Home Blog Page 580

সূর্যগ্রহণ দেখতে কানাডার নায়াগ্রা জলপ্রপাতে জড়ো হবেন ১০ লাখ মানুষ

১৯৭৯ সালের পর প্রথমবারের মতো বিরল সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে যাচ্ছে কানাডা। পূর্ণাঙ্গ এই সূর্যগ্রহণ দেখতে কানাডার নায়াগ্রা জলপ্রপাতে সমাগম হতে পারে অন্তত ১০ লাখ মানুষের।

জানা গেছে, ৮ এপ্রিলের বিরল পূর্ণাঙ্গ সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের ধারণা, ঐতিহ্যবাহী ট্রেন ভ্রমণে জনপ্রতি খরচ পড়বে ৪ হাজার ডলার। প্রতিরাতের জন্য হোটেল রুম ভাড়া বাবদ গুণতে হবে ১ হাজার ৬০০ ডলার।

কানাডা-আমেরিকা সীমান্তে অবস্থিত জলপ্রপাতটি সূর্যগ্রহণের পথে পড়ায় অনেকেই আবার আগে থেকে হোটেল বুকিং করে রেখেছেন। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে রুমগুলোর ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, সূর্যগ্রহণের সময় ব্যস্ত হয়ে উঠবে জলপ্রপাতের দুই পাশে থাকা অন্টারিও ও নিউইয়র্ক। অনেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন দূর থেকে সূর্যগ্রহণ দেখতে আসার। কারণ বিরল এই সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদের ছায়া সূর্যকে প্রায় তিন থেকে চার মিনিটের জন্য ঢেকে ফেলবে। এই ধরনের ঘটনা আবার দেখা যেতে পারে ২০৪৪ সালে।

আগামী মাসে পূর্ণ সূর্যগ্রহণে অন্ধকার হয়ে যাবে আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর কিছু অংশ।
আমেরিকার টেক্সাস, ওকলাহোমা, আরকানসাস, মিসৌরি, ইলিনয়, কেন্টাকি, ওহাইয়ো, পেনসিলভেনিয়া, নিউইয়র্ক, ভারমন্ট, নিউ হ্যাম্পশায়ার এবং মেইনেও দেখা যাবে এই সূর্যগ্রহণ। এছাড়া টেনেসি এবং মিশিগানের কিছু অংশেও দেখা যাবে।

আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আলোচনায় বসতে পারে : সিএনএন

গাজা উপত্যকার দক্ষিণে রাফাহ নগরীতে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সম্ভাব্য অভিযানের বিষয়ে আগামী ১ এপ্রিল ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আলোচনায় বসতে পারে।

সিএনএন তাদের সূত্রের বরাত দিয়ে এই কথা জানিয়েছে।

টিভি চ্যানেলের খবরে বলা হয়, আগামী ১ এপ্রিল সোমবার এই আলোচনার জন্য ইসরাইলি প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত দিনক্ষণ এখনো নির্ধারিত হয়নি।

এর আগে রাফাহ নিয়ে আলোচনার কথা থাকলেও তা বাতিল হয়ে যায়।

টিভি চ্যানেলের সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনার কথা সামরিক মন্ত্রিসভার সদস্যদের জানান।

উপজেলা নির্বাচনে এমপি’রা হস্তক্ষেপ করতে পারবে না : ওবায়দুল কাদের

উপজেলা নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা প্রভাব বিস্তার বা হস্তক্ষেপ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘আমি সংসদ সদস্য, আমি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করব, আমার একজন থাকবে তাকে জেতানোর জন্য গোটা প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করব, এটা হতে পারবে না। যে উদ্দেশ্যে এই নির্বাচন উন্মুক্ত করা হয়েছে সেই উদ্দেশ্যটা কোনো অবস্থাতেই ব্যাহত করা যাবে না।’

সেতুমন্ত্রী আজ আওয়ামী লীগের রংপুর বিভাগের নেতা-কর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এই কথা জানান। বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সামনে উপজেলা নির্বাচন। উপজেলা নির্বাচন এবার নতুনভাবে, নতুন পরিবেশে আপনাদের অনুরোধে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা দেখতে চাই এর মধ্য দিয়ে নির্বাচন কতটা প্রতিযোগিতামূলক, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়। নির্বাচনে যারা প্রার্থী হতে চায় হবে। আমরা একটা প্রভাবমুক্ত ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচন করতে চাই।’

তিনি বলেন, আমরা এবার প্রথম থেকেই আটঘাট বেঁধে নেমেছি। কারণ, প্রথম থেকেই সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার দিকে আমরা নজর দিয়েছি। যার যেমন খুশি যখন তখন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেবেন সেটার দায়িত্ব দল গ্রহণ করবে না। একজনের একটা বক্তব্য গোটা দলের শৃঙ্খলার ওপর আঘাত করে, এমন কিছু হলে অবশ্যই আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের যেখানে সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় ওয়াল আছে তা ভেঙে দিতে হবে।

কাদের বলেন, যে উদ্দেশ্যে এই নির্বাচন উন্মুক্ত করা হয়েছে, সে উদ্দেশ্য ব্যাহত করা যাবে না। প্রতিযোগিতা যারা করতে চায় করুক। ইলেকশন সম্পূর্ণভাবে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার করতে চাই। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলে। নির্বাচন আগের আশঙ্কা, আতঙ্ক ছিল, তা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কেটে গেছে। সারা বিশ্ব নির্বাচন প্রত্যক্ষ করেছে। ৮০টি দেশ শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। তার সাথে ৩২টি সংস্থা অভিনন্দন জানিয়েছে। বাংলাদেশের সাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জনগণের সাথে সেতুবন্ধন তৈরি করতে হবে। জেলার সাথে উপজেলা, উপজেলার সাথে ইউনিয়নের সাংগঠনিক সেতু তৈরি করতে হবে। আমাদের যেখানে সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় ওয়াল আছে তা ভেঙে দিতে হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শাজাহান খানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আসাদুজ্জামান নূর এমপি।

রংপুর বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী সভা সঞ্চালনা করেন। সূত্র : বাসস

‘সরকার ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ দিচ্ছে না’ অভিযোগ ড. মঈন খানের

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, সরকার ভিন্ন মত প্রকাশের সুযোগ দিচ্ছে না। আজকে কেউ আওয়ামী লীগ করবে, কেউ বিএনপি করবে, কেউ অন্য দল করবে। এভাবেই তো সারা দুনিয়া চলে আসছে। আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছিল গণতন্ত্রের জন্য। কিন্তু সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে দূরে সরে দেশে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছে- এটা সারা দুনিয়া বলছে। তাহলে আমরা এদেশে কিভাবে বাস করব।

শনিবার রাজধানীর মগবাজারে নির্যাতিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের বাসায় পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেয়ার সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মঈন খান বলেন, আমরা আশা করব, সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করবে। মানুষকে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ দিবে। ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিবে। সরকার মুখে যা বলে বাস্তবে তা প্রমাণ করবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের বিগত তিনটি নির্বাচনের ইতিহাস দেখুন। দেশের ১২ কোটি ভোটার এই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় আছে। সরকারকে মানুষের ভোটের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা মুক্ত পরিবেশে বসবাস করতে চাই। কথা বলার স্বাধীনতা চাই।

ক্ষমতার জন্য বিএনপি বিদেশীদের ধরনা দিচ্ছে- আওয়ামী লীগের এমন অভিযোগের বিষয়ে মঈন খান বলেন, সরকারের অভিযোগ সত্যি নয়। বিএনপি যদি বিদেশীদের ওপর নির্ভর করতো তাহলে সারাবছর এসি রুমে বসে সিনেমা দেখতো। কিন্তু বিএনপি রাজপথে আন্দোলন করছে, সভা-সমাবেশ করছে। সারাদেশে পদযাত্রা করেছে। সরকারের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

রবিউল ইসলাম নয়নের বাবা আক্কাস শেখ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আজকে ১৫ বছর ধরে আমার ছেলে বাসায় থাকতে পারে না। ছেলের চেহারা দেখতে পারি না। কোথায় আছে জানি না। রাজনীতি করার কারণে দুইবার আমার ছেলেকে গুলি করা হয়েছে। একবার গুলি করার পর মৃত ভেবে নয়নকে মর্গে নিয়ে যায় পুলিশ। নয়নের বিরুদ্ধে আড়াই শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এক শ’র বেশি দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। হাত পায়ের নখ তুলে ফেলা হয়েছে। বিএনপির রাজনীতি করাই আমার ছেলের অপরাধ। এসময় নয়নের শাশুড়ি শিরিনা পারভীন ও স্ত্রী শাম্মাী আক্তার মুগ্ধ উপস্থিত ছিলেন।

আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করা সম্ভব নয় : বুয়েট ভিসি

ছাত্ররাজনীতি বন্ধে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভিসি অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেছেন, ‘তাদের সাথে বুয়েট প্রশাসন ঐক্যমত পোষণ করে। কিন্তু কারো পক্ষেই আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করা সম্ভব নয়।’

শনিবার (৩০ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ভিসি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৮ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এরপর একাডেমিক কাউন্সিল বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবে। ভিসি শুধু হল থেকে বহিষ্কার করতে পারে। শৃঙ্খলা ভঙের ব্যবস্থা নেবে একাডেমিক কাউন্সিল। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বুয়েট প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজ অনেক বিভাগের পরীক্ষা ছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সে পরীক্ষায় অংশ না নেয়ায় সেখানে তাদের অনুপস্থিত দেখানো হবে। নিয়ম মতো রিটেক হয়ে যাবে। তবে পুনরায় পরীক্ষার জন্য আবেদন করলে একাডেমিক কাউন্সিল বিবেচনা করতে পারে।’

‘বহিরাগতরা বুয়েটে প্রবেশের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিদফতরের পরিচালকের (ডিএসডব্লিউ) অনুমতি নেয়নি। কাজেই শিক্ষার্থীদের দাবি করা ডিএসডব্লিউ’র পদত্যাগের দাবি অবান্তর,’ বলেন তিনি।

এর আগে দ্বিতীয় দিনের মতো সকাল থেকেই ছয় শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে বুয়েট শিক্ষার্থীরা। পরে বেলা সাড়ে ১২টায় দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন সমাপ্ত করেন তারা। তবে দাবি মেনে না নেয়া হলে আগামীকাল সকালে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করা হবে বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ দিবাগত রাত ১টার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি, দফতর সম্পাদকসহ অনেকেই বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করানোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বুয়েট শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ রাব্বি। ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পর বুয়েটে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে নতুন করে রাজনীতি শুরুর পাঁয়তারা হিসেবে দেখছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। যার পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে পুনরায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হওয়া ও নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তারা আন্দোলন শুরু করেন।

পরে আন্দোলনের মুখে গতকাল রাতে ইমতিয়াজ রাব্বিকে হল থেকে বহিষ্কার করে বুয়েট প্রশাসন। তবে সকল দাবি মেনে না নেয়ায় আজ দ্বিতীয় দিনের মতো ফের আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

‘শিশুদের জন্য গাজার কোনো স্থান নিরাপদ নয়’

জাতিসঙ্ঘে শিশু তহবিল ইউনিসেফ জানিয়েছে, শিশুদের বসবাসের জন্য গাজার কোনো স্থান এখন আর নিরাপদ নয়।

শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউনিসেফ গাজায় অবিলম্বে মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বলেছে যে- এর মাধ্যমে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ছিটমহলে ‘জীবন বাঁচানোর, দুর্ভোগের অবসান এবং জীবন রক্ষাকারী সহায়তার জরুরি বিতরণ সক্ষম করার সর্বোত্তম সুযোগ প্রদান করবে’।

এর আগে গতকাল জাতিসঙ্ঘের শিশু তহবিলের মুখপাত্র জেমস এল্ডার বলেন যে- গাজায় তিনি যার মুখোমুখি হন তার কাছ থেকে একটিই বার্তা পান, তা হলো- ‘আমাদের খাবার চাই’।

ডেমোক্রেসি নাও-এর সাথে এক সাক্ষাত্কারে দক্ষিণ গাজার রাফাহ থেকে এল্ডার বলেন, ‘তারা আমার কাছে এই একটি কথাই বলতে চায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘তারা এটা বলছে কারণ তাদের অনুমান বিশ্ব জানে না, বিশ্ব জানলে কিভাবে এটি ঘটতে দেয়া হচ্ছে?’

এদিকে বেলজিয়ামের উন্নয়ন সহযোগিতা ও নগর নীতি বিষয়ক মন্ত্রী ক্যারোলিন জেনেজ বলেছেন, ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বজায় রাখতে হবে এবং গাজার ‘বেসামরিক ও শিশুদের ক্ষুধার্ত হওয়া বন্ধ করতে হবে’।

একই কথা বলেছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। আইসিজে গাজা ভূখণ্ডে ইসরাইলকে খাদ্য, পানি, জ্বালানি চিকিৎসা সরবরাহসহ মৌলিক পরিষেবা এবং মানবিক সহায়তার ‘অবাধ প্রবেশ’ নিশ্চিত করতে ‘বিলম্ব না করার’ জন্য বলেছে।

৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজায় ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৩২ হাজার ৭০৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ৭৫ হাজার ৯২ জন আহত হয়েছেন।
সূত্র : আল-জাজিরা

ব্যাটিংয়ে দাপট দেখিয়ে দিন শেষ করল শ্রীলঙ্কা

লক্ষ্য সিরিজ বাঁচানো। কিন্তু দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে শুরুতেই টস ভাগ্য বাংলাদেশের বিপক্ষে যায়। চট্টগ্রামে টসে হেরে ফিল্ডিং করতে নেমে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের শুধু ব্যাটিংটাই দেখে গিয়েছে স্বাগতিকরা। ক্যাচ মিস, অযথা রিভিউ নষ্ট করা যেন প্রথম দিনের নিয়মিত কাজ হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের। লঙ্কানদের দাপটের দিনে হাসান মাহমুদ-সাকিবদের প্রাপ্তি শেষ সেশনে সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে থাকা দিমুথ করুনারত্নে ও কুশল মেন্ডিসের উইকেট। বাংলাদেশী বোলারদের খাটুনির দিনে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩১৪ রান সংগ্রহ করে দাপট দেখিয়ে প্রথম দিন শেষ করেছে শ্রীলঙ্কা।

প্রথম টেস্ট হারের পর চট্টগ্রামে সাকিব আল হাসান একাদশে ফিরেছেন। টাইগার অলরাউন্ডার ফেরার দিনে টেস্ট অভিষেক হয়ে পেসার হাসান মাহমুদের। দিনের শুরুতে পেসাররা পিচ থেকে সহায়তা পেলেও লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের উইকেট নিতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশের বোলাররা।

প্রথম সেশনে বোলাররা উইকেট না পাওয়ার পেছনের কারিগর বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। স্লিপে মাহমুদুল হাসান জয় ও বাউন্ডারিতে সাকিবের হাত মিসে প্রথম সেশনে বিনা উইকেটে ৮৮ রান তোলে লঙ্কানরা। দ্বিতীয় সেশনেও সফরকারী ব্যাটসম্যানরা ছিলেন ছন্দে। তবে ওপেনার নিশান মাদুশকা ব্যক্তিগত ফিফটির পর বাংলাদেশকে উইকেট উপহার দিয়েছেন রান আউট হয়ে। ২৯ তম ওভারে বাংলাদেশ প্রথম উইকেটের পতন ঘটায়। তবে এরপর আবারো সেই একই চিত্র লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের দাপট, বাংলাদেশের বোলারদের খাটুনি।

উইকেটে তেমন কোন সুবিধা পাচ্ছিলেন না বোলাররা। দ্বিতীয় সেশন শেষে সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে ছিলে ওপেনার করুনারত্নে। তবে তৃতীয় সেশনের শুরুতেই হাসান মাহমুদের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে ইন সাইড ইজ হয়ে বোল্ড হন লঙ্কান ওপেনার। ৮৬ রানে ফেরার সময় শুধু আক্ষেপই সঙ্গী করতে পেরেছেন করুনারত্নে। তৃতীয় উইকেটে ক্রিজে নামেন আঞ্জেলা ম্যাথিউস।

অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারকে সাথে নিয়ে নিজের সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যেতে থাকেন কুশল মেন্ডিস। করুনারত্নে ব্যর্থ হলেও মেন্ডিস সহজেই যে সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। মেন্ডিস যখন সেঞ্চুরির পথে ঠিক এর আগ মুহূর্তে ৬৭তম ওভারে আবারো স্লিপে দিনে তৃতীয়বারের মতো ক্যাচ ফেলে দেই বাংলাদেশ। মিরাজের বলে শাহাদাত হোসেন দিপু ম্যাথিউসের সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করেন।

ম্যাথিউস জীবন পেলেও এক বছর পর টেস্ট ফেরা সাকিবের ঘূর্ণি জাদুতে ৯৩ রান করেই মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন মেন্ডিস। দলীয় ২৬৩ রানে ৩ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে দীনেশ চান্দিমালকে নিয়ে ইনিংসের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করতেন ম্যাথিউস। তবে ৮০ ওভার পর নতুন বল হাতে নিয়ে ম্যাথিউসকে ফেরান হাসান মাহমুদ। ৭১ বলে ২৩ রান করে স্লিপে মিরাজের হাতে তালুবন্দি হন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

দিনের শেষ দিকে অধিনায়ক ধনঞ্জয়া ডি সিলভা আর উইকেট পরতে দেননি। চান্দিমালকে সাথে নিয়ে দলীয় ৩০০ রান পার করেন। প্রথম দিনের খেলা শেষে ৯০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩১৪ রান সংগ্রহ করেছে শ্রীলঙ্কা।

দিন শেষে চান্দিমাল ও ডি সিলভা ৩৪ ও ১৫ রান করে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের হয়ে ২টি উইকেট নিয়েছেন হাসান মাহমুদ।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘গণহত্যা দিবস’ পালিত: রাষ্ট্রদূত ইমরান

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি সামরিক জান্তা কর্তৃক সংঘটিত বর্বরোচিত গণহত্যাকে স্মরণ করে আজ (সোমবার) ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় “গণহত্যা দিবস” পালিত হয়েছে ।
১৯৭১ সালের ঐদিন কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত সকল শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে দূতাবাস বিস্তারিত কর্মসূচির আয়োজন করে। দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।
পরে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনান ডিফেন্স অ্যাটাচে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ শাহেদুল ইসলাম ও মিনিস্টার (পলিটিক্যাল) মোঃ রাশেদুজ্জামান।
এরপর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর গণহত্যা ও নৃশংসতার ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন এবং দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান ‘একাত্তরের গণহত্যা’ শীর্ষক সেমিনারের ওপর আলোচনায় অংশ নেন এবং কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল) আরিফা রহমান রুমা এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত ইমরান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহিদের মহান আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নৃশংসতাকে মানব ইতিহাসের অন্যতম জঘন্যতম গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, পাকিস্তানের সামরিক জান্তা মুক্তিপাগল বাঙালিদের স্বাধীনতা আন্দোলনকে দমন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণকে প্রতিহত করার নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে বর্বরোচিত গণহত্যা এবং ধ্বংসলীলা চালায়।
রাষ্ট্রদূত ইমরান ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে ঐদিনে এবং পরবর্তী নয় মাসে নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নৃশংসতার বিষয়টি বিশ্ব স¤প্রদায়ের সামনে তুলে ধরার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সকলের প্রতি আহবান জানান ।
তিনি বলেন, পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বর্বরোচিত গণহত্যার পর ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুর অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মানের পাশাপাশি ২০৪১ সালের মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রায় যোগ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রদূত সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে আরিফা রহমান রুমা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ও পরবর্তী নয় মাসে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি সামরিক জান্তা কর্তৃক সংঘটিত বর্বরোচিত গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি পাক হানাদার বাহিনীর এই নিষ্ঠুর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এক বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচী শেষ হয়। কর্মসূচী পরিচালনা করেন ফার্স্ট সেক্রেটারি (পাসপোর্ট ও ভিসা উইং) মুহাম্মদ আব্দুল হাই মিলটন।

এক ইসরাইলির পুরস্কার গ্রহণ করে ড. ইউনূস গণহত্যার পক্ষ নিয়েছেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, শান্তিতে নোবেলজয়ী হয়েও ড. ইউনূস ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞে নিশ্চুপ রয়েছেন। আর একজন ইসরায়েলির দেওয়া পুরস্কার নিয়েছেন। এটা করে তিনি প্রকারান্তরে গণহত্যায় সমর্থন দিয়েছেন। ইউনূস সেন্টার এটিকে ইউনেস্কোর পুরস্কার বলে মিথ্যাচার করছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আমি ড. ইউনূসের প্রতি যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, ইউনূস সেন্টারের মিথ্যাচারে আমি বিস্ময়ে হতবাক। স¤প্রতি আজারবাইজানের বাকুতে একটি সম্মেলনে মিজ হেদভা সের নামে একজন ভাস্কর, যিনি ইসরায়েলি নাগরিক, তিনি ড. ইউনূসকে একটি পুরস্কার দিয়েছেন। এই পুরস্কার ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে তো নয়ই, একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। ইউনূস সেন্টার যেটিকে ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে মিথ্যা ও অপপ্রচার করেছে। তবে এটি প্রথম নয়, এর আগেও এ ধরনের মিথ্যাচার ইউনূস সেন্টারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু গাজায় আজ নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, নারী ও শিশুদের হত্যা করা হয়েছে। এটি নিয়ে তিনি একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি বা প্রতিবাদ করেননি। বরং এই সময়ে তিনি একজন ইসরায়েলির কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন।
সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদ : এ সময় ২৫ মার্চ মধ্যরাতে লালমনিরহাট ও ২৬ মার্চ ভোরে নওগাঁ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় বিজিবির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো এবং সীমান্তে ফ্ল্যাগ মিটিংও হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন অনেকদিন ধরেই আমরা ভারতের সঙ্গে এ বিষয়টি আলোচনা করে আসছি। স¤প্রতি ভারত সফরের সময়ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। সেই প্রেক্ষিতে সীমান্তে এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নন-লেথাল বা প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। রাবার বুলেটে অনেকে আহত হন, কিন্তু প্রাণহানি কমে এসেছে। তবে আমাদের লক্ষ্য প্রাণহানিকে শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা।
নাবিক ও জাহাজ উদ্ধারে নানামুখী তৎপরতা ও যোগাযোগ অব্যাহত : সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সোমালি জলদস্যুদের কবল থেকে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর নাবিকদের নিরাপদে উদ্ধার ও জাহজকে মুক্ত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, জাহাজ সম্পর্কে শুধু এটুকু বলতে চাই, নাবিকদের মুক্ত করার জন্য আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগে আছি। নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছি এবং আমাদের উদ্দেশ্য হলো নাবিকদের নিরাপদে উদ্ধার করা। জাহাজ উদ্ধার করা। আমরা অনেক দূর এগিয়েছি।

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তৎপরতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

এলডিসি থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে এ প্রক্রিয়ায় কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে সেগুলো নিয়েও তৎপরতার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া যেসব প্রকল্প শেষ পর্যায়ে আছে, দ্রæত অর্থ ছাড় করে সেগুলো সমাপ্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
গতকাল শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আবদুস সালাম ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. শহীদুজ্জামান সরকার সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান। এ সময় পরিকল্পনা বিভাগের সচিব সত্যজিৎ কর্মকার ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একনেক সভায় ১১টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৮ হাজার ৪২৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৭ হাজার ৯৩৯ কোটি ৮৭ লাখ এবং প্রকল্প ঋণ থেকে পাওয়া যাবে ৪৮৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।
প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর কী সুবিধা মিলবে আর কী চ্যালেঞ্জ আসবে সেগুলো নিয়ে এখন থেকেই তৎপর থাকতে হবে। এ ছাড়া যেসব প্রকল্প শেষ পর্যায়ে আছে, দ্রæত অর্থ ছাড় করে সেগুলো সমাপ্ত করার নির্দেশনা দেন তিনি।
একনেক সভায় মিসরে চ্যান্সারি হাউস নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রবাসীদের সেবাদানের জন্য বুথ ও অপেক্ষার জায়গা রাখার জন্য বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের কাজ দ্রæত শেষ করার পাশাপাশি সেখানে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁত বোর্ডের নতুন কমপ্লেক্সে নারীদের প্রশিক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে। সেই সঙ্গে কুড়িগ্রামের সব উপজেলার নদী ভাঙন রোধ, রাস্তাঘাট নির্মাণে ভাঙনের ঝুঁকি মাথায় রেখে কাজ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
একনেক সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে : বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ এবং ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহ (প্রথম সংশোধিত), কাশিনাথপুর-দাশুরিয়া-নাটোর-রাজশাহী-নবাবগঞ্জ-কানসাট-সোনামসজিদ-বালিয়াদিঘী বর্ডার (এন-০৬) জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (নবাবগঞ্জ অংশ), বিদ্যমান সরকারি মৎস্য খামারগুলোর সক্ষমতা ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় অবকাঠামো উন্নয়ন (প্রথম পর্যায়), ইমপ্রুভমেন্ট অব ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার অব বাংলাদেশ ফিশারিজ ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন ইন কক্সবাজার ডিস্ট্রিক্ট প্রকল্প, বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের জেলাগুলোর পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, আট বিভাগীয় শহরে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার, হৃদরোগ এবং কিডনি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ (প্রথম সংশোধিত) ইত্যাদি।