Home Blog Page 559

ইরানি পরমাণু স্থাপনায় ইসরাইলি হামলার বিরোধী যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর ইসরাইলি হামলাকে সমর্থন করবে না যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বুধবার বিষয়টি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন বলে মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাইডেন এ ধরনের পদক্ষেপকে সমর্থন করার কোনো সম্ভাবনার ওপর সরাসরি ‘না’ বলে দিয়েছেন।

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ইসরাইলের ওপর সাম্প্রতিক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দেয়ার অধিকার ইসরাইলের আছে। তবে তিনি আনুপাতিকভাবে তা করার তাগিদ দেন। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান একই অবস্থান প্রতিধ্বনিত করে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে ইরানকে অবশ্যই তাদের পদক্ষেপের ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।

তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাদের সাথে এই লক্ষ্য অর্জনে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ‘জঘন্য আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেন।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, তার দেশে বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইরানের শাসকরা ‘বড় ভুল’ করেছে এবং তারা ‘এর জন্য মূল্য দেবে’।

ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার রাতের পর ইরান ইসরাইলের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় ২০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর বেশিভাগই ইসরাইলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের সহায়তায় ইসরাইলের বাহিনী ভূপাতিত করেছে। ইসরাইল ও ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সিগুলোর মধ্যে বছরব্যাপী চলা সংঘাতের মধ্যে এ হামলা চালানো হলো।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ‘আমার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইসরাইলের প্রতিরক্ষায় সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিয়েছে। আমরা এখনো এর প্রভাব মূল্যায়ন করছি, তবে এখন আমরা যা জানি তার ভিত্তিতে মনে হচ্ছে আক্রমণটি সফল হয়নি এবং তা অকার্যকর ছিল।’
সূত্র : আরব নিউজ, ভিওএ এবং অন্যান্য

আপিল করে জামিন চাইবেন মাহমুদুর রহমান

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টা ষড়যন্ত্রের মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সাজার বিরুদ্ধে আপিল করবেন। আজ বৃহস্পতিবার তার পক্ষে আপিল করে জামিন চাওয়া হবে বলে জানান তার আইনজীবী ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আল আমিন।

তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমানকে দেয়া সাজার বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আমরা আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আপিল করব। সেই সাথে তার জামিন চেয়ে আবেদন করব। আপিল আবেদন গৃহীত হওয়া সাপেক্ষে আমরা আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর এ মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই দিন মামলাটিতে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

ওই দিন আত্মসমর্পণের আগে মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আজকে আত্মসমর্পণ করেছি। এ লড়াই অব্যাহত থাকবে। এ মামলা পুরোটাই সাজানো ও সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা। তৎকালীন সরকার ফ্যাসিবাদ ব্যবস্থা চালু রাখতে আমার বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেছে।

আদালতে মাহমুদুর রহমানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আল আমিন ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ। আদালতে শুনানিতে আইনজীবীরা বলেন, ২০১৫ সালে এই মামলার জন্ম হয়। এটা একটা পাতানো মামলা। এখানে মাহমুদুর রহমান ও শফিক রেহমানকে অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে। তারা বলেন, গত ১৬ বছর একটি সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল। ওই সরকারের প্রতি জনগণের কোনো সমর্থন ছিল না। জোর করে তারা ক্ষমতায় ছিল। মাহমুদুর রহমান দৃঢ়ভাবে ওই সরকারের সমালোচনা করতেন। সেই কারণে মামলার মুখমুখি হতে হয়েছে। বহুবার কারাগারে যেতে হয়েছে। তাকে হত্যার মুখোমখি হতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, একটা পর্যায়ে তাকে জোর করে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

গত বছরের ১৭ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রের মামলায় সাংবাদিক শফিক রেহমানসহ পাঁচজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য চারজন হলেন- আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সহসভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন, তার ছেলে রিজভী আহাম্মেদ ওরফে সিজার এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ভূঁইয়া। সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফজলুর রহমান ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট পল্টন থানায় এ মামলা দায়ের করেন। এ দিকে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে তুরস্ক থেকে দেশে ফিরেছেন মাহমুদুর রহমান।

চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের হোচট

০

চ্যাম্পিয়নস লিগে হোচট খেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের চমকে দিয়েছে ফরাসি ক্লাব লিলে। হারিয়ে দিয়েছে লস ব্লাঙ্কোজদের। তাতে প্রায় ১৮ মাস পর ইউরোপীয় এই প্রতিযোগিতায় হারের মুখ দেখল রিয়াল মাদ্রিদ।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে বুধবার রাতে লিলের মুখোমুখি হয় রিয়াল মাদ্রিদ। যেকোনো প্রতিযোগিতায় যা দল দু’টির প্রথম দেখা। প্রথম দেখাতেই প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ শিরোপাজয়ীদের হারিয়ে দিয়েছে লিলে। তাদের জয় ১-০ গোলে।

দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রিয়ালকে যেন মাটিতে নামাল লিল। থামল চ্যাম্পিয়নদের সব প্রতিযোগিতা মিলে টানা ৩৬ ম্যাচের অপরাজেয় যাত্রা। আর ২০২৩ সালের মে মাসের পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হারের তেতো স্বাদ পেল রিয়াল।

চোট কাটিয়ে ফেরা কিলিয়ান এমবাপ্পে, বাভ ভিনিসিউস, রদ্রিগো, এন্দ্রিকরাও পারেননি দলকে পথ দেখাতে। বিবর্ণ পারফরম্যান্সে লিলের মাঠে হতাশাই বাড়িয়েছেন তারা। শেষের কয়েক মিনিট ছাড়া রিয়ালে পারফরম্যান্স ছিল সাদামাটা।

উল্টা লিলের আক্রমণে চাপে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। সেই চাপ থেকেই কিনা গোল আদায় করে নেয় স্বাগতিকেরা। প্রথমার্ধেই আসে ম্যাচে একমাত্র গোল। যা ব্যবধান করে দেয় জয়-পরাজয়ে।

বিরতির ঠিক আগে বক্সে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার হাতে বল লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কানাডার ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিডের নিখুঁত স্পট কিকে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে এমবাপ্পে। শেষ দিকে অবশ্য রিয়াল মাদ্রিদ বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করে, তবে ফল আসেনি।

বৈরুতের কাছে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা ইসরাইলের

ইসরাইলি বাহিনী বুধবার বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলীতে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে গ্রুপটি বলেছে, সীমান্তের কাছে লেবাননের বেশ কয়েকটি শহরে ইসরাইলি সেনাসদস্যদের সাথে তাদের সংঘর্ষ হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বুধবার গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে ইসরাইলি সেনা বিমান ও স্থল হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ৫১ জন নিহত ও ৮২ জন আহত হয়েছে।

জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ বুধবার এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে আলোচনা করার জন্য বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিয়েছে। আলোচ্যসূচির মধ্যে এক দিন আগে ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মঙ্গলবার গুতেরেসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা উল্লেখ না করে সহিংসতা বৃদ্ধি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফ্রান্স ও জার্মানির নেতারা বুধবার পৃথক বিবৃতিতে ইরানের হামলার নিন্দা জানান। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস বলেন, ইরান ‘পুরো অঞ্চলে আগুন লাগিয়ে দেয়ার ঝুঁকি নিচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ‘জঘন্য আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেন।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, তার দেশে বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইরানের শাসকরা ‘বড় ভুল’ করেছে এবং তারা ‘এর জন্য মূল্য দেবে’।

ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার রাতের পর ইরান ইসরাইলের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় ২০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর বেশিভাগই ইসরাইলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের সহায়তায় ইসরাইলের বাহিনী ভূপাতিত করেছে। ইসরাইল ও ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সিগুলোর মধ্যে বছরব্যাপী চলা সংঘাতের মধ্যে এ হামলা চালানো হলো।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ‘আমার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইসরাইলের প্রতিরক্ষায় সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিয়েছে। আমরা এখনো এর প্রভাব মূল্যায়ন করছি, তবে এখন আমরা যা জানি তার ভিত্তিতে মনে হচ্ছে আক্রমণটি সফল হয়নি এবং তা অকার্যকর ছিল।’
সূত্র : ভিওএ

জাতিসঙ্ঘে ইউনূসের সফল কূটনীতিতে চিন্তায় ভারত!

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের জাতিসঙ্ঘে দুর্দান্ত কূটনৈতিক সাফল্যে চিন্তায় পড়ে গেছে ভারত। সাধারণ সম্মেলনে নিজে বক্তৃতা দেয়ার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সাথে বৈঠক করেছেন ইউনূস। এর মাধ্যমে ধারণা করা হচ্ছে যে শেখ হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশের সরকারি নেতৃত্বের প্রতি পশ্চিমি দুনিয়া এবং আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন এবং সহযোগিতা থাকবে ভবিষ্যতে। আর এই সহায়তার কৌশলগত, বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক ভূমিকা রয়েছে। ফলে ভারত আশঙ্কা করছে, ভারতের প্রতি দ্বিপক্ষীয় নির্ভরতার জায়গা সঙ্কুচিত করাই এই মুহূর্তে ইউনূস সরকারের লক্ষ্য কি না, সেই প্রশ্নও উঠে আসছে দিল্লির কূটনৈতিক মহলে। কলকাতাভিত্তিক আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনের শুরুতে ভারতের পররাষ্ট্র দফতরের ক্ষোভের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশের মাটিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নিপীড়ন রুখতে নতুন অন্তর্বর্তিকালীন সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে ক্ষোভ বাড়ছে সাউথ ব্লকে। সে কারণে মুহাম্মদ ইউনূস চাইলেও জাতিসঙ্ঘ সাধারণ সম্মেলনে তার সাথে বৈঠক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এড়িয়ে গিয়েছিলেন বলে সূত্রের খবর। তবে মোদির সাথে বৈঠক না হলেও আমেরিকার সিলমোহর নিয়ে সফলভাবেই আন্তর্জাতিক দৌত্য সারলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস। যা দিল্লির আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

এতে বলা হয়, সাধারণ সম্মেলনে নিজে বক্তৃতা দেয়ার পাশাপাশি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সাথে বৈঠক করেছেন ইউনূস। পাশাপাশি, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট, বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান এবং এডিবি-র শীর্ষকর্তার সাথেও আলাদা করে আলোচনা হয়েছে তার। এই সব আলোচনার মূল সূর একটাই। শেখ হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশের সরকারি নেতৃত্বের প্রতি পশ্চিমি দুনিয়া এবং আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন এবং সহযোগিতা থাকবে ভবিষ্যতে। যে সহায়তার কৌশলগত, বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক ভূমিকা রয়েছে। এক কথায়, ভারতের প্রতি দ্বিপক্ষীয় নির্ভরতার জায়গা সঙ্কুচিত করাই এই মুহূর্তে ইউনূস সরকারের লক্ষ্য কি না, সেই প্রশ্নও উঠে আসছে কূটনৈতিক মহলে।

আনন্দবাজার জানায়, ভারতের পররাষ্ট্র দফতরের চিন্তা বাড়িয়ে নিউ ইয়র্কে ইউনূসের দৌত্য তালিকা প্রসারিত হয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সাথেও। সূত্রের খবর, সার্ক-কে জাগিয়ে তোলা ও বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে পুনরুজ্জীবিত করা নিয়ে কথা হয় ইউনূস-শরিফের। ভারত-সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহলের বক্তব্য, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ১০০ দিনে কাজকর্মের খতিয়ানে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ না রাখলেও এই মুহূর্তে ঢাকার সাথে সম্পর্কের কৌশল রচনাই মোদি সরকারকে অগ্রাধিকারের মধ্যে রাখতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সাথে ঘনিষ্ঠতার বার্তা থেকে স্পষ্ট, বাংলাদেশ এখন তার নীতির কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামীকে আরো বেশি করে রাখতে চাইছে। যা স্বস্তির নয় নয়াদিল্লির কাছে। আপাতত দু’টি বিষয় স্পষ্ট। এক, এই অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক বৈধতা পেয়ে গেছে সে দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মধ্যে। দুই, ঢাকার সাথে ইসলামাবাদের সম্পর্ক আগামী দিনে এগোলে তা নিয়ন্ত্রণ করার মতো কূটনৈতিক অস্ত্র এখন ভারতের হাতে নেই। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, জাতিসঙ্ঘে বাংলায় বক্তৃতা দিয়েছেন ইউনূস। এই বার্তাই তিনি দিতে চেয়েছেন, ক্ষমতার বদল হলেও তাকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা ঠিক নয়। বাংলাদেশের জাতিসত্তার স্বকীয়তাতেই তিনি বিশ্বাসী।

সুসম্পর্ক স্থাপনে সম্মত ঢাকা-দিল্লি: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো: তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত একমত হয়েছে যে একে অপরের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সাথে বৈঠক করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে হোসেন বলেন, তারা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন এবং তাদের নিজেদের স্বার্থে একে অপরের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে উভয়েই সম্মত হয়েছেন।

উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশেরই নিজ নিজ স্বার্থ রয়েছে। সুতরাং, আমরা এই দৃষ্টিভঙ্গিতে কথা বলেছি।’

তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে, তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে এবং সম্প্রতি তারা বিদেশীদের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাননি।

উপদেষ্টা বলেন, ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রগুলোর অনেক কর্মকর্তা অন্যত্র চলে গেছেন এবং তাদের কেন্দ্রগুলো এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি।

তিনি আরো বলেন,‘কিছুদিনের মধ্যেই এটি চালু করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্ভবত এখন হেলথ ভিসা দেয়া হচ্ছে।’

জসিম উদ্দিন এবং জনকূটনীতি অনুবিভাগের মহাপরিচালক তৌফিক হাসান এসময় উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : ইউএনবি

ইসরাইলের ভূখণ্ডে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বরাতে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া মিসাইল ইসরাইলের দিকে ধেয়ে এসেছে।আজকের হামলায় ইসরাইলকে লক্ষ্য করে একসাথে একশরও বেশি মিসাইল ছুড়েছে ইরান এমন দাবি করেছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম।মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ৩০ মিনিটের পর ইসরাইলকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয়বারের মতো সরাসরি হামলা চালিয়েছে তেহরান।

এর আগে গত এপ্রিলে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছিল ইরান। ওই মিসাইলগুলো ইরান থেকে ইসরাইলে পৌঁছাতে সময় লেগেছিল মাত্র ১২ মিনিট।বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর দখলদার ইসরাইলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিবে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। এছাড়া সাইরেন শোনা যায় জেরুসালেমেও।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, জর্ডানের রাজধানী আম্মানের আকাশ দিয়ে মিসাইল উড়ে যেতে দেখা গেছে। মিসাইলের কারণে জর্ডানেও সাইরেন বেজে ওঠে। ওই সময় অনেক মানুষ বাইরে বের হয়ে আসেন।ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বার্তায় দেশের নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একইসাথে স্থানীয় সেনা কমান্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলেছে।‘সাইরেন শুনলে আপনাকে অবশ্যই একটি সুরক্ষিত এলাকায় যেতে হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সেখানে থাকতে হবে,’ বলা হয়েছে বার্তায়।

ইরানের মিসাইল হামলার মধ্যেই একটি বিবৃতি দিয়েছে দখলদার ইসরাইলের সেনাবাহিনী। এতে তারা বলেছে, ইরান এখনো মিসাইল ছুড়ছে এবং সেগুলো আটকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাধারণ ইসরাইলিদের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।সেনাবাহিনী আরো বলেছে, যেসব বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে; সেগুলো হয় মিসাইল আটকানোর কারণে হচ্ছে অথবা আঘাত হানার কারণে হচ্ছে।

লেবাননে ইসরাইলের বোমা হামলায় ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ নিহত হওয়ার পর এর বদলা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল তেহরান।

ইসরাইলি বাহিনী আজ মঙ্গলবার লেবাননে সীমিত পরিসরে স্থল অভিযান শুরু করার পর তেল আবিব লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান। প্রায় এক বছর আগে ফিলিস্তিনের গাজায় হামলা চালায় ইসরাইল। ৭ অক্টোবর থেকে তাদের নির্বিচার বোমা হামলায় এ পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় ৪১ হাজার ৬৩৮ নিহত এবং ৯৬ হাজার ৪৬০ জন আহত হয়েছে। ওই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আজ লেবাননে ইসরাইলের স্থল অভিযান শুরুর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা নিয়েছে।

সূত্র : আলজাজিরা, বিবিসি ও অন্যান্য

নির্ঘুম রাত ভাঙন আতঙ্কে,কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও রংপুরে বন্যায় পানি কমছে। তবে ভাঙন-আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ।
নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, নীলফামারীতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন ডিমলা উপজেলার তিস্তাপাড়ের মানুষ। গতকাল সকাল থেকে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যার ফলে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। কিন্তু এখনো তলিয়ে রয়েছে চরাঞ্চলের আমন খেত ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পথঘাট। ফলে এখনো পানিবন্দি কয়েক হাজার পরিবার। এর মধ্যে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।
তিস্তার পানি কমায় ইতোমধ্যে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই, খগাখরিবাড়ী, টেপাখরিবাড়ী, গয়াবাড়ী, খালিশা চাপানি, ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে নদী ভাঙনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন সেখানকার বাসিন্দারা। ডিমলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মেজবাহুর রহমান বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ৩০ টন চাল ও ১ হাজার ৫৮০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যারাজের সবকটি (৪৪) জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পানি ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া নদীপাড়ের পরিস্থিতির খোঁজখবর সার্বক্ষণিক রাখা হচ্ছে। এখন আর পানি বাড়ার আশঙ্কা নেই।
কুড়িগ্রাম : উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে গত তিন দিন ধরে কুড়িগ্রামের ধরলা ব্রহ্মপুত্র দুধকুমার নদের পানি সমতলে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছিল রাজারহাট, উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষ। সকাল থেকে পানি কমে যাওয়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙনের।
লালমনিরহাট : উজানের ঢল ও টানা কয়েকদিনে বৃষ্টিতে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি কমে যাওয়ায় ঘরবাড়িতে ফিরতে শুরু করছে বানভাসি মানুষ। তবে বন্যার কারণে লালমনিরহাট সদর উপজেলার ১১টি এবং আদিতমারী উপজেলার ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
রংপুর : রংপুরে তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি ৪৯ সেন্টিমিটার কমেছে। এতে করে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, চর ও দ্বীপচর থেকে পানি সরে যেতে শুরু করেছে। তবে এখনো কিছু এলাকার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। সাময়িক বন্যায় তিস্তাপাড়ে আবাদ করা ধান খেত, মরিচ ও বাদামের খেত পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। তবে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।

সুপারশপে পলিথিন ব্যাগ বন্ধ আজ থেকে

দেশে ২০০২ সালে পলিথিন নিষিদ্ধ ঘোষণা হলেও ২২ বছরে তা বাস্তবায়ন হয়নি। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে নানা পদক্ষেপ নেন। অবশেষে অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ বিষয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার থেকে দেশের কোনো সুপারশপে পলিথিন ব্যাগ রাখা যাবে না। এর পরিবর্তে পাট বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে। ১ নভেম্বর থেকে ঢাকার ১০টি কাঁচাবাজারে পলিথিন ব্যবহার বন্ধে কার্যক্রম শুরু হবে। দেশব্যাপী পলিথিন উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সুপারশপগুলোর পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে, ক্রেতারা যেন নিজস্ব ব্যাগ সঙ্গে নিয়ে কেনাকাটা করতে আসেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের সুপারশপগুলো নিজেদের মতো প্রস্তুতি নিয়েছে। পলিথিন বা পলিপ্রপাইলিন এমন কোনো ব্যাগই তারা ব্যবহার করবে না।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পলিথিন শপিং ব্যাগের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় পলিথিন ব্যাগ বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। ওই সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সুপারশপে কোনো ধরনের পলিথিন বা পলিপ্রপাইলিনের ব্যাগ রাখা যাবে না। একই সঙ্গে ক্রেতাদের দেওয়া যাবে না। ওই দিন বিভিন্ন সুপারশপের প্রতিনিধি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তখন থেকেই সুপারশপগুলো ইতিবাচকভাবে সাড়া দিয়েছে।
সুপারশপের আউটলেটের ম্যানেজাররা জানান, তারা এরই মধ্যে শপের বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। তাদের যে টিস্যু ব্যাগ, জালি ব্যাগ ছিল সেগুলো সরিয়ে নিয়েছে। পরিবেশ অধিদফতর থেকে পাটের তৈরি বিভিন্ন আকৃতির ব্যাগ দেওয়া হচ্ছে। যার মূল্য ৬টা থেকে ১৭ টাকা পর্যন্ত। কাস্টমারদের সেগুলো কিনে নিতে হবে।
প্রাণ-আরএফএল গ্রæপের সুপারশপ ডেইলি শপিং। এই প্রতিষ্ঠানও গ্রাহকদের পলিথিন ব্যাগ সরবরাহ করবে না বলে জানা গেছে।
প্রাণ-আরএফএল গ্রæপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী বলেন, আমরা এখন থেকে কাপড়ের ও কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করব। তবে গ্রাহকদের নিজস্ব ব্যাগ নিয়ে আসার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। যত তাড়াতাড়ি ক্রেতারা নিজেদের অভ্যাস পরিবর্তন করবেন, তত তাড়াতাড়ি আমাদের কাজ করা সহজ হবে।
এরই মধ্যে দেশের অন্যতম বড় সুপারশপ স্বপ্নর পক্ষ থেকে গ্রাহকদের মোবাইল ফোনে খুদেবার্তা পাঠিয়ে পলিথিন ব্যাগ সরবরাহ না করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। খুদেবার্তায় বলা হয়েছে, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার থেকে স্বপ্নে বাজার করতে নিজের পরিবেশবান্ধব ব্যাগ নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করছি। আপনি চাইলে সুলভমূল্যে স্বপ্ন থেকেও এই ব্যাগ কিনতে পারবেন।’ অর্থাৎ গ্রাহকরা পরিবেশবান্ধব ব্যাগ না নিয়ে গেলে, পলিথিন ব্যাগের বিকল্প হিসেবে স্বপ্ন ব্যাগ বিক্রি করবে। এছাড়া আগোরা, ইউনিমার্ট, মিনা বাজার, প্রিন্স বাজারসহ ঢাকার সুপার শপগুলো তাদের ফেসবুক পেইজে নিষিদ্ধ পলিথিনের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ না ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে।
পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার বন্ধে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। প্রচারণা চালিয়েছেন মোহাম্মদপুরের টাউন হল কাঁচাবাজারেও। সচেতনতা বাড়াতে নিষিদ্ধ পলিথিনের বিকল্প পণ্যের মেলারও আয়োজন করা হয়।
গত রোববার পরিবেশ অধিদপ্তরে পলিথিনের বিকল্প পণ্যের মেলায় উঠে আসে পরিবেশবান্ধব নানা পণ্যের সমাহার। সুপারশপে পলিথিন বন্ধে ব্যবস্থা নিতে দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং এসপিদের পলিথিন ও পলিপ্রোপাইলিন ব্যাগ বন্ধে নির্দেশনা দিয়েছেন উপদেষ্টা। তিনি পলিথিনের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বলেন, ‘প্লাস্টিক পলিথিনের অপ্রতিরোধ্য ব্যবহার পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি মাটির উর্বরতা কমিয়ে দিচ্ছে, নদী-নালা ও জলাশয় দূষিত করছে এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এসব কারণে প্লাস্টিক পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার বন্ধে সব পর্যায়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’
রিজওয়ানা বলেন, পলিথনের যে কোন ধরনের ব্যাগ ও প্লাস্টিক যে ফর্মেই তৈরি হোক না কেন তা সহজে পচে না। এই ব্যাগ ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া হলে মাটির সঙ্গে মিশতে সময় নেয় প্রায় সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ বছর। এমনকি মাটির অনেক নিচে গেলেও তা ধ্বংস করছে মাটির স্বাভাবিক স্তরকে। পলিপ্রোপিলিন ব্যাগে থাকা রাসায়নিক পদার্থ মাটির জীব, গাছ, মাটির উর্বরতা, কৃষি উৎপাদনশীলতা সব কিছু ধবংস করে।
বাজার মনিটরিং ও বিকল্প দুটিকেই গুরুত্ব দিয়ে উপদেষ্টা রেজওয়ানা হাসান বলেন, আগেও পলিথিন বন্ধের উদ্যোগ অনেকখানি সফল হয়েছিল শুধু বাজার মনিটরিংয়ের কারণে। আর পলিথিনের বিকল্প নিয়েও কাজ হচ্ছে। বাংলাদেশে সব সময়ই পলিথিনের সুস্পষ্ট বিকল্প ছিল। এখন পাট, কাপড় ও কাগজকে বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে। প্লাস্টিক বা পলিথিনের মত দেখতে পচনশীল ব্যাগকেও বিকল্প হিসেবে আপাতত ভাবা হচ্ছে না।
এদিকে নিষিদ্ধ পলিথিন বন্ধের সিদ্ধান্তকে অনেকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মাঈশা সুপার শপের সত্বাধিকারী আলম বলেন, ‘আমরা পলিথিন বন্ধের সিদ্ধান্তে খুশি। পলিথিনের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ হলে আমাদের ঝামেলা কমে যাবে। এখন ক্রেতারা বাজারের সময় ব্যাগ নিয়ে আসেন না। এতে প্রত্যেকটি জিনিসের জন্য আমাদের আলাদা পলিথিন ব্যবহার করতে হয়। এতে আমাদের খরচ বাড়ে। তাই অন্তর্বতীকালীন সরকারের পলিথিন বন্ধের সিদ্ধান্তকে আমি সাধুবাদ জানাই। আমি বিষয়টি জানার পর থেকে নতুন করে পলিথিন ক্রয় করিনি।
মাঈশা সুপার শপে বাজার করতে আসা ক্রেতা আব্দুর রহমান বলেন, পলিথিন নিষিদ্ধ করে আইন হয়েছে ২০০২ সালে। কিন্তু সেই আইন আলোর মুখ দেখেনি। তাই আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হোক এটাই প্রত্যাশা আমাদের।
অন্যদিকে বিকল্প হিসেবে ভিন্নধর্মী ও সৃজনশীল উদ্যোগ যেমন ঝুট কাপড়ের ব্যাগ, মোম দিয়ে আবরণ দেওয়া কাগজ, মোটা ব্রাউন পেপার, টিনের ঝুড়ির মত বিকল্পের কথা বলেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ অনুবিভাগ) ফাহমিদা খানম। তিনি বলেন, বিকল্প ব্যাগটি সহজে ব্যবহার করা যাচ্ছে কি না এবং এটি তৈরির উপকরণ বাজারে সহজলভ্য কি না; সেটিকে গুরত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাগের দাম বাড়বে না।
এদিকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তখন তাঁরা উপদেষ্টাকে জানিয়েছিলেন, পণ্যের প্যাকেজিংয়ে প্লাস্টিকের উপযুক্ত বিকল্প না থাকায় পাটের ব্যাগ চালুর কার্যক্রম বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং। তাই প্যাকেজিংয়ের জন্য পাটের ব্যাগের চাহিদামতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
তখন এম সাখাওয়াত বলেছিলেন, ‘সারা দেশে পাটের প্রচলন বাড়াতে হবে। আগামী মাস (অক্টোবর) থেকে দেশের সুপারশপগুলোতে পাটের ব্যাগ চালুর কার্যক্রম নিয়েছে সরকার। এ মন্ত্রণালয় সে লক্ষ্যে কাজ করছে। আমি চাই, দেশের সবাইকে নিয়ে একযোগে এ কার্যক্রম সফল করতে। এতে করে দেশে পাটের অভ্যন্তরীণ ভোগ বাড়বে।’
তিনি আরো বলেছিলেন, ‘পাটের মোড়কের আইনের বাস্তবায়ন আরো আগে শুরু হওয়া উচিত ছিল। তাহলে এত দিনে পলিথিন ও প্ল্যাস্টিকের উপযুক্ত বিকল্প পাওয়া যেত। পাটের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বহুমুখী পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে হবে।’
দেশে কবে পলিথিন নিষিদ্ধ হয়?
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর বিধান অনুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০২ সালের ১ মার্চ বিএনপি সরকার দেশে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তারপর পেরিয়েছে ২২ বছর। এর মধ্যে তত্ত¡াবধায়ক সরকার, এরপর ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ শাসন করেছে। তবুও আইন থাকা সত্তে¡ও দেশে পলিথিন ব্যবহার রোধ করা সম্ভব হয়নি। পলিথিন ব্যবহার কমার বিপরীতে সুপারশপ থেকে সবখানেই বেড়েছে পলিথিনের ব্যবহার। ২০০২ সালের পর ফের গতকাল থেকে সুপারশপে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত কতটা বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে শঙ্কায় ক্রেতা-বিক্রেতারা।

জয় ও পুতুলের ব্যাংক হিসাব স্থগিত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের ব্যাংক হিসাবও স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ব্যাংক হিসাবও স্থগিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সোমবার বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে এই প্রথমবার শেখ হাসিনা পরিবারের ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হলো। এর আগে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও নেতাদের নামে ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) ট্রাস্টি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তার তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ও শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর নামে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোয় থাকা ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবের লেনদেন স্থগিত থাকবে। এসব হিসাবে ৩০ দিন কোনো লেনদেন করা যাবে না। একই সঙ্গে ওইসব হিসাব থেকে কোনো অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তরও করা যাবে না।
পাশাপাশি সিআরআই ও সিআরআই বাংলা প্রজেক্ট নামেও কোনো হিসাব থাকলে সেগুলোও স্থগিত থাকবে। সিআরআই বাংলা প্রজেক্ট পরিচালনা করেন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক। সিআরআই ও সিআরআই বাংলা প্রজেক্ট থেকে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে নানা ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও সেগুলো পর্যালোচনা করে জনস্বার্থবিরোধী নানা ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। এমনকি প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিভিন্ন পেশার কর্মীদের নানা ধরনের অনৈতিক সুবিধাও দেওয়া হতো। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগ এ দুটি সংগঠনের মাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাত।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এ সংস্থা দুটির জনস্বার্থবিরোধী কার্যক্রম প্রকাশ্যে আসে। যে কারণে তাদের কার্যক্রম নিয়ে এখন তদন্ত হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখন তাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করা হয়েছে। চিঠিতে ওইসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নামে এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে। ৩০ দিন এসব হিসাবে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবে না। প্রয়োজনে লেনদেন স্থগিত করার সময় বাড়ানো হবে। তাদের হিসাব সংশ্লিষ্ট তথ্য বা দলিল যেমন হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী ইত্যাদি তথ্য বিএফআইইউতে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।