Home Blog Page 568

মাজার ভাঙার ‘নীতিগত প্রতিবাদ’ করেছে জামায়াত

ঠিকানা রিপোর্ট : সম্প্রতি আক্রমণের শিকার হওয়া নির্দিষ্ট কোনো মাজার, নির্দিষ্ট কোনো দরবারের বিষয়ে না বললেও সামগ্রিকভাবে এসব ভাঙার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ‘নীতিগত প্রতিবাদ’ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত টকশো ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে নিজ দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। এই আলোচনা অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ঠিকানা টিভির প্রধান সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) খালেদ মুহিউদ্দীন।
নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় এবং বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাজার ভেঙে ফেলছে দুর্বৃত্তরা। ‘তৌহিদি জনতার’ কথা বলে আক্রমণ করা হচ্ছে বিভিন্ন পীরের দরবার। এসব কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না তাদের দল। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার, দ্বীনের ব্যাপারে কোনো বাড়াবাড়ি চলবে না। কোনো মানুষের ওপর কারও আদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার অবকাশ নেই। জোর করে কোনো কিছু প্রয়োগ করা আমরা পছন্দ করি না। আইন হাতে তুলে নেওয়াকে আমরা সমর্থন করি না।’
বাংলাদেশে ইসলামের আদর্শ সামনে রেখে শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, আরও কিছু রাজনৈতিক দল সক্রিয়। তাদের কারও কারও সঙ্গে জামায়াতের বিরোধও আছে, সে ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ কোন দলটিকে প্রকৃত ইসলামভিত্তিক দল হিসেবে গ্রহণ করবে- খালেদ মুহিউদ্দীনের এমন প্রশ্নে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটি পরিবারে একাধিক সদস্য থাকেন। তাদের সবার মত এক হয় না। তার পরও পরিবার চলে। পরিবার ভেঙে যায় না। মতের ভিন্নতা থাকবে, এটাও সৌন্দর্য। ভিন্নতা যখন থাকে, তখন বৈচিত্র্য চিন্তা করার সুযোগ থাকে।’ তিনি দাবি করেন, এমন ভিন্নতা সকল ধর্মেই থাকে। তবে যারা সত্যিকারের ইসলামের অনুসারী, তারা এক কোরআন মানেন, এক আল্লাহ মানেন, এক রাসুল মানেন- এই তিন জায়গায় কোনো দ্বিমত নেই। বাকি জায়গায় একটু এদিক-সেদিক হতেই পারে, বলেন জামায়াত প্রধান। গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। সেদিন দুপুরেই সরকার পতনের এক দফা দাবিতে মাঠে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান। তাতে অংশ নিয়েছিলেন জামায়াতের আমির। অথচ তখনো হাসিনা সরকারের নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ সংগঠন ছিল তারা।
সেনাপ্রধান কখন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন- এ প্রসঙ্গে ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট দুপুরে ফোন আসে সেনাবাহিনী থেকে। এর আগে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। এমনকি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে সেদিনই প্রথম সরাসরি দেখা হয়, দাবি করেন জামায়াত প্রধান। একটি ‘নিষিদ্ধ’ সংগঠনের নেতাকে সেনানিবাসে যেতে বলা হচ্ছে, বিষয়টি তো ফাঁদও হতে পারত, এমন শঙ্কা ছিল কি না- জানতে চাইলে জামায়াতের আমির বলেন, ‘এটা মনে হতেই পারে। কিন্তু আমি মনে করিনি। সরকার হঠাৎ করে পয়লা আগস্ট আমাদের যখন নিষিদ্ধ করে, আমরা সেটা গ্রহণ করিনি, সঙ্গে সঙ্গে বর্জন করি। সবাই আমাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে। বিএনপিসহ বিরোধী দলের সকলে নিন্দা করেছে। কারণ এটা ছিল ইস্যু ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার কৌশল। এটা কেউ গ্রহণ করেনি। কাজেই সেনাপ্রধানের দাওয়াত আমরা অস্বাভাবিক মনে করিনি।’
রাজনীতির পথে চলতে কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন, আবার কখনো বিএনপির সঙ্গে জোট করে সরকার পরিচালনায় অংশগ্রহণ- এ ক্ষেত্রে জামায়াতের অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতি সম্পর্কে দলটির আমির বলেন, ‘যখন দেশে কোনো ধরনের ফ্যাসিজম এসেছে, যখন অন্যায় করেছে সরকার, তখন আমরা তার প্রতিবাদ করেছি। একই সুরে যারা প্রতিবাদ করেছে, সংগত কারণেই তাদের সঙ্গে আমাদের বিষয়টি মিলে গেছে। আমরা চারদলীয় জোট করেছিলাম, যেটা পরে ২০ দলীয জোটে রূপান্তরিত হয়েছিল। তবে এখন আমরা কোনো জোটে নেই।’
‘জোটে আমরা গিয়েছি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে, আদর্শিক কোনো ঐক্য ছিল না।’ যোগ করেন তিনি। এই হিসেবে আদশর্গত না হলেও আবার কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের রাজনৈতিকভাবে জোটবদ্ধ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা রয়ে যায় কি না, এ বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাথে হবে কি না, এটা বলা কঠিন। কারণ যে আওয়ামী লীগ তার নিজের দেশের মানুষকে, জনগণের কেনা অস্ত্র দিয়েই গুলি চালাতে পারে, গণহত্যা করতে পারে, তাদের নিজেদের রাজনীতি করাই তো চিন্তাভাবনার বিষয়।’

ছাত্র -জনতার পক্ষের লোকদের দিয়ে সংবিধান সংস্কার করতে হবে : জেএসএফ-বাংলাদেশ ও জাগপা যুক্তরাষ্ট্র

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপার আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি এ এস এম রহমত উল্লাহ ভূঁইয়া ও জাগপা যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক নোমান সিদ্দিকী এবং জাতীয় সম্মিলিত ফোরাম- বাংলাদেশ ( জেএসএফ )র পক্ষে হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন আন্তর্জাতিক মিডিয়া সেল থেকে প্রেরিত যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন,সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজ নাম ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে।সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে ড. শাহদীন মালিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এই কমিশনের প্রধান হিসেবে তার পরিবর্তে আলী রীয়াজের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমরা এই নিয়োগের তীব্র বিরোধিতা ও নিন্দা জানাচ্ছি। জনতার সাথে যারা বিপ্লবে সরাসরি জড়িত ছিল এবং যারা পতিত স্বৈরাচারের নির্যাতনে নির্যাতিত হয়েছেন , তাদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া হলে ৫ আগস্টের ছাত্র জনতার বিপ্লবের সত্যিকারের স্বাধীনতা আসবে। নতুবা আবারো সেই ৭১ এর পরবতী সময়ের মতো সুবিধাবাদীদের পদানত হবে দেশ , জাতি ও সংবিধান।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজকে নিয়োগ দেয়ায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- (জাগপা) যুক্তরাষ্ট্র শাখা ও জাতীয় সমুন্নত ফোরাম বাংলাদেশ ( জেএসএফ )।খবর বাপসনিউজ ।
সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে , কোন বিতর্কিত ব্যক্তিকে দিয়ে লাখ লাখ মানুষের রক্তে ভেজা একটি দেশের সংবিধান সংস্কার হতে পারে না। ছাত্র জনতার বিপ্লবের ফসল কি আবারো মুখ থুবড়ে পড়বে ? বিতর্কিত লোকদের দিয়ে কিসের সংস্কার ? কাপড় পাল্টালে মানুষ বদল হয় না। বাংলাদেশে কি আর কেউ নেই ?আসুন এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই। সম্পূর্ণ দল নিরপেক্ষ এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ বিশ্বাসী জ্ঞানী ব্যক্তিদের দিয়ে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে যাঁকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে , তিনি কোন সংবিধান বিশেষজ্ঞ নন। আলী রীয়াজ জাসদ ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের নেতা।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে , ছাত্র জনতার বিপ্লবের সময় তার লেখা থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় তিনি সেই সময় লেখার মারপ্যাচে পতিত স্বৈরাচারের পক্ষেই ছিলেন। কারণ তিনি দৃঢ়তার সাথে কখনো ছাত্রজনতার আন্দোলনকে সমর্থন দেন নাই।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে , পতিত স্বৈরাচার ও তাদের দোসররা এখনো সক্রিয় এবং তাদের পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন নাম দিয়ে নিয়োগের আগে বিতর্কিতদের এখনই বাদ দিতে হবে। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজের নাম ঘোষণার পর আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে ধরি মাছ না ছুঁই পানি এই লেভেলের লোকগুলো দেশ পুনর্গঠনে নিয়োগ দেয়া বিস্ময়কর।

জাতীয় সম্মিলিত ফোরাম-বাংলাদেশ ( জেএসএফ ) ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) প্রেরিত বিবৃতিতে বলা হয় , শেখ হাসিনার আমলে ভারত বাংলাদেশকে বধ্যভূমিতে পরিণত করেছিল। এখন তাদের আধিপত্য ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ নিয়ে ভারত যে কোন সময় ‘দাঙ্গা’ লাগিয়ে দিতে পারে। তাই সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ছাত্র জনতা ও অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।

বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পুনর্গঠনে সম্পূর্ণ একাত্বতা ঘোষণা করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে , আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যাক্তিত্ব ড. মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পুনর্গঠনে হাত দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র তার পাশে রয়েছে। এই সুযোগে এলিট শ্রেণি (সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, এনজিও ব্যাক্তিত্ব) কিছু ব্যাক্তি ড. ইউনূসের ওপর ভর করে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারের দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তারা কী দিল্লির নীল নকশা অনুযায়ী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে সংস্কার করবেন?

বিবৃতিতে জনতার উদ্দেশে বলা হয়েছে , নতুন লেবাসে পুরোনো কমিউনিস্ট, আওয়ামী লীগ ও জাসদ নেতাদের দিয়ে ৫ আগস্টের বিল্পব ডাকাতি করা হচ্ছে । এই বহুল বিতর্কিত লোকটি কিসের সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান। আমরা মানি না , পুরোনো মাল নতুন লেবেলে। জাতিকে সজাগ হতে হবে।আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই। যেখানে শএুর চোখের সামনে বারুদের মত জ্বলে উঠবে।স্বাধীন বাংলাদেশ।

জাতীয় সম্মিলিত ফোরাম-বাংলাদেশ ( জেএসএফ ) ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) প্রেরিত বিবৃতিতে বলা হয় ,সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারের উদ্যোগ সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। কিন্তু বাংলাদেশপন্থী বিশেষজ্ঞ মেধাবীদের দায়িত্ব দেয়া উচিত ছিল। কিন্তু আলী রীয়াজের চেতনায় আওয়ামী লীগ ও পক্ষপাতে ভারতপ্রীতি রয়েছে। কমিশন জাতিকে উপহার দিতে পারবেন? নাকি দুর্নীতি দমন কমিশনে সংস্কারের নামে কৌশলে দিল্লির নীল নকশার কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি করবেন? এ শঙ্কা দেশের ছাত্র জনতার মধ্যে রয়ে গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে বিতর্ক চলছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয় , আগে যেমন বলা হতো ৬ জন বিশিষ্ট ব্যাক্তিকে সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে বিশিষ্টজন হতে তিনটি গুন থাকা অপরিহার্য। প্রথমত বিশিষ্টজন হতে হলে তাকে ভারতপন্থী হতে হবে, দ্বিতীয়ত ইসলাম বিদ্বেষী হতে হবে এবং তৃতীয়ত ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি ইংরেজি ও একটি বাংলা দৈনিক পত্রিকার চেতনা ধারণ করতে হবে। বর্তমান সরকার যাদের নিয়োগ দিচ্ছে তাদের বেশির ভাগই এই শ্রেণির বিশিষ্টজন হিসেবে চিহ্নিত।’ এই মাফিয়াচক্র দেশকে সম্পূর্ণ ভঙ্গুর করে দিয়েছিল। দেশকে আমদানিনির্ভর ও পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। মাফিয়াচক্র দেশের ব্যাংকগুলো পর্যন্ত দেউলিয়া করে দিয়েছে।

জাতীয় সম্মিলিত ফোরাম-বাংলাদেশ ( জেএসএফ ) ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) প্রেরিত বিবৃতিতে বলা হয় , শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনালে শেখ হাসিনার সঙ্গে বিরোধ নাটক করলেও সব সময় দিল্লির তল্পীবাহকের ভুমিকা পালন করেছে, এখনো পরিবর্তন হয়নি। ‘বিএনপি ঠেকাও’ ধোঁয়া তুলে ১৬ বছরে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনাকে মনস্টার বানিয়েছে। ৮ আগস্ট ড. মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ভারতের চেতনাধারী ওই গণমাধ্যম বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের নিয়ে এক সেমিনারের আয়োজন করে নিজেদের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয় , শেখ হাসিনার নানামুখি ষড়যন্ত্র, ভারতের চানক্যনীতি এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে বশীকরণের চেষ্টার মধ্যেই ড. ইউনূস দেশ পুনর্গঠনের কাজে হাত দিয়েছেন। নিরহংকার নির্লোভ ড. ইউনূস একের পর এক উদ্যোগ গ্রহণ করছেন।দেশ জাতির এই মুহূর্তে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে কোন সংস্কার হবে না উল্টো পতিত স্বৈরাচারকে সাংবিধানিক ভাবে প্রতিস্তাপন করা হবে। সেটা হলে বিপুলসংখ্যক ছাত্র জনতার রক্তের সাথে জাতীয়ভাবে বেইমানি করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে বিচারককে গুলি করে হত্যা করল এক পুলিশ সদস্য

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে এক বিচারককে কয়েক রাউন্ড গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কেন্টাকির লেচার কান্ট্রি কোর্টহাউসে এই গুলির ঘটনা ঘটে। অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারককে হত্যার ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তার নাম শন স্টাইনস (৪৩)। পুলিশ জানিয়েছে, একটি ছোট গ্রামীণ শহর কেনটাকির হোয়াইটসবার্গের আদালতে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে বিচারক কেভিন মুলিনসকে (৫৪) একাধিকবার গুলি করা হয়। মুলিনস ঘটনাস্থলেই মারা যান।

পুলিশ আরো জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার আদালতের অভ্যন্তরে তর্কে জড়ানোর পরে গুলি চালানো হয়েছিল, তবে কী কারণে তর্ক শুরু হয়েছিল তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

স্থানীয় সংবাদপত্র দ্য মাউন্টেন ইগলের মতে, পুলিশ স্টাইনস বিচারকের অফিসে গিয়েছিলেন এবং আদালতের কর্মচারীদের বলেছিলেন, মুলিনসের সঙ্গে তিনি একা কথা বলবেন। পেছনের দরজা বন্ধ করে বিচারকের চেম্বারে প্রবেশ করেন তারা। এরপরেই রুমের ভেতর থেকে বন্দুকের গুলির শব্দ শোনা যায়। ঘটনার পর স্টাইনস হাত তুলে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা গেছে।
রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল রাসেল কোলম্যান এক্স-এর একটি পোস্টে বলেছেন, ‘ঘটনা পুরোপুরি তদন্ত করা হবে এবং বিচার করা হবে।’ কেনটাকি রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র ম্যাট গেহার্ট একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘এই ঘটনায় পুরো শহর হতবাক।’

নিউইয়র্কে প্রবাসীদের টানাহ্যাঁচড়ায় ড. ইউনূসের সংবর্ধনা বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাগরিক সংবর্ধনা বতিল করা হয়েছে।

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিব্র সন্ধ্যায় ম্যানহাটনের টাইমস স্কয়ার সংলগ্ন ম্যারিয়ট মারক্যুইস হোটেলের বলরুমে সরকারিভাবেই তাঁকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার কথা ছিল। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল যৌথভাবে উক্ত অনুষ্ঠান আয়োজন চূড়ান্ত করেছিল। তাঁর এ সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের বিভিন্ন দল ও সংগঠন টানাহ্যাঁচড়া শুরু করলে বিরুপ প্রতিক্রয়া দেখা দেওয়ার ফলে নাগরিক সংবর্ধনা বাতিল করা হয়। নাগরিক সংবর্ধনা বাতিলের কথা স্বীকার করলেও সঠিক কী কারণে তাঁর এ সংবর্ধনা বাতিল করা হয়েছে তা জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন ও বাংলাদেশ দূতাবাস কিছুই জানাননি।

আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর নাগরিক সংবর্ধনা নিয়ে নিউইয়র্কের বিভিন্ন মহলের টানাহ্যাঁচড়া শুরু হয়। প্রায় প্রতিদিনই চলছিল পাল্টাপাল্টি সভা ও সংবাদ সম্মেলন। নিউইয়র্কের বিভিন্ন সংগঠন প্রধান উপদেষ্টার নাগরিক সংবর্ধনা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করলেও কাউকে দেওয়া হয়নি কোন অনুমতি। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সরকারিভাবেই তাঁকে নাগরিক দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ দূতাবাস। ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ম্যানহাটনের টাইমস স্কয়ার সংলগ্ন ম্যারিয়ট মারক্যুইস হোটেলের বলরুমে সরকারিভাবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়। হোটেল বুকিংয়ের জন্য মোটা অংকের অগ্রিম অর্থও প্রদান করা হয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষকে। এরই মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি বিভিন্ন সংগঠনের মাঝে শুরু হয় নানা তোরজোড়। বিএনপিপন্থী ভুঁইফোঁড় নাগরিক সমাজ, জামাত-বিএনপি আর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে পরিচালিত বাংলাদেশ সোসাইটিসহ বিভিন্ন মহল ধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাগরিক সংবর্ধনা দিতে মরিয়া হয়ে উঠে। বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় যূক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ,আওয়ামী পরিবার,সকল সগযোগী অংগ সংগঠনসহ আরোও অনেক সংগঠন ।বিভিন্ন দল ও সংগঠন টানাহ্যাঁচড়া শুরু করলে দেশ ও প্রবাসে বিরুপ প্রতিক্রয়া দেখা দেওয়ার ফলে নাগরিক সংবর্ধনা বাতিল করা হয়।

অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাগরিক সংবর্ধনা বতিল হওয়ায় হোটেল বুকিংয়ের জন্য মোটা অংকের অর্থ গচ্ছা দিতে হচ্ছে সরকারকে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে হোটেল বুকিংয়ের জন্য অগ্রিম অর্থ প্রদান করা হয় হোটেল কর্তৃপক্ষকে। তবে সমুদয় অর্থ ফেরত পবার কোন নিশ্চয়তা নেই। তবে কিছুটা হলেও ফেরত পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল নাজমুল হুদা।

বিসিএ শেফ অব দ্যা ইয়ার প্রতিযোগিতায় ৭৫ জন উদিয়মান শেফ এর অংশগ্রহন অনুষ্ঠিত

০

শহিদুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিবেদকঃ ব্রিটেনে বাংলাদেশী কারি ইন্ড্রাস্ট্রির বৃহত্তম সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাটার্রাস এসোসিয়েশন (বিসিএ) বর্ণাঢ্য আয়োজনে ১৭তম বিসিএ এ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠান আগামী ২৮ অক্টোবর সোমবার লন্ডনের বিখ্যাত ওটু ইন্টারকন্টিনাল (02 Intercontinental)-এ অনুষ্ঠিত হবে।

বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বৃটেনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও বিশিষ্টজনেরা। এ্যাওয়ার্ডস কে সামনে রেখে ১৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার লন্ডনের হ্যার্মাস স্মিথ এন্ড ফুলহ্যাম কলেজে শতাধিক প্রতিযোগির মধ্য থেকে যাচাই-বাচাই করে ৭৫ জন উদিয়মান শেফ এর অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ফাইনালে এদের মধ্যে সেরা ১০ জন শেফ বিসিএ এ্যাওয়ার্ড পাবেন।

67284fef 9232 46af b16e 6a7abd4fa650

প্রতিযোগিতার এবারের শিরোনাম-‘best bar naan’। বলা হচ্ছে, এটি কারি শিল্পের এমন একটি প্রতিযোগিতা যেখানে একজন শেফ কারী মসলা ও সাদা ক্রীমের সংমিশ্রণে ক্রিয়েটিভ চিন্তার সমন্বয়ে নতুন কারি ডিশ উদ্ভাবন করবেন। যা হতে পারে ‘the UK’s King or Queen of Spice’

দুপুর ১২টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত সরাসরি এই প্রতিযোগিতায় ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর থেকে রেষ্টুরেন্ট ও টেকওয়ের প্রতিযোগিরা অংশগ্রহণ করেন।

e75a65c5 bb43 4cb1 9fa0 60bea644ecd9

প্রসঙ্গত বিসিএ বিশেষ করে মহিলা ও তরুণ শেফদের জন্য একটি উত্তরাধিকারী, যোগ্যস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই প্রথমবারের মতো চালু করেছে-ইউকে দ্যা বেস্ট ইয়াং কারি শেফ এওয়ার্ড। এই প্রতিযোগিতায় রেকর্ড সংখ্যক তরুণ উদিয়মান শেফ অংশ নিয়েছেন।

লাইভ শেফ কুক অব বিসিএ-ব্রিটেনে বাংলাদেশী কারী ইন্ডাস্ট্রির একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা। বৃটেনের অভিজ্ঞ শেফ এবং ক্যাটারার্সদের সমন্বয়ে গঠিত বিচারকবৃন্দ এই প্রতিযোগিতা থেকে সেরা দশ জন শেফ বাচাই করেন। যেখানে শেফদের উদ্ভাবিত নানা পদের মৌলিক ডিস ও এর সৃজনশীল উপস্থাপনা সর্বোপরি কারি শিল্পের সাথে জড়িত রেষ্টুরেন্ট কর্মীদের অনুপ্রাণীত করতে বিসিএ এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে।

বিসিএ ‘শেফ অফ দ্যা ইয়ার’ এর বিচারক প্যানেলে ছিলেন এগ্রোসুপারের হেড অব ইউরোপ ভেনোরিকা মুর্তি ও হেড অব সেইলস ডেইভ ফ্যিটউড, পজিটিভ এনার্জির হেড অব মার্কেটিং জোশ এডওয়ার্ড, ফেডারেশন অব ফিশ এন্ড চিপস এর প্রেসিডেন্ট এনড্রিউ র্কক।

এই প্রতিযোগিতা থেকে সেরা দশজন বিজয়ীর নাম বিসিএ’র ১৭তম এওয়ার্ড অনুষ্ঠানে বিখ্যাত ওটু ইন্টারকন্টিনাল এ সেলিব্রেটি ও বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা ও এওয়ার্ড প্রদান করা হবে। এবারের বিসিএ এওয়ার্ডস এর শ্লোগাণ হচ্ছে-“Uniting Heritage with Fresh Perspective”।

a4dd3979 3d9c 428a 8171 206e810ea6e3

বিসিএ ⁠এ্যাওয়ার্ড কমিটির কনভেনার আতিক রহমান বিইএম ও শেফ অব দ্যা ইয়ার এর হেড শামসুল আলম খান শাহিন বাংলাদেশী ক্যুজিন এর শেফদের বৈচিত্রময় মৌলিক রন্ধনশৈলীর প্রতিযোগিতাটি পরিচালনা করেন।

বিসিএ সভাপতি ওলি খান এমবিই বলেন, কারি শিপ্লের উন্নতি এবং সমৃদ্ধির জন্য আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের শেফদের প্রতিভা ও শিল্পসত্তায় বিনিয়োগ করতে হবে। এই এ্যাওয়ার্ড গুলোতে মূলত প্রতিশ্রুতিশীল মেধাবী তরুণ শেফদের খুজে বের করে তাদের কর্মের স্বীকৃতি তুলে ধরা হয়।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশী কারি ইন্ড্রাস্ট্রি দিন দিন বিস্তৃত ও শক্তিশালী হচ্ছে । বাংলাদেশী কারির স্বাদ ও গুণগত মান অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে উন্নত ও বৈচিত্রময়।

লাইভ শেফ কুক অফ বিসিএ-প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দক্ষ শেফ তৈরী এবং তাদের উদ্ভাবিত ডিসগুলো মূলধারায় তুলে ধরার পাশাপাশি ব্রিটেনের রেস্টুরেন্টগুলোতে ‘স্কিল্ড স্টাফ‘ তৈরীতেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

বিসিএ সেক্রেটারী জেনারেল মিটু চৌধুরী বলেন, আমাদের কারি শিল্প বৃটেনের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। বিসিএ নিরবিচ্ছিন্নভাবে আমাদের রেস্টুরেন্টুগুলোর মান উন্নয়নে কাজ করছে। কারি ইন্ড্রাস্ট্রির জন্য মর্যাদাকর ও অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ সেরা শেফ বাচাই প্রতিযোগিতাটি বৃটেনের সেলিব্রেটি শেফ ও অভিজ্ঞদের সরাসরি তত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়।

আমাদের বিশ্বাস এই উদ্যোগ থেকে বাংলাদেশী কারী শিল্পে যুক্ত হবে বহু মাত্রিক নানা পদ, স্বাদ ও মানের নতুন ডিশ। একই সাথে আমরা পাবো মেধাবি প্রতিশ্রুতিশীল নতুন প্রজন্মের শেফ।

fefd2c3a 0061 4329 8ca1 5f8de8a699f2 edited

সংগঠনের চিফ ট্রেজারার টিপু রহমান বলেন, বিসিএ প্রায় বিশ বছর থেকে বাংলাদেশী কারি ইন্ড্রাস্ট্রির শেফদের তাদের কাজের স্বীকৃতি প্রদান করে আসছে। বাংলাদেশী কারী ব্রান্ডিং ও সর্বপরি কারী ইন্ড্রাস্ট্রির উজ্জ্বল অবস্থানে তাদের মেধা ও শ্রম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নতুন নতুন শেফদের প্রতিভা খুজে বের করা সহ তাদের সম্মানীত করতে পেরে আমরা আনন্দিত।

বিসিএ ⁠এ্যাওয়ার্ড কমিটির কনভেনার আতিক রহমান বিইএম বলেন, ব্রিটেনের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিভাবান তরুণ শেফদের অনুপ্রাণীত ও তাদের কাজগুলো তুলে ধরার লক্ষ্যে এই আয়োজন। লাইভ শেফ কুক অফ বিসিএ প্রতিযোগিতায় ৭৫জন শেফ অংশ নিয়েছেন। প্রতিযোগিদের মৌলিক ডিশ, স্বাদ ও সৃজনশৈলী আমাদেরকে আশাবাদি করছে।বিশেষ করে মাছ, শাক-সবজি ও বাংলাদেশী ঐতিহ্যবাহি সুগন্ধি ফলের ফিউশন কারী ডিশগুলো মূলধারায় বাংলাদেশী কারী শিল্পের ব্রান্ডিং তৈরীতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

বিসিএ‘র মেম্বারশীপ সেক্রেটারী ইয়ামিম দিদার ও শেফ অব দ্যা ইয়ার এর হেড শামসুল আলম খান শাহিন এর প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিএ প্রেসিডেন্ট ওলি খান এমবিই, সেক্রেটারী জেনারেল মিটু চৌধুরী, চিফ ট্রেজারার টিপু রহমান, সাবেক প্রেসিডেন্ট কামাল ইয়াকুব, ভাইস প্রেসিডেন্ট ফায়জুল হক, অর্গানাইজিং সেক্রেটারী ফরহাদ হোসেন টিপু, এ্যাওয়ার্ড কমিটির কনভেনার আতিক রহমান বিইএম, প্রেস এন্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারী নাজ ইসলাম প্রমুখ।

নিউইয়র্কে বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকতাদিরের ২৭তম স্মৃতি বার্ষিকী পালন

বীর মুক্তিযোদ্ধা ম আ মুকতাদির সৃতি কল্যাণ ট্রাষ্টের উদ্দোগে গত বৃহস্পতিবার ,১৯ সেপ্টেম্বর  ২০২৪,নিউইয়র্ক এর জালালাবাদ ভবনে সন্ধ্যা সাতটায় বীর মুক্তিযোদ্ধা  ম, আ মুকতাদিরের ২৭তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে  এক আলোচনা সভা বীর মুক্তিযোদ্ধা  সুব্রত বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। খবর বাপসনিউজ ।
সভা পরিচালনা করেন  সংগঠনের সদস্য সচিব  এম  আব্দুর রহিম। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন  সংগঠনের ট্রাষ্টি  শাহাব উদ্দীন । একে অতিথি বক্তা ছিলেন মুলধারার রাজনীতিক লিগেলকনসালটেন্ড  এডভোকেট মুজিবুর রহমান ,বাপসনিউজ এডিটর ও মুলধারার রাজনীতিক সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন ,:জালালাবাদ এসোসিয়েন অব আমেরিকার সভাপতি  রিয়েলেটর মইনুল ইসলাম .সংগঠক জাকির হোসেন বাচ্ছু ,ইয়ামীন রশীদ ,,আবুল কালাম আযাদ ,মোফাখর আহমদ  এবং আব্দুন নূর  শেখ  প্রমুখ।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন ,ম আ মুকতাদিরের মতো দেশপ্রেমিক ছাত্র জনতা জীবন বাজিরেখে ১৯৭১ এ মহান যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। কিন্তু  দু:খজনক হলেও সত্য যে আজও বাংলাদেশে স্বাধীনতার চেতনা ভূলুণ্ঠিত।
বার বার রক্ত দিয়ে ক্ষমতার পালাবদল হয় । কিন্তু গরীব মানুষের ভাগ্যর  পরিবর্তন  অথবা  গনতান্ত্রিক সমাজ কোন টাই প্রতিষ্ঠা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে আখের ঘোচানো হয়েছে। তাই আজ স্বাধীনতে বিরোধীরা মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য পাচই আগষ্টের গন অভ্যুত্থানের পর সুপরিকল্পিত ভাবে দেশের মুক্তিযুদ্ধের  সমস্ত স্থাপনার উপর ভাংচুর ও ধংস  যজ্ঞ চালায়। এবং আমাদের জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করার মতো ধৃষ্টতা দেখায়। তাই আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে। শত্রু মিত্র চিহ্নিত করে আপোষহীন সংগ্রামের বিকল্প নেই। বীর মুক্তিযুদ্ধা মুক্তাদিরের আদর্শের সৈনিকেরা সেই সংগ্রামের অগ্রনী ভূমিকা পালন করবেন। সৃতি কল্যাণ ট্রাষ্টের উদ্দোগে দেশে বন্যার্ত দের মাঝে ত্রান বিতরণ ,চক্ষুশিবির ,গরীব মেধাবীদের বৃত্তি সহ ম আ মুকতাদিরের জীবন ভিত্তিক স্মারক গ্রন্থের প্রকাশনার যে মহতী উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে তার জন্য উদ্দোক্তাদের ধন্যবাদ জানান । সভা শেষে সবাইকে নৈশ ভোজে আপ্যায়ন করা হয় ।

গণহত্যায় উসকানিদাতা কবি ও সাংবাদিকদেরও বিচার হবে, উপদেষ্টা নাহিদ

০

তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রণায়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম গণহত্যায় উসকানিদাতাদের বিচারের আওতায় আনার ওপর গুরুতারোপ করেছেন। তিনি বলেন, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে যারা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কিংবা গণহত্যায় উসকানি দিয়েছেন; তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত বলতে বুঝিয়েছেন, বিভিন্ন লেখনি ও মতামতের মাধ্যমে জনমত তৈরি করে গণহত্যার পক্ষে পরোক্ষভাবে কাজ করেছেন এবং গণহত্যার জন্য উসকানি দিয়েছেন; তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে। কেবল সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কবি পরিচয়ে কেউ রেহাই পাবেন না।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলা সম্পর্কিত অপর এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, মামলাগুলো সরকার করছে না; জনগণ তাদের জায়গা থেকে করছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শত্রুতার জায়গা থেকেও মামলা করা হচ্ছে। সেই জায়গা থেকে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি এবং আশ্বস্ত করেছি যে, এই মামলাগুলো দ্রæত সময়ের মধ্যে পর্যালোচনা করা হবে। তদন্ত করে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হলে তাকে মামলা থেকে রেহাই দেওয়া হবে।
এ সময় তিনি জানান, মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাব ও সচিবালয় সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। আমি তাদের বলেছি, যদি কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয় বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয় থাকে; তাহলে তার ব্যাপারে তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিস্তারিত পাঠাবেন। আমরা তার বিষয়টি দেখব।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে দ্রæত সময়ের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়; জননিরাপত্তা যাতে নিশ্চিত হয়; আমরা যেহেতু একটি জরুরি পরিস্থিতিতে আছি; দেশ পুনর্গঠন করতে হচ্ছে; সেহেতেু সেনাবাহিনীকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই মাসের জন্য এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই সময়ের মধ্যে পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ সংস্কার করে আরও শক্তিশালী ও আস্থার জায়গায় নিয়ে এসে তাদের মাঠে ফিরিয়ে আনা হবে। এ কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের ‘গুজব শনাক্তকরণ সেল’ সম্পর্কে জানতে চাইলে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা ফ্যাক্টচেকিং নিয়ে বিভিন্ন অংশীজন ও মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলছি। কীভাবে ফ্যাক্টচেকিং বিষয়টি আরও শক্তিশালী করা যায়; সেটা নিয়ে ভাবছি।
একটি ফ্যাক্টচেকিং সেল করার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাতে এ ধরনের গুজবের সত্যতা যাচাই করে মানুষের কাছে সত্য তুলে ধরা যায়; মানুষ যাতে গুজব ও মিথ্যায় প্রভাবিত না হয়; সে জন্য আমরা ফ্যাক্টচেকিং নিয়ে ভাবছি।
এর আগে নাহিদ ইসলাম ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড’ এবং জুড়ি বোর্ডের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

জাতিসঙ্ঘের তথ্যানুসন্ধান মিশনের কাজ শুরু, উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ

০

বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতা গণ-অভ্যুত্থানে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ, নৃশংসতা ও হত্যার ঘটনাগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য জাতিসঙ্ঘের একটি তথ্যানুসন্ধান মিশন গতকাল পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সাথে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে কাজ শুরু করেছে।
এই মিশন প্রায় এক মাস বাংলাদেশে অবস্থান করে নিহতদের পরিবার, আহত, প্রত্যক্ষদর্শী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করবে। মিশনটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ সংগ্রহ, সহিংসতার মূল কারণের ওপর বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সংস্কারসহ বাংলাদেশ সরকারের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপের সুপারিশ করবে।
জাতিসঙ্ঘের তথ্যানুসন্ধান মিশন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেছে। গত জুলাই ও আগস্টের নৃশংসতার ঘটনাগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তে সহায়তা দেয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসঙ্ঘের হাইকমিশনার ভালকার তুর্ককে অনুরোধ করেছিলেন। তথ্যানুসন্ধান মিশন ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহ তদন্ত করবে।
জাতিসঙ্ঘের তথ্যানুসন্ধান মিশনের সাথে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তারা কাজ শুরু করছে। তাদের কোনো সহায়তার দরকার হলে আমরা দেবো। আমরা চাই তারা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করুক। তাদের কাজে কোনো হস্তক্ষেপ করব না। উপদেষ্টা বলেন, তথ্যানুসন্ধান মিশন কোনো প্রচার চায় না। এটা হলে তাদের কাজে বিঘœ সৃষ্টি হবে।
এ দিকে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কার্যালয় থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমন্ত্রণে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কার্যালয় চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বিক্ষোভের কারণে উদ্ভূত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করছে। তথ্যানুসন্ধান মিশন সত্য উদঘাটন, দায়-দায়িত্ব চিহ্নিতকরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মূল কারণ বিশ্লেষণ এবং এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তিরোধে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করবে। আলোচ্য সময়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহার সম্পর্কিত প্রাথমিক তথ্য দেয়া জন্য সব ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংস্থাকে মিশন আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। মিশন সেসব তথ্যের জন্য অনুরোধ করছে, যা বর্তমানে সামাাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া যাবে না এবং প্রকাশিত বা প্রচারিত হয়নি। ঙঐঈঐজ-ঋঋঞই-ংঁনসরংংরড়হং@ঁহ.ড়ৎম-এই ই-মেইলে তথ্য জমা দিতে হবে।
বিবৃতিতের বলা হয়, তথ্যানুসন্ধান মিশনের কাজ কোনো অপরাধ অনুসন্ধান বা আইনি তদন্ত নয়। এটি যেকোনো জাতীয় ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া থেকে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে। মিশন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। ঘটনাস্থলে পরিচালিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উপাত্ত বিশ্লেষণের পর জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কার্যালয় তথ্যানুসন্ধান মিশনের ফলাফল, উপসংহার ও সুপারিশসহ একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। তবে তথ্যানুসন্ধান প্রক্রিয়াটি কঠোরভাবে গোপনীয়। তদন্ত চলাকালে মিশনের সদস্যরা কোনো গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেবে না।
হাসিনার ভারতে অবস্থানের অফিসিয়াল স্ট্যাস্টাস জানা নেই : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের অফিসিয়াল স্ট্যাটাস আমাদের জানা নেই। আমি অফিসিয়ালি তাদের কিছু বলিনি। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। দেশ ছাড়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করা হয়। এর ৪৫ দিন পরও তিনি কোন স্ট্যাটাসে ভারতে অবস্থান করছেন জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, সব কিছু শুধু আইন দিয়ে চলে না। ভারত সরকার তাকে আশ্রয় দিয়েছে। তিনি সেখানে থাকছেন। এটি আমাদের সেভাবেই দেখতে হবে।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধান উপদেষ্টার সাথে কাদের বৈঠক হবে, সেটা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

মোদি-হাসিনা জুটি বাংলাদেশে শাসন পরিবর্তন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে,এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের বিশ্লেষণ

০

বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন থেকে শিক্ষাকে বিচ্ছিন্নভাবে বিশ্লেষণ করা যায় না। এমনকি ভারতের মতো একটি শক্তিশালী প্রতিবেশীর সমর্থনও বাংলাদেশের অজনপ্রিয় সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তানের অনলাইন মিডিয়া এক্সপ্রেস ট্রিবিউনে করাচির সামাজিক বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ডিন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মুনিস আহমার বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে অন্তত মোটাদাগে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন থেকে উদ্ভূত তিনটি পাঠের কথা চিন্তা করা যায়।
শেখ হাসিনার পতন থেকে কী শিক্ষা নেয়া দরকার এবং বাংলাদেশের এই পরিবর্তন এই অঞ্চলে কিভাবে প্রভাব ফেলবে? বেসামরিক স্বৈরশাসক এবং তাদের অনুসারীরা কি শিখবে কিভাবে জনগণের শক্তি একজন স্বৈরাচারীকে চলে যেতে বাধ্য করতে পারে? এ তিনটি প্রশ্নের উত্তরে নিহিত রয়েছে বাংলাদেশের সা¤প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল উৎসগুলো। প্রথমত, ছাত্র ও অন্যান্য সরকার বিরোধীদের মধ্যে ঐক্য এবং সেইসাথে তাদের পরিকল্পনা যা অসাধ্য সাধনে সাহায্য করেছে। নিছক বিবৃতি ও বাগাড়ম্বর দ্বারা অত্যাচারী সরকারকে অপসারণ করা যায় না। চাকরির কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে আন্দোলন ঠেকাতে আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ব্যর্থ হলে হাসিনা সরকারের অপরাজেয়তার মিথ পরিষ্কার হয়ে যায়।
এটি দেখায় যে রাজনৈতিক সমর্থন বা শক্তিশালী লুকানো শক্তির ধাক্কা ছাড়াও, একটি আন্দোলন একটি শাসনকে উচ্ছেদ করতে পারে যদি একটি কারণের জন্য লড়াইকারীরা একক মনোভাবাপন্ন হয় এবং এটি নিজেরাই করে। দুর্ভাগ্যবশত ১৯৬৮-৬৯ এবং ১৯৭৭ সালে পাকিস্তানে জনগণের আন্দোলন সামরিক শাসন জারি করে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে, পূর্বের দুর্বল গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য রয়েছে। মাত্র বছর দুয়েক আগে মনে হয়েছিল, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, নির্বাচনী কারচুপি এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের কারণে বাংলাদেশের কোনো শক্তিই উঠতে পারবে না। কিন্তু শিগগিরই শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে লাভা বিস্ফোরিত হয় তার দৃশ্যমান অজেয়তা সত্তে¡ও। বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে, তারা স্পষ্ট জানিয়েছিল যে তারা আপস করবে না এবং তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবে। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে, চাকরির কোটা মাত্র ৭% কমানোর নির্দেশ দেয়ার পরেও, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সরে যেতে অস্বীকার করেছিল এবং বরং হাসিনার পদত্যাগ দাবি করেছিল। ৪ আগস্ট, যখন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বাইরে থেকে ঢাকায় প্রবেশ করে এবং প্রধানমন্ত্রীর ভবনের দিকে মিছিল করে, তখন এটি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভাগ্যকে সিলমোহর দেয়।
দ্বিতীয়ত, আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নেতৃত্ব অনেক গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানে যারা বিরোধী দলে থাকার দাবি করে তাদের বেশির ভাগই মূল্য ট্যাগ বহন করে, বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে যে এটি ভিন্ন। গুরুতর অর্থনৈতিক সঙ্কট, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং নির্বাচনী কারচুপির কারণে পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য উপযুক্ত হলেও- যুবক বা ছাত্রদের মধ্যে কেউই সেখানে নেই। একটি আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু করুন। ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থাকে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সহনশীলতার মাত্রা বাংলাদেশে একটি ব্রেকিং পয়েন্টে পৌঁছেছে, যার ফলে দ্বিতীয় বিপ্লবের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে যা শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনব্যবস্থার প্রতীকগুলোকে ভেঙে দিয়েছে। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা সরকারের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মাফিয়ারা তাকে পতনের হাত থেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছে।
অবশেষে, একটি আন্দোলন বা আন্দোলন সফল করার জন্য একটি অনুঘটক এজেন্ট আছে. বাংলাদেশে, ছাত্ররা একটি অনুঘটক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল- এমনকি তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থন ছাড়াই কাজ করে- কারণ তাদের নেতৃত্ব যেকোনোভাবে তাদের লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়চেতা এবং সুস্পষ্ট ছিল। এর অর্থ হলো একটি অনুঘটকের অনুপস্থিতি এমন একটি শাসনের জন্যও চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে না যা অজনপ্রিয়, অবৈধ, দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অযোগ্য। শেখ হাসিনার শাসনামলের সব দোষ ছিল কিন্তু দীর্ঘ ১৫ বছর টিকে ছিল কারণ তখন কোনো অনুঘটক শক্তি ছিল না। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জালিয়াতিপূর্ণ নির্বাচনের পর যখন তিনি ক্ষমতায় ফিরে আসেন, তখন মনে হয় তিনি আরো পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবেন। মোদি-হাসিনা জুটি বাংলাদেশে শাসন পরিবর্তন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে তাও একটি শিক্ষা বহন করে- এমনকি একটি শক্তিশালী প্রতিবেশীর সমর্থনও অজনপ্রিয় সরকারের জন্য কাজ করে না।
বাংলাদেশে ছাত্রদের আন্দোলন এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করে যার পরিণতি স্বৈরশাসনের অবসান- যা এক বছর আগেও কল্পনা করা যেত না। ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে শেখ হাসিনা শালীনতা, সহনশীলতা, রাজনৈতিক বহুত্ববাদ এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতির সমস্ত সীমা অতিক্রম করে বাংলাদেশকে শাসন করেছেন। যে শেখ হাসিনাকে অপরাজেয়, অহঙ্কারী ও অটুট দেখাচ্ছিল, সেই শেখ হাসিনাকে তার সমর্থকদের অস্বস্তিতে ফেলে তাড়াহুড়ো করে ভারতে পালিয়ে যেতে হয়েছে।
প্রহসনের নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী আওয়ামী লীগ সরকার বছরের পর বছর ধরে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। কিন্তু বিদ্রোহকারী কোটি কোটি মানুষের তীব্র আন্দোলনে ভেসে গেছে। হাসিনার অধীনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে ভালো করছে তা একটি মিথ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে কারণ দেশটি বিপুল ঋণে জর্জরিত এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ভুগছে। ভারতের স্যাটেলাইট স্টেট হিসেবে চিহ্নিত, বাংলাদেশ তার সার্বভৌমত্বের সাথে আপস করেছিল, যা বাংলাদেশীদের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠদের মধ্যে ক্ষোভকে আরো বাড়িয়ে তুলেছিল।
প্রাক্তন পূর্বপাকিস্তান যেটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ হয়েছিল তার একটি সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ছিল বাক-স্বাধীনতার অধিকার দ্বারা উদ্ভাসিত, শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনামলে তা খর্ব করা হয়েছিল। হাসিনা যখন আন্দোলনরত ছাত্রদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের রাজত্ব জারি করে সীমা অতিক্রম করে, তখন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। কারফিউ আরোপ, সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের দমন করার ক্ষমতা দেয়ার মতো পদক্ষেপগুলো প্রমাণ করে যে হাসিনা পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন এবং শিগগিরই একটি লজ্জাজনক পতনের শিকার হতে চলেছেন। বাংলাদেশের সংসদে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট হয়নি কারণ তিনি সেখানে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভোগ করেছিলেন এবং এটি তাকে অপসারণের জন্য কেবল দু’টি বিকল্প রেখেছিল। তাকে জোর করে প্রধানমন্ত্রী হাউজ থেকে বের করে দেয়া বা সামরিক আইন জারি করা। ছাত্রদের আন্দোলনের সময় সামরিক বাহিনী দায়িত্ব নিতে রাজি ছিল না।

ডনাল্ড লু’র ঢাকা সফর নিয়ে যা জানালো স্টেট ডিপার্টমেন্ট

০

বাংলাদেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করার বিষয়ে কথা বলতে ঢাকায় এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডনাল্ড লু। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। বাংলাদেশে ডনাল্ড লু’র সফর সম্পর্কে এক সাংবাদিক তার কাছে জানতে চান, আমি বিশ্বাস করি সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী লু বাংলাদেশে আছেন। তার বৈঠক সম্পর্কে কি আপনার জানা আছে? আরও বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বোঝাপড়া এবং বাংলাদেশ যেদিকে যাচ্ছে- তা যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে মূল্যায়ন করে। এ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘোষণা আছে তারা বাংলাদেশে সাহায্য করবে, সে বিষয়ে আপনাদের লক্ষ্য কি? জবাবে মিলার বলেন, হ্যাঁ ডনাল্ড লু ঢাকায় আছেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আর্থিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন এবং উন্নয়নের প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে তাদেরকে সহযোগিতা করতে পারে, এ বিষয়ে লু অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। তিনি সেখানে একজন মার্কিন সহায়তাকারী প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত আছেন। বাংলাদেশের জনগণের জন্য উজ্জ্বল এবং সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ গড়তে এবং সেখানে সুশাসন ও বাণিজ্য প্রসারিত করতে ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র।