Home Blog Page 572

সরকার গঠন করতে চায় কংগ্রেস

ভারতের ১৮তম সাধারণ লোকসভা নির্বাচনের ৫৪৩টি আসনের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। এতে দেখা যাচ্ছে, গত দুইবারের মতো এবারও ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সবচেয়ে বেশি ২৪০টি আসন পেয়েছে। তবে তারা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৯টি আসন পেয়েছে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস।
সব আসনের ফলাফল ঘোষণা শেষে দেখা যাচ্ছে এবারের নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।
তবে মোদির বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট ‘এনডিএ’ ২৯৩টি আসন পেয়েছে। অপরদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট ‘ইনডিয়া’ পেয়েছে ২৩৩টি আসন।
এদিকে ৯৯ আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে চায় কংগ্রেস। সরকার গঠন করতে দরকার মূলত ২৭২ আসন। তাদের জোট ‘ইন্ডিয়া’ পেয়েছে ২৩৩টি আসন। যেহেতু কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তাই এবার সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে নিতীশ কুমার ও চন্দ্রবাবু নাইডুর দল।
তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে কংগ্রেসের যোগাযোগের খবর পাওয়া গেছে। যদি তারা বিজেপির সঙ্গে জোট ভেঙে কংগ্রেসে যোগ দেয় তাহলে কংগ্রেসও সরকার গঠন করতে পারবে।

পশ্চিমবঙ্গে আবারও মমতা ম্যাজিক

ভারতের অন্য রাজ্যগুলোর মতো পশ্চিমবঙ্গেও কার্যত বিপর্যস্ত বিজেপি। রাজ্যটির ৪২ লোকসভা আসনের মধ্যে মমতা ব্যানার্জির দল তৃণমূল কংগ্রেস ৩০ আসনে জয় পেয়েছে, বিজেপি ১১ আসনে, ১টি আসনে জয় পেয়েছে কংগ্রেস।
সা¤প্রতিক বুথফেরত জরিপে বলা হয়েছিল- শাসক দল তৃণমূলের চেয়ে বেশি আসন পেতে চলেছে বিজেপি। কিন্তু কার্যক্ষেত্র দেখা গেল গত ২০১৯ সালের নির্বাচনে যে ১৮টি আসনে বিজেপি জয়ী হয়েছিল, সেই আসনগুলোও এবার নিজেদের দখলে রাখতে পারল না তারা। অন্যদিকে গত নির্বাচনে এ রাজ্য থেকে ২২ আসনে জয় পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস, সেখান থেকে তাদের আসন সংখ্যা এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গেল। সেই সঙ্গে বেড়েছে প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হার।
এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও মমতা ব্যানার্জির ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জি। ডায়মন্ড হারবার আসনে সর্বাধিক ৭ লাখেরও বেশি ভোটে বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ দাসকে হারিয়েছেন অভিষেক। এ আসনে ভোট ১০ লাখ ৪৮ হাজার ২৩০, অভিজিতের প্রাপ্ত ভোট ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৩০০। এ ছাড়াও জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের দীপক অধিকারী ওরফে দেব (ঘাটাল), শতাব্দী রায় (বীরভূম), শত্রুঘ্ন সিনহা (আসানসোল), অভিনেত্রী রচনা ব্যানার্জি (হুগলি), অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ (যাদবপুর) ও মহুয়া মৈত্র (কৃষ্ণনগর)। বিজেপি প্রার্থী শান্তনু ঠাকুর (বনগাঁ), কলকাতা হাই কোর্টের সাবেক বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলী (তমলুক)। ভারতের দুই সাবেক ক্রিকেটার তৃণমূল প্রার্থী ইউসুফ পাঠান (বহরমপুর) এবং কীর্তি আজাদ (বর্ধমান-দুর্গাপুর) উভয়েই জয়ী হয়েছেন। কলকাতার দুটি আসনেও জয় পেয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা। কলকাতা উত্তর আসনে জয়ী হয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা দক্ষিণ আসনে জয়ী হয়েছেন তৃণমূলের প্রার্থী মালা রায়।
তবে কঠিন লড়াইয়ের পরও হারতে হলো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক (কোচবিহার), বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (বালুরঘাট), বিজেপি প্রার্থী এস এস আলুওয়ালিয়া (আসানসোল), বিজেপির লকেট চট্টোপাধ্যায় (হুগলি), বিজেপির দিলীপ ঘোষ (বর্ধমান-দুর্গাপুর), রাজ্যটির কংগ্রেস সভাপতি ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কংগ্রেসের প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরীর (বহরমপুর) মতো হেভিওয়েট প্রার্থীদের। দলের এই সাফল্যের রাজ্যজুড়ে জয়ের উৎসবে মেতে ওঠে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। সবুজ আবির নিয়ে খেলার পাশাপাশি চলে মিষ্টিমুখ। কালীঘাটে দলের প্রধান মমতা ব্যানার্জির বাড়ির সামনে উচ্ছ¡াসে মেতে ওঠেন দলের কর্মী-সমর্থকরা। এ রাজ্যে নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং গোটা ভারতে ইন্ডিয়া জোটের এ সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন তৃণমূল প্রধান মমতা ব্যানার্জি। সন্ধ্যায় কালীঘাটে সংবাদ সম্মেলনে বিজেপি ও এনডিএ জোটের তীব্র সমালোচনা করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘আমি খুব খুশি যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। মোদি তোমার ভোট অন্য কোথাও যায়নি। তোমার ম্যাজিক শেষ। তোমাকে পদত্যাগ করতে হবে।’
মমতার বক্তব্য, ‘উনি (নরেন্দ্র মোদি) বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন ওনার অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া উচিত, কারণ উনি বলেছিলেন এবার ৪০০ পার। কিন্তু আমি বলেছিলাম ২০০ পার হবে কি না দেখে রাখুন। কারণ কিছুটা হাতে রাখতে হয়। সেসময় অনেকেই আমার কথা বিশ্বাস করেননি। এখন তাদের তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) আর জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ) এর পায়ে ধরতে হচ্ছে। এরা ইন্ডিয়া জোটকে ভাঙন ধরাতে পারবে না।’ নৈতিক দায় মাথায় নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ইস্তফা ও দাবি করেছেন মমতা। তার অভিমত, ‘যদি বিজেপি সরকারে না থাকত তাহলে আরও কম আসন পেত।’
মমতা এও স্মরণ করিয়ে দেন, ‘এনডিএ জোটের দুই- তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তাই সংসদে যে কোনো আইন পাস করাতে পারবে না। ইডি, সিবিআই অত্যাচার করলে আমরা টিম ইন্ডিয়া পুরোপুরি চেপে ধরব।’
এদিন সন্ধ্যায় ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জিকে পাশে বসিয়ে মমতার অভিযোগ, ‘এখনো চার-পাঁচ জায়গায় তৃণমূল প্রার্থীরা জেতার পরও বিজেপির অবজারভাররা জয়ের সনদ দিচ্ছে না। বিজেপিকে জয়ী ঘোষণা করার জন্য কাঁথিতে জেতার পরও বিজেপির অবজারভার জয়ের সনদ আটকে রেখে দিয়েছে।’
বিজেপির এ ভরাডুবিতে প্রশ্ন উঠেছে কী কারণে বাংলায় মোদি ম্যাজিক কাজ করল না? কেন বেশিরভাগ এক্সিট পোলের হিসাব-নিকাশই উল্টেপাল্টে গেল? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলায় তৃণমূলের জয়ের মূল কারণ ল²ীর ভান্ডার প্রকল্পের রুপি দ্বিগুণ করে দেওয়া। লোকসভা ভোটের ঠিক আগে গত ৮ ফেব্রæয়ারি এ বছরের রাজ্য বাজেটে ল²ীর ভান্ডারের অনুদান ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ১০০০ রুপি করা হয়। তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের ক্ষেত্রে ১০০০ রুপি বাড়িয়ে হয় ১২০০ রুপি। এর প্রভাব সরাসরি ভোট বাক্সে পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়াও মমতাসহ দলের শীর্ষ নেতাদের অভিযোগ ছিল কেন্দ্রের বঞ্চনা। একশ দিনের কাজের রুপি আটকে রাখা, বকেয়া প্রাপ্য আটকে রাখা, সিবিআই, ইডি, ইনকাম ট্যাক্সের মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে অপব্যবহার করার ইস্যুগুলোও ভোটাররা ভালোভাবে নেয়নি। তাছাড়াও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন, জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার, রাম মন্দিরের উদ্বোধন, তিন তালাক প্রথা প্রত্যাহারের মতো কেন্দ্রীয় সরকারের যে সব কর্মকান্ড তাও ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারেনি। এ ছাড়াও প্রার্থীদের ঘন ঘন দল পরিবর্তন, জয়ী আসনের বদলে প্রার্থীকে অন্য আসনে দাঁড় করানোর মতো বিষয়গুলোও বিজেপির হারের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে।

দিল্লির মসনদ আবারও কি মোদির

টানটান উত্তেজনায় গতকাল ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়েছে। তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ। তবে ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনের জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে জোটের ওপর। এতেই ডালপালা মেলতে শুরু করেছে ভাঙাগড়ার সমীকরণ নিয়ে নানা আলোচনা।
চমক দেখিয়ে এককভাবে ১০০ আসনে বিজয়ী হয়েছে কংগ্রেস। ভারতের লোকসভা নির্বাচনে উত্তর থেকে দক্ষিণ, রায়বেরেলি থেকে ওয়েনাডেতে একসঙ্গে দুটি কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে নজির গড়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
অন্য বিরোধী দলগুলোরও গত নির্বাচনের চেয়ে এবার জয়ের পরিসংখ্যান ঊর্ধ্বমুখী। তাই এবার সরকার গঠনের জন্য এনডিএ’র শরিক চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি ও নীতীশ কুমারের জেডিইউর সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপিকে। ২০১৪ ও ২০১৯ সালের ফলের বিপরীতে এবার বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে বেশ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। জোট হিসেবে ২৯৩-এর কিছু বেশি আসনে বিজয়ী হয়েছে এনডিএ। গতকাল রাত পর্যন্ত পাওয়া খবরে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। বিজয়ী হয়েছে ২৪২ আসনে। ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল একাই ৩০৩ আসন। এ কারণে এবার নির্ভর করতে হবে জোটের শরিক বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এবং অন্ধ্রপ্রদেশের তেলেগু দেশম দলের চন্দ্রবাবু নাইডুর ওপর। আজ বিজেপি নেতৃত্বের এনডিএ’র বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে মোদির প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে। কংগ্রেসও ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক ডেকেছে আজ। রাহুল গান্ধী বলেছেন, তারাও বিবেচনা করবেন সরকার গঠন করা যায় কি না। ইন্ডিয়ার আসন সংখ্যা এখন পর্যন্ত ২৩৩। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদি টুইট করে বলেছেন, তিনি তৃতীয়বারের জন্য সরকার গঠন করবেন।
এবার লোকসভা ভোটের চমক হলো আমেথি কেন্দ্র থেকে মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির পরাজয়। খোদ রামমন্দির যে শহরে সেই ফৈজাবাদ কেন্দ্রে হেরেছে বিজেপি। ফলাফলের এ সমীকরণ দেখে বিজেপির হিন্দুত্ব রাজনীতি কোনো প্রভাব ফেলেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, এনডিএ সম্মিলিতভাবে জয়ী হয়েছে ২৯৩ আসনে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে বেশি। এ আসনসংখ্যা ধরে রাখতে পারলে তৃতীয়বার মোদির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী হতে বাধা থাকার কথা নয়। কিন্তু এখানেই কাহিনিতে বেধেছে প্যাঁচ। এখন পর্যন্ত যা প্রবণতা, তাতে এনডিএ’র ঝুলিতে ২৯৩ আসনের মধ্যে দুই ‘এন’ যথাক্রমে নাইডু ও নীতীশের দখলে যেতে চলেছে অন্তত ৩০ আসন। এনডিএ’র ঝুলি থেকে সেই ৩০ আসন কমে গেলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবেন মোদি। তাই রাতারাতি দর বেড়ে গেছে নাইডুর। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া শেষ তথ্য বলছে, অন্ধ্রপ্রদেশে এ মুহূর্তে মোট ২৫ আসনের মধ্যে নাইডুর তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) এগিয়ে রয়েছে ১৬টিতে। নীতীশের জেডি (ইউ) এগিয়ে রয়েছে ১২ আসনে। দুই ‘এন’-এর দুই দল মিলিয়ে প্রায় ৩০ আসন। দিনের শেষে এ অঙ্কেই থমকে রয়েছে এনডিএ’র জয়ের পাটিগণিত।
লোকসভার সঙ্গেই অন্ধ্রে হয়েছিল বিধানসভা ভোটও। সে ভোটেও বাজিমাত করেছেন নাইডু। পরিস্থিতি এমন যে, দুপুরের আগেই হার স্বীকার করে রাজ্যপালের কাছে দেখা করার সময় চেয়ে বসেছেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগন্মোহন রেড্ডি। শোনা যাচ্ছে, তিনি ইস্তফা দিতে চলেছেন। এ পরিস্থিতিতে রাতারাতিই চন্দ্রবাবু শিরোনামে চলে এলেন। এখন প্রশ্ন হলো-নাইডু এনডিএতেই থেকে যাবেন, নাকি অতীতের মতোই শিবির বদলে আবার ‘ইন্ডিয়া’র মঞ্চে দেখা যাবে তাকে?
ফলাফল স্পষ্ট হতেই গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোন করেছিলেন নাইডুকে। সূত্রের খবর, সেখানে বিজেপির শীর্ষ দুই নেতার সঙ্গে কথা হয় নাইডুর। লোকসভা ভোটে এনডিএ’র ভালো ফলের জন্য নাইডু মোদিকে অভিনন্দনও জানান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ মনে করছে, এ ফোনের মধ্য দিয়েই হয়তো জাতীয় রাজনীতিতে আবার শুরু হলো জোট-দৌত্য। অতীতে এ দুই দলের নেতাদেরই একাধিকবার এনডিএ ত্যাগ এবং ফিরে আসার ইতিহাস রয়েছে। এবার তাঁরা কী করেন সেদিকেই নজর সবার।
এবারের নির্বাচনে ১০০ আসন ছুঁইছুঁই কংগ্রেসের। গত দুটি লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় এবার যথেষ্ট ভালো ফল করতে চলেছে শতাব্দীপ্রাচীন এ দলটি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের দখলে ছিল ৪৪ আসন, ২০১৯ সালে ৫২ আসনে জয় পায় তারা। দেশজুড়েই গতকাল সকাল ৮টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরু হয় লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনা। শুরুতে পোস্টাল ব্যালটের গণনা, এরপর ইভিএম গণনা। কিন্তু গণনা শুরুর পর থেকে শেষ পর্যন্ত জোর টক্কর ছিল এনডিএ ও ইন্ডিয়ার মধ্যে। দেশটির ১৮তম লোকসভা নির্বাচনে মোট সাত দফায় এ ভোট গ্রহণ পর্ব চলে। ১৯ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট হয়, শেষ দফার ভোট হয় ১ জুন।
নরেন্দ্র মোদি যদি সরকার গঠন করতে পারেন তাহলে লেখা হবে নতুন ইতিহাস। এর আগে এ কৃতিত্বের অধিকারী ছিলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেস নেতা প্রয়াত জওহরলাল নেহরু। তবে নেহরুকন্যা ইন্দিরা গান্ধী তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জয় পেলেও একটানা তিনবার দলকে লোকসভার নির্বাচনে জেতাতে পারেননি। সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে বেশি মেয়াদের জন্য দায়িত্বে ছিলেন জওহরলাল নেহরু। ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৪ পর্যন্ত টানা ১৭ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নেহরু। ১৯৫৭ সালে নেহরুর নেতৃত্বে ৩৭১ আসনে জয় পেয়েছিল কংগ্রেস। দেশটির নির্বাচনি ইতিহাসে সেবারই প্রথম কোনো একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে এত বেশিসংখ্যক আসনে জয় পেয়েছিল কংগ্রেস। ২০১৪ সালের পর ২০১৯ সালের নির্বাচনেও মোদি ম্যাজিকের ওপর ভর করে বিজেপি একাই ২৭২-এর ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়েছিল। কিন্তু এবার কালঘাম ছুটিয়েও সেই টার্গেট ছুঁতে পারল না। ইভিএম খুলতেই এক্সিট পোল ভুল প্রমাণিত হলো। অবশ্য বিরোধী দলের নেতানেত্রীদের কেউই এক্সিট পোলের এ ভবিষ্যদ্বাণী মানতে রাজি হননি। রাহুল গান্ধী, মমতা ব্যানার্জি, অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রত্যেকেই একে ‘ভুয়া’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।

কোহলি হবেন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক : স্মিথ

ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে আজ বুধবার থেকে। বিশ্বমঞ্চে নামার আগে ভারত বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ার্মআপ খেললেও তাদের তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলি ছিলেন না। তবে মঙ্গলবার নেটে অনুশীলন করেছেন তিনি। ডানহাতি ব্যাটার এই টুর্নামেন্ট শেষে রান সংগ্রাহকের তালিকায় সবার উপরে থাকবেন বলে মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ।
আইসিসির ডিজিটাল প্রোগ্রামে স্মিথ বলেন, কোহলি হবে এই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। দুর্দান্ত এক আইপিএল কাটিয়ে এসেছে সে এবং অসাধারণ ফর্মে আছে। আমি মনে করি, সে-ই হবে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবশেষ আসরেও সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ছিলেন কোহলি। ৬ ম্যাচে ৪ ফিফটিসহ ৯৮.৬৬ গড়ে ২৯৬ রান করেছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসেরই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ভারতীয় এই ব্যাটার। ২৭ ম্যাচে ৮১.৫০ গড়ে ১ হাজার ১৪১ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে। ১ হাজার ১৬ রান নিয়ে দুইয়ে আছেন মাহেলা জয়াবর্ধনে।

ফ্রান্স দলে জায়গা হলো না এমবাপ্পের!

আসন্ন গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের জন্য ২৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ফ্রান্স। এই প্রাথমিক দল নেই কিলিয়ান এমবাপ্পে। যদিও এই তারকা ফুটবলার এবারের আসরে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
দল ঘোষণার দিন সোমবার ফ্রান্স কোচ অঁরি বলেন, সবার জন্য দরজা খোলা আছে। তবে আপাতত যাদের পাওয়া যাবে তাদের নিয়েই একটি দল সাজিয়েছেন তিনি। অঁরি বলেন, ‘আমি আশার দরজা বন্ধ করছি না; আমরা জানি না কী হবে। তবে আমাকে একটা বাস্তবসম্মত তালিকা দিতে হবে। তালিকাটি সবার জন্য উন্মুক্ত।’
তবে আগামী ৩ জুলাই পর্যন্ত এ স্কোয়াডে পরিবর্তন আনতে পারবে দল। তাই খেলয়াড় বদলের দরজা খোলা থাকছে অঁরির জন্য। তিনি বলেন, ‘এটা এখনকার জন্য তালিকা এবং ৩ জুলাই পর্যন্ত পরিবর্তন হতে পারে। হ্যাঁ বা না বলার ক্ষমতা ক্লাবগুলোর আছে।’
আগামী ২৪ জুলাই অলিম্পিকে ফুটবল ইভেন্ট শুরু হচ্ছে। ফ্রান্সের গ্রæপের রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড ও গিনি।
অলিম্পিক ফুটবলে ফ্রান্সের প্রাথমিক স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: লুকাস শেভালিয়ের, ওবেদ এনকাম্বাদিও, গুইলামে রেস্টেস, রবিন রাইসার।
ডিফেন্ডার: বাফদে দিয়াকাইতে, ম্যাক্সিম এস্তেভে, ব্র্যাডলি লোকো, ক্যাসিলো লুকেবা, কিলিয়ান সিলদিল্লিয়া, আদ্রিয়েন ত্রুফার্ট, লেনি ইয়োরো।
মিডফিল্ডার: ম্যাগনেস আক্লিঔচে, জরিস চোটার্ড, ডিজায়ার দৌয়ি, মানু কোনে, এনজো মিলোত, খেপরান থুরাম, লেসলি উগোচৌকুও, ওয়ারেন জাইরে এমরি।
ফরোয়ার্ড: ব্র্যাডলি বারকোলা, আরনুদ কালিমুয়েন্দো, আলেক্সান্দ্রে লাকাজাতে, জ্যাঁ-ফিলিপ্পে মাতেটা, মাইকেল ওলিসে ও মাথিয়াস তেল।

রাজনীতির মাঠে নেমেই ছক্কা হাকালেন ইউসুফ পাঠান

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হলেন ইউসুফ পাঠান। ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে রাজনীতির মাঠে অংশ নিয়েই চমক দেখান বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার।
পশ্চিমবঙ্গের মুশির্দাবাদ জেলার বহরমপুরের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে ৮৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন সংসদ সদস্য হন পাঠান।
ভোটে জয় লাভ করার পর ভারতীয় সাবেক এই তারকা অলরাউন্ডার বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে, এই জয় আমাদের সবার। আমি খুব খুশি।
তার সঙ্গে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করে হেরে যাওয়ায় অধীর রঞ্জন চৌধুরী সম্পর্কে পাঠান বলেন, ‘উনি সিনিয়র নেতা, আমি ওনাকে সম্মান করি। আগামীতেও সম্মান করব।’
ইউসুফ পাঠান ভারতের হয়ে ৫৭টি ওয়ানডে আর ২২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন। ব্যাট হাতে তিনি সংগ্রহ করেন দুই ফিফটিতে ১ হাজার ৪৬ রান। আর বল হাতে শিকার করেন ৪৬ উইকেট।
আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে ২০১২ ও ২০১৪ সালে শিরোপাও জিতেন। ২০১৪ সালের আইপিএলে মাত্র ১৫ বলে রেকর্ড দ্বিতীয় দ্রæততম ফিফটি হাঁকান।

অভিনয় থেকে রাজনীতির মাঠে নেমেই সফল তারকা

অভিনয় থেকে রাজনীতির মাঠে নেমেই সফল ভারতের অনেক তারকা। এবারের লোকসভা নির্বাচনে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক তারকারা লড়াই করেছেন।
এবারের লোকসভা নির্বাচনে একাধিক তারকা প্রার্থী লড়াই করেছেন। ভারতের হিমাচল প্রদেশের মান্ডি থেকে বিজেপি প্রার্থী হয়ে লড়াই করেছিলেন বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। প্রথমবার রাজনীতির মাঠে নেমেই চমক দিলেন তিনি।
ভারতের উত্তর প্রদেশের মথুরাতে জয়ের হাসি হাসলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হেমা মালিনী। তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন।
ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাট থেকে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেছেন অরুণ গোভিল। তিনি ভোট গণনায় প্রথমে পিছিয়ে থাকলেও পরে বেশ লিড নেন।
বিজেপির আরেক প্রার্থী রবি কিষানও জয়ী হয়েছেন এবারের ভোটে। তবে বিহারের কারাকাট কেন্দ্র থেকে জিততে পারেননি ললিপপ লাগেনু গানের গায়ক পবন সিং।
অন্যদিকে বাংলায় বিজেপির দুই প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং লকেট চট্টোপাধ্যায় দুজনেই পরাজিত হয়েছেন। দেব বিপুল ভোটে হিরণকে হারিয়ে আবারও ঘাটাল কেন্দ্রে জয়ী হলেন। অন্যদিকে হুগলি কেন্দ্রে প্রথমবার লড়াইয়ে নেমেই জয়ী হলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরাজিত করলেন লকেটকে।
দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর থেকে জয়ী হয়েছেন অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ। জুন মালিয়াও বিজেপির অগ্নিমিত্রা পালকে হারিয়ে মেদিনীপুরে জয়ী হয়েছেন। শতাব্দী রায় বীরভূমে আবারও জয়ী হয়েছেন।
চমক দিয়ে এবার বহরমপুরে জয়ী হয়েছেন ইউসুফ পাঠান। আসানসোল কেন্দ্রে শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হাসলেন শত্রুঘ্ন সিনহা।

তাহলে কি অভিনয় ছেড়ে দিচ্ছেন কঙ্গনা

বলিউড থেকে রাজনীতির মাঠে এসে প্রথমবারই বাজিমাত করেছেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে হিমাচল প্রদেশের মান্ডি থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন অভিনেত্রী।
এদিকে ১৯ মে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় ঘোষণা দিয়েছিলেন ভোটে জিতলে অভিনয় ছেড়ে দেবেন। যেহেতু তিনি নির্বাচনে জয় লাভ করেছেন সেহেতু কথা রাখতে পারেন কঙ্গনা।
কেননা কঙ্গনা যেকোনো বিষয় নিয়ে স্পষ্ট কথা বলতে স্বচ্ছন্দবোধ করেন। তাকে ঠোঁট কাটা হিসেবে সবাই জানে। কেননা তিনি যেকোনো কথাই অকপটে বলে ফেলেন।
এর আগে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাণ্ডির বিজেপি প্রার্থী কঙ্গনাকে প্রশ্ন করা হয়, যদি মাণ্ডি আসন থেকে তিনি জয়ী হন তাহলে কি জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে তিনি ধীরে ধীরে বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে সরে আসবেন?
জবাবে কঙ্গনার সাফ কথা, ‘হ্যাঁ অবশ্যই।’
তিনি এও বলেন, ‘একাধিক চলচ্চিত্র নির্মাতা আমায় বলেছেন- আমি একজন ভালো অভিনেত্রী। আমি যেন অভিনয় না ছাড়ি। আমি ভালো অভিনয় করি ঠিকই। সবটাই আমি প্রশংসা হিসেবে নিই।’
প্রসঙ্গত, হিমাচল প্রদেশের মান্ডি আসনে নিকটতম প্রার্থী কংগ্রসের বিক্রমাদিত্য সিংকে ৭৪ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছেন কঙ্গনা রানাউত।

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন অভিনেত্রী সীমানা

শেরপুরের নকলার পৌর শহরের কায়দা বাজারদী গোরস্থানে অভিনেত্রী রিশতা লাবনী সীমানা চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে নকলার কায়দা বাজারদী কবরস্থান মাঠে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বাজারদী কবরস্থানে এই অভিনেত্রীকে সমাহিত করা হয়। এ সময় নকলা উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার না ফেরার দেশে পাড়ি জমান দেশের গুণী অভিনেত্রী সীমানা। মৃত্যুকালে সীমানা স্বামী, দুই ছেলে রেখে গেছেন। সীমানার বাড়ি নকলা পৌরসভাধীন কায়দা বাজারদী এলাকায়। তার বাবা সেকান্দার আলী অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সীমানা ছিলেন সবার বড়।
জানা গেছে, গত ২১ মে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে আট দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন সীমানা। অবস্থার অবনতি হলে ২৯ মে এই অভিনেত্রীকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ভেন্টিলেশনে শেষ চেষ্টা হিসেবে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। কিন্তু আর ফেরা হলো না সীমানার।
উল্লেখ্য, নকলা ললিতকলা একাডেমি, খেলাঘর, কোর্টফিল্ড, কমল ওস্তাদজী, শিল্পকলায় অভিনয় চর্চা করতেন। এরপরে বিটিভিতে কাজ করা শুরু করেন। তারপর ২০০৬ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে পা রাখেন সীমানা। এরপর থেকে তিনি নাটক, বিজ্ঞাপনে নিয়মিত কাজ করেন। তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘দারুচিনি দ্বীপ’ তার প্রথম সিনেমা। ‘রোশনী’ নামের একটি সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন। সীমানার উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে সাকিন সারিসুরি, কলেজ স্টুডেন্ট।

সবাই এখন আওয়ামীলীগ করতে চায়: ড.হাছান মাহমুদ

ইমা এলিস, নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্র সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন সবাই এখন আওয়ামীলীগ করতে চায়। কিন্তু আমাদেরকে হিসাব করে নৌকায় যাত্রী উঠাতে হয়। কারণ বেশি যাত্রী উঠলে নৌকা ডুবে যেতে পারে এটাও স্মরণ রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় গুলশান টেরেসে নিউ ইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে প্রবাসীদেরও সহযোগিতার প্রয়োজন। তাই স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার জন্য প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, আজ ৩০ মে বিএনপি দেশ-বিদেশে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুদিবস পালন করছেন। জিয়ার মৃত্যুতে তার পরিবারই বেশি লাভবান হয়েছেন। তা না হলে সোয়া দুই বছর ক্ষমতায় থেকেও তারা জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচার করলেন না কেন। নিশ্চয় ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’। জিয়া হত্যাকাণ্ডে তার কাছের ও পরিবারের কারো হাত ছিল কি না সে প্রশ্নও তুলে এই হত্যাকাণ্ডের প্রথম প্রতিবাদ আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাই জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

FM NY State AL 02 1

তিনি বলেন, জিয়া হত্যায় তার পরিবার যেভাবে লাভবান হয়েছিল তা নজিরবিহীন। বেগম জিয়া পেয়েছিলেন ৭ একর জমির ওপর বাড়ি ও বিপুল ব্যাংক সুবিধা আর জাতিকে দেখানো জিয়াউর রহমানের ছেঁড়া গেঞ্জি আর ভাঙা সুটকেস থেকে পরে বেরিয়ে এসেছিল বহু জাহাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্য।
তিনি আরও বলেন, গত নির্বাচনের পর বিশ্ব সম্প্রদায় নতুন সরকারকে কী বলে বিএনপিসহ তাদের মিত্ররা চাতক পাখির মতো তাকিয়ে ছিল। এ পর্যন্ত ৮০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। এটা দেখে বিএনপি আর কোন কথা বলেন না।
তিনি বলেন আমার ঠিকানা সরকার না, আমার ঠিকানা হল দল। আর বিএনপির বিএনপির ঠিকানা কই? তাদের ঠিকানা নয়া পল্টন, আর রাতে বিভিন্ন অ্যাম্বেসি। দেশের মানুষের সাথে তাদের কোনো দেন-দরবার নেই। ক্ষমতার মালিক কোনো বিদেশি রাষ্ট্র নয়, কিংবা বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা নয়। দেশের জনগণই ক্ষমতার মালিক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশে বসে বিএনপি-জামাতের এজেন্টরা দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে অব্যাহত ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন। তদের এসব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। এসব ষড়যন্ত্রের জবাব দিতে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর, স্টেট সিনেটরসহ আইন প্রণেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। প্রয়োজনে পাল্টা এজেন্ট নিয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতাদের কাছে শেখ হাসিনার সরকারের ১৫ বছরের কর্মকান্ডসহ দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরারও আহবান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির নেতারা ঢাকা ফ্লাইওভার আর পদ্মা সেতু দিয়ে পার হয়ে বলেন দেশে কোন উন্নয়ন হয় নাই। তারা দেশের কোন উন্নয়নেই দেখতে পান না। যারা চোখ থাকতে অন্ধ আর কান থাকতে বধির তাদের আল্লাহ যেন হেদায়েত করেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি ঢাকা-নিউ ইয়র্ক ফের বিমান চলাচল প্রসঙ্গে বলেন এ বিষয় নিয়ে সরকার কাজ করছে। শিগিগির একটি ভালো খবর জানতে পারবেন। এছাড়াও দূতাবাস কর্মকর্তারা জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। যত দ্রুত সম্ভব দূতাবাস থেকে প্রবাসীদেরকে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।      
বারবার মৃত্যু উপত্যকা থেকে ফিরে এসে জনগণের জন্য সংগ্রামে অবিচল বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে ও দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার রুখতে সকলকে তৎপর ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করারা আহবান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ।
নিউ ইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান মিয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমলের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ আজাদ, আ. নেতা নিজাম চৌধুরী, এম ফজলুর রহমান ও এমদাদ চৌধুরী প্রমুখ।
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিত, ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস মোহাম্মদ ইমরান, নিউ ইয়র্কের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হুদা, ডেপুটি কনসাল জেনারেল এস এম নাজমুল হাসান, বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন, দূতাবাস, কনস্যুলেটের কর্মকর্তা কর্মচারী, কানেকটিকাট, নিউ জার্সি, পেনসিনভানিয়া, নিউ ইংল্যান্ড, ওয়াশিংটন মেট্রো স্টেট আওয়ামীলীগ ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।