Home Blog Page 596

র‌্যাবের মতো গোয়েন্দা পুলিশও এখন মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে : রিজভী

বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ডিবি পুলিশের আক্রমণে টার্গেটকৃত নেতাকর্মীদের না পেলে পরিবারের সদস্যদের তুলে নেয়া হচ্ছে, এতে পরিবারের বয়স্ক সদস্যরা আতঙ্কে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। র‌্যাবের মতো গোয়েন্দা পুলিশও এখন মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। 

সোমবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নয়া পল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বাংলাদেশ এখন মনুষ্যত্বহীন আওয়ামী ফ্যাসিজমের কালো ছায়ার নিচে। নির্যাতনের নির্মমতার মুখে দাঁড়িয়ে আছে গণতন্ত্রকামী মানুষ। অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামী জনগণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আজ স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দি পরেও দেশকে গণতন্ত্রের অভিমুখী না করে নিষ্ঠুর ফ্যাসিজমকে প্রতিষ্ঠিত করার আয়োজন চলছে মহাধুমধামে। কবির কথায় বলতে হয় ‘অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এই পৃথিবীতে আজ’। হিংসার একটা আদিম রূপের ছবি বাংলাদেশের সর্বত্র। প্রভুত্বকামী জুলুমবাজ সরকারের বিষাক্ত থাবা পাড়া মহল্লা থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী বিদ্বেষের মন্ত্রণাদাতা, শান্তির শত্রু। বিগত কয়েকদিনে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর চালানো হয়েছে এক সর্বগ্রাসী সহিংসতার ভয়ঙ্কর আক্রমণ। আইনের শাসন, সুবিচার, মানবিক মর্যাদার অস্তিত্ব ক্রমান্বয়ে রাষ্ট্রসমাজ থেকে মুছে দেয়া হয়েছে নগ্ন দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় বাহিনী গুলোকে। গণতন্ত্র এখন মৃত, সেজন্যই গণতন্ত্রে স্বীকৃত বিরোধী দলের যেকোন কর্মসূচিকে বরদাস্ত করছে না অবৈধ সরকার। মিছিলের শব্দ শুনলেই গুলি চালানো হচ্ছে নির্বিচারে, সাপ পেটানোর মতো লাঠিপেটা করা হয় নেতাকর্মীদের। প্রায় প্রতিদিনই পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে বিরোধী নেতাকর্মীদের হাত, পা, পিঠ, পাকস্থলীই বিদ্ধ হচ্ছে না, তাদের মহামূল্যবান অঙ্গ চোখ হারিয়ে চিরদিনের জন্য অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে, চেনা পৃথিবী হয়ে যায় তাদের কাছে অচেনা। আজীবন পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে দিন কাটাতে হয়, এ বেদনা সহ্য করার মতো নয়। তাদেরকে সহমর্মিতা জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, বর্তমানে এদেশে মত প্রকাশের ওপর বাধা নিষেধ রয়েছে। ব্যক্তি স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে গেলে তার ঠাঁই হয় কারাগারে বা আয়নাঘরে। এখন রাজনৈতিক দলের সমাবেশের অধিকার পুলিশের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর। সুষ্ঠু নির্বাচনে নিজের পছন্দের দলকে ক্ষমতায় আনার অধিকার ভোটাররা হারিয়েছে। প্রতিনিয়ত সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য একটি তাবেদার তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। অতিযত্নে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় অপপ্রচার আর কুৎসা ছড়ানোর জন্য গণমাধ্যমের কিছু অংশকে ব্যবহার করা হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে। গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনকে রোধ করার জন্য অবৈধ কতৃর্ত্ববাদী সরকার জুলুমের সর্বোচ্চ পন্থা নামিয়ে এনেছে জনগণের ওপর। গণতন্ত্রের উল্টোযাত্রাকেই অব্যাহত রাখতে চায় আওয়ামী নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠী।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, কোনোভাবেই যাতে সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র হতে না পারে সেজন্য খুন জখমে উৎসাহী ও সিন্ডিকেট হিতৈষী ম্যান্ডেটবিহীন আওয়ামী সরকার দমন-পীড়ণে নতুন নতুন মাত্রা যোগ করছে। মুদ্রা পাচার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান লোপাট, শাসকগোষ্ঠীর আত্মীয়স্বজনদেরকে হরিলুট করার সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে বিদ্যমান অর্থনৈতিক নৈরাজ্যের সীমাহীন আবর্তের মধ্যে দেশকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এই অনাচারমূলক পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য তাদের ক্ষমতা আঁকড়ে রাখা প্রয়োজন। তাই তারা ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে গুম, খুন, ক্রসফায়ারের মতো অমানবিক নিষ্ঠুরতার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবেই এই আতঙ্কের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে যাতে গণতন্ত্রকামী মানুষ রাজপথে ধেয়ে আসতে না পারে। বিএনপি ও ভিন্ন মতের মানুষদের পাইকারী হারে গ্রেফতার, রিমান্ডের নামে নির্যাতন, কখনো বিবস্ত্র করে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বিগত দেড় দশক ধরে। শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার জন্য এখনো সেই পৈশাচিকতা অব্যাহত আছে। আর এ ক্ষেত্রে দলীয় চেতনাবাহী আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা এখন শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ২৮ ও ২৯ জুলাইয়ের পূর্বাপর চলছে জুলুম-উৎপীড়ণের নানামুখী তৎপরতা। পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যদের কতৃর্ক গ্রেফতার, গুম কোনোভাবেই থামছে না। গভীর রাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গোয়েন্দা পুলিশের হানায় দিনকে দিন নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। বিশেষ বিশেষ টিম গঠন করে চালানো হচ্ছে অভিযান। তাদের আক্রমণে টার্গেটকৃত নেতাকর্মীদের না পেলে পরিবারের সদস্যদের তুলে নেয়া হচ্ছে, এতে পরিবারের বয়স্ক সদস্যরা আতঙ্কে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। র‌্যাবের মতো গোয়েন্দা পুলিশও এখন মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। এদের নেতৃত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগের দলীয় অনুগত উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। 

রিজভী আহমেদ বলেন, আমরা জানতে পেরেছি আজ আদালতে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইসাহাক সরকারসহ ২৭ জন নেতাকর্মীকে দু’বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। আমরা আগেই বলেছি সরকারের নির্দেশে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হচ্ছে। ইসাহাক সরকারসহ ২৭ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আজ সাজা প্রদানের ঘটনাও আরেকটি নতুন ন্যাক্কারজনক দৃষ্টান্ত। অবিলম্বে এই সাজার আদেশ প্রত্যাহারের জোর আহ্বান জানাচ্ছি।

বৃহত্তর স্বার্থে আ’লীগের সাথে কাজ করবে বিজেপি : জে পি নাড্ডা

ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি জে পি নাড্ডা বলেছেন, বিজেপি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বৃহত্তর স্বার্থে একসাথে কাজ করবে।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। আমরা আগামী দিনে দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ জোরদার করে আমাদের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’

সোমবার (৭ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে তার বাসভবনে পাঁচ সদস্যের আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠককালে জে পি নাড্ডা এসব কথা বলেন।

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ মিশন জানায়, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী এবং সংসদ সদস্য আরমা দত্ত ও অধ্যাপক মেরিনা জাহান বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে তারা এ অঞ্চলের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জঙ্গিবাদ দমন এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

এসময় নাড্ডা বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাথে ভারতের একটি ঐতিহাসিক ও মানসিক সম্পর্ক রয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানসমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়াদে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমানা ও সমুদ্রসীমা বিরোধ এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্কর দুই প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদে সমাধান করা হয়েছে।

বিজেপি সভাপতি কৃতজ্ঞতার সাথে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সক্রিয় উদ্যোগের কারণে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর সঙ্কর সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এ অঞ্চলে দেশের আর্থ-সামাজিক খাতে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। যা এখন অন্যান্য দেশের কাছে উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।

হাছান মাহমুদ বলেন, দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকটি ‘অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে’ অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, তারা বিজেপি সভাপতির সাথে অনেক বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও বিজেপি খুব ভালো সম্পর্ক উপভোগ করছে এবং আমরা দুই দল সরকারি পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধান করছি।’

ভবিষ্যতেও এ সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে বিজেপির সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল।

বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তড়ে এবং বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান ড. আব্দুর রাজ্জাক তাদের নিজ নিজ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেনু।

বৈঠকে তারা দুই দলের পাশাপাশি দুই দেশের উন্নয়নের জন্য প্রতিনিধি পর্যায়ের সফর বিনিময়ের মাধ্যমে দলীয় পর্যায়ে সম্পর্ক আরও জোরদার করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

পরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. জয়শঙ্করের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল।

সূত্র : ইউএনবি

মানহানির ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কারাদণ্ড নয়, জরিমানা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ : আইনমন্ত্রী

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পরিবর্তন করে নতুন যে সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩ করা হবে সেখানে মানহানির মামলায় সাংবাদিকদের কারাদণ্ডের বিধান থাকবে না বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেছেন, মানহানির মামলায় সাংবাদিকদের কারাদণ্ডের বিধান থাকবে না। তবে থাকছে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। অনাদায়ে তিন বা ছয় মাসের কারাদণ্ড। এ সাজা শুধুমাত্র জরিমানা না দিতে পারলেই ভোগ করতে হবে।

সোমবার সচিবালয়ের আইন মন্ত্রণালয়ে নিজ কক্ষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পরিবর্তন করা হচ্ছে। এ আইনের বহু ধারা নতুন সাইবার নিরাপত্তা আইনে যুক্ত করা হবে। কিছু ধারায় বড় সংশোধনী আনা হবে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে মানহানির অভিযোগ কারাদণ্ড দেয়ার বিধান ছিল। নতুন আইনে সেখানে পরিবর্তন এনে কারাদণ্ডের পরিবর্তে জরিমানার বিধান করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, এটি একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

দেওয়ানি মামলায় যেভাবে জরিমানার বিষয়গুলো আছে, সেভাবেই সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বিষয়গুলো থাকবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, যখন নতুন সাইবার নিরাপত্তা আইন হবে, তখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থাকবে না।

পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচক এখন ইনজামাম উল হক

জোর গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল রোববারই, সোমবারই এলো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচক পদে ফিরেছেন ইনজামাম উল হক। এর আগেও দীর্ঘ সময় এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই কিংবদন্তী ক্রিকেটার। তার সময়েই চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জেতে পাকিস্তান। 

জাকা আশরাফ পিসিবির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর বোর্ডকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করেন। ফলে বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে বেশকিছু পরিবর্তন আনছেন। যেই কাজে সহায়তার জন্যে মিসবাহ উল হক, ইনজামাম উল হক ও মোহাম্মদ হাফিজের সমন্বয়ে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেন।

দায়িত্ব পেয়েই মিসবাহর নেতৃত্বাধীন টেকনিক্যাল কমিটি নির্বাচক প্যানেলে পরিবর্তন আনার সুপারিশ করে। যার ফলশ্রুতিতে গত নয় মাসে চতুর্থবারের মতো পরিবর্তন আসে পাকিস্তানের নির্বাচক প্যানেলে। টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ইনজামাম নিজেই নিযুক্ত হয়েছেন প্রধান নির্বাচক হিসেবে।

পাকিস্তানে ক্রিকেট বোর্ডের এই পদটা যেন মিউজিক্যাল চেয়ার। গত নয় মাসে একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে নির্বাচক প্যানেলে। গত ডিসেম্বরে রমিজ রাজা পিসিবির চেয়ারম্যান পদ ছাড়লে তার বোর্ডের অধীনে নির্বাচক হিসেবে কাজ করা মোহাম্মাদ ওয়াসিমও দায়িত্ব হারাব ক’দিন পরই।

নাজাম শেঠি চেয়ারম্যান হয়ে অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচক কমিটির প্রধান হিসেবে আফ্রিদিকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। যেখানে তার সঙ্গী ছিলেন রাও ইফতিখার আনজুম ও আব্দুল রাজ্জাক। তবে নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর দায়িত্ব ছাড়েন আফ্রিদিও।

নির্বাচক প্যানেলের প্রধান হিসেবে বসানো হয় হারুন রশীদকে। যেখানে তার সাথী হিসেবে ছিলেন কামরান আকমল, মোহাম্মদ সামি ও ইয়াসির হামিদ। কিছুদিন পর ফের ভেঙে দেয়া হয় সেই প্যানেল। এবার প্রধান নির্বাচক পদে হারুন রশীদ থেকে গেলেও প্যানেলে যোগ হন হাসান চিমা, মিকি আর্থার ও গ্রান্ট ব্রাডবার্ন।

এবার জাকা আশরাফের অধীনে আবারো বদলে গেল নির্বাচক কমিটি। দ্বিতীয় মেয়াদে পাকিস্তানের নির্বাচক পদে বসলেন ইনজামাম। ২০১৬ থেকে ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত এই দায়িত্বে ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক ব্যাটার। তার সময়ে ২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান।

চট্টগ্রামে বৃষ্টি : ৩০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ

টানা তিনদিন মাঝারি থেকে ভারী ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত আছে চট্টগ্রামে। আবহাওয়া অফিস বলছে, শ্রাবণের শেষ সময়ে চট্টগ্রামে এবার গত ৩০ বছরের মধ্যে রেকর্ড পারিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। 

এছাড়া গত তিন বছরে মধ্যে এবারেই প্রথম এমন ভরা বর্ষার নাগাল পেল নগরবাসী। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ৩২২ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামে। 

গত ২৪ ঘণ্টায় সোমবার (৭ আগস্ট) সকাল ৬টা পর্যন্ত এটি রেকর্ড করা হয় বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

সংস্থাটি জানায়, চট্টগ্রামের পর খেপুপাড়ায় ৩১৬ মিলিমিটার, বান্দরবানে ২৮৬, হাতিয়ায় ২২১, কুতুবদিয়ায় ১৬৬, কুমিল্লা ও সন্দ্বীপে ১৫৪, রাঙ্গামাটিতে ১৪৫, সীতাকুণ্ডে ১২৯, চাঁদপুর ও মাদারীপুরে ১২০, বরিশালে ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আজ সোমবার (৭ আগস্ট) আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

সোমবার সকাল ৬টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৮ মিলিমিটার। তবে সকাল থেকে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমলেও থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও সাধারণ বৃষ্টিতেও জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে এ নগরের মানুষেরা। অতি ভারি বৃষ্টির কারণে সমুদ্র বন্দরগুলোকে দেয়া ৩ নম্বর সতর্কতা সঙ্কেত বহাল রাখা হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এর প্রভাবে পাহাড় ধসেরও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী পরশু থেকে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হবে। এরপর ধীরে ধীরে বৃষ্টিপাতও কমে আসবে।

সূত্র : বাসস

শেখ হাসিনার পতন না দেখিয়ে ভগবান আমাকে চিতায় তুলবেন না : গয়েশ্বর

আমার বিশ্বাস- শেখ হাসিনার পতন না দেখিয়ে ভগবান আমাকে চিতায় তুলবেন না। এই বিশ্বাস নিয়েই আমার পথ চলছে- বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

শুক্রবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তৃতাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ৯ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে ৩ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে এ প্রতিবাদ সমাবেশ করে দলটি। ঢাকা ছাড়াও সারাদেশে জেলা ও মহানগের প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের সাহসে আমরা এই বয়সে সাহসী। আপনারা রাস্তায় থাকবেন, আমরা আপনাদের নেতৃত্ব দেব।

২৯ জুলাই রাজধানীর ধোলাইখালে অবস্থান কর্মসূচি প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেদিন আমি রাজপথে ছিলাম। আমাকে ছেড়ে কোনো নেতাকর্মী যায়নি। তারা যদি আমাকে ছেড়ে যেত হয়ত আমার লাশ পোস্তগোলা শ্মশানে থাকত। আমার বিশ্বাস- শেখ হাসিনার পতন না দেখিয়ে ভগবান আমাকে চিতায় তুলবেন না। এই বিশ্বাস নিয়ে পথ চলছি। জনগণ শেখ হাসিনাকে আর সময় দিতে চায় না।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, এই শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না থাকলে নাকি ১ লাখ মানুষ মারা যাবে। কিন্তু শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে ১৮ কোটি মানুষ মারা যাবে। ১৮ কোটি মানুষ বাঁচবে, নাকি দুর্নীতি-লুটপাট করে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করা, যুব সমাজকে ধ্বংস করা, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের মালিক থাকবে, আর আমরা প্রজার মতো বাস করবো? এজন্য তো মুক্তিযুদ্ধ করেনি। করিনি। যুদ্ধ ৭১ সালে শুরু হয়েছে, যুদ্ধ চলমান যতক্ষণ পর্যন্ত গণতন্ত্র না ফিরবে। এবার যারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিরোধিতা করবে তাদের ক্ষমা করার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আসলে কী বার্তা দিল ভারত

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ঢাকায় অনেকদিন ধরে পশ্চিমা কূটনীতিকরা সরব থাকলেও এতদিন অনেকটাই চুপ ছিল প্রতিবেশী ভারত।

সেই নীরবতা ভেঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্র দফতর বৃহস্পতিবার বলেছে, বাংলাদেশের নির্বাচন কিভাবে হবে সেটি দেশটির জনগণই ঠিক করবে।

একই সাথে ‘শান্তি থাকবে, সহিংসতা থাকবে না এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে’ এমন আশা ব্যক্ত করে ভারতের পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে নির্ধারণ করবে নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সেভাবেই হওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।

বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার দেব মুখার্জি বলছেন ভারত বিষয়টি নিয়ে নীরব থাকছে কারণ এসব বিষয়ে দেশটি সরাসরি প্রকাশ্যে কথা বলতে পছন্দ করে না।

তবে তার বিশ্বাস আগামী নির্বাচন যেন কোনোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেটিই চাইবে ভারত এবং এ বার্তাই ফুটে উঠেছে পররাষ্ট্র দফতরের ভাষ্যে।

তবে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলছেন যে, ভারত প্রকাশ্যে না বলে বরাবরই ভেতরে ভেতরে নিজেদের মতো করে কাজ করে। প্রকাশ্যে তাদের পররাষ্ট্র দফতর যাই বলুক না কেন ভারত তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য সচেষ্ট থাকবে বলেই মনে করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ২০১৪ সালের ও ২০১৮ সালের নির্বাচন দুটিতে ভারতীয় কূটনীতিকদের ভূমিকা ছিল অনেকটাই প্রকাশ্য।

বিরোধী দল বিএনপি নেতাদের অনেকে ২০১৪ সালের বিএনপির বর্জন সত্ত্বেও নির্বাচন সফল করা ও ২০১৮ সালে প্রায় সব আসন নিয়ে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য প্রকাশ্যেই ‘ভারতের একতরফা সমর্থনের’ কথা উল্লেখ করেন।

এসব কারণে সামনের নির্বাচন নিয়ে ভারতের ভূমিকা কেমন হয় তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল আছে।

কী বলেছেন ভারতীয় মুখপাত্র
বৃহস্পতিবার প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন পরিকল্পিত ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে ভারত আশা করছে।

বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলো তত্ত্বাবধায়ক বা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের যে দাবি করে আসছে সে বিষয় অবশ্য কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।

‘সেখানে কিভাবে নির্বাচন হবে তা বাংলাদেশের জনগণই ঠিক করবে,’ বলেন তিনি।

ঢাকায় পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকদের তৎপরতা ও মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো নিয়ে পুরো বিশ্বই মন্তব্য করতে পারে, তবে ভারত ভারতই। বাংলাদেশের সাথে আমাদের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে যা ঘটে, তাতে আমরাও জড়িত, কারণ তা আমাদের প্রভাবিত করে…। বাংলাদেশের মানুষ নির্ধারণ করবে নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সেভাবেই হওয়া উচিত।

বাগচি বলেন, তারা অবশ্যই বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

সেখানে আমাদের একটি হাইকমিশন আছে। আমরা আশা করি সেখানে শান্তি থাকবে, সহিংসতা থাকবে না এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

কী ধারণা পেলেন বিশ্লেষকরা
ভারতীয় পররাষ্ট্র দফতরের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কিত প্রশ্নটি করেছিলেন সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ী। লাহিড়ী বাংলাদেশের রাজনীতি এবং ভারত-বাংলাদেশ বিষয়ক একজন বিশ্লেষকও।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে ভারতীয় মুখপাত্রকে তুলনামূলক সতর্কই মনে হয়েছে তার কাছে।

‘কূটনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক কিছুই বলা হয় না। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ বা সহিংসতামুক্ত হোক এমন প্রত্যাশা ভারতের আছে। কিন্তু লক্ষ্য করবেন দু’বছর আগেও ভারত অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলতো। যদিও ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত হোক এবার সেই শব্দটি মুখপাত্র উল্লেখ করেননি, বলছিলেন লাহিড়ী।

যদিও ভারত ও বাংলাদেশের বিশ্লেষকরা ভারতের একজন মুখপাত্রের মন্তব্যকে একেবারেই প্রাথমিক মন্তব্য হিসেবেই বিবেচনা করছেন।

কেউ কেউ মনে করছেন, ঢাকায় পশ্চিমারা যেভাবে তৎপরতা দেখান সেটি ভারতীয় কূটনীতিকদের কাজের ধরণ নয়, বিশেষত বাংলাদেশের ক্ষেত্রে।

আবার বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান দেখা যাচ্ছে আমেরিকা ও রাশিয়ার। অথচ দুটি দেশই আবার ভারতের ঘনিষ্ঠ।

অন্যদিকে ভারতের আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ চীন আপাতদৃষ্টিতে আওয়ামী লীগ সরকারের অবস্থানের দিকে সমর্থন প্রকাশ করেছে।

এসব কারণেই ভারত প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কোনো তৎপরতা না দেখালেও ভেতরে ভেতরে তাদের তৎপরতা বন্ধ নেই বলেই মনে করেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন।

‘ভারত সতর্ক থাকবে এবং শেষ পর্যন্ত নিজের স্বার্থে যেটা ভালো হয় সেটাই করবে। আমরা তো জানি না যে ভেতরে ভেতরে তারা কী করছে। তবে তারা চুপ হয়ে আছে এটা ভাবার কারণ নেই কারণ বাংলাদেশে তাদের স্বার্থ আছে, বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

ভারতীয় মুখপাত্র ব্রিফিংয়ে যা বলেছেন সেটিকে প্রাথমিক ও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশে বিরোধী রাজনীতিকসহ অনেকেই মনে করেন, ভারতের একতরফা সমর্থনের কারণেই ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছিল আওয়ামী লীগ সরকার।

বাংলাদেশে সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার দেব মুখার্জি বলছেন, ২০১৪ সালে ভারত নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো হস্তক্ষেপ করেনি বরং তখন কিছু পশ্চিমা দেশ নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছিল বলে ভারত তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।

‘এবার আমি মনে করি, ভারত চাইবে আগামী নির্বাচনটার ওপর কোনো সন্দেহ যেন না থাকে। সবসময় সরাসরি মন্তব্য ভারত করে না। আর সবকিছু প্রকাশ্যে বলা যায় না। কিন্তু মনে রাখতে হবে, পশ্চিমা অনেক দেশের চেয়ে এখানে ভারতের স্বার্থ বেশি এবং সে কারণে তারা যা করার দ্বিপক্ষীয়ভাবে দুই সরকার মিলেই করবে, বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছিলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্রের মন্তব্য প্রসঙ্গে।

পশ্চিমারা তৎপর কিন্তু ভারত চুপ
চলতি বছরের শেষ দিকেই বাংলাদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে এ নির্বাচন কিভাবে হবে তা নিয়ে গত দুই নির্বাচনের মতো এবারো সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে প্রবল মতবিরোধ আছে।

বিরোধী দল বিএনপি ও সমমনা দলগুলো শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পদত্যাগের পর নির্দলীয় সরকারের অধীনে এ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছে।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়াম লীগ পরিষ্কারভাবেই জানিয়ে দিয়েছে যে আগামী নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির জের ধরে দেশে সহিংসতাও হচ্ছে মাঝে মধ্যেই। তবে এর মধ্যেই গত বেশ কয়েকমাস ধরে নির্বাচন নিয়ে বেশ সক্রিয় পশ্চিমা কূটনীতিকরা।

এমনকি যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দফতর ইতোমধ্যেই নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করে বলেছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কেউ বাধাগ্রস্ত করলে তাকে ভিসা দেবে না দেশটি এবং এ ঘোষণার দৃশ্যমান প্রভাব হিসেবেই ঢাকাসহ সারাদেশে অনেকটা বাধাহীনভাবেই কর্মসূচি পালন করতে পারছে বিরোধী দলগুলো।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস নিয়মিত বৈঠক করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে এবং সক্রিয় দেখা যাচ্ছে আরো অনেক পশ্চিমা কূটনীতিককে।

কিন্তু এতো ঘটনা সত্ত্বেও অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে নীরবতাই পালন করছিল বাংলাদেশের এ মুহূর্তে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ ভারত।

অবশেষে বৃহস্পতিবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করেছে ভারতের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি। আমেরিকা এবং পশ্চিমা কিছু দেশের মতো ভারতও একপর্যায়ে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যদি সরব হয় পরিস্থিতি যে তাহলে নতুন মাত্রা পাবে সন্দেহ নেই।
সূত্র : বিবিসি

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে না দেয়ায় রাজধানীতে জামায়াতের বিক্ষোভ

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে না দেয়ার প্রতিবাদে মিরপুর ও মতিঝিলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ শাখা।

সেই সাথে তারা নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ কেয়ারটেকার সরকার, জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান ও মহানগরী উত্তর আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবি জানান।

আজ শুক্রবার (৪ আগস্ট) এ সমাবেশের ডাক দিয়েছিল জামায়াত।

আজ বাদ জুমা মিরপুরের বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

বিক্ষোভ মিছিলটি মিরপুর ১ নম্বর থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে টেকনিক্যালে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন মোল্লা ও ডা: ফখরুদ্দীন মানিক, মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য জিয়াউল হাসান, মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ, জামাল উদ্দীন, মু. আতাউর রহমান সরকার ও নাসির উদ্দীন প্রমুখ।

এদিকে, মতিঝিলে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। মিছিলটি রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র মতিঝিল থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কমলাপুর রেলস্টেশনের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি যথাক্রমে দেলওয়ার হোসাইন, কামাল হোসাইন, ড. আব্দুল মান্নান। আরো ছিলেন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন, মাওলানা আবু ফাহিম, আবু সাদিক, আব্দুস সালাম, মোবারক হোসাইন, শেখ শরিফ উদ্দিন, আব্দুর রহমান, কামরুল আহসান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম, ঢাকা মহানগরী পূর্বের সভাপতি তাকরিম হাসান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের বিভিন্ন থানা আমির ও সেক্রেটারিরা। – প্রেস বিজ্ঞপ্তি

কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত বেধড়ক পিটিয়েছে : গয়েশ্বর

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আজ শনিবার সংঘর্ষের সময় তাকে কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত বেধড়ক পেটানো হয়েছে। ডিবি কার্যালয় থেকে নয়া পল্টনে নিজ কার্যালয়ে ফিরে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

ধোলাই খালে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের পর পুলিশ তাকে নিয়ে যায়। পরে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়ে তার অফিসে পৌঁছে দিয়েছে।

শনিবার (২৯জুলাই) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তাকে তার নয়াপল্টনের অফিসে পৌঁছে দেয়া হয়।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সংঘর্ষের সময় আমার মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়ে পড়েছি। পরে কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত বেধড়ক পিটিয়েছে। সেখান থেকে পুলিশ ধরে নিয়ে রাজারবাগের পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়েও নেয়া হয়েছিল। সেখান থেকে অফিসে দিয়ে গেল।

শারীরিক অবস্থা এখন কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইনজুরি হওয়ার পর সুস্থ হতে সময় লাগবে। এখন স্যালাইন দিতে হবে।

সব কিছুরই একটা সীমা থাকে : সরকারকে মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘গণতন্ত্র চাই বলেই এত কিছুর পরও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথেই আছি আমরা। কিন্তু সব কিছুরই একটা সীমা থাকে। আশা করি সরকার সেটা মনে রাখবে।’

শনিবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় গুলশান বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশ ও দেশের মানুষের কাঁধে সিন্দাবাদের দৈত্যের মতো চেপে বসা অবৈধ সরকারের পদত্যাগ, অনির্বাচিত জাতীয় সংসদ বাতিল এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে বিএনপিসহ দেশের সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলের ডাকা আজকের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিকে বানচাল করার জন্য সরকার জনগণের জানমাল রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো এবং দলীয় সন্ত্রাসীদের অন্যায় ও বেআইনিভাবে জনগণের বিরুদ্ধে নামিয়ে রাজধানী ঢাকায় যে তাণ্ডব চালিয়েছে আমরা তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘বিনা উস্কানিতে প্রতিবাদী জনতার শান্তিপূর্ণ অবস্থানে গুলি, টিয়ারগ্যাস চালানো এবং স্বশস্ত্র আক্রমণ মিডিয়া ও সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের জনগণ এই স্বৈরাচারী সরকারের অবৈধ ক্ষমতা জোর করে ধরে রাখার বীভৎস অপপ্রয়াস দেখে স্থম্ভিত হয়েছে। তাদের নির্মম আক্রোসে বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মাথায় মারাত্মক রক্তক্ষরণ, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী আমান উল্লাহ আমানসহ অসংখ্য নেতা-কর্মী আহত হওয়া এবং অগণিত নেতা-কর্মীকে নির্বিচারে গ্রেফতারের ঘটনা প্রমাণ করে যে ক্ষমতালোভী এই সরকারের হাতে দেশের কোনো নাগরিক নিরাপদ নন। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণকারী এই সরকার আজ জনগণের শুধুই ঘৃণা ও ধিক্কার পাওয়ার যোগ্য।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকারি ও সরকার দলীয় বাহিনীর বেআইনি ও সন্ত্রাসী তৎপরতার জবাব দেয়ার ক্ষমতা জনগণের রয়েছে কিন্তু সেই ক্ষমতা প্রয়োগের ফলে যে অবাঞ্ছিত ও মর্মান্তিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো আমরা তা বরাবরই পরিহার করতে চেয়েছি এবং আজও করেছি। এটা আমাদের দুর্বলতা নয়- জনগণ ও গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতা। কিন্তু নিশিরাতের অবৈধ সরকারের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে আমাদের এই দেশটা স্বাধীন হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধে লাখো প্রাণের বিনিময়ে। আমরা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছি, জীবন দিয়েছি গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধারের জন্যও। গত ১৪ বছর আমাদের হাজারো নেতা-কর্মী জীবন দিয়েছেন, গুমের শিকার হয়েছেন শত শত নেতা-কর্মী। নির্যাতিত হয়েছেন কয়েক হাজার। মিথ্যা মামলায় হয়রানীর শিকার হয়েছেন লাখো নেতা-কর্মী। গণতন্ত্র চাই বলেই এত কিছুর পরও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথেই আছি আমরা। কিন্তু সব কিছুরই একটা সীমা থাকে। আশা করি সরকার সেটা মনে রাখবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা জেনেছি যে, মাতুয়াইল ও শ্যামলীতে গাড়িতে আগুন দেয়ার ও ভাংচুর করার ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। অথচ পত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সুস্পষ্ট প্রমাণ দিয়ে খবর বেরিয়েছে যে পুলিশের সামনেই এসব ঘটনা ঘটিয়ে ভিডিও করে অপরাধীরা নির্বিঘ্নে চলে গেছে। কারা এটা করতে পারে তা অনুমানের জন্য বেশি বুদ্ধিমান হওয়ার প্রয়োজন নেই।’

‘নিজেরা অপরাধ করে বিএনপির উপর দোষ চাপানোর অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দিচ্ছি,’ বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।