Home Blog Page 568

বেনজীরের সম্পদ অনুসন্ধান চেয়ে দুদকে আবেদন ব্যারিস্টার সুমনের

অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন গতকাল রাজধানীর সেগুন বাগিচায় দুদক কার্যালয়ে গিয়ে সংস্থার চেয়ারম্যান বরাবর এ আবেদন করেন। এ সময় তিনি বেনজীরকে নিয়ে দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করেন। আবেদনে বেনজীর আহমেদের পাশাপাশি তার স্ত্রী জিসান মির্জা, দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাশিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়। পরে এ বিষয়ে ব্যারিস্টার সুমন সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের বলেন, বেনজীরের বিরুদ্ধে প্রায় হাজার কোটি টাকার যে রিপোর্ট আসছে, তার দুর্নীতির ব্যাপারে পত্রিকায় যে অভিযোগ আসছে, হেডলাইন হয়েছে। এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো ইনকোয়ারির (অনুসন্ধান) ব্যবস্থা না দেখে দুদকে এসে নাগরিক হিসেবে আবেদন করে বলেছি, এর (অভিযোগের) ইনকোয়ারি করা দরকার। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সাবেক আইজিপি মহোদয়ের যদি এত সম্পদ থাকে তবে বাংলাদেশের পুলিশ ফোর্সের মধ্যে যারা সৎ অফিসার আছেন তারা খুব বেশি ফ্রাসট্রেটেড (হতাশাগ্রস্ত) হবেন এবং দেশে যারা সৎ আছেন তাদের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। আর যারা অসৎ আছেন, তারা মোটামুটি প্রতিযোগিতায় নামবেন। যদি অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে তাহলে তারা বলবেন আমরা সবাই বেনজীর হতে চাই। আমার কাছে মনে হয়েছে, দেশের জন্য এটা একটা ভয়ানক বিষয়! দুদক পদক্ষেপ না নিলে কী করবেন জানতে চাইলে সুমন বলেন হাই কোর্টে যাব। সুমনের আবেদনের পর সুপ্রিম কোর্টে দুদকের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, জানতে পেরেছি প্রাক্তন আইজিপি বেনজীর আহমেদের সম্পদ নিয়ে যে খবর ছাপা হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন দুদকে একটি দরখাস্ত দাখিল করেছেন। তার এই দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক আইন ও বিধি অনুসারে যাচাই-বাছাই করবে। কমিশন যদি মনে করে এটি দুদকের আওতার মধ্যে পড়ে তাহলে দুদক আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেবে। এক প্রশ্নে এ আইনজীবী বলেন, এখানে ব্যক্তি মুখ্য নয়। কে কী সেটি এখানে ইস্যু নয়। দুদক দেখে যে অভিযোগটি তফসিলভুক্ত অপরাধের মধ্যে পড়ে কি না। কমিশন দেখবে তথ্যে সত্যতা কতটুকু। দুদকে দেওয়া সুমনের আবেদনে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ বাংলাদেশ পুলিশের ৩০তম আইজি ছিলেন। ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি অবসর গ্রহণ করেন। কিন্তু চাকরিতে থাকাকালে তার স্ত্রী ও মেয়েদের নামে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে খবর বেরিয়েছে, যে সম্পদগুলো তার আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে সুমনের আবেদনে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদের বৈধ আয়ের চেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশি। ফলে বেনজীর আহমেদ চাকরিতে থাকাকালে পদ-পদবি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে। ফলে বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী সন্তানদের সম্পদের তদন্তে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করছি। সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের অনিয়ম-দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে স¤প্রতি দুই পর্বের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে কালের কণ্ঠ। দুটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে বেনজীর আহমেদের অঢেল সম্পদের খোঁজ। দামি ফ্ল্যাট, বাড়ি আর ঢাকার কাছেই দামি এলাকায় বিঘার পর বিঘা জমি, বেস্ট হোল্ডিংস ও পাঁচ তারকা হোটেলে শেয়ার, পূর্বাচলে সুবিশাল ডুপ্লেক্স বাড়ি, প্লট, গোপালগঞ্জ ও গাজীপুরে অভিজাত রিসোর্টের সন্ধান মিলেছে ওই প্রতিবেদন দুটিতে। প্রকাশিত প্রতিবেদন দুটি যুক্ত করে দুদকে আবেদন করেন সংসদ সদস্য সুমন।

মিয়ানমারে আবারও হামলা, থাইল্যান্ডে পালাল ১৩০০ মানুষ

বিদ্রোহীদের হামলায় আবারও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে মিয়ানমার-থাই সীমান্তে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। এবার প্রাণ বাঁচাতে থাইল্যান্ডে পালাল ১৩০০ মানুষ। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থাই কর্মকর্তারা।
স¤প্রতি বিদ্রোহীদের কারেন স¤প্রদায়ের গোষ্ঠী মিয়াবতি শেষ ফাঁড়িটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছিল। শহরটি মোই নদীর ওপর দুটি সেতুর মাধ্যমে থাইল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত। থাই এবং মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের তিন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, শুক্রবার গভীর রাত থেকে একটি কৌশলগত সেতুর কাছে বিস্ফোরণ এবং ভারী মেশিনগানের গোলাগুলির শব্দ শুনেছেন তারা। এ ঘটনার পরই থাইল্যান্ডে পালানো শুরু করেন মিয়ানমারের বাসিন্দারা। এপি।
থাই স¤প্রচারকারী এনবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা একটি পোস্টে বলেছে, জান্তা সেনাদের লক্ষ্য করে প্রতিরোধ বাহিনী ৪০ মিলিমিটার মেশিনগান ব্যবহার করেছে এবং ড্রোন ব্যবহার করে ২০টি বোমা ফেলেছে। তাদের লক্ষ্যবস্তু হওয়া জান্তা সেনারা ৫ এপ্রিল থেকে মিয়াবতি এবং সেনা পোস্টে সম্মিলিত বিদ্রোহী হামলা থেকে বাঁচতে সীমান্তবর্তী একটি সেতু ক্রসিংয়ে আশ্রয় নিয়েছিল।
থাই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিয়াবতির বেশ কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষের পর শুক্রবার থেকে লোকজন পারাপার শুরু করেছেন। সেসময় শিশুসহ মধ্য বয়স্ক নারী-পুরুষদের একসঙ্গে পরিবারসহ নদী পার হতে দেখা যায়। তাদের কাছে ছিল প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, প্লাস্টিকের থলে এবং কাঁধে ব্যাগ। সীমান্তের এই অস্থিরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার কথা বলেছেন থাই প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিন। প্রয়োজনে তার দেশ মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের কোনো সংঘর্ষ থাইল্যান্ডের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলুক তা আমরা দেখতে চাই না। আমাদের সীমানা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা প্রস্তুত।’ তবে ওই পোস্টে উদ্বাস্তুদের বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেননি তিনি। মার্চ মাসে থাইল্যান্ড সরকার প্রায় ২০,০০০ বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য মিয়ানমারে মানবিক সহায়তার ব্যবস্থা করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র নিকোর্ন্দেজ বালাঙ্গুরা শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন যে, থাইল্যান্ড বর্তমানে তার সাহায্য উদ্যোগ স¤প্রসারণের জন্য কাজ করছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা দখল করে নেয় সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয় তাদের। তবে সেনাবাহিনীর জন্য মিয়াবতির পতন একটি বড় ধাক্কা ছিল। এছাড়াও মিয়ানমারের একসময়ের পরাক্রমশালী সশস্ত্র বাহিনী গত অক্টোবর থেকে একের পর এক পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে। সীমান্ত চৌকিসহ হারিয়েছে বেশ কিছু অঞ্চল। এদিকে মিয়ানমারে চলমান সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে জাতিসংঘ। শুক্রবার জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এক বিবৃতি বলেন, মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও আরকান আর্মির (এএ) পাশাপাশি রোহিঙ্গা ও জাতিগত রাখাইন স¤প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।

ভারতে ভোট নিয়ে পাল্টাপাল্টি, একতরফা ভাবে এনডিএর পক্ষে : মোদি উনি এতটা নিশ্চিত কীভাবে : রাহুল

শুক্রবার প্রথম দফায় লোকসভার ৫৪৩ আসনের মধ্যে ১০২টিতে ভোট নেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশন প্রাথমিক রিপোর্টে জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে ত্রিপুরায়, ৭৯.৯০ শতাংশ। এর পরই ভোট পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে, ৭৭.৫৭ শতাংশ। সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে বিহারে, মাত্র ৪৭.৪৯ শতাংশ। গোটা দেশে গড় ভোটদানের হার ৬৪ শতাংশ। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় এক বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গোটা দেশে তাপপ্রবাহের মধ্যেও এত বেশি সংখ্যায় ভোটদানের ঘটনা নজিরবিহীন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার প্রথম দফায় ৬৪ শতাংশ ভোট পড়ার ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)’-এর পক্ষেই একতরফাভাবে এ ভোট পড়েছে। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, উনি (মোদি) এতটা নিশ্চিত হলেন কীভাবে? নির্বাচনের ফল তো এখনো বের হয়নি। গতকাল মহারাষ্ট্রের নানডের এলাকায় নির্বাচনি প্রচারসভায় বক্তৃতাকালে মোদি বলেন, ‘যারা গতকাল (শুক্রবার) ভোট দিয়েছিলেন, বিশেষ করে প্রথম ভোটারদের আমার তরফ থেকে অনেক ধন্যবাদ। তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। ভোট প্রদানের পর বুথ লেভেল থেকে যে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে এবং আমি যে তথ্য পাচ্ছি তাতে আমার বিশ্বাস মজবুত হচ্ছে যে প্রথম দফায় এনডিএ’র পক্ষেই একতরফাভাবে ভোটদান হয়েছে। এনডিএ’র জয় নিশ্চিত করায় আমি মাথা নত করে আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’ গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উৎসবে দেশবাসীকে আরও বেশি সংখ্যায় শামিল হওয়ার আহŸানও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কিন্তু যারা প্রথম দফায় ভোট দেননি তাদের বলব ভোট প্রদান গণতন্ত্রের শক্তিশালী মাধ্যম। আপনি যাকেই ভোট দিন না কেন, ভোট অবশ্যই দেবেন। ভোট দেওয়া নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনোরকম উদাসীনতা থাকা উচিত নয়। এটা ঠিক যে প্রচণ্ড গরম পড়েছে ফলে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তারপর একদিকে বিয়ের মৌসুম, অন্যদিকে চাষিরাও মাঠে কাজ করছেন। তার পরও আমরা যখন দেশের সেনা সদস্যদের দিকে তাকাই, তখন দেখব যে কোনো মৌসুমেই জওয়ানরা নিজেদের কর্তব্যে অবিচল থাকে, কারণ দেশের জন্য তারা এ কাজ করে। আমার মনে হয় ভোটারদের মধ্যেও এ রকম মনোভাব থাকা উচিত। তাদের ভাবা উচিত যে ভোট দিয়ে আমি কারও উপকার করছি না বরং আমি ভোট দিয়ে আমার দেশের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করছি।’ বিরোধীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘আজ না হলে কাল, কাল না হলে পরশু আপনারা নিশ্চয়ই সুযোগ পাবেন। তাই আমি বিরোধীরা, যাদের পরাজয় নিশ্চিত, তাদের দলের কর্মীদের বলতে চাই-ভোটারদের ভোট দিতে আপনারাও উদ্বুদ্ধ করুন। কেননা আগামী ২৫ বছর ভারতের মহত্ত¡ প্রমাণ করবে আর যার জন্য ভোটের শতকরা বৃদ্ধি করাটা খুবই জরুরি।’ বিরোধী দলের জোট ‘ইন্ডিয়া’কে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী এও বলেছেন, ‘নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতেই বিরোধীরা এ জোট গঠন করেছেন। ফলে প্রথম দফার নির্বাচনে ভোটাররা সম্পূর্ণভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। নির্বাচনে লড়াই করার মতো প্রার্থী তাদের নেই। জোটের নেতারাই একে অন্যের বিরুদ্ধে লড়ছেন।’
প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন-‘যারা নিজেরাই একে অন্যকে বিশ্বাস করেন না, আপনারা কি তাদের বিশ্বাস করে ভোট দেবেন?’ প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্যের পর তাঁকে পাল্টা নিশানা করেছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদরা। তাঁর প্রশ্ন-প্রধানমন্ত্রী কীভাবে বলতে পারেন যে প্রথম দফার ভোটে ভোটাররা কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়া জোটকে প্রত্যাখ্যান করেছে? এদিন কেরালার ত্রিশূরে একটি নির্বাচনি প্রচারের ফাঁকে প্রিয়াঙ্কা প্রশ্ন তোলেন-‘নির্বাচনের ফলাফল এখনো বের হয়নি, তার আগেই তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কীভাবে এটা জানলেন? আমি জানি না তাঁরা এতটা আত্মবিশ্বাসী কীভাবে হলেন!’ কংগ্রেস নেত্রী এও প্রশ্ন তুলেছেন-‘কীভাবে প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি দাবি করে যে এ নির্বাচনে তারা ৪০০ আসন পাবেন? আমরা যেখানেই যাচ্ছি সেখানেই মানুষ বলছে তারা পরিবর্তন চায়। আমি নিশ্চিত যে পরিবর্তন এবার আসবেই।’

ট্রাম্পের বিচারঃ আদালতের সামনে গায়ে আগুন দেওয়া ব্যক্তির মৃত্যু

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাশ মানি মামলার বিচারকাজ যে আদালতে শুরু হয়েছে, সেই নিউইয়র্ক কোর্ট হাউসের সামনে গায়ে আগুন দেওয়া ব্যক্তি ম্যাক্স আজারেলো মারা গেছেন। গতকাল তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে স্থানীয় সময় গত শুক্রবার নিউইয়র্কে গায়ে আগুন দেন ওই ব্যক্তি। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি কমিশনার তারিক শেফার্ড এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ত্রিশোর্ধ্ব ওই ব্যক্তি ট্রাম্পের নিজ অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডার সেন্ট অগাস্টিনের বাসিন্দা। পুলিশের মতে, আজারেলো ট্রাম্পকে লক্ষ্যবস্তু করেননি। তবে প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রতত্ত¡’ বাস্তবায়নের অভিযোগ এনে তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ম্যাক্স তার পিঠে থাকা একটি ব্যাগ থেকে কিছু পুস্তিকা বের করে সব দিকে ছড়িয়ে দিতে থাকেন। নিজের গায়ে দাহ্য তরল পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার আগে সেগুলো ওপরের দিকে ছুড়ে দেন। পুস্তিকায় লেখা আছে ‘শয়তান ধনকুবের’। বাকি অংশে কী লেখা ছিল তা আর স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। এদিকে নিজের গায়ে আগুন দেওয়ার কয়েকদিন আগে আজারেলোকে একই আদালতের বাইরে প্রতিবাদ করতে দেখা গিয়েছিল। সে সময় তিনি একটি প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। তাতে লেখা ছিল, ‘ট্রাম্প বাইডেনের সঙ্গে আছেন এবং তারা আমাদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী অভ্যুত্থান করতে চলেছেন।’
তদন্তকারীরা বলছেন, পরিবারের সঙ্গে ফ্লোরিডায় থাকতেন ম্যাক্স আজারেলো। তিনি গত সপ্তাহে ফ্লোরিডা থেকে নিউইয়র্কে এসেছিলেন। ম্যাক্স আজারেলোর সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কোনো তথ্য নিউইয়র্ক পুলিশের কাছে নেই। আরেক খবরে বলা হয়, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলমান হাশ মানি মামলার বিচারকাজ পরিচালনার জন্য বিচারকদের পূর্ণাঙ্গ একটি বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। সোমবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সেই মামলার কার্যক্রম শুরু হতে পারে। দুপুরে ম্যানহাটনের ওই আদালতে হাশ মানি মামলার শুনানিতে এজলাসে উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্প। ম্যাক্সের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর শুনানি স্থগিত করা হয়, ট্রাম্পও আদালত ত্যাগ করেন। তবে এ ঘটনায় আদালতের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়নি। কয়েক ঘণ্টা স্থগিত থাকার পর বিকালের দিকে ফের মামলার শুনানি কার্যক্রম শুরু করেন আদালত।

পঞ্চপল্লীর ঘটনাস্থল পরিদর্শনঃ ন্যায়বিচারের স্বার্থে যা দরকার তা দ্রুত করার নির্দেশ ধর্মমন্ত্রীর

ধর্মমন্ত্রী মো: ফরিদুল হক খান ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার পঞ্চপল্লীতে মন্দিরে আগুন ও দুই ভাইকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ন্যায়বিচারের স্বার্থে যা করার দরকার দ্রæত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, একটি জিনিস শুধু আপনাদের বলতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে যা করার দরকার দ্রæততম সময়ের মধ্যে তাই করুন।
গতকাল শনিবার দুপুরে মধুখালীর নওপাড়ার চোপেরঘাট গ্রামে নিহতদের বাড়ি পরিদর্শনকালে ধর্মমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি নিহতদের বাড়িতে যান এবং তাদের বাবা-মায়ের সাথে কথা বলেন। ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আশ্বাস দেন। পরে তিনি পঞ্চপল্লীর মন্দির ও ঘটনাস্থল পঞ্চপল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।
ধর্মমন্ত্রী চোপেরঘাট গ্রামে বক্তব্যকালে বলেন, এই ধরনের অপকর্ম যেন আর কেউ না ঘটতে পারে। অন্য জায়গায় যেন এমন ঘটনা করার সাহস তারা না পায়। তারা যেই হোক, হিন্দু হোক আর মুসলমান হোক। তিনি বলেন, এই দেশ অসা¤প্রদায়িক দেশ। আমরা এই দেশে বসবাস করছি সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে। অপরাধী যেই হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না।
মন্ত্রী বলেন, আমরা চাই এই বাংলাদেশটা হবে অসা¤প্রদায়িক। এই বাংলাদেশে যাতে কোনো অঘটনমূলক কোনো কিছু না ঘটে এই জিনিসটা আমাদের বিবেচনায় আনতে হবে। তিনি হতাহতদের বিপদে-আপদে, সুখে-দুঃখে আজকে যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এ সময় তিনি বৃহস্পতিবারে পঞ্চপল্লীতে উচ্ছৃঙ্খলদের হাতে নিহত দুইজনের প্রত্যেকের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে এক লাখ টাকা করে দুই লাখ টাকা এবং আহতদের ২৫ হাজার করে টাকা করে প্রদান করা হবে বলে জানান। মন্ত্রী সবাইকে ধৈর্য ধরার আহŸান জানান।
পরে তিনি চোপেরঘাট কবরস্থানে নিহতদের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মু. আ: হামিদ জমাদ্দার, জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার, পুলিশ সুপার মোর্শেদ আলমসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে তিনি ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে স¤প্রীতি রক্ষা কমিটির বিশেষ সভায় যোগ দেন।

নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

দেশে কঠিন দুঃসময় চলছে উল্লেখ করে এ অবস্থার পরিবর্তনে নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল শনিবার বিকেলে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত নাগরিক স্মরণসভায় তিনি এই আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে ভয়াবহ দুঃশাসন আমাদের সব ভালো অর্জনকে কেড়ে নিয়েছে। আমাদেরকে পুরোপুরি একটা দাসে পরিণত করছে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আমরা আজ কঠিন সময় অতিক্রম করছি। রাজনৈতিক সঙ্কট, অর্থনৈতিক সঙ্কট ভয়াবহভাবে আমাদেরকে আক্রমণ করেছে। বিচার ব্যবস্থা পুরোপুরিভাবে দলীয়করণ হয়ে গেছে, অর্থনীতিতে চলছে লুটপাট, রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ধবংস করা হয়েছে, নির্বাচনী ব্যবস্থাকে উপড়ে ফেলা হয়েছে। এখন আর কিছু অবশিষ্ট নেই।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা ঐক্যের কথা বলি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলি। সেই চেতনার লেশমাত্র অবশিষ্ট নেই এখন। জাফরুল্লাহ চৌধুরীরা দেশের মুক্তির জন্য লড়াই করছিলেন। সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যদি আবার আমাদের ফিরিয়ে আনতে হয়, বাংলাদেশকে যদি সত্যিকার অর্থে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাই তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই নতুন করে চিন্তা করতে হবে। জাফরুল্লাহ চৌধুরীর অনুপ্রেরণা ধারণ করে আমাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন আমরা কে কী বলল সেটি ভাবার দরকার নেই, সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।
মির্জা ফখরুল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই দুঃশাসনের অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমরা হাত-পা ছুড়ছি। আমরা যারা রাজনীতি করি, রাজনৈতিক কর্মী আছি তারা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি। আমি নিজেই নির্বিচারে নির্যাতিত হচ্ছি, অনেকে তাদের জীবন দিচ্ছেন, প্রাণ দিচ্ছেন। তার পরও এই দানবকে সরানো যাচ্ছে না। এখন প্রয়োজন সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। সব নাগরিক যারা দেশকে ভালোবাসেন, সব রাজনৈতিক দল যারা দেশে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরি করতে চান তাদের এখন সবাইকে এক হয়ে সোচ্চার কণ্ঠে শুধু রাজপথে বেরিয়ে নয়, সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে ঝাঁকি দিতে হবে। তা হলেই হয়তোবা ডা: জাফরুল্লাহর যে স্বপ্ন সেই স্বপ্নকে আমরা কিছুটা বাস্তবায়িত করতে পারব।
ডা: জাফরুল্লাহ সারাটা জীবন দেশের জন্য যুদ্ধ করে গেছেন উল্লেখ করে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপি মহাসচিব।
গত বছরের ১১ এপ্রিল ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জুলহাস নাইম বাবুর সঞ্চালনায় স্মরণসভায় নাগরিক সমাজের মধ্যে ব্র্যাকের হোসেন জিল্লুর রহমান, সুজনের বদিউল আলম মজুমদার, ব্রতীর শারমিন মুরশিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, এফবিসিসিআইয়ের আবদুল হক, মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, বেলার সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, ‘মায়ের ডাক’-এর সানজিদা ইসলাম সভায় বক্তব্য রাখেন।
আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, ভাসানী অনুসারী পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম, জেএসডির তানিয়া রব, গণ অধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, মিয়া মশিউজ্জামান ও মরহুম জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মেয়ে বৃষ্টি চৌধুরী।
মরহুম জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে ‘আজীবন মুক্তিযোদ্ধা’ ও ‘অকুতভয় দেশপ্রেমিক’ অভিহিত করে দেশের মানুষের জন্য তার বর্ণাঢ্য কর্মকাণ্ডের কথা সভায় শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন বিভিন্ন পেশার নাগরিকরা। স্বজনরা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।

ইরানের হুঁশিয়ারি, বড় হামলা করলে জবাবও দেওয়া হবে সর্বোচ্চ

ইরানে গত শুক্রবার চালানো ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলাকে ছোট করে দেখিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান বলেছেন, ‘হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো ছিল আমাদের শিশুদের খেলনার মতো। ইসরায়েল যদি ইরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়, তাহলে প্রতিক্রিয়াও হবে তাৎক্ষণিক ও সর্বোচ্চ পর্যায়ের।’
মার্কিন টিভি ও বেতার নেটওয়ার্ক এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান ওপরের সতর্কতা উচ্চারণ করেন। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, গত শুক্রবার ভোররাতে ইরানে একটি ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
তাঁরা বলেছেন, ইরানের ইস্পাহানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রের সুরক্ষায় মোতায়েন রাডার সিস্টেমকে লক্ষ্যবস্তু বানায় তেল আবিব। কিন্তু ইরানের সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা বলছেন ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং কয়েকটি অনুপ্রবেশকারী ড্রোনকে লক্ষ্যবস্তু করেছে তাঁদের বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা।
গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার দামেস্কে ইরানের কনস্যুলার ভবনে ইসরায়েলি হামলায় তেহরানের কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। জবাবে গত ১৪ এপ্রিল ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালায় ইরান।
ইসরায়েল ‘সময়মতো’ এর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল। পাঁচ দিন পর দৃশ্যত সীমিত আকারে পাল্টা হামলা করল তারা। তবে এ হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার।
ইসরায়েলের হামলায় কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তা অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছে বিবিসি।
এসংক্রান্ত একটি ধ্বংসাবশেষের ছবি বিশ্লেষণ করে অস্ত্রটি শনাক্তের চেষ্টা করেছে বিবিসি। তাদের সঙ্গে কথা বলা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হামলায় দ্বিস্তরের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। সীমান্তের ওপারে ইরাকের মাটিতে পড়ে থাকা ধ্বংসাবশেষকে অনেকে ইসরায়েলে নির্মিত ‘বøু স্প্যারো’ ক্ষেপণাস্ত্রের বলে অনুমান করছেন।
ইরাকে ইরানপন্থীদের ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ
এদিকে ইরাকে স্থাপিত ইরানপন্থী মিলিশিয়া গোষ্ঠী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) ঘাঁটিতে এক বিস্ফোরণে একজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছে। তবে কোনো পক্ষ এই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি।
পিএমএফ জানিয়েছে, গত শুক্রবার মধ্যরাতে কালসু সামরিক ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়। এর অবস্থান রাজধানী বাগদাদ থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণের বাবিল প্রদেশে।
ঘটনাস্থলের এক ভিডিওতে বড় ধরনের বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে। আশপাশের এলাকাগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। গতকাল সকালে ঘটনাস্থলে বড় ধরনের গর্ত এবং অবকাঠামোর বিধ্বংসী চিত্র দেখা গেছে।
এক বিবৃতিতে পিএমএফ দাবি করেছে, কালসু সামরিক ঘাঁটিতে বোমা হামলা করেছে মার্কিন বাহিনী। এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
ইরাকের সামরিক বাহিনী অবশ্য দাবি করেছে, বিস্ফোরণের সময় বা আগে বাবিল এলাকার আকাশসীমায় কোনো ধরনের বিদেশি ড্রোন বা যুদ্ধবিমানের অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। সূত্র : বিবিসি, আলজাজিরা

আ.লীগের জেলা উপজেলা কমিটি গঠন বন্ধ থাকবে: ওবায়দুল কাদের

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চলাকালীন আওয়ামী লীগের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিটের সম্মেলন ও কমিটি গঠন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচন হচ্ছে। সামনে প্রথম পর্যায়ের নির্বাচন। এ নির্বাচন চলাকালে উপজেলা-জেলা পর্যায়ে সম্মেলন ও কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে।
শনিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, মন্ত্রী-এমপির নিকটাত্মীয়রা যারা উপজেলা পরিষদে নির্বাচন করতে চায়, তাদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বলা হয়েছে। যারা ভবিষ্যতে (বাকি ধাপগুলোয়) করতে চায় তাদেরও নির্বাচনি প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। যারা এ প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে, তাদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তালিকা তৈরি হচ্ছে। যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা সবাইকে ফলো করতে হবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের এমন সিদ্ধান্তের কারণে তৃণমূলের মানুষ ও দলের নেতাকর্মীরা খুশি হয়েছেন। কারণ, আমি এমপি, আমি মন্ত্রী, তাই আমার ভাই, আমার ছেলে সব পদ নিয়ে যাবে, তাহলে তৃণমূলের কর্মীরা কী করবে? তাদের কি পদে যাওয়ার অধিকার নেই? তাদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার জন্যই এ সিদ্ধান্ত।
এ নির্দেশনা অনেকেই মানছেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মনোনয়ন ফরম প্রত্যাহারের সময় তো এখনো শেষ হয়নি। এখনই কী ব্যবস্থা নেব? আগে সময় শেষ হতে দিন।
এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি রাজনৈতিক দলের পরিচয় দেওয়ার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে বলে দাবি করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, তাদের (বিএনপি) নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের হয়নি। তবে আমরা জনগণের কাছে বিএনপির সন্ত্রাসের রাজনীতির ব্যাপারে ঘৃণার আগুন ছড়িয়ে দিতে পারি। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন ও অপ্রাসঙ্গিক করে তোলার প্রয়াস চালাতে পারি।
সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে জনগণের কাছে না গিয়ে বিদেশে দেশের বিরুদ্ধে নালিশ করছে। এটা তাদের পুরোনো কৌশল। এখান থেকে তারা সরে দাঁড়াবে-এমনটা আমরা মনে করি না। কারণ, বিদেশে তাদের কিছু বন্ধু আছে, তারাই তাদের একমাত্র ভরসা।
জামায়াতের প্রকাশ্যে রাজনীতি করার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, জামায়াতের প্রকাশ্যে আসার সুযোগ কোথায়? তারা কি নিবন্ধিত দল? তাদের সুযোগটা কে দিল? সভা-সমাবেশ করতে তো অনুমতি লাগবে। তাদের অনুমতি কে দেবে?
ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টা আমাদের প্রতিবেশী দেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশে ঘটে। সৌদি আরব ও আমেরিকায় আমাদের থেকে বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতেও একসঙ্গে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে আমরা চাই না এসব দুর্ঘটনা ঘটুক। আমাদের এখানে কিছু সমস্যা আছে, সমন্বয়ের অভাব আছে। সেগুলো মনিটরিং করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।

শামির বিরুদ্ধে ফের গুরুতর অভিযোগ হাসিনের, স্ক্রিনশট ভাইরাল

ভারতের ক্রিকেটার মোহাম্মদ শামির বিরুদ্ধে পরকীয়া, ম্যাচ কারচুপি, মারপিটের অভিযোগ করেন স্ত্রী হাসিন জাহান। এবার হাসিন নতুন অভিযোগ আনলেন শামির বিরুদ্ধে।
স¤প্রতি শামির কিছু চ্যাট স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন তার স্ত্রী হাসিন।
চ্যাটের স্ক্রিনশট থেকে দেখা যাচ্ছে, নারীদের সঙ্গে নানা ধরনের যৌন উসকানিমূলক কথা বলছেন শামি। কখনো স্তনপানের আবদার করছেন, কখনো কোনো নারীকে বিকিনি পরে আসার কথা বলছেন। যৌন সম্পর্কের নানা ধাপ নিয়েও আলোচনা চলছে। যদিও এগুলো শামির ফোন থেকে তোলা এমন কোনো প্রমাণ স্ত্রী দিতে পারেননি।
এদিকে স্ক্রিনশটগুলো শেয়ার করে পেস বোলার শামি লিখলেন- ‘ইয়া আল্লাহ তুমি সবাইকে ইনসাফ দাও। আমাকে আর আমার মেয়েকেও দাও। পাগল কুকুরের দল আমার পেছনে লেগে আছে। ওই কুকুরগুলোকে তুমি শাস্তি দাও।’
পোস্টের মন্তব্য সেকশন দুই ভাগে বিভক্ত। যারা হাসিনের পক্ষে তারা মন্তব্য করলেন, ‘স্পষ্টই সব দোষ শামির। শাস্তি হোক ওর’। ‘শামি ভালো ক্রিকেট খেলে ঠিকই। ভালো মানুষ নয়। এই চ্যাটগুলোই তার প্রমাণ’
তবে ক্রিকেটারের ভক্তরা আবার উল্টো কথা বলছেন। একজন লিখেছেন- ‘এই মেয়েটার আরও বেশি টাকা চাই। আবার অসভ্যতা শুরু করেছে।’
দ্বিতীয়জনের মন্তব্য, ‘এগুলো শামি পাঠিয়েছে প্রমাণ কই। তুমি তো নিজেও লিখতে পারো। ফোন নম্বর যেভাবে সেভ করা, তাতে তো পুরোটাই ফেক মনে হচ্ছে।’
কেকেআর টিমে খেলার সময়ই চিয়ার লিডার হাসিনের সঙ্গে প্রেম হয়েছিল শামির। ২০১৪ সালে তারা বিয়ে করেন সেই সময় শামির সঙ্গে প্রায় সব ইভেন্টে দেখা যেত হাসিনকে। ২০১৫ সালে তাদের একটি মেয়ে সন্তান হয়। এর কয়েক বছর পর থেকেই সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। ২০১৮ সাল থেকে সম্পর্কের অবনতি হয় তাদের। বর্তমানে তারা আলাদা থাকেন। যদিও আইনত ডিভোর্স হয়নি। এখনো পরিবারকে দেখার জন্য হাসিনকে প্রতিমাসে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন শামি।

আমাকে কেন্দ্র করে গল্প হলে অভিনয় করব: ববিতা

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা। অসংখ্য কালজয়ী সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন দেশ ও দেশের বাইরে।
অভিনয়গুণে দর্শক মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন ববিতাকে বড় পর্দায় দেখছেন না তার ভক্তরা। এখন অভিনয় থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছেন তিনি।
বেশিভাগ সময় থাকেন কানাডায় ছেলের কাছে অথবা আমেরিকায় ভাইদের কাছে। কিছু দিন আগে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে দেশে এসেছেন এ অভিনেত্রী। সুযোগ হলেই ফিরবেন আবার অভিনয়ে, দর্শকরা তাকে আবারও পর্দায় দেখতে পাবে এমন আশার কথাই শোনালেন তিনি।
বলেছেন, ‘আমাকে কেন্দ্র করে গল্প তৈরি করা হলে অবশ্যই অভিনয় করব। অভিনয়কে আমি কখনোই বিদায় বলতে পারি না।’
ববিতা আরও বলেন, ‘এখন যেসব চরিত্রের জন্য আমাকে বলা হয়, এগুলো করতে আমি অভ্যস্ত নই। মাঝে শাকিব খানের একটি সিনেমার জন্য আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সিনেমার শুটিং আমেরিকা, কানাডায় নাকি হওয়ার কথা ছিল। আমি নিষেধ করে দিয়েছি। শুধু মায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে চাই না। কেউ যদি আমাকে কেন্দ্র করে গল্প তৈরি করে তাহলে অবশ্যই অভিনয় করব। কারণ, পাশের দেশগুলোতে দেখেন, অমিতাভ বচ্চন এ বয়সেও কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছে। শ্রীদেবী মৃত্যুর আগেও প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছে। কিন্তু আমাদের দেশে এ চর্চাটা নেই। সবাই মনে করে বয়স হয়ে গেলেই নায়কের বাবা-মার চরিত্র ছাড়া আমাদের আর কোনো চরিত্র নেই। তাই আমি সিনেমায় নেই। ভালো এবং মনের মতো গল্প হলে অবশ্যই সিনেমায় আমাকে দেখবে দর্শক।’
দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গেই এখন সময় কাটছে ববিতার। নিজের ভাইয়েরা ও তাদের ছেলেমেয়ে, বোনের ছেলেমেয়ে সবাইকে নিয়ে সুন্দর সময় কাটছে তার। তিনি বলেন, ‘অনেক বছর পর দাদাবাড়িতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমরা একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছি ভাইবোনেরা মিলে।’
এছাড়া বাপ-দাদার মাটিতে পা দিলে যে শান্তি, সেই শান্তি পৃথিবীর কোথাও নেই। কারণ এখনো বাড়িতে গেলে আশপাশের লোকজন আত্মীয়স্বজনের কাছে যেভাবে ভালোবাসা পাই, তাতেই হৃদয় জুড়ে যায়। এখন দেশে এভাবেই সময় কাটছে।’ উল্লেখ্য, ববিতাকে শেষবার দেখা গেছে নারগিস আক্তারের ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’ সিনেমায়।