আগামী পরশু রোববার থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর। বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাইভোল্টেজ ম্যাচ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ।
সীমান্ত সমস্যার কারণে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ রয়েছে একযুগ ধরে। বিশ্বকাপ এবং এশিয়া কাপ ছাড়া তাদের দেখা সাক্ষাৎ হয়না। ক্রিকেট ভক্তরা অধীর আগ্রহে বসে থাকেন ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেট মাঠের লড়াই দেখার জন্য।
অথচ বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচেই জঙ্গি হামলার হুমকি রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে হামলার হুমকি দিয়েছে জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএস।
এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও বিশ্বকাপের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের নাসাউ কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কোনও কারণই নেই। ৯ জুন ভারত-পাকিস্তান হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্টেডিয়ামে জঙ্গি কেন, সাধারণ দর্শক এবং ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্কিত লোকজন ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
এ ব্যাপারে নাসাউ কাউন্টির কমিশনার প্যাট্রিক জে রাইডার সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি এই গ্যারান্টি দিতে পারি যে, ৯ জুন নাসাউ কাউন্টিতে স্টেডিয়ামের ভিতরে ম্যাচ হলে, কোনও ভয়ের সম্ভাবনা নেই।’
একই কথা বলেছেন নিউইয়র্কের প্রথম নারী গভর্নর ক্যাথি হোচুল। তিনি টুইটারে লিখেছেন, ‘ক্রিকেট বিশ্বকাপে যাতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন এবং পুলিশ একযোগে কাজ করছে। আমি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে নিরাপত্তা বাড়াতে বলেছি। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নজরদারি চালিয়ে যাব।’
এ ব্যাপারে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কিথ রাউলি বলেছেন, ‘জঙ্গি হামলার হুমকি ২১ শতকের সবচেয়ে বড় বিপদ। দুষ্কৃতীকারীরা যে কোনও রাস্তা নিতে পারে। তাই জঙ্গি হুমকি পুরোপুরি ঠেকানো কার্যত অসম্ভব।’
পরে এক যৌথ বিবৃতিতে আইসিসি এবং ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ বলেছে, ‘আমরা আয়োজক দেশ এবং প্রশাসনের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছি। সবকিছু মাথায় রাখা হচ্ছে। কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নই।’
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে জঙ্গি হামলার হুমকি!
আরও একটা বিশ্বকাপ খেলতে চান সাকিব
যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে ২ জুন থেকে শুরু হচ্ছে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর। সাকিব আল হাসানেরও এটি টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর। ২০০৭ সাল থেকে শুরু হওয়া ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের সবগুলো আসরেই খেলেছেন তিনি। তার সঙ্গে এই কীর্তি আছে শুধু ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মার।
নিজের নবম বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্তৃক আয়োজিত ‘দ্য গ্রিন রেড স্টোরি’তে কথা বলেছিলেন সাকিবও। যেখানে আরও একটি বিশ্বকাপ খেলার ইচ্ছার কথা জানান এই অলরাউন্ডার।
সাকিব ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘প্রথম বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত যতগুলো টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হলো, সবগুলোতেই অংশ নিতে পেরেছি। আমার জন্য এটা গর্বের ও আনন্দের। একই সময়ে যেহেতু দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি, অনেক ভালো লাগার একটা জায়গা আছে। আমি এবং রোহিত শর্মাই হয়তো মাত্র দুজন খেলোয়াড়, যারা সবগুলো টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেছে। আশা করব আরও একটি বিশ্বকাপ যেন খেলতে পারি। তার আগে এই বিশ্বকাপে পারফরম্যান্সটা যেন ভালো থাকে। বাংলাদেশ যেন অন্যান্য যে কোনো টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চেয়ে ভালো ফল করে আসতে পারে।’
ওই ভিডিওতে একটি প্রশ্ন ছিল সাকিবের প্রতি। অনেকেই বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র সাকিবের সেকেন্ড হোম (দ্বিতীয় ঘর)। ঘরের সুবিধা কি পাবে দল? সাকিব হাসতে হাসতে এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমার সেকেন্ড হোম ঠিক আছে। তবে হোম অ্যাডভান্টেজ পাব কিনা বলাটা মুশকিল। কিন্তু আমার মনে হয় পাব। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং যুক্তরাষ্ট্র, এ দুটো জায়গাতেই আমরা, এর আগে ফ্লোরিডায় যখন খেলেছি বাংলাদেশ ভালো করেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে আমরা সব সময়ই সুবিধা পাই। কারণ পিচগুলো অনেকটা আমাদের মতোই হয়ে থাকে। তাই আমি আশা করছি দুই জায়গাতেই আমরা সুবিধা পাব।’
আন্তর্জাতিক টি টোয়েন্টি ক্রিকেটের উত্থানের সমসাময়িক সাকিবের ক্যারিয়ার। তিনটি সংস্করণের মধ্যে টি-টোয়েন্টিই এখন সবচেয়ে জনপ্রিয়। এই পরিবর্তন কীভাবে দেখেন সাকিব-এমন একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় এটা ওয়ানডেরই বর্ধিত সংস্করণ। ওভার কাটলে যেটা হতো সেটাই। অনেক রোমাঞ্চকর। দর্শকেরা অনেক পছন্দ করেন। আমি একটি জিনিসই শুধু মনে করি যে ব্যাট ও বলের যেন সমান প্রতিযোগিতা এখানে থাকে। যেকোনো একতরফা যেন টুর্নামেন্টটা না হয়। সাধারণত বিশ্বকাপে কখনোই সেটা হয় না। আমি মনে করি এবারও একইরকম হবে।’
২২২ রান করেও জয় পায়নি অস্ট্রেলিয়া, টাইগারদের কী হবে?
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রে রোববার থেকে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে প্রতিটি দল এখন ব্যস্ত আইসিসির অফিসিয়াল প্রস্তুতি ম্যাচ খেলায়। অধিকাংশ দল বিশ্বকাপের ভেন্যুতে পৌঁছে গেছে।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ত্রিনিদাদে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। বিশ্বকাপের এই প্রস্তুতি ম্যাচে আগে ব্যাট করে নিকোলাস পুরানের ব্যাটিং তাণ্ডবে ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৫৭ রানের পাহাড় গড়ে ক্যারিবীয়রা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে মাত্র ২৫ বল মোকাবেলা করে ৩০০ স্ট্রাইকরেটে ৫টি চার আর ৮টি দৃষ্টি নন্দন ছক্কার সাহায্যে ৭৫ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন নিকোলাস পুরান। ২৫ বলে চারটি চার আর চারটি ছক্কার সাহায্যে ৫২ রান করেন অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল। মাত্র ১৮ বলে চারটি চার আর সমান ছক্কায় ৪৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন শেরেফানি রাদারফোর্ড।
১২০ বলে ২৫৮ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমেও ভরকে যায়নি আইসিসির সবচেয়ে বেশি শিরোপাজয়ী দল অস্ট্রেলিয়া। তারা জয় না পেলেও ৭ উইকেটে ২২২ রান করেছে। তারপরও ৩৫ রানের হার মানতে হয় মিচেল মার্শের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়াকে।
২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া অস্ট্রেলিয়া যদি ২২২ রান করে জয় না পায়, তাহলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে কেমন পারফরম্যান্স করবে তা আর হলফ করে বলার অপেক্ষা রাখেনা!
বিশ্বকাপ খেলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের মতো তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হেরে যায় সাকিব আল হাসানরা। শুধু তাই নয়! আইসিসির এই সহযোগী সদস্য দলটির বিপক্ষে কোনো ম্যাচে ১৫৩ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। তাহলে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মতো তারকা খচিত দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কেমন পারফরম্যান্স করবে তা সময়ই বলে দেবে!
টি-টোয়েন্টিতে একাধিক রেকর্ড বাবর আজমের
পাকিস্তানের সাদা বলের অধিনায়ক বাবর আজম টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক ছুঁয়েছেন।
বাবর আজম প্রথম পাকিস্তানি ব্যাটার যিনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪ হাজার রান করেছেন। বাবর ১১২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে করেছেন ৪ হাজার ২৩ রান। তার ওপরে রয়েছেন ভারতের ক্রিকেটার বিরাট কোহলি, তার সংগ্রহ ১০৯ ম্যাচে ৪ হাজার ৩৭ রান।
এ ছাড়া বাবরই একমাত্র অধিনায়ক যিনি টি-টোয়েন্টিতে ২ হাজার ৫০০ রান করেছেন। এই অর্জন তাকে শুধু একজন শীর্ষ খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, একজন নেতা হিসেবেও তার আলাদা মর্যাদা তৈরি করেছে; যিনি ধারাবাহিকভাবে তার দলের সাফল্যে অবদান রেখে যাচ্ছেন।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের সময় পাকিস্তান ২-১ ব্যবধানে জয় পায় যেখানে বাবর সবচেয়ে সফল টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে আরেকটি রেকর্ড গড়েন।
ট্রাম্প দোষী সাব্যস্ত, সাজা ঘোষণা ১১ জুলাই
ব্যবসায়িক নথিপত্রে তথ্য গোপনের অভিযোগে করা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের একটি আদালত এ রায় দেন। ওই মামলায় আনা ৩৪টি অভিযোগের সব কটিতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন রিপাবলিকান পার্টির এই নেতা।
আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সাবেক প্রেসিডেন্ট ফৌজদারি অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলেন। আগামী ১১ জুলাই এ মামলায় ট্রাম্পের সাজা ঘোষণা করা হবে। সাবেক এ প্রেসিডেন্টের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আইনজ্ঞরা বলছেন, তাঁকে জরিমানা করার সম্ভাবনাই বেশি।
বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এটা তাঁর জন্য মর্যাদাহানিকর। তিনি ন্যায়বিচার পাননি। আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যাবেন।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য থেকে বোঝাই যায়, তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তবে এটাই কিন্তু ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একমাত্র মামলা নয়। ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি মামলা চলছে। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদ শেষের পর হোয়াইট হাউস থেকে সরকারি গোপন নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে করা আরও একটি মামলা ঘাড়ে নিয়ে ঘুরছেন তিনি।
৭৭ বছর বয়সী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা এই মামলায় অভিযোগে বলা হয়, ২০০৬ সালে স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে তাঁর যৌন সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে মুখ না খুলতে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে স্টর্মিকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার ঘুষ দেওয়া হয়। তাঁর হাতে এ অর্থ তুলে দিয়েছিলেন ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেন। তবে ব্যবসায়িক নথিপত্রে এ লেনদেনের তথ্য গোপন করা হয়েছিল। যদিও এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন ট্রাম্প।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহ ধরে শুনানির পর বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন ১২ জন বিচারকের একটি বেঞ্চ। এর আগে তাঁরা রায় নিয়ে ১১ ঘণ্টা আলাপ-আলোচনা করেছেন। এমন সময় এ রায় ঘোষণা করা হলো, যখন কয়েক মাস পরেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে অংশ নিয়ে আবার প্রেসিডেন্ট পদে আসতে চাচ্ছেন ট্রাম্প। তবে রায়ের কারণে তাঁর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় কোনো বাধা আসবে না।
এদিকে এই মামলার মাধ্যমে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব’ বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আদালতে অভিযোগ এনেছিলেন তাঁর আইনজীবীরা। এটাও বলেছিলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ভুল কিছুই করেননি। প্রতিনিয়ত একই কথা বলছিলেন ট্রাম্পও। আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের একাধিকবার বলেছেন, তিনি আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।
‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটি লজ্জাজনক দিন’
পর্নোতারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে যৌন সম্পর্কের বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখতে গোপনে অর্থ দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার এটাই প্রথম ঘটনা।
এ ঘটনাকে রিপাবলিকান মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন ‘লজ্জাজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আজকের দিনটি আমেরিকার ইতিহাসে একটি লজ্জাজনক দিন। বিরোধী দলের নেতাকে হাস্যকর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করার পর ডেমোক্র্যাটরা উল্লাস প্রকাশ করছে। এটি একটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক চক্রান্ত, এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
এর আগে দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহ ধরে শুনানির পর বৃহস্পতিবার ১২ জুরির উপস্থিতিতে আদালত ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করেন। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ট্রাম্প নিজেকে একজন ‘রাজনৈতিক বন্দি’ হিসেবে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমি এইমাত্র একটি তথ্য কারচুপির মামলায় রাজনৈতিক বিচারে দোষী সাব্যস্ত হয়েছি, আমি কোনো ভুল করিনি। তারা আমার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে, আমাকে গ্রেফতার করেছে, এখন তারা আমাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, এটা আমার জন্য মানহানিকর। আমি ন্যায়বিচার পাইনি। আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যাব।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আদালতের বিচারক জুয়ান মার্চান আগামী ১১ জুলাই সাজা ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আইনজ্ঞরা বলছেন, তাকে জরিমানা করার সম্ভাবনাই বেশি।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা মামলাটির অভিযোগে বলা হয়– ২০০৬ সালে স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে মুখ না খুলতে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে স্টর্মিকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার ঘুস দেওয়া হয়। তার হাতে এ অর্থ তুলে দিয়েছিলেন ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেন। তবে ব্যবসায়িক নথিপত্রে এ লেনদেনের তথ্য গোপন করা হয়েছিল। যদিও এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন রিপাবলিকান দলের এই নেতা।
ক্ষমতায় থাকাকালীন সবচেয়ে বড় ভুলের কথা জানালেন ইমরান খান
ক্ষমতায় থাকার সময় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) কামার জাভেদ বাজওয়াকে বিশ্বাস করা একমাত্র ভুল ছিল বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান।
স¤প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সাংবাদিক মেহদি হাসানকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম জিটিওতে।
সাক্ষাৎকারে ইমরান খান বলেন, আমাকে এমন একটি সেলে রাখা হয়েছে যাকে বলা হয় ডেথ সেল (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য নির্জন খুপড়ি)। খুবই ছোট একটা জায়গা যেখানে সন্ত্রাসীদের রাখা হয়। কর্তৃপক্ষ আমাকে সন্ত্রাসীর আদলেই দেখাতে চায়। একজন বন্দির যেসব মৌলিক অধিকার থাকার কথা, তার কিছুই আমাকে দেওয়া হয় না। তারা এসব করে আমার মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছে। কিন্তু আল্লাহর ওপর বিশ্বাস থাকায় আমার মন এখনো শক্ত আছে। তবে গত দুই বছরে আমি আমার সব পদক্ষেপ এবং সেগুলোর পরিণতি বিশ্লেষণ করার সময় পেয়েছি। ১১ মাস জেলে কাটানোর পর আমি প্রায় নিশ্চিতÑ এসবের পেছনে জেনারেল বাজওয়ার হাত ছিল। আমি অন্য কাউকে দোষ দিই না। তিনি সু²ভাবে পুরো ব্যাপারটা পরিকল্পনা করেছেন, বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।
ইমরান খান বলেন, মিথ্যা ও বানোয়াট বয়ান তৈরি করে জেনারেল বাজওয়ার জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছেন। এর ফলে গণতন্ত্র ও পাকিস্তানের ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা তিনি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন।
বিশ্ববাসীর উদ্দেশে ইমরান বলেন, ‘আমার বার্তা খুবই সহজ। ঘটনাটি শুধু ইমরান খানের সঙ্গে করা হয়নি। বরং তা গণতন্ত্র এবং ২৫ কোটি পাকিস্তানি জনগণের ওপর আঘাত হিসেবে এসেছে। নারী, পুরুষ, শিশুরা নিহত হয়েছে, তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, অত্যাচার করা হয়েছে। কেউ টু শব্দ করেনি। মাত্র একটি রাজনৈতিক দলকে সব দিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
প্রেমে বাধা দেওয়ায় বাবা-ভাইকে হত্যা করে লাশ টুকরো টুকরো করল মেয়ে
ভারতে আট বছর বয়সী এক ভাই ও তার বাবাকে হত্যা করেছে ১৫ বছর বয়সী এক মেয়ে। এরপর পিতা ও ভাইয়ের লাশ একটি ফ্রিজে রেখে পালিয়েছিল সে। ঘটনার কমপক্ষে দুই মাস পরে তাকে সন্দেহজনকভাবে আটক করেছে পুলিশ।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রদেশে ওই কিশোরী তার পিতা ও এক ভাইকে হত্যা করে লাশ ফ্রিজে রেখে পালায়। কিন্তু বুধবার হরিদ্বারের পুলিশ তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। পুলিশের মতে, ওই মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল ১৯ বছর বয়সী এক কিশোরের সঙ্গে। সেই সম্পর্ক মেনে নিচ্ছিলেন না তার পিতা। এর ফলে ওই প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে সে তার বাবাকে হত্যা করে। তারপর লাশ কেটে টুকরো টুকরো করে।
এমন সময় ঘুম থেকে জেগে যায় তার আট বছর বয়সী ভাই এবং সে দেখে ফেলে। ফলে তাকে হত্যা করে তারা। এরপর বাড়ির বাইরে তালা মেরে তারা পালিয়ে যায়। এমন অবস্থায় ওই বালিকার বাড়িতে ১৫ই মার্চ সকালে যায় পুলিশ। তখনই এই ডাবল মার্ডারের কাহিনী সামনে আসে। পুলিশ এদিন ওই বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। ফ্রিজ থেকে তার পিতা ও ভাইয়ের টুকরো টুকরো করা দেহ উদ্ধার করে।
হরিদ্বারের এসএসপি পারমেদ্রা দোভাল বলেন, ১৯ বছর বয়সী এক কিশোরের সঙ্গে হরিদ্বারের ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতালের কাছে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিল ওই মেয়ে। এ সময় পুলিশ দেখে তারা সরে পড়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশের নজর পড়ে যায় তাদের দিকে। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে এটাই ওই বালিকা।
তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ওই বালিকা জানায়- পিতা ও এক ভাইকে মধ্যপ্রদেশের জাবালপুরে হত্যার জন্য দায়ী সে। এ নিয়ে পুলিশ যোগাযোগ করে জাবালপুর পুলিশের সঙ্গে। তারা বিষয়টি নিশ্চিত করে। এরপরই আটক করা হয় ওই বালিকাকে। তাকে জাবালপুর পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার কথা।
ওদিকে এই হত্যাকাণ্ডের আগেই ১৯ বছর বয়সী কিশোরের বিরুদ্ধে ওই বালিকা গত বছর একটি অভিযোগ দিয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ওই কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা আছে প্রটেকশন অব চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস আইনে। এ অভিযোগে ওই কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়। সে জেল খাটে। পরে জামিনে মুক্তি পায়। ডাবল মার্ডারে তার ভূমিকা আছে এমনটা মনে করে পুলিশ।
পরে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পায় ঘটনার সময় তারা দু’জন একসঙ্গে ছিল। হত্যার পর তাদেরকে দেখা যায় মদন মহল রেলস্টেশনে। সেখানে তারা বাহন পরিবর্তন করে একটি অটোরিকশা নেয়। ছুটে যায় বাসস্ট্যান্ডের দিকে। এরপর জাবালপুর থেকে পালাতে একটি বাসে উঠে বসে।
ইউক্রেনকে রাশিয়ায় হামলার অনুমতি দিল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ায় হামলা চালানোর জন্য ইউক্রেনকে গোপনে অনুমতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
বৃহস্পতিবার মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, বাইডেন কিয়েভকে ইউক্রেনীয় শহর খারকিভের কাছে রুশ সীমান্ত এলাকায় হামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে নিজ অবস্থান থেকে সরে এসেছেন বাইডেন। এখন পর্যন্ত তিনি মার্কিন অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ায় হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করে আসছেন।
এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন স¤প্রতি তার দলকে নির্দেশ দিয়েছেন যে ইউক্রেন যেন খারকিভ অঞ্চলে পাল্টা আঘাত করার জন্য মার্কিন সরবরাহকৃত অস্ত্র ব্যবহার করতে সক্ষম হয়।
ওয়াশিংটনের রুশ দূতাবাস, জাতিসংঘের রুশ মিশনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পায়নি রয়টার্স।
ইউক্রেন যাতে পশ্চিমা অস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার করতে পারে সে জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহŸান জানিযয়ে আসছিল সামরিক জোট ন্যাটো। স¤প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানায়, রাশিয়ায় মার্কিন অস্ত্র দিয়ে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন হয়নি। এরমধ্যেই বাইডেনের এই অনুমতি দেওয়ার খবর সামনে এল।
বিয়ে ও সন্তানের তথ্যফাঁস, যা বললেন দেব
অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতেও জড়িয়েছেন টালিউড অভিনেতা দেব। ব্যক্তিজীবন নিয়ে প্রায় আলোচনা আসেন এই অভিনেতা। দীর্ঘদিন ধরে দেব আর রুক্মিণীর প্রেম নিয়ে নেটদুনিয়ায় বেশ সরব। ইতোমধ্যে এই জুটি অনেক দর্শকপ্রিয় ছবি উপহার দিয়েছেন। জুটি হয়ে সিনেমায় অভিনয়ের কারণে তাদের প্রেম আরও গভীর হয়েছে। তারা কখনো পারস্পরিক ‘সম্পর্ক’ নিয়ে অস্বীকারও করেননি। প্রেমের গভীরে ডুবে থাকা পাগলুখ্যাত দেবের বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসতেই নড়ে বসেছে টালিউড অঙ্গন। কী বলছেন ‘পাগলু’? জানা গেল তিন বছরের সন্তানের বাবা তিনি।
এর আগে গুগলে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন এসেছে দেব-রুক্মিণীর রসায়ন নিয়ে। সেখানেই প্রশ্নÑ দেবের স্ত্রী কে? উত্তরÑ ‘দেব একজন অভিনেতা। তিনি কবীর, মাউন্টেন অফ দ্য মুন, সাঁঝবাতির জন্য পরিচিত।’ তার পরেই টুইস্ট, তিনি ৬ মে, ২০২১ থেকে রুক্মিণীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ! তাদের একটি সন্তানও রয়েছে, যার বয়স তিন বছর। এমন একটি পোস্ট নায়কের ফ্যান ক্লাব থেকে হতেই নেটদুনিয়ায় ভাইরাল!
আনন্দবাজার সূত্রে জানা যায়, ‘গুগল না থাকলে জানতেই পারতাম না!’ বিস্ময় কাটতেই জবাব দিয়েছেন দেবও। তিনিও কি কম রসিক? মাত্র একটি শব্দÑ ‘আমিও’, খরচ করে দুধ আর জল আলাদা করে দিয়েছেন।
এ মুহূর্তে নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত দেব। ১ জুন লোকসভা নির্বাচন। প্রচারও শেষ। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রার্থী দীপক অধিকারী দেব দলমত নির্বিশেষে সব প্রার্থীকে ১ জুন ভাগ্যপরীক্ষার জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে গুগল! নির্বাচনের আগে প্রযোজক-নায়কের ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যফাঁস। তিন বছর আগে তার নাকি বিয়ে হয়ে গেছে! এখানেই শেষ নয়; তার নাকি তিন বছরের একটি সন্তানও আছে। খবর প্রকাশ্যে আসতেই ‘হায় হায়’ করে উঠেছেন তার অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষী । এ খবরে টালিউডও নড়েচড়ে বসেছে। কী বলছেন দেব?
১ জুন সপ্তম দফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ, যাদবপুর, বারাসত, দমদম, বসিরহাট, জয়নগর (এসসি), মথুরাপুর (এসসি), ডায়মন্ড হারবারে। ৩০ মে ছিল নির্বাচনি প্রচারের শেষ দিন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেব। গত তিন মাস ধরে সব দল তাদের কর্মীদের নিয়ে প্রচার চালিয়েছেন। নিজের প্রার্থীকে জেতানোর জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। বার্তায় তাদের পরিশ্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি। দেবের প্রার্থনা যে দলই জিতুক, দেশ যেন এগিয়ে যায়।
দেব বরাবরই ব্যতিক্রমী। তিনি দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সম্মান জানিয়েছেন। ব্যক্তিজীবনেও যে তিনি এত বড় ব্যতিক্রমী হবেন তা কে জানত?


