সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে বুধবার দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর শাহবাগ মোড়, জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা তাঁতীবাজার মোড়, শেরেবাংলা কৃষির শিক্ষার্থীরা আগারগাঁও-খামারবাড়ি সড়ক, জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে এসব সড়ক-মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা। ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ট্রেন থামিয়ে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেন। একই দাবিতে এদিন রাজশাহী, বেগম রোকেয়া ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদযাত্রা ও বিক্ষোভ হয়েছে। শিক্ষার্থীরা কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালে জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালসহ চার দাবিতে আন্দোলন করছেন। আজও এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান কর্মকসূচি পালন করবেন তারা।
শাহবাগ মোড় : বেলা আড়াইটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে থেকে মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর-টিএসসি-হাইকোর্ট-মৎস্যভবন হয়ে বিকাল পৌনে ৪টায় শাহবাগ মোড়ে যায়। শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান নিয়ে ‘সংবিধানের/মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ,’ ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘কোটা প্রথা, বাতিল চাই বাতিল চাই’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। এতে শাহবাগ মোড় অচল হয়ে পড়ে। দেড় ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নিয়ে কর্মসূচি সমাপ্ত করলে যান চলাচল ফের স্বাভাবিক হয়।
তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ : বেলা সাড়ে ৩টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেন। এ সময় তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘জেগেছে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’, ‘রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘আঠারোর হাতিয়ার গর্জে উঠো আরেকবার’, কোটা প্রথা নিপাত চাই, মেধাবীরা মুক্তি পাক’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। ১ ঘণ্টা পর তারা অবরোধ তুলে নিলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি কবি নজরুল কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থী জসিম উদ্দিন বলেন, আন্দোলন যতদিন না সফল হবে, ততদিন আমরা ঘরে ফিরব না।
আগারগাঁও-খামারবাড়ি সড়ক : রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে দুপুর ১২টায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘আমার দেশ আমার মা, বৈষম্য মানি না; কোটা বৈষম্য দূর কর, নইলে বুকে গুলি কর; সারা বাংলা খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে; ইত্যাদি স্লোগান দেন। পরে আগারগাঁও-খামারবাড়ি সড়ক অবরোধ করেন শতাধিক শিক্ষার্থী। এতে সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। পরে দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক : ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ২ ঘণ্টা (বেলা ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত) ধরে অবরোধ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের যুগ্ম-সম্পাদক ওমর ফারুক বান্না বলেন, বাংলাদেশের মেধাকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকার বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। আমরা কখনোই এই বৈষম্য মেনে নেব না। এদিকে অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনে আমিন বাজার পর্যন্ত এবং অপর লেনে চন্দ্রা পর্যন্ত যানজট দেখা দেয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন কয়েক হাজার যাত্রী।
অবরোধ চলাকালে নেতাকর্মীসহ আটকা পড়েন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এ সময় তার অনুসারীরা গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে শিক্ষার্থীরা গাড়ি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় তিনি কিছুক্ষণ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসংলগ্ন সাভারের কেন্দ্রীয় গো প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে অবস্থান করেন। এরপরেও শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই গাড়ি যেতে না দেওয়ায় একপর্যায়ে তিনি সিএন্ডবি পর্যন্ত হেঁটে গিয়ে আরেকটি গাড়িতে হেমায়েতপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
ট্রেন থামিয়ে বিক্ষোভ : বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীরা দুই দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল জব্বার মোড়ে রেললাইন অবরোধ করেন। ওই সময় ১ ঘণ্টা ট্রেন অবরোধ করে রাখা হয়। দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে সমবেত হন শিক্ষার্থীরা। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেআর মার্কেট হয়ে মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। সেখানে একটি প্রতিবাদ সভা করেন শিক্ষার্থীরা। পরে সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল জব্বার মোড় পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। ওই সময় ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জগামী মহুয়া কমিউটার ট্রেন আটকে রেখে বিক্ষোভ করেন তারা। প্রায় ১ ঘণ্টা পর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে তারা রেললাইন অবরোধ তুলে নেন। পরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক : কাফনের কাপড় পরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। ববির গেটসংলগ্ন মহাসড়ক অবরোধ করে বেলা ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অবস্থান নেন তারা। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়ে। নগরীর রূপাতলী বাস টার্মিনালের কাঁঠালতলা এলাকা থেকে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার জিরো পয়েন্ট তীব্র যানজট দেখা দেয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। অনেকে ব্যাগ-বস্তা মাথায় নিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ কয়েক কিলোমিটার হেঁটে গন্তব্যে রওয়ানা দেন। পরে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক ছাড়লে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পটুয়াখালীর ইয়াসিন হাওলাদার বলেন, স্ত্রীকে ডাক্তার দেখাতে বরিশালে এসে মহাবিপদে পড়েছি। বাসে ২ ঘণ্টা বসে থেকে বাধ্য হয়ে হাঁটা শুরু করেছি। আমার অসুস্থ স্ত্রী আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল দাবি শিক্ষার্থীদের
পরিবর্তনের হাওয়ায় দুলছে যুক্তরাজ্য
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জনবিচ্ছিন্ন। এ কথা মিথ্যা প্রমাণ করতে জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণায় নেমে গত কয়েক সপ্তাহে শত শত মাইল ঘুরেছেন তিনি। কিন্তু মানুষের প্রত্যাশায় পরিবর্তন আনতে পারেননি। এ অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যজুড়ে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে থেকে সুনাক ২০ মাসে কী করেছেন; তার পূর্বসূরি পরপর চার রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রীর পারফরম্যান্স কেমন ছিল, ভোটারদের রায়ে সেসবের মূল্যায়ন ফুটে উঠবে। জনমত জরিপের পূর্বাভাস, নির্বাচনে ভরাডুবি হতে যাচ্ছে সুনাকের কনজারভেটিভ পার্টির; লেবার পার্টি পেতে যাচ্ছে বড় জয়। এমনটা হলে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন কেয়ার স্টারমার।
ভোটে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের ৬৫০ সদস্য নির্বাচিত হবেন। এ অবস্থায় শেষ মুহূর্তে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন স্টারমার ও সুনাক। একের পর এক সভা করে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছেন তারা। নির্বাচনে ব্রিটেনের অর্থনীতির পাশাপাশি অভিবাসন ইস্যুটি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। নানা নির্বাচনী বক্তব্যে অভিবাসন বিষয়ে স্টারমারের নমনীয় নীতির প্রতিফলন ঘটেছে। সুনাক অবৈধভাবে ব্রিটেনে যাওয়া লোকজনকে আফ্রিকার রুয়ান্ডায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। স্টারমার বলছেন, তিনি এমনটা করবেন না।
শেষ মুহূর্তে মঙ্গল ও বুধবার সুনাক বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রচারণায় অংশ নেন। তিনিও হয়তো ধারণা করছেন, নির্বাচনে তাঁর দল ভালো ফল করতে যাচ্ছে না। বার্তা সংস্থা এপিকে তিনি বলেন, এ নির্বাচনের ফলাফলেই সব শেষ নয়। লোকজন হয়তো দেখতে পাবেন, আমরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছি। আমাদের জন্য গত কয়েক বছর ছিল বেশ জটিল। কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই- আগের চেয়ে সবকিছু ভালো অবস্থানেই আছে।
অপরদিকে লেবার নেতা কেয়ার স্টারমার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন। তিনি নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে ব্রিটিশদের প্রতি আহŸান জানিয়েছেন। বিশ্লেষক, রাজনীতিকসহ অধিকাংশ মানুষ মনে করেন, ব্রিটেনে আসলেই পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।
লেবার পার্টি যুক্তরাজ্যের মন্থর অর্থনীতি নিয়ে বড় কোনো আশার বাণী দেয়নি। তারা অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্পষ্ট কোনো বার্তাও দিতে পারেনি। তথাপি তাদের এ পুনর্জাগরণের কারণ কী? কার্যত সবকিছুই লেবারদের পক্ষে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ী স¤প্রদায়ের সমর্থন পেয়েছে লেবাররা। পাশাপাশি তারা দেশটির ঐতিহ্যবাহী রক্ষণশীল পত্র-পত্রিকার সমর্থন পেয়েছে, বিশেষ করে রুপার্ট মারডকের সানডে টাইমসের। লেবার পার্টির সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী ডগলাস বিটি বলেন, যুক্তরাজ্যের মানুষের মনোভাবের সঙ্গে স্টারমার একাত্ম হতে পারছেন।
বুধবার নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রক্ষণশীলরা ব্রিটেনকে ১৪ বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়েছে। এখন তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়া অত্যন্ত অজনপ্রিয় একটি দল। জনগণের মনোভাব টোরিদের বিরুদ্ধে। লন্ডনভিত্তিক জরিপ সংস্থা ইউগভের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বাসিন্দাদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মনে করে, ১৪ বছর আগে যেমনটা ছিল, এখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ৪৬ শতাংশ ভোটার মনে করে, পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত খারাপ’ হয়েছে।
রক্ষণশীলদের শাসনামলে ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট গণভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে আসে যুক্তরাজ্য। ২০২০ সালে শেষ হয় ব্রেক্সিট। কিন্তু এতে ব্রিটেনের অর্থনীতিতে কোনো সুবাতাস আসেনি। ব্রেক্সিটের স্পষ্ট বিরোধিতায় ছিল লেবাররা। কিন্তু এবার নির্বাচনী প্রচারণায় স্টারমার ব্রেক্সিট নিয়ে কিছুই বলছেন না। গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের অবস্থান কেমন হবে- এ নিয়ে স্টারমারের বক্তব্য অস্পষ্ট। সুতরাং ক্ষমতায় পালাবদল হলেও পরিস্থিতির পালাবদল নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।
এ নির্বাচনে আজ ভাগ্য নির্ধারণ হবে অন্তত ৩৪ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীরও। তাদের অনেকেই লেবার পার্টির হয়ে প্রতিদ্ব›িদ্বতায় অংশ নিচ্ছেন। কেউ কেউ স্বতন্ত্রও লড়ছেন। লেবার পার্টির টিকিটে যারা লড়ছেন, তাদের মধ্যে রুশনারা আলী, রুপা হক, টিউলিপ সিদ্দিক ও আফসানা বেগম উল্লেখযোগ্য। নির্বাচনে লেবার পার্টি জিতলে তাদের কেউ কেউ মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন।
রক্ষণশীল দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে ভোটে লড়ছেন দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক।
ডানপন্থিদের উত্থানে শঙ্কায় ফরাসি মুসলিমরা
ফ্রান্সে সংসদীয় নির্বাচনের প্রথম দফায় ৩৩ শতাংশ ভোট নিয়ে এগিয়ে আছে ন্যাশনাল র্যালি (এনআর)। কট্টর ডানপন্থি এই দলের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পর মুসলমানদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত রোববার প্রথম ধাপের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে কট্টর ডানপন্থিরা। আগামী ৭ জুলাই দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ হবে। অবশ্য দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে আরএন সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তার পরও শঙ্কায় রয়েছেন ফ্রান্সের প্রায় ৬০ লাখ মুসলমান।
প্যারিসের ২২ বছর বয়সী মুসলিম তরুণী ফাতিমাতা মনে করছেন, অনেক ফরাসি তার অস্তিত্বের বিরোধিতা করছেন। তিনি বলেন, আমি ফ্রান্সের দ্বারা প্রতারিত বোধ করছি। ১ কোটির বেশি মানুষ এমন একটি দলের জন্য ভোট দিয়েছে, যারা জনসমক্ষে পর্দা নিষিদ্ধ করার প্রচারণা চালাচ্ছে। ন্যাশনাল র্যালির নেত্রী মেরিন লা পেন জনসমক্ষে হিজাব নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর উত্তরসূরি জর্ডান বারদেলা এগিয়ে রয়েছেন। তিনি বলেছেন, পর্দা একটি বৈষম্যের হাতিয়ার। প্যারিসের উত্তরাঞ্চলের জনবহুল ব্যানলিউকের ইসলামীকরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন এবং তাঁর দল ক্ষমতা পেলে দ্বৈত নাগরিকদের কিছু কৌশলগত রাষ্ট্রীয় কাজে নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন।
বিপণনকর্মী ইলিয়াস বলেন, অনেক মুসলিম ভাবছেন, আরএন ক্ষমতা পেলে তারা ফ্রান্স ছেড়ে চলে যাবেন। এ বছরের শুরুর দিকে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ইসলামবিদ্বেষের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে ফরাসি মুসলমানরা বিদেশে চাকরির সন্ধানে দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন। ১ হাজার জনেরও ওপর করা ওই গবেষণায় ১৪০ জনের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থী তিজিরি মেসাউদেন বলেন, ন্যাশনাল র্যালি বলছে, দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের কিছু কৌশলগত অবস্থানে কাজ করতে দেওয়া হবে না। এটি আমার ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলছে।
খবর আলজাজিরার।
কোথাও যাচ্ছি না, আমিই নির্বাচনে লড়ছি: বাইডেন
গত সপ্তাহে দুর্বল বিতর্কের জন্য ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে যেতে তার ওপর চাপ বেড়েই চলেছে। তবে সব চাপ উপেক্ষা করে লড়াইয়ে ‘শেষ পর্যন্ত’ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনিই প্রার্থী হিসেবে লড়বেন। তিনি দলের মনোনীত প্রার্থী। তাঁকে কেউ বাইরে ঠেলে দিচ্ছে না। তিনি নিজেও প্রতিদ্ব›িদ্বতা থেকে কোথাও সরে যাচ্ছেন না।
বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বুধবার তার প্রচারণা কর্মীদের সঙ্গে ফোন কলে কথা বলেছেন এবং ডেমোক্র্যাটিক আইন প্রণেতা ও গভর্নরদের সাথে বৈঠক করেছেন। এসময় ২০২৪ সালের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াইয়ে থাকার প্রতিশ্রæতি দেন।
আসন্ন এই নির্বাচনকে সামনে রেখে গত সপ্তাহে বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন দুই প্রার্থী জো বাইডেন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, সীমান্ত ইস্যু, সামাজিক নিরাপত্তা, চাইল্ড কেয়ার, কংগ্রেস ভবনে হামলার ঘটনা এবং গর্ভপাতসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তারা কথা বলেন এবং সেই বিতর্কে বাইডেনের পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত দুর্বল।
মূলত এই বিতর্কে ধরাশায়ী হওয়ার পর থেকে আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা থেকে সরে যেতে বাইডেনের ওপর চাপ ক্রমে বাড়ছে। এমনকি নিজের দল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতর থেকেও চাপের মুখে পড়েছেন তিনি।
অনেকেই বলছেন, ৮০ বছরের বেশি বয়সী বাইডেনের এবার আর নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করা উচিত নয়। কারণ, তিনি ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না। বিতর্কের সময় প্রতিপক্ষের কথার জবাবও দিতে পারছেন না।
এছাড়া ট্রাম্পও এনিয়ে বাইডেনকে আক্রমণ করে চলেছেন। নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই বাইডেনের বয়স এবং কর্মক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাবেক এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট।
এমন অবস্থায় বুধবার প্রচারণা কর্মীদের সাথে কথা বলার পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটিক আইন প্রণেতা ও গভর্নরদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাইডেন। এর মাধ্যমে তিনি মূলত গত সপ্তাহের বিতর্কে নড়বড়ে পারফরম্যান্সের পরে তাকে নির্বাচনী লড়াই বাদ দেওয়ার আহŸানগুলো ঝেড়ে ফেলতে চেয়েছিলেন।
বাইডেনের এই ফোনকল সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট তার প্রচার দলের উদ্বিগ্ন সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার জন্য ফোনে কথা বলেন এবং তাদের বলেন- তিনি (নির্বাচনী দৌড় ছেড়ে) কোথাও যাচ্ছেন না।
এদিকে নিজের প্রচারণা দলের কাছে পাঠানো পৃথক এক ইমেইলে জো বাইডেন বলেছেন, ‘কেউ আমাকে বাইরে ঠেলে দিচ্ছে না। আমি (নির্বাচনী লড়াই) ছাড়ছি না। আমি শেষ পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতায় আছি।’
এছাড়া আগামী ৫ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রতিদ্ব›দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরাজিত করতে সাহায্য করার জন্য সমর্থকদেরকে ‘কিছু অর্থ’ দেওয়ারও আহŸান জানিয়েছেন তিনি।
রয়টার্স বলছে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বুধবার সন্ধ্যায় ভার্চ্যুয়ালি ও ব্যক্তিগতভাবে ২৪ জন ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর এবং ওয়াশিংটন ডিসির মেয়রের সাথে বৈঠক করেন। গত সপ্তাহের বিতর্কে দুর্বল পারফরম্যান্সের পর সমালোচনার জেরে নিজের প্রকৃত সক্ষমতা নিয়ে বৈঠকে তাদের আশ্বস্ত করেন তিনি।
বৈঠকের পর মাত্র তিনজন গভর্নর – নিউইয়র্ক, মিনেসোটা এবং মেরিল্যান্ডের নেতারা – সাংবাদিকদের সাথে দেখা করেন এবং গত সপ্তাহের বিতর্কে খারাপ পারফরম্যান্স সম্পর্কে বিশদ আলোচনার পরে বাইডেনের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন তারা।
১১ মার্কিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে দমনপীড়ন চালানোর অভিযোগে অন্তত ১১ মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইরান। গত ৭ অক্টোবর ইহুদিবাদী ইসরাইল গাজায় বর্বর আগ্রাসন শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তার প্রতিবাদে বিক্ষোভে নামে।
বুধবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইরান আরও জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তারা ইরানি অর্থ ব্যবস্থা ও ব্যাংকিং সিস্টেমে লেনদেন করতে পারবেন না। তাদের সম্পদ জব্দ করা হবে এবং তাদেরকে ইরানে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হবে না।
নিষেধাজ্ঞা পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন-
১. উইলিয়াম বিলি হিচেনস, জর্জিয়ার জননিরাপত্তা বিভাগের কমিশনার।
২. এডি গ্রিয়ার, জর্জিয়ার ফিল্ড অপারেশনের কমান্ডিং অফিসার।
৩. লিন্ডা জে. স্টাম্প-কার্নিক, ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরিডা পুলিশ বিভাগের প্রধান।
৪. পামেলা এ. স্মিথ, কলম্বিয়া জেলার মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগের প্রধান।
৫. জেফরি ক্যারল, নির্বাহী সহকারী প্রধান, মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগ।
৬. কার্ল জ্যাকবসন, নিউ হ্যাভেন পুলিশ বিভাগের প্রধান।
৭. শেন স্ট্রিপি, ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস পুলিশ বিভাগের সহকারী প্রধান।
৮. মাইকেল কক্স, বোস্টন পুলিশ বিভাগের কমিশনার।
৯. স্কট ডানিং, ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি পুলিশ বিভাগের কেন্দ্রীয় বিভাগের প্রধান।
১০. মাইকেল থম্পসন, অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির পুলিশ প্রধান।
১১. জন ব্রকি, সিএএল স্টেট লং বিচ পুলিশ বিভাগের পুলিশ প্রধান।
তেহরান জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তারা ইরানি অর্থ ব্যবস্থা ও ব্যাংকিং সিস্টেমে লেনদেন করতে পারবেন না। তাদের ইরানে থাকা সম্পদ জব্দ করা হবে এবং ইরানের ভিসা দেয়া হবে না।
এর আগে গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল।
রাজ্যসভাতেও মোদীকে ছাড় দিলো না বিরোধীরা!রাজ্যসভাতেও মোদীকে ছাড় দিলো না বিরোধীরা!
ইসরাইলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৩৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন ৮৪ হাজারের বেশি মানুষ। এছাড়াও নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক হাজার গাজাবাসী।
চলমান এ গণহত্যা শুরুর পরপরই এর প্রতিবাদে বিক্ষোভে নামে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হাজার হাজার শিক্ষার্থী। কিন্তু সেই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে দমনপীড়ন চালায় পুলিশ-প্রশাসন।
টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলিনা, উটাহ, ভার্জিনিয়া, নিউ মেক্সিকো, নিউ জার্সি, কানেক্টিকাট ও লুজিয়ানার ক্যাম্পাসগুলো থেকে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের হামলায় গুরুতর আহত হয় অসংখ্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষক।
কমান্ডার হত্যার জবাবে ইসরাইলে ১০০ রকেট হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ
সীমান্তের লেবাননের দিক থেকে রকেট ছোড়ার পরে ইসরায়েল-অধিভুক্ত গোলান মালভূমিরত পাহাড়ের উপর দিয়ে ধোঁয়া উড়ছে।
ইসরাইলের হামলায় লেবাননের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর এক শীর্ষ কমান্ডার নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ১০০টি ‘কাতিউশা’ রকেট হামলা চালিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার ইসরাইলের মারজায়ুনের দক্ষিণ লেবানিজ এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় এই হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। খবর আলজাজিরার।
এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে হত্যা করায় ইসরাইলের দখলকৃত গোলান হাইটসের দুটি স্থানে এসব রকেট ছোড়া হয়েছে। তারা বলেছে, হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা (ইসরাইলি) গোলান ডিভিশন হেডকোয়ার্টারের নাফাহ ব্যারাক এবং আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার হেডকোয়ার্টারের কেইলা ব্যারাকে হামলা চালিয়েছে।
তারা আরও বলেছে, ইসরাইলি শত্রুরা লেবাবনের উপকূলীয় শহর তায়ারে যে হামলা ও হত্যা চালিছে সেটির জবাবের অংশ এই হামলা। দখলদার ইসরাইলের হামলায় হিজবুল্লাহর অন্যতম জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিমার নাসের নিহত হন। তিনি ‘হজ আবু নিমা’ নামেও পরিচিত। ইসরাইলি হামলায় তার দেহরক্ষীও প্রাণ হারান।
প্রসঙ্গত, গত বছরের অক্টোবরে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এতে যোগ দেয় লেবানের শক্তিশালী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও। যুদ্ধের শুরুতে হিজবুল্লাহর হামলার তীব্রতা কম থাকলেও গত কয়েক মাসে এটি বৃদ্ধি পেয়েছে। হামলা বাড়িয়ে দেওয়ায় হিজবুল্লাহর সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে ইসরাইল।
ইভটিজার থেকে যেভাবে হয়ে উঠলেন ‘ভোলে বাবা’
ভারতের উত্তরপ্রদেশে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে অন্তত ১১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী। এছাড়া শিশুও রয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুলাই) মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারানো এসব মানুষ গিয়েছিলেন ভোলে বাবা নামক এক কথিত ধর্মগুরুর অনুষ্ঠানে। এই ভোলে বাবা নারায়ণ সরকার হরি নামেও পরিচিত।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে ওই ধর্মীয় জমায়েত, যেগুলিকে ‘সৎসঙ্গ’ বলা হয়ে থাকে, সেটির আয়োজকরা অনুমতি নিয়েছিলেন ৮০ হাজার মানুষের জমায়েতের। প্রকৃতপক্ষে এর কয়েক গুণ বেশি মানুষ মঙ্গলবার জড়ো হয়েছিলেন ‘ভোলে বাবা’ নামে পরিচিত ওই স্বঘোষিত ধর্ম প্রচারকের সভায়।
আবার এই ‘ভোলে বাবা’ কীভাবে ইভটিজিংয়ের দায়ে পুলিশ কনস্টেবলের চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়ে, জেল খেটে বেরিয়ে ধর্মগুরু হয়ে উঠলেন, সেটিও যেন এক সিনেমার গল্প।
এখন ওই স্বঘোষিত ধর্ম প্রচারকের খোঁজে তার কয়েকটি আশ্রমে তল্লাশি চালাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।
তবে বুধবার যে এফআইআর দায়ের হয়েছে, সেখানে ওই ধর্ম প্রচারকের নাম নেই বলে জানাচ্ছেন বিবিসির সংবাদদাতারা।
উত্তর প্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে ‘ভোলে বাবা’ নামে পরিচিত নারায়ণ সরকার হরির আসল নাম সুরজ পাল জাটভ।
কাসগঞ্জ জেলার বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা জাটভ উত্তর প্রদেশ পুলিশের কনস্টেবল ছিলেন। চাকরি জীবনের গোড়ার দিকে বেশ কয়েক বছর পুলিশের স্থানীয় গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত ছিলেন তিনি। প্রায় ১৮টি থানা এলাকায় কাজ করেছেন তিনি।
প্রায় ২৮ বছর আগে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ দায়ের হয় তার বিরুদ্ধে। প্রথমে সাসপেন্ড করা হয়েছিল জাটভকে, পরে বরখাস্ত হন তিনি।
ইটাওয়া জেলার সিনিয়র পুলিশ সুপার সঞ্জয় কুমার বিবিসিকে জানিয়েছেন, ওই ইভটিজিংয়ের ঘটনায় বেশ লম্বা সময় জেলে ছিলেন সুরজ পাল জাটভ। কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে ‘বাবা’র রূপ ধরেন তিনি।
বরখাস্ত হওয়ার পরে সুরজপাল জাটভ আদালতে গিয়েছিলেন নিজের চাকরি ফিরে পেতে। আদালত চাকরি ফিরিয়েও দিয়েছিল। কিন্তু ২০০২ সালে আগ্রা জেলায় কর্মরত অবস্থায় স্বেচ্ছায় অবসর নেন জাটভ।
এরপর তিনি ফিরে গিয়েছিলেন নিজের গ্রামের বাড়িতে। কিছুদিন পরে তিনি দাবি করতে থাকেন যে সরাসরি ঈশ্বরের সঙ্গে কথা হয় তার। এই সময় থেকেই নিজেকে ‘ভোলে বাবা’ হিসেবে তুলে ধরতে থাকেন জাটভ।
ভারতীয় বংশোদ্ভুত যুবকের জালিয়াতিতে হতবাক মার্কিন বিনিয়োগকারীরা
ইন্দো-মার্কিন ব্যবসায়ী ঋষি শাহ। আউটকাম হেলথের সাবেক সহ প্রতিষ্ঠাতা। তার জালিয়াতি দেখে চমকে গিয়েছে গোল্ডম্যান স্যাকস গ্রæপ ইনকর্পোরেটেড, গুগলের প্যারেন্ট অ্যালফাবেট ইনকর্পোরেটেড এবং ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিটজকারের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মের মতো বিনিয়োগকারীরাও। ১ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতির জন্য শিকাগোর সাবেক জেট-সেটিং এই ধনকুবেরকে সাড়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এই ঋষি শাহ যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন তখনই এই আউটকাম হেলথের বিষয়টি তার মাথায় আসে। মূলত ডাক্তারদের চেম্বারে মেডিকেল সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য এই সংস্থা ২০০৬ সালে তৈরি হয়েছিল।
ডাক্তারদের অফিসে টিভিতে বিজ্ঞাপন সরবরাহকারী আউটকাম হেলথের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ৩৮ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি শাহকে গত বছর একটি ফেডারেল জুরি এক ডজনেরও বেশি জালিয়াতি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। সোমবার এক বিবৃতিতে মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, গত সপ্তাহে শিকাগোতে মার্কিন জেলা জজ থমাস ডারকিন তাকে এবং আরও দুই নির্বাহীকে এ সাজা দিয়েছেন।
প্রসিকিউটররা ঋষি শাহকে ক্লায়েন্ট, ঋণদাতা, বিনিয়োগকারী এবং একটি অডিট ফার্মের কাছে মিথ্যাচারের চমকপ্রদ কাজের পেছনে চালিকা শক্তি হিসেবে বর্ণনা করে ১৫ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিলেন। তিনি এবং অন্যান্য নির্বাহীদের বিরুদ্ধে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির ক্লায়েন্টদের কাছে মিথ্যা বলা এবং কখনও স্থাপন করা হয়নি এমন বিজ্ঞাপনের জন্য অর্থ নেওয়া এবং তারপরে বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানির স্বাস্থ্যের ভুলভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
২০১৭ সালে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক নিবন্ধে এ জালিয়াতি প্রকাশ পাওয়ার আগে শাহ একেবারে উদীয়মান তারকা ছিলেন। শিকাগোর ঠিক উত্তরে নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন ২০০৬ সালে শাহ আউটকামের ধারণাটি পেয়েছিলেন – তখন কনটেক্সট মিডিয়া হেলথ নামে পরিচিত – এবং পরবর্তী দশকে কোম্পানির দ্রæত উত্থান তার জনসাধারণের প্রোফাইলকে বাড়িয়ে তোলে। তৎকালীন মেয়র রাহম ইমানুয়েল একটি কোম্পানির সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেছিলেন, ফলাফল যেমন যায়, তেমনি শিকাগোও যায়।
কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ রাজস্ব বৃদ্ধির ফলাফলের দাবিগুলি জালিয়াতির দ্বারা চালিত হয়েছিল, কারণ সংস্থাটি স¤প্রচারের চেয়ে বেশি বিজ্ঞাপন বিক্রি করেছিল এবং ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্ট নোভো নরডিস্ক এ / এসের মতো ক্লায়েন্টদের কাছে ডাক্তারদের অফিসে টিভিগুলির নেটওয়ার্কের আকার সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিল, প্রসিকিউটর এবং সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রকদের মতে।
বিজ্ঞাপন বিক্রয় এবং যে অর্থ এসেছিল তা কোম্পানির নগদ অর্থ বৃদ্ধির ফলে শাহ একটি বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য আউটকাম থেকে শত শত মিলিয়ন ডলার তুলতে পেরেছিলেন, ব্যক্তিগত ইয়ট এবং জেটগুলিতে সপ্তাহান্তে ভ্রমণের পাশাপাশি ১০ মিলিয়ন ডলারের বাড়িও ছিল, সরকার জানিয়েছে সেকথা। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে ভুয়া আর্থিক বিবৃতির ভিত্তিতে ঋণদাতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বেশি অর্থ সংগ্রহের পর ঋষি শাহের মোট সম্পদের পরিমাণ ৪০০ কোটি ডলারেরও বেশি।
বিচার বিভাগের অপরাধ বিভাগের প্রধান প্রিন্সিপাল ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল নিকোল এম আরজেনটিয়েরি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আউটকামের সাবেক নির্বাহীরা বছরের পর বছর ধরে তাদের গ্রাহক, নিরীক্ষক, ঋণদাতা এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। ’
শাহ গত সপ্তাহে একটি প্রস্তুত বিবৃতিতে বিচারককে বলেছিলেন যে প্রবৃদ্ধির জন্য কোম্পানির আগ্রাসী ধাক্কা সঠিকভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থতার জন্য তিনি টলজ্জিত ও বিব্রতট, যার ফলে টবেশ কয়েকটি মারাত্মক ভুলট হয়েছিল যার মধ্যে ক্লায়েন্টদের দ্বারা প্রদত্ত বিজ্ঞাপনের বিতরণ ট্র্যাক না করা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আদালতে দায়ের করা বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমি যে সংস্কৃতি তৈরি করেছি তা আমার দলের লোকদের ক্লায়েন্টদের প্রশ্নের জবাবে মিথ্যা তথ্য তৈরি করা ঠিক আছে বলে মনে করার অনুমতি দিয়েছে।
২০২৩ সালের এপ্রিলে আউটকাম প্রেসিডেন্ট এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা শ্রদ্ধা আগরওয়াল এবং চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার ব্র্যাড পার্ডির সাথে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল। প্রসিকিউটররা আগরওয়াল (৩৮) ও পার্ডির (৩৫) ১০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিলেন। কিন্তু ডারকিন আগরওয়ালকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন এবং পার্ডিকে দুই বছর তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
গোল্ডম্যান, অ্যালফাবেট এবং প্রিটজকারের মালিকানাধীন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি গ্রæপ ছিল যারা ২০১৭ সালে আউটকামের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল, দাবি করেছিল যে সে বছর ৪৮৭.৫ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহের সাথে জড়িত জালিয়াতি যা শাহ এবং আগরওয়ালের পকেটে ২২৫ মিলিয়ন ডলার লভ্যাংশের দিকে পরিচালিত করেছিল।
এছাড়াও, মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন শাহ, আগরওয়াল, পার্ডি এবং প্রাক্তন চিফ গ্রোথ অফিসার আশিক দেশাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। দেশাই এবং আরও দুই আউটকাম কর্মচারী কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচারের আগে অভিযোগের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন।
রাশিয়ার সঙ্গে আপসে প্রস্তুত নয় ইউক্রেন
রাশিয়ার সঙ্গে কোনো আপসে প্রস্তুত নয় ইউক্রেন। এমনটাই জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ আন্দ্রেই ইয়ারমাক। এমনকি যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কোনো অঞ্চল ছেড়ে দিতেও ইউক্রেন রাজি নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার তাসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স¤প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে দ্রæত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করবেন। ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘যুদ্ধে কীভাবে ন্যায়সংগত শান্তি অর্জন করা যায়, সে বিষয়ে কিয়েভ যে কোনো পরামর্শ শুনতে রাজি। তবে আমরা মূল্যবোধ, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, আঞ্চলিক অখণ্ডতাসহ সার্বভৌমত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত নই।’ আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে প্রাধান্য পাবে ইউক্রেন যুদ্ধ। এ বিষয়টিকে সামনে রেখেই যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন ইয়ারমাক।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের সময় বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে চ্যালেঞ্জ করে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নভেম্বরে পুনর্র্নিবাচিত হলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই ইউক্রেনের যুদ্ধের অবসান ঘটাবেন। তবে তিনি কীভাবে এটি করবেন সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো রূপরেখা দেননি। তবে গত সপ্তাহে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্রাম্পের দুই উপদেষ্টা তাকে এ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা দিয়েছেন।
এদিকে ইউক্রেনে হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। বুধবার ইউক্রেনের দিনিপ্রোতে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাঁচজন নিহত ও ৪৭ জন আহত হয়েছেন। দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাদের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আমার সমবেদনা। এ ছাড়া এক শিশুসহ ৪৭ জন আহত হয়েছেন।’ আঞ্চলিক গভর্নর সের্গেই লাইসাক এর আগে হামলাটিকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। হামলায় আহতদের মধ্যে ১৪ বছর বয়সি একটি মেয়েও রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ইউক্রেনীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হামলার ফুটেজে শহরে কালো ধোঁয়া উড়তে এবং মানুষকে গাড়ি নিয়ে দ্রæত পালাতে দেখা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ হামলার কারণে জেলেনস্কি তার মিত্রদের কাছে আরও দূরপাল্লার অস্ত্র সরবরাহের আহŸান জানিয়েছেন। যা দ্বারা দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা জোরদার ও রাশিয়ার হামলাকে নস্যাৎ করতে পারবে। এএফপির তথ্যানুসারে, রুশ বাহিনী দুই বছর আগে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই শিল্প শহর ও আশপাশের অঞ্চলে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার এসব হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও জোরদার ও দূরপাল্লার অস্ত্রের প্রয়োজন।
বিশ্বকাপ নিয়ে দেশে ফিরেছে রোহিতরা, চলছে উদযাপনের প্রস্তুতি
বিশ্বকাপ জয়ের ৪ দিন পর অবশেষে ভারতে ফিরেছে রোহিত শর্মার দল। বিশ্বকাপ জিতলেও নিজেদের দেশের মাটিতে পা রেখেই বিশ্বকাপ জয়ের উদযাপন সারতে চায় তারা। সেই লক্ষ্যেই এখন চলছে জোর প্রস্তুতি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে বিশেষ বিমানে করে সকাল সাড়ে ৬ টায় দিল্লিতে পা রাখে ভারতীয় ক্রিকেট দল।
গত ২৯ জুন দক্ষিণ আফ্রিকাকে শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ৭ রানে হারিয়ে ১১ বছর পর কোনো শিরোপা জেতে ভারত। টি-টোয়েন্টিতে যা ১৭ বছর পর। এমন জয়ের পর দেশে ফিরে উদযাপনের জন্য যখন তর সইছিল না রোহিত-কোহলিদের। তখন তাদের ভারত যাত্রায় বাধ সাধে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ‘বেরিল’। যার জন্য গত চারদিন বার্বাডোজেই কাটাতে হয়েছে রোহিত-কোহলিদের। আর এদিকে রোহিত-কোহলিরা ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরবেন সে আশায় পথ চেয়ে আছে দেশটির কোটি ক্রিকেটপ্রেমী।
অবশেষে তাদের সেই অপেক্ষা ফুরল। ট্রফি নিয়ে সকালেই দেশে ফিরেছেন রোহিত-কোহলিরা। সেখানে থেকে একটি হোটেলে যাবেন তারা। এরপর স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যাবেন বিশ্বজয়ীরা। সেখান থেকে আবার দিল্লি বিমানবন্দরে ফিরবে দল। এরপর বিকাল ৪টায় মুম্বাই পৌঁছাবেন রোহিতেরা। বিকাল ৫টায় শুরু হবে বিজয় যাত্রা।
নরিম্যান পয়েন্ট থেকে ছাটখোলা বাসে ২ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে রোহিতেরা পৌঁছবেন ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। সেখানে সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এর পর নিজেদের বাড়ি চলে যাবেন বিশ্বজয়ীরা।
বিশ্বকাপ জয় উদযাপনে সামিল হতে দর্শকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে রোহিত এক্স লিখেছেন, ‘আপনাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা বিশেষ মুহূর্তটা (বিশ্বকাপ জয়) উদযাপন করতে চাই। ৪ জুলাই বিকেল পাঁচটা থেকে মেরিন ড্রাইভ এবং ওয়াংখেড়েতে ভিক্টরি প্যারেড করে এই জয়টা উদযাপন করতে চাই। ইটস কামিং হোম।’
এর আগে সবশেষ ঘরের মাটিতে হওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপে ফাইনালে খেলেছিল ভারত। যদিও আহমেদাবাদে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারতে হয়েছে ভারতকে। তবে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে ভক্তদের সেই আক্ষেপ দূর করেছে রোহিত শর্মার দল। এমন জয়ের পর নিজেদের ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ও রবীন্দ্র জাদেজারা। বিশ্বকাপ জয়ের ম্যাচটিকে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হিসেবে করে রেখেছেন স্মরনীয়।


