Home Blog Page 583

গাজায় যুদ্ধবিরতি মানছে না ইসরাইল, যে হুমকি দিল কলম্বিয়া

টানা পাঁচ মাস গাজা উপত্যকায় অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। হামলায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৩২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। এ অবস্থায় গাজায় যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব পাশ হয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে। এর পরই যুদ্ধবিরতি না মানলে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছেন কলম্বিয়া।
মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো এই হুমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়কেও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহŸান জানান।
আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘে ভোটের মাধ্যমে প্রস্তাব পাশের পর সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো বলেন, অবশেষে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাশ হয়েছে। ইসরাইল এই যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করলে আমি বিশ্বের দেশগুলোকে (ইসরাইলের সঙ্গে) কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
এর আগে সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইসলামিক পবিত্র মাস রমজানে গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবিতে একটি প্রস্তাব পাস করে। পবিত্র এই মাসটি মধ্যপ্রাচ্যে গত ১১ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে এবং আগামী ৯ এপ্রিল শেষ হতে পারে। কাউন্সিলের ১০ নির্বাচিত সদস্যের উপস্থাপিত এই রেজ্যুলুশনের পক্ষে ১৪টি দেশ ভোট দিয়েছে। এতে একমাত্র দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভোটদানে বিরত ছিল। এ ছাড়া প্রস্তাবটির বিপক্ষে কোনো যুক্তি উপস্থাপন বা ভেটো ক্ষমতারও প্রয়োগ করেনি পরাশক্তি এই দেশটি।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের এই রেজুলেশনে ‘পবিত্র রমজান মাসের জন্য সকল পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহŸান জানানো হয়েছে, যা পরে একটি স্থায়ী টেকসই যুদ্ধবিরতির দিকে পরিচালিত হবে।’
এই প্রস্তাবে ‘সমস্ত বন্দির অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির পাশাপাশি তাদের চিকিৎসা এবং অন্যান্য মানবিক চাহিদা পূরণের জন্য মানবিক সহায়তার প্রবেশ নিশ্চিত করার’ দাবিও করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ভেটো না দেওয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবারই প্রথমবারের মতো যুদ্ধবিরতির আহŸান জানালো। যার অর্থ যুক্তরাষ্ট্র তার আগের অবস্থানে পরিবর্তন এনেছে। যদিও হোয়াইট হাউস বলেছে, ভেটো না দেওয়া বা ভোটদান থেকে বিরত থাকার মানে এই নয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তন এসেছে।
তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বের অবস্থান থেকে সরে আসা বা প্রস্থান বলে অভিহিত করেছেন। তার কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রেজুলেশন পাশের অনুমতি দেওয়ার মার্কিন এই সিদ্ধান্ত ‘যুদ্ধের শুরু থেকে নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক অবস্থান থেকে স্পষ্ট পশ্চাৎপসরণ।’

সন্তানদের মাদরাসায় পড়াতে পারবে না আসামের মুসলমানরা

ভারতের আসাম রাজ্যের বাসিন্দা হতে হলে মুসলিমদেরকে কয়েকটি শর্ত পালন করতে হবে বলে জানিয়েছেন সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এ সবের মধ্যে রয়েছে দুয়ের বেশি সন্তান না থাকা, সন্তানদের মাদরাসায় না পড়ানো। আনন্দবাজার পত্রিকা।
চলতি মাসেই ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) চালু হয়েছে। সিএএ নিয়ে ইতিমধ্যেই বিজেপি বিরোধী দলগুলো সুর চড়াতে শুরু করেছে। পশ্চিমবঙ্গ, কর্নাটকে সিএএ চালু হতে দেবেন না, বলে দাবি করেছেন ওইসব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। এই আবহেই ‘বাংলাদেশী’ মুসলিমদের নিয়ে মন্তব্য করে লোকসভা ভোটের আগে নতুন বিতর্ক উস্কে দিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী।
দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর সিএএ পাস করিয়েছিল ভারতের মোদি সরকার। ওই আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো মুসলিম ধর্মাবলম্বী দেশ থেকে যদি ওই দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ধর্মীয় উৎপীড়নের কারণে ভারতে আশ্রয় চান, তাহলে তা দেবে ভারত। কিন্তু সিএএ-তে হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, পার্সি এবং খ্রিস্টান শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হলেও সেখানে মুসলিম স¤প্রদায়ভুক্তদের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এই ‘বৈষম্য’ কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী দলগুলো।
উল্লেখ্য, মুসলিমেরা আসামে ‘মিঞা’ নামে পরিচিত। তারা বাংলাদেশ থেকে গেছে বলে দাবি করা হয়ে থাকে। ওই ‘মিঞা’ স¤প্রদায়কে স্বীকৃতি দেয়ার প্রসঙ্গে হিমন্ত বলেন, ‘আসামিয়া সমাজের কিছু সাংস্কৃতিক নিয়ম এবং ঐতিহ্য রয়েছে। যদি আসামের অধিবাসী হতে হয় তবে সেইসব মেনে চলতে হবে।’ হিমন্ত জানান, কোনো পরিবারে যদি দুইয়ের বেশি সন্তান থাকে, তবে ‘বাংলাদেশি’ মুসলিমেরা আসামের বাসিন্দা হতে পারবেন না। এ ছাড়াও বহুবিবাহ, বাল্যবিবাহ বন্ধ করার শর্তও দিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যদি এ রাজ্যের বাসিন্দা হতে হয় তবে নাবালিকার বিয়ে দেয়া যাবে না।’ পাশাপাশি হিমন্ত জানান, ছেলেমেয়েদের মাদরাসায় পড়ানো যাবে না। আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মাদরাসার পরিবর্তে ডাক্তারি এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো ক্ষেত্রে মনোযোগ দেয়া উচিত।’
আসামে হিমন্তের নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ২০২৩ সালে রাজ্যে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাল্যবিবাহ করার অভিযোগে প্রায় ৯ হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ২০২২ সালে অসম মন্ত্রিসভা আনুষ্ঠানিকভাবে ৪০ লাখ আসামিয়াভাষী মুসলিমকে ‘আদিবাসী আসামিয়া মুসলিম’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। আসামে দাবি করা হয়ে থাকে যে, আসামের মুসলিম স¤প্রদায়ের প্রায় ৩৭ শতাংশ ‘আসামিয়া মুসলিম’, বাকিরা ‘বাংলাদেশি’ মুসলিম। তাদের ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি দেয়ার প্রশ্নেই মন্তব্য করে নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী।

‘গণতন্ত্র অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে’ বিএনপি

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ এবং শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছেন বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দলটির নেতারা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে সরকার দেশে ‘বাকশাল-টু’ কায়েম করেছে। আর আজকে এই প্রাঙ্গণ (জিয়াউর রহমানের কবর) থেকে আমরা প্রতিশ্রæতিবদ্ধ যে, আমাদের কাক্সিক্ষত গণতন্ত্র অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে, লড়াই চলতে থাকবে।
গতকাল সকাল ৯টায় বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মিছিল সহকারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে নেতৃবৃন্দ মূল বেদিতে গিয়ে দলের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পরে সাংবাদিকদের বিএনপি’র এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আজকে দুঃখের সঙ্গে আমাদের বলতে হচ্ছে, যে আদর্শ নিয়ে এই দেশের লাখ লাখ মানুষ একাত্তরে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, যে আদর্শের জন্য যুদ্ধ করেছিল তার নাম ছিল গণতন্ত্র এবং তার উদ্দেশ্য ছিল যে, বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। আজকে ৫৩ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের একটি প্রশ্ন সেই গণতন্ত্র কোথায় গেল? সেই দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি কোথায়? একটি সরকার আজকে জোর করে বসে আছে যে সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা মুখে বলে গণতন্ত্র। তারা বাস্তবে করেছে একদলীয় শাসন। তারা এবার করেছে বাকশাল-টু। এটা আমার কথা নয়।
এটা বিশ্ববাসীর কথা।
ড. মঈন খান বলেন, আজকে আপনারা দেখেছেন কীভাবে এদেশে দুর্নীতির মাধ্যমে কতো হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে দেয়া হয়েছে, মেগা উন্নয়নের নামে কীভাবে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার জন্য যারা বিরোধী দল তাদের বিরুদ্ধে এক লাখ মামলা দেয়া হয়েছে, তাদের ৫০ লাখ নেতাকর্মীকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে, তাদেরকে মিথ্যা অভিযোগে আসামি বানানো হয়েছে। এখানে যদি মানুষের ভিন্ন মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকে, এদেশে যদি মানুষের গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ না থাকে তাহলে আজকে যারা কবরে শায়িত মুক্তিযোদ্ধা তাদের কাছে প্রশ্ন কেন তারা এদেশ স্বাধীন করেছিলেন? সেই প্রশ্নের উত্তর সরকারকে দিতে হবে।
তিনি বলেন, যখন সেই ২৫শে মার্চের কালো রাতে পাক হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের নিরীহ মানুষের ওপরে হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেইদিন আজকের যে আওয়ামী লীগ যারা নিজেদের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বলে দাবি করে, যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তি বলে দাবি করে তারা সেইদিন কেন পলায়নপর ভূমিকা নিয়েছিল সেই প্রশ্নের উত্তর আওয়ামী লীগকে দিতে হবে।
এসময় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র সদস্য সচিব আমিনুল হক, ঢাকা জেলা বিএনপি’র সভাপতি আবু আশফাক খন্দকার, সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসীন আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপি’র নেতাকর্মী-সমর্থকদের নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আবদুল মঈন খান শেরেবাংলা নগরে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। তারা প্রয়াত নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আজকে ৫৩ বছর পর দেখছি, যে কারণে আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি সেই কারণটি এখনো বলবৎ। অর্থাৎ এখনো গণতন্ত্র নাই, মানুষের মৌলিক অধিকার নাই, এখনো মানুষের বাকস্বাধীনতা নাই, এখনো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি, এখনো মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। লুটতরাজ ও লুণ্ঠনের মধ্যদিয়ে জাতীয় অর্থনীতি অর্থাৎ জাতির অর্থনীতির কোষাগার আজকে খালি হয়ে গেছে এবং আকাশচুম্বী জিনিসপত্রের দামে আজকে মানুষ দিশাহারা।
তিনি বলেন, এই মহান দিনে আমরা এখানে এসেছি, বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক এবং যিনি আধুনিক বাংলাদেশ, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করেছেন সেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে এবং তার আত্মার জন্য দোয়া করতে। আজকে এই প্রাঙ্গণ থেকে আমরা প্রতিশ্রæতিবদ্ধ যে, কাক্সিক্ষত গণতন্ত্র অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে, লড়াই চলতে থাকবে।
গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, আমরা সন্তান হারা মায়ের কান্না থামাতে পেরেছিলাম অর্থাৎ স্বামীহারা, বোনহারা এই স্বজনহারাদের ব্যথা আমরা একটি পর্যায়ে কাটিয়ে দেশের দিকে তাকিয়ে, এই স্বাধীনতার কথা চিন্তা করে সেই দুঃখ, কষ্ট এবং যন্ত্রণা আমরা সেদিন নিরসন করতে না পারলেও এই স্বাধীনতায় অত্যন্ত আপ্লুত ছিলাম এবং আমাদের মধ্যে স্বাধীনতা অর্জনের আনন্দ ছিল। সেটা ক্রমান্বয়ে আজকে ৫৩ বছর পর আমরা কী দেখছি? আমরা দেখছি, যে কারণে আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি- সেই কারণটি এখনো বলবৎ।
এসময় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভালো আছে কারা?

বাজারে অস্বস্তি। সর্বত্র হাহাকার। বাজার করতে গিয়ে মানুষকে চরম হতাশা ও কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়। প্রয়োজনীয় চাহিদা তো দূরের কথা মৌলিক চাহিদার অন্যতম প্রধান যে খাদ্য-সেটাই ঠিকমতো জুটছে না দেশের বিপুল মানুষের ভাগ্যে। খাদ্য ঘাটতি পূরণে ঋণ করতে হয় দেশের ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবারকে। বছরে গড়ে ৪৯ হাজার টাকা ঋণ করে থাকে এসব পরিবার। আত্মীয়, মহাজন এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় পরিবারগুলো। স¤প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খাদ্য নিরাপত্তা-সংক্রান্ত জরিপের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৪ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ ঋণ করে খাদ্য ঘাটতি মেটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই চিত্র বলে দেয় দরিদ্রসীমার উপরে থাকা মানুষও খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছে। আর এর প্রভাব পড়েছে দেশের প্রতিটি সেক্টরে।
এবারের রমজানের বাজারে আক্ষরিক অর্থে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ চোখে পড়েনি। অনেক কিছুর দাম ঠিক করে দিলেও বাজারে তার প্রভাব পড়ে নাই। মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে হিমশিম খাচ্ছে।
এর মধ্যে মানবজমিনের বিস্তারিত সরজমিন প্রতিবেদনে ঢাকা শহরের প্রধান প্রধান বাজারগুলোর চিত্র ও ঈদের বাজারে জনগণের কেনাকাটার চিত্র উঠে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে কোনো বাজারেই স্বস্তি নাই। মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে ঈদ বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। নিউ মার্কেটে আগের চেয়ে বেচাকেনা কম, বসুন্ধরাতে প্রত্যাশিত ভিড় নেই, মৌচাকের ব্যবসায়ীরা বলছেন, আসল উঠানোই কষ্ট হবে, বঙ্গবাজার ধুঁকছে, গাউছিয়াতে বিক্রি নিয়ে হতাশ ব্যবসায়ীরা, যমুনা ফিউচার পার্কে ক্রেতারা ঘুরছেন, বেনারসি পল্লীতে হতাশা, ক্রেতার অপেক্ষায় ইসলামপুর- এই হলো এক নজরে সরজমিন চিত্র। ঢাকার প্রধান প্রধান বাজারেই যেহেতু এই অবস্থা ফলে সারা দেশের বাজারের চিত্র এরচেয়ে আরও করুণ হবে- এটাই স্বাভাবিক।
এই চিত্রই বলে দেয় দেশের মানুষ ভালো নাই। অর্থনৈতিক ভাবে ভালো না থাকলে তার প্রভাব পড়ে সর্বত্র। এর মধ্যেও কিছু কিছুু মানুষ ঠিকই কেনাকাটা করছেন; এমনকি বিলাসী পণ্যও কিনছেন। ধরে নেয়া যায় অর্থনৈতিক এই মন্দার বাজারে তারা ভালো আছেন। এখন প্রশ্ন হলো তারা কারা? কনজ্যুমার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম রহমান বলেছেন, ‘মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তবে যাদের টাকা আছে তারা ঠিকই কেনাকাটা করছেন। তাদের ঈদ মানে বিলাসিতা। তাদের কাছে মূল্যস্ফীতি বলতে কিছু নেই।’
এবং বাস্তবচিত্র হলো বিলাসী পণ্যে বাজারে তাদেরই দেখা যাচ্ছে। সাধারণ পরিবার এমনকি মধ্যবিত্ত ও কিছু ক্ষেত্রে উচ্চবিত্তদেরও ব্যয় সংকোচন করার জন্য বিভিন্ন হিসাবনিকাশ করতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনের বাইরে ব্যয় করার সামর্থ্য যাদের আছে তাদেরও চিন্তা করতে হচ্ছে কীভাবে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এমন পরিস্থিতিতে কারা আসলে ভালো থাকেন?
এমন প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্র বিজ্ঞানীদের মত হলো- গণতন্ত্রহীন, ভয়ের সংস্কৃতির উপর ভর করে যে সব দেশ টিকে থাকে সেখানে বেশির ভাগ মানুষের জন্য বাস করা নরকের অভিজ্ঞতা হলেও সেটা কিন্তু সিলেক্টিভ পিপল বা কিছু মানুষের জন্য স্বর্গ। বাংলাদেশও কি এমন সিলেক্টিভ মানুষের স্বর্গে পরিণত হয়েছে? এখনকার বাজারের দিকে তাকালে যাদের সমাগম লক্ষ্য করা যায় তারাই কি সেই স্বর্গের বাসিন্দা। এই বিষয়ে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তৈরি করা হয়েছে এক শক্তিশালী অলিগার্ক (শাসকদের অনুগত বা যাদের নিয়ে শাসক গোষ্ঠী তৈরি) শ্রেণি। এরাই এখানে ভালো আছে। বাংলাদেশে বাজার বা সার্বভৌমত্ব কোনো কিছুতেই তারা খারাপ বোধ করে না। তারা সব কিছুর পরেও ভালো আছে। এবং খুব ভালো যে আছে তা আবার তারা দেখাতেও চেষ্টা করে।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, এখানে মেরুদণ্ডহীন, দুর্নীতিপরায়ণ ও ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগী ছাড়া কোনো মানুষ ভালো নাই। ভালো থাকার সুযোগ নাই। শুধু যে অর্থনৈতিক ভাবে বিষয়টা সত্য তা নয়, ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। কথা বলার অধিকার নাই। যার সম্মান নাই; তারা ভালো থাকতে পারে না। সে হয়তো ভালো চাকরি করছে, প্রচুর বাড়ি ভাড়া পাচ্ছে বা ব্যবসায় করে প্রচুর টাকা বানাচ্ছে- কিন্তু ভালো থাকার সুযোগ নাই। আত্মসম্মান যাদের আছে তাদের ভালো থাকা মুশকিল। এমন সার্বিক করাপ্ট একটা রাষ্ট্রে। আর করাপশনে থেকে যারা মনে করছেন ভালো আছেন, অনেক টাকার মধ্যে আছেন- তারা আত্মপ্রতারণার মধ্যে আছেন।
ফলে বাজারে যাদের দেখা যাচ্ছে। বা সরকারদলীয় লোকজন সোশ্যাল মিডিয়াতে বাজারে মানুষ আছে, কেনাবেচা হচ্ছে বলে যে ধরনের কথা বলার চেষ্টা করছেন তা এই সিলেক্টিভ লোকদের দেখেই বলছেন। সব অস্বাভাবিকতাকে স্বাভাবিকতা হিসেবে দেখানোর যে চেষ্টা করছেন তার মূল সত্য হলো- কিছু মানুষ ভালো আছেন। যাদের অঢেল টাকা আছে। আর এটা খুব বিরল ব্যতিক্রম ছাড়া বাংলাদেশে সম্ভব ক্ষমতার সঙ্গে থাকলেই। তারাই আসলে ভালো আছেন।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান বলেছেন, বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। আর বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা টানা ১৫ বছর প্রধানমন্ত্রী থেকে বাংলাদেশটাকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছেন, এখন আমরা সবাই বিশ্বাস করি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্নটা আমরা পূরণ করতে পারবো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকার নবাবগঞ্জে সরকারি নবাবগঞ্জ পাইলট হাই স্কুল মাঠে ও একই দিন দুপুর ১২টায় দোহারের জয়পাড়া বড় মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সালমান এফ রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী চতুর্থবার ক্ষমতায় আসার পর ঘোষণা দিলেন আমরা এখন স্মার্ট সোনার বাংলা চাই। সে লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ইতিমধ্যে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি, এখন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করছি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জকে আমি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি দ্রæত দোহার- নবাবগঞ্জ উপজেলা সারা বাংলাদেশে মডেল উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। সালমান এফ রহমান এমপি আরও বলেন, আমি এবার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেবো। নির্বাচনে কথা দিয়েছিলাম দোহার- নবাবগঞ্জবাসীকে হেল্থকার্ড দিয়ে হেল্থ ইন্স্যুরেন্স দিয়ে স্বাস্থ্য ফান্ডটা আমি বাড়াতে চাই। এব্যাপারে একটি পাইলট প্রকল্পের কথা বলেছিলাম, আপনারা খুশি হবেন খুব শিগগিরই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সেই পাইলট প্রকল্প আমরা শুরু করতে যাচ্ছি।
দোহার-নবাবগঞ্জে যদি সেটা সফল করতে পারি তাহলে সারা বাংলাদেশে সে প্রকল্পটা চালু করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষা খাতেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। দোহার-নবাবগঞ্জে শিক্ষার উন্নয়নে কী কী কাজ করতে হবে এ ব্যাপারেও শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। আমি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে জোর দিতে চাই।
নবাবগঞ্জে এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শেখ আনার কলি পুতুল, নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান সোহেল, দোহার সার্কেল এএসপি আশরাফুল আলম। এ ছাড়া দোহারে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন, দোহার পৌর মেয়র মো. আলমাছ উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক বেপারী সহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। এর আগে উপজেলা প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নবাবগঞ্জ ও দোহারে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে নেতাকর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সালমান এফ রহমান, এমপি।

বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদার হতে পেরে যুক্তরাষ্ট্র গর্বিত: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি বিঙ্কেন। তিনি বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদার হতে পেরে যুক্তরাষ্ট্র গর্বিত। এই অংশীদারি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র উন্মুখ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গতকাল মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিøঙ্কেন এসব কথা বলেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রগতি, রোহিঙ্গা সংকটে সহযোগিতা, বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা করা এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদার হতে পেরে যুক্তরাষ্ট্র গর্বিত। আমাদের অংশীদারি একটি মুক্ত, উন্মুক্ত, নিরাপদ এবং সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বিøঙ্কেন বলেন, বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতার আরেকটি বছর উদযাপন করছে, তখন আমরা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরণ এবং মানবাধিকার রক্ষায় আমাদের প্রতিশ্রæতি পুনর্ব্যক্ত করছি- যে প্রচেষ্টাগুলো বাংলাদেশের সমৃদ্ধি বাড়াতে সহায়তা করবে। বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি এই বিশেষ দিনে সব বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই এবং আগামী বছরে আমাদের দুই দেশের মধ্যে অংশীদারি এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র উন্মুখ।

উপজেলা নির্বাচনে যাচ্ছে না বিএনপি, সিদ্ধান্ত অমান্য করলেই বহিষ্কার

বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল বিএনপি। দলটি আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও অংশ নেবে না। তবে তৃণমূলের অনেকের এ নির্বাচনের ব্যাপারে আগ্রহ থাকায় স¤প্রতি দলের হাইকমান্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে মানে দলের পদ-পদবি থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে।
জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। দলের কেউ উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে না। এটিই দলীয় সিদ্ধান্ত।
জানা যায়, স¤প্রতি ঢাকা বিভাগীয় জেলা-উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয় তৃণমূলের সঙ্গে দলটির হাইকমান্ডের। এ সময় তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জানান, চলমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। উপজেলা নির্বাচনে দলের কেউ অংশ নিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক জেলার শীর্ষ নেতারা বলেন, তাদের কাছে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে উপজেলা নির্বাচনে দলের কেউ অংশ নিলে তাদের বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হবে। অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনেরও কেউ অংশ নিলে তাদের বিরুদ্ধেও একই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, যারা উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে দলের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছেন, শেষ মুহূর্তে দল সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে নমনীয় হলে তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন। তবে সে রকম সম্ভাবনা এখন আর নেই।
বিএনপি নেতারা জানান, দেশে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন। এ জন্য নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন দরকার। এ আন্দোলন করতে গিয়ে তাদের অসংখ্য নেতা-কর্মী নিখোঁজ-খুন, পঙ্গু হয়েছেন। মিথ্যা মামলা-হামলা ও সাজা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির আহŸানে ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন দেশের মানুষ বর্জন করেছেন। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীনদের অধীনে উপজেলা নির্বাচনে গেলে জনমনে একটা ভুল বার্তা যাবে। মানুষ মনে করবে, বিএনপি তার অবস্থান থেকে সরে গিয়ে সরকারকে মেনে নিয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে অতীতে যারা নির্বাচন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাচনে যারা অংশ নেবেন, তাদের বিরুদ্ধেও দল আগের মতোই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর বিএনপি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। ওই নির্বাচনে শতাধিক উপজেলায় বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হন। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পরও স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোয় প্রথমদিকে অংশ নিয়েছিল। ২০২১ সালের মার্চের পর দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেনি বিএনপি। বরং দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তৃণমূলের অনেক নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদের মধ্যে আছেন- বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার (নারায়ণগঞ্জ) ও মনিরুল হক সাক্কু (কুমিল্লা)। ২০২২ সালে এ দুজন সিটি নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী হয়েছিলেন। ২০২৩ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও অনেক নেতা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় একই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় দলটি। যাদের বেশির ভাগ নেতা নিজেদের ভুল স্বীকার করে দলে ফেরার আবেদন করেও ফিরতে পারছেন না। এমন কঠোর অবস্থানের মধ্যেও যারা বিগত তিন মাসে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছেন, তাদেরও প্রত্যেককে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। প্রসঙ্গত, আগামী মে মাসে চার ধাপে ৪ শতাধিক উপজেলা পরিষদের নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন। প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ ৪ মে, দ্বিতীয় ধাপে ১১ মে, তৃতীয় ধাপে ১৮ মে এবং চতুর্থ ধাপের ভোট হবে ২৫ মে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা এবার স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে দলীয় প্রতীক দেবে না। ফলে এ নির্বাচনে ‘নৌকা’ প্রতীক এবং আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী থাকছে না।

ফুটবল খেলার ইচ্ছেটা কমে যাচ্ছে, ভিনিসিয়ুস

এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা লেফট উইঙ্গার বলা হলে ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নামটাই প্রথমে আসবে। কিন্তু সেই ভিনিসিয়ুস জানালেন, তার ফুটবল খেলার ইচ্ছেটাই দিন দিন কমে যাচ্ছে। আর এজন্য অবশ্য নিজের বা ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো অভিযোগ তার নেই। বরং অভিযোগ এনেছেন বর্ণবাদের বিপক্ষে।

স্পেন ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে বর্ণবাদের বিপক্ষে কথা বলতে গিয়ে কেঁদেই ফেলেছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। নিজেই জানালেন, স্পেনে তাকে যেভাবে একের পর এক বর্ণবাদী আচরণের শিকার হতে হচ্ছে, তাতে ফুটবল খেলার ইচ্ছাটাই ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছে। রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস বেশ অনেকটা দিন ধরেই বর্ণবাদী আচরণের মুখে পড়েছেন। এমনকি স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটাও খেলা হচ্ছে বর্ণবাদ বিরোধী সামাজিক বার্তা নিয়ে।
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটায় নিজ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতেই বর্ণবাদের বিপক্ষে খেলতে নামবেন ভিনি জুনিয়র। তার আগে সংবাদ সম্মেলনে জল ভেজা চোখে বললেন, ‘অনেক দিন ধরেই এটার (বর্ণবাদ) মুখোমুখি হচ্ছি। প্রতিবারই আরও বেশি দুঃখ লাগে। প্রতিবারই খেলার ইচ্ছাটা আরেকটু মরে যায়।’
যদিও এসবের কারণে স্প্যানিশ ফুটবল ছাড়তে তিনি রাজি নন। রিয়াল মাদ্রিদেই থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি, ‘বর্ণবাদীরা যা খুশি করতে পারে। আমি বিশ্বের সেরা ক্লাবেই থাকব, যত বেশি সম্ভব গোল করব, সেটা তারা (বর্ণবাদী) যেন দেখে।’
ভিনিসিয়ুস অবশ্য সবকিছু বাদ দিয়ে লক্ষ্য রাখতে চান ফুটবলের দিকেই ‘ফুটবল খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি চাই, কৃষ্ণাঙ্গরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করুক, সেটা নিশ্চিত হলে ক্লাবের হয়ে শুধু খেলাতেই মনোযোগ দিতে পারব।’

কোহলির অন্যরকম ‘সেঞ্চুরি’

বিরাট কোহলি ভারতের নীল জার্সিতে সবসময় খেলেছেন ওয়ানডাউনে কিংবা চার নম্বর স্থানে। তবে আইপিএলে যেন তিনি পুরোদস্তুর ওপেনার হয়ে গেলেন! পাঞ্জাব কিংসের ১৭৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দলের বাকিরা যখন ধুঁকছেন, তখন কোহলি খেললেন মনে রাখার মতো এক ইনিংস। ৪৯ বলে ৭৭ রান করে আউট হলেও দলকে জয়ের ভিত্তিটা ঠিকই দিয়ে গেলেন বিরাট।
তবে ৭৭ রানে আউট হওয়া এই ইনিংসটাই কোহলিকে এনে দিলো অন্যরকম এক সেঞ্চুরির স্বাদ। ক্রিকেট বিশ্বে মাত্র তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অর্ধশতকের সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। গতকাল পাঞ্জাবের বিপক্ষে ফিফটির মধ্য দিয়ে ২০ ওভারের ক্রিকেটে ১০০টি অর্ধশতকের ইনিংস খেললেন তিনি। যে তালিকায় পেছনে ফেলেছেন পাকিস্তানের বাবর আজমকেও।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সব থেকে বেশি অর্ধশতরানের রেকর্ড রয়েছে ক্রিস গেইলের দখলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন ক্রিকেটারের ঝুলিতে রয়েছে ১১০টি অর্ধশতকের ইনিংস। এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। ২০ ওভারের ক্রিকেটে ১০৯ বার ফিফটি হাঁকিয়েছেন এই অজি ব্যাটার। এই দু’জনের পর তৃতীয় স্থানে থাকলেন কোহলি।
সোমবারের আগে পর্যন্ত এই তালিকায় কোহলির সঙ্গে যৌথ ভাবে তৃতীয় স্থানে ছিলেন বাবর। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাকিস্তানের এই ব্যাটারের ৯৯টি অর্ধশতরান রয়েছে। এ দিন অবশ্য চতুর্থ স্থানে চলে গেলেন তিনি। পঞ্চম স্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক জস বাটলার। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তিনি ৯৮টি অর্ধশতরান করেছেন।

পেটে প্রচন্ড ব্যাথা অতঃপর অস্ত্রোপচারে বের হলো কুঁচিয়া

সিলেটে এক জেলের পায়ুপথে ঢুকে পড়া কুঁচিয়া অস্ত্রোপচার করে বের করা হয়েছে। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা এই কুচিয়া দু’দিন পর জীবিত অবস্থায় ওই জেলের পেট থেকে বের করেন। ঘটনাটি নিয়ে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সম্ররা মুন্ডা নামের এ জেলে মাছ ধরে স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করেন। গত ২৩শে মার্চ মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মিতিঙ্গগা চা বাগানের উপজাতি বাসিন্দা ধনমুন্ডার ছেলে সম্ররামুন্ডা স্থানীয় হাওরে মাছ ধরতে গেলে হঠাৎ কোমর সমান কাদায় আটকে যান। তখন তার দুই হাতে থাকা দুটি কুঁচিয়া মাছ কাদায় পড়ে যায়। তখন তিনি অনুভব করেন তার পায়ুপথে কি যেন ডুকছে। তবে সেটিকে গুরুত্ব দেননি তিনি। পরে সম্ররা মুন্ডা সেখান থেকে উঠে বাড়িতে আসার পর তার পেটে প্রচুর ব্যথা অনুভব হয়। রোববার স্থানীয় হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
ওসমানীর চিকিৎসকরা তার কথা শুনে এক্সের মাধ্যমে পেটের ভিতর লম্বা আকৃতির একটি বস্তু দেখতে পান। কর্তব্যরত ডাক্তাররা সিনিয়দের সঙ্গে আলাপ করে সম্ররা মুন্ডাকে সন্ধ্যায় অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। সেখানে প্রফেসর জানে আলমের নেতৃত্বে ৪ জন চিকিৎসক ২ ঘণ্টা অপারেশন চালিয়ে পেটের ভিতর থেকে একটি জীবন্ত কুঁচিয়া মাছ বের করেন। এ ঘটনায় ডাক্তাররা বিস্মিত হন। রোববার রাতে সিওমেকের সার্জারি ইউনিট-২ প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী জানে আলমের নেতৃত্বে অস্ত্রোপচার করে ওই রোগীর পেট থেকে মাছটি বের করা হয়। ওসমানী মেডিকেলের উপ-পরিচালক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী জানিয়েছেন- হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে তার পেট থেকে জীবিত ২৫ ইঞ্চি কুঁচিয়া মাছ উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে সম্ররা মুন্ডা ওসমানী মেডিকেলের ১১নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি। তিনি এখন সুস্থ আছেন।