নিউইয়র্কঃ গ্লোবাল পিস অ্যাম্বাসেডর ড. আবু জাফর মাহমুদ বাংলাদেশিদের একে অপরের মধ্যে
ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। একতাই আমাদের শক্তি, বাংলাদেশি আমেরিকানদের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য্য। তিনি গত রোববার ব্রঙ্কস এর ফেরী পয়েন্ট পার্কে সিলেটের ‘বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর প্রবাসী কল্যান সোসাইটি আয়োজিত বার্ষিক বনভোজন অনষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির কৃতি ব্যক্তিত্ব, বাংলা সিডিপ্যাপ সার্ভিসেস ও অ্যালেগ্রা হোম কেয়ার ইনক্ এর প্রেসিডেন্ট এবং সিইও ড. আবু জাফর মাহমুদ ওই
বনভোজন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীর পরিবারের
সঙ্গে একাত্ম হতে পারায় আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। একই সঙ্গে উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানটি তিনি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নামে উৎসর্গ করেন।
‘বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর প্রবাসী কল্যান সোসাইটির সভাপতি মিজানুর রহমান মিজানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনওয়াইপিডি’র কর্মকর্তা খন্দকার আব্দুল্লাহ, সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ডা. জুননুন চৌধুরী, উপদেষ্টা নাজমুল চৌধুরী, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ফয়জুর নূর চৌধুরী ও নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র এরিখ এডামস্ এর অফিসের প্রতিনিধি। জুয়ায়েব চৌধুরী ও কাউছার আহমেদের উপস্থাপনায় পিকনিকের সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন সৈয়দ এনাম আহমেদ। অনেকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডা. আসাদ মিয়া, বিশ্বনাথ সমিতির উপদেষ্টা আলমাস আলী, প্রেসিডেন্ট সেবুল খান মাহবুব, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সহসভাপতি শাহীন কামালী, মিজানুর রহমান মিজান, সাইফুর খান হারুন, ফয়েজ চৌধুরী, তানিম চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ, আলম খান, তৌফিকুল আলম, মোহন মিয়া, সারওয়ার চৌধুরী, সেরুজ্জামান সিরু প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আবু জাফর মাহমুদবাংলাদেশি আমেরিকানদের মানবিক ও জাতিগত বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা আমাদের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়েই এই সমাজের সঙ্গে যুক্ত। এখানকার
বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠির যে বৈশিষ্ট্য, আচার ও স্বভাব আমরা তার থেকে ব্যতিক্রম। আমরা আমাদের ধর্মবোধ ও বাঙালি সংস্কৃতির যে নিজস্বতা তা গভীরভাবে লালন করি। অন্যদের মাঝে তা এক শিক্ষা হিসেবে উপস্থাপন করি। এটি অনেক বড় সামাজিক কাজ। বাংলাদেশি পরিবারের পারিবারিক শৃংখলা, ভালোবাসাবোধ ও নিজস্ব সংস্কতি চর্চার ক্ষেত্রে সিলেটের বালাগঞ্জ এক অনন্য ক্ষেত্র। এখানকার মানুষ জন্মের সময় থেকে
পরিবারের একান্ত আপন আত্মীয় স্বজনের অসাধারণ ভালোবাসা ও মমতা পেয়ে থাকে। এই ভালোবাসাই প্রতিটি নারী পুরুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে ওঠে। এটিই আমাদের সংস্কৃতি। এটিই আমাদের
সভ্যতা। ভালোবাসা ছাড়া আমাদের কোনো সভ্যতা নেই। এই আমেরিকায় বিভিন্ন জাতি
গোষ্ঠি ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা ক্ষুদ্র স্বার্থকেন্দ্রিক জীবন চর্চায় ব্যস্ত। ঠিক এই বৈশিষ্ট্যের বিপরীতে আমরা পরিবার ও সমাজ নিয়ে চলতে পছন্দ করছি। এই বনভোজন তারই এক দৃষ্টান্ত।
একতাই বাংলাদেশি আমেরিকানদের সবচেয়ে বড়সৌন্দর্য ও শক্তিঃ আবু জাফর মাহমুদ
বাংলাদেশ দূতাবাসের সংবর্ধনায় কংগ্রেসম্যান জো উইলসন
ওয়াশিংটনঃ মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশ ককাসের কো-চেয়ার কংগ্রেসম্যান জো উইলসন বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক স¤প্রসারণ এবং উভয় দেশের জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য আগ্রহী।দক্ষিণ ক্যারোলিনা থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসম্যান জো উইলসন ২০ জুলাই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সংবর্ধনায় কংগ্রেসম্যান জো উইলসন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব উদযাপন উপলক্ষে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে একথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান। মিজ এলিজাবেথ হর্স্ট, প্রিন্সিপাল ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী , ব্যুরো অফ সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়া, স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং মিঃ ব্রায়ান লুটি, ডিরেক্টর ফর সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যাফেয়ার্স, ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল, হোয়াইট হাউস, সম্মানিত অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রাক্তন কংগ্রেসম্যান মিঃ জিম মোরানও এতে বক্তব্য রাখেন।
বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসাকালে জো উইলসন ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে দেশের এগিয়ে যাওয়া এবং দারিদ্র্য বিমোচনে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ এবং এর জনগণ কঠোর পরিশ্রমী। মিঃ উইলসন বলেন রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করে এই সপ্তাহে প্রতিনিধি পরিষদে তিনি একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন।বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান তার বক্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সম্পর্কে উৎসাহব্যঞ্জক বক্তব্যের জন্য কংগ্রেসম্যান জো উইলসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের
চমৎকার আর্থ-সামাজিক রূপান্তরের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন সরকার সবার জন্য সমান
সুযোগ সৃষ্টি করে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য
নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত ইমরান বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের
অব্যাহত সমর্থন এবং মানবিক সহায়তার জন্য আন্তরিক কতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মিজ এলিজাবেথ হর্স্ট তার বক্তব্যে বলেন গত পাচ দশকে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি শক্তিশালী ও ব্যাপক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে এবং এই অংশীদারিত্বটি একটি সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য সহায়ক। ডিরেক্টর ফর সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যাফেয়ার্স, ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল মিঃ ব্রায়ান লুটি বলেন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি সবার সাথে বন্ধুত্ব এবং কারো সাথে বৈরিতা নয় কে স্বীকৃতি দেয়, সম্মান করে এবং সমর্থন করে। তিনি বলেন যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের পাশাপাশি জাতিসংঘ সনদে সন্নিবেশিত আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক ড. আহমদ কায়কাউস, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও
সুদানের রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, মার্কিন সরকার ও পররাষ্ট্র দফতরের
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের সদস্যরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ
দেন।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী হস্তশিল্প প্রদর্শন এবং অতিথিদের জন্য ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশী খাবার
পরিবেশন করা হয়।
পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় জাতিসংঘে নিন্দা জানালেন রাষ্ট্রদূত মুহিত
নিউইয়র্কঃ “বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের পবিত্র মূল্যবোধকে অবমাননা করে কিছু দেশে প্রকাশ্যে
পবিত্র কোরআনের কপি পোড়ানোর ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাই”- আজ জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে তার কার্যালয়ে ওআইসি গ্রুপের
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সাক্ষাৎকালে এ মন্তব্য করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী
প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত।
পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় জাতিসংঘে নিন্দা জানালেন রাষ্ট্রদূত মুহিত
নেতৃত্বে উক্ত বৈঠকে ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রের মধ্য থেকে মিশর, সৌদি আরব, মৌরিতানিয়া ও
পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ওআইসির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদত মুহিত জাতিসংঘ মহাসচিবকে বলেন যে, পবিত্র কোরআন পোড়ানোর এই ঘৃণ্য কাজটি শুধু বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিকেই গভীরভাবে আঘাত
করেনি, বরং এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং ব্যক্তি বিশ্বাসের নীতিরও
পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন যে, এই ধরণের ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে সহিংসতার
জন্ম দিতে পারে এবং বিভিন্ন দেশে শান্তি ও নিরাপত্তাকে অস্থিতিশীল করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে
রাষ্ট্রদূত মুহিত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের কথা তুলে ধরেন যারা ধর্মীয় ও জাতিগত
বিদ্বেষের স্বীকার হয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
রাষ্ট্রদূত মুহিত জাতিসংঘ মহাসচিবকে ইসলামফোবিয়া, বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য এবং পবিত্র কোরআন
ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীক অবমাননাসহ সকল ধরণের ধর্মীয় অসহিষ্ণতা মোকাবেলায় জাতীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্রকে অনুরোধ করার আহবান জানান।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ওআইসি সদস্যদের সাথে গভীর সংহতি প্রকাশ করেন
এবং ধর্মীয় বিদ্বেষমলক এই জঘন্য ঘটনায় তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। তিনি ওআইসি প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেন যে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ধর্মবিরোধী ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বিশ্বব্যাপী চলমান
প্রচেষ্টাকে জোরালোভাবে সমর্থন করার জন্য তিনি তার অবস্থান থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে
যাবেন।
উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে রাষ্ট্রদূত মুহিতের নেতৃত্বে ওআইসির প্রতিনিধিগণ ১৪ জুলাই ২০২৩ তারিখে
সাধারণ পরিষদের সভাপতি সাবা কোরোসি এবং ২০ জুলাই ২০২৩ তারিখে নিরাপত্তা পরিষদের
প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত ডেম বারবারা উডওয়ার্ডের সাথে দেখা করেন। উক্ত বৈঠক সমূহেও তারা
একই ধরণের উদ্বেগ ও নিন্দা জ্ঞাপন করেন।
কিশোরগঞ্জ ডিস্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের ২৪তম চড়ুইভাতি সম্পন্ন
উজান ভাটির সম্প্রীতি বাংলা আমার সংস্কৃতি স্লোগান কে ধারণ করে নিজ কমিউনিটিসহ এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার দৃঢ় প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে গত রবিবার ২৩শে জুলাই লংআইলেন্ডের সবুজে ঘেরা আটলান্টিকের সন্নিকটে হেকসার স্টেট পার্কে বার্ষিক চড়ুইভাতি অনুষ্টিত হয় । নিউ ইয়র্ক সহ ট্রাই স্টেটে বসবারত কিশোরগঞ্জ জেলার প্রবাসী ও অভিবাসী বাংলাদেশি সহ অন্য জেলার বাসিন্দারাও অংশ নেন। জাঁকজমকভাবে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তর সামাজিক সংগঠন কিশোরগঞ্জ ডিস্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের বার্ষিক ২৪তম চড়ুইভাতি ২০২৩।
বার্ষিক চড়ুইভাতিতে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেনে’র বিশ্ব সমন্বয়কারী ড.খালেকুজজ্জামান মতিন, বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক প্রতিদিন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, বিশিষ্ট উপস্থাপিকা সামসুন্নাহার নিম্মি।
সংগঠনের ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য আব্দুল আওয়াল সিদ্দিকী, হেলাল উদ্দিন আহমেদ, হাবিব রহমান হারুন, ইঞ্জিনিয়ার মো. ফজলুল হক, জাইদুল কবির খাঁন সারোয়ার, পৃষ্ঠপোষক ডা.সায়েরা হক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মো. মোক্তার হোসেন, তারক পন্ডিত, মো.শহিদুল হাসান, আনোয়ার উদ্দিন খাঁন, কার্যকরী কমিটির সভাপতি মো.আব্দুর রাজ্জাক, সহ সভাপতি হাবিবুর রহমান কামাল, আলী আহসান আকন্দ শামীম, হাবিবুর রহমান জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক তানভীর রায়হান মিঠু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল কবীর সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েদুল হক, প্রচার সম্পাদক আজহারুল ইসলাম রায়হান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা খালেদা আক্তার কিরণ, কার্যকরী সদস্য মো.আব্দুল খালেক, মো.মনিরুজ্জামান, রাফিউল করিম খাঁন সাজ্জাদ, জাবির হোসেন তাকবীর, মো. এমদাদুল হক, মো.সায়েদুল্লাহ, দুলাল বিল্লাহ, চড়ুইভাতির আহবায়ক মুহিবুর রশিদ সুজন ও সদস্য সচিব ফয়সাল খাঁন অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ।

চড়ুইভাতির সুস্বাদু খাবার পরিবেশনে ছিলেন তারক পন্ডিত, ইমরুল হাসান ফেরদৌস, মো.আব্দুল আলীম, লুনা বেগম নিরু। ক্রীড়া পরিচালনায় ছিলেন শহিদুল হাসান, মো.এনামুল হক, জাহাঙ্গীর জামিল দিপু, গোলাম হায়দার শামীম, মো. আছির উদ্দিন, মো. বদরুল ইসলাম, শামীম হোসাইন, রাজন দাস, উষা দেবী।
চড়ুইভাতি অনুষ্ঠান উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা রাফল ড্র অনুষ্টিত হয়। র্যাফেল ড্রতে তিন সেট স্বর্ণালংকার সহ দশটি আকর্ষণীয় পুরুস্কার ছিল। ক্রীডা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী এবং র্যাফেল ড্র বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে চড়ুইভাতি অনুষ্ঠান শেষ হয় ।
অনুষ্ঠানের সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক আমন্ত্রিত সকল অতিথি ও কিশোরগঞ্জ জেলা বাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে সমাপ্ত ঘোষণা করেন ।
খবর প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
বিএনপি কর্মসূচির নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিএনপি কর্মসূচির নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, বিএনপিকে বলে দেয়া হয়েছে, আন্দোলনের নামে জানমাল, সম্পত্তি ধ্বংস অথবা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকারের কোনো বাধা থাকবে না।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ইমন গিলমোরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে। এরপর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় এক সাংবাদিক বিএনপির মহাসমাবেশের বিষয়ে প্রশ্ন করলে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আগামী ২৭ জুলাই কর্মসূচি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসা গেল কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত কী হবে? দেখুন, হঠাৎ করেই তারা (বিএনপি) এমন-এমন কর্মসূচি দিচ্ছে যেগুলোয় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। তারা বলছেন আন্দোলন শুরু করেছেন, আন্দোলন করবেন। আমরা সেখানে কোনো বাধা দিচ্ছি না।
তিনি বলেন, যদি জনগণ আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে আসে তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই কিন্তু জনগণকে জোর করে আনলে আমাদের আপত্তি। আমাদের আপত্তি সেখানেই যদি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে, রাস্তাঘাট বন্ধ করে তারা যদি কিছু করে কিংবা জান-মালের ক্ষতি করে অথবা জীবননাশ হয়, আমরা তখনই বাধা দেব।
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলে সরকারের কোনো বাধা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা (সাংবাদিক) দেখেছেন তারা পদযাত্রা করেছে, তারা মানববন্ধন করেছে, যা করেছে আমরা কিন্তু কোনোটাতেই বাধা দিইনি। তারা সুন্দরভাবে এসব কর্মসূচি পালন করেছেন। ভবিষ্যতেও যদি তারা করতে চান করবেন। সেখানেও আমাদের বাধা থাকবে না। কিন্তু যখন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে, জানমাল ধ্বংস করতে চাইবে তখন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। এটাই তাদের বলে দেয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা পদযাত্রার পরে অতি সম্প্রতি একটা লং মার্চ করল, তারুণ্যের একটা সমাবেশও করল। এখন তারা একটা বড় সমাবেশ করার জন্য আমাদের পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি দিয়েছেন। পুলিশ কমিশনার এখনো তার মতামত জানাননি। আশা করছি, শিগগিরই মতামত জানিয়ে দেবেন।
আওয়ামী লীগ বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ জনগণের দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দেয় কিনা- এমন প্রশ্নের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা আপনারাই দেখছেন। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগে কর্মসূচি দেয়, শুধু আওয়ামী লীগের কর্মসূচি দেখছেন কেন? আরো অন্যান্য পার্টিও তো দিচ্ছে। সেগুলোও আপনার নজরে নিশ্চয়ই পড়েছে। ২০ জন নিয়ে রাস্তায় নামতে পারেন না তিনিও একটা কর্মসূচি দেয়া শুরু করেছেন। কাজেই সবাই কর্মসূচি দিচ্ছে। সবাই রাস্তায় থাকবে। আমরা এটুকুই বলব, যতক্ষণ পর্যন্ত জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করবেন, জান-মালের ক্ষতি না করবেন, গাড়ি ভাঙচুর না করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা তাদের কোনো ধরনের কর্মসূচিতে বাধা দেব না।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আপনাদের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে অনুরোধ করব, তারা যেন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে।
নির্বাচন প্রক্রিয়া ক্ষুণ্ণ করলেই মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা
‘আমরা মানবাধিকারের ওপর যে কোনো বিধিনিষেধের বিরোধিতা করি’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার।
মঙ্গলবার নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ের সময় সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্র পুনর্ব্যক্ত করেছে যে গণতান্ত্রিক সমাজে অবাধে নিজেদের ভূমিকা পালনে সকলের অধিকারকে সমর্থন করে তারা।
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ণ করে এমন যে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে।’
মার্কিন এ মুখপাত্র বলেন, ‘গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ণ করে এমন পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোট কারচুপি, ভোটারদের ভীতি প্রদর্শন, জনগণকে সংগঠন ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতার অধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত রাখার জন্য সহিংসতার ব্যবহার এবং রাজনৈতিক দল, ভোটার, নাগরিক সমাজ বা গণমাধ্যমকে তাদের মতামত প্রচার থেকে বিরত রাখার জন্য পরিকল্পিত ব্যবস্থার ব্যবহার।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যে, তারা বাংলাদেশ বা অন্য কোনো দেশের কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে অবস্থান নেয় না।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, ‘কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া উচিত।’ সূত্র : ডয়চে ভেলে
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আনা সংশোধনে সাংবাদিকরা খুশি হবেন : আইনমন্ত্রী
সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যে সংশোধন আনছে, তাতে সাংবাদিকরা খুশি হবেন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।
মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দফতরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ইমন গিলমোরের সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কী ধরনের সংশোধনী আনা হচ্ছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এটার জন্য আপনারদের একটু অপেক্ষা করতে হবে। আমি মনে করি, আপনাদের পরামর্শ সরকারের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমি এটুকু বলতে পারি, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের যে সংশোধন হচ্ছে তাতে আপনারা সকলে খুশি হবেন।’
তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ। তার সফরে এই সম্পর্ক আরো জোরদার হবে। নতুন আঙ্গিকে আমাদের এই অংশীদারত্ব কাজে লাগাব ও শক্ত করবো।’
তিনি আরো বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আলাপ হয়েছে। তাকে বলেছি আমরা এই আইন সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী সেপ্টেম্বরে এই সংশোধনী পার্লামেন্টে তোলা হবে এবং পাস করা হবে বলে আশা রাখি।’
বৈঠকে উপাত্ত সুরক্ষা আইন নিয়েও কথা হয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, সেখানে বলেছি এটি নিয়ে অংশীজনদের সাথে একবার বৈঠক করার পরে আবার একটা খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সেটি নিয়েও অংশীজনদের সাথে বসা হবে বলে আমি আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে শুনেছি। ইমন গিলমোরকেও সে কথা বলেছি।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রম আইন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বলেছি, বাংলাদেশে শ্রমিকদের অধিকার জোরদার হয়েছে। এটি নিয়ে অনেক কাজ করেছি এবং করে যাচ্ছি। যে সব সমস্যা আছে, সেগুলো দূর হবে বলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে আশা ব্যক্ত করেছি। সেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা চেয়েছি।’
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, ‘তাদের সাথে নির্বাচন নিয়ে বিশেষ কোনো আলাপ হয়নি। নির্বাচন নিয়ে তাকে কেবল বলেছি, প্রধান নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন কমিশন নিয়োগে যে আইনটি আমরা করেছি, এটি এই উপমহাদেশে প্রথম। গেল অর্ধশত বছরে এমন আর কোনো আইন হয়নি। আমরা আইন করেছি অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য।’
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অনেক বিদেশী প্রতিনিধি আসছেন, এ নিয়ে সরকার কোনো চাপ অনুভব করছে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীটা এখন বিশ্বগ্রাম। এখানে বিভিন্ন দেশ পারস্পরিক সম্পর্ক ধরে রাখতে বিভিন্ন আলোচনায় যুক্ত হয়। আমি সে আলোকেই দেখছি। আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ।’
তিনি বলেন, আমাদের যেসব বন্ধুদেশ আছে, তারা আমাদের অবশ্যই অনেক কিছু জিজ্ঞেস করতে পারেন। আবার অনেক কথা তাদেরকে জিজ্ঞেস করতে পারি। কোথাও ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকলে এই আলোচনার মাধ্যমে তা দূর হয়। অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো দূর হচ্ছে বলে মনে করি।
সূত্র : ইউএনবি
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ থাকতে মির্জা ফখরুলের আহ্বান
প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তা-কার্মচারীদের কোনো দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ না করে সততা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দেশ ও জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) এক বিবৃতি তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের অতি নগণ্য সংখ্যক দুর্নীতিপরায়ণ ও দলবাজ কর্মকর্তা অপপ্রচার চালাচ্ছে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী শাসনামলে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতি, এমনকি জেল-জরিমানার মতো পরিস্থিতির শিকার হতে হবে। এতে বুঝা যায়, অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকার জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যে সব ষড়যন্ত্র করছে- এমন অপপ্রচার ওই ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ। বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, জনগণের সমর্থনে যদি বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পায়, তাহলে প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা-কার্মচারীদের চাকরির সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দলীয় বিবেচনায় কিংবা আক্রোশমূলক কোনো ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে না এবং কাউকেই তা করতে দেয়াও হবে না। বিগত ১৫ বছর যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত, বাধ্যতামূলক অবসরপ্রদান, দীর্ঘদিন ওএসডি করে রাখা এবং পদোন্নতি বঞ্চিত করা হয়েছে, তাদের প্রতিও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেসব কর্তৃপক্ষের বেআইনি আদেশে কিংবা চাপে পড়ে বিতর্কিত কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন, যা প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী পরে অন্যায়, অবৈধ ও বেআইনি বলে পরিগণিত হবে, ওই সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বিএনপির আহ্বান হলো- এখন থেকে তারা যদি আর অন্যায়, অবৈধ ও বেআইনি কোনো কাজ না করেন, তাহলে তাদের আগের ভূমিকা সহানুভূতি ও ইতিবাচক দৃষ্টিতে বিবেচনা করা হবে।’
১৯৭৯ বিধান অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কেবলমাত্র আইনানুগ আদেশ ও নির্দেশ মেনে চলতে বাধ্য এমনটা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বে-আইনি আদেশ মানা বা বাস্তবায়নে বাধ্য নন। এ দেশের সন্তান হিসেবেও দেশে আইনের শাসন সমুন্নত রাখা আমাদের সকলের কর্তব্য। বিএনপি একান্তভাবেই প্রত্যাশা করে যে সরকারি কর্মকর্তা-কার্মচারীরা কোনো দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ না করে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে সততা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দেশ ও জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করবেন।’
ভারতের সাথে রুপিতে বাণিজ্য : প্রথম চালানে এলো ৩০টি পিকআপ ভ্যান
ভারত থেকে রুপিতে কেনা ৩০টি পিকআপ ভ্যান মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক আ: জলিল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ঢাকার নিতা কোম্পানি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান টাটা মোটরসের কাছ থেকে ১ কোটি ২৪ লাখ রুপিতে এ পিকআপ ভ্যানগুলো কিনেছে।
তিনি বলেন, ভারতীয় রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান টাটা মোটরস লি. পিকআপ ভ্যানগুলো রফতানি করে।
তিনি আরো বলেন, আমদানির পর পিকআপ ভ্যানগুলো বেনাপোল বন্দরের ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে রাখা হয়েছে।
এর আগে গত ১১ জুলাই মঙ্গলবার ঢাকার লা মেরিডিয়ান হোটেলে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ভারতীয় হাইকমিশন দু’দেশের বাণিজ্যে রুপি ব্যবহারের ঘোষণা দেয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব তপন কান্তি ঘোষ, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর আবদুর রউফ তালুকদার ভারতে বাংলাদেশ ভ্রমণকারীদের সুবিধার্থে আগামী সেপ্টেম্বরে ‘টাকা-রুপি কার্ড’ চালুর সম্ভাবনার কথা জানান।
এই কার্ড দিয়ে দেশে ও প্রতিবেশী ভারতে বিল পরিশোধ করা যাবে।
দেশের আমদানিকারকদের কিছুটা স্বস্তি দেবে। তারা প্রতিবেশী দেশ থেকে পণ্য কিনতে রুপিতে এলসি খুলতে শুরু করেছেন। ফলে ডলারের ব্যবহার কিছুটা কমবে।
ডলারের ঘাটতির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরো কমে যাওয়া রোধ করতে সরকার আমদানিবিধি কঠোর করেছে। এক বছর আগের তুলনায় রিজার্ভ কমেছে প্রায় ২৩ শতাংশ।
দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের একটি অংশের মূল্য পরিশোধের সুবিধার্থে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে ভারতে অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দিয়েছে।
রফতানি ও রেমিট্যান্স থেকে আসা অর্থের তুলনায় আমদানি মূল্যের পরিমাণ বেশি হওয়ায় দেশের রিজার্ভ কমে যাচ্ছে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার তানভীর আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার রুপির মাধ্যমে ভারত থেকে প্রথম চালান আমদানি হয়েছে বেনাপোল বন্দর দিয়ে।
তিনি আরো বলেন, রুপিতে পণ্য আমদানি হলে ডলারের ওপর চাপ কমে যাবে।
সূত্র : ইউএনবি
কম্বোডিয়ায় বিতর্কিত নির্বাচনের পর মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা, কী চায় বাইডেন প্রশাসন?
কম্বোডিয়ায় রোববার নির্বাচনের পর ওই নির্বাচনকে ‘মুক্ত বা নিরপেক্ষ, কোনোটাই নয়’ হিসেবে চিহ্নিত করে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসন।
নির্বাচনে ৩৮ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা হুন সেনের দল কম্বোডিয়ান পিপল’স পার্টি (সিপিপি) প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পায়। নির্বাচনের আগে সিপিপি’র একমাত্র শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ক্যান্ডললাইট পার্টিকে নিষিদ্ধ করায় কার্যত একপক্ষীয় নির্বাচনই হয়।
নির্বাচনের রাতেই যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এক বিবৃতিতে জানান যে নির্বাচনের জের ধরে কম্বোডিয়ায় যারা ‘গণতন্ত্রকে অবমূল্যায়ন’ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
নির্বাচনের আগে কম্বোডিয়ার কর্তৃপক্ষ ‘রাজনৈতিক বিরোধী, মিডিয়া ও সুশীল সমাজের সদস্যদের হুমকি ও হয়রানিমূলক আচরণ করে’ দেশের সংবিধানের চেতনা ক্ষুণ্ণ করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি কম্বোডিয়ার দায়িত্ববোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।
কী বলছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট?
স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলারকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে এই ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় কারা থাকবেন এবং কম্বোডিয়ার সরকারের কেউ থাকবেন কিনা।
এই প্রশ্নের জবাবে মিলার বলেন, ‘নীতিগত অবস্থানের কারণে নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা কারো নাম আমরা উল্লেখ করি না। আমরা শুধু জানাই যে নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তাকে আমরা চিহ্নিত করেছি।’
কম্বোডিয়ায় ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেও ‘গণতন্ত্রের অবমূল্যায়নে জড়িত থাকা’ এবং ‘কম্বোডিয়া সরকারের গণতন্ত্র বিরোধী কার্যকলাপের সরাসরি প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেবার ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এসেছিল সে সময়কার একমাত্র কার্যকর বিরোধী দল সিএনআরপিকে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর।
কম্বোডিয়ায় ভিসা নিষেধাজ্ঞার ইতিহাস
কম্বোডিয়ায় ২০১৩ সালের নির্বাচন-পরবর্তী ঘটনাবলীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৭ সালে প্রথমবার ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশটির ওপর।
ওই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন সিপিপি’র ৬৮টি আসনের বিপরীতে বিরোধী দল সিএনআরপি ৫৫টি আসন পায়। নির্বাচনের পর বিরোধী দল ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তোলে।
বিরোধী দল সিএনআরপি সংসদে আসন গ্রহণ করতে অস্বীকার করে এবং ২০১৪ সালের শুরু পর্যন্ত এক বছর ধরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ চালায়।
ক্ষমতাসীন দল কঠোরভাবে এই বিক্ষোভ দমন করে এবং সিএনআরপি শেষ পর্যন্ত এই শর্তে সংসদে যোগ দেয় যে পরবর্তী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরকার সংশোধন আনবে।
কিন্তু এর পরের বছরগুলোয় সরকার বিরোধীদের ওপর আরো কঠোরভাবে দমন করে। ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট সিএনআরপি’কে নিষিদ্ধ করে এবং দলের সদস্যদের সংসদ সদস্যপদ বাতিল করে।
এর পরই প্রথমবারের মতো কম্বোডিয়ার দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ওপর এবং বিভিন্ন বাণিজ্য সহায়তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র।
এরপর ২০১৯ সালে চীনের সহায়তায় কম্বোডিয়ার একটি নৌবাহিনীর ঘাঁটি তৈরির খবর প্রকাশিত হলে আবার নিষেধাজ্ঞা আসে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে।
আর ২০২১ সালে কম্বোডিয়ায় কাজ করা চীনা একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র – যেই প্রতিষ্ঠানটি থাইল্যান্ডের উপসাগরের কাছে দারা সাকোর অঞ্চলে চীনা বিমান বাহিনীর ব্যবহারের জন্য এয়ারস্ট্রিপ তৈরি করছিল।
সবশেষ রোববারের নির্বাচনের পর কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে আরেক দফা ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিলো যুক্তরাষ্ট্র।
বিভ্রান্তিকর ভিসানীতি?
কম্বোডিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ২০২২ সালে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো গ্রেগরি পোলিং, সহকারী ফেলো চার্লস ডুন্সট ও সহকারী গবেষক সিমোন ট্রান হিউডস।
তাদের গবেষণা অনুযায়ী, কম্বোডিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব স্ববিরোধী। কম্বোডিয়াকে তাদের অগণতান্ত্রিক চর্চার জন্য শাস্তির আওতায় আনা উচিৎ নাকি ভূ-রাজনৈতিক শক্তি অর্জনের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা উচিৎ – এই দোটানায় কম্বোডিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি দোদুল্যমান রয়েছে বলে মনে করেন গবেষকরা।
২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে মোট ২৮টি, যার মধ্যে ২৬টিই একটি নির্দিষ্ট আইনের অধীনে। গ্লোবাল ম্যাগনিটস্কি হিউম্যান রাইটস অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যাক্টের (জিএমএ) আওতায় বিশ্বের যেকোনো জায়গায় মানবাধিকার লঙ্ঘন বা দুর্নীতির সাথে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে তারা।
গবেষকদের মতে, স্বাভাবিক দৃষ্টিতে মনে হতে পারে কম্বোডিয়ার মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করা ও দুর্নীতি প্রতিরোধই যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য।
কিন্তু ২০২১ সালে চীনা বিমান বাহিনীর জন্য এয়ারস্ট্রিপ তৈরি করা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জিএমএ’র অধীনে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় বোঝা যায় যে মানবাধিকার লঙ্ঘন বা দুর্নীতির চেয়ে ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
এই নিষেধাজ্ঞার আগে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ‘কম্বোডিয়ায় ক্ষতিকর চীনা বিনিয়োগ’ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে একটি বিবৃতিও প্রকাশ করে।
আবার ২০১৯ সালে চীনের সহায়তায় নৌঘাঁটি তৈরির জের ধরে কম্বোডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পরই আবার দেশটির সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে পদক্ষেপ নেয়।
আর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ২০২২ সালের মে মাসে ‘ইউএস-আসিয়ান স্পেশাল সামিটে’ অংশ নিতে গিয়ে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন তিন দশকে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন ও প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথে দেখা করেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেনও গত নভেম্বরে আসিয়ান-ইউএস বৈঠকে অংশ নিতে কম্বোডিয়া সফর করেন।
গবেষকদের মতে, কম্বোডিয়া সম্পর্কে কৌশল নির্ধারণে ওয়াশিংটনকে আরো দূরদর্শিতা অবলম্বন করতে হবে। এখনকার মতো নিষেধাজ্ঞাভিত্তিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অব্যাহত থাকলে কম্বোডিয়ায় গণতন্ত্র ফিরিয়ে না এনে হুন সেনের স্বৈরশাসনকেই অন্যভাবে দীর্ঘায়িত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন গবেষকরা।
সূত্র : বিবিসি


