Home Blog Page 592

ব্রিকস সম্মেলন থেকে খালি হাতে ফিরলেন শেখ হাসিনা

চৌর্যবৃত্তির ওস্তাদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনের কূটনৈতিক ব্যর্থতা

রতন তালুকদার : সম্প্রতি শেষ হল দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানবার্গ-এ আলোচিত ব্রিকস সম্মেলন। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে ব্রিকস জোট। মূলত অর্থনৈতিক মঞ্চ বলা হলেও ব্রিকস
ভূরাজনীতির নতুন মেরুরূপে পরিণত হয়েছে। প্রভাবশালী দেশগুলির আধিপত্য ও আঞ্চলিক ভারসাম্যতা ব্রিকসের চোখ হয়ে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশ সহ ৪০টি দেশ ব্রিকসের সদস্য হতে আগ্রহ প্রকাশ করে। ২২টি দেশ সরাসরি আবেদন করে। বাংলাদেশ আবেদনকারী দেশগুলির অন্যতম। ক’মাস ধরেই বাংলাদেশের অতিকথক জোকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাসী হয়ে মনগড়া অনেক কথা বলছেন। ভাবখান তিনি ব্রিকসের সদস্য পদ নিশ্চিত করেই বসে আছে। অতি আগ্রহ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যান।
কিন্তু কূটনৈতিক ব্যর্থতায় ভেসে গেলো ব্রিকসের স্বপ্ন। ফিরে এলেন খালি হাতে। এবার ব্রিকস আরও ৬টি দেশকে সদস্যপদ দিয়ে সম্প্রসারণ হল। বাংলাদেশের ভাগ্যে জুটলো ঘোড়ার ডিম! সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, আর্জেন্টিনা ও ইথোওপিয়া আগামী জানুয়ারি থেকে ব্রিকসের সদস্য। এ নিয়ে ব্রিকস দাঁড়ালো পাঁচ থেকে এগারো দেশের জোটে। আফ্রিকার হতদরিদ্র দেশ ইথিওপিয়া সদস্যপদ পেলেও বাংলাদেশ পায়নি। এ লজ্জা রাখি কোথায়!
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের সূত্রমতে বাংলাদেশ কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণেই এবার ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচারণা চালালেও ব্রিকসের দরজা থেকে ফিরে এলো। পরররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনের শিশুসুলভ কূটনৈতিক আচরণ, অতিকথন এবং অযোগ্যতার কারণে ব্রিকস জোটের নতুন সদস্যপদ পাওয়া হাতছাড়া হয়। পরররাষ্ট্রমন্ত্রীর মেজাজে মননে কূটনৈতিক দক্ষতার ঘাটতি এবং তার তেলে মাথায় তেল দেয়ার প্রবণতাই চোখে পড়ে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনের দায়িত্বজ্ঞানহীন অকূটনৈতিক মূলক আচরণ এবং অতিকথন কাল হল পুরো দেশের জন্য। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে প্রথম দিকে ভারতের কাছ চৌর্যবৃত্তি করতে গিয়ে বলেন, ভারত-বাংলাদেশ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক, ভারত-বাংলাদেশ রক্তের সম্পর্ক এমনকি চট্টগ্রাম হিন্দুদের একসভায় বলেন, ভারতকে বলেছি শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে।
এমনকি তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও নানা কান্ডজ্ঞানহীন কথা বলে ক্ষেপিয়ে তুলেছেন, অনবরত মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আমেরিকান-সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। যেমন আমেরিকাতে প্রতিদিন মানুষ খুন-গুম হয়, গণতন্ত্র নেই, আরও কত কি! তিনিই আবার মার্কিন বিদেশ সচিব বিøকেনের কাছে গিয়ে বলেছেন তিনি হোমলেস ছিলেন আমেরিকা আশ্রয় দিয়েছেন বলে কৃতজ্ঞতাও জানান। এমন আরও অনেক পাগলের প্রলাপ!
নয়াদিল্লির সাউথব্লক ও ওয়াশিংটনের স্টেট ডিপার্টমেন্টকে তিনি খেপিয়েছেন ইচ্ছামত ফলে যা হবার তাই হয়েছে! মার্কিন ভিসা ও র‌্যাবের উপর নিষেধাজ্ঞায় সম্পর্কের চরম অবনতি এর প্রমাণ। আমরা দেখেছি প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ দিল্লি সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সফরসঙ্গী পর্যন্ত করা হয়নি!
তারপর চীনপ্রীতি। কূটনীতিতে ভারসাম্যের খেলা জানতে হয়। চীনের সাথে দিল উজাড় করে প্রেম ,বাণিজ্য ও রাজনীতি করবেন ,আর ভারত তামাসা দেখবে এমন হয় কি? ব্রিকস থেকে খালি হাতে ফিরে কি আম আর ছালা দুইটিই গেলো ?

রেকর্ড ওপেনিং জুটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে আফগানদের সংগ্রহ ৩০০ রান

পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ৫৯ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল আফগানিস্তান। তবে আজ সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দারুণ শুরু করেছিল ওপেনিং জুটি। শুরুর দুই ব্যাটার ২২৭ রানের রেকর্ড জুটি গড়েন কিন্তু এরপরও নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩০০ রানের বেশি করতে পারেনি তারা।

বৃহস্পতিবার নিরপেক্ষ ভেন্যু শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটায় তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয়টিতে মুখোমুখি হয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। এদিন টসে জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন আফগান অধিনায়ক হাসমাতুল্লাহ শাহিদি। পরে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানকে ৩০১ রানের টার্গেট দিয়েছে তার দল।

এদিন ইনিংস গোড়াপত্তন করতে নামেন যথারীতি রাহমানুল্লাহ গুরবাজ ও ইবরাহিম জাদরান। তারা দুজনে ৩৯ ওভার ৫ বল খেলে ২২৭ রানের রেকর্ড জুটি গড়েন। যা আফগানদের দ্বিতীয় ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি।

রাহমানুল্লাহ ১৫১ বলে ১৫১ রানের অনবদ্য একটি ইনিংস খেলেন। ইনিংসটি সাজিয়েছেন তিনি ১৪টি চার ও ৩টি ছক্কা দিয়ে। আর তার সতীর্থ ইবরাহিম জাদরান খেলেছেন ৮০ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস। ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো এ ইনিংসটি খেলতে খরচ করেছেন ১০১টি বল। এরপর অবশ্য মোহাম্মদ নাবির ২৯ বলে ২৯ রান ছাড়া উল্লেখযোগ্য কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।

পাকিস্তানের শাহিন শাহ আফ্রিদি ২টি এবং নাসিম শাহ ও উসামা মীর ১টি করে উইকেট নিয়েছেন। আগের ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করা হারিস রউফ অবশ্য এদিন ছন্দে ছিলেন না। দলের সবচেয়ে খরুচে বোলার ছিলেন তিনি। মাত্র ৭ ওভারে ৬.৯০ করে ৪৮ রান দিয়েছেন তিনি। পাননি কোনো উইকেট।

৩০১ রানের জবাবে এখন ব্যাট করছে পাকিস্তান। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের সংগ্রহ ২ ওভারে ৭ রান। ক্রিজে আছেন ফখর জামান ও ইমাম উল হক।

মাইকে ঘোষণা দিয়ে ব্যান্ড বাজিয়ে দুই ইউনিয়নের সংঘর্ষ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে ব্যান্ড বাজিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল
দুই ইউনিয়নের দুইদল গ্রামবাসী। হাজার হাজার জনতা শিমুল বাজার এলাকার আশপাশে জড়ো হয়ে শুরু করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এ ঘটনায় ১০ জনের মতো আহত হন বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টা শিমুল বাজার এলাকার আশপাশে থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ বেলা ১২টা পর্যন্ত ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে।

সংবাদ শুনে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ভাঙ্গার ঘারুয়া, কালামৃর্ধা ও আজিমনগর এই তিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের প্রচেষ্টায় সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দু’পক্ষের হয়ে সহস্রাধিক জনতা সংঘর্ষে যোগ দেয়। এ সময় পাতরাইল থানমাত্তা গ্রামের হয়ে কালামৃধা ইউনিয়নের একদল এবং পুকুরপাড় গ্রামের পক্ষ নিয়ে আজিমনগর ইউনিয়নের আরেকটি দল সংঘর্ষকারীদের সমর্থন দেয়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় তিন ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় সংঘর্ষস্থল থেকে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়।

আজিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান হাওলাদার বলেন, চার-পাঁচদিন আগে আজিমনগর ইউনিয়ন পরিষদে পাতরাইল থানমাত্তা ও পুকুরপাড় গ্রামের লোকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উত্তেজনা নিরসনে একটি সালিশ বৈঠক হয়। সালিশ বৈঠক চলাকালে পাতরাইল থানমাত্তা গ্রামের কয়েকজন যুবককে পুকুরপাড় গ্রামের লোকজন মারধর করে। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তারা ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

কালামৃধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল মাতুব্বর বলেন, আমার এলাকার লোকজন পাতরাইল থানমাত্তা গ্রামের লোকদের সমর্থন দেয়। পরে আমি তাদেরকে ফিরিয়ে দিয়েছি।

এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জিয়ারুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। তবে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে আল্লাহ রক্ষা করেছে।

ব্রিকসের নতুন সদস্যদের তালিকায় বাংলাদেশ নেই কেন?

ব্রিকসের ১৫ তম বৈঠকে জোটটির সাথে বাংলাদেশের যুক্ত না হওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতির বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে আসছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তবে বিষয়টিকে এখনই কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন না তারা। তারা বলছেন যে, প্রকৃত কারণ জানতে হলে আরো কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।

যদিও কেউ কেউ বলছেন, এবার সদস্যপদ দেয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছে। হয়তো সেসব বিষয়ে বাংলাদেশ তুলনামূলক পিছিয়ে থাকায় এ দফায় বাংলাদেশকে সদস্যপদ দেয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয়া হয়নি।

বৃহস্পতিবার ব্রিকস সম্মেলনের শেষ দিনে ছয়টি দেশকে এই জোটে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেন, এসব দেশ হচ্ছে সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, আর্জেন্টিনা, মিসর এবং ইথিওপিয়া।

বাংলাদেশও এই জোটে যোগ দিতে পারে বলে এর আগে আভাস পাওয়া গেলেও নতুন ছয়টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই।

সর্বশেষ নতুন সদস্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অন্তর্ভূক্ত না হওয়া নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি বাংলাদেশ।

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২২ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকা যান।

এ বছর জুনের মাঝামাঝি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, আগস্টে বাংলাদেশ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট -ব্রিকসের সদস্য পদ লাভ করতে পারে।

যুক্ত না হবার সম্ভাব্য কারণ
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে ব্রিকসে সম্মেলনের পাশাপাশি বুধবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘(চীন বলেছে) ব্রিকসে যখন আপনি যাতে আপনি জয়েন করতে পারেন, সেই জন্যে আমাদের সবসময় সমর্থন থাকবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বার্তা থেকে আশা তৈরি হয়েছিল, এবার হয়তো বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্যপদ পাবে। তবে বৃহস্পতিবার ব্রিকস সম্মেলনের শেষ দিনে জোটটিতে যোগ দিতে যেসব দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, সেখানে বাংলাদেশের নাম নেই।

এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, প্রথমত ব্রিকসে যাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তার মধ্যে সবগুলো দেশই অর্থনৈতিকভাবে সামনের দিকে অগ্রসরমান দেশ এবং এদের সবার অর্থনৈতিক অবস্থাই বাংলাদেশের তুলনায় ভালো।

‘আমরা তো এখনো এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবেই আছি। আর ব্রিকসে যারা আছে তাদের লেভেলটা তো আরেকটু ওপরে।’

তার মতে, বিকল্প একটা অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করার মতো সক্ষমতা রাখে এমন সব দেশকেই এবার ব্রিকসে যোগ দেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সেই জায়গায় বাংলাদেশ এখনো সে ধরণের ভূমিকা পালন করতে পারবে কিনা সে বিষয়টিও হয়তো বিবেচনায় নেয়া হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

‘দ্বিতীয় কারণ হতে পারে যে আমরা সাম্প্রতিক কালে আগ্রহ দেখিয়েছি। কাজেই আগ্রহ দেখানো এবং তার জন্য মোবিলাইজেশন যেটা দরকার সেটা কতটুকু হয়েছিল সেটা ব্যাপার। আর আমার ধারণা সে কারণেই বিষয়টা হয়তো বিবেচনায় আসে নাই,’ বলেন কবীর।

তবে এবার ব্রিকসে যোগ দিতে না পারার বিষয়টিকে কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে নারাজ সাবেক এই কূটনীতিক।

তিনি বলেন, ‘এটা ব্যর্থতা বলবো না। এটা বলতে পারেন যে, আমরা একটু বেশি প্রত্যাশা হয়তো করেছিলাম।’

‘অথবা এটাকে আশাবাদ তৈরি করে একটা অবস্থান বা একটা ভাবমূর্তি তৈরি করার জন্য হয়তো চেষ্টা করা হয়েছিল যা বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না।’

চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ বিবিসি বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশ বাদ পড়ার যথাযথ কারণ জানতে অপেক্ষা করা উচিত।

তার মতে, এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, বাংলাদেশকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল যে, চারটি দেশকে যুক্ত করা হলে তার মধ্যে একটি বাংলাদেশ হবে। কিন্তু বাস্তবে সেটা দেখা যায়নি।

‘এর কারণ হতে পারে, তারা যে ক্রাইটেরিয়া বিবেচনায় নিয়েছে সেগুলোর সাথে হয়তো বাংলাদেশ ম্যাচ করেনি, পরবর্তীতে যখন তারা আবার অ্যাড করবে তখন হয়তো আসতে পারে। তবে এগুলো সবই ধারণা মাত্র।’

তবে এটিকে কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে চান না তিনি।

তিনি বলেন, ‘সব কিছুতেই তো আর দিনে দিনে সাফল্য পাওয়া যায় না, অনেক কিছু আছে যেগুলোতে অনেক সময় লাগে।’

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলছেন সম্প্রসারনের বিষয়টি কয়েক ধাপে আলোচনা হয়েছে।

’কোন সূচকের ভিত্তিতে নতুন সদস্য নেয়া হবে কি-না কিংবা কীভাবে গ্রহণ করা হবে। এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে অর্থনীতির আকার ও জাতীয় মাথাপিছু আয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাই বলা যায় নতুন সদস্য নেয়ার ক্ষেত্রে পুরোপুরি ঐক্যমত না থাকলে একটি মাপকাঠি ছিলো,’ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

ভট্টাচার্য যে দুটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন এ দুটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের চেয়ে ইথিওপিয়া ছাড়া অন্যদেশগুলো, অর্থাৎ যাদের সদস্যপদ দেয়া হয়েছে তারা এগিয়ে।

বাংলাদেশের বাদ পড়াটাকে কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে চান না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাসও। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিজে থেকে এখানে আগ্রহ দেখিয়েছে বিষয়টি সেরকম নয়। বরং বাংলাদেশকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং সেখানে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে সাড়া দিয়েছে।

‘সেই কনটেক্সটে এটাকে ঠিক এখনই ফেইলিয়র বলাটা, অত্যুক্তি করা হয়ে যাবে। আরেকটু বোধ হয় এটা অ্যানালিসিস করতে হবে।’

বাংলাদেশের বাদ পড়ার পেছনে এখনই কোনো কারণ বোঝা সম্ভব নয় বলেও মনে করেন বিশ্বাস। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করার সময় আসেনি।

তবে যেসব দেশকে ব্রিকসে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে সেগুলো বিশ্লেষণ করার মতো বলে মনে করেন তিনি।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, চীন যেসব দেশে সমস্যা মেটাতে মধ্যস্থতা করেছে সেসব দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যেমন সৌদি আরব এবং ইরান। আবার ইথিওপিয়াতে চীনের বড় বিনিয়োগ রয়েছে।

এছাড়া আঞ্চলিক একটা ভারসাম্যও মাথায় রাখা হয়ে থাকতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। যেমন, ছয়টি দেশের মধ্যে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ আমেরিকা- সব এলাকার দেশই রয়েছে।

ব্রিকস হলো- উদীয়মান অর্থনীতির পাঁচটি দেশ– ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং সাউথ আফ্রিকার প্রথম অক্ষরের সমন্বয়ে নামকরণ করা একটি জোট। সূত্র : বিবিসি

বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন চায় জাতিসঙ্ঘ : ওবায়দুল কাদের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করে জাতিসঙ্ঘ বাংলাদেশে একটি ‘অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ নির্বাচন দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়ক গুইন লুইসের সাথে বৈঠকের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘অন্যান্য কূটনীতিকদের সাথে আমাদের যে বৈঠক হয়েছে আজকের আলোচনা তা থেকে ভিন্ন। নির্বাচনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায়।’

বৈঠকে প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক খান এমপি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত এমপি উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেয়ার মতো পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির চাপে জাতিসঙ্ঘের কোনো মাথাব্যথা নেই।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন দেখতে চাই, নির্বাচন যত প্রতিযোগিতামূলক হবে দেশে-বিদেশে তত গ্রহণযোগ্য হবে।’

এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, আমরা তাদের (বিএনপিকে নির্বাচনে যোগ দিতে) বাধ্য করতে পারি না।

তিনি বলেন, অন্যান্য কূটনীতিকদের সাথে তাদের আগের বৈঠকগুলো মূলত নির্বাচন সংক্রান্ত হলেও আজকের বৈঠকটি ছিল একটু ভিন্ন। আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও এসডিজিতে করণীয়।

তিনি বলেন, জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়কারী সকল বড় উন্নয়ন প্রকল্পের প্রশংসা করেছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতিসঙ্ঘ বিএনপির শর্তের বিষয়ে কোনো কথা তোলেনি, তবে বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে তাদের ভালো লাগবে। সূত্র : ইউএনবি

রেকর্ড দাম বাড়ল স্বর্ণের

দেশের বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা সোনা) দাম বাড়ায় ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম। সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে দুই হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ এক হাজার ২৪৪ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে কখনো দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি এক লাখ এক হাজার স্পর্শ করেনি।

আগামীকাল শুক্রবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বেড়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। শুক্রবার থেকে এটি কার্যকর করা হবে।

গত বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) সোনার দাম কমিয়েছিল বাজুস। এক সপ্তাহ যেতে না যেতে দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিলো সোনা ব্যবসায়ীদের সংগঠনটি।

নতুন মূল্য অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম হবে এক লাখ এক হাজার ২৪৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৯৬ হাজার ৬৩৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৮২ হাজার ৮১৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ৬৯ হাজার ৫১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোনার দাম বাড়ানো হ‌লেও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে রুপার দাম।

যুক্তরাষ্ট্রে সফলভাবে সম্পন্ন হল মুনা’র ৩ দিনব্যাপী সম্মেলন

নর্থ আমেরিকার মুসলিম কমিউনিটি সহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষের ঘরে ঘরে ইসলাম তথা পবিত্র মহাগ্রন্থ আল কোরআনের বাণী ঘরে ঘরে পৌছে দেয়ার অঙ্গীকারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ার ঐতিহাসিক ‘পেনসিলভেনিয়া কনভেনশন’ সেন্টারে অনুষ্ঠিত হলো মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকার (মুনা) ষষ্ঠ সম্মেলন। শুক্র, শনি ও রোববার এই তিন দিনের সম্মেলনে উত্তর আমেরিকার প্রায় ২০ হাজার ধর্মপ্রান মুসলমান অংশ নিয়েছেন বলে মুনা’র কর্তৃপক্ষরা জানিয়েছেন। এবারের সম্মেলনে দেশ-বিদেশের ইসলামিক স্কলারদের পাশাপাশি মূল আলোচক ছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবীদ, সুবক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী।

সম্মেলনের কর্মকান্ডের মধ্যে ছিলো ইসলামি চর্চা ও আলোচনা ছাড়াও ছিল সেমিনার, ছোটদের অনুষ্ঠান, মহিলাদের জন্য আলাদা অনুষ্ঠান, শিশু-কিশোর-কিশোরীদের খেলাধুলা, কালচারাল প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্রোগ্রাম প্রভৃতি। মুনা’র কনভেনশনে যোগদানকারী হাজার হাজার ধর্মপ্রান মুসলমানের একসাথে জুম্মার নামাজ আদায় ও কুরআন তেলোয়াতের মধ্যদিয়ে স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৮ আগষ্ট) তিনদিনব্যাপী কনভেনশন শুরু হয়। উদ্বোধনী পর্বে প্রায় ৫ হাজারের মতো নারী পুরুষ অংশ নেন। সম্মেলনের আর্কষনীয় অনুষ্ঠানগুলো শনিবার দিনব্যাপী চলে। বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশ থেকে আগত ৫০ জনের মতো ইসলামী চিন্তাবীদ এ সম্মেলনের বিভিন্ন ইভেন্টের ওপর আলোচনা করেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের আলোচিত ও মালয়েশিয়ায় অস্থায়ীভাবে বসবাসকারি ইসলামিক স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজাহারিও ছিলেন। আজাহারিকে একনজর দেখা ও তার বক্তব্য শোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ ফিলাডেলফিয়ায় সমবেত হন। মুনা নেতৃবন্দ জানান, গত সম্মেলনে ১৫ হাজারের মতো মুসলমান সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। এবার যোগ দিয়েছেন সর্বস্তরের প্রায় ২০ হাজার মুসলিম নর-নারী।

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে মুনা কনভেনশন হচ্ছে এককভাবে বাংলাদেশীদের সর্ববৃহৎ কোন সমাবেশ। এদিকে মুনা সম্মেলন ঘিরে পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়া শহর বাংলাদেশীদের সরব পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে। ফিলাডেলফিয়া শহরের ডাউনটাউন এলাকা মুসলিম কমিউনিটির উৎসবের শহর পরিণত। উদ্বোধনী দিনে শুক্রবার সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মুনা’র ন্যাশনাল কমিটির সভাপতি হারুন অর রশীদ, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, আব্দুস সালাম আজাদী, আহমেদ আবু ওবায়দুল্লাহ ও মাওলানা লুৎফর রহমান।

(খবর ইউএনএর)

বায়তুল মোকাররমে সাঈদীর গায়েবানা জানাজা স্থগিত

বায়তুল মোকাররম মসজিদে আজ বুধবার বাদ জোহর আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাজা স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আল্লামা সাঈদীর গায়েবানা জানাজায় হামলা, গুলি ও হত্যার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে বুধবার বাদ জোহর আল্লামা সাঈদীর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে বিশ্ব বরেণ্য মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ঢাকায় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হতে না দেয়া এবং সমবেত জনতার উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

তিনি ১৫ আগস্টের ওই বিবৃতিতে বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর, বিশ্ব বরেণ্য মুফাসসিরে কোরআন ও সাবেক এমপি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ১৪ আগস্ট দিবাগত রাত ৮:৪০টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্তিকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। উনার ইন্তিকালের খবর প্রচারিত হওয়ার সাথে সাথে হাজার হাজার তৌহিদি জনতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সমবেত হতে থাকে। রাত যত বাড়তে থাকে জনতার উপস্থিতিতে হাসপাতাল চত্বর ও শাহবাগের আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্যে পরিণত হতে থাকে। আল্লামা সাঈদীর পরিবারের লোকজন ও প্রাশাসনের সাথে সমন্বয় করে ১৫ আগস্ট বাদ জোহর পিরোজপুরে জানাযা, দাফন এবং ১৬ আগস্ট ঢাকায় গায়েবানা জানাযা করার সিদ্ধান্ত হয়।’

তিনি বলেন, ‘তবে রাত বাড়ার সাথে সাথে হাসপাতালে আগত হাজার হাজার সমবেত জনতার পক্ষ থেকে ঢাকায় জানাযার দাবি তোলা হয়। অনেকে লাশবাহী এম্বুলেন্স আটকিয়ে তার সামনে বসে যান এবং অনেকে শুয়ে পড়েন। শান্তিপূর্ণভাবে তারা তাদের প্রিয় রাহবারের ঢাকায় জানাযার দাবি জানান। কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময়ের সাথে দেশবাসী লক্ষ্য করেছে ফজরের পরপরই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো কারণ ছাড়াই সমবেত জনতার উপর মুহুর্মুহু সাউন্ড গ্রেনেড, গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। তাদের হাত থেকে হাসপাতালে আগত রোগীদের আত্মীয় স্বজন মসজিদের সাধারণ মুসল্লিগণও রেহাই পাননি। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী দলমত-নির্বিশেষে এদেশের কোটি জনতার হৃদয়ের স্পন্দন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় অন্তিম সময়ে তাঁর পরিবারের কারো সাথেই তিনি কথা বলে যেতে পারেননি। পরিবারের লোকজনকে তাঁর সাথে দেখা করতে দেয়া হয়নি। যা অত্যন্ত অমানবিক ও বেদনাদায়ক।

খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ না পাঠালে কঠোর কর্মসূচি

খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিদেশে না পাঠালে কঠোর আন্দোলন-কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারী দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (১৬ আগস্ট) সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কায়ার্লয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত মিলাদ মাহফিলে তিনি এ হুঁশিয়ারী দেন।

আমীর খসরু বলেন, জনগণকে বাঁচাতে হলে দেশনেত্রীকে বাঁচাতে হবে। আইনের শাসন, মানবাধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে দেশনেত্রীকে বাঁচাতে হবে। গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার বাঁচাতে হলে দেশনেত্রীকে বাঁচাতে হবে।

উন্নত চিকিৎসা না দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে যারা মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে তাদের দায়ভার বহন করতে হবে বলে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন বিএনপি এই নেতা।

‘ভারতের ভবিষ্যত ও নিরাপত্তা বাংলাদেশের সাথে জড়িত’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ, মিয়ানমার বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্মিতা প্যান্ট মঙ্গলবার বলেছেন, ভারতের ভবিষ্যত, বিশেষ করে এর নিরাপত্তা বাংলাদেশের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত একসাথে অনেক কিছু অর্জন করতে পারে, বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সুন্দরবনের বদ্বীপ সুরক্ষায়।

ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন স্মিতা প্যান্ট।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তবে অপরাধীরা তার মূল্যবোধকে নির্মূল করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু, ‘ইতিহাসে যার সমকক্ষ কম’, তার স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত হচ্ছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, জনগণ চরমপন্থা প্রত্যাখ্যান করেছে, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে এবং দেশটি প্রায় অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী পাঠায়।

বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান আলোচনার শুরুতে বলেন, বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি মডেল। সাম্য, ন্যায়বিচার, মৌলিক মানবাধিকার এবং বিশেষত আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার উপলব্ধির জন্য লড়াই করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি তার রাজনৈতিক দর্শন বিকাশ করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে জাতিসঙ্ঘে তার প্রথম ভাষণে সবার জন্য শান্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বঙ্গবন্ধুকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সংগ্রামই শান্তি ও ন্যায়বিচারের জন্য সার্বজনীন সংগ্রামের প্রতীক।’

একই সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছিল ১৯৭৩ সালে আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত ন্যাম সম্মেলনে, যেখানে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘যারা অত্যাচারী এবং যারা নির্যাতিত- তাদের মধ্যে পৃথিবী বিভক্ত…। যারা নিপীড়িত এবং যারা নিপীড়ন থেকে মুক্তির ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমরা তাদের পাশে আছি।’

বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, ‘ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, কিন্তু তারা এই মহান ব্যক্তির নীতি ও আদর্শকে মুছে ফেলতে পারেনি। তার শিক্ষা, মতাদর্শ এবং চেতনা আমাদের হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে আছে।’

হাইকমিশনার অনুসারে, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ একমত পোষণ করেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক পরিসংখ্যান এখন পাকিস্তান এবং কিছু পরিস্থিতিতে ভারতের চেয়ে ভালো।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ এবং ভারতের সাথে সুসম্পর্কের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
সূত্র : ইউএনবি