নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেতা সুরুজ মিয়াকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি হিরাসহ ৪ আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন।
রোববার (৩০ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান র্যাব ১১-এর এএসপি সনদ বড়ুয়া।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- ফতুল্লার কাশিপুরের সফর আলী মাঝির ছেলে আলাউদ্দিন ওরফে হীরা (৩৫), আওলাদ হোসেনের ছেলে আল আমিন (২২), জাফরের ছেলে রাসেল (২০) ও সেলিমের ছেলে সানি (২৯)।
র্যাব জানায়, গ্রেফতার আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় চুরি, ডাকাতি, হত্যাচেষ্টা এবং গুরুতর জখমসহ ১০টির অধিক মামলা এবং জিডি, আল আমিনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ ৫টি মামলা, জিডি এবং রাসেলের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় ২টি মাদক মামলা চলমান রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (২৮ জুন) রাতে নিহতের ছেলে মুন্না ফতুল্লা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্থানীয় সন্ত্রাসী ও হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা সালাউদ্দিন সালু ও হীরাসহ ২১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর শুক্রবার রাতেই বাপ্পী ও জামাল নামে এজাহার নামীয় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার কাশিপুর ইউনিয়নের আলীপাড়া এলাকায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক সুরুজ মিয়াকে দিনেদুপুরে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় সুরুজ মিয়াকে বাঁচাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হন তার দুই ছেলেসহ চারজন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় ইট-বালু-সিমেন্টসহ ইমারত নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিতে বাধা দেয়ায় সন্ত্রাসী সালাউদ্দিন সালু ও হিরার সাথে সুরুজ মিয়ার বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই সুরুজ মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। নিহত সুরুজ মিয়া স্থানীয় আলীপাড়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতিও ছিলেন।
বিশ্বকাপ জয়, নিজে ম্যাচসেরা- শেষটা এমন করে রাঙাতে পারেন ক’জনে? যারা পারেন তাদের একজন বিরাট কোহলি। হ্যাঁ, বিশ্বকাপ জিতে ম্যাচ সেরার পুরস্কার হাতে নিজের শেষ ঘোষণা করে দিলেন কোহলি। বিদায় বলে দিলেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে।
ওয়ানডে বিশ্বকাপের স্বাদ আগেই পেয়েছিলেন কোহলি, জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস ট্রফিও। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার প্রথমবারের মতো চুমু এঁকেছেন টি-টোয়েন্টি শিরোপায়। সেইসাথে নিজেও জিতেছেন ফাইনাল সেরার পুরস্কার। বিদায়ের জন্যে এরচেয়ে ভালো মঞ্চ আর কি হতে পারে?
১৭ বছর পর শনিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতলো ভারত। ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছে মাত্র ৭ রানে। যেই জয়ে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দেন কোহলি। মাত্র ৩৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে ১৭৬ রানে পৌঁছান তিনি। যেখানে ৫৯ বলে ৭৬ রান আসে তার ব্যাটে।
এমন পারফরম্যান্সের জেরে বার্বাডোজের ফাইনাল এ ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৭৬ রান করে ভারত। জবাবে দারুণভাবে লড়াই করলেও শেষ দিকে অভাবনীয়ভাবে হেরে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচ সেরার পুরস্কার উঠে কোহলির হাতে।
সে পুরস্কার নিতে এসে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেই কোহলি ঘোষণা দেন নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার সমাপ্তির। তিনি বলেন, ‘এটা আমার শেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং এটি আমরা অর্জন করতে চেয়েছি। ভারতের হয়ে এটিই আমার শেষ টি-টোয়েন্টি। তাই সবটুকু কাজে লাগাতে চেয়েছি।’
ফাইনাল সেরা হলেও আগের ম্যাচগুলোতে মোটেও আলোতে ছিলেন না কোহলি। প্রথম সাত ম্যাচে করেন মাত্র ৭৫ রান। যেখানে বলও খেলেন সমান ৭৫। সব মিলিয়ে নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিলেন তিনি। তবে আসল সময়েই জ্বলে উঠে তার ব্যাট।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একদিন আপনার মনে হবে রানই করতে পারছেন না, তারপরে কিছু ঘটবে। ঈশ্বর মহান। যে দিন গুরুত্বপূর্ণ, সে দিন আমি দলের কাজটি করেছি।’
নিজের বিদায় ঘোষণা করে শুভ কামনা জানিয়ে যান পরবর্তী প্রজন্মকে। বলেন, “এই ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরতে চেয়েছি ও পরিস্থিতিকে সম্মান জানাতে চেয়েছি। বিষয়টা ‘ওপেন সিক্রেট’ ছিল। এখন পরবর্তী প্রজন্মের দায়িত্ব নেয়ার পালা। দুর্দান্ত কিছু খেলোয়াড় দলকে এগিয়ে নেবে এবং পতাকা উঁচু করে ধরবে।”
২০১০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হওয়া কোহলি ক্যারিয়ারে খেলেছেন ১২৫ ম্যাচ। যেখানে করেছেন ৪১৮৮ রান। রোহিত শর্মার পর টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। যেখানে তার গড় ৪৮.৬৯ গড় ও ১৩৭.০৪ স্ট্রাইক রেট। তাছাড়া কোহলি ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৫০টি ম্যাচে।
সতের বছরের অপেক্ষা ঘোচাল ভারতের, ২০০৭ সালের পর আবারো দখলে নিয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা। সব ধরনের ফরম্যাট মিলিয়ে অপেক্ষাটা ১৩ বছরের। অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে তারা পুনরুদ্ধার করেছে চ্যাম্পিয়ন তকমা।
ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করতে দারুণ ভূমিকা রাখেন জসপ্রিত বুমরাহ। আসর জুড়ে দুর্দান্ত বোলিং উপহার দেয়া এই পেসার ফাইনালেও রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। মাত্র ১৮ রানে নেন গুরুত্বপূর্ণ ২ উইকেট। ফেরান রেজা হেনড্রিকস ও মার্কো জানসেনকে।
সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়েছেন বুমরাহ। তাতে আসরের সেরা উইকেট শিকারীর তালিকায় তিনে আছেন তিনি। যেখানে তার গড় মাত্র ১১, ইকোনমিও অবিশ্বাস্য; ৪.১৮।
দুর্দান্ত এমন পারফরম্যান্সের পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপের ‘ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট’ হয়েছেন তিনি। বিরাট কোহলির পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন তিনি।
তবে শনিবার ফাইনালের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন বিরাট কোহলি। ফাইনালের আগে রানের খুঁজে হন্যে হয়ে বেড়ানো এই ব্যাটার জ্বলে উঠেন আসল সময়ে। আগের ৭ ইনিংসে ৭৫ রান করা কোহলি এদিন খেলেন ৫৯ রানে ৭৬ রানের ইনিংস।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে ম্যাচের সেরার পুরস্কার নিতে গিয়ে বিরাট কোহলি জানিয়েছিলেন, এটিই দেশের হয়ে তার শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ওই ঘোষণার ১২০ মিনিট পরে অবসর ঘোষণা করে দিলেন অধিনায়ক রোহিত শর্মাও। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়ে দিলেন, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিচ্ছেন।
ম্যাচ শেষে রোহিত বলেন, ‘এটাই ভারতের হয়ে আমার শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ছিল। এর পরে আমি আর দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলব না। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার এর থেকে ভালো মুহূর্ত হতে পারে না। এই ফরম্যাটেই ভারতীয় দলে আমার অভিষেক হয়েছিল।’ টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিলেও অবশ্য এক দিন ও টেস্ট ক্রিকেট তিনি খেলবেন বলে জানিয়েছেন রোহিত।
রোহিত জানতেন, এটাই তার শেষ সুযোগ। ওই কারণে, ট্রফি জিততে এতটা মরিয়া ছিলেন তিনি। ভারত অধিনায়ক বলেন, ‘যে দিন থেকে টি-টোয়েন্টি খেলেছি, উপভোগ করেছি। আমি বিশ্বকাপ জিততে মরিয়া ছিলাম। শেষ পর্যন্ত যে জিততে পেরেছি তার জন্য খুশি।’
বিশ্বকাপ জিতে উঠে রোহিত জানিয়েছিলেন, এক কথায় নিজের অনুভূতি বোঝাতে পারবেন না তিনি। ভারত অধিনায়ক বলেন, ‘গত ৩-৪ বছর ধরে যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গেছি, তা এক কথায় বলে বোঝাতে পারব না। সত্যি বলতে, দলের প্রত্যেকে প্রচুর পরিশ্রম করেছে। ফাইনালে ওঠা ও তা জেতার ক্ষেত্রে পর্দার পিছনে অনেক কিছু ঘটে। তাই এই জয় একটা দিনের নয়, গত ৩-৪ বছরের জয়। গত ৩-৪ বছরে যা পরিশ্রম করেছি তারই ফল পেলাম।’
এর আগেও কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে ভারতকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হতাশা সঙ্গী হয়েছে। কিন্তু দেয়ালে পিছ ঠেকে গেলে তারা কী করতে পারেন তা এই ম্যাচে দেখিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রোহিত। ভারত অধিনায়ক বলেন, ‘হারতে হারতে সবাই বুঝেছে, কঠিন পরিস্থিতিতে কেমন খেলতে হয়। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে কী ভাবে ফিরতে হয়, সেটা আমরা দেখিয়েছি। যখন খেলা দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে ছিল তখনও আমরা একটা দল হিসাবে খেলেছি। আমরা জিততে চেয়েছিলাম। এ রকম একটা প্রতিযোগিতা জিততে চেয়েছিলাম। দলের সবাইকে নিয়ে আমি গর্বিত।’
কোপা আমেরিকায় গ্রুপের শেষ ম্যাচেও জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসি না থাকলেও জয়ের ধারা থামেনি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে হওয়া ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-০ ব্যবধানে হারায় পেরুকে। প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পক্ষে জোড়া গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ।
চোটের জন্য পেরুর বিরুদ্ধে খেলেননি মেসি। প্রথম দু’ম্যাচেও গোল পাননি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। এই প্রথম কোনো প্রতিযোগিতার গ্রুপ পর্বে গোল করতে পারলেন না তিনি। একই সাথে প্রথমবার কোনো প্রতিযোগিতার গ্রুপ পর্বে গোল পাননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ইউরো কাপের গ্রুপ পর্বে এবার গোল নেই পর্তুগাল অধিনায়কেরও।
মেসির মাঠে না থাকা অবশ্য আর্জেন্টিনাকে সমস্যা ফেলতে পারেনি। বরং মেসিহীন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে পেরু শুরু থেকেই চাপে ছিল। পেরুর গোলরক্ষক গ্যালিসকে প্রথমার্ধের নায়ক বলা যেতেই পারে। অন্তত চারবার দলের নিশ্চিত পতন আটকেছেন তিনি। শুরু থেকেই আগ্রাসী ফুটবল শুরু করেন আঙ্খেল ডি মারিয়ারা। একের পর এক আক্রমণে পেরুর রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলারেরা। ১২ মিনিটে প্রথম গোলের সুযোগ পায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা। ডি মারিয়ার কর্নার থেকে গোল করার সহজ সুযোগ পেয়েছিলেন ওটামেন্ডি। তার শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। বেশিভাগ সময়ই খেলা হয়েছে পেরুর অর্ধে। পেরুর প্রায় সব ফুটবলারই রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত ছিলেন। তার মধ্যেই ২১ মিনিটে প্রতি আক্রমণে সুযোগ তৈরি করেছিল পেরু। তবে গোল হয়নি।
২২ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজ পেরুর বক্সে বল পান ডি মারিয়ার কাছ থেকে। তার শট আটকে দেন গ্যালিস। যদিও গোল হলেও পেত না আর্জেন্টিনা। মেক্সিকোর রেফারি জানিয়ে দেন মার্তিনেজ অফসাইডে ছিলেন। ২৬ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে আরও এক বার হতাশ করেন গ্যালিস। পেরেদেসের শট আটকে দেন তিনি। ৪৪ মিনিটে আর্জেন্টিনার আরও একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন পেরুর গোলরক্ষক। ডি মারিয়ার কাছ থেকে পেরুর বক্সের ডান দিকে বল পান মন্টিয়েল। তিনি পাস দেন লো সেলসোকে। তার শট আটকে দেন গ্যালিস। ফিরতি বলে গারনাচোর শট বারের উপর দিয়ে চয়ে যায়।
গোল না পেলেও বলের দখল মূলত নিজেদের পায়েই রেখেছিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলারেরা। গোলশূন্য ভাবে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার পর ফ্লরিডার হার্ড রক স্টেডিয়ামে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আক্রমণের ঝাঁঝ আরো বাড়িয়ে দেন লিওনেল স্কালোনির ফুটলারেরা। ৪৭ মিনিটে তার ফল পান তারা। ডি মারিরার থেকে ফাঁকায় বল পেয়ে দলকে এগিয়ে দেন মার্তিনেজ। পেরুর এক ফুটবলার বক্সের মধ্যে হ্যান্ড বল করলে ৭০ মিনিটে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি পেরেদেস। দ্বিতীয় গোলের জন্য আর্জেন্টিনাকে অপেক্ষা করতে হয় ৮৬ মিনিট পর্যন্ত। মার্তিনেজই দলের এবং নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। প্রতিযোগিতায় তার চারটি গোল হয়ে গেল।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া গাজা প্রস্তাবে ‘নতুন কিছু নেই’।
রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হামাসের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বৈরুতে বলেছেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং পণবন্দীদের মুক্তির বিষয়ে ইসরাইলের সাথে চুক্তির আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি।
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেন গত মাসে একটি পরিকল্পনা উপস্থাপণ করেন। যেখানে গাজার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী প্রত্যাহার এবং ইসরাইলে আটক ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিনিময়ে কিছু পণবন্দী মুক্তিসহ ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির কথা ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের মতে, তিনটি সূত্র বলেছে যে- ওয়াশিংটন প্রস্তাবিত চুক্তির অংশগুলোর জন্য একটি ‘নতুন ভাষা’ উপস্থাপন করেছে।
এর প্রেক্ষিতে শনিবার ওসামা হামদান নামে লেবাননে অবস্থিত হামাসের ওই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে- তারা ২৪ জুন সর্বশেষ প্রস্তাব পেয়েছে, তবে এতে ‘নতুন কিছু নেই’।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা বলতে পারি- ইসরাইলি আগ্রাসন থামাতে এখন পর্যন্ত আলোচনায় প্রকৃতপক্ষে কোনো অগ্রগতি নেই।’
মূলত, বাইডেনের উপস্থাপিত পরিকল্পনাটি এখনো পর্যন্ত চুক্তিতে পরিণত হতে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ উভয় পক্ষই তাদের দাবিতে অটল রয়েছে।
উল্লেখ্য, ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে হামাসের হামলার মাধ্যমে গাজার যুদ্ধ শুরু হয়। ইসরাইলের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক মানুষ।
হামাস-পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলের প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলায় এখন পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৮৩৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক ব্যক্তি। সূত্র : আল-জাজিরা
টি-টোয়েন্টিতে প্রতি দলে ১৫ জন করে মোট তিন শ’ জন ক্রিকেটার মাতিয়েছেন এবারের বিশ্বকাপ। এতো এতো ক্রিকেটারের ভিড়ে সেরা এগারোয় জায়গা করে নেয়া নিশ্চয়ই চাট্টিখানি কোনো কথা নয়! সেই কাজটাই অবশ্য করলেন রিশাদ হোসেন।
ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ফাইনালের মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর্দা নেমেছে গত রাতে। প্রোটিয়াদের আক্ষেপে পুড়িয়ে ১৭ বছর পর শিরোপা জিতে নিয়েছে ভারত। একই সাথে ১৩ বছরের শিরোপা খরার আক্ষেপও ঘোচল।
ফাইনাল ম্যাচের পর বিশ্বকাপের সেরা একাদশ দিয়েছে আইসিসি। আসরের সেরাদের সেরা ক্রিকেটারদের নিয়ে এই একাদশ বানিয়েছে তারা। যেখানে একমাত্র বাংলাদেশী হিসেবে ঠাঁই পেয়েছেন রিশাদ হোসেন। আসর জুড়ে দুর্দান্ত বোলিংয়ের স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি।
এবারের বিশ্বকাপে বিশ্বকে যেন তাক লাগিয়ে দিয়েছেন রিশাদ হোসেন। অনবদ্য পারফরম্যান্সে কেড়েছেন আলো, ছড়িয়েছেন মুগ্ধতা। আছেন আসরে সর্বোচ্চ উইকেটেশিকারী তালিকায় সেরা তিনে। ৭ ইনিংসে ১৪ উইকেট তার। ফলে জায়গা করে নিয়েছেন আইসিসি ফ্যান্টাসির একাদশে।
রিশাদ একমাত্র বাংলাদেশী হলেও চ্যাম্পিয়ন ভারতের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তানের তিনজন করে ক্রিকেটার আছেন আইসিসি ফ্যান্টাসির একাদশে। রানার্সআপ দক্ষিণ আফ্রিকার একমাত্র প্রতিনিধি ট্রিস্টান স্টাবস। অধিনায়ক করা হয়েছে আফগান রূপকথার জন্ম দেয়া রশিদ খানকে।
একাদশে দুই ওপেনার হিসেবে আছেন অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেড ও আফগানিস্তানের রহমানুল্লাহ গুরবাজ। একাদশের উইকেট রক্ষকও তিনি। তিনে আছেন ডেভিড ওয়ার্নার। এরপর অনেকটা চমকে দিয়ে রাখা হয়েছে ট্রিস্টান স্টাবসকে।
অজি অলরাউন্ডার মার্কাস স্টইনিস ও ভারতীয় অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়াও আছেন এরপরে। তারপরই আছেন অধিনায়ক রশিদ খান। প্রথমবারের মতো দলকে কোনো আসরের সেমিফাইনালে তুলার পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
স্পিন আক্রমণে রশিদের সাথে আছেন বাংলাদেশের রিশাদ হোসেন। আর পেস আক্রমণে আছেন সর্বোচ্চ দুই উইকেটশিকারী ফজল হক ফারুকি ও আর্শদ্বীপ সিং। তৃতীয় পেসার ভারতের জাসপ্রিত বুমরাহ।
সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য সাত লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়েছে।
আজ রোববার স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে এ বাজেট কণ্ঠভোটে পাস হয়। কার্যকর হবে আগামী ১ জুলাই থেকে। এর আগে রাষ্ট্রপতির সম্মতিসাপেক্ষে নির্দিষ্টকরণ আইন গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে।
শনিবার বিকেলে সংসদে অর্থ বিল উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং পরে সেটি সংসদে পাস হয়।
অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গত ৬ জুন জাতীয় সংসদে ‘টেকসই উন্নয়নের পরিক্রমায় স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা’ স্লোগান সম্বলিত এ বাজেট পেশ করেন।
আজ বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোট ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করেন। এই মঞ্জুরি দাবিগুলো সংসদে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।
এসব মঞ্জুরি দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে বিরোধীদলের ছয়জন সংসদ সদস্য মোট ২৫১টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মধ্যে আইন ও বিচার বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় খাতে তিনটি মঞ্জুরি দাবিতে আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর স্বতন্ত্র ও বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করেন। পরে কণ্ঠভোটে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়।
ছাঁটাই প্রস্তাবে আলোচনা করেন জাতীয় পার্টির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, স্বতন্ত্র সদস্য হামিদুল হক খন্দকার, পংকজ নাথ, আবুল কালাম ও নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। এরপর সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২৪ পাসের মাধ্যমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করেন।
এর আগে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটের ওপর বক্তব্য রাখেন। বাজেটের ওপর প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও অর্থমন্ত্রীসহ ২৩৬ এমপি বক্তব্য রাখেন। গত ১১ জুন থেকে আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র এমপিরা।
বাজেটে ব্যক্তির সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ প্রস্তাব করা হলেও সংসদ তা গ্রহণ করেনি। এর পরিবর্তে সর্বোচ্চ কর বিদ্যমান ২৫ শতাংশই বহাল থাকছে। বাজেট প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী করহারের ধাপে কিছুটা পরিবর্তন এনে সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেছিলেন।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য সাত লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এ বাজেটে অনুদান ছাড়া ঘাটতি ধরা হয়েছে দুই লাখ ৫৬ হাজার টাকা। গত ৬ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল হাসান মাহমুদ আলীর এটা প্রথম বাজেট।
মূল্যস্ফীতি কমিয়ে বড় প্রবৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করে যে বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী অনুদান ছাড়া ঘাটতি ধরা হয় দুই লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। অনুদানসহ সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হয়েছে দুই লাখ ৫১ হাজার ছয় শ’ কোটি টাকা। এছাড়া চার হাজার চার শ’ কোটি টাকা অনুদান পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
এই ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ২৭ হাজার দুই শ’ কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হবে ৩৬ হাজার পাঁচ শ’ কোটি টাকা। এতে নিট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়াবে ৯০ হাজার সাত শ’ কোটি টাকা।
আর অভ্যন্তরীণ ঋণ নেয়া হবে এক লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেয়া হবে এক লাখ ৩৭ হাজার পাঁচ শ’ কোটি, যার ৭২ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ এবং ৬৪ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা স্বল্পমেয়াদি ঋণ। ব্যাংকবহির্ভূত ঋণ নেয়া হবে ২৩ হাজার চার শ’ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ১৫ হাজার চার শ’ কোটি টাকা।
বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার পাঁচ শ’ কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। আর বৈদেশিক ঋণের সুদ ২০ হাজার পাঁচ শ’ কোটি টাকা।
এবার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) লক্ষ্যমাত্রা চার লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরবহির্ভূত কর ধরা হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। আর কর ব্যতীত প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা।
বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ছয় হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে আবর্তক ব্যয় চার লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা। আর দেশী-বিদেশী ঋণের সুদ পরিশোধ এক লাখ ১৩ হাজার পাঁচ শ’ কোটি টাকা। এবার মূলধন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা।
বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ৮১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্কিমে ব্যয় হবে পাঁচ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা। এডিপিবহির্ভূত বিশেষ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে সাত হাজার ৬২৭ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। আর কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি (এডিপিবহির্ভূত) ও স্থানান্তরে দুই হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
নিউইয়র্কের ব্রংকসে ডেমোক্রেট প্রাইমারি ইলেকশন সমাবেশে কালোটাকার বিরুদ্ধে গণমানুষের অবাধ সমর্থনের পক্ষে বয়ে গেছে নতুন এক ঝড়। কংগ্রেসম্যান জামাল বোম্যান এর পক্ষে ইলেকশন সমাবেশে এক ঝড়ো বক্তব্য রেখেছেন মার্কিন কংগ্রেসের তুমুল জনপ্রিয় নেতা আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থৗ প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ বার্নি সান্ডার্স। ওই সমাবেশে ১৪ দফা এজেণ্ডা নিয়ে উপস্থিত ছিলেন ডেমোক্রেট সংগঠন পিপল ইউনাইটেড ফর প্রোগ্রেস এর প্রেসিডেন্ট স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদ।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিবাসন প্রত্যাশী সকল অভিবাসীর স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দান, সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদেরকে যথাযথ কাজে লাগানো এবং প্যালেস্টাইন ইস্যুতে নিজেদের মতামত প্রকাশ করায় ইউনিভার্সিটি থেকে বহিস্কৃত ছাত্রছাত্রীদেরকে শাস্তির আদেশ প্রত্যাহার করা, কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা ও ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ দেয়াসহ ১৪ দফা এজেণ্ডা সামনে এনেছে পিপল আপ। নির্বাচনী সমাবেশ শেষে স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদ সৌজন্য বিনিময় করেন কংগ্রেস ওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ, জামাল বোম্যান ও মার্কিন কংগ্রেসের সিনিয়র সিনেটর বিশ্বখ্যাত সমাজতান্ত্রিক নেতা বার্নি সাণ্ডার্স এর সঙ্গে। পুরো আয়োজনটি ছিল ডেমোক্রেটদের অভূতপূর্ব এক মিলন উৎসব।
অগ্রীম নির্বাচনের একদিন আগে ২২ জুন, শনিবার ব্রংকস এর নির্বাচনী সমাবেশে ছিল আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও এবং জামাল বোম্যানের পক্ষে ডেমোক্রেট সমর্থকদের উৎসবমুখর উপস্থিতি। তীব্র গরম ও রোদ্দুরের ভেতর পার্কের শীতল পরিবেশ ছাপিয়ে খোলা জায়গার সমাবেশ হয়ে ওঠে উত্তাপে পূর্ণ। সেখানে উত্তাপ ছড়ান উপস্থিত ডেমোক্রেট নেতা ও নির্বাচিত কর্মকর্তারা। টাকার চেয়ে জনগণের শক্তি কত শক্তিশালী হতে পারে, গণহত্যা ও যুদ্ধের বিপক্ষে শান্তির প্রত্যাশা কত গণমুখি হতে পারে, সাধারণ মানুষ কোথায় দাঁড়িয়ে তাদের সুখ ও শান্তি অন্বেষণ করছেন, সে বিষয়গুলোই উঠে আসে বক্তাদের বক্তব্য, শ্লোগানসহ নানা ভঙ্গিমার ভেতর দিয়ে।
আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ বলেন, ওয়ার্ল্ড স্ট্রীটকে ছুড়েঁ ফেলে দেয়ার জন্য কি আমরা প্রস্তুত ? কারণ আমরা রীতিমতো ক্লান্ত কর্পোরেট লবিষ্টদের দৌরাত্মে। চীন আমাদের কমিউনিটিকে কিনে ফেলছে এবং সর্বাধিক ঋণগ্রস্থ দেশে পরিণত হতে যাচ্ছি আমরা। আমরা জানি, কেন আমরা এখানে , আমরা জানি যুক্তরাষ্ট্র এখন কোথায় দাড়িঁয়ে । আমাদের এখানে বিশাল বর্হি:বিশ্বের প্রভাব রয়েছে । চীন আমাদের প্রতিনিধিত্ব কেনার চেষ্টা করছে কারণ তারা আমাদের পছন্দসই ব্যক্তিকে পছন্দ করে না। কিন্তু আমরা জানি যে নিউ ইয়র্ক সিটির ১৬তম জেলা প্রতিনিধিত্ব করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি হলেন জামাল। জামাল বোম্যান।
এ ওসি বলেন, আমাদের ভাবনা ভিন্ন, এখানে কেউ আমাদের এগিয়ে যাবার পথে বাধাঁ হয়ে দাড়াতেঁ পারবে না। আমরা জানি রাজনীতিতে দখরদারিত্ব কি, হস্তক্ষেপ কি ! আমরা জানি কষ্ট কি ! কেন আমরা এতো পরিশ্রম আর একত্মতার পরও এগিয়ে যেতে বাধাঁ গ্রস্থ হচ্ছি । জামাল দক্ষিণ ব্রঙ্কসের একজন শিক্ষক ছিলেন । তিনি আক্রমনের শিকার হয়েছিলেন বর্ণবাদ, রাজনৈতিক দুর্নীতি আর অর্থ জালিয়াতদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কারণে। জামাল ব্যোমান প্যালেস্টাইনদের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি প্রথম কংগ্রেস ম্যান যিনি গাঁজায় ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক বলেছেন। তিনি করপোরেট লবিষ্ট আর অসৎ অর্থকে ভয় পাননি, গ্রহণও করেনি। কোন ওয়ার্ল্ডস্ট্রীট নয়, কোন আবাসন খাত নয় , কোন এপিক নয় , এ কারণে তাকে বের করে দেবার পায়ঁতারা চলছিল। কিন্তু সেগুলো কাজে আসে নি । কেননা তিনি জানেন তার দায়িত্ব কি। ব্রংকস এর মানুষের প্রতি তার দায়িত্বে তিনি শতভাগ অবিচল। জামালের বিরুদ্ধে এখন ২০ মিলিয়নের বেশি অর্থ খরচের চেষ্টা চলছে। যেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাইমারি ভোট নিবার্চনের পেছনে ব্যয় হতে যাওয়া সবোর্চ্চ কালো টাকা । এই ২০ মিলিয়ন ডলার কেবল এসেছে তাদের কাছ থেকে, যারা অনেক বেশি শক্তিশালী এবং তারা আমাদের জনগনের কথা ভাবে না। ওয়ার্ল্ড স্ট্রীট যারা পরিচালনা করে, যারা আবাসন খাত পরিচালনা করে। তারা আমাদের মৌলিক চাহিদার কথা ভাবে না।
তিনি বলেন, এটি আমাদের শেষ লড়াই । আমাদের এখন যুদ্ধ সম্পদশালী বনাম সাধারণ মানুষের। এই নির্বাচনে আমাদের বার্তা দিতে হবে, কালো টাকা, বর্ণবাদ, চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ ও ক্ষতিকর মাদকের বিরুদ্ধে। আপনারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমৃদ্ধশালী করতে এগিয়ে আসুন।
মার্কিন কংগ্রেসম্যান জামাল বোম্যান তার দৃঢ় বক্তব্য ও উপস্থাপনায় মঞ্চে আলাদা এক আবহ ছড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি। এটি এখন সবার কাছে পরিস্কার আমরা কারা? আমাদের পরিচয় কি? আমরা যখন সবকিছু পিছনে ফেলে মিলেমিশে কাজ করবো তখন আমাদের কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না। আমরা এখন আমেরিকার ইতিহাসে এমন এক জায়গায় আছি যেখানে সকল ধরনের ভাল কাজ সমাজকে কেন্দ্র করে যা, তা আমরা সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। আমরা ন্যায়ের পক্ষে কাজ করছি , আবাসনের পক্ষে কাজ করছি , মানবাধিকারের অংশ হিসাবে আমরা দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য সেবা , আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছি। কোন অবৈধ অর্থ সংগ্রহে নয়, পেশী শক্তি প্রদর্শনে নয়। আমাদের কেউ থামিয়ে দিতে পারবে না। আমরা শিক্ষা খাতে সবোর্চ্চ ব্যয় করবো। আমরা কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিব না। আমরা কোনো দুর্নীতিবাজদের কাছে হার মানবো না । প্যালেস্টাইনের পক্ষে যে লড়াই শুরু হয়েছে, তা চালিয়ে যাবো। জনগণ ও ন্যায়ের পক্ষে আমাদের অবস্থান পরিস্কার।
প্রখ্যাত গণতান্ত্রিক সমাজবাদি নেতা, মার্কিন কংগ্রেসের সিনিয়র সিনেটর বার্নি সান্ডার্স ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে জামাল বোম্যানকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাকে নিবার্চিত করার মাধ্যমে বার্তা দিতে হবে যে ইসলায়েল গাজাঁয় যা করছে তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। গাজাঁয় হাজার শিশু অপুষ্টিহীনতার সাথে লড়াই করছে , যুদ্ধ করছে , এবং ক্ষুধায় নিমজ্জিত হচ্ছে । অ্যামিরকান নাগরিকরা কখনো তা চায় না, ডেমোক্রাটরা তা চায় না। জামাল এটা অনুভব করে যে , গাজাঁয় ৭০ শতাংশ বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা ইসরায়েলের কোন অধিকার নেই। গাজাঁয় কোন খাবার নেই, হেলথ কেয়ার সিস্টেম নেই , কোন বিদ্যুৎ নেই । আমাদের প্রয়োজন টু স্টেট পলিসির বাস্তবায়ন। আমাদের এই নিবার্চন খুবই গুরুত্বপূর্ণ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। তিনি বলেন, এই প্রাথমিক ইলেকশন ক্যাম্পেইনকে কেন্দ্র করে বহু পেশি শক্তি অর্থের খেলায় নিমজ্জিত হয়েছে এরই ভেতর। তাদের জানিয়ে দিতে হবে যে তারা চাইলেও আমেরিকার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে দেয়া হবে না। গণতন্ত্র এক শতাংশ বিলিনিওয়রদের ভোট নয়। আপনাদের জানাতে চাই , এই সিলেকশন কেন জাতীয় ভাবে গুরুত্বপূর্ন । তারা যদি কোনা ভাবে জামালকে পরাজিত করতে সক্ষম হয় তাহলে প্রতিটি সদস্যের প্রতিনিধিত্ব দেখবে ড্র্যাগ কোম্পানিতে, যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস করে এমন সব কোম্পানিতে যারা জলবায়ুর ঝুকিঁ আরো বাড়িয়ে দেবে বড় বড় কোম্পানিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে, কার্বণ নি:সরনের মাধ্যমে।