Home Blog Page 599

বিএনপি নেতাদের বক্তব্য দুরভিসন্ধিমূলক : কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নেতারা অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের জন্য জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা না চেয়ে বরাবরের মতো দুরভিসন্ধিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। গণতন্ত্রের হত্যাকারীরাই আজ যখন গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলেন, তখন বুঝতে হবে তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। গতকাল আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার সই করা এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। এতে বিএনপি নেতাদের ‘মিথ্যাচার ও দুরভিসন্ধিমূলক’ বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
গণতন্ত্রের প্রতি বিএনপির কোনো দায়বদ্ধতা নেই মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, গণতন্ত্রের জন্য তাদের এই আহাজারি মূলত একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড, হাওয়া ভবন-খোয়াব ভবনের অধিপতি, দুর্নীতি-সন্ত্রাস ও দুর্বৃত্তায়নের বরপুত্র তারেক রহমানের দুঃশাসনের যুগে দেশকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য। দেশের গণতন্ত্রকামী দেশপ্রেমিক নাগরিক সমাজ আজ এই অন্ধকারের অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। তিনি বলেন, ২০০১-পরবর্তী সময়কালে বিএনপি-জামায়াত জোট শাসনামলে ২১ হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। স্বৈরাচারের গর্ভে জন্ম নেওয়া বিএনপি সুপরিকল্পিতভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও মূল্যবোধ এবং গণতন্ত্র নস্যাৎ করতে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপিই এ দেশে গণতান্ত্রিক আদর্শ বাস্তবায়নের প্রধান প্রতিবন্ধক। বিএনপি নেতাদের উচিত তাদের সব অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের জন্য জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া। অথচ তারা সেটা না করে বরাবরের মতো দুরভিসন্ধিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে বাংলাদেশ স্বপ্নের পথে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে মানবসভ্যতার ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করা হয়েছিল।

বিএনপি নেতারা কেন স্ত্রীদের ভারতীয় শাড়ি পোড়াচ্ছেন নাঃ শেখ হাসিনা

বিএনপি নেতারা সত্যিকারে ভারতীয় পণ্য বর্জন করছেন কি না তা জানতে চেয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা ভারতীয় পণ্য ব্যবহার করব না বলে ভারতীয় পণ্য বর্জন করলেন, তাদের বউদের কতগুলো শাড়ি আছে। তারা কেন শাড়িগুলো এনে পুড়িয়ে দিচ্ছেন না। বউদের শাড়িগুলো পুড়িয়ে দিলে বুঝব সত্যিকারের পণ্য বর্জন করেছেন তারা।
গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন এখানে (ঢাকায়) গণহত্যা শুরু করে, তারা কিন্তু চট্টগ্রামেও হত্যাকাণ্ড শুরু করেছিল। যারা জাতির পিতার আহŸানে সাড়া দিয়ে ব্যারিকেড দিচ্ছিল, তাদের ওপর গুলি চালিয়েছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। চট্টগ্রামের সেনাবাহিনীর দায়িত্বে জিয়াউর রহমান ছিল। সেই সময় যারা ব্যারিকেড দিয়েছে, জিয়াউর রহমানও তাদের ওপর গুলি চালিয়েছে। শুধু তাই নয়, সোয়াত জাহাজ এসেছে পাকিস্তান থেকে অস্ত্র নিয়ে, সেই অস্ত্র খালাস করতে গিয়েছিল জিয়াউর রহমান। ২৫ মার্চ পাকিস্তান হানাদার বাহিনী যে আক্রমণ চালায় সেই আক্রমণকারীর একজন কিন্তু জিয়াউর রহমান। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির এক নেতা চাদর খুলে আগুন দিচ্ছেন যে ভারতীয় পণ্য ব্যবহার করবেন না। এরপর আবার দেখা গেল কিছু চাদর কিনে এনে পোড়ানো হলো। আচ্ছা শীতকাল তো চলে গেছে, এখন আর চাদর পোড়ালে কী এসে যায়। তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন যে নেতারা বলছেন, ভারতীয় পণ্য বর্জন করছেন, তাদের বউদের কয়খানা ভারতীয় শাড়ি আছে। তাহলে বউদের কাছ থেকে কেন শাড়িগুলো এনে পুড়িয়ে দিচ্ছেন না। আপনারা সবাই একটু বিএনপি নেতাদের এ কথাটা জিজ্ঞেস করেন।
আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, বিএনপি নেতাদের বলব, যারা ভারতীয় পণ্য বর্জন করবেন, সবাই বাড়িতে গিয়ে তাদের বউরা যেন কোনো মতে কোনো ভারতীয় শাড়ি না পরেন; আলমারিতে যে কয়টা শাড়ি আছে সব এনে যেদিন ওই অফিসের সামনে পোড়াবেন, সেদিন বিশ্বাস করব আপনারা সত্যিকারে ভারতীয় পণ্য বর্জন করলেন।
বিএনপি নেতারা কি ভারতীয় মসলা ব্যবহার বন্ধ করতে পারবেন, এমন প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত থেকে আমরা পিঁয়াজ আমদানি করছি। রসুন-মসলাপাতি, আদা; ভারত থেকে যা কিছু আসছে তাদের কারও রান্নাঘরে যেন এসব মসলা দেখা না যায়। তাদের মসলা ছাড়া রান্না করে খেতে হবে। এটা তারা খেতে পারবেন কি না সেই জবাবটা তাদের দিতে হবে। বিএনপি নেতাদের পেলে তাদের বউদের শাড়ির কথা আর মসলার কথা বলবেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশে কিছু আঁতেল আছে। বুদ্ধিজীবী। বুদ্ধি বেচে জীবিকা নির্বাহ করেন যিনি। বাংলাদেশে একটা কাণ্ড আমরা দেখি, অতি বাম, অতি ডান। স্বাভাবিকভাবে গণতান্ত্রিক ধারাটা তারা পছন্দ করেন না। তিনি বলেন, আজকের যে দলটি বড় বড় কথা বলে, ২৫ মার্চ আওয়ামী লীগের সবাই পালিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে যুদ্ধ পরিচালনা করল। শুধু যুদ্ধ পরিচালনা নয়, সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা হয়। বিভিন্ন সেক্টরে বাংলাদেশকে ভাগ করা হয়। এক একটা সেক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেক্টরের যিনি দায়িত্ব ছিলেন তিনি আহত হওয়ার পর জিয়াউর রহমান দায়িত্ব পায়, জিয়াউর রহমান একটা বেতনভুক কর্মচারী হিসেবে কাজ করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বেতনভুক কর্মচারী ছিল জিয়াউর রহমান। এই কথা নিশ্চয়ই তাদের ভুলে গেলে চলবে না। এটাও ভুললে চলবে না যে, স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন মেজর। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা স্বাধীনতার ৫৩ বছর পার করেছি। ৫৩ বছরের মধ্যে ২৯টা বছর এই জাতির দুর্ভাগ্যের বছর। এ দেশের মানুষ ছিল শোষিত-বঞ্চিত। সেই জাতিকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে, মুক্তিযুদ্ধ করে, স্বাধীনতার বিজয় এনে দেওয়া একমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো বলিষ্ঠ নেতৃত্বদানকারীর জন্য সম্ভব। ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করার পর এ দেশে ইতিহাস বিকৃতির পালা দেখেছি। তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের জন্ম হলো কলকাতায়। ভারত-পাকিস্তান যখন বিভক্ত হয়, তখন তারা কিন্তু পূর্ব বাংলায় আসেনি, তারা করাচিতে গিয়েছিল। জিয়াউর রহমান সেখানে পড়াশোনা করে। সেখানেই আর্মিতে যোগ দেয়। সেখান থেকে সামরিক অফিসার হিসেবে পূর্ব বাংলায় এসেছিল দায়িত্ব পালন করতে। এটাই হলো বাস্তবতা। কিন্তু তার মনে তো পাকিস্তানটাই রয়ে গেছে। তার প্রমাণও আছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমান মেজর থেকে মেজর জেনারেল হলো, এই প্রমোশনগুলা একে একে কে দিয়েছে। এটাও তো আওয়ামী লীগ সরকার দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব দিয়েছেন। এই অকৃতজ্ঞরা সেটাও ভুলে যায়।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আবদুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, দলের স্বাস্থ্য সম্পাদক ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এ মান্নান কচি প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ ও উপ প্রচার সম্পাদক সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম।

নিউইয়র্কে ব্যারিস্টার সুমনের সংবর্ধনা : ফেরত দিচ্ছি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীন কার্ড; যতদিন এমপি থাকবো, আমেরিকা ও ঢাকায় কোন সম্পদের মালিক হবো না

নিউইয়র্ক ডেস্কঃ নিউইয়র্কে ব্যারিস্টার সাইয়্যেদুল হক সুমন এমপি তার সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিলে বলেছেন, যতদিন এমপি থাকবো, আমেরিকা ও ঢাকায় কোন সম্পদের মালিক হবো না। আমার কিংবা আমার স্ত্রীর নামে কোন সম্পদের সন্ধান পেলে আপনারা তা ফেইসবুকে দিয়ে দেবেন। তিনি বলেন এবারই ইমিগ্রান্ট হিসেবে আমেরিকায় আমার শেষ আসা। ফেরত দিচ্ছি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীন কার্ড। স্থানীয় সময় ২০ মার্চ বুধবার সন্ধ্যায় কুইন্স প্যালেসে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার সাইয়্যেদুল হক সুমন এসব কথা বলেন।
আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ও জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম ও আয়োজক কমিটির সদস্য জামাল হুসাইনের পরিচালনায় এবং ব্রঙ্কস কমিউনিটি বোর্ড ৯ এর চেয়ারম্যান ও আয়োজক কমিটির আহŸায়ক মোহাম্মদ এন মজুমদারের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে সার্বিক তত্ত¡াবধানে ছিলেন এম উদ্দিন আলমগীর ও মিজানুর রহমান শেফাজ।
অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা সাইফুল আলম সিদ্দিকি। ইফতার মাহফিলে কমিউনিটি, দেশ, জাতি ও বিশ্ব মানবতার কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এটর্নী এইচ ব্রæশ ফিসার, রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর নুরুল আজিম, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট এম আজিজ, শেফ মো. খলিলুর রহমান, টাইম টিভির সিইও আবু তাহের প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বাংলাদেশের তরুণ আইনজীবী ও সমাজকর্মী ব্যারিস্টার সাইয়্যেদুল হক সুমন দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। জানান এলাকার উন্নয়নসহ তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা।
অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার সাইয়্যেদুল হক সুমনকে ফুলেল শুভেচ্ছা হয়। তিনি আয়োজকদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সব সময় তার এলাকাসহ বাংলাদেশের দরিদ্র-অসহায়দের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

মমতাকে কুরুচিকর ভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ! বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শো-কজ নোটিস ধরালেন দিলীপকে

দিলীপের মন্তব্যের প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল। বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দিলীপের বিরুদ্ধে সরাসরি আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার এই ঘটনার নিন্দা করে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফ থেকে শো-কজ় নোটিস ধরানো হল দিলীপকে। যত দ্রæত সম্ভব এ হেন আচরণের ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে দলের তরফে।
বিজেপির মহাসচিব অরুণ সিংহের স্বাক্ষরিত ওই শো-কজ় নোটিসে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি দিলীপের মন্তব্যের নিন্দা করে বলা হয়েছে, “মাননীয় দিলীপ ঘোষ, আপনার আজকের বক্তব্য অশোভনীয় এবং অসংসদীয়। ভারতীয় জনতা পার্টির নীতির পরিপন্থীও। দল এই বক্তব্যের নিন্দা করছে। সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নড্ডার নির্দেশানুসারে আপনি যত দ্রæত সম্ভব আপনার আচরণের ব্যাখ্যা দিন।”
দুর্গাপুর শহরে প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়ে দিলীপ মঙ্গলবার সকালে মমতাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ। এলাকায় স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রাতর্ভ্রমণের সময় তাঁর প্রতিদ্ব›দ্বী তৃণমূলের প্রার্থী কীর্তি আজাদকে আক্রমণ করার পাশাপাশি মমতাকেও আক্রমণ করেন দিলীপ। তিনি বলেন, ‘‘বিহার, ইউপি থেকে দিদি গোয়াতে গিয়ে বলেন গোয়ার মেয়ে। ত্রিপুরাতে গিয়ে বলেন ত্রিপুরার মেয়ে।’’ এর পরেই তিনি মমতার উদ্দেশে কুরুচিকর ভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ।
দিলীপের মন্তব্যের নিন্দা করা হয় তৃণমূলের তরফ থেকে। মমতাকে নিয়ে দিলীপের মন্তব্যের প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল। বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দিলীপের বিরুদ্ধে সরাসরি আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর অফিস সূত্রে খবর, জেলাশাসকের কাছ থেকে ওই বিষয়ে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। রিপোর্ট এলে তা দিল্লিতে কমিশনের দফতরে পাঠানো হবে। কমিশন খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত জানাবে।

নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্ক কন্স্যুলেটে অতিথিবর্গের সাথে কন্সাল জেনারেলসহ কূটনীতিকরা।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে ২৬ মার্চ একটি অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয় এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সকল শহিদ সদস্য, ৭১-এর সকল শহিদ, শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, শহিদ বুদ্ধিজীবী ও জাতীয় চার নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
কনসাল জেনারেল মো. নাজমুল হুদা তাঁর স্বগতিক বক্তব্যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু সম্মাননাপ্রাপ্ত যুক্তরাষ্টের নাগরিক লিয়ার লেভিন, সিটি মেয়রের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিশনার দিলীপ চৌহান ও বিচারপতি সোমা সাইদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মহাহিসাব নীরিক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সকল শহিদ সদস্য, জাতীয় চারনেতা, ৭১-এর সকল শহিদ, শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ ও শহিদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং দেশের অব্যাহত শান্তি ও অগ্রগতির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

‘তুই আমায় ধর্ষণ করবি, ভাবতেই পারছি না’

ভারতীয় অভিনেত্রী জোজো মুখোপাধ্যায়, গানের দুনিয়ায় তিনি মিস জোজো নামে বেশ জনপ্রিয়। ভারতীয় এই শিল্পী স¤প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।
অতীতের স্মৃতিচারণ করে অভিনেত্রী বলেন, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অভিনয়ের জন্য অনেক কিছুই করতে হয়, সেটা একদম পরিষ্কার।
অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরীর সঙ্গে এক দৃশ্যের কথা বর্ণনা করতে গিয়েই হাসতে হাসতে অভিনেত্রী বলেন, ‘প্রভাত দার সিনেমা তো, বুঝতেই পারছেন। টোটা দা আমায় পুরো কাঁধে তুলে ঘোরাবে, এমন একটা দৃশ্য। বর্তমান সময়ে সেই দৃশ্যকে পুরো ক্লাইম্যাক্স হিসেবে বর্ণনা করা যায়।
তিনি আরও বলেন, আর টোটা ছিল আমার খুব ভালো বন্ধু। আমি একটা পোড়া বাড়িতে দৌড়াচ্ছিলাম। তখন অনেক শট বাতিল হয়ে যায়। তখন প্রভাত দা খুব রেগে যান। খুব বকা-ঝকা করেন। টোটা তখন ভয়ে ভয়ে আমাকে বলছিল, জোজো সিরিয়াস হ। আমি তখন বললাম আরও সিরিয়াস হতে হবে। তুই আমায় ধর্ষণ করবি? আমি ভাবতেই পারছি না।

আরও এক অভিনেত্রীর বিয়ের খবরে সরগরম বলিউড

বিনোদন ডেস্ক : গত কয়েক দিন ধরেই বলিউডে জল্পনা জারি রয়েছে অভিনেত্রী তাপসী পান্নুর বিয়ে নিয়ে। সূত্রের খবর, গত ২৩ মার্চ উদয়পুরে প্রেমিক ম্যাথিয়াস বোয়ের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন তিনি। যদিও বিয়ের খবর নিয়ে এখনো জল্পনা জিইয়ে রেখেছেন তাপসী। এর মধ্যেই আরও এক অভিনেত্রীর বিয়ের খবরে সরগরম বলিউড। শোনা যাচ্ছে, ‘রং দে বসন্তী’ অভিনেতা সিদ্ধার্থের সঙ্গে সাত পাক ঘুরেছেন অদিতি রাও হায়দারি।
সূত্রের খবর, তেলেঙ্গনার রঙ্গনয়কস্বামী মন্দিরেই বিয়ে সেরেছেন যুগল। তবে তাদের যে পুরোহিত বিয়ে দিয়েছেন তাকে নিয়ে আসা হয় তামিলনাড়ু থেকে। যদিও অদিতি বা সিদ্ধার্থ, কেউই বিয়ে নিয়ে এখনও মুখ খোলেননি।
সিদ্ধার্থ ও অদিতি দুজনেরই এটা দ্বিতীয় বিয়ে। ২০০৩ সালে ছোটবেলার বান্ধবী মেঘনাকে বিয়ে করেছিলেন সিদ্ধার্থ। দীর্ঘস্থায়ী হয়নি সেই বিয়ে। তিন বছরের মধ্যেই ভাঙে বিয়ে। ২০০৭ সালে আইনত বিবাহবিচ্ছেদ হয় সিদ্ধার্থের। অদিতির গল্পটাও খানিক এক রকমের। মাত্র ২১ বছরেই উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে সত্যদীপ মিশ্রের সঙ্গে বিয়ে হয় অদিতির। তবে চার বছর পর বিয়ে ভাঙে নায়িকার। ২০১৩ সালে আলাদা হন দুজনে। তার প্রায় ১১ বছর বাদে ফের বিয়ের পিঁড়িতে অদিতি।
২০২১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দক্ষিণী ছবি ‘মহা সমুদ্রম’-এর সেটে আলাপ অদিতি ও সিদ্ধার্থের। ছবির সেট থেকেই তাদের বন্ধুত্ব, তার পর প্রেম। সমাজমাধ্যমে আদুরে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করলেও নিজেদের সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি দুজনের কেউ-ই। অদিতির জন্মদিনে অভিনেত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন সিদ্ধার্থ। সেই পোস্টে অদিতিকে ‘প্রিন্সেস অব হার্ট’ বলেও সম্বোধন করেন তিনি। মায়ানগরীতে ডেটেও যেতে দেখা গিয়েছে চর্চিত যুগলকে। রেস্তোরাঁ থেকে বেরিয়ে আলোকচিত্রীদের ক্যামেরায় বহু বার ধরা পড়েন অদিতি ও সিদ্ধার্থ। জনসমক্ষে প্রেমের ইস্তেহার না দিলেও ক্যামেরা দেখে লুকিয়ে পড়েননি কখনোই। তবে বিয়েটা হঠাৎ এমন চুপিসারে সারলেন কেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

টাইটানিকে রোজকে বাঁচানো সেই দরজা নিলামে, দাম কত?

বিনোদন ডেস্ক : ১৯৯৭ সালে পরিচালক জেমস ক্যামেরন তৈরি করেছিলেন টাইটানিক সিনেমা। সেই সিনেমা নিয়ে মানুষের আগ্রহের যেন এখনো কমতি নেই। সিনেমার শেষের দিকে নায়ক রোজকে জাহাজের একটি ভাঙা দরজার ওপর রেখে নিজে বরফ শীতল পানিতে ভেসেছিলেন। সেই দরজা এবার উঠেছে নিলামে।
মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, ৭ লাখ ১৮ হাজার ৭৫০ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছে দরজাটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য ৭ কোটি ৯০ লাখ টাকারও বেশি।
মূলত ১৯১২ সালে ডুবে যাওয়া টাইটানিক জাহাজের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয় টাইটানিক সিনেমা। আটলান্টিক সাগরে দুর্ঘটনায় তলিয়ে যাওয়া সেই টাইটানিকে দেড় হাজারের বেশি যাত্রী ও ক্রু প্রাণ হারিয়েছিলেন।
সিনেমায় কাল্পনিক চরিত্র রোজের ভূমিকায় অভিনয় করেন ব্রিটিশ অভিনেত্রী কেট উইনসলেট। আর ট্র্যাজেডির শিকার নায়ক জ্যাকের ভূমিকায় ছিলেন হলিউড অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও।

একাত্তরে নারীর আত্মত্যাগের ইতিহাস এখনও অ-লেখা

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীঃ একাত্তরে নির্যাতিত নারীদের বীরাঙ্গনা উপাধি যারা দিয়েছিলেন, তাদের আন্তরিকতায় কোনো ত্রুটি ছিল না। তারা আশা করেছিলেন, ওই পরিচয় গৌরব বহন করবে। সে-আশা পুরোপুরি বিফলে গেছে, বীরাঙ্গনা পরিচয় দুঃসহ বোঝায় পরিণত হয়েছিল। উপাধি বহনকারীরা দেখেছেন শিরস্ত্রাণটি কণ্টকশোভিত। ওটি ফেলে দিতে পারলে তারা বাঁচেন। সমাজ তো বটেই, অতি আপনজনও এই মেয়েদের পদে পদে অপমানিত করেছে। কটুবাক্য, অশ্লীল মন্তব্য, হাসিঠাট্টাÑ কোনো কিছু বাদ রাখেনি। অবজ্ঞা, উপেক্ষা তারা সহ্য করতে পারতেন; সার্বক্ষণিক সরব ও নীরব অপমান সহ্য করা কঠিন হয়েছে।
একাত্তরে তারা পালাতে চেয়েছেন। একাত্তরের পরেও লুকিয়ে থাকতে হয়েছে, পালাতেও হয়েছে। পরিবারে আশ্রয় পাননি অনেকে, যারা পেয়েছেন তারা সম্মান পাননি। পালিয়ে শহরে চলে এসেছেন, কেউ চিনবে নাÑ এমন জায়গা খুঁজেছেন; চেয়েছেন আত্মপরিচয় পুরোপুরি লুপ্ত করে দিতে। ‘দেশান্তরিত’ হয়েছেন তারা। ভিখিরি হয়েছেন কেউ; কেউ কাজ নিয়েছেন ভৃত্যের, কেউবা আশ্রয় নিয়েছেন গার্মেন্টসে। কেউ কেউ হয়তো আত্মহত্যাই করেছিলেন, যাদের খবর আমরা রাখি না। নির্যাতনের সময়েও ‘সাহসী’ মেয়েদের কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন মুক্তির উপায় হিসেবে। যারা পারেননি তাদের বহন করতে হয়েছে অভিশপ্ত জীবনের গøানি।
কেন এমনটা ঘটল? মুক্তিযুদ্ধ তো আমাদের অসামান্য সম্মান এনে দিয়েছিল। সে সম্মান কেন আমরা ধরে রাখতে পারলাম না? কারণ হলো এই যে, সম্মানকে আমরা ভাগাভাগি করে নিতে পারিনি। গৌরব কুক্ষিগত করে ফেলতে চেয়েছে অল্প কিছু মানুষ, যারা ক্ষমতাবান ও সুযোগপ্রাপ্ত। কাজটি করার প্রক্রিয়াতে তারা আচার-আচরণ দ্বারা অসম্মানিত করেছে নিজেদের, অসম্মান বয়ে নিয়ে এসেছে গোটা দেশের জন্য।
নির্যাতিত মেয়েরা কিন্তু সম্মান চাননি, গৌরব তাদের কাঙ্ক্ষিত ছিল না, তারা চেয়েছেন স্বাভাবিক জীবন। সে জীবন তারা পাননি। একাত্তরে পাননি, তারপরেও পাননি। হানাদারেরা সে সুযোগ তাদের দেয়নি। সুযোগ তারাও দেয়নি স্বাধীন বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় এসেছে। ব্যাপারটা তাহলে কী দাঁড়াল? দাঁড়াল এই যে, রাষ্ট্র ভেঙেছে কিন্তু ব্যবস্থার বদল হয়নি। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা আগের মতোই রয়ে গেছে। বরঞ্চ আরও খারাপ হয়েছে। আরও বেশি দুঃসহ হয়ে উঠেছে ব্যবস্থার নিপীড়ন। দু’দিক থেকে ঘটেছে ঘটনা। একদিকে স্বাধীনতা আগের তুলনায় বেশি করে স্বাধীন করে দিয়েছে ক্ষমতাবানদের। তারা সেই স্বাধীনতা ক্রমাগত বৃদ্ধি করেছে। বৃদ্ধি করার অর্থ দাঁড়িয়েছে বঞ্চিতদের বঞ্চিত করা। এদের বৃদ্ধিতে অন্যদের হ্রাস। অন্যদিকে অকল্পনীয় যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাপ্রাপ্তি যে আশার সৃষ্টি করেছিল, অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে সেটা বাস্তবায়িত হয়নি। আশাভঙ্গের বেদনা বঞ্চনার দুঃখে নতুন মাত্রা যোগ করে দিয়েছে।
ব্যবস্থাটা বৈষম্যমূলক। বৈষম্য পুরাতন। একাত্তরের হানাদারেরা সব বাঙালিকেই এক চোখে দেখত। ভাবত, তারা শত্রু। বাঙালিরাও এক হয়ে গিয়েছিল পাঞ্জাবিদের বিরুদ্ধে। সত্যি সত্যি এক হয়েছিল কি? না, হয়নি। হওয়া সম্ভব ছিল না। পার্থক্য ছিল হিন্দু-মুসলমানে, ধনী-গরিবে এবং নারী-পুরুষে। মেয়ে-পুরুষ সবাই পালিয়েছে, কিন্তু মেয়েদের পক্ষে পালানোটা কঠিন ছিল। অনেকেরই সন্তান ছিল এবং কেউই জানতেন না কোথায় যাবেন, কোন পথে যাবেন; প্রস্তুতি ছিল না কোনো প্রকারের। উল্টোদিকে পাকিস্তানি সারমেয়রা বিশেষভাবে খুঁজছিল মেয়েদেরকেই। পালের গোদা ব্যাঘ্রের ছদ্মবেশধারী সারমেয় লে. জে. নিয়াজি ছিল হানাদারের জন্য দৃষ্টান্ত ও অনুপ্রেরণা দানকারী। সে তার সৈন্যদের লেলিয়ে দিয়েছে এবং নিজেও একই কাজ করায় তৎপর থেকেছে। শুনতে পেয়েছি, ইরাকে নাকি আইএসের দুর্বৃত্তরা তবু ধর্ষণের একটি বিধিমালা প্রণয়ন করেছিল; পাকিস্তানি দুর্বৃত্তরা ছিল পুরোপুরি মুক্ত। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তারা ‘মুক্তি’ খুঁজত। আর খুঁজত সেয়ানা মেয়েদের।
নির্যাতিতদের কাহিনিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনা করার জন্য মূল্যবান তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে। সে ইতিহাস লিখিত হচ্ছে, হতেও থাকবে। এদের কাহিনি হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম। নির্যাতিত সবাই এখন বৃদ্ধা। অনেকে ইতোমধ্যে মারাও গেছেন। তারা একে একে চলে যাবেন, তাদের কাহিনিও হারিয়ে যাবে; সে জন্য কাহিনি সংগ্রহ করাটা জরুরি ছিল। এসব কাহিনি আরও অসংখ্য কাহিনির প্রতিচ্ছবি ও মুখপাত্র।
নির্যাতিত মেয়েরা এক রকম নন, প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব, কিন্তু নির্যাতন তাদেরকে এক জায়গায় নিয়ে এসেছে এবং তাদের ভিন্ন ভিন্ন কাহিনি একটি মহাকাহিনির অংশ হয়ে গেছে। এই মেয়েদের সঙ্গে আমাদের কোনোদিন দেখা হবে না, কিন্তু তারা সবাই আমাদেরই আপনজন এবং তাদের সবার মুখ মিলেমিশে যেন একটি মুখচ্ছবি, সেটি বাংলাদেশের। তাদের ওপর ওই যে নির্যাতন, বেনামে সেটা ছিল বাংলাদেশের সব মানুষের ওপরই নির্যাতন। পরবর্তী সময়ে তাদেরকে যে অবহেলা ও অপদস্থকরণ, সেটাও আমাদের ইতিহাসেরই অংশ। ইতিহাসটি অখণ্ড। সেটি প্রবলের অত্যাচারের; দুর্বলের ওপর। প্রবলের পক্ষে আছে রাষ্ট্র ও সমাজ; দুর্বলের পক্ষে কেউ নেই। দুর্বল একা। একাত্তরে দুর্বলেরা এক হয়েছিল, তারা হারিয়ে দিয়েছিল হানাদারদের; কিন্তু ব্যবস্থাটা তো বদলালো না এবং না-বদলানোর সুযোগ নিয়ে নতুন শাসকরা কর্তা হয়ে বসল। বঞ্চিতরা দেখল, তারা যেখানে ছিল সেখানেই রয়ে গেছে।
মুক্তিযুদ্ধে আমাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা অসম্ভব। আমরা বলি, ৩০ লাখ মানুষের প্রাণ এবং দুই লাখ নারীর ইজ্জতহানির বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছি। ‘বিনিময়’ কথাটা অন্যায় ও অসংগত। স্বাধীনতা ক্রয় করা হয়নি, এটি বিনিময়যোগ্য কোনো পণ্য নয়, স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করতে হয়েছে। এবং আত্মত্যাগ যারা করেছেন তাদের কয়েকজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বলা বাহুল্য, তারা নাম না-জানা লাখ লাখ মানুষের প্রতিনিধি। তারা কেউই বিত্তবান ছিলেন না। অধিকাংশই দরিদ্র। বাইরে কী ঘটছে সেটা তারা জানতেন না। শুনেছেনÑ কে রাজা হবেন, তা নিয়ে ঝগড়া চলছে। তাতে যে উলুখাগড়াদের প্রাণ যাবে, সেটা টের পেয়েছেন তখন, যখন যুদ্ধ এসে একেবারে ঘাড়ের ওপর হামলে পড়েছে। কেউ তাদের সতর্ক করে দেয়নি। বলেনি, কী ঘটতে যাচ্ছে; জানায়নি কী করণীয়। জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতাদের চরম ব্যর্থতা এখানে। যুদ্ধ শেষে অধিকাংশই আগের মতো বঞ্চিত রয়ে গেছেন। কারও কারও দুর্ভোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধ-পরবর্তী ৫৩ বছরের ইতিহাস তাদের দুর্ভোগ পোহানোর বিরামহীন ইতিহাস বৈ কি।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কখনোই পূর্ণাঙ্গ হবে না, যদি ৯ মাসের সঙ্গে পরবর্তী সময়ের দুর্ভোগের কাহিনিকেও যুক্ত না করা যায়। যারা মুক্তিযুদ্ধকে জানতে ও বুঝতে চাইবেন, যুদ্ধ নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সাহিত্য রচনা করতে উদ্যোগ নেবেন, তাদের অবশ্যই যেতে হবে এসব কাহিনির কাছে। মুক্তিযুদ্ধের ওপর অনেকেই লিখেছেন। আত্মকথনের অভাব নেই; ওই লোকেরা সবাই সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণির মানুষ, তাদের কাহিনি আত্মগৌরবের, সেখানে মুক্তিযুদ্ধের ছবি পাওয়া যাবে, কিন্তু বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবনে যুদ্ধ কী যন্ত্রণা নিয়ে এসেছিল; ৯ মাসে তাদের জীবনের ওপর দিয়ে কোন প্রলয় বয়ে গিয়েছিল, তার খবর পাওয়া যাবে নির্যাতিতদের ইতিহাস অনুসন্ধানে। আমাদের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের অধিকাংশ মানুষের কষ্ট। বিশেষ কষ্ট যুদ্ধবিধ্বস্ত নারীদের। তাদের অপমানে বাংলাদেশের সব মানুষ অপমানিত। অপমানটা একাত্তরে ঘটেছে, চলছে এখনও। আর সেটা করছে কে? করছে রাষ্ট্রীয় সামাজিক ব্যবস্থা। যে ব্যবস্থা মুক্তিযুদ্ধ ভাঙতে পারেনি।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সৌদি আরবের পরিবর্তন:তসলিমা নাসরিন

সৌদি আরবকে চূড়ান্ত রক্ষণশীল দেশ হিসেবেই মানুষ জানে। কিন্তু এই দেশটি সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো অবিশ্বাস্য আধুনিকতার দিকে হেঁটে যাচ্ছে। একটি অভিনব ঘটনা ঘটতে চলেছে সৌদি আরবে। যে দেশে শুধু চোখ ছাড়া মেয়েদের শরীরের সমস্ত অংশ আবৃত রাখা বাধ্যতামূলক, সে দেশে একটি মেয়ে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, যে প্রতিযোগিতায় হিজাব বা বোরখা বা নিকাব সব ফেলে দিয়ে মেয়েদের বিকিনি পরে মঞ্চে দাঁড়াতে হবে, যে মঞ্চে শরীরের মাপজোক চলবে। ছোটখাটো প্রতিযোগিতা নয় এটি, রীতিমতো মিস ইউনিভার্স হওয়ার বিরাট প্রতিযোগিতা। হ্যাঁ, মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে এবার সৌদি আরবের পতাকা হাতে দেখা যাবে ২৭ বছর বয়সী সৌদি কন্যা রুমি আলকাহতানিকে। সৌদি আরবের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও মেয়ে মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছেন। আমরা নিশ্চয়ই ভেবেছিলাম, আর যে দেশই অংশ নিক সুন্দরী প্রতিযোগিতায়, সৌদি আরব নেবে না। অথচ আমাদের স্তম্ভিত করে অনেক দেশই জবুথবু পড়ে আছে, আর রক্ষণশীলতার চাদর শূন্যে উড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে গিয়েছে সৌদি আরব। রুমি আলকাহতানি তাঁর ছবি পোস্ট করেছেন সামাজিক মাধ্যমে। অত্যন্ত আঁটোসাঁটো একটি অত্যাধুনিক ড্রেস পরা মেয়ে। হিজাব নেই, বোরখা নেই।
আমি অবশ্য সুন্দরী প্রতিযোগিতাগুলোকে আধুনিক প্রথা বলি না। শরীরের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, মুখ, বুক, কোমর, নিতম্ব, আর ঊরুর মাপ দিয়ে মেয়েদের বিচার করা পৃথিবীর বড় প্রাচীন প্রথা। শরীরের এসব মাপ এককালে বাজার থেকে ক্রীতদাসী কেনার জন্য দরকার পড়তো। নিষিদ্ধ পল্লীতে গিয়ে এমন মাপের মেয়ে খুঁজতো রসিক খদ্দেররা। মেয়েদের মস্তিষ্কহীন বস্তু ভাবার জন্য সুন্দরী প্রতিযোগিতাগুলো বড় ভূমিকা পালন করে আসছে। শরীরই যেন মেয়েদের সবচেয়ে বড় সম্পদ, সৌন্দর্যই যেন তাদের বাঁচার রসদ। প্রচুর নিন্দের তীর গায়ে বিঁধেছে বলে এখন প্রতিযোগিতার কর্তারা সুন্দরীদের মস্তিষ্কের অস্তিত্বও পরখ করে দেখার আয়োজন করেছে। আজকাল বুদ্ধিদীপ্ত কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয় সুন্দরীদের দিকে, মস্তিষ্ক খাটিয়ে ভালো উত্তর দিতে পারলে ভালো মার্ক্স।
সৌদি আরবের পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো। নিওম নামে ২৫ হাজার বর্গ কিলোমিটারের একটা শহর গড়ে উঠছে সৌদি আরবে। নিওম হবে গোটা বিশ্বের প্রযুক্তি গবেষণার রাজধানী, সামাজিক বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত, ট্র্যাফিক মুক্ত, পুরোপুরি অপ্রচলিত শক্তিচালিত। নিওম ভবিষ্যৎ পৃথিবীর স্বপ্নদর্শী আর আত্মবিশ্বাসী মানুষের শহর। সৌদি আরবের প্রতিশ্রুতি, ‘নো রেস্ট্রিকশন, নো ডিভিশন, নো এক্সকিউজেস, এন্ডলেস পোটেনশিয়ালস।’ অর্থাৎ, কোনও বিধিনিষেধ নয়, কোনও বিভাজন নয়, কোনও অজুহাতও নয়। শুধু সীমাহীন সম্ভাবনার উত্তর-আধুনিক শহর হতে চলেছে নিওম। নিওমের প্রোমোশনাল ভিডিওয় হিজাববিহীন মেয়েরা স্পোর্টস ব্রা পরে শরীরচর্চা করছে, পুরুষের সঙ্গে সব রকম কাজে অংশগ্রহণ করছে। শুধু নিওম নয়, আরও অনেক অত্যাধুনিক শহর গড়ে উঠছে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে, যেসবের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার কথা ২০৩০ সালের মধ্যে।
তাবুক প্রদেশেই লোহিত সাগর প্রকল্প শুরু হয়ে গেছে। ৫০টি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে লোহিত সাগরের তীরবর্তী সৌদির পশ্চিম উপকূলে ২৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠছে এক পর্যটনকেন্দ্র। বিমানবন্দর, বিলাসবহুল রিসোর্ট, প্রবাল প্রাচীরে ঘেরা সমুদ্র উপকূল, দুর্ভেদ্য আগ্নেয়গিরি, পর্যটকদের মনোরঞ্জনের জন্য আমোদ প্রমোদের এলাহি আয়োজন। ওই পর্যটনকেন্দ্রে থাকছে না কোনও নিষেধের বেড়াজাল। গোঁড়া সৌদি সমাজে সৌদি- মেয়েদের জন্য থাকছে না কোনও নির্দিষ্ট পোশাক বিধি। মেয়েরা বিকিনি পরে সৈকতে হেঁটে বেড়াবে। অ্যালকোহল, সিনেমা, থিয়েটার কোনও কিছুতেই আর বাধা নেই। যাবতীয় নিষেধাজ্ঞাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে এমনই এক অত্যাধুনিক পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠছে খোদ সৌদি আরবে।
বেশ কয়েক বছর আগে ফরাসি ডিস্কো জকি ডেভিড গুয়েত্তার একটি কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল সৌদি আরবে। সেই সংগীত উৎসবে ছিল সৌদি যুবক-যুবতীদের ভিড়। ডেভিডের গানের সুরে একসঙ্গে নেচেছে তারা। প্রায়ই দেখতে পাই বিধি নিষেধের অচলায়তন ভেঙে বেরিয়ে আসছে সৌদি নর-নারী। যে দেশের আইনে অনাত্মীয় পুরুষের সঙ্গে বাড়ির বাইরে দেখা করাটাই মেয়েদের জন্য অপরাধ, সেখানে অচেনা অনাত্মীয় পুরুষের সঙ্গে মেয়েরা উদ্দাম নেচেছে। এ নিশ্চয়ই বিরাট এক পরিবর্তন। সৌদি আরবের অগ্রসরমানতার কৃতিত্ব যুবরাজ মুহম্মদ বিন সালমানের, এ ব্যাপারে কোনও সংশয় নেই।
বাংলাদেশ কোনও দিনই সৌদি আরবের মতো রক্ষণশীল দেশ ছিল না। কিন্তু সৌদি আরবের প্রভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি ধর্মান্ধ আর নারীবিদ্বেষী হয়ে উঠছে দেশটি। সৌদি আরব বাংলাদেশি মুসলমানদের কাছে পবিত্র একটি দেশ। তারা মনে করে, সৌদি আরবের মাটি পবিত্র, জল পবিত্র, খাদ্য পবিত্র, পোশাক পবিত্র, ভাষা পবিত্র, ধর্মীয় আচার আচরণ, নিয়ম কানুন পবিত্র। পবিত্র হওয়ার কারণ ওই মাটিতে নবীজী জন্মেছেন। ওই মাটিতে নবীজী ধর্ম প্রচার করেছেন। ওই মাটিতে নবীজী চিরনিদ্রায় শায়িত। অন্যদিকে, সৌদি আরবের মুসলমানদের কাছে বাংলাদেশ হত-দরিদ্রদের দেশ। তারা মনে করে, বাংলাদেশিরা ডার্টি মিসকিন, নোংরা ভিক্ষুক। বাংলাদেশিরা সৌদি লোকদের বাসা বাড়িতে দাস দাসীর কাজ করে, অথবা রাস্তাঘাটে কল কারখানায় শ্রমিকের কাজ করে। এদের নির্যাতন করা, ধর্ষণ করা, শোষণ করা সৌদি আরবে কোনও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় না। বাংলাদেশিরা গুরুতর অপরাধ করলে জনসমক্ষে তলোয়ারের কোপে মু-ু উড়িয়ে দিতে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ দ্বিধা করে না। সৌদি আরব মনে করে না মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই। সৌদি আরবের সঙ্গে বেশ কিছু মুসলিম দেশের সাপে নেউলে সম্পর্ক। বিশ্বের নামি দামি ইহুদি নাসারাদের দেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। সৌদি আরব মনে না করলেও বাংলাদেশের মুসলমানরা মনে করে মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই। মনে করে সৌদি আরব তাদের সবচেয়ে বড় বন্ধু। বাংলাদেশে ইসলামায়ন হওয়া, তার ওপর কট্টর সালাফি আর ওয়াহাবি মতবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে সৌদি আরবের ভূমিকা নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশি মুসলমানদের বিশ্বাস আর বাস্তবতা দুটো দুরকম। বিশ্বাস বলে সৌদি আরব বন্ধু, কিন্তু বিপদে পড়লে সৌদি আরব নয়, আশ্রয় দেয় ইহুদি নাসারারা, যাদের তারা শত্রু বলে মনে করে তারা, তাদের দেশ।
আমি ভাবছি, বাংলাদেশের যে মেয়েরা সৌদি মেয়েদের মতো কালো বোরখায় সারা শরীর ঢেকে রাখে, হাত মোজা আর পা মোজাও পরে, সৌদি আরবকে সকল দেশের সেরা দেশ বলে মনে করে, সৌদি সংস্কৃতিকে সকল সংস্কৃতির সেরা সংস্কৃতি বলে মনে করে, তারা কি দেখছে সেই দেশের পক্ষ থেকে, সেই দেশের পতাকা হাতে নিয়ে, সেই দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় যাওয়া রুমি আলকাহতানির পোশাক? রুমি তো তাঁর স্বদেশের পোশাককে আদর্শ পোশাক বলে ভাবছে না, তাঁর দেশের সংস্কৃতিকে আদর্শ সংস্কৃতি বলে ভাবছে না। তাঁর যে পোশাক পরতে ইচ্ছে করে, সে পোশাক সে পরেছে। সৌদি আরবের লক্ষ লক্ষ মেয়ে চায় না বোরখা পরতে, দেশের বাইরে বেরোতে গেলে পুরুষ-অভিভাবকের অনুমতি নেওয়ার যে বিধান রয়েছে-চায় না সেই বিধান মানতে, সৌদি মেয়েরা সিনেমা থিয়েটারে যেতে চায়, বারে যেতে চায়, গাড়ি চালাতে চায়, মদ্যপান করতে চায়, সংগীতানুষ্ঠানে গিয়ে পুরুষ বন্ধুদের সঙ্গে নাচতে চায়। পৃথিবীর যে কোনও স্বাধীনচেতা মেয়ে যা চায়, সৌদি আরবের স্বাধীনচেতা মেয়েরাও তা-ই চায়। সৌদি মেয়েদের মধ্যে ধর্ম মানে যেমন আছে, ধর্ম মানে না-ও আছে। ধর্ম মানলে স্বাধীনতা বিসর্জন দিতে হয় বলে তারা মনে করে না। শুধু সৌদি মেয়েরাই নয়, বিশ্বের অনেক ধার্মিক মেয়েই মনে করে ধর্ম মানলে স্বাধীনতা বিসর্জন দিতে হয় না। অনেক ধার্মিক মেয়েই মনে করে ধর্ম মানলে কোনও নির্দিষ্ট পোশাক গায়ে চড়াতে হয় না। ধর্মবিশ্বাসের কোনও পোস্টার থাকা উচিত নয়। বিশ্বাস অন্তরে থাকে, বাহিরে নয়। বাহিরে যেটি থাকে সেটি বিশ্বাস নয়, সেটি দেখনদারি। বাংলাদেশে এই দেখনদারি পোশাক এত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে যে, আশঙ্কা হয় এই পোশাকটি আবার সাধু সাজার পোশাক হয়ে যাচ্ছে না তো! ফেসবুকে সেদিন লক্ষ্য করলাম, নিকাবে মুখ ঢেকে মেয়েরা টাকার বিনিময় শরীর বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। পর্দার আড়ালে থেকে সমাজকে ধোঁকা দেওয়া সহজ বলেই এই পথ তারা বেছে নিয়েছে। বোরখা বাংলাদেশের মেয়েদের পোশাক নয়। হিজাবও বাংলাদেশের মেয়েদের পোশাক নয়। এগুলো যেসব দেশের পোশাক, সেসব দেশের মেয়েরা ছুঁড়ে ফেলে দিতে চাইছে এসব বাড়তি ঝামেলা। হতভাগা বাংলাদেশ। শখ করে মেয়েদের গায়ে চাপিয়ে দিচ্ছে বোঝা। কেউ আবার শখ করে বোঝাকে লুফে নিচ্ছে, এই আশায় যে এই বোরখা বা হিজাব তাকে পুলসেরাত পার করাবে, তাকে জান্নাতে নেবে। নেকি কামাই করার ধুম লেগেছে। চিত্রনায়িকা শাবানার কথাই ভাবছিলাম, নিজের সন্তানদের আমেরিকার বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেন, আর নেকি কামাতে অন্যের সন্তানদের জন্য দেশের মাটিতে দিব্যি মাদ্রাসা বানিয়ে দিলেন। মাদ্রাসার ভবিষ্যৎ যে ভালো নয় তা শাবানা জানেন বলেই নিজের সন্তানদের কাউকেই মাদ্রাসায় পড়াননি। অন্যের ঘাড়ে চড়ে পুলসেরাত পার হওয়ার দুষ্ট ইচ্ছেগুলো ভদ্রমহিলা আর ভদ্রলোকেরা যদি পরিত্যাগ করতেন, জাতির উপকার হতো।
লেখক : নির্বাসিত লেখিকা