জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ক্ষমতা হারান এবং পালিয়ে ভারত চলে যান। হাসিনার ক্ষমতা হারানোয় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে ভারত। কেননা, ভারত বাংলাদেশের জনগণকে উপেক্ষা করে শুধুমাত্র হাসিনা সরকারের সঙ্গেই তাদের সম্পর্ক উন্নয়ন করেছিল। হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর এখন দিল্লি এবং ঢাকার সম্পর্ক নতুন করে পুনঃনির্মাণ করতে হবে। খোদ ভারতেই এ নিয়ে বিস্তর আলাপ উঠেছে। দিল্লি এখন নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে কীভাবে তারা ঢাকার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক উন্নয়ন করবে। বাংলাদেশের জনমনে ভারত-বিরোধিতা তুঙ্গে থাকায় দিল্লিকে এ বিষয়ে খুব সাবধানে পা ফেলতে হচ্ছে। মঙ্গলবার ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে যা হবে তা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে চাই। প্রতিবেশী দেশগুলো একে অপরের নির্ভরশীলতার উপর জোর দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিস্তারিত এই সাক্ষাৎকারে জয়শঙ্কর আরও বলেন, বাংলাদেশে যা হবে তা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা প্রতিবেশীর সঙ্গে আমাদের পক্ষ থেকে সম্পর্কটাকে স্থিতিশীল রাখতে চাই। আমাদের বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সম্পর্ক ভালো। উভয় দেশের জনগণের মধ্যে ভালো সম্পর্ক আছে- যেটা আমি চাই সম্পর্কটা যেন এমনই থাকে।
সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে জুলাই মাসে আন্দোলনে নামেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশি বাধার মুখে একসময় শিক্ষার্থীদের ওই আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নেয়। এতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এই অভ্যুত্থানে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ত্যাগে বাধ্য হন হাসিনা। তিনি বর্তমানে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। ভারত থেকে হাসিনা যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন কিন্তু তাকে ভিসা দেয়া হয়নি। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী হাসিনা এখন ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর নিরাপত্তায় রয়েছেন।
গত মাসে জয়শঙ্কর পার্লামেন্টে বলেছিলেন, হাসিনা খুব অল্প সময়ের নোটিশে দিল্লির উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন। তারপর একটি সর্বদলীয় ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, হাসিনাকে তার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য ভারত সরকার সময় দেবে। হাসিনা পালানোর পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত হয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার শপথের পরই তাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফোনকলের মাধ্যমে ড. ইউনূসকে শুভেচ্ছা জানান। পরে ড. ইউনূস বলেছেন যে, ন্যায্যতা এবং সমতার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। ৮৪ বছর বয়সী ড. ইউনূস বলেন, আমরা চাই বিশ্ব বাংলাদেশকে একটি সম্মানিত গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। ভারতকে উদ্দেশ্য করে এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সামনের দিনে ভারতকে একটি ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সেটি হলো বাংলাদেশের সবাই ইসলামপন্থি, বিএনপি ইসলামপন্থি। বাকি সবাইও ইসলামপন্থি এবং (তারা) এই দেশটিকে আফগানিস্তানে পরিণত করবে। আর বাংলাদেশ শেখ হাসিনার হাতেই নিরাপদ। এসব ধারণা থেকে ভারতকে বেরিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশও অন্য প্রতিবেশীর মতো একটি প্রতিবেশী দেশ।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ভারত আগ্রহী
আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় বিক্ষোভ সংঘর্ষে নিহত ১
আশুলিয়ায় মাসকট গার্মেন্ট ও রেডিয়েন্ট গার্মেন্টের শ্রমিকদের সংঘর্ষে এক নারী শ্রমিক নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। নিহত শ্রমিকের নাম রোকেয়া বেগম। তিনি আশুলিয়ার জিরাবোর মাসকট গার্মেন্টের সহকারী সেলাই মেশিন অপারেটর। এদিকে গাজীপুরে বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন। মহানগরের টঙ্গী, কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা, চক্রবর্তী ও গাজীপুর সদরের শিরিরচালা এলাকায় এ বিক্ষোভ করা হয়। এতে মহাসড়কের বেক্সিমকো টঙ্গী থেকে জিরানি পর্যন্ত যানজট তৈরি হয়।
সাভার ও আশুলিয়া (ঢাকা) : আশুলিয়ার জিরাবোতে মঙ্গলবার সকালে মাসকট গার্মেন্টের সামনে দুই কারখানার শ্রমিকদের এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মাসকট গার্মেন্টের শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার বাইরে অবস্থান নেন। রেডিয়েন্ট গার্মেন্টের শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। এ সময় রেডিয়েন্ট গার্মেন্টের কাজ বন্ধ করতে মাসকট কারখানার শ্রমিকরা ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে দুই গার্মেন্টের শ্রমিকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ইটের আঘাতে মাসকট কারখানার রোকেয়া বেগম নিহত হন। আহতদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোকেয়া গাইবান্ধা জেলার সদর থানার গুদারহাট এলাকার মাসুদ রানার স্ত্রী। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, শিল্প পুলিশসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গাজীপুর : গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী, কালিয়াকৈরের চন্দ্রা, চক্রবর্তী ও জয়দেবপুরের শিরিরচালায় মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন। আন্দোলন নিরসনে দাবিদাওয়ার বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে কাজ করছে পুলিশ। গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ও চক্রবর্তী এলাকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেন কারখানার শ্রমিকরা। সকালে চন্দ্রা এলাকায় মাহমুদ জিন্স লিমিটেড ও নায়াগ্রা টেক্সটাইল লিমিটেডের শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন। অপরদিকে চক্রবর্তী এলাকায় বকেয়া বেতন-ভাতার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেন বেক্সিমকো গ্রæপের শ্রমিকরা।
এদিকে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন শিরিরচালা এলাকার এক্সিকিউটিভ হাই ফ্যাশন লিমিটেডের শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছে। আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, কারখানাটিতে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক আছে। ইতঃপূর্বে শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবিদাওয়া কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করেন। সোমবার রাত ১০টার দিকে অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা কারখানার আয়রনম্যান মো. আরমানকে মারধর করে মানিব্যাগ ও মোবাইল কেড়ে নেয়। শ্রমিকদের সন্দেহ, দাবি উপস্থাপন করায় কারখানা কর্তৃপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাদের লোকজন দিয়ে আরমানকে মারধর করেছে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মবিরতি পালন করছে।
অপরদিকে, টঙ্গীর খাঁপাড়া এলাকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে সিজন ড্রেস নামের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন। এ সময় শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অপরদিকে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় বেতন বৃদ্ধিসহ আট দফা দাবি জানিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন তাসমিয়া হারবাল লিমিটেডের শ্রমিকরা। মঙ্গলবার সকালে তাদের কর্মবিরতি শুরু হয়। এ সময় তারা কারখানার ভেতরে হইচই করে। এদিকে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে নয় দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন ভেরিতাস ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেডের শ্রমিকরা।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর সহকারী পুলিশ সুপার মোশাররফ হোসেন বলেন, টঙ্গীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সিজন ড্রেস কারখানার শ্রমিকরা। বেতনভাতা পরিশোধে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক দল গঠনের অভিপ্রায় নেই, রাজশাহীতে আসিফ মাহমুদ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক দলের ব্যাপারে রিউমার বা কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে, অনেকেই শুনতে চাচ্ছেন আমাদের থেকে। এটা আমরা এর আগেও স্পষ্টভাবে বলেছি-এখনই কোনো রাজনৈতিক দল খোলার কোনো অভিপ্রায় আমাদের নেই।’ মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীতে জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি। আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যারা আছেন, কারোরই ক্ষমতার অভিলাষ নেই। সবারই পেশাগত জীবন আছে, সবাই সেখানে ফিরে যেতে চান। কিন্তু দেশের মানুষ একটা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে দায়িত্বটা এই সরকারকে দিয়েছেন, সেটি যথাযথভাবে পালন করে মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটা নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করাই আমাদের লক্ষ্য।’
তবে সংস্কারের আগে নির্বাচন নয় বলে জানান যুব ও ত্রীড়া উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘যে সংস্কারের কথা আমরা বলছি সেটা একদফারই অংশ। শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে অভু্যুত্থানের মধ্য দিয়ে; কিন্তু একদফার যে মূল অংশ, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ-এর জন্য যে সংস্কারগুলো অত্যাবশ্যকীয় সেগুলো করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এটা জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতেই হয়েছে। জনগণ নির্বাচনের জন্য কিংবা ক্ষমতার পালাবদলের জন্য অভ্যুত্থানে আসেনি। যদি আসত সেটা ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আগেই আসত। এই অভ্যুত্থান হয়েছে স্পষ্টভাবেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপের জন্য।’
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা বিদ্যমান ব্যবস্থা সংস্কার না করে দিয়ে যেতে পারি, আমরা মনে করি, যেই ক্ষমতায় আসুক, যে কোনো রাজনৈতিক সরকার এই অটোক্রেডিক একটা সিস্টেমের মধ্যে নিজেও অটোক্রেডিক হয়ে উঠতে বাধ্য হবে। সে কারণে আমরা মনে করি-এই সংস্কারটা অত্যাবশ্যকীয়। দেশের জনগণ যেভাবে দেশকে গড়তে চাইবেন, দেশ পুনর্গঠনের যে প্রস্তাব দেশের মানুষের মধ্য থেকে উঠে আসবে সেটার বাস্তবায়ন করাটাই আমাদের দায়িত্ব হবে।’
সংস্কার কাজ এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম আছেন, তিনি এবং উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান-এ দুজনের নেতৃত্বে একটি টিম করা হয়েছে। তারা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রেগুলার বেসিসে বসছেন। অফিশিয়াল বসার বাইরেও আনঅফিশিয়ালি যোগাযোগ রাখছেন যাতে আমাদের মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি না হয়। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রায় রাজনৈতিক দলসহ সব স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে এগিয়ে যেতে পারি, সেটা আমরা নিশ্চিত করব।’
পোশাক খাতে অস্থিরতা প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘শনিবার আমরা বিজিএমইতে তিনজন উপদেষ্টাসহ আমাদের পুরো টিমসহ একটা আলোচনায় ছিলাম। রোববার থেকে আজ মঙ্গলবার, এই সময়টাতে কিন্তু গত সপ্তাহের তুলনায় যে আনরেস্ট ছিল সেটা ৫ থেকে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। কিছু কিছু জায়গায়, খুব স্পেশিফিক দু-তিনটা কারখানায় এখন আনরেস্টের মতো সিচুয়েশন আছে। সেটাও আমরা মনে করি দ্রæতই প্রশমন হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যে কমিটি করে দিয়েছি, পর্যবেক্ষণ সেল করা হয়েছে। সেখানে শ্রমিকরা অভিযোগ জানাচ্ছেন। তারা আস্থা রেখেছেন বলে তাদের ধন্যবাদ জানাই। সেল খুব দ্রæতই পদক্ষেপ নেবে। আমাদের সেই কমিটি কিন্তু বিভিন্ন জায়গায়, আশুলিয়ায় শ্রমিক আনরেস্টের জায়গায় ভিজিট করেছে এবং সমস্যাগুলোকে অ্যাড্রেস করার চেষ্টা করছে।’
দেশের বিভিন্ন স্থানে সমন্বয়করা মতবিনিময় সভা করতে গিয়ে তোপের মুখে পড়ছেন-এ নিয়েও প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশে এটা পুরোনো কালচার। যে কোনো ভালো উদ্যোগকে বিতর্কিত করার জন্য কিছু মানুষ তো থাকেই। সমন্বয়ক পরিচয়ে অনেক ভুয়া, অনেকেই বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করছেন। যে দ্বিতীয় স্বাধীনতার কথা আমরা বলি, তারপরই অনেকে চাঁদাবাজির মতো ঘটনা ঘটাচ্ছেন। আমরা মনে করি, এগুলোর অবসান ঘটবে। আমাদের মধ্যে যে জাতীয় ঐক্য হয়েছে তা থাকবে এবং তার মধ্য দিয়েই আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠন করতে পারব।’
এর আগে প্রধান অতিথি হিসাবে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন-শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক আবদুর রহিম খান।
খেলার চেতনা দেশ গড়ার লড়াইয়ে কাজে লাগাতে হবে : রাবি প্রতিনিধি জানান, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘খেলার মধ্যে যে শক্তি আছে, তা আমাদের মধ্যে উজ্জীবন ও ঐক্য তৈরি করে। মাঠে এগারোজন খেললেও আসলে আমরা আঠারো কোটি মানুষ এক হয়ে যাই। আর এই চেতনাকে জাতীয় শক্তিতে রূপান্তর করে দেশ গড়ার লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’ মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ কামাল স্টেডিয়ামে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বনাম রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যকার এ খেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব। উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা আমিরুল ইসলাম, রুয়েট ছাত্রকল্যাণ পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ প্রমুখ।
শেখ হাসিনা নিজেকে নেতৃত্বের জন্য বিকল্পহীন ভাবত-পিরোজপুরে আব্দুল হান্নান মাসুদ : পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ বলেছেন, শেখ হাসিনা ফ্যাসিস্ট হয়েছেন, কারণ তিনি নিজেকে নেতৃত্বের জন্য বিকল্পহীন ভাবতেন। নিজের কথা ছাড়া তার আর কারও কোনো কথা সহ্য করতে পারত না। তার পাশে বসা লোকটার কথাও সে গুরুত্ব দিত না। সোমবার দুপুরে পিরোজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলার সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান সমন্বয়ক এসব কথা বলেন।
এ সময় আরও বত্তৃদ্ধতা করেন কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক ফারজানা আফিফা অদিতি, এমএ সাঈদ, হাসিবুল ইসলাম শান্ত, শহীদুল ইসলাম শহীদ, জিহাদ হোসাইন, সাকিব আহম্মেদ, ফারিয়া সুলতানা লিজা, সাব্বির আহম্মেদ রিয়ন এবং পিরোজপুর জেলা সমন্বয়ক মুসাব্বির মাহমুদ সানি ও শাহরিয়ার আমিন সাগর।
শেরপুরে ছাত্র আন্দোলনের কার্যক্রম স্থগিত : শেরপুর প্রতিনিধি জানান, শেরপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সব ধরনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার রাতে শহরের মুসলিম মার্কেটের অ্যাডভান্স আইটি ইনস্টিটিউট হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় ছাত্ররা বলেন, ছাত্রদের এখন পড়ার টেবিলে ফেরার সময় হয়েছে। তবে জাতির যে কোনো ক্রান্তিকালে আবার রাস্তায় ফিরবে। এছাড়াও দুর্নীতি, অনিয়ম মোকাবিলা করে শেরপুরের উন্নয়নে প্রয়োজনে মাঠে থাকবে ছাত্ররা। এ সময় সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সঞ্জয় বণিক।
বন্যায় সহযোগিতায় শেরপুর টিমের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্যার্তদের সহযোগিতা করতে মাত্র ৩ দিনের মধ্যে শেরপুরবাসী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন টিমের কাছে ৭ লাখ ২৯ হাজার ১৬৭ টাকা দেয়। সেই সঙ্গে ব্যবহৃত কাপড় ও শুকনো খাবার সংগ্রহ করি। প্রথম ধাপে ত্রাণের পণ্যসামগ্রী বাবদ খরচ হয় ২ লাখ ৪২ হাজর ৪৭০ টাকা। যা নোয়াখালী ও ল²ীপুরে পাঠানো হয়েছে। অবশিষ্ট ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৭ টাকা বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও পুনর্বাসন তহবিলে জমা দেওয়া হবে।
ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা পেল সেনাবাহিনী
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমিশন্ড অফিসারদের স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। দ্য কোড অব ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮-এর ১২(১) ও ১৭ ধারা অনুযায়ী দুই মাসের (৬০ দিন) জন্য এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেনাবাহিনীর কমিশন্ড অফিসাররা এ স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা সারা দেশে প্রয়োগ করতে পারবেন।
জারি করা আদেশ অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারার অপরাধগুলো বিবেচনায় নিতে পারবেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশের বিরাজমান আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে সরকার এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই নানা ঘটনা ঘটছে। একটি মহল সরকারকে স্বস্তিতে দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা তৈরির জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে।
প্রতিটি মুহূর্তে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের নামে চাঁদাবাজি চলছে। দেশের ভেতর এবং বাইরে থেকে ধর্মীয় স¤প্রীতি বিনষ্টের গভীর চক্রান্ত করছে। সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি এবং বহু ধর্মের সহাবস্থানের গৌরব ম্লান করার চেষ্টা হচ্ছে।
এছাড়া অনেকের কাছে অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে যে কোনো সময় জনজীবনে হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। অপর দিকে অনেকে বৈধ অস্ত্রও জমা দেয়নি। অথচ অস্ত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়েছে ১৫ দিন আগে। দেশের বিভিন্ন স্থানে দখলবাজি চলছে। গার্মেন্ট শিল্প নিয়ে বহুমাত্রিক চক্রান্ত হচ্ছে।
সার্বিক বিবেচনায় সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সেনাবাহিনীকে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়েছে। তারা আরও জানান, এখনো অনেক পুলিশ সদস্য কর্মস্থলে যোগ দেননি।
পুরোদমে কাজ শুরু করতে পারছে না থানাগুলো। এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনীকে এ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
‘ফোনে আপা আপা বলা’ আ. লীগকর্মী তানভীর বহিষ্কার
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামীলীগ জ্যাকসন হাইটস ইউনিট কমিটি-এর সাধারণ সম্পাদক মো. তানভীর কায়সারকে।
তিনি গত ১২ সেপ্টেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের পর তার সেই অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি রফিকুর রহমান মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) একটি লিখিত আদেশে মো. তানভীর কায়সারকে বহিষ্কার করা হয়। উক্ত বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয় বার বার সতর্ক করা সত্তে¡ও তানভীর কায়সার দলের নীতি, আদর্শ, চেতনা ও মূল্যবোধ বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকায় তাকে দলীয় সিদ্ধান্তে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রফিকুর রহমান জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের পর তানভীর কায়সার সেই অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হেয় করেছেন। একজন দলীয় কর্মী হয়ে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি দলে থাকার কোন অধিকার নেই। তাই গত সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্তে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে তানভীরের ফেসবুক একাউন্টের প্রোফাইল বন্ধ রয়েছে। ফোনালাপে তিনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন ওই নেতাদের সাথে তিনি আন্দোলন করবেন। কিন্তু তিনি নিজেই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের হাতে ‘নির্যাতিত’ দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তানভীর কায়সার ২০১৯ সালের ৪ জুন লস অ্যাঞ্জেলস হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকেন। তার ভিসাটি ছিল ভ্রমণ ভিসা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের কিছুদিন পরই দাবি করেন যে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে নির্যাতন করেছে। এজন্য তিনি নিজের নিরাপত্তা চান। পরে ২০২০ সালের ৭ মে দেশটিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। এরপর ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি তার বাংলাদেশি পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বলেও জানা গেছে।
ফোনালাপ ফাঁসে ভাইরাল হওয়া তানভীরের জন্ম ১৯৮৯ সালের ৭ ডিসেম্বর। তার বাবা সোলেমান কায়সার এবং মা নিলুফার ইয়াসমিন। তার স্ত্রীর নাম রুকাইয়া আযাদ। তবে এই তানভীর আওয়ামী লীগের কোন দায়িত্বে আছেন, কোন সূত্রে শেখ হাসিনার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন, সেটি এখনো জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে শেখ হাসিনার সঙ্গে অনেকেরই কথোপকথনের অডিও ফাঁস হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করছেন। তবে এসব কল রেকর্ড কীভাবে ফাঁস হচ্ছে তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তানভীরের ফোনালাপ কীভাবে ফাঁস হলো এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীসহ প্রবাসীদের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।
অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না: তারেক রহমান
নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশ: সংস্কার কার্যক্রমের পথ ধরে নির্বাচনি রোডম্যাপে উঠবে দেশ * অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে ফ্যাসিজমের অনেক প্রেতাত্মা আছে, দ্রত সরাতে হবে -মির্জা ফখরুল
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না-এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হাজারো শহিদের রক্তের বিনিময়ে লাখো কোটি জনতার গণ-অভ্যুত্থানের ফসল। এ সরকারের কোনো কোনো কার্যক্রম সবার কাছে হয়তো সাফল্য হিসাবে বিবেচিত নাও হতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এ সরকারের ব্যর্থতা হবে আমাদের সবার ব্যর্থতা। বাংলাদেশের পক্ষের গণতন্ত্রকামী জনগণের ব্যর্থতা। তাই সরকারকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। দেশ-বিদেশ থেকে নানারকমের উসকানিতেও জনগণ সরকারকে ব্যর্থ হতে দেবে না। তবে সরকার যাতে নিজেরাই নিজেদের ব্যর্থতার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সে ব্যাপারে তাদেরও সতর্ক থাকতে হবে।
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি তিনি বক্তব্য দেন। এতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
মাফিয়াচক্রের বেনিফিশিয়ারি অপশক্তি প্রশাসনের অভ্যন্তরে থেকে কিংবা রাজনীতির ছদ্মাবরণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, অন্যায়, অনিয়ম আর অরাজকতার বিরুদ্ধে গণবিস্ফোরণে মাফিয়াচক্রের প্রধান দেশ ছেড়ে পালানোর পর দেশে মাফিয়া শাসন-শোষণের অবসান ঘটেছে। পতিত স্বৈরাচারের পলায়নের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক-মানবিক বাংলাদেশ গড়ার পথে প্রধান বাধা দূর হয়েছে। তবে বাধা দূর হলেও মাফিয়াচক্রের রেখে যাওয়া ১৫ বছরের জঞ্জাল দূর হয়নি। এ জঞ্জাল দূর করে ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ করছে। তবে মাফিয়াচক্রের প্রধান হাসিনা দেশ ছেড়ে পালালেও এ চক্রের বেনিফিশিয়ারি অপশক্তি প্রশাসনের অভ্যন্তরে থেকে কিংবা রাজনীতির ছদ্মাবরণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সংসদ এবং সরকার প্রতিষ্ঠাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সব সংস্কার কার্যক্রমের প্রথম ও প্রধান টার্গেট হওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কিংবা যে কোনো দেশেই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত সরকার অবশ্যই জনগণের সরকার। তাই জনগণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে, রাখবে। তবে কোনো একপর্যায়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জবাবদিহিও কিন্তু নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা হয়।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, এজন্যই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত জবাবদিহিমূলক সরকার এবং সংসদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া দরকার। কারণ, জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া সংস্কার কার্যক্রমের প্রক্রিয়ায় জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছাড়া উন্নয়ন-গণতন্ত্র কিংবা সংস্কার কোনোটিই টেকসই ও কার্যকর হয় না। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রত্যেক ভোটারের ভোট প্রদানের অধিকার নিশ্চিত করে ভোটারদের কাক্সিক্ষত প্রতিনিধি নির্বাচন করার অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
সরকার এজেন্ডা সেটিংয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে না পারলে গণ-অভুত্থানের সাফল্য ব্যাহত করতে ষড়যন্ত্রকারী চক্র নানা সুযোগ গ্রহণ করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, এর কিছু আলামত ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সেজন্য বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন জনপ্রশাসনের সংস্কার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্ষম ও উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকার ইতোমধ্যেই বেশকিছু ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
তারেক রহমান প্রত্যাশা করেন, সংস্কার কার্যক্রমের পথ ধরে নির্বাচনি রোডম্যাপে উঠবে দেশ। সুতরাং, আসুন আমরা সবাই কাজের মাধ্যমে জনগণের বিশ্বাস, ভালোবাসা অর্জন করি। জনগণের সঙ্গে থাকি। জনগণকে সঙ্গে রাখি।
নতুন রাজনৈতিক দল গঠন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, কেউ যদি মনে করেন, একটি উন্নত ও নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য আরও নতুন রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন রয়েছে, তাতেও দোষের কিছু নেই। কারণ, শেষ পর্যন্ত জনগণই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে তারা কাকে সমর্থন জানাবে কিংবা কাকে সমর্থন দেবে না। এ কারণেই বিএনপি বারবার জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছে। বিএনপি মনে করে, একমাত্র অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই রাষ্ট্র-রাজনীতি এবং রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সঙ্গে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশীদারত্ব তৈরি হয়।
গণ-অভ্যুত্থান কিংবা সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে রাজনীতির মাঠে নানারকম কথা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এটি একটি স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য রীতি। প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করবেন, এটিই স্বাভাবিক। এ নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে বিশ্বাস করি, ফৌজদারি অপরাধের বিচার যেমন বিচারিক আদালতে হয়, ঠিক তেমনই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কিংবা রাজনৈতিক আচরণের বিচার হয় জনগণের আদালতে।
বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার যাত্রাপথে বাংলাদেশের পক্ষের শক্তিকে হয়তো আরও ত্যাগ স্বীকার করতে হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতার পরিবর্তন মানে শুধুই রাষ্ট্রক্ষমতার হাতবদল নয়। ক্ষমতার পরিবর্তন মানে রাষ্ট্র ও রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন। তাই প্রতিটি রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মনে রাখা প্রয়োজন-রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আচার-আচরণেও গুণগত পরিবর্তন জরুরি। সুতরাং কোনো প্রলোভন কিংবা উসকানিতে বিভ্রান্ত না হয়ে জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজের নেতৃত্বদানের জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখুন। ছাত্র-জনতার কাক্সিক্ষত বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার এ যাত্রাপথে বাংলাদেশের পক্ষের শক্তিকে হয়তো আরও ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আরও কিছু পথ পাড়ি দিতে হবে। তবে সেই পথ সন্ত্রাস-সংঘর্ষ-প্রতিশোধ কিংবা প্রতিহিংসার নয়। সেই পথ হবে ধৈর্য, সহনশীল ও সমঝোতার। রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপির দেওয়া ৩১ দফা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্র-রাজনীতি এবং রাজনৈতিক দল হিসাবে বিএনপি দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম সংস্কারের লক্ষ্যে ২০২৩ সালেই বাংলাদেশের পক্ষের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। তবে ঘোষিত ৩১ দফাই শেষ কথা নয়। বিএনপি মনে করে, রাষ্ট্র কিংবা রাজনীতি-সব ক্ষেত্রেই সংস্কার কার্যক্রম একটি ধারাবাহিক ও চলমান প্রক্রিয়া। সুতরাং, রাষ্ট্র ও রাজনীতি সংস্কারে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচির আরও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন-পরিমার্জনকেও বিএনপি স্বাগত জানায়।
সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে ফ্যাসিজমের অনেক প্রেতাত্মা অবস্থান করছে। তারা এখনো ছাত্র-জনতার বিজয়কে ব্যর্থ করতে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের দ্রæত চেয়ার থেকে সড়াতে হবে। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের বিনিময়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা একটা সুযোগ পেয়েছি, তা যেন হেলায় হেলায় ফেলে না দিই। সরকারের কাছে আন্দোলনে প্রত্যেক আহত, পঙ্গু ও শহিদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সরকারের উদ্দেশে বলেন, আপনারা নানা সংস্কারের কথা বলছেন। কিন্তু সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। সরকারকে অনুরোধ করতে চাই, অবিলম্বে ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি সংসদে পাঠাবে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি ১৬ বছর আন্দোলন করে এখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে। আমাদের সাবধান-সতর্ক থাকতে হবে। বিজয় এখনো হয়নি। বিজয় ছিনিয়ে নিতে হবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব আমিনুল হক ও দক্ষিণের সদস্যসচিব তানভির আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন-নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, গাজীপুর জেলার ফজলুল হক মিলন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু, ঢাকা জেলার নিপুণ রায় চৌধুরী, গাজীপুর মহানগরের শওকত হোসেন সরকার, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজিব আহসান, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, জাসাসের হেলাল খান, ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ। আরও উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, তাইফুল ইসলাম টিপু, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, নাজিমউদ্দিন আলম, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ।
কমলা মার্কিন রাজনীতি উত্তপ্ত করছেন : ট্রাম্প
রিপাবলিকান প্রার্থী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ডেমোক্র্যাটিক প্রতিদ্ব›দ্বী কমলা হ্যারিসকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। দ্বিতীয়বারের মতো হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়ার পর ট্রাম্প কমলা হ্যারিসকে কমরেড অভিহিত করে অভিযোগ করেছেন যে, কমলা কমিউনিস্ট বামপন্থি ভাষ্য প্রচার করছেন। তাঁর মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করছেন কমলা। সোমবার সকালে যখন ট্রাম্প ফ্লোরিডার গলফ কোর্সে ছিলেন। সেখানে গুলির ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে সেখানে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা একজন সন্দেহভাজনকে আটক করেন। নাম তার রায়ান রাথ। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার কাছে একটি একে-৪৭ রাইফেল পাওয়া যায়। রাথকে অবৈধ অস্ত্র রাখার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে, তবে কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে তার রাইফেল থেকে কোনো গুলি চালানো হয়নি। ট্রাম্প জানান, এভাবে বারবার তাঁর ওপরে আক্রমণের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে দমিয়ে রাখা যাবে না। তিনি বলেন, অজানা স্থান থেকে লাখ লাখ মানুষকে আমাদের দেশে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া একটি অপরাধ। আমাদের সীমান্ত বন্ধ করতে হবে এবং সন্ত্রাসী, অপরাধী ও মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের অনতিবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রে শহর ও গ্রাম থেকে সরিয়ে দিতে হবে এবং তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে হবে। হামলার চেষ্টার খবরে বিশেষ ভাবে উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্পের প্রতিদ্ব›দ্বী তথা যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন- ‘আমি খুশি যে ট্রাম্প সুস্থ এবং সুরক্ষিত রয়েছেন’।
ট্রাম্পকে হত্যা করতে গলফ মাঠের কাছে ঝোপে ১২ ঘণ্টা ওতপেতে ছিলেন বন্দুকধারী : ফ্লোরিডার পাম বিচ এলাকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর দ্বিতীয়বারের মতো হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। ট্রাম্প তাঁর নিজের গলফ ক্লাবে বন্ধু স্টিভ উইটকফের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন। এমন সময় সন্দেহভাজন এক বন্দুকধারী প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে ছিলেন। সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তাদের দক্ষতায় ট্রাম্পকে দ্রæত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় সময় রবিবার দুপুরে ট্রাম্প যখন পাম বিচ ইন্টারন্যাশনাল গলফ ক্লাবে খেলছিলেন, তখন সিক্রেট সার্ভিসের একজন সদস্য গলফ মাঠের পাশে ঝোপের ভিতরে একটি বন্দুকের নল লক্ষ্য করেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তি সেখানে দুটি ডিজিটাল ক্যামেরা, একটি কালো প্লাস্টিকের ব্যাগ ও আধা-স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। বন্দুকটি প্রায় ৪৪০ গজ দূরে থেকে গুলি করতে সক্ষম হলেও, সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা দ্রæত পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্পকে নিরাপদে সরিয়ে নেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, গলফ খেলার সময় তিনি কাছাকাছি চার থেকে পাঁচটি গুলির শব্দ শুনেছিলেন। এই ঘটনার পর সিক্রেট সার্ভিস চারটি গুলি ছোড়ে, কিন্তু সন্দেহভাজন বন্দুকধারী পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় সন্দেহভাজনের গাড়ি শনাক্ত করা হয় এবং তাকে ফ্লোরিডার মার্টিন এলাকায় গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ৫৮ বছর বয়সী রায়ান ওয়েসলি রুথের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানান, রুথ দীর্ঘ সময় ধরে গলফ মাঠের পাশের ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে ছিলেন। সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা তার সন্দেহজনক কার্যকলাপ লক্ষ্য করার আগেই সেখানে অবস্থান করছিলেন। এই হত্যাচেষ্টার ঘটনা ট্রাম্পের চলমান নির্বাচনি প্রচারের সময়কালে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। অতীতে রুথের ইউক্রেনে যুদ্ধে অংশগ্রহণের ইচ্ছার কথা জানা যায়। যদিও বয়সের কারণে তাকে সেই যুদ্ধে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তবু তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা বারবার বলেছিলেন। এর আগেও রুথ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। ২০২২ সালে নর্থ ক্যারোলাইনার বাড়িতে একটি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পাম বিচের স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। কারণ ট্রাম্পের জীবন আরও একবার গুরুতর হুমকির মুখে পড়েছিল। সিক্রেট সার্ভিসের তৎপরতায় সাবেক প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয়বারের মতো হত্যাচেষ্টার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন, তবে এই ঘটনা ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি মানতেই হলো মমতাকে
ওদের (জুনিয়র ডাক্তারদের) চারটে দাবির মধ্যে প্রথমটা (ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্ত) সিবিআইয়ের হাতে। ওদের বাকি চারটে দাবি আমরা মেনে নিয়েছি
ঢাকা ডেস্ক, ১৮ সেপ্টেম্বর : আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় বিচার চেয়ে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের ‘দাবি’ কার্যত মেনে নিলেন মমতা ব্যানার্জি। পুলিশের কমিশনার ভিনীত গোয়েল, ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দেবাশিস হালদার এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা কৌস্তভ নায়েককে সরিয়ে দিয়েছেন তিনি। গতকাল বিকালেই কলকাতা পুলিশ কমিশনার ভিনীত গোয়েলকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে মনোজ কুমার বর্মাকে। গোয়েলকে স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের প্রধান পদে নিয়োজিত করা হয়েছে।
অভিষেক গুপ্তাকে উত্তর কলকাতার ডেপুটি কমিশনার পদ থেকে সরিয়ে ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলসের দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নের প্রধান করা হয়েছে। কৌস্তভ নায়েককে স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ ইনস্টিটিউটের নির্দেশক পদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দেবাশিস হালদারকে সরিয়ে গণ স্বাস্থ্য বিভাগের অফিসার ও স্পেশাল ডিউটি পদে আনা হয়েছে।
এই তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনের অন্যতম মুখ দেবাশিস হালদার বলেন, এ পদক্ষেপ আমাদের দাবির ন্যায্যতাকে প্রমাণ করে।
তবে কলকাতা থেকে ডিডাবিøউ বাংলার সাংবাদিক স্যমন্তক ঘোষ জানান, পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে ভিনীত গোয়েলকে সরিয়ে যে পদ দেওয়া হয়েছে তা গুরুত্বপূর্ণ এবং অত্যন্ত সম্মানজনক। সূত্র জানিয়েছে, তিনি এই পদটিই চেয়েছিলেন। স্পেশাল টাস্ক ফোর্স খুবই এলিট ফোর্স। কলকতা পুলিশে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদ বলে পরিচিত।
বিবিসি জানায়, সোমবার দীর্ঘক্ষণ বৈঠকের পর জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি মেনে প্রশাসনিক রদবদলের প্রতিশ্রæতি দেন মমতা ব্যানার্জি। আর গতকাল তা বাস্তবায়ন করেন।
সোমবার গভীর রাতে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘ওদের (জুনিয়র ডাক্তারদের) চারটে দাবির মধ্যে প্রথমটা (ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্ত) সিবিআইয়ের হাতে। ওদের বাকি চারটে দাবি আমরা মেনে নিয়েছি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা, ডিসি নর্থকেও সরানো হয়েছে। আমি ওদের কাজে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি।
‘নমনীয়’ রাজ্য সরকার : জুনিয়র চিকিৎসকদের টানা আন্দোলন, সেখানে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনসহ সর্বভারতীয় চিকিৎসক সংগঠনের সমর্থন এবং বিপুল পরিমাণে নাগরিক সমাজের শামিল হওয়ার ফলে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে রাজ্য সরকার সে কথা মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে তাদের অভিমত, দাবি মেনে রদবদলের প্রতিশ্রতির কিন্তু রাজনৈতিক দিকও আছে। এর মধ্যে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আইনজীবী কপিল সিব্বল আশ্বাস দেন আন্দোলনরত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে না রাজ্য সরকার।
উল্লেখ্য, সোমবারের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে ছিল পুরো দেশ। একাধিকবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা হলেও তা বিফল হয়েছে। গত সপ্তাহে যে তিনবার নবান্নে বৈঠকের প্রস্তাব এসেছিল তার প্রত্যেকবারই মুখ্যমন্ত্রী জুনিয়র ডাক্তারদের জন্য অপেক্ষা করেছেন বলে জানানো হয়েছিল। আন্দোলনকারীরা এ বৈঠক সরাসরি স¤প্রচারের দাবিতে অনড় থাকায় বৈঠক হয়নি।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক খেল বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক শিখা মুখার্জি বলেন, ‘এক ধাপ এগিয়ে দুই ধাপ পিছিয়ে আসার মতোই এটাও রাজনীতির একটা কৌশল।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী অন্য একটা দিক উল্লেখ করেছেন।
দিল্লির নতুন মুখ্যমন্ত্রী আতিশি মারলেনা
দিল্লির নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন আতিশি মারলেনা। গতকাল অরবিন্দ কেজরিওয়াল মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পর আম আদমি পার্টি সর্বসম্মতিক্রমে ৪২ বছরের আতিশিকে বিধায়ক দলের বৈঠকে নেতা নির্বাচিত করে। গত রবিবার কেজরিওয়াল মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে জনতার রায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হবেন। দিল্লির আবগারি নীতির দুর্নীতির কারণে কেজরিওয়ালকে দুর্নীতি দমনে সংস্থা সিবিআই গ্রেপ্তার করেছিল। গত সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্ট তাকে জামিন দেন।
লেবাননে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ইসরাইল দায়ী: হিজবুল্লাহ
লেবাননে ভয়াবহ পেজার বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা এ পর্যন্ত আট। আহত হয়েছেন ২ হাজার ৭৫০ জন।
হিজবুল্লাহ বলছে, সব তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের পর আমরা বুঝতে পেরেছি যে, এ নৃশংস বিস্ফোণের জন্য ইসরাইল দায়ী।
এ সময় হিজবুল্লাহ জানায়, ফিলিস্তিনকে তারা সহায়তা করে যাবে। আর লেবাননে ইসরাইলের এমন কর্মকাণ্ডের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।
এ বিস্ফোরণে দেশটিতে অবস্থিত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোজতবা আমানিও আহত হয়েছেন। তিনি একটি পেজার ব্যবহার করতেন। দূতাবাস বলছে, রাষ্ট্রদূতের অবস্থা গুরুতর নয়।
লেবানন সরকারের এক মুখপাত্র এ বিস্ফোরণের জন্য সরাসরি ইসরাইলকে দায়ী করে বলেন, এটি লেবাননের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। দেশটির তথ্যমন্ত্রীও ‘ইসরাইলি আগ্রাসনের’ নিন্দা জানিয়েছেন।
তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো বিবৃতি দেয়নি ইসরাইল।


