Home Blog Page 598

রাজধানীতে যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

রাজধানীর শাহজাহানপুরের গুলবাগে এক যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত অলিউল্লাহ রুবেল (৩৬) রাজনীতির পাশাপাশি তিনি এলাকাতে ইন্টারনেট ও ডিম সাপ্লাইয়ারের ব্যবসা করতেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে গুলবাগ জোয়ারদার লেনে বাসার পাশে রাস্তায় এই ঘটনা ঘটে।

স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে জোয়ারদার লেনের ১৫৩/এ নম্বর ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার বাবার নাম শেখ নবী উল্লাহ খোকন। শান্তিবাগে তাদের নিজেদের বাড়ি রয়েছে।

হাসপাতালে নিহতের ভগ্নিপতি মো: মামুন আহমেদ সিদ্দিকী জানান, রাতে রাজারবাগ এলাকা থেকে জোয়ারদার লেনে নিজের ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন রুবেল। পথে বাসার অদূরে চার থেকে পাঁচজন ধারাল অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে আহত করে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়।

খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে পঙ্গু হাসপাতাল ও সবশেষ ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার মাথায়, ডান হাতে, কাধে, ডান পায়েসহ সারা শরীরেই ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। পাম পায়ের পাতা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

তিনি আরো জানান, রুবেল শাহজাহানপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক দফতর সম্পাদক পদে ছিলেন। তবে বর্তমানে যুবলীগের রাজনীতি করতেন। কিন্তু কোনো পদে ছিলেন না। এলাকাতে তার ইন্টারনেটর ব্যবসা রয়েছে। এছাড়া তেজগাঁও থেকে ডিম এনে শান্তিনগর, সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় সাপ্লাই দিতেন তিনি। তার স্ত্রী তানজিনা দেওয়ান কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

তবে কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা জানাতে পারেনি স্বজনরা।

এদিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ফারুকুল আলম জানান, তার সারা শরীরেই ধারাল অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। লাশটি মর্গে রাখা হয়েছে। কারা, কী জন্য এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। খুব দ্রুতই ঘাতকদের আইনের আওতায় আনা হবে। সূত্র : ইউএনবি

রাজপথে ছাড় না দেয়ার চিন্তা আ’লীগের

জাতীয় নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে রাজনীতির মাঠ ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তার মিত্রদের দাবিটি দীর্ঘ দিনের। দাবি আদায়ে বর্তমানে সরকার পতনের এক দফার আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে সরকারবিরোধীরা। তবে বিএনপি ও তার মিত্রদের রাজপথে কোনোভাবেই ছাড় না দেয়ার চিন্তা রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের। এ জন্য সরকারি দলও পাল্টা এক দফা ঘোষণা করেছে। ‘শান্তি ও উন্নয়ন’ শিরোনামে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে ক্ষমতাসীনরা রাজধানীর রাজপথে সক্রিয় থাকবে। এ ছাড়াও তৃণমূল পর্যায়ে সতর্ক থাকতে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

দলটির নেতারা মনে করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সরকার বাতিল করেনি, আদালতের রায়ে বাতিল হয়েছে। বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের যে দাবি নিয়ে রাজপথে এক দফা আন্দোলন করছে, সেটি অযৌক্তিক। ইতোমধ্যে সংশোধিত সংবিধানের আলোকে দশম জাতীয় সংসদ ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটিতে বিএনপি ও তার মিত্ররা অংশ নেয়নি, আরেকটিতে বিএনপি ও তার মিত্ররা অংশ নিয়েও নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য মাঝপথে বর্জন করেছে। আগামী নির্বাচনও সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কি নেবে না, এটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। প্রথমত, বিএনপির কোনো অযৌক্তিক দাবি আওয়ামী লীগ এবং সরকার মানবে না। দ্বিতীয়ত, আন্দোলন-সংগ্রাম করা তাদের রাজনৈতিক অধিকার। তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতেই পারে। তবে অযৌক্তিক কোনো দাবি নিয়ে আন্দোলনের নামে রাজপথ গরম করলে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।

গতকাল রাজধানীর সেতুভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি যে কোন পথে যাচ্ছে তা পরিষ্কার। এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে, তাদের যা করার তাই করবে। একটা দেশে এক দল সন্ত্রাস করবে, অফিস ভাঙবে, পুলিশকে মারতে যাবে, যেখানে সেখানে মারামারি করতে যাবে- সেখানে কি সরকার চুপ করে বসে থাকবে?

এ দিকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গতকাল সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, মির্জা ফখরুল সাহেবের বক্তব্যে তো এটি স্পষ্ট যে, উনারা সহিংসতা করতে চায়, সহিংসতা শুরু করেছে। সহিংসতা শুরু করলে সরকার বসে থাকবে না। যারা সহিংসতা করবে, দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে এবং একইসাথে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের দলও জনগণকে সাথে নিয়ে মাঠে থাকবে।

দলটির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিকে সরকারবিরোধী আন্দোলন করে রাজনীতির মাঠ দখলের সুযোগ দেবে না আওয়ামী লীগ। সর্বশেষ গত ১০ ডিসেম্বরও বিএনপি রাজধানীতে সমাবেশের মাধ্যমে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তুলতে চেয়েছিল। সরকারের কাছে এমনও তথ্য ছিল ওইদিন সরকার পতনের ডাক দিয়ে রাজপথে বসে পড়বে বিএনপি ও তার মিত্ররা। এ জন্য সারা দেশ থেকে বিএনপি তাদের নেতাকর্মীদের কয়েকদিন আগে থেকেই জড়ো করেছিল। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে আগেভাগেই সরকার সতর্ক হয়ে গিয়েছিল এবং শেষমেশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকায় তাদের আন্দোলন দমন করতে সরকার সফল হয়েছিল। এবারও একটি বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকার ও দলের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তৃণমূল পর্যায়েও সেভাবেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অবশ্য আন্দোলনের নামে কেউ বা কোনো দল যদি সহিংসতা করে তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখবে। পাশাপাশি বাড়তি সতর্কতা হিসেবে নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থান নিয়ে তাদের এলাকায় অবস্থান করবেন।

সূত্র আরো বলছে, সরকারবিরোধী রাজপথের যেকোনো কর্মসূচি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সেভাবেই নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। এক দিকে রাজপথে যেকোনো সহিংসতা মোকাবেলায় কঠোর অবস্থানে থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে সক্রিয় থাকবে। আন্দোলনের নামে কেউ সহিংসতা তৈরির চেষ্ট করলে তা কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে। ইতোমধ্যে বিএনপির আন্দোলনের বিপরীতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ রাজধানীতে বড় ধরনের দু’টি সমাবেশ ও শোভাযাত্রা করে শক্তির মহড়া দেয়া হয়েছে। সারা দেশেও ‘শান্তি ও উন্নয়ন’ শিরোনামে নেতাকর্মীদের সভা-সমাবেশ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়েও নেতাকর্মীরা সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে। এরই মাধ্যমে বিএনপিকে একটি বার্তা দেয়া হয়েছে তাহলো- সংবিধান থেকে আওয়ামী লীগ এবং সরকার একচুলও নড়বে না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই অনুষ্ঠানের জন্য আওয়ামী লীগ নির্বাচন পর্যন্ত রাজপথে থাকবে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ মাঠে থাকবে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের অন্যতম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করলে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। কিন্তু আন্দোলনের নামে সহিংসতা করলে, সাধারণ মানুষের শান্তি বিনষ্ট করলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখবে। তিনি আরো বলেন, দেশ ও দেশের জনগণের স্বার্থে এগুলো প্রতিহত করা সরকারি দল হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব। আওয়ামী লীগ সেই দায়িত্ব পালন করবে। বিএনপি আন্দোলনের নামে অতীতের মতো পেট্রল বোমা মেরে ও অগ্নিসন্ত্রাস করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইলে তাদের সে সুযোগ দেয়া হবে না। কারণ রাজপথ কাউকে ইজারা দেয়া হয়নি। তারা যেখানেই আগুন সন্ত্রাস চালাবে, নৈরাজ্য কর্মকাণ্ড সৃষ্টি করবে সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি মনে করি, আন্দোলন দেয়ার দরকার তাই বিএনপি দিচ্ছে। নির্বাচনের আগে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখা দরকার তাই আন্দোলনের ধোয়া তুলছে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির সাথে দেশের জনগণ আছে। শেখ হাসিনার প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস আছে। তিনি বলেন, জনগণ বিএনপির ডাকে অতীতেও সাড়া দেয়নি, ভবিষ্যতেও দেবে না। তার পরও বিএনপি সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনের নামে কোনো বিশৃঙ্খলা করলে, সহিংসতা করলে জনগণকে সাথে নিয়েই তা প্রতিহত করা হবে।

এটি পদযাত্রা নয়, বিজয় যাত্রা : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকের পদযাত্রা শুধু পদযাত্রা নয়, এটি বিজয় যাত্রা।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর গাবতলীতে বিএনপির সরকার পতনের এক দফা দাবি আদায়ের পদযাত্রা কর্মসূচির পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এই দেশের মানুষ সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাই এখনি পদত্যাগ করতে হবে।

ফখরুল বলেন, আবারো পরিষ্কার করে বলছি, এ অবৈধ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচন নয়। কারণ গতকাল ঢাকায় একটি নির্বাচনের তামাশা দেখেছি। সেখানে আওয়ামী লীগের থিম ট্যাংকের হ্যাবি ওয়েট একজন প্রার্থী হয়েছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হিরো আলম। সেখানে দেখলাম ভোটকেন্দ্রে কোনো ভোটার নাই। হিরো আলম কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নয় তার সাথে ভোট করতে যেয়ে তাকে মেরে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। পুলিশ প্রশাসন সেটি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছেন।

তিনি বলেন, এই সমস্ত তামাশা করে আর কোনো লাভ হবে না। ২০১৪ সালে ১৫৪ আসনে বিনা ভোটে জয়লাভ করেছেন। ২০১৮ সালের দিনের ভোট রাতে করেছেন। এই ধরনের ভোট আর হতে দেয়া হবে না।

আজকে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে এই আন্দোলনের মাধ্যমে এক দফা দাবি আদায় করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুক, আব্দুস সালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

হিরো আলমের ওপর হামলা : যা বলল মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর

বাংলাদেশে গত সোমবার জাতীয় সংসদের ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে ভোটের দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার রাতে ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ব্রিফিংয়ে হিরো আলমের ওপর হামলা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র ম্যাথু মিলার এ আহ্বান জানান।

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ নিয়ে দুটি প্রশ্ন করা হয়। এতে বলা হয়, আন্ডার সেক্রেটারি জেয়ার সপরের পর বাংলাদেশ সরকার বিরোধী পার্টির ওপর হামলায় ফিরে গেছে। আমরা এই গতকালই দেখিছি যে বিরোধী দলের বয়কট করা একটি উপনির্বাচনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওপর হামলা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি এখন হাসপাতালে আছেন। আর ভোট পড়েছে ১০ ভাগেরও কম। তাহলে আমরা কিভাবে বিশ্বাস করব যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করবেন? কারণ ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন অবাধ ছিল না এবং এই উপনির্বাচনও অবাধ ও নিরপেক্ষ নয়, প্রার্থীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। এ প্রেক্ষাপটে আপনার অভিমত কী? আপনারা কি বিষয়টির ওপর নজর রাখছেন?

জবাবে ম্যাথু মিলার বলেন, আমি বলছি যে গণতান্ত্রিক নির্বাচনে এই ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো স্থান নেই। আমরা বাংলাদেশ সরকারকে সহিংসতার যেকোনো তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ, স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে এবং সহিংসতার জন্য দায়ী অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য উৎসাহিত করি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র বলেন, আগেও আমরা বলেছি, আমরা আশা করি যে বাংলাদেশ সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে এবং আমরা তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকব।

নারায়ণগঞ্জের এমপি শামীম ওসমানকে নিয়েও একটি প্রশ্ন করা হয় ব্রিফিংয়ে। প্রশ্ন করা হয় যে সফররত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলের এক এমপির সামনে বিক্ষোভকারী এক বিরোধী কর্মীর বাংলাদেশে অবস্থিত গ্রামের বাড়িতে হামলা হয়েছে, তার ভাই, তার মা ও পরিবারের সদস্যরা আক্রান্ত হয়েছে। আর ক্ষমতাসীন দল বিষয়টি তাদের ফেসবুকে লাইভ করে বলছে যে দেশের বাইরে কেউ গলা চড়ালে তারা আক্রান্ত হবে। অর্থাৱ কেউ যুক্তরাষ্ট্রে কথা বললেও বা সরকারি দলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে কিংবা যুক্তি দিলে তাদের গ্রামের বাড়িও নিরাপদ নয়। এ ব্যাপারে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?

এর জবাবে মিলার বলেন, আমি এই মাত্র যা বললাম, তা আবারো বলছি। আপনি যেমনটি বললেন, তেমন সহিংসতার স্থান গণতান্ত্রিক নির্বাচনে নেই।

হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় জাতিসঙ্ঘের উদ্বেগ

ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসঙ্ঘ।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়ক গুইন লুইস এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘সহিংসতা ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সবার মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত ও সুরক্ষিত করতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্র সহিংসতার যেকোনো প্রতিবেদন অতি সূক্ষ্ণ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে এবং সহিংসতায়যুক্ত অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকারকে উৎসাহিত করেছে।

ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে বিজয়ী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হবার মাত্র ২০ মিনিট আগে যা ঘটল তা অনাকাঙ্ক্ষিত, আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘যারা মারামারি করল, তারা আর যাই হোক নৌকার শুভাকাঙ্ক্ষী হতে পারে না। নির্বাচনকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্য নিয়েই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’

তিনি দোষীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে বনানীতে ভোটকেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় শারীরিকভাবে ‘লাঞ্ছিত’ করা হয়। এরপর বিকেলে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল ভোটকেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় হিরো আলমের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরেন তিনি।

সূত্র : ইউএনবি

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষের বাংলাদেশ যুবাদের সিরিজ জয়

দু’বার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ক্রিকেট দল।

সোমবার (১৭ জুলাই) বোলার-ব্যাটারদের দুর্দান্ত নৈপুন্যে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ৩ উইকেটে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। এর মাধ্যমে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে বাংলাদেশের যুবারা।

সিরিজের প্রথম ওয়ানডে বৃষ্টি আইনে ১০ রানে ও তৃতীয়টি ৪ উইকেটে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় ওয়ানডে ১৪ রানে ও চতুর্থটিতে ৪ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। ফলে পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডেটি সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ হয়ে দাঁড়ায়।

জিতলেই সিরিজ জয়, এমন সমীকরণকে সামনে রেখে রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে বল করতে নামে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনারকে ১৮ রানের মধ্যে শিকার করে বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দেন পেসার রিজান হোসেন।

শুরুর ধাক্কা সামলে ৩ উইকেটে ১০১ রান তুলে লড়াইয়ে ফিরে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু পরে বাংলাদেশের বোলারদের তোপে ৪৯.৪ ওভারে ২১০ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৩ রান করেন তিন নম্বরে নামা ডেভিড টিগার।

বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান রাব্বি তিনটি, রিজান-রোহানাত দৌলা বর্ষন-রাফি উজ্জামান রাফি দু’টি করে এবং আরিফুল ইসলাম একটি উইকেট নেন।

জবাবে দলকে ৪০ রানের সূচনা এনে দেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার আদিল বিন সিদ্দিক ও রিজওয়ান। জুটিতে ১৩ রান করে ফিরেন রিজওয়ান। তিন নম্বরে নেমে ৩ রান করেন রিজান।

৪৮ রানে ২ উইকেট পতনের পর দলের হাল ধরেন আদিল ও আরিফুল। তৃতীয় উইকেটে ৮৭ রান যোগ করেন তারা। হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৫৮ রানে আউট হন আদিল।

মিডল অর্ডার ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৬৮ রানে আউট হন আরিফুল। দলীয় ১৮৯ রানে সপ্তম ব্যাটার হিসেবে আউট হন তিনি।

অষ্টম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ২২ রান যোগ করে ১৭ বল বাকি থাকতে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন অধিনায়ক রাব্বি এবং রাফি। রাব্বি ১৫ ও রাফি ৭ রানে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচ সেরা হন আরিফুল ও সিরিজ সেরা হন রাফি।
সূত্র : বাসস

আ.লীগের আমলে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকরা বেশি নির্যাতিত : রিজভী

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আমলে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকরা বেশি নির্যাতিত বলে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম হলো গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় চালিকা শক্তি। তারাই আজ নির্যাতিত-নিপীড়িত। তাদের অনেকেই কোনো অপরাধ ছাড়াই মাসের পর জেল খাটছে।

সোমবার দুপুরে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) দিনকাল ইউনিট আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, নিশিরাতের সরকার যত দিন ক্ষমতায় থাকবে, তত দিন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরবে না। ফিরবে না মত প্রকাশের স্বাধীনতা। বন্ধ হবে না সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতন।

এ সময় তিনি অবিলম্বে দৈনিক দিনকাল ও দিগন্ত টিভিসহ বন্ধ সকল গণমাধ্যম খুলে দেয়ার দাবি জানান।

মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা বিএনপি ঘোষিত সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন সমর্থন করেন।

উল্লেখ্য, দৈনিক দিনকালসহ বন্ধ সকল গণমাধ্যম খুলে দেয়ার দাবিতে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) দিনকাল ইউনিট।

সেখানে ডিইউজের সহ-সভাপতি রাশেদুল হকের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খানের পরিচালনায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী, এম এ আজিজ, এম আবদুল্লাহ, নুরুল আমিন রোকন, কাদের গণি চৌধুরী, সৈয়দ আবদাল আহমদ, আমিরুল ইসলাম কাগজী, শহীদুল ইসলাম, এম খুরশিদ আলম, এলাহী নেওয়াজ খান সাজুসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের এক দফা দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা এক দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন আইনজীবীরা।

সোমবার (১৭ জুলাই) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সরকার বিরোধী বিভিন্ন আইনজীবী সংগঠনের সমন্বয়ে নবগঠিত মোর্চা ইউনাইটেড ল’ইয়ার্স ফ্রন্টের (ইউএলএফ) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমাবেশ ও মিছিলে কয়েক শ’ আইনজীবী অংশ নেন।

ইউএলএফের আহ্বায়ক ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে আইনজীবী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ফ্রন্টের কো-কনভেনর সুব্রত চৌধুরী, মোহাম্মদ মহসিন রশিদ, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, এ কে এম. জগলুল হায়দার আফ্রিক, শেখ জুলফিকার বুলবুল, সৈয়দ মামুন মাহবুব, ড. গোলাম রহমান ভুইয়া প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন ইউএলএফের সমন্বয়ক গাজী কামরুল ইসলাম সজল।

সভায় উপস্থিত ছিলেন এসসিবিএ এডহক কমিটির সদস্য সচিব শাহ আহমেদ বাদল, বারের সাবেক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল, সাবেক সম্পাদক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, আইনজীবী আবেদ রাজা, মনির হোসেন, মোহাম্মদ আলী, মো: আক্তারুজ্জামান, কামরুজ্জামান মামুন, সগীর হোসেন লিওন, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক ট্রেজারার মো: কামাল হোসেন, সাবেক সহ-সম্পাদক মাহবুবুর রহমান খান, রেজাউল করীম রেজা, মাহমুদ হাসান, শামীমা সুলতানা দিপ্তী, সৈয়দ মো: তাজরুল হোসেন, মো: জহিরুল ইসলাম সুমন, মো: মাসুদুল আলম দোহা, শেখ মোহাম্মদ আলী, আনিসুর রহমান রায়হান, মো: মাকসুদ উল্লাহ, মো: কাইয়ুমসহ কয়েক শ’ আইনজীবী।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন বলেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আইনজীবীদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, যে সরকার সুপ্রিমকোর্ট বার সমিতির নির্বাচন ভন্ডুল করে সেই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারে না।

ফ্রন্টের কো-কনভেনর সুব্রত চৌধুরী বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। চোর, মহাচোর, ভোট চোরদের দেশের মানুষ আর দেখতে চায় না।

ফ্রন্টের সিনিয়র সদস্য মোহাম্মদ মহসিন রশিদ বলেন, এই মুহূর্তে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দরকার, ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচন এটা আবারো প্রমাণ করেছে। এই সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। এজন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার দরকার।

এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, যারা দেশের ব্যাংক লুট করে খালি করে দিয়েছে তারই শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী চায়। জনগণ চায় না। জনগণ চায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন।

সভায় আইনজীবী নেতারা বিএনপিসহ সকল বিরোধী দল আয়োজিত আগামী ১৮ ও ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য পদযাত্রায় সংহতি প্রকাশ করেন এবং পদযাত্রায় যোগদান করবেন বলে জানান।

ভোটকেন্দ্রের বাইরে হিরো আলমকে মারধর : হাসপাতালে ভর্তি

ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমকে ভোটকেন্দ্রের বাইরে কিছু দুর্বৃত্ত মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে এ হামলার শিকার হন তিনি।

আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনে হিরো আলমের প্রধান সমন্বয়ক মো: ইলিয়াস।

তিনি জানান, বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে এ ঘটনা ঘটে। এরপর রামপুরায় বেটার লাইফ হাসপাতালে নেয়া হয় হিরো আলমকে। চিকিৎসা চলছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ সংক্রান্ত ভিডিওতে দেখা যায়, একদল লোক হিরো আলমকে মারধর করছে এবং ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে তাকে ধাওয়া করা হয়। এ সময় তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হিরো আলমের ওপর হামলার পর পুলিশ হামলাকীরদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

তবে এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে, সকাল ৮টায় ভোট শুরুর দু’ঘণ্টার মাথায়ই হিরো আলম অভিযোগ করেন, কেন্দ্রগুলো থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না জানি না। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের এজেন্টদের বের করে দেয়া হচ্ছে। আমার সাথে কয়েকজন এজেন্ট আছে, তাদেরও বের করে দেয়া হয়েছে। তাদের মোবাইল কেড়ে নেয়া হয়েছে।

মানি লন্ডারিং মামলায় জি কে শামীমের ১০ বছরের কারাদণ্ড

মানিলন্ডারিং আইনে ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের ১০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বাকি সাত আসামির প্রত্যেকে চার বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। তারা হলেন মো: দেলোয়ার হোসেন, মো: মোরাদ হোসেন, মো: জাহিদুল ইসলাম, মো: শহীদুল ইসলাম, মো: কামাল হোসেন, মো: সামসাদ হোসেন ও মো: আনিছুল ইসলাম।

সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ১৫ জুন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৫ জুন দিন ধার্য করেন। গত ২৫ জুন মামলার রায় ঘোষণা ও অধিকতর যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী অধিকতর যুক্তি উপস্থাপন করেন।

এরপর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মামলার রায় ঘোষণা ১৭ জুলাই নতুন দিন ধার্য করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সাত সশস্ত্র দেহরক্ষীসহ জি কে শামীমকে তার কার্যালয় থেকে আটক করে র‍্যাব। সেখান থেকে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা, নয় হাজার ইউএস ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরের ডলার, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর, অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করে র‌্যাব।