Home Blog Page 580

ইরানের সঙ্গে ভারতের চুক্তি, নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সঙ্গে সোমবার একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত। এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের চাবাহার বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব ১০ বছরের জন্য নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছে ভারত। এতেই নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ডেপুটি মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল বলেন, কেউ যদি ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করার কথা ভাবে, তাহলে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে পারে।
জানা গেছে, সোমবার ইরানে গিয়ে চাবাহার বন্দর নিয়ে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল। এরপরই বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলে ওয়াশিংটন।
বেদান্ত প্যাটেল বলেন, চাবাহার বন্দর নিয়ে ভারত ও ইরানের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে, সেই বিষয়ে আমরা অবগত। ভারতের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। তবে ইরানের সঙ্গে চাবাহার বন্দর নিয়ে তাদের সেই চুক্তি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আওতায় পড়ে। ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি আছে এবং তা জারি থাকবে।
এরপর তিনি বলেন, কেউ যদি ইরানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করার কথা ভাবেন, তাহলে তাদের ওপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। সেই কথাটা যেন তারা মনে রাখেন।
এর আগে রাশিয়ার কাছে থেকে ভারত যখন এস৪০০ মিসাইল সিস্টেম কিনেছিল, তখনও দিল্লিকে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ভারত নিজের অবস্থানে অনড় ছিল।
প্রসঙ্গত, ভারতকে চতুর্দিক থেকে ‘ঘিরে ফেলে’ বাণিজ্যিক করিডোর তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছিল চীন। শি জিনপিংয়ের সেই স্বপ্নের ‘বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভ’-এরই অংশ চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর। সেই করিডোরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হল বেলুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত গোয়াদার বন্দর। তবে এবার সেই গোয়াদার বন্দর যাতে ভারতের গলার কাঁটা না হয়, সেজন্য ইরানের সঙ্গে চাবাহার বন্দর নিয়ে ১০ বছরের চুক্তি করল ভারত।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল ইরানে যান চাবাহার বন্দর নিয়ে সেদেশের সরকারের সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তি করার জন্য। এই বন্দরের মাধ্যমে আফগানিস্তানসহ মধ্য এশিয়া, এমনকি ইউরোপের সঙ্গেও সংযোগ স্থাপন করতে পারবে ভারত। ভারতের পরিকল্পনা, ইরানের চাবাহার বন্দরকে ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোরের সঙ্গে যুক্ত করা। এই করিডোরের মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গেও যুক্ত হতে পারবে ভারত।
এর আগে ২০১৬ সালে যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইরানে গিয়েছিলেন, তখন চাবাহার বন্দর নিয়ে চুক্তি হয়েছিল দুই দেশের। এরপর ২০১৮ সালে ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ভারতে আসেন। তখন চাবাহার বন্দরে ভারতের ভূমিকা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয় দুই রাষ্ট্রপ্রধানের। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরান যান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর। সেই সময়ও এই বিষয়ে আলোচনা হয়। আর সোমবার সর্বাননন্দ সোনওয়াল চাবাহার বন্দর নিয়ে চুক্তি সই করেন ইরানের মাটিতে দাঁড়িয়ে।

আইপিএল ছাড়ছেন ইংলিশ ক্রিকেটাররা

বিশ্বকাপের জন্য আইপিএল ছেড়ে যাচ্ছেন ইংলিশ ক্রিকেটাররা। লিয়াম লিভিংস্টোনের পর দেশে ফিরছেন অধিনায়ক জস বাটলার।
বিশ্বকাপের আগে নিজেকে ফিট রাখতে আইপিএলের বাকি অংশ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লিয়াম লিভিংস্টোন। হাঁটুর ইনজুরিতে মিস করেছিলেন পাঞ্জাব কিংসের হয়ে প্রথম দুই ম্যাচ। পরবর্তীতে একাদশ থেকেও জায়গা হারিয়েছেন।
হাঁটুর ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে উঠা আর বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবেন এ অলরাউন্ডার। দেশের কথা চিন্তা করে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজস্থান ব্যাটার জস বাটলারও। প্লে অফের লড়াইয়ে থাকা ফ্র্যাঞ্চাইজিটি আর পাচ্ছে না ইংলিশ অধিনায়ককে।
এদিকে জমে উঠেছে আইপিএল প্লে-অফের লড়াই। কলকাতা ছাড়া কারো নিশ্চিত নয় সেরা চার। কাগজে কলমে টিকে আছে ৭ দলের সম্ভাবনা; এ তালিকায় আছে বিরাট কোহলির বেঙ্গালুরুও।
এবারের রান বন্যার আইপিএলের শিরোপা রেসে সবার আগে ছিটকে গেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও পাঞ্জাব কিংস। একমাত্র দল হিসেবে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। বাকি তিন স্পটের লড়াইয়ে টিকে আছে সাত দল।
দ্বিতীয় দল হিসেবে প্লে-অফে এক পা দিয়ে রেখেছে রাজস্থান রয়্যালস। ১২ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১৬। পাঞ্জাব ও কলকাতার সাথে এক ম্যাচ জিতলে নাম লিখবে প্রথম কোয়ালিফায়ারে। আবার দুই ম্যাচ হারলেও সুযোগ থাকবে। রানরেটে বেশ এগিয়ে সাঞ্জু স্যামসনের দল।
শেষ চারের দৌড়ে আছে চেন্নাই সুপার কিংসও। বেঙ্গালুরুকে হারালেই চলবে। তখন দুইয়ে থাকা রাজস্থান আর কোন ম্যাচ না জিতলে রানরেটে এগিয়ে প্রথম কোয়ালিফায়ারেও জায়গা করে নিতে পারে ধোনির দল। কিন্তু হেরে গেলে তাদের টপকে যাওয়ার সুযোগ থাকবে কলকাতা, রাজস্থান, হায়দরাবাদ ও লক্ষ্ণৌর।
চেন্নাইয়ের সমান ১৪ পয়েন্ট হায়দরাবাদেরও। নেট রানরেট ভালো থাকায় বাকি দু ম্যাচের একটিতে জিতলেই হবে। আর দুটি জিতলে থাকবে সেরা দুইয়ে থাকার সুযোগ। তবে গুজরাট ও পাঞ্জাবের কাছে হার তাদের ঠেলে দিতে পারে শঙ্কায়। তখন সামনে আসবে রানরেট।
টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে প্লে-অফের পথে টিকে আছে প্রথম ৬ ম্যাচ হারা রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। শেষ ম্যাচে শুধু জিতলেই হবেনা। দুইশোর বেশি রান করে অন্তত ১৮ রানে হারাতে হবে চেন্নাইকে। সঙ্গে চাইতে হবে হায়দরাবাদ ও লক্ষ্ণৌর পরাজয়। কাগজে কলমে টিকে আছে পরের তিন অবস্থানে থাকা দিল্লি, লক্ষ্ণৌ ও গুজরাট।

তাসকিনকে সহ-অধিনায়ক করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা

বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র ১৬ দিন। বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। চোট-শঙ্কায় থাকা তাসকিন আহমেদ আছেন দলে, তিনিই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক। অধিনায়ক যথারীতি নাজমুল হোসেন।
মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেনের নির্বাচক কমিটির ঘোষণা করা দলে কোনো চমক নেই।
বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ দলের প্রায় সবকিছুই যেন চূড়ান্ত। এমন সময়েই ‘বিনা মেঘে বজ্রপাত’ হয়ে এলো তাসকিন আহমেদের ইনজুরি। বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণের সবচেয়ে বড় ভরসা যিনি, তিনিই পড়েছেন ইনজুরিতে।
চোটে পড়া তাসকিনকে সহঅধিনায়ক বানিয়ে একটু হলেও চমকে দিয়েছেন নির্বাচকেরা। জিম্বাবুয়ে সিরিজে ডাক খেয়েওও খেলতে পারেননি আফিফ। তাঁর সঙ্গে হাসান মাহমুদকে বিকল্প হিসেবে নেওয়া হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। তবে জিম্বাবুয়ে সিরিজে ৮ উইকেট পেলেও খরুচে বল করা সাইফউদ্দিন এবারও বিশ্বকাপ দলে ডাক পাননি।
বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের দল
নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তাসকিন আহমেদ (সহ-অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলী অনিক, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, তানজিম সাকিব, শেখ মেহেদী, রিশাদ হোসেন ও তানভির ইসলাম।
রিজার্ভ
আফিফ হোসেন ধ্রুব ও হাসান মাহমুদ।
আগামী ১৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার কথা রয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তদের। এর পর ২১, ২৩ ও ২৫ মে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ খেলবে তারা। সিরিজটি খেলতে না পারলেও দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যাবেন তাসকিন। সেখানেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া হবে তার।

উৎসবমুখর পরিবেশে ভিয়েতনামে বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ উদযাপন

আজ এক আনন্দঘন উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ভিয়েতনামে বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ উদযাপন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে ভিয়েতনামে বসবাসরত বিভিন্ন পেশা শ্রেণীর  প্রবাসি বাংলাদেশি, স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতে মুখরিত হয়ে উঠেউৎসবের প্রাঙ্গন-ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনটি।

Mongol Shovazatra

ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বর্ষবরণের প্রথম পর্ব। এতে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা, ভিয়েতনামে অবস্থিত প্রবাসি বাংলাদেশীরা এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা  অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে  রাষ্ট্রদূতের বাসভবন বাংলাদেশ হাউসে এক আনন্দমেলার আয়োজন করা হয়। পহেলা বৈশাখের সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে বিভিন্ন আলপনা ও রঙে সাজিয়ে তোলা হয় উৎসব প্রাঙ্গন। বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও খাবারের সমন্বয়ে স্থাপন করা হয় বেশ কয়েকটি স্টল।

Group Photo 3

রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ লুৎফর রহমানউপস্থিত সকলেরউদ্দেশ্য স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি সকলকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আমাদের হাজার বছরের গৌরবময় ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হল পহেলা বৈশাখ। এটা আমাদের প্রাণের উৎসব। আমাদের সংস্কৃতির শেকড়ের সন্ধান দেয় বাংলা নববর্ষ। ফেলে আসা বছরের সুখ-দুখ ভুলে মানুষ নতুন স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে উদ্বুদ্ধ হয়। এ দিন জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সকলে মিলে উৎসবে মেতে উঠে। এই উৎসব দেশ ও দেশের মানুষকে সারা বিশ্বে তুলে ধরে। তাই জাতীয় জীবনে এ দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম”।

Performance 3

তিনি আরো বলেন, গুরুত্বের গভীরতায় উৎসবটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ২০১৬ সালে জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনেস্কো পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে যা আমাদের জন্য বয়ে এনেছে বিরল সম্মান ও গৌরব । আসুন আমরা সবাই এই দিবসের শিক্ষা নিয়ে সকল অশুভ ও অসুন্দরকে জয় করে একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে একযোগে কাজ করি।

Performance 5

একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি হয় উৎসবের। বাংলাদেশ দূতাবাসের এবং স্থানীয়সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিশুদের যৌথ অংশগ্রহণে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েদলীয় নৃত্য পরিবেশন করা হয়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মিশনের দূতালয় প্রধান নাসির উদদীন।

ফিলিস্তিনি বন্দিদের ডায়াপার পরতে বাধ্য করা হয়

গাজায় আগ্রাসনের সময় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হাতে আটক ফিলিস্তিনিদের বন্দি অবস্থায় নির্যাতনের তথ্য ফাঁস করেছেন তিন ইসরাইলি। তারা প্রত্যেকেই গাজা থেকে ১৮ মাইল দূরে ইসরাইলের নাগেভ মরুভূমির ‘সেড তেইমান ডেজার্ট ক্যাম্পে’ ফিলিস্তিনি বন্দিদের নির্যাতনের কথা তুলে ধরেছেন। শুক্রবার সিএনএন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
সিএনএনকে তিন ইসরাইলির একজন বলেছেন, ইসরাইলি সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনি বন্দিদের চোখ বেঁধে রেখে এবং ডায়াপার পরতে বাধ্য করা হয়। তিনি এমন নির্যাতন নিজে চোখে দেখেছেন।
তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনি বন্দিদের নড়াচড়া করতে দেওয়া হয় না। তাদের সোজা বসিয়ে রাখা হতো। কোনো কথা বলতে দেওয়া হয় না। কথা বললেই কারারক্ষীরা বন্দিদের ‘চুপ কর’ বলে চিৎকার করে ওঠে। যারা এর পরও কথা বলার চেষ্টা করে, তাদের ধরে নিয়ে করা হয় নির্যাতন। এমনকি চোখ বাঁধা অবস্থাতেও বন্দিদের উঁকি দেওয়ার অনুমতি নেই। বন্দিদের পাহারায় নিয়োজিতদের চিৎকার করে নীরবতা বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া ছিল। এছাড়া যারা নির্দেশ মানছে না তাদের চিহ্নিত করার দায়িত্বও প্রহরীদের দেওয়া হয়েছিল।
তারা ওই বন্দিশালার এমন একটি চিত্র তুলে ধরেছেন, যেখানে মাঝে মাঝে অনবরত হাতকড়া থাকার জখম বন্দিদের হাত অনেক সময় বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হতো। আর এ কাজটি করত অদক্ষ টেকনিশিয়ানরা।
তিন ইসরাইলি জানিয়েছেন, ‘সেড তেইমান ডেজার্ট ক্যাম্প’ বন্দিশিবিরটি গাজা থেকে ১৮ মাইল দূরে অবস্থিত। এটি দুই অংশে বিভক্ত। এর একটিতে ৭০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে রাখা হয়েছে। তাদের নড়াচড়ার সুযোগও একেবারে কম। এছাড়া সেখানে একটি ফিল্ড হাসপাতালও রয়েছে। সেখানে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ডায়াপার পরিয়ে বিছানার সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং খাবার দেওয়া হয় পাইপ দিয়ে।
ওই হাসপাতালে কাজ করেছেন এমন একজন বলেছেন, নিজেকে মানুষ বলে দাবি করতে পারেন, এমন সব কিছুই বন্দিদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, তথ্য উদ্ধার করতে তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয় না। বরং ক্ষোভ আর প্রতিশোধের নেশা থেকেই তাদের সঙ্গে এমন করা হয়। ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলার প্রতিশোধ নিতেই তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়।
৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে হামাস যোদ্ধাদের হামলার পর গাজায় আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। গাজায় বন্দি করা ফিলিস্তিনিদের রাখার জন্য তিনটি সামরিক স্থাপনাকে বন্দিশিবিরে পরিণত করা হয়।
সিএনএনের প্রতিবেদনের এসব অভিযোগ ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) খ্যাত ইসরাইলি সেনাবাহিনী প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে আইডিএফ সিএনএনকে জানিয়েছে, বন্দি থাকা জিম্মিদের সঙ্গে সব সময় উপযুক্ত আচরণ নিশ্চিত করা হয়।
আইডিএফের সেনাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এতে আরও বলা হয়, বন্দিদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনা করে তাদের হাতকড়া পরানো হয়। ওই বন্দিশালায় অনৈতিকভাবে হাতকড়া পরানোর কোনো তথ্য কর্তৃপক্ষের জানা নেই।
বন্দিদের পরিধেয় কাপড় খুলে ডায়াপার পরিয়ে রাখার অভিযোগ আইডিএফ সরাসরি অস্বীকার করেনি। বরং তারা বলেছে, আইডিএফ যখন বিবেচনা করে কোনো ঝুঁকি নেই, তখন বন্দিদের পরিধেয় কাপড় ফেরত দেওয়া হয়।

ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী বিক্ষোভ

ফিলিস্তিনে অনৈতিক হামলা অব্যাহত রাখার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত দুই বিশ্ববিদ্যালয় অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছেন এ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা ক্যাম্পাসে তাঁবু টানিয়ে বিক্ষোভ করছেন।
স্থানীয় সময় গত বুধবার লন্ডনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভের সূচনা করেন কয়েক শ শিক্ষার্থী। বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এক গুচ্ছ দাবিও উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ইসরায়েলকে সব ধরনের অর্থায়ন বন্ধ, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনিয়োগ নীতি সংস্কার, ইসরায়েলকে বর্জন, গাজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনর্র্নিমাণসহ বেশকিছু দাবি রয়েছে। এরপর এ বিক্ষোভ আরও জোরদার হয়ে উঠেছে। গতকালও অক্সফোর্ডের মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্টোরি ও ক্যামব্রিজের কিংস কলেজের সামনে তাঁবু টানিয়ে বিক্ষোভ হয়। ‘গাজায় গণহত্যা থামাও’ ‘ইসরায়েলকে সহযোগিতা বন্ধ করো’-এমন স্লোগানসংবলিত প্লাকার্ড ও ফিলিস্তিনের পতাকা দেখা যায় শিক্ষার্থীদের হাতে। বিক্ষোভকারীদের কারও কারও মাথায় ছিল ঐতিহ্যবাহী কেফায়া (ফিলিস্তিনিরা সাদা-কালো যে স্কার্ফ পরেন)। অক্সফোর্ড অ্যাকশন ফর ফিলিস্তিন ও ক্যামব্রিজ ফর ফিলিস্তিন এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েল সরকারকে আর্থিক ও নৈতিক সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহŸান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ফিলিস্তিনিদের জীবনের বিনিময়ে মুনাফা করতে পারে না অক্সব্রিজ (অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ)। ইসরায়েলের অপরাধ আড়াল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি গড়ে উঠতে পারে না।’ উল্লেখ্য, গাজায় যুদ্ধ বন্ধ ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের দাবিতে গত ১৭ এপ্রিল আমেরিকার নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে দেশটির দেড় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এখন এ বিক্ষোভ চলছে ইউরোপের অন্তত ১২টি দেশে।

সালমানের সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা করছেন সাবেক প্রেমিকা

সব সময়ই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে থাকতে হয় বলিউড অভিনেতা সালমান খানকে। প্রায়ই গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের তরফ থেকে আসতে থাকে খুনের হুমকি। স¤প্রতি সালমানের বাড়ির বাইরে গুলিও চলেছে। ঘটনায় বেশ চিন্তিত সালমানের শুভাকাঙ্ক্ষী ও অনুরাগীরা। এ বার অভিনেতার নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করলেন তারই সাবেক প্রেমিকা। খবর আনন্দবাজার অনলাইনের।
এক সময়ে সালমানের সঙ্গে তিক্ত অভিজ্ঞতা। কিন্তু সালমান আজ যে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তার জন্য চিন্তিত তার সাবেক প্রেমিকা সোমি আলিও। সোমি প্রায়ই সালমানের সঙ্গে তার তিক্ত অভিজ্ঞতা সামনে এনেছেন। উগরে দিয়েছেন ক্ষোভ। কিন্তু সালমানের কাছে খুনের হুমকি আসায় তিনিও পাশে দাঁড়িয়েছেন। যেভাবে সালমানের কাছে বার বার খুনের হুমকি আসছে, সেই ঘটনার নিন্দাও করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, কোনো শত্রুর সঙ্গেও যেন এমন না হয়, সেটাই চান তিনি।
সোমি জানিয়েছেন, সালমানের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয়তো কখনোই ঠিক হবে না। কিন্তু সাবেক প্রেমিকের এই অবস্থাও তিনি সমর্থন করেন না। তিনি বলছেন, ‘কোনো শত্রুর সঙ্গেও যেন এমন না হয়। এ অবস্থা কারো প্রাপ্য নয়।’ অভিনেত্রী সালমানের সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা করছেন বলেও জানিয়েছেন।
শোনা যাচ্ছে বাড়ির বাইরে গুলি চলার ঘটনার পরে সালমান স্থির করেছেন, তিনি বাসস্থান বদল করবেন। তবে এ ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি অভিনেতার তরফ থেকে। কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যেই তিনি আছেন বলে জানা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, সালমান এখন তার পরবর্তী ছবি ‘সিকন্দরের’ কাজ নিয়ে ব্যস্ত। এ ছবিতে তার বিপরীতে রয়েছেন রাশমিকা মন্দানা। এছাড়া, শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘টাইগার ভার্সেস পাঠান’ ছবিতেও অভিনয় করবেন তিনি।

বিচ্ছেদের পর ছেলেকে যেভাবে মানুষ করছেন মালাইকা

বলিউড অভিনেতা আরবাজ খানের সঙ্গে মালাইকা অরোরার বিবাহবিচ্ছেদের বেশ কয়েক বছর হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সৌজন্যের সম্পর্ক এখনো বজায় রেখেছেন তারা। আর অন্যতম কারণ ছেলে আরহান। আরহানের জন্য এখনো দেখসাক্ষাৎ হয় মালাইকা-আরবাজের মধ্যে। জানা যায়, আরহানের সঙ্গে বন্ধুর মতোই মেশেন মালাইকা।
অভিনেত্রী মনে করেন, সন্তানদের সঙ্গে যত খোলামেলা ভাবে মেশা যায়, তারা ততই ভালো থাকে। তাই আরহান যাতে তার কাছে নিরাপদ ও স্বাধীন বোধ করেন, সেই চেষ্টাই চালিয়ে যান মালাইকা। স¤প্রতি আরহানের পডকাস্টে মা-ছেলের কথোপকথন মুগ্ধ করেছে নেটাগরিকদের। সেই কথাবার্তা থেকেই স্পষ্ট মালাইকা-আরহানের মধ্যে সম্পর্ক কতটা বন্ধুত্বপূর্ণ।
মালাইকা সেই পডকাস্টে বলছেন, ‘মা ও ছেলের সম্পর্ক হল সবচেয়ে দামি। প্রত্যেক সন্তানের সঙ্গে তাদের মায়ের সম্পর্ক ভিন্ন রকমের হয়। কোনো মা হন বন্ধুর মতো, কেউ হন পরামর্শদাতার মতো, আবার কোনো কোনো মা খুব কড়া হন। কিন্তু, আমি আমার ছেলের বন্ধু হয়েই থাকতে চাই। এমন হলে সন্তান মন খুলে সব কথা বলতে পারে।’
অভিনেত্রী আরও বলছেন, ‘আমার বন্ধুরাও বাড়িতে এসে আমায় আর আরহানকে একসঙ্গে দেখলে খুব আনন্দ পায়। আমি আর আরহান পরস্পরের সঙ্গে মজা করি, পেছনে লাগি। আমার বন্ধুরা বলে, ওরা টিকিট কেটে বাড়ি এসে এই কমেডি শো দেখবে।’ মালাইকা মনে করেন, বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের সমস্ত কিছু নির্ভয়ে বলতে পারা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মালাইকার কথায়, ‘খোলামেলা কথা বললে বোঝা যায়, সন্তানদের জীবনে ঠিক কী চলছে। এমন একটা পরিসর থাকা দরকার, যেখানে ওরা নির্ভয়ে সব কিছু বলতে পারে। আবার কিছু বলার জন্য ওদের জোর করাও ঠিক নয়। বিশেষ করে আজকের যুগের বাচ্চাদের জীবনে কী চলছে, তা জানা খুব দরকার। আমি নিজেকে অন্ধকারে রাখার থেকে পুরোটা জানতেই পছন্দ করব।’
আরবাজ খানের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরে অভিনেতা অর্জুন কাপুরের সঙ্গে সম্পর্কে আছেন মালাইকা। অন্য দিকে কিছু দিন আগেই আরবাজ বিয়ে করেছেন মেকআপশিল্পী সুরা খানকে।

বিএনপি ভারতের সাথে শত্রুতা করে অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছিল : ওবায়দুল কাদের

বিএনপি ভারতের সাথে শত্রুতা করে অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘ভারতের সাথে শত্রুতা করে বিএনপি দেশের ক্ষতি করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে দেশের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।’

শনিবার (১১ মে) বিকেলে মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা বন্ধুত্ব চাই। শত্রুতা আমাদের ক্ষতি করেছে। আমরা সে অবস্থায় আর ফিরে যেতে চাই না। ভারত আমাদের বন্ধু। তাই আমরা অনেক কিছু দেশটির কাছ থেকে আদায় করতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘ভারতবিরোধিতা বিএনপির দ্বিচারিতা। তারা নিজেরাই যে ভারতের দালাল, এর অসংখ্য উদাহরণ আছে। আওয়ামী লীগের শক্তি বাংলাদেশের জনগণ, বিদেশী কোনো দেশ আওয়ামী লীগের শক্তির উৎস নয়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভারতের সাথে ২১ বছর শত্রুতা করে আমাদের লাভ হয়নি। বিএনপি শত্রুতা করে সংশয়, অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছিল। সে কারণে সম্পর্কের উন্নতি হয়নি। শেখ হাসিনা সে অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙে দিয়েছেন।’

ভারতের সাথে বিভিন্ন চুক্তির কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, গঙ্গার পানি শেখ হাসিনাই এনেছেন। পানি চুক্তি কে করেছেন? শেখ হাসিনা। সীমান্ত সমস্যার চুক্তি কে করেছেন? শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের মতো আরেকটি বাংলাদেশ আমরা সমুদ্র পেয়েছি আদালতের মাধ্যমে।’

বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘শুক্রবার পল্টনে গয়েশ্বর চন্দ্র এক পসরা মিথ্যাচার করে গেছেন। গয়েশ্বর বাবু কোথায় ছিলেন এতদিন? কোথা থেকে এলেন? কোথায় পালিয়ে ছিলেন? ভারতে? মাথায় উঠেছে গান্ধী টুপি। এখন ভন্ডামি শুরু করেছেন। গয়েশ্বর কাল পল্টনে দাঁড়িয়ে আমাদের বলে ভারতের দালাল। এই অপবাদ তো আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া দিয়েছে। ভারতে গিয়ে গঙ্গার পানির কথা ভুলে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া, সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করল, আপনি ভারত সফর করলেন গঙ্গার পানির কি হলো? তিনি বললেন আমি তো ভুলে গেছি। দালাল কারা?’

নির্বাচনে ৪২ শতাংশ লোক ভোট দিয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার উন্নয়ন অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়েছে বাংলাদেশের ৪২ শতাংশ ভোটার। এই নির্বাচনে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। উপজেলা নির্বাচন জনগণ নাকি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাহলে ৩৬ থেকে ৪০ শতাংশ লোক ভোট দিলো তারা কারা? তারা এই দেশের জনগণ। তারা উন্নয়নে, অর্জনে মুগ্ধ।’

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম ও আফজাল হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লায়লী এবং দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়াও বক্তব্য রাখেন।

সূত্র : বাসস

আ’লীগ নয়, দেশ চালাচ্ছে অদৃশ্য শক্তি : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে নিজ দেশে থেকে আমরা পরবাসী হয়েছি। আজকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে গেলে বা এলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখা হয়। আসলেই কি দেশ আওয়ামী লীগ চালাচ্ছে? তারা নয়, দেশ চালাচ্ছে অদৃশ্য শক্তি।

তিনি বলেন, আজকে সারাদেশ কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ছাড়া চাকরি হয় না। বিসিএস পাশ করার পরও চাকরি হচ্ছে না। আজকে চাকরির জন্য ডিএনএ টেস্ট করা হয়, তারা বিএনপি করে কিনা।

শনিবার বিকেলে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদল আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে রাজধানী ঢাকা বিভিন্ন ওয়ার্ড, থানাসহ আশপাশের জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া শুধু নির্যাতিত নেত্রী নন, তিনি গণতন্ত্রের অতন্দ্র পহরী। সারাজীবন যিনি দেশ ও জনগণের জন্য ত্যাগ শিকার করেছেন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন আজকে দানবীয় সরকারের প্রতিহিংসার বশবিত হয়ে তাকে বন্দী করে রেখেছেন। যার সাজা হয়েছিল ৫ বছর। উচ্চ আদালতে তা ১০ বছর করা হয়েছে। এরকম মামলায় অনেককে জামিন পেলেও তাকে দেয়া হয়নি। তিনি অসুস্থ। দেশ-বিদেশ থেকে সবাই তার মুক্তি দাবি করলেও দেয়া হচ্ছে না। কারণ তিনি মুক্ত হলে তার ডাকে সারা দিয়ে জনগণ সকল শৃঙ্খল ভেঙে ফেলবে, উপরে ফেলবে সকল সকল অন্যায় ও অবিচার।

তিনি বলেন, আটক রাখা হয়েছে হাজারো নেতা-কর্মীদের। অনেককে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। আদালতকে দলীয় কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। ঈশ্বরদীতে নয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। আদালতকে ব্যবহার করে এরা ক্ষমতার টিকে থাকতে চায়। কি নিদারুণভাবে ২৮ অক্টোবরের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ পণ্ড করা হয়েছে। অন্যায় করে জুলুম করে গণতান্ত্রিক আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না। আমরা যখন যুবক ছিলাম লড়াই করে এ দেশ স্বাধীন করেছিলাম। কিন্তু আজ সে স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত। ২০০৮ সাল থেকে মানুষ আর ভোট দিতে পারে না। অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। সরকার আবারো ভিন্ন মেড়কে বাকশাল কায়েম করতে চায়।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গতকাল ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আবার সন্ত্রাস করবেন না, তাহলে ডাবল শিক্ষা দিবো। সন্ত্রাস বিএনপি করে না। আপনারা করেন। সন্ত্রাসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের জন্ম। মওলানা ভাসানীকে পিটিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে বের করে দিয়েছিলেন। ডেপুটি স্পীকারকে পিটিয়ে আপনারাই হত্যা করেছেন।

তিনি বলেন, আজকে দুর্ভাগ্য যে জাতি গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা জন্য যুদ্ধ করেছিল সে অধিকার থেকে বাংলাদেশ আজ বঞ্চিত। আজকে প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ছে। ট্রেনের ভাড়া, বাস ভাড়া বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস-পানির দাম বেড়েই চলছে। অপরদিকে লুটপাট হচ্ছে দেশের অর্থনীতি, লুটপাট হচ্ছে ব্যাংক। আজকে নতুন নতুন আইন করছে লুটেরাদের স্বার্থে।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। নতুন নতুন ফর্মুলা করা হচ্ছে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের নাম ডামি নির্বাচন। ডামি নির্বাচনে গৃহপালিত দলগুলোর সাথে চলে দেনদরবার। এত আসন না পেলে সেদলগুলো আবার নির্বাচন না যাওয়ারও হুমকি দেয়।

তিনি বলেন, সরকার বলে তারা নাকি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা যদি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন তাহলে এরশাদ ও ইয়াহিয়া কি করেছেন? তাদের আসলে কোনো লজ্জা-শরম নেই। দেশটাকে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে। যেমনি চাইবে তেমনি চলবে। কিন্তু তা হবে না। জনগণ যা চাইবে সেভাবেই দেশ চলবে।

যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসানের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্নার সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, যুবদলের সহ সভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন প্রমুখ।