ঢাকা ডেস্কঃ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জোর করে বিশ্ববিদ্যালয় দখলের চেষ্টা করছে। এই সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। রোববার রাজধানীর কাকরাইলে হোটেল রাজমণি ঈশা খাঁয় গণফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি। ইফতারে বুয়েটের সা¤প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব। সেখানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা জোর করে ক্যাম্পাস দখলের চেষ্টা করছে।
এদিকে গতকাল রাজধানীর লেডিস ক্লাবে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেডআরএফ’র প্রেসিডেন্ট ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেন।
জেডআরএফ’র ইফতারে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলতে ষড়যন্ত্র চলছে। শুধু তাই নয়, জিয়াউর রহমানের বিষয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এটার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরে তা প্রচার করতে হবে। তার সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংবলিত পুস্তক নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে উন্নয়নের গান গায় সরকার।
এই উন্নয়ন তো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। তিনি তো স্বল্প সময়ে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদেরকে শক্তিশালী হতে হবে। আরও তীব্রতর আন্দোলন করতে হবে, যতদিন পর্যন্ত না লক্ষ্য আদায় হয়। খালেদা জিয়া সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। সেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকার থেকে তিনি বঞ্চিত। যিনি গণতন্ত্র রক্ষায় আজীবন লড়াই করছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা ভোট বর্জন করেছি। এবার ভারতীয় পণ্য বর্জন করতে হবে। আসুন ভারতের নিকৃষ্টতম পণ্য আওয়ামী লীগকে বর্জন করি।
জেডআরএফ’র নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইফতার মাহফিল উদ্যাপন কমিটির আহŸায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান। জেডআরএফ’র ইফতার মাহফিল উদ্যাপন কমিটির সদস্য সচিব ব্যারিস্টার মীর হেলালের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড. সদরুল আমিন, বিএফইউজের কাদের গনি চৌধুরী, ড্যাবের সভাপতি ডা. হারুন আল রশিদ প্রমুখ।
রাজনৈতিক নেতা, বিশিষ্টজন ও পেশাজীবীদের মধ্যে ইফতারে উপস্থিত ছিলেন এএসএম আবদুল হালিম, কবি আবদুল হাই শিকদার, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল, শহীদুল ইসলাম বাবুল, ডা. পারভেজ রেজা কাকন, হেলেন জেরিন খান, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, আতিকুর রহমান রুমন, শায়রুল কবির খান, রাকিবুল ইসলাম রাকিব, নাছির উদ্দিন নাছির প্রমুখ।
ছাত্রলীগ জোর করে বিশ্ববিদ্যালয় দখলের চেষ্টা করছেঃমির্জা ফখরুল
বুয়েটে জঙ্গিবাদের কারখানা হলে অ্যাকশনে যাবে সরকার: ওবায়দুল কাদের
ঢাকা ডেস্কঃ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমি রাজনীতি করি-এজন্য বুয়েটে যেতে পারব না? এটা কোন ধরনের আইন? এটা কোন ধরনের নিয়ম? তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার নামে বুয়েটকে অপরাজনীতি ও জঙ্গিবাদের কারখানায় পরিণত করা হলে সরকার অ্যাকশনে যাবে। রোববার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের দলীয় নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব অপকর্ম, অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। সেই নীতিতে আমরা এগিয়ে চলছি। বিশ্বজিৎ হত্যার বিচার করতে গিয়ে আমাদের অনেক কর্মী দণ্ডিত হয়েছে। বুয়েটে আবরার হত্যাকাণ্ডে আমরা কাউকে ছাড় দিইনি। শেখ হাসিনা কাউকে ছাড় দেন না। তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা বিভিন্ন জন, কেউ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কথা বলেন আবার কেউ বলেন ভারতীয় পণ্য বর্জন করতে। সেই পাকিস্তানি আমলের প্রচারণা, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আইয়ুব খান যে ভাষায় কথা বলতেন, সে ভাষায়। নতুন করে বিএনপি সেই ভাষায় কথা বলছেন। তাদের কোনো ইস্যু নেই। সব ইস্যু মার খেয়েছে। ভোট ও আন্দোলনে পরাজিত হয়েছে। এখন তাদের ইস্যু ভারতবিরোধিতা। এন্টি ইন্ডিয়া ফোবিয়া।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতা ছেড়ে যায়, তখন বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার। আর তারা এখন আমাদের রিজার্ভ নিয়ে কটাক্ষ করে। রিজার্ভ বেড়ে ২১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। ঈদ উপলক্ষ্যে রেমিট্যান্স বাড়ছে, রিজার্ভও বাড়বে-এটাই স্বাভাবিক। না জেনেই তারা মিথ্যাচার করছে, অপপ্রচার করছে। তাদের আমাদের জবাব দিতে হবে।
সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, জীবন দিয়ে বাঙালির বীর সন্তানরা দেশের স্বাধীনতা এনেছেন। অথচ ৫৩ বছর পরও বিতর্ক চলছে-কে স্বাধীনতার ঘোষক। এত বছরেও এ সমস্যার সমাধান হলো না। স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু ১২টা বছর কারাগার থেকে কারাগারে থেকেছেন, নিপীড়ন, ফাঁসির মঞ্চে স্বাধীনতার জয়গান গেয়েছেন। পাকিস্তানের কারাগারে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদণ্ড হয়ে গিয়েছিল-জেলখানার মধ্যেই কবর তৈরি করা হয়েছিল। নিজের জীবন দিয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছেন। তিনি স্ত্রী-পুত্রের খোঁজ নেননি, কারণ তার হৃদয়ে ছিল বাংলাদেশ, চেতনায় ছিল বাংলাদেশ। অথচ তাকে নিয়ে ৫৩ বছর পরও বিতর্ক, স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক। এ বিতর্কের বিষয়ে জবাবটা মোটা দাগে আমরা অনেক সময় বলার চেষ্টা করেছি। এখন আমরা বলি-ঘোষণার পাঠক কখনোই ঘোষক হতে পারেন না। পারলে তো এমএ হান্নান, আবুল কাসেমরাও তো স্বাধীনতার ঘোষক। পাঠক তো ঘোষক নন। তার চেয়ে বড় কথা ঘোষণার অধিকার কার ছিল? সত্তরের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু ছাড়া স্বাধীনতা ঘোষণা দেওয়ার অধিকার আর কারও ছিল না। তিনি বলেন, একাত্তরের পর পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ড কারা ঘটিয়েছিল? যারা ঘটিয়েছিলেন, তাদের অনুসারীরা আজ ঘোষক নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছেন। তাদের টার্গেট যে কোনোভাবে বঙ্গবন্ধুকে দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দেওয়া।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, সামনে উপজেলা নির্বাচন। কেউ ক্ষমতার দাপট ও ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না। যার নির্বাচন করার ইচ্ছা তিনি করবেন। নির্বাচন করার স্বাধীনতা সবারই আছে। এমপি, মন্ত্রীরা হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকলে দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন করার যে উদ্দেশ্য, তা সার্থক হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। জনগণ যাকে ইচ্ছা তাকে নির্বাচিত করবে। নির্বাচন কমিশনও স্বাধীন। অনিয়ম হলে তারা ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, চায়ের দোকানে বসে নেতারা দলের বিরুদ্ধে কথা বলেন। কিন্তু এ ধরনের আচরণ নেতাদের পরিহার করতে হবে। সবাইকে খুব দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। একেকজনের একেক রকম দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা দলকে সংকটের দিকে নিয়ে যায়। আওয়ামী লীগে গঠনতন্ত্র আছে, নিয়মনীতি আছে, নেতৃত্ব আছে, আমরা কেন আদর্শচ্যুত হব?
দলের চট্টগ্রাম বিভাগের মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ সভাপতিত্ব করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, সুজিত রায় নন্দী, ত্রাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, সদস্য আনিসুর রহমান প্রমুখ। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের সব জেলা-মহানগরের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, দলীয় ও স্বতন্ত্র এমপিরা উপস্থিত ছিলেন।
বেলা ১১টায় শুরু হওয়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় বৈঠক চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। বৈঠকে থাকা একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তৃণমূল থেকে আসা অধিকাংশ নেতা স্থানীয় রাজনীতির সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে স্ব স্ব এলাকার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। বৈঠকে চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি দ্রæত করার নির্দেশনা দেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর অনেকটাই অগোছালো। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনকে চাঙা করতে হবে।
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক নিজ জেলার রাজনৈতিক সমস্যা তুলে ধরেন। কুমিল্লার কোন্দল সামনে আনেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন।
বিক্ষোভ সমাবেশ ছাত্রলীগের, ক্লাস পরীক্ষা বর্জনে শিক্ষার্থীরাছাত্ররাজনীতি বিতর্কে বুয়েট
ঢাকা ডেস্কঃ আবারও ছাত্ররাজনীতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)। ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সে সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কর্মসূচি পালন করছে সরকারি দল আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের বিরোধিতা করে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আন্দোলনকারীরা। গতকাল তারা রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি নিষিদ্ধ সংগঠন থেকে বুয়েট মুক্ত রাখার দাবিও করেছে।
বুয়েটে এবারের আন্দোলনের গতকাল ছিল তৃতীয় দিন। বিকালে সংবাদ সম্মেলন ছাড়া প্রকাশ্য কোনো কর্মসূচিতে ছিল না সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে পূর্বনির্ধারিত টার্মফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেয়নি কোনো শিক্ষার্থী। বিপরীতে ছাত্রলীগ গতকাল সকাল থেকে ছিল সক্রিয়। মিছিল নিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বুয়েটে প্রবেশ করে। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করে ছাত্রলীগ। সমাবেশে বুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ করাকে অসাংবিধানিক, মৌলিক অধিকার পরিপন্থি ও শিক্ষাবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দেওয়া হয়। জঙ্গি সংগঠনগুলোর অন্ধকার রাজনীতির জন্য আবরার ফাহাদের বিষয়কে সামনে এনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ছাত্রলীগ নেতারা।
সমাবেশে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম (ইমতিয়াজ রাব্বি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি রাজীবুল ইসলাম বাপ্পি, সাধারণ সম্পাদক সজল কুন্ডু, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি রিয়াজ মাহমদ, সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ শামীম। এ সময় গত ২৮ মার্চ মধ্যরাতে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের বুয়েটে প্রবেশের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্ররাজনীতি প্রতিরোধের আন্দোলন ও ঢুকতে সহযোগিতা করা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য ইমতিয়াজ রাহিম রাব্বির সিট বাতিল করার প্রতিবাদ করেন তারা। রাব্বির সিট ফিরিয়ে না দিলে বুয়েটে কমিটি দেওয়ার প্রতিও আহŸান জানান নেতা-কর্মীরা।
প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে বুয়েটের শহীদ মিনারে ফুল দেন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শতাধিক নেতা-কর্মী। ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, বুয়েট কি পাকিস্তান, ভিসা পাসপোর্ট নিয়ে যেতে হবে! বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে যে কোনো জায়গায় প্রবেশের অধিকার আমার রয়েছে। অনতিবিলম্বে বুয়েটে নিয়মতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতি চালু করতে হবে। দাবি মানা না হলে ছাত্রলীগ জানে, কীভাবে দাবি আদায় করতে হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবীর শয়ন বলেন, ইমতিয়াজের অপরাধ সে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে ইফতার বিতরণ করেছে। স্বাধীনতা দিবসে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে। নাগরিক হিসেবে রাজনীতি করার অধিকার সবার রয়েছে, কার অনুমতি নিতে হবে? টাঙ্গুয়ার হাওড়ে যারা গ্রেফতার হয়েছে, জামিনে এসে তারা নির্ধারণ করছে কে ক্লাস করতে পারবে, কে পারবে না। শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মত প্রকাশের স্বাধীনতা বুয়েটই বন্ধ রেখেছে। সেখানে নিষিদ্ধ রাজনীতির চাষাবাদ হচ্ছে। বুয়েট ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ হিযবুত তাহরীর, জেএমবি ও ছাত্র শিবিরের প্রশিক্ষিত ক্যাডাররা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দেয়ালে পোস্টার লাগাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের ই-মেইলে দাওয়াত দিচ্ছে, টাঙ্গুয়ার হাওরে শিবির দেশ বিরোধী মিটিং করেছে। তাই বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত একটি নাটক। ইমতিয়াজ হোসেন রাব্বি বলেন, বুয়েটে সুদীর্ঘ রাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার কারণে তা বন্ধ হতে পারে না। বরং যারা জাতীয় দিবস পালনে বাধা দিয়েছে, বুয়েট প্রশাসনের উচিত তাদের বিচারের আওতায় আনা। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য ধন্যবাদ জানান ইমতিয়াজ। রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার বিষয়ে বুয়েটের উপাচার্য সত্য প্রসাদ মজুমদার তাঁর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, রাজনীতি না করলে শিক্ষার্থীদের চোখ খুলবে না, দেশের প্রতি তাদের প্রেম আসবে না। ছাত্ররাজনীতি ছাত্রদের গড়ে ওঠার জন্যই দরকার। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চাইলে বুয়েটে আবার ছাত্র রাজনীতি চালু হতে পারে। তিনি বলেন, তখন যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেই পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা যদি পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে তাদের আবার উদ্যোগী হতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা রাজনীতি করতেই হবে- এমন তো কাউকে জোর করতে পারব না। তারা যদি নিজ থেকে উদ্যোগ নেয়- আমরা শিখতে চাই, করতে চাই, প্র্যাকটিস করতে চাই, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে; আমরাও করতে চাই। তাদের যদি সিদ্ধান্ত হয় তাহলে তারা চালু করতে পারে, এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। মিডিয়ায় বুয়েটের আন্দোলনরত বিপুল সংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে বুয়েটের ড. এম এ রশীদ প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষার্থীরা। লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, বুয়েটের শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধের এবং স্বাধীনতার চেতনায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয়ী।
ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি না চাওয়া মানেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মতাদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়া নয়। আমরা শুধু চাই না, ক্ষমতার লোভ এবং অপচর্চা আবারও এসে আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে না ফেলুক। হিজবুত তাহরীর ও শিবিরের প্রসঙ্গে তারা বলেন, হিজবুত তাহরীর কোনো রাজনৈতিক দল না বরং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন। আমরা হিজবুত তাহরীরের নিঃসন্দেহে সম্পূর্ণ বিপক্ষে এবং এ জাতীয় অপশক্তির উত্থান যেন বুয়েটে না হয় এ জন্য আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে যেসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শিবিরের কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগ আসছে তাদের ঘটনাটি বুয়েটের বাইরে হয়েছে এবং এর সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। তবে অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাদের সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার লিখিত আহŸান জানাই এবং এটি আমাদের পূর্বের একটি আন্দোলনের অন্যতম দাবি হিসেবে ছিল। আন্দোলন স্থগিত করার বিষয়ে তারা বলেন, নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণে কেউ কোনোরূপ সমাগম করেনি। শিক্ষার্থীদের ফোন কলে হুমকি-ধমকি প্রদান করা, সোশ্যাল মিডিয়ায় নানারকম গুজব, বুয়েট শিক্ষার্থীদের মিথ্যা ট্যাগ দেওয়া, শিক্ষার্থীদের ছবি নাম পরিচয়সহ পোস্ট করে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা গুরুতরভাবে বিঘ্নিত হয়- এমন সব অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এমতাবস্থায় বুয়েট ক্যাম্পাস এবং আশপাশের এলাকা বুয়েটের শিক্ষার্থীদের জন্য অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।
বাফেলো শহরে অর্ধশতাধিক গাড়ীর বহর চালিয়ে পালন হলো “বাংলাদেশ ডে প্যারেড”
পিবিসি নিউজ: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী বাফেলো শহরে অর্ধশতাধিক গাড়ীর বহর নিয়ে, লাউড স্পিকারে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা বাজিয়ে, রং বেরংয়ের সাজানো গাড়ীর বহর নিয়ে উদযাপন করা হলো “বাংলাদেশ ডে প্যারেড”
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাফেলো সিটি শাখা ও নিউইয়র্ক স্টেট্ বিএনপি শাখার স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অয়োজনে এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি ঘটেছে ৩০শে মার্চ রোজ শনিবার, দুপুর ১২:০০ ঘটিকা স্থানীয় সময়ে। সিটি রাস্তার মোড়ে মোড়ে বাফেলো পুলিশ প্রহরায় “বাংলাদেশ ডে প্যারেড” হয়ে উঠেছিল অত্যন্ত উপভোগ্য। রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার উৎসুক জনতা হাত নেড়ে গাড়ী বহর ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকারীদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন।
কয়েক সপ্তাহের গোপনীয় প্রস্তুতির মাধ্যমে বাফেলো সিটি মেয়র অফিস থেকে পারমিশন সংগ্রহ করে অত্যন্ত সুশৃঙ্খভাবে বাফেলো শহরে ঐতিহাসিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই অনুষ্ঠান। সিটি হলে কর্মরত বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত জাভেদ মোস্তফার সহযোগীতায় পারমিশন প্রাপ্তিটা ত্বরান্বিত হওয়ায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে। এছাড়া বাফেলো পুলিশ ও মিডিয়াকর্মীদের জানানো হয়েছে অফুরন্ত ভালোবাসা।
গাড়ীর বহর বাফেলো মেয়র অফিস মেইন গেইট নায়াগারা স্কয়ারে এসে থামলে সেখানে একটি পথসভার আয়োজন করা হয়। সভার প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট্ বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক, জিয়া লাইব্রেরি ডটকমের প্রেসিডেন্ট, পিবিসি টুয়েন্টিফোর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান লিটু।
সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক নাজমুল আলম। উপস্থাপনায় ছিলেন বাফেলো বিএনপি নেতা ও অবিভক্ত ঢাকা মহানগরীর তাঁতীদলের সাবেক সদস্য সচিব আব্দুর রহিম এবং নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপি উত্তর শাখার সদস্য আবু জাফর ফরাজী। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন
নিউইয়র্ক মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ইমতিয়াজ আহমেদ বেলাল, নিউইয়র্ক মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্য তারিকুল ইসলাম প্রিন্স মৃধা।
আয়োজকদের সার্বিক সহযোগিতা ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে যারা অনুষ্ঠানটি সাফল্যমন্ডিত করেছেন তারা হলেন: নিউইয়র্ক মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য আমিনুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা ও বরিশাল ডিভিশনাল সোসাইটি অফ বাফেলো ইনকের সভাপতি সৈয়দ ঝিলু, বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা ও বরিশাল ডিভিশনাল সোসাইটি অফ বাফেলো ইনকের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মনিরুজ্জামান মিয়া, গাউসুল আনোয়ার রাহিন, তোফাজ্জেল হোসেন, দাউদকান্দি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক সভাপতি বাবুল তালুকদার, সাবেক সিলেট জেলা ছাত্রদল নেতা ফকর উদ্দিন, জায়েদ বিশ্বাস, মনিরুল আহসান, ফেন্সুগঞ্জ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছায়াদুর রহমান, মিলাদুল ইসলাম, কাজী কবির, বশির উদ্দিন, মাকসুদুর রহমান টিটু, সুমন আহমেদ, মোহাম্মদ শহীদ খান, মোহাম্মদ পুনম প্রমুখ।
শুরুতে বেইলি এভিনিউ এবং ব্রডওয়েতে সকল গাড়ি গুলিকে লাইন আপ করিয়ে রাখা হয়, সেখান থেকে পুলিশের প্রহরায় ব্রডওয়ে হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে নিয়ে যাওয়া হয় বাফেলো মেয়র অফিস সিটি হলের সামনে, সেখানে নায়াগারা স্কয়ারের কয়েকবার ঘূর্ণায়নের পরে রাস্তার পাশে সকলের গাড়ি দাঁড় করিয়ে পথসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে ইতিহাসের এই প্রথম এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হলো। যারা আজকের বাংলাদেশ ডে উদযাপনের সাক্ষী হয়েছেন তারাই যেন আমেরিকার এক নতুন ইতিহাস হয়ে রইলেন।
নিউইয়র্কে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএ ব্রঙ্কস শাখার ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
নিউইয়র্কে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএ ব্রঙ্কস শাখার উদ্যোগে গত ২৭ মার্চ ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামী সেন্টারে ধর্মীয় আমেজের এ ইফতার মাহফিলে এনওয়াইপিডির ৫২ পুলিশ প্রিসেনক্টের পুলিশ অফিসার, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএ ব্রঙ্কস শাখার সদস্য সহ বিপুল সংখ্যক মুসল্লী যোগ দেন। খবর ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম’র।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএ’র ব্রঙ্কস শাখার সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং ব্রঙ্কস শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহ জাকারিয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএ’র সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা সৈয়দ জুবায়ের আহমদ, ক্যাশিয়ার আরিফ চৌধুরী, সহ সভাপতি মাওলানা শাহান শাহ এহিয়া, সৈয়দ গসুল ইসলাম, মো. মাহাবুব হোসেন, আব্দুল হক হেলাল, আলহাজ্ব আব্দুল মোছাব্বির, এনওয়াইপিডির পুলিশ অফিসার মাহবুব জুয়েল, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএ’র ব্রঙ্কস শাখার সহ সভাপতি নাজমুল আলম খান, সৈয়দ ইসহাক আলী, বদরুল হক, তানিম চৌধুরী প্রমুখ।

পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামিক সেন্টার অ্যান্ড জামে মসজিদের ইমাম হাফিজ মোসাদ্দিক আহমেদ ও হাফিজ কামরান শাহ। ইফতারের পূর্বে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা সৈয়দ জুবায়ের আহমদ।
বক্তারা পবিত্র কোরআন-হাদীসের আলোকে রমজান মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, এ মাস সিয়াম সাধনা ও তাকওয়ার মাস, কল্যাণ ও বরকতের মাস, রহমত, মাগফিরাত এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি লাভের মাস। রোজার সওয়াবের পুরস্কার স্বয়ং আল্লাহ পাক প্রদান করবেন। এ মাসে যারা সঠিকভাবে সিয়াম পালন বা রোজা রাখবেন তাদের মর্যাদাও হবে অনেক।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএ’র ব্রঙ্কস শাখার সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক শাহ জাকারিয়া ইফতার মাহফিলে অংম গ্রহণ করার জন্য সকল অতিথি ও মুসল্লীবৃন্দকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা কবি মুক্তাদির চৌধুরী তরুণের ইন্তেকাল
নিউইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা কবি ও সংগঠক মুক্তাদির চৌধুরী তরুণ আর নেই। তিনি ২৬ মার্চ লসএঞ্জেলেসের সিডার সাইনাই হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি একমাত্র পুত্র এবং অসংখ্য বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানি ডিপার্টমেন্টের মেধাবি ছাত্র তরুণ যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউটের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ছিলেন। তিনি যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রপ সায়েন্সে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণ করেছিলেন।
তরুণের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত খ্যাতনামা রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী কাদেরি কিবরিয়া জানান, ২৮ মার্চ লসএঞ্জেলেসে মসজিদে জানাজা শেষে সেখানকার মুসলিম গোরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
বিক্রমপুরের সন্তান মুক্তাদির চৌধুরী তরুণ ৩২ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে বসতি গড়েন। তিনি লসএঞ্জেলেসস্থ বাংলাদেশ রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা ছিলেন।
কোরআন পড়ে মুগ্ধ হলিউড সুপারস্টার উইল স্মিথ
পবিত্র রমজানে কোরআনে কারিম পাঠ করে মুগ্ধ হয়েছেন হলিউড সুপারস্টার ও মার্কিন তারকা অভিনেতা উইল স্মিথ। গত বছরের রমজানে তিনি কোরআন পড়ে মুগ্ধ হন বলে জানিয়েছে আলজাজিরা ও ডেইলি সাবাহ।
মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) ডেইলি সাবাহর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মিসরীয় সাংবাদিক আমর আদিবকে বিগ টাইম পডকাস্টে তিনি জানান, আমি সরলতা ভালোবাসি। আল কোরআন স্পষ্ট। এটি পুরো স্বচ্ছ। এ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ নেই।
তিনি বলেন, এটির সারমর্ম স্পষ্ট এবং খুবই সুন্দর।
তিনি জানান, তিনি ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ধর্মীয় গ্রন্থ পড়েছেন। এরপর তিনি কোরআন, তাওরাত ও বাইবেলের মধ্যকার মিল দেখে বেশ অবাক হয়েছেন।
স্মিথ বলেন, আমি খুব অবাক হলাম যখন দেখলাম এগুলোর মধ্যে কত মিল। আমি কখনো ইব্রাহিমকে পিতা হিসেবে বুঝতে পারিনি এবং এরপর ঈসা ও ঈসমাইলের সাথে তার বিভক্তি। এই অনুধাবনের সমাপ্তিটা খুব সুন্দর ছিল।
হলিউডের এ তারকা বর্তমানে সৌদি আরব সফরে রয়েছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশুগুলোর প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন। তিনি রসিকতার ছলে বলেন, আমার মনে হয় আমি পূর্বের জীবনে দৈত্য ছিলাম। মনে হচ্ছে- আমি আমার বাড়িতে রয়েছি। বিষয়টি আমি পছন্দ করছি।
স্মিথ দুই বছর আগে অস্কারের মঞ্চে ক্রিস রককে চড় মারার জন্য আলোচনায় এসেছিলেন। বিখ্যাত আলাদিন ছবিতে অভিনয় করেছিলেন এ মার্কিন তারকা।
সূত্র : আলজাজিরা ও ডেইলি সাবাহ
এবার উদ্বেগ জাতিসঙ্ঘের, কেজরির গ্রেফতারি নিয়ে প্রশ্নের মুখে ভারত
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার করা এবং কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ। ভোটমুখী ভারতে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই দুই পদক্ষেপ নিয়ে এবার পরোক্ষে উদ্বেগপ্রকাশ করল খোদ জাতিসঙ্ঘ। তাদের বক্তব্য, ‘আমরা আশা রাখছি ভারতে সবার অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।’ ফলে প্রশ্নের মুখে পড়ে গেছে ভারত সরকার।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর গ্রেফতারি নিয়ে আগেই মুখ খুলেছে জার্মানি এবং আমেরিকা। জার্মানির বক্তব্য ছিল, ‘যেকোনো অভিযুক্তের মতোই কেজরিওয়ালও ন্যায্য ও পক্ষপাতহীন বিচারের অধিকারী। কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই তিনি যেন সব ধরনের আইনি রাস্তায় যেতে পারেন। সেটাই আমাদের প্রত্যশা।’
একই সুরে ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও। মার্কিন পররাষ্ট্র দতফতর আবার বলে দেয়, কেজরিওয়ালার গ্রেফতারির বিষয়টি তাদের নজরাধীন রয়েছে। আপ সুপ্রিমোর বিচার যেন ন্যায়সঙ্গত, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী হয়।
এবার খোদ জাতিসঙ্ঘ খানিকটা জার্মানি এবং আমেরিকার সুরে দিল্লির উপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিলো। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফান ডুজারিচ বললেন, ‘আমরা ভীষণভাবে আশাবাদী যে ভারত বা যে যে দেশে নির্বাচন হচ্ছে, সেখানেই সবার অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। এর মধ্যে যেমন রাজনৈতিক অধিকারের বিষয়টি রয়েছে, তেমনই রয়েছে সামাজিক অধিকার। আমরা চাই, সবাই যেন নির্ভয়ে সুষ্ঠুভাবে ভয়মুক্ত পরিবেশে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।’
উল্লেখ্য, এর আগে জার্মানি এবং যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশকেই জবাব দিয়েছে ভারত। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপই বরদাস্ত করা হবে না, সাফ জানিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। এবার জাতিসঙ্ঘের এই উদ্বেগ নিয়ে দিল্লি কী পদক্ষেপ করে, সেটাই দেখার।
সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন
শ্রীলঙ্কায় ইসলাম অবমাননা করায় বৌদ্ধ ভিক্ষুর জেল
শ্রীলঙ্কায় সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর দায়ে প্রভাবশালী বৌদ্ধ ভিক্ষু গালাগোদাত্তে জ্ঞানসারাকে চার বছরের কঠোর শ্রমের সাজা দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
গত বৃহস্পতিবার কলম্বো হাইকোর্ট বলেছে, গালাগোদাত্তে জ্ঞানসারা ২০১৬ সালের একটি সংবাদ সম্মেলনে ইসলাম সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে আঘাত করেছেন।
আদালত বলেছে, বৌদ্ধ ভিক্ষুকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। সাজা শুরু করার জন্য তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ শ্রীলঙ্কায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে জ্ঞানসারার বিরুদ্ধে।
দেশটির মোট জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ। সেখানে মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ মুসলিম।
মায়ানমারের চরমপন্থী বৌদ্ধ ভিক্ষু উইরাথুর সাথে গালাগোদাত্তে জ্ঞানসারার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। উইরাথুর বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি বিভিন্ন সময়ে দেয়া বক্তব্যে মায়ানমারে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়নকে সমর্থন করেছেন।
বাইডেনের সাথে এরদোগানের সাক্ষাত আগামী ৯ মে
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোয়ান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথে সাক্ষাত করবেন।
আগামী ৯ মে হোয়াইট হাউসে উভয়ের এই সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হবে। হোয়াইট হাউসে এটি হবে তাদের প্রথম সাক্ষাত।
তুরস্কের এক কর্মকর্তা শুক্রবার এ কথা জানান।
সুইডেনের স্থগিত ন্যাটো সদস্যপদ তুরস্ক অনুমোদন দেয়ার পরপরই জানুয়ারিতে বাইডেন প্রশাসন আঙ্কারার জন্যে ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মঞ্জুর করে। এফ-১৬ বিমানের জন্যে যুক্তরাষ্ট্র এই অর্থ অনুমোদন করে।
হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার পর মুসলিম বিশ্বে তুরস্ক গাজায় ইসরাইলি অভিযানের সবচেয়ে কট্টর সমালোচকে পরিণত হয়।
এরদোয়ান ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে এডলফ হিটলারের সাথে তুলনা করেন। তিনি একইসঙ্গে ফিলিস্তিনে ইসরাইলের গণহত্যায় মদদ দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেন। সূত্র : বাসস


