Home Blog Page 583

নানা নাটকীয়তার পর মুক্তি পেলেন মাওলানা মামুনুল হক

গতকাল দুপুর থেকে আজ সকাল পর্যন্ত নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন মাওলানা মামুনুল হক।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে তিনি কারাগার থেকে বের হন। কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা এ তথ্য জানিয়েছেন।

পাশাপাশি তার মুক্তির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন তার ভাগিনা ও জামিয়া রাহমানিয়া আজিজিয়ার শিক্ষক মাওলানা ইহসানুল হক।

তিনি লিখেছেন, ‘ইবনে শাইখুল হাদীস মুক্ত পৃথিবীতে। আলহামদুলিল্লাহ।’

একইসাথে মাওলানা মামুনুল হকের ছেলে মাওলানা যিমামুল হকও তার বাবার ‍মুক্তির বিষয়টি ফেসবুকে পোস্ট করে নিশ্চিত করেছেন। এই নিউজে ব্যবহৃত ছবিটি শেয়ার করে মাওলানা যিমাম ‍লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’।

এর কিছুক্ষণ পর তিনি একটি ভিডিও-ও শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে- স্বজনদের সাথে কারাফটক থেকে বেরিয়ে আসছেন মাওলানা মামুনুল হক।

হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব এবং ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে দীর্ঘ দিন যাবত বন্দী হিসেবে ছিলেন। অবশেষে শুক্রবার বেলা ১১টার কিছু্ক্ষণ আগে তার মুক্তি হলো।

এদিকে, গতরাত ১১টার দিকেই তার মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু কারাফটকে ভক্তদের অধিক ভীড় থাকার কারণে তার মুক্তি বিলম্বিত হয়।

আদমকে হত্যা : যুদ্ধাপরাধে ফেঁসে যাবে ইসরাইল!

গত বছরের ২৯ নভেম্বর বিকেলের দিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের কয়েকটি ফিলিস্তিনি বাচ্চা ছেলে তাদের সামনের রাস্তায় খেলতে নেমে এসেছিল। ওখানে তারা প্রায়ই একসাথে খেলত।

কয়েক মিনিট পরেই ওই বাচ্চাদের মধ্যে দুজন ইসরাইলি সেনাদের ছোঁড়া গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। নিহত ওই দুজন ছিল ১৫ বছর বয়সী বাসিল ও ৮ বছরের আদম।

জর্ডান নদীর পশ্চিম তীর বা ‘ওয়েস্ট ব্যাংক’ সামরিক দখলদারির অধীনে আছে বিগত অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে। সেখানে ইসরাইলের নিরাপত্তা বাহিনী কী ধরনের আচরণ করে থাকে, তা নিয়ে বিবিসির করা একটি তদন্তের অংশ হিসেবে যে দিন ওই বাচ্চা দুটি মারা যায়, সে দিন ঠিক কী কী ঘটেছিল তার ঘটনাক্রমগুলো জোড়া দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

ওই ঘটনাটি সংক্রান্ত যাবতীয় মোবাইল ফোন ও সিসিটিভি ফুটেজ, ইসরাইলের সেনাবাহিনীর গতিবিধি নিয়ে তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও ঘটনাস্থলের মাপজোখসহ বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ – এগুলো সব একত্রিত করে যে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে, তাতে ওই ঘটনায় গুরুতর মানবাধিকাল লঙ্ঘন হয়েছিল বলেই প্রতীয়মান হয়।

বিবিসি যে সব সাক্ষ্যপ্রমাণ পেয়েছে, তা দেখে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার ও কাউন্টার-টেররিজম বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি বেন সল পর্যন্ত বলেছেন, আদম নামে বাচ্চাটির মৃত্যু ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলেই মনে হচ্ছে।

আরেকজন আইন বিশেষজ্ঞ ড: লরেন্স হিল-কওথর্ন বলেছেন, যেভাবে প্রাণঘাতী শক্তির প্রয়োগ করা হয়েছে তা ছিল ‘নির্বিচার’।

ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্স বা আইডিএফ জানিয়েছে কোন পরিস্থিতিতে এই মৃত্যুগুলো ঘটেছে তা ‘পর্যালোচনা করা হচ্ছে’। তবে সেই সঙ্গেই তারা বলেছে, ‘লাইভ ফায়ার (আগ্নেয়াস্ত্র) তখনই ব্যবহার করা হয় যখন কোনো আশু বিপদের মোকাবেলা করতে হয়। এছাড়া কাউকে গ্রেফতার করার সময় অ্যারেস্ট প্রোটোকল অনুযায়ী বাকি সব উপায় বন্ধ হয়ে গেলে তখনো করা হয়।’

গত ৭ অক্টোবর গাজা থেকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামাসের চালানো হামলার পর থেকে পশ্চিম তীরেও সহিংসতা তীব্র আকার নিয়েছে। সেখানে ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে গ্রাফিতি এঁকে ভাঙচুর চালানো হচ্ছে, বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে আর ওই এলাকা ছেড়ে প্রতিবেশী জর্ডানে চলে যেতে বলা হচ্ছে এবং ফিলিস্তিনি একজন বন্দুকধারীর লাশ খুঁচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়া হয়েছে – বিবিসি এগুলোরও প্রমাণ পেয়েছে।

২৯ নভেম্বরের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বাসিল দাঁড়িয়ে ছিল একটি হার্ডওয়ার দোকানের সামনে, যেটির শাটার নামানো ও তালা বন্ধ করা ছিল। পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে যখনই ইসরাইলি সেনাবাহিনী আসে, আশেপাশের দোকানগুলো হুড়মুড় করে বন্ধ হয়ে যায়। পশ্চিম তীর কিন্তু গাজার মতো হামাস নিয়ন্ত্রিত এলাকা নয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কাছেই জেনিন শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর চালানো অভিযান থেকে আসা গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

লিওনেল মেসির বিরাট ভক্ত আর ফুটবল-পাগল আদম দাঁড়িয়ে ছিল তার বড় ভাই বাহার সাথে, যার বয়স ১৪। সে দিন রাস্তায় মোট ৯টির মতো ছেলে ছিল, যাদের সবাইকে সিসিটিভি ক্যামরার ফুটেজে দেখা গেছে। এরপর যা ঘটেছিল, ওই ক্যামেরাতে তার প্রায় ৩৬০-ডিগ্রি ভিউও ধরা পড়েছে।

কয়েক শ’ মিটার দূরে তখন গোটাছয়েক সশস্ত্র ইসরায়েলি সামরিক যানের একটি বহর ছিল। হঠাৎই অভিমুখ পাল্টে ওই সেনাবহরটি বাচ্চাগুলোর দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। ওই বাচ্চারা স্পষ্টতই অস্বস্তিতে ভুগতে শুরু করে, কয়েকজন দূরেও সরে যেতে থাকে।

ঠিক এই মুহূর্তে তোলা মোবাইল ফোনের ফুটেজে পরে দেখা গেছে, একটি সশস্ত্র সেনা যানের সামনের দরজাটি খুলে যায়। ভেতরে যে সেনা সদস্য ছিল তার একেবারে চোখের সামনে চলে আসে বাচ্চাগুলো। বাসিল তখন রাস্তার একেবারে মাঝখানে, আর অ্যাডাম ওই সৈন্যদের থেকে মাত্র ১২ মিটার দূরে– দৌড়ে পালাচ্ছে।

এরপর কম করে হলেও পর পর ১১টা গুলির শব্দ পাওয়া যায়।

পরে ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে বিবিসি দেখতে পেয়েছে, ওই বুলেটগুলো অনেকটা এলাকাজুড়ে আঘাত করে। চারটি বুলেট আঘাত করে একটি ধাতব পোলে, দুটি বুলেট হার্ডওয়ার স্টোরের শাটারে লাগে, পার্ক করা একটি গাড়ির বাম্পার ফুঁড়ে চলে যায় একটি বুলেট– এবং আরো একটি ছেদ করে দেয় একটি হ্যান্ডরেইল।

বিবিসির হাতে পরে যে মেডিক্যাল রিপোর্ট এসেছে তাতে দেখা গেছে, দুটি গুলি সোজা একদম বাসিলের বুক ভেদ করে দেয়।

আর একটি গুলি আট বছর বয়সী অ্যাডামের মাথার পেছন দিকে এসে লাগে, কারণ সে দৌড়ে পালাচ্ছিল। তার বড় ভাই বাহা মরিয়া হয়ে তাকে টেনে আড়াল করার চেষ্টা করেছিল … রাস্তায় রক্তের ধারা বয়ে যায়, বাহা চিৎকার করে একটা অ্যাম্বুলেন্স ডাকার চেষ্টা করে যায়।

কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। বাহা পরে বলেছে, আদম আর তার বন্ধু বাসিল তার চোখের সামনে মারা যায়।

‘আমি একদম হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলাম। নিজের কথা তখন আমার মনেই নেই, আমি শুধু তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে যাচ্ছি। ‘আদম, আদম’ বলে কত ডাকলাম– কিন্তু ওর প্রাণ ততক্ষণে শরীর ছেড়ে চলে গেছে, সে আর সাড়াই দিলো না!’, চোখের পানিতে ভাসতে ভাসতে বাহা পরে বিবিসিকে বলেছে।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঠিক আগে বাসিলের ছবিতে দেখা গেছে, সে কিছু একটা হাতে ধরে ছিল। জিনিসটা ঠিক কী তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। আইডিএফ পরে ঘটনাস্থলে নেয়া একটি ছবি শেয়ার করেছে, এবং তারা বলেছে, ওই জিনিসটি ছিল বিস্ফোরক-ভরা বা এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস।

ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে আমরা যে সব সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছি তা বেশ কয়েকজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞকে দেখানো হয়েছে, যাদের মধ্যে মানবাধিকার আইনজীবীরা, যুদ্ধাপরাধের তদন্তকারী ও একজন কাউন্টার-টেররিজম বিশেষজ্ঞও ছিলেন। এছাড়া জাতিসঙ্ঘসহ বিভিন্ন নিরপেক্ষ সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তা শেয়ার করা হয়েছে। অনেকে তাদের মতামত দিয়েছেন নিজের নাম প্রকাশ না-করার শর্তে।

এই বিশেষজ্ঞরা একমত হয়েছেন যে এই ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত। কয়েকজন আবার আরো এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, দেখে মনে হচ্ছে এখানে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটেছে।

জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার ও কাউন্টার-টেররিজম বিষয়ক স্পেশাল র‍্যাপোর্টিয়র বেন সল বলেছেন, বাসিল যদি কোনো এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস হাতে ধরে থাকে, তাহলে তার ক্ষেত্রে আইনসম্মতভাবে প্রাণঘাতী শক্তির প্রয়োগ করা হয়েছে কি না সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

‘আদমের ক্ষেত্রে এটাকে আন্তর্জাতিক মানবিকতা আইনের লঙ্ঘন বলেই মনে হচ্ছে, কারণ ইচ্ছাকৃতভাবে, নির্বিচারে ও অসঙ্গতিপূর্ণভাবে বেসামরিক মানুষের ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছে– যেটা একটা যুদ্ধপরাধ এবং মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারের লঙ্ঘন’, বলেছেন সল।

ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টলে সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ল-র কো-ডিরেক্টর ড: লরেন্স হিল-কওথর্ন বলছেন, ‘ওই সৈন্যরা ছিল সশস্ত্র সামরিক যানে। যদি তাদের সামনে কোনও হুমকি থেকেও থাকে, তাদের উচিত ছিল সে দিকে ধাওয়া করে গিয়ে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা। তার বদলে আপাতদৃষ্টিতে নির্বিচারে যদি প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ হয় সেটা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।’

আইডিএফ বলেছে, ওই সন্দেহভাজনরা তাদের সৈন্যদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরক ছুঁড়তে যাচ্ছিল– যাতে তারা তক্ষুণি প্রবল বিপদের মুখে পড়ত। ‘আমাদের সৈন্যরা গুলিবর্ষণ করে তার জবাব দেয় এবং তাদের সেই ‘হিট’গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে’, বলেছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী।

কিন্তু আমরা বিবিসির পক্ষ থেকে পরে যে ভিডিও প্রমাণ খুঁটিয়ে দেখেছি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য পেয়েছি, তা থেকে দেখা যাচ্ছে আদম মোটেও সশস্ত্র ছিল না এবং সে যখন দৌড়ে পালাচ্ছিল, তখন তার মাথার পেছন দিকে গুলি করা হয়।

আইডিএফ বলেছে, কী পরিস্থিতিতে আদম ও বাসিলের মৃত্যু হয়েছে তা ‘পর্যালোচনা করা হচ্ছে’। আইডিএফের কর্মকাণ্ডের ফলে পশ্চিম তীরে যদি কোনো শিশুর মৃত্যু হয় তাহলে সেরকম প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা রুটিনের মতো এই কাজটি করে থাকে।

তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর অনেক সাবেক সদস্য– যারা বিবিসির সংগ্রহ করা ওইসব সাক্ষ্যপ্রমাণ দেখেছেন– তারা জানাচ্ছেন, ইসরাইলের আইনি ব্যবস্থা ওই সৈন্যদেরই রক্ষা করবে বলে তাদের বিশ্বাস, সে তাদের প্রাণঘাতী শক্তির প্রয়োগ সমীচিন হোক বা না হোক!

একজন সাবেক সার্জেন্ট, যিনি ২০১৮-২০২০ সালের মধ্যে পশ্চিম তীরে মোতায়েন ছিলেন, তিনি বলেন, “একজন ইসরাইলি সেনা সদস্য যদি একজন ফিলিস্তিনিকে জিরো রেঞ্জে গুলি করে মারেন, তবেই কেবল ইসরাইলে সেটা ‘হত্যা’ বলে গণ্য হবে।” সেই সাথেই তিনি বলেন, ‘যে ধরনের ঘটনায় অ্যাডামের মৃত্যু হয়েছে সেরকম ঘটনায় একজন সৈন্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তের সম্ভাবনা কার্যত শূন্য শতাংশ!’

ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠন ‘ইয়েশ দিনে’র তথ্য থেকেও দেখা যায়, ইসরাইলের সৈন্যদের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ ওঠে সেগুলোর ১ ভাগেরও কম ক্ষেত্রে বিচার হয়!

গত ৭ অক্টোবর হামাসের যে হামলায় প্রায় ১২০০ মানুষ নিহত হয়েছিলেন ও ২৫৩ জনকে পণবন্দী করা হয়েছিল, সেই ঘটনার ফুটেজ ইসরাইলের মানুষকে ক্রুদ্ধ করে তুলেছিল, স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল সারা বিশ্বও। সেই তখন থেকেই বিশ্বের মনোযোগ গাজার যুদ্ধ ও সেখানকার মানবিক সঙ্কটের দিকেই কেন্দ্রীভূত। গাজা ভূখণ্ডে হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া হিসেব অনুযায়ী সেখানে এ পর্যন্ত ৩৪,০০০ লোক নিহত হয়েছেন।

এর পাশাপাশি ওই একই সময়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ইসরাইলের সামরিক অভিযান বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে সেখানকার শিশুদের জন্য গত বছরটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর হিসেবে প্রতিপন্ন হয়েছে।

ইউনিসেফের তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালে সেখানে মোট ১২৪ শিশু নিহত হয়েছে– যার মধ্যে ৮৫ জনই মারা গেছে ৭ অক্টোবরের পর।

আর ২০২৪ সালে ওই অঞ্চলে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী বা সেনাবাহিনীর হাতে মোট ৩৬ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে।

পশ্চিম তীরকে যেহেতু ‘ওয়ার জোন’ বা যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে গণ্য করা হয় না, তাই আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সেখানে বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে আরো বেশি সংযম দেখানোর কথা।

আইডিএফের ‘রুলস অব এনগেজমেন্ট’টা আসলে ঠিক কী, সেটা তারা কখনো প্রকাশ করে না। তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সাবেক ও কর্মরত সদস্যরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, প্রাণঘাতী শক্তির ব্যবহারকে একটা ‘শেষ রাস্তা’ হিসেবেই দেখার কথা– যখন সৈন্যদের জীবনের ওপর সত্যিকারের ও আশু বিপদ থাকে। এক্ষেত্রে ‘অ্যাপ্রোচ’টা হওয়া উচিত পর্যায়ক্রমিক, বা ধাপে ধাপে।

তারা বলছেন, এটা শুরু হয় প্রথমে আরবি ও হিব্রু ভাষায় মৌখিকভাবে সতর্ক করার মধ্যে দিয়ে। তাতে না-হলে কাঁদানে গ্যাসের মতো প্রাণঘাতী নয়, এমন হাতিয়ার ব্যবহার করা হয়। তারপর পায়ে গুলি করা হয়, আর হত্যার জন্য গুলি চালানোটা একেবারে শেষ ধাপ।

পশ্চিম তীরে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে ইসরাইলের গুলিতে মারা গেছে, ২ থেকে ১৭ বছর বয়সী এমন মোট ১১২টি বাচ্চার মেডিক্যাল রিপোর্ট প্যালেস্টিয়ান অথরিটি পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুবাদে বিবিসি দেখতে পেয়েছে। এই সব গুলিচালনার ঘটনাগুলো ঠিক কী পরিস্থিতিতে ঘটেছে, তার সব আমরা জানতে না-পারলেও এটা খুবই সম্ভব যে কয়েকটি ক্ষেত্রে ইসরাইলি সৈন্যদের জীবনের ওপর সত্যিকারের হুমকি ছিল।

তবে আমাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এগুলোর মধ্যে ৯৮ ভাগ ক্ষেত্রেই আঘাত ছিল তাদের শরীরের উপরের অংশে, যেখানে গুলি লাগলে না বাঁচার সম্ভাবনাই বেশি। এর অর্থ হলো, এই ধরনের বেশির ভাগ ঘটনায় গুলিতে আহত করার বদলে প্রাণ কেড়ে নেয়াই ছিল সৈন্যদের উদ্দেশ্য।

ফলে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সৈন্যরা তাদের ‘রুলস অব এনগেজমেন্ট’ আদৌ অনুসরণ করছেন কি না এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী ধরনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা নিয়ে যথারীতি প্রশ্ন উঠছে।

পশ্চিম তীরে এই সামরিক অভিযানগুলোর কী প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে পাঁচ সপ্তাহ সময়কাল ধরে খতিয়ে দেখার পর আমরা এমন বহু ঘটনার প্রমাণ পেয়েছি, যা সেনাবাহিনীর আচরণ নিয়ে খুব গুরুতর প্রশ্ন তুলে দেয়।

২০২৪-এর জানুয়ারি মাসে তুলকার্ম শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলের একটি ৪৫ ঘণ্টাব্যাপী সামরিক অভিযানও বিবিসি প্রত্যক্ষ করেছে, যেখানে তারা একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আক্রমণের নিশানা করেছিল। স্থানীয়ভাবে ওই গোষ্ঠীটি ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স’ নামে পরিচিত।

ওই অভিযানের পর বহু ফিলিস্তিনি আমাদের বলেছেন, সৈন্যরা বন্দুকের নলের সামনে ধরে তাদের হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী জর্ডানে চলে যেতে বলেছে। আইডিএফ জানিয়েছে যে বেসামরিক লোকজনকে হুমকি দেয়া হয়েছে, এরকম কোনো অভিযোগ এলে তারা খতিয়ে দেখবে।

হেথাম নামে ১২ বছর বয়সী একটি কানাডিয়ান-ফিলিস্তিনি বাচ্চা ছেলে জানিয়েছে যে তাকে একজন ইসরায়েলি সৈন্য গলায় ছুরি ধরে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। হেথামের বাবা ও ভাইও তার এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন।

ওই ক্যাম্পে একটি পরিবারের বাসায় আমরা দেখেছি আল-আকসা মসজিদের একটি ম্যুরালকে ছিন্নভিন্ন করা হয়েছে– যেটি ইসরাইলি সৈন্যদেরই কাজ বলে তারা বলছেন। আল-আকসা মসজিদকে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম তীর্থস্থান বলে গণ্য করা হয়।

পাশের একটি দেয়ালে স্প্রে-পেইন্ট করে আঁকা ছিল ‘স্টার অব ডেভিডে’র চিহ্ন। আরেকটিতে হিব্রু ভাষায় লেখা ছিল ‘৭ অক্টোবর’– স্পষ্টতই হামাসের হামলার প্রসঙ্গ টেনে আনতে।

ইসরাইলের সামরিক বাহিনী বলেছে যে এই ধরনের ভ্যান্ডালিজম ‘আইডিএফ মূল্যবোধের পরিপন্থী’ এবং তারা তাদের সৈন্যদের কাছ থেকে এরকম আচরণ প্রত্যাশা করে না।

১২ বছর বয়সী হেথাম বলে যে সৈন্যরা তাদের বাড়িতে ‘সব কিছু’ ভেঙে খানখান করে দিয়েছে এবং ওই সৈন্যদেরই একজন তার গলায় ছুরি ধরে হুমকি দিয়েছে।

তাদের বাড়ির দোতলায় সব ছত্রখান করা হয়েছে, কিচেন ক্যাবিনেটগুলো ভেঙে চুরমার করা হয়েছে, বাচ্চাদের খেলনাগুলো ছুঁড়ে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে, টেলিভিশন সেটটাও আস্ত নেই। গোটা ক্যাম্প জুড়ে একটার পর একটা বাড়িতে হুবুহু এই একই দৃশ্য।

জেরুজালেমে ডায়াকোনিয়া ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটারিয়ান ল সেন্টারের সিনিয়র আইন বিশেষজ্ঞ ড: এইটান ডায়মন্ড বলছেন, ‘এই ধরনের ভ্যান্ডালিজম, যেমন দেয়ালে স্প্রে করে স্টার অব ডেভিড বা ‘৭ অক্টোবর’ আঁকা– এগুলো পরিষ্কার বেআইনি।’

তুলকার্ম ক্যাম্পে একটি শিশুর সামনে ছুরি ধরে, কিংবা আরো অনেককে বন্দুকের নলের সামনে যেভাবে হুমকি দেয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে– সেটাও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আইডিএফের ওই একই অভিযানে সৈন্যরা একজন সন্দেহভাজন ফিলিস্তিানি যোদ্ধাকেও গুলি করে মারে, যে হয়তো নিজের শরীরে বিস্ফোরক বহন করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা আমাদের বলেছেন, এরপর তার শরীরে মূত্রত্যাগ করা হয়, বারবার আঘাত করা হয় এবং শেষে বেঁধে ফেলে রাস্তা দিয়ে লাশটা টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিবিসিকে একটি বেঁধে ফেলা লাশের ছবিও দেখানো হয়েছিল। রক্তের দাগ লেগে থাকা ছবির ওই জায়গাটি ভালো করে খুঁটিয়ে দেখে আমরা দেখতে পাই কাপড়ের টুকরো আর তার তখনও সেখানেই পড়ে আছে। ছবিতে যে ধরনের জিনিস দিয়ে লাশটিকে বাঁধা হয়েছে, পড়ে থাকা জিনিসগুলোও তার সাথে মিলে যায়।

আমাদের এই সব সাক্ষ্যপ্রমাণও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের কাছে পেশ করা হয়। ইউনিভার্সিটি অব জেনেভা-তে আন্তর্জাতিক আইনের একজন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর মার্কো সাসোলি বলেন, ‘যদি ধরেও নিই একজনকে আইনসম্মতভাবেই হত্যা করা হয়েছে, তার পরেও নিহতের লাশকে অবশ্যই মর্যাদা দিতে হবে। আপনারা যা বলছেন সেটা আন্তর্জাতিক মানবিকতা আইনের লঙ্ঘন, এমন কী তা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়েও পড়তে পারে।’

আইডিএফ বলেছে, ওই নিহত যোদ্ধার লাশ পরীক্ষা করে তাতে বিস্ফোরক পাওয়া যায় এবং রেড ক্রেসেন্টের কর্মীরাও ওই লাশটি ছুঁতে অস্বীকার করে। ‘এই কারণেই আইডিএফ সেনারা নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং তার শরীরের নিচে আরো কোনো অস্ত্রশস্ত্র রাখা আছে কি না তা দেখতে তার হাত ও পা-দুটো বেঁধে ফেলতে বাধ্য হয়’, জানিয়েছে তারা।

যে সাবেক ইসরাইলি সেনারা বিবিসির এই সব সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করেছেন তাদের মধ্যে কয়েকজন বলেছেন, তারা এটা ভেবে আতঙ্কিত যে পশ্চিম তীরে আইডিএফ অভিযানের এই ধরনের সংস্কৃতি ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র প্রতিরোধকে আরো উসকে দেবে।

এদেরই একজনের কথায়, ‘ফিলিস্তিনিদের রোজ যেভাবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয়, তারপরও তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করে যাবে যেন কিছুই হয়নি– এবং এই বাস্তবতার মধ্যে বাস করা লোকগুলো হাতে অস্ত্র তুলে নেবে না– এটা ধরে নেয়াটা আসলে খুবই বোকার মতো চিন্তাভাবনা, আর সেটা মানবিকতার ভাবনা বিবর্জিতও বটে!’

অবস্থা আসলে ক্রমশই আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে!’
সূত্র : বিবিসি

কেমন হতে পারে বাংলাদেশের একাদশ

সাকিব আল হাসান থাকছেন না নিশ্চিতভাবেই, মোস্তাফিজুর রহমানকেও দেয়া হয়েছে বিরতি। এমতাবস্থায় কেমন হবে বাংলাদেশের একাদশ, তা নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। সৌম্য সরকারের অনুপস্থিতিতে ইনিংস উদ্বোধন করবেন কে, তা নিয়েও আছে প্রশ্ন। উত্তর পেতে অবশ্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে টস পর্যন্ত।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ টি-টোয়েন্টির সিরিজ শুরু হচ্ছে আজ। প্রতিপক্ষ সহজ হলেও বেশ কঠিন লক্ষ্য বাংলাদেশের সামনে। বিশ্বকাপের আগে দলের সমন্বয় ঠিক করতে শেষ সুযোগ বলা যায় এই সিরিজকেই। সিরিজের প্রথম ম্যাচে সন্ধ্যা ৬টায় মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে বড় প্রশ্ন, লিটন দাসের সাথে ইনিংস উদ্বোধন করবেন কে? তানজিদ তামিম নাকি পারভেজ ইমন? তানজিদ এখন পর্যন্ত ১৫টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেললেও টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়নি তার। ইমনের অভিষেক হলেও এক ম্যাচেই থমকে আছে তার ক্যারিয়ার।

মিডল অর্ডারে ফের দেখা মিলতে পারে আফিফ হোসেনের। কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়া এই ক্রিকেটারের বড় সুযোগ নিজেকে প্রমাণের। সুযোগটা এসেছে সাকিব আল হাসান না থাকায়। বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতে হলে যা লুফে নেয়া ছাড়া বিকল্প নেই তার সামনে।

প্রায় দেড় বছর পর একাদশে ফিরতে পারেন সাইফুদ্দীন। একজন পেস অলরাউন্ডারের অভাব পূরণ করা সাইফ মাত্র লড়াই করে ফিরেছেন চোটের সাথে। জিম্বাবুয়ে সিরিজ দিয়েই তাই জাতীয় দলে জায়গাটা আবার পাকাপোক্ত করতে হবে তার। একই কথা তানভীর ইসলামের জন্যেও।

তাছাড়া জাকের আলি, রিশাদ হোসেন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা তো একাদশে নিশ্চিত বলা যায়। তাওহীদ হৃদয়, শরিফুল ইসলামরাও আছেন যেই তালিকায়।

যেমন হতে পারে সম্ভাব্য একাদশ :
লিটন দাস, তানজিদ তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, জাকের আলি, সাইফুদ্দীন, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, তানভীর ইসলাম।

যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা করছে মার্কিন ভোটারদের ৪১ শতাংশ

মার্কিন মোট ভোটারের সম্ভাব্য ৪১ শতাংশ বিশ্বাস করেন, যুক্তরাষ্ট্র আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি নতুন গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি হতে পারে। তাদের মধ্যে ১৬ শতাংশ বলেছেন, দৃশ্যকল্প ‘খুবই সম্ভবত’ এমনই।

বৃহস্পতিবার রাসমুসেন রিপোর্টস প্রকাশিত একটি মতামত জরিপে এই কথা বলা হয়।

এ দিকে, ৪৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন না যে আগামী পাঁচ বছরে আরেকটি গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি ১০ শতাংশ এই বিষয়ে নিশ্চিত নয়।

জরিপে আরো দেখা গেছে, ৩৭ শতাংশ ভোটার বিশ্বাস করেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পুনরায় নির্বাচিত হলে আরেকটি গৃহযুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে, ২৫ শতাংশ মনে করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হলে পরিস্থিতি আরো বেশি খারাপ হবে।

উল্লেখ্য, এই বছরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট প্রদানের পরিকল্পনা করেছেন এমন এগারো শ’ জনেরও বেশি উত্তরদাতার মধ্যে ২১ থেকে ২৩ এপ্রিল এ জরিপটি চালানো হয়েছিল।

আগামী ৫ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে রিপাবলিকান মনোনয়নে জয়ী হয়েছেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য বাইডেন ডেমোক্র্যাটদের প্রার্থী হিসেবে ভোটে অংশগ্রহণ করছেন। স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনী প্রতিযোগিতা চার বছর আগের মতোই হবে।

সূত্র : বাসস

সরকারকে চাপে ফেলতে বিএনপি নিজেরাই চাপে আছে : ওবায়দুল কাদের

বিএনপি নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সরকারকে চাপে ফেলতে গিয়ে নিজেরাই চাপে আছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘যারা আমাদেরকে চাপে রাখতে চেয়েছিল, তারাই এখন চাপে আছে। কারণ, আরব বসন্তের ছোঁয়া আটলান্টিকের ওপারেও লেগেছে। ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

শুক্রবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচন ঠেকাতে গিয়ে আন্দোলনের নামে সারাদেশে যে ভয়-ভীতি সৃষ্টি করেছিল, সে কারণেই জনগণ তাদের পাশে নেই। বিএনপি নোতারা ঝিমিয়ে পড়েছে। কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আইনের ফাঁদে আটকা। তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এ মামলায় তার সাজা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দয়াতে তিনি বাসায় আছেন। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ মামলা করেনি। বিএনপির নেতাকর্মীরা বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করতেও ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠার৭৫ বছর আমরা ব্যাপকভাবে উদযাপন করব। আগামী ১৭ মে আমাদের নেত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সারাদেশে কর্মসূচি পালন করব।’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক ও এস এম কামাল হোসেন, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : বাসস

দুই বাংলাদেশিকে হত্যা: অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে বাফেলো পুলিশ

ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরে দুর্বৃত্তের বন্দুকের গুলিতে দুই বাংলাদেশির হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে বাফেলো পুলিশ। সোমবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে বাফেলো সিটি কোর্টে আদালতে হাজির করা হয়। স্থায়ী ঠিকানাহীন ৩১ বছর বয়সী ডেল ও. কামিংসের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারে হত্যাকান্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে৷ শুনানির পর আগামী শুক্রবার পর্যন্ত জামিন ছাড়াই আটক রাখার নির্দেশ দেন বিজ্ঞ বিচারক।
গত শনিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাফেলোর ইস্ট ফেরি ও জেনার স্ট্রিটের ১০০ ব্লকে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার আবু সালেহ মোঃ ইউসুফ জনি (৫৩)ও কুমিল্লার লাঙ্গলকোর্টের বাবুল মিয়া (৫০) নামের দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে ওই দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে বাফেলো শহর।
রোববার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে ফিলমোর জামে মসজিদের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে এসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের তোপের মুখে পড়েন বাফেলো সিটি মেয়র বাইরেন ডাব্লিউ ব্রাউন ও বাফেলো পুলিশ কমিশনার জোসেফ গোমালিয়া। প্রবাসীদের প্রশ্নের জবাব দিতে না পেরে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
বাফেলো পুলিশ বিভাগ জেনার স্ট্রিটে গুলি চালানোর রিপোর্টের প্রতিক্রিয়ায় জানান, যে বাবুল মিয়া এবং আবু ইউসুফ নামে দুই ব্যক্তিকে জেনার স্ট্রিট বাড়িটি একটি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বিক্রি করার আগে পরিষ্কার করার জন্য ভাড়া করা হয়েছিল। ওই ব্যক্তিরা যখন বারান্দায় পৌঁছায়, তখন ভেতরে থাকা এক বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি গুলি চালায় এবং দুজনকেই গুলি করে। একজন পুরুষকে বারান্দায় পাওয়া যায় এবং ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। অন্যজনকে রাস্তায় পাওয়া যায় এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন যে শ্যুটারটি তখনও বাড়ির ভিতরে ছিল, শহরের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট টিম এবং একটি সোয়াট টিমকে চার ঘন্টার স্থবিরতার জন্য প্ররোচিত করেছিল। কিন্তু পুলিশ ও সোয়াট টিম যখন বাড়িতে প্রবেশ করে, তখন সেটি খালি। বেশ কয়েক ঘন্টা পরে, পুলিশ প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ফুটেজে অ্যাক্সেস পেয়েছে যা প্রকাশ করেছে যে কর্মকর্তারা এটিকে ঘিরে ফেলার আগেই শ্যুটারটি বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।
সোমবার, বাফেলোর পুলিশ কমিশনার জোসেফ গ্র্যাগম্যাগলিয়া বলেন, যে বাড়ির অসংখ্য আইটেম পুলিশকে তাদের তদন্তে সহায়তা করেছে এবং কামিংসকে সনাক্ত করতে সহায়তা করেছে। পুলিশের মতে, বাড়িতে পাওয়া একটি কোণার দোকান থেকে একটি রসিদ তাদের একটি পরিষ্কার নজরদারি চিত্র খুঁজে পেতে সাহায্য করতে সক্ষম হয়েছিল। তারপরে তারা সম্প্রদায়ের সাহায্যে তাকে হেফাজতে নিতে সক্ষম হয়েছিল।
গ্রামাগ্লিয়া বলেন, কামিংসের কাছে একটি ৯ মিমি লম্বা রাইফেল ছিল যা অর্ধেক ভেঙে পড়ে এবং এটি একটি ব্যাগে সহজেই লুকানো যায়। 
এরি কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নি অফিস বলেন, কামিংসকে ডিপুটি এটর্নির (ডিএ) অনুরোধের পরে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন ডিএ বলেছেন যে শুক্রবার অপরাধমূলক শুনানির উদ্দেশ্য হল আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা যে কামিংস প্রশ্নে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের অধিকারী। এটি তাকে হেফাজতে রাখার অনুমতি দেবে।
হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলমান রয়েছে এবং জেলা অ্যাটর্নির অফিস তার অংশীদারদের সাথে কাজ চালিয়ে যাবে। অদূর ভবিষ্যতে সে ক্ষেত্রে উন্নয়ন আশা করেন তিনি৷
বাফেলোর মেয়র বায়রন ব্রাউন বলেন, পুরুষদের টার্গেট করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। নিহতদের একজনের স্ত্রী সন্তান সম্ভাবা একটি শিশুসহ দুই সন্তানের পিতা, অন্যজন সাত সন্তানের পিতা।

উত্তর ইসরাইলে হামাসের রকেট হামলা

উত্তর ইসরাইলে রকেট হামলা চালিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। সোমবার সংগঠনটির টেলিগ্রাম চ্যানেলে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

জেরুসালেম পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলের একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ২০টিরও বেশি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেড।

ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, উৎক্ষেপিত রকেটের প্রায় ১৩টি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অন্যগুলো উন্মুক্ত জায়গায় পড়েছিল। তবে এই হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়-ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

খবরে আরো বলা হয়েছে, আইডিএফ দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে হামলার পর রাতারাতি একাধিক হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছিল দলটি। এর পরপরই এই হামলার হয়।

সূত্র : জেরুসালেম পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রে শতাধিক টর্নেডোর আঘাত

যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার কিছু এলাকা ও নিকটবর্তী গ্রেইট প্লেইন্স রাজ্যগুলোতে শতাধিক টর্নেডো আঘাত হেনেছে। এতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ কথা জানিয়েছে।

ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানায়, শুক্রবার মূলত নেব্রাস্কা ও আইওয়ায় ৭৮টি টর্নেডো আঘাত হেনেছে। এছাড়া টেক্সাসের উত্তরাঞ্চল এবং ওকলাহোমা থেকে মিসৌরি পর্যন্ত আরো ৩৫টি টর্নেডোর আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে।
এসব টর্নেডোর কারণে কিছু কিছু এলাকায় ১৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে রোববার আকস্মিক বন্যা, শিলাবৃষ্টি ও আরো টর্নেডোসহ ভয়াবহ আবহাওয়া অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়েছে।

ওকলাহোমার দক্ষিণ মধ্যাঞ্চলের সুলফুরে শনিবার ভয়াবহ টর্নোডো আঘাত হানে। এতে বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ওকলাহোমার গভর্নর কেভিন স্টিট রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, টর্নেডোর কারণে রাজ্যজুড়ে চারজন প্রাণ হারিয়েছে।

তিনি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি অঞ্চলে মানবিক সহায়তা ত্বরান্বিত করতে ৩০ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

এদিকে আইওয়ায় শুক্রবার টর্নোডোর আঘাতে আহত এক ব্যক্তি হাসপাতালে মারা গেছে। তার পরিবার এ কথা জানিয়েছে।

টর্নেডোর আঘাতের কারণে রোববার বিকেল পর্যন্ত টেক্সাসের ২৫ হাজার বাড়িঘর এবং ওকলাহোমার ১৯ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের এ অঞ্চলে প্রতি বসন্তেই প্রায়ই টর্নেডো আঘাত হেনে থাকে। তবে এবারের মতো এতো বেশি টর্নোডোর আঘাত হানার বিষয়টি ব্যতিক্রম।
সূত্র : বাসস

দেশ থেকে আইনের শাসন উধাও হয়ে গেছে : মির্জা ফখরুল

বর্তমানে দেশ থেকে আইনের শাসন ও সুশাসন উধাও হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় অন্যায়ভাবে সাজাপ্রাপ্ত যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর জামিন নামঞ্জুর ও কারাগারে প্রেরণ, মিথ্যা মামলায় বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম ওবায়দুল হক নাসিরের জামিন নামঞ্জুর ও কারাগারে প্রেরণ, হাইকোর্টের জামিন শেষে আজ কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদসহ অন্যান্য নেতাদের জামিন নামঞ্জুর ও কারাগারে প্রেরণ এবং রাজশাহী জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক ছাত্রনেতা সাদ্দাম হোসেনের জামিন নামঞ্জুর ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এ বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ৭ জানুয়ারী ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী এখন আরো বেশি মাত্রায় বেপরোয়া, কতৃর্ত্ববাদী ও জুলুমবাজ হয়ে উঠেছে। অবৈধ রাষ্ট্রক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ গণতন্ত্রমনা বিরোধী দল এবং ভিন্ন মত ও পথের মানুষদের ওপর দমনপীড়নের খড়গ নামিয়ে এনেছে দখলদার সরকার।
জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা চলমান আওয়ামী দমনপীড়নেরই ধারাবাহিকতা।

তিনি বলেন, বিরোধী নেতা-কর্মীদের কারাগারে পাঠানোর মাধ্যমে গোটা দেশটাকে বন্দীশালা বানানো হয়েছে। বর্তমানে দেশ থেকে আইনের শাসন ও সুশাসন উধাও হয়ে গেছে বলেই গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অংশগ্রহণরত নেতা-কর্মীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দেশে এক সর্বগ্রাসী অরাজকতার ডালপালা বিস্তারলাভ করেছে। আওয়ামী অবৈধ শাসকগোষ্ঠী তাদের দুঃশাসন প্রলম্বিত করতেই শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র ভীতি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে।

সরকারের মদদে বিরোধী নেতা-কর্মীদেরকে মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশী সাজা প্রদানসহ জামিন নামঞ্জুরের মাধ্যমে কারান্তরীণ করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম ওবায়দুল হক নাসিরসহ উল্লিখিত নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির জোর আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

বিএনপি দিন দিন সাংগঠনিকভাবে আরো দুর্বল হচ্ছে : কাদের

জনকল্যাণের রাজনীতি বাদ দিয়ে অপকৌশল গ্রহণ করায় বিএনপি দিন দিন সাংগঠনিকভাবে আরো দুর্বল হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিবৃতির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতেই এই বিবৃতি প্রদান করা হয়।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে গণরাজনীতিতে নতুন কোনো মাত্রা যোগ করতে পারছে না। তাই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিয়মিতভাবে গণমাধ্যমে একই গীত গেয়ে চলেছেন; প্রতিনিয়ত অত্যাচার-নির্যাতনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন গল্পের অবতারণা করছেন।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের জন্য রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচি দেয়ার ব্যর্থতা ঢাকার জন্য তারা এই অপকৌশল অবলম্বন করছে। সন্ত্রাসী দল বিএনপি নেতারা নিজেদের অত্যাচারিত-নির্যাতিত দেখিয়ে ‘সিম্প্যাথি কার্ড’ খেলার অপচেষ্টা করছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার সুদৃঢ় অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আছে। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা এবং তাদের নেতৃবৃন্দ সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার সরকারকে স্বীকৃতি প্রদান করেছেন।

তিনি বলেন, এখন অস্তিত্ব সঙ্কটে থাকা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া বিএনপি সরকারের অস্তিত্ব নিয়ে কথা বলছে! বিএনপি কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট একটি রাজনৈতিক দল। বিএনপির নেতৃবৃন্দ টিকে থাকার জন্য সর্বদা মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে রাজনীতিতে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরির অপচেষ্টা চালায়।

কাদের বলেন, বিএনপি নেতৃবৃন্দের বোঝা উচিত, বিরোধী দল নয় বরং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কাজ করতে হয়। সুতরাং নিজেদের নেতাকর্মীদের রাষ্ট্রবিরোধী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে নিবৃত্ত রাখাটাই বিএনপির জন্য শ্রেয় হবে।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে। জনগণের সেবা করাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির মূলনীতি। আওয়ামী লীগ সবসময় শাসন-শোষণ ও জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করেছে।