Home Blog Page 6

দেশে মাসব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু ১ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

১ ডিসেম্বর থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে মাসব্যাপী বা বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক উৎসব। এ উৎসবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য-সংগীতের পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী লোকজ সংস্কৃতি এবং তরুণ প্রজন্মের ব্যান্ড সংগীতকে একমঞ্চে তুলে ধরা হবে।

শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্কের বৈশাখী মঞ্চে জেলা প্রশাসন আয়োজিত নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী ‘লোকজ সাংস্কৃতিক মেলা’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এসব কথা বলেন।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের গ্রাম ও শহরে হারিয়ে যেতে বসা সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো পুনরুজ্জীবিত করা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও বিকশিত ও গতিশীল করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। একটি গাছ যেমন পরিচর্যা, সার-পানি ও সুরক্ষা ছাড়া বড় হতে পারে না, তেমনি পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া সংস্কৃতির বিকাশ সম্ভব নয়।’

ময়মনসিংহে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী ‘লোকজ সাংস্কৃতিক মেলা’

ময়মনসিংহে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী ‘লোকজ সাংস্কৃতিক মেলা’

বর্তমান সংস্কৃতি খাতের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি বর্তমানে একটি বিপন্ন সময় পার করছে। পাহাড়, সমতলের সংস্কৃতিসহ দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের যথাযথ পরিচর্যা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আমাদের সংগীত, নৃত্য, কবিতা ও লোকজ সংস্কৃতির অনেক ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।

জাপানে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাপানে কেক কাটা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার জাপান যুবদলের উদ্যোগে আনন্দঘন পরিবেশে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের সার্বিক আয়োজনে ছিলেন জাপান যুবদলের রাজিব জামান, মাইনুল ইসলাম সোহেল, গিয়াস উদ্দিন রনি, নজরুল ইসলাম রিজভী ও বাবলু জিয়া মৃধাসহ সংগঠনের পদপ্রত্যাশী নেতারা।

অনুষ্ঠানে অতিথি ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাপান বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক শাহাদাত হোসেন রুদ্র, কানসাই বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক খন্দকার এবং যুবদল নেতা এস এম ইমরান হোসেন। এ ছাড়া সংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে যুবদলের ইতিহাস, আন্দোলন-সংগ্রামে সংগঠনটির অবদান, সাংগঠনিক ঐক্য জোরদার এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা প্রবাসে যুবদলকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও দলের সার্বিক কল্যাণ এবং সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। পরে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়।

তবুও জয়ের ছবি আঁকছে বাংলাদেশ

০

টানা তৃতীয় দিন আলোস্বল্পতায় আগেভাগে খেলা বন্ধ হওয়ার পরও ম্যাড়মেড়ে ড্র নয়, রোমাঞ্চকর পরিণতির দিকেই এগোচ্ছে ঢাকা টেস্ট। বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে কত রান করলে জিততে পারবে, সে প্রশ্ন বড় হয়ে উঠেছে। অফ স্পিনার নাঈম হাসানের মতে, ২০০ রানের টার্গেট দিতে পারলে জেতা সম্ভব। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ১০৬ রানের লিড বাংলাদেশের। নাঈমদের প্রত্যাশা মতো আজ চতুর্থ দিন অবশিষ্ট চার উইকেটে আরও ৯৪ রান করলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে টাইগাররা। উইকেটে যেভাবে স্পিন ধরছে, তাতে ওই রান করা খুব কঠিন। কারণ জাকের আলী ছাড়া স্বাগতিকদের স্বীকৃত কোনো ব্যাটার আর নেই। মিরপুরের ঘূর্ণি ফাঁদে বোলারদের নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসকে ৭৯ রান থেকে ১৭৩ রানে টেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। কারণ উইন্ডিজ স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান ও রোস্টন চেজ দারুণ বোলিং করছেন। গতকাল শুক্রবার বোলিংয়ে ছন্দ পেয়ে যাওয়ায় ক্যারিবীয় শিবিরে আত্মবিশ্বাসের পারদ ওপরে উঠতে শুরু করেছে। তাদের সহকারী কোচ আবার দিনের শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বাংলাদেশকে দ্রুত অলআউট করে ১২৫ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে চান তারা।

এ বছর দেশের মাটিতে স্পোর্টিং কন্ডিশনে সাদা ও লাল বলের ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। ভালো উইকেটে খেলে অস্ট্রেলিয়ার কাছে টি২০ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়া ছাড়া বাকি সব সিরিজে সফল ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। ওই পরিকল্পনা থেকে সরে গিয়ে ঢাকা টেস্ট খেলা হচ্ছে স্পিন উইকেটে। এই কন্ডিশনে খেলতে নেমে খেই হারান টাইগার ব্যাটাররা। সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরির সুবাদে ২৭২ রান করা সম্ভব হয় প্রথম ইনিংসে। টসে জিতে আগে ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত দারুণ ছিল। পরে ব্যাটিং করতে হলে বিপদ ছিল শান্তদের। কারণ উইন্ডিজ স্পিন ইউনিট যথেষ্ট কার্যকর।

বাংলাদেশের বোলিং ইউনিটও পিছিয়ে নেই। উইন্ডিজকে ২৪৫ রানে অলআউট করা সে প্রমাণ দেয়। চার উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে তৃতীয় দিন ব্যাট করতে নামে সফরকারীরা। তারা পঞ্চম উইকেট হারায় দলের ১৬২ রানে। জাস্টিন গ্রেভস ও রোস্টন চেজ ৯৯ বলে ৫১ রানের জুটি গড়ে লড়াই জমান। জশুয়া বিশপ কিছুটা এগিয়ে নেওয়ায় ২৪৫ রানে পৌঁছায় দলীয় সংগ্রহ। ওই রানে তিন উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা। ১০.৫ ওভারে ৩৩ রানে চার উইকেট নেন নাঈম। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। উইন্ডিজ ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ৫৪, ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল ৫৬, জাস্টিন গ্রেভস ৪৬ ও রোস্টন চেজ হার না মানা ৪৩ রান করেন। তবে মুমিনুল হক দুটি ক্যাচ না ফেললে ক্যারিবীয়রা আরও আগে অলআউট হতে পারত। ২৭ রানে চেজ আর ১১ রানে জশুয়াকে জীবন দেন তিনি।

বাংলাদেশ ২৭ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে ভুল করতে থাকে। দলীয় ১ রানে ওপেনিং জুটি ভাঙে। জোসেফকে উইকেট দেন তানজিদ হাসান। আরেক ওপেনার সাদমান আউট হন ১৩ রানে। রোস্টনের অফ স্পিন বলে ‘চেজ’ করতে পারেননি তিন-তিনজন ব্যাটার। সাদমান বোল্ড, শান্ত এলবিডব্লিউ আর তাওহীদ হৃদয় ক্যাচ আউট। প্রথম দুজন পার পেলেও সমালোচকদের কাঠগড়ায় হৃদয়। টানা দুই ইনিংসে বাজে শট খেলে বোলারকে উইকেট উপহার দিয়েছেন তিনি। বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যানের শিকার লিটন দাস ও মেহেদী মিরাজ। ৫৬ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে টালমাটাল হয় বাংলাদেশ। খেলা বন্ধ হওয়ার আগে মুমিনুলের কনকাশন বদলি জাকের আলী ও নাঈম সপ্তম উইকেটে অবিচ্ছিন্নভাবে ২৬ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় ঠেকান।

আলোস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার আগে জাকের ও নাঈম সমান ১৮ রান করেন। মূলত বৃষ্টি ও আলোস্বল্পতা বাঁচিয়ে দেয় বাংলাদেশকে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে টানা তিন দিন আলো কম থাকার কারণে খেলা বন্ধ করতে হয়েছে। প্রথম দুই দিনের চেয়ে তৃতীয় দিন কম ওভার খেলা হয়েছে। গতকাল দুই দল মিলে খেলেছে ৬৪ ওভার। তিন দিনে খেলা হয়েছে ২০৯ ওভার। ৬০ ওভার তিন বল কম খেলা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব আজ থাকবে না। সকাল থেকে খেলা হতে পারে ঝলমলে রোদে।

জামায়াত জোটের ঢাকা-খুলনা কুষ্টিয়া লংমার্চ আজ যাচ্ছেন না নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেন

গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারসহ সাত দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য আজ শনিবার ঢাকা থেকে খুলনা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চ করবে। লংমার্চটি রাজধানী থেকে শরীয়তপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট হয়ে যাবে।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চ করে জামায়াত জোট। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার জানান, আজ সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে সমাবেশ করে যাত্রা
করবে লংমার্চ।

গোপালগঞ্জ জেলা হয়ে গেলেও সেখানে সমাবেশ করবে না ১১ দল। প্রথম দুই লংমার্চে ১১ দলের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা অংশ নিয়েছিলেন। তৃতীয় লংমার্চে এ দুজনের কেউ যাচ্ছেন না। এনসিপি সূত্র জানিয়েছে, দলের প্রতিনিধি হিসেবে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব যাবেন। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহও যেতে পারেন। তবে তা গতকাল রাত পর্যন্ত নিশ্চিত
হওয়া যায়নি।

গোলাম পরওয়ার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে তৃতীয় দফার লংমার্চ হবে। ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪১০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এই লংমার্চ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় সকাল ৯টায়; বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়ে বেলা ১১টায়; খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বরে দুপুর সাড়ে ১২টায়, ফুলতলার বাসস্টান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে বেলা ২টা; যশোরের মুড়লীর মোড়ে বিকেল সাড়ে ৩টায়; ঝিনাইদহের বাস টার্মিনালে বিকেল ৫টায় পথসভা হবে। কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে জনসভা হবে রাত সাড়ে ৮টায়।

১১ দলের অন্য শরিকদের অংশগ্রহণ প্রশ্নে জামায়াত সেক্রেটারি বলেছেন, সব শরিক দল নিজ নিজ প্রস্তুতি নিচ্ছে। জামায়াত তার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সাত দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলা এবং সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রথম দাবি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন। তিনি আরও বলেন, ঢাকা ও বৃহত্তর ফরিদপুর এবং খুলনা বিভাগের ১৯টি জেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা লংমার্চে অংশ নেবেন। বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি বহরে যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। লংমার্চের কারণে মহাসড়কে সাধারণ মানুষের কিছু অসুবিধা হতে পারে। এ জন্য আগাম দুঃখ প্রকাশ করছি। মহাসড়কের এক পাশ ব্যবহার করে কর্মসূচি পরিচালনার চেষ্টা করব, যাতে ভোগান্তি কম হয়।

অর্ণবের রেশ না কাটতেই সাগরে নতুন লঘুচাপ আট বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমতে পারে তাপমাত্রা

অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানার দুই দিনের মাথায় বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন এলাকায় নতুন করে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সৃষ্টি হওয়া এই লঘুচাপ আরও ঘনীভূত হয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এটির প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা কমারও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বুধবার ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়। রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে আগের কয়েক দিনের তুলনায় তাপমাত্রাও কিছুটা কম ছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ ওমর ফারুক সমকালকে বলেন, আজ শনিবার থেকে দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তবে রবি ও সোমবার খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর থেকে বৃষ্টির প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে। পরে বর্ধিত দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমার আভাস রয়েছে। মূলত আগামী ৪ থেকে ৫ নভেম্বরের দিকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করলে রাত ও ভোরের দিকে শীত অনুভূত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী বা ঘনীভূত হয়ে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

আজ শনিবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এদিন সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আগামীকাল রোববার খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এদিন তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

সোমবার বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
মঙ্গলবার সারাদেশে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। আকাশ থাকবে আংশিক মেঘলা। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই সময়ের শেষভাগে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ আলোচনার দরজা খোলা রেখে যুদ্ধের প্রস্তুতি হরমুজে মাইনে আঘাত লেগে তেলের জাহাজে আগুন

এক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুপক্ষ থেকেই পরস্পরবিরোধী বার্তা এসেছে। এসব ডামাডোলে দুই দেশের মধ্যে আট মাস ধরে চলা যুদ্ধ আবারও বড় ধরনের সামরিক হামলার দিকে যাচ্ছে, নাকি শান্তিচুক্তির পথে এগোচ্ছে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে জানা গেছে খবরটি।

গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলা চালানোর যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে একই দিনে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন।

এদিকে এসবের মধ্যেই জানা যায়, গতকাল শুক্রবার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা আবারও তেহরান সফরে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা আলোচনা চালাচ্ছেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। আলজাজিরার খবর বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন একদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগের পথও খোলা রাখছে।

মধ্যপ্রাচ্যে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও গোলাবারুদের মজুত বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে থাকা কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি থেকে কিছু সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি সামরিক কার্গো বিমান দেশটির নেগেভ অঞ্চলের ওভদা ও নেভাতিম বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। এ ছাড়া আরও কিছু বিমান জর্ডান, সৌদি আরব ও কাতারে পাঠানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইরানে অনির্দিষ্টকাল ধরে চলা যুদ্ধের আশঙ্কা নেই। তাঁর বিশ্বাস, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবেন। ফক্স নিউজকে ভ্যান্স বলেন, ‘আমাদের আরও অনেক কাজ বাকি আছে। তবে আমি আপনাদের একটি বিষয় নিশ্চিত করে বলতে পারি, আরেকটি চিরস্থায়ী যুদ্ধ নিয়ে যদি কেউ উদ্বিগ্ন থাকেন, তাহলে জেনে রাখুন, ডোনাল্ড ট্রাম্প কখনোই এমন যুদ্ধ চলতে দেবেন না।’
এদিকে ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক পরিকল্পনাকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়াকে বরখাস্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

তেহরানে কাতারের প্রতিনিধি দল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থবির হয়ে পড়া আলোচনা আবার শুরু করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার সকালে কাতারের একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়িকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের চিঠি পাঠানোর খবর প্রসঙ্গে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, তেহরান ওই বার্তা পেয়েছে। তবে এখনও এর জবাব দেওয়া হয়নি।
এদিকে পৃথকভাবে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তেহরানে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে। সে বৈঠকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সম্ভাব্য আক্রমণ নিয়ে আলোচনা হয় গতকাল।

হরমুজে মাইন বিস্ফোরণ
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় মাইনে আঘাত লেগে চারটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এর এক দিন আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তারা ওই নৌপথের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো থেকে বাধা সরিয়ে জাহাজ চলাচলের পথ পরিষ্কার করেছে। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় অনুমোদনহীন দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ দিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টার সময় নিয়ম লঙ্ঘনকারী তিনটি তেলবাহী জাহাজ মাইনের আঘাতে বিস্ফোরিত হয় এবং আগুন ধরে যায়।’

পরে বৃহস্পতিবার ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, প্রণালির পূর্ব দিকে আরেকটি তেলবাহী জাহাজে আগুন লেগেছে। জাহাজটি ‘সীমাবদ্ধ ও বিপজ্জনক এলাকায়’ চলাচলের সময় মাইনে আঘাত পেয়েছিল।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম তিনটি জাহাজ তাদের সব রাডার ও নৌ চলাচল-সংক্রান্ত ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল। পাশাপাশি আইআরজিসির নৌবাহিনীর সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করেছিল তারা। তবে এসব ঘটনা ঠিক কখন ঘটেছে কিংবা জাহাজগুলো কোন দেশের পতাকা বহন করছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছে, ওমানের খাসাবের প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল বা ৪৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর তারা পেয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর সংস্থাটি জানায়, আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে এবং জাহাজের নাবিকরা নিরাপদে রয়েছেন।

তেলের দাম ফের বাড়ল
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার বিষয়ে হুতিদের নতুন দাবির পর গতকাল শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৬ দশমিক ৫৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ডিসেম্বর সরবরাহের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৩ দশমিক ৩৪ ডলারে পৌঁছেছে।

এইচএসসির ফল প্রকাশ সকাল ১১টায়

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে আজ শনিবার সকাল ১১টায়। শিক্ষামন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করবেন।

ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অনলাইন ও মুঠোফোনে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রকাশিত ফল দুটি ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। ওয়েবসাইট দুটি হলো eduboardresults.gov.bd (https://eduboardresults.gov.bd) এবং educationboardresults.gov.bd (https://educationboardresults.gov.bd)।

এ ছাড়া যেকোনো মোবাইল ফোন থেকে এসএমএস পাঠিয়েও ফল জানা যাবে। এ জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে HSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর এবং পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।

উদাহরণ হিসেবে ঢাকা বোর্ডের একজন পরীক্ষার্থীকে লিখতে হবে: HSC Dha 123456 2026।

ফল প্রকাশের পর উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা যাবে ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। এ জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনসংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

তাহসিফের মৃত্যু হত্যা মামলা করলেন বাবা

০

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করেছেন তার বাবা এনায়েতুল করিম। রাজধানীর উত্তরখান থানায় করা এ মামলায় তাহসিফের ব্যবসায়িক অংশীদার ও বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরে তাকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই এর একটি সূত্র সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করে।

মামলা, নির্বাচন স্থগিত: কোথায় যাচ্ছে বাংলাদেশ সোসাইটি?

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি। একসময় এ সংগঠন ছিল প্রবাসীদের ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা, সামাজিক মর্যাদা ও সম্মিলিত শক্তির প্রতীক। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরা, বিপদে প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা ছিল সংগঠনটিকে ঘিরে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে কি না, সে প্রশ্ন আজ আর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও সাংগঠনিক অনিয়মের অভিযোগ, মামলা এবং নির্বাচন স্থগিত হওয়ার ঘটনা সংগঠনটির নেতৃত্ব ও পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একটি প্রবাসী সংগঠনের নির্বাচনী প্রক্রিয়া আদালত পর্যন্ত গড়ালে তা শুধু একটি কমিটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বিষয় থাকে না; এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা, সদস্যদের আস্থা এবং বৃহত্তর বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রত্যাশা।
বাংলাদেশ সোসাইটির মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। কারণ, একটি সংগঠনের শক্তি তার কার্যালয়, সম্পদ কিংবা পদ-পদবিতে নয়; তার শক্তি সদস্যদের বিশ্বাসে। সেই বিশ্বাসে ফাটল ধরলে বড় নাম ও দীর্ঘ ইতিহাসও প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে পারে না।
যেকোনো গণতান্ত্রিক সংগঠনে নির্বাচন নিয়ে মতবিরোধ থাকতে পারে। প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, নেতৃত্বের হিসাব-নিকাশ থাকবে, কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তিও উঠতে পারে। এসব অস্বাভাবিক নয়। বরং স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতবিরোধই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করে।

কিন্তু মতবিরোধের নিষ্পত্তি যখন বারবার মামলা-মোকদ্দমার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন বুঝতে হবে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থায় কোথাও দুর্বলতা রয়েছে। সদস্যদের অভিযোগ শোনার কার্যকর ব্যবস্থা আছে কি না, নির্বাচনী বিধিমালা সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত কতটা স্বচ্ছ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা যাচ্ছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর জরুরি।
সর্বশেষ নির্বাচনের আগে সাংগঠনিক অনিয়মের অভিযোগে মামলা এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার ঘটনাও এসব প্রশ্ন সামনে এনেছে। তবে মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে প্রতিষ্ঠিত অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। একইভাবে, নির্বাচন স্থগিত হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ, আদালতের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য যাচাই করেই ঘটনার পূর্ণ চিত্র বোঝা সম্ভব।
তবু একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকেই যায়: একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের নির্বাচন নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তা কি সংগঠনের নিজস্ব বিধিবিধান ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়? কেন সদস্যদের আস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে, যেখানে আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়া নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংশয় দূর করা কঠিন হয়ে পড়ে?
মামলা করা প্রত্যেক সদস্যের আইনগত অধিকার। কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়াও অন্যায় নয়। কিন্তু বারবার আইনি বিরোধে জড়িয়ে পড়া যদি সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে, তাহলে নেতৃত্বকে নিজেদের দায়িত্ব ও সাংগঠনিক সংস্কৃতি নিয়ে আত্মসমালোচনা করতে হবে।
প্রবাসে বাংলাদেশ সোসাইটির পরিচিতি দীর্ঘদিনের। বহু মানুষ সংগঠনটিকে নিজেদের প্রতিষ্ঠান বলে মনে করেছেন। কিন্তু সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যে সংগঠনটির কার্যক্রম, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা এবং নির্বাচনী বিরোধ নিয়ে হতাশা তৈরি হলে তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।
প্রবাসীদের দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা কম নয়। অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতা, ভাষাগত বাধা, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, প্রবীণদের একাকিত্ব, নতুন প্রজন্মের সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে কমিউনিটি সংগঠনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ সোসাইটির মতো একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মানুষ কেবল নির্বাচন ও নেতৃত্বের খবর শুনতে চান না। তাঁরা জানতে চান, সংগঠনটি তাঁদের জন্য কী করছে, তাঁদের অর্থ ও সম্পদ কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং তাঁদের মতামতের মূল্য কতটা দেওয়া হচ্ছে।
সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচন ঘিরে বিরোধ যদি জনপরিসরে প্রধান আলোচ্য হয়ে ওঠে, তাহলে মূল সামাজিক উদ্দেশ্যগুলো আড়ালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সাধারণ সদস্যদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে সংগঠনটি জনকল্যাণের চেয়ে পদ-পদবি নিয়ে ব্যস্ত। এই ধারণা সত্য হোক বা ভুল, নেতৃত্বের দায়িত্ব হলো স্বচ্ছতা ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে তা দূর করা।
বিশ্বাস এক দিনে নষ্ট হয় না, আবার এক দিনেই ফিরেও আসে না। ধারাবাহিক জবাবদিহি, দৃশ্যমান জনকল্যাণমূলক কাজ এবং নিরপেক্ষ সাংগঠনিক আচরণের মধ্য দিয়েই তা পুনর্গঠন করতে হয়। প্রবাসী সংগঠনগুলোর নির্বাচনে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য কী—এ প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। নেতৃত্ব কি সংগঠনকে আরও কার্যকর করতে চান, নাকি নেতৃত্বের পদটিই হয়ে উঠেছে মূল আকর্ষণ?
যাঁরা নির্বাচনে অংশ নেন, তাঁদের সবার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা সমীচীন নয়। অনেকেই আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করতে চান। কিন্তু নির্বাচনী বিরোধ যখন সংগঠনের কার্যক্রমকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়, তখন ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে ওঠার দায় সবার ওপরই বর্তায়।
কোনো পক্ষের অভিযোগকে উপেক্ষা করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি প্রমাণ ছাড়া কাউকে অনিয়মের জন্য দায়ী করাও গ্রহণযোগ্য নয়। নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। আবার অভিযোগের নামে নির্বাচনকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখার পরিস্থিতিও কাম্য নয়। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা, স্পষ্ট নিয়ম এবং সবার জন্য সমান সুযোগ থাকা জরুরি।
বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তাই কাউকে ব্যক্তিগতভাবে জয়ী বা পরাজিত করার চেয়ে প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা তার বিশ্বাসযোগ্যতার অন্যতম ভিত্তি। বাংলাদেশ সোসাইটির মতো সদস্যনির্ভর সংগঠনের ক্ষেত্রে আয়-ব্যয়, সম্পদের ব্যবস্থাপনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পর্কে সদস্যদের জানার সুযোগ থাকা উচিত। নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ, স্বাধীন নিরীক্ষা, সদস্যদের কাছে হিসাব উপস্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের নথি সংরক্ষণ—এসব কোনো বিশেষ পক্ষের দাবি নয়; এগুলো সুশাসনের স্বাভাবিক অনুষঙ্গ।
যদি কোনো সদস্য আর্থিক বা সাংগঠনিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন, তাহলে সেই অভিযোগের উত্তর তথ্য-প্রমাণ দিয়ে দেওয়া উচিত। অভিযোগকারীকে প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা না করে তাঁর বক্তব্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একইভাবে, অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরও ন্যায্য অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। স্বচ্ছতা থাকলে গুজব ও সন্দেহের সুযোগ কমে। আর স্বচ্ছতা না থাকলে ছোট প্রশ্নও বড় বিরোধে রূপ নিতে পারে।
বাংলাদেশ সোসাইটির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচনী সংকটের সমাধানের পাশাপাশি সংগঠনের প্রতি সদস্যদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। এ জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি।
প্রথমত, আদালতের নির্দেশনা ও সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছ রূপরেখা প্রকাশ করতে হবে। নির্বাচন স্থগিতের কারণ, অভিযোগ নিষ্পত্তির পদ্ধতি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সদস্যদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
দ্বিতীয়ত, নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রার্থীদের মধ্যে মতবিনিময়, অভিযোগ পর্যালোচনা এবং বিধিমালার নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে বিরোধ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
তৃতীয়ত, সংগঠনের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে জবাবদিহি বাড়াতে হবে। সদস্যরা যেন নিয়মিতভাবে জানতে পারেন তাঁদের সংগঠন কী করছে, কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং কীভাবে সম্পদ পরিচালিত হচ্ছে।
চতুর্থত, নির্বাচনের বাইরেও সংগঠনকে সক্রিয় থাকতে হবে। নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, প্রবীণদের সহায়তা এবং প্রবাসীদের বাস্তব সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নেতৃত্বকে বুঝতে হবে যে সংগঠনের পদ সাময়িক, কিন্তু প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য দীর্ঘস্থায়ী। আজ যাঁরা নেতৃত্বে আছেন, কাল তাঁরা থাকবেন না। কিন্তু তাঁদের কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠানটি সম্মান অর্জন করবে, নাকি বিতর্কের মধ্যে আটকে থাকবে, তার প্রভাব দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে।
বাংলাদেশ সোসাইটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিজস্ব সম্পত্তি নয়। এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মিলিত উদ্যোগ, তাঁদের অংশগ্রহণ ও তাঁদের প্রত্যাশার প্রতিষ্ঠান। এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারও সদস্যদের। বারবার মামলা, নির্বাচনী অনিশ্চয়তা এবং নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের চিত্র যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে সংগঠনটির প্রতি মানুষের আগ্রহ ও আস্থা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সংকট মানেই শেষ নয়। আত্মসমালোচনা, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান আবারও তার মর্যাদা ফিরে পেতে পারে।
বাংলাদেশ সোসাইটির নেতৃত্ব ও সদস্যদের এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তাঁরা কি বিরোধের বৃত্তেই ঘুরতে থাকবেন, নাকি প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবেন? প্রবাসী বাংলাদেশিরা এমন একটি সংগঠন চান, যেখানে নির্বাচন হবে গণতান্ত্রিক, হিসাব থাকবে স্বচ্ছ, নেতৃত্ব থাকবে জবাবদিহির মধ্যে এবং সাধারণ সদস্যদের মতামত পাবে যথাযথ গুরুত্ব। তাঁরা এমন একটি বাংলাদেশ সোসাইটি চান, যার পরিচয় আদালতের মামলা কিংবা নির্বাচনী বিরোধ দিয়ে নয়, বরং প্রবাসীদের কল্যাণে তার অবদান দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হবে।
এখন সময় এসেছে পদ-পদবির রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার। কারণ, বাংলাদেশ সোসাইটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলে ক্ষতি শুধু একটি সংগঠনের হয় না; ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মিলিত উদ্যোগের প্রতি মানুষের আস্থাও। ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে শুধু অতীতের গৌরবের কথা বললে চলবে না। বর্তমানের সংকটের দায় স্বীকার করে ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর পরিবর্তন আনতে হবে। বাংলাদেশ সোসাইটির সামনে এখন সেই পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে।

জেএমসি’র ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার (জেএমসি) নিউইয়র্কে বাংলাদেশীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত শীর্ষ স্থানীয় মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। শুধু বাংলাদেশী মুসলিম নয়, অন্যান্য দেশের মুসলিম কমিউনিটির জন্য জেএমসি একটি আদর্শ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দিনে দিনে মূলধারাতেও বাড়ছে জেএমসি’র গুরুত্ব। আর মুসল্লীদের স্বার্থেই পরিধিও বাড়ছে জেএমসি ভবনের। এজন্যই জেএমসি’র তিনতলা ভবন চার তলায় পরিণত করা হচ্ছে। এজন্য চার মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বিশাল এই সম্প্রসারণ প্রকল্পের ৫০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সমাপ্ত হয়েছে। প্রকল্পের বাকী কাজ এগিয়ে চলছে এবং এই প্রকল্প শেষ করতে আরো দুই মিলিয়ন ডলার অর্থের প্রয়োজন। আর এই প্রয়োজন মেটাতেই আয়োজন করা হয় বিশেষ ফান্ডরেইজিং ডিনারের। এতে নগদ, চেক ও প্রতিশ্রুতি মিলিয়ে প্রায় এক মিলিয়ন ডলার সংগৃহীত হয়েছে। গত ২৪ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক লাগোর্ডিয়া এয়ারপোর্ট ম্যারিয়ট হোটেলের বলরুমে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ধর্মীয় ভাব-গম্ভীর পরিবেশে অনুষ্ঠিত বিশেষ ফান্ডরেইজিং ডিনার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন রাওদাহ ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি শেখ ড. জাকির আহমেদ ও জেএমসি’র ডিরেক্টও ইমাম শামসী আলী এবং কীনোট স্পীকার ছিলেন ইন্টারফেইথ স্কলার, ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের সানডিয়াগোর মসজিদ আল রিবাত-এর ইমাম শেখ ওসমান বিন ফারুক। অনুষ্ঠানে ফান্ডরেইজিং-এর মূল পর্ব পরিচালনা করেন জেএমসি’র প্রধান ইমাম ও খতিব মাওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ। এসময় ট্রাষ্টিবোর্ড ও ইসি কমিটির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

WhatsApp Image 2026 10 30 at 8.39.35 PM 8

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কারী নূহ কাওকাব। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফান্ডরেইজিং কমিটির চেয়ারম্যান আফতাব মান্নান ও জেএমসি’র বোর্ড অব ট্রাষ্টির চেয়ারম্যান ডা. মাহমুদুর রহমান তুহিন। পরবর্তীতে জেএমসি’র সম্প্রসারিত প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন জেএমসি পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. নাজমুল এইচ খান। এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জেএমসি’র বোর্ড অব ট্রাষ্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন জেএমসি’র সেক্রেটারী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশী মুসলিম কমিউনিটির সর্ববৃহৎ এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির ফান্ডরেইজিং অনুষ্ঠানে ডা. নাজমুল এইচ খান বলেন, সবার সহযোগিতায় জেএমসি সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। আসন্ন রমজান মাস সমানে রেখে পবিত্র এই মাসের আগেই প্রকল্পটির কাজ সমাপ্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তখন জেএমসি দেখে সবার ভালো লাগবে এবং জেএমসিতে পাঁচ হাজারের বেশী মুসল্লী একত্রে নামাজ আদায় করতে পারবেন। ফান্ডরেইজিং অনুষ্ঠানে উপস্থি হয়ে সহযোগিতার জন্য তিনি সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি জেএমসি’র প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ৫০ হাজার ডলার দান করেন। এরমধ্যে কেউ কেউ তার পরিচয় গোপন রাখেন। এছাড়াও অনেকেই ৩০, ২৫, ২০, ১০ হাজার করে এমনকি দুই/এক হাজার ডলার দান করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নতুন প্রজন্মের কেউ কেউ তাদের জমানো অর্থও দান করে।
অনুষ্ঠানের মাঝে জেএমসি সম্প্রসারণ প্রকল্পের অগ্রগতি ভিডিও’র মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মুসলিম কমিউনিটির সদস্য, জেএমসি’র সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী ও শুভানুধ্যায়ীরা পরিবার-পরিজনসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জেএমসির কর্মকর্তারা জানান, ১৯৭৬ সালে পুরনো একটি বাড়ীর বেসমেন্টে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের যাত্রা শুরু হয়। প্রথমদিকে সীমিত পরিসরে নামাজের ব্যবস্থা থাকলেও পরবর্তী সময়ে নিজস্ব সম্পত্তি ক্রয়, মসজিদ নির্মাণ ও শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিধি বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে এটি নিউইয়র্কে বাংলাদেশীসহ দক্ষিণ এশীয় মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। ১৯৯৭ সালে জেএমসির নতুন মসজিদ ভবন চালু হয়। জেএমসি’র ভবন সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল। বহুল প্রতীক্ষিত এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনা অনুযায়ী বর্তমান দ্বিতল ভবনটি উন্নীত হবে চার তলায়। আনুমানিক ৪ মিলিয়ন ডলারের সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে সম্পূর্ণভাবে অনুদানের অর্থে। এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে নতুন প্রজন্মসহ সকল বয়সের মানুষের জন্য নতুন এক সুযোগের সৃষ্টি হবে।
জেএমসির কর্মকর্তারা আরো জানান, মুসল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি, ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রমের প্রসার এবং শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে জরুরি হয়ে পড়েছে বিদ্যমান অবকাঠামোর সম্প্রসারণ। প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে আরও ২ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। প্রায় পাঁচ দশকের এ প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ বর্তমান চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো গড়ে তুলবে। অতীতে প্রবাসী মুসলমানদের সম্মিলিত সহযোগিতায় ধাপে ধাপে বিকশিত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চলমান প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান স্থাপনার পরিসর বৃদ্ধি, ভবনের বিভিন্ন অংশের সমন্বয়, অতিরিক্ত তলা সংযোজন এবং অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোর উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। লিফটের মাধ্যমে চলাচলের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রবীণদের জন্য ভবনটি আরও ব্যবহারোপযোগী করে তোলা হবে।
উল্লেখ্য, জেএমসির নতুন সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় আরো ৫ হাজার ৬৫০ বর্গফুট আয়তন বাড়বে। ফলে বর্তমান ৯ হাজার ৮৪০ বর্গফুট মিলে মোট আয়তন দাঁড়াবে ১৫ হাজার ৪৩৪ বর্গফুট। বর্তমান দ্বিতীয় তলা থেকে হিফজ স্কুল তৃতীয় তলায় সরানো হলে সেখানে অতিরিক্ত আরো ১৮০জন মুসল্লির নামাজের স্থান সংকুলান হবে। এছাড়া প্রথম তলা থেকে অফিস স্টোরেজ সরালে আরো ৬০ জন মুসল্লির নামাজের জায়গা বাড়বে। বর্তমান ভবনের দুই রুমের মাঝের দেয়াল ভেঙ্গে মিম্বার নিয়ে আসা হবে মাঝামাঝি স্থানে। ইমামের অফিস স্থানান্তর করা হবে চতুর্থ তলায়।
আরো উল্লেখ্য, প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স বরোর জ্যামাইকার ১৬৮ ষ্ট্রীটে জেএমসি প্রতিষ্ঠিত। এই প্রতিষ্ঠান ঘিরেই জ্যামাইকায় গড়ে উঠেছে বৃহৎ বাংলাদেশী কমিউনিটি। প্রতিষ্ঠানটি মুসলিম কমিউনিটি সহ বাংলাদেশী কমিউনিটির কল্যাণে বিশেষ ভূমিকা রাখার কারণে সিটি প্রশাসন সেন্টারের সামনের রাস্তাটি ১৬৮ স্ট্রীটের একাংশ (হাইল্যান্ড এভিনিউ থেকে গোথিক ড্রাইভ পর্যন্ত) জেএমসি’র নামে নামকরণ করেছে। ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ শুক্রবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্ট্রীটের নাম উদ্বোধন করা হয়।