Home Blog Page 599

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টিতে সর্বকালের সেরা কূটনীতিবিদ হনুমান!

থাইল্যান্ড সফরে গিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর চমকে দিয়েছেনই বলা যায়। সেখানে গিয়ে তিনি জানালেন তার কাছে সর্বকালের সেরা কূটনীতিবিদ হলেন ভগবান বীর হনুমান। কিন্তু কেন বীর হনুমানকে সর্বকালের সেরা কূটনীতিবিদ হিসাবে উল্লেখ করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার ব্যাখাও তিনি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভগমান হনুমান এমন একটা দেশে গিয়েছিলেন যার সম্পর্কে তার কাছে আগে থেকে কোনো তথ্য ছিল না। এরপর তিনি সীতাকে খুঁজে বের করেন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা যদি আমায় প্রশ্ন করেন যে কাকে আমি সেরা কূটনীতিবিদ হিসেবে গণ্য করি? আমার উত্তর একটাই হবে লর্ড হনুমান। যে দেশে তিনি গিয়েছিলেন তার সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। এরপর গোপন সূত্রে তিনি সীতাকে খুঁজে বের করেন।

মূলত রামায়ণের কাহিনিকে বর্ণনা করেছেন তিনি। সেইসাথেই সর্বকালের সেরা কূটনীতিবিদ হিসেবে রামভক্ত হনুমানের প্রসঙ্গ এনেছেন। আসিয়ান-ইন্ডিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সভায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। বুধবার থেকে তার এই সফর শুরু হয়েছে। ওই কর্মসূচির নানা দিক তিনি টুইটের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

অন্যদিকে বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। তাকে মহান দূরদৃষ্টিসম্পন্ন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। জয়শঙ্কর বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো তিনি একেবারে তৃণমূলস্তরে থাকা মানুষের পালসটা খুব ভালো করে বোঝেন। এরপর সেগুলো তিনি তার পলিসির মাধ্যমে তুলে আনেন।

জয়শঙ্কর বলেন, মোদির মতো কাউকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাওয়া এটা আমাদের দেশের বিরাট ভাগ্যের ব্যাপার। তিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী আর আমি তার মন্ত্রিসভার একজন সদস্য এই জন্য আমি এই কথা বলছি এমনটা নয়। বাস্তবিকই তিনি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও মাটিতে পা রেখে চলেন। এই ধরনের মানুষ জীবনে একবারই আসেন। আমাদের কাছে এটা শুধু একটা সম্পর্কের ব্যাপার নয়,এটা আসলে সংস্কার ও তার সাথে জড়িয়ে থাকা দেশের পরিবর্তনের বিষয়। …তিনি জানিয়েছেন, ২০১৪ সালের পর থেকে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক সবগুলোই বৃদ্ধি পেয়েছে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

মুসলমানদের নিয়ে চরম সাম্প্রদায়িক মন্তব্য আসামের মুখ্যমন্ত্রীর

ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে আরো একবার চরম সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করে তরিতরকারি বা ফলমূলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য ‘মিয়াঁ মুসলিমদের’ দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।

রাজধানী গুয়াহাটিতে সব্জির দাম কেন আকাশ ছুঁয়েছে, সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কারা এই তরিতরকারির দাম বাড়িয়েছে, সেটা তো দেখুন! এরা সবাই হলো মিঁয়া সব্জিওয়ালা, যারা এত বেশি বেশি দাম নিচ্ছে।’

আসামের বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়কে বোঝাতেই এই ‘মিঁয়া’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

যদিও ‘মিঁয়া’ শব্দটি বেশ অবমাননামূচক অর্থেই প্রয়োগ করা হয়ে থাকে, তবে রাজ্যের বাঙালি মুসলিমরা ইদানীং নিজেদের পরিচয় ব্যক্ত করতে তাদের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবেই এই শব্দটিকে গ্রহণ করে নিয়েছেন।

গত কয়েক বছরের মধ্যে এ কারণেই আসামের বাঙালি মুসলিমরা ‘মিঁয়াকাব্য’ নাম দিয়ে সাহিত্যচর্চা শুরু করেছেন, এমনকি তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে একটি ‘মিঁয়া মিউজিয়াম’ খোলারও চেষ্টা হয়েছে।

কিন্তু আসামে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার যে এই ‘মিঁয়া’দের আসামের অংশ হিসেবে মনে করে না, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সেটা বারবারেই বুঝিয়ে দিয়েছেন।

তরিতরকারির দাম নিয়ে তার সাম্প্রতিক মন্তব্য এই তালিকাতেই সর্বশেষ সংযোজন। বিবিসি হিন্দি বিভাগই মুখ্যমন্ত্রীর এই বিতর্কিত মন্তব্য সর্বপ্রথম রিপোর্ট করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী ওই দিন আরো দাবি করেছেন, গুয়াহাটিতে সব্জিওলারা ‘মিঁয়া’ বলেই তারা অসমিয়াঁদের থেকে এত বেশি দাম নিচ্ছেন, অসমিয়াঁরাও যদি সব্জি বেঁচতেন, তাহলে কখনোই এত দাম নিতেন না।

ঠিক কী বলেছেন হিমন্ত?
দিন কয়েক আগে অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের নেতা ও ধুবড়ি থেকে নির্বাচিত লোকসভা এমপি বদরুদ্দিন আজমল বলেছিলেন, ‘মিঁয়া সম্প্রদায়কে ছাড়া আসাম অসম্পূর্ণ।’

সংবাদমাধ্যমের কাছে ওই প্রসঙ্গ টেনে এনে আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই ধরনের মন্তব্য করে বদরুদ্দিন আজমল আসলে অসমিয়া সম্প্রদায়কেই অপমান করেছেন।’

বস্তুত মিঁয়া মুসলিমদের তিনি যে আসামের অংশই মনে করেন না, সেটা বোঝাতে হিমন্ত বিশ্বশর্মা কোনো রাখঢাকই করেননি।

এরপরই যখন তার কাছে তরিতরকারির অগ্নিমূল্য নিয়ে জানতে চাওয়া হয়, তিনি সরাসরি তার দায় চাপিয়ে দেন ‘মিঁয়া’ সব্জিওলাদের ওপর। বলেন, এই মিঁয়া মুসলিমরাই বেশি বেশি দাম নিচ্ছেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামের দিকে তরিতরকারির দাম বেশ কম। অথচ গুয়াহাটিতে এই মিঁয়ারা অসমিয়াদের থেকে চড়া দাম হাঁকছেন। আজ যদি অসমিয়ারা সব্জি বেঁচতেন, তাহলে সহ-নাগরিক অসমিয়াদের থেকে কখনোই বেশি দাম নিতেন না।’

গুয়াহাটি শহরে বিভিন্ন ফ্লাইওভারের নিচে অস্থায়ী সব দোকান থেকে মিঁয়ারা যে সব্জি ও ফলমূল বেঁচেন, তিনি নিজে তদারকি করে সেগুলো উচ্ছেদের ব্যবস্থা করবেন বলেও জানান হিমন্ত বিশ্বশর্মা।

তিনি বলেন, ‘এতে করে আমাদের ‘অসমিদেয়া ছেলে’দের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।’

গত মাসে বকরি ঈদের সময় গুয়াহাটিতে গণপরিবহন ব্যবস্থা যে ভেঙে পড়েছিল, তার জন্যও তিনি মুসলিম গাড়ি-চালকদের দায়ী করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই দেখেছি ঈদের সময় গুয়াহাটিতে বাস চলাচল কিভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। রাস্তায় ভিড়ভাট্টাও একদম ছিল না।’

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আশি শতাংশ বাস-চালক ও সত্তর শতাংশ উবার-ওলার মতো ক্যাব ড্রাইভাররা সবাই ‘মিঁয়া’ বলেই ওই অবস্থা হয়েছিল।

মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দেন, সরকার চায়, ‘অসমিয়া যুবক’রাই এই ধরনের কাজে আরো বেশি করে এগিয়ে আসুক, যেন মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবের সময় রাজধানী আবার অচল না-হয়ে পড়ে।

ওয়াইসি, আজমলের প্রতিবাদ
হিমন্ত বিশ্বশর্মার ওই বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় মুসলিম রাজনীতিবিদরা। তারা অভিযোগ করছেন, মুখ্যমন্ত্রী আসলে আসামে বিভাজনের রাজনীতি করছেন।

হায়দ্রাবাদের এমপি তথা এআইএমআইএম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি টুইট করেছেন, ‘ভারতে একদল লোক আছেন, যারা তাদের বাড়িতে মোষ দুধ না-দিলে বা মুরগি ডিম না-পাড়লেও মিঁয়াদের দায়ী করে থাকেন।’

সেই সাথেই মিশরে বা সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সাম্প্রতিক সফরের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, ‘আজকাল তো মোদিজির সাথে বিদেশী মুসলিমদের খুব দোস্তি, তো ওদেরকেই বলুন না টমেটো, আলু, পালংশাক পাঠাতে!’

এআইইউডিএফ নেতা বদরুদ্দিন আজমল আবার প্রশ্ন তুলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী গুয়াহাটিকে মিঁয়া-মুক্ত করার কথা বলছেন, ওখানে তাদের শাকসব্জি বেঁচতে দেবেন না বলে ঘোষণা করছেন। একটি রাজ্য সরকারের প্রধান কিভাবে এ ধরনের কথা বলতে পারেন?’

মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘বিভেদমূলক বক্তব্যে’র কারণে যদি ‘অসমিয়া ভাই’ আর মুসলিমদের মধ্যে ‘কোনো ঘটনা ঘটে যায়’, তাহলে হিমন্ত বিশ্বশর্মাই সরাসরি তার জন্য দায়ী থাকবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন আজমল।

শাকসব্জির দাম মিঁয়ারা বাড়াননি বলেও দাবি করেন তিনি। একইসাথে বলেন, ‘অসমিয়া যুবকরা এই পেশায় আসুক, এটা তো খুব ভালো প্রস্তাব।’

বদরুদ্দিন আজমল মন্তব্য করেন, ‘কিন্তু তারা কি চাষবাস করতে পারবে? যে ধরনের কঠিন পরিশ্রম এতে লাগে, আমার তো মনে হয় না অসমিয়ারা তা পারবে বলে!’

বরপেটার কংগ্রেস এমপি আবদুল খালেক এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আসামে সাম্প্রতিক ও জাতিগত দাঙ্গা বাঁধানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ক্রমাগত উসকানি দিয়ে চলেছেন!’

মিঁয়া মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিমন্ত বিশ্বশর্মার এ ধরনের প্রকাশ্য আক্রমণ অবশ্য কোনো নতুন ঘটনা নয়।

গত বছর রাজ্যের গোয়ালপাড়া জেলায় মিঁয়াদের একটি নিজস্ব সংগ্রহশালা উদ্বোধনের দু’দিনের ভেতরেই আসাম সরকার সেটি সিল করে দেয় এবং তার প্রধান উদ্যোক্তা, অল আসাম মিঁয়া পরিষদের প্রেসিডেন্ট মোহর আলিকে গ্রেফতার করে।

হিমন্ত বিশ্বশর্মা তখন বলেছিলেন, ‘চাষের লাঙলকে কিভাবে মিঁয়ারা নিজেদের আইডেন্টিটি হিসেবে দাবি করতে পারে? এক লুঙ্গি ছাড়া আর কোনওটাই তাদের নিজেদের জিনিস নয়!’

সূত্র : বিবিসি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি কেন বারবার আরব দেশ সফর করছেন

ফ্রান্সের পর এবার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর শেষ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের সাথে আলোচনার পর তিনি ভারতীয় রুপি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুদ্রা দিরহামে ব্যবসা করার ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদি আশা প্রকাশ করেছেন যে শিগগিরই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৮৫ বিলিয়ন থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে।

দুই দেশের মধ্যে নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্যের ঘোষণা ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর এটি নরেন্দ্র মোদির পঞ্চম সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর।

গত কয়েক বছরে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্কের মধ্যে অনেক উষ্ণতা দেখা দিয়েছে।

গত বছর যখন মোদি সংযুক্ত আরব আমিরাত পৌঁছেছিলেন, তখন দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানকে প্রোটোকল ভেঙে মোদিকে স্বাগত জানাতে আবুধাবি বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত নরেন্দ্র মোদিকে তার সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অফ জায়েদ’ প্রদান করেছে।

আট বছরে মোদির পঞ্চম ইউএই সফর
নরেন্দ্র মোদি গত ৯ বছর ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে আছেন। এ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে ভারতের সম্পর্ক জোরদারের দিকে বিশেষ নজর দিয়েছেন।

মোদি যখন প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তখন ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গাকে ঘিরে উপসাগরীয় দেশগুলোয় তার যে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছিল, তাতে মনে হয়েছিল ভারতের সাথে ওইসব দেশের সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

কিন্তু উল্টো তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে ভারতের সম্পর্ক জোরদার করার পদক্ষেপ নিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন।

তিনি তার শাসনকালের আট বছরের উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন।

মোদি এ নিয়ে একাধিকবার সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইউএইতে সফর করেছেন। দেশটিতে তার প্রথম সফর ছিল ২০১৫ সালে আগস্টে, দ্বিতীয়টি ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে এবং তৃতীয়টি ২০১৯ সালের আগস্টে এবং চতুর্থটি ২০২২ সালের জুনে। বর্তমান সফরটি তার সংযুক্ত আরব আমিরাতে পঞ্চম সফর।

২০১৫ সালের আগস্টে মোদি যখন প্রথমবারের সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন, এটি ছিল ৩৪ বছরের ইতিহাসে কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ওই দেশে প্রথম সফর। মোদির আগে ইন্দিরা গান্ধী ১৯৮১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছিলেন।

২০১৭ সালে প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে মোদির পররাষ্ট্র নীতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়ে মনোযোগ দেয়া হয়েছিল। সেই সময় মোহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল মোদি সরকার।

তখন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট ছিলেন না, তখন তিনি ছিলেন আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স।

ঐতিহ্য অনুসারে ভারত তাদের প্রজাতন্ত্র দিবসে কোনো একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতিকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানায়। আল নাহিয়ান ওই পদে না থাকা সত্ত্বেও ২০১৭ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসেছিলেন।

ভারত-ইউএই সম্পর্কের তিনটি ভিত্তি
ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইংরেজি বর্ণমালার তিনটি ই’র উপর ভিত্তি করে আছে। সেগুলো হলো- এনার্জি, ইকোনমি ও এক্সপ্যাট্রিয়েট অর্থাৎ জ্বালানি, অর্থনীতি ও জনশক্তি (প্রবাসী)।

গত অর্থ বছরে (২০২২-২৩), ভারতে অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী তৃতীয় বৃহত্তম দেশ ছিল ইউএই। ভারতের তেল আমদানিতে এর ১০ শতাংশ শেয়ার ছিল।

কিন্তু ভারত এখন ২০৩০ সালের মধ্যে ইউএই থেকে তেলের বাইরে অন্যান্য ব্যবসা ১০০ বিলিয়ন ডলারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত বছর দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সিইপি (কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ) চুক্তি ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

গত এক দশকে ভারতের স্বাক্ষরিত এটিই প্রথম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। ২০১১ সালে ভারত জাপানের সাথে সর্বশেষ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।

পারস্পরিক বাণিজ্য ৮৫ বিলিয়ন ডলার, লক্ষ্য ১০০ বিলিয়ন ডলার
ভারত ২০২৭ সালের মধ্যে তার অর্থনীতির আকার পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে তার রফতানি এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায়। সিইপি চুক্তি এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১৯৭০-এর দশকে মাত্র ১৮০ মিলিয়ন ডলার ছিল, যা এখন ৮৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পরে ২০২১-২২ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। আমেরিকার পর ভারত সবচেয়ে বেশি রফতানি করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত সঞ্জয় সুধীরের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে ভারতের বাণিজ্য এক বছরে ১৯ শতাংশ বেড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার বর্তমান সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সাথে জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষাসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ২০২২ সালে সিইপি চুক্তির পর্যালোচনাও মোদি ও মোহাম্মদ বিন জায়েদের এজেন্ডায় ছিল।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে ভারতের ব্যবসায়িক সম্পর্ক যে গতিতে বাড়ছে তা অনেক বিশ্লেষকের কাছেই বিস্ময়কর।

ইউএই ভারতে চতুর্থ বৃহত্তম বিনিয়োগকারী
ইউএই এখন ভারতে চতুর্থ বৃহত্তম বিনিয়োগকারী হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ভারতে দেশটির বিনিয়োগ তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

২০২০-২১ সালে ভারতে এর বিনিয়োগ ছিল ১.০৩ বিলিয়ন ডলার। সে সময় ইউএই ছিল ভারতে সপ্তম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। অর্থাৎ মাত্র এক বছরে তিন ধাপ এগিয়েছে।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্সের ফেলো এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফাজজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, “ইউএই মোদি সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়ার মতো সরকারের প্রচারাভিযানে বড় সম্ভাবনা দেখছে এবং সেগুলোয় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।”

তিনি দুই দেশের সম্পর্কের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো ভারতে ইউএই’র বিনিয়োগ ও ব্যবসায় একটি ধারাবাহিকতা রয়েছে। এটি একটি বড় ব্যাপার। কারণ আমরা অনেক দেশের সাথে ব্যবসায়িক চুক্তি করি, কিন্তু বিনিয়োগ ও ব্যবসার প্রসার দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

‘এই গতি বজায় রাখতে নরেন্দ্র মোদি বারবার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করছেন। এটি তার পঞ্চম সফর,’ বলেন তিনি।

কেন ইউএই’র ভারতের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে?
সৌদি আরবের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতও তার অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে চায়।

আরব আমিরাত চায় তেলভিত্তিক অর্থনীতির ওপর নির্ভরতা কমাতে। সে কারণেই দেশটি বিশ্বজুড়ে নতুন বিনিয়োগের জায়গা খুঁজছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত তার ‘সার্কুলার ইকোনমিক পলিসি’ নিয়ে কাজ করছে।

এটি ২০৩১ সালের মধ্যে দেশটি তাদের উৎপাদন খাত দ্বিগুণ করতে চায়। এ জন্য তারা ২.৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবেন।

এর সাথে তারা বর্তমানে খাদ্য ব্যবসা, সবুজ অবকাঠামো এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসার দিকে মনোযোগ বাড়াচ্ছে।

এই সমস্ত ব্যবসার জন্য দেশটি ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখছে। দেশটি এখন ভারতে বিনিয়োগ করতে চায় এবং এই খাতগুলোয় ভারতের দক্ষতার সুবিধা নিতে চায়।

এই কারণেই ইউএই ইদানিং পশ্চিমের ব্যয়বহুল বিশেষজ্ঞদের তুলনায় ভারতের পেশাদার এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

খাদ্য সরবরাহ ও প্রতিরক্ষা চুক্তি
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোকে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে ভাবতে বাধ্য করেছে।

আরব বিশ্বের খাদ্য সরবরাহের ৬০ শতাংশ আসে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে। তাই এই যুদ্ধ সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নাড়া দিয়েছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন চাইছে খাদ্য সরবরাহ এবং প্রযুক্তি এমন দেশগুলো থেকে সংগ্রহ করতে, যারা এই প্রয়োজন মেটাতে পারবে।

খাদ্য উদ্বৃত্ত দেশ হওয়ায় ভারত এই ভূমিকা পালন করার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ভারতের অস্ত্রের ব্যাপারেও আগ্রহী। তারা ভারত থেকে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চায়।

এর পাশাপাশি তারা ভারতের সাথে মিলে সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করতে চায়। যা ভারতের মেইক ইন ইন্ডিয়া অভিযানের ক্ষেত্রে বেশ উপযুক্ত।

উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান
চরমপন্থার বিরুদ্ধে ভারতের সোচ্চার সমর্থক হিসেবে পাশে থেকেছে ইউএই।

ফাজজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, “ইউএই সবসময় এই ইস্যুতে ভারতকে সমর্থন করেছে। তারা ‘ভালো’ ও ‘খারাপ’ সন্ত্রাসবাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না। তাদের মধ্যে চরমপন্থা ভালো বা খারাপ না।”

যেসব চরমপন্থীরা ভারতে তৎপরতা চালানোর পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে লুকিয়ে আছে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ইউএই। বিশেষ করে ভারত যেসব চরমপন্থার শিকার হয়েছে।

তাই বিশ্ব মঞ্চে ভারত এই চরমপন্থার বিরুদ্ধে শক্তিশালী অংশীদার খুঁজছে।

গত বছর, নরেন্দ্র মোদি সংযুক্ত আরব আমিরাতে চরমপন্থী হামলার নিন্দা করেছেন এবং একসাথে লড়াই করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ভারত-ইউএই নেতৃত্ব
জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ভারত নিজেকে এগিয়ে রেখেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও ক্লিন এনার্জি বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ইস্যুতে বেশ সোচ্চার।

এবার তিনি জাতিসঙ্ঘের ২৮তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ-২৮ আয়োজন করছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির গ্রুপ সিইও সুলতান আহমেদ আল জাবিরকে চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করেছে।

চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুবাইয়ে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তার বর্তমান সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে, কপ-২৮-এর সভাপতি হিসেবে ইউএই’র প্রেসিডেন্টকে তার পূর্ণ সমর্থন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ফজজুর রহমান বলেন, ‘মোদির ফ্রান্স এবং তারপরে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। আসলে মোদির ফ্রান্স ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের ফোকাস স্পষ্ট ছিল। জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা সমাধানের জন্য একটি ত্রিপক্ষীয় জোট গঠন করা। একই সাথে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভারতীয় প্রবাসীদের ভূমিকা এবং ভারতের সুবিধা
ভারতীয় কমিউনিটির মানুষেরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মেরুদণ্ড। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রায় এক কোটি জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ ভারতীয় প্রবাসী। এই মানুষেরা সেখানে প্রতিটি সেক্টরে কাজ করে। যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে অপরিহার্য।

ভারত উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। ২০২০ সালে সারা বিশ্বে বসতি স্থাপনকারী ভারতীয়রা তাদের নিজ দেশে ৮৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছে।

এর একটি বড় অংশ এসেছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত ভারতীয়দের থেকে। বেশিরভাগ অর্থ আসে আমেরিকায় অবস্থানরত স্থায়ী ভারতীয়দের থেকে।

বিদেশে কর্মরত ভারতীয়রা প্রতিবছর যে পরিমাণ অর্থ পাঠায় তার প্রায় ২৩.৪ শতাংশ আসে আমেরিকা থেকে। এরপরের অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের। দেশটি থেকে আসে মোট প্রবাসী আয়ের ১৮ শতাংশ।

২০১৮ সালে বিদেশে বসতি স্থাপনকারী ভারতীয়রা তাদের নিজ দেশে ৭৯ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছে।

এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত প্রবাসীরা পাঠিয়েছে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলার।

সৌদি আরব থেকে এসেছে ১১.২ বিলিয়ন ডলার, কুয়েত থেকে ৪.১ বিলিয়ন এবং ওমান থেকে ৩.৩ বিলিয়ন ডলার এসেছে।

সূত্র : বিবিসি

ঢাকা-১৭ ও ৭ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ চলছে

ঢাকা-১৭ আসনের সংসদীয় উপনির্বাচন এবং সাত জেলার সাতটি পৌরসভার নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। কোনো বিরতি ছাড়াই ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

এর আগে শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা-১৭ আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আটজন প্রার্থী।

চলতি বছরের ১৪ মে জনপ্রিয় অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন পাঠান ফারুক এমপির মৃত্যুতে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ঢাকা সেনানিবাসের একাংশ নিয়ে আসনটি শূন্য হয়।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীরা হলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ আলী আরাফাত (নৌকা প্রতীক নিয়ে), জাতীয় পার্টির (লাঙল) সিকদার আনিসুর রহমান, স্বতন্ত্র আশরাফুল হোসেন আলম (একতারা), জাকের পার্টির কাজী রশিদুল হাসান (গোলাপ), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আক্তার হোসেন (ছড়ি), স্বতন্ত্র তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়া (ট্রাক), বাংলাদেশ কংগ্রেসের রেজাউল করিম স্বপন (ডাব) এবং তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান (সোনালী আঁশ)।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড এবং ঢাকা সেনানিবাস এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ আসনে ১২৫টি ভোটকেন্দ্রের অধীনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৫ হাজার ২০৫।

১ জুন নির্বাচন কমিশন ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। যা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান ওরফে ফারুকের মৃত্যুতে শূন্য হয়।

সোমবার সাতটি পৌরসভার নির্বাচন চলছে- পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া, কুমিল্লার দেবিদ্বার, চাঁদপুরের ছেংগারচর, যশোরের বেনাপোল, চট্টগ্রামের দোহাজারী, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট ও সিরাজগঞ্জের তাড়াশ।

পৌরসভাগুলোর মধ্যে ভান্ডারিয়ায় ২২ হাজার ৪১৫ জন, ছেংগারচরে ৩৩ হাজার ৩৩৬ জন, দেবিদ্বারে ৪৪ হাজার ৫০৯জন, বেনাপোলে ৩০ হাজার ৩৮৫জন, দোহাজারীতে ৩৩ হাজার ৫৮৬ জন, গোসাইরহাটে ১৮ হাজার ৩২জন এবং তাড়াশে ১৯ হাজার ২৮৭জন ভোটার রয়েছেন।

সাতটি পদে মোট ৩৩ জন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যেখানে সাতটি পৌরসভায় ২১টি সংরক্ষিত আসনের জন্য ১০২ জন মহিলা প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ৬৩টি সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৬৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী।

সংসদীয় উপনির্বাচনে ঐতিহ্যবাহী ব্যালট পেপার ব্যবহার করে ভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং পৌর নির্বাচনের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে।

এছাড়াও আজ কয়েকটি স্থানীয় সংস্থা- ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ এবং জেলা পরিষদের শূন্য পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন মোদি

ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বৃহস্পতিবার ফ্রান্সে পৌঁছেছেন তিনি। সেখানেই একটি অনুষ্ঠানে তার হাতে তুলে দেয়া হয় লিজিয়ঁ দ্য অনারের গ্র্যান্ড ক্রস।
ফরাসি রাষ্ট্রপতি ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ এই সম্মান তুলে দেন মোদির হাতে।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গোটা দেশের মানুষের হয়ে ফরাসি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, এর আগে মোট ১৩টি দেশ থেকে সেখানকার সর্বোচ্চ সম্মাননা পেয়েছেন মোদি। এবার প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লিজিয়ঁ দ্য অনারের সম্মান পেলেন তিনি।

দু’দিনের জন্য ফ্রান্স সফরে গিয়েছেন মোদি। যুদ্ধবিমান কেনা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে মোদির এই সফরে। তার প্রথম দিনেই মোদিকে সম্মানিত করল ফ্রান্সের সরকার। এর আগে শশী থারুর, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো বিখ্যাত ভারতীয়রা এই সম্মান পেয়েছেন। ফ্রান্সের সাধারণ নাগরিক ও সামরিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে এই লিজিয়ঁ দ্য অনারই সবচেয়ে বড় সম্মান।

বৃহস্পতিবার বিখ্যাত এলিস প্যালেসে মোদির জন্য বিশেষ নৈশভোজের ব্যবস্থা করেছিলেন ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি ব্রিজেট ম্যাক্রোঁ। সেখানেই লাল কার্পেটে হেঁটে প্রাসাদে প্রবেশ করেন মোদি। বিশেষ নৈশভোজের অনুষ্ঠানেই তাকে লিজিয়ঁ দ্য অনারে ভূষিত করা হয়। তারপরেই ফ্রান্সে প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে ভাষণও দেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।

সেই ভাষণ দেয়ার সময়েই প্রধানমন্ত্রী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, মার্সেইতে একটি কনসুলেট খুলতে চলেছে ভারত। তার পাশাপাশি ফ্রান্সে পড়াশোনা করা ভারতীয়দের জন্য পাঁচ বছরের ওয়ার্ক ভিসার কথাও ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। আগে এই ভিসার মেয়াদ ছিল দু’বছর। সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

দেশে এখন ডেমোক্রেসির পরিবর্তে আওয়ামীক্রেসি চলছে : জিএম কাদের

দেশে এখন ডেমোক্রেসির পরিবর্তে আওয়ামীক্রেসি চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) এমপি।

তিনি বলেন, সরকারি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে বেছে বেছে আওয়ামী লীগের লোক বসানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষ মনে করছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজ হচ্ছে সরকারি দলের দুর্নীতিবাজদের সার্টিফিকেট দেয়া। তারা কোনো দুর্নীতি করেননি। সকল জায়গায় বিভাজন সৃষ্টি করা হচ্ছে, এটাই হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী। ফলে গরীব আরো গরীব হচ্ছে, ধনীরা আরো ধনী হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের নামে লুটপাট চলছে। দেশের মানুষের খোঁজ রাখা হচ্ছে না। বর্তমান সরকার স্বাধীনতার পক্ষে হতে পারে কিন্তু তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তি নয়।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুমহুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণ সভায় সভাপতির বক্তৃতায় জিএম কাদের এসব কথা বলেন।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, সকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচন করতে হবে নির্বাচিত সরকারের অধীনে, আমরাও চাই। নির্বাচিত সরকার যদি নির্বাচন কমিশনসহ সকল কিছু প্রভাবিত করতে পারে তাকে সমর্থন করা যায় না। সংবিধানে বলা হয়েছে গণতন্ত্রের কথা। জনগণ যদি মনে করে আমার ভোটে সরকার গঠন হয়েছে, তাকেই বলা যায় নির্বাচিত সরকার। নির্বাচন কমিশন যেন সরকারের প্রভাবের বাইরে থাকে। যদি আমার কথায় নির্বাচন কমিশন চলে, তাহলে আমি কী হেরে যাবো এমন সিদ্ধান্ত নেবো? সরকার নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করতে পারলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নামে ও বেনামে সরকার হয়ে যাচ্ছে। তারা তাদের সরকারের জন্য কাজ করছে। তারা কাজ করছে তাদের সরকারের জন্য। কিছু মানুষ প্রশাসনে আছে, পুলিশে আছে, সরকারি বিভিন্ন বিভাগে আছে, তারা আগ বাড়িয়ে বলেন, আমরা আওয়ামী পরিবার। আমরা ছাত্রলীগ-যুবলীগ করেছি। তারা আওয়ামী লীগের সভায় যায়, শ্লোগান দেয় এবং আওয়ামী লীগের ভাষায় কথা বলে। এরা হচ্ছে বেনামে আওয়ামী লীগ। এখন ডেমক্রেসির পরিবর্তে আওয়ামীক্রেসি চলছে। যেখানে গর্ভমেন্ট অব দ্যা আওয়ামী লীগ, গর্ভমেন্ট বাই দ্যা আওয়ামী লীগ এবং গর্ভমেন্ট ফর দ্যা আওয়ামী লীগ। এটা কথনোই ডেমেক্রেসি হতে পারে না। আমরা চাই নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। সেই সরকার নির্বাচিত হতে হবে। যে সরকার নিজেই নিজের ফলাফল ঘোষণা করতে পারে তাকে নির্বাচিত সরকার বলা যায় না।

এর আগে গতকাল সকাল ৯টায় কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় চত্বরে এরশাদের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন নেতারা। বাদ জুমা মসজিদের মসজিদে তার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়। এছাড়াও জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় পার্টির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এরশাদের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, মহাসচিব মো: মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, ফখরুল ইমাম এমপি, অ্যাডভোকেট শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, মীর আব্দুস সবুর আসুদ প্রমুখ।

মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখলো আফগানিস্তান, সহজ লক্ষ্য বাংলাদেশের সামনে

মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখলো আফগানিস্তান। আগের ম্যাচে যেখানে উদ্বোধনী জুটিতেই আসে ২৫৬ রান, সেখানে আজ টিকে থাকাই যেন বড় দায়। একের পর এক আঘাতে আফগানরা আজ এলোমেলো, অসহায়।

হোয়াইটওয়াশের শঙ্কা নিয়ে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে টসে হেরে আগে বল করতে গিয়ে আফগানিস্তানকে থামিয়ে দিয়েছে ১২৬ রানে। এবার ব্যাট হাতে জ্বলতে পারলেই পাবে পূর্ণতা।

গল্পটা এভাবেও বলা যায়, ‘শরিফুল ইসলাম ফিরলেন, ফিরলো বাংলাদেশও।’ প্রথম দুই ম্যাচে অসহায় আত্মসমর্পণের পর ছন্দ খুঁজে পেলো বাংলাদেশ। উড়তে থাকা আফগানিস্তান মাটিতে নেমে এলো। চট্টগ্রামে আগে ব্যাট করতে এসে পাওয়ার প্লেতে যোগ করে মোটে ২১ রান, তবুও ৪ উইকেট হারিয়ে! যার নেপথ্য কারণ শরিফুল। একাই ৩ উইকেট তুলে নেন তিনি; প্রথম স্পেল ৫-১-৮-৩!

পাওয়ার প্লেতে আফগানদের ২১ রানের ভেতরে ৭ রান আসে অতিরিক্ত খাত থেকে। তাছাড়া ৬০ বল খেলে মোটে ৮টি বল থেকে রান বের করতে পেরেছে তারা, ডট দেয় ৫২টি! এই ছোট পরিসংখ্যানই বলে দেয় কতটা ভুগেছে আজ সফরকারীরা।

আগের ম্যাচে উদ্বোধনী জুটিতে ২৫৬ রান তুলেছিল সফরকারী আফগানিস্তান। আজও ভয় ছিল এমন কিছু হবে না তো! সেই সুযোগও দেননি শরিফুল। মাত্র তৃতীয় ওভারেই ভাঙেন উদ্বোধনী জুটি। অফ স্টাম্পের বাইরে ফাঁদে ফেলেন ইবরাহিম জাদরানকে। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান বলে খোঁচা দিলে তা সরাসরি চলে যায় উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে। ৩ রানেই ভাঙে আফগানিস্তানের উদ্বোধনী জুটি।

প্রথম উল্লাসের রেশ না কাটতেই দ্বিতীয়বার উল্লাসে মাতান শরিফুল। একই ওভারেই ফেরান তিনে না রহমত শাহকে। শূন্য রানে ফেরেন এই আফগান ব্যাটার। তিনিও ফেরেন মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে। আর তাতে ৩ রানেই ২ উইকেট হারায় আফগানিস্তান।

এরপর ষষ্ঠ ওভারে তাসকিনের আঘাত। প্রথম চার বল ডট দেয়ার পর পঞ্চম বলে পুল করতে চেয়েছিলেন গুরবাজ। তবে তাসকিনের বাউন্সার ব্যাটে ছোঁয়া লেগে চলে যায় পেছনে, মুশফিকের গ্লাভসে। আগের ম্যাচে ১৪৬ রানের ইনিংস খেলা গুরবাজ আউট হন ২২ বলে ৬ রান করে।

এরপর টিকে থাকার লড়াইয়ে দাঁতে দাঁত চেপে থাকে আফগানিস্তান। একটু থিতু হতে একের পর এক দিতে থাকে ডট। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি, মোহাম্মদ নবিকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন শরিফুল। মোটে ১৫ রানে ৪ উইকেট হারায় সফরকারীরা।

১১তম ওভারে ইনিংসে প্রথমবারের মতো এসেছেন মেহেদী মিরাজ। পরের ওভারে আনা হয়েছে সাকিব আল হাসানকেও। তবে চাপ সামলে উঠতে পারেনি সফরকারীরা। এই দুই স্পিনারকেও স্বাভাবিকভাবে খেলতে পারেনি। তবুও নাজিবুল্লাহ-শাহিদি জুটি খানিকটা ফুসরত খুঁজে নিয়েছিল ৪৬ বল থেকে ১৭ রান বের করে।

তবে এবার বাঁধা হয়ে দাঁড়ান সাকিব। নাজিবুল্লাহ জাদরানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। ২২ বলে ১০ রান করেন তিনি। হাশমতুল্লাহ শাহিদি ফেরেন আরো ২১ রান যোগ করে। তিনিও ধরাশায়ী হন স্পিনে, তাইজুলের শিকার হয়ে ফেরেন ২২ রান করে।

এরপর ফের শরিফুলের আঘাত। দ্বিতীয় স্পেলে এসেই ফেরান অভিষিক্ত আব্দুল রহমানকে। ৬৮ রানে ৭ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে একাই লড়তে থাকেন আজমতুল্লাহ ওমরজাই। আরেক অভিষিক্ত জিয়াকে নিয়ে অষ্টম উইকেট জুটিতে ৫৩ বলে ২১ রান যোগ করেন ওমরজাই। জিয়া আউট হন ৩০ বলে ৫ রানে।

ওমরজাইয়ের ব্যাটে ভর করেই তিন অংকের ঘরে পৌঁছায় আফগানিস্তানের ইনিংস। নিজেও তুলে নেন অর্ধশতক। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হবার আগে ৭১ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তাকে ফেরান তাসকিন। এত আগে ৩৪ বলে ১১ করে তাইজুলের দ্বিতীয় শিকার হন মুজিবুর। ৪৫.২ ওভারে ১২৬ রানে অলআউট হয় আফগানিস্তান।

সাকিবের আজকের বোলিং ফিগার ১০-১-১৩-১, ৬০ বলের ৪৮ বলই করেছেন ডট বল। ইকোনমি ১.৩। তবে দলের সবচেয়ে সফলতম বোলার শরিফুল ইসলাম। ৯ ওভারে ২১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। তাসকিন ২৩ রানে ২ ও তাইজুল নেন ৩৩ রানে ২ উইকেট। অন্যটি যায় মিরাজের ঝুলিতে।

নুরপন্থী গণঅধিকার পরিষদের সাথে বিএনপির বৈঠক

সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারসহ কয়েকটি দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের একাংশের (নুরুল হক নুর পন্থিদের) সাথে বৈঠক করেছে বিএনপি।

আজ মঙ্গলবার সকালে গুলশান বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার বিরোধী আন্দোলনে নতুন ডাক দেয়া হবে। এর মাধ্যমে সমস্ত জাতিকে একসাথে করে যুগপৎ আন্দোলনকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে নেয়া হবে। সেজন্য ১২ জুলাই যৌথ ঘোষণা দেয়া হবে। দলগুলো স্ব স্ব জায়গা থেকে এই ঘোষণা দেবেন। এর মাধ্যমে দাবি আদায়ে সফল হব।

তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি এগিয়ে যাচ্ছে। বিএনপির সহিংসতার পথে হাঁটার প্রয়োজন নেই, জনগণ বিএনপির সাথে আছে। সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেরাই সহিংসতার পথে হাঁটছে।

গণঅধিকার পরিষদের সদ্য সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়া হবে। আমরাও কর্মসূচি ঘোষণা করব। আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশের নামে সহিংসতায় উস্কানি দিচ্ছে।

বিরোধীদলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির দিন পাল্টা কর্মসূচি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি ।

এ সময় বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এবং গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে দলটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাশেদ খাঁনসহ উচ্চতর পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় বাংলাদেশী হাফেজ মুহান্নাদ

ফের বিদেশের মাটিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করলো এক ক্ষুদে হাফেজ। যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে সে।

স্থানীয় সময় গত রোববার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় মিনেসোটার এডিনা হাই স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। সেখানেই হিফজুল কুরআন বিভাগে ছেলেদের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করে ওই ক্ষুদে হাফেজ।

দেশের নাম উজ্জ্বলকারী ওই হাফেজের নাম মুহান্নাদ বিন মোহাম্মদ। তার বাবার নাম মোহাম্মাদুল্লাহ বিন হাফিজ। মুহান্নাদের বাড়ি নরসিংদীতে।

জানা গেছে, মিনেসোটাভিত্তিক কুরআন শিক্ষাকেন্দ্র তিবয়ান সেন্টার ফর কুরানিক সায়েন্স তিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রতিযোগিতা শেষে রোববারের অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের অর্থ ও সম্মাননা সনদ তুলে দেন মিনেসোটা ইসলামিক ইউনিভার্সিটির প্রধান শায়খ ড. ওয়ালিদ ইদরিস আল-মানিসি।

এ প্রতিযোগিতা দুইটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ৩০টি দেশ থেকে অন্তত ৪২ জন প্রতিযোগী অংশ নেয়। মুহান্নাদ বিন মোহাম্মদ এতে অংশ নিতে গত ৭ জুলাই বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করে। মুহান্নাদের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তার চাচা কারি নুর মোহাম্মদ বিন হুসাইন।

আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় পুর্ণ কুরআন হিফজ বিভাগে ছেলেদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে ফ্রান্সের ওমর আফুফ। সে ১৫ হাজার ডলার পুরস্কার লাভ করেছে। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ৭ হাজার ডলার পুরস্কার পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সরওয়ার জামালুদ্দিন আর তৃতীয় স্থান অধিকার করে পাঁচ হাজার ডলার পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের মুহান্নাদ।

এর পাশাপাশি ১০ কিরাতে কুরআন হিফজ বিভাগে একমাত্র পুরস্কার লাভ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগী ঈদিন শাহারজাদ। সে পুরস্কার ২০ হাজার মার্কিন ডলার পেয়েছেন।

এদিকে, পুরো কুরআন হিফজ বিভাগে মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে কেনিয়ার মুনা ইদি ফারেহ। সে ১৫ হাজার ডলার পুরস্কার লাভ করেছে। দ্বিতীয় স্থান করে সাত হাজার ডলার পুরস্কার পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নুরা আহমদ। তৃতীয় স্থান অধিকার করে পাঁচ হাজার ডলার জিতেছে মিসরের নাদা মোহাম্মদ ফাতহি।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় তরুণ মুসলিমদের মধ্যে কুরআনভিত্তিক শিক্ষা-কার্যক্রম প্রসারে কাজ করছে তিবয়ান সেন্টার ফর কুরানিক সায়েন্স। শায়খ কারি আবদুর নাসের ফারেহ প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ২০২২ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা শুরু হয়। গত বছর ল্যানহামে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় ১৮টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেয়।

ক্ষমতায় যে দলই থাকুক রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে হবে : প্রধান বিচারপতি

রাষ্ট্র ও বিচার বিভাগের ক্ষতি হয় এমন সংবাদ পরিবেশন থেকে সাংবাদিকদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র আমাদের সবার। ক্ষমতায় যে দলই থাকুক সবাই মিলে রাষ্ট্রপক্ষে এগিয়ে নিতে হবে। সাংবাদিকদের এক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

মঙ্গলবার (১১ জুলাই) দুপুরে প্রধান বিচারপতির সাথে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের নবনির্বাচিত কমিটি সৌজন্য সাক্ষাত করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

এ সময় ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের নবনির্বাচিত সভাপতি শামীমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সহ-সভাপতি প্রশান্ত কুমার কর্মকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরাফাত মুন্না, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিম, দফতর সম্পাদক মাহমুদুল আলম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বাহাউদ্দিন আল ইমরান, প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস তানভী, কার্যনির্বাহী সদস্য শেখ জামাল হোসাইন, মোহাম্মদ আবু নাছের, মার্জিয়া হাশমী উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘রক্ত দিয়ে এদেশের স্বাধীনতা কেনা। দেশ স্বাধীন হয়েছে বলে আমরা স্বাধীন বিচার বিভাগ পেয়েছি। কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়েও এ পর্যায়ে এসেছি। তাই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে সবাইকে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে মামলাজট নিরসনে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিয়েছি। সারাদেশ সফর করে বিচারকদের মামলাজট নিরসনে ভূমিকা পালন ও দেশপ্রেম নিয়ে বিচারকাজ পরিচালনা করার নির্দেশ দিয়েছি।’

বিচারপ্রার্থীদের কষ্ট লাগবে সারাদেশে আদালত অঙ্গনে ন্যায়কুঞ্জ স্থাপন কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।