদ্বীপ
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আগ্রাসন চালানোর কারণে ইসরায়েলিদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে মালদ্বীপ সরকার। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ভারত মহাসাগরের ছোট্ট এই মুসলিমপ্রধান দেশে আর কোনো ইসরায়েলি প্রবেশ করতে পারবে না। খবর আল জাজিরার।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড টেকনোলজি মন্ত্রী আলী ইহসান বিকালে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন।
এ সময় তিনি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত নিয়োগ ও ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসঙ্ঘের সংস্থা ইউএনআরডবিøউএকে সমর্থন করার জন্য একটি তহবিল সংগ্রহের প্রচারণারও ঘোষণা করেছে।
সূত্রটি আরো জানিয়েছে, ইউএনআরডবিøউএকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার ইসরাইল একটি প্রচারণা চালিয়েছে। সেখানে তারা গত ৭ অক্টোবরের হামলার সাথে এই সংগঠনের কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করে। এতে সংস্থাটির অনেক পশ্চিমা দাতা দেশগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে। পরে একজন ফরাসি কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরবর্তী তদন্তে দেখা গেছে যে ইসরাইল তার দাবির সমর্থনে পর্যাপ্ত প্রমাণ দিতে পারেনি। ফলে সংস্থাটিকে বেশিরভাগ দাতা ফের অর্থায়ন শুরু হয়েছে।
গত অক্টোবরে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ ঘিরে ইসরাইলের বিরুদ্ধে মালদ্বীপের জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। এ ছাড়া দেশে ইসরাইলিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুকে চাপ দিয়ে আসছিল বিরোধী দল ও জোট সরকারের মিত্ররা।
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর গাজায় সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল। আট মাস ধরে যুদ্ধ চললেও এখনো এই যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। ইতোমধ্যে ইসরাইলি হামলায় গাজায় ৩৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এ ছাড়াও যুদ্ধে ৮০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

কারাদণ্ড হলেও নির্বাচনে লড়বেন ট্রাম্প!

আদালতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তার কারাদণ্ড দাবি করেছেন সাবেক পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলস (৪৫)। এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দল থেকে প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাকে স্টর্মি ড্যানিয়েলস সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পরিপূর্ণভাবে এবং আক্ষরিক অর্থে বাস্তবতার বাইরে। কারাগারেও গেলেও হোয়াইট হাউসে যাওয়ার লড়াই থেকে সরবেন না ট্রাম্প। ট্রাম্পের আইনজীবী আলিনা হাব্বা এ কথা জানিয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
আলিনা হাব্বা বলেছেন, নিউইয়র্কের আদালতে ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করলেও হোয়াইট হাউসে যাওয়ার পথ থেকে ট্রাম্প কোনোভাবেই ফিরে আসবেন না। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ ট্রাম্পকে তাদের নেতা হিসেবে দেখতে চান।
২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে সাবেক পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে ঘুষ দিয়ে মুখ বন্ধ করতে গিয়ে বিপদ বাড়ান ট্রাম্প। ব্যবসার নথি জালিয়াতির অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন ১২ সদস্যের জুরিবোর্ড। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবার কোনো সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেন। তবে ট্রাম্পের অভিযোগ, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।
ট্রাম্পের আইনজীবী আরও বলেন, কারাদণ্ড দেওয়া হলেও আগামী নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প লড়ে যাবেন। তিনি বিচারক জুয়ান মার্চানকে ‘অত্যাচারী’ বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা স্টর্মি ড্যানিয়েলস রোববার প্রথমবার এ নিয়ে কথা বলেন। ট্রাম্পের কারাদণ্ড হওয়া উচিত।