Home Blog Page 559

গাজায় ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ৯৫ ফিলিস্তিনি

ফিলিস্তিনের গাজাজুড়ে বর্বর হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে ৯৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকেই।
শনিবার অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর আনাদোলুর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলের হামলায় ৯৫ জন নিহত ও আরও ৩৫০ জন আহত হয়েছেন। অনেক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে, কেহ রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন। উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।
মূলত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্তে¡ও ইসরাইল অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে তার নৃশংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরাইল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরাইলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
এতে করে উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৩৬ হাজার ৪০০ জনে। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৮২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।
এছাড়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
মূলত ইসরাইলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। জাতিসংঘের মতে, ইসরাইলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার সকলেই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন।
এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরাইল ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।

সমাবেশের অনুমতি পেল ইমরান খানের দল

পাকিস্তানে সমাবেশের অনুমতি পেল দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। আগামী ৮ জুন সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। তবে এই সমাবেশ ইসলামাবাদের এফ-৯ পার্কের পরিবর্তে রাওয়াত এলাকায় আয়োজন করতে হবে। সেই সঙ্গে এর জন্য নির্দিষ্ট শর্ত ও বিধি মেনে চলতে হবে।
দেশটির প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে ফাতিমা জিন্নাহ পার্ক (এফ-৯) এলাকায় সমাবেশের জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল।
এর জন্য এসএসপি, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হয়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ বলেছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসলামাবাদে তাদের সমাবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।
এর পরিবর্তে তাদের রাওয়াত এলাকায় সমাবেশ করতে বলা হয়। এর জন্য ৩৯টি শর্ত দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সমাবেশের অনুমতি পেতে লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করেন পিটিআই চেয়ারম্যান গোহর খান। পিটিশনে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, পিটিআই একটি রাজনৈতিক দল এবং যখনই এটি একটি সমাবেশ বা সমাবেশের ঘোষণা দেয়, পুলিশ তাদের কর্মীদের গ্রেফতার এবং হয়রানি শুরু করে।
আবেদনে আরও বলা হয়, পিটিআই কেন্দ্রীয় সচিবালয়ও সরকার বেআইনিভাবে সিল করে দিয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পিটিআইকে প্রদেশজুড়ে জনসমাবেশ এবং সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া উচিত। সেই সঙ্গে এর কর্মীদের গ্রেফতার এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা নিবন্ধন বন্ধ করা উচিত।
পঞ্জাবের স্বরাষ্ট্র বিভাগ, পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং অন্যান্য সরকারি কর্তৃপক্ষকে রিট পিটিশনে বিবাদী করা হয়।

কংগ্রেসের দাবি, ২৯৫ আসনে জিতবে ইন্ডিয়া জোট

ভারতের সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে ইন্ডিয়া জোট ২৯৫টির বেশি আসনে জিতবে বলে দাবি করেছেন কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। শনিবার শেষ ধাপের ভোট গ্রহণ শেষে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা বৈঠকে বসেছিলেন। সেই বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন কংগ্রেস সভাপতি।
দিল্লিতে খাড়গের বাসভবনে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইন্ডিয়া জোট অন্তত ২৯৫ আসন পাবে। এর বেশিও হতে পারে; কিন্তু কম হবে না। আমরা সব নেতার সঙ্গে আলোচনা ও ভোট বিশ্লেষণ করে এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। ইন্ডিয়া জোট এবার যে এত আসন পাচ্ছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এটা জনগণের জরিপ। মানুষ যেসব তথ্য দিয়েছেন, তার ভিত্তিতে এই জরিপ করা হয়েছে।
কংগ্রেস সভাপতি অভিযোগ করেন, লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিজেপি নিজেদের মতো একটি গল্প তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের সেই চেষ্টার বিরুদ্ধে নির্বাচনি ফলাফল নিয়ে সত্যটা জনগণের কাছে তুলে ধরতে চায় ইন্ডিয়া জোট।
মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, সরকারি জরিপ হয়। তাদের (বিজেপি) কাছে জরিপ তৈরির নানা উপায় আছে। এ ছাড়া তা প্রচারের জন্য সংবাদমাধ্যমও আছে।
বিজেপিবিরোধী জোট ইন্ডিয়া বুথফেরত জরিপ-সংক্রান্ত বিতর্কে অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। যদিও গতকাল শুক্রবার কংগ্রেস জানিয়েছিল, তারা বুথফেরত জরিপ বিতর্কে থাকবে না। কেননা সংবাদমাধ্যমগুলো বুথফেরত জরিপের নাম করে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে। সংবাদমাধ্যমগুলো নিজেদের প্রচার বাড়ানোর জন্য এসব জরিপ করে থাকে।
ইন্ডিয়া জোট ঐক্যবদ্ধ রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, তারা (ইন্ডিয়া জোট) ঐক্যবদ্ধ আছে। তাদের এই ঐক্যে যেন কেউ ফাটল ধরানোর চেষ্টা না করে। ‘আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি এবং ঐক্যবদ্ধ থাকব। আমাদের মধ্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করবেন না।’
এদিন সাত রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৫৭ আসনে ভোট হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে লোকসভা নির্বাচনের ৫৪৩ আসনে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (৪ জুন) ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ভোট গ্রহণ পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর বুথফেরত জরিপের ফলাফল আসতে শুরু করেছে। বেশির ভাগ জরিপে পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে, আবারও ক্ষমতায় আসছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট।

ট্রাম্প ইস্যুতে বিভক্ত মার্কিন রাজনীতি

নিউইয়র্কের আদালত ৩৪ দফা অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করায় দেশটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকে বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ফায়দা হাসিলের জন্যই ট্রাম্পকে নিয়ে এসব কান্ড করা হচ্ছে। তবে এসব করে তাকে দমানো যাবে না, বরং নির্বাচনে তিনি আরও ভালো করবেন। অন্যদের ধারণা, এখন আর নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের আশা নেই।
রায়ের পর ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও ডেমোক্র্যাটিক দল মনোনীত প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেনের প্রচার বিভাগ বলেছে, ‘সাবেক প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করার সিদ্ধান্ত দেখিয়ে দিয়েছে যে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।’ বাইডেন-কমলা হ্যারিসের নির্বাচনি প্রচার বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প সব সময় ভুলবশত বিশ্বাস করে এসেছেন যে, ‘ব্যক্তিগত লাভের জন্য আইন ভাঙলেও তাকে কোনো ফল ভোগ করতে হবে না। কিন্তু আদালতের রায় সে সত্যই অপরিবর্তিত রাখল যে, আমেরিকার জনগণ এখন এক সহজ বাস্তবতার মুখোমুখি। ওভাল অফিস থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দূরে সরিয়ে রাখার এখনো একটাই মাত্র পথ রয়েছে। আর তা হলো, ব্যালট বাক্স।’ অন্যদিকে ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এটি অপমানজনক। দুর্নীতিগ্রস্ত ও বিতর্কিত বিচারক দিয়ে এ বিচারে কারচুপি করা হয়েছে। এটা একটা কারচুপির বিচার, একটা অসম্মান। তারা আমাদের বিচারের স্থান পরিবর্তন করতে দেবে না। এ এলাকায়, আমাদের অনুপাত ৫ বা ৬ শতাংশ।’ যুক্তরাষ্ট্রের হাউস স্পিকার মাইক জনসন যিনি একজন শীর্ষ পদাধিকারী রিপাবলিকান, তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আজকের দিনটা আমেরিকার ইতিহাসে একটা লজ্জার দিন। ডেমোক্র্যাটরা উল্লসিত, কেননা তারা একাধিক হাস্যকর অভিযোগে বিরোধী দলের নেতাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এ বিচার একেবারেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, আইনের সঙ্গে এর যোগ নেই।’
ভয়েস অব আমেরিকার প্রতিবেদন বলছে, এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সাবেক প্রেসিডেন্ট অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলেন। সে অর্থে এ রায় নজিরবিহীন। তবে এ সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা হবে না। এ রায় দীর্ঘমেয়াদি আপিল প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হবে। ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলার সেন্টারের প্রেসিডেন্সিয়াল ওরাল হিস্টোরি কর্মসূচির সহসভাপতি বারবারা পেরি বলেন, ‘আপিল যদি ব্যর্থ হয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প প্রথমবারের মতো আরেক ঐতিহাসিক নজির হয়ে থাকবেন।’ হোয়াইট হাউস কাউন্সেল মুখপাত্র ইয়ান স্যামস বলেন, ‘আমরা আইনের শাসনকে মর্যাদা দিই। এর বাইরে আমাদের কিছু বলার নেই।’ এ রায়ের পর তীব্র হুমকি ও ঝুঁকি সামলাতে তারা প্রস্তুত কি না, ভয়েস অব আমেরিকার এমন প্রশ্নের জবাব দেয়নি হোয়াইট হাউস। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে একটি নামের জন্য সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আর সেই নামটি হলো স্টর্মি ড্যানিয়েলস। তার সঙ্গে করা যৌন সম্পর্কের খবর গোপন রাখতে গিয়েই বিপদে পড়েছেন ট্রাম্প। স্টর্মি ড্যানিয়েলস জানিয়েছিলেন, ২০০৬ সালে ট্রাম্প তাকে বলেছিলেন ‘ট্রেইলার পার্ক’ থেকে বেরোতে চাইলে তাঁর (ট্রাম্প) সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতেই হবে। সেই ঘটনার প্রায় দুই দশক পর তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর সেই সাক্ষ্যেই ফেঁসে গেছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারকরা ট্রাম্পকে ব্যবসাসংক্রান্ত নথিতে মিথ্যা ঘোষণা দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্প তাঁর সাবেক আইনজীবী মাইকেল কোহেনের মাধ্যমে স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার দেন এক দশক আগের ওই যৌন সম্পর্কের বিষয়ে মুখ না খুলতে। সে তথ্য ট্রাম্প তাঁর ব্যবসায়িক নথিতে গোপন করেছেন।
কে এই স্টর্মি ড্যানিয়েলস : প্রকৃত নাম স্টেফানি ক্লিফোর্ড। লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে মায়ের কাছেই বড় হয়েছেন তিনি। স্বল্প আয়েই মায়ের সংসারে তার শৈশব কেটেছে। ড্যানিয়েলস হাই স্কুল শেষ করার সময় সবচেয়ে ভালো ফল করা ১০ শতাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যে ছিলেন। স্কুলের সংবাদপত্রও সম্পাদনা করেছেন। টেক্সাসের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পশুর ওষুধ নিয়ে পড়াশোনারও সুযোগ পেয়েছিলেন স্টর্মি। তবে পড়াশোনা তিনি চালিয়ে যাননি। স্টর্মি জানিয়েছেন, নিজের খরচ মেটাতে ১৭ বছর বয়সেই সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিভিন্ন জায়গায় নাচতেন তিনি। পরে নগ্ন মডেলিং ও পর্নো ছবিতে অভিনয় শুরু করেন। ড্যানিয়েলস বলেছেন, তিনি সবচেয়ে কম বয়সি পর্নো ছবির পরিচালকদের একজন ছিলেন। অনেক পুরস্কারও পেয়েছিলেন। টেলিভিশন শোতে বিভিন্ন চরিত্রে এবং ‘দ্য ফোরটি-ইয়ার-ওল্ড ভার্জিন’ এবং ‘নকড আপ’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন। পর্নো দুনিয়া ছেড়ে স্টর্মি বেশ কয়েকটি সফল সিনেমার স্ক্রিপ্ট লিখেছেন এবং পরিচালনা করেছেন। অবসরে ঘোড়ায় চড়ে সময় কাটাতেন। মেয়েকে বড় করেছেন। ২০১৮ সালে তাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল। স্টর্মির দাবি, এ প্রতিবেদনই ফের তার জীবন ওলটপালট করে দেয়, শুরু হয় ‘বিশৃঙ্খলা’। তার অভিযোগ, ওই প্রতিবেদন তার ব্যক্তিগত অনেক বিষয় সামনে নিয়ে আসে। এ প্রতিবেদনেই ট্রাম্পের সঙ্গে ড্যানিয়েলসের সাক্ষাতের বিষয়টি প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসে। ট্রাম্পের আইনজীবীদের অভিযোগ, ড্যানিয়েলস ওয়ালস্ট্রিটের প্রতিবেদনটি থেকে লাভবান হয়েছেন। এটা তার প্রচারের কাজ করেছে। ট্রাম্পের সঙ্গে ড্যানিয়েলসের সাক্ষাতের বিষয়টি বানানো। ওয়ালস্ট্রিটের ওই গল্পটিকে ড্যানিয়েলস অর্থ উপার্জনের উপায় হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

আবারো মোদিই থাকছেন গদিতে

বিক্ষিপ্ত কিছু সহিংসতা ও গন্ডগোল হলেও গতকাল মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে লোকসভার সপ্তম ও শেষ দফার ভোট। এদিন ৮টি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলের ৫৭টি আসনে ভোট নেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল পশ্চিমবঙ্গের ৯টি আসন। ভারতের লোকসভার মোট আসন ৫৪৩টি। ভোট শেষ হওয়ার পর এখন আলোচনা নরেন্দ্র মোদিই কি ক্ষমতায় থাকছেন। নাকি দিল্লির গদিতে বসবেন অন্য কেউ? বুথফেরত জরিপ বলছে, তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকছেন মোদিই।
ভোট শুরুর পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গা থেকে সহিংসতার খবর আসে। যাদবপুরে দুই দলের লোকদের সংঘর্ষ থামাতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে। কোথাও ইভিএম পানিতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, বিরোধী দলের প্রার্থীদের ঘিরে বিক্ষোভ, ‘ফিরে যাও’ স্লোগান, বিরোধীদলের কর্মী-সমর্থকদের মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া, আবার কোথাও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লেন বিরোধী দলের প্রার্থী। এরকম নানা ঘটনায় দিনভর উত্তপ্ত ছিল পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ময়দান।
এদিকে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে ভোট গণনার দিন মঙ্গলবার ভারতে নতুন সূর্য উদয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি লেখেন, ‘কেন্দ্রের সরকার অহংকার এবং অত্যাচারের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তাই, আগামী ৪ জুন মঙ্গলবার সূর্য দেশের জন্য নতুন ভোর বয়ে আনবে।’ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা শনিবার ভোট দিয়ে তার দল নির্বাচনে জিতে তৃতীয়বারের জন্য বিজেপি সরকার গঠন করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে ৪২ আসনের মধ্যে ৩০টা বিজেপি দখল করবে, ওড়িশায় ২১টার মধ্যে ১৮টা দখল করবে। ঠিক একইভাবে তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ুতেও আমাদের খুব ভালো ফল হবে। কেরালায় আমরা বেশ কিছু আসনে জয় পাব। প্রত্যেকটা জায়গায় আমাদের প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হার বাড়বে।’ শনিবার দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন বিরোধী দল ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা। মূলত ৪ জুন নির্বাচনি ফলাফলে পর জোটের রণকৌশল স্থির করতেই এই বৈঠক। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কংগ্রেস, সিপিআইএম, সমাজবাদী পার্টি, সিপিআই, ডিএমকে, জেএমএম, আম আদমি পার্টি, এনসিপিসহ জোটের শরিক দলগুলোর নেতা-নেত্রীরা উপস্থিত থাকলেও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট নেত্রী মেহেবুবা মুফতি অনুপস্থিত ছিলেন।
জরিপে তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় আসছে বিজেপির জোট : ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফা ভোট গ্রহণের পরপরই চালানো হয় এক্সিট পোল এক্সিট পোল (বুথ ফেরত জরিপ)। সর্বভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর পাশাপাশি একাধিক বেসরকারি সংস্থাও এই এক্সিট পোল চালায়। একাধিক জরিপে দেখা যায়, আবারও ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট’ (এনডিএ)। লোকসভার আসন ৫৪৩টি। ম্যাজিক ফিগার অর্থাৎ সরকার গড়তে গেলে প্রয়োজন ২৭২টি আসন।
রিপাবলিক টিভি-পি মার্ক-এর এক্সিট পোল অনুসারে এনডিএ পেতে চলেছে ৩৫৯ আসন, বিরোধী দলের জোট ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স’ (ইন্ডিয়া) জয় পেতে পারে ১৫৪ আসনে, অন্যরা ৩০ আসনে জয় পেতে পারে। তাদের জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭২ শতাংশ মুসলিম ভোট গেছে কংগ্রেসের পক্ষে, ৪৯ শতাংশ নারী ভোট গেছে বিজেপির পক্ষে। নিউজ নেশন-এর জরিপ অনুযায়ী এনডিএ পেতে পারে ৩৪২-৩৭৮ আসন, ইন্ডিয়া পেতে পারে ১৫৩-১৬৯ আসন এবং অন্যরা পেতে পারে ২১-২৩ আসন। ইন্ডিয়া নিউজ-ডি ডাইনামিক্স যৌথ জরিপ অনুযায়ী এনডিএ পেতে পারে ৩৭১ আসন, ইন্ডিয়া পেতে পারে ১২৫ আসন, অন্যরা পেতে পারে ৪৭ আসন।
রিপাবলিক ভারত-ম্যাট্রিজ যৌথ জরিপ অনুযায়ী এনডিএ জোট পেতে পারে এনডিএ জোট পেতে চলেছে ৩৫৩-৩৬৮ আসন, বিরোধী দলের জোট ইন্ডিয়া জয় পেতে পারে ১১৮-১৩৩ আসন, অন্যরা ৪৩-৪৮ আসনে জয় পেতে পারে। জন কি বাত-এর জরিপ অনুযায়ী এনডিএ পেতে পারে ৩৬২-৩৯২ আসন, ইন্ডিয়া জোট পেতে পারে ১৪১-১৬১ আসন, অন্যরা পেতে পারে ১০-২০ আসন। দৈনিক ভাস্কর-এর জরিপ অনুযায়ী এনডিএ পেতে পারে ২৮১-৩৫০ আসন, ইন্ডিয়া পেতে পারে ১৪৫-২০১ আসন, অন্যরা পেতে পারে ৩৩-৩৯ আসন। এনডিটিভি-এর ‘পোল অব পোলস’ অনুযায়ী এনডিএ পেতে পারে ৩৫৮ আসন, ইন্ডিয়া পেতে পারে ১৪৮ আসন, অন্যরা পেতে পারে ৩৭ আসন। শেষবার ২০১৯ সালের নির্বাচনে ৩৫৩ আসনে জয় পায় এনডিএ জোট, এর মধ্যে বিজেপি একাই ৩০৩ আসনে জয় পায়। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট’ (ইউপিএ) ৯১ আসনে জয় পায়। এর মধ্যে কংগ্রেস এককভাবে ৫২টি আসনে জয় পায়। বিভিন্ন সংস্থার জরিপে দেখা গেছে, গত নির্বাচনের মতো এবারও কর্ণাটক (মোট আসন ২৮), উত্তরপ্রদেশ (৮০), বিহার (৪০), হরিয়ানা (১০), মধ্যপ্রদেশ (২৯), অসম (১৪), রাজস্থানে (২৫), গুজরাট (২৬), অন্ধ্রপ্রদেশ (২৫), ঝাড়খন্ড (১৪), ছত্তিশগড় (১১), ওড়িশা (২১), হিমাচল প্রদেশ (৪), মহারাষ্ট্র (৪৮) এর মতো একাধিক রাজ্যে ভালো ফল করতে চলেছে এনডিএ। ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোকসভার আসন উত্তরপ্রদেশে। দেশটির রাজনীতিতে কথিত আছে, উত্তরপ্রদেশ যার, ভারতের কেন্দ্রের ক্ষমতাও তার। এই রাজ্যে মোট লোকসভার আসন ৮০টি। রিপাবলিক টিভির এক্সিট পোল অনুযায়ী এনডিএ পেতে পারে ৬৯ আসন, বিরোধী জোট ইন্ডিয়া পেতে পারে ১১টি আসন।
অন্যদিকে একাধিক সংস্থার জরিপে দেখা গেছে, বিরোধী দলের জোট ‘ইন্ডিয়া’ ভালো ফল করতে পারে তামিলনাড়ু (৩৯), কেরালা (২০), তেলেঙ্গানার (২৮) মতো রাজ্যগুলোতে। বিভিন্ন সংস্থার এক্সিট পোল অনুযায়ী দিল্লিতে এবারও ভালো ফল করতে চলেছে এনডিএ। জি নিউজের এক্সিট পোল অনুযায়ী লোকসভার সাতটি আসনের মধ্যে প্রতিটিতে জয় পেতে চলেছে বিজেপি। ইন্ডিয়া টিভি-সি ভোটারের এক্সিট পোল অনুযায়ী বিজেপি পেতে পারে ৬-৭ আসন, কংগ্রেস পেতে পারে ১টি আসন। পশ্চিমবঙ্গে এবার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হতে পারে রাজ্যটির ক্ষমতাসীন দল মমতা ব্যানার্জির দল তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ আসন ভাগাভাগি নিয়ে মতানৈক্য থাকায় এই নির্বাচনে আলাদাভাবে লড়েছে ইন্ডিয়া জোটের প্রধান দুই শরিক দল কংগ্রেস ও তৃণমূল। এ রাজ্যে ৪২টি লোকসভার আসন রয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার এক্সিট পোল অনুযায়ী এই নির্বাচনে ভালো ফল করতে চলেছে বিজেপি। সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেল জি নিউজ-সি এনএক্স-এর এক্সিট পোল অনুযায়ী বিজেপি পেতে পারে ২১-২৫ আসন, তৃণমূল পেতে পারে ১৬-২০ আসন। রিপাবলিক টিভি-পি মার্ক-এর জরিপ অনুযায়ী ২২ আসনে জয় পেতে পারে বিজেপি, ২০ আসনে জয় পেতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস, সেক্ষেত্রে কংগ্রেস এবং সিপিআইএমকে খালি হাতেই ফিরতে হতে পারে। রিপাবলিক ভারত-ম্যাট্রিজ যৌথ জরিপ অনুযায়ী বিজেপি জয় পেতে পারে ২১-২৫ আসনে, তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ১৬-২১ আসন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এ রাজ্যে তৃণমূল জয় পায় ২২টি আসনে, বিজেপি পায় ১৮টি আসনে। কংগ্রেস ২টি আসনে জয়লাভ করে।

বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ২৭ দফা নির্দেশনা

খাদ্যে ভেজাল ও মজুদদারি রোধ, নিত্যপণ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোসহ বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ২৭ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স¤প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে লিখিত এই নির্দেশনা মাঠ প্রশাসনে দেয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মাঠ প্রশাসনে পাঠানো এই নির্দেশনায় বলা হয়, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ করাসহ ভোক্তাদের যাতে কোনো রকম হয়রানি না হয় সে দিকে দৃষ্টি দিতে হবে; গ্রামপর্যায়ে সবাইকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদন বহুমুখী করার লক্ষ্যে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আমাদের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে, পরনির্ভরশীলতা কমাতে হবে; খাদ্য মজুদের মাধ্যমে মজুদদাররা যাতে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি দেয়াসহ প্রয়োজনে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ মানুষের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত যায় কি না, কেউ জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাস, মাদক অথবা কিশোর গ্যাংয়ের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে কি না সে বিষয়ে নজরদারি বৃদ্ধির জন্য অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে যেন কোনো রকম অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি না হয় এবং সেখানে যাতে সবাই শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে পারে সে দিকে সার্বিক দৃষ্টি রাখতে হবে; সর্বজনীন পেনশন স্কিমে সর্বস্তরের মানুষকে যুক্ত করার লক্ষ্যে সবাইকে সচেতন করে তুলতে হবে। ইনকাম ট্যাক্স প্রদানের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে হবে; এলাকাভিত্তিক উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে; নদীগুলো ড্রেজিং করা, নাব্যতা বাড়ানো, জলাধারগুলো সংস্কার করা, বর্ষাকালীন বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ বা বর্ষার পানি ধরে রাখা এবং সেগুলোকে শুকনা মৌসুমে চাষে এবং সুপেয় পানি ব্যবহার করার লক্ষ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। ভূগর্ভের পানি কম ব্যবহার করে ভূ-উপরিস্থ পানি যথাসম্ভব বেশি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে; শহরগুলোতে বর্জ্য-ব্যবস্থাপনা সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে এবং বর্জ্য থেকেই নদী, খাল-বিলের পানি দূষিত হচ্ছে। কাজেই জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত বর্জ্য-ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে হবে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পভুক্ত এলাকার মানুষের সুবিধা-অসুবিধা, জীবনমান, কর্মসংস্থান এবং আশ্রয়ণের ঘরগুলো উপকারভোগী কর্তৃক রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকমতো হচ্ছে কি না, এই বিষয়গুলোয় নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে; শিক্ষিত যুবসমাজকে উৎপাদন এবং শিল্পায়নের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। দক্ষ ও কর্মক্ষম জনশক্তি তৈরির নিমিত্ত কারিগরি বা ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে; শিশু-কিশোর ও যুবসমাজকে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে।
প্রতি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ অর্থাৎ একটি খেলার মাঠ দ্রুত প্রস্তুতের উদ্যোগ নিতে হবে; মুক্তিযুদ্ধের সময় যেখানে যুদ্ধ হয়েছে বা গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, গণকবর রয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। দেশের লবণাক্ত এলাকাগুলোতে সুপেয় পানির ব্যবস্থাকরণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে; তিন ফসলি জমি এবং চাষ উপযোগী জমি আবশ্যিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে তিন ফসলি জমি যেন নষ্ট না হয় সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। দালান-কোঠা নির্মাণের ক্ষেত্রে যেন যথাযথভাবে বিল্ডিং কোড মেনে নির্মাণ করাহয় সেই দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। সেচকাজে যথাসম্ভব সোলার প্যানেল ব্যবহার করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জনের বিষয়ে সচেতন করতে হবে। বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম মনিটরিং করতে হবে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষকে প্রকল্পের অগ্রগতি জানাতে হবে; চর এলাকার অনাবাদি জমি আবাদের আওতায় আনতে হবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সচেষ্ট হতে হবে; সর্বক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ করতে হবে।

বেনজীর আহমেদের সম্পত্তি ক্রোক লোকদেখানো : ফখরুল

সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের সম্পত্তি-ক্রোক নিয়ে সরকারের বক্তব্য লোকদেখানো বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, পত্রিকায় এসেছে বেনজীর চলে গেছে। সপরিবারে দেশত্যাগ করেছে মে মাসের ৪ তারিখে । যাওয়ার আগে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো খালি করে গেছে, সেখানে ৬০ কোটি টাকার মতো ছিল বলে পত্রিকায় এসেছে। আমার প্রশ্ন সে কিভাবে গেল? এই যে তারা (সরকার) বলল যে, তার সম্পত্তি আমরা ক্রোক করছি। আদালত থেকে বলা হলো, দুদক মামলা করেছে, তাকে কোথাও যেতে দেয়া হবে না। তাহলে ৪ তারিখ সপরিবারে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে করে কিভাবে চলে গেল সরকারের নাকের ওপর দিয়ে।
ফখরুল বলেন, এই যে আপনারা বলছেন যে, কেউ ছাড় পাবে না, আমরা সবার বিচার করি। আপনারা কি বাংলাদেশের মানুষ সবাইকে আহম্মক মনে করেছেন? বাংলাদেশের মানুষ তো আহম্মক না। সবাই বুঝে, এগুলো সব আপনাদের লোকদেখানো, প্রতারণা। এখন পর্যন্ত এই প্রতারণা করে আপনারা দেশ শাসন করেছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু বেনজীর নয়, এক আজিজ (আজিজ আহমেদ) নয়, অসংখ্য আজিজ আর বেনজীর তারা তৈরি করেছে। এরা বাংলাদেশটাকে একটা লুটের সামাজ্যে পরিণত করেছে। বর্গীর দেশে পরিণত করেছে। এখান থেকে দেশটাকে রক্ষা করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য্ দিয়ে এই দানব সরকারকে পরাজিত করে সত্যিকার অর্থে একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে ।
এই আন্দোলনে সাফল্য আনতেই হবে : মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের জন্য আমরা লড়াই-সংগ্রাম করছি। বিজয় আমাদের অর্জন করতেই হবে, সাফল্য আমাদের আনতেই হবে। আজকে এই পেশাজীবীদের আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, বাংলাদেশে বিএনপি কখনোই তার অভিষ্ট লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়াবে না। তার লক্ষ্য অটুট আছে। কৌশল অনেক সময় পরিবর্তন হতে পারে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, যখন সাফল্য আসে তখন সবাই দাবি করে যে আমার জন্য হয়েছে। ফেইলিউর হ্যাজ নান। আমরা মনে করি, আমরা ব্যর্থ নই। আমরা নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছি, আমরা নতুন করে আবার কাজ শুরু করেছি। ইনশা আল্লাহ জয় আমাদের হবেই। কারণ আমরা সত্যের পথে ন্যায়ের পথে লড়াই করছি।
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব কাদের গণি চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, রুহুল আমিন গাজী, অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম, অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, অ্যাডভোকেট মাসুম আহমেদ তালুকদার, অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডী, অধ্যাপক লুৎফুর রহমান, অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক অধ্যাপক কামরুল আহসান, অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদুল ইসলাম, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ডা: রফিকুল ইসলাম, শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এই সরকার হচ্ছে চোরের রাজা
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকার হাজার হাজার আজিজ-বেনজীর তৈরি করেছে। আজকে খবরের কাগজ খুললেই কী দেখেন আপনারা? দেখবেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ তার হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি। কখন করেছেন, যখন তিনি র্যা বের ডিজি ছিলেন, পুলিশে আইজি ছিলেন; তখন করেছেন। যার বেতন সব মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার বেশি হয় না, সেই লোকের এখন দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ।
তিনি গতকাল বিকেলে নগরীর চান্দনা চৌরাস্তাসংলগ্ন একটি কমিউনিটি সেন্টারে গাজীপুর মহানগর বিএনপি আয়োজিত দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল আবদুল আজিজ সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি গেল একজনের কথা, আরেকজনের কথা বাইরে বেরিয়ে এসেছে। হঠাৎ করে আমরা দেখলাম সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল আজিজ। যার একটা ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল আলজাজিরাতে। তিনি কিভাবে তার ভাইদেরকে রক্ষা করার জন্য প্রভাব খাটিয়ে তাদেরকে মুক্ত করে পাসপোর্ট দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে আমেরিকা স্যাংশন দেয়ার পরে এখন তাদের টনক নড়েছে। এখন বলছে আমরা এখন তদন্ত করব।

১৫ মিনিটে তুলকালাম ঠাকুরগাঁওয়ে, নিহত ৩

মাত্র ১৫ মিনিটের আচমকা ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় দুই নারী ও এক শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ঝড়ের কবলে দুই নারী ও জমে থাকা পানিতে ডুবে মারা গেছে আড়াই বছরের এক শিশু। নিহতরা হলেন- উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের শালডাঙ্গা গ্রামের পইনুল ইসলামের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৪১), একই গ্রামের দবিরুল ইসলামের স্ত্রী জাহেদা বেগম (৫০) এবং একই উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের লালাপুর নয়াপাড়া গ্রামের নাজমুল ইসলামের আড়াই বছরের ছেলে নাঈম। গতকাল শনিবার (১ জুন) ভোর ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দু’টি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। উড়ে গেছে কাঁচা বাড়িঘরের টিনের চালা। গাছ ভেঙে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শতাধিক পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
নিহত ফরিদার স্বামী পইনুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে মসজিদে থাকা অবস্থায় ঝড় শুরু হয়। ঝড় শেষে বাড়িতে ছুটে এসে স্ত্রীকে খুঁজে না পেয়ে ডাকাডাকি শুরু করি। পরে বাতাসে উড়ে এসে বারান্দায় পড়া টিন ও ছাউনি সরিয়ে দেখি নিচে চাপা পড়ে আছে স্ত্রী। উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’ পাড়িয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের দফাদার আজিজুর রহমান জানান, ঝড়ের সময় বারান্দায় বসেছিলেন দবিরুল ইসলামের স্ত্রী জাহেদা। মেঘের গর্জন আর ঝড়ে গাছপালা উড়তে দেখে বারান্দায়ই মারা যান তিনি। দবিরুল ইসলাম জানান, তার স্ত্রী দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। ঝড়ের সময় ভয়ে স্ট্রোক করেছেন বলে ধারণা করছেন তারা। অপর দিকে লালাপুর নয়াপাড়া গ্রামের নাজমুল ইসলাম জানান, বাড়ির পাশে গর্তে বৃষ্টির পানি জমে ছিল। সকালে খেলতে গিয়ে শিশুটি পড়ে গিয়েছিল। পরে পরিবারের লোকজনের নজরে এলে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঝড়ে পাড়িয়া ইউনিয়নের তিলকড়া, শালডাঙ্গা, বঙ্গভিটা, লোহাড়া, বামুনিয়াসহ ১২টি গ্রাম, বড়বাড়ি ইউনিয়নের বেলহাড়া, বেলবাড়ী, বটের হাট, হরিপুরসহ আটটি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশির ভাগ কাঁচা বাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে। গাছ ভেঙে পড়েছে ঘরের ওপর। বড়বাড়ী ইউনিয়নের আধারদীঘি বাজারে পাঁচটি দোকান ও দু’টি হোটেলে গাছ ভেঙে পড়েছে। ঘরের টিন নষ্টসহ সার ও কীটনাশক ও সিমেন্ট ব্যবসায়ীর ৫ লক্ষাধিক টাকা ক্ষতি হয়েছে। আধাদীঘি বাজারের ব্যবসায়ী হাসান আলী জানান, বাজারে শতবর্ষী কিছু আমগাছ ছিল দীর্ঘদিনের। ১৫ মিনিটের ঝড়ে সেই গাছের বড় ডাল ভেঙে পড়েছে দোকানের ওপর। এতে দোকানগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। লোহাগাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান জানান, ঝড়ে তাদের স্কুলের হলরুমের টিনের ছাউনি মাঠে এসে পড়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর বিদ্যালয়টির প্রবেশদ্বারে গাছ ভেঙে পড়েছে।
এদিকে বড়বাড়ি ইউনিয়নের আধারদীঘি থেকে হরিণমারী যাওয়ার রাস্তায় গাছ ভেঙে পড়ে চলাচল বন্ধ আছে। কয়েকজনকে গাছ কেটে সরিয়ে রাস্তায় চলাচল স্বাভাবিক করতে দেখা গেছে । এদিকে ঘটনার পর থেকে এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম জানান, ঝড়ে ৪০টির বেশি বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে ও ভেঙে গেছে। এ ছাড়া অনেক স্থানে বৈদ্যুতিক তারের ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। বালিয়াডাঙ্গী বাজারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি সব এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ। সকাল থেকে আমাদের লোকজন মাঠে কাজ করছে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোহেল বলেন, ঝড়ে মরিচ, বোরো ধান, পটোলসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিসংখ্যান সংগ্রহে মাঠ পর্যায়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফছানা কাওছার বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান এবং আমাদের লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে কাজ করছে।

শাহীনেই আটকে আছে আনার হত্যা

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ-সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডের মোটিভ এখনো অজানা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমপি খুনের মাস্টারমাইন্ড আক্তারুজ্জামান শাহীকে গ্রেফতারের আগে প্রকৃত মোটিভ বের করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে নেপালে আটক চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাম অন্যতম আসামি সিয়ামকে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনতে শনিবার ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের পুলিশই নেপালে গেছেন। তবে তাকে বাংলাদেশে আনা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভারতের পুলিশ চাচ্ছে সিয়ামকে তাদের দেশে নিতে। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত পৌঁছাতে পারেনি কাঠমান্ডু ইন্টারপোল। তবে শেষ পর্যন্ত সিয়ামকে ভারতের সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এক কর্মকর্তা নেপাল থেকে বলেন, সিয়ামকে আমাদের কাছে দেবে কিনা এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছি। ভারতের পুলিশ তাকে নিতে চাচ্ছে। আমরাও চেষ্টা করছি তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার।
এর আগে শনিবার সকালে নেপালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় ডিবি পুলিশের একটি টিম। ডিবি টিমের সঙ্গে ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) একজন প্রতিনিধিও আছেন। এছাড়া মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট এক সহকারী কমিশনার (এসি) আজ রোববার নেপালে যেতে পারেন বলেও জানা গেছে।
শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, এমপি আনার হত্যার মূল মামলা ভারতে হয়েছে এবং মূল তদন্তও ভারতে হবে। তবে তদন্তে বাংলাদেশ সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে। এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক। তাই ভারত মূল তদন্ত করলে শাহীনকে ফিরিয়ে আনা অনেকটা সহজ হবে। আমাদের দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হলে আমাদের পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করত। তারা (ভারত) যদি তদন্তে আমাদের সম্পৃক্ত করে তাহলে আমরা তাদের সহযোগিতা করব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নেপালে পলাতক সিয়ামকে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান শনিবার বিকালে বলেন, এমপি আনারকে কারা খুন করেছে, কীভাবে খুন করা হয়েছে সবই আমরা জেনেছি। কিন্তু খুনের মোটিভ সম্পর্কে আমরা এখনো বিস্তারিত জানতে পারিনি। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক থাকায় এখনো গ্রেফতার করতে পারিনি। এ কারণেই হত্যার প্রকৃত মোটিভ জানতে পারছি না। শাহীনই জানে সে কেন এই হত্যকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছে। অন্যরা মূলত টাকার জন্যই এই হত্যাকাণ্ডের অংশ নিয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের মোটিভ সম্পর্কে মূল সমন্বয়কারী গ্রেফতারকৃত শিমুল ভূঁইয়া ওরফে আমানুল্লাহ কী তথ্য দিয়েছে-জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে আমানুল্লাহর ভগ্নিপতি ডা. টুটুল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।
আমানুল্লাহর পরিবারের অভিযোগ, এই বন্দুকযুদ্ধে আনারের ভূমিকা আছে। এ নিয়ে আনারের প্রতি আমানুল্লাহর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। এছাড়া এমপি আনারের সঙ্গে তার রাজনৈতিক বিরোধও ছিল। এমন পরিস্থিতিতে শাহীনের কাছ থেকে আনারকে হত্যার প্রস্তাব পায় আমানুল্লাহ। সঙ্গে ছিল মোটা অঙ্কের অর্থের প্রস্তাবও। তাই সে এই হত্যাকাণ্ডের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে।
নেপালে আটক সিয়ামকে বাংলাদেশ নাকি ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হবে-জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বিষয়টি এখনো কনফার্ম হয়নি। নেপালের সঙ্গে যোগাযোগ করেই আমরা সেখানে ডিবির টিম পাঠিয়েছি। সেখানে ভারতের টিম গিয়েছে। তারা সিয়ামকে ভারত নিতে চাচ্ছে। এখন দেখা যাক কী হয়? তিনি আরও বলেন, নতুন কী ব্যবসার কথা বলে এমপি আনারকে কলকাতার সেই সঞ্জীবা ভবনে নেওয়া হয়েছিল সেটি এখনো আমরা বের করতে পারিনি।
শনিবার সকালে নেপালে যাওয়ার আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২ গেটে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি বলেন, সংসদ-সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহীনের সহকারী সিয়াম নেপালে আটক হয়েছেন বলে শুনেছি। এছাড়া হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হওয়ার পর অন্যান্য আসামিরাও নেপালে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সবদিক বিবেচনা করে আমরা সেখানে যাচ্ছি।
গত ১২ মে ভারতে যান এমপি আনার। কলকাতার ব্যারাকপুর সংলগ্ন মণ্ডলপাড়ায় বন্ধু গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে ওঠেন তিনি। ১৩ মে চিকিৎসার কথা বলে বাসা থেকে বের হন আনার।
ওইদিনই কলকাতার দমদম বিমানবন্দর লাগোয়া নিউটাউন এলাকার সঞ্জীবা গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাটে খুন হন এমপি আনার। তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ২২ মে। ওইদিন রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন (২৪) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন। এছাড়া ভারতে একটি হত্যা মামলা হয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে দুই দেশেই।
ডিবির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ মে কলকাতা সিআইডি সঞ্জীবা গার্ডেনসের সেপটিক ট্যাংকে অভিযান চালিয়ে কয়েক টুকরো মাংস উদ্ধার করে। দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত আটজনের নাম বেরিয়ে এসেছে। এদের মধ্যে শিমুল ভূঁইয়া ওরফে আমানুল্লাহ, তানভীর ভূঁইয়া ও সেলেস্তি রহমান দ্বিতীয় দফায় ডিবির রিমান্ডে আছে।
এছাড়া কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করেছে আরেক আসামি জিহাদ হাওলাদার ওরফে কসাই জিহাদকে। কাঠমান্ডু ইন্টারপোলের কাছে আটক হয়েছে সিয়াম। শাহীনের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও মোস্তাফিজ ও ফয়সালের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না ডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বোস্টনে জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী পালন

ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক: সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাই নন তিনি ছিলেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক। তাঁর ঘটনাবহুল কর্মময় জীবনের কারণেই মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর দেশপ্রেম, পরিশ্রমপ্রিয়তা ও নেতৃত্বের দৃঢ়তাসহ প্রভৃতি গুণাবলী এদেশের গণমানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ মে) ক্যামব্রিজের দারুল কাবাব রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নিউ ইংল্যান্ড (বোস্টন) বিএনপির নেতারা এসব কথা বলেন। দিবসটি উপলক্ষে দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
নিউ ইংল্যান্ড বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র সহসভাপতি সোহরাব এইচ খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পাদক আলী হায়দার মনসুর ও সাংগঠনিক সম্পাদক রাজ্জাক হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় উক্ত দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানের বক্তারা বলেন, শহীদ জিয়ার প্রবর্তিত কালজয়ী দর্শন ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ ও তাঁর অবিনাশী আদর্শে এ দেশের মানুষকে উদ্দীপ্ত করে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান আন্দোলন সফল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বেলাল আহমেদ।  
প্রধান অতিথি আব্দুল মালেক বলেন, শহীদ জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে দেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং তার পরবর্তী দেশ পরিচালনায় দক্ষতা ও সফলতায় কিভাবে জনগণের নয়নের মণি হয়ে উঠেছিলেন যেকারণে উনার মৃত্যু শোক আজও জাতি কাটিয়ে উঠতে পারে নাই বলে উল্লেখ করেন। তারেক জিয়ার ত্যাগ ও নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট উল্লেখ করে বলেন, বোস্টন প্রবাসী সোহরাব এইচ খান নিউইংল‍্যান্ড বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিরলস ভাবে জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত প্রত্যেকই পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রবাসে সংগঠন ও দলের জন‍্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে এ কমিটিকে নিজেই উক্ত কমিটির অনুমোদন দিয়েছিলেন।
সভায় বিশেষ অতিথি সাবেক এমপি হাসনা জসীম উদ্দিন মওদুদ বলেন, বিএনপিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দল উল্লেখ করে আন্দোলন সংগ্রাম করেই বিএনপি আবারো দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনবে সেই লক্ষে তারেক জিয়ার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সর্বশক্তি নিয়ে শরিক হওয়ার আহবান জানান।

Boston bnp 04

উপদেষ্টা শাহাদাত সোরওর্দী বলেন, এই বাকশালী শ্বাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার কোন বিকল্প নাই তাই অধিক শক্তি নিয়ে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পরতে হবে।উপদেষ্টা মোজাম্মেল হোসাইনী তার বক্তব্যে বলেন, শহীদ জিয়ার কর্মময় জীবনের ইতিহাস তুলে ধরেন।
বেলাল আহমেদ বলেন, সময় লাগলেও তারেক জিয়ার নেতৃত্বেই হাসিনার দুঃশাসন থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে। সাধারন সম্পদক আলী হায়দার মনসুর নিজেদের ঐক্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তার বক্তব্যে।
সহসভাপতি আবুল বশর তারেক জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সাংগঠনিক সম্পাদক রাজ্জাক হোসেন তারেক জিয়ার যেকোন নির্দেশের অপেক্ষায় দল উল্লেখ করে বলেন শত নির্যাতন মামলা হামলার মধ্যেও বিএনপি ছিলো আছে থাকবে এবং গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করবে।
যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী নিশো খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আন্দোলন ও সরকারের উপর চাপ প্রয়োগের কথা  উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে সোহরাব এইচ খান সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন, গত ২৮শে এপ্রিল ইউএসএ’র ১৮টি কমিটির শীর্ষ ৫ সদস্যদের মিটিং এ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন ঘোষণা করেন, ১৮টি কমিটির মধ্যে ২টি কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে যার একটি নিউ ইংল‍্যান্ড বিএনপি। তিনি নতুনদের যুক্ত করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে নতুন কমিটি গঠনের মত ব্যক্ত করেন। যাতে করে সত্যিকার অর্থেই একটি শক্তিশালী নিউইংল্যান্ড বিএনপি প্রতিষ্ঠা পায় এবং বাংলাদেশে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কিছুটা মন্থর আন্দোলন পরিস্থিতিকে আরো জোরালো আন্দোলনের দিকে নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকনের এমন সিদ্ধান্তের জন্য তার ভূয়সী প্রশংসা করেন উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীরা।  
সভায় উপস্থিত উপদেষ্টা মন্ডলীর মধ্যে ছিলেন রবিউল চৌধুরী ফরহাদ, তারেক আহমেদরুবেন, মাহমুদুর রহমান, পারভেজ চৌধুরী, মাহবুবুল হক ডিউক, মাহাবুবুর রহমান অপু, মুনির রহমান, প্রফেসর আব্দুস সালাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি ও বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আব্দুল মালেক, প্রধান বক্তা ও বিশেষ অতিথি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ, বিশেষ অতিথি ডঃ কায়ছার খান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শরাফত হোসেন বাবু জুম ও ফোনে আলোচনায় অংশ নেন।
এছাড়াও আফতাব আহমেদ, আকাতুল্লাহ ইসলাম, মাহবুবে খোদা খোকা, মোঃ সালাউদ্দিন খান ইমন, সৈয়দ সালাম শীলু, মোঃ গোলাম মোস্তফা, সালাউদ্দিন চৌধুরী, মেজর (অব.) রাকিবুল রহমান, মেজর (অব.) ইমরান, ইলিয়াস জাকারিয়া, মনির হোসেন, অনুজ কুমার শাহা, রবি শংকর, ওয়ালি উল্লাহ, মোঃ বাদল, মুসাভি ফারদিন, সাদাত সিয়াম, জাকির আলী, বেলাল উদ্দিন, শাকেরা বেগম, ফারুক তালুকদার, পিংকি ফারুক, আব্দুল্লাহ, ফয়জুল, মানিক, মোহন, রেজ্জাকুল,ইকরাম চৌধুরী, ইকবাল চৌধুরী, মুছাম্মৎ হালিমা, ফয়সাল চৌধুরী, মোঃ আজাদ, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ তায়েব, মোঃ নাজমুল আলম, কামরুল হাসান, মোযাম্মেল হোসাইন, আফরিন রাজ্জাক, ইলা দে, আবু তারেক, রাহুল দে, তাজ ফরহাদ, কাইসার খান, গিয়াস উদ্দিন, নাহিয়ান আলী, শরীফুল ইসলাম প্রমুখ উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন।