Home Blog Page 573

জাহিরের ওপর রেগে আগুন সোনাক্ষী

সদ্য বিয়ে করেছেন সোনাক্ষী সিনহা ও জাহির ইকবাল। তারকা জুটির বিয়ে নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। কিন্তু এসব তোয়াক্কা না করে স্বামীর সঙ্গে সুসময় কাটাতে ব্যস্ত সোনাক্ষী।
কখনও সুইমিং পুলে, অথবা কখনও রেস্তোরাঁয়, সুসময়ের নানা মুহূর্ত সমাজমাধ্যমে শেয়ার করছেন তারকা জুটি। স¤প্রতি জাহির একটি পোস্ট করেছেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জাহিরের কথা শুনে হেসে খুন সোনাক্ষী। কিন্তু অভিনেত্রী নাকি রেগে ছিলেন জাহিরের ওপর। তবে স্বামীকে বকুনি দেওয়ার বদলে তার কথা শুনে হেসে লুটিয়ে পড়লেন সোনাক্ষী।
জাহিরের পোস্ট করা এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি। ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে জ়াহির লিখেছেন, ‘আমায় বকুনি দেবে ভেবেছিল। কিন্তু আমি ওকে হাসিয়ে দিয়েছি।’
উল্লেখ্য, ভিনধর্মের বিয়ে বলে নাকি এই সম্পর্কে সম্মতি ছিল না শত্রুঘ্ন সিনহা ও তার পরিবারের। যদিও সংবাদমাধ্যমকে শত্রুঘ্ন জানিয়েছিলেন, বিয়ের আগে অনেকেরই নানা সমস্যা হয়। মেয়ের সিদ্ধান্তে তার সম্মতি আছে। তবে বিয়েতে আসেননি সোনাক্ষীর ভাই লব ও কুশ সিনহা। তাদের অনুপস্থিতি নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছেন।
গত ২৩ জুন আইনি মতে বিয়ে করেন সোনাক্ষী ও জাহির। বিয়েতে ছিল না ধর্মীয় আচার। বিয়ের এক সপ্তাহ কাটতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন শত্রুঘ্ন। শোনা যাচ্ছিল, তার অস্ত্রোপচার হয়েছে। যদিও হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে সে কথা অস্বীকার করেছেন তিনি। তবে বিতর্কে কান না দিয়ে আপাতত দাম্পত্যে মন দিচ্ছেন সোনাক্ষী ও জাহির।

শাহরুখ-পুত্রের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসেন দীপিকা

বিয়ের পরে অভিনয়ে দাঁড়ি টানতে চেয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। রণবীর সিংহের সঙ্গে তখন চুটিয়ে প্রেম করছেন অভিনেত্রী। সেই সময় একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, যদি কখনো মনের মানুষ খুঁজে পান এবং বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন, তা হলে সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য অভিনয় ছাড়তেও প্রস্তুত তিনি। পাশাপাশি এ-ও জানিয়েছিলেন, একাধিক সন্তান নিয়ে সংসার জীবন উপভোগ করতে চান তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরও এক বার ছড়িয়ে পড়ল সেই ভিডিও।
দীপিকা বলেছিলেন, ‘রণবীর আর আমি বাচ্চাদের খুব ভালোবাসি। আমরা অপেক্ষা করছি, কবে আমরা নিজেদের পরিবারে নতুন অতিথিকে নিয়ে আসতে পারব।’ শাহরুখ-পুত্র আব্রামের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসেন বলি অভিনেত্রী। চিত্রনাট্যকার হোমি অদাজানিয়া ও অনাইতার সন্তানদের সঙ্গেও সময় কাটাতে ভালোবাসেন তিনি। পাশাপাশি এ-ও জানিয়েছিলেন, বন্ধু ও বন্ধুদের পরিবারের সঙ্গেও নিয়মিত সময় কাটাতে চেষ্টা করেন অভিনেত্রী।
স¤প্রতি ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ ছবির একটি প্রচার অনুষ্ঠানে দীপিকার দেখা মেলে। সেখানে কালো আঁটসাট ‘বডিকন’ পোশাক পরে আসেন নায়িকা। স্পষ্ট হয়ে ওঠে তার স্ফীতোদর। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে রণবীর সিংহ ও দীপিকা পাড়ুকোনের প্রথম সন্তান ভূমিষ্ঠ হতে চলেছে।

অনন্ত-রাধিকার ‘মামেরুতে’ হবু বরের হাত ধরে এলেন জাহ্নবী

অনন্ত আম্বানি এবং রাধিকা মার্চেন্টের প্রাক-বিবাহ উৎসব থামছে না। বিয়ের বাকি আর মাত্র ৮ দিন। আগামী ১২ জুলাই দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও বিত্তশালী পরিবারের ছোট বউমা হবেন রাধিকা মার্চেন্ট। গুজরাটি ঐতিহ্য ও পরম্পরার কথা মাথায় রেখেই আয়োজন করা হয়েছে প্রাক-বিয়ের সব অনুষ্ঠান।
বুধবার অনুষ্ঠিত হল রাধিকার ‘মামেরু’ অনুষ্ঠান। গুজরাটি বিয়ের অন্যতম অংশ এটি। এ অনুষ্ঠানে কনের মামা ভাগ্নীকে মিষ্টিমুখ করান। এ অনুষ্ঠানেও অংশ নিলেন বলিউড তারকারা। রাধিকা-অনন্তকে শুভেচ্ছা জানাতে অ্যান্টিলিয়ায় হাজির ছিলেন জাহ্নবী কাপুর ও তার হবু বর শিখর পাহাড়িয়া।
জাহ্নবী কাপুর ও শিখর পাহাড়িয়ার প্রেম এখন ওপেন সিক্রেট। আম্বানিদের বাড়িতে একসঙ্গেই হাজির যুগলে। কমলা লেহেঙ্গা এবং ম্যাচিং দুপট্টার সঙ্গে সরু ফিতের স্লিভলেস বøাউজে দ্যুতি ছড়ালেন জাহ্নবী। শিখর সেজেছিলেন একটি নীল কুর্তা এবং সাদা পাজামায়। দুজনের সাজেই ছিল গুজরাতি ছোঁয়া। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল দুজনের এন্ট্রির মুহূর্ত, হাসিমুখে ভেতরে প্রবেশ করেন তারা, তবে পাপারাজ্জিদের ডাকে সাড়া দিয়ে পোজ দিলেন না ক্যামেরার জন্য।
মামেরু অনুষ্ঠান গুজরাটি প্রাক-বিবাহের ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য় অঙ্গ। এ অনুষ্ঠানের সময়, কনের মামা তাকে মিষ্টি এবং উপহার দিয়ে যান। সাধারণত, উপহারগুলির মধ্যে থাকে একটি শাড়ি, গহনা, সাদা চুরা (চুড়ি) এবং ট্রেতে সুন্দরভাবে সাজানো মিষ্টি এবং ড্রাই ফ্রুটস। পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার কথা মাথায় রেখেই এ অনুষ্ঠান। বাঙালি বিয়ের যেমন অবিচ্ছেদ্য় অঙ্গ মামার ভিটের আইবুড়ো ভাত, এটিও তেমনই। মামেরু কেবল সাংস্কৃতিক উদযাপনের ঐশ্বর্যই বাড়িয়ে তোলে না বরং নববধূ এবং তার পরিবারের জন্য আনন্দের তুফান নিয়ে আসে।
২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি মুম্বাইয়ে একটি গোল ধানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনন্ত-রাধিকার প্রাক বিয়ের অনুষ্ঠানের সূচনা হয়েছিল। এর আগে মার্চে তাদের জামনগরে অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড প্রি-ওয়েডিং সেলিব্রেশনে পারফর্ম করেছিলেন রিহানা, দিলজিৎ দোসাঞ্জ, শাহরুখ খান, সালমান খান, আমির খান ও অক্ষয় কুমাররা। জামনগরে একটি উদযাপনের পরে, তারা নির্বাচিত অতিথিদেরও একটি বিলাসবহুল ক্রুজে নিয়ে গিয়েছিলেন। অনন্ত এবং রাধিকার বিয়ের মূল অনুষ্ঠান ১২ জুলাই।

ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ায় কী ক্ষতি হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নেপাল, ভুটান, ভারত, বাংলাদেশ- এই চারটি দেশ নিয়ে প্রত্যেকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা হচ্ছে, ট্রানজিট হচ্ছে। এটা তো কোনো একটা দেশ না, আঞ্চলিক ট্রানজিট সুবিধা এবং যোগাযোগ সুবিধার জন্য করা হয়েছে। নেপাল থেকে আমরা জলবিদ্যুৎ কেনা শুরু করতে যাচ্ছি। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর যেসব রেলপথ, নৌপথ বন্ধ ছিল সেগুলো আমরা উন্মুক্ত করে দিচ্ছি। ট্রানজিট দেওয়ায় কী ক্ষতি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘাতকের বুলেটে বাবা, মা, ভাই, স্বজনদের হারিয়েছি। আমার আর হারাবার কিছু নেই। এখন একটাই লক্ষ্য বাংলাদেশের প্রতিটা মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের নিশ্চয়তা করে যাওয়া। বাংলাদেশের একজন মানুষও ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না। সবার ঠিকানা হবে। ইতোমধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৫৮টি জেলার ৪৬৪টি উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত করেছি। ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭৭টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে গৃহ প্রদানের মাধ্যমে মোট ৪৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮৫৫ জন মানুষকে পুনর্বাসন করেছি। এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

01 1


গতকাল দ্বাদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। বৈশি^ক মূল্যস্ফিতি বিবেচনায় নিয়ে সবাইকে কৃচ্ছ্রসাধনের আহŸান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বড় বাজেট পাস হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি রয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের জন্য আমাদের কতগুলো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা আমাদের প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ রাখব। সংসদ সদস্যসহ সকাইকে অনুরোধ করব বাজেট যাতে যথাযথভাবে কার্যকর হয়। বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সবাই যতœবান হবেন। বৈশ্বিক মূল্যস্ফিতি বিবেচনায় সবাইকে কৃচ্ছ্রসাধন করতে হবে। সংসদ নেতা বলেন, আমাদের ট্রান্স-এশিয়া হাইওয়ে, ট্রান্স-এশিয়া রেলের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। আজকে ভারতকে আমরা ট্রানজিট দিলাম কেন? এটা নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া। আমাদের ট্রানজিট তো আছেই। ত্রিপুরা থেকে বাস চলে আসে ঢাকায়, ঢাকা হয়ে কলকাতা পর্যন্ত তো যাচ্ছে। এতে ক্ষতিটা কি হচ্ছে। বরং আমরা রাস্তার ভাড়া পাচ্ছি। সুবিধা পাচ্ছে দেশের মানুষ। অনেকে অর্থ উপার্জনও করছে।

তথ্য-প্রযুক্তির বিকাশে আজ পৃথিবীটা গেøাবাল ভিলেজ। যখন এই অঞ্চলে সাবমেরিন কেবল আসে, বাংলাদেশ বিনা পয়সায় যুক্ত হতে পারত। খালেদা জিয়া করতে দেয়নি। সব তথ্য নাকি ফাঁস হয়ে যাবে! ভুটান থেকে একটি রাস্তা যাচ্ছে মিয়ানমার হয়ে থাইল্যান্ড পর্যন্ত। ভারত চাচ্ছিল ভুটান থেকে রাস্তাটা বাংলাদেশ হয়ে থ্যাইল্যান্ড যাবে। আন্তর্জাতিকভাবে এই রাস্তাটার সঙ্গে যুক্ত থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্যে আমরা অনেক এগিয়ে যেতাম। খালেদা জিয়া এটাও নাকচ করে দেয়। এখন সেই রাস্তাটা যাচ্ছে বাংলাদেশকে বাইপাস করে। আমি প্রথমবার সরকারে এসে অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু যুক্ত হতে পারিনি। বিশ্বায়নের যুগে আমরা নিজেদের দরজা বন্ধ করে রাখতে পারি না। আজকে পৃথিবীটা গেøাবাল ভিলেজ, একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। ভারত থেকে পাইপলাইনে তেল নিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা আসামের রুমালিগড় থেকে পাইপলাইনে তেল নিয়ে এসেছি। পার্বতীপুর ডিপোতে সেই তেল আসছে। ক্ষতিটা কী হয়েছে। বরং আমরাই কিন্তু সস্তায় কিনতে পারছি।
সা¤প্রতিক ভারত সফর নিয়ে সমালোচনাকারীদের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ভারত আমাদের মিত্রশক্তি। পৃথিবীর কোনো দেশেই যুদ্ধের পর মিত্রশক্তি সেই দেশ ছেড়ে যায়নি। এ ক্ষেত্রে একমাত্র বাংলাদেশ ব্যতিক্রম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ছিল, ইন্দিরা গান্ধী নিজেও স্বাধীনচেতা ছিলেন বলেই যেই মুহূর্তে জাতির পিতা ভারতের সৈন্য ফেরত নিতে বলেন, সেই মুহূর্তে ভারতের সৈন্য চলে যায়। অথচ, জাপানকে সহযোগিতা করেছিল আমেরিকা, এখনো সেখানে আমেরিকার ঘাঁটি। পশ্চিম জার্মানিকে সমর্থন করেছিল আমেরিকা, এখনো সেখানে আমেরিকার ঘাঁটি। আমার ভারত সফর নিয়ে বিরোধীদের কেউ কেউ বলেছেন, ‘দেশ বেঁচে দিয়ে আসছে’। আসলে বিক্রিটা কারা করে?
কেউ ঠিকানাবিহীন থাকবে না : এর আগে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, বাংলাদেশের একজন মানুষও ভূমিহীন-গৃহহীন বা ঠিকানাবিহীন থাকবে না। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ইতোমধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৫৮টি জেলার ৪৬৪টি উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত করা হয়েছে। ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭৭টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে গৃহ প্রদানের মাধ্যমে মোট ৪৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮৫৫ জন মানুষকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
অধিবেশন সমাপ্ত : ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন গতকাল শেষ হয়েছে। গত ৫ জুন থেকে ১৯ কার্যদিবস অধিবেশন চলার পর গতকাল ৩ জুলাই অধিবেশন শেষ হয়। ৩০ জুন বাজেট পাস হয়। আগের দিন ২৯ জুন সংসদে অর্থ বিল পাস হয়। অধিবেশনে সামগ্রিক বাজেট আলোচনায় ২৩৬ জন সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

অবশেষে মতুয়া হরিমন্দির ব্যক্তি মালিকানা থেকে অবমুক্ত হয়ে সংগঠনের নামে

জন্মভূমি প্রতিবেদক : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশী মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠিত শ্রীশ্রী হরি মন্দির ব্যক্তিমালিকানা থেকে অবমুক্ত হয়ে তাদের প্রিয় সংগঠন আন্তর্জাতিক শ্রীহরিচাঁদ গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের নামে হস্তান্তরিত হয়েছে।
জানা যায়, গত ২রা জুলাই সোমবার নিউইয়র্ক রাজ্যের আইন-কানুন মেনে আইনবিদ ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানে নেতৃস্থানীয় মতুয়া ভক্ত সহ শ্রীহরি মন্দিরের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলেই উপস্থিত ছিলো। সমস্বরে ধ্বনি দিয়ে সকলে এই মহতি উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।
উল্লেখ্য এতোদিন শ্রীহরিমন্দির ব্যক্তিমালিকানায় ডা. সমীর সরকারের নামে ছিল। আআনি জটিলতায় মন্দির কেনার সময় আর্থিক সুবিধা পেতে ও ব্যাংকের লোন নিতে গ্যারেন্টার প্রয়োজন ছিল। সেই সময় মতুয়া ভক্ত ডা. সমীর সরকার স্বপরিবারে এগিয়ে আসেন এবং তার নামেই মন্দিরের বাড়িটি ক্রয় করা হয়। ক্রয়ের পর থেকেই মতুয়া সম্প্রদায় শ্রীহরিমন্দিরের কার্যক্রম শুরু করে। সেই থেকেই নিউইয়র্ক প্রবাসী কিছু সম্প্রদায় জেনে আসছে এটি মতুয়া সম্প্রদায়ের ক্রয় করা নিজস্ব মন্দির। কাগজপত্রে মতুয়া সংগঠনের নাম হরিচাঁদ গুরুচাঁদ আন্তর্জাতিক মতুয়া মিশনের। ক্রয় করার সময়ই ডা. সমীর সরকারের নামে ব্যক্তিমালিকানা থেকে সংগঠনের নামে হস্তান্তরের জন্য বিধিবিধান রাখা হয়।

IMG 7066

মন্দির ক্রয়ের পর থেকেই প্রবাসী মতুয়া সম্প্রদায় আনন্দের জোয়ারে ভাসতে থাকে। দেশের মতুয়া সম্প্রদায়ও নিউইয়র্কের হরিমন্দির নিয়ে গর্ববোধ করে। কালক্রমে নিউইয়র্ক মতুয়া সম্প্রদায়ের শ্রীহরি মন্দির দেশে বিদেশে মতুয়া সম্প্রদায়ের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে। নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স বরোতে রিচমুÐহীলের ১২৭ নম্বর সিটি-এ আকর্ষণীয় এই মতুয়া মন্দির অবস্থিত। শুরু থেকেই মতুয়া সম্পদ্রায়ের গুরু হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুরের নামে গোপাল বাড়ের ওড়াকান্দি মন্দিরে আদলের আদলে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ঠাকুরের জন্মজয়ন্তি, মহাবারুণাসহ মতুয়া সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পার্বণ সাথে সাথে সনাতন ধর্মের প্রধান প্রধান পূজাপার্বণ যেমন দুর্গোৎসব, সংকীর্তন, শিবরাত্রি, কালি পূজা, নববর্ষও চলতে থাকে।
মন্দির ক্রয়ের অব্যাহতির পরই আস্তে আস্তে আত্মকলহ, পদ-পদবীর গ্যাড়াকল, কয়েক দফায় সংগঠনের কমিটি বদল এমনকি দু’গ্রæপের দু’কমিটি সমান্তরাল চলে। একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার সোসাল মিডিয়ায় ঝড় তোলে। স্থানীয় প্রশাসন অর্থাৎ পুলিশের হস্তক্ষেপও কোর্ট-কাচারী পর্যন্ত দৌড়াতে হয়। সংকট মুছনে দীর্ঘ ক’বছর মধ্যস্থতায় কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও কলকাতার ঠাকুরবাড়ীর দাদু প্রচেষ্টা চালায়। মধ্যস্থতার ফল পুরাপুরি কাজ না করলেও প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিয়ে অনেক সাহায্য করেছে।

IMG 7061

শ্রীহরিমন্দিরে ব্যক্তিমালিকানা যখন ডা. সমীর সরকারের উপর ছিল তখন আত্মকলহ ও সোসাল মিডিয়ায় আলোচিত বিষয় নিয়ে তিনি বরাবরেই নীরব ভূমিকা পালন করেন। ফলে পরস্পরের মাঝে দূরত্ব ক্রমেই বাড়তে থাকে। একসময় মন্দিরটি প্রায় প্রাণহীন হয়ে যায়। ভক্তদের আগমন কমতে থাকে। ক্ষোভ ও বেদনা বাড়তে থাকে। অনেকের মুখ দেখাদেখিও পর্যন্ত হয়নি।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য নিউইয়র্ক তেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জন্মভূমি ক’বছর আগে ডা. সমীর সরকারের কাছে মন্দির মতুয়া মিশনের নামে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া জানতে চায়। সেই সাক্ষাৎকারে ডা. সমীর সরকার অকপটে বলেছিলেন সময় ও সুযোগ হলেই আমি শ্রীহরি মন্দির মতুয়া মিশনের নামে হস্তান্তর করবো।
অবশেষে নিউইয়র্কের মতুয়া আকাশে বিলম্ব হলেও নতুন সূর্যের উদয় হলো। ডা. সমীর সরকার নীরবতা ভেঙ্গে কালক্ষেপণ না করে আরও আগে হস্তান্তর হলে রাস্তা আরও সহজ হতো। দীর্ঘ = ও সংগঠনের পথ চলার বাঁকে বাঁকে নাটকীয়তায় ভক্তদের মাঝে বিশ্বাসহীনতার চিড় ধরেছে।
বেলা শেষের খবর সকল মতুয়া ভক্তদের জন্য অশেষ সম্পদ। মন্দির ক্রয় থেকে এই পর্যন্ত এ মাত্রায় নিয়ে আসার জন্য ডা. সমীর সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা থাকা ভক্তদের উচিত।

পিপল আপ এর ১৪ দফা এজেণ্ডা বাস্তবায়নে পাশে থাকার অঙ্গীকার স্টিভ রাগার

স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদ ডেমোক্রেট প্রাইমারিতে কুইন্স কাউন্টি কমিটির মেম্বার পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয়ী। ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নিবার্চনে নিউইয়র্কের কুইন্স কাউন্টি কমিটির মেম্বার পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদ। শনিবার, উডসাইডের গুলশান টেরেসে আবু জাফর মাহমুদের নেতৃত্বধীন রাজনৈতিক সংগঠন পিপল ইউনাইটেড ফর প্রোগ্রেস আয়োজিত সাংগঠনিক নৈশভোজে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন নিউইয়র্ক স্টেট এর অ্যাসেম্বলিম্যান স্টিভেন রাগা। এবার ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে স্টিভেন রাগাও নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায়।
উল্লেখ্য, স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদ প্রথম বাংলাদেশি যিনি কুইন্স কাউন্টি মেম্বার পদে নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের হয়ে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করছেন। আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে চূড়ান্তভাবে প্রার্থী হলেন তিনি।
পিপল আপ এর ওই সাংগঠনিক নৈশভোজে কুইন্স কাউন্টির ইন্টার গর্ভমেন্টাল অ্যাফেয়ার্স ডেপুটি চিফ হারিস কে প্যারেখ, গণতান্ত্রিক সমাজবাদী ইউনিয়ন নেতা ক্লেয়ার ভ্যালডেজ উপিস্থিত ছিলেন। এছাড়া ছিলেন বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, সম্পাদক ও সাংবাদিকবৃন্দ।

WhatsApp Image 2024 06 30 at 12.15.22 d22f42bc

পিপল ইউনাইটেড ফর প্রোগ্রেসের প্রেসিডেন্ট স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদ সূচনা বক্তব্যে আয়োজনটিকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সীমানা অতিক্রমের একটি আনুষ্ঠানিক অধ্যায় উল্লেখ করে বলেন, যারা এতদিন বাংলাদেশি কমিউনিটিতে অবদান রেখেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা এখন দৃপ্তস্বরে, স্বগৌরবে বলতে পারবেন ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নিবার্চনে আমরাও মূলধারার নেতৃত্বে অংশীদার। তিনি জানান, কুইন্স কাউন্টি কমিটির মেম্বার পদে বিনা প্রতিদ্ব›দ্বীতায় তার জয়লাভের বিষয়টি একটা ইতিহাস ও একই সঙ্গে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা । এর কৃতিত্বের দাবিদার কমিউনিটির সকল মানুষ।
আবু জাফর মাহমুদ বলেন, যে কোনো যুদ্ধে আপনজন পাশে না থাকলে মনোবল থাকে না। মনোবল না থাকলে যোদ্ধার বিজয় হয় না। আর মনোবল হচ্ছে সবচেয়ে বড় হাতিয়া, আমার সেই শক্তি হলো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশী ও সংগঠনের সকল কর্মীরা।

WhatsApp Image 2024 06 30 at 12.15.26 6af75536 edited

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী নিবন্ধনভুক্ত ও নিবন্ধন বহির্ভূত সকল নাগরিকের পক্ষে পিপল আপ এর ১৪ দফা এজেণ্ডা তুলে ধরেন স্যার ডক্টর আবু জাফর মাহমুদ । বলেন, এই এজেণ্ডা আমেরিকায় নেতৃত্ব দেয় এমন শীর্ষ দল ও ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করে বাস্তবায়নের চেষ্টা চালানো হবে। এজেণ্ডার মধ্যে রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সকল অভিবাসীর দ্রæত নাগরিকত্ব দেয়া এবং ট্যাক্স প্রদানের আওতায় আনা। অভিবাসীদের সবার জন্য মেডিকেল ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, কম মূল্যে অল্প আয়ের মানুষদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, শিশুদের খাবার, প্রসাধনীর মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কৃত ছাত্র-ছাত্রীদের শাস্তি মওকুফ করা ও শিক্ষাজীবনে ফিরিয়ে নেয়া, ছাত্র-ছাত্রীদের ফেডারেল ঋণ মওকুফ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেয়া, আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সরকারী কোষাগার থেকে তহবিল সংস্থান করা, শিক্ষা ক্ষেত্রে – প্রশাসনে সবোর্চ্চ দেশপ্রেমের অগ্রাধিকার চর্চা নিশ্চিত করা, মুসলীম অধ্যুষিত রাষ্ট্রগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সর্ম্পক জোরদার করা, উবার চালক-দোকান কর্মচারীদের অধিকার আদায়, নারীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, সুপার পাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি সুসংহত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া ।

20240629 223137 edited

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নিবার্চনে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান স্টিভেন রাগা আবু জাফর মাহমুদের ১৪ দফা প্রস্তাবনাকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে তা একসাথে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের নূন্যতম মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে একযোগে কাজ করা হবে। এজন্য আসছে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র নিবার্চনে তাদের জয়ী হওয়া জরুরী । আর এর জন্য বাংলাদেশী কমিউনিটির সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। স্টিভেন রাগা বলেন, নিউইয়র্কে পিছিয়ে পড়া, স্বল্প আয়ের মানুষদের জীবন-জীবিকার অধিকার নিশ্চিত করতে ডেমোক্রেটিক পার্টি সোচ্চার। প্রথম বছরে জয়ী হয়ে তিনি এরই মধ্যে ৩০ মিলিয়ন ডলার দক্ষিন এশীয় নাগরিকদের শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ রেখেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, এ বরাদ্দ সামনে আরো বাড়ানো হবে, নতুন বিনিয়োগ যুক্ত হবে।
সুধী সমাবেশে স্যার ডক্টর আবু জাফর মাহমুদকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জানান তিনি। বলেন, এদেশে অভিবাসনের অবস্থা যা-ই হোক না কেন, সবার স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন। নাগরিকরা যা-ই উপার্জন করুন না কেন, আবাসন প্রয়োজন। অভিবাসীরা যতো ধনী হোক না কেন, সঠিক শিক্ষার প্রয়োজন। যার জন্য ডেমোক্র্যাটরা অ্যালবনিতে লড়াই করেছে। আগামী নভেম্বরে এর প্রতিফলন ভোটে থাকতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, আসন্ন নির্বাচনের জন্য এমন অনেক পদ রয়েছে যেখানে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। এক্ষেত্রে আবু জাফর মাহমুদের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতা যথার্থ যথার্থ বলে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, নিবার্চনে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সকল কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ, অবদান থাকা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানটি সার্বিক পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন মূলধারার ট্রেড ইউনিয়ন নেতা মিলন রহমান।

নিউইয়র্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৪তম জন্মদিন উদযাপন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ১০৪তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে। কুইন্সের লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়টে আনন্দঘন পরিবেশে এই উদযাপন হয় গত ১ জুলাই। ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলামনাইদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন।
অনুষ্ঠান শুরু হয় সমবেত কণ্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর সবাই মিলে গেয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যানথেম। পুরো অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা ও পরিচালনায় ছিলেন বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ ও ইমাম মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে আয়োজনকে রাঙিয়ে তোলেন গোলাম মোস্তফা।

WhatsApp Image 2024 07 02 at 16.20.15 b68aed63 edited

অনুষ্ঠানের সিংহভাগজুড়ে ছিল স্মৃতিচারণ। ক্যাম্পাস জীবনের কথা বলতে গিয়ে অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেনÑফরিদা চৌধুরী, মনজুর চৌধুরী, সিলভিয়া সাবেরিন, মোসা. ওয়াহিদা শামসুন, মো. আবদুল কাইয়ুম, সজল রোশান, লুবানা রশিদ এবং মো. গোলাম মোস্তফা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রঙিন দিনগুলো নিয়ে আরও কথা বলেছেনÑকাজী জহিরুল ইসলাম, সুখন গোমেজ, মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, এম আরেফিন টুলু, রুবি আরেফিন, ড. মোহাম্মদ মুজিবুল হক, নাজিয়া আহমেদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান, ইকবাল মোরশেদ, উমামা সিদ্দিকা এবং রওশন আরা বেগম।
ফরিদা চৌধুরী স্মৃতিচারণ করে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে আমি গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছি ১৯৮১ সালে। ওই সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল অসাধারণ সম্পর্ক। আমরা একটা পারিবারিক আবহে কাটিয়েছি ক্যাম্পাস জীবন। এটি আমাদেরকে ভালো মানুষ হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
মোসা. ওয়াহিদা শামসুন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু বাংলাদেশকেই আলোকিত করেননি, প্রবাসের মাটিতেও দেশকে উজ্জ্বল করে চলেছেন। এই প্রতিষ্ঠান হলো আমাদের অনুভূতি আর ভালোবাসার জায়গা। তাই বিদেশের মাটিতে বসে প্রাণের প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে পারাটা ভীষণ আনন্দদায়ক।

WhatsApp Image 2024 07 02 at 16.20.14 140549f1

সিলভিয়া সাবেরিন বলেন, যখন থেকে এই অনুষ্ঠানের খবর পেয়েছি, তখন থেকেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় ছিলাম। আমার মনের আঙিনায় এখনও ভাসছে সেই টিএসসি, কলাভবন, নীলক্ষেত, মলচত্বর, কার্জন হল, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি আর রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের প্রতিটি স্মৃতি।
মনজুর চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমি খুবই দুষ্টু ছিলাম। এমন কোনো ডিপার্টমেন্ট ছিল না, যেখানে আমার কোনো বন্ধুবান্ধব ছিল না। সিনিয়র-জুনিয়র সবাই আমাকে খুব আদর করতো। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই জীবনটা আমি খুবই মিস করি। প্রত্যাশা করি, আমাদের প্রাণের এই প্রতিষ্ঠান আরও এগিয়ে যাবে।
মো. আবদুল কাইয়ুম বলেন, আমি আসলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স করিনি। অ্যাকাউন্টিংয়ের ইভিনিং কোর্সে এমবিএ করেছি। তাই আপনাদের মতো আমার হলের কোনো স্মৃতি নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতি আমার আবেগ রয়েছে। রেগুলার স্টুডেন্ট না হলেও দেশসেরা এই প্রতিষ্ঠানে পড়তে পেরে আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের বুকের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে সত্য, সুন্দর ও উজ্জ্বল আগামীর স্বপ্নÑএমন মন্তব্য করে সজল রোশান বলেন, জীবনের অনিবার্য ডাকে আমরা হয়তো ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে এসেছি, তবে আমরা জানি, বিশ্ববিদ্যালয় কখনো প্রাক্তন হয় না।
লুবানা রশিদ বলেন, আমি পড়েছি ফিলোসফি ডিপার্টমেন্টে, এটাচড ছিলাম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে। দারুণ সময় কেটেছে পুরো ক্যাম্পাস জীবন। আমি প্রচুর এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। সিনিয়রদের কাছ থেকে প্রচুর সহযোগিতা পেয়েছি। শিক্ষকরাও আমাদেরকে দারুণভাবে আগলে রেখেছেন।
সুখন গোমেজ বলেন, আমি আজ আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ছি। কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের ভীষণ আবেগের এক জায়গা। আমি আরেকটু বেশি আবেগে আপ্লুত হই এ কারণে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ছাত্র আন্দোলন শামসুনন্নাহার হল থেকে তৈরি হওয়া শিক্ষার্থী নির্যাতনবিরোধী আন্দোলনে জড়িত ছিলাম।

WhatsApp Image 2024 07 02 at 17.14.28 9699b943

জাতিসংঘের কর্মকর্তা কবি কাজী জহিরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অসংখ্য মেধাবী এবং সফল মানুষের জন্ম দিয়েছে। তবে ইদানীং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। সেই প্রশ্ন যে সম্পূর্ণ অমূলক, তাও নয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।
রওশন আরা বেগম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমরা যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা বসবাস করছি, আমাদের মাঝে কীভাবে আরও সুন্দর ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়, সেটা চিন্তা করতে হবে। শুধু বছরান্তে নয়, আমরা এভাবে মিলিত হতে চাই কিছুদিন পরপর।
ড. মোহাম্মদ মুজিবুল হক বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েটদের মাঝে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে সমর্থ হবো।
মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা ভালোবাসি। আর সেজন্যই আমরা চাই, এই বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাক। কিন্তু পড়াশোনার বিশ্বমান কতটুকু ধরে রাখতে পারছে প্রতিষ্ঠানটি, সেটা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এম আরেফিন টুলু বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার পর আমার অনেক বন্ধুকে গায়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা সিল লাগানোর জন্য কী চেষ্টাটাই না করতে দেখেছি। সেই জিনিসটা ভাবলে মনে হয়, আমরা ঢাবি শিক্ষার্থীরা আসলেই সৌভাগ্যবান।
রুবি আরেফিন বলেন, শতবর্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। আমরা আশাকরি, এই বিশ্ববিদ্যালয় আরও হাজার বছর সগৌরবে টিকে থাকবে। আমরা যেমন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পেরে গর্ব অনুভব করি, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোয় আলোকিত হবে।
নাজিয়া আহমেদ চৌধুরী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় বাংলাদেশের বাতিঘর। এই দেশটির স্বাধীনতা থেকে শুরু করে যা কিছু ভালো, তার সঙ্গে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। আন্তর্জাতিক অঙ্গণেও বিভিন্নভাবে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে আসছে এই প্রতিষ্ঠান।

WhatsApp Image 2024 07 02 at 16.20.12 764639e2 edited

ইকবাল মোরশেদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্র পরিচালনায় যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন, তেমনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করে আসছেন। এই ইতিবাচক কর্মকাণ্ড যদি সমষ্টিগতভাবে করা যায় তাহলে সেটা হয়ে উঠবে অনেক বেশি কার্যকর ও ফলপ্রসূ।
উমামা সিদ্দিকা বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে তার সাবেক শিক্ষার্থীরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। বিশ্বের প্রথিতযশা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই কর্মকাণ্ডের দিকে নজর রাখলেই তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। নিউইয়র্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্যোশাল ও চ্যারিটি এক্টিভিটি করলেও একই ছাতার নিচে না থাকায় সেগুলো খুব একটা ফলপ্রসূ হচ্ছে না।
গত কয়েক বছর ধরেই ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলামনাইদের উদ্যোগে নিউইয়র্কে এই আয়োজন হয়ে আসছে। প্রতিটি আয়োজনেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। এ বছর সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সজল রোশানকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
প্রিয় প্রতিষ্ঠানের জন্মদিন উদযাপনের অন্যতম অংশ ছিল কেক কাটা। এরপর নির্মল আড্ডা আর গল্প-গুজবে মেতে ওঠেন সবাই। ফটোসেশন পর্বে চলে দলবেঁধে ছবি তোলা।

জুম খোকনের কমিটি বাণিজ্যে ধ্বংসের পথে বহির্বিশ্ব বিএনপি

ইমা এলিস, নিউইয়র্ক: বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন ওরফে জুম খোকনের অনৈতিক কর্মকান্ড ও কমিটি বাণিজ্যে ধ্বংসের পথে বহির্বিশ্ব বিএনপির রাজনীতি। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আরপিও আইন অমান্য করে বিভিন্ন দেশে দলীয় গঠনতন্ত্র বহির্ভুত অবৈধভাবে বিএনপির কমিটি গঠন এবং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ‘টেবিলের নিচে’ কমিটি বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই জুম খোকন। একই সঙ্গে ফুলে উঠছেন যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রবাসে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের বিএনপি নেতাকর্মীরাও। কোভিড-১৯ এর সময়কালে যে জুম মিটিং চালু করা হয়েছিল তিনি এখনও তা অব্যাহত রেখেছেন বলে বহির্বিশ্বের বিএনপির নেতাকর্মীরা তার নাম দিয়েছেন জুম খোকন।
দেশে এবং বিদেশে বিএনপির কর্মপন্থা সক্রিয় করার লক্ষ্যে লন্ডন প্রবাসী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছোটখাটো সকল কমিটিকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বিভিন্ন সময়ে কয়েকজন আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি কমিটি গঠনের জন্য। তাঁরা সশরীরে চেষ্টা করে অল্পতেই হার মেনে যান অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের কমিটিগুলো ঢেলে সাজাতে ব্যর্থ হন। এদের মধ্যে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন, মাহিদুর রহমান, ব্যারিস্টার আবু সায়েম উল্লেখযোগ্য। এভাবে কমিটি বিহীন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সময় কেটেছে অনেকগুলি বছর।

zoom meeting

রাজনৈতিক কাজ করতে হলে সুশৃঙ্খল কমিটির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেন যে কোন ভাবে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি দেয়া হলে সবাই তা মেনে নেবেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন অখ্যাত এক বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন খোকন ওরফে জুম খোকন। তিনি তখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বুঝিয়ে নানা কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি কমিটি গঠনের দায়িত্বভার বাগিয়ে নেন।
তিনি প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে আস্তে আস্তে নিজের পছন্দের কিছু অপরিপক্ক তরুণ নেতাদের দিয়ে কয়েকটি স্টেটের আহŸায়ক কমিটি গঠন করেন। যেহেতু দীর্ঘদিন কমিটি না থাকার কারণে মানুষের মনে আশার সঞ্চার শুরু হয় অন্তত কিছু একটাতো হচ্ছে! তাই ভুলভ্রান্তিতে ভরা সেই আহŸায়ক কমিটিগুলি নিয়ে কেও কোন মুখ খোলেনি, মেনে নিয়েছিলেন। যেহেতু আপাত দৃষ্টিতে তিনি বেশ কয়েকটি আহবায়ক কমিটি গঠনে সফল হয়েছেন সেহেতু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার উপর আস্থা রেখে আরো কিছু দায়িত্ব অর্পণ করেন। এভাবেই দুরন্ত হয়ে ওঠেন জুম খোকন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে আনোয়ার হোসেন খোকন ওরফে জুম খোকন একে একে শুরু করেন তার আসল ধান্ধা। প্রথমে বাগিয়ে নেন আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের পদ, এরপর শুরু করেন বিভিন্ন দেশের কমিটি গঠনের পদ বাণিজ্য। এখন তিনি আন্তর্জাতিক সম্পাদকের বাইরে নিজেকে উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য সহ সকল দেশের সংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত বলে নিজের নামের সাথে টাইটেল জুড়ে রাখেন। এতে করে যে সুবিধাটা হয় সেটা হলো প্রবাসের কমিটি বাণিজ্যের রমরমা ব্যবসাটা পাকাপোক্ত করা সম্ভব হয়। সাধারণ নেতাকর্মীরা টাইটেল দেখে মনে করেন তারেক রহমানের পরেই আনোয়ার খোকনের ক্ষমতা তাই কোন শব্দটুকু করতেও সাহস করেন না। এটাকে পুঁজি করে চলছে জুম খোকনের রমরমা ব্যবসা।
তিনি শুধুমাত্র প্রবাসী বিএনপি কমিটি বাণিজ্যের সাথে জড়িত নন, তিনি ইতিমধ্যে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চোখে ধুলা দিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। দেশের বাড়ী ‘কুমিল্লা’ ইমেজ কাজে লাগিয়ে লন্ডন প্রবাসী বিভক্ত সিলেট নেতৃত্বকে আলাদা করে চেয়ারম্যানের কাছে নতুন নতুন ফর্মুলা উপস্থাপন করেন। বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জুম খোকনের বিচক্ষণতা ও মিষ্টি মিষ্টি ধর্মীয় কথায় মুগ্ধ হয়ে একের পর এক পদোন্নতি দিয়ে চলেছেন। এত ক্ষমতার পরেও স¤প্রতি বিদেশ বিষয়ক সম্পর্কোন্নয়ন কমিটিতে জুম খোকনকে সদস্য পদ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে জুম খোকনের অহংকার এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে প্রবাসী বিএনপি কমিটি গঠনের জুম মিটিংয়ে নিজেকে বিএনপির প্রধান বলে দাবি করেন। ইনিয়ে বিনিয়ে এটাই তিনি বুঝাতে চাইছেন যে বিএনপি মানেই আনোয়ার হোসেন খোকন।
লন্ডন সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান আনোয়ার হোসেন খোকনকে এখনই যদি কন্ট্রোল করা না হয় তাহলে ঠিক যেভাবে হাওয়া ভবনের দোহাই দিয়ে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী গিয়াস উদ্দিন মামুন দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুলেছিলেন ঠিক তেমনি জুম খোকন ও তার নিজস্ব দুর্নীতি জগৎ তৈরী করে নিবেন এবং এতে ক্ষতিগ্রস্থ হবে বিএনপি, ধ্বংস হবে দলের সকল অর্জিত সুনাম।
আমাদের ধারাবাহিক অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে আনোয়ার হোসেন খোকন ওরফে জুম খোকন বিএনপির নেতা খুঁজে কমিটি গঠন করেন না তিনি বরং তার ব্যক্তি চামচা খুঁজে পদপদবী বন্টন করেন। তার তেলবাজি না করলে কিংবা চামচামি না করলে তাকে বিএনপির সকল পদ পদবি থেকে বঞ্চিত করেন। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোন মূল্য তার কাছে নাই. চামচামি আছেতো পদবি আছে চামচামি নাইতো পদ পদবি নাই। সহজ সরল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এখনও জুম খোকনের চালাকি বুঝে উঠতে পারছেন না হয়ত যেদিন বুঝতে পারবেন ততদিনে জুম খোকন অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে যাবে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে মিশে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আরেকবার কোমর ভাঙার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হবে। তাই সময় থাকতে জুম খোকনের লাগাম টেনে ধরা উচিত বলে প্রবাসী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসীরা ধারণা করছেন।

দেশের ৫ বিভাগ এখন সম্পূর্ণভাবে ভূমিহীন-গৃহহীন মুক্ত: প্রধানমন্ত্রী

দেশের ৫ বিভাগ এখন সম্পূর্ণভাবে ভূমিহীন-গৃহহীন মুক্ত হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে আট লাখ ৬৭ হাজার ৯৭৭টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এতে উপকারভোগী মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩ লাখ ৩৯ হাজারেরও বেশি। এ পর্যন্ত ৫৮টি জেলা এবং ৪৬৪টি উপজেলা সম্পূর্ণভাবে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত হয়েছে। ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহী এ ৫টি বিভাগ এখন সম্পূর্ণভাবে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত। অর্থাৎ এসব জেলা, উপজেলা ও বিভাগে কোনো ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষ নেই।
তিনি বলেন, ব্যারাক হাউজের মাধ্যমে আমরা ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৯ লাখ ৫৯ হাজার ৮৪৮টি পরিবারকে পুনর্বাসন করেছি। ব্যারাক হাউজ ছাড়াও আমরা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৫৩টি পরিবারকে নিজ জমিতে বিনামূল্যে গৃহনির্মাণ করে দিই। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫টি পরিবারের কাছে স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে ২ শতাংশ জমির মালিকানাসহ সেমিপাকা একক ঘর হস্তান্তর করেছি।
সংসদ নেতা শেখ হাসিনা জানান, মুজিববর্ষে উপকারভোগী মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। ভূমিহীন-গৃহহীন-ছিন্নমূল মানুষকে জমির মালিকানাসহ ঘর করে দেওয়ার লক্ষ্যে সারা দেশে ৬ হাজার ৯৪৫ একর খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য তিন হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের এসএম আতাউল হকের প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, ২০০৮-০৯ অর্থবছরের ১৩ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা থেকে ৯.১২ গুণ বাড়িয়ে সদ্য বিদায়ী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এক লাখ ২৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। ১১৯টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এ সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আলী আজমের প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য সমতার ভিত্তিতে সুবিচার নিশ্চিত করা এবং বিচার ব্যবস্থায় দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধন করে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর। বর্তমান সরকার বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি লাঘবে সঠিক বিচারের নিশ্চয়তা প্রদান করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ২০০৯ সাল থেকে অধস্তন আদালতে এক হাজার ৪২৯ জন বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান সংসদ নেতা।

নতুন মাইলফলকে সর্বজনীন পেনশন: সাড়ে ১০ মাসে জমা ১০০ কোটি

বহুল প্রতীক্ষিত সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে (স্কিম) সাড়ে লাখ মানুষ নিবন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছেন।
স্কিম চালু হওয়ার সাড়ে ১০ মাসে এই মাইলফলক স্পর্শ হয়েছে। যার মাধ্যমে সরকারি ফান্ডে জমা পড়েছে ১০০ কোটি টাকা।
বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে, সাড়ে নয় মাসে বিভিন্ন স্কিমে যুক্ত হওয়ার সংখ্যা লাখ স্পর্শ করে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিমে প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতায় বর্তমানে মোট নিবন্ধনকারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখ এবং মোট জমার পরিমাণ ১০০ কোটি টাকার বেশি। ইতোমধ্যে জমাকৃত অর্থের মধ্যে ৯২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রবাস স্কিম, প্রগতি স্কিম, সুরক্ষা স্কিম ও সমতা স্কিমÑ এই চার স্কিম নিয়ে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। চালুর প্রথম দিন থেকেই সাড়া মিলতে শুরু করে, ক্রমাগত যা ঊর্ধ্বমুখী।
পেনশন বিধিমালা বলছে, সর্বজনীন পেনশন প্রথায় যার যত টাকা জমা, মেয়াদ শেষে তার তত বেশি পেনশন। অন্যদিকে, স্বল্প আয়ের মানুষদেরও বিমুখ করবে না এ উদ্যোগ। যারা মাসিক ৫০০ টাকা জমাবেন, তাদের জন্য শুরু থেকেই থাকবে সরকারের আরও ৫০০ টাকার ভর্তুকি। সবমিলিয়ে, সবার জন্যই থাকছে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে বাড়তি কয়েক গুন মুনাফা।
আর পেনশনের জন্য নির্ধারিত চাঁদা বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করে কর রেয়াত পাওয়ার যোগ্য হবেন। এছাড়া মাসিক পেনশনবাবদ প্রাপ্ত অর্থ আয়কর মুক্ত হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অন্যদিকে, চলতি বছরির জুলাই বা তার পরবর্তী সময়ে স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা এবং তাদের অধীন অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যোগদান করবেন, তাদের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিমে প্রবেশ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তারা সবাই ‘প্রত্যয়’ স্কিমের অন্তর্ভুক্ত হবেন। গত ২০ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন ইস্যু করেছে।
২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে সর্বজনীন পেনশন পদ্ধতি প্রবর্তনের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালুর লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ কর্তৃক ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩’ পাস করা হয়। বহুল প্রতীক্ষিত সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি (স্কিম) ওই বছরের ১৭ আগস্ট সকালে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।