নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল ডিস্ট্রিক ১৩তে বসবাসরত বাংলাদেশী কমুনিটি সংগঠন বাংলাদেশী এলায়েন্স অফ নর্থইস্ট ব্রনক্স (বিএএনবি) স¤প্রতি বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে তহবিল সংগ্রহের আয়োজন করে। মরিস পার্ক মদিনা মসজিদ প্রাঙ্গনে আয়োজিত এই উদ্যোগে অনেক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। বিশেষত বাঙালি কমিউনিটি ছাড়াও পাকিস্তানী, আরব এবং আফ্রিকান মুসল্লিরা মুক্তহস্তে দান করেন। পরে সংগ্রহনকৃত অনুদান মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা (মুনা) পার্কচেস্টার চ্যাপ্টারে প্রদান করা হয়। মুনা তাদের মানবিক শাখা নাহারের মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সরবরাহ এবং পূর্ণবাসন কর্মসূচিতে এই অনুদান ব্যয় করবে। বিএএনবির প্রেসিডেন্ট মামুন আলী সংগ্রহনকৃত অর্থ মুনার নর্থ জোনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামানের কাছে হস্তান্তর করেন। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএএনবি উপদেষ্টা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এজাজ হোসাইন, উপদেষ্টা জিয়াউস শামস চৌধুরী, উপদেষ্টা আনোয়ারুল হক, পরিচালনা বোর্ডের সদস্য ইমতিয়াজ চৌধুরী এবং মুস্তাফিজুর চৌধুরী।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের জাতিসংঘে আগমনের প্রতিবাদে জেএফকে এয়ারপোর্ট ও জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি
জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আগমনের প্রতিবাদে জেএফকে এয়ারপোর্ট এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন। ১৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে নবান্ন পার্টি হলে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে ২২ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুর ২টায় জেএফকে বিমানবন্দরে এবং ২৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ১১টায় জাতিসংঘের সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করার কথা জানান হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান মিয়া, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বাবু, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা সোলায়মান আলী, আব্দুল হামিদ, আশরাফ উদ্দিন, সাহানারা রহমান, এ কে এম তারিকুল হায়দার চৌধুরী, শাহনাজ মমতাজ, এইচ এম ইকবাল, সৈয়দ কিবরিয়া জামান, প্রকৌশলী বাহার খন্দকার সবুজ, পান্না, খান শওকত, যুবলীগ নেতা সেবুল মিয়া প্রমুখ। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ৫ই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ও ৩০ লাখ শহিদের রক্তে রঞ্জিত অর্জিত স্বাধীনতা অস্বীকার করে শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে হাতিয়ার হিসেবে অসাংবিধানিক ভাবে জোরপূর্বক অন্তর্বর্তীকালীন দখলদার সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূস দেশে নৈরাজ্য ও পৈশাচিক হত্যাকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। গতকালও (১২ সেপ্টেম্বর) ৫ জনকে গ্রেফতার করে দু’জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ড. ইউনূস এযাবত পাঁচ হাজারের অধিক পুলিশ/ছাত্র/সংখ্যালঘু/সাধারণ মানুষ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী হত্যা এবং আনুমানিক দশ হাজার নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করেছে বা মামলা দায়ের করেছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেশের জনগণ শান্তিতে বসবাস করতে পারছে না। অনির্বাচিত অবৈধ দখলদার সরকারের দমন নীতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে দেশে আইন বিচার বলে কিছুই নেই।
পশ্চিমা দেশগুলোর মত ড. মুহাম্মদ ইউনূস জনগণ বিচ্ছিন্ন সর্বোচ্চ ব্যাংক সুদের সফল ব্যবসায়ীদের একজন। দেশ পরিচালনায় কোন ধরনের দক্ষতা তার নেই। নিজেই বলেছেন ছাত্ররা তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। তাই স্বাভাবিকভাবে জনগণের নিকট তার কোন দায়বদ্ধতা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের প্রচলিত নিয়ম আইন ভঙ্গ করে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে স্কুল শিক্ষকদের ছাত্রদের দ্বারা পদত্যাগে বাধ্য করার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুমহে অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের অবস্থা আরও করুণ। ডিসিরা পর্যন্ত সচিবালয়ে ব্যায়াম করা শুরু করেছে। যা স্বাধীনতার ৫৩ বছরে ঘটেনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের সংবিধান লঙ্ঘন করে জনগণের ম্যান্ডেট না নিয়ে অবৈধভাবে ছাত্রদের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করার যে কোন মানদন্ডে আইনগত বৈধতা নেই। দেশে হাজার হাজার শহিদের রক্তের উপর পা দিয়ে অবৈধ প্রধান উপদেষ্টার আসন্ন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করা সমীচীন হবে না। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণা প্রকাশ করেছি। যদি অবৈধ প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আসেন তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ ২২ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুর ২টায় জেএফকে বিমানবন্দরে এবং ২৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ১১টায় জাতিসংঘের সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অবৈধ সরকারের অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক, গণহত্যা ও দেশব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টির বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
নিউইয়র্কে সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত
৭১’র মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার ভিত্তিমূলে সার্বক্ষণিক অবস্থান নেয়ার প্রত্যয় উচ্চারিত হয়েছে নিউইয়র্কে। এসময় ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের চেতনায় উজ্জীবিত সমাজ ব্যবস্থা অক্ষুন্ন রাখা এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতকে ধারণ করে রাষ্ট্রচিন্তাকে বেগবান করার অঙ্গিকার করা হয়।
নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় ৮ সেপ্টেম্বর রোববার বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত চলা সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসীরা এমন সংকল্প ব্যাক্ত করেন। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক কর্মী, শহীদ পরিবারের সন্তান, সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার প্রবাসী বাংলাদেশীরা অংশগ্রহণ করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুন নবী, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী বীর মুক্তিযোদ্ধ রথিন্দ্র নাথ রায় ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শিল্পী তাজুল ইমাম এই কর্মসূচী আহবান করেন। অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের সাথে বিপুল সংখ্যক শিশু কিশোর লাল সবুজের পতাকা হাতে অংশ নেয়। এসময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে “ তুমি কে, আমি কে? বাঙালী, বাঙালী” “মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, রাজাকারের ঠাঁই নাই” “তুই রাজাকার, তুই রাজাকার” প্রভৃতি শ্লোগান লিখা প্ল্যাকার্ড শোভা পায়। ডাইভারসিটি প্লাজার খোলা চত্বরে বিকালে জাতীয় পতাকাকে বেষ্টন করে এবং হাতে হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা অবস্থান নেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিল্পী তাজুল ইমাম, এ্যানী ফেরদৌসের নেতৃত্বে বিপার শিল্পীরা, দিনাত জাহান মুন্নি, মাহবুব, লুৎফুন নাহার লতা, জলি কর, মুমু আনসারী, অর্ঘ্য সারথীর সহ উপস্থিত শিল্পীদের সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনে মুখরিত হয়ে উঠে জ্যাকসন হাইটস। লুৎফুন নাহার লতার কন্ঠে সৈয়দ সামছুল হকের কালজয়ী কবিতা “নুরুলদীনের সারাজীবন” আবৃত্তি উপস্থিত সবাইকে আপ্লুত করে।
একে একে আবৃত্তি করেন সাবিনা নিরু, মঞ্জুর কাদের, শুক্লা রায়সহ আরো অনেকে। অঙ্গীকারনামা পাঠ করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সংগঠক মিথুন আহম্মেদ। সহযোগীতায় ছিলেন গোপাল স্যানাল।
মিনহাজ আহম্মেদের পরিচালনায় দুই ঘন্টার এই অনুষ্ঠানে সমবেত কন্ঠে কয়েকবার জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। শিল্পীরা একে একে জয় বাংলা বাংলার জয়, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিবোরে, শোন একটি মুজিবরের কন্ঠে লক্ষ মুজিবরের কন্ঠ- সহ বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।
নিউইয়র্ক সফরকালীন ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নাগরিক সংবর্ধনা দিতে চায় বাংলাদেশ সোসাইটি
জাতিসংঘের এবারের ৭৯তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রোববার নিউইয়র্ক আসছেন বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকার প্রধান নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই সফরকালীন সময়ে তিনি আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্ক অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে। তাঁর নিউইয়র্ক সফরকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের ‘মাদার সংগঠন’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ সোসাইটি, নিউইয়র্ক একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে ড. ইউনূসকে নাগরিক সংবর্ধনা দিতে চায়। সোসাইটির দাবী ড. ইউনূস একজন বিশ্ব বরণ্যে সম্মানীত এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তি। তাই প্রবাসীদের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধিত করার দাবীদার বাংলাদেশ সোসাইটি। এজন্য সোসাইটির সকল প্রস্তুতি রয়েছে বলেও সংগঠনের কর্মকর্তারা দাবী করেছেন। শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সিটির এলমহার্মস্টস্থ সোসাইটির নিজস্ব অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকী। এরপর সভাপতি মোহাম্মদ রব মিয়া লিখিত বক্তব্যে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এসময় সোসাইটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহীম হাওলাদার সহ সোসাইটির অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে সহ সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ নওশেদ হোসেন এবং প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুর রব মিয়া লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রতি বছরই সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের সরকার প্রধান যোগ দেন। অন্যান্য বছরগুলোতে রাজনৈতিক সরকার থাকায় সরকার প্রধানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে সংশ্লিষ্ট দলের মাধ্যমেই তাদের সফর সংμান্ত সব আয়োজন করা হয়। এমনকি সংবর্ধনার আয়োজনও করা হয় দলীয়ভাবে। এতে বিপুল সংখ্যক সাধারণ প্রবাসী তাদের দাবি-দাওয়া ও মনের কথা সরকার প্রধানের সামনে বলার সুযোগ কখনোই পান না। রাজনৈতিক দলের প্রবাসী নেতা-কর্মীরা তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে ব্যাস্ত থাকায় প্রবাসীদের সাধারণ সমস্যা ও সম্ভাবনার কথাগুলো সরকার প্রধান জানতেই পারেন না, ফলে সেগুলোর সমাধানও বছরের পর বছর হয়নি।
আব্দুর রব মিয়া বলেন, বর্তমানে পরিবর্তিত একটি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকার ছাত্র-জনতার দাবি অনুযায়ী- রাষ্ট্র সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছে। সেই সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, বিশ^ বরেণ্য ব্যক্তিত্ব নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ২২-২৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন। তাঁর এই সফর অন্যান্য সরকার প্রধানের সফরের চেয়ে একেবারেই ভিন্ন। আমরা আশা করছি- নিরপেক্ষ, নির্দলীয় এই সরকারের প্রধানের কাছে সকল প্রবাসী বাংলাদেশী তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত মনের কথাগুলো সহজে বলার সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশ সোসাইটিও সকল প্রবাসী বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকে সেই সুযোগটি গ্রহণ করতে চায়।
রব মিয়া বলেন, আমরা সকল প্রবাসীদের আমব্রেলা সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ সোসাইটির পক্ষ থেকে এবারের নাগরিক গণ-সংবর্ধনার আয়োজন করতে আগ্রহী। যেহেতু এখন রাজনৈতিক সরকার নেই, তাই প্রবাসী রাজনৈতিক দলের শাখা কর্তৃক আয়োজনের ব্যাপারও নেই। আর এর মাধ্যমে আমরা প্রবাসীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও সমস্যা, সম্ভাবনা এবং রাষ্ট্র সংস্কারে প্রবাসীদের বিভিন্ন বিষয় আমরা সরাসরি সরকার প্রধানের সামনে তুলে ধরতে চাই।
প্রসঙ্গত তিনি বলেন, বাংলাদেশের সা¤প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগগ্রস্তদের জন্য বাংলাদেশ সোসাইটি প্রাথমিকভাবে ৩০ লক্ষ টাকার একটি তহবিল প্রদান করেছে। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সেই স্মারকও প্রধান উপদেষ্টার হাতে হস্তান্তর করতে চাই। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কারের যে উদ্যোগ প্রধান উপদেষ্টা ও তাঁর সরকার নিয়েছেন তার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে প্রবাসীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ে সংস্কার প্রস্তাব সংμান্ত একটি স্মারকলিপিও আমরা তাঁর হাতে হস্তান্তর করতে চাই।
আব্দুর রব মিয়া বলেন, আমরা বাংলাদেশ সোসাইটির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থয়ী মিশন, নিউইয়র্ক কনস্যুলেট এবং প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে যোগাযোগ শুরু করেছি। সবশেষে তিনি সোসাইটির আয়োজনে ড. ইউনূসের নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজনে গণমাধ্যম সহ সকলের সহযোগিতা ও ভূমিকা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকী বলেন, সবাই সহযোগিতা করলে সোসাইটি এককভাবেই বাংলাদেশের সরকার প্রধান ড. ইউনূসকে নাগরিক সংবার্ধনার আায়োজন করবে। এজন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে এবং অর্থেরও কোন সমস্যা হবে না।
এক প্রশ্নের উত্তরে সভাপতি আব্দুর রব মিয়া বলেন, আমরা এককভাবেই ড. ইউনূসকে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে সংবর্ধিত করতে চাই। এজন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাস, জাতিসংঘের স্থায়ী মিশন ও বাংলাদেশ কনসুলেটের সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করেন। প্রসঙ্গত তিনি আরো বলেন যে, সরকারের নির্দেশে যদি দূতাবাস-মিশন ও কনস্যুলেট ড. ইউনূসের সংর্বধনার আয়োজন করে যে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সোসাইটির সম্মানজনক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করতে চায়।
আব্দুর রহীম হাওলাদার বলেন, বাংাদেশ সোসাইটির প্রবাসী বাংলাদেশীদের অরাজনৈতিক সংগঠন। তাই নির্দলীয় সরকার প্রধান হিসেবে আমরা সোসাইটির পক্ষ থেকেই ড. ইউনূসের সংবর্ধনা আয়োজন চাই। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে ‘নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক’ রুটে বিমান চালুর বিষয়টি শুধু আশ্বাসের মধ্যেই ছিলো। আমরা আশা করছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিমান চালু সহ প্রবাসীদের অন্যান্য সমস্যারও সমাধান করবেন।
পেনসিলভেনিয়ায় বাংলাদেশ প্যারেড ও মেলা অনুষ্ঠিত
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ার আপার ডার্বিতে গত ৭ই সেপ্টেম্বর শনিবার বাংলাদেশ সোসাইটি অব পেনসিলভেনিয়ার আয়োজনে বাংলাদেশ প্যারেড ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সোসাইটি অব পেনসিলভেনিয়া (বি.এস.পি) সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল। সহযোগিতা করেছে বেসাপ, বিসিপি, কোম্পানীগঞ্জ, হবিগঞ্জ, বৃহত্তর কুমিল্লা, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, সিলেট সদর, বৃহত্তর রংপুর, নরসিংদী, এবং কুষ্টিয়া-পিএ। সংগঠনগুলোর প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে মেলার উদ্বোধন করেন সংগঠনের সভাপতি এ.বি.এম. আলতামাস বাবুল, সাধারণ সম্পাদক সাইদুজ্জামান ডেনী এবং প্রধান অতিথি বারী গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আসেফ বারী টুটুল।
বাংলাদেশি প্যারেড ও মেলাকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মেতে ওঠেন। এই প্যারেড ও মেলায় ঐতিহ্য, কেনাকাটা, আড্ডা ও আনন্দের মাধ্যমে এক বিশাল সমাবেশ ঘটে। বৃষ্টির পরেও প্যারেড থামেনি। দুপুর ১:৩০-এ আপার ডার্বির খামারবাড়ি পার্কিং লট থেকে প্যারেড শুরু হয়ে ৬৯ স্ট্রিটের আপার ডার্বি সিটি প্লে গ্রাউন্ডে শেষ হয়। সাজানো গাড়ি ও বাদ্যযন্ত্রসহ প্রবাসীরা উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেন। বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটি ফোরাম অব পেনসিলভেনিয়ার অংশগ্রহণ ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
বিকেলে আপার ডার্বি সিটির প্লে গ্রাউন্ড মেলা প্রাঙ্গণে পরিণত হয়। প্রবাসী বাংলাদেশিরা দলবেঁধে মেলায় যোগ দেন। পেনসিলভেনিয়ার পাশাপাশি নিউজার্সি, ডেলাওয়ার, মেরিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, এবং নিউইয়র্ক থেকেও প্রবাসীরা অংশগ্রহণ করেন। মেলায় বুটিক, মৃৎশিল্প, হস্তশিল্প, পোশাক ও জুয়েলারিসহ বিভিন্ন পণ্যের স্টল ছিল। দেশীয় খাবারের দোকানগুলোও ক্রেতাদের মন জয় করে নেয়।
বিনোদন আয়োজনে স্থানীয় শিশু শিল্পীদের গান ও নাচের পাশাপাশি বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। আকর্ষণীয় লটারি ড্রতে ছিল স্বর্ণের বার, ল্যাপটপ, এবং টেলিভিশনসহ আকর্ষণীয় পুরস্কার।
অনুষ্ঠানের ইভেন্ট প্রডিউসার ছিল কালচারাল ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর “সপ্তক সঙ্গীত নিকেতন,” এবং মিডিয়া পার্টনার ছিল “বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটি ফোরাম অব পিএ।
বাংলাদেশ সোসাইটি অব পেনসিলভেনিয়াকে ধন্যবাদ, যারা এমন সুন্দর একটি প্যারেড ও মেলার আয়োজন করেছে। আশা করি ভবিষ্যতেও তারা আরও সুন্দর আয়োজন করবে।
অবশেষে সালমান খানের সঙ্গে ‘গোপন বিয়ে’ ইস্যুতে মুখ খুললেন ঐশ্বরিয়া!
বলিউডের ‘ভাইজান’ খ্যাত সালমান খানের সঙ্গে ‘গোপন বিয়ের’ খবর গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রায়। বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই খবরকে ভিত্তিহীন বলেছেন তিনি। সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানভিত্তিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, মুম্বাইয়ের লোনাভালার একটি বাংলোতে গোপনে বিয়ের অনুষ্ঠান সেরেছেন সালমান ও ঐশ্বরিয়া।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঐশ্বরিয়া রায় বিয়ের জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। যা অভিনেত্রী পরিবারের কাছে গোপন রেখেছেন।
গুজব ছড়িয়েছে, সালমান ও ঐশ্বরিয়া এমনকি নিউইয়র্কে গোপন হানিমুনে গিয়েছিলেন। বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে এমন জল্পনা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে ঐশ্বরিয়ার ক্যারিয়ারে।
এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া বলেছেন, ‘(বিয়ের) খবরটি সত্য হলে, ইন্ডাস্ট্রি এটি সম্পর্কে জানত, কারণ এটি একটি ছোট পৃথিবী। আমি এমন কেউ নই যে আমার বিয়ে লুকিয়ে রাখবো।’
গত কয়েক মাস ধরে এমন জল্পনাই চলছে, সাবেক বিশ্বসুন্দরী ও বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রায়ের সঙ্গে তার স্বামী অভিনেতা অভিষেক বচ্চনের দাম্পত্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
কেন কাজলকে সহ্য করতে পারতো না শাহরুখপুত্র আব্রাম?
শাহরুখ খানের কনিষ্ঠ পুত্র আব্রাম খান নাকি কাজলকে সহ্য করতে পারত না। দেখলেই রেগে যেত। এ দিকে বাবার সঙ্গে পর্দায় অন্যতম ভাল রসায়ন যে নায়িকার সঙ্গে, তিনি কাজল। তবু, কাজলকে কেন এত অপছন্দ করত ছোট্ট আব্রাম? নেপথ্যের কাহিনী ফাঁস করলেন শাহরুখ নিজেই। যদিও আব্রামের কাজলকে অপছন্দ করার পিছনে রয়েছে রোহিত শেট্টির হাত।
২০১০ সালে মুক্তি পায় ‘মাই নেম ইজ খান’। পাঁচ বছর পর ফের ‘দিলওয়ালে’ ছবিতে জুটি বেঁধেছিলেন শাহরুখ-কাজল। বক্স অফিসেও সাফল্যের মুখ দেখেছিল রোহিত শেট্টির এই ছবি। সেই ছবিতেই বাবাকে কাজলের সঙ্গে দেখলে রেগে যেত আব্রাম। ঘটনাটা ২০১৫ সালের।
‘দিলওয়ালে’ ছবির একটি দৃশ্যে শাহরুখকে চোট পেতে দেখা যায়। তখনও বাস্তব এবং ছবির মধ্যে ফারাক করতে শেখেনি আবরাম। বেচারা ভেবেই বসে, ছবির নায়িকা কাজলের জন্যই তার বাবা চোট পেয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ বলেন, “ও কাজলের উপর রেগে গিয়েছিল।” রাগ সামলাতে না পেরে কাজলকে আব্রাম বলেই বসে, “পাপা টুট গয়ে!” অর্থাৎ, বাবা ভেঙে গিয়েছে। এ কথা বলতে বলে হেসেই ফেলেন শাহরুখ। ‘ভেঙে যাওয়া বাবা’ শব্দের এমনই মহিমা। শাহরুখ বলেন, “আমি জানি আমার সঙ্গে কাজলের জুটিটা আব্রাম পছন্দ করেনি।” উপস্থিত সকলেই আব্রামের কাণ্ড শুনে হেসে কুটিপাটি হয়েছিলেন। ছোট্ট আব্রামের এই জুটিকে পছন্দ না হলেও। দর্শক কিন্তু ভালবাসা দিয়েছিল ছবিকে।
মমতাকে কেন কুর্নিশ জানালেন দেব?
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি উপস্থিত হয়েছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকদের ধর্নামঞ্চে। এ খবর শোনা মাত্রই সামাজিকমাধ্যমে তাকে কুর্নিশ জানালেন দেব। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি তার বার্তা, “আগেও দেখেছি, আপনি কীভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আজ আবার দেখলাম নিজের লোকের পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন।”
একই সঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। লিখেছেন, “দিদি, আপনাকে কুর্নিশ জানাই এই উদ্যোগের জন্য।” এর পরেই রাজ্যবাসীর সঙ্গে মিলেমিশে একাকার শাসকদলের সাংসদের অনুভূতি। ধর্নামঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি যেমন আশার আলো দেখিয়েছে জুনিয়র চিকিৎসকদের, একইভাবে আশাবাদী তিনিও। সে কথাও লিখেছেন দেবÑ “আশা করছি, শান্তি, ন্যায়, সম্মানÑ সব ফিরে আসুক।”
আরজি কর-কাণ্ডের প্রথম থেকে সরব সাংসদ-প্রযোজক-অভিনেতা। একেবারে শুরুতে তিনি বিদেশে ছিলেন। সেখান থেকে তার প্রথম পদক্ষেপ, আগামী ছবি ‘খাদান’-এর টিজারমুক্তি পিছানো। ১৪ অগস্ট প্রথম রাত দখলের ঘোষণা। সে দিন দেবের ছবির টিজারমুক্তির কথা ছিল। স্বাধীনতা দিবসের আগের রাতে তরুণী চিকিৎসকের নির্যাতন-মৃত্যু প্রত্যেককে পথে নামিয়েছিল। সেই অনুভূতি ছুঁয়ে গিয়েছিল তাকেও। দেশে ফিরে আর্টিস্ট ফোরামের ডাকা সমাবেশ মঞ্চে প্রথম প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখেন দেব। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “সকলের মতো আমিও অপরাধী বা অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি চাইছি। এমন শাস্তি, যা বাকিদের ভয় পাইয়ে দেবে। এ রকম ঘৃণ্য কাজ করার আগে অভিযুক্ত দ্বিতীয় বার ভাববে।” পাশাপাশি তিনিও শাস্তি হিসেবে ফাঁসির কথা বলেন। এও জানান, মেয়েকে নয়, এখন ছেলেদের ‘গুড টাচ’, ‘ব্যাড টাচ’ শেখাতে হবে।
শুক্রবার ছিল তাঁর পূজার ছবি ‘টেক্কা’র ট্রেলারমুক্তি। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ছবিতে দেবের সঙ্গে রয়েছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, রুক্মিণী মৈত্র, সৃজা দত্ত-সহ এক ঝাঁক খ্যাতনামী অভিনেতা। অতিথি চরিত্রে দেখা যাবে টোটা রায়চৌধুরীকে। প্রচারে এসে দেব এ দিনও বলেন, “আমরা কেউ চাই না, আমাদের রাজ্যে ও দেশে কখনও আরজি করের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক। প্রত্যেক নারী যেন স্বাধীন ভাবে নিজের মনের মতো করে বাঁচতে পারেন, এটাই চাই।”
রাজের সঙ্গে ডিভোর্সের এক বছর, যা বললেন পরীমনি
ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। ভালোবেসে বিয়ে করেন চিত্রনায়ক শরিফুল রাজকে। দুই বছর যেতে না যেতে পরীমনি ডিভোর্স দিয়েছেন রাজকে। তাদের মধ্যকার বিয়েবিচ্ছেদের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর রাজকে ডিভোর্স লেটার দেন অভিনেত্রী। তারপর আলাদা হয়ে যান এবং নিজেদের মতো করে জীবন শুরু করেন তারা।
এই দুই বছরের বিবাহিত জীবনে একাধিকবার দাম্পত্যকলহের বিষয় প্রকাশ্যে এসেছে। তবে পৃথক সময় সেসব নিয়ে তারা কেউ কথা না বললেও গত বছরের সেপ্টেম্বরে আলাদা হয়ে যান এই জুটি।
এদিকে রাজের সঙ্গে ডিভোর্সের সময় অভিনেতার সন্তান পূণ্যের মা পরীমনি। বিচ্ছেদের পর একমাত্র ছেলেকে নিয়ে নিজের মতো করে জীবন শুরু করেন। মা-বাবা উভয়ের দায়িত্ব পালন করা শুরু করেন। আবার চলতি বছরের মে মাসেই একটি কন্যাসন্তান দত্তক নেন অভিনেত্রী। সবমিলে দুই সন্তানের সঙ্গে দারুণ সময় কাটছে তার।
এ অবস্থায় বিয়েবিচ্ছেদের এক বছর পূর্ণ হয়েছে চিত্রনায়িকা পরীমনির। এ কারণে অবশ্য নিজেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে রাজের সঙ্গে সম্পর্ক থেকে বের হওয়ায় শুকরিয়াও আদায় করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১০টার দিকে ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ছবি পোস্ট করে পরীমণি লিখেছেন, ‘আজ এখন যখন আমি আমার দিকে দেখি, আমি দেখতে পাই একজন পরিপূর্ণ সুখী মানুষকে। এই জীবনে কষ্ট থাকুক। সেটা কেবল বড় হওয়ার কষ্ট। আমি সেই কষ্টটা আনন্দ নিয়েই করতে চাই। কিন্তু অন্যের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট পেতে দেব না আর নিজেকে আমি। এই তো কেমন হাসতে খেলতে ওদের নিয়ে জীবন উদযাপন করছি।’
এরপর দুই সন্তানকে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘আমার মানিকজোড়, একদিন আমরা সত্যি ওই আকাশ ছোঁব দেখিস।’
অভিনেতা রাজের সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘটনা উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘আজ থেকে এক বছর আগে আমার জীবনের সেই ভুল মানুষকে ছেড়ে দিয়েছিলাম। এক বুক হাহাকার, হতাশা আর বুকের মধ্যে জাপটে ধরে ছিল আমার ছোট্ট বাচ্চা ছেলেটা। কিন্তু দেখ, আজ আমরা একটু একটু করে নিজেদের মতো ভালো থাকতে শিখে গেছি। আজ আর সেই ভুল মানুষের কোনো অস্তিত্ব নেই আমাদের কারো জীবনে। না সেটা আমার বা আমার ছেলের।’
সবশেষ এ অভিনেত্রী বিচ্ছেদের জন্য শুকরিয়া আদায় করে নিজেকে শুভেচ্ছা জানান এবং লেখেন, ‘শুকরিয়া। আমারা ভালো আছি। হ্যাপি ডিভোর্স অ্যানিভার্সারি পরী!’
শিল্পকলা থেকে বিতাড়িত হয়ে ভেঙে পড়েছেন ‘আলো আসবেই’ গ্রপের জ্যোতি
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে ‘আলো আসবেই’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রæপ খুলে আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন আওয়ামীপন্থি শিল্পীরা। তারা শুরু থেকেই আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। এসব শিল্পীর মধ্যে অন্যতম ছিলেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি।
৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গোপন এই গ্রæপের বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠে। এরপর ‘আলো আসবেই’ গ্রæপ নিয়ে নতুন করে ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন অনেক শিল্পী। তবে সবাই তোপের মুখে পড়েন। গ্রæপে থাকার কথা স্বীকার করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন জ্যোতিও।
সেই সমালোচনার রেশ না কাটতেই মঙ্গলবার শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে ফের তোপের মুখে পড়েন আওয়ামীপন্থি শিল্পী জ্যোতি। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া এই অভিনেত্রী দুপুর ১২টার দিকে অফিসে প্রবেশ করেন। সেখানে নতুন মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। এরপর রুম থেকে বের হতেই সহকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন জ্যোতি। একপর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমি ত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি।
ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে আসেন জ্যোতি। শিল্পকলা একাডেমিতে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে শিল্পকলা একাডেমিতে পরিচালক হিসেবে কাজ করছিলাম। এখনো আমার মেয়াদ শেষ হয়নি এবং নিয়োগ বাতিলেরও কোনো প্রক্রিয়া এখনো হয়নি। সুতরাং আমার চাকরিটা আছে। গত দুই মাস ধরে দেশে যা চলছে, তারপর থেকে শিল্পকলা একাডেমির অফিসের কাজ মোটামুটি বন্ধই বলা যায়। সপ্তাহখানেক হয়েছে নতুন ডিজি এসেছেন, তাই আমার মনে হয়েছে আমার অফিসে যাওয়া উচিত। যদিও সচিব স্যারের, পরামর্শ ছিল- আমি যাতে এখন শিল্পকলায় না যাই। কিন্তু আমার চাকরি এখনো আছে। আমারও ভালো লাগছিল না, তাই গিয়েছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘শিল্পকলায় যাওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যে অনেক সাংবাদিক ফোন করে জানতে চাচ্ছিলেন, আমার অবস্থা সম্পর্কে। কারণ তারা জানতে পেরেছেন, আমাকে নাকি অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু আমি তখনো বিষয়টি জানি না। আমার আরেক সহকর্মী ছিলেন। তিনি আমাকে বললেন, চলো বেরিয়ে যাই। আমি তাকে বলি, আমার চাকরি তো শেষ হয় নাই, তাহলে আমি কেন যাব? প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিয়োগ বাতিল হলে অবশ্যই আমি আর আসব না।’
শিল্পকলা একাডেমির ডিজির সঙ্গে সাক্ষাতের কথা জানিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘আমি যখন শিল্পকলায় যাই তখন ডিজি স্যার একটা মিটিংয়ে ছিলেন। এরপর উনি যখন বের হন, তখন আমি ওনার সঙ্গে দেখা করার জন্য বের হই। বেরিয়ে দেখি শিল্পকলায় অনেক লোকজন। অনেকে চেচামেচি করছে। আমি ডিজি স্যারের সঙ্গে দেখা করলাম। স্যার বললেন, দেখেন এই অবস্থা। এর মধ্যে অফিসে কেন এসেছেন? আপনারা বরং চলে যান, পরিস্থিতি সামলাতে দেন। পরে এ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত হয় সে মোতাবেক কাজ করবেন।’
‘ডিজি স্যারের সঙ্গে কথা বলে লবিতে ফিরে উপস্থিত অন্যদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলাম। কিন্তু উনারা কোনো কথা বলবেন না। শুনতে পেলাম, আরও লোকজন খবর দেওয়া হয়েছে। আমাদের আটকে রাখবে বা কিছু করবে। আমার খুব অবিশ্বাস্য লাগছিল, সবার মুখ অপরিচিত লাগছিল। কারণ এরাই আমার সহকর্মী ছিলেন!’
অফিসে জ্যোতিকা জ্যোতির ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ছিল। চলে আসার সময়ে সেসব জিনিস নিয়ে আসেন। কিন্তু উপস্থিত সহকর্মীদের সেসব জিনিসপত্র দেখিয়ে তারপর শিল্পকলা একাডেমি থেকে বের হন জ্যোতি।
লাইভের একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই অভিনেত্রী। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘এতবছর ধরে আমি অভিনয় করছি। কখনো দেশ ছেড়ে বাইরে চলে যাওয়ার কথাও চিন্তা করিনি। তবুও এই অপমান কি আমার প্রাপ্য ছিল? কোনো দলের সমর্থক ছিলাম বলে কি দেশটা আমার নয়? আমি তাহলে কোথায় যাব? এই প্রশ্ন আপনাদের কাছে রেখে গেলাম।
জ্যোতি আরও বলেন ‘আমাকে নিয়ে অনেকে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন, আমি ঠিক আছি কিনা, তা জানতে চাইছেন। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, আমি ঠিক আছি। তবে মানসিকভাবে কবে ঠিক হবো জানি না। আমার সঙ্গে যা হয়েছে এই চাপ আমি কীভাবে সামলাব জানি না। আমার এই চাকরিটা থাকছে না। তাহলে আমি কোথায় যাব?’


