Home Blog Page 565

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ সোসাইটি, নিউইয়র্ক এর দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন

সালাহউদ্দিন আহমেদ: বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ সোসাইটি, নিউইয়র্ক এর দ্বি-বার্ষিক (২০২৫-২০২৬) নির্বাচন। রোববার (২৭ অক্টোবর) এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠত হয়। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটির এবারের নির্বাচনে ভোটার ছিলো সংখ্যা ছিলো ১৮ হাজার ৬১৩ জন। নিউইয়র্ক সিটির ৫টি ভোট কেন্দ্রে ৫৮টি মেশিনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ছোট-খাটো অভিযোগ ছাড়া শান্তিপূনর্ণ পরিবেশ আর দেশীয় স্টাইলে এই নর্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের দিন জ্যামাইকা কেন্দ্রে সকাল ৯টায় প্রথম ভোট দেন প্রবীণ প্রবাসী ছদরুণ নূর। অপরদিকে উডসাইড কেন্দ্রে রাত ৯টার পর শেষ ভোট দেন কুইন্স ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিষ্ট্রিক্ট লীডার এটর্নী মঈন চৌধুরী। খবর ইউএনএ’র।

BDS Election Pic 27 Oct 2024 Pic 04 edited

আবেগ-আপ্লুত ‘সেলিম-আলী’: সোসাইটির নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার আগেই রাত ১০টার দিকে অনেকটা জানাজানি হয়ে যায় রোববারের নির্বাচনে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেল জয়ী হতে চলেছে। এসময় উডসাইড কেন্দ্রে শত শত প্রবাসী অপেক্ষায় চুড়ান্ত ফলাফর ঘোষণা শুনার অপেক্ষায়। একে একে কেন্দ্রের ভিতরে আসলেন সভাপতি পদপ্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম আর সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলী সহ অন্যান্য প্রার্থীরা। আসলে প্রতিদ্ব›িদ্ব সভাপতি পদপ্রার্থী রুহুল আমীন সিদ্দিকীও। ‘সেলিম-আলী’ তার সমর্থকদের সাথে হাত মেলানো, বিজয়ের শুভেচ্ছা বিনিময় আর কোলাকুলি সময় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। একসময় আতাউর রহমান সেলিমের চোখে খানিকটা জল দেখা যায়।
‘সেলিম-আলী’র আশা পূরণ: অবশেষে আশা পূরণ হলো ‘সেলিম-আলী’র। সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম সোসাইটির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছিলেন জালালাবাদ এসোসাসিয়েশন অব আমেরিকা আর বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকা’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের সাথে তিনি জড়িত। এবার সোসাইটির সভাপতি হতে তিনি নাকি বিগত দু’বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অপর দিকে সোসাইটির সাবেক নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী গত নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রতিদ্ব›িদ্বতা করে রুহুল আমীন সিদ্দিকীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। তাই এবারের নির্বাচন ছিলো তার জন্য ‘প্রেসটেজিয়াস ইলেকশন’। বিজয়ী মোহাম্মদ আলীও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত।

BDS Election Pic 27 Oct 2024 Pic 03 edited

‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের বিজয়ের নেপথ্যে ছিলেন যারা: ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের বিজয়ের নেপথ্যে থেকে যারা কাজ করেছেন তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহŸায়ক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাপ্তাহিক আজকাল সম্পাদক লায়ন শাহ নেওয়াজ এবং সদস্য সচিব কাজী তোফায়েল ইসলাম সহ উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও এই প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আজমল হোসেন কুনু, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন খান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহীম হাওলাদার, সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আজহারুল হক মিলন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, সোসাইটির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম সমিতি ইউএসএ’র সাবেক সভাপতি কাজী আজম, সন্ধীপ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ফিরোজ আহমেদ, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার একাংশের সভাপতি বদরুল হোসেন খান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিম, সাবেক সভাপতি বদরুন নাহার খান মিতা, বিয়ানীবাজার সমিতির সাবেক সভাপতি মকবুল রহিম চনুই, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম অপু, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা ও সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার আহসান হাবব, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাঈম টুটুল প্রমুখ বলে সংশ্লিস্টরা জানান। এছাড়াও জ্যামাইকা, ওজনপার্ক, ব্রæকলীন এবং ব্রঙ্কস নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমও রয়েছে বলে জানান সংশ্লিস্টরা।
রুহুল আমীন সিদ্দিকীর প্রশংসা: নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার আগ থেকেই উডসাইড কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন ‘রুহুল-জাহিদ’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী এবং সোসাইটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকী। তিনি বসেছিলেন সামনের সারিতে। যখন চারিদিকে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের জয়জয়কারের আওয়াজ এবং নির্বাচনে ‘সেলিম-আলী’-ই জয়ী হতে চলেছেন- এমনটি টের পেয়ে রুহুল আমীন সিদ্দিকী দ্বিতীয় সারিতে গিয়ে বসেন। এরপর তিনি ফলাফল মেনে নিয়ে এক সাথে কাজ করারও অঙ্গীকার করেন। অপরদিকে আতাউর রহমান সেলিম ও মোহাম্মদ আলীর সাথে কোলাকুলি করেন। সেলিম-রুহুল একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কিছুক্ষণ সময় কাটালেন। যা উপস্থিত সকলের কাছে প্রশংসিত হয়। এছাড়াও ফলাফল ঘোষণার শেষ পর্যন্ত রুহুল আমীন সিদ্দিকী সহ তার প্যানেলের ২/৪জন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। যার জন্য রুহুল আমীন সিদ্দিকী আরো প্রশংসিত হন।

BDS Election Pic 27 Oct 2024 Pic 08

ইসি সদস্যদের বক্তব্যে বিরক্তি প্রকাশ: রাত ৯টায় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) এর প্রয়োজনীয় কর্ম শেষ করে ফলাফল প্রকাশ করতে দুই ঘটনা লেগে যায়। রাত ১১টার দিকে ফল ঘোষণা করা হয়। এর আগে নির্বাচন কমিশনের সদস্যার একে একে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এতে বিরক্তি প্রকাশ করেন উপস্থিত শত শত প্রবাসী বাংলাদেশীরা। পাশাপাশি ফল ঘোষণার সময় এক এক প্রার্থীর ফল ঘোষণার পর পরই বারংবার উপস্থিত প্রবাসীরা উল্লাস প্রকাশ করলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জামাল আহমেদ জনি নিজেও বিরক্ত হন এবং এক পর্যায়ে প্রয়োজনে ফল ঘোষণা স্থগিত করার ঘোষণা দিলে প্রবাসীরা শান্ত হন।
জ্যামাইকা কেন্দ্রে ঐক্যের ঘোষণা দিলেন ‘আলী-জাহিদ’: রোববার ভোট গ্রহণ চলকালে বেলা আড়াইটার দিকে জ্যাকাইকা কেন্দ্রে মুখোমুখি হন দুই প্যানেলের দুই সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলী ও জাহিদ মিন্টু। এসময় তারা একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় আর হ্যান্ডশেক করেন। তাদের দেখে মিডিয়া কর্মীরা তাদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে উভয়ে হার-জিত উপক্ষো করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং একে অপরকে আবারো জড়িয়ে ধরেন।
ব্রæকলীন কেন্দ্রে অপ্রীতকর ঘটনা: নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ব্রæকলীন কেন্দ্র ছাড়া অন্যান্য কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। ব্রæকলীন কেন্দ্রে বেলা আড়াইটার দিকে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সালেহ আহমেদ মানিক নামের একজন আহত হলে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। মনিক জানান, কে বা কারা অতর্কিতে আমার উপর হামলা করে এবং শারীরিকভাবে আঘাত করে। তাদের মধ্যে ২/১জনকে আমি চিনতে পেরেছি। কিন্তু কেন আমার ওপর হামলা হলো তা বুঝতে পারিনি। হামলার পর আহত হলে অ্যাম্বুলেস যোগে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।
‘গড ফাদার’ মুক্ত হোক সোসাইটি: সোসাইটির নির্বাচনী ফলাফল ঘোষনার পর পরই উডসাইড কেন্দ্রে কেউ কেউ বলে উঠেন ‘গড ফাদার’ মুক্ত হোক সোসাইটি। কেউ কেউ মন্তব্য করেন ‘সেলিম-আলী’ প্যানেল জয়ের মধ্য দিয়ে সোসাইটি ‘গড ফাদার’ মুক্ত হবে। তাহলে প্রশ্ন উঠে আসলেই কি সোসাইটি এতোদিন ‘গড ফাদার’ আবিষ্ট ছিলো। প্রশ্ন কে সেই ‘গড ফাদার’?
১৪৫ টি প্রেস আইডি: বাংলাদেশ সোসাইটির এবারের নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ‘প্রেস আইডি’ ইস্যূ করেতে হয়েছে নির্বাচন কমিশন-কে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জামাল আহমেদ জনি ফলাফল ঘোষণার আগে জানান নির্বাচন কভার করার জন্য এবার ১৪৫টি ‘প্রেস আইডি’ ইস্যু করেছেন। তার ভাষায় সংশ্লিস্ট মিডিয়া ও সাংবাদিকরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করায় তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কিন্তু ‘প্রেস মিডিয়া’র এই তালিকার কবথা শুনে সেখানে উপস্থিত পেশাদার সাংবাদিকদের মধ্যে কানাঘুষা শুনা যায় যে, এতো মিডিয়া আর এত্তো সাংবাদিক কোথায়? কারা তারা? ইত্যাদি ইত্যাদি নানা প্রশ্ন। বিব্রতবোধ করলাম আমি নিজেও।

হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী শতাধিক অপরাধের অভিযোগ

ভারতে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরশাসক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সময় সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের এ পর্যন্ত শতাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে সাবেক শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সংঘটিত সব গুমের অভিযোগ তদন্ত চেয়ে ট্রাইব্যুনালে অর্ধশতাধিক আবেদন করা হয়েছে। অপর দিকে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ছাত্র আন্দোলনে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের জন্য ভিক্টিমের পরিবারের পক্ষে আড়াই শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলাও একটি পর্যায়ে প্রজ্ঞাপন জারি করার মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হবে বলে প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে।

অপর দিকে ট্রাইব্যুনালের পুরাতন ভবনের সংস্কার কাজও দ্রুত শেষ হচ্ছে। সংস্কার শেষে আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের মূল ভবনে বিচার কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে বলে প্রসিকিউশন থেকে জানানো হয়েছে।

জাতিসঙ্ঘের প্রতিনিধি দলের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরিদর্শন : এদিকে গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরিদর্শন করেছেন জাতিসঙ্ঘের প্রতিনিধি দল। দুই সদস্যের জাতিসঙ্ঘের প্রতিনিধি দল গতকাল বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত পরিদর্শন করেন। তারা ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের সাথে বৈঠক করেন।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন, জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনের এশিয়া-প্যাসিফিক শাখার প্রধান ররি মুনগোবেনের এবং সংস্থাটির এশিয়া প্যাসিফিক সেকশনের হিউম্যান রাইটস আফিসার লিভিয়া কোসেনজা। তারা বিচার প্রক্রিয়ার বিষয়ে তাদের ভাবনার বিষয় ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের সাথে আলোচনা করেছেন।
জাতিসঙ্ঘের প্রতিনিধি দলের আগমনের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, এই বিচার প্রক্রিয়ায় জাতিসঙ্ঘ কিভাবে সহযোগিতা করতে পারে তারা সে বিষয়ে আলোচনা করেছে। তিনি বলেন, আমরা জাতিসঙ্ঘের সহযোগিতা চেয়েছি। তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের ট্রেনিংয়ের ব্যাপারে। আমরা টেকনিকাল সাপর্ট চেয়েছি। প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা চেয়েছি।

এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের পুরাতন ভবন বিচার কাজের জন্য উপযোগী হবে। আশা করি, দুই সপ্তাহের মধ্যে সব কাজ শেষ হবে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত ৮৫টির বেশি গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত সংস্থার কাছেও কিছু অভিযোগ আলাদাভাবে দায়ের করা হয়েছে। সব মিলে অভিযোগের সংখ্যা একশত এর কাছাকাছি হবে।

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ছাত্র আন্দোলনে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের জন্য ভিক্টিমের পরিবারের পক্ষে থেকে আদালতে এবং থানায় যেসব হত্যামামলা দায়ের করা হয়েছে সেসব মামলার ব্যাপারে তাজুল ইসলাম বলেন, যেসব অভিযোগ সরাসরি আমাদের কাছে এসেছে। সেগুলোর তদন্ত নিয়ে আমরা প্রথমে কাজ করব। পরবর্তীতে থানায় যেসব মামলা দায়ের করা হয়েছে সেসব মামলার ব্যাপারে নজর দিবো পরে। কারণ অনেকেই আছে এ রকম থানায় মামলা করার পরও আমাদের কাছে অভিযোগ দিয়েছে। সেগুলো নিয়ে আমরা বেশি কাজ করব আগে। একটা সময় পরে যখন মনে হবে ওই মামলাগুলো আমাদের দরকার তখন আমরা ওই মামলাগুলোর ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবো। তবে যেগুলো হাতে আছে সেগুলোর তদন্ত আগে হবে।

এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রথমে ৪৬ জন এবং পরে ১৭ জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে চিফ প্রসিকিউটর জানান। তিনি বলেন, আইজিপির নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ কাজটি করছেন। এ বিষয়ে অগ্রগতি সম্পর্কে তারাই বলতে পারবেন। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারে আদালতের আদেশ তামিলের বিষয়টিও সম্পূর্ণ রাষ্ট্রের বিষয় বলে তিনি জানান। রাষ্ট্র যে অর্গানকে ব্যবহার করা দরকার বলে মনে করবেন সেটা করে তারা এটা করবেন বলে তিনি জানান।

গণহত্যার অভিযোগে সাবেক ১২ মন্ত্রী-উপদেষ্টাসহ ২০ জনকে হাজির করার নির্দেশ : এদিকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ সাবেক ১০ মন্ত্রী, দুই উপদেষ্টা, একজন বিচারপতি, একজন সচিব, পাঁচজন পুলিশ ও এক সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ২০ জনকে গ্রেফতার দেখাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিব, বিচারপতিসহ ১৪ জনকে আগামী ১৮ নভেম্বর এবং ছয়জন সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে বলা হয়েছে। রোববার চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মহিতুল হক এনাম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। ট্রাইব্যুনালে তাদের হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব:) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, কামাল আহমেদ মজুমদার, গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব জাহাঙ্গীর আলমকে বিচার করার জন্য ১৮ নভেম্বর হাজির করতে আদেশ দিয়েছেন আদালত।

অন্য দিকে গ্রেফতার সাবেক পুলিশপ্রধান (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলা এসপি আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাভারের ওসি আবুল হাসান এবং পুলিশ কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম, আরাফাত হোসেনকে বিচার করার জন্য ২০ নভেম্বর আদালতে হাজির করতে বলা হয়েছে।

‘রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে কী কী সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারে তা বিএনপির উন্মোচন করা উচিৎ’

রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন চলে গেলে কী কী সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি হতে পারে বিএনপিকে তা জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী।

সন্ধ্যায় গণঅধিকার পরিষদের সাথে বৈঠক শেষে পল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশে পাটোয়ারী বলেন, ‘আমরা মনে করি যেকোনো সাংবিধানিক সঙ্কট সৃষ্টি হবে না। বিএনপিকে জনগণের সামনে উন্মোচন করা উচিৎ কী কী সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারে। তাহলে সে সঙ্কটগুলো আমরা মোকাবেলা করবো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতেও মোকাবেলা করেছি, আগামীতেও মোকাবেলা করবো। বিএনপির মহাসচিবের উদ্দেশে বলবো সাংবিধানিক যে সঙ্কট আপনি বলেছেন সে সঙ্কট জাতীয় একটি বড় দল হিসেবে জাতির সামনে আপনাদের উপস্থাপন করা উচিৎ। তাহলে আমরা ছাত্ররা এবং নাগরিকরা সেগুলো মোকাবেলা করতে প্রস্তুত হবো।’

বিএনপি ছাড়া অন্যান্য দল রাষ্ট্রপতির বিষয়ে একমত হয়েছে জানিয়ে পাটোয়ারী বলেন, ‘চুপ্পুর যে যেতে হবে নিয়ে সব দল, মত আমরা ঐক্যবদ্ধ। বিএনপি ব্যতীত অন্যান্য যারা রয়েছে সবাই আমাদের সাথে ঐক্যমত হয়েছে যে চুপ্পু চলে যাবে। কিন্তু বিএনপি বলেছে যে সঙ্কট থেকে যাবে। প্রক্রিয়াটা কী হবে সেটা আমরা যখন সেকেন্ড সংলাপটা শুরু করবো সেটার মধ্য দিয়ে বিস্তারিত বলবো।’

সোমবার এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ এবং গণতন্ত্র মঞ্চের সাথে বৈঠক করে জাতীয় নাগরিক কমিটি।

সূত্র : বিবিসি

লগি-বৈঠার তাণ্ডব স্মরণ করে আজো আঁতকে ওঠে মানুষ

রক্তঝরা ২৮ অক্টোবর আজ। ২০০৬ সালের এই দিনে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হন ১৩ জন। এর মধ্যে রাজধানীতেই জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৬ জন এবং ছাত্রমৈত্রীর এক কর্মী প্রাণ হারান। লগি-বৈঠার নির্মম প্রহার, গুলি আর ইটপাটকেলের আঘাতে রাজধানীর পল্টন এলাকাতেই নিহত হন ৬ জন। সেদিন প্রকাশ্যে মানুষ হত্যার পরে লাশের ওপর উন্মত্ত নৃত্যে হতবাক হয় বিশ^। এ ঘটনায় পল্টন ও শাহবাগ থানায় পৃথক ৫টি মামলা হয়। পল্টন থানায় করা পাল্টাপাল্টি দু’টি মামলার একটি ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই প্রত্যাহার করা হয়। ক্ষমতাসীন ১৪ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা অন্য মামলাগুলোও পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। সে সব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা আসামি ছিলেন। অপর দিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের আসামি করে যে মামলাটি হয়েছিল তা উচ্চ আদালত স্থগিত করে রেখেছেন। সে দিনের লগি বৈঠার তা-বের কথা স্মরণ হলে আজো আঁতকে ওঠে মানুষ।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হতাহতের ঘটনা ঘটে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল আহূত অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে। ওই দিন প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁিচয়ে রাস্তায় মহড়া দিতে দেখা যায় পেশাদার সন্ত্রাসীদেরক। ওই ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের নিহত নেতাকর্মীরা হলেন- মোজাহিদুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন (১), জসিম উদ্দিন (২), গোলাম কিবরিয়া শিপন, ফয়সাল এবং হাবিবুর রহমান। প্রকাশ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতিতে হাজার হাজার মানুষের সামনে তাদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে দুর্বৃত্তরা লাশের ওপরে উঠে উন্মত্য নৃত্য করে। আহত জামায়াতের আরেকজন সাইফুল্লাহ মো: মাসুম ঘটনার দুই দিন পর হাসপাতালে মারা যান। একই সময় পল্টন মোড়ে নিহত হন ছাত্রমৈত্রীর খিলগাঁও থানা সাধারণ সম্পাদক রাসেল খান। ওই সহিংস ঘটনায় পল্টন ও আশপাশের এলাকাতেই আহত হন কমপক্ষে এক হাজার মানুষ।

এই ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পল্টন থানায় মামলা করেন পল্টন থানা জামায়াতের তৎকালীন আমির এ টি এম সিরাজুল হক। মামলায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, তোফায়েল আহমেদ, মো: নাসিম, আব্দুর রাজ্জাক, জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেননসহ ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে সহস্রাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। আহত মাসুম মারা যাওয়ার পরে ৩ নভেম্বর আরেকটি সম্পূরক এজাহার দাখিল করা হয়। এতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও যুবলীগের তৎকালীন সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৩ জনের নামোল্লেখ করে দুই শতাধিক লোককে আসামি করা হয়। অভিযোগটি দাখিল করেন নিহত মাসুমের ভাই মো: শামসুল আলম মাহবুব।
অপর দিকে ছাত্র মৈত্রীর রাসেল খান নিহতের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ ১০ জনকে আসামি করে পল্টন থানায় একটি মামলা হয়। মামলার বাদি ঢাকা মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান। এ ঘটনায় পল্টন থানায় আরো তিনটি এবং শাহবাগ থানায় একটি মামলা হয়।

পল্টন থানায় করা ৬১ নম্বর মামলায় ২০০৭ সালের ১০ এপ্রিল ৪৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়। যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয় তারা হলেন আব্দুল জলিল, নাসিম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, সাহারা খাতুন, হাজী সেলিম, ডা: এইচবিএম ইকবাল, আব্দুস সালাম ওরফে সেলিম, সবুজ, আলী, মনা, রতন, আবুল, বাবু ওরফে নাজির আহম্মদ, জাকির ওরফে জাকির হোসেন, শফিকুল ইসলাম, সালাউদ্দিন খোকন, সুলতান মিয়া, আবুল কাশেম, আলমগীর ওরফে গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর, নওসের আলী, আব্দুল লতিফ ওরফে ক্ষ্যাপা, মো: জাকির হোসেন, শাহরিয়ার ওরফে সোহেল শাহরিয়ার, শাহাবুদ্দিন কিরন, জাহাঙ্গীর হায়দার চৌধুরী, আশরাফ হোসেন, টিটু, ওমর ফারুক, শেখ হাসিনা, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সিদ্দিক নাজমুল আলম, রাসেল, মজিবুর রহমান মাইজ্জা, বেলায়েত হোসেন, আবু সাঈদ, বশির আহম্মদ, কিরণ ওরফে আব্দুল মালেক, সোহেল শাহরিয়ার ওরফে শর্টগান সোহেল, জাহাঙ্গীর আলম, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী, মোস্তাকিম বিল্লাহ, মুকুল, রায় মোহন শীল এবং সুমন।

চার্জশিটটি ২০০৭ সালের ২৪ এপ্রিল গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরে পরোয়ানা মুলতবি করা হয়। ১৪ দলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পরে ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়।
অপর দিকে কামরুল আহসানের করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়। ২০০৯ সালের ৫ মে মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়নি। এরপর উচ্চ আদালতে কোয়াশমেন্টের আবেদন করা হলে উক্ত মামলাটি স্থগিত করা হয়।

ইসরাইলি হামলা ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে : দাবি নেতানিয়াহুর

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, শনিবার ভোরে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলায় ইসরাইল ইরানের প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

রোববার তিনি এ দাবি করেন।

গত বছর ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা এবং চলমান সংঘাতে নিহত সৈন্যদের স্মরণে একটি স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইরানের ওপর হামলা ছিল সুনির্দিষ্ট ও শক্তিশালী, এটি তার সব লক্ষ্য অর্জন করেছে।’

তিনি এ হামলা সমন্বয় ও সহায়তার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইল-ফিলিস্তিনি সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্রতর হয়। ওই দিন হামাস দক্ষিণ ইসরাইলি সীমান্তে হামলা চালায়। হামলায় প্রায় এক হাজার ২০০ জন নিহত হয় এবং প্রায় ২৫০ জনকে পণবন্দী করা হয়।

এরপর ইসরাইল গাজা উপত্যকায় হামাসের বিরুদ্ধে একটি বড় আকারের আক্রমণ পরিচালনা শুরু করে। শনিবার গাজা-ভিত্তিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুসারে ৪২ হাজার ৯২৪ জন নিহত গেছে।

তেহরানের ১ অক্টোবরের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইসরাইল শনিবার ভেরের আগে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা শুরু করে। ইরান বলেছে, অক্টোবরের গোড়ার দিকে তেহরানে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াহ, হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নসরুল্লাহ এবং আইআরজিসি জেনারেল আব্বাস নীলফরৌশানকে ইসরাইলের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা সদর দফতর দাবি করেছে, শনিবার ইসরাইলি হামলার ফলে সীমিত ক্ষতি হয়েছে।

রোববার অনুষ্ঠানে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বলেন, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সব লক্ষ্য অর্জন করা যায় না।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘যখন আমরা গাজায় আটক অপহৃতদের তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আমাদের নৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে আসি, তখন আমাদের বেদনাদায়ক আপস করতে হয়।’
সূত্র : বাসস

বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশীদের অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে : অমিত শাহ

০

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

রোববার পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল স্থলবন্দরে প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন ও মৈত্রী দ্বার উদ্বোধনের সময় তিনি এ কথা বলেন।

অমিত শাহ বলেন, ‘অনুপ্রবেশ বন্ধ হলেই শান্তি আসবে।’

তবে তিনি বলেন, নেপাল, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ব্যবসা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব বাড়ানো হবে।

তিনি জানান, অগ্রগতির দিক থেকে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হতে পারে।

অমিত শাহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সমৃদ্ধির জন্য কাজ করতে বদ্ধপরিকর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তিনি বলেন, ‘বাংলা হয়ে উঠবে সোনার বাংলা এবং এখানকার উন্নয়ন সুনিশ্চিত করতে চেষ্টায় কোনো ত্রুটি রাখবে না বিজেপি।’

পেট্রাপলে নতুন টার্মিনাল
পেট্রাপোল স্থলবন্দরের নতুন প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন (পিটিবি) ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ভ্রমণের পরিমাণ বাড়াবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পরিবহন কেন্দ্রগুলোর মতো নকশায় নির্মিত পেট্রাপোলের যাত্রী টার্মিনাল ভবনে সব আধুনিক সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভিআইপি লাউঞ্জ, ডিউটি ফ্রি শপ এবং মৌলিক চিকিৎসা সুবিধা।

বেনাপোল (বাংলাদেশ)-পেট্রাপোল (ভারত) বাণিজ্য ও যাত্রী চলাচলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থল সীমান্ত ক্রসিং।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্থলভিত্তিক বাণিজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ (মূল্য অনুসারে) এই স্থলবন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়।

পেট্রাপোল স্থলবন্দর ভারতের অষ্টম বৃহত্তম আন্তর্জাতিক অভিবাসন বন্দর এবং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বার্ষিক ২৩ লাখ পাঁচ হাজারেরও বেশি যাত্রী পরিবহন করে।
সূত্র : ভিওএ

রাষ্ট্রপতিকে অবশ্যই চলে যেতে হবে : হাসনাত আব্দুল্লাহ

রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনকে অবশ্যই যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

রোববার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির অপসারণ ইস্যুতে ১২ দলীয় জোটের সাথে বৈঠক শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি৷

গত কয়েকদিনে এই নিয়ে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠক করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি।

এরই মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, ১২ দলীয় জোট, গণঅধিকার পরিষদের সাথে বৈঠকও করেছে দলটি।

রোববার সন্ধ্যায় ছাত্রনেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, `রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে জাতীয় অস্বস্তির জায়গা তৈরি হয়েছে। তাই তাকে তার পদ ছেড়ে যেতেই হবে। এ নিয়ে সবগুলো রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তবে কী প্রক্রিয়ায় এই অপসারণ হবে, তা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা।’

এ নিয়ে শিগগিরই আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া সবগুলো রাজনৈতিক দলের সাথে বৈঠক শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

বৈঠক শেষে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি ইস্যু ছাড়াও আলোচনায় আমরা সংবিধান সংস্কার এবং বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচন বাতিলে ঐকমত্য গড়ে তুলতে কাজ করছি।’

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও নাগরিক কমিটির নেতারা বলছেন, সব দলগুলোর সাথে আলোচনা শেষেই এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সূত্র : বিবিসি

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ : ভারতের হারে পাকিস্তানের সম্ভাবনা!

০

কয়েক দিনে বদলে গিয়েছে ছবিটা। নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় সকলের ওপরে ছিল ভারত। এখনো ওপরে রয়েছে তারা। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের কাছে জোড়া হারের পর ব্যবধান কমেছে। অন্য দিকে পাকিস্তান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় সকলের নিচে ছিল। কিন্তু ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে এক লাফে নবম থেকে সপ্তম স্থানে উঠেছে তারা। রোহিত শর্মাদের হারে হঠাৎ করেই সুযোগ এসেছে শান মাসুদদের সামনে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সুযোগ পেয়েছেন তারা।

তবে এর জন্য সকলের আগে নিজেদের বাকি চারটি টেস্ট জিততে হবে পাকিস্তানকে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তাদের দেশে দু’টি ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে দু’টি টেস্ট রয়েছে তাদের। সেই চারটি টেস্ট জিতলে পাকিস্তানের পয়েন্টের শতাংশ হবে ৫২.৩৮। এই পয়েন্টের শতাংশের উপর ভিত্তি করেই প্রথম দুই দল ফাইনালে খেলে।

তবে শুধুমাত্র নিজেদের জয়েই ফাইনাল খেলা হবে না পাকিস্তানের। এর জন্য অন্য দলগুলোকেও হারতে হবে। পাকিস্তানের উপর রয়েছে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড। তার মধ্যে ইংল্যান্ডের আর খেলা বাকি নেই। বাকি পাঁচটি দলকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হারতে হবে। তা হলে তাদের পয়েন্ট কমবে। সে ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সুযোগ থাকবে প্রথম দুই দলের মধ্যে শেষ করার। তবে তার সম্ভাবনা খুব কম।

পাকিস্তানের যেমন ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তেমনই ভারত চাপে পড়েছে। এখন শীর্ষে রয়েছে তারা। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি টেস্ট বাকি রোহিতদের। তার পর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে পাঁচটি টেস্ট খেলতে হবে তাদের। এই ছয়টি টেস্টের মধ্যে অন্তত চারটি টেস্ট জিততে হবে রোহিতদের। বাকি দু’টি টেস্ট ড্র করলেই হবে। কিন্তু হারলে আরো চাপে পড়বেন রোহিতেরা। তেমনটা হলে তীরে এসে তরী ডুবতে পারে তাদের।

ইরানে ইসরাইলি হামলা, রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া

ইরানে ইসরাইলি হামলার পর চলমান সঙ্ঘাতের ‘বিস্ফোরক সম্প্রসারণ’ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে রাশিয়া।

শনিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ সময় এই সঙ্ঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করে দেন তিনি।

জাখারোভা আরো বলেন, আমরা জড়িত সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, সহিংসতা বন্ধ করতে এবং বিপর্যয়কর পরিস্থিতি এড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, ইরানকে প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডে উস্কানি দেয়া বন্ধ করা এবং অনিয়ন্ত্রিত উত্তেজনার সর্পিল থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

এদিকে, শনিবার প্রথমবারের মতো ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা করেছে তেল আবিব। গত ১ অক্টোবর করা ইরানের হামলার জবাবে ওই হামলা চালানো হয়।

ইরান এর আগে সতর্ক করেছিল যে ইসরাইলের পক্ষ থেকে যেকোনো হামলার জন্য ‘কঠোর জবাব’ দেয়া হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলার ফলে দুই চির শত্রুর মধ্যে উত্তেজনা আরো বাড়তে পারে।

সূত্র : আল জাজিরা

নাজমুলের অধিনায়কত্ব ছাড়ার আনুষ্ঠানিক চিঠি পাইনি : ফাহিম

০

তিন ফরম্যাট থেকে বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে নাজমুল হোসেন শান্তর সরে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি এখনো পাননি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালক নাজমুল আবেদিন ফাহিম।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শেষে তিন ফরম্যাট থেকে বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের পদ ছাড়বেন নাজমুল, এমন খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ।

ফাহিম বলেন, ‘আমি আপনার কাছ থেকে শুনলাম এবং টেলিভিশনের স্ক্রলে দেখলাম। শুনেছি আনুষ্ঠানিকভাবে সে তার সিদ্ধান্ত ঘোষণ করেছে। যদি তাই হয়, আমার কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি নেই। এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে এটি সর্ম্পকে আমি কিছু জানিও না। খবরটি সত্য কিনা সেটি বলতেও পারব না। যদি এমন হয়ে থাকে তাহলে এটি আমাদের জন্য বড় খবর।’

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক বছরের জন্য তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের অধিনায়কের দায়িত্ব পান নাজমুল। আগামী বছর পাকিস্তানের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দলকে নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিল তার।

কিন্তু সাম্প্রতিক ফর্মের কারণে নাজমুলের অধিনায়কত্ব নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ফাহিম জানান, নাজমুলের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করতে চায় বিসিবি। কারণ, অধিনায়ক হিসেবে তৈরি হতে তাকে অনেক সময় দিয়েছে বোর্ড।

ফাহিম বলেন, ‘যদি অধিনায়ক হিসেবে অন্য কাউকে প্রস্তুত করতে চায়, তাহলে বোর্ডকে অনেক বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা তার সাথে বসব এবং তাকে বোঝানোর চেষ্টা করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘অবশ্যই এই বিষয়ে বিসিবি আলোচনা করতে চায়। কারণ, অনেক দিন ধরেই দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছে শান্ত। বোর্ডও তাকে অনেক সময় দিয়েছে। আমরা তাকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছি। এখন যদি সে হঠাৎ করেই সরে যায়, তাহলে আমাদের বিকল্প কী হবে! এই মুহূর্তে আমাদের কোনো বিকল্প প্রস্তুত নেই।’

নাজমুল জানান, এই অবস্থায় সেরা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, ‘দ্রুত তিন বা চার উইকেট পড়ে গেলেই আপনি খেলা বন্ধ করে দেবেন, বিষয়টা এমন নয়। পরিস্থিতি এখন ঠিক তেমনই। তাই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা সেরা সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করব।’

বাংলাদেশকে ৯ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন নাজমুল। এর মধ্যে তিনটিতে জয় এবং ছয়টিতে হেরেছে টাইগাররা। তার অধীনে পাকিস্তানের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়ের রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ।

এছাড়া নাজমুলের নেতৃত্বে নয় ওয়ানডে ম্যাচে তিনটিতে জয় ও ছয়টিতে হেরেছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ২৪টি ম্যাচের ১০টিতে জয় ও ১৩টিতে হেরেছে টাইগাররা।

২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের দায়িত্ব ছাড়তে চেয়েছিলেন নিয়েছিলেন নাজমুল। পরে তিন ফরম্যাট থেকেই সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সূত্র : বাসস