ইন্দো-মার্কিন ব্যবসায়ী ঋষি শাহ। আউটকাম হেলথের সাবেক সহ প্রতিষ্ঠাতা। তার জালিয়াতি দেখে চমকে গিয়েছে গোল্ডম্যান স্যাকস গ্রæপ ইনকর্পোরেটেড, গুগলের প্যারেন্ট অ্যালফাবেট ইনকর্পোরেটেড এবং ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিটজকারের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মের মতো বিনিয়োগকারীরাও। ১ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতির জন্য শিকাগোর সাবেক জেট-সেটিং এই ধনকুবেরকে সাড়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এই ঋষি শাহ যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন তখনই এই আউটকাম হেলথের বিষয়টি তার মাথায় আসে। মূলত ডাক্তারদের চেম্বারে মেডিকেল সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য এই সংস্থা ২০০৬ সালে তৈরি হয়েছিল।
ডাক্তারদের অফিসে টিভিতে বিজ্ঞাপন সরবরাহকারী আউটকাম হেলথের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ৩৮ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি শাহকে গত বছর একটি ফেডারেল জুরি এক ডজনেরও বেশি জালিয়াতি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। সোমবার এক বিবৃতিতে মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, গত সপ্তাহে শিকাগোতে মার্কিন জেলা জজ থমাস ডারকিন তাকে এবং আরও দুই নির্বাহীকে এ সাজা দিয়েছেন।
প্রসিকিউটররা ঋষি শাহকে ক্লায়েন্ট, ঋণদাতা, বিনিয়োগকারী এবং একটি অডিট ফার্মের কাছে মিথ্যাচারের চমকপ্রদ কাজের পেছনে চালিকা শক্তি হিসেবে বর্ণনা করে ১৫ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিলেন। তিনি এবং অন্যান্য নির্বাহীদের বিরুদ্ধে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির ক্লায়েন্টদের কাছে মিথ্যা বলা এবং কখনও স্থাপন করা হয়নি এমন বিজ্ঞাপনের জন্য অর্থ নেওয়া এবং তারপরে বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানির স্বাস্থ্যের ভুলভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
২০১৭ সালে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক নিবন্ধে এ জালিয়াতি প্রকাশ পাওয়ার আগে শাহ একেবারে উদীয়মান তারকা ছিলেন। শিকাগোর ঠিক উত্তরে নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন ২০০৬ সালে শাহ আউটকামের ধারণাটি পেয়েছিলেন – তখন কনটেক্সট মিডিয়া হেলথ নামে পরিচিত – এবং পরবর্তী দশকে কোম্পানির দ্রæত উত্থান তার জনসাধারণের প্রোফাইলকে বাড়িয়ে তোলে। তৎকালীন মেয়র রাহম ইমানুয়েল একটি কোম্পানির সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেছিলেন, ফলাফল যেমন যায়, তেমনি শিকাগোও যায়।
কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ রাজস্ব বৃদ্ধির ফলাফলের দাবিগুলি জালিয়াতির দ্বারা চালিত হয়েছিল, কারণ সংস্থাটি স¤প্রচারের চেয়ে বেশি বিজ্ঞাপন বিক্রি করেছিল এবং ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্ট নোভো নরডিস্ক এ / এসের মতো ক্লায়েন্টদের কাছে ডাক্তারদের অফিসে টিভিগুলির নেটওয়ার্কের আকার সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিল, প্রসিকিউটর এবং সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রকদের মতে।
বিজ্ঞাপন বিক্রয় এবং যে অর্থ এসেছিল তা কোম্পানির নগদ অর্থ বৃদ্ধির ফলে শাহ একটি বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য আউটকাম থেকে শত শত মিলিয়ন ডলার তুলতে পেরেছিলেন, ব্যক্তিগত ইয়ট এবং জেটগুলিতে সপ্তাহান্তে ভ্রমণের পাশাপাশি ১০ মিলিয়ন ডলারের বাড়িও ছিল, সরকার জানিয়েছে সেকথা। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে ভুয়া আর্থিক বিবৃতির ভিত্তিতে ঋণদাতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বেশি অর্থ সংগ্রহের পর ঋষি শাহের মোট সম্পদের পরিমাণ ৪০০ কোটি ডলারেরও বেশি।
বিচার বিভাগের অপরাধ বিভাগের প্রধান প্রিন্সিপাল ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল নিকোল এম আরজেনটিয়েরি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আউটকামের সাবেক নির্বাহীরা বছরের পর বছর ধরে তাদের গ্রাহক, নিরীক্ষক, ঋণদাতা এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। ’
শাহ গত সপ্তাহে একটি প্রস্তুত বিবৃতিতে বিচারককে বলেছিলেন যে প্রবৃদ্ধির জন্য কোম্পানির আগ্রাসী ধাক্কা সঠিকভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থতার জন্য তিনি টলজ্জিত ও বিব্রতট, যার ফলে টবেশ কয়েকটি মারাত্মক ভুলট হয়েছিল যার মধ্যে ক্লায়েন্টদের দ্বারা প্রদত্ত বিজ্ঞাপনের বিতরণ ট্র্যাক না করা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আদালতে দায়ের করা বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমি যে সংস্কৃতি তৈরি করেছি তা আমার দলের লোকদের ক্লায়েন্টদের প্রশ্নের জবাবে মিথ্যা তথ্য তৈরি করা ঠিক আছে বলে মনে করার অনুমতি দিয়েছে।
২০২৩ সালের এপ্রিলে আউটকাম প্রেসিডেন্ট এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা শ্রদ্ধা আগরওয়াল এবং চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার ব্র্যাড পার্ডির সাথে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল। প্রসিকিউটররা আগরওয়াল (৩৮) ও পার্ডির (৩৫) ১০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিলেন। কিন্তু ডারকিন আগরওয়ালকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন এবং পার্ডিকে দুই বছর তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
গোল্ডম্যান, অ্যালফাবেট এবং প্রিটজকারের মালিকানাধীন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি গ্রæপ ছিল যারা ২০১৭ সালে আউটকামের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল, দাবি করেছিল যে সে বছর ৪৮৭.৫ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহের সাথে জড়িত জালিয়াতি যা শাহ এবং আগরওয়ালের পকেটে ২২৫ মিলিয়ন ডলার লভ্যাংশের দিকে পরিচালিত করেছিল।
এছাড়াও, মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন শাহ, আগরওয়াল, পার্ডি এবং প্রাক্তন চিফ গ্রোথ অফিসার আশিক দেশাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। দেশাই এবং আরও দুই আউটকাম কর্মচারী কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচারের আগে অভিযোগের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন।
ভারতীয় বংশোদ্ভুত যুবকের জালিয়াতিতে হতবাক মার্কিন বিনিয়োগকারীরা
রাশিয়ার সঙ্গে আপসে প্রস্তুত নয় ইউক্রেন
রাশিয়ার সঙ্গে কোনো আপসে প্রস্তুত নয় ইউক্রেন। এমনটাই জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ আন্দ্রেই ইয়ারমাক। এমনকি যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কোনো অঞ্চল ছেড়ে দিতেও ইউক্রেন রাজি নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার তাসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স¤প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে দ্রæত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করবেন। ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘যুদ্ধে কীভাবে ন্যায়সংগত শান্তি অর্জন করা যায়, সে বিষয়ে কিয়েভ যে কোনো পরামর্শ শুনতে রাজি। তবে আমরা মূল্যবোধ, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, আঞ্চলিক অখণ্ডতাসহ সার্বভৌমত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত নই।’ আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে প্রাধান্য পাবে ইউক্রেন যুদ্ধ। এ বিষয়টিকে সামনে রেখেই যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন ইয়ারমাক।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের সময় বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে চ্যালেঞ্জ করে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নভেম্বরে পুনর্র্নিবাচিত হলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই ইউক্রেনের যুদ্ধের অবসান ঘটাবেন। তবে তিনি কীভাবে এটি করবেন সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো রূপরেখা দেননি। তবে গত সপ্তাহে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্রাম্পের দুই উপদেষ্টা তাকে এ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা দিয়েছেন।
এদিকে ইউক্রেনে হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। বুধবার ইউক্রেনের দিনিপ্রোতে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাঁচজন নিহত ও ৪৭ জন আহত হয়েছেন। দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাদের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আমার সমবেদনা। এ ছাড়া এক শিশুসহ ৪৭ জন আহত হয়েছেন।’ আঞ্চলিক গভর্নর সের্গেই লাইসাক এর আগে হামলাটিকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। হামলায় আহতদের মধ্যে ১৪ বছর বয়সি একটি মেয়েও রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ইউক্রেনীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হামলার ফুটেজে শহরে কালো ধোঁয়া উড়তে এবং মানুষকে গাড়ি নিয়ে দ্রæত পালাতে দেখা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ হামলার কারণে জেলেনস্কি তার মিত্রদের কাছে আরও দূরপাল্লার অস্ত্র সরবরাহের আহŸান জানিয়েছেন। যা দ্বারা দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা জোরদার ও রাশিয়ার হামলাকে নস্যাৎ করতে পারবে। এএফপির তথ্যানুসারে, রুশ বাহিনী দুই বছর আগে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই শিল্প শহর ও আশপাশের অঞ্চলে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার এসব হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও জোরদার ও দূরপাল্লার অস্ত্রের প্রয়োজন।
বিশ্বকাপ নিয়ে দেশে ফিরেছে রোহিতরা, চলছে উদযাপনের প্রস্তুতি
বিশ্বকাপ জয়ের ৪ দিন পর অবশেষে ভারতে ফিরেছে রোহিত শর্মার দল। বিশ্বকাপ জিতলেও নিজেদের দেশের মাটিতে পা রেখেই বিশ্বকাপ জয়ের উদযাপন সারতে চায় তারা। সেই লক্ষ্যেই এখন চলছে জোর প্রস্তুতি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে বিশেষ বিমানে করে সকাল সাড়ে ৬ টায় দিল্লিতে পা রাখে ভারতীয় ক্রিকেট দল।
গত ২৯ জুন দক্ষিণ আফ্রিকাকে শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ৭ রানে হারিয়ে ১১ বছর পর কোনো শিরোপা জেতে ভারত। টি-টোয়েন্টিতে যা ১৭ বছর পর। এমন জয়ের পর দেশে ফিরে উদযাপনের জন্য যখন তর সইছিল না রোহিত-কোহলিদের। তখন তাদের ভারত যাত্রায় বাধ সাধে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ‘বেরিল’। যার জন্য গত চারদিন বার্বাডোজেই কাটাতে হয়েছে রোহিত-কোহলিদের। আর এদিকে রোহিত-কোহলিরা ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরবেন সে আশায় পথ চেয়ে আছে দেশটির কোটি ক্রিকেটপ্রেমী।
অবশেষে তাদের সেই অপেক্ষা ফুরল। ট্রফি নিয়ে সকালেই দেশে ফিরেছেন রোহিত-কোহলিরা। সেখানে থেকে একটি হোটেলে যাবেন তারা। এরপর স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যাবেন বিশ্বজয়ীরা। সেখান থেকে আবার দিল্লি বিমানবন্দরে ফিরবে দল। এরপর বিকাল ৪টায় মুম্বাই পৌঁছাবেন রোহিতেরা। বিকাল ৫টায় শুরু হবে বিজয় যাত্রা।
নরিম্যান পয়েন্ট থেকে ছাটখোলা বাসে ২ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে রোহিতেরা পৌঁছবেন ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। সেখানে সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এর পর নিজেদের বাড়ি চলে যাবেন বিশ্বজয়ীরা।
বিশ্বকাপ জয় উদযাপনে সামিল হতে দর্শকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে রোহিত এক্স লিখেছেন, ‘আপনাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা বিশেষ মুহূর্তটা (বিশ্বকাপ জয়) উদযাপন করতে চাই। ৪ জুলাই বিকেল পাঁচটা থেকে মেরিন ড্রাইভ এবং ওয়াংখেড়েতে ভিক্টরি প্যারেড করে এই জয়টা উদযাপন করতে চাই। ইটস কামিং হোম।’
এর আগে সবশেষ ঘরের মাটিতে হওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপে ফাইনালে খেলেছিল ভারত। যদিও আহমেদাবাদে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারতে হয়েছে ভারতকে। তবে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে ভক্তদের সেই আক্ষেপ দূর করেছে রোহিত শর্মার দল। এমন জয়ের পর নিজেদের ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ও রবীন্দ্র জাদেজারা। বিশ্বকাপ জয়ের ম্যাচটিকে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হিসেবে করে রেখেছেন স্মরনীয়।
ব্রাজিলকে পেনাল্টি না দিয়ে ভুল স্বীকার কনমেবলের
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র’য়ে পয়েন্ট ভাগ করেছে ব্রাজিল। তাতে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে হয়েছে তাদের। যেখানে তাদের লড়তে হতে শক্তিশালী উরুগুয়ের বিপক্ষে। যাদের নামের পাশে আছে কোপার রেকর্ড ১৫টি শিরোপা। যা ব্রাজিলের জন্য বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ।
অথচ, এই ম্যাচে জয় পেলে প্রতিপক্ষ হিসেবে কিছুটা দুর্বল পানামাকে পেতে পারত ব্রাজিল। আর সেটা হতে পারত ম্যাচের ৪২ মিনিটে ডি বক্সের ভেতর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে করা ফাউল পেনাল্টি দিলে। যদিও কলম্বিয়ার ফুটবলার ডানিয়েল মুনজের সেই ফাউলকে আমলে নেয়নি রেফারি। পেনাল্টি পাওয়া হয়নি ব্রাজিলের। যদিও বিষয়টি ভিএআরে যাচাই করা হয়েছিল। তবে এরপরও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি ব্রাজিলকে। যেখানেই ভুল দেখছে কনমেবল। যা স্বীকার করেছে তারা।
এক বিবৃতিতে কনমেবল জানিয়েছে, ‘ভিনিকে ফেলে দেয়ার আগে মুনজ বল স্পর্শ করেননি। রেফারি বিষয়টি সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেননি। যদিও তিনি বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে দেখেছেন। একটা ভুল হয়ে গেল।’
ম্যাচের তখন ৪২ মিনিট। ১-০ গোলে এগিয়ে ব্রাজিল। ফলে পেনাল্টি পেলে দ্বিগুণ লিড নেওয়ার সুযোগ আসত সেলেসাওদের সামনে। তবে ভিনিকে করা মুনজের ফাউলটি দুই মিনিট সময় নিয়ে দেখার পরও শেষ পর্যন্ত ভিডিও রেফারি জানান, বল ক্লিয়ারের উদ্দেশে পা বাড়িয়েছিল মুনজ এবং তাতে তিনি সফল হয়েছেন। পরবর্তীতে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সেই মুনজই গোল করে কলম্বিয়াকে সমতায় ফেরান।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোল না হলে শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলেই পয়েন্টভাগ করতে হয় ব্রাজিলকে। এই ম্যাচে আবার হলুদ কার্ডও দেখেছেন ভিনি। আর তাতে করে টানা দুই ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখায় কোয়ার্টার ফাইনালে তাকে ছাড়ায় মাঠে নামতে হবে ব্রাজিলকে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে। আগামী ৭ জুলাই ভোরে কোয়ার্টারে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল-উরুগুয়ে।
কোপায় আর্জেন্টাইন কোচদের জয়জয়কার
বরাবরই ফুটবলার রপ্তানিতে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে থাকে ব্রাজিল। রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ীদের বলা হয় ফুটবলার তৈরির কারখানা। তবে ব্রাজিল যদি ফুটবলার তৈরির কারখানা হয়ে থাকে তবে আর্জেন্টিনা কোচ তৈরির। যার প্রমাণ মিলে চলমান কোপা আমেরিকার দলগুলোর কোচিং প্যানেলের দিকে তাকালে। যেখানে অংশ নেওয়া ১৬টি দলের মধ্যে ৭টি দলের প্রধান কোচের ভূমিকাতেই আছে আর্জেন্টাইন কোচ। বিপরীতে ব্রাজিলের কোচের সংখ্যা মাত্র দু’জন।
শুধু যে সংখ্যায় আর্জেন্টাইনদের দাপট তা নয়। পারফরম্যান্সও কথা বলছে আর্জেন্টাইনদের পক্ষেই। গ্রপ পর্ব যেই চার দল গ্রপসেরা হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে তার প্রতিটি দলের কোচই আর্জেন্টাইন। সেই দলগুলো হলো আর্জেন্টিনা, ভেনেজুয়েলা, উরুগুয়ে ও কলম্বিয়া।
আর্জেন্টিনা দলে কাজ করছে লিওনেল স্কালোনি। যার অধীনে সবশেষ কাতার বিশ্বকাপ জিতেছে মেসিরা। কোপায় খেলতে নেমেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। এবারও স্কালোনির দল কোপার অন্যতম দাবিদার। গ্রুপপর্বে তিন ম্যাচের তিনটিতেই জয় তুলে সে পথেই হাঁটছে দলটি। কোয়ার্টারে তাদের প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর।
ভেনেজুয়েলায় প্রধান কোচের ভূমিকায় আছেন আর্জেন্টাইন কোচ ফার্নান্দো বাতিস্তা। তার অধীনে নতুন রূপে ধরা দিয়েছে ভেনেজুয়েলা। ফুটবলাররা খেলছেন আক্রমণাত্মক ফুটবল। গ্রুপ ‘বি’ তে টানা তিন ম্যাচে জয় তুলে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে দলটি। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ কানাডা।
উরুগুয়ের প্রধান কোচের ভূমিকায় আছেন আর্জেন্টাইন কোচ মার্সেলো বিয়েলসা। যাকে বলা হয় কোচদের কোচ। সেই তিনি এবার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন উরুগুয়েকে কোপা জয়ের। তার অধীনে দারুণ ফুটবলও খেলছে দলটি। প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দিচ্ছে দলটির ফুটবলাররা। ‘সি’ গ্রæপে তিন ম্যাচই জয় তুলে কোয়ার্টারে পা রেখেছে উরুগুয়ে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল।
কলম্বিয়ার প্রধান কোচের ভূমিকায় আছেন আর্জেন্টাইন কোচ নেস্তর লরেনজো। তার অধীনে বদলে গেছে কলম্বিয়া। টানা ২৬ ম্যাচ অপরাজিত দলটি। সবশেষ ম্যাচে ব্রাজিলকে রুখে দিয়েছে ১-১ গোলে। কোয়ার্টারে পা রেখেছে গ্রæপসেরা হয়ে। এখন কোয়ার্টারে তাদের প্রতিপক্ষ পানামা।
জাহিরের ওপর রেগে আগুন সোনাক্ষী
সদ্য বিয়ে করেছেন সোনাক্ষী সিনহা ও জাহির ইকবাল। তারকা জুটির বিয়ে নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। কিন্তু এসব তোয়াক্কা না করে স্বামীর সঙ্গে সুসময় কাটাতে ব্যস্ত সোনাক্ষী।
কখনও সুইমিং পুলে, অথবা কখনও রেস্তোরাঁয়, সুসময়ের নানা মুহূর্ত সমাজমাধ্যমে শেয়ার করছেন তারকা জুটি। স¤প্রতি জাহির একটি পোস্ট করেছেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জাহিরের কথা শুনে হেসে খুন সোনাক্ষী। কিন্তু অভিনেত্রী নাকি রেগে ছিলেন জাহিরের ওপর। তবে স্বামীকে বকুনি দেওয়ার বদলে তার কথা শুনে হেসে লুটিয়ে পড়লেন সোনাক্ষী।
জাহিরের পোস্ট করা এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি। ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে জ়াহির লিখেছেন, ‘আমায় বকুনি দেবে ভেবেছিল। কিন্তু আমি ওকে হাসিয়ে দিয়েছি।’
উল্লেখ্য, ভিনধর্মের বিয়ে বলে নাকি এই সম্পর্কে সম্মতি ছিল না শত্রুঘ্ন সিনহা ও তার পরিবারের। যদিও সংবাদমাধ্যমকে শত্রুঘ্ন জানিয়েছিলেন, বিয়ের আগে অনেকেরই নানা সমস্যা হয়। মেয়ের সিদ্ধান্তে তার সম্মতি আছে। তবে বিয়েতে আসেননি সোনাক্ষীর ভাই লব ও কুশ সিনহা। তাদের অনুপস্থিতি নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছেন।
গত ২৩ জুন আইনি মতে বিয়ে করেন সোনাক্ষী ও জাহির। বিয়েতে ছিল না ধর্মীয় আচার। বিয়ের এক সপ্তাহ কাটতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন শত্রুঘ্ন। শোনা যাচ্ছিল, তার অস্ত্রোপচার হয়েছে। যদিও হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে সে কথা অস্বীকার করেছেন তিনি। তবে বিতর্কে কান না দিয়ে আপাতত দাম্পত্যে মন দিচ্ছেন সোনাক্ষী ও জাহির।
শাহরুখ-পুত্রের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসেন দীপিকা
বিয়ের পরে অভিনয়ে দাঁড়ি টানতে চেয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। রণবীর সিংহের সঙ্গে তখন চুটিয়ে প্রেম করছেন অভিনেত্রী। সেই সময় একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, যদি কখনো মনের মানুষ খুঁজে পান এবং বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন, তা হলে সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য অভিনয় ছাড়তেও প্রস্তুত তিনি। পাশাপাশি এ-ও জানিয়েছিলেন, একাধিক সন্তান নিয়ে সংসার জীবন উপভোগ করতে চান তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরও এক বার ছড়িয়ে পড়ল সেই ভিডিও।
দীপিকা বলেছিলেন, ‘রণবীর আর আমি বাচ্চাদের খুব ভালোবাসি। আমরা অপেক্ষা করছি, কবে আমরা নিজেদের পরিবারে নতুন অতিথিকে নিয়ে আসতে পারব।’ শাহরুখ-পুত্র আব্রামের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসেন বলি অভিনেত্রী। চিত্রনাট্যকার হোমি অদাজানিয়া ও অনাইতার সন্তানদের সঙ্গেও সময় কাটাতে ভালোবাসেন তিনি। পাশাপাশি এ-ও জানিয়েছিলেন, বন্ধু ও বন্ধুদের পরিবারের সঙ্গেও নিয়মিত সময় কাটাতে চেষ্টা করেন অভিনেত্রী।
স¤প্রতি ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ ছবির একটি প্রচার অনুষ্ঠানে দীপিকার দেখা মেলে। সেখানে কালো আঁটসাট ‘বডিকন’ পোশাক পরে আসেন নায়িকা। স্পষ্ট হয়ে ওঠে তার স্ফীতোদর। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে রণবীর সিংহ ও দীপিকা পাড়ুকোনের প্রথম সন্তান ভূমিষ্ঠ হতে চলেছে।
অনন্ত-রাধিকার ‘মামেরুতে’ হবু বরের হাত ধরে এলেন জাহ্নবী
অনন্ত আম্বানি এবং রাধিকা মার্চেন্টের প্রাক-বিবাহ উৎসব থামছে না। বিয়ের বাকি আর মাত্র ৮ দিন। আগামী ১২ জুলাই দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও বিত্তশালী পরিবারের ছোট বউমা হবেন রাধিকা মার্চেন্ট। গুজরাটি ঐতিহ্য ও পরম্পরার কথা মাথায় রেখেই আয়োজন করা হয়েছে প্রাক-বিয়ের সব অনুষ্ঠান।
বুধবার অনুষ্ঠিত হল রাধিকার ‘মামেরু’ অনুষ্ঠান। গুজরাটি বিয়ের অন্যতম অংশ এটি। এ অনুষ্ঠানে কনের মামা ভাগ্নীকে মিষ্টিমুখ করান। এ অনুষ্ঠানেও অংশ নিলেন বলিউড তারকারা। রাধিকা-অনন্তকে শুভেচ্ছা জানাতে অ্যান্টিলিয়ায় হাজির ছিলেন জাহ্নবী কাপুর ও তার হবু বর শিখর পাহাড়িয়া।
জাহ্নবী কাপুর ও শিখর পাহাড়িয়ার প্রেম এখন ওপেন সিক্রেট। আম্বানিদের বাড়িতে একসঙ্গেই হাজির যুগলে। কমলা লেহেঙ্গা এবং ম্যাচিং দুপট্টার সঙ্গে সরু ফিতের স্লিভলেস বøাউজে দ্যুতি ছড়ালেন জাহ্নবী। শিখর সেজেছিলেন একটি নীল কুর্তা এবং সাদা পাজামায়। দুজনের সাজেই ছিল গুজরাতি ছোঁয়া। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল দুজনের এন্ট্রির মুহূর্ত, হাসিমুখে ভেতরে প্রবেশ করেন তারা, তবে পাপারাজ্জিদের ডাকে সাড়া দিয়ে পোজ দিলেন না ক্যামেরার জন্য।
মামেরু অনুষ্ঠান গুজরাটি প্রাক-বিবাহের ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য় অঙ্গ। এ অনুষ্ঠানের সময়, কনের মামা তাকে মিষ্টি এবং উপহার দিয়ে যান। সাধারণত, উপহারগুলির মধ্যে থাকে একটি শাড়ি, গহনা, সাদা চুরা (চুড়ি) এবং ট্রেতে সুন্দরভাবে সাজানো মিষ্টি এবং ড্রাই ফ্রুটস। পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার কথা মাথায় রেখেই এ অনুষ্ঠান। বাঙালি বিয়ের যেমন অবিচ্ছেদ্য় অঙ্গ মামার ভিটের আইবুড়ো ভাত, এটিও তেমনই। মামেরু কেবল সাংস্কৃতিক উদযাপনের ঐশ্বর্যই বাড়িয়ে তোলে না বরং নববধূ এবং তার পরিবারের জন্য আনন্দের তুফান নিয়ে আসে।
২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি মুম্বাইয়ে একটি গোল ধানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনন্ত-রাধিকার প্রাক বিয়ের অনুষ্ঠানের সূচনা হয়েছিল। এর আগে মার্চে তাদের জামনগরে অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড প্রি-ওয়েডিং সেলিব্রেশনে পারফর্ম করেছিলেন রিহানা, দিলজিৎ দোসাঞ্জ, শাহরুখ খান, সালমান খান, আমির খান ও অক্ষয় কুমাররা। জামনগরে একটি উদযাপনের পরে, তারা নির্বাচিত অতিথিদেরও একটি বিলাসবহুল ক্রুজে নিয়ে গিয়েছিলেন। অনন্ত এবং রাধিকার বিয়ের মূল অনুষ্ঠান ১২ জুলাই।
ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ায় কী ক্ষতি হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নেপাল, ভুটান, ভারত, বাংলাদেশ- এই চারটি দেশ নিয়ে প্রত্যেকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা হচ্ছে, ট্রানজিট হচ্ছে। এটা তো কোনো একটা দেশ না, আঞ্চলিক ট্রানজিট সুবিধা এবং যোগাযোগ সুবিধার জন্য করা হয়েছে। নেপাল থেকে আমরা জলবিদ্যুৎ কেনা শুরু করতে যাচ্ছি। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর যেসব রেলপথ, নৌপথ বন্ধ ছিল সেগুলো আমরা উন্মুক্ত করে দিচ্ছি। ট্রানজিট দেওয়ায় কী ক্ষতি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘাতকের বুলেটে বাবা, মা, ভাই, স্বজনদের হারিয়েছি। আমার আর হারাবার কিছু নেই। এখন একটাই লক্ষ্য বাংলাদেশের প্রতিটা মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের নিশ্চয়তা করে যাওয়া। বাংলাদেশের একজন মানুষও ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না। সবার ঠিকানা হবে। ইতোমধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৫৮টি জেলার ৪৬৪টি উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত করেছি। ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭৭টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে গৃহ প্রদানের মাধ্যমে মোট ৪৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮৫৫ জন মানুষকে পুনর্বাসন করেছি। এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

গতকাল দ্বাদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। বৈশি^ক মূল্যস্ফিতি বিবেচনায় নিয়ে সবাইকে কৃচ্ছ্রসাধনের আহŸান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বড় বাজেট পাস হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি রয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের জন্য আমাদের কতগুলো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা আমাদের প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ রাখব। সংসদ সদস্যসহ সকাইকে অনুরোধ করব বাজেট যাতে যথাযথভাবে কার্যকর হয়। বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সবাই যতœবান হবেন। বৈশ্বিক মূল্যস্ফিতি বিবেচনায় সবাইকে কৃচ্ছ্রসাধন করতে হবে। সংসদ নেতা বলেন, আমাদের ট্রান্স-এশিয়া হাইওয়ে, ট্রান্স-এশিয়া রেলের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। আজকে ভারতকে আমরা ট্রানজিট দিলাম কেন? এটা নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া। আমাদের ট্রানজিট তো আছেই। ত্রিপুরা থেকে বাস চলে আসে ঢাকায়, ঢাকা হয়ে কলকাতা পর্যন্ত তো যাচ্ছে। এতে ক্ষতিটা কি হচ্ছে। বরং আমরা রাস্তার ভাড়া পাচ্ছি। সুবিধা পাচ্ছে দেশের মানুষ। অনেকে অর্থ উপার্জনও করছে।
তথ্য-প্রযুক্তির বিকাশে আজ পৃথিবীটা গেøাবাল ভিলেজ। যখন এই অঞ্চলে সাবমেরিন কেবল আসে, বাংলাদেশ বিনা পয়সায় যুক্ত হতে পারত। খালেদা জিয়া করতে দেয়নি। সব তথ্য নাকি ফাঁস হয়ে যাবে! ভুটান থেকে একটি রাস্তা যাচ্ছে মিয়ানমার হয়ে থাইল্যান্ড পর্যন্ত। ভারত চাচ্ছিল ভুটান থেকে রাস্তাটা বাংলাদেশ হয়ে থ্যাইল্যান্ড যাবে। আন্তর্জাতিকভাবে এই রাস্তাটার সঙ্গে যুক্ত থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্যে আমরা অনেক এগিয়ে যেতাম। খালেদা জিয়া এটাও নাকচ করে দেয়। এখন সেই রাস্তাটা যাচ্ছে বাংলাদেশকে বাইপাস করে। আমি প্রথমবার সরকারে এসে অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু যুক্ত হতে পারিনি। বিশ্বায়নের যুগে আমরা নিজেদের দরজা বন্ধ করে রাখতে পারি না। আজকে পৃথিবীটা গেøাবাল ভিলেজ, একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। ভারত থেকে পাইপলাইনে তেল নিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা আসামের রুমালিগড় থেকে পাইপলাইনে তেল নিয়ে এসেছি। পার্বতীপুর ডিপোতে সেই তেল আসছে। ক্ষতিটা কী হয়েছে। বরং আমরাই কিন্তু সস্তায় কিনতে পারছি।
সা¤প্রতিক ভারত সফর নিয়ে সমালোচনাকারীদের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ভারত আমাদের মিত্রশক্তি। পৃথিবীর কোনো দেশেই যুদ্ধের পর মিত্রশক্তি সেই দেশ ছেড়ে যায়নি। এ ক্ষেত্রে একমাত্র বাংলাদেশ ব্যতিক্রম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ছিল, ইন্দিরা গান্ধী নিজেও স্বাধীনচেতা ছিলেন বলেই যেই মুহূর্তে জাতির পিতা ভারতের সৈন্য ফেরত নিতে বলেন, সেই মুহূর্তে ভারতের সৈন্য চলে যায়। অথচ, জাপানকে সহযোগিতা করেছিল আমেরিকা, এখনো সেখানে আমেরিকার ঘাঁটি। পশ্চিম জার্মানিকে সমর্থন করেছিল আমেরিকা, এখনো সেখানে আমেরিকার ঘাঁটি। আমার ভারত সফর নিয়ে বিরোধীদের কেউ কেউ বলেছেন, ‘দেশ বেঁচে দিয়ে আসছে’। আসলে বিক্রিটা কারা করে?
কেউ ঠিকানাবিহীন থাকবে না : এর আগে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, বাংলাদেশের একজন মানুষও ভূমিহীন-গৃহহীন বা ঠিকানাবিহীন থাকবে না। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ইতোমধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৫৮টি জেলার ৪৬৪টি উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত করা হয়েছে। ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭৭টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে গৃহ প্রদানের মাধ্যমে মোট ৪৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮৫৫ জন মানুষকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
অধিবেশন সমাপ্ত : ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন গতকাল শেষ হয়েছে। গত ৫ জুন থেকে ১৯ কার্যদিবস অধিবেশন চলার পর গতকাল ৩ জুলাই অধিবেশন শেষ হয়। ৩০ জুন বাজেট পাস হয়। আগের দিন ২৯ জুন সংসদে অর্থ বিল পাস হয়। অধিবেশনে সামগ্রিক বাজেট আলোচনায় ২৩৬ জন সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
অবশেষে মতুয়া হরিমন্দির ব্যক্তি মালিকানা থেকে অবমুক্ত হয়ে সংগঠনের নামে
জন্মভূমি প্রতিবেদক : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশী মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠিত শ্রীশ্রী হরি মন্দির ব্যক্তিমালিকানা থেকে অবমুক্ত হয়ে তাদের প্রিয় সংগঠন আন্তর্জাতিক শ্রীহরিচাঁদ গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের নামে হস্তান্তরিত হয়েছে।
জানা যায়, গত ২রা জুলাই সোমবার নিউইয়র্ক রাজ্যের আইন-কানুন মেনে আইনবিদ ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানে নেতৃস্থানীয় মতুয়া ভক্ত সহ শ্রীহরি মন্দিরের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলেই উপস্থিত ছিলো। সমস্বরে ধ্বনি দিয়ে সকলে এই মহতি উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।
উল্লেখ্য এতোদিন শ্রীহরিমন্দির ব্যক্তিমালিকানায় ডা. সমীর সরকারের নামে ছিল। আআনি জটিলতায় মন্দির কেনার সময় আর্থিক সুবিধা পেতে ও ব্যাংকের লোন নিতে গ্যারেন্টার প্রয়োজন ছিল। সেই সময় মতুয়া ভক্ত ডা. সমীর সরকার স্বপরিবারে এগিয়ে আসেন এবং তার নামেই মন্দিরের বাড়িটি ক্রয় করা হয়। ক্রয়ের পর থেকেই মতুয়া সম্প্রদায় শ্রীহরিমন্দিরের কার্যক্রম শুরু করে। সেই থেকেই নিউইয়র্ক প্রবাসী কিছু সম্প্রদায় জেনে আসছে এটি মতুয়া সম্প্রদায়ের ক্রয় করা নিজস্ব মন্দির। কাগজপত্রে মতুয়া সংগঠনের নাম হরিচাঁদ গুরুচাঁদ আন্তর্জাতিক মতুয়া মিশনের। ক্রয় করার সময়ই ডা. সমীর সরকারের নামে ব্যক্তিমালিকানা থেকে সংগঠনের নামে হস্তান্তরের জন্য বিধিবিধান রাখা হয়।

মন্দির ক্রয়ের পর থেকেই প্রবাসী মতুয়া সম্প্রদায় আনন্দের জোয়ারে ভাসতে থাকে। দেশের মতুয়া সম্প্রদায়ও নিউইয়র্কের হরিমন্দির নিয়ে গর্ববোধ করে। কালক্রমে নিউইয়র্ক মতুয়া সম্প্রদায়ের শ্রীহরি মন্দির দেশে বিদেশে মতুয়া সম্প্রদায়ের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে। নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স বরোতে রিচমুÐহীলের ১২৭ নম্বর সিটি-এ আকর্ষণীয় এই মতুয়া মন্দির অবস্থিত। শুরু থেকেই মতুয়া সম্পদ্রায়ের গুরু হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুরের নামে গোপাল বাড়ের ওড়াকান্দি মন্দিরে আদলের আদলে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ঠাকুরের জন্মজয়ন্তি, মহাবারুণাসহ মতুয়া সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পার্বণ সাথে সাথে সনাতন ধর্মের প্রধান প্রধান পূজাপার্বণ যেমন দুর্গোৎসব, সংকীর্তন, শিবরাত্রি, কালি পূজা, নববর্ষও চলতে থাকে।
মন্দির ক্রয়ের অব্যাহতির পরই আস্তে আস্তে আত্মকলহ, পদ-পদবীর গ্যাড়াকল, কয়েক দফায় সংগঠনের কমিটি বদল এমনকি দু’গ্রæপের দু’কমিটি সমান্তরাল চলে। একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার সোসাল মিডিয়ায় ঝড় তোলে। স্থানীয় প্রশাসন অর্থাৎ পুলিশের হস্তক্ষেপও কোর্ট-কাচারী পর্যন্ত দৌড়াতে হয়। সংকট মুছনে দীর্ঘ ক’বছর মধ্যস্থতায় কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও কলকাতার ঠাকুরবাড়ীর দাদু প্রচেষ্টা চালায়। মধ্যস্থতার ফল পুরাপুরি কাজ না করলেও প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিয়ে অনেক সাহায্য করেছে।

শ্রীহরিমন্দিরে ব্যক্তিমালিকানা যখন ডা. সমীর সরকারের উপর ছিল তখন আত্মকলহ ও সোসাল মিডিয়ায় আলোচিত বিষয় নিয়ে তিনি বরাবরেই নীরব ভূমিকা পালন করেন। ফলে পরস্পরের মাঝে দূরত্ব ক্রমেই বাড়তে থাকে। একসময় মন্দিরটি প্রায় প্রাণহীন হয়ে যায়। ভক্তদের আগমন কমতে থাকে। ক্ষোভ ও বেদনা বাড়তে থাকে। অনেকের মুখ দেখাদেখিও পর্যন্ত হয়নি।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য নিউইয়র্ক তেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জন্মভূমি ক’বছর আগে ডা. সমীর সরকারের কাছে মন্দির মতুয়া মিশনের নামে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া জানতে চায়। সেই সাক্ষাৎকারে ডা. সমীর সরকার অকপটে বলেছিলেন সময় ও সুযোগ হলেই আমি শ্রীহরি মন্দির মতুয়া মিশনের নামে হস্তান্তর করবো।
অবশেষে নিউইয়র্কের মতুয়া আকাশে বিলম্ব হলেও নতুন সূর্যের উদয় হলো। ডা. সমীর সরকার নীরবতা ভেঙ্গে কালক্ষেপণ না করে আরও আগে হস্তান্তর হলে রাস্তা আরও সহজ হতো। দীর্ঘ = ও সংগঠনের পথ চলার বাঁকে বাঁকে নাটকীয়তায় ভক্তদের মাঝে বিশ্বাসহীনতার চিড় ধরেছে।
বেলা শেষের খবর সকল মতুয়া ভক্তদের জন্য অশেষ সম্পদ। মন্দির ক্রয় থেকে এই পর্যন্ত এ মাত্রায় নিয়ে আসার জন্য ডা. সমীর সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা থাকা ভক্তদের উচিত।


